Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বর্ন আইডেন্টিটি – রবার্ট লুডলাম

    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন এক পাতা গল্প722 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বর্ন আইডেন্টিটি – ৭

    অধ্যায় ৭

    ফকেনস্ট্রাস থেকে লিমাট কোয়ে’র গ্রসমুনস্টার ক্যাথেড্রালের সামনে এসে পড়লো তারা। লাওয়েনস্ট্রাস শহরটা নদীর ওপারে পশ্চিম দিকে অবস্থিত। মুনস্টার বৃজ দিয়েই ব্যানহফস্ট্রাসে সবচাইতে সহজ আর দ্রুত পৌঁছানো যায়। সেখান থেকে নাশেলস্ট্রাস;

    মেরি চুপচাপ গাড়ি চালাচ্ছে। এতো কিছুর পরও একটু স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে সে। বর্ন তার দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলো সেটা।

    …একজন লোক খুন হয়েছে, তার হত্যার খবর প্রতিটি সংবাদপত্রের প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছিলো।

    জেসন বর্নকে টাকা দেয়া হয়েছিলো খুন করার জন্যে, কয়েকটি দেশের পুলিশ ইন্টারপোলে ফান্ড পাঠিয়েছে তাকে ধরার জন্যে। তার মানে কিছু লোক খুন হয়েছে…

    কতোজন তোমাকে খুঁজছে, মেইন হের? তারা কি করবে?…তারা কোনোভাবেই ক্ষান্ত দেবে না–বউ বাচ্চাকে খুন করা তো তাদের কাছে কোনো ব্যাপারই না!

    পুলিশ নয়। অন্য কেউ।

    গ্রসমুনস্টার চার্চের যমজ দুটো টাওয়ার দূর থেকেও রাতের আকাশে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। পুরনো এই স্থাপত্যটার দিকে তাকালো জেসন। এ সম্পর্কে তার অনেক কিছুই মনে হচ্ছে, কিন্তু সে কিছুই জানে না। এটা আগেও দেখেছে সে, তার পরও তার মনে হচ্ছে জীবনে প্রথমবারের মতো দেখছে এটা।

    আমি কেবল চারনাককে চিনি…খামটা তার মাধ্যমেই আমাকে দেয়া হয়েছিলো…লাওয়েনস্ট্রাস। ৩৭ নাম্বার। তুমিও তো আমার মতোই জানো সেটা।

    সে কি জানে? সে কি বলবে?

    বৃজটা অতিক্রম করলো তারা। শহরে বেশ লোকজনের ভীড় দেখা যাচ্ছে। এটা অপেক্ষাকৃত নতুন শহর। লাল আর সবুজ বাতি জ্বলছে পালাক্রমে। বর্ন কোনো কিছু ভাবার চেষ্টা করলো না…আবার সবই ভাবতে চেষ্টা করলো।

    সত্যের রূপরেখা তার সামনে উপস্থিত হচ্ছে, রহস্যজনক আকার ধারণ করছে সেটা। প্রতিটিই তার আগেরটার চেয়ে বিস্ময়কর আর চমকে দেবার মতো।

    সে যে সক্ষম সে ব্যাপারে নিশ্চিত নয়—মানসিকভাবে সক্ষম—মানে, আরো বেশি কিছু সহ্য করার ক্ষেত্রে।

    “থামো! ডাই ডাম ডা! ডাই শিনওয়েরফার সিন্ড অস্ অ্যান্ড সি হাবেন লিংকস সিগনালাইজার্ট। ডাস ইস্ট আইন ইনব্যানস্টাস!”

    চোখ তুলে তাকালো জেসন, তার পেটে তীব্র একটা ব্যথা জেঁকে বসেছে। তাদের পাশে একটা টহলগাড়ি। জানালা দিয়ে এক পুলিশ চিৎকার ক’রে কী যেনো বলছে। আচমকা সব কিছু পরিস্কার হয়ে উঠেছে…পরিস্কার আর বিব্রতকর। মেরি সাইড মিরর দিয়ে পুলিশের গাড়িটা দেখেছে। সে গাড়ির হেডলাইটটা বন্ধ ক’রে দিয়ে হাত বাড়িয়ে ডিরেকশনাল সিনগাল দেখিয়েছে বাম দিকে মোড় নেবার জন্যে। ওয়ানওয়ে রাস্তায় বাম দিকে মোড় নেয়াটা ট্রাফিক আইন বিরোধী। হেডলাইট না জ্বালানোটা আরো বড় অপরাধ। এক্ষেত্রে গাড়িটা নির্ঘাত থামানো হবে। আর মেয়েটা চিৎকার দিতে পারবে সাহায্যের আশায়।

    বর্ন হেডলাইটটা তাড়াতাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে মেয়েটার দিকে ঝুঁকে এক হাত দিয়ে ডিরেকশনাল সিগনাল দেয়া হাতটা ধরে টেনে ভেতরে নিয়ে এলো।

    “আমি তোমাকে খুন করবো,” শান্ত কণ্ঠে বললো সে। তারপর জানালা দিয়ে পুলিশের উদ্দেশ্যে চিৎকার ক’রে বললো, “দুঃখিত! আমরা বুঝতে পারি নি! পর্যটক তো! আমরা পরের ব্লকে যেতে চাচ্ছি!” পুলিশের লোকটা মেরির কাছ থেকে বড়জোর দুই ফিট দূরে দাঁড়িয়ে তার দিকে চেয়ে আছে, বোঝাই যাচ্ছে মেয়েটার নির্বিকার আর ভাবলেশহীন মুখটা দেখে একটু হতভম্ব হয়ে গেছে সে।

    বাতিটা বদলে গেলো। “সামনের দিকে এগোও। বোকার মতো কিছু করবে না,” বললো জেসন। গাড়ির ভেতর থেকে পুলিশের দিকে তাকিয়ে হাত নাড়লো সে। “দুঃখিত, আবারো বলছি!” চিৎকার ক’রে বললো সে। পুলিশ কাঁধ ঝাঁকিয়ে নিজের সঙ্গীর দিকে ফিরে আবার কথা বলতে লাগলো।

    “আমি গুলিয়ে ফেলেছিলাম,” কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বললো মেয়েটা। “অনেক গাড়ি তো…ওহ্ ঈশ্বর, আমার হাতটা ভেঙেই ফেলেছে…বানচোত।”

    মেয়েটার হাত ছেড়ে দিলো বর্ন। তার রাগ দেখে দমে গেলো একটু। সে ভয় পছন্দ করে। “তুমি নিশ্চয় আশা করো না আমি তোমার কথা বিশ্বাস করবো?”

    “আমার হাতটা!”

    “তুমি গুলিয়ে ফেলেছিলে।”

    “তুমিই তো বলেছিলে একটু পরেই আমরা বাম দিকে মোড় নেবো। আমি সেটাই মনে করেছিলাম।”

    “এরপর থেকে রাস্তার দিকে চোখ রাখবে।” সে তার কাছ থেকে সরে

    আসলেও চোখ সরালো না।

    “তুমি একটা জানোয়ার,” মেয়েটা বিড়বিড় ক’রে বললো।

    লাউয়েনস্ট্রাসের প্রশ্বস্ত একটা এভিনুতে এসে পড়লো তারা। সেখানে আধুনিক ভবনের মাঝে মাঝে পুরনো দিনের ইট-কাঠের দালানগুলো স্যান্ডউইচ হয়ে আছে। জেসন বাড়িরগুলোর নাম্বার দেখতে লাগলো। কিছু দূর যাওয়ার পর চোখে পড়লো চার তলার কতোগুলো ভবন। এইসব সারিসারি বাড়িগুলো দেখে একটা ছবি ভেসে উঠলো তার মনের পর্দায়। সেই ছবিটার সাথে এই বাড়িগুলোর অনেক মিল আছে। তবে পার্থক্যও আছে। মলিন, পুরনো, খুব বেশি সাজানো গোছানো নয়, ঘষা মাজা নয়… জীর্ণশীর্ণ। জানালা, ভাঙা সিঁড়ি, অসমাপ্ত রেলিং—লোহালক্করের জঞ্জাল পড়ে আছে। জুরিখের একটা অংশ। হ্যা, তারা জুরিখে আছে। ছোট্ট একটা জেলা, শহর থেকে একটু দূরে।

    “স্টেপডেকস্ট্রাস,” আপন মনে বললো সে। নিজের মনের পর্দায় ভেসে ওঠা ছবিটা নিয়েই মগ্ন রইলো। একটা দরজা দেখতে পাচ্ছে। ম্রিয়মান লাল, তারই পাশে লাল রঙের সিল্কের মতো একটা পোশাক পরে আছে এক মহিলা। “স্টেপডেকস্ট্রাসের…একটা বোর্ডিং হাউজ।”

    “কি?” বর্নের কথাটা মেরিকে চমকে দিলো। ভয়ও পেলো মেয়েটা।

    “কিছু না,” মেরির দিক থেকে চোখ সরিয়ে জানালার বাইরে তাকালো সে। “৩৭ নাম্বার,” সারির পঞ্চম বাড়িটার দিকে ইঙ্গিত করে বললো সে। “গাড়ি থামাও।”

    প্রথমে নিজে বেরিয়ে এসে মেয়েটাকে বের হতে ইশারা করলো সে। তার পা’টা পরীক্ষা করতে চাচ্ছে বর্ন। গাড়ির চাবিটা নিয়ে নিলো মেয়েটার হাত থেকে।

    “তুমি হাটতে পারছো দেখছি,” বললো মেরি। “হাটতে যখন পারছো, গাড়িও চালাতে পারবে।”

    “হয়তো পারবো।”

    “তাহলে আমাকে যেতে দাও! তুমি যা চেয়েছো সবই তো করেছি।”

    “আরো কিছু বাকি আছে,” কথার পিঠে কথা বললো সে।

    “আমি যে কিছু বলবো না সেটা কি তুমি বুঝতে পারছো না? তোমাকে আমি আর এই জীবনে দেখতে চাই না…আমি কোনো সাক্ষী হতে চাই না, অথবা পুলিশী কোনো ব্যাপারে জড়াতেও চাই না। কোনো রকম জবানবন্দী, কিংবা সেরকম কিছু দেবোও না! তোমার কোনো কাজের সাথেই আমি আর জড়াতে চাই না। আমি ভয়ে মরে যাচ্ছি…এটাই তো তোমার সুরক্ষা, তুমি কি বুঝতে পারছো না? আমাকে এবার যেতে দাও, প্লিজ।”

    “সেটা তো দিতে পারছি না।”

    “তুমি আমাকে বিশ্বাস করতে পারছো না।”

    “সেটা নয়। তোমাকে আমার দরকার রয়েছে।”

    “কিসের জন্যে?”

    “খুবই ফালতু একটা ব্যাপারে। আমার কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। লাইসেন্স ছাড়া কোনো গাড়ি ভাড়া করা যায় না। অথচ আমাকে একটা গাড়ি ভাড়া করতেই হবে।”

    “এই গাড়িটা তো তোমার কাছে আছেই।

    “বড়জোর আর এক ঘণ্টা পর্যন্ত এটা ব্যবহার করা যাবে। হোটেলে এই গাড়ির মালিক গাড়িটার খোঁজ করবে। গাড়ির নাম্বার আর বর্ণনা জুরিখ পুলিশের কাছে দিয়ে দেয়া হবে। সব জায়গায় খোঁজা হবে এটা। ওয়্যারলেসের মাধ্যমে ট্রাফিক পুলিশেরাও জেনে যাবে।”

    মেয়েটা তার দিকে স্থির চোখে চেয়ে রইলো। তার চোখে মুখে নতুন ক’রে ভীতি আর হতাশা জেঁকে বসলো যেনো। “আমি আর তোমার সাথে যেতে চাই না। রেস্তোরাঁয় লোকটা যা বলেছে সব আমি শুনেছি। আমি যদি আর বেশি কিছু শুনে ফেলি তবে তুমি আমাকে খুন ক’রে ফেলবে।”

    “তুমি যা শুনেছো তা আমিও শুনেছি। কিন্তু এর মাথামুণ্ডু কিছুই আমি বুঝছে পারছি না। বরং মনে হচ্ছে তোমার চেয়ে আমি নিজেই কম বুঝেছি। আসো।” মেয়েটার এক হাত ধরে টেনে নিয়ে আরেক হাতে সিঁড়ির রেলিংটা ধরলো যাতে সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় খুব বেশি ব্যথা না পায়।

    তার দিকে হতভম্ব হয়ে চেয়ে রইলো মেয়েটি।

    মেইল বাক্সগুলোর দ্বিতীয় সারিতে এম. চারনাক নামটি লেখা আছে। নামটির নিচেই একটা কলিংবেল। সে রিং বাজালো না, পাশের চারটা বোতামে চাপ দিলে কয়েক সেকেন্ড পরেই পাশের ছোট্ট একটা স্পিকার থেকে একটা কণ্ঠ ভেসে এলো। সুইস-জার্মান ভাষায় জানতে চাইলো কে। তবে কোনো জবাব দেয়া হলো না। কলিংবেলে চাপ দিলে লটা খুলে গেলে জেসন দরজাটা খুলে মেরিকে সামনে ঠেলে দিলো।

    মেয়েটাকে দেয়ালের পাশে রেখে অপেক্ষা করলো সে। উপর থেকে দরজা খোলার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে, সিঁড়ি দিয়ে নামার শব্দও শোনা যাচ্ছে এবার।

    “ওয়ের ইস্ট দা?”

    “জোহান?”

    “উ বিস্ট ডু ডেন?”

    কোনো সাড়াশব্দ নেই। বিরক্ত হবার শব্দ শোনা গেলো, তারপরই সিঁড়ি দিয়ে নামার শব্দটা। দরজাগুলো বন্ধ।

    এম. চারনাক থাকে তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট ২সি-তে। বর্ন মেয়েটার হাত ধরে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে শুরু করলো। মেয়েটা ঠিকই বলেছে, সে একা থাকলেই বেশি ভালো হোতো। কিন্তু এ ব্যাপারে আর কিছুই করতে পারবে না সে। মেয়েটাকে তার দরকার আছে।

    পোর্ত নোয়ে’তে থাকার সময় সে রাস্তার মানচিত্রগুলো ভালো ক’রে দেখেছে। লুসার্ন এখান থেকে এক ঘণ্টার পথ। আড়াই ঘণ্টা অথবা তিন ঘণ্টার পথ হলো বার্ন। যেকোনো এক জায়গায় যেতে পারে সে। পথের কোনো ফাঁকা জায়গায় মেয়েটাকে নামিয়ে দিয়ে উধাও হয়ে যাবে। কেবল সময়ের ব্যাপার। শতশত কানেকশান কেনার মতো ক্ষমতা তার রয়েছে। তবে তাকে জুরিখ থেকে বের হতে হবে, আর এই মেয়েটা হলো তার বের হবার উপায়।

    কিন্তু জুরিখ ছাড়ার আগে তাকে জানতে হবে। তাকে কথা বলতে হবে একলোকের সাথে, যার নাম…

    এম. চারনাক। নামটা দরজার বেলের ডান দিকে লেখা আছে। সে দরজার সামনে থেকে সরে গেলো, মেয়েটাকেও টেনে নিলো তার পাশে।

    “তুমি কি জার্মান ভাষায় কথা বলতে পারো?” জেসন জানতে চাইলো।

    “না।”

    “মিথ্যে বোলো না।”

    “মিথ্যে বলছি না।”

    বর্ন একটু ভেবে হলওয়ের দিকে তাকিয়ে বললো : “বেল বাজাও। দরজা খুললে দাঁড়িয়ে থেকো কেবল। ভেতর থেকে যদি কেউ জবাব দেয় বলবে তোমার কাছে একটা মেসেজ আছে—খুবই জরুরি মেসেজ—ড্রেই এলপেনহসার থেকে এক বন্ধু পাঠিয়েছে।”

    “ধরো ভেতর থেকে বললো দরজার নিচ দিয়ে দিয়ে দিতে, তাহলে?”

    মেয়েটার দিকে তাকালো জেসন। “বেশ ভালো।”

    “আমি আর কোনো মারামারি চাচ্ছি না। কিছু দেখতেও চাচ্ছি না, জানতেও চাচ্ছি না। আমি কেবল চাই—”

    “আমি জানি,” সে বাধা দিয়ে বললো। “সিজারের ট্যাক্স আর পুনিক-এর যুদ্ধে ফিরে যাবে। কেউ যদি ওরকম কিছু বলে, সংক্ষেপে বলবে মেসেজটা লিখিত নয়, মুখে মুখে বলতে হবে। যে লোকের বর্ণনা দেয়া হয়েছে কেবল সেই লোকের কাছেই বলতে হবে সেটা।”

    “সে যদি বর্ণনাটা জানতে চায়?” মেরি বললো শীতল কণ্ঠে।

    “তোমার মাথা দেখছি বেশ ভালো, ডক্টর,” বললো সে।

    “আমি যুক্তিবাদী। আমি ভীতও বটে। আমি তোমাকে সেটা বলেছি। আমি কি করবো?”

    “বলবে নরকে যাও। তারপর হেটে চলে যাবে।”

    মেয়েটা বেল বাজালে অদ্ভুত এক শব্দ হলো। কিছু খামচানোর শব্দ। বাড়তে লাগলো সেটা। তারপর আচমকা থেমে গম্ভীর একটা কণ্ঠ শোনা গেলো।

    “জা?”

    “আমি তো জার্মান বলতে পারি না।”

    “ইংলিশ। ব্যাপারটা কি? তুমি কে?”

    “ড্রেই এলপেনহসার থেকে এক বন্ধুর মেসেজ নিয়ে এসেছি।”

    “দরজার নিচ দিয়ে দাও।”

    “সেটা করতে পারছি না। লিখিত বার্তা নয়। যেরকম লোকের বর্ণনা দেয়া হয়েছে কেবল তার কাছেই মেসেজটা দেবো।”

    “তো, এটা কোনো কঠিন কাজ নয়,” কণ্ঠটা বললো। লক্ খোলার শব্দ হলে দরজাটা খুলে যেতেই বর্ন সঙ্গে সঙ্গে খোলা দরজার সামনে এসে দাঁড়ালো।

    “তুমি একটা পাগল!” হুইল চেয়ার থেকে দুটো লাঠির উপর ভর দেয়া লোকটা বললো। “চলে যাও! এখান থেকে চলে যাও!”

    “একথা শুনতে শুনতে আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি,” বলেই জেসন মেয়েটাকে ভেতরে ঢুকিয়ে দরজাটা বন্ধ ক’রে দিলো।

    .

    মেরি সেন জ্যাককে একটা ছোট্ট জানালাবিহীন শোবার ঘরে থাকতে খুব বেশি বেগ পেতে হলো না। তারা যখন কথা বলতে শুরু করলো তখন মেয়েটি স্বেচ্ছায় এটা করলো। পা বিহীন চারনাক ভয়ে কাঠ হয়ে আছে। তার দোমড়ানো মুখটা ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে এখন। এলোমেলো ধূসর চুলগুলো ছড়িয়ে আছে কপাল আর কাঁধের উপরে।

    “আমার কাছে কি চাও?” জানতে চাইলো সে। “তুমি প্রতীজ্ঞা করেছিলে শেষ ট্রানজাকশনটাই হলো আমাদের শেষ কাজ! আমি আর কিছু করতে পারবো না। কোনো ঝুঁকি নিতে পারবো না। মেসেঞ্জাররা এখানে এসেছিলো। যতো সতর্কই থাকো তারা এখানে এসেছিলো। কেউ যদি ভুল সময়ে একটা ঠিকানা আমার কাছে রেখে যায় তো আমি শেষ হয়ে যাবো!”

    “যে ঝুঁকি তুমি নিয়েছিলে সেটা কিন্তু ভালোভাবেই করতে পেরেছিলে,” বর্ন হুইলচেয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে বললো। মনে মনে ভাবতে লাগলো কি বললে তথ্যগুলো সহজে বের করা যাবে। তারপরই খামটার কথা মনে পড়ে গেলো তার। যদি উল্টা পাল্টা কিছু হয়ে থাকে তার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। ড্রেই এলপেনহসার-এ এক মোটা লোক।

    “এই ঝুঁকির সাথে কোনো তুলনাই চরে না।” চারনাক মাথা নাড়লো। “তুমি আমার জীবনে আসার আগে আমি খুব ভালোই ছিলাম, মেইন হের। একজন বৃদ্ধি সৈনিক যে কিনা যুদ্ধে পা হারিয়েছে। আমি নিতান্তই তুচ্ছ একজন কিন্তু কিছু তথ্য জানি বলে আমার সাবেক কমরেডরা আমাকে মুখ বন্ধ রাখার জন্যে টাকা দিতো। জীবনটা বেশ স্বচ্ছলই ছিলো। খুব জাঁকজমক হয়তো ছিলো না, তবে বেশ চলে যাচ্ছিলো। তারপরই তুমি আমাকে খুঁজে বের করলে…”

    জেসন অধৈর্য হয়ে বললো, “খামটার ব্যাপারে বলো—যে খামটা তুমি ড্রেই এলপেনহসারে আমাদের এক বন্ধুর কাছে দিয়েছিলে। সেটা তোমাকে কে দিয়েছিলো?”

    “একজন মেসেঞ্জার।”

    “কোত্থেকে সেটা এসেছিলো?”

    “আমি কি ক’রে জানবো? একটা বাক্সে ক’রে এসেছিলো সেটা, ঠিক যেভাবে এসেছিলো অন্যগুলো। আমি বাক্সটা খুলে পাঠিয়ে দিয়েছি। তুমিই তো সেটা চেয়েছিলে। তুমি বলেছিলে তুমি আর এখানে আসতে পারবে না।”

    “কিন্তু তুমি সেটা খুলেছিলে।” প্রশ্ন নয় এমনি বললো জেসন।

    “কখনই না!”

    “ধরো আমি তোমাকে বলছি, সেখান থেকে টাকা খোয়া গেছে।”

    “তাহলে সেটা কোনো পেমেন্ট ছিলো না। ধরে নিতে হবে খামে কোনো টাকাই ছিলো না!” পঙ্গু লোকটার কণ্ঠ চড়া হলো। “যাইহোক, আমি তোমাকে বিশ্বাস করি না। যদি তাই হয় তো তুমি অ্যাসাইনমেন্টটা গ্রহন করতে না। কিন্তু তুমি সেটা গ্রহন করেছো। তাহলে এখন এখানে এসেছো কেন?”

    কারণ আমাকে জানতে হবে। আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি। আমি এমন কিছু দেখছি আর শুনছি যা আমি একটুও বুঝতে পারছি না। আমি বেশ দক্ষ আর স্বাবলম্বী … কিন্তু কুমড়াপটাশ…আমাকে সাহায্য করো।

    বর্ন হুইলচেয়ার থেকে সরে লক্ষ্যহীনভাবে ঘরের মধ্যে পায়চারী করতে লাগলো। পাশেই একটা বইয়ের সেল্ফ আছে। তার পাশে কতোগুলো ছবি টাঙানো। একদল জার্মান সেনা। কারো কারোর সাথে শেফার্ড কুকুর। কোনো ব্যারাকের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে তারা। তাদের সামনে একটা বড় লোহার দরজা; তার উপরে কিছু লেখা আছে। পুরোটা ছবিতে নেই, কেবল ডাচ লেখাটা দেখা যাচ্ছে।

    ডাচাও।

    তার পেছনের লোকটা নড়ছে, টের পেয়েই জেসন ঘুরে দাঁড়ালো। পঙ্গু লোকটা তার হুইলচেয়ারের পাশে থাকা একটা ক্যানভাস ব্যাগ হাতে ধরে রেখেছে। তার চোখে মুখে আগুন জ্বলছে যেনো। মুখটা বিকৃত হয়ে আছে। হাতটা সরলে দেখা গেলো ছোটো ব্যারেলের একটা রিভলবার, কিন্তু বর্ন নিজের পিস্তলটা নেবার আগেই চারনাক গুলি ক’রে বসলো। গুলিগুলো একসঙ্গে গর্জে উঠলে তীক্ষ্ণ যন্ত্রণা অনুভূত হলো তার বাম কাঁধে, তারপর মাথায়—ওহ্, ঈশ্বর! সে তার ডান দিকে ঝাঁপ দিলো। কার্পেটের উপর গড়িয়ে একটা ফ্লোরল্যাম্প ছুঁড়ে মারলো খোঁড়া লোকটার দিকে। আবারো গড়িয়ে হুইল চেয়ারটার পাশে চলে এসে উঠে দাঁড়িয়ে ডান কাঁধ দিয়ে চারনাকের পেছনে এমন জোরে ধাক্কা মারলো যে, পঙ্গু লোকটা চেয়ার থেকে ছিটকে পড়ে গেলো। নিজের অস্ত্রটা নেবার জন্যে পকেটে হাত ঢোকালো জেসন।

    “তারা তোমার লাশের জন্যে টাকা দেবে!” পঙ্গু লোকটা চিৎকার ক’রে বললো। মেঝে থেকে উঠে ব’সে নিজের অস্ত্রটা তাক্ করার চেষ্টা করলো সে। “তুমি আমাকে কফিনে ঢোকাতে পারবে না! কার্লোস আমাকে টাকা দেবে! ঈশ্বরের কসম, সে দেবে!”

    জেসন বাম দিকে সরে গিয়ে গুলি চালালে চারনাকের মাথাটা পেছন দিকে হেলে পড়লো। গলগল ক’রে রক্ত বের হচ্ছে তার মুখ দিয়ে। মরে গেছে সে।

    শোবার ঘরের দরজা থেকে একটা চিৎকার শোনা গেলে জেসন বুঝতে পারলো মেয়েটা চিৎকার দিচ্ছে। তার জিম্মি। জুরিখ থেকে বের হবার তার অবলম্বন। ওহ্, ঈশ্বর, সে তার দৃষ্টি ঠিক করতে পারছে না। তার মাথায় প্রচণ্ড যন্ত্রণা হচ্ছে!

    দৃষ্টি শক্তি ফিরে পেলো সে, চেষ্টা করলো যন্ত্রণাটা এড়ানোর। একটা বাথরুম দেখতে পাচ্ছে। দরজা খোলাই আছে, তোয়ালে আর সিঙ্কটা দেখা যাচ্ছে, আর…আয়নাটা। দৌড়ে আয়নাটা ধরে টান দিলে সেটা খুলে মেঝেতে পড়ে ভেঙে গেলো। আয়নার পেছনেই আছে একটা শ্নেলফটা। গজ আর টেপগুলো হাতে নিলো সে। তাকে বের হতে হবে…গুলির শব্দ। গুলির শব্দ হয়েছে। তার জিম্মিকে নিয়ে বের হতে হবে এক্ষুণি! শোবার ঘরে আছে সে। সেটা কোথায়?

    কান্না, আর্তনাদ…কান্নাটা অনুসরণ করো! দরজাটার কাছে পৌঁছে লাথি মেরে খুলে ফেললো সেটা। মেয়েটা, তার জিম্মি মেয়েটা—তার নামটা যেনো কি? —দেয়ালের সাথে সেঁটে আছে সে। দু’চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে তার। ঠোঁট দুটো কাঁপছে। মেয়েটার কাছে গিয়ে তার হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে যেতে উদ্যত হলো সে।

    “হায় ঈশ্বর, তুমি তাকে খুন ক’রে ফেলেছো!” চিৎকার ক’রে বললো মেয়েটা। “একজন বৃদ্ধ, যার কোনো—”

    “চুপ করো!” তাকে দরজার কাছে টেনে নিয়ে গেলো। তার দৃষ্টি ঝাঁপসা হয়ে আসছে। দৌড়াতে শুরু করলো তারা। লোকজনের হৈহল্লা আর দরজা খোলার শব্দ শুনতে পাচ্ছে। মেয়েটার হাত ধরেছে বাম হাতে, তাই বাম কাঁধে প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছে, তার ডান হাতে অস্ত্র। সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নেমে পড়লো তারা।

    লবিতে পৌঁছে সামনের ভারি দরজাটা খুলতে বললো মেয়েটাকে। বাইরের রাস্তায় নেমে মেয়েটার হাত ছেড়ে দিয়ে রাস্তার দিকে তাকালো। চেষ্টা করলো সাইরেনের শব্দ শোনার। না, কোনো শব্দ শোনা গেলো না। মেয়েটাকে আবার হাত ধরে টেনে গাড়ির সামনে গিয়ে পকেট থেকে চাবিটা বের ক’রে দিলো। “গাড়িতে ওঠো!”

    গাড়ির ভেতরে বসেই সে গজগুলো দলা পাকিয়ে মাথার পাশে চেপে ধরলো রক্ত বন্ধ করার জন্যে। তার মনের গভীরে একটা অদ্ভুত অনুভূতি বলছে ভয়ের কিছু নেই। গুলিটা মাথায় লাগে নি, কেবল ছুঁয়ে গেছে। মাথার ভেতরে ঢোকে নি। “আরে, গাড়ি স্টার্ট দাও! এখান থেকে সরে পড়তে হবে!”

    “কোথায় যাবো? তুমি তো কিছু বলো নি?” মেয়েটা শান্ত কণ্ঠে বললো। এখন আর চিৎকার করছে না সে। একেবারে বিস্ময়করভাবেই শান্ত আছে। চেয়ে আছে তার দিকে…তার দিকেই কি চেয়ে আছে?

    আবারো দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে এলো। “স্টেপডেকস্ট্রাস…” বললো সে।

    হয়েছেটা কি? গাড়ি চলছে না কেন? গাড়িটা সামনে এগোচ্ছে না কেন? তার কথা কি মেয়েটি শুনতে পায় নি?

    তার চোখ বন্ধ। এবার চোখ খুলে তাকালো। অস্ত্রটা। সেটা তো তার কোলে ছিলো। ওটা নামিয়ে রেখেছিলো ব্যান্ডেজ লাগানোর সময়…মেয়েটা ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছে। অস্ত্রটা ফ্লোরে পড়ে গেছে। নিচু হয়ে নিতে যেতেই মেয়েটা তাকে এমন জোরে ধাক্কা মারলো যে, জানালার কাঁচে মাথাটা গিয়ে ঠোকর খেলো। দরজা খুলে মেয়েটি রাস্তা দিয়ে দৌড়াতে শুরু করলো এবার। মেয়েটা পালিয়ে যাচ্ছে! তার জিম্মি, তার একমাত্র অবলম্বন! লাওয়েনস্ট্রাসের দিকে চলে যাচ্ছে!

    সে আর গাড়িতে থাকতে পারলো না। গাড়ি চালানোর দুঃসাহসও দেখালো না। অস্ত্রটা পকেটে রেখে গজগুলো মাথায় চেপে ধরলো রক্ত বন্ধ করার জন্যে। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কোনোমতে দৌড়াতে শুরু করলো সে।

    কোথাও না কোথাও একটা মোড় আছে, একটা ট্যাক্সিও আছে। স্টেপডেকস্ট্রাস।

    মেরি সেন জ্যাক প্রশ্বস্ত আর ফাঁকা এভিনুটা দিয়ে দৌড়াচ্ছে। হাত নেড়ে চলমান গাড়ি থামাতে চাচ্ছে সে, কিন্তু গাড়িগুলো তার পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে। তার পেছনে একটা গাড়ির হেডলাইটের আলো এসে পড়লে সে হাত তুলে গাড়িটা থামাতে চাইলো। কিন্তু গাড়িটা আরো দ্রুত গতিতে অতিক্রম ক’রে গেলো তাকে। জুরিখে কেউ রাতের বেলায় এরকম ফাঁকা আর অন্ধকার রাস্তায় গাড়ি থামায় না। পাশেই সিল নদী আর ফাঁকা একটা পার্ক রয়েছে।

    একটা গাড়ি অবশ্য তার ডাকে সাড়া দিলো। ওটার হেডলাইট বন্ধ আছে, ড্রাইভার মেয়েটাকে দেখে তার পাশে বসা সঙ্গীকে সুইস-জার্মান ভাষায় কথা বললো।

    “সেই মেয়েটাই হতে পারে, চারনাক এক ব্লক দূরে অথবা পাশের রাস্তায় বসবাস করে।”

    “থামাও, মেয়েটাকে কাছে আসতে দাও। তার তো সিল্কের পোশাক প’রে থাকার কথা…হ্যা, সেই মেয়েটাই তো!”

    “অন্যদের ওয়্যারলেসে জানানোর আগে চলো নিশ্চিত হয়ে নিই।”

    দু’জন লোক গাড়ি থেকে বের হয়ে এলে যাত্রীটিও পেছন থেকে বের হয়ে ড্রাইভারের সাথে যোগ দিলো।

    তারা পরে আছে বিজনেস সুট। চোখেমুখে তাদের হাসির ঝিলিক। ভীত মেয়েটি তাদের দিকে এগিয়ে এলো। তারা রাস্তার মাঝখানে আসতেই ড্রাইভার তাদের উদ্দেশ্যে বললো, “ওয়াজ ইস্ট ল্যাসিয়েট, ফ্রলেইন?”

    “আমাকে সাহায্য করুন!” মেয়েটা চিৎকার ক’রে বললো। “আমি… আমি জার্মান বলতে পারি না। নিশ্ট স্প্রেশেন। পুলিশ ডাকুন! পোলিজি।”

    ড্রাইভারের সঙ্গী কর্তৃত্বের সুরে মেয়েটাকে শান্ত হতে বললো। “আমরা পুলিশেরই লোক,” ইংরেজিতে বললো সে। “জুরিখের পুলিশ। আমরা নিশ্চিত নই, মিস্। আপনি কি কারিলিওন দুলাক থেকে এসেছেন?”

    “হ্যা!” চিৎকার ক’রে বললো সে। “ও আমাকে যেতে দিচ্ছিলো না! আমাকে মারধর করেছে, অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখিয়েছে! ভয়ংকর সব ব্যাপার ঘটে গেছে!”

    “সে এখন কোথায়?”

    “আহত হয়েছে। ও গুলি খেলে আমি গাড়ি থেকে দৌড়ে পালিয়েছি…তখনও গাড়িতেই ছিলো!” সে লাওয়েনস্ট্রাসের দিকে হাত তুলে দেখালো। “ওখানে। মনে হয় দুই ব্লক দূরে। একটা ধূসর রঙের ক্যু গাড়ি! তার কাছে অস্ত্র আছে।”

    “আমাদের কাছেও আছে, মিস্,” ড্রাইভার বললো। “গাড়ির কাছে চলুন। আপনি এখন নিরাপদ। আমরা খুব সতর্ক আছি। জলদি আসুন।

    তারা ধূসর রঙের ক্যু গাড়িটার কাছে চলে এলো। গাড়ির হেডলাইট বন্ধ করা আছে। ভেতরে কেউ নেই। ৩৭ নাম্বার বাড়িটার সামনে লোকজন আগ্রহ আর কৌতুহল নিয়ে জড়ো হয়ে কথাবার্তা বলছে। ড্রাইভার পেছনে ঘুরে ভয়ার্ত মেয়েটিকে বললো, “এটা হলো চারনাক নামের এক লোকের বাড়ি। সে কি তার কথা বলেছে কিছু? তার সাথে দেখা করার কথা বলেছে?”

    “সে ওখানে গিয়েছিলো। আমাকেও জোর ক’রে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলো। লোকটাকে খুন করেছে সে! ঐ বৃদ্ধ আর পঙ্গু লোকটাকে খুন করেছে!”

    “ডার সেন্ডার—শেল,” ড্যাশবোর্ডে থেকে একটা মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে ড্রাইভারকে তার সঙ্গী বললো। “উইর সিন্ড জুই স্ট্রাসেন ফন ডা।” গাড়িটা দ্রুতবেগে সামনের দিকে ছুটতে থাকলে মেয়েটা সামনের সিট ধরে রাখলো।

    “আপনারা করছেনটা কি? একটা লোক ওখানে খুন হয়েছে!”

    “খুনিকে খুঁজে বের করতে হবে,” ড্রাইভার বললো। “যেমনটি বললেন, সে আহত। হয়তো এখনও আশেপাশেই আছে। এই গাড়িটা সে চেনে না, তাকে আমরা সহজেই খুঁজে পাবো। আমাদেরকে অবশ্যই অপেক্ষা করতে হবে। তদন্তকারী দলটি পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত। তবে আমাদের কাজ সম্পূর্ণ আলাদা।” ৩৭ নাম্বার বাড়িটা থেকে কয়েকশো গজ দূরে একটা মোড়ে এসে গাড়ির গতি কমে এলো।

    সহকারিটি মাইক্রোফোনে যখন কথা বলতে লাগলো তখন ড্রাইভার তাদের অফিশিয়াল অবস্থাটি ব্যাখ্যা করলো। ড্যাশবোর্ডের স্পিকার থেকে ঘরঘর শব্দ হতেই একটা কণ্ঠ বলে উঠলো, “উইর কোমেন বিলেন জেয়ানিগ। মিনিটেন। ওয়ার টেট।”

    “আমাদের বড় কর্তারা খুব জলদিই এসে পড়বে,” সহকারি বললো। “আমরা তার জন্যে অপেক্ষা করবো। সে আপনার সাথে কথা বলতে চাচ্ছে।”

    মেরি সিটে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ ক’রে বসে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। “ওহ্, ঈশ্বর—যদি একটু ড্রিংক করতে পারতাম!”

    ড্রাইভার হেসে তার সঙ্গীকে ইশারা করলো। গ্লোভ কম্পার্টমেন্ট থেকে একটা মদের বোতল বের ক’রে মেয়েটার দিক বাড়িয়ে দিলো সে। “আমাদের কাছে অবশ্য কোনো গ্লাস কিংবা কাপ নেই। তবে ব্র্যান্ডি আছে। অবশ্যই মেডিকেলের জরুরি প্রয়োজনে। প্লিজ, পান করুন।”

    হেসে বোতলটা হাতে নিলো মেরি। “আপনারা দু’জন খুবই চমৎকার মানুষ, আপনারা জানেন না আমি কতোটা কৃতজ্ঞ। যদি কখনও কানাডায় আসেন তো ফরাসি খাবার আমি নিজে রেঁধে খাওয়াবো আপনাদেরকে।”

    “ধন্যবাদ, মিস্,” ড্রাইভার বললো।

    .

    বর্ন তার কাঁধের ব্যান্ডেজ পরীক্ষা ক’রে দেখলো। নোংরা আর স্বল্প আলোর ঘরে ময়লা লেগে থাকা আয়নাটার দিকে চোখ কুচকে তাকালো সে। স্টেপডেকস্ট্রাসের ব্যাপারে তার ধারণাই ঠিক। লাল রঙের দরজার ছবিটা একেবারে মিলে গেছে। উপরে ভাঙাচোরা জানালার ছাউনি আর জংধরা লোহার রেলিং। ঘরটা যখন সে ভাড়া নিলো তখন তাকে কোনো প্রশ্নই করা হয় নি। যদিও তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন সুস্পষ্ট। তবে বর্ন যখন টাকা পরিশোধ করতে গেলো তখন বিল্ডিংয়ের ম্যানেজারের কথাটা ছিলো উল্লেখ করার মতো।

    “মুখ বন্ধ রাখবে এমন একজন ডাক্তার পাওয়া যাবে এখানে।”

    “আমি আপনাকে পরে জানাবো।”

    আঘাতটা মারাত্মক নয়। একজন ডাক্তার পাওয়ার আগ পর্যন্ত লাগিয়ে রাখা টেপগুলোই কাজ করবে।

    কোনো আঘাতের কারণে যদি প্রচণ্ড চাপের অবস্থার সৃষ্টি হয় তবে ঘাবড়ে যেয়ো না, মানিয়ে নেবার চেষ্টা কোরো। ভয় পেয়ো না…

    সে ভয় পেয়ে গেছে। তার শরীরের কিছু অংশ জমে গেছে ঠাণ্ডায়। যদিও কাঁধের বুলেটটা আর মাথার চামড়া কেটে যাওয়ায় প্রচণ্ড যন্ত্রণা হচ্ছে। তবে ওগুলো অতো মারাত্মক নয় যে, তাকে থামিয়ে দেবে। অবশ্য খুব দ্রুত চলাফেরা করতে পারছে না সে, যদিও তাকে এখন দ্রুত চলাফেরা করতে হবে। বার্তা দেয়া হয়েছে আর সেটা গৃহীত হয়েছে মস্তিষ্কে। চলাফেরা করতে পারবে সে।

    একটু বিশ্রাম নিলে ভালোভাবে কাজ করা যাবে। দিন হবার আগেই তাকে রওনা দিতে হবে, জুরিখ থেকে বের হবার অন্য আরেকটা পথ খুঁজে নিতে হবে। দ্বিতীয় তলার ম্যানেজার টাকা-পয়সা খুব পছন্দ করে। এক ঘণ্টার মধ্যে বেখেয়ালী জমিদারকে ঘুম থেকে ডেকে তুলবে সে।

    শক্ত বিছানাতে শুয়ে ছাদের বাল্বের দিকে চেয়ে রইলো সে। বিশ্রাম নেবার চেষ্টা করলেও ভাবনাগুলো চলে এলো হাতুড়ি পেটার মতো শব্দ ক’রে।

    একজন লোক খুন হয়েছে…

    কিন্তু তুমি তো অ্যাসাইনমেন্টটা গ্রহন করেছো…

    দেয়ালের দিকে ফিরে চোখ দুটো বন্ধ ক’রে ফেললো সে। কথাগুলো থামাবার চেষ্টা করলো। তারপর অন্য কথাগুলোও চলে এলে উঠে বসলো সঙ্গে সঙ্গে। তার কপাল বেয়ে ঘাম ঝরছে এখন।

    তারা তোমার লাশের জন্যে টাকা দেবে…কার্লোস টাকা দেবে। ঈশ্বরের কসম, সে দেবেই।

    কার্লোস।

    .

    ক্যু গাড়িটার সামনে এসে থামলো একটা বড়সড় সিডান। তাদের পেছনেই ৩৭ নাম্বার লাওয়েনস্ট্রাস। টহল গাড়িগুলো পনেরো মিনিট আগে এসে পৌঁছেছে। অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা পাঁচের কম হবে না। আশে পাশে বাড়িঘরের লোকজন এসে বাড়িটার সামনে জড়ো হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা। একটা খুন হয়েছে, এক লোক তার নিজের ঘরেই খুন হয়েছে। উদ্বিগ্নতা সীমা ছাড়িয়ে গেছে সবার। ৩৭ নাম্বারে যা ঘটেছে সেটা ৩২ অথবা ৪০, কিংবা ৫৩ নাম্বারেও হতে পারতো। পৃথিবীতে এসব কী হচ্ছে। জুরিখেও এসব শুরু হয়ে গেলো!

    “আমাদের কর্তারা এসে পৌঁছেছে, মিস্। আপনাকে তাহলে তার কাছে নিয়ে যাই?” সহকারী গাড়ি থেকে নেমে মেরির জন্য দরজা খুলে বললো।

    “অবশ্যই।” গাড়ি থেকে নামতেই লোকটা তাকে হাত ধরে সাহায্য করলো। রাস্তার ল্যাম্প পোস্টের আলো গোল্ডরিম চশমায় প্রতিফলিত হচ্ছে।

    “আপনি!…আপনি তো হোটেলে ছিলেন! আপনি তো তাদেরই একজন!” লোকটা দুর্বলভাবে মাথা নেড়ে বললো, “ঠিক। আমরা জুরিখ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ। আর কথাবার্তা বলার আগে একটা বিষয় আপনাকে পরিস্কার জানিয়ে দিতে চাই, হোটেল ক্যারিলিওন দুলাকে যাই ঘটুক না কেন, আপনার কিছুই হোতো না। আমরা এ ব্যাপারে খুব সতর্ক ছিলাম। কিছু গুলি হয়তো আপনার খুব কাছ দিয়ে গেছে, তবে সেটার কারণ আপনি ওর খুব কাছাকাছি ছিলেন।”

    মেয়েটার আতঙ্ক একটু কমে এলো। “সেজন্যে আপনাকে ধন্যবাদ।”

    “এটা তেমন কোনো ব্যাপার নয়,” লোকটা বললো। “তো, আমি যতোটুকু বুঝি, আপনি তাকে শেষ দেখেছেন গাড়িটার সামনের সিটে ব’সে থাকতে।”

    “হ্যা। সে আহত হয়েছে।”

    “কতোটা মারাত্মক?”

    “বেশ ভালোই। মাথায় ব্যান্ডেজ বেঁধে রেখেছে। তার কাঁধ থেকে রক্ত ঝরতে দেখেছি। সে কে?”

    “নামে কি আসে যায়। তার তো অনেক নাম। তবে দেখেছেন তো, সে একজন খুনি। খুবই ভয়ংকর খুনি। আর অন্য কেউ খুন হবার আগেই তাকে ধরতে হবে। তাকে আমরা কয়েক বছর ধরেই খুঁজছি। অনেক দেশের অনেক পুলিশই তাকে খুঁজছে। এখন আমাদের সামনে যে সুযোগ এসেছে সেটা আর কারোর পক্ষে কখনও আসে নি। আমরা জানি সে জুরিখে আছে। আহত হয়েছে। এই এলাকায় থাকবে না সে। তবে কতোদূর যেতে পারবে? সে কি বলেছে এই শহর ছেড়ে কিভাবে যাবে?”

    “একটা গাড়ি ভাড়া করবে। আমার নামে। তার কাছে কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই।”

    “সে মিথ্যে বলেছে। ভূয়া কাগজপত্র নিয়ে ভ্রমণ করছে সে। আপনি তার কাছে অপ্রয়োজনীয় একজন জিম্মি ছিলেন। এখন একেবারে শুরু থেকে বলেন, সে আপনাকে কি কি বলেছে। কোথায় আপনারা গিয়েছেন, কাদের সাথে দেখা করেছেন, যা যা হয়েছে সব বলুন।”

    “ড্রেই এলপেনহসার নামের এক রেস্তোরাঁয় গিয়েছিলো। মোটাসোটা একলোক তাকে দেখে ভয়ে মরে যাচ্ছিলো…” সেন জ্যাক মেরি যা যা তার মনে আসলো বলতে লাগলো। বিশ মিনিট ধরে চললো এই পর্ব।

    তারপর অন্য একজন অফিসার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললো। ড্রাইভারকে বললো সে, “ড্রেই এলপেনহসার। শ্নেল!” মেরির দিকে ফিরে বললো। “আমরা সেই লোকটার কাছ থেকেও শুনবো J লোকটা অনেক কিছুই জানে ব’লে মনে হচ্ছে।”

    “অনেক কিছু জানে…” মেয়েটা আপন মনে বললো। তার একটা কথা মনে পড়ে গেলো। “স্টেপডেকস্ট্রাস–স্টেপডেকস্ট্রাস। ভাঙা জানালা, ঘরবাড়ি!”

    “কি?”

    “’‘স্টেপডেকস্ট্রাসের একটা বোর্ডিং হাউজ,’ এটাই সে বলেছিলো। এর পরই আমি গাড়ি থেকে নেমে পালাই।”

    ড্রাইভার বললো, “ইচকেনে ডিজে স্ট্রাসে। ফ্রুয়ের গ্যাব এস্ ট্যাক্সটিলফাবরিকেন ডা।”

    “আমি বুঝিতে পারছি না,” মেরি বললো।

    “পুরনো কাপড়ের কারখানাগুলো হবে,” বললো লোকটা। “অভাগাদের স্বর্গরাজ্য…আরো অনেকের জন্যেও। লস!” সে আদেশ করলো।

    গাড়ি ছুটিয়ে চলতে লাগলো তারা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্বপ্নবাসবদত্তা – ভাস
    Next Article কন্ট্রোল (বেগ-বাস্টার্ড ৭) – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    Related Articles

    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    দ্য দা ভিঞ্চি কোড – ড্যান ব্রাউন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    অরিজিন – ড্যান ব্রাউন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    নেমেসিস (বেগ-বাস্টার্ড – ১) – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    কন্ট্রাক্ট (বেগ-বাস্টার্ড ২) – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    নেক্সাস (বেগ-বাস্টার্ড ৩) – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    November 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }