Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বাংলাদেশ : এ লিগ্যাসি অব ব্লাড (রক্তের ঋণ) – অ্যান্থনী ম্যাসকারেনহাস

    লেখক এক পাতা গল্প289 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ষষ্ঠ অধ্যায় – মোশতাক রাজি

    ৬. মোশতাক রাজী

    আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম (মোশতাককে), দেশের পরিস্থিতিতে এ কেউ যদি শেখ মুজিবকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে, তা কি ঠিক হবে? তিনি বলেছিলেনঃ ‘সম্ভবতঃ দেশের মঙ্গলের জন্যে এটি একটি ভাল কাজ হবে।’

    -মেজর আবদুর রশিদ

    .

    ৩রা জুলাই, ১৯৭৫ সাল।

    ফারুক তার পকেট ডায়েরীর ঐ দিনের পাতায় লাল কালির বড় বড় হরফে লিখে রেখেছিলো—কাজ শুরু। সে আমাকে বলেছিলো, ‘এরই মধ্যে আমি স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছে গিয়েছিলাম, মুজিবের মৃত্যু অনিবার্য। আজ হোক, কাল হোক কিংবা পরশু। এটা কোন ব্যাপারই না। আমার রণকৌশলের পরিকল্পনা তৈরী সম্পন্ন। আমার সৈন্য-সামন্তও প্রস্তুত।’

    সে বলে চললো, ‘যে-কোন পরিস্থিতিতেই হোক, আমি ৩রা জুলাই থেকেই চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত ছিলাম। আমার জীবন থেকে অতীত, বর্তমান সবই আমি মুছে ফেলেছিলাম। আমার সামনে তখন একটাই উদ্দেশ্য, মুজিবকে খতম করতেই হবে। এবং সে উদ্দেশ্য সাধনে আমি কোনক্রমেই ১৫ই আগস্টের বেশী দেরি করতে পারবো না বলে মনে মনে ঠিক করে রেখেছিলাম। ‘

    ফারুকের ডায়েরী তাকে স্মরণ করিয়ে দিলো যে, ১৫ই আগস্ট রাতে বেঙ্গল ল্যান্সার্স এবং দ্বিতীয় ফিল্ড আর্টিলারীর পরবর্তী ট্রেনিং অনুষ্ঠিত হবে। দিনটি ছিলো শুক্রবার। দিনটি ফারুকের জন্যে অত্যন্ত তাৎপর্যমন্ডিত। কারণ তার জন্ম হয়েছিলো শুক্রবারে। তার জীবনের অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে ঐ দিনে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে যাবার দিনটি ছিলো শুক্রবার। ফরিদার সঙ্গে তার বিয়েও হয়েছিল শুক্রবারে। ধর্মীয় দিক থেকেও দিনটি ছিলো গুরুত্ববহ। কারণ, শুক্রবার মুসলমানদের জন্যে একটি পবিত্র দিন। ফারুক ভাবলো, শুক্রবার এবারও তার জন্যে শুভ হবে। কারণ তার ধারণা, সে ইসলাম আর দেশের স্বার্থে এ কাজ করতে যাচ্ছে। সে রশিদকে জানায়নি যে, কাজটি সে শুক্রবারেই করতে যাচ্ছে। শেষ মুহূর্তে যেন আর পিছিয়ে আসতে না হয়, সেটাই হয়তো সে নিশ্চিত করতে চাচ্ছিলো। ১লা সেপ্টেম্বর ‘বাকশাল’ পদ্ধতি কার্যকরী হবার কথা। ওরা দু’জনে সম্মিলিতভাবে স্থির করে নিয়েছিলো যে, আঘাতটা তার আগেই হানতে হবে। ঐ তারিখের আগেই রক্ষীবাহিনী আর সেনাবাহিনী ইউনিট নিয়ে জেলা গভর্ণরগণ ৬১টি জেলার যার যার অবস্থান সুদৃঢ় করে ফেলবে। ঐ অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা মোটেই সহজ হবে না বলে রশিদ মনে করলো।

    রশিদ ফারুকের পরিকল্পিত রণকৌশলের ব্যাপারে অবহিত ছিলো না। রাজনীতির প্রতি রশিদের যথেষ্ট ঘৃণাবোধ জন্মেছিলো। জেনারেল জিয়াকে দলে ভিড়াতে না পেরে ফারুক সম্ভাব্য অন্যান্য রাজনীতিকদের মধ্য থেকে শেখ মুজিবের উত্তরসুরি বাছাই করার দায়িত্ব দিলো রশিদের উপর। এ ব্যাপারে মেজর রশিদ তার মেধার পরিচয় দিয়েছিলো।

    রশিদ ভাল করেই জানতো যে, মুজিবের হত্যার পর একটা বিরাটাকারের স্বতঃস্ফূর্ত আক্রমণাত্মক বিরোধিতার সৃষ্টি হতে পারে। ঐ বিরোধিতা ঠেকানোর মত যথেষ্ট শক্তি তাদের ছিলো না। সুতরাং রশিদ কেবল একজন যোগ্যতর রাজনৈতিক নেতাকেই খুঁজছিলো না, সে মুজিবের জায়গায় এমন একজনকে বসানোর চিন্তা করছিলো যার উপস্থিতি বিরোধিতার ঝড়কেও অনেকাংশে স্তিমিত করতে সক্ষম হবে।

    রশিদ ধারণা করছিলো যে, চারটা ভিন্ন দিক থেকে বিপদের সম্ভাবনা রয়েছে। ঐ চারটা বিপত্তিই এড়িয়ে যেতে হবে। তার মতে, এর প্রথমটা ছিলো আওয়ামী লীগ; সারা দেশব্যাপী আওয়ামী লীগের ছাত্র ও তরুণ সমর্থকদের মধ্যে একটা উল্লেখযোগ্য অংশের যথেষ্ট পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র ছিলো। ওরা এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠতে পারে। দ্বিতীয়টি ছিলো রক্ষীবাহিনী। শেখ মুজিবের ২৫,০০০ আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত সৈনিক সম্বলিত ঝঞ্ঝাবাহিনী আসলেই মুজিবের প্রতি বিশ্বস্ত ছিলো। এই অংশটির মধ্যে হয় ভয়ংকর প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হবে না হয় তারা ১৯৭১-এর মতো ভারতীয় হস্তক্ষেপ কামনা করবে। তৃতীয় বিপত্তিটি যা তার মনে এসেছিলো তা হলো, মুজিব নিহত হবার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিশোধ পরায়ণ লোকেরা আওয়ামী লীগারদের নির্বিচারে হত্যা শুরু করতে পারে। সে ক্ষেত্রে একটা ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

    আমরা আর একটা শরণার্থী সমস্যা সৃষ্টি করতে চাইনি, রশিদ বলছিলো। ‘তাহলে ১৯৭১-এর মতো আরেকটি নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারতো। আর তাতে করে ভারত এ ভূখন্ডে ঢুকে পড়তে পারতো। ওটাতে সম্পূর্ণভাবে আমাদেরই পরাজয় হতো। সুতরাং রশিদ বলছিলো, ‘আমাদের চতুর্থ বিবেচ্য বিষয় ছিলো, ভারতীয় হস্তক্ষেপের সকল সম্ভাবনা ছিন্ন করে দেয়া।

    রশিদ চাচ্ছিলো এমন একজন লোককে যার উপস্থিতি জনগণকে কি অবস্থায় দাঁড় করিয়ে দেবে। দেখি এর পর কি ঘটে। ‘একবার যদি জনগণ পরবর্তী ঘটনাটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে, তাহলে আমাদের আর কোন ভয় নেই।’ রশিদ বললো।

    রশিদ সিদ্ধান্ত নিলো, সে আওয়ামী লীগ থেকেই শেখ মুজিবের উত্তরসুরি বাছাই করে নেবে। তার মতে, এতে করে মুজিববাদী দল আর রক্ষীবাহিনী বিদ্রোহী হয়ে উঠবে। রশিদের ভাষায়, ‘শেখ মুজিবের জায়গায় অন্য একজন আওয়ামী লীগারকে দেখে জনগণের মনে প্রতিশোধ নেয়ার সাহস ক্ষণিকের জন্যে হলেও দমে যাবে। কোন শরণার্থীরও সৃষ্টি হবে না। আর ভারতীয় হস্তক্ষেপেরও কোন সম্ভাবনা থাকবে না।’

    অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় আর একজন ঘৃণিত আওয়ামী লীগারকে শেখ মুজিবের জায়গায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত রশিদের জন্যে খুব একটা কঠিন কিছু ছিলো না। কারণ, সে মনে মনে স্থির করে রেখেছিলো যে, এটা একটা নিতান্তই সাময়িক পদক্ষেপ। রশিদের ভাষায়, ‘আমরা জানতাম, ওরা (মুজিবের সাথীবৃন্দ) কি জিনিস।’ ‘আমরা জানতাম, ওরা সব ধরনের ভন্ডামি, কুৎসিত কর্মকান্ড ইত্যাদি করবেই। তারা এগুলো থেকে কখনই দূরে থাকতে পারে না। কিন্তু এরই মধ্যে যদি আমরা আমাদের অবস্থা দৃঢ়তর করতে পারি, তাহলে যে-কোন মুহূর্তে আমরা তাদেরকে ছাঁটাই করে দিতে পারব।’ ফারুক রশিদকে পূর্ব থেকেই পরিষ্কার ভাষায় বলেছিলো, ‘মুজিব হত্যার পর যদি কোন আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া না যায় তাহলে আমি কাউকেই সহ্য করবো না।’

    বড় বড় বুলি আওড়ালেও দুই মেজরের পক্ষে শেখ মুজিবের বিকল্প খুঁজে বের করা সহজ ছিলো না। রাষ্ট্রনায়কত্ব আর সততার কথাতো রইলোই। তাছাড়া, শেখ মুজিব যা দিতে পারেননি, তা দিতে পারবে এমন লোক রশিদের নজরে পড়ছিলো না। তবু এরই মধ্য থেকে শেখ মুজিবের উত্তরসুরি হিসেবে শেষ পর্যন্ত খন্দকার মোশতাক আহমেদকেই সে বাছাই করেছিলো। রশিদের এই পছন্দের পেছনে কারণটি ছিলো এই যে, তাকে নিতান্তই একটা পুতুলের মতো যথেচ্ছা ব্যবহার করা যাবে এবং তাদের সুবিধেমত যে- কোন মুহূর্তে সরিয়ে দেয়াও সহজ হবে। দেখতে দেখতে চলে এলো ১৯৭৫-এর বসন্তকাল। বাংলাদেশে সবুজের সমারোহ আর বিচিত্র ফুলের বাহার নিয়ে আসে বসন্তকাল। দুঃখজনকভাবে ঐ বসন্তই যেন বেদনার বসন্তে পরিণত হলো। ফারুক আর রশিদের ষড়যন্ত্র অভ্যুত্থানে রূপ না নিয়ে, রূপ নিলো গুপ্ত হত্যায়। দেশকে বাঁচানোর নামে এ যেন এক বর্বর হত্যাকাণ্ডে পরিচালিত হলো। ওরা কি করেছিলো তা অনুধাবন করার জ্ঞান কিংবা পরিপক্বতা কোনটাই তাদের ছিলো না। দুই মেজর মিলে সেনাবাহিনীর গর্বিত নামকে মলিন কর্দমাক্ত করে দিলো এবং দেশের শিরা-উপশিরায় এমন এক ‘কালো বাহিনী’ প্রবিষ্ট করিয়ে দিলো যা ‘সোনার বাংলা’ গড়ার লক্ষ্যে শেখ মুজিবের চাইতে অনেক বেশী ধ্বংসাত্মক প্রমাণিত হলো। কিন্তু তারা তাদের জঘন্য উদ্দেশ্য নিয়ে এত বেশী নিবিষ্ট চিত্তে কাজ করেছিলো যে, তার ভয়ানক পরিণতির প্রতি তাদের দৃষ্টি নিপতিত হবার কোন অবকাশ ছিলো না।

    সবকিছুই ঠিক পরিকল্পনা মত চলছিলো। এমনি সময়ে রশিদ অপ্রত্যাশিতভাবে একটা আঘাত পেলো।

    ফারুকের বোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাবার পথে রশিদের বাসায় ঢুকলো। রশিদকে সে জানালো যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সে একটি গুঞ্জন শুনে এসেছে। দেশে নাকি খুব শিগগিরই একটা সামরিক অভ্যুত্থান হতে যাচ্ছে, অন্যান্যের মধ্যে যার নেতৃত্বে রয়েছে মেজর রশিদ। তার বুঝতে বাকী রইলো না যে, তরুণ অফিসারদের সঙ্গে অলক্ষ্যে আলাপের ফাঁকেই এ রকম তথ্য ফাঁস হয়ে পড়েছে। আর এ গুজব যদি সত্যিই ইউনিভার্সিটি পর্যন্ত পৌঁছে থাকে, তাহলে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মাধ্যমে এটা ইতিমধ্যে নিশ্চয়ই শেখ মুজিবের কানে পৌছে গেছে। শেখ মুজিবের গোয়েন্দা বিভাগ সবই খুঁটিয়ে বের করে ছাড়বে।

    রশিদকে ঢাকা ব্রিগেড কমান্ডারের অফিসে ডেকে পাঠানো হলে সে আরও বেশী ভয় পেয়ে যায়। ডেকে পাঠিয়েছিলো কর্ণেল শাফাত জামিল। ঢাকার ব্রিগেড কমান্ডার, শাফাত জামিলের সঙ্গে মাত্র অল্প কয়েকদিন আগেই সে দেশের রাজনৈতিক সমস্যাদি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেছিলো। কর্ণেল জামিল তাকে জানালো যে, তার নাম জড়িয়ে ঢাকায় একটি সম্ভাব্য অভুত্থানের কথা শোনা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে তার উপর একটা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা কর্ণেল তাকে জানায়।

    অবস্থাদৃষ্টে রশিদ দারুণভাবে বেপরোয়া হয়ে উঠে।

    স্মৃতিচারণ করে রশিদ বললো, ‘আমি শাফাত জামিলকে বললাম, যদি আমার উপরে কোন কিছু চাপানো হয়, তাহলে আপনাকেও আমি ছাড়ছি না। আমি আপনাকে আমাদের দলনেতা বলে জড়িয়ে দেবো। আমি বলবো যে, আমি যা কিছুই করেছি সবই আপনার নির্দেশানুযায়ী করেছি। আমার কাছে প্রমাণও রয়েছে। আমি বলবো কিভাবে আপনি আমাকে ঢাকায় দ্বিতীয় ফিল্ড আর্টিলারীতে বদলি করে পুনঃস্থাপনের ব্যবস্থা করেছেন। কারণ, আমারতো যশোরের গানারী স্কুলে বদলি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলো। আপনার কাজের সুবিধের জন্যেই আপনি আমাকে যশোরের বদলি বাতিল করিয়ে ঢাকায় থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন।

    রশিদ কি বুঝাতে চাচ্ছিলো কর্ণেল শাফাত জামিল তা বুঝতে মুহূর্ত দেরি করলো না। সুতরাং কর্ণেল জামিল রশিদের সঙ্গে এ নিয়ে আর বাড়াবাড়িতে গেলো না। কিন্তু রশিদ যেন বিপদ সঙ্কেত খুব কাছাকাছিই দেখতে পাচ্ছিলো। এতে করে রশিদও ফারুকের মতো মুজিব হত্যার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলো। সে আমাকে বলেছিলো, ‘আমাদের পিছিয়ে আসার আর কোন পথ খোলা ছিলো না।’ ‘হয় তার সমাধি রচিত হবে না হয় আমাদের।’ তার কিছুদিন পর, জুলাই মাস শেষ না হতেই, রশিদ খন্দকার মোশতাক আহমেদ-এর সাক্ষাৎপ্রার্থী হলো। মোশতাক তখন মুজিব কেবিনেটের বাণিজ্য মন্ত্রী এবং চেয়ারম্যান শেখ মুজিবের পর বাকশালের তিন নম্বর সদস্য।

    এ ছাড়া, খন্দকার মোশতাক আহমেদ-এর আর একটা পরিচয় ছিলো। তিনি হচ্ছেন দাউদকান্দির নামজাদা পীর সাহেব আলহাজ্ব হযরত খন্দকার কবির উদ্দিন আহমেদ-এর পুত্র এবং আওয়ামী লীগের ভেতরে সবচেয়ে কম বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব। এবং ঢাকার হাইকোর্ট ও পাকিস্তান সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট হিসেবে তাঁর যথেষ্ট সুখ্যাতিও ছিলো।

    ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় মোশতাক আওয়ামী লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তাজউদ্দিন আহমেদ-এর নেতৃত্বে গঠিত মুজিবনগরের প্রবাস সরকারের তিনি ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী। ১৯৭১-এর শরৎকালে ডঃ হেনরী কিসিঞ্জার আওয়ামী লীগে ভাঙ্গন ধরানোর চাল খেলে পাকিস্তানের ভাঙ্গন রোধ করতে চেষ্টা চালিয়েছিলো। সেই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে মোশতাক জড়িত ছিলেন বলে কলকাতা থেকে ঢাকায় ফিরে এসে পররাষ্ট্র দফতরের গদি তিনি আর পেলেন না।

    খন্দকার মোশতাককে দেয়া হলো বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি সম্পদ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের ভার। ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিব প্রেসিডেন্ট শাসিত সরকারের প্রবর্তন করলে, মোশতাক পেলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

    বাণিজ্য মন্ত্রীর সঙ্গে রশিদের সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারিত হলো ২রা আগস্ট, সন্ধ্যে সাতটায়। সবার দৃষ্টি এড়ানোর জন্যে বেসামরিক পোশাকে রশিদ খন্দকার মোশতাক আহমেদের পুরনো ঢাকাস্থ আগা মসিহ লেনের বাড়ীটিতে গিয়ে হাজির হয়। পরে যাতে কেউ জিজ্ঞেস করলে কিংবা জানতে চাইলে বিপদে পড়তে না হয়, সেজন্যে রশিদ স্কুটার কেনার জন্য পারমিটের একটি দরখাস্তও সঙ্গে নিয়ে যায়। একজন রাজনীতিকের বাড়ীতে একজন সৈনিকের উপস্থিতি নিয়ে কথা উঠলে, ঐ দরখাস্তটা দেখিয়ে সন্দেহ দূর করার জন্যেই সে তা করেছিলো। মোশতাক তাকে দোতলার একটি ঘরে স্বাগত জানালেন। কিছুক্ষণ ধরে টুকিটাকি বিষয়ে আলাপ-আলোচনার পর রশিদ বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে আলাপ শুরু করে। তারা সেদিন প্রায় দু’ঘন্টা ধরে আলাপ করেছিলেন।

    রশিদের ভাষায়, আমরা কিছুক্ষণ রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে কথাবার্তা বলি। পরোক্ষভাবে দেখছিলাম এতে তিনি কি রকম বোধ করেন। পরে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আওয়ামী লীগের প্রবীণতম সদস্য এবং শেখ মুজিবের একজন অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে দেশ কোন উন্নতি প্রত্যাশা করতে পারে বলে তিনি মনে করেন কিনা। তিনি পরিষ্কার ভাষায় জবার দিয়েছিলেন, ‘না’, জাতি তার নেতৃত্বে কোন উন্নতি প্রত্যাশা করতে পারে না।

    ‘তারপর আমি বলেছিলাম, এটাই যদি সত্যি হবে, তাহলে আপনারা তাকে ছেড়ে যাচ্ছেন না কেন?’ তিনি উত্তর করেছিলেন, ‘এটাও আসলে অতটা সহজ নয়। তারা এতই কাপুরুষ ছিলো যে তাঁর সব অপকর্মই তারা মেনে নিয়েছিলো।’ রশিদ আরো বললো, ‘আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম’, ‘দেশের এ পরিস্থিতিতে কেউ যদি শেখ মুজিবকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে, তাহলে তা কি ঠিক হবে?’ ‘তিনি বলেছিলেন, দেশের স্বার্থে সম্ভবতঃ এটি একটি ভাল কাজ হবে। কিন্তু কাজটা খুবই কঠিন।

    এটাই আসলে মোশতাকের হুবহু মুখের কথা ছিল কিনা সঠিক করে বলতে বললাম।

    সে উত্তর দিলোঃ হ্যাঁ, তিনি বলেছিলেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত কঠিন কাজ। তবে কেউ যদি তা করতে পারে, তাহলে সম্ভবতঃ সেটি হবে একটি মহৎকর্ম।

    রশিদকে আমি তখন প্রশ্ন করলামঃ তাহলে তিনি রাজী হয়েছিলেন? রশিদের উত্তরঃ হ্যাঁ, হ্যাঁ, তিনি রাজী হয়েছিলেন। এমনকি মোশতাক আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যদি তাকে সরিয়ে দেয়া হয়, তাহলে তাঁর পরিবর্তে কে আসবে? বিকল্পতো থাকা উচিত।’

    রশিদ মোশতাকের নিকট ব্যাখ্যা করছিলো যে, ‘যদি কেউ শেখ মুজিবকে সরিয়ে দেয়ার কথা চিন্তা করে থাকে, তাহলে তারা নিশ্চয়ই মুজিবের বিকল্পও ঠিক করে রেখেছে বিশেষ করে, এমন একজনকে যে রাজনৈতিক দিক থেকে অন্ততঃ তাঁর সমকক্ষ হবে।’

    খন্দকার মোশতাক আহমেদ রশিদের আভাসে ইঙ্গিতে কথা বুঝতে পেরেছিলো কিনা জিজ্ঞেস করলে সে বললোঃ ‘আমি যখন তাঁর সঙ্গে এ নিয়ে আলাপ করতে গেছি, তখন অবশ্যই তিনি আমার ঐ সব ইঙ্গিতের কথায় আমি কি বুঝাতে চাচ্ছিলাম, তা তিনি হৃদয়ঙ্গম করেছিলেন। না বুঝার কোন কারণই ছিলো না।’

    খন্দকার মোশতাক আহমেদের মাঝে শেখ মুজিবের বিকল্প খুঁজে পেয়ে রশিদ মনে মনে সান্ত্বনা পেলো। রশিদ ফারুককে এ খবরটি দিলে, ফারুক বললো, ‘আমার ধারণায় তুমি ঠিকই আছো। তবে এটা পুরোপুরি তোমার ব্যাপার।’ ফারুক এই ভেবে খুশী হয়েছিলো যে, শেষ পর্যন্ত তার পরিকল্পনা একটা রূপ নিতে যাচ্ছে। আমি পৃথক পৃথকভাবে ফারুক এবং রশিদের অনেকগুলো সাক্ষাৎকার টেপে রেকর্ড করেছি। ঐ সব সাক্ষাৎকারে তারা শপথ করে বলেছে যে, শেখ মুজিবের হত্যার পূর্বে এভাবেই খন্দকার মোশতাককে অবগত করানো হয় এবং তিনি মৌন সম্মতি জ্ঞাপন করেন।

    খন্দকার মোশতাককে যখন আমি জিজ্ঞেস করি, তখন তিনি তা অস্বীকার করেন। আমি কিন্তু এই দুই মেজরকে অবিশ্বাস করার কোন কারণ খুঁজে পাইনি।

    তারা পরিষ্কার করে বলেছে যে, মোশতাককে তারা আগস্টের দুই তারিখে মুজিব হত্যার পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করেছিলো। ঘটনাটি মুজিব হত্যার মাত্র তেরো দিন আগে এর ফলে খন্দকার মোশতাক তাঁর সহযোগী তাহেরউদ্দীন ঠাকুর প্রমুখ সহকর্মীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার সময় পান। শেখ মুজিবকে হত্যার পর কে কোন পদে আসীন হবে সে নিয়েও তারা মতামত ব্যক্ত করেন। তারপরে, তাদের দলেরই কোন একজন এই গোপন পরিকল্পনার কিছু তথ্য আমেরিকান দূতাবাসের একজন যোগাযোগ রক্ষাকারীর কাছে ফাঁস করে দেয়। ১৫ই আগস্ট বিস্ময়ের সঙ্গে ফারুক লক্ষ্য করে যে, যখন তার লোকেরা মুজিবের বাড়ী ও সেরনিয়াবাতের বাড়ীতে হত্যাকান্ড চালাচ্ছিলো তখন আমেরিকান দূতাবাসের কয়েকটি গাড়ী শহরের চতুর্দিকে ছুটাছুটি করছিলো। রশিদ খন্দকার মোশতাককে নিয়ে রেড়িও স্টেশনে পৌছার অনেক আগেই তাহেরউদ্দীন ঠাকুর সেখানে উপস্থিত হয়েছিলো। মোশতাকের বেতার ভাষণটি তাহেরউদ্দীন ঠাকুরেরই লেখা। ভাষণটি যেভাবে লেখা হয়েছিলো তাতে পরিষ্কার বুঝা যায় যে, এটা বেশ সময় ধরে যথেষ্ট চিন্তা- ভাবনা করে লেখা। শেখ মুজিবের হত্যার পর তাহেরউদ্দীন ঠাকুর পশ্চিমা এক সাংবাদিকের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছিলো যে, মুজিব হত্যার পরিকল্পনাটি তার বাড়ীতেই মাত্র দুই রাত আগেই চূড়ান্ত করা হয়েছিলো।

    ফারুক আর রশিদ কিন্তু শপথ করে বলেছে যে, তারা ওই ধরনের কোন বৈঠকে উপস্থিত ছিলো না। এমনকি মুজিব হত্যার আগে তাহেরউদ্দীন ঠাকুরের সঙ্গে তারা কোন রকম যোগাযোগই করেনি। তারা তাহেরউদ্দীন ঠাকুরকে এ ব্যাপারে চ্যালেঞ্জ করতেও প্রস্তুত বলে যে সময় জানিয়েছিলো। সুতরাং ঠাকুর যদি সত্য কথাও বলে থাকেন, তাহলে ১৩ই আগস্ট তার বাড়ীতে যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছিলো, সেটি ছিলো একান্তই মোশতাক আহমেদের অনুসারীদের একটি ঘরোয়া বৈঠক। হয়তো এটি আয়োজন করা হয়েছিলো। দুই মেজরের হত্যাকান্ড পরিচালনার ব্যাপারে তাদের সমর্থন চূড়ান্ত করার জন্যেই। শেখ মুজিবের হত্যাকান্ডের বিষয়টি আগে থেকেই খন্দকার মোশতাক জানতেন বলেই এই ঘটনাবলী সাক্ষ্য দিচ্ছে।

    অবশ্য এতে করে এমন কিছু প্রমাণিত হচ্ছে না যে, খন্দকার মোশতাক ও তাঁর অনুগামীরা আলাদাভাবে শেখ মুজিবকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেছিলো। যদিও আরো অনেকেই শেখ মুজিককে হত্যার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলো। এদের মধ্যে মাওবাদী বামপন্থী দল ‘সর্বহারা পার্টি’ এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল উল্লেখযোগ্য। কিন্তু দুই মেজরের কান্ডকীর্তি অন্যান্যদের সকল জল্পনা-কল্পনা ছাড়িয়ে গেলো।

    গোয়েন্দা বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমাকে জানায় যে, ১৯৭৫ সালের আগস্টের প্রারম্ভে তার বিভাগ শেখ মুজিবকে উৎখাতের কমপক্ষে পাঁচটি ‘সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের’ তদন্ত চালাচ্ছিলো। সেনাবাহিনীর তরুণ অফিসারদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ছিলো ঐ হিসেবের অতিরিক্ত। একজন সংশ্লিষ্ট রাজনীতিবিদ সে সময়ে তার স্ত্রীর শাড়ি কেনার অজুহাতে কলকাতা যান। কিন্তু তিনি দমদম বিমান বন্দরের বাইরে যাননি। ঐ সময়ে তিনি একজন পশ্চিমা কূটনীতিকের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। আরেকটি রিপোর্ট দেন শেখ মনি। তিনি জানান যে, খ্যাতনামা রাজনীতিবিদ একটি ঘরোয়া নৈশভোজে কিছু অবাঞ্ছিত ব্যক্তি এবং জেনারেল ও ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদার কমপক্ষে তিনজন ঊর্ধ্বতন সামরিক অফিসারকে আপ্যায়ণ করে।

    ‘বাংলাদেশ, দি আফিনিশ্ড রেভ্যুলিউশন’ গ্রন্থের রচয়িতা লরেন্স লিফসুল্জ ১৯৭৯ সালের ১৫ই আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের চতুর্থ মৃত্যু বার্ষিকীতে লন্ডনের ‘গার্ডিয়ান’ পত্রিকায় এক চমৎকার প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনটি লেখা হয়েছিলো শেখ মুজিবের গুপ্তহত্যার আড়ালে লুক্কায়িত নেপথ্য কাহিনী নিয়ে।

    তার ভাষায় :

    ‘বাঙ্গালী ও বিদেশী কূটনীতিকদের একটি ওয়াকিফহাল মহল দাবী করে যে, মোশতাক এবং তাঁর রাজনৈতিক সঙ্গীরা এক বছরেরও বেশী সময় ধরে মুজিব হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ঢাকাস্থ আমেরিকান দূতাবাসের জনৈক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আর ওয়াকিফহাল বাংলাদেশীয় সূত্র এ ব্যাপারে একমত যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই মুজিব হত্যার চক্রান্ত সম্বন্ধে অবগত ছিলো। মুজিবের মৃত্যুর কম করে হলেও ছয়মাস আগে থেকেই ষড়যন্ত্রে জড়িত ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা আলোচনা বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছিলো।

    মার্কিন দূতাবাসের একজন উচ্চপদস্থ কূটনীতিকের মতে শেখ মুজিবের উৎখাতের ব্যাপারে আগ্রহী ব্যক্তিবর্গ (বাংলাদেশী) মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছিলো। ১৯৭৪ সালের নভেম্বর থেকে শুরু করে ১৯৭৫ সালের জানুয়ারী মাস পর্যন্ত সংশিষ্ট লোকদের সঙ্গে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের বহু বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঐসব বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল—যদি বাংলাদেশে আসলেই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটা রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ঘটে যায়, ‘তাহলে এতে মার্কিন সরকারের প্রতিক্রিয়া কি হবে তা অনুধাবন করা।’ দুর্ভাগ্যক্রমে লিল্জ ঐসব বাংলাদেশী যারা মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগসাজস রক্ষা করেছিলো তাদের পরিচয় দেননি বা দিতে পারেননি। প্রতিবেদন থেকে অনুমেয় যে, ঐ সকল লোকজন বেসামরিক ব্যক্তি ছিলো। দুই মেজর ঐ ঘটনার সঙ্গে সংযুক্ত ছিলো না।

    ফারুক আর রশিদ আমার সঙ্গে শপথ করে বলেছে যে, তারা কোন দেশী বা বিদেশী মিশনের সঙ্গে কোন রকম যোগাযোগ স্থাপন করেনি। কিন্তু লিল্জ বলেন যে, ‘একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা তাকে ১৯৭৫ সালের জানুয়ারী মাসে জানিয়েছিলো যে, তার দূতাবাস থেকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, তারা এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে কোনভাবেই জড়িয়ে পড়বে না।’ লিল্জ তাঁর প্রতিবেদনে বলেন, ‘যদিও মার্কিন দূতাবাসের উচ্চ পর্যায়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, তারা কোনভাবেই মুজিব বিরোধীদের সঙ্গে কোন রকম যোগাযোগ রক্ষা করবে না।’ কিন্তু পরবর্তীতে, মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যেই এ নিয়ে বিতর্কের সূচনা হয়। দূতাবাসের যারা আগের বৈঠকগুলো সম্বন্ধে জ্ঞাত ছিলো, তারা ১৯৭৫ সালের গোড়ার দিকের ঘটনাবলী ছাড়া আর কিছুই তাদের ব্যক্তিগতভাবে জানা ছিলো না বলে জানায়। অন্যান্যরা অভিযোগ করে যে, ‘যারা নিষ্কলুষ থাকতে চায় এমন কূটনীতিবিদ পর্যায়ে যোগাযোগ ছিন্ন হলেও, পরে মার্কিন দূতাবাসের সিআইএ-এর প্রধান, ফিলিপ চেরী এবং অন্যান্য এজেন্টদের সঙ্গে চক্রান্তকারীদের যোগাযোগ সঠিকভাবেই কাজ করছিলো।’ সাক্ষাৎকারে অবশ্য চেরী তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ পরিষ্কারভাবে অস্বীকার করে। ‘বাংলাদেশীরা নিজেরাই তা করছিলো।’ চেরী বলে, ‘এটা ধারণা করা বোকামি যে, কোন বিদেশী সরকার জড়িত থাকলেই কেবল একটা অভ্যুত্থান ঘটতে পারে। প্রায় সকল অভ্যুত্থানের পেছনেই নিজের লোকদের সক্রিয়তা কাজ করে থাকে।’ মোশতাকের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যোগসাজস বা আঁতাত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হলে, চেরী বলেন, ‘কিছু রাজনীতিবিদ এমনিতেই খুব বেশী বিদেশী দূতাবাসে যাওয়া-আসা করে। সম্ভবতঃ সেখানে তাদের যোগাযোগের ব্যাপারও থাকতে পারে। তাই বলে, কোন অভ্যুত্থানের ব্যাপারে কোন দূতাবাস জড়িত হবে এমন মনে করা ঠিক নয়।’ লিল্জ বলেন, ‘১৯৭৫ সালের এপ্রিলে মোশতাক আহমেদ ও তার রাজনৈতিক সঙ্গীরা গোপনে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলো। তাদের উদ্দেশ্য ছিলো, সামরিক বাহিনীকে তাদের পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত করা। সামরিক বাহিনীর কিছু সিনিয়র অফিসার দিয়ে তারা অভ্যুত্থানটি ঘটাতে চেয়েছিলো।’

    তিনি আরও বলেন, ঘটনাবলী সম্পর্কে সম্যক অবগত বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সূত্র থেকে বলা হয় যে, অভ্যুত্থান ঘটানোর ব্যাপারে সেনাবাহিনীর ডেপুটি চীফ, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের নিকট নেতৃত্বের প্রস্তাব দেয়া হলে, তিনি প্রস্তাবিত অভ্যুত্থান পরিকল্পনায় আগ্রহ প্রকাশ করলেও তিনি সামরিক পদক্ষেপ-এর নেতৃত্ব দিতে অনীহা প্রকাশ করেন।

    উপসংহারে লিল্জ বলেন, ‘খন্দকার মোশতাকের গ্রুপ অভ্যুত্থানের জন্যে বিশ্বাসযোগ্য সিনিয়র আর্মি অফিসার না পাওয়ায় জুনিয়র অফিসারদের পরিকল্পিত চক্রান্তকে এগিয়ে নিয়ে যায়। রশিদ স্বাভাবিকভাবে খুব ধীর গতিতে কাজ করে। কিন্তু যখন সে আসছে শুক্রবারেই অভ্যুত্থান ঘটানোর চূড়ান্ত ব্যবস্থা ফারুক সম্পন্ন করেছে বলে জানতে পারে, তখন সে তার দিকের সকল কাজ শেষ করার জন্যে সচেষ্ট হয়ে উঠে। ১৯৭৫ সালের ১৩ই আগস্ট। বেলা ২টা ৩০মিনিট। আগা মসিহ লেনস্থ খন্দকার মোশতাকের বাড়ীতে রশিদ আবারও উপস্থিত হলো। এই সময়ে কোন ‘এ্যাপয়েন্টমেন্ট’ করা হয়নি। ঐদিন তাদের মধ্যে মাত্র দশ মিনিট আলাপ হয়। রশিদের মতে, ঐ সপ্তাহে বা তৎপরবর্তী কিছুদিনের মধ্যে খন্দকার মোশতাক আহমেদের বাইরে যাবার কোন পরিকল্পনা ছিলো কিনা তা জানাই ছিলো ঐ সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য। রশিদের কথায়ঃ ‘আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কিছুদিনের মধ্যে দেশের বাইরে যাবার তাঁর কোন পরিকল্পনা আছে কিনা 1 তিনি বলেছিলেন যে, তিনি কোথাও যাবেন না। তিনি ঢাকায় থাকবেন।

    আমি জিজ্ঞেস করলামঃ ‘তিনি কি এর কারণ জিজ্ঞেস করেছিলেন?’ রশিদ হেসে বললোঃ ‘না’, ‘তিনি অত্যন্ত চালাক লোক। তিনি নিশ্চিত বুঝে ফেলেছিলেন—।’

    মোশতাক রাজী :

    খন্দকার মোশতাককে পাওয়া যাবে বলে আশান্বিত হয়ে রশিদ তাদের চক্রান্তে সাহায্যকারী অফিসারদের খোঁজে বের হয়। ইতিমধ্যেই রশিদ বুঝে নিয়েছিলো কর্মরত অফিসারদের নিয়ে কোন ভরসা নেই। কাজেই অত্যন্ত সুচতুরভাবে রশিদ এমন কিছু অবসরপ্রাপ্ত আর্মি অফিসারকে খুঁজতে লাগলো, শেখ মুজিবের প্রতি যাদের আক্রোশ বিদ্যমান। ঐ ধরনের লোক চক্রান্তের জন্যে যথেষ্ট উপকারে আসবে বলে সে মনে করলো। ঐ মুহূর্তে প্রাক্তন মেজর শরফুল হক ডালিমের নাম তার মনে পড়ে গেলো। গাজী গোলাম মোস্তফার সঙ্গে এক অপ্রীতিকর ঘটনার জের হিসেবে মেজর ডালিমকে অবসর গ্রহণে বাধ্য করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছিলো আঠারো মাস আগে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে। ডালিমও রশিদের মতো আর্টিলারী অফিসার ছিলো। সুতরাং রশিদ তাকে খুব ভালভাবেই চিনতো। সে ডালিমকে তার সঙ্গে গল্পের আমন্ত্রণ জানিয়ে টেলিফোন করলো।

    সকল ১০টায় ডালিম রশিদের ক্যান্টনমেন্টের বাসায় এসে পৌঁছায়। ঐ দিনটা ছিলো আগস্টের তেরো তারিখ। রশিদ অল্প কথায় ডালিমকে তাদের চক্রান্তের কথা জানায়। সে অবশ্য, তাকে সময়, তারিখ এবং রণকৌশলের পরিকল্পনা সম্বন্ধে কিছুই জানালো না। রশিদ কেবল জানতে চাইলো, তাদের সঙ্গে যোগ দিতে তার কোন আপত্তি আছে কিনা। ডালিম রশিদের প্রস্তাবে সম্মত হলো। কিন্তু একই সঙ্গে সে তার এক বন্ধুর সঙ্গে আলাপ করে নিতে চাইলো। ডালিমের এই বন্ধুটি তৎকালীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, জেনারেল ওসমানীর এডিসি, প্রাক্তন মেজর নূর। সেও ১৯৭৪ সালে ডালিম ও অন্যান্য কয়েকজন অফিসারের সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত হয়েছিলো।

    ঐ দিবাগত রাত ১টার সময় ডালিম নূরকে নিয়ে রশিদের বাসায় আসে। তাদের মধ্যে পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক নিয়ে দীর্ঘ এবং বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। রশিদ তাদেরকে জানায় যে, শেখ মুজিবের স্থলে আপাততঃ খন্দকার মোশতাককে বসানোর ব্যবস্থা করলে পরিকল্পনার সাফল্যের দিক থেকে সুবিধে হবে। নূর তাদের সঙ্গে থাকতে রাজী হয়ে গেলো। তবে নূর বিশ্বাস করতে পারছিলো না যে, খন্দকার মোশতাক মুজিব হত্যার ষড়যন্ত্রে আসলেই জড়িত থাকতে ইচ্ছুক। তার ভেতরে বিশ্বাস জন্মানোর জন্যে রশিদ প্রস্তাব করে যে, তারা ১৪ই আগস্ট (ঐ রাত প্রভাত হলেই) বিকেল ৫টার সময় আণবিক শক্তি গবেষণা কেন্দ্রের বাহিরে মিলিত হবে। সেখান থেকে রশিদ তাকে নিয়ে খন্দকার মোশতাক আহমেদের বাড়ীতে যাবে।

    বিকেল বেলায় প্রস্তাবিত স্থানে এসে বিস্ময়ের সঙ্গে রশিদ দেখতে পায় যে, নূরের সঙ্গে এমন একজন অফিসার রয়েছে যার সঙ্গে এর আগে তার কোন যোগাযোগ হয়নি। সে হলো প্রাক্তন মেজর শাহরিয়ার। রশিদ ঐ সঙ্গীকে নিয়ে প্রথমে ইতস্ততঃ করলেও পরে স্থির করলো যে, এ পর্যায়ে তার জন্যে দ্বিতীয় কোন পন্থা খোলা নেই। সুতরাং নূর রশিদকে শাহরিয়ারের উপর বিশ্বাস করা যায় বলে নিশ্চয়তা দিলে, তারা তিনজনে মিলে খন্দকার মোশতাকের বাড়ীর দিকে রওয়ানা হয়ে যায়।

    মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পূর্ব নির্ধারিত কোন এ্যাপয়েন্টমেন্ট না থাকলেও খন্দকার মোশতাক তাদেরকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। এর পরই মোশতাক উপস্থিত অন্যান্যদের সঙ্গেও পরিচিত হন। রশিদ বর্ণনা করে যে, তারা কেবল তাকে সাদর সম্ভাষণ জানাতে এখানে এসেছে। তারপর সামান্য কিছুক্ষণ আলাপচারিতা আর রসিকতা শেষে তারা বেরিয়ে চলে আসে। এতে করে নূর আর শাহরিয়ার পরিষ্কার বুঝে নেয় যে, খন্দকার মোশতাকের সঙ্গে রশিদ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। রশিদ জানায় যে, ‘তারা আমাকে বলেছিলো’, ‘যে কোন সময়, যে কোন ধরনের সহযোগিতা করার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।’

    ফারুকের ইউনিট নৈশ মহড়ার জন্যে ক্যান্টনমেন্টে দাঁড়িয়ে নিউ এয়ারপোর্টে প্রস্তুত থাকতে। রশিদঃ ডালিম, নূর আর শাহরিয়ারকে ঐ জায়গায় তার সঙ্গে মিলিত হতে বলে দেয়। তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্যে আসল কথাটিই সে বলে দেয় যে, ওখানে গিয়েই তারা পুরোপুরি সামরিক প্রস্তুতি দেখতে পাবে এবং সেখানে কৌশলগত পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক নিয়ে অধিকতর ব্যাপক আলোচনা করা যাবে। এমনকি ঐ শেষ পর্যায়ে এসেও রশিদ তার সহযোগী ষড়যন্ত্রকারীদের কাছে পর্যন্ত পুরো সত্যটি প্রকাশে বিশ্বাস করতে পারেনি, যা সে নিজে মাত্র ৪৮ ঘন্টা আগে ফারুকের কাছ থেকে জানতে পেরেছিলো। শেখ মুজিবকে পরদিন সকালেই চিরতরে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দেয়া হবে।

    .

    ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম
    এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’, জয় বাংলা।
    —শেখ মুজিবুর রহমান

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদ্য ওয়ার্ড ইয মার্ডার – অ্যান্টনি হরোউইটয
    Next Article দ্য সাইলেন্ট পেশেন্ট – অ্যালেক্স মাইকেলিডিস

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }