Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বর্ন আইডেন্টিটি – রবার্ট লুডলাম

    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন এক পাতা গল্প722 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বর্ন আইডেন্টিটি – ২৪

    অধ্যায় ২৪

    “আদেঁ ফ্রাঁসোয়া ভিলিয়ার্স,” একটা সিগারেট ধরাতে ধরাতে মেরি আবারো বললো। তারা তাদের টেরাসের ঘরে ফিরে এসে অবিশ্বাস্য তথ্যটা হজম করার চেষ্টা করছে। “তিনি সায়ারের গ্র্যাজুয়েট, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একজন নায়ক। প্রতিরোধ সংগ্রামের কিংবদন্তী। আলজেরিয়া নিয়ে দ্য গলের সাথে বিরোধের আগে তিনি গলের সম্ভাব্য একজন উত্তরসূরি ছিলেন। জেসন, এরকম একজন লোককে কার্লোসের সাথে জড়ানো একেবারেই অবিশ্বাস্য।”

    “কানেকশানটা তো আছে। বিশ্বাস করো।”

    “এটা একেবারেই কঠিন। ভিলিয়ার্স ফ্রান্সের খুবই পুরনো, সপ্তদশ শতকের অভিজাত এক পরিবারের সদস্য। বর্তমানে তিনি ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির একজন উল্লেখযোগ্য সদস্য। তিনি আইন মেনে চলা মিলিটারি ব্যক্তিত্ব। এটা অনেকটা ডগলাস ম্যাকআর্থারকে মাফিয়া বন্দুকবাজদের সাথে জড়ানোর মতো। এটা একেবারেই অসম্ভব।”

    “তাহলে অন্য কিছু দেখা যাক। দ্য গলের সাথে তার বিরোধটা কি ছিলো?”

    “আলজেরিয়া। ষাট দশকের শুরুর দিকে তিনি ওএএস-এর সাথে জড়িত ছিলেন—একজন আলজেরিয়ান কর্নেল সালানের অধীনে। তারা ইভিয়ান চুক্তির বিরুদ্ধে ছিলো যাতে আলজেরিয়ার স্বাধীনতা দেয়া হয়। তারা বিশ্বাস করতো আলজেরিয়া আইনত ফ্রান্সেরই।”

    “আলজেরিয়ার উন্মাদ কর্নেল,” বর্ন বললো। কথাটা কোত্থেকে এলো সে জানে না।

    “এটা তোমার কাছে কিছু মনে হচ্ছে?”

    “হ্যা, তবে আমি জানি না সেটা কি?”

    “ভাবো,” মেরি বললো। “কেন ‘উন্মাদ কর্নেল’ কথাটা তোমার মনে পড়লো? এতো দ্রুত!”

    তার দিকে অসহায়ের মতো তাকালো জেসন। তারপরই কথাট তার মনে উদয় হলো। “বোমা বর্ষণ…অনুপ্রবেশ। উস্কানি দাতারা। তুমি সেগুলো স্টাডি করো; তুমি মেকানিজমটা স্টাডি করো।”

    “কেন?”

    “আমি জানি না।

    “তোমাকে যা শেখানো হোতো সেটার উপর ভিত্তি করেই কি তুমি সিদ্ধান্ত নিতে?”

    “আমারও তাই মনে হয়।”

    “কি ধরণের সিদ্ধান্ত? তুমি কি সিদ্ধান্ত নিতে?”

    “বিশৃঙ্খলা।”

    “এটা তোমার কাছে কি অর্থ বহন করে? বিশৃঙ্খলার কথা বলছি।”

    “আমি জানি না! আমি ভাবতে পারছি না!”

    “ঠিক আছে…ঠিক আছে। অন্য সময়ে এটা নিয়ে আমরা ভাববো।”

    “সময় তো হবে না। চলো ভিলিয়াসকে নিয়ে কথা বলি। আলজেরিয়ার পরে কি হয়েছিলো?”

    “দ্য গলের সাথে তার একধরণের সমঝোতা হয়েছিলো। ভিলিয়ার্স সরাসরি সন্ত্রাসের সাথে জড়িত ছিলেন না। তার মিলিটারি রেকর্ড ছিলো খুবই অসাধারণ। যে কারণে তাকে একটু ছাড় দেয়া হয়। ফ্রান্সে ফিরে আসেন তিনি—তাকে আসলে স্বাগতই জানানো হয়—একজন পরাজিত যোদ্ধা, তবে কাজটা দেশপ্রেম থেকেই করেছিলেন। আবারো তার কমান্ড ফিরে পান তিনি, রাজনীতিতে যোগ দেয়ার আগে তাকে একজন জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়।”

    “তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন, তারপর?”

    “এজন মুখপাত্র বলতে পারো। একজন বয়স্ক মুখপাত্র। এখনও তার শিকড় মিলিটারিতে প্রোথিত। ফ্রান্সের ক্ষয়িষ্ণু মিলিটারিতে এখনও তার প্রভাব রয়েছে।”

    “হাওয়ার্ড লিল্যান্ড,” জেসন বললো। “এটাই তোমার কার্লোসের সাথে কানেকশান।”

    “কিভাবে? কেন?”

    “কারণ লিল্যান্ডকে হত্যা করা হয় কুয়ে দরসে অস্ত্র মওজুদ আর রপ্তনীর ব্যাপারে নাক গলানোর জন্যে ‘

    “এটা তো খুবই অবিশ্বাস্য ব’লে মনে হচ্ছে। এরকম একজন একজন মানুষ…” মেরির কণ্ঠটা মিইয়ে গেলো। সে কিছু মনে করার চেষ্টা করছে। “তার ছেলে খুন হয়, সেটা ছিলো রাজনৈতিক বিষয়। আজ থেকে ছয় বছর আগে।”

    “আমাকে বলো সেটা।”

    “তার গাড়িটা রুই দুবাকে বিস্ফোরিত হয়। খবরটা সব পত্রিকায়ই ছাপা হয়েছিলো। সেও ছিলো রাজনীতিতে সক্রিয়, তার বাবার মতোই একজন রক্ষণশীল। সব সময় সমাজতান্ত্রিক আর কমিউনিস্টদের বিরোধীতা করতো। সে পার্লামেন্টে তরুণ সদস্য ছিলো। সরকারের ব্যয় সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের পথে একটা বাঁধা হিসেবে আর্বিভূত হয়, খুবই জনপ্রিয় ছিলো। আকর্ষণীয় আর অভিজাত এক ব্যক্তিত্ব ছিলো সে।”

    “তাকে কে খুন করলো?”

    “অনুমাণ করা হয় এটা কমিউনিস্ট উগ্রপন্থীদের কাজ। সে বামপন্থীদের একটি লেজিস্‌লেশনে বাঁধা দিয়েছিলো। তার মৃত্যুর পর সেই লেজিলেশনটা পাস হয়ে যায়। অনেকেই ভাবে এজন্যেই ভিলিয়ার্স আর্মি ছেড়ে দিয়ে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে যোগ দেন। এটা অবশ্য খুবই বিসদৃশ্য ব’লে মনে হয়। হাজার হোক তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছিলো; তুমি কোনোভাবেই ভাবতে পারো না তিনি একজন পেশাদার গুপ্তহত্যাকারীর সাথে জড়িত আছেন।”

    “আরো কিছু ব্যাপার আছে। তুমি বলছো তিনি প্যারিসে ফিরে আসলে তাকে স্বাগত জানানো হয়, কারণ তার সাথে সরাসরি সন্ত্রাসের সম্পর্ক ছিলো না।”

    “যদি তিনি তা ক’রে থাকেন,” মেরি বাঁধা দিয়ে বললো। “এটা ধামাচাপা দেয়া হয়েছিলো। ফরাসিরা তাদের দেশ আর বিছানার ব্যাপারে অনেক বেশি উদার। আর তিনি ছিলেন তাদের নায়ক। সেটা তুমি ভুলে যেয়ো না।”

    “কিন্তু একবার যে সন্ত্রাসী সে চিরকালই সন্ত্রাসী, সেটাও ভুলে যেয়ো না।”

    “আমি একমত নই। মানুষ বদলায়।”

    “কিছু কিছু ব্যাপারে নয়। কোনো সন্ত্রাসী কখনই ভুলে যায় না সে কতোটা কার্যকরী। সে ওসবের মধ্যেই বেঁচে থাকে।”

    “আমি এক্ষুণি নিজেকে জিজ্ঞেস করবো কিনা সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই।”

    “তাহলে সেটা কোরো না।”

    “তবে আমি ভিলিয়ার্সের ব্যাপারে নিশ্চিত। আমি তাকে ধরছি।” বর্ন বেডসাইড টেবিল থেকে ফোনবুকটা তুলে নিলো। “চলো দেখি, তার নাম্বারটা লিস্টেড নাকি প্রাইভেট। তার ঠিকানাটা আমার দরকার।”

    “তুমি তার ধারে কাছেও যেতে পারবে না। তিনি যদি কার্লোসের লোক হয়ে থাকেন তবে তাকে প্রহরা দিয়ে রাখা হবে। তারা তোমাকে দেখামাত্রই গুলি করবে। তাদের কাছে তোমার ছবি আছে, ভুলে গেছো?”

    “সেটা তাদের কোনো সাহায্যে আসবে না। তারা যা খুঁজছে সেটা তা নয়। এই তো। ভিলিয়ার্স, এ. এফ. পার্ক মশিউ।”

    “তারপরও আমি এটা বিশ্বাস করতে পারছি না। শুধু জানি মহিলা যাকে ফোন করে সে অবশ্যই লাভিয়াকে ভড়কে দিয়েছে।”

    “অথবা মহিলাকে ভয় পাইয়ে দিয়ে এমন এক অবস্থায় নিয়ে যাবে যেখানে সে যা খুশি তাই করতে পারবে।”

    “তোমার কাছে কি এটা অদ্ভুত ব’লে মনে হয় না যে, তাকে নাম্বারটা দেয়া হবে।”

    “এই রকম পরিস্থিতিতে নয়। কার্লোস চায় তার ড্রোনরা জানুক সে ঠাট্টা করছে না। সে কেইনকে চায়।”

    মেরি উঠে দাঁড়ালো। “জেসন, ‘ড্রোন’ কি?”

    “বর্ন তার দিকে তাকালো। “আমি জানি না…তবে মনে হয়, অন্ধভাবে যে অন্য আরেকজনের হয়ে কাজ করে।”

    “অন্ধভাবে? মানে, না দেখে?”

    “না জেনে। ভাবে সে একটা অন্য কিছু করছে।”

    “এমনভাবে করা হয় যাতে ট্রেস্ করা না যায়।”

    “হ্যা, তাই।”

    “জুরিখে সেটাই হয়েছিলো। ওয়াল্টার এপফেল ছিলো একজন ড্রোন। সে চুরির কাহিনীটা ছড়িয়েছে না জেনেই।”

    “কোন্ কাহিনীটা?”

    “এটা খুব ভালো অনুমাণ যে, তোমাকে এমন একজনের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হলো যাকে তুমি ভালোভাবেই চেনো।”

    “ট্রেডস্টোন সেভেনটি-ওয়ান,” জেসন বললো। “আমরা আবার ভিলিয়ার্সের কথায় ফিরে যাই। কার্লোস আমাকে গেইমেনশেফটের মাধ্যমে খুঁজে পেয়েছে। তার মানে সে ট্রেডস্টোন সম্পর্কে জানে। ভিলিয়ার্সও তা জানে, সেটার বেশ ভালো সম্ভাবনা আছে। সে যদি তা না জানে তবে হয়তো তাকে আমাদের জন্যে খুঁজে বের করার একটা পথ রয়েছে।”

    “কিভাবে?”

    “তার নাম। তুমি যা বললে তিনি যদি আসলেই তাই হয়ে থাকেন তবে তিনি এটার সম্পর্কে বেশ ভালোই জানেন। অনার অব ফ্রান্সের পশুতুল্য কার্লোসের সাথে গাটছড়া বেঁধেছেন তার হয়তো কোনো কারণ রয়েছে। আমি পুলিশের কাছে, পত্রপত্রিকার কাছে যাওয়ার হুমকি দেবো।”

    “তিনি এটা সোজা অস্বীকার করবেন। বলবেন এটা জঘন্য মিথ্যে।”

    “বলতে দাও তাকে। এটা আসলে মিথ্যে নয়। তার নাম্বারটা লাভিয়ার অফিসে ছিলো। তাছাড়া, কোনো রকম অস্বীকার করা হবে তার জন্যে মৃত্যুর শামিল।”

    “আগে তো তাকে তোমার পেতে হবে।”

    “পাবো। মনে রেখো, আমি হলাম বহুরূপী।”

    .

    পার্ক মঁশিউ’র বৃক্ষশোভিত রাস্তাটা কোনো না কোনোভাবে একটু পরিচিত ব’লে মনে হচ্ছে। তবে এমন নয় যে, সে এই রাস্তাটা দিয়ে এর আগে হেটে গেছে। বরং, এটার পরিবেশ তার খুব চেনা চেনা লাগছে। দুই সারি চমৎকার পাথরের বাড়িঘর, চকচকে দরজা-জানালা, আলোঝলমলে ঘরদোর। ছাদ থেকে অর্কিড ঝুলে আছে। এটা ধনীদের এলাকা। সে এরকম একটা এলাকার সাথে পরিচিত। এটা তার কাছে অন্য রকম কিছু অর্থ বহন করে।

    ৭টা ৩৫ বাজে, ঠাণ্ডা মার্চের রাত, আকাশ পরিস্কার, বহুরূপী এই কাজের জন্যে একটা পোশাক পরেছে। বর্নের সোনালী চুল একটা ক্যাপে ঢাকা, তার কাঁধটা একটা জ্যাকেটের আড়ালে চাপা পড়ে গেছে। সেই জ্যাকেটটার পেছনে একটা মেসেঞ্জার সার্ভিসের নাম লেখা আছে। তার কাঁধে একটা খালি ক্যানভাস ব্যাগ।

    তাকে দুটি অথবা তিনটি স্টপে যেতে হবে, যদি সে প্রয়োজন মনে করে তবে হয়তো চারটাতেও যেতে হবে। খামগুলো সত্যিকারের খাম নয়। কিন্তু ব্রশিউরগুলো বতিয়ো মোশে’র বিজ্ঞাপন কাজের জন্যে ব্যবহার করা হয়। ওগুলো সে একটা হোটেল লবি থেকে তুলে নিয়েছে। জেনারেল ভিলিয়ার্সের বাড়ির আশেপাশে কয়েকটা বাড়ি সে বেছে নেবে দৈবচয়ণের ভিত্তিতে, সেই সব বাড়ির মেইল বক্সে ব্রশিউরগুলো ফেলে দেবে। যা দেখবে সবই তার চোখ রেকর্ড ক’রে রাখবে, সবকিছুর উপরে তার লক্ষ্য একটাই। ভিলিয়ার্সের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কি রকম? কে জেনারেলকে গার্ড দেয় এবং কতোজন দেয়?

    যেহেতু সে ধরে নিয়েছিলো হয় লোকগুলো গাড়িতে নয়তো পোস্টের সামনে হাটতে থাকবে, তাই সেরকম কাউকে দেখতে না পেয়ে খুবই অবাক হলো বর্ন। আদেঁ ফ্রাঁসোয়া ভিলিয়ার্স, জাঁদরেল মিলিটারি জেনারেল, কার্লোসের ঘনিষ্ঠ একজন, তার বাড়ির বাইরে কোনো ধরণের প্রহরার ব্যবস্থা নেই। যদি তাকে নিরাপত্তা দেয়া হয়ে থাকে তবে সেটা কেবলমাত্র বাড়ির ভেতরেই দেয়া হয়। তার অপরাধের মাত্রার তুলনায় এরকম অরক্ষিত থাকার কারণ হতে পারে সে অনেক বেশি অহংকারী নয় তো বোকারহদ্দ।

    পাশের বাড়িটার প্রবেশদ্বারের সিঁড়িতে উঠে গেলো জেসন। ভিলিয়ার্সের দরজাটা এখান থেকে বিশ ফিটের বেশি দূরে হবে না। সে দরজার ফাঁক দিয়ে ব্রশিউরটা ঢুকিয়ে দিয়ে ভিলিয়ার্সের বাড়ির জানালার দিকে তাকালো একটা মুখ, একটা মানুষ দেখার জন্যে। কাউকে দেখতে পেলো না।

    বিশ ফিট দূরের দরজাটা আচমকা খুলে গেলে বর্ন একটু নিচু হয়ে জ্যাকেটের ভেতর থেকে তার অস্ত্রটাতে হাত দিতে নিজেকে তার আস্ত একটা বোকা বলেই মনে হলো। সে যেমনটি দেখেছে আসলে তার চেয়ে বেশি কিছু আছে এখানে। কেউ এখানে নজরদারী করছে, এটা নিশ্চিত। কিন্তু যে কথা সে শুনতে পেলো সেটা তাকে বলে দিলো ঘটনা সেরকম কিছু নয়। এক মধ্যবয়সী দম্পতি—ইউনিফর্ম পরিহিত মহিলা আর কালো জ্যাকেট পরা একজন পুরুষ—দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছে।

    “অ্যাস্ট্রেগুলো পরিস্কার কিনা দেখে নিও,” মহিলা বললো। “তুমি তো জানোই, উনি ছাই ভর্তি এস্ট্রে কি রকম ঘেন্না করেন।”

    “উনি বিকেলে আড্ডা মেরেছেন,” লোকটা জবাব দিলো। “তার মানে ওগুলো ভর্তি হয়ে আছে।”

    “ওগুলো গ্যারাজে নিয়ে গিয়ে পরিস্কার কোরো। তোমার হাতে সময় আছে। দশ মিনিটের আগে উনি নিচে নেমে আসবেন না। সাড়ে আটটার আগে তিনি নাঁতেরে’তে যাবেন না।”

    লোকটা মাথা নেড়ে সায় দিয়ে জ্যাকেটের হাতা গোটাতে গোটাতে সিঁড়ি দিয়ে নেমে গেলো। “দশ মিনিট,” সে আপন মনে বললো।

    দরজাটা বন্ধ হয়ে গেলে আবারো নিরবতা নেমে এলো আশেপাশে। জেসন উঠে দাঁড়ালো। ফুটপাত দিয়ে হনহন ক’রে হেটে যেতে থাকা লোকটাকে দেখলো সে। নাঁতেরে জায়গাটা কোথায় সেটা সে জানে না। কেবল জানে জায়গাটা প্যারিসের কোনো মফশ্বল হবে। ভিলিয়ার্স যদি সেখানে একা একা গাড়ি চালিয়ে যায় তবে ওখানে তার মুখোমুখি না হওয়ার কোনো কারণই নেই।

    বর্ন তার কাঁধের ব্যাগটা অন্য কাঁধে সরিয়ে নিয়ে সিঁড়ি থেকে নেমে পড়লো। বাম দিকে মোড় নিয়ে রাস্তায় পা বাড়ালো। দশ মিনিট।

    .

    দরজাটা খুলে যেতেই জেসন উইন্ডশিল্ড দিয়ে জেনারেল আঁদ্রে ফ্রাঁসোয়া ভিলিয়ার্সকে দেখতে পেলো। মাঝারি উচ্চতা আর ষাট-সত্তরের মতো বয়স হবে তার। বুকটা বেশ চওড়া। মাথায় কোনো টুপি নেই, ধূসর চুলগুলো ছোটো ছোটো ক’রে কাটা। মুখে সাদা চাপ দাড়ি। তার ভাবসাব সন্দেহাতীতভাবেই সামরিক টাইপের।

    বর্ন তাকে দেখে একটু অবাকই হলো, কোন্ কারণে একজন লোক কার্লোসের মতো সন্ত্রাসীর সাথে নিবিড় যোগাযোগ রাখে, ভেবে পেলো না সে। কারণ যাইহোক না কেন, সেটা হবে খুবই শক্তিশালী, যেহেতু সে নিজে খুব শক্তিশালী—সরকারের ভেতরে তার শক্ত অবস্থান রয়েছে।

    ভিলিয়ার্স ঘুরলো, গৃহকর্ত্রীর সাথে কথা বলে হাত ঘড়িটা দেখে বাড়ির সামনে দাঁড় করানো বড়সড় সিডান গাড়িটার কাছে যেতেই মহিলা মাথা নেড়ে সায় দিয়ে দরজাটা বন্ধ ক’রে দিলো। গাড়িতে উঠতেই সেটা সাই ক’রে চলে গেলো। গাড়িটা সামনের ডান দিকে মোড় নেবার আগপর্যন্ত জেসন অপেক্ষা করলো। তারপর সে তার রেনল্ট গাড়িটা আস্তে ক’রে চালিয়ে নিয়ে গেলো সামনের গাড়িটার পেছনে পেছনে। একটা চার রাস্তার মোড়ে এসে ভিলিয়ার্সের গাড়িটা আবারো ডান দিকে মোড় নিলো। এই কাকতালী ব্যাপারটার মধ্যে নিশ্চিত একটা পরিহাস আছে, যদি কেউ এরকম কোনো কিছুতে কিশ্বাস করে তো এটা একটা ভবিষ্যৎবাণী। জেনারেল ভিলিয়ার্স নাঁতেরের যে এলাকাটা বেছে নিলো সেটার সাথে সেন জার্মেইন লায়ে’র অনেক মিল আছে, যেখানে বারো ঘণ্টা আগে মেরি জেসনের কাছে অনুনয়বিনয় করেছিলো সে যেনো তার জীবন নিয়ে, মেরিকে নিয়ে হাল ছেড়ে না দেয়।

    এই জায়গাটা বিশাল বিশাল মাঠ আর চারপাশে চমৎকার পাহাড়ে ঘেরা। চাঁদের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে আছে সব। জেসনের মনে হলো এই জায়গাটা কাউকে পথরোধ করার জন্যে বেশ উপযুক্তই হবে। গাড়িটা অনুসরণ করা জেসনের জন্যে খুব একটা কষ্টসাধ্য কাজ ব’লে মনে হচ্ছে না। তাই কোয়ার্টার মাইল দূরত্ব বজায় রেখে সে অনুসরণ করতে লগলো, কিন্তু তারপরও জেনারেলের গাড়িটা খুব সামনে দেখে সে একটু অবাকই হলো। ভিলিয়ার্স তার গাড়িটার গতি কমিয়ে রাস্তা থেকে নেমে যাওয়া বনের মাঝ দিয়ে চলে যাওয়া একটা পথ দিয়ে ছুটতে লাগলো। পথের শেষমাথায় পার্কিংলটটার ফ্লাডলাইটের আলোয় চোখে পড়লো দুটো পোস্টের সাথে চেইন দিয়ে বাঁধা একটা সাইনবোর্ডের দিকে : লাবেলেয়া। জেনারেল এই গ্রামীণ এলাকার এসেছে কোনো এক রেস্তোঁরায় ডিনার করার জন্যে।

    বর্ন প্রবেশদ্বার দিয়ে ঢুকেই পাশের ঝোঁপে গাড়িটা আড়াল ক’রে রাখলো। তাকে ব্যাপারটা নিয়ে ভাবতে হবে। নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তার মনে দাউ দাউ ক’রে আগুন জ্বলছে। সেটা ক্রমশ বাড়ছে। আচমকা সে অসাধারণ এক সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছে।

    হোটেল মঁক্রজে গত রাতে বিশাল এক ধরা খেয়েছে কার্লোর্স। তাই মনে হচ্ছে আদেঁ ভিলিয়ার্সকে জরুরি এক মিটিংয়ের জন্যে ডেকে আনা হয়েছে। হয়তো কার্লোস নিজেই আছে এখানে। যদি তাই হয়ে থাকে তবে জায়গাটা বেশ সুরক্ষিত আর অবশ্যই এখানে সশস্ত্র প্রাহরী আছে। তাদের কাছে হয়তো তার ছবিও আছে, তাই তাকে দেখামাত্রই সবাই চিনে ফেলবে। গুলি চালাবে সঙ্গে সঙ্গে। অন্যদিকে, কার্লোসের একটা ঘাঁটি নিজের চোখে দেখা যাবে অথবা স্বয়ং কার্লোর্সকেই—এই সুযোগটা হয়তো আর কখনই আসবে না। তাকে লাবেলেয়া’র ভেতরে যেতেই হবে। ঝুঁকিটা নেবার জন্যে তার ভেতরে প্রচণ্ড তাড়া অনুভব করলো সে। যেকোনো ঝুঁকি। এটা পাগলামী! কিন্তু সে তো সুস্থও নয়। স্মৃতিভ্রষ্ট এক উন্মাদ। কার্লোস। কার্লোসকে খুঁজে বের করো! হায় ঈশ্বর, কেন?

    কোমরের পিস্তলটা টের পেলো সে। জ্যাকেটের পেছনে লেখাগুলো ঢাকার জন্যে গাড়ি থেকে বের হয়ে কোটটা পরে নিলো। সিট থেকে একটা টুপি নিয়ে সামনের দিকে অনেকটা ঝুঁকে পরে নিলো যাতে তার চেহারাটা সহজে বোঝা না যায়। তার ছবিটা যখন তোলা হয়েছিলো তখন কি তার চোখে চশমা ছিলো—জেসন ভাবলো। না, ছিলো না। প্রচণ্ড মাথা ধরার কারণে সে চশমাটা খুলে টেবিলের উপর রেখে দিয়েছিলো। চশমাটা তার শার্টের পকেটেই আছে, দরকার হলে পরে নিতে পারবে। গাড়ির দরজা বন্ধ ক’রে সে বনের ভেতর দিয়ে এগোতে লাগলো।

    জেসন যতোই সামনের দিকে এগোলো রেস্তোরাঁর ফ্লাডলাইটের আলো বনের গাছপালা ভেদ ক’রে ততোই উজ্জ্বল হতে লাগলো। বনের শেষপ্রান্তে এসে পড়লো সে, এখান থেকে রোস্তোঁরার এলাকাটা শুরু হয়েছে। জায়গাটা এই গ্রামীণ রেস্তোরাঁর পাশের একটা অংশ। সারি সারি ছোটো ছোটো জানালা রয়েছে এপাশটাতে। ভেতরে মোমবাতির আলোতে ডিনার করা লোকজনদের দেখা যাচ্ছে। এরপরই তার চোখ গেলো দ্বিতীয় তলার দিকে। এটি ভবনটার মতো সমান আকৃতির নয়, কিছুটা অংশ খোলা। সেই খোলা জায়গাটাকে বিশাল একটা বারান্দা বলেই মনে হবে যে কারোর কাছে। বারান্দাটার পাশেই সুবিশাল একটা ঘর। সেখানকার জানালা দিয়েও মোমবাতির আলো দেখা যাচ্ছে। সেই ঘরের লোকগুলো নিচের ঘরের ডিনার করা লোকগুলো থেকে একটু আলাদা।

    তারা সবাই পুরুষ, কেউ ব’সে নেই, দাঁড়িয়ে আছে নয়তো ইতস্তত হেটে বেড়াচ্ছে। তাদের হাতে গ্লাস, সিগারেট। কতোজন আছে সেটা বলা অসম্ভব—দশজনের বেশি হবে, তবে বিশ জনের কম। এইতো সে। একটা জটলা থেকে আরেকটা জটলার দিকে যাচ্ছে। জেনারেল ভিলিয়ার্স তাহলে সত্যি কোনো মিটিংয়ের জন্যে এখানে এসেছে। তাদের এই মিটিংটা গত আটচল্লিশ ঘণ্টায় তাদের ব্যর্থতা নিয়ে, যে ব্যর্থতার কারণে কেইন নামের লোকটা এখনও বেঁচে আছে।

    তাহলে অস্বাভাবিকতাটি কি? প্রহরীরা কোথায়? তারা কতোজন, কোথায় তাদের স্টেশন? বর্ন রোস্তোঁরার সামনের দিকে চলে এলো। কাউকে দেখতে না পেয়ে আবার আগের জায়গায় ফিরে গেলো সে। এবার অন্য দিক দিয়ে রোস্তেরার পেছনে চলে এলো।

    সেখানকার একটা দরজা খোলা আছে। সাদা জ্যাকেট পরা এক লোক সেই দরজাটা দিয়ে বের হয়ে এলে বর্ন দাঁড়িয়ে পকেট থেকে একটা সিগারেট বের ক’রে জ্বালালো। বর্ন ডানে-বায়ে আর উপরে তাকিয়ে দেখলো, কাউকেই দেখা যাচ্ছে না। বাইরে কোনো রক্ষীও নেই। ঠিক যেমনটি ভিলিয়ার্সের বাড়ির আশেপাশে এবং ভেতরে ছিলো না।

    আরেকজন লোক দরজা দিয়ে বের হয়ে এলো। সেও সাদা জ্যাকেট পরে আছে। তবে মাথায় শেফের টুপি। তার কণ্ঠস্বরটা খুবই রাগী। তার ফরাসি উচ্চারণে গ্যাসকোনি টান আছে। “তুমি আয়েশ ক’রে সিগারেট খাচ্ছো আর আমরা কাজ করতে করতে ঘেমে উঠছি! পেস্ট্রির কার্টটা তো একেবারেই খালি। সেটা এক্ষুণি ভরো, বানচোত!

    পেস্ট্রির লোকটা ঘুরে কাঁধ ঝাঁকিয়ে সিগারেটটা ফেলে ভেতরে চলে গেলো। দরজাটা বন্ধ হয়ে গেলে ভেতরের আলোটা আর দেখা গেলো না। রইলো শুধু চাঁদের আলো। সেই আলোতে বারান্দাটা দেখা যাচ্ছে। কেউ নেই সেখানে। কেউ পাহারাও দিচ্ছে না। এমন কি বিশাল দরজাটার সামনেও।

    কার্লোস। কার্লোসকে খুঁজে বের করো। ফাঁদে ফেলো তাকে।

    সে এখন ভবনটার সামনের অংশ থেকে চল্লিশ ফিটেরও কম দূরে দাঁড়িয়ে আছে, আর উপরের বিশাল বারান্দাটার রেলিং থেকে দশ ফিট নিচে। বাইরের দেয়ালে দুটো ভেন্টিলেটর আছে ধোঁয়া বের হবার জন্যে। সেগুলোর পাশেই আছে একটা ড্রেন পাইপ। সেটা চলে গেছে রেলিং পর্যন্ত। সে এই পাইপ বেয়ে উঠতে পারবে, তবে কোট পরে নয়, তাই জেসন কোটটা এবং টুপিটা খুলে পায়ের কাছে রেখে ঘাস দিয়ে সেগুলো ঢেকে দিলো। এবার সে পাইপটা বেয়ে আস্তে আস্তে নিঃশব্দে উঠে যেতে লাগলো। রেলিং থেকে যখন মাত্র আঠারো ইঞ্চি দূরে তখনই নিচের দরজাটা ধপাস ক’রে খুলে গেলো। এক লোক বের হয়ে এলো টলতে টলতে। তার পেছন পেছন সেই সাদা টুপি পরা শেফ। সে চিৎকার করছে।

    “বানচোত! তুমি হলে মাতাল, বুঝলে, আস্ত একটা মাতাল! সারা রাত ধরে তুমি মদ খেয়েছো! ডাইনিং রুমের মেঝে জুড়ে পেস্ট্রি পড়ে আছে। সব কিছু তছনছ হয়ে আছে। বের হয়ে যাও।”

    দরজাটা ধপাস ক’রে বন্ধ হয়ে গেলো আবার। জেসন এতোক্ষণ ধরে পাইপে ঝুলে রাইলো। তার পা আর হাত ব্যথা করছে। ঘেমে উঠছে কপাল। নিচের মাতাল লোকটা শেফের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে অশ্লীল কিছু একটা দেখালো কিন্তু বুঝতে পারলো লোকটা সেখানে নেই। তার চোখ ঘুরতে ঘুরতে দেয়ালের দিকে গেলো। বর্নের দিকে চোখ পড়তেই সে চোখ পিট পিট ক’রে আবারো তাকালো। জেসনের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে এলো। লোকটা মাথা ঝাঁকিয়ে নিজেকে ধাতস্থ করার চেষ্টা করলো। চোখ দুটো বন্ধ ক’রে আবারো তাকালো। তারপর যেনো অনেকটা নিশ্চিত হলো দেয়ালের দৃশ্যটা আসলে তার অতিরিক্ত মদের কুপ্রভাব। সে ঘুরে চলে যেতে গেলো।

    বর্ন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। পুণরায় ওঠার জন্যে উদ্যত হতেই তার স্বস্তিটা তিরোহিত হলো। তার পায়ে তীব্র ব্যথা অনুভূত হচ্ছে। ব্যথাটা অগ্রাহ্য করেই রেলিংয়ের একটা বার ধরতে পারলে খুব সহজেই বারান্দায় উঠে এলো। বারান্দাটা একেবারে ফাঁকা।

    এই বারান্দাটা বসন্ত এবং গ্রীষ্মকালে ডাইনিং করার জন্যে বানানো হয়েছে। দশ থেকে পনেরোটি টেবিল রাখার ব্যবস্থা আছে সেখানে। বারান্দার মাঝখানে বড় দরজাটা সে নিচের বন থেকে দেখেছে। ভেতরের মানুষগুলো এখন ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে। কয়েক মুহূর্তের জন্যে জেসনের মনে হলো কোনো এলার্ম বেজেছে কিনা—নাকি তারা তার জন্যেই অপেক্ষা করছে। সে নিজের অস্ত্রটাতে হাত রাখলো। একটুও নড়লো না। কিন্তু কিছুই হলো না। চুপিসারে সে দরজার দিকে এগোলো। দরজার কাঁচের প্যানটার দিয়ে ভেতরে উঁকি মারলো সে।

    যা দেখতে পেলো সেটা তাকে সম্মোহিত করলো, তবে মোটেও ভীতিকর কিছু নয়। লোকগুলো সারি ক’রে দাঁড়িয়ে আছে—তিনটি সারি। একেক সারিতে চারজন করে—সবাই আদেঁ ভিলিয়ার্সের দিকে তাকিয়ে আছে। সে সবার উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দিচ্ছে। সব মিলিয়ে তেরোজন লোক, বারোজন লোক কেবল দাঁড়িয়ে নেই বরং সামরিক প্যারেডের মতো এটেনশন হয়ে আছে। সবাই বৃদ্ধলোক, অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক। কেউই ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় নেই। তার বদলে প্রত্যেকের কলারেই রিবন আর রেজিমেন্টাল র‍্যাঙ্কের স্মারক লাগানো আছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে তারা সবাই কমান্ড করতে অভ্যস্ত—ক্ষমতাবান। এই সব লোক যদি কার্লোসের চ্যালা হয়ে থাকে তবে বলতেই হয়, কার্লোসের রিসোর্স একেবারেই অসাধারণ আর মারাত্মকভাবেই বিপজ্জনক।

    আলজেরিয়ার উন্মাদ কর্নেল-তাদের আর কি আছে? যে স্মৃতি নিয়ে তারা তাড়িত হচ্ছে সেটার অস্তিত্ব নেই। যে যুদ্ধের কথা তারা স্মরণ করে সেটা আর চলছে না। অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে।

    জেনারেল তার কণ্ঠটা চড়া করলে জেসন কাঁচের ওপর পাশ থেকে কথাগুলো শোনার চেষ্টা করলো। কথাগুলো এখন পরিস্কার শোনা যাচ্ছে।

    “…আমাদের উপস্থিতি, আমাদের উদ্দেশ্য, সবই বোধগম্য। আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি আমাদের নীতির পক্ষে, আর এই ঐক্য খুবই দৃঢ়। আমাদের কথা শুনতে হবে! আমাদের যেসব ভাই দেশমাতৃকার জন্যে জীবন দিয়েছে তাদের স্মরণে বলছি, আমরা আমাদের দেশকে বাধ্য করবো তাদেরকে স্মরণ করতে। যারা আমাদের বিরোধীতা করে তারা আমাদের শক্তি সম্পর্কে বেশ ভালোভাবেই অবগত আছে। আমরা এখন ঐক্যবদ্ধ। আমরা সর্বশক্তিমানের কাছে প্রার্থনা করছি যারা আমাদের আগে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে তারা যেনো শান্তিতে থাকে। আর আমরা, আমরা এখনও যুদ্ধের মধ্যে আছি…বন্ধুগণ : আমি আপনাদেরকে আমাদের লেডি অব ফ্রান্সকে দেবো!”

    এক সঙ্গে সবাই সম্মতিসূচক ধ্বণি তুললো। বৃদ্ধ যোদ্ধাদের মাঝ থেকে আরেকটা কণ্ঠ উচ্চারিত হলো। তার সাথে বাকিরা তাল মেলালো। সেটা একটা গানের অংশ।

    আলোয়া এফোঁয়া দ্য লা পারি,
    লো জুখ দ্য গ্লোয়ে এস্তে এরাইভ…

    বর্ন মুখটা সরিয়ে ফেললো। ঘরের ভেতরের কথাবার্তা আর দৃশ্যে সে অসুস্থ বোধ করলো। গৌরবের জন্যে জীবন বিসর্জন দাও। সহযোদ্ধার মৃত্যু আরো বেশি আত্মত্যাগ দাবি করে। এর দরকার আছে। এর মানে যদি হয় কার্লোসের সাথে আঁতাত তবে তাই হোক।

    কোন্ জিনিসটা তাকে এতোটাইব্রত করলো? আচকা কেন তার মধ্যে ক্রোধ আর হতাশা ভর করলো? তার ভেতরে কোন্ প্রণোদনা তাকে তাড়িত করলো? এরপরই সে বুঝতে পারলো। সে আদেঁ ভিলিয়ার্সের মতো লোককে, এই ঘরের সব লোকগুলোকে ঘৃণা করে। তারা সবাই যুদ্ধ করে। তরুণদের কাছ থেকে তাদের জীবন চুরি করে…খুবই অল্পবয়সীদেরও।

    কুয়াশাটা কেন আবার তাকে জাপটে ধরছে? তীব্র যন্ত্রণাটা কেন আবার ফিরে এলো? প্রশ্ন করার কোনো সময় এখন নয়। সেগুলো সহ্য করার মতো শক্তিও নেই। তাকে এসব তার মন থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে, আদেঁ ভিলিয়ার্সের ব্যাপারে মনোযোগ দিতে হবে। যার সাথে এক কুখ্যাত গুপ্তঘাতকের সম্পর্ক রয়েছে।

    সে জেনারেলকে ফাঁদে ফেলবে। তাকে সব কিছু বলতে বাধ্য করবে। সে যা জানে তার সবই সে জেনে নেবে, হয়তো তাকে খুনও করবে। ভিলিয়ার্সের লোকেরা অল্পবয়সীদের কাছ থেকে তাদের মূল্যবান যৌবন চুরি করে। খুবই অল্প বয়সীদের কাছ থেকে। তারা বেঁচে থাকার আশা করতে পারে না। আমি আবারো আমার গোলক ধাঁধায় পড়ে গেছি, দেয়ালগুলোতে কাটা লাগানো। ওহ্, ঈশ্বর, ওগুলো খুব কষ্ট দিচ্ছে আমাকে।

    জেসন পাইপ বেয়ে নিচে নেমে গেলো। নামার সময় তার সমস্ত শরীরে সুতীব্র ব্যথা অনুভূত হলো। এসব ব্যথা এড়িয়ে তাকে এখন এই চাঁদের আলোয় পথে নামতে হবে, মৃত্যুর ফেরিওয়ালাকে ফাঁদে ফেলতে হবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্বপ্নবাসবদত্তা – ভাস
    Next Article কন্ট্রোল (বেগ-বাস্টার্ড ৭) – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    Related Articles

    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    দ্য দা ভিঞ্চি কোড – ড্যান ব্রাউন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    অরিজিন – ড্যান ব্রাউন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    নেমেসিস (বেগ-বাস্টার্ড – ১) – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    কন্ট্রাক্ট (বেগ-বাস্টার্ড ২) – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    নেক্সাস (বেগ-বাস্টার্ড ৩) – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    November 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }