Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বড়বাবু – সৈয়দ মুজতবা আলী

    সৈয়দ মুজতবা আলী এক পাতা গল্প201 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রাষ্ট্রভাষা

    ০১.

    ভারতবর্ষের সবাই যদি এক ভাষায় কথা বলত তা হলে সবদিক দিয়ে আমাদের যে কত সুবিধে হত সেকথা ফলিয়ে বলার প্রয়োজন নেই। শুধু যে কাজ-কারবারের মেলা বখেড়ার ফৈসালা হয়ে যেত তাই নয়, একই ভাষার ভিত্তিতে আমরা অনায়াসে নবীন ভারতীয় সংস্কৃতি-বৈদগ্ধের ইমারত গড়ে তুলতে পারতুম। মালমসলা আমাদের বিস্তর রয়েছে, তাই সে ইমারত বাইরের পাঁচটি দেশের শাবাসিও পেত।

    এ তত্ত্বটা নতুন নয়। কিন্তু একই ভাষার ভিত্তিতে সাংস্কৃতিক ইমারত গড়ে তুলতে গেলেই এক অদ্ভুত দ্বন্দ্বের সম্মুখীন হতে হয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে করজোড়ে স্বীকার করছি আমার জীবনে আমি যত দ্বন্দ্বের সম্মুখীন হয়েছি তার মধ্যে এটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি কাবু করেছে– এ দ্বন্দ্বের সমাধান আমি কিছুতেই করে উঠতে পারিনি। বিচক্ষণ পাঠক যদি দয়া করে এ অধমকে সাহায্য করেন।

    বৈদিক সভ্যতাসংস্কৃতি একটিমাত্র ভাষার ওপরই খাড়া ছিল সেকথা আমরা জানি তার কারণ সে যুগে আর্যরা ভারতবর্ষে বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পড়েননি এবং দ্বিতীয়তর অনার্যদের সঙ্গে তাঁদের ব্যাপক যোগসূত্র স্থাপিত হয়নি বলে সে ভাষাতে পরিবর্তন-পরিবর্ধন অতি অল্পই হয়েছিল।

    প্রভূ বুদ্ধের যুগ আসতে না আসতেই দেখি, সে ভাষা আর আপামর জনসাধারণ বুঝতে পারছে না। যতদূর জানা আছে, প্রভু বুদ্ধ তার নবীন ধর্ম প্রচারের জন্য বৈদিক ভাষা কিংবা সে ভাষার তকালীন প্রচলিত রূপের শরণ নেননি। তিনি তৎকালীন সর্বজনবোধ্য ভাষার শরণ নিয়েছিলেন সে ভাষাকে প্রাকৃত বলা যেতে পারে। ব্রাহ্মণ্যধর্ম কিংবা ব্রাহ্মণ্য ভাষার প্রতি অশ্রদ্ধাবশত তিনি যে বিহারে প্রচলিত তকালীন সর্বজনবোধ্য ভাষার স্মরণ নিয়েছিলেন তা নয়, কারণ সকলেই জানেন বুদ্ধদেব ব্রাহ্মণ-শ্ৰমণ এই সমাস বার বার ব্যবহার করেছেন, উভয়কে সমান সম্মান দেখাবার জন্য। জনপদ-ভাষা যে তিনি ব্যবহার করেছিলেন তার একমাত্র কারণ বৌদ্ধধর্ম ভারতবর্ষের অন্যতম সর্বপ্রথম গণ-আন্দোলন এবং গণ-ভাষার প্রয়োগ ব্যতীত গণ-আন্দোলন সফল হতে পারে না।

    এস্থলে লক্ষ করবার বিষয় বিহারের আঞ্চলিক উপভাষা ব্যবহার করতে বুদ্ধদেব সর্বভারতের পণ্ডিতজনবোধ্য ভাষা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেন। স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে তিনি তাতে বিচলিত হননি।

    ঠিক একই কারণে মহাবীর জিনও আঞ্চলিক উপভাষার শরণ নিয়ে অর্ধ-মাগধীতে আপন বাণী প্রচার করেন। শাস্ত্রীয় মতবাদ এবং জীবহত্যা সম্পর্কে কিঞ্চিৎ মতানৈক্য বাদ দিলে বৌদ্ধ ও জৈন গণ-আন্দোলন একই রূপ একই গতি ধারণ করেছিল।

    অশোকস্তম্ভে উত্তীর্ণ ভাষাও সংস্কৃত নয়।

    তার পরের বড় আন্দোলন মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব আনয়ন করেন। তিনিও প্রধানত সর্বজনবোধ্য বাঙলার শরণ নিয়েছিলেন–যদিও তার সংস্কৃতজ্ঞান সে যুগের কোনও পণ্ডিতের চেয়ে কম ছিল না। পশ্চিম ও উত্তর ভারতেও তুকারাম মারাঠি ব্যবহার করেন। কবীর-দাদু। প্রভৃতি সাধকেরা হিন্দি ব্যবহার করেন। কবীর বললেন, সংস্কৃত কূপজল, সে জল কুয়ো থেকে বের করে আনতে হলে ব্যাকরণ-অলঙ্কারের লম্বা দড়ির প্রয়োজন কিন্তু ভাষা (অর্থাৎ সর্বজনবোধ্য প্রচলিত ভাষা) বহতা নীর–সে জল বয়ে যাচ্ছে, যখন-তখন ঝাঁপ দিয়ে শরীর শান্ত করা যায়। আর তুকারাম বললেন, সংস্কৃত যদি দেবভাষা হয় তবে মারাঠি কি চোরের ভাষা?

    তার পরের গণ-আন্দোলন মহাত্মা গান্ধী আরম্ভ করেন। তিনি যদিও জনগণের ভাষা হিন্দির শরণ নিয়েছিলেন তবু লক্ষ করার বিষয় যে, অসহযোগ আন্দোলন বাঙলা, তামিলনাড়ু, অন্ধ্র, কেরালায় হিন্দি কিংবা ইংরেজির মাধ্যমে আপামর জনসাধারণে প্রসারলাভ করেনি; জনগণ যে সাড়া দিল সে বাঙলা, তামিল, তেলুগু, মালয়ালাম ভাষার মাধ্যমে অসহযোগ আন্দোলন প্রচার করার ফলে। বারদলই সত্যাগ্রহের প্রধান বক্তা ছিলেন বল্লভভাই পটেল। তিনি যে অদ্ভুত তেজস্বিনী গুজরাতি ভাষায় বক্তৃতা দিয়েছিলেন সে ভাষা অনায়াসে সাহিত্যের পর্যায়ে ওঠে। বল্লভভাইয়ের গুজরাতির সঙ্গে তার হিন্দির কোনও তুলনাই হয় না।

    এতক্ষণ ধরে যে ঐতিহ্যের বর্ণনা দিলুম সে শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রভু খ্রিষ্ট সাধু এবং পণ্ডিতি ভাষা হিব্রুতে তার ধর্ম প্রচার করেননি। তাঁর প্রথম ও প্রধান শিষ্যদের বেশিরভাগই ছিলেন অতি সাধারণ জেলে। তার প্রচারকার্য এঁদের নিয়েই আরম্ভ হয় বলে তিনি তার বাণী প্রচার করেছিলেন গ্যালিলি-নাজারেৎ অঞ্চলবোধ্য আরামেইক উপভাষায়। মহাপুরুষ মুহম্মদও যখন আরবির মাধ্যমে আল্লার আদেশ প্রচার করলেন তখন আরবি ভাষা ছিল পৌত্তলিকদের না-পাক ভাষা, এবং সে ভাষায় ধর্মপ্রচারের কোনও ঐতিহ্য ছিল না। ইসলামের ইতিহাসে লেখা আছে মহাপুরুষ মুহম্মদের ঈষৎ পূর্বে এবং তার সমবর্তীকালে মক্কাবাসীদের যারা সত্য পথের অনুসন্ধান করতেন তারা হিব্রু শিখে সে ভাষায় ধর্মগ্রন্থ পড়তেন। তাই যখন মহাপুরুষ হিব্রুর শরণাপন্ন না হয়ে আরবির মাধ্যমে ধর্মপ্রচার করলেন তখন সবাই তাজ্জব মেনে গেল। তার উত্তরে আল্লা-ই কুরান শরিফে বলেছেন, তার প্রেরিত পুরুষ যদি আরব হয় তবে প্রচারের ভাষা আরবি হবে না তো কী হবে? আর আরবি না হলে সবাই বলত, আমরা তো এসব বুঝতে পারছিনে।

    লুথারও পোপের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন জর্মনের পক্ষ নিয়ে পণ্ডিতি লাতিন তিনি এই বলেই অস্বীকার করেছিলেন যে, সে ভাষার সঙ্গে আপামর জনসাধারণের কোনও যোগসূত্র ছিল না।

    মোদ্দা কথা এই, এ পৃথিবীতে যতসব বিরাট আন্দোলন হয়ে গিয়েছে তা সে নিছক ধর্মান্দোলনই হোক আর ধর্মের মুখোশ পরে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক আন্দোলনই হোক তার সব কটাই গণ-আন্দোলন এবং গণ-আন্দোলন সর্বদাই আঞ্চলিক গণভাষার মাধ্যমেই আত্মপ্রকাশ করেছে।*[* রাষ্ট্রভাষার সপক্ষে-বিপক্ষে যে কটি যুক্তি আছে, সবকটিরই আলোচনা করা এ প্রবন্ধমালার উদ্দেশ্য– লেখক।]

    .

    ০২.

    রাষ্ট্রভাষার যে প্রয়োজন আছে সে সত্য তর্কাতীত, কিন্তু প্রশ্ন সে ভাষা গণ-আন্দোলন উদ্বুদ্ধ করতে পারবে কি না? যারা মনে করেন, স্বরাজ লাভ হয়ে গিয়েছে এখন আর গণ-আন্দোলনের কোনও প্রয়োজন নেই, তারা হয় মারাত্মক ভুল করছেন, নয় ভাবছেন দেশের জনগণ তাদের জন্য পায়ের ঘাম মাথায় ফেলে খাটবে আর তারা শহরে শহরে দিব্য খাবেন-দাবেন আর কেউ কোনওপ্রকারের তেরিমেরি করলে ডাণ্ডা উঁচিয়ে ভয় দেখাবেন এবং তাইতেই সবকিছু বিলকুল ঠাণ্ডা হয়ে থাকবে।

    সেটি হচ্ছে না, সেটি হবার জো নেই। যে জনসাধারণকে একদা স্বাধীনতা সম্বন্ধে সচেতন করে স্বরাজের জন্য লড়ানো হল, তাদের এখন ডেকে আনতে হবে রাষ্ট্রনির্মাণ কর্মে। তারা যদি ভারতীয় রাষ্ট্রকে আপন রাষ্ট্র বলে চিনতে না পারে, সে রাষ্ট্রের প্রতি যদি তাদের আত্মীয়তাবোধ না জন্মে তবে নানাপ্রকারের বিপদের সম্মুখীন হতে হবে তার ফিরিস্তি দেবার প্রয়োজন নেই। পাড়ার কম্যুনিস্টকে ডেকে জিগ্যেস করুন– সে সব বাৎলে দেবে।

    এখন প্রশ্ন, কোন ভাষার মাধ্যমে আমরা জনগণের সঙ্গে সংযুক্ত হব? বেশিরভাগ লোকই স্বীকার করে নিয়েছেন পাঠশালাতে মাত্র একটি ভাষা শেখানো হবে। অর্থাৎ হিন্দি যেসব অঞ্চলের আপন ভাষা সেগুলো বাদ দিয়ে আর সর্বত্র মাত্র প্রাদেশিক ভাষাটিই শেখানো হবে। অর্থাৎ বাঙলা, উড়িষ্যা, অন্ধ্র অঞ্চলের পাঠশালাগুলোতে ছেলেমেয়েরা সুদ্ধ আপন আপন মাতৃভাষা শিখবে। ভারতবর্ষ থেকে নিরক্ষরতা কবে দূর হবে জানিনে, তবে আশা করি সকলেই আমার সঙ্গে একমত হবেন যে, নিরক্ষরতা দূর হওয়ার বহু বৎসর পর পর্যন্ত এদেশের শতকরা ৭০টি ছেলেমেয়ে পাঠশালাতেই লেখাপড়া শেষ করবে এবং শিখবে শুধু মাতৃভাষা।

    বাদবাকিরা হিন্দি শিখবেন– সে হিন্দি জ্ঞান কতটা হবে তার আলোচনা পরে হবে এবং ক্রমে ক্রমে অতি অল্পসংখ্যক লোকই ইংরেজি শিখবেন, আজকের দিনে চীন কিংবা মিশরের লোক যে অনুপাতে ইংরেজি শেখে।

    রাষ্ট্রভাষা সর্বভারতে চালু করনেওয়ালারা বলেন, আজ ইংরেজি ভাষা যেরকম ব্যবহৃত হচ্ছে একদিন হিন্দি তার আসনটি নিয়ে নেবে অর্থাৎ যাবতীয় রাজকার্য, মামলা-মোকদ্দমার তর্কাতর্কি, রায়, আপিল, বড় বড় ব্যবসা-বাণিজ্য, পার্লিমেন্টে বক্তৃতা ঝাড়া ইত্যাদি তাবৎ কর্ম হিন্দিতে হবে। কলকাতা তথা অন্ধ, তামিলনাড়ু বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দির মাধ্যমে জ্ঞানদান হবে কি না সে সম্বন্ধে অনেকেরই মনে ধোকা রয়ে গিয়েছে, তবে কট্টর রাষ্ট্রভাষীদের বাসনা যে তাই সে সম্বন্ধে খুব বেশি সন্দেহ নেই।

    তা হলে অনায়াসে ধরে নিতে পারি ইংরেজ আমলে যেরকম আমাদের বেশিরভাগ ভালো লেখকেরা সভ্যতা সংস্কৃতি সম্বন্ধে ইংরেজিতে বই লিখতেন (রাধাকৃষ্ণনের ইন্ডিয়ান ফিলসফি থেকে পণ্ডিতজির ডিসকভারি অব ইন্ডিয়া ইন্তেক) ঠিক তেমন আমাদের ভবিষ্যতের শক্তিশালী লেখকেরা তাদের প্রচেষ্টা নিয়োগ করবেন হিন্দির মাধ্যমে এবং যে সৎসাহিত্য গল্প উপন্যাস কবিতাই সাহিত্যের একমাত্র কিংবা প্রধান সৃষ্টি নয়– হিন্দিতে গড়ে উঠবে সেটা, বাঙলা, তামিল, গুজরাতি সাহিত্য-সৃষ্টিপ্রচেষ্টার খেসারতি দিয়ে। এতদিন যে ভারতীয় ভাষাগুলোতে নানামুখী সৃষ্টিকার্য প্রসার এবং প্রচার লাভ করতে পারছিল না তার জন্য আমরা প্রাণভরে ইংরেজির জগদ্দল পাথরকে গালমন্দ করেছি এখন হিন্দির চাপে সেই একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, কিন্তু হয়তো গালমন্দ করার অধিকার থাকবে না। পূর্ববঙ্গে যখন উর্দুকে রাষ্ট্রভাষারূপে চালু করবার চেষ্টা হয়েছিল তখন আমি অন্যান্য যুক্তির ভিতর এইটিও পেশ করে তীব্রকণ্ঠে আপত্তি জানিয়েছিলুম এবং বহু পূর্ববঙ্গবাসী আমার যুক্তিতে সায় দিয়েছিলেন।

    আমাদের প্রাদেশিক সাহিত্যের যে ক্ষতি হবে সেকথা এখন থাক। উপস্থিত মোদ্দাকথা হচ্ছে এই, ভারতীয় নবীন রাষ্ট্রনির্মাণ সম্বন্ধে গবেষণা, আলোচনা, তত্ত্ব ও তথ্যপূর্ণ যেসব গ্রামভারি কেতাব, ব্লু বুক, দলিল-দস্তাবেজ, উৎসাহহাদ্দীপক ওজস্বিনী এবং গম্ভীর পুস্তক রচিত হবে সেগুলো হবে হিন্দিতে এবং দেশের শতকরা সত্তরজন লোক গ্রামে বসে সেগুলো পড়তে পারবে না।

    একদা এই সত্তরজন লোকের প্রয়োজন হয়েছিল ইংরেজকে তাড়াবার জন্য। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ভারতবর্ষের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র এই সত্তরজনকে বাদ দিয়ে নির্মাণ করা যাবে না।

    প্রশ্ন উঠতে পারে, তাবৎ কেতাব বাঙলাতে লিখলৈই কি এরা সেগুলো পড়ে বুঝতে পারবে? সে সম্বন্ধে আমার কিঞ্চিৎ নিবেদন আছে। আমার বিশ্বাস, দেশ সম্বন্ধে জ্ঞান সঞ্চয় সবসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া ছাপের ওপর নির্ভর করে না। এমন সব ইংরেজি-অনভিজ্ঞ, অর্থাৎ সুদ্ধ বাঙলা-ভাষী পাঠশালার পণ্ডিত আছেন, যারা দেশের অবস্থা সম্বন্ধে সচেতন আছেন বলে এবং বাংলা দৈনিকের মারফতে অতি অল্প যে রাষ্ট্রসংবাদ পান তারই জোরে গ্র্যাজুয়েটকে তর্কে ঘায়েল করতে পারেন। অনেক এম.এ. পাস লোক বই জমায় না– জমালে জমায় চেক বুক আর অনেক পাঠশালার পণ্ডিত গোগ্রাসে যে কেতাব পান তাই গেলেন। পুনরায় নিবেদন করি, জ্ঞানতৃষা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাধির ওপর নির্ভর করে না।

    তাই দেখতে হবে আমাদের রাষ্ট্রনির্মাণ প্রচেষ্টার সর্বসংবাদ যেন এমন ভাষার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়, যে ভাষা মানুষের মাতৃভাষা। ইংরেজ আমলে ইংরেজি জাননেওয়ালা ও না-জাননেওয়ালার মধ্যে যে ন্যক্কারজনক কৌলীন্যের পার্থক্য ছিল সেটা যেন আমরা জেনেশুনে আবার প্রবর্তন না করি।

    .

    ০৩.

    সুশীল পাঠক, মাঝে মাঝে ধোঁকা লাগে, রাষ্ট্রভাষা, রাষ্ট্রভাষা নিয়ে এই যে আমি হপ্তার পর হপ্তা দাপাদাপি করছি তাতে তুমি অতিষ্ঠ হয়ে উঠছ না তো? আমি তো হয়ে গিয়েছি কিন্তু বিষয়টি বড্ডই গুরুত্ব্যঞ্জক এবং আমার বিশ্বাস, ভারতবর্ষের শুধু রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ এর ওপর নির্ভর করছে না, আমাদের অতীত ঐতিহ্য, আমাদের ভবিষ্যৎ বৈদগ্ধ সংস্কৃতি সবকিছুই এর ওপর নির্ভর করছে। একবার যদি ভুল রাস্তা ধরি তবে আমড়াতলার মোড়ে ফিরে আসতেই আমাদের লেগে যাবে বহু যুগ এবং তখন আবার নতুন করে সবকিছু ঢেলে সাজাতে গিয়ে প্রাণটা বেরিয়ে যাবে। আজকের দিনে পৃথিবীতে কেউ বসে নেই–তখন দেখতে পাবেন, আর সবাই এগিয়ে গিয়েছে, অর্থাৎ রাজনীতিতে আপনি অমুক দেশের ধামাধরা হয়ে আছেন, অর্থনীতিতে আপনি আর এক মুল্লুকের কাছে সর্বস্ব বিকিয়ে দিয়েছেন এবং কৃষ্টি সংস্কৃতিতে নিরেট হটেন্টট বনে গিয়েছেন।

    কেন্দ্রের ভাষা যে হিন্দি হবে সে বিষয়ে আমার মনে কোনও সন্দেহ নেই, কিন্তু কেন্দ্রীয় পরিষদের ভাষা হবে কী? অর্থাৎ প্রশ্ন, পার্লিমেন্টে সদস্যেরা বক্তৃতা দেবেন কোন ভাষায়?

    হিন্দিওয়ালা হিন্দিতে দেবেন– বাঙলা কথা। কিন্তু তামিল-ভাষীরা দেবেন কোন ভাষায়?

    এতদিন একদিক দিয়ে আমাদের কোনও বিশেষ হাঙ্গামা ছিল না। সব প্রদেশের সদস্যরা ইংরেজিতে বক্তৃতা দিতেন–অথচ কারওরই মাতৃভাষা ইংরেজি ছিল না বলে অহেতুক সুবিধা কেউই পেত না। এবং যে সুবিধাটা পেত ইংরেজ রাজসম্প্রদায় এবং তারা যে সে সুযোগটা ন-সিকে কাজে লাগাত সেকথাও সবাই জানেন।

    এখন অবস্থাটা হবে কী? কেঁদে-ককিয়ে যেটুকু হিন্দি শিখব তার জোরে কি পার্লিমেন্টে বক্তৃতা ঝাড়া যায়? পূর্বেই নিবেদন করেছি, হিন্দিকে যদি তিরুঅনন্তপুরম (ত্রিভান্দরম) কিংবা বিশাখাপট্টনম (ভাইজাগ) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মাধ্যম করা হয় (কলকাতা কিছুতেই মানবে না, সে আপনি-আমি বিলক্ষণ জানি। তবে তাদের আখেরটি ঝরঝরে হয়ে যাবে। অতএব অস্ত্র, তামিলনাড়ু, কেরালার লোক দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে যেটুকু হিন্দি শিখবে– (সবাই শিখবে তা-ও নয়, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার না-ও শিখতে পারে তা দিয়ে কি সে হিন্দি-ভাষীদের সঙ্গে বাকযুদ্ধ চালাতে পারবে?

    দু দণ্ড রসালাপ সব ভাষাতেই করা যায়। আমি তোমায় ভালোবাসি, জ্য তেম, ইস লিবে ডিস–আহা এসব কথা দেখতে না দেখতেই শিখে ফেলা যায়। মদন যেস্থলে শুরু, সখা কন্দর্পও হয়তো মজুত, কালটি মধুমাস, উর্বশী দু-চকর নাচভি দেখিয়ে দিচ্ছেন, তার মধ্যিখানে সবাই এক লহমায় হরিনাথ দে হয়ে যান। কিংবা বলতে পারেন, সেখানে ভাষার দরকারই-বা কী– কোন প্রয়োজন মধুর ভাষণের

    কিন্তু পার্লিমেন্টে তো মানুষ রসালাপ করতে যায় না। সেখানে লাগে স্বার্থে স্বার্থে সংঘাত, চিন্তাধারা-চিন্তাধারায় টক্কর লেগে উঠে ঢেউ গিরিচূড়া জিনি, বাজেটকে বাক্যবাণে জর্জরিত করতে হয় যেখানে-সেখানে করেঙ্গা, খায়েঙ্গা হিন্দি দিয়ে কাজ চলে না। আমাদের বাঙাল দেশে বলে ছাগল দিয়ে হাল চালাবার চেষ্টা কর না।

    বিচক্ষণ পাঠক, তুমি নিশ্চয়ই লক্ষ করেছ, ঘড়েল প্যাসেঞ্জার কখনও, অর্থাৎ কাইট্যা ফালাইলেও বেহারি মুটের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে তর্ক করার সময় হিন্দি বলে না। কারণ সে একখানা বলতে না বলতে মুটে ঝেড়ে দেবে পাঁচখানা পুরো পাচালী এবং লক্ষ করেছ, মুটেও ততোধিক ঘড়েল– দিব্য বাঙলা জানে, কিন্তু মেশিনগান চালাচ্ছে তার বিহারি হিন্দি করত, খাওত, আর ভজলু কি বহিনিয়া ভগলু কি বেটিয়ার ভাষা দিয়ে।

    অর্থাৎ দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে শেখা ভাষা দিয়ে কোনও মরণ-বাচনের ব্যাপারে তর্কাতর্কি করা যায় না। সে ভাষা দিয়ে বই পড়ে জ্ঞান আহরণ করা যায় ব্যস্।

    আরেকটা উদাহরণ দিই। ইংলন্ড যুগ যুগ ধরে কোটি কোটি পৌন্ড খরচা করেছে ইংরেজ ছোকরাদের ফরাসি শেখাবার জন্য দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে। অথচ দশ হাজার ইংরেজ যদি প্যারিস বেড়াতে আসে তবে দশটা ইংরেজও ফরাসি বলতে পারে না।

    সে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। বাপ, মা, ম্যাট্রিক পাস ব্যাটা নাবলেন ক্যালে বন্দরে। ইস্টিমারে ইংরেজি চলে, কোনও অসুবিধা হয়নি। ক্যালেতেও হবে না, বাপ-মায়ের দৃঢ় বিশ্বাস, কারণ ছেলে ম্যাট্রিকে ফরাসিতে গোল্ড মেডেল পেয়েছে। বাপ প্রতাপ রায়ের মতো ছেলে বরজলালকে হেসে বললেন, জিগ্যেস কর তো বাবাজি, পোর্টারটাকে প্যারিসের ট্রেন কটায় ছাড়বে?

    ছেলে প্রমাদ গুনছে। বরজলালেরই মতো আপন ফরাসি ভাষার গুরুকে স্মরণ করে ক্ষীণ কণ্ঠে যখন পোর্টারকে বিদঘুঁটে উচ্চারণে জিগ্যেস করল, আকেল আর পার লা আঁ পুর পারি? তখন পোর্টার মুখ থেকে পাইপ নামিয়ে হাঁ করে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থেকে, তার পর মিনিট তিনেক ঘাড় চুলকে চুলকে ভেবে নিল। হঠাৎ মুখে হাসি ফুটল। চিৎকার করে আরেকটা পোর্টারকে ডাক দিয়ে বলল, এ, জ্যা ভিয়ানিসি, ওয়ালা আ মসিয়ো কী পার্ল লাংলে। এই জন, এদিকে আয়, এক ভদ্রলোক ইংরেজি বলছেন। বুঝতে নারনু।

    হায়, কিন্তু বেচারা ফাঁকি দিয়ে গোল্ড মেডেল মারেনি। ফরাসি ব্যাকরণ তার কণ্ঠস্থ, পাস্ট কন্ডিশনাল, ফুচার সবজনকটিভ তার নখদর্পণে– কিন্তু ফরাসি জাতটাই নচ্ছার, প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে বিদেশির মুখে ভুল উচ্চারণে আপনার ভাষার শব্দরূপ ধাতুরূপ নতে কিছুতেই রাজি হয় না!

    ***

    কিন্তু পাঠক নিরাশ হবেন না। পার্লিমেন্টে বক্তৃতার ভাষা-সমস্যা সমাধান করা যায়। পরে নিবেদন করব।

    .

    ০৪.

    ভারতের ভবিষ্যৎ বৈদগ্ধ্য সংস্কৃতি কী রূপ নেবে, সে সম্বন্ধে আলোচনা আরম্ভ হলেই দেখতে পাই অনেকেই মনে মনে আশা পোষণ করছেন, সে বৈদগ্ধ্য যেন ঐক্যসূত্রে তাবৎ প্রদেশগুলোকে সম্মিলিত করে নব নব বিকাশের দিকে ধাবিত হয়। এ অতি উত্তম প্রস্তাব এবং এতে কারও কোনও আপত্তি থাকার কথা নয়। যখন ভাবি, এই ভারতবর্ষেই একদা একই সংস্কৃত ভাষার মাধ্যমে কাবুল থেকে কামরূপ, হরিদ্বার থেকে কন্যাকুমারী সর্ব কলাপ্রচেষ্টা সর্ব জ্ঞানবিজ্ঞানের চর্চা হয়েছে, তখনই ঐক্যাভিলাষী হৃদয় উল্লসিত হয়ে ওঠে, আর তার পুনরাবৃত্তি দেখতে চায়।

    সংস্কৃতকে ব্যাপকভাবে পুনরায় সেরকম ধারায় চালু করার আশা আর কেউ করেন না। এখন প্রশ্ন, হিন্দির মাধ্যমে সেটা সম্ভবপর কি না?

    এই মনে করুন রামের সুমতি কিংবা বিন্দুর ছেলে। ধরে নিন অতি উত্তম অনুবাদক বই দুখানা হিন্দিতে অনুবাদ করলেন। আপনি উত্তম না হোক মধ্যম ধরনের হিন্দি জানেন, অর্থাৎ হিন্দি পুস্তকমাই দিব্য গড়গড় করে পড়ে যেতে পারেন। এখন প্রশ্ন, আপনি কি সে সুখটা পাবেন যে সুখ ওই দু-খানা বাঙলা বই বাঙলাতে পড়ে পান (গোরার ইংরেজি তর্জমা পড়েছেন? তাতে তো কোনও সুখই পাওয়া যায় না–কারণ ইংরেজি অতি-দূরের ভাষা) কেন পান না? তার প্রধান কারণ বিন্দু কী ভাষায়, কী ভঙ্গিতে কথা বলে, তার সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনে আপনার পরিচয় আছে; যখন দেখবেন তার সঙ্গে কিছুই মিলছে না, সবই কৃত্রিম বোধ হচ্ছে, তখন আপনার কাব্যরসাস্বাদনের সব বাসনা চিরতরে না হোক, তখনকার মতো লোগ পাবে। সংস্কৃতে যারা নাটক লিখে গিয়েছেন, তারা এ তত্ত্বটি বিলক্ষণ জানতেন, তাই অন্তত মেয়েদের দিয়ে সংস্কৃত বলাননি, বলিয়েছেন প্রাকৃত। নৃপ ব্রাহ্মণ সংস্কৃত বলেছেন, কারণ তারা সংস্কৃত বলতে পারতেন, কিন্তু গোরা, বিনয়, অমিট রে কেউই দৈনন্দিন জীবনে হিন্দি বলেন না, কখনও বলবেন বলে মনে হয় না। কাজেই হিন্দি দিয়ে এদের চরিত্র বিকাশ করে বাঙালিকে সুখ দেওয়া যাবে না। যাদের মাতৃভাষা বাঙলা নয়, তাঁদের কথা আলাদা– তাঁরা অবশ্য অনেকখানি রস পাবেন– যদিও স্বামী বিবেকানন্দ বলে গিয়েছেন, অনুবাদ সাহিত্যমাত্রই কাশ্মিরি শালের উল্টো দিকের মতো, মূল নকশাটি বোঝা যায় মাত্র, আর সব রসের কোনও সন্ধান পাওয়া যায় না।*[* সত্যই স্বামীজি বলেছেন কি না, হলপ করে বলতে পারব না; এক গুণীর মুখে শোনা।]

    উপরিস্থ তত্ত্বকথাটি সকলের কাছে এতই সুপরিচিত যে, আমার পুনরাবৃত্তিতে অনেকেই অসহিষ্ণু হয়ে উঠবেন, কিন্তু এইটির ওপর নির্ভর করে আমি যে বক্তব্য পেশ করব, সেটা যদি সকলে গ্রহণ করেন কিংবা অন্ততপক্ষে সেটি বিবেচনাধীন করেন, তবে আমি শ্রম সফল বলে মানব।

    শুধু ভাষা এবং সাহিত্য নয়, অন্যান্য প্রচেষ্টাও স্বভাবতই প্রাদেশিক রঙ নেয়। অজন্তা ও মোগল-শৈলীর নবজীবন লাভ হয় বাঙলা দেশে, তাই সে সম্বন্ধে যত আলোচনা-গবেষণা হয়েছে তার অধিকাংশই বাঙলাতে। অর্থাৎ প্রাদেশিক ভাষাকে একবার সার্বভৌম অধিকার দিলে যে বৈদগ্ধ্য গড়ে উঠে, সেটা প্রাদেশিক।

    এইখানে লেগে গেল দ্বন্দ্ব। আমরা এ প্রবন্ধ প্রারম্ভ করেছি প্রতিজ্ঞা নিয়ে, ভারতীয় বৈদগ্ধ্য যেন ঐক্যসূত্রে তাবৎ প্রদেশগুলোকে সম্মিলিত করে নব নব বিকাশের দিকে ধাবিত হয়। তা হলে মুক্তি কোন পন্থায় প্রাদেশিক ভাষাকে সংস্কৃতি জগতের চক্রবর্তীরূপে স্বীকার করে প্রাদেশিক সংস্কৃতি গড়ব, না বাঙলা বর্জন করে হিন্দির মাধ্যমে ভারতীয় ঐক্যবদ্ধ সংস্কৃতির সন্ধানে নিজেকে নিয়োজিত করব?

    আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস, ভারতবর্ষের ভবিষ্যৎ প্রাদেশিক ভাষাকে বর্জন করে নয়, তার সম্যক উন্নতি সাধন করে, এবং আমার আরও বিশ্বাস, প্রাদেশিক সংস্কৃতি নির্মাণ করলে বৃহত্তর ভারতীয় ঐক্য ক্ষুণ্ণ হবে না।

    কারণ ভারতীয় ঐক্য (ইউনিটি) ও ভারতীয় সমতা (ইউনিফমিটি) এক বস্তু নয়। আজ যদি পাঞ্জাব থেকে আসাম অবধি সবাই ভাত খেতে আরম্ভ করে, তবে বিদেশ থেকে শস্য কেনার সময় আমাদের বহুং বখেড়া আসান হয়ে যাবে, আজ যদি তাবৎ ভারতীয়ের উচ্চতা ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি হয়ে যায়, তবে সৈন্যদের ইউনিফর্ম বানাবার কত না সুবিধা! তবু কেউ বলবেন না, সবাইকে জোর করে ভাত খাওয়া, কিংবা ঢ্যাঙাদের শরীর থেকে দু ইঞ্চি কেটে ফেল। এ ইউনিটি নয়, ইউনিফরমিটি।

    যারা মেরে-পিটে ভারতীয় সমতা চাইছেন, তারা যে জেনে-শুনে ভুল করেছেন তা–ও হতে পারে। আমার বিশ্বাস, তারা ইউনিটি চাইছেন সত্য, কিন্তু ইউনিটি এবং ইউনিফরমিটিতে গোল পাকিয়ে ফেলেছেন। আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস, প্রত্যেক ভারতীয় প্রদেশ যদি আপন প্রাদেশিক সংস্কৃতি সভ্যতা আপন শক্তি ও প্রতিভা দিয়ে গড়ে তোলে, তবে সেই সম্মিলিত সংস্কৃতিই হবে সত্যকার ভারতীয় সংস্কৃতি।

    গুরু রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করে নিবেদন করি, তিনি বলেছিলেন, একতারা বাজানো সহজ, বীণা বাজানো কঠিন; কিন্তু সেটা বাজাতে পারলে তার থেকে যে harmony বা বহুধ্বনি আপন আপন বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে ঐক্যের যে সঙ্গীত নির্মাণ করে তোলে, তার সঙ্গে একতারার ইউনিফমিটির কোনও তুলনা হয় না।

    বহু প্রদেশের নানাবিধ সঙ্গীত জেগে উঠে যে harmony-র সৃষ্টি হবে, সে-ই সত্যকার ভারতীয় ঐক্য-সঙ্গীত। তবেই জনগণ ঐক্যবিধায়ক বলা সফল হবে।

    .

    ০৫.

    হিন্দির প্রসার এবং প্রচার অতীব প্রয়োজনীয়, সেকথা আমরা সকলেই স্বীকার করি কিন্তু সে প্রসার যেন প্রাদেশিক এবং আঞ্চলিক ভাষা এবং সাহিত্যকে গলা টিপে না মেরে ফেলে। হুশিয়ার হয়ে সে প্রসারকর্ম সমাধান করলে কারওরই কোনও আপত্তি থাকবে না। কী প্রকারে সেটা করা যেতে পারে, সে নিবেদন করার পূর্বে হিন্দির বিরুদ্ধে যে কয়টি আপত্তি বাঙলা দেশের কাগজে ইদানীং উঠেছে, তারই দু-একটি নিয়ে কিঞ্চিৎ আলোচনার প্রয়োজন।

    হিন্দির বিরুদ্ধে প্রধান এবং প্রথম আপত্তি, হিন্দির লিঙ্গ বিভাগটা বড়ই বদখদ। বাঙালি ভাবে, ছেলেটা যাচ্ছে, মেয়েটা যাচ্ছে বললে যখন দিব্য অর্থ বুঝতে পারি তখন লড়কা জাতা হৈ, লড়কি জাতি হৈ বলে মানুষকে বিরক্ত করা ছাড়া অন্য কোনও লাভ হয় না। এস্থলে বক্তব্য, অর্থ বুঝতে পারার মান নিয়েই ভাষা সৃষ্টি হয় না। তাই যদি হত তবে বাঙলায় বলি না কেন, আমি গেলুম তুমি গেলুম সে গেলুম? ইংরেজ তো খাসা এক ওয়েন্ট দিয়েই বলে যায়, আই ওয়েন্ট, ইউ ওয়েন্ট, হি ওয়েন্ট– অর্থ জলের মতো পরিষ্কার বুঝতে কোনও অসুবিধে হয় না।

    অর্থাৎ প্রত্যেক ভাষারই আপন আপন বৈশিষ্ট্য থাকে এবং তা নিয়ে গোসা করলে চলে না। এখন প্রশ্ন, হিন্দি যে লিঙ্গভেদ করে সেটা কি নিছক তারই পাগলামি, না অন্যান্য ভাষাও করে বাঙলা এককালে কিছুটা করত, সেকথা সকলেই জানেন, এবং এখনও কিছুটা করে। সুন্দর রমণী বলতে এখনও বাধো বাধো ঠেকে, এবং কোনও রমণীকে যদি বলি, ওগো সুন্দর, গঙ্গাস্নানে চললে নাকি–তবে এখনও সেটা ভুল, সুন্দরী বলতে হয়।

    সংস্কৃতে যে লিঙ্গভেদ আছে এবং সে লিঙ্গভেদ যে সরল নয়, সেকথাও সকলেই জানেন। প্রাণহীন বন্ধুমাত্রই যে ক্লীব হয় তা-ও তো নয়। বহু নদনদী এ জীবনে দেখেছি কিন্তু কোনটারই নাম পুংলিঙ্গ আর কোনটারই-বা স্ত্রীলিঙ্গ–ক্লীবের তো কথাই উঠে না– সে তত্ত্বটি জলধারা দেখে ঠাহর করতে পারিনি। দিসুন্দরীর (ডিকশনারির শরণাপন্ন হলে পর তিনি দিশেহারাকে দিক বাতলে দেন।

    উত্তরে হয়তো বলবেন, সংস্কৃতের উদাহব্রণ এখন আর চলবে না। চাল ভাষা থেকে নজির পেশ কর।

    এই মুশকিলে পড়ে গেলেন। ফরাসি, জর্মন, রুশ, ইতালি, ওলন্দাজ, আরবি, গুজরাতি, মারাঠি এ সব ভাষাতেই লিঙ্গভেদ আছে এবং আরও বহু ভাষায় আছে বলে শুনেছি, সত্য বলতে কি, লিঙ্গভেদ নেই এরকম ভাষাই বিরল। আমার সীমাবদ্ধ জ্ঞান বলে, বড় ভাষার ভিতরে তিনটিমাত্র ভাষাতে লিঙ্গবিচার নেই–ইংরেজি, ফারসি এবং বাঙলা। এ তিনটি ভাষা যতখানি ছাত্রাস ব্যাকরণ বর্জন করতে পেরেছে অন্য ভাষাগুলো সেরকম পারেনি।

    জর্মনের লিঙ্গ সবচেয়ে বেতালা বেহিসাব। ছুরি কাটা এবং চামচ তিনটি শব্দই আমাদের কাণ্ডজ্ঞান অনুযায়ী ক্লীব হওয়া উচিত অথচ জর্মন ভাষাতে দুরি ক্লীব, কাটা স্ত্রীলিঙ্গ এবং চামচ পুলিঙ্গ। দোর্দণ্ডপ্রতাপ সূর্য স্ত্রীলিঙ্গ, ভ্র জ্যোৎস্না-পুলকিত যামিনীর চন্দ্রমা পুংলিঙ্গ এবং নারী (ডাস ভাইব, ভাইব–ওয়াইফ) ক্লীব লিঙ্গ! শুধু তাই নয়, সূর্যের চেয়েও দোর্দণ্ডপ্রতাপ জন পুলিশ বাহিনী (ডি পোলিসাই) স্ত্রীলিঙ্গ।

    পুনরপি পশ্য, পশ্য, ফরাসি এবং হিন্দিতে দাড়ি স্ত্রীলিঙ্গ।

    তবে কি দাড়ির জৌলুসের মালিক এককালে রমণীরা ছিলেন? পুরুষেরা পরবর্তী যুগে জোর করে কেড়ে নিয়েছেন। কিন্তু ভুলবেন না, গোঁফ হামেশাই দাড়ির উপরে।

    তবে বলুন তো, ভদ্র হিন্দিকে দোষ দিয়ে লাভ কী? বরঞ্চ হিন্দি জর্মনের তুলনায় দ্রুতর। জনে তিনটি লিঙ্গ; লাগলে তাগ, না লাগলে তুক্কা করে যদি লিঙ্গবিচার করেন তবে শুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা মাত্র শতকরা ৩৩.৩ ভাগ; হিন্দিতে ৫০ ভাগ, কারণ হিন্দিতে মাত্র দুটি লিঙ্গ।

    যারা হিন্দি জানেন তারা হিন্দির বিরুদ্ধে আর একটি আপত্তি উত্থাপন করেছেন। হিন্দিতে বলি, মৈ রোটি খাতা- আমি রুটি খাই, কিন্তু অতীতকাল নিলে বলতে হয় মৈ নে রোটি খাই- আমি রুটি খেয়েছি। অর্থাৎ অতীতকালে আমি আর কর্তা থাকলুম না, কর্তা হয়ে গেলেন রুটি এবং সেই অনুযায়ী ক্রিয়াপদ স্ত্রীলিঙ্গ হয়ে গেল, কারণ রোটি হিন্দিতে স্ত্রীলিঙ্গ (পানি, ঘি, দহি, মোতির মতো মাত্র কয়েকটি ই-কারান্ত শব্দ স্ত্রীলিঙ্গ; তাই পুংভূষণ দাড়ি বেচারি স্ত্রীলিঙ্গ হয়ে গিয়েছে। তার মানে আমা-দ্বারা রুটি খাওয়া হল বললে অনেকটা হিন্দির ওজনে বলা হল। কিংবা পাগলে কি না বলে! সংস্কৃতে এরকম জিনিস আছে একথা সকলেই জানেন।

    কিন্তু এসব সমস্যা অপেক্ষাকৃত সরল। একবার কোন শব্দ কোন লিঙ্গ জানা হয়ে গেলে বাদবাকি জট তিন লহমায় ছাড়িয়ে নেওয়া যায়।

    লিঙ্গ নিয়ে আপত্তি উত্থাপন করে কোনও লাভ নেই। আমরা যদি হিন্দিভাষীকে বলি লিঙ্গ তুলে লড়কা জাতা, লড়কি জাতা বলা আরম্ভ করে দাও, তবে ইংরেজ বাঙালিকে বলবে, আমি গেলুম, তুমি গেলুম, সে গেলুম, বলতে আরম্ভ কর। তাই ইংরেজ ফরাসি লেখার সময় ফরাসির লিঙ্গবিচার নিয়ে আপত্তি তোলে না। চাঁদপানা মুখ করে, মুখস্থ করে শব্দের অন্তে বি, সি, ডি, জি, এল, পি, কিউ, জেড থাকলে শব্দ পুংলিঙ্গ হয় অবশ্য বিস্তর ব্যত্যয় আছে, ইত্যাদি ইত্যাদি। ফরাসিতে হিন্দির মতো মাত্র দুটি লিঙ্গ কিন্তু আমার মনে হয়, ফরাসিতে লিঙ্গবিচার হিন্দির চেয়ে শক্ত।

    এটা অবশ্য অসম্ভব নয় যে, হিন্দি বহু বহু প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাদেশিক অজ্ঞতাবশত লিঙ্গে ভুল হতে আরম্ভ হবে এবং তারই ফলে হয়তো একদিন হিন্দি থেকে লিঙ্গ লোপ পেয়ে যাবে। তবে তার ফললাভ আমরা করতে পারব না সেকথা সুনিশ্চিত।

    .

    ০৬.

    হিন্দি-বিরোধী সম্প্রদায় বলেন, হিন্দিতে এমন কী সাহিত্য আছে, বাপু, যে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে হিন্দি শিখতে যাব? উত্তরে হিন্দির দল বলেন, তাবৎ ভারত যদি হিন্দি গ্রহণ করে সে ভাষাতে সাহিত্যসৃষ্টি আরম্ভ করে তবে দেখতে না দেখতেই হিন্দি ইংরেজি-ফরাসির সঙ্গে পাল্লা দিতে আরম্ভ করবে।

    এ উত্তরটা ইতিহাসের ধোপে টেকে না। সকলেই জানেন, এককালে লাতিন সর্ব ইউরোপের রাষ্ট্রভাষা ছিল কিন্তু তৎসত্ত্বেও লাতিন ভাষা গ্রিক কিংবা সংস্কৃতের মতো উচ্চাঙ্গ সাহিত্য সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়নি। তার পর ফরাসি ভাষা লাতিনের আসনটি কেড়ে নিল। কিন্তু ফরাসি সাহিত্য যে বিত্তবান হল সেটা ইংরেজ, জর্মন, ইতালীয়দের ফরাসি সাহিত্য-চর্চা করার ফলে নয়– ফরাসির ব্যাপক সাহিত্য গড়ে উঠেছে ফরাসি যাদের মাতৃভাষা একমাত্র তাদেরই প্রচেষ্টার ফলে। ঠিক সেই কারণেই প্রশ্ন, কটা বিদেশি ইংরেজিতে লিখে নাম করতে পেরেছে কিংবা কজন ইংরেজ ফরাসি-জনে লিখে সার্থক সাহিত্য সৃষ্টি করতে পেরেছে ইংরেজিতে ফিরে যাই; ফরাসির পর এই যে ইংরেজি বনজুড়ে রাজত্ব করল সে ভাষাতেই-বা কটি বিদেশি নাম করতে পেরেছেন? এমনকি, কজন অস্ট্রেলিয়া কিংবা কানাডাবাসী ইংরেজি সাহিত্যে উচ্চাঙ্গের রচনা লিখতে সক্ষম হয়েছে? এ জিনিসটা আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। তবে কি ভাষাকে টবে পুঁতে বিদেশে পাঠালে সেখানে সে বেঁচে থাকতে সক্ষম হলেও ফল দিতে পারে না? আমেরিকার মতো বিরাট দেশে তো আরও বেশি লেখকের জন্ম নেবার কথা ছিল– একদম পয়লা নম্বরের লেখক সে মহাদেশে জন্মেছেন কজন? অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, আমেরিকাবাসীর মাতৃভাষা ইংরেজি– তারাই যদি এ বাবদে কাহিল তবে যাদের মাতৃভাষা ইংরেজি নয় তারাই-বা কোন গন্ধমাদন উত্তোলন করতে পারবেন?

    অথচ দেখুন, লাতিন-ফরাসির একচ্ছত্রাধিপত্য যেমন যেমন লোপ পেল সঙ্গে সঙ্গে জর্মন, ইংরেজি, ইতালি, রুশ, সুইডিশ, ওলন্দাজ সাহিত্য কী অল্প সময়ে কত না কত অদ্ভুত উন্নতি সাধন করতে পেরেছে। তাই আজ আধমরা লাতিনের জায়গায় জেগে উঠেছে বহুতর ভাষা গরুড়ের ক্ষুধা নিয়ে। তাই চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি বহু ভাষার শিখতোরণ, মিনার-গম্বুজ দিয়ে গড়া ইউরোপীয় সাহিত্য নামক এক গগনচুম্বী তাজমহল।

    ইংরেজ ফরাসি ভাষায় লেখে না, ফরাসি জর্মনে লেখে না, রুশ দিনেমার ভাষায় সাহিত্য সৃষ্টি করতে যায় না, তথাপি এদের ভিতর আন্তরিক সহযোগিতার অন্ত নেই। আজ ফরাসি দেশে যে গকুর পুরস্কার পায় কালই তার বই ইংরেজিতে তর্জমা হয়ে যায় অধিকাংশ স্থলে প্রাইজ পাওয়ার বহু পূর্বেই তর্জমা হয়ে গিয়েছে। আর নোবল পেলে তো কথাই নেই– হুস হুস করে ডজনখানেক ভাষায় খান বিয়াল্লিশ তর্জমা বাজার গরম করে তোলে।

    ইংরেজ গেছে, আপদ গেছে। এখন আমি স্বপ্ন দেখি–সুশীল পাঠক তুমিও যোগ দাও– ভারতবর্ষের নানা ভাষায় যেন উত্তম উত্তম সাহিত্য সৃষ্টি হয় এবং এক সাহিত্যের ভালো লেখা যেন অন্য সব সাহিত্যে অনুবাদ করা হয়। ইংরেজের মতলব ছিল প্রদেশে প্রদেশে যেন ভাবের আদান-প্রদান না হয়। তৎসত্ত্বেও আমরা ইংরেজির মাধ্যমে একে অন্যকে কিছুটা চিনতে পেরেছি কিন্তু বহুস্থানেই অনেকখানি ভুল চেনাশোনা হয়েছে। এবার সৎসাহিত্যের ভিতর দিয়ে আসল সদালাপ আরম্ভ হবে– আমরা এই স্বপ্ন দেখি।

    বাঙলা বই হিন্দিতে অনুবাদ হবে, তার পর হিন্দি থেকে তামিলে– এ ব্যবস্থা আমার মনঃপূত হয় না। জ্যামিতি নাকি সপ্রমাণ করতে পারে, ত্রিভুজের যে কোনও এক বাহু যে কোনও দুই বাহুর চেয়ে হতর।

    সোজাসুজি পরিচয় সবচেয়ে ভালো পরিচয়। একটি সামান্য উদাহরণ দিই। একখানি পুস্তকের প্রতি আমার ভক্তিশ্রদ্ধার অন্ত নেই– এ সম্বন্ধে পূর্বেও ইঙ্গিত করেছি- বইখানি স্বর্গীয় লোকমান্য বালগঙ্গাধর টিলকের গীতারহস্য।

    লোকমান্য গীতার এই নবীন ভাষ্য মারাঠিতে লিখেছিলেন এবং তার এক অতি জঘন্য ইংরেজি অনুবাদ আছে

    একদম অখাদ্য অপাঠ্য। কিন্তু বৃদ্ধ জ্যোতিরিন্দ্রনাথ যৌবনে-শেখা, মরচে-ধরা, জাম-পড়া তার মারাঠিজ্ঞানকে ঝালিয়ে নিয়ে বাঙলায় যে অনুবাদখানি করেছেন তার প্রশংসা করতে গিয়ে আমার অক্ষম লেখনী বার বার তার দুর্বলতা নিয়ে লজ্জিত হয়। এ তো অনুবাদ নয়, এ যেন বাঙালি টিলক বাঙলায় লিখেছেন। মারাঠির সঙ্গে মিলিয়ে এ অধম সে পুস্তক বহুবার অধ্যয়ন করেছে, প্রতিবার মনে মনে তার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছে, বন্ধুবান্ধবকে সে কেতাব-ই-কুত্ত্ব-মিনার পড়তে অনুরোধ করেছে, এবং সত্যপীর ছদ্মনামে সে গ্রন্থের পুনর্মুদ্রণের জন্য আনন্দবাজারে বিস্তর কান্নাকাটি করেছে।

    এই বই পড়লে গীতা নতুন করে চেনা যায় সেকথা অতি সত্য; কিন্তু উপস্থিত আমার নিবেদন, এ গ্রন্থ পড়লে মহারাষ্ট্র দেশকেও চেনা যায়। সংস্কৃত আজ সর্বত্রই মুমূর্ষ, কিন্তু কতখানি সংস্কৃত-চর্চা থাকলে পর এরকম গ্রন্থ বেরুতে পারে সেটা এ বই পড়লে মহারাষ্ট্রের সেই ক্ষুদ্র পল্লি চোখের সামনে ভেসে ওঠে যেখানে বালক বালগঙ্গাধর সংস্কৃত-চর্চার মাঝখানে মানুষ হলেন। আমার গর্ব, আমি সে গ্রামে গিয়েছি, সে তীর্থ দেখেছি।*[** এ প্রবন্ধ আমি বহু বৎসর পূর্বে, ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে লিখি, কিন্তু তখনও রাষ্ট্রভাষা সমস্যা তার রুদ্রতম রূপ ধারণ করেনি বলে আমি জানতুম একদিন নেবেই নেবে, তাই আগেভাগেই সাবধানবাণী শোনাতে চেয়েছিলুম– (দক্ষিণ ভারতে হিন্দির বিরুদ্ধে যে-সংগ্রাম প্রয়োজনাতীত তাণ্ডব রূপ ধারণ করে সে তো তার বহু পরের ঘটনা!) আমার প্রিয় পাঠকবর্গ সমস্যাটির গুরুত্ব অনুভব করতে পারেননি। ফলে, উৎসাহভাবে, আমি প্রবন্ধটিকে পরিপূর্ণ রূপ দিতে পারিনি।]

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহিটলার – সৈয়দ মুজতবা আলী
    Next Article পঞ্চতন্ত্র ২ – সৈয়দ মুজতবা আলী

    Related Articles

    সৈয়দ মুজতবা আলী

    চাচা কাহিনী – সৈয়দ মুজতবা আলী

    December 6, 2025
    সৈয়দ মুজতবা আলী

    পঞ্চতন্ত্র ১ – সৈয়দ মুজতবা আলী

    December 6, 2025
    সৈয়দ মুজতবা আলী

    ময়ূরকণ্ঠী – সৈয়দ মুজতবা আলী

    December 6, 2025
    সৈয়দ মুজতবা আলী

    দ্বন্দ্বমধুর – সৈয়দ মুজতবা আলী

    December 6, 2025
    সৈয়দ মুজতবা আলী

    অসি রায়ের গপপো – সৈয়দ মুজতবা আলী

    December 6, 2025
    সৈয়দ মুজতবা আলী

    দেশে বিদেশে – সৈয়দ মুজতবা আলী

    December 6, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }