Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বাংলাদেশ : এ লিগ্যাসি অব ব্লাড (রক্তের ঋণ) – অ্যান্থনী ম্যাসকারেনহাস

    লেখক এক পাতা গল্প289 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নবম অধ্যায় – পাল্টা অভ্যুত্থান ও জেলহত্যা

    ৯. পাল্টা অভ্যুত্থান ও জেলহত্যা

    ঐ বিশৃঙ্খল অবস্থার মাঝে টেলিফোনটা বেজে উঠলো। টেলিফোন উঠিয়ে আমি একজন লোকের কণ্ঠ শুনলাম : লোকটি বলছে, ‘আমি ডিআইজি / প্রিজন কথা বলছি। আমি মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলাপ করতে চাই।’

    -মেজর আবদুর রশিদ

    .

    প্রেসিডেন্টের সরকারী বাসভবন অর্থাৎ বঙ্গভবন-এর নির্মাণ শৈলী অত্যন্ত চমৎকার হলেও এতে কোন সামরিক অবরোধ ঠেকানোর ব্যবস্থা রেখে নির্মাণ পরিকল্পনা করা হয়নি। ঔপনিবেশিক কায়দায় নির্মিত এই চমৎকার দালানটির বিরাট বিরাট রাস্তা আর রঙ্গীন রকমারী ফুলের সমারোহ সেকালের বিলাসিতা আর মনমোহিনী পরিবেশের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রতিদিনের ক্লেশ আর গ্লানি থেকে যেন অনেক দূরে তার অবস্থান। এ যেন এক ভিন্ন জগত। কেবলই জাঁকজমক চতুর্দিকে। কোন তড়িঘড়ির ব্যাপার নেই। সর্বত্রই যেন শৃঙ্খলার ছাপ। অথচ ২রা নভেম্বরের (১৯৭৫) ঐ ভয়ঙ্কর রাত্রিতে বঙ্গভবনকে একটি মিলিটারী ক্যাম্প-এর মত দেখাচ্ছিলো। মনে হচ্ছিলো কোন এক আক্রমণকারীকে প্রতিহত করার বিপুল সমরসজ্জা চলছে সেখানে।

    ট্যাংকের ইঞ্জিন চালু করার গর্জনে শত শত কাক আকাশে উড়ে শহরটিকে গরম করে তুলেছিলো। মুহূর্তের মধ্যেই বাকী ট্যাংকগুলো চালু হয়ে যাওয়ায় আর অন্য কোন কিছুর শব্দ কানে আসছিলো না। ট্যাংকগুলোর ৮টা ছিলো বঙ্গভবনে, ৮টা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আর ১২টা ছিলো ক্যান্টনমেন্টের ল্যান্সার লাইনে।

    ফারুক তখন রশিদের পাশের কামরায় ঘুমুচ্ছে। রশিদ তাকে জাগিয়ে ফার্স্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের পদাতিক গার্ড বাহিনী পালিয়ে যাবার খবরটি জানিয়ে দু’জনে তৎক্ষণাৎ খন্দকার মোশতাকের সঙ্গে বৈঠকে বসে পড়ে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, ট্যাংকগুলোকে চালু করে আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়। মেশিনগান আর স্টেনগান নিয়ে সৈন্যরা লম্বা বাউন্ডারী দেয়ালের নির্দিষ্ট স্থানে পজিশন নিয়ে প্রস্তুত হয়ে থাকে।

    সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে ট্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিজ হাতে নেয়ার আগে, ফারুক একটি মাত্র টেলিফোন করে। টেলিফোনটি করেছিলো তার এক বন্ধু আর্মি অফিসারকে। সে তখন সরকারের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার দায়িত্বে নিয়োজিত। বহিঃর্বিশ্বের সঙ্গে টেলিযোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার জন্যে ফারুক তাকে অনুরোধ জানিয়েছিলো। ঐ অফিসার তার কথা রেখেছিলো কিনা তা জানা যায়নি। তবে, রশিদ আর মোশতাক তাঁদের বিপক্ষে কাজ করার জন্যে ঐ সংঙ্কটময় মুহূর্তে প্রচুর অফিসারকেই লক্ষ্য করেছিলো সেদিন।

    রশিদ প্রেসিডেন্টের অফিসে খন্দকার মোশতাকের সঙ্গে সে বিভিন্ন স্থানে সাহায্যের জন্যে টেলিফোন করতে করতে অস্থির হয়ে উঠেছিলো। প্রথমেই সে টেলিফোন করে সেনাবাহিনীর স্টাফ প্রধান, জেনারেল জিয়াকে। সে জেনারেল জিয়াকে ঘুম থেকে জাগিয়ে ঘটনার বর্ণনা করে এবং তার সাহায্য কামনা করে। জিয়া ব্যাপারটি ‘ভেবে দেখবেন’ বলে জানান। তারপর সেই ‘ভেবে দেখা’ আর কখনই হয়ে উঠেনি।

    চীফ অব জেনারেল স্টাফ, ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফকে রশিদ ফোন করে জিজ্ঞেস করে : ‘এ সব কি হচ্ছে, স্যার?’ ব্রিগেডিয়ার বলে, ‘কি হচ্ছে, তুমিই বলো।’ রশিদ সংক্ষেপে বর্ণনা শেষে প্রশ্ন তুলে, ‘আপনি এতে কি মনে করেন?’ ‘এখানে মনে করার কি আছে?’ গর্জে উঠে খালেদ। ‘পূর্বে যা প্রত্যাশা করা হয়েছিলো, এখন কেবল তাই শুরু হয়েছে। আমি এখনই বেরিয়ে পড়ছি। তুমি সেখানে অপেক্ষা করো। আমি পরে তোমাকে ডেকে নেবো।

    রশিদের তৃতীয় ফোন বাংলাদেশ রাইফেলস্-এর সদর দফতরে। কিনতু সেখানেও কোন ভরসা পেলো না। তারপর ডায়াল করে এয়ার ভাইস মার্শাল তোয়াবকে। তোয়াবকে রশিদের উদ্যোগেই বিমান বাহিনীর প্রধান নিয়োগ করা হয়। তার বড় প্রত্যাশা ছিলো তোয়াবের উপর। অথচ সেখান থেকেও তাকে হতাশ হয়ে ফিরতে হয়।

    রশিদ উপায়ান্তর না দেখে, জেনারেল ওসমানীকে তাঁর ক্যান্টনমেন্টের বাসায় ফোন করে। ঘটনাটা একটু বর্ণনা করে ওসমানীকে বঙ্গভবনে আসার অনুরোধ জানায় রশিদ। কিন্তু তখন তার বাসায় কোন গাড়ী না থাকায় সঙ্গে সঙ্গে তিনি বঙ্গভবনে আসতে পারলেন না। কিন্তু বৃদ্ধ জেনারেল প্রেসিডেণ্টকে সাহায্য করার সম্ভাব্য সকল পন্থাই ঘুরে দেখেন। তিনি প্রথমেই বাংলাদেশ রাইফেলকে দুই ব্যাটালিয়ান সৈন্য প্রেসিডেন্টকে পাহারা দেয়ার জনে পাঠাতে নির্দেশ দেন। কিন্তু যেভাবে হোক, কোন বিডিআর বঙ্গভবনে পৌঁছাতে পারেনি। তারপর তিনি টেলিফোন করেন জেনারেল জিয়াকে। সেখানেও কোন আশাব্যঞ্জক সড় পেলেন না।

    অবশেষে বহু খুঁজে তিনি চীফ অব জেনারেল স্টাফ, ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফকে তার ব্রিগেড লাইনে ধরতে পারলেন। ব্রিগেডিয়ার-এর সঙ্গে বৃদ্ধ জেনারেলের যে সংপ্তি ও কড়া কথা বিনিময় হয়, তাতে তিনি ধরে নিয়েছেন যে, ইতিমধ্যেই খালেদ অভিযানের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে।

    ওসমানী : ‘খালেদ এ সব কি হচ্ছে?’

    খালেদ : ট্যাংকগুলো হুমকির ভাব-ভঙ্গিমা গ্রহণ করছে কেন?

    ওসমানী : কিসের হুমকির ভাব-ভঙ্গিমা? তুমি তোমার পদাতিক বাহিনী সরিয়ে নিয়ে আস। আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি, ট্যাংকগুলো তোমাকে কিছুই করবে না।

    খালেদ : ঘাবড়াবেন না। আমি নিজেই সে ব্যবস্থা করে নিচ্ছি।

    খালেদ মোশাররফ আর শাফাত জামিল বঙ্গভবন থেকে মেজরদেরেকে সরানোর জন্যে বহুদিন থেকে চেষ্টা করছিলো। শেখ মুজিবের হত্যার দিন খালেদ মোশাররফ নিজেই শাফাত জামিলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এবং বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে প্রস্তুতি নিতে বলেছিলো। মধ্যরাতে আঘাত হানার জন্যে সৈন্য-সামন্ত প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হয়েছিলো। কিন্তু ঐ ‘এ্যাকশন’ আর কখনো নেয়া হয়নি। কারণ, এর আগেই খালেদ মোশাররফকে বঙ্গভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছিলো এবং তৎপরবর্তী তিন দিন ধরে সে জামিলের সঙ্গে আর কোন যোগাযোগ করতে পারেনি।

    শাফাত জামিল সেনাবাহিনীতে ‘চেইন অব কমান্ড’ ফিরিয়ে আনার জন্যে সেনাবাহিনীর প্রধান, জেনারেল জিয়ার সঙ্গে এক দফায় আলোচনা করে, কিন্তু জিয়া, এ ব্যাপারে ভালমন্দ কিছুই বলেননি। তিনি সম্ভবতঃ দু’কূলই রক্ষা করে চলছিলেন I

    ২৫শে অক্টোবর, জেনারেল জিয়া ব্রিগেডিয়ার শাফাত জামিলকে সেনা সদরে ডেকে পাঠান। সেই সময়ে তাঁর সঙ্গে বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল তোয়াব বসা ছিলো। এই দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিলো না বলে তিনি তাদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন কিংবা আরো জটিল করার মানসে তাদেরকে একা রেখে তিনি টয়লেটে চলে যান। দশ মিনিট পর তিনি বেরিয়ে আসেন। কিন্তু এর মধ্যে তাদের দু’জনের ভেতর কোন কথাবার্তা হয়নি।

    ১লা নভেম্বর, খালেদ মোশাররফ শাফাত জামিলকে নিয়ে চূড়ান্ত আঘাত হানার জন্যে ঢাকা স্টেডিয়ামের আশেপাশে চাইনিজ রেস্তোরাঁয় মিলিত হয়। সেখানে দু’জন জুনিয়র অফিসার অভ্যুত্থানের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে জেনারেল জিয়াকে হত্যা করার প্রস্তাব করলে, খালেদ মোশাররফ এতে ভেটো দেয়। সে আর কোন রক্তপাত দেখতে চায়নি। সিদ্ধান্ত হয় যে, পরদিনই বঙ্গভবনে আঘাত হানতে হবে। মেজরদেরকে তাদের ট্যাংকসহ সরিয়ে দিয়ে সরকারের ক্ষমতা কব্জা করতে হবে। একই সঙ্গে তারা জিয়াকে আটক করে, তাকে জোরপূর্বক অবসর গ্রহণে বাধ্য করা হবে। তারপরে আর কোন দিক থেকে কোন রকম বিপদের সম্ভাবনা থাকবে না বলে ষড়যন্ত্রকারীরা মনে করে।

    পূর্ব পরিকল্পনামত ব্রিগেডিয়ার শাফাত জামিলের নির্দেশে বঙ্গভবনে পাহারারত ৩০০ সৈন্য (পদাতিক বাহিনীর) মধ্যরাতের পর অত্যন্ত গোপনে মেজর ইকবালের নেতৃত্বে বঙ্গভবন ত্যাগ করে ক্যান্টনমেন্টে গিয়ে রিপোর্ট করে। এখান থেকেই পাল্টা অভ্যূত্থানের শুরু।

    ক্যাপ্টেন হাফিজুল্লাহর নেতৃত্বে একদল সৈন্য পাঠানো হয় জেনারেল জিয়াকে আটক করার জন্যে। তারা তাঁর বাড়ীতে সকল যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করে জিয়াকে তাঁর হল ঘরে আটকিয়ে রাখে। ক্যাপ্টেনের সঙ্গে একজন সশস্ত্র গার্ড ছিলো। অন্যদিকে, বেগম জিয়া তাঁর শোবার ঘরের টেলিফোন দিয়ে জেনারেল ওসমানী আর মেজর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছিলো।

    মাত্র এক ঘণ্টা আগে জেনারেল জিয়ার সঙ্গে রশিদের আলাপ হয়েছিলো। ইতিমধ্যে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গড়িয়ে যাচ্ছিলো। সে দ্বিতীয়বারের মতো জিয়ার নিকট ফোন করে। টেলিফোন উঠায় বেগম জিয়া। কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে তিনি তাকে জানান যে, তার স্বামী এখন বন্দী। তিনি তার স্বামীর জীবনের নিরাপত্তার জন্যে পাগল প্রায় হয়ে উঠেছিলেন। রশিদ তাকে সান্ত্বনা দিতে চেষ্টা করে। ‘ঘাবড়াবেন না। এ পর্যন্ত যদি ওরা তাকে কিছু না করে থাকে তাহলে ওরা তাকে আর কিছু করবে না। তবু, আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন। কেবল তিনিই এখন আমাদেরকে বাঁচাতে পারেন।’

    আসলেই, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া তখন তাদের জন্যে অন্য কোন পন্থা খোলা ছিলো না। কোন মানুষই মেজরদের কোন উপকারে আসতে পারেনি। ১৫ই আগস্টের পর থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত দেহের উপর পা রেখে তারা এতোদিন ধরে ক্ষমতা, ছল-চাতুরী আর মিথ্যা রাজনীতির যে ফানুস সৃষ্টি করেছিলো, তা ততক্ষণে সবদিক থেকে ভেঙ্গে পড়তে শুরু করেছিলো I

    এরই মাঝে ঘরের একটি টেলিফোন বেজে উঠে। রিং করেছে স্বয়ং খালেদ মোশাররফ।

    খালেদ : আমরা এখন যুদ্ধে নেমে গেছি। সুতরাং এখন একটা ‘আপস-রফায়’ আসতে তোমার আপত্তি কি?

    রশিদ : কিসের আপস-রফা?

    খালেদ : চলে আসো এবং আমার সঙ্গে যোগ দাও। তোমার ভয়ের কোন কারণ নেই।

    রশিদ : আমার অবস্থান জেনে নিন। আমি কেবল একবারেই বিশ্বাস করি— আমি ভুল করতে পারি, কিন্তু আমি আমার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করি না। বিশেষ করে, এই রকম অবস্থায় তো আপসের কোন প্রশ্নই উঠে না।

    খালেদ : পাল্টা ব্যবস্থা নিয়ে আমরা এগিয়ে আসছি। শেষ পর্যন্ত তোমাকে আমি দেখে নেবো।

    রশিদ : আপনি যদি যুদ্ধ শুরুই করে থাকেন, তাহলে এটা আপনার ভাগ্যের উপর নির্ভর করবে। আমিও আপনাকে শেষ পর্যন্ত দেখে ছাড়বো।

    অনেকক্ষণ ধরে একে অন্যকে গালাগালির পালা চললো। বাংলাদেশ গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছালেও যুদ্ধটা তখনকার মতো টেলিফোনেই সীমাবদ্ধ রইলো।

    ঐ সময়ে বঙ্গভবনের আসন্ন আক্রমণ প্রতিহত করার জন্যে পুরোপুরি রণসাজে সজ্জিত। তারা দেখতে পাচ্ছিলো ব্রিগেডিয়ার শাফাত জামিলের ৪৬তম পদাতিক বাহিনী এগিয়ে আসছে। ভোরের আবছা আলোতে তাদেরকে অনেক দূর থেকে ক্ষীণভাবে দেখা যাচ্ছিলো। কিন্তু ঐ পদাতিক বাহিনীর সৈন্যেরা নিজেদেরকে নিরাপদে দূরত্বে রাখার চেষ্টা করছিলো। কেননা, ভারী মেশিনগান আর অন্যান্য অস্ত্র ঘুরিয়ে নিয়ে শত্রুর দিকে তাকে করে রাখার চেষ্টা চলছিলো ট্যাংকগুলোতে।

    পাল্টা অভ্যুত্থান শুরু হবার কারণে বাহিরে যে সাংঘাতিক অবস্থা বিরাজ করছিলো তার প্রতিফলন প্রেসিডেন্ট ভবনেও পড়তে শুরু করে। একদিকে টেলিফোন বাজছে। অন্যদিকে নির্দেশের পর নির্দেশ জারি করা হচ্ছে। লোকজন খবর নিয়ে উদ্ভ্রান্তের ন্যায় ছুটাছুটি শুরু করেছে। এর মাঝে, রশিদ বাইরে অবস্থানরত সৈনিকদের উপরও নজর রেখে চলেছে। ভোর ৪টা বাজার একটু পরেই রশিদ আর একটি টেলিফোনের রিসিভার উঠায়। রশিদের ভাষায়, ঐ বিশৃঙ্খল অবস্থার মাঝেই টেলিফোনটি বেজে উঠে। টেলিফোন উঠিয়ে আমি শুনতে পেলাম, একজন ভারী কণ্ঠে কথা বলছে, ‘আমি ডিআইজি/প্রিজন কথা বলছি, মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আমি আলাপ করতে চাই।’

    রশিদ মোশতাককে টেলিফোনটি দিলে, তিনি কিছুক্ষণ ধরে কেবল হ্যাঁ, হ্যাঁ, করতে থাকেন। তাঁর কথা পরিষ্কার বুঝা না গেলেও যে-কোন ব্যাপারেই হোক, তিনি সম্মতি জ্ঞাপন করেছিলেন, এতে আর কোন সন্দেহ নেই।

    টেলিফোনে যখন আলাপ চলছিলো, তখন ফারুক-রশিদের পরিকল্পিত ‘আকস্মিক পরিকল্পনা’ কার্যকরী করার জন্যে রিসালদার মুসলেহউদ্দিন তার দলবল নিয়ে কেন্দ্রীয়

    কারাগারে চার নেতাকে খুন করার জন্যে ভেতরে প্রবেশের অপেক্ষারত। ভেতরে প্রবেশের প্রশ্ন নিয়ে বাক-বিতণ্ডার এক পর্যায়ে ডিআইজি কারাগারে এসে হাজির হয়। পরে প্রেসিডেন্ট মোশতাকের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করে ডিআইজি, মুসলেহউদ্দিনকে তার দল নি’র কারাগারের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেয়।

    তাজউদ্দিন আর নজরুল ইসলাম কারাগারের একটি সেলে অবস্থান করছিলেন মনসুর আলী আর কামরুজ্জামান ছিলেন পাশের আর একটি সেলে। তাদেরকে  তাজউদ্দিনের সেলে একত্রিত করা হয়। একত্রিত অবস্থায় খুব কাছে থেকে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুলিতে তাদেরকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। তাদের তিনজন সঙ্গে সঙ্গে প্রাণ  হারালেও তাজউদ্দিন পেটে ও পায়ে গুলি খেয়ে রক্তক্ষরণের ফলে আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে পরে মারা যান। পাশের সেলে অবস্থানরত কারাবন্দী জানায় যে, সে ওখানে মৃত্যু যন্ত্রণায় কোন একজনের আর্তনাদ শুনেছিলো। আর পানি পানি বলে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত কাতরানোর মর্মভেদী শব্দও তার কানে আসছিলো। কিন্তু বর্বর ঘাতক, মুসলেহউদ্দিন ও তার গ্যাং চলে যাবার আগে সেলটিকে খুব শক্ত করে তালাবদ্ধ করে রেখে যাওয়ায় মৃত্যুর আগে তাজউদ্দিনের মুখে এক ফোঁটা পানিও কেউ তুলে দিতে পারেনি।

    ১৯৭১-এর ডিসেম্বরে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী বুদ্ধিজীবী বাঙ্গালীদের যেমন করে নশংসভাবে হত্যা করেছিলো, এই হত্যাও ঠিক ঐভাবেই সংঘটিত হয়েছিলো। অথচ বুদ্ধিজীবীদেরকে জাতীয়ভাবে বৎসরে একবার স্মরণ করা হলেও ঐ চার নেতার ভাগ্যে সেটুকুও জুটলো না।

    চার নেতাকে জেলে রেখে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যার ব্যাপারে জনমনে বিভিন্ন রকমের জল্পনা-কল্পনা থাকলেও অন্ততঃ ঐ সময়ের ক্ষমতাসীন সরকারের প্রত্যক্ষ ইঙ্গিত ছাড়া তা করা সম্ভব ছিলো না—একথা কারো অস্বীকার করার উপায় নেই। তাজউদ্দিন হয়তো কোনভাবে তা বুঝতে পেরেছিলেন কিংবা ইঙ্গিত পেয়েছিলেন। জেলে থাকাকালীন মিসেস তাজউদ্দিনের সঙ্গে যে দু’বার অল্পক্ষণের জন্যে তাঁর দেখা হয়, তার শেষেরটিতে ঐ ইঙ্গিতটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট মনে হচ্ছে। ‘পরিস্থিতি খুবই খারাপ। আমার মনে হয় না যে, জীবিত অবস্থায় আমরা কোনদিন জেল থেকে বের হতে পারব।’

    ১৯৭৫-এর নভেম্বরে, তিনজন সুপ্রীম কোর্ট জজের সমন্বয়ে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেই সরকার ‘খালাস’ পান। কিন্তু জেনারেল জিয়া, তাঁর সাড়ে পাঁচ বছর শাসনকালে ঐ তদন্ত কমিশনকে তাঁদের কাজ পরিচালনা করতে সম্মতি দেননি। কারণটি অবশ্য জানা যায়নি। সুতরাং কমিশন এমনিতেই . বাতাসে মিলিয়ে যায়। এই ঘটনাটি সব সময়ই জেনারেল জিয়ার স্মৃতিকে কলঙ্কের কালিমা মেখে রাখবে। আর যা- ই ঘটুক, সরকারী ইঙ্গিতে এই ধরনের জেলে বন্দী রেখে নির্মমভাবে হত্যা করা নিঃসন্দেহে একটি জঘন্যতম লোমহর্ষক অপরাধ। এই সকল কারণেই আমাদের পতন আসে। আর বাংলাদেশও ঐ রক্তের ঋণে আবদ্ধ হয়ে পড়ে।

    ৩রা নভেম্বরের সকালবেলা। পরিস্থিতি ক্রমেই গরম আকার ধারণ করছে। জেনারেল ওসমানী বহু কষ্টে প্রেসিডেন্ট ভবনে এসে পৌঁছেছেন খালেদ মোশাররফ দু’জন কর্নেল আর দু’জন প্রাক্তন মেজর দিয়ে তার দাবীনামা পাঠিয়ে দিয়েছে। দাবীনামার প্রথমটি এই যে, ট্যাংকগুলোকে নিরস্ত্র অবস্থায় ক্যান্টনমেন্টে ফিরে যেতে হবে। দ্বিতীয়তঃ জেনারেল জিয়ার স্থলে অন্য একজনকে সেনাবাহিনী প্রধানের দায়িত্ব দিতে হবে। তৃতীয়তঃ মোশতাক প্রেসিডেন্ট হিসেবে থাকতে পারবে —তবে তাঁর পররাষ্ট্রনীতি পরিবর্তন করতে হবে। অত্যন্ত ঔৎসুক্যের ব্যাপার এই যে, ঐ দাবীতে ফারুক আর রশিদের আত্মসমর্পণের কোন উল্লেখ ছিলো না। মোশতাক দাবীনামার ফিরিস্তি শুনে তা পালন করতে অস্বীকৃতি জানান এবং ভোর ৬টার পর থেকে তিনি রাষ্ট্রপতি থাকছেন না বলে ঘোষণা করেন।

    মোশতাক অফিসারদেরকে জানান যে, তিনি তাদের দাবী মেনে নিতে পারছেন না। কারণ, সকাল ৬টার পর থেকে তিনি আর প্রেসিডেন্ট থাকছেন না। তারা তখন জেনারেল ওসমানীকে জিজ্ঞেস করে। জেনারেল বলেন যে, খন্দকার মোশতাক যেহেতু প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হিসেবেও তাঁর ক্ষমতা আপনা- আপনিই শেষ হয়ে গেছে। ডালিম কর্কশভাবে ওসমানীকে বলে, ‘তাদেরকে আত্মসমৰ্পণ করতে বলুন।’ আমি জানি, ‘আইয়ুব খান কেন আপনাকে বৃদ্ধ নকুল বলে ডাকতেন। কিন্তু এই অবস্থায় জেদ দেখাবার চেষ্টা করবেন না।’

    সকাল ১০টা পর্যন্ত ঐ অবস্থাতেই চলতে থাকলো। এমন সময় পুলিশের আইজি বঙ্গভবনে টেলিফোন করে। তখন ডিফেন্স স্টাফ প্রধান, জেনারেল খলিলুর রহমান সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তার ভাষায় : ‘পুলিশের ইনস্পেক্টর জেনারেল আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনি আমাকে তাজউদ্দিন আর তার সহকর্মীদেরকে ঐ রাতেই সেলের ভেতরে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান। খবর শুনে আমি আঁতকে উঠি। দেরি না করে আমি প্রেসিডেন্টের সেক্রেটারী, মাহবুবুল আলম চাষীর নিকট ছুটে যাই এবং ঘটনাটি প্রেসিডেণ্টকে জানাতে বলি। সঙ্গে সঙ্গেই চাষী উঠে প্রেসিডেন্টের রুমে যান। এক মিনিটের মধ্যেই তিনি ফিরে এসে বলেন : ‘তিনি তা জানেন।

    জেনারেল খলিল জেল হত্যায় মোশতাকের ইঙ্গিত বুঝতে পেরে তাঁর প্রতি বীতশ্রদ্ধ হলেও তিনি ঘটনাটি আর কাউকে জানালেন না। পরে রশিদ আর ফারুকের দেশত্যাগের জন্যে বিপরীত পার্টির নিকট অনুরোধ জানান খন্দকার মোশতাক। খালেদ মোশাররফ আর শাফাত জামিল মোশতাকের অনুরোধে রাজী হয়। এয়ার ভাইস মার্শাল তোয়াব আর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তাদেরকে ব্যাংককে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করার দায়িত্ব দেয়া হয়।

    এক পর্যায়ে মোশতাক নিজেও মেজরদের সঙ্গে প্রবাসে চলে যাবার ইচ্ছা পোষণ করেন। কিন্তু খালেদ ও কথা শুনেনি। শেষ পর্যন্ত শেখ মুজিবের হত্যার সঙ্গে জড়িত — ডালিম, নূর, হুদা, পাশা আর শাহরিয়ারসহ মোট ১৭ সদস্যের একটি দল ফারুক আর রশিদের সঙ্গে প্রবাসে চলে যায়।

    মেজরদের চলে যাবার পর মোশতাক আর কোনভাবেই পরবর্তী সরকারে থাকতে চাইলেন না। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত বাড়ী আগামসিহ লেনে চলে যেতে চাইলেন। কিন্তু খালেদ মোশাররফ রাজী হলেন না। তিনি তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবেই পুনরায় দেখতে চাইলেন। মোশতাক রাজী হলেন। তবে শর্ত দিলেন দু’টি। একটি হলে–সেনাবাহিনীকে তাঁর প্রতি আনুগত্য স্বীকার করতে হবে এবং তাঁর নির্দেশ মেনে চলতে হবে। দ্বিতীয়টি হলো—মন্ত্রী পরিষদকে আনুষ্ঠানিকভাবে মিলিত হয়ে তাঁর প্রতি সমর্থন ও আস্থার কথা প্রকাশ করতে হবে। খালেদ মোশাররফ এতে খুশী হতে পারেনি। সে বরং উল্টো জেনারেল জিয়ার পরিবর্তে তাকে সেনাবাহিনীর স্টাফ প্রধান নিয়োগ করার দাবী জানায়। জেনারেল ওসমানীর মতে, এতে বিমান বাহিনীর প্রধান, এয়ার ভাইস মার্শাল এম. জি. তোয়াব আর নৌবাহিনীর প্রধান, কমোডর এম. এইচ, খানের সক্রিয় সমর্থন ছিলো। দু’দিন পরেই ঐ সক্রিয় সমর্থক দুই বাহিনীর প্রধানকে খালেদ মোশাররফের পোশাকের দুই কাঁধে জেনারেলের স্টার এবং ফিতা লাগাতে দেখা যায়। সেদিনই বাংলাদেশ অবজারভার প্রথম পাতায় তাদের ছবিটি ফলাও করে প্রকাশ করে। তারপর দু’দিন যেতে না যেতেই খালেদ মোশাররফ সিপাহী বিদ্রোহে প্রাণ হারায়। আশ্চর্যের বিষয়, কোন দ্বিধা- দ্বন্দ্ব ছাড়াই ঐ দুই বাহিনীর প্রধান আবার জিয়ার প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে।

    মঙ্গলবার সকাল দশটায় খালেদ মোশাররফ সঙ্গে করে নিয়ে আসে মেজর জেনারেল খলিল, তোয়াব আর কমোডর খানকে। তারা একটি শোক সংবাদ নিয়ে এসে হাজির হয়। সংবাদটি ছিলো জেনারেল জিয়ার সেনাবাহিনীর চাকুরী থেকে ইস্তফা দান। জিয়া সংক্ষেপে তাঁর ইস্তফা পত্রে উল্লেখ করেন যে, তিনি রাজনীতিতে নিজেকে জড়াতে চান না। সে কারণেই সেনাবাহিনী থেকে সরে দাঁড়াতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    সে যাই হোক, জীবনের হুমকির মুখে জিয়ার কাছ থেকে ইস্তফা আদায় করা হয়েছিলো বলে পরিষ্কার প্রতীয়মান হয়। কারণ, তিনি ইস্তফা দেয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তার বাড়ীতে বন্দী অবস্থায় সময় কাটাচ্ছিলেন। জিয়াকে তার পেনশনের টাকা দিয়ে সংসার চালাতে হবে বলে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে তাকে কিছুটা উদ্বিগ্ন মনে হয়েছে। অন্যান্যদের মতো তিনি টাকা বানাতে পারেননি। অত্যন্ত করুণ হলেও সত্যি যে, একজন জেনারেল হয়ে চাকুরীতে ইস্তফা দেয়ার পর তিনি তাঁর একজন জুনিয়র অফিসারকে মাসিক তিনশত টাকা ভাড়ায় একটি বাড়ী করে দেয়ার জন্যে বলেছিলেন। কিন্তু স্যার,’ বিব্রত অফিসার জবাব দেয়, ‘এমন কি মোহাম্মদপুরের মতো জায়গায়ও আটশত টাকার কমে বাড়ী ভাড়া পাওয়া সম্ভব নয়।’

    অভ্যুত্থানের নায়ক, খালেদ মোশাররফের জন্যে সেনাবাহিনীর প্রধান হবার পথ সুগম হয়ে গেলো। কেননা, জিয়া আর তার পথের কাঁটা হয়ে রইলেন না।

    মোশতাক মন্ত্রীসভার বৈঠক ডাকবেন বলে স্থির করলেন। ওসমানী, খালেদ, তোয়াব, কমোডর খান এবং জেনারেল খলিল সবাইকে উপস্থিত থাকার জন্যে বলে দিলেন। তারা যখন চলে যাচ্ছিলো, এমন সময় ‘ফোর্সেজ ইন্টেলিজেন্স’-এর ডাইরেক্টর, এয়ার কমোডর ইসলাম, তাজউদ্দিন ও তার সঙ্গীদের জেলের ভেতরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে খবর নিয়ে ছুটে আসে।

    ওসমানী স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘প্রচন্ড হৈ চে-এর সৃষ্টি হয়ে যায়। উপস্থিত কয়েকজন মন্ত্রী ভয়ে একেবারে জড়সড় হয়ে পড়ে। অন্যান্যরা সজোরে চিল্লাচিল্লি শুরু করে দেয়। আমরা সবাই একেবারে হতবাক হয়ে যাই। আমি ভেবে অস্থির হয়ে যাই এই জন্যে যে, আমরা আরো একবার চরম বর্বরতার আশ্রয় নিলাম।’

    আর যাই হোক না কেন, মোশতাক একজন চমৎকার অভিনেতা। তিনিও অন্যান্যদের মতো সজোরে বিলাপ করতে শুরু করলেন। ভাবখানা এই রকম, যেন তিনি এই সংবাদ শুনে একেবারে আকাশ থেকে পড়লেন। কালবিলম্ব না করে মন্ত্রী পরিষদের বৈঠক ডাকলেন। মন্ত্রী পরিষদ জেল হত্যার ব্যাপারে তদন্ত করার জন্যে একটি বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করে। তিনজন সুপ্রীম কোর্টের জজ সমন্বয়ে কমিশনটি গঠিত হয়। তারপর তাদের মধ্যে পাল্টা অভ্যুত্থান নিয়ে এবং ফারুক, রশিদ আর দলের অন্যান্যদেরকে দেশত্যাগের অনুমতি নিয়ে এক প্রচণ্ড বাক-বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।

    খালেদ, জেনারেল খলিল, তোয়াব আর কমোডর খান ভেতরে এসে তারা সরকারের প্রতি তাদের আনুগত্য আর প্রেসিডেন্টকে মেনে চলার প্রতিজ্ঞা পেশ করে। কিন্তু মন্ত্রী পরিষদের কেউ কেউ খালেদ মোশাররফকে চীফ অব স্টাফ নিয়োগ করায় অসন্তোষ জ্ঞাপন করে। এ নিয়ে খন্দকার মোশতাক আর জেনারেল ওসমানীর মধ্যে চালাকিপূর্ণ কথাবার্তা বিনিময়ের এক পর্যায়ে সভায় ক্রোধান্বিত বাক্য বিনিময়ের সূত্রপাত হয়।

    হঠাৎ দরজায় সজোরে চিৎকার শুনে ভেতরের গরম বাক্য বিনিময় থেমে যায়। শাফাত জামিল আরো পাঁচজন অফিসার নিয়ে স্টেনগান হাতে কেবিনেট রুমে জোরপূর্বক ঢুকে পড়ে। এতে কেবিনেট রুমে ত্রাসের সঞ্চার হয় এবং মন্ত্রীরা চেয়ার ছেড়ে যে যেভাবে পারে পালাতে চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট মোশতাককে মাটিতে পড়ে গড়াগড়ি খেতে দেখা যায়। তাঁর মাথার উপর এক মেজর স্টেনগান ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ওসমানী তাকে বাঁচানোর জন্যে দৌড়ে যান এবং অনুরোধের সুরে বলতে থাকেন, খোদার দোহাই কিছু করো না। এই অবস্থায় কিছু করা, পাগলামো ছাড়া আর কিছুই নয়। তোমরা দেশটাকে ধ্বংস করে ফেলবে।

    শাফাত জামিল মোশতাকের পদত্যাগ দাবী করে। সে প্রেসিডেন্টের দিকে লক্ষ্য করে চিৎকার করে বলতে থাকে ‘তুমি খুনী। তুমি জাতির পিতাকে খুন করেছো। জেলের ভেতর আটকে রেখে সংগোপনে চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছো তুমি। তুমি জবরদখলকারী। তোমার সরকার, বেআইনী সরকার। ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার কোন অধিকার তোমার নেই। তোমাকে অবশ্যই অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।’

    তারপর জেনারেল খলিলের দিকে তাকিয়ে জামিল বলতে থাকে, ‘জেল হত্যার ঘটনাটি চেপে রাখার জন্যে আপনি দায়ী। আপনাকে আটক করা হলো।’

    প্রচন্ড হট্টগোল বেশ কিছুক্ষণ চললো। যতবারই বন্দুকধারী অফিসারেরা মন্ত্রীদের প্রতি বন্দুকের নল উঠিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলো, ততবারই ওসমানী তাদেরকে ধাক্কিয়ে ফিরিয়ে রাখছিলো। পরিশেষে উপায়ান্তর না পেয়ে ওসমানী মোশতাককে বললেন, ‘ব্যাপার অত্যন্ত খারাপের দিকে মোড় নিচ্ছে। আপনি বরং এখনই পদত্যাগ করুন।’ মোশতাক মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়। এতে অতন্তঃ ঐ গরম হওয়া কিছুটা ঠান্ডা হবার ভাব দেখা গেল।

    মন্ত্রীদেরকে আবারো বসানো হয়। মোশতাকের পরিবর্তে প্রধান বিচারপতিকে দেশের প্রেসিডেন্ট বানানোর জন্যে শাফাত জামিল প্রস্তাব করে। আইনমন্ত্রী, মনোরঞ্জন ধর আপত্তি তোলে এবং জাতীয় সংসদের স্পীকারকে প্রেসিডেন্ট করার আইনগত ভিত্তির কথা জানায়। এতে জামিল ক্ষেপে গিয়ে বলেন, ‘রাখুন আপনাদের গালভরা আইনের বুলি। একটা হত্যাকে নিয়মানুগ করার জন্যে আপনারা দেশের শাসনতন্ত্রকে পাল্টাতে পেরেছেন। সুতরাং আপনারা এটাকে আবারও পাল্টাতে পারবেন। আমি বলছি, প্রধান বিচারপতিই প্রেসিডেন্ট হবেন।’

    এতে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়ে যায়। অন্যদিকে—তাহেরউদ্দীন ঠাকুর, শাহ্ মোয়াজ্জেম হোসেন, নূরুল ইসলাম মঞ্জুর এবং কে, এম ওবায়দুর রহমানকে তাদের পদত্যাগ পত্ৰ লিখার জন্যে নির্দেশ দেয়া হয়। পরে অবশ্য ঠাকুর আর শাহ্ মোয়াজ্জেমকে দুর্নীতি আর ক্ষমতার অপব্যবহার করার জন্যে আটক করা হয়।

    এরপর কয়েক ঘণ্টা ধরে বঙ্গভবনে প্রচুর কাজ করা হয়। কেননা, কর্মরত কর্মচারীরা সরকার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় কাজ-কর্ম সেরে নিচ্ছিলো। মোশতাকের সই নেয়ার জন্যে অনেক কয়টা চিঠিই তখন পর্যন্ত প্রস্তুত হয়ে গেছে। এর মধ্যে মেজরদেরকে দেশত্যাগের অনুমতি আর জেলহত্যা সংক্রান্ত চিঠি দু’টিতে সই করার জন্য খালেদ মোশতাকের উপর চাপ সৃষ্টি করে।

    ৫ই নভেম্বর। বেলা ১টায় প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে বঙ্গভবনে নিয়ে আসার কারণ জিজ্ঞেস করেন। ওসমানী তাকে বলেন, ‘আপনাকে দেশের প্রেসিডেন্ট ‘নানোর জন্যে নিয়ে আসা হয়েছে।’ প্রধান বিচারপতি সঙ্গে সঙ্গে ঐ সম্মানের মালা গলায় নিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন। ওসমানী বিচারপতিকে উপদেশ দিয়ে বলেন, ‘খোদার দোহাই আপনি এই অনুরোধ রক্ষা করুন। আপনাকে দেশের প্রেসিডেন্ট হতেই হবে। তা না হলে দেশে আইন-শৃঙ্খলা বলে কোন জিনিসই থাকবে না। এবং দেশটার একেবারে সর্বনাশ হয়ে যাবে।’

    তারপরও তিনি ঐ অবস্থায় কোন ভূমিকা গ্রহণ করতে রাজী হলেন না। বিচারপতি ফিরে বাড়ী চলে এলেন। তারপরই খালেদ, শাফাত জামিল, ওসমানী, খলিল আর বিমান ও নৌবাহিনীর প্রধানগণ পেছনে পেছনে বিচারপতির বাড়ীতে যান। পরিশেষে, তারা তাকে প্রেসিডেণ্ট-এর দায়িত্ব গ্রহণ করার জন্য রাজী করাতে সক্ষম হন।

    এইভাবে ১৯৭৫ সালের ৬ই নভেম্বর বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম দেশের স্বাধীনতার চতুর্থ বৎসরে ৫ম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ বাণী পাঠ করেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদ্য ওয়ার্ড ইয মার্ডার – অ্যান্টনি হরোউইটয
    Next Article দ্য সাইলেন্ট পেশেন্ট – অ্যালেক্স মাইকেলিডিস

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }