Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বকুলাপ্পু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প99 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৩. বকুনি খেয়ে বকুলের মন-খারাপ

    বকুনি খেয়ে আজকে বকুলের খুব মন-খারাপ হল। বকুনিটা প্রথমে শুরু করলেন বাবা, সেটাকে বড়চাচা লুফে নিলেন, বকতে বকতে যখন বড়চাচার দম ফুরিয়ে গেল তখন মা শুরু করলেন। বকুনি খেতে খেতে বকুলের এমন অবস্থা হয়েছে যে আজকাল সে ভালো করে খেয়ালও করে না কেন সে বকুনি খাচ্ছে। তাকে উদ্দেশ্য করে যে-কথাগুলো বলা হয় তার প্রত্যেকটা শুরু হয় এভাবে—’একটা মেয়ে হয়ে তুই—’ ভাবখানা মেয়ে হওয়াটাই অপরাধ, ছেলে হলেই তার সাত খুন মাপ করে দেওয়া হত। বকুনির শেষ পর্যায়ে যখন সবাই মিলে বলতে লাগল তাকে স্কুল ছাড়িয়ে নিয়ে এসে ঘর-সংসারের কাজে লাগানো হবে তখন তার প্রথমে রাগ এবং শেষের দিকে খুব মন-খারাপ হয়ে গেল। সেইসময় বকুল তার মন-খারাপ লুকিয়ে রেখে শুধু রাগটা দেখিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে এসেছে।

    নদীর তীরে এসে বকুলের মনটা একটু শান্ত হল। নদীর মাঝে মনে হয় কোন ধরনের জাদু থাকে, রাগ দুঃখ যেটাই থাকুক কেমন করে জানি সেটা কমে আসে। বকুল একা একা নদীর তীরে ধরে হেঁটে বেশ খানিকটা এগিয়ে গেল, এদিকে কুমোরপাড়া, তার পরে খানিকটা ফাঁকা মাঠ, এরপর সর্ষেক্ষেত, কিছু ঝোঁপঝাড় এবং বড় বড় গাছপালা। বছর দুয়েক আগে এখানে একটা গাছে তারাপদ মাস্টার গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল বলে কেউ সহজে আসতে চায় না। বকুল নিজেও এদিকে খুব আসে না। কিন্তু আজ মন-খারাপ করে অন্যমনস্কভাবে হাঁটতে হাঁটতে এখানে চলে এসেছে। গ্রামের অনেকেই মাঝরাতে এখানে তারাপদ মাস্টারকে বইপত্র নিয়ে হাঁটাহাঁটি করতে দেখেছে কথাটা মনে পড়তেই বকুলের কেমন জানি ভয়-ভয় করতে লাগল। সে যখন ফিরে চলে আসছিল হঠাৎ মনে হল নদীর কাছে ঝোঁপের মাঝ থেকে কেউ তাকে শব্দ করে ডাকল। বকুল ভয়ে প্রায় চিৎকার করে উঠতে গিয়ে কোনমতে নিজেকে সামলে নিল, দূরে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, “কে?”

    কেউ তার কথার উত্তর দিল না, কিন্তু মনে হল কেউ যেন এবারে পানিতে একটা শব্দ করল। বকুল খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে, দৌড়ে পালিয়ে যাবার একটা প্রবল ইচ্ছেকে অনেক কষ্ট করে আটকে রেখে সে সাবধানে এগিয়ে যায়। পা টিপে টিপে ঝোঁপটার কাছে গিয়ে উঁকি মেরে সে চমকে ওঠে, একজন মানুষ নদীর পানিতে অর্ধেক শরীর ডুবিয়ে তীরের কাদাপানিতে শুয়ে আছে। বকুল ভয়ে ভয়ে ডাকল, “কে?”

    মানুষটা কোন কথা না বলে নিঃশ্বাস ফেলার মতো একটা শব্দ করল এবং বকুল হঠাৎ চমকে উঠে আবিষ্কার করল এটি মানুষ নয়, এটি একটি শুশুক।

    বকুল জন্মের পর থেকে নদীর তীরে তীরে মানুষ হয়েছে, সে অসংখ্যবার শুশুককে পানি থেকে লাফিয়ে উঠতে দেখেছে, এক-দুইবার জেলের জালেও শুশুককে আটকা পড়তে দেখেছে, কিন্তু কখনোই এভাবে ডাঙায় মাথা রেখে কোনো শুশুককে শুয়ে থাকতে দেখেনি। বকুল প্রায় দৌড়ে শুশুকটার কাছে ছুটে গেল, ভেবেছিল শুশুকটা বুঝি সাথে সাথে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়বে–কিন্তু তা হল না, যেভাবে শুয়েছিল সেভাবেই শুয়ে রইল। বকুল পা টিপে টিপে এগিয়ে যায়, শুশুকটার মাথাটা দেখে কেমন জানি হাসিহাসি মুখের একজন মানুষের মাথার মতো মনে হয়, চোখ দুটি এত ছোট সেটা দিয়ে কিছু দেখতে পায় বলেই মনে হয় না। ধূসর চকচকে মসৃণ দেহে শুশুকটা নিশ্চল হয়ে শুয়ে আছে। বকুল কাছে গিয়ে সাবধানে শুশুকটাকে স্পর্শ করতেই সেটি তার লেজ নেড়ে পানিতে একটা শব্দ করল, শুশুকটাকে দেখে মরে গেছে বলে মনে হলেও সেটা আসলে এখনও মরেনি।

    বকুল ভালো করে শুশুকটাকে দেখল, সে জানে এটা পানিতে থাকলেও এবং মাছের সাথে চেহারায় একধরনের মিল থাকলেও এটা মাছ না। এটা কুকুর বেড়াল বা গরু-ছাগলের মতো একটা প্রাণী। কুকুর-বেড়াল বা গরু-ছাগলের যেরকম অসুখ হয় এটার মনে হয় কোনরকম অসুখ হয়েছে। বকুল আবার সাবধানে শুশুকটার শরীর স্পর্শ করল, মসৃণ চামড়া কেমন যেন শুকিয়ে আছে। যে-প্রাণী পানিতে থাকে তার শরীর এভাবে শুকিয়ে থাকা নিশ্চয়ই ভালো ব্যাপার না, শরীরটা ভিজিয়ে দিলে শুশুকটা হয়তো একটু আরাম পাবে। বকুল সাবধানে পাশে গিয়ে দুই হাতে আঁজলা করে পানি এনে শুশুকটার শরীরে ভিজিয়ে দিতে থাকে। শুশুকটা আবার একটা নিঃশ্বাস নেবার শব্দ করে দুর্বলভাবে একটু নড়ে উঠল এবং ঠিক তখন সে শুশুকটার সমস্যাটা বুঝতে পারল। তার পিঠের কাছে এক জায়গায় একটা ধাতব কী যেন লেগে আছে। শুকনো রক্তের ধারা দুই পাশে শুকিয়ে আছে। বকুল জিব দিয়ে চুকচক করে বলল, “আহা বেচারা!”

    শুশুকটা মনে হল তার কথা বুঝতে পারল এবং হঠাৎ মুখটা একটু খুলে নিচু একধরনের শব্দ করল, বকুলের একেবারে পরিষ্কার মনে হল যেন সেটি তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করছে। একটা ছোট বাচ্চা পড়ে গিয়ে ব্যথা পেলে যেরকম মায়া হয় হঠাৎ করে বকুলের শুশুকটার জন্যে সেরকম মায়া হতে লাগল। সে ভিজে হাত দিয়ে শুশুকটার শরীরে হাত বুলিয়ে দিয়ে নরম গলায় বলল, “তোমার কোনো চিন্তা নেই শুশুক সোনা, আমি তোমার পিঠ থেকে এই লোহার টুকরোটা তুলে দেব। একেবারে ভালো হয়ে যাবে তুমি, তখন আবার নদীর মাঝে সাঁতার কাটতে পারবে–”

    কথা বলতে বলতে সে শুশুকটার পিঠে হাত দিয়ে ধাতব টুকরোটা ধরে একটা হ্যাঁচকা টানে সেটা খুলে আনল, সাথে সাথে গলগল করে খানিকটা রক্ত বের হয়ে এল। শুশুকটা হঠাৎ ছটফট করে উঠে শিস দেওয়ার মতো একটা শব্দ করল, বকুলের মনে হল সেটা পানিতে চলে যাবার চেষ্টা করছে। বকুল শুশুকাকে ধরে রাখার চেষ্টা করতে করতে আদর করার ভঙ্গিতে বলল, “আহা রে শুশুক সোনা, তোমার ব্যথা লেগেছে? আমি তো ব্যথা দিতে চাইনি, শুধু এটা খুলে দিতে চাইছি! এই তো এখন খুলে গেছে, আর কোন ভয় নেই!”

    বকুলের কথা মনে হয় শুশুকটা বুঝতে পারল, এক-দুবার লেজ দিয়ে পানিতে ঝাঁপটা দিয়ে আবার শান্ত হয়ে গেল। পিঠ দিয়ে এখনও রক্ত চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ছে মনে হচ্ছে থেমে আসবে একটু পরেই। বকুল আপার হাত দিয়ে আঁজলা করে পানি এনে শুশুকটাকে ভিজিয়ে দিল। একবার চেষ্টা করল সেটাকে ঠেলে পানিতে নামিয়ে দিতে, কিন্তু পারল না, মনে হচ্ছে কোন কারণে এটা পানিতে নামতে চাইছে না।

    .

    শুশুকের যত্ন করে বাড়িতে ফিরতে ফিরতে বকুলের দেরি হয়ে গেল, সেজন্যে আবার তার বকুনি খেতে হল। এবারে শুরু হল উলটো দিক দিয়ে প্রথমে মা তারপর বড়চাচা সবশেষে বাবা। বিকেলে বকুনি খেয়ে তার যেরকম মন-খারাপ হয়েছিল এখন সেরকম কিছু হল না, পুরো বকুনিটা সে তার এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে অন্য কান দিয়ে বের করে দিল। তার মাথায় তখন শুশুকটির জন্যে চিন্তা। কীভাবে এই ব্যথা-পাওয়া শুশুকটিকে সারিয়ে তোলা যায় সেটা নিয়ে ভাবনা।

    পরদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে গেল বকুল। পা টিপে টিপে ঘর থেকে বের হয়ে সে নদীর তীর ধরে হেঁটে যেতে থাকে। ভোরবেলা নদীর ওপরে কেমন কুয়াশা কুয়াশা ভাব, দূরে গাছপালাগুলো আবছা দেখা যাচ্ছে। এখনও সূর্য ওঠেনি, পূর্ব দিকে আকাশে লালচে হয়ে আসছে। এক-দুজন মানুষ দাঁতন দিয়ে দাঁত ঘষতে ঘষতে ইতস্তত হাঁটছে। এত ভোরবেলা বকুলকে দেখে একজন বলল, “কী বকুল? তুই এত ভোরে কী করিস?”

    বকুল আমতা আমতা করে বলল, “সকালে ঘুম থেকে ওঠা স্বাস্থ্যের জন্যে ভালো চাচা। শরীর ভালো থাকে।”

    “যাচ্ছিস কোথায়?”

    “এই তো হেঁটে আসছি। সকালে হাঁটাহাটি করলে শরীর ভালো থাকে।”

    মানুষটি অবাক হয়ে বকুলের দিকে তাকিয়ে থাকে, আর বকুল সকালে উঠে হাঁটাহাঁটি করার ভঙ্গি করে কুমোরপাড়ার দিকে অদৃশ্য হয়ে যায়।

    যে-গাছটায় তারাপদ মাস্টার ফাঁসি নিয়েছিল বকুল তার নিচে দাঁড়িয়ে উঁকি দিয়ে দেখল শুশুকটা এখনও আগের জায়গায় নিশ্চল হয়ে পড়ে আছে। বকুলের বুকটা ছ্যাৎ করে ওঠে, মরে গিয়েছে নাকি? পা টিপে টিপে কাছে গিয়ে সে শুশুকটাকে স্পর্শ করল, সাথে সাথে সেটি ফোঁস করে একটা নিঃশ্বাস ফেলল–না, এখনও বেঁচে আছে। বকুল পানিতে নেমে দুই হাতে আঁজলা করে পানি এনে শুশুবটার শুকনো শরীরটা ভিজিয়ে দিতে শুরু করল। শরীরটা ভিজিয়ে বকুল শুশুকটার পিঠের কাটার জায়গাটার দিকে তাকায়, এখনও লাল হয়ে ফুলে আছে। যে-লোহার টুকরাটা গেঁথেছিল সেটা মনে হয় শ্যালো ইঞ্জিন লাগানো নৌকার প্রপেলরের টুকরা। বকুল পানি দিয়ে শুশুকটার শরীর ভেজাতে ভেজাতে আবার নরম গলায় কথা বলতে থাকে, “আহা বেচারা আমার শুশুক সোনা, কত ব্যথা পেয়েছ তুমি! পিঠের মাঝে গেঁথে গিয়েছে প্রপেলর। এখন আর ভয় কী! এই তো দেখতে দেখতে ভালো হয়ে যাবে। আহা বেচারা, খাওয়া হয়নি কতদিন! কী খাও তুমি? নিয়ে আসব তোমার জন্যে খাবার?”

    দুপুরবেলা বকুল শুশুকটার জন্যে খাবার নিয়ে এল। শুশুক কী খায় সে জানে না, তবে পানিতে যখন থাকে নিশ্চয়ই মাছ খায়। এখন নিশ্চল হয়ে শুয়ে আছে, মাছ কী চিবিয়ে খেতে পারবে? অনেক চিন্তা-ভাবনা করে শুশুকের জন্যে সে আলাদা একটা খাবার তৈরি করল। গরুর জন্যে সরিয়ে রাখা ভাতের মাড় রান্নাঘর থেকে চুরি করা এক গ্লাস দুধ এবং মাছের কুটোকাটা–যেটাকে সে থেঁতলে পিষে একেবারে হালুয়া করে ফেলেছে। তিনটি জিনিস একসাথে মিশিয়ে তার মাঝে সে দুটি প্যারাসিটামল গুঁড়ো করে দিল। মাথাব্যথায় মানুষের জন্যে যদি কাজ করে শুশুকের পিঠের ব্যথার কেন কাজ করবে না? শুশুকটাকে কেমন করে খাওয়াবে সে জানে না, তাই সাথে করে একটা ছোট বাটি নিয়ে এল। শুশুকটার মুখ হাঁ করিয়ে সাবধানে সে তার বিশেষ খাবার বাটিতে করে ঢেলে দিতে থাকে। প্রথম এক দুবার মুখের পাশ দিয়ে গড়িয়ে পড়ে গেল, কিন্তু কিছুক্ষণের মাঝেই সে বেশ ভালো করে খাইয়ে দিতে শুরু করে। শুধু তাই না, মনে হতে থাকে শুশুকটা যেন বেশ আগ্রহ নিয়েই খাচ্ছে। কয়েকদিন থেকেই নিশ্চয়ই না খেয়ে আছে। বকুলের শুশুকটার জন্য এত মায়া হল সেটি আর বলার মতো নয়। খাওয়ানো শেষ করে সে পানি দিয়ে আবার শুশুকটার সারা শরীর ভিজিয়ে দিতে শুরু করে, মাথায় গলায় হাত বুলাতে বুলাতে নরম গলায় আদর করে কথা বলতে থাকে।

    বিকেলবেলা বকুল আবার খাবার নিয়ে এল। দুপুরবেলা পাড়ার সব বাচ্চাকাচ্চাদের মাছ ধরতে লাগিয়ে দিয়েছিল। তারা ছাঁকা জালে নদীর পাশে খাল এবং ডোবার ছোট মাছ ধরেছে, মাছের সাথে কাঁকড়া, ব্যাং, শামুক, গুগলিও উঠে এসেছে। সবগুলিকে থেঁতলে পিষে নিয়ে তার সাথে আবার মিশিয়েছে ভাতের মাড়, দুধ আর প্যারাসিটামল। বাবার তোশকের নিচে ফোড়ার কী-একটা ওষুধ ছিল সেটাও সে গুড়ো করে মিশিয়ে দিল, মানুষের ঘা যদি এই ওষুধ খেলে ভালো হতে পারে তাহলে শুশুকের কেন ভালো হবে না? যেসব বাচ্চাকাচ্চা মহাউৎসাহে মাছ ধরেছে, সেগুলোকে পিষতে বকুলকে সাহায্য করেছে তারা সবাই খুব উৎসাহী ছিল জিনিসটা নিয়ে কী করা হয় সেটা দেখার জন্যে। কিন্তু বকুল এই মুহূর্তে ঠিক তাদের বিশ্বাস করতে পারল না। সবাইকে নিয়ে মাঠে দাড়িয়াবান্দা খেলা শুরু করিয়ে সে সটকে পড়র। প্লাস্টিকের একটা বোতলে এই বিশেষ খাবার নিয়ে সে আবার ছুটে গেল শুশুকের কাছে। এবারে সে একটা পরিবর্তন লক্ষ করল, শুশুকটা তার শরীরের বেশির ভাগ পানিতে ডুবিয়ে রেখে শুধু মাথাটা শুকনো ডাঙায় ঠেকিয়ে রেখেছে। বকুল কাছে বসে শুশুকটার গায়ে হাত বুলিয়ে দিয়ে মুখ হাঁ করিয়ে আবার তাকে খাইয়ে দিল। বকুল বেশ উৎসাহ নিয়ে আবিষ্কার করল সে এবার শুশুকটার মাঝে খানিকটা জীবনের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে–এটা এর লেজ নাড়ছে এবং খাবারের বাটিটা মুখের কাছে আনতেই সেটা খাবার জন্যে নিজেই মুখটা অল্প খুলে ফেলছে। বকুল শুশুকটার মাথায় গলায় হাত বুলিয়ে আবার অনেকক্ষণ আদর করে নরম গলায় কথা বলল। বকুলের ভুলও হতে পারে কিন্তু তার কেন জানি স্পষ্ট মন হল শুশুকটা তার কথা একটু একটু বুঝতে পারছে।

    পরদিন ভোরে আবার কেউ ঘুম থেকে জাগার আগেই বকুল ছুটে ছুটে শুশুকটাকে দেখতে এল। তারাপদ মাস্টার যে-গাছে গলায় দড়ি দিয়েছিল তার নিচে দাঁড়িয়ে বকুল নদীর তীরে উঁকি দিয়ে দেখল শুশুকটা সেখানে নেই। শুশুকটা নিশ্চয়ই ভালো হয়ে চলে গেছে, বকুলের আনন্দ হবার কথা ছিল, কিন্তু কেন জানি আনন্দ না হয়ে তার একটু মনখারাপ হয়ে গেল, শুশুকটার উপরে তার এত মায়া পড়ে গিয়েছে যে, সে আর বলার নয়। বকুল খানিকক্ষণ নদীতে পা ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে রইল, পা দিয়ে পানিতে শব্দ করল, তারপর একটা নিঃশ্বাস ফেলে নদী থেকে উঠে এল। শুশুকটা চলেই গেল শেষ পর্যন্ত, তাকে শেষবারের মতো ভালো করে একবার আদরও করে দিতে পারল না!

    বকুল মন-খারাপ করে নদীর তীর ধরে হাঁটতে থাকে, সামনে কিছু ঝোঁপঝাড়, তারপর সর্ষেক্ষেত, সর্ষেক্ষেতের পর কুমোরপাড়া শুরু হয়েছে। বকুল সর্ষে ক্ষেতের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে হঠাৎ নদীর পানিতে ছলাৎ করে একটা শব্দ শুনতে পেয়ে মাথা ঘুরিয়ে তাকাল, পানিতে আধডোবা হয়ে শুশুকটা ভেসে আছে, দেখে মনে হচ্ছে বকুলকে কিছু বলার জন্যে দাঁড়িয়ে আছে।

    বকুল ছোট একটা চিৎকার দিয়ে পানিতে ছুটে গেল, শুশুকটা ভয় পেয়ে সরে গেল না, বরং লেজ নেড়ে একটু এগিয়ে এল। বকুল হাত দিয়ে শুশুকটার মাথায় থাবা দিয়ে বলল, “আরে শুশুক সোনা! তুই এসেছিস? এসেছিস আমার কাছে?”

    শুশুকটা আরেকটু এগিয়ে এসে তার মাথা দিয়ে বকুলকে একটা ছোট ধাক্কা দেয়, মনে হয় এটা তার ভালোবাসা প্রকাশের একটা ভঙ্গি। বকুল গলায় হাত বুলিয়ে আদর করার মতো গলায় বলল, “আরে আমার শুশকি টুশকি! আমি ভাবলাম তুই আর কোনদিন আসবি না! ভালো হয়ে চলে গেছিস!”

    শুশুকটা আবার তার মাথা দিয়ে বকুলকে ছোট একটা ধাক্কা দিল। বকুল তার গলায় মাথায় হাত বুলিয়ে ফিসফিস করে বলল, “খুব সাবধানে থাকিস শুশকি টুশকি। শ্যালো নৌকার নিচে আর যাবি না, লঞ্চের ধারেকাছে আসিস না। যখন বড় জাল দিয়ে মাছ ধরবে তুই দূরে দূরে থাকিস। ভালো করে খাবি। তুই কি খাস সেটা তো জানি না তবে যেটাই খাস ভালো করে খাবি। পেট ভরে খাবি। ঠিক আছে?”

    শুশুকটা পানি থেকে মাথা উপরে তুলে ফোঁস করে একটা নিঃশ্বাস ফেলল। বকুল শুশুকটার মসৃণ চকচকে শরীরে হাত বুলিয়ে বলল, “দুষ্টুমি করবি না শুশুকি টুশকি। মারপিট করবি না। পিঠের ঘা’টা সারতে মনে হয় সময় নেবে, লক্ষ রাখিস। কোনকিছু দরকার হলে চলে আসিস আমার কাছে, ঠিক আছে টুশকি?”

    হঠাৎ দূর থেকে কে যেন বলল, “কী রে বকুল, এত সকালে পানিতে নেমে কী করছিস?”

    বকুল মাথা তুলে দেখল, গরু নিয়ে যাচ্ছেন রহমত চাচা। এত দূর থেকে শুশুকটাকে নিশ্চয়ই দেখেননি। বকুল ফিসফিস করে শুশুকটাকে বলল, “যা টুশকি যা। চলে যা এখন। কেউ দেখলে সমস্যা হয়ে যাবে!”

    বকুল পানি থেকে উঠে আসতে শুরু করতেই শুশুকটা লেজ নেড়ে নদীর গভীর চলে যেতে শুরু করল। রহমত চাচা কাছাকাছি গরুটার লেজ মুচড়ে দিয়ে বললেন, “একলা একলা কার সাথে কথা বলিস?”

    “কারও সাথে না। পায়ে গোরব লেগেছিল তাই ধুতে গিয়েছিলাম।”

    রহমত চাচা হাল ছেড়ে দেবার ভঙ্গি করে মাথা নেড়ে বললেন, “পাগলি মেয়ে! আমি দেখলাম তুই বিড়বিড় করে কথা বলছিস। বড় হয়ে তুইও আরেকটা জমিলা বুড়ি হবি নাকি?”

    বকুল দাঁত বের করে হি হি করে হাসতে শুরু করল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাচ্চা ভয়ংকর কাচ্চা ভয়ংকর – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    Next Article জারুল চৌধুরীর মানিক জোড় – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }