Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বর্ন আইডেন্টিটি – রবার্ট লুডলাম

    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন এক পাতা গল্প722 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বর্ন আইডেন্টিটি – ২৮

    অধ্যায় ২৮

    বর্ন দেখলো মেয়েটা তার হোটেলে ফিরে যাচ্ছে। এখানেই সে থাকে। মনিকা ব্রায়াল। জাকুলিন লাভিয়ার এক নাম্বার মেয়ে। জেনাইন ডলবার্টের চেয়ে একটু বেশি শক্তপোক্ত। তাকে সে শপে দেখেছে, মনে পড়লো। মেয়েটার পদক্ষেপ খুব দ্রুত। নিজের অভিজ্ঞতার উপর তার আস্থা আছে। জেসন বুঝতে পারলো কেন সে লাভিয়ার এক নাম্বার।

    মোকাবেলাটা হবে সংক্ষিপ্ত। মেসেজটার প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। এবার দ্বিতীয় শওয়েভ দেবার পালা। সে ফুটপাতে নির্বিকার দাঁড়িয়ে মেয়েটাকে তাকে অতিক্রম করতে দিলো। রাস্তায় খুব বেশি ভীড় নেই। তবে একেবারে ফাঁকাও নয়। পুরো ব্লকটায় সম্ভবত আধ ডজন লোক আছে। মেয়েটাকে একাকী করাটা খুবই জরুরি।

    সে মেয়েটার পিছু নিতে শুরু করলো। যখন হোটেলের প্রবেশদ্বার ত্রিশ ফিট দূরে, মেয়েটার পাশে এসে হাটার গতি কমিয়ে দিলো সে।

    “এক্ষুণি লাভিয়ার সাথে যোগাযোগ করো,” সে তার দিকে তাকিয়ে ফরাসিতে বললো।

    “কি বললেন? আপনি কি বললেন? কে আপনি, মঁসিয়ে?”

    “থেমো না! হাটতে থাকো। প্রবেশপথটা অতিক্রম করো।”

    “আপনি জানেন আমি কোথায় থাকি?”

    “খুব কমই আছে যা আমরা জানি না।”

    “আমি যদি ভেতরে ঢুকি? দরজায় এক জন ডোরম্যান আছে –

    “লাভিয়াও আছে,” বর্ন তাকে বাঁধা দিয়ে বললো। “তুমি তোমার চাকরি হারাবে, আর সেন অনরের কোথাও কাজ জুটাতে পারবে না। সেটা তোমার জন্যে বেশ সমস্যারই হবে।”

    “আপনি কে?”

    “আমি তোমার কোনো শত্রু নই,” জেসন তার দিকে তাকালো। “আমাকে শত্রু বানিয়ো না।”

    “আপনি। আমেরিকান লোকটি! জেনাইন…ক্লদ ওরিয়েল!”

    “কার্লোস,” বর্ন বাক্যটা সমাপ্ত করলো।

    “কার্লোস? এসব পাগলামীর মানে কি? পুরো বিকেলটা জুড়ে খালি কার্লোস আর কার্লোস! আর খালি নাম্বার! আর নাম্বার! প্রত্যেকেরই নাকি নাম্বার আছে, অথচ কেউ তা শোনে নি! ফাঁদের কথা বলা হচ্ছে, অস্ত্রধারী লোকদের কথা বলা হচ্ছে! এটা তো পাগলামী!”

    “এটাই হবে। হাটতে থাকো। তোমার ভালোর জন্যেই বলছি।”

    মেয়েটা তাই করলো। “জ্যাকুলিন আমাদের সাথে কথা বলেছে,” মেয়েটা বললো। তার কণ্ঠে দুঃশ্চিন্তার ছাপ। “সে আমাদের সবাইকে বলেছে এটা একেবারেই পাগলের কাজ। আপনি, মানে আপনারা লো ক্লাসিককে ধ্বংস করতে চান। অন্য হাউজগুলো অবশ্যই আপনাদের টাকা দিয়েছে এটা করার জন্যে।”

    “এছাড়া তার কাছ থেকে তুমি আর কি আশা করো?”

    “আপনি একজন ভাড়াটে লোক। সে আমাদেরকে সত্য কথাটাই বলেছে।”

    “সে কি তোমাকে তোমার মুখটাও বন্ধ করতে বলে নি? এসব কিছুই যেনো কারো কাছে না বলো?

    “অবশ্যই বলেছে।”

    “তার চেয়ে বড় কথা হলো, পুলিশের সাথে যেনো যোগাযোগ না করো। যদিও এটাই এই পরিস্থিতিতে সবচাইতে যুক্তিযুক্ত কাজ হোতো।”

    “হ্যা, স্বাভাবিকভাবেই…”

    “স্বাভাবিকভাবে নয়,” বর্ন দ্বিমত পোষণ করলো। “দ্যাখো, আমি কেবল একজন রিলে। সম্ভবত তোমার চেয়ে উচ্চপদে নই। আমি এখানে তোমাকে পটাতে আসি নি। আমি একটা মেসেজ দিতে এসেছি। আমরা ডলবার্টের উপর একটা পরীক্ষা করছি; তাকে ভূয়া তথ্য দিয়েছি।”

    “জেনাইন?” মনিকা ব্রায়াল খুবই অবাক হয়ে জানতে চাইলো। “সে যে কথা বলেছে, সেটা তো অবিশ্বাস্য! ক্লদের হিস্টিরিয়াগ্রস্ত চিৎকারের মতোই—যে কথা সে বলেছে, তার মতোই। কিন্তু জেনাইন যা বলেছে ক্লদ বলছে তার ঠিক উল্টো।”

    “আমরা জানি। এটা ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে। সে আঁজুর-এর কথা বলেছিলো।”

    “আঁজুর হাউজ?”

    “আগামীকালকে তাকে বাজিয়ে দেখবে। তার মোকাবেলা করবে।”

    “মোকাবেলা করবো?”

    “যা বলেছি তাই করবে। এটার সাথে ওটার সম্পর্ক থাকতে পারে।”

    “কোন্টার সাথে?”

    “ফাঁদটার সাথে। আঁজুর ইন্টারপোলের সাথে কাজ ক’রে থাকতে পারে।”

    “ইন্টারপোল? ফাঁদ? এটা তো ঐসব পাগলের প্রলাপ! কেউ জানে না আপনি এসব কি বলছেন!”

    “লাভিয়া জানে। এক্ষুণি তার সাথে যোগযোগ করো।” তারা ব্লকের শেষ মাথায় এসে পড়লে জেসন তার হাতটা স্পর্শ করলো। “আমি এখান থেকে তোমাকে ছেড়ে দিচ্ছি। তুমি হোটেলে ফিরে গিয়ে লাভিয়াকে ফোন করবে। তাকে বলবে, ব্যাপারটা যেরকম ভেবেছিলাম তার চেয়েও সিরিয়াস। সব কিছু ভেঙে পড়ছে। সবচেয়ে বাজে ব্যাপার হলো কেউ একজন বেঈমানী করেছে। এ্যালবার্ট নয়, ক্লার্কদের কেউ নয়। উঁচু পদের কেউ হয়তো। সে সব কিছু জানে।”

    “বেঈমানী? এর মানে কি?”

    “লো ক্লাসিকের একজন বিশ্বাসঘাতক আছে। তাকে বলবে সতর্ক থাকতে। সবাইকে। যদি সে তা না করে তবে সেটা আমাদের সবাইকে শেষ করে দেবে।” বর্ন তার হাতটা ছেড়ে দিয়ে রাস্তাটা পার হয়ে গেলো। ওপাশে গিয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন একটা দরজা দিয়ে দ্রুত ভেতরে ঢুকে পড়লো।

    ভেতরে ঢুকেই সে উঁকি মেরে বাইরে তাকালো। মনিকা ব্রায়াল হোটেলের ভেতর ঢুকছে। দ্বিতীয় শকওয়েভের প্রথম ভীতিটা শুরু হয়ে গেছে। মেরিকে ফোন করার সময় হয়ে গেছে এখন।

    .

    “আমি খুব উদ্বিগ্ন আছি, জেসন। এটা উনাকে একেবারে বিপর্যস্ত ক’রে ফেলছে। ফোনে উনি একেবারে ভেঙে পড়ছিলেন। উনি বউয়ের দিকে তাকালে কি হবে বলো? উনি এখন কি ভাবছেন, কি করছেন?”

    “সে সামলাতে পারবে এটা,” বর্ন বললো। শাম্প এলিসির একটা ফোনবুথ থেকে সে কথা বলছে। “সে যদি তা না করে, আমি তাকে খুন করবো। আমার আসলে মুখটা বন্ধ রাখা উচিত ছিলো, তার বউকে ধরার দরকার ছিলো।”

    “তুমি সেটা করতে পারতে না। তুমি দাঁজুকে সিঁড়ির ধাপে দেখেছো, তুমি

    ভেতরে যেতে পারতে না।”

    “আমি কিছু একটা ভাবতে পারতাম। যেমনটি আমরা একমত হয়েছি। এসব ব্যাপারে আমি খুবই কার্যকরী।”

    “কিন্তু তুমি তো কিছু একটা করছো! তুমি ভীতি সৃষ্টি করেছো, যারা কার্লোসের অর্ডার পালন করে তাদেরকে প্রকাশ ক’রে ফেলেছো। কাউকে এই ভীতিটা থামাতে হবে। এমনকি তুমি বলেছো তুমি মনে করো না জ্যাকুলিন লাভিয়া যথেষ্ট উপরের লোক। জেসন, তুমি কাউকে দেখতে পাবে, তুমি জানতে পারবে। তাকে তুমি ধরতে পারবেই!”

    “আমিও তাই আশা করি। হায় ঈশ্বর, আমি সেরকম আশাই করি। আমি জানি আমি কি করছি। কিন্তু প্রতি মুহূর্তে…” বর্ন থামলো। কথাটা বলতে তার ঘেন্না লাগছে। তবে কথাট তাকে বলতেই হবে। “আমি একটু দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ছি। আমার একটা অংশ বলছে ‘নিজেকে বাঁচাও,’ বাকি অংশটা বলছে, ‘কার্লোসকে ধরো’।”

    “শুরু থেকেই তো তুমি এরকম করছো, তাই না?” মেরি নরম কণ্ঠে বললো।

    “আমি কার্লোসকে পরোয়া করি না!” চিৎকার ক’রে বললো জেসন। “এটা আমাকে পাগল ক’রে ফেলছে।”

    “ডার্লিং, ফিরে আসো।”

    “কি?” বর্ন ফোনটার দিকে তাকালো। আবারো সেটা শুরু হয়েছে। আকাশটা বেশ গাঢ়। একসময় এটা খুবই উজ্জ্বল ছিলো, চোখ ঝলসানো ছিলো। পাখির কিচির মিচির আর যন্ত্রের শব্দ…

    “জেসন।”

    “কি?”

    “ফিরে আসো। প্লিজ, ফিরে আসো।”

    “কেন?”

    “তুমি খুব ক্লান্ত। তোমার বিশ্রামের দরকার।”

    “আমাকে পিয়েরে ত্রিগনোয়ার কাছে যেতে হবে। সে হলো বুককিপার।”

    “আগামীকালকে যোয়ো।”

    “না। আগামীকালকে ক্যাপটেনদেরকে ধরতে হবে।” সে এটা কি বললো? ক্যাপটেনদেরকে। সেনাদল। ভীতসন্ত্রস্ত লোকজন হুড়োহুড়ি করছে। তবে এটা একমাত্র পথ। বহুরূপী একজন উস্কানীদাতা।

    “আমার কথা শোনো,” মেরি বললো। তার কণ্ঠ খুব দৃঢ়। “তোমার কিছু একটা হচ্ছে। এটা আগেও হয়েছে। আমরা দু’জনেই সেটা জানি। আর সেটা যখন ঘটে তখন সেটা তোমাকে থামাতে হয়। এটাও আমরা জানি। হোটেলে ফিরে আসো। প্লিজ।”

    বর্ন চোখ দুটো বন্ধ ক’রে ফেললো। রাতের আকাশে তারা দেখতে পেলো সে। কোনো চোখ ঝলসানো আলো নেই।

    “আমি ঠিক আছি। আমি ঠিক আছি এখন। কেবল কয়েকটা বাজে মুহূর্ত, এই যা।”

    “জেসন, কারণটা কি?” মেরি শান্ত কণ্ঠে বললো।

    “জানি না।”

    “তুমি এইমাত্র ব্রায়াল মেয়েটাকে দেখেছো। সে কি তোমাকে কিছু বলেছে? এমন কিছু যাতে তোমার মধ্যে অন্য কোনো ভাবনা এসে ভর করেছে?”

    “আমি নিশ্চিত নই। আমি এতোটা ব্যস্ত ছিলাম যে, কি ভাববো বুঝতে পারি নি।”

    “ভাবো, ডার্লিং।”

    “বর্ন চোখ দুটো বন্ধ ক’রে মনে করার চেষ্টা করলো। কোনো কিছু কি আছে? “মেয়েটা আমাকে উস্কানীদাতা বলেছে,” জেসন বললো, কেন এই শব্দটা তার মধ্যে ফিরে এলো সে জানে না। “কিন্তু আমি তো সেটাই, তাই না? আমি তো সেটাই করছি।”

    “হ্যা,” মেরি একমত হয়ে বললো।

    “আমাকে কাজটা চালিয়ে যেতে হবে। ত্রিগনোয়াঁ এখান থেকে মাত্র কয়েক ব্লক দূরে থাকে। দশটা বাজার আগেই তাকে আমার ধরতে হবে।”

    “সতর্ক থেকো,” মেরি উদাস হয়ে বললো।

    “ঠিক আছে। তোমাকে ভালোবাসি।”

    “তোমার উপর আমার আস্থা আছে,” মেরি বললো।

    .

    রাস্তাটা একেবারে শান্ত। ব্লকটা দোকানপাট আর ফ্ল্যাট-এর মিশ্রনে একটি এলাকা, দিনের বেলায় লোকসমাগম থাকলেও, রাতে একেবারে ফাঁকা।

    ত্রিগনোয়াতে পিয়েরের অ্যাপার্টমেন্টের সামনে এসে পৌঁছালো জেসন। সিঁড়ির ধাপগুলো পেরিয়ে একটা মৃদুর আলোর ফয়ারে এসে পড়লো। এক সারি পিতলের মেইলবক্স আছে ডান দিকে। প্রতিটার উপরেই নাম-ঠিকানা লেখা। জেসন নামগুলো থেকে পিয়েরেরটা খুঁজে পেয়ে কালো বোতামটা দু’বার টিপলে দশ সেকেন্ড পরেই স্পিকার থেকে একটা কণ্ঠটা শোনা গেলো।

    “উই?”

    “মঁসিয়ে ত্রিগনোয়া, সিলভু প্লেইত?”

    “ইসি।”

    “তেলোগ্রামে, মঁসিয়ে। জে নে পুরা পাস কুইতার মা বাইসাইক্লেত।”

    “তেলেগ্রামে? পোর মোয়ে?”

    পিয়েরে ত্রিগনোয়াঁ খুব একটা টেলিগ্রাম পেয়ে থাকে না। তাই কথাটা শুনে সে বিস্মিত হলো। তার বাকি কথাগুলো আর বোঝা গেলো না। তবে তার কাছাকাছি একটা নারী কণ্ঠ শোনা গেলো। টেলিগ্রাম মানেই যে খুব খারাপ খবর, এটা ভেবে আৎকে উঠেছে সে।

    বর্ন এপার্টমেন্টের ঘোলা কাঁচের দরজার সামনে অপেক্ষা করছে। কয়েক সেকেন্ড পরেই বর্ন সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসা পায়ের শব্দ শুনতে পেলো। ত্রিগনোয়ার পায়ের শব্দ। দরজাটা খুলে গেলে জেসনকে আড়াল ক’রে ফেললো সেটা। টেকো মাথার নাদুসনুদুস শরীরের একজন মেইলবক্সের কাছে হেলে দুলে হেটে গেলো। ৪২ নাম্বারের কাছে এসে থামলো লোকটা।

    “মঁসিয়ে ত্রিগনোয়া?”

    মোটা লোকটা ঘুরে দাঁড়ালো। “একটা টেলিগ্রাম! আমার কাছে একটা টেলিগ্রাম এসেছে!” সে জোরে জোরে বললো। “আপনিই কি সেটা নিয়ে এসেছেন?”

    “চালাকিটা করার জন্যে আমি ক্ষমা চাইছি। তবে সেটা আপনার মঙ্গলের জন্যেই। আমি চাই নি আপনাকে আপনার পরিবার আর স্ত্রী’র সামনে জিজ্ঞাসাবাদ করি।”

    “জিজ্ঞাসাবাদ?” বুককিপার বিস্মিত হলো। তার চোখেমুখে ভয়। “আমাকে? কি জন্যে? এসব কি? আপনি আমার বাড়িতে কেন এসেছেন? আমি আইন মান্যকারী একজন নাগরিক!

    “আপনি সেন অনরেতে কাজ করেন? লো ক্লাসিক নামের একটা ফার্মে?”

    “হ্যা। আপনি কে?

    “চাইলে আপনি আমার অফিসে আসতে পারেন,” বর্ন বললো।

    “আরে, আপনি আসলে কে?”

    “ব্যুরো অব ট্যাক্সেশন এবং রেকর্ডের স্পেশাল ইনভেস্টিগেটোর। জালিয়াত এবং ষড়যন্ত্র ডিভিশনে আছি। আমার সাথে আসুন—নিচে অফিসের গাড়ি আছে।”

    “আপনার সাথে যাবো? আমি তো কোনো জ্যাকেট বা কোট পারি নি! আমার স্ত্রী, সে টেলিগ্রামের জন্যে অপেক্ষা করছে।”

    “চাইলে সেটা তার কাছে পাঠাতে পারেন। এখন আমার সঙ্গে আসুন। আমি সারাদিন ধরে এ কাজে লেগে রয়েছি। এটা এখন শেষ করতে চাই।”

    “প্লিজ, মঁসিয়ে। আমি কোথাও যাওয়ার জন্যে চাপাচাপি করছি না! আপনি বলেছিলেন আপনার কিছু প্রশ্ন আছে। আমাকে প্রশ্ন করুন, উপরে যেতে দিন। আপনার অফিসে যাবার কোনো ইচ্ছে আমার নেই।”

    “কয়েক মিনিট লাগবে তাহলে,” জেসন বললো।

    “আমি বউকে ফোন করে বলে দিচ্ছি, বলবো এটা ভুল করে এসেছে।” ত্রিগনোঁয়া বলেই একটু হাসার চেষ্টা করলো। “অন্য কোথাও যাবার দরকার নেই। কয়েক মিনিটে কীইবা এসে যায়? এবার বলুন মঁসিয়ে, ব্যাপারটা কি? আমার বুক- গুলো খুবই নিখুঁত, একদম! একাউন্ট-এর কাজের জন্যে আমি দায়ি নই। সেটা আলাদা একটা ফার্ম করে। সে আলাদা একটা ফার্মে আছে। সত্যি বলতে কি আমি তাকে কখনও পছন্দ করি নি। সে কথায় কথায় কসম খায়। বুঝলেন তো কি বললাম। কিন্তু তার পরেও, সেটা আমি বলার কে?”

    “শুরুতেই বলছি,” বর্ন সরাসরি বলতে শুরু করলো। “প্যারিস ছেড়ে যাবেন না। যদি ব্যক্তিগত অথবা পেশাগত কাজে আপনাকে বাইরে যেতে বলা হয়, তবে আমাদেরকে জানাবেন। সত্যি বলতে কি, এটার অনুমতি দেয়া হবে না।”

    “আপনি নিশ্চয় ঠাট্টা করছেন, মঁসিয়ে!”

    “মোটেই না।”

    “প্যারিস ছাড়ার তো আমার কোনো কারণ নেই—এরকম কাজের জন্যে আমার হাতে এখন তেমন টাকা-পয়সাও নেই—আমাকে এরকম কথা বলাটা অবিশ্বাস্য বলেই মনে হচ্ছে। আমি করেছি কি?”

    “ব্যুরো আজ সকালে আপনার বুকগুলো তলব করেছিলো। প্রস্তত হন!”

    “তলব করেছে? কি জন্যে? প্রস্তুতই বা হবো কেন?”

    “তথাকথিত একজন সাপ্লায়ারকে পেমেন্ট দিয়েছেন যার ইনভয়েসগুলো জাল -। মার্চেন্ডাইজটা কখনই রিসিভ করা হয় নি—রিসিভ করা হবেও না—পেমেন্টগুলো জুরিখের একটা ব্যাংকে চলে গেছে।

    “জুরিখ? আরে, এসব কি বলছেন, আমি তো কিছুই জানি না! আমি জুরিখের জন্যে কোনো চেক্ প্রস্তুত করি নি।”

    “সরাসরি নয়। আমরা সেটা জানি। তবে কোনো অস্তিত্বহীন ফার্মের জন্যে সেগুলো রেডি করাটা কতোটাই না সহজ। টাকাগুলো পেইড করা হয়েছে, তারপর জুরিখে চলে গেছে।”

    “প্রতিটি ইনভয়েস-এ মাদাম লাভিয়ার স্বাক্ষর থাকে! আমি নিজে কিছু পে করি না!”

    “এখন তো দেখছি আপনিই ঠাট্টা করছেন,” সে বললো।

    “কসম খেয়ে বলছি! এটা হাউজের পলিসি। যে কাউকে জিজ্ঞেস ক’রে দেখতে পারেন! মাদাম অথোরাইজ না করলে লো ক্লাসিক কোনো কিছু পে করে না।”

    “তাহলে আপনি বলছেন যে, আপনারা সরাসরি মাদামের কাছ থেকে অর্ডার পেয়ে থাকেন।”

    “স্বাভাবিকভাবেই!”

    “আর মাদাম কার কাছ থেকে অর্ডার পেয়ে থাকে?”

    ত্রিগনোয়াঁ দাঁত বের ক’রে হাসলো। “বলা হয় ঈশ্বরের কাছ থেকে। অবশ্যই এটা ঠাট্টা ক’রে বলা হয়।”

    “আমি চাইবো, আপনি একটু সিরিয়াস হবেন। লো ক্লাসিকের আসল মালিক কারা?”

    ‘পার্টনারশিপ ব্যবসা। মাদাম লাভিয়ার অনেক ধনী বন্ধু আছে। তারা তাকে টাকা দেয়। আর রেনে বারগোঁয়ার প্রতিভা তো আছেই।”

    “সেইসব বিনিয়োগকারী কি নিয়মিত দেখা সাক্ষাত ক’রে থাকে? তারা কি নীতিনির্ধারণী কোনো কিছুতে অংশ নেয়? সম্ভবত কোনো ফার্মের ব্যাপারে তদবির করে, ব্যবসার প্রয়োজনে?”

    “আমি জানবো না, মঁসিয়ে। স্বাভাবিক, সবারই তো বন্ধুবান্ধব আছে।”

    “আমরা হয়তো ভুল লোককে নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি,” বর্ন বললো। “এমনও হতে পারে, আপনি এবং মাদাম লাভিয়াকে কেউ ব্যবহার করছে।”

    “কিসের জন্যে ব্যবহার করছে?”

    “জুরিখে টাকা পাচারের কাজে। ইউরোপের একজন ভয়ংকর খুনির একাউন্টে।”

    ত্রিগনোঁয়া আৎকে উঠলো। “আরে, এসব কি বলছেন?”

    “আপনারা প্রস্তুত থাকবেন। বিশেষ ক’রে আপনি। আপনিই চেকগুলো প্রস্তুত করেন, অন্য কেউ নয়।”

    “কেবল এপ্রুভাল হলেই করি!”

    “ইনভয়েসগুলোর বিপরীতে আপনি কি মার্চেন্ডাইজগুলো কখনও চেক্ ক’রে দেখেছেন?”

    “এটা আমার কাজ নয়!”

    “তাহলে, আপনি সাপ্লাইয়ের জন্যে যেসব পেমেন্ট ইস্যু করেন সেগুলো কখনও দেখেন না।”

    “আমি কখনও কিছু দেখি না! আমার কাছে ইনিশিয়াল দিয়ে পাঠানো হলেই কেবল আমি পে করি!”

    “আপনি এবং লাভিয়া প্রতিটি পুরনো ফাইল খুঁজে দেখলেই বুঝতে পারবেন। কারণ আপনারা দু’জনেই—বিশেষ ক’রে আপনি—কেস্ খাবেন।

    “কেস্? কিসের কেস্?

    “প্রয়োজনীয় রিট-এর অভাবের জন্যে। এটাকে বলতে পারেন হত্যাকাণ্ডে সহযোগীতা করা।”

    “হত্যা—”

    “গুপ্তহত্যা। জুরিখের একাউন্টটা কার্লোস নামের এক গুপ্তঘাতকের। আপনি, পিয়েরে ত্রিগনোঁয়া, আর আপনার বর্তমান বস্ মাদাম জ্যাকুলিন লাভিয়া সরাসরি ইউরোপের সবচাইতে ভয়ংকর খুনিকে টাকা পয়সা দিয়েছেন। অর্থনৈতিক সহযোগীতা দিয়েছেন। ইলিচ রামিরেজ সানচেজ। আলিয়াস কার্লোস।”

    “অঁউগ!…” ত্রিগনোয়ারের চোখ দুটোতে ভয় আর আতঙ্ক জেঁকে বসলো। “সারাটা বিকেলে…” সে ফিফিস্ ক’রে বলরো। “লোকজন আমার চারপাশে ছোটাছুটি করেছে, উদভ্রান্তের মতো মিটিং করেছে, আমার দিকে অদ্ভুত চোখে তাকিয়েছে। আমার বুথের সামনে দিয়ে যাবার সময় ঘাড় বেঁকিয়ে দেখেছে। ওহ্ ঈশ্বর।”

    “আপনার জায়গায় আমি হলে আমি এক মুহূর্তও দেরি করতাম না। খুব জলদিই সকাল হবে, শুরু হবে আপনার জীবনের সবচাইতে কঠিন দিন।” জেসন বাইরের দরজা দিয়ে বের হয়ে একটু থামলো। তার হাত দরজার নবের উপর। “আপনাকে উপদেশ দেয়াটা আমার কাজ নয়, তবে আপনার জায়গায় আমি হলে আমি এক্ষুণি মাদাম লাভিয়ার সাথে যোগাযোগ করতাম। আপনাদের দু’জন আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্যে প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেন—এটাই হয়তো কেবল করতে পারেন। পথেঘাটে যেকোনো জায়গায় খুনখারবির ব্যাপারটা হয়তো একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না।”

    বহুরূপী রাস্তার দিকে পা বাড়ালে ঠাণ্ডা বাতাসের ঝাপটা তার মুখে এসে লাগলো।

    কার্লোসকে ধরো। ফাঁদে ফেলো। কেইন হলো চার্লি আর ডেল্টা হলো কেইন।

    ভূয়া!

    নিউইয়র্কের একটা নাম্বার খুঁজে বের করো। ট্রেডস্টোন খুঁজে বের করো একটা মেসেজের অর্থ উদ্ধার করো। প্রেরককে খুঁজে বের করো।

    জেসন বর্নকে খুঁজে বের করো।

    .

    নুয়েলি সুর সেইন-এর চার্চের জানালা দিয়ে সূর্যের আলো প্রবেশ করেছে, পরিস্কার জামা কাপড় পরা দাঁড়ি কামানো এক বৃদ্ধলোক হুড়মুড় ক’রে প্রবেশ করলো সেখানে। ভেতরে লম্বা যাজক দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাকে দেখছে। কয়েক মুহূর্তের জন্যে যাজকের মনে হলো লোকটাকে সে এর আগেও দেখেছে। তবে ঠিক চিনতে পারলো না। গতকালকে এক নোংরা ভিক্ষুক এসেছিলো, একই আকারের, ঠিক একই…না এই বৃদ্ধের জুতা চক্‌চক্ করছে। তার সাদা চুলগুলো ভালো ক’রে আঁচড়ানো। তার সুটটা পুরনো ফ্যাশনের হলেও বেশ দামি।

    “অ্যাঙ্গেলিয়াস ডোমিনি,” কনফেকশন বুথের পর্দাটা সরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই বৃদ্ধ বললো।

    “যথেষ্ট!” পর্দার পেছনে আবছায়া অবয়বটা বললো। “সেন অনরে থেকে কি জানতে পারলেন?”

    “খুব কমই, তবে তার মেথডগুলো শ্রদ্ধা করি।”

    “কোনো ধরণ আছে?”

    “সেটা পরে বোঝা যাবে। এমন সব লোকদেরকে সে বেছে নিয়েছে যারা কিছুই জানে না, আর তাদের মাধ্যমেই একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ফেলেছে। আমি বলবো, লো ক্লাসিকে আর কোনো কর্মতৎপরতা যাতে না হয়।”

    “স্বাভাবিকভাবেই,” ওপাশ থেকে বলা হলো। “কিন্তু তার উদ্দেশ্যটা কি?”

    “বিশৃঙ্খলা ছাড়া?” বৃদ্ধ জানতে চাইলো। “আমার মনে হয়, যারা কিছু জানে তাদের মধ্যে অবিশ্বাস ছড়িয়ে দিতে চাচ্ছে সে। ব্রায়াল নামের মেয়েটা কথাগুলো ব্যবহার করেছে। সে বলেছে, আমেরিকানটি তাকে বলেছে সে যেনো লাভিয়াকে বলে তাদের মধ্যে একজন বিশ্বাসঘাতক আছে। একেবারে ডাহা মিথ্যে কথা। কার এতো সাহস আছে? গত রাতটা তো ছিলো একেবারে পাগলামী, আপনি তো জানেন সেটা। বুককিপার আর ত্রিগনোয়াঁ পাগল হয়ে গেছে। লাভিয়ার বাড়ির বাইরে রাত দুটোর সময় অপেক্ষা করছিলো তারা, আর লাভিয়া যখন ব্রায়ালের হোটেল থেকে ফিরছিলো তখন তাকে রীতিমতো শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করেছে। পথেই চিৎকার চেঁচামেচি করেছে, কান্নাকাটি করেছে।”

    “লাভিয়া নিজেও খুব ভালো আচরণ করে নি। সে যখন পার্ক মশিউ’তে ফোন করেছিলো তখন সে নিজেও খুব একটা নিয়ন্ত্রিত ছিলো না। তাকে আবার ফোন করতে বারণ করা হয়েছে। কেউই যেনো সেখানে ফোন না করে…কখনই না।”

    “আমরা কথাটা শুনেছি। আমাদের মধ্যে হাতে গোনা যে ক’জন নাম্বারটা জানে তারা এটা ভুলে গেছে।”

    “নিশ্চিত থাকবেন, ভুলে যেনো যায়।” আবছায়া অবয়বটা আচমকা উঠে দাঁড়ালো। “অবিশ্বাস ছড়ানো হচ্ছে, অবশ্যই! এতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। এ ব্যাপারে কোনো প্রশ্নই উঠে না। সে কনট্যাক্টগুলো পিকআপ করবে, তাদের কাছ থেকে জোর ক’রে তথ্য আদায় করার চেষ্টা করবে। যখন একজন ব্যর্থ হবে, তাকে আমেরিকানদের কাছে ছুড়ে ফেলে দিয়ে পরের জনকে ধরবে। তবে সে একাই কাজটা করবে। এটা তার অহংয়েরই অংশ। সে একটা উন্মাদ। এবং মোহগ্রস্ত।”

    “হতে পারে সে দুটোই,” বৃদ্ধ বললো। “তবে সে একজন পেশাদারও বটে। সে যখন ব্যর্থ হবে তখন তার কর্তাদের কাছে নামগুলো পাঠিয়ে দেবে। সুতরাং, আপনি তাকে ঘায়েল করুন অথবা নাই করুন, তাদেরকে ঘায়েল করা হবে।”

    “তারা মরবে,” গুপ্তঘাতক বললো। “তবে বারগোঁয়া নয়। সে অনেক বেশি মূল্যবান। তাকে বলবেন এথেন্সে চলে যেতে। সে জানে কোথায় যেতে হবে।”

    “আমি কি তাহলে পার্ক মশিউ’র স্থলাভিষিক্ত হবো?”

    “সেটা অসম্ভব। তবে কিছু দিনের জন্যে আপনি আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলো কয়েক জনের কাছে পৌঁছে দেবেন।”

    “প্রথমজন হলো বারগোঁয়া, এথেন্সে।”

    “হ্যা।”

    “তাহলে লাভিয়া আর দাঁজুকে মার্ক করা হলো?”

    “হ্যা। টোপ খুব কমই বেঁচে থাকতে পারে। তারাও পারবে না। লাভিয়া আর দাঁজুকে কভার করে এরকম দুটো দলের কাছে আপনি আরেকটা মেসেজ রিলে করবেন। তাদেরকে বলবেন, আমি তাদের দিকে লক্ষ্য রাখছি সারাক্ষণ। কোনো ভুল যেনো না হয়।”

    এবার বৃদ্ধলোকটা চুপ মেরে গেলো। “আমি আপ্রাণ চেষ্টা করেছি, কার্লোস। রেনল্টটা দেড় ঘণ্টা আগে মঁতমাত্রের একটা গ্যারেজে পাওয়া গেছে। গতরাতে সেটা নিয়ে আসা হয়েছে।”

    বৃদ্ধলোকটা ওপাশ থেকে নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে পেলো। “আমি ধরে নিচ্ছি আপনি সেটাকে নজরদারী করার জন্যে ব্যবস্থা নিয়েছেন—এমনকি এখন, এই মুহূর্তেও।”

    মৃদুভাষী ভিক্ষুক আস্তে ক’রে হাসলো। “আপনার শেষ ইনস্ট্রাকশন অনুযায়ী আমি একজন বন্ধুকে ভাড়া করেছি, চমৎকার একটা গাড়িসহ। সে আবার তার পরিচিত তিনজনকে নিয়োগ করেছে, চারজনে মিলে ছয় ঘণ্টার শিফটে গ্যারাজের বাইরে, রাস্তায় নজরদারী করছে। তারা অবশ্য কিছু জানে না। কেবল জানে তাদেরকে যেকোনো সময় রেনল্টটা অনুসরণ করতে হবে।”

    “আপনি আমাকে হতাশ করেন নি।”

    “সেটা আমি করতে পারি না। আর যেহেতু পার্ক মশিউ’রটা বাদ দিতে হয়েছে, তাদেরকে আমার নিজের ফোন নাম্বার দেয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিলো না। সেটা কোয়ার্টারের একটা বন্ধ ক্যাফের নাম্বার। মালিক আর আমি বহু পুরনো বন্ধু। আমি প্রতি পাঁচ মিনিট পরপর তার সাথে যোগাযোগ করতে পারবো মেসেজের জন্যে, আর সে কখনও আপত্তি জানাবে না। আমি জানি সে তার ব্যবসার টাকা কোত্থেকে পেয়েছে। আর কাকে খুন করতে হয়েছে সেটা পাবার জন্যে।”

    “আপনার আচরণ বেশ ভালো। আপনার অনেক গুণ আছে।”

    “আমার সমস্যাও আছে, কার্লোস। যেহেতু আমাদের কেউ পার্ক মশিউ’তে ফোন করতে পারছি না, তাই আপনার সাথে যোগাযোগ করবো কিভাবে? বিশেষ ক’রে রেনল্টের ব্যাপারটা যদি জানাতে হয়।”

    “হ্যা, সমস্যাটার ব্যাপারে আমি সচেতন আছি। আপনি যে বোঝাটা নিতে চাচ্ছেন সেটার ব্যাপারে কি সচেতন আছেন?”

    “সেটা না পেলেই বেশি খুশি হতাম। আমার একমাত্র আশা যখন এইসব মিটে যাবে, কেইন মারা যাবে, আপনি তখন আমার অবদানগুলো মনে রাখবেন, আর আমাকে খুন না ক’রে নাম্বারটা বদলে ফেলবেন।”

    “আপনি ভবিষ্যৎ দেখতে পান।”

    “পুরনো দিনে এটাই আমার বেঁচে থাকার প্রধান মাধ্যম ছিলো।”

    গুপ্তঘাতক সাতটি সংখ্যা ফিফিস্ ক’রে বললো। “আপনি হলেন একমাত্র জীবিত ব্যক্তি, যে এই নাম্বারটা জানে। স্বাভাবিকভাবেই এটা ট্রেস করা যাবে না।”

    “সঙ্গত কারণেই। কে আশা করবে একজন ভিক্ষুকের কাছে এটা আছে?”

    “প্রতিটি ঘণ্টা আপনাকে আরো ভালো মানের জীবন ব্যবস্থার কাছাকাছি নিয়ে আসবে। জালটা গুটিয়ে আনা হচ্ছে। প্রতিটি ঘণ্টা তাকে ফাঁদের কাছে নিয়ে আসছে। কেইন ধরা পড়বে। যে লোক এটা সৃষ্টি করেছে তার মুখের সামনে তার লাশটা ছুড়ে ফেলা হবে। শেষে, সে কেবল একজন পাপেট হিসেবেই থাকবে, খুবই মূল্যবান পাপেট। সে ছাড়া আর সবাই জানে এটা।”

    .

    বর্ন ফোনটা তুলে নিলো। “হ্যা?”

    “রুম ৪২০?”

    “বলে যান, জেনারেল।”

    “ফোন আসা বন্ধ হয়ে গেছে। আমার বউ আর যোগাযোগ করছে না— অন্ত তপক্ষে ফোনে তো নয়ই। আমাদের সামনে ফোনটা দু’বার বাজলে উভয় ক্ষেত্রেই আমার বউ আমাকে বলেছে ফোনটা ধরতে। সে আর কথা বলতে চাচ্ছে না।”

    “কে ফোন করেছিলো?”

    “একজন কেমিস্ট একটা প্রেসক্রিপশনের ব্যাপারে, আর একজন সাংবাদিক একটা ইন্টারভিউয়ের জন্যে। সে কোনোটাই জানে নি।”

    “আপনি কি এমন ভাব লক্ষ্য করেছেন যে, সে আপনাকে দিয়ে ফোন ধরানোর মাধ্যমে আসলে আপনাকে ছুড়ে ফেলার চেষ্টা করছে?”

    ভিলিয়ার্স থেমে গেলো। তার জবাবটা এলো রাগের সাথে। “হ্যা, সে আমাকে বলেছে সে বাইরে লাঞ্চ করবে, জর্জ সিঙ্ক-এ একটা রিজার্ভেশন আছে তার। আমি তাকে সেখানে পাবো, যদি সে ওখানে যেতে মনস্থির করে

    “সে যদি যায়, আমি সেখানে প্রথমে যেতে চাই।”

    “আমি তোমাকে জানিয়ে দেবো।”

    “আপনি বলছেন, সে আর ফোনে যোগাযোগ করছে না। ‘অন্ততপক্ষে ফোনে তো নয়ই।’ মনে হয় এটাই বলেছেন। এ দিয়ে কি আপনি কিছু বোঝাতে চেয়েছেন?

    “হ্যা। ত্রিশ মিনিট আগে বাড়িতে এক মহিলা এসেছিলো। আমার বউ তার সাথে দেখা করতে অনীহা প্রকাশ করলেও দেখা করেছে। আমি এক ঝলক তার মুখটা দেখেছি। তারা পার্লারে বসেছিলো। তবে সেটাই যথেষ্ট। মহিলা খুবই ভীতসন্ত্রস্ত ছিলো।”

    “তার বর্ণনা দিন।”

    ভিলিয়ার্স বর্ণনা দিলো।

    “জ্যাকুলিন লাভিয়া,” জেসন বললো।

    “আমিও সেরকম ভেবেছি।”

    “আমি বুঝতে পারছি না সে কেন আপনার বাড়িতে যাবে। এটা তো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। এটা আমার মাথায় ঢুকছে না। যদি না সে নিজের ইচ্ছেয় গিয়ে থাকে। আর কোনো ফোন করা হবে না সেটা জেনেই হয়তো গিয়েছে।”

    “আমারও তাই মনে হয়েছে,” বৃদ্ধ জেনারেল বললো। “তাই আমার মনে হলো একটু খোলা জায়গায় হেটে অসি, উন্মুক্ত বায়ুর জন্যে। আমার সাথে আমার সহকারী ছিলো। তবে আমার চোখ খোলা ছিলো। লাভিয়াকে অনুসরণ করা হয়েছে। চারটা বাড়ির পরে একটা গাড়িতে দু’জন লোক বসেছিলো। গাড়িটাতে ওয়্যারলেসের ব্যবস্থা ছিলো। আমি এন্টেনাটা দেখেছি। ঐসব লোক এমনিতেই ব’সে ছিলো না। তারা আমার বাড়িটার দিকে লক্ষ্য রাখছিলো।”

    “আপনি কিভাবে জানলেন যে, লাভিয়া তাদের সাথে আসে নি?”

    “আমরা নিরিবিলি একটা পথের উপর থাকি। লাভিয়া যখন এলো আমি তখন সিটিং রুমে ব’সে কফি খাচ্ছিলাম। তাকে দৌড়ে আসতে শুনেছি। জানালার কাছে গিয়ে আমি একটা ট্যাক্সিকে চলে যেতে দেখেছি। সে ট্যাক্সিতে ক’রে এসেছে। তাকে অনুসরণ করা হয়েছে, বুঝলে।”

    “সে কখন বাড়ি থেকে বের হয়েছে?”

    “বের হয় নি, এখনও বাড়িতে আছে আর লোকগুলোও বাইরে অপেক্ষা করছে।”

    “কি রকম গাড়িতে আছে তারা?”

    “সিঁতরো। ধূসর রঙের। লাইসেন্স প্লেটের প্রথম তিনটি অক্ষর হলো এন.ওয়াই.আর।”

    “পাখিরা আকাশে উড়ছে, একটা কনট্যাক্টকে অনুসরণ করা হচ্ছে। পাখিগুলো এলো কোত্থেকে?”

    “বুঝলাম না, কি বললে?”

    জেসন মাথা ঝাঁকালো। “আমি ঠিক নিশ্চিত নই। মনে কিছু করবেন না। লাভিয়া চলে যাবার আগেই আমি সেখানে যাবার চেষ্টা করবো। আপনি আমাকে যতোটুকু সম্ভব সাহায্য করার করেন। আপনার বউকে বলেন তার সাথে আপনার কয়েক মিনিট কথা বলতে হবে। তার পুরনো বন্ধুকে আরো কিছুক্ষণ থাকতে বাধ্য করুন। যেকোনো কিছু বলুন। তাকে চলে যেতে দেবেন না। এটা নিশ্চিত করুন।”

    “আমি আপ্রাণ চেষ্টা করবো।”

    বর্ন ফোনটা রেখে মেরির দিকে তাকালো। “এটা কাজ করছে। তারা একে অন্যকে অবিশ্বাস করতে শুরু করেছে। লাভিয়া পার্ক মশিউ’তে গেছে আর তাকে অনুসরণ করা হচ্ছে।”

    “আকাশে পাখি উড়ছে,” বললো মেরি। “এ দিয়ে তুমি কি বুঝিয়েছো?”

    “আমি জানি না। এটা খুব একটা গুরুত্বপুর্ণ নয়। হাতে এখন সময় নেই।”

    “আমার মনে হয়, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জেসন।”

    “এখন নয়।” বর্ন চেয়ার থেকে তার কোট আর টুপিটা তুলে নিলো। সে ওগুলো পরে ব্যুরোর ড্রয়ার খুলে অস্ত্রটা হাতে নিয়ে নিলো। অস্ত্রটার দিকে কয়েক মুহূর্ত চেয়ে রইলো। স্মরণ করলো। ছবিগুলো আবার ভেসে এলো তার মনের পর্দায়। জুরিখ। ব্যানহফস্ট্রাস এবং ক্যারিলিয়ন দুলাক; ড্রেই এলপেনহসার লাওয়েনস্ট্রাস। স্টেপডেকস্ট্রাসের নোংরা বোর্ডিং-হাউজ। অস্ত্রটা এসবেরই প্রতীক। এসবের জন্যে জুরিখে তার জীবনটা প্রায় খোয়াতে বসেছিলো সে।

    কিন্তু এটা প্যারিস। জুরিখে যা শুরু হয়েছে সেটা এখনও চলছে।

    কার্লোসকে খুঁজে বের করো। কার্লোসকে ফাঁদে ফেলো। কেইন হলো চার্লি। আর ডেল্টা হলো কেইন।

    ভূয়া। তোমার নিকুচি করি, ভূয়া!

    ট্রেডস্টোন খুঁজে বের করো। একটা মেসেজ খুঁজে বের করো। একজন লোককে খোঁজো।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্বপ্নবাসবদত্তা – ভাস
    Next Article কন্ট্রোল (বেগ-বাস্টার্ড ৭) – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    Related Articles

    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    দ্য দা ভিঞ্চি কোড – ড্যান ব্রাউন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    অরিজিন – ড্যান ব্রাউন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    নেমেসিস (বেগ-বাস্টার্ড – ১) – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    কন্ট্রাক্ট (বেগ-বাস্টার্ড ২) – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    নেক্সাস (বেগ-বাস্টার্ড ৩) – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    November 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }