Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বাংলার মাতৃসাধনা – পৃথ্বীরাজ সেন

    পৃথ্বীরাজ সেন এক পাতা গল্প194 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সমাজে ও সাহিত্যে শাক্তধর্মের প্রভাব

    বাংলা সাহিত্য এবং বাংলা সমাজকে হিন্দুধর্ম মতের যে দু’টি ধারা বারে বারে প্রভাবিত করেছে সে—দু’টি হল বৈষ্ণবধর্ম এবং অপরটি শাক্তধর্ম। শক্তিসাধনার আবির্ভাব কবে হয়েছে সেই প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে বিখ্যাত পণ্ডিতরা মন্তব্য করেছেন যে তুর্কি বিদায়ের বহুপূর্ব থেকে বাংলাদেশে শক্তিপুজোর প্রচলন শুরু হয়েছিল। তারপর দেখতে দেখতে অনেকগুলো বছর কেটে গেছে। বাঙালি সমাজের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে একটির পর একটি বিবর্তন সূচিত হয়েছে। আর তারই প্রতক্ষ্য ও পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে শক্তি সাধকদের গবেষণায়।

    বৈষ্ণবতা ও শৈব ধ্যান—ধারণার মধ্যে বিভিন্ন দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। কখনও বৈষ্ণবপন্থীরা শাক্তসাধনার বিরুদ্ধাচারণ করেছেন, আবার এর প্রত্যুত্তরে শাক্তপন্থীরা নানা ভাবে বৈষ্ণবপন্থীদের আক্রমণ করেছেন। হিন্দুধর্মের উদারনৈতিক প্রেক্ষাপটে এমন ঘটনা অনভিপ্রেত। কোনও কোনও সময়ে আবার এই দুই ধর্মের মধ্যে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা দেখা গেছে।

    ভারতের পূর্বাঞ্চলে শাক্তসাধনা এবং আনুষাঙ্গিক তন্ত্রাচার দীর্ঘদিন ধরে সমাজের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ওপর বিশাল প্রভাব ফেলেছিল। এর আগেই আমরা কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশের কথা বলেছি। যখন মহাপ্রভু শ্রীশ্রীচৈতন্য বৈষ্ণবপ্রেমের প্লাবনে অবিভক্ত বঙ্গদেশকে স্নাত করেছিলেন, কৃষ্ণনাম স্মরণ করে মানুষকে সংসার সমুদ্র থেকে উদ্ধারের পথ নির্ণয় করেছিলেন, তখনই কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ লিখলেন বৃহৎতন্ত্রসার নামে এক মহাগ্রন্থ। এই গ্রন্থকে আজও আমরা তন্ত্রসাধনার আকর গ্রন্থ হিসাবে মর্যাদা দিয়ে থাকি। এই গ্রন্থের মাধ্যমে তিনি তন্ত্রসাধনার স্বরূপ এবং রূপকল্পনার কথা আলোচনা করেছেন। এই গ্রন্থের একেবারে শুরুতে তিনি বামাকালীর যে ধ্যানমন্ত্র সংযোজিত করেছেন তা যেকোনও শাক্তসাধকের কাছে সাধ্যবস্তু। এই ধ্যানমন্ত্র এবং তার সম্পূর্ণ বঙ্গানুবাদটি এখানে উদ্ধৃত করা হচ্ছে—

    বিদ্যুৎকান্তিসমানাভ—দন্তপংক্তিবলাকিনীম্।
    নমামি তাং বিশ্বমাতাং কালমেঘসমদ্যুতিম্।
    মুক্তমালাবলীরম্যাং মুক্তকেশীং দিগম্বরাম্।
    লোলজিহ্বাং খোররাবামারক্তলোচনত্রয়াম্।
    কোটিকোটিকলানাথ—বিগলন্মুখমণ্ডলাম্।
    অমাকালাসমুল্লাসকিরীটোজ্জ্বলমালাম্।
    শবদ্বয়কর্ণভূষাং নানামণিবিভূষিতাম্।
    সূর্য্যকান্তেন্থকান্তৌঘ—প্রোল্লাসকর্ণভূষণাম্।
    মৃতহস্তসহস্রৈস্তু কৃতকাঞ্চীং হসন্মুখীম্।
    সৃক্কদ্বয়গলদ্রক্ত—ধারাবিস্ফূরিতানশাম্।
    খড়্গমুণ্ডবরাভীতি—সংশোভিতচতুর্ভূজাম্।
    দন্তরাং পরমাং নিত্যাং রক্তমণ্ডিতবিগ্রহাম্।
    শিবপ্রেতসমারূঢ়াং মহাকালোপরি স্থিতাম্।।
    বামপাদং শবহৃদি দক্ষিণে লোকলাঞ্ছিতম্।
    কোটিসূর্য্যপ্রতীকাশং সমস্তভুবনোজ্জ্বলম্।।
    বিদ্যুৎপুঞ্জসমানাভোজ্জ্বলজ্জটাবিরাজিতম্।
    রজতাদ্রিনিভং দেবং স্ফটিকাচলবিগ্রহম্।।
    দিগম্বরং মহাঘোরং চন্দ্রার্কপরিমণ্ডিতম্।
    নানালঙ্কারভূষাঢ্যং ভাস্বৎস্বর্ণত্তনূরুহম্।
    যোগনিদ্রাধরং শম্ভূং স্মেরাননসরোরূহম্।
    বিপরীতরতাসক্তাং মহাকালেন সপ্ততম্।।
    অশেষব্রহ্মাণ্ডভাণ্ড—প্রকাশিতমহোজ্জ্বলাম্।
    শিবাভির্ঘোররাবাভি—চের্ব্বষ্টিতাং প্রলয়োদিতাম্।।
    কোটিকোটিশরচ্ছন্দ্র—ন্যক্কৃতানখমণ্ডলাম্।
    সুধাপূর্ণশীর্ষহস্তু—যোগিনীভির্ব্বিরাজিতাম্।।
    আরক্তিমুখমদ্যাভি—র্স্মত্তাভিরম্বগাং চ বৈ।
    ঘোররূপৈর্ম্মহানাদৈ—শ্বস্বতাপৈশ্চ ভৈরবৈঃ।।
    গৃহীতশবকঙ্কাল—জয়শব্দপরায়ণৈঃ।
    নৃত্যদ্ভির্বাদনপরৈ রণিশঞ্চ দিগম্বরৈঃ।
    শ্মশনেলায়মধ্যস্থাং ব্রহ্মাদ্যুপনিষেবিতাম্।।

    বঙ্গানুবাদ : যাঁর বদনমণ্ডলে বলাকাবলীতুল্য বিদ্যুৎকান্তির ন্যায় আভাযুক্ত দন্তপংক্তি শোভা পাচ্ছে, যাঁর দেহ মুণ্ডমালাবলীদ্বারা শোভিতা, যিনি দিগম্বরা, মুক্তকেশী, যিনি বিশ্বমাতা, বিশ্বেশ্বরী ও কালোমেঘের ন্যায় যাঁর কান্তিবিশিষ্টা, সেই কালিকাদেবী আমি নমন করি। যিনি লোলজিহ্বাযুক্ত, যাঁর নেত্রত্রয় অলক্তবর্ণ এবং রব অতি ভয়ংকর, যাঁর—মুখমণ্ডল হতে কোটি কোটি শশধের বিগলিত হয়ে চলেছে, যাঁর শিরোদেশে সমুজ্জ্বল কিরীটমণ্ডল অতিশয় উল্লাসযুক্ত ও প্রফুল্ল শোভা বিস্তার করছে, যাঁর কর্ণযুগলে শবদ্বয় বিভূষিত হচ্ছে এবং যাঁর অঙ্গসকল নানাবিধ মণি দ্বারা বিভূষিত এবং সূর্যকান্ত ও চন্দ্রকান্ত মণি যাঁর উল্লসিত কর্ণভূষণ, যাঁর কটিতট শবহস্ত—সহস্র দ্বারা বিরচিত কাঞ্চীমালার ন্যায় পরিবেষ্টিত, যাঁর মুখমণ্ডলে উচ্চকলধ্বনিকৃত হাস্য শোভা পাচ্ছে, যাঁর সৃক্কিনীযুগল হতে শোণিতধারা বিগলিত হয়ে মুখমণ্ডল স্ফূরিত করছে, যাঁর ভূজ্যচতুষ্টয়, খড়্গ, মুণ্ড এবং বর, অভয় দ্বারা সুশোভিত, যাঁর বিগ্রহ শোণিতচ্ছটায় মণ্ডিত, দন্তপংক্তি উচ্চ ও বিকট, যিনি শিবপ্রেতোপরি আরূঢ়া এবং মহাকালোপরি সংস্থিতা—সেই পরমা নিত্য সনাতনী দেবীকে প্রণাম জানাই।

    তাঁর বামপদ শবহৃদয়ে সংস্থিত এবং দক্ষিণ চরণে লোক—লাঞ্ছিত কোটি সূর্যতুল্যপ্রভ সমস্ত ভুবন উজ্জ্বলকারী বিদ্যুৎপুঞ্জিত সমুজ্জ্বল জটাজালমণ্ডিত রজতগিরির ন্যায় শুভ্র স্ফটিকতুল্য, দিগম্বর, মহাঘোর দর্শন, চন্দ্র—সূর্য পরিভূষিত এবং নানাবিধ ভূষণে শোভিত, প্রদীপ্ত সুবর্ণ—সদৃশ লোমরাশি বিশিষ্ট যোগনিদ্রারত, ঈষৎ হাস্যযুক্ত মুখণ্ডল, অখিলব্রহ্মাণ্ড প্রকাশকারী মহাকাল শঙ্কর বিদ্যমান।

    মহাকালের সঙ্গে যিনি বিপরীত সুরেতে আসক্তা, ঘোররাবী শিবাগণে পরিবেষ্টিতা, যিনি প্রলয়কালের ন্যায় সংহার—মূর্তি, যিনি নখমণ্ডল প্রভাদ্বারা কোটি কোটি শরচ্ছন্দ্রকে তুচ্ছীকৃত করছেন, যিনি মস্তকমণ্ডলে ও করসমূহে সুধাধারিণী আরক্তামুখমণ্ডলা ও মদমত্তা যোগিনীগণে বিরাজিতা এবং যিনি মহানাদ, ঘোররূপ প্রচণ্ড প্রতাপ দিগম্বর বেশ নিরন্তর নৃত্যবাদনিরত শবকঙ্কাল জালগ্রাহী ও জয়শব্দপরাণ ভৈরবনিকারে অনুগতা অর্থাৎ ভৈরবগণবেষ্টিতা শ্মশানালয়মধ্যস্থা, ব্রহ্মাদি দেবগণে পরিসেবিতা, সেই মহাকালী দেবীকে নমস্কার করি।

    এই ধ্যানমন্ত্রটি উচ্চারণ করার সঙ্গে সঙ্গে শাক্ত সাধকের সমস্ত শরীরে এক অবর্ণনীয় শিহরণের জন্ম হয়। কোষে কোষান্তরে পৌঁছে যায় সেই বার্তা যা তাকে দেবী বন্দনায় আরও বেশি উজ্জীবিত করে তোলে। তিনি যে ভীষণা দেবীর পুজো করতে ইচ্ছুক, সেই দেবী প্রকৃতির মূলে অবস্থান করছেন। তাঁর সাধনা করা সহজ নয়। শাক্ত আরাধ্যদেবী কালিকা ভীষণা হলেও তিনি বরাভয়দাত্রী। তাঁর অভ্যন্তর মাধুর্য্যে পরিপূর্ণ।

    বাংলা সাহিত্যে তন্ত্র এবং শাক্তসাধনার প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে আছে। সহজিয়া বৌদ্ধ সাধকেরা বোধহয় এই প্রভাবকে আরও পরিব্যাপ্ত করেছিলেন। তান্ত্রিক বৌদ্ধরা কিন্তু হিন্দু কালিকা তত্ত্বের উপাসক নন। কিন্তু তারা কিভাবে তন্ত্রের দ্বারা এতখানি প্রভাবিত হলেন তা ভাবতে গেলে অবাক হতে হয়। গৌতম বুদ্ধ অহিংস ধর্মমতের প্রবর্তক প্রচারক ছিলেন। প্রাণী হত্যাকে তিনি সর্বতোভাবে পরিহার করতেন। অথচ তাঁর অনুগামীরা কেমনভাবে বলিদান প্রথায় মেতে উঠলেন তাও ভেবে দেখার মতো। বৌদ্ধ তন্ত্রসাধকেরা সাধনার ক্ষেত্রে হিন্দু সাধকদের পাশাপাশি একটি সমান্তরাল সাধনপথ আবিষ্কার করে ফেলেছিলেন। বাংলা ভাষায় যে আদিকাব্য গ্রন্থটি রচিত হয়েছে, অর্থাৎ চর্যাপদ, এটিকে আমরা তন্ত্রোক্ত দেহসাধনার উপর নির্ভরশীল একটি গ্রন্থ বলতে পারি। এই গ্রন্থের পরবর্তী পর্যায়ে আমরা হিন্দুতন্ত্র এবং বৌদ্ধতন্ত্রের তুলনামূলক আলোচনা করব। এই আলোচনার দর্পণে প্রতিফলিত হবে এই দুই তন্ত্রমতের সাধকদের ধর্মচর্চার ইতিহাস।

    এখন সঙ্গতকারণেই প্রশ্ন তোলা যেতে পারে যে হিন্দুতন্ত্র আগে না বৌদ্ধতন্ত্র? শাক্ত ও হিন্দুতন্ত্রের গ্রন্থগুলি হয়তো খুব একটা প্রাচীন নয়। তাহলে কি পৌরাণিক হিন্দুধর্মের প্রতিষ্ঠার আগেই বৌদ্ধধর্মতন্ত্রবাদের জয়গান গেয়েছিল? কিন্তু বৌদ্ধ তান্ত্রিকরা এই তন্ত্রসাধনার কথা জানলেন কোথা থেকে? পূর্ব—ভারত এবং ভারতের অন্যান্য স্থানে বৈদিক দেব বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত তান্ত্রিক বিশ্বাসে পরিণত হয়। বৈদিকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে একে আগম বলে নির্দেশ করতেন। তারা কখনওই তন্ত্রসাধনাকে খুব একটা প্রাধান্য দিতে চাননি। তারা বলতেন এই ধর্মসাধনার উৎস হিন্দুধর্মের মধ্যে নিহিত নেই। এটি বাইরে থেকে এসেছে। অর্থাৎ এই ধর্মসাধনের ওপর বেদ—তান্ত্রিক নিয়মনীতি প্রবর্তিত হতে পারে না। তাই বোধহয় তখন থেকে শাক্তপন্থীদের সাথে বৈদিকপন্থীদের তর্কবিতর্ক শুরু হয়। সমাজের তথাকথিত নিম্নশ্রেণীর মানুষেরা গভীর প্রত্যয় সহকারে হিন্দু শাক্ত এবং বৌদ্ধমহাজানীতন্ত্রকে গ্রহণ করেছিলেন। বৌদ্ধমহাজনীদের মধ্যেও নানা সাধকগোষ্ঠীর উদ্ভব ঘটে যায়। তারা তান্ত্রিক আচারের মাধ্যমে সিদ্ধির পথে পৌঁছবার চেষ্টা করেন। তাদের তন্ত্রসাধনা সম্পর্কে ডঃ শশিভূষণ দাশগুপ্ত ‘তান্ত্রিক বুদ্ধিজিম’ নামে একটি অসাধারণ গ্রন্থ লিখেছেন।

    বাংলায় অসংখ্য যোগ এবং তান্ত্রিক ধর্মগোষ্ঠী বেশ কয়েকশো বছর ধরে ধার্মিক এবং আধ্যাত্মিক প্রভাব ফেলেছিল। এদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন বহিরাগত মুসলিম সুফীরা। এসেছিলেন বৌদ্ধ সহজিয়া এবং বৈষ্ণব বাউলেরা। তাছাড়া গুরুবাদী গুহ্যাচারী ধর্মসম্প্রদায় এই জাতীয় তন্ত্রসাধনায় বিশ্বাস করতেন। তারা দেহভাণ্ডে ব্রহ্মাণ্ড, নাভিমূল থেকে দেহাভ্যন্তরস্থ শক্তিকে জাগ্রত করতেন। এটি বড় কঠিন সাধনা। ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে এই শক্তিকে ঊর্ধ্বমুখী করা উচিত। তারপর তা মস্তক শীর্ষে অবস্থিত শবের সঙ্গে মিলিত হয়ে শিবে রূপান্তরিত হবে। সাধনার এই রূপরেখাটি সকল সম্প্রদায় গ্রহণ করেছিলেন। আবার অধিকাংশ সাধক সম্প্রদায় উত্তরসাধিকা হিসাবে নারীকে গ্রহণ করতেন। এই সাধনার মধ্যে পৈশাচিক যৌনাচারের প্রভাব ছিল।

    বাঙালির ধর্মসাধনায় শুধু যে বৈষ্ণবপন্থীরাই অংশ নিয়েছিলেন তা নয়, কালী, দুর্গা প্রভৃতি শক্তি মুখ্য দেবীর আরাধনা একসময়ে বাংলায় যথেষ্ট প্রচলিত ছিল। জনমানসে তাই শাক্তসাধনার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। যারা দেবী কালিকার দক্ষিণাচারী বা গৃহীপূজক তাঁদের সাধনার মধ্যেও তন্ত্রের অবস্থান ঘটে যায়। এমনকি যখন শ্রীচৈতন্যদেবের ডাকে হাজার হাজার মানুষ নামসংকীর্তনে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তখনও শতাধিক আউল—বাউল সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটেছিল। তারা প্রেম—ভক্তির পূজারি হলেও তন্ত্রের নির্দেশাবলীকে সাধনার ক্ষেত্রে গ্রহণ করতেন। যেমন আমরা তান্ত্রিক মতে যৌনাচারের উৎকট প্রকোপ দেখতে পাই, বৈষ্ণবীয়রাও সেইভাবে সাধনসঙ্গিনী রাখতে শুরু করেন, তবে তাদের পারস্পরিক দেহগত সম্পর্ক শাক্তদের মতো এতখানি উৎকট বা যৌন অভিমুখী নয়। সেখানে হয়তো শারীরিক আকর্ষণের পাশে মানসিক আকর্ষণের একটা আলাদা স্থান ছিল। যাকে আমরা দেহাতীত ভালোবাসা বা ‘প্লেটোনিক লাভ’ বলে থাকি, তার প্রচ্ছন্ন প্রকাশ ঘটে এই বৈষ্ণবপন্থী নারী ও পুরুষের মধ্যে।

    এখানে আমরা চৈতন্যপন্থীদের দর্শনতত্ত্ব সম্পর্কেও আলোচনা করব। গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্ম ঈশ্বরকে সর্বশক্তিমান বলে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। তারা যে ধর্মমত প্রচার করেন সেখানে বলা হয় রাধা বিনা কৃষ্ণ অসিদ্ধ। অর্থাৎ তারা নারীশক্তির জাগরণের দিকে নজর দিয়েছিলেন। এই প্রথম বোধহয় নারীশক্তিকে এতখানি প্রাধান্য দেওয়া হল। একজন শাক্তসাধক মাতৃ আরাধনা কল্পে কালীর উপাসনা করে থাকেন। তিনি সন্তানবৎ দেবীর সেবা করেন। কিন্তু এক বৈষ্ণব সাধক যখন রাধা এবং কৃষ্ণের মধ্যে অমিল দর্শন করতে চান, তখন রাধা তার কাছে মাতৃ রূপে প্রতিভাত হন না। রাধা হলেন চিরন্তন প্রেমের পূজারি। এখানেই বৈষ্ণব ও শাক্তসাধনার তফাৎ।

    শাক্তের শক্তি কালিকা এবং বৈষ্ণবের শক্তি রাধিকা। এদের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য আছে। রাধিকা ছাড়া কৃষ্ণের কথা কোনও গোড়ীয় বৈষ্ণব ভাবতেও পারতেন না। অর্থাৎ একজন গৌড়ীয় সাধকের ক্ষেত্রে আমরা তিনটি সত্তা বা শক্তির উপস্থিতি দেখতে পাই—রাধা, কৃষ্ণ এবং সাধক। আর শক্তিসাধনার ক্ষেত্রে সাধক এবং দেবী কালিকা ছাড়া তৃতীয় কোনও ব্যক্তির প্রবেশ নিষেধ। শ্রীশ্রীচৈতন্যদেব যখন তাঁর অবতারত্ব প্রকাশ করছেন, তখন তাঁর শিষ্যরা রাধিকার ভাব ও কান্তিতে অঙ্গীকার করেছেন। আর এইভাবেই বৈষ্ণব চেতনার মধ্যে শক্তিতত্ত্বের প্রকাশ ঘটে গিয়েছিল।

    বাংলা ধর্মসাধনায় কিছুতেই আমরা শাক্তসাধনার প্রভাব উপেক্ষা করতে পারিনি। কৃত্তিবাস রামায়ণে দেখা গেছে যে রাম দেবীকে পুজো করছেন। দেবী চামুণ্ডা ও লঙ্কাপুরীর যে বিবরণ আছে সেটি পাঠ করলেও আমরা বাংলার সমাজে শাক্তধর্মের প্রভাব প্রতিপত্তি সম্পর্কে জানতে পারব। এই সংক্রান্ত স্তোত্রটি হল এইরকম—

    দুর্গে দুঃখহরাবারা দুর্গতিনাশিনী।
    দুর্গমে শরণ্যা বিন্ধ্যগিরি—নিবাসিনী।।
    দুরারাধ্যা ধ্যানসাধ্যা শক্তি—সনাতনী।
    পরাৎপরা পরমা প্রকৃতি—পুরাতনী।।
    নীলকণ্ঠপ্রিয়া নারায়ণী নিরাকারা।
    সারাৎসারা মূলশক্তি সচ্চিদা সাকারা।।
    মহিষমর্দিনী মহামায়া মহোদরী।
    শিবনিতম্বিনী শ্যামা সর্ব্বানী শঙ্করী।।
    বিরূপাক্ষী মাতাঙ্গী সারদা শাকম্ভরী।
    ভ্রামরী ভবানী ভীমা ধূমা ক্ষেমঙ্করী।।
    কালী কালহরা কালাকালে কর পায়।
    কুলকুণ্ডলিনী কর কাতরে নিস্তার।।
    লম্বোদরী বাঘাম্বরা কলুষনাশিনী।
    কৃতান্তদলনী কাল—উরুবিলাসিনী।।
    ইত্যাদি অনেক স্তব করিলা শ্রীহরি।
    তুষ্টা হৈলা হৈমবতী পরম ঈশ্বরী।।

    বিষ্ণুর অবতার রামচন্দ্র। অথচ তিনি দেবী দুর্গার আরাধনা করছেন। এতেই কি প্রমাণিত হয় না যে এক সময় শাক্তধর্মের জনপ্রিয়তা এবং ব্যাপকতা সর্বত্র পরিব্যাপ্ত হয়েছিল? বাংলার বাইরে রামায়ণ কথায় এমন প্রসঙ্গ থাকার কথা ভাবাই যায় না। যেহেতু বাঙালি শক্তিবাদের প্রচারক এবং উপাসক, তাই বোধহয় বাঙালি লেখকের পক্ষে এমন কথা বলা সম্ভব হয়েছে। প্রবল বৈষ্ণব প্রভাবেও বাঙালি রামায়ণ থেকে এই শাক্ত আনুগত্য মুছে দিতে পারেনি।

    বাংলার শক্তিদেবীর পূজা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত আছে। দুর্গাপূজা বাঙালির জাতীয় জীবনে শ্রেষ্ঠ উৎসব হিসাবে কয়েকশো বছর ধরে গণ্য হয়ে আসছে। মনে হয় চৈতন্যযুগের সমবয়সী হল এই জাতীয় উৎসব। এখন অবশ্য আমরা অনেক ক্ষেত্রে দুর্গাপূজায় পশু বলিদানের পরিবর্তে চালকুমড়ো, আখ প্রভৃতি বলির ব্যবস্থা করি। কিন্তু বলির বিষয়টি এই পূজার সঙ্গে অঙ্গীভূত রয়েছে। বাঙালির মনকৃষ্টির এই বিশেষ প্রবণতার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ধীরে ধীরে শক্তিসাধনার বৈচিত্র্য, তন্ত্র, শাক্ত এবং বাংলা সাহিত্যে তার ব্যাপক প্রভাব সম্পর্কে আলোকপাত করব। এই আলোচনা থেকেই প্রমাণিত হবে যে আধুনিক যুগেও অন্তসলিলা ফল্গুর মতো বাঙালি চেতনার মানসিকতায় শাক্ত ভাবধারা প্রবাহিত আছে।

    এখন মানুষ আগের থেকে অনেক উন্নত হয়েছে এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। মধ্যযুগীয় কুসংস্কারের অন্ধকার বিবর থেকে মুক্তি পেয়েছে সে। এখন তাকে বিশ্বমানবতার নীল আকাশ হাতছানি দিয়ে ডাকছে। তা সত্ত্বেও তার মনের গহন কোণে এখনও কি শাক্ততন্ত্রের প্রতি এক আলাদা আকর্ষণ লুকিয়ে নেই? কোনও বাঙালি কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে যে মাতৃশক্তি তাকে সেইভাবে আকর্ষণ করে না? নাকি নতুন কোনও প্রেক্ষাপটে নতুন দৃষ্টিভঙ্গীতে এই প্রজন্মের তরুণ—তরুণীরা শাক্তবাদের পূজারি হবার ইচ্ছা প্রকাশ করেন?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসিডনি সেলডন রচনাসমগ্র ১ – ভাষান্তর : পৃথ্বীরাজ সেন
    Next Article জেমস বন্ড সমগ্র – ইয়ান ফ্লেমিং

    Related Articles

    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    অষ্টাদশ পুরাণ সমগ্র – পৃথ্বীরাজ সেন সম্পাদিত

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    জেমস বন্ড সমগ্র – ইয়ান ফ্লেমিং

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    সিডনি সেলডন রচনাসমগ্র ১ – ভাষান্তর : পৃথ্বীরাজ সেন

    September 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }