Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বাইবেল : সংক্ষিপ্ত ইতিহাস – ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    ক্যারেন আর্মস্ট্রং এক পাতা গল্প247 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৭. সোলা স্ক্রিপচুরা

    ষোড়শ শতাব্দীতে ইউরোপে এক জটিল প্রক্রিয়া চলমান ছিল যা অপরিবর্তনীয়ভাবে পাশ্চাত্য জনগণের বিশ্বকে উপলব্ধি করার কায়দাই পাল্টে দেবে। অসংখ্য ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে যুগপৎভাবে এগিয়ে চলা আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের কোনওটাকেই সেই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ মনে না হলেও সেগুলোর সমন্বিত ফল হবে চরম। ইবারিয় অভিযাত্রীরা এক নতুন জগৎ আবিষ্কার করছিলেন, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আকাশমণ্ডলীকে উন্মুক্ত করছিলেন এবং নতুন প্রযুক্তিগত দক্ষতা ইউরোপিয়দের অতীতের যেকোনও সময়ের চেয়ে পরিবেশের উপর অধিকতর নিয়ন্ত্রণে সক্ষম করে তুলছিল। খুবই ধীরে বাস্তববাদী, বৈজ্ঞানিক চেতনা মধ্যযুগীয় সংবেদনশীলতাকে বিঘ্নিত করতে শুরু করেছিল। বিপর্যয়ের একটা বোধ সাধারণ মানুষকে অসহায় ও উদ্বিগ্ন অবস্থায় ফেলে দিয়েছিল। চতুর্দশ ও পঞ্চদশ শতাব্দীতে কৃষ্ণ মৃত্যুর কারণে ইউরোপের এক তৃতীয়াংশ অধিবাসী প্রাণ হারিয়েছিল, অটোমান তুর্করা ১৪৫৩ সালে ক্রিশ্চান বাইযান্তিয়াম অধিকার করে নেয় এবং আভিগনন ক্যাপ্টিভিটির পাপাল কেলেঙ্কারী ও মহাবিবাদ, যখন অন্তত তিনজন পন্টিফ সী অভ পিটারের অধিকার দাবি করেছিলেন, অনেককেই প্রতিষ্ঠিত চার্চ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল। জনগণ অচিরেই প্রথাগতভাবে ধার্মিক থাকার ব্যাপারটি অসম্ভব আবিষ্কার করবে এবং তা তাদের বাইবেল পাঠকে প্রভাবিত করবে।

    পাশ্চাত্যবাসীরা এমন এক সভ্যতা তৈরি করতে যাচ্ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে যার কোনও পূর্ব নজীর ছিল না, কিন্তু এই নতুন যুগের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে অনেকেই আদ ফন্তাসে-তাদের সংস্কৃতির ঝর্নাধারায়-গ্রিস ও রোমের ধ্রুপদী বিশ্বের পাশাপাশি আদি ক্রিশ্চান ধর্মে ফিরে চেয়েছে। রেনেইসাঁ আমলের দার্শনিক ও মানবতাবাদীগণ মধ্যযুগের বহু ধার্মিকতা, বিশেষ করে স্কলাস্টিক ধর্মতত্ত্বের ব্যাপারে কড়া সমালোচনামুখর ছিলেন। একে তারা বড্ড বেশি বিশুষ্ক ও বিমূর্ত আবিষ্কার করে বাইবেল ও ফাদার অভ দ্য চার্চে ফিরে যেতে চেয়েছেন।’ ক্রিশ্চান ধর্ম, তাদের বিশ্বাস ছিল, মতবাদের কতগুলোর সমষ্টি হওয়ার বদলে এক ধরনের অভিজ্ঞতা হওয়া উচিত। কিন্তু মানবতাবাদীরা কালের বৈজ্ঞানিক চেতনাও আত্মস্থ করেছিলেন এবং বাইবেলিয় টেক্সটসমূহ আরও বস্তুনিষ্ঠভাবে পড়তে শুরু করেছিলেন। রেনেই সাঁকে সাধারণভাবে ধ্রুপদী প্যাগান মতবাদের পুনরাবিষ্কারের জন্যে স্মরণ করা হয়, কিন্তু এর জোরাল বাইবেলিয় চরিত্রও ছিল, অংশত তা গ্রিক ভাষা পাঠ করার সম্পূর্ণ নতুন উৎসাহের কারণে অনুপ্রাণিত ছিল। মানবতাবাদীরা মূল ভাষায় পল ও হোমার পাঠ শুরু করেছিলেন, এই অভিজ্ঞতা তাদের কাছে উত্তেজনাকর ঠেকেছে।

    মধ্যযুগে খুব অল্প সংখ্যক লোকই গ্রিক ভাষার সাথে পরিচিত ছিল, কিন্তু অটোমান যুদ্ধ থেকে সৃষ্ট বাইযান্তাইন শরণার্থীরা পঞ্চদশ শতকে ইউরোপে পালিয়ে যায়, নিজেদের তারা শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত করেছিল। ১৫১৯ সালে ওলন্দাজ মানবতাবাদী দেসিদেরাস ইরাসমাস (১৪৬৬-১৫৩৬) নিউ টেস্টামেন্টের গ্রিক টেক্সট প্রকাশ করেন, একে তিনি এমন এক সিসেরোনিয় লাতিনে তর্জমা করেছিলেন যা ভালগাতের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। মানবতাবাদীরা সব কিছুর উপরে স্টাইল ও রেটোরিকের মূল্য দিতেন। শত শত বছর ধরে টেক্সটে পুঞ্জীভূত নানা ভ্রান্তি সম্পর্কেও ভাবিত ছিলেন তারা, বাইবেলকে অতীতের সংযোজন ও ভার থেকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন।

    মুদ্রণ যন্ত্রের আবিষ্কারের ফলেই ইরাসমাসের পক্ষে তাঁর অনুবাদ প্ৰকাশ করা সম্ভব হয়েছিল। এই বিষয়টি বিপুল গুরুত্ববহ। গ্রিক জানা যে কেউই এখন মূল গস্পেল পাঠ করতে পারছিল। অন্য পণ্ডিতগণ আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে দ্রুততার সাথে তর্জমা পর্যালোচনা ও উন্নতির পরামর্শ দিতে পারছিলেন। এইসব পরামর্শে ইরাসমাস লাভবান হন, মৃত্যুর আগে নিউ টেস্টামেন্টের বেশ কয়েকটি সংস্করণ বের করেন তিনি। তিনি বেশ ভালোভাবেই ইতালিয় মানবতাবাদী লরেনযো ভল্লা (১৪০৫-৫৭) প্রভাবিত ছিলেন। মূল নিউ টেস্টামেন্টের ‘প্রুফ টেক্সট’ বের করেছিলেন তিনি যা চার্চের মতবাদের সমর্থনে ব্যবহার করা হতো, কিন্তু তিনি ভালগাত সংস্করণকে মূল গ্রিকের পাশে স্থান দিয়ে উল্লেখ করেছিলেন যে ভালগাত এতটাই ত্রুটিপূর্ণ যে, এই টেক্সটগুলো সব সময় তাদের বক্তব্য ‘প্রমাণ’ করেনি। কিন্তু ভল্লার কোলাশিও কেবল পাণ্ডুলিপি রূপেই পাওয়া যেত, ইরাসমাস এর মুদ্রণের ব্যবস্থা করেন এবং সাথে সাথে তা অনেক বেশি সংখ্যক শ্রোতার কাছে পৌঁছে যায়।

    এখন বাইবেল মূলে পাঠ করাটাই দস্তুরে পরিণত হয়েছিল। এই পণ্ডিতি প্রয়োজন বাইবেলের প্রাচীনত্ব সম্পর্কে আরও নিরাসক্ত ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গিকে উৎসাহ যোগায়। এর আগে পর্যন্ত ব্যাখ্যাকারগণ বাইবেলকে বৈচিত্র্যময় বিভিন্ন পুস্তকের বদলে একটি অখণ্ড রচনা ভাবতেই পছন্দ করতেন। তারা হয়তো বাস্তবে একক খণ্ডে সমস্ত ঐশীগ্রন্থকে না দেখে থাকতে পারেন, কিন্তু বিভিন্ন পরস্পরবিরোধী টেক্সটকে সংযুক্ত করার চর্চা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও সময়ের পার্থক্যকে উপেক্ষা করতে উৎসাহিত করেছে। মানবতাবাদীরা এবার বাইবেলের লেখকদের, তাদের বিশেষ মেধা ও বৈশিষ্ট্য লক্ষ করে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি হিসাবে পাঠ করতে শুরু করেছিলেন। বিশেষ করে পলের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন তারা যার স্টাইল মূল কোইনে গ্রিকে নতুন সচেতনতা গ্রহণ করেছিল। মুক্তির জন্যে তাঁর প্রবল সন্ধান ছিল স্কলাস্টিক যুক্তিবাদের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যকর প্রতিষেধক। এ যুগের মানবতাবাদীদের বিপরীতে তারা ধর্ম সম্পর্কে সংশয়ী ছিলেন না, বরং উৎসাহী পলিয় ক্রিশ্চানে পরিণত হয়েছিলেন।

    বিশেষ করে পলের পাপ সম্পর্কীয় তীব্র বোধের সাথে সাহনুভূতিশীল হতে পেরেছিলেন তাঁরা। কষ্টকর সামাজিক পরিবর্তনের একটা কাল প্রায়শই উদ্বেগে বৈশিষ্টায়িত হয়ে থাকে। সাধারণ মানুষ নিজেদের দিশাহারা ও অক্ষম ভাবতে শুরু করে, ইন মিদিয়াস রেস-এ বাস করে সমাজ কোন পথে এগোচ্ছে বুঝতে পারে না, কিন্তু সামঞ্জস্যহীন, বিক্ষিপ্তভাবে এর অন্তস্থ পরিবর্তন অনুভব করতে পারে। ষোড়শ শতকের গোড়ার দিকের রোমাঞ্চকর বিভিন্ন সাফল্যের পাশাপাশি ব্যাপক বিস্তৃত দুর্ভোগও ছিল। প্রোটেস্ট্যান্ট সংস্কারক হালদ্রিচ যিউইংলি (১৪৮১-১৫৩১) এবং জন কালভিন (১৫০৯-৬৪) এক ধর্মীয় সমাধানের সন্ধান পাওয়ার আগে ব্যর্থতা ও ক্ষমতাহীনের তীব্র অনুভুতিতে তাড়িত হয়েছিলেন। সোসায়েটি অভ জেসাসের প্রতিষ্ঠাতা ক্যাথলিক সংস্কারক ইগনাশিয়াস লায়োলা (১৪৯১-১৫৫৬) ম্যাসের সময় এমন প্রবল কান্নায় ভেঙে পড়তেন যে ডাক্তাররা তাঁকে যখন তখন দৃষ্টিশক্তি হারানোর ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। ইতালিয় কবি ফ্রান্সেস্কো পিত্রাচ (১৩০৪-৭৪) সমান কাঁদুনে স্বভাবের ছিলেন: ‘কত চোখের পানিতে আমার পাপ ধুয়ে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছি, যাতে না কেঁদে এর কথা বলতে না পারি, কিন্তু এখন পর্যন্ত সবই ব্যর্থ হয়েছে। সত্যিই ঈশ্বরই সেরা আর আমি তুচ্ছ।

    খুব অল্পজনই জার্মানির এরফুর্তের অগাস্তিনিয় মঠের এক তরুণের চেয়ে সেকালের জ্বালাযন্ত্রণা অনুভব করেছেন:

    আমি সাধুর মতো নিষ্কলুষ জীবন যাপন করলেও ঈশ্বরের সামনে নিজেকে বিব্রতকর বিবেক নিয়ে পাপীর মতো মনে হয়েছে। আমি এও বিশ্বাস করতে পারিনি যে, আমার কাজ দিয়ে তাঁকে খুশি করতে পেরেছি। কারণ পাপীকে শাস্তিদানকারী ন্যায়পরায়ণ ঈশ্বরকে ভালোবাসার চেয়ে আমি আসলে তাঁকে ঘৃণা করেছি…আমার বিবেক আমাকে নিশ্চয়তা দেয়নি, তবে আমি সব সময়ই সন্দেহ করেছি আর বলেছি, ‘কাজটা তুমি ঠিক করোনি। যথেষ্ট অনুতপ্ত নও। স্বীকারোক্তিতে সেটা বাদ দিয়ে গেছ তুমি।”

    মার্টিন লুথার (১৪৮৩-১৩৪৭) শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন ক্রিশ্চানদের ভালো কাজের ভেতর দিয়ে ঈশ্বরের করুণা যাচাই করার জন্যে তাগিদ দানকারী উইলিয়াম অভ ওকহামের (c. ১২৮৭-১৩৪৭) স্কলাস্টিক দর্শনে। কিন্তু এক যন্ত্রণাকর বিষণ্নতার শিকারে পরিণত হন তিনি, প্রচলিত কোনও ধার্মিকতাই তাঁর চরম মৃত্যুভয়কে প্রশমিত করতে পারেনি। ভয় থেকে বাঁচতে উন্মত্তভাবে সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। তিনি বিশেষভাবে চার্চের ভাণ্ডার ভরে তোলার জন্যে প্রায়শ্চিত্ত বিক্রি করার পাপাল নীতিতে বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিলেন।

    অস্তিত্বমূলক সংকট থেকে ব্যাখ্যার সাহায্যে মুক্তি পেয়েছিলেন মার্টিন লুথার। প্রথমবার অখণ্ড বাইবেল দেখার পর তাতে তাঁর বোধের চেয়ে অনেক বেশি পুস্তক দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন।৬ ইউনিভার্সিটি অভ উইটেবার্গের প্রফেটসর অভ স্ক্রিপচার অ্যান্ড ফিলোসফিতে পরিণত হন লুথার এবং শ্লোক ও পলের রোমান ও গালিশিয় চিঠির উপর ভাষণ দানের সময় এক আধ্যাত্মিক সাফল্যের অভিজ্ঞতা লাভ করেন যা তাঁকে ওকহামিয় বন্দিশালা থেকে মুক্ত করে।

    শ্লোকের উপর লেকচারের শুরুটা ছিল প্রচলিত ধারার-লুথার পালাক্রমে প্রতিটি পঙক্তি চারটি অর্থ অনুযায়ী ব্যাখ্যা করছিলেন। কিন্তু দুটো তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন ছিল। প্রথমত, লুথার বিশ্ববিদ্যালয়ের মুদ্রাকর জোহানেস গুটেনবার্গকে তাঁর পছন্দ মোতাবেক পর্যাপ্ত মার্জিন ও নিজস্ব মন্তব্য লেখার জন্যে যথেষ্ট জায়গা রেখে একটা স্ত্যেত্রপুস্তক বানিয়ে দিতে বলেন। তিনি, কথিত আছে, প্রচলিত ব্যাখ্যা মুছে পবিত্র পৃষ্ঠা পরিষ্কার করেন নতুন করে শুরু করতে চেয়েছেন। দ্বিতীয়ত তিনি আক্ষরিক অর্থের সম্পূর্ণ নতুন একটা ধারণা সূচনা করেন। ‘আক্ষরিক’ বলে লেখকের আদি মনোভাবের কথা বোঝাননি তিনি, বুঝিয়েছেন ‘খৃস্টতত্ত্বীয়’। ‘গোটা ঐশীগ্রন্থে,’ দাবি করেছেন তিনি, ‘ক্রাইস্ট ছাড়া আর কিছুই নেই, সহজ কথায় বা বাঁকা কথায়।’* ‘ঐশীগ্রন্থের এই ক্রাইস্টকে,’ অন্য এক উপলক্ষ্যে জিজ্ঞাসা করেছেন তিনি, ‘সরিয়ে নিন, তারপর আর কী থাকবে সেখানে?১০

    এর চট জলদি জবাব হচ্ছে, অনেক কিছুই পাবেন আপনি। গোটা বাইবেলের সাথে পরিচিত হয়ে ওঠার সাথে সাথে লুথার সচেতন হয়ে ওঠেন যে বাইবেলে ক্রাইস্ট সম্পর্কে তেমন কিছুই নেই। এমনকি নিউ টেস্টামেন্টেও এমন পুস্তক আছে যেগুলো অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি ক্রাইস্টমুখী। এতে করে তিনি বছর পরিক্রমায় এক নতুন হারমেনেউটিক্স উদ্ভাবনে বাধ্য হয়েছিলেন। লুথারের সমাধান ছিল ‘অনুশাসনের ভেতরে এক নতুন অনুশাসন’ সৃষ্টি করা। তাঁর সময়ের মানুষ হিসাবে বিশেষভাবে পলের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন তিনি। পলের চিঠিপত্রগুলোয় অন্যান্য সিনপ্টিক গস্পেলের তুলনায় পুনরুত্থিত ক্রাইস্টের অভিজ্ঞতাকে অনেক বেশি মূল্যবান আবিষ্কার করেছেন, অন্যান্য গস্পেল জেসাস সম্পর্কে তেমন কিছুই বলেনি। একই কারণে তিনি জনের গস্পেল ও এপিসল অভ দ্য পিটারকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, কিন্তু হিব্রু, এপিসলস অভ জেমস অ্যান্ড জুয ও রেভেলেশনকে প্রান্তে ঠেলে দিয়েছেন। ‘ওল্ড টেস্টামেন্টে’র ক্ষেত্রেও একই মানদণ্ড ব্যবহার করেছেন তিনিঃ অ্যাপোক্রাইফা বাতিল করে দিয়েছেন; পেন্টাটিউকের আইনী অংশ ও ঐতিহাসিক পুস্তকের ব্যাপারে তাঁর কোনও মাথাব্যথা ছিল না। কিন্তু ক্রাইস্টের আগমনের পূর্বাভাস দানকারী পল প্রফেটসের সাথে একে উদ্ধৃত করেছিলেন বলে জেনেসিসকে এবং পলকে বুঝতে সাহায্য করায় শ্লোক ব্যক্তিগত অনুশাসনে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

    স্ত্যেত্রপুস্তকের উপর লেকচারের সময় লুথার ‘বাণী’, ‘ন্যায়নিষ্ঠতা,’ (হিব্রু, সেদ্দেক, লাতিন, জাস্টিশিয়া)-র অর্থ নিয়ে ভাবিত ছিলেন। ক্রিশ্চানরা প্রথাগতভাবে ডেভিডের রাজবংশের শ্লোকসমূহ জেসাসের প্রত্যক্ষ ভবিষ্যদ্বাণী হিসাবে পাঠ করে আসছিল। এভাবে, উদাহরণ স্বরূপ, ‘হে ঈশ্বর, তুমি রাজাকে আপনার শাসন, রাজপুত্রকে আপনার দানশীলতা দান কর’১২ পঙক্তিটি ক্রাইস্টের কথা বোঝাত। কিন্তু লুথারের জোর ছিল ভিন্ন। আক্ষরিকভাবে বুঝতে গেলে–অর্থাৎ লুথারের চোখে, খ্রিস্টতত্ত্বীয়ভাবে-’তোমার ধৰ্ম্মশীলতায় আমাকে উদ্ধার কর, রক্ষা কর, আকুতি ছিল পিতার প্রতি উচ্চারিত জেসাসের প্রার্থনা। কিন্তু নৈতিক অর্থ অনুযায়ী, শব্দগুলো ব্যক্তির নিস্তারের কথা বোঝায়, জেসাস যার প্রতি তার ধর্মশীলতা প্রদান করেছেন।১৪ লুথার ধীরে ধীরে টেক্সটকে সরাসরি নিজের আধ্যাত্মিক টানাপোড়েনের সাথে সম্পর্কিত করে এমন এক ধারণার দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন যে ঈশ্বরের করুণা লাভের জন্যে গুণ পূর্বশর্ত নয়, বরং এটা একটা স্বর্গীয় উপহার: ঈশ্বর কিন্তু তাঁর নিজস্ব ন্যায়বিচার ও ধর্মশীলতা মানবজাতিকে দান করেছেন।

    স্ত্যেত্রপুস্তকের উপর প্রদত্ত এই ভাষণের খুব বেশি দিন পরের কথা নয়, মঠের মিনারে গবেষণায় এক ব্যাখ্যামূলক সাফল্য লাভ করেন লুথার। ঈশ্বরের ন্যায়নিষ্ঠতার প্রকাশ হিসাবে পলের গস্পেলের বর্ণনা বোঝার জন্যে খেটে মরছিলেন তিনি। [গস্পেলে] ঈশ্বরের ন্যায়নিষ্ঠতা প্রকাশ পেয়েছে, যেমন লেখা আছে, ‘কিন্তু ধাৰ্ম্মিক ব্যক্তি বিশ্বাসহেতু বাঁচিবে।*৫ ওকহামিয় শিক্ষকগণ তাকে “ঈশ্বরের ন্যায়নিষ্ঠতাকে (জাস্টিশিয়া)’ পাপীকে শাস্তিদানকারী ঐশী সাজা হিসাবে বুঝতে শিখিয়েছিলেন। এটা কেমন করে ‘শুভ সংবাদ’ হতে পারে? বিশ্বাসের সাথে ঈশ্বরের ন্যায়বিচারের সম্পর্কই বা কি? লুথার দিন থেকে শুরু করে রাত ভোর না হওয়া পর্যন্ত টেক্সট নিয়ে ধ্যান করেছেন: গস্পেলে ‘ঈশ্বরের ন্যায়নিষ্ঠতা’ হচ্ছে স্বর্গীয় করুণা যা পাপীকে ঈশ্বরের নিজস্ব ভালোত্ব দিয়ে আবৃত করে। পাপীর কেবল প্রয়োজন বিশ্বাস। সাথে সাথে লুথারের সমস্ত উদ্বেগ ধুয়ে মুছে গেল। ‘মনে হলো যেন নবজন্ম লাভ করেছি, যেন উন্মুক্ত দরজা দিয়ে খোদ স্বর্গে প্রবেশ করেছি।[১৬]

    এর পর গোটা ঐশীগ্রন্থ এক নতুন অর্থ লাভ করল। রোমান্স-এর উপর লুথারের ভাষণের সময় তাতে লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা দিল। তাঁর পদ্ধতি অনেক কম আনুষ্ঠানিক ও মধ্যযুগীয় রীতিনীতির সাথে কম সংশ্লিষ্ট ছিল। তিনি আর চারটি অর্থ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছিলেন না, বরং নিজের বাইবেলের খৃস্টতত্ত্বীয় ব্যাখ্যার দিকে মনোযোগ দিয়েছেন, খোলামেলাভাবে স্কলাস্টিকসদের সমালোচনামুখর ছিলেন তিনি। যতক্ষণ তাঁর ‘বিশ্বাস’ আছে, পাপী বলতে পারবে, ‘ক্রাইস্ট আমার জন্যে অনেক করেছেন। তিনি ন্যায়বান। তিনি আমার প্রতিরক্ষা। আমার জন্যে প্রাণ দিয়েছেন তিনি। তিনি তাঁর ধর্মশীলতাকে আমার ধর্মশীলতায় পরিণত করেছেন।’১৭ কিন্তু ‘ধর্ম’ দিয়ে লুথার ‘বিশ্বাস’ বোঝাননি, বরং আস্থা ও আত্ম-পরিত্যাগের একটি প্রবণতা বুঝিয়েছেন। “বিশ্বাসের জন্যে তথ্য, জ্ঞান ও নিশ্চয়তার প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন স্বাধীন আত্মসমর্পণ ও [ঈশ্বরের] অনঅনভূত, অপরীক্ষিত ও অজ্ঞাত মাহাত্ম্য। ১৮

    গালিশিয়র উপর ভাষণে লুথার ‘বিশ্বাসের মাধ্যমে যৌক্তিকতার’ উপর বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন। এই চিঠিতে পল যেসব ইহুদি ক্রিশ্চান জেন্টাইল ধর্মান্তরিতদের গোটা মোজেসিয় আইন পালনের উপর জোর দিয়েছিল তাদের আক্রমণ করেছেন, পলের মতানুযায়ী প্রয়োজন কেবল ক্রাইস্টে ‘আস্থা’ (পিস্তিস)। লুথার আইন ও গস্পেলের ভেতর একটা পার্থক্য গড়ে তোলা শুরু করেছিলেন।১৯ আইন হচ্ছে তাঁর ক্রোধ ও মানুষের পাপময়তা প্রকাশ করার জন্যে ঈশ্বরের ব্যবহৃত অস্ত্র। আমরা ঐশীগ্রন্থে প্রাপ্ত দশ নির্দেশনার মতো অনমনীয় আইনের মোকাবিলা করি। পাপী এইসব দাবির সামনে ভয়ে পিছিয়ে যায়, এসবকে সে পূরণ করা অসম্ভব মনে করে। কিন্তু গস্পেল স্বর্গীয় করুণা প্রকাশ করেছে আমাদের যা রক্ষা করে। ‘আইন’ কেবল মোজেসিয় আইনেই সীমাবদ্ধ নয়, ওল্ড টেস্টামেন্টে গস্পেল রয়েছে (পয়গম্বরগণ যখন ক্রাইস্টের জন্যে অপেক্ষা করেছেন) এবং নিউ টেস্টামেন্টেও অনেক কষ্টকর নির্দেশনা রয়েছে। আইন ও গস্পেল উভয়ই ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে, কিন্তু কেবল গস্পেলই আমাদের রক্ষা করতে পারে।

    ১৫১৭ সালের ৩১শে অক্টোবর লুথার পাপমুক্তির সনদ বিক্রি ও পাপ মোচনের পোপের দাবির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বিটেনবার্গের চার্চের দরজায় পঁচানব্বইটি বিবৃতি গাঁথেন। প্রথম বিবৃতিটিই বাইবেলের কর্তৃপক্ষকে স্যাক্রামেন্টাল ঐতিহ্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। ‘আমাদের প্রভু ও মনিব জেসাস ক্রাইস্ট যখন বলেছেন “অনুশোচনা করো”, তিনি চেয়েছেন গোটা বিশ্বাসীদের সমগ্র জীবন অনুশোচনা করুক।’ ইরাসমাস থেকে লুথার শিখেছিলেন যে মেতানোইয়া, ভালগাত যার অনুবাদ করেছে পোয়েনিতেন্তিয়ান এগারে (‘অনুশোচনা করো’), মানে গোটা ক্রিশ্চান সত্তার ‘ঘুরে দাঁড়ানো’। এর মানে স্বীকারোক্তি দিতে অগ্রসর হওয়া নয়। বাইবেলের সমর্থন না থাকলে কোনও অনুশীলনী বা চর্চের ঐতিহ্য ঐশী আজ্ঞা দিতে পারে না। ইংস্টডের ধর্মতত্ত্বের প্রফেটসর জনাথান একের সাথে লেইপযিগে উন্মুক্ত বিতর্কে প্রথমবারের মতো লুথার তাঁর নতুন বিতর্কিত মতবাদ সোলা স্ক্রিপচুরা (‘কেবল ঐশীগ্রন্থ’) প্রকাশ করেন। লুথার কেমন করে বাইবেল বুঝতে পারবেন, প্রশ্ন করেন এক্, ‘পোপ, কাউন্সিল ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া?’ লুথার জবাব দিয়েছেন: ‘ঐশীগ্রন্থে সজ্জিত একজন সাধারণ মানুষকে পোপ বা কাউন্সিলের উপরে বিচার করতে হবে। ২০

    এটা ছিল এক নজীরবিহীন দাবি।২১ ইহুদি-ক্রিশ্চানরা সব সময়ই উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ঐতিহ্যের গুরুত্বকে মর্যাদা দিয়ে এসেছে। ইহুদিদের চোখে মৌখিক তোরাহ লিখিত তোরাহ উপলব্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নিউ টেস্টামেন্ট লেখা হওয়ার আগে গস্পেল মুখের কথায় প্রচারিত হতো ও ক্রিশ্চান ঐশীগ্রন্থ ছিল আইন ও প্রফেটস। চতুর্দশ শতাব্দী নাগাদ নিউ টেস্টামেন্টের অনুশাসন সম্পূর্ণ হওয়ার পর চার্চগুলো তাদের ক্রিড, লিটার্জি ও চার্চ কাউন্সিলের ঘোষণার পাশাপাশি ঐশীগ্রন্থের উপরও নির্ভর করেছে। ২২ তাসত্ত্বেও বিশ্বাসের মূলে ফিরে যাবার পরিকল্পিত প্রয়াস প্রটেস্ট্যান্ট সংস্কার সোলা স্ক্রিপ্‌চুরাকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালায় পরিণত করেছিল। আসলে লুথার স্বয়ং ঐতিহ্যকে বাতিল করেননি। যতক্ষণ ঐশীগ্রন্থের সাথে বিরোধিতা না করছে ততক্ষণ লিটার্জি ও ক্রিড ব্যবহারে খুশি ছিলেন তিনি, গস্পেল যে আদিতে মুখে মুখে প্রচারিত হয়েছে সেটা ভালো করেই জানতেন তিনি। একে লেখা হয়েছে, ব্যাখ্যা করেছেন তিনি, ধর্মদ্রোহের বিপদের কারণে এবং এটা আদর্শ থেকে পিছিয়ে পড়া তুলে ধরেছে। গস্পেলকে অবশ্যই ‘উচ্চকিত চিৎকার’-মৌখিক সারমন হয়ে থাকতে হবে। ঈশ্বরের বাণীকে লিখিত শব্দে সীমিত করা যাবে না, একে অবশ্যই প্রচারণা, ভাষণ এবং হাইম ও শ্লোক গাইবার মাধ্যমে মানব কণ্ঠে প্রাণ দান করতে হবে। ২৩

    কিন্তু মৌখিক শব্দের অঙ্গিকার সত্ত্বেও লুথারের মহান সাফল্য ছিল সম্ভবত জার্মান ভাষায় বাইবেলের অনুবাদ। নিউ টেস্টামেন্ট নিয়ে শুরু করেছিলেন তিনি, ইরাসমাসের গ্রিক টেক্সট থেকে এর তর্জমা করেন (১৫২২) এবং তারপর প্রচণ্ড গতিতে কাজ করে ১৫৩৪ সালে ওল্ড টেস্টামেন্ট শেষ করেন। লুথারের পরলোকগমনের সময় নাগাদ সত্তর জনের ভেতর একজন জার্মানের হাতে একটি মাতৃভাষায় লেখা নিউ টেস্টামেন্টট ও লুথারের জার্মান বাইবেল জার্মান ঐক্যের প্রতাঁকে পরিণত হয়েছিল। ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দীতে ইউরোপ পাপাসি ও পরম রাজতন্ত্র থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ার জন্যে কেন্দ্রিভূত রাষ্ট্রব্যবস্থা ছিল অপরিহার্য, মাতৃভাষার বাইবেল প্রাথমিক জাতীয় ইচ্ছার প্রতাঁকে পরিণত হয়েছিল। কিং জেমস বাইবেলে (১৬৬১) বাইবেলের ইংরেজি তর্জমাকে টিউডর স্টুয়ার্ট রাজতন্ত্রের প্রায় প্রতি পদক্ষেপেই সমর্থন ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

    যিউইংলি ও কালভিনও সোলা স্ক্রিপচুরার উপর ভিত্তি করে তাঁদের সংস্কার কর্মকাণ্ড করেছেন। ধর্মতত্ত্বে তেমন আগ্রহী ছিলেন না তাঁরা, ক্রিশ্চান জীবনের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়েই বেশি ভাবিত ছিলেন। মানবতাবাদীদের কাছে তাঁদের দুজনেরই অনেক ঋণ, মুল ভাষায় বাইবেল পাঠের গুরুত্বের প্রতি জোর দিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু লুথারের ‘অনুশাসনের ভেতর অনুশাসনের’ মতবাদ মানেননি। দুজনই তাঁদের সমাবেশ গোটা বাইবেলের সাথে পরিচিত থাকুক এমনটাই চেয়েছেন। যুরিখে যিউইংলির ধর্মতাত্ত্বিক সেমিনারি অসাধারণ বাইবেলিয় ধারাভাষ্য প্রকাশ করে, সারা ইউরোপে তা বিলি করা হয়। বাইবেলের যুরিখ অনুবাদটি লুথারের আগেই প্রকাশিত হয়েছিল। কালভিন বিশ্বাস করতেন, বাইবেলে সহজ, নিরক্ষর লোকজনের জন্যে লেখা হয়েছে, পণ্ডিতরা তাদের কাছ থেকে একে চুরি করেছেন। কিন্তু তিনি এটা বুঝতে পেরেছিলেন যে, তাদের দিক নির্দেশনার প্রয়োজন আছে। যাজকদের অবশ্যই র‍্যাবাই ও ফাদারদের ব্যাখ্যার সাথে ভালোভাবে পরিচিত থাকতে হবে এবং সমকালীন পাণ্ডিত্যের সাথেও জানাশোনা থাকতে হবে। সব সময় বাইবেলিয় অনুচ্ছেদসমূহকে মূল পরিপ্রেক্ষিতে দেখার সাথে সাথে বাইবেলকে নৈমিত্তিক জীবনের চাহিদার সাথেও সম্পর্কিত করতে হবে।

    গ্রিক ও রোমান ক্লাসিক পাঠ করার ফলে যিউইংলি অন্যান্য ধর্মীয় সংস্কৃতিকে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন:২৪ বাইবেল প্রত্যাদিষ্ট সত্যের একচেটিয়া দাবিদার নয়; সক্রেটিস ও প্লেটোও আত্মায় অনুপ্রাণিত ছিলেন, ক্রিশ্চানদের তাদের সাথে স্বর্গে দেখা হবে। লুথারের মতো যিউইংলি বিশ্বাস করতেন যে, লিখিত বাণীকে অবশ্যই উচ্চস্বরে উচ্চারণ করতে হবে। কারণ একজন যাজক ঠিক বাইবেলিয় লেখকদের মতোই আত্মা দ্বারা পরিচালিত হন। যিউইংলি নিজস্ব সারমনগুলোকে ভবিষ্যদ্বাণীমূলক ভাবতেন। তাঁর কাজ ছিল লিখিত বাণীকে প্রাণবন্ত করে তোলা ও একে সমাজে জীবন্ত শক্তিতে পরিণত করা। ঈশ্বর অতীতে কী করেছেন বাইবেল তার বর্ণনা নয়, বরং এখানে বর্তমানে কী করছেন সেটাই তুলে ধরে।২৫

    অবশ্য কালভিনের ধ্রুপদী সংস্কৃতি নিয়ে মাথাব্যথা ছিল না। তিনি লুথারের সাথে ক্রাইস্টের ঐশীগ্রন্থের মুল ফোকাস ও ঈশ্বরের চরম প্রকাশ হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন, কিন্তু হিব্রু বাইবেলের অনেক সুদূর প্রসারী উপলব্ধি ছিল কালভিনের। ইতিহাসের প্রতিটি ধাপে ঈশ্বরের প্রত্যাদেশ একটি ক্রম বিবর্তনমূলক প্রক্রিয়া ছিল, তিনি মানুষের সীমাবব্ধ ক্ষমতার সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন। ইসরায়েলকে দেওয়া ঈশ্বরের শিক্ষা ও নির্দেশনা সময় পরিক্রমায় উন্নত ও পরিবর্তিত হয়েছে।২৬ আব্রাহামের উপর অবতীর্ণ ধর্ম মোজেস বা ডেভিডের উপর অবতীর্ণ তোরাহর চেয়ে সহজ সমাজের উপযোগী করে নির্মিত ছিল। প্রত্যাদেশ ক্রমেই পরিষ্কার হয়ে এসেছে এবং জন দ্য ব্যাপ্টাইজারের সময় নাগাদ ক্রিস্তোসের প্রতি অধিকতর কেন্দ্রিভূত হয়েছে। কিন্তু লুথার যেমন যুক্তি দেখিয়েছেন, ওল্ড টেস্টামেন্ট স্রেফ ক্রাইস্ট সংক্রান্ত ছিল না। ইসরায়েলের সাথে কোভেন্যান্টের নিজস্ব সম্পূর্ণতা ছিল; একই ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে তা এবং তোরাহ পাঠ ক্রিশ্চানদের গস্পেল বুঝতে সাহায্য করবে। কালভিন সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রটেস্ট্যান্ট সংস্কারকে পরিণত হবেন এবং ক্রিশ্চানদের কাছে-বিশেষ করে অ্যাংলো-স্যাক্সনদের কাছে–ইহুদি ঐশীগ্রন্থ আগে থেকে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবেন।

    কালভিন একথা বলতে কখনও ক্লান্ত বোধ করেননি যে বাইবেলে ঈশ্বর নিজেকে আমাদের সীমাবদ্ধতায় নমিত করেছেন। বাণী উচ্চারণের ঐতিহাসিক পরিপ্রেক্ষিতে শর্তাধীন করা হয়েছে, তো বাইবেলের কম স্পষ্ট কাহিনীগুলোকে অবশ্যই এক চলমান প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে। এসবকে উপমাগতভাবে ব্যাখ্যা করে বসার কোনও প্রয়োজন নেই। জেনেসিসের সৃষ্টি কাহিনী এই বালবাতিভের (‘শিশুসুলভ বুলি’) একটা নজীর, যা এক জটিল প্রক্রিয়াকে অশিক্ষিত মানুষের মানসিকতার সাথে খাপ খাইয়েছে।২৭ এটা বিস্ময়ের কোনও ব্যাপার নয় যে, শিক্ষিত দার্শনিকদের নতুন তত্ত্বের সাথে জেনেসিসের কাহিনী মেলে না। কালভিন আধুনিক বিজ্ঞানের প্রতি যারপরনাই শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। একে কেবল ‘কিছু উন্মাদ লোক তারা বোঝে না এমন কিছু ব্যাপার বেপরোয়াভাবে প্রত্যাখ্যান করলেই’ নিন্দা করা ঠিক হবে না। করণ জ্যোতির্বিদ্যা কেবল প্রীতিকরই নয়, বরং জানাটা অনেক উপকারী: এটা অস্বীকার করা যাবে না যে, এই শিল্পকর্ম ঈশ্বরের সমীহ জাগানোর মতো প্রজ্ঞার প্রকাশ ঘটাচ্ছে। ঐশীগ্রন্থ বৈজ্ঞানিক সত্য শেখাবে এমনটা প্রত্যাশা করা অসম্ভব, জ্যেতির্বিদ্যা সম্পর্কে কেউ কিছু শিখতে চাইলে তার উচিত হবে ভিন্ন কোথাও খোঁজ করা। স্বাভাবিক পৃথিবী ছিল ঈশ্বরের প্রথম প্রত্যাদেশ, ক্রিশ্চানদের উচিত হবে নতুন ভৌগলিক, জীববিদ্যা বিষয়ক ভৌত বিজ্ঞানকে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড হিসাবে দেখা।’৩১

    মহান বিজ্ঞানীরাও এই মতের সমর্থক ছিলেন। নিকোলাস কোপার্নিকাস (১৪৭৩-১৫৪৩) বিজ্ঞানকে ‘মানুষের চেয়েও স্বর্গীয়’ মনে করতেন। ২ তাঁর হেলিওসেন্ট্রিক প্রকল্প এতটাই রেডিক্যাল ছিল যে অল্প সংখ্যক মানুষই হজম করতে পেরেছিল: মহাবিশ্বের কেন্দ্রে অবস্থান করার বদলে পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহ সূর্যের চারপাশে প্রদক্ষিণ করে যাচ্ছে; পৃথিবী এত স্থির মনে হলেও আসলে তা প্রবল বেগে ঘুরছে। গালিলিও গালিলি (১৫৬৪-১৬৪২) টেলিস্কোপের সাহায্যে গ্রহ পর্যবেক্ষণ করে প্রায়োগিকভাবে কোপার্নিকাসের তত্ত্ব পরীক্ষা করেন। ইনকুইজিশনের হাতে তিনি বাকরুদ্ধ ও বক্তব্য প্রত্যাহারে বাধ্য হন। কিন্তু তাঁর কিছুটা আগ্রাসী ও উস্কানীমূলক মেজাজও এই নিন্দাবাদের পেছনে ভূমিকা রেখেছিল। প্রথম দিকে ক্যাথলিক ও প্রটেস্ট্যান্টরা নতুন বিজ্ঞানকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেনি। ভাটিকানে প্রথম উপস্থাপন করা হলে পোপ কোপর্নিকাসের তত্ত্ব অনুমোদন করেছিলেন। প্রাথমিক কালের কালভিনিস্ট ও জেস্যুইটরা বিজ্ঞানী হলেও কেউ কেউ নতুন তত্ত্বের কারণে অস্বস্তি বোধ করেছে। কেমন করে আপনি কোপার্নিকাসের তত্ত্বকে জেনেসিসের আক্ষরিক অর্থের সাথে মেলাবেন? গালিলিওর কথা মতো চাঁদে প্রাণ থাকলে সেই মানুষগুলো কীকরে আদমের বংশধর হয়? পৃথিবীর ঘূর্ণন কীকরে ক্রাইস্টের স্বর্গে আরোহণের সাথে মেলানো যাবে? ঐশীগ্রন্থে বলা হয়েছে স্বর্গ ও পৃথিবী সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষের উপকারের জন্যে, কিন্তু পৃথিবী যদি স্রেফ একটা তুচ্ছ তারার চারপাশে ঘুরে বেড়ানো গ্রহ হয়, সেটা কেমন করে সম্ভব হবে? ৩১ প্রাচীন উপমামূলক ব্যাখ্যা ক্রিশ্চানদের পরিবর্তিত বিশ্বের সাখে খাপ খাওয়ানো অনেক সহজ করে তুলতে পারত।৩২ কিন্তু ঐশীগ্রন্থের আক্ষরিক অর্থের উপর ক্রমবর্ধমান গুরুত্বারোপ ছিল প্রাথমিক কালের আধুনিকতার ফল: প্রাথমিক আধুনিক কালের লোকজনের বৈজ্ঞানিক পক্ষপাতের জন্যে বাহ্যিক আইনের সাথে মানানসই হিসাবে সত্যিকে দেখতে শিখেছিল। কিন্তু অল্প দিনেই ক্রিশ্চানরা উপসংহারে পৌঁছাবে যে কোনও বই ঐতিহাসিক বা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণযোগ্য না হলে সেটা কোনওভাবেই সত্যি হতে পারে না।

    +

    ইহুদি জনগণ তখনও এই আক্ষরিকতার হুজুগে গা ভাষায়নি। ১৪৯২ সালে এক বিপর্যয়ের মোকাবিলা করেছে তারা, যা তাদের অনেককেই কব্বালাহর অতীন্দ্রিয় সান্ত্বনার দিকে মুখ ফেরাতে চালিত করেছে। ১৪৯২ সালে আরাগন ও ক্যাস্তিলের ক্যাথলিক রাজা-রানি ফার্নান্দো ও ইসাবেলা ইউরোপে শেষ মুসলিম ঘাঁটি গ্রানাদা দখল করে নেন। ইহুদি ও মুসলিমদের ক্রিশ্চান ধৰ্ম গ্ৰহণ বা দেশান্তরী হওয়ার ভেতর যেকোনও একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। অনেক ইহুদিই নির্বাসনকে বেছে নেয় ও নতুন অটোমান সাম্রাজ্যে আশ্রয় গ্রহণ করে। বেশ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অটোমান সাম্রাজ্যের অধীন প্যালেস্তাইনে বসতি গড়ে। দক্ষিণ গালিলির সাফেদে সাধুসূলভ অতীন্দ্রিয়বাদী ইসাক লুরিয়া (১৫৩৪-৭২) জেনেসিসের প্রথম অধ্যায়ের সাথে সম্পর্কহীন একটা কাব্বালিস্টিক মিথ গড়ে তোলেন, কিন্তু তারপরেও সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ লুরিয়ানিক কাব্বালাহ পোল্যান্ড থেকে ইরান পর্যন্ত ব্যাপক এলাকায় ইহুদি সম্প্রদায়ের ভেতর বিশাল অনুসারী লাভ করেছিল। বাবিলোনিয়ায় দেশান্তরের পর থেকেই নির্বাসন ইহুদিদের কাছে কেন্দ্ৰিয় বিষয় হয়ে উঠেছিল। স্প্যানিশ ইহুদিদের কাছে-সেফারদিম-স্বদেশভূমি হাতছাড়া হয়ে যাওয়াটা ছিল মন্দিরের ধ্বংসের পর তাদের জাতির উপর নেমে আসা সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। তাদের মনে হয়েছিল সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেছে, গোটা পৃথিবী ধসে পড়েছে। পরিচয়ের পক্ষে আবশ্যক স্মৃতিতে প্রোথিত জায়গা থেকে চিরকালের জন্যে উৎখাত হওয়ায় নির্বাসিতরা নিজেদের খোদ অস্তিত্বই বিপর্যয়ের মুখে বলে বুঝতে পেরেছিল। নির্বাসন মানুষের নিষ্ঠুরতার সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি একজন কথিত ন্যায়বিচারক ও দয়াময় ঈশ্বরের সৃষ্টি বিশ্বে অশুভের প্রকৃতি সংক্রান্ত জরুরি সমস্যাও স্পষ্ট করে তুলেছিল।

    লুরিয়ার নতুন মিথে ঈশ্বর স্বেচ্ছায় নির্বাসনে যাওয়ার মাধ্যমে সৃজনশীল প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। ঈশ্বর সর্বত্র বিরাজ করলে পৃথিবী টিকে থাকে কী করে? লুরিয়ার জবাব ছিল যিমযুমের (‘প্রত্যাহার’) মিথ: বলা হয়েছে, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের জন্যে জায়গা তৈরি করতে অন্তহীন এন সফ-কে নিজের মাঝেই একটা জায়গা শূন্য করে দিতে হয়েছে। এই সৃষ্টিতত্ত্ব বিভিন্ন দুর্ঘটনা, আদিম বিস্ফোরণ ও ভ্রান্ত সূচনায় আকীর্ণ, ‘P’-র বর্ণিত সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ তত্ত্ব থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। কিন্তু সেফারদিমদের কাছে লুরিয়ার মিথকে তাদের অকল্পনীয়, বিচূর্ণ পৃথিবীর অনেক নিখুঁত বর্ণনা মনে হয়েছে। সৃজনশীল প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে এন সফ ঐশী আলো দিয়ে যিমযুম প্রক্রিয়ায় নিজের তৈরি শূন্যতা ভরাট করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু একে চালিত করার জন্যে নকশা করা ‘পাত্র’ বা ‘পাইপ’ ভেঙে যায়। ফলে আদিম আলোর স্ফুলিঙ্গ ঈশ্বর-নন এমন গহ্বরে পতিত হয়। এর কিছু অংশ স্বর্গীয় জগতে ফিরে যায়, কিন্তু বাকিগুলো দিনের অশুভ প্রভাবান্বিত ঈশ্বরহীন বলয়ে রয়ে যায়, যেটাকে এন সফ–যেমন বলা হয়েছে–নিজের কাছ থেকে পরিশুদ্ধ করতে চেয়েছিলেন। এই দুর্ঘটনার পর সবকিছু স্থানচ্যুত হয়ে পড়ে। প্রথম সাব্বাথে আদম এই পরিস্থিতি সংশোধন করতে পারতেন, কিন্তু তিনি পাপ করার ফলে স্বর্গীয় স্ফুলিঙ্গসমূহ বস্তুতে আটকা পড়ে যায়। এখন স্থায়ী নির্বাসনে থাকা শেখিনাহ অবশিষ্ট সেফিরদের সাথে মিলিত হওয়ার জন্যে বিশ্বময় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু তারপরেও আশা আছে। ইহুদিরা অস্পৃশ্য হয়ে যায়নি, বরং পৃথিবীর নিস্তার লাভের পক্ষে আবশ্যক। নির্দেশনাসমূহের সযত্ন পরিপালন এবং সাফেদে বিকশিত বিশেষ আচার পালন শেখিনাহর গড়হেডের সাথে ‘পুনর্মিলন’ (তিরুন) কার্যকর করতে পারে, ইহুদিদের প্রতিশ্রুত ভূমিতে নিয়ে যেতে পারে ও বিশ্বকে পৌঁছে দিতে পারে এর সঠিক পর্যায়ে।

    লুরিয় কাব্বালাহয় বাইবেলের আক্ষরিক উপরিগত অর্থ আদিম বিপর্যয়ের লক্ষণ। মূলত তোরাহর অক্ষরসমূহ স্বর্গীয় আলোয় নুমিনাস ছিল এবং সেফিরদ–ঈশ্বরের পবিত্র নাম–তৈরি করতে একত্রিত হয়েছিল। প্রথম সৃষ্টির সময় আদম ছিলেন আধ্যাত্মিক সত্তা, কিন্তু তিনি যখন পাপ করলেন, তাঁর ‘মহান আত্মা’ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল, অনেক বেশি বস্তুগত হয়ে উঠল তাঁর প্রকৃতি। এই বিপর্যয়ের পর মানুষের এক ভিন্ন তোরাহর প্রয়োজন ছিল: স্বৰ্গীয় হরফ এখন শব্দ গঠন করেছে এবং মানুষ ও পার্থিব ঘটনাপ্রবাহের সাথে নিজেকে সম্পর্কিত করেছে, আর পবিত্র বস্তু থেকে জাগতিককে আলাদা করার জন্যে কমান্ডমেন্টসের ভৌত ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়েছে। কিন্তু তিক্কুন সম্পন্ন হওয়ার পর তোরাহ এর আদি আধ্যাত্মিকতায় পুনঃস্থাপিত হবে। ধার্মিক ব্যক্তিগণ কমান্ডমেন্টসের বস্তুগত পরিপালন খাড়া করতে পারলে,’ ব্যাখ্যা করেছেন লুরিয়া, ‘তখন তারা আত্মার স্বর্গীয় পোশাকে ঈশ্বর যখন মানুষকে সৃষ্টি করেছিলেন তখন যেমনটি ইচ্ছা করেছিলেন তেমন করে তৈরি করতে পারবে।’৩৫

    তিক্কুনের পুনঃস্থাপন বাইবেলকেও উদ্ধার করবে। কাব্বালিস্টরা বহু আগে থেকেই তাদের ঐশীগ্রন্থের ভ্রান্তি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিল। লুরিয়া কাব্বালাহয় হিব্রু বাইবেলের ঈশ্বর আদিম পুরুষ আদম কাদমানের অন্যতম ‘মুখায়বব’ (পায়ুফিম), নিম্নতর ছয়টি সেফিরদ দিয়ে তা তৈরি: বিচার (দিন), করুণা, সহানুভূতি, ধৈর্য, অভিজাত্য ও স্থিতিশীলতা। আদিতে এগুলো নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রেখেছিল, কিন্তু পাত্রের ভাঙনের পর দিনের বিধ্বংসী প্রবণতাকে অন্যান্য সেফিরদ সামাল দিয়ে রাখতে পারেনি। দিনের আধিপত্যের অধীনে তারা মিলিতভাবে লাপসারিয় পরবর্তী তোরাহয় প্রকাশিত উপাস্য যেইর আনপিনে-”অধৈর্য জন’-পরিণত হয়। এই কারণেই বাইবেলিয় ঈশ্বর প্রায়শই এমন নিষ্ঠুর ও রগচটা হিসাবে আবির্ভূত হয়েছেন। নারী সঙ্গী শেখিনাহ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় তিনি নিরাময়াতীত পুরুষে পরিণত হয়েছেন।

    তবে এই ট্র্যাজিক মিথে আশাবাদ রয়েছে। লুথার যেখানে মনে করেছিলেন, ব্যাক্তিগত নাজাত লাভে তাঁর কিছুই করার নেই, কাব্বালিস্টরা বিশ্বাস করত যে, তারা ঈশ্বরকে তাঁর প্রকৃত প্রকৃতিতে পুনঃস্থাপিত করতে ও নিজেদের ঐশীগ্রন্থকে সংস্কার করতে পারবে। নিজেদের বেদনাকে তারা অস্বীকার করেনি, প্রকৃতপক্ষে সেফেদের আচারআচরণের পরিকল্পনাই করা হয়েছিল এর মোকাবিলায় তাদের সাহায্য করার জন্যে। শেখিনাহর সাথে নিজেদের নির্বাসনকে মেলাতে তারা রাত জাগত, ধূলোয় নাক-মুখ ঘঁষত। কিন্তু লুরিয়া স্থির ছিলেন যে এখানে কোনও শোরগোল চলবে না। কাব্বালিস্টকে অবশ্যই শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিষাদের ভেতর কাজ করে যেতে হবে যতক্ষণ না সে আনন্দের একটা আভাস পাচ্ছে। রাত জাগা সব সময়ই যায়ের আনপিনের সাথে শেখিনাহ চূড়ান্ত মিলনের উপর ধ্যানের ভেতর দিয়ে শেষ হতো, এখানে তারা কল্পনা করত তাদের দেহ স্বর্গীয় সত্তার পার্থিব মন্দিরে পরিণত হয়েছে। তারা দিব্যদর্শন দেখত, বিস্ময় ও ভীতিতে কাঁপত ও এক পরমানন্দময় দুয়ের অভিজ্ঞতা লাভ করত যা নিষ্ঠুর ও অচেনা মনে হওয়া বিশ্বকে পাল্টে দিত।৩৬

    একতা ও আনন্দের এই বোধকে বাস্তব কর্মে তরজমা করতে হবে, কারণ শেখিনাহ বিষাদ ও বেদনায় ভরা কোথাও থাকতে পারে না। বিশ্বের অশুভ শক্তি থেকে বিষাদের উৎপত্তি ঘটে, তো তিক্কুনের পক্ষে আনন্দের চর্চা আবশ্যক। দিনের ব্যাপক উপস্থিতিকে ভারসাম্য দেওয়ার জন্যে কাব্বালিস্টের হৃদয়ে অবশ্যই কোনও রকম ক্রোধ বা আগ্রাসী ভাব থাকতে পারবে না, এমনকি গোয়মিদের প্রতিও না, যারা তাদের উপর নির্যাতন চালিয়েছে, নিপীড়ন করেছে। অন্যদের আহত করার জন্যে মারাত্মক শাস্তির ব্যবস্থা ছিল: যৌন হয়রানি, ক্ষতিকর গুজব, অন্যকে অপদস্থ করা এবং অভিভাবকদের অসম্মান করা।৩৭ লুরিয়ার সৃষ্টি কাহিনীর অতীন্দ্রিয় নবায়ন ইহুদিদের এমন এক সময়ে আনন্দময় ও দয়াময় চেতনা গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল যেখানে তারা ক্রোধ ও হতাশায় ডুবে যেতে পারত।

    +

    সোলা স্ক্রিপচুরার নতুন অনুশীলন ইউরোপের ক্রিশ্চানদের বেলায় এ কাজ করতে পারেনি। এমনকি ব্যাপক সাফল্যের পরেও লুথার মৃত্যুভয়ে ভীত ছিলেন। তিনি যেন অব্যাহতভাবে পোপ, তুর্কি, ইহুদি, নারী, বিদ্রোহী কৃষক, স্কলাস্টিক দার্শনিক ও তাঁর ধর্মতাত্ত্বিক সকল বিরোধীর প্রতি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ছিলেন। তিনি ও যিউইংলি ক্রাইস্টের লাস্ট সাপারে ইউক্যারিস্ট প্রতিষ্ঠা করে উচ্চারিত বাণী, ‘এটা আমার দেহ’৮-এর অর্থ নিয়ে ভীষণ বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিলেন। কালভিন দুজন সংস্কারকের মনকে আচ্ছন্ন করে রাখা ক্রোধ দেখে ভীত হয়ে উঠেছিলেন, যা এড়ানো উচিত ছিল ও যেত এমন এক বিভাজন সৃষ্টি করেছে। ‘দুপক্ষই আবেগ ছাড়া সত্যিকে অনুসরণ করার জন্যে অন্যের বক্তব্য শোনার মতো ধৈর্য ধরতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন, তা যেখানেই তা পাওয়া যাক না কেন,’ উপসংহার টেনেছেন তিনি। ‘আমি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বলতে চাই যে, তাদের মন বিতর্কের চরম ঘৃণায় অংশত ক্রুদ্ধ না থাকলে, মতানৈক্য খুব বেশি তীব্র ছিল না, খুব সহজেই সমন্বিত করা যেত।৩৯ বাইবেলের প্রতিটি অনুচ্ছেদের ব্যাপারে ব্যাখ্যাকারদের পক্ষে একমত হওয়া অসম্ভব; মতবিরোধকে অবশ্যই বিনয়ের সাথে খোলামনে সামাল দিতে হবে। তারপরেও কালভিন স্বয়ং সব সময় নিজের এই উঁচু নীতিমালা মেনে চলেননি, নিজের চার্চে ভিন্নমতাবলম্বীদের হত্যা করতে প্রস্তুত ছিলেন তিনি

    প্রটেস্ট্যান্ট সংস্কার পাশ্চাত্য আবির্ভূত হতে চলা নতুন সংস্কৃতির বহু আদর্শই তুলে ধরেছিল। অতীতের সমস্ত সভ্যতার মতো উদ্বৃত্ত কৃষিজ উৎপাদনের উপর নির্ভরশীলতার বদলে এর অর্থনীতি সম্পদের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত পুনরাবৃত্তি ও পুঁজির অবিরাম পুনর্বিনিয়োগের উপর নির্ভর করবে বলে এই সভ্যতাকে উৎপাদনশীল হতে হয়েছে। কালভিনের তত্ত্বকে কাজের নীতিমালার সমর্থনে ব্যবহার করা হবে। ব্যক্তিকে মুদ্রাকর, কারখানা শ্রমিক ও অফিসের কেরানির মতো তুচ্ছ পদেও অংশ গ্রহণ করতে হয়েছে এবং এভাবে কিছুটা হলেও শিক্ষা ও অক্ষরজ্ঞান লাভ করতে হয়েছে। এর ফলে তারা শেষ পর্যন্ত সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আরও বৃহৎ অংশ দাবি করেছে। অধিকতর গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্যে রাজনৈতিক উত্থান-পতন, বিপ্লব ও গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হবে। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবর্তন এক আন্তসম্পর্কযুক্ত প্রক্রিয়ার অংশ ছিল; প্রত্যেক উপাদান অন্যটির উপর নির্ভর করেছে এবং ধর্মকে অনিবার্যভাবে উন্নয়নের পাকে টেনে নিয়ে আসা হয়েছে।

    লোকে এখন ‘আধুনিক’ পদ্ধতিতে ঐশীগ্রন্থ পাঠ করছিল। প্রোটেস্ট্যান্টরা কেবল বাইবেলের উপর নির্ভর করে একাকী ঈশ্বরের সামনে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু মুদ্রণ কৌশল আবিষ্কৃত হয়ে প্রত্যেক ক্রিশ্চানে পক্ষে নিজস্ব কপি থাকা সম্ভবপর ও তারা সেটা পড়বার মতো অক্ষর জ্ঞানের অধিকারী হওয়ার আগে সেটা সম্ভবপর ছিল না। আধুনিকতার বাস্তব ভিত্তিক বৈজ্ঞানিক রীতিনীতি প্রাধান্য বিস্তার করার সাথে সাথে ক্রমবর্ধমান হারে প্রাপ্ত তথ্যের জন্যে ঐশীগ্রন্থ পাঠ করা হচ্ছিল। বিজ্ঞানকে নিবিড় বিশ্লেষণের উপর নির্ভর করতে হয়েছে, ফলে চিরন্তন দর্শনের প্রতীকী পদ্ধতি দুর্বোধ্য হয়ে উঠেছে। ইউক্যারিস্টের রুটি-লুথার ও যিউইংলিকে বিচ্ছিন্নকারী ইস্যু-এখন ‘স্রেফ’ প্রতাঁকে পরিণত হলো। ঐশীগ্রন্থের বাণীসমূহকে এক সময় স্বর্গীয় লোগোসের পার্থিব প্রতিরূপ হিসাবে দেখা হলেও এখন তা নুমিনাস মাত্রা খোয়াল। কিন্তু ক্রিশ্চানদের ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধান থেকে উদ্ধারকারী নীরব নিঃসঙ্গ পাঠ এমন এক স্বাধীনতা প্রকাশ করেছিল যা আধুনিক চেতনায় আবশ্যক হয়ে উঠবে।

    সোলা স্ক্রিপচুরা বিতর্কিত হলেও অভিনব ধারণা ছিল। কিন্তু প্রায়োগিক ক্ষেত্রে এটা বোঝাত যে প্রত্যেকেরই এইসব জটিল দলিলের ইচ্ছামাফিক ব্যাখ্যা করার ঈশ্বর প্রদত্ত অধিকার রয়েছে। প্রোটেস্ট্যান্ট বিভিন্ন গোষ্ঠী সংখ্যা বিস্তার করতে শুরু করেছিল, প্রত্যেকের দাবি ছিল কেবল তারাই বাইবেল উপলব্ধি করে। ১৫৩৪ সালে মান্সটারে একটি রেডিক্যাল প্রলয়বাদী দল ঐশীগ্রন্থের আক্ষরিক অর্থের উপর ভিত্তি করে স্বাধীন ধর্মতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করেছিল। এরা বহুগামীতাকে বৈধতা দিয়েছে, সহিংসতার নিন্দা করেছে ও ব্যক্তি মালিকানা বেআইনি ঘোষণা করেছে। স্বল্পায়ু এই পরীক্ষার মেয়াদ ছিল এক বছর, কিন্তু সংস্কারকদের তা সতর্ক করে তোলে। বাইবেলিয় পাঠ নিয়ন্ত্রণ করার জন্যে কোনও কর্তৃত্বপরায়ণ সংস্থা না থাকলে কে ঠিক সেটা কেমন করে জানবে কেউ? ‘কে আমাদের বিবেককে নিশ্চিত করার তথ্য যোগাবে, কে আমাদের খাঁটি ঈশ্বরের বাণী শিক্ষা দিচ্ছে, আমরা নাকি আমাদের প্রতিপক্ষ?’ প্রশ্ন করেছেন লুথার। ‘প্রত্যেক ধর্মান্ধকে তার খেয়ালখুশিমতো শিক্ষা দেওয়ার অধিকার দেওয়া হলে, সায় দিয়েছেন কালভিন: ‘এই ক্ষেত্রে সবাই যদি বিচারক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হয়ে যায়, কোনও কিছুই আর নিশ্চিত করে বলা যাবে না, আমাদের গোটা ধর্ম অনিশ্চয়তায় ভরে যাবে।’৪২

    ক্রমবর্ধমান হারে সমরূপতার দাবিদার ও নিপীড়নমূলক পন্থায় তা অর্জন করতে প্রস্তুত এক রাজনৈতিক বিশ্বে ধর্মীয় স্বাধীনতা সমস্যাসঙ্কুল হয়ে উঠছিল। সপ্তদশ শতাব্দীতে ইউরোপ যুদ্ধে আলোড়িত হয়েছে, যা হয়তো ধর্মীয় ইমেজারিতে প্রতিফলিত হয়ে থাকবে, কিন্তু সেগুলো আসলে নতুন ইউরোপের ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তার কারণেই সংগঠিত হয়েছিল। প্রাচীন সামন্তবাদী রাজ্যগুলোকে প্রাথমিকভাবে শক্তি প্রয়োগ করে ঐক্য আরোপ করতে পারবেন এমন একচ্ছত্র রাজণ্যের অধীনে দক্ষ, কেন্দ্রিভূত রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রয়োজন ছিল। ফার্নান্দো ও ইসাবেলা ঐক্যবদ্ধ স্পেন গঠন করার জন্যে প্রাচীন ইবারিয় রাজ্যগুলোকে একত্রিত করছিলেন, কিন্তু তাদের প্রজাসাধারণকে অনিরুদ্ধ স্বাধীনতা দেওয়ার মতো সম্পদ তখনও তাদের হাতে ছিল না। ইহুদি সম্প্রদায়ের মতো স্বায়ত্তশাসিত, স্ব-নিয়ন্ত্রিত সংস্থা ছিল না। এইসব ভিন্ন মতাবলম্বীদের তাড়া করে ফেরা স্প্যানিশ ইনকুইজিশন ছিল আধুনিকায়নের প্রতিষ্ঠান, আদর্শগত সমরূপতা ও জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।৪৩ আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া অগ্রসর হওয়ার সময় ইংল্যান্ডের মতো দেশসমূহের প্রটেস্ট্যান্ট নেতৃবৃন্দও তাদের ক্যাথলিক প্রজাদের ক্ষেত্রে একই রকম নিষ্ঠুর আচরণ করেছেন, তাদের রাষ্ট্রের শত্রু মনে করা হতো। তথাকথিত ধর্মের যুদ্ধসমূহ (১৬১৮-৪৮) আসলে ছিল ফ্রান্সের রাজা ও জার্মান রাজকুমারদের পক্ষে এক দীর্ঘ মেয়াদী সংগ্রাম। এরা রাজনৈতিকভাবে পবিত্র রোমান সাম্রাজ্য পাপাসির কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করতে চেয়েছিল, যদিও তা উগ্র কালভিনিস্ট ও পুনর্জাগরিত সংস্কৃত ক্যাথলিক মতবাদের বিরোধের ফলে জটিল রূপ ধারণ করে।

    আধুনিকায়ন ছিল প্রগতিশীল ও ক্ষমতায়নকারী, কিন্তু এর একটা সহজাত অসহিষ্ণুতা ছিল: পাশ্চাত্য সমাজকে সব সময়ই নিষ্ঠুর ও নিপীড়নমূলক বলে অনুভব করার মতো লোক সব সময়ই থাকবে। কারও জন্যে স্বাধীনতা অন্যের জন্যে দাসত্ব। ১৬২০ সালে ইংরেজ বসতি স্থাপনকারীদের একটা দল মেফ্লাওয়ারে চেপে আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে ম্যাসাচুসেটস-এর প্লাইমাউথ বন্দরে পৌঁছায়। এরা ছিল ইংরেজ পিউরিটান, উগ্রপন্থী কালভিনিস্ট যারা অ্যাংলিকান প্রতিষ্ঠানের হাতে নিপীড়িত হচ্ছে ভেবে নতুন বিশ্বে অবাসনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এরা ওল্ড টেস্টামেন্টে কালভিনের আগ্রহের উত্তরাধিকারী ছিল। বিশেষভাবে এক্সোডাসের কাহিনীর প্রতি আকৃষ্ট বোধ করত, একে তাদের নিজস্ব প্রকল্পেরই আক্ষরিক পূর্বাভাস মনে হয়েছে। ইংল্যান্ড ছিল তাদের জন্যে মিশর, ট্রান্সআটলান্টিক অভিযাত্রা ছিল বুনো প্রান্তরে ঘুরে বেড়ানো আর এবার তারা সেই প্রতিশ্রুত ভূমিতে এসে পৌঁছেছে, একে তারা নিউ কানান আখ্যায়িত করেছিল।[৪৪]

    পিউরিটানরা তাদের কলোনির বাইবেলিয় নাম রাখে: হেব্রন, সালেম, বেথলহেম, সায়ন ও জুদাহ। তাদের ভবিষ্যৎ নেতা জন উইনথ্রপ ১৬৩০ সালে আরবেলায় চেপে হাজির হয়ে সহযাত্রীদের উদ্দেশে ঘোষণা দিয়েছিলেন, আমেরিকাই ইসরায়েল; প্রাচীন ইসরায়েলিদের মতো তারা দেশের অধিকার নিতে যাচ্ছেন, কিন্তু ডিউটেরোনমিতে মোজেসের বক্তব্য উদ্ধৃত করেন তিনিঃ প্রভুর নির্দেশনার অনুসরণ করলেই তারা সফল হতে পারবেন, কিন্তু অমান্য করলে ধ্বংস হয়ে যাবেন।[৪৫] জমি দখলের কাজ করতে গিয়ে পিউরিটানরা স্থানীয় আমেরিকানদের সাথে সংঘাতে লিপ্ত হয়। এখানে তারা ঐশীগ্রন্থে এক ধরনের ম্যান্ডেটের সন্ধান পায়। পরবর্তীকালের উপনিবেশবাসীদের মতো কেউ কেউ বিশ্বাস করেছিল যে, দেশীয় অধিবাসীদের এই নিয়তিই পাওয়ার কথা: ওরা ‘পরিশ্রমী নয়, এদের কোনও শিল্পকলা, বিজ্ঞান, দক্ষতা বা ভূমি বা এর পণ্যকে উন্নত করার মতো কোনও বুদ্ধিও নেই,’ লিখেছেন উপনিবেশের বাণিজ্য প্রতিনিধি রবার্ট কাশম্যান, ‘প্রাচীন গোত্রপিতাগণ যেভাবে জমিন পতিত থাকায় কেউ কাজে লাগাচ্ছিল না বলে বিস্তৃত জমিনকে আরও প্রসারিত করেছিলেন…সুতরাং এখন কেউ কাজে লাগাতে চায় না এমন জমিন অধিকার করে নেওয়া বৈধ। ৪৬ পিকো বৈরী থাকলেও অন্য পিউরিটানরা তাদের আমারোকাইট ও ফিলিস্তনীদের সাথে তুলনা করেছে, ‘যারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কনফেডারেট গঠন করেছিল’ সুতরাং এভাবেই তাদের ধ্বংস হওয়া উচিত।’৪৭ কিন্তু বসতি স্থাপনকারীদের কারও কারও বিশ্বাস ছিল যে, স্থানীয় আমেরিকানরা ইসরায়েলের হারিয়ে যাওয়া দশটি গোত্র, অসিরিয়রা ৭২২ বিসিই-তে যাদের দেশান্তর করেছিল। পল যেহেতু ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন যে প্রলয়ের আগেই ইহুদিরা ক্রিশ্চান ধর্ম গ্রহণ করবে, পিকোদের ধর্মান্তরকরণ ক্রাইস্টের দ্বিতীয় আগমনকে ত্বরান্বিত করবে।

    পিউরিটানদের অনেকেই ধরে নিয়েছিল যে আমেরিকায় তাদের অভিবাসন প্রলয়ের পূর্বাভাসমাত্র। তাদের উপনিবেশ আসলে ইসায়াহর দেখা ‘পাহাড় চূড়ার শহর’, ‘শান্তি ও সুখের এক নতুন যুগের সূচনা। ১৬৩৪ সালে এডওয়ার্ড জনসন নিউ ইংল্যান্ডের ইতিহাস প্রকাশ করেন:

    জেনে রাখ এই দেশেই প্রভু এক নতুন স্বর্গ, নতুন পৃথিবী এবং একসাথে এক নতুন কমনওয়েল্থ সৃষ্টি করবেন।
    …এটা আসলে ক্রাইস্টের প্রতাপময় সংস্কার ও পূর্বের যেকোনও সময়ের চেয়ে ঢের জাঁকালভাবে তাঁর চার্চের পুনঃপ্রতিষ্ঠার সূচনা মাত্র। সুতরাং তিনি তাঁর উপস্থিতির চোখ ধাঁধানো ঔজ্জ্বল্য সৃষ্টি করেছেন যা তাঁর জাতির উৎসাহউদ্দীপনার জ্বলন্ত কাঁচে মিলিত হবে যেখান থেকে এটা বিশ্বের অন্যান্য অংশেও অনুভূত হতে শুরু করবে।

    সব আমেরিকান উপনিবেশবাসীই এই পিউরিটান দৃষ্টিভঙ্গি লালন করেনি, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রীতিনীতিতে তা অনেপনীয় প্রভাব রেখে গেছে। এক্সোডাস গুরুত্বপূর্ণ টেক্সটই রয়ে যাবে। ব্রিটেনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃবৃন্দ এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন: বেঞ্জামিন ফ্রাংকলিন চেয়েছিলেন জাতির মহান সীলমোহরে যেন সী অভ রীডসের দ্বিখণ্ডিত হওয়ার দৃশ্য থাকে, কিন্তু আমেরিকার প্রতাঁকে পরিণত হওয়া ঈগল কেবল প্রাচীন সাম্রাজ্যবাদী প্রতীকই ছিল না, বরং এর সাথে এক্সোডাসের সম্পর্ক ছিল।৫০

    অন্য অভিবাসীরা একইভাবে এক্সোডাসের কাহিনীর শরণাপন্ন হয়েছে: মরমন, আফ্রিকানারস ও ইউরোপের নির্যাতন থেকে পালিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অশ্রয় গ্রহণকারী ইহুদি। ঈশ্বর তাদের নিপীড়নের হাত থেকে রক্ষা করে এক নতুন দেশে প্রতিষ্ঠিত করেছেন–অনেক সময় অন্যের ক্ষতি সাধন করে। বহু আমেরিকান এখনও তাদের নির্ধারিত ভবিষ্যৎধারী মনোনীত জাতি মনে করে, নিজেদের দেশকে মনে করে অন্যান্য জাতির জন্যে আলোকবর্তিকা। আমেরিকান সংস্কারকদের মধ্যে নতুন করে শুরু করার জন্যে ‘বিরান এলাকায় ঘুরে বেড়ানো’র ঐতিহ্য রয়েছে। পরের অধ্যায়ে আমরা যেমন দেখব, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আমেরিকান প্রটেস্ট্যান্ট প্রলয় দিবস নিয়ে আচ্ছন্ন ছিল ও ইসরায়েলের সাথে প্রবল নৈকট্য বোধ করেছে। কিন্তু তাসত্ত্বেও আমেরিকানরা মুক্তি ও স্বাধীনতার প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ ছিল, দুই শো বছর ধরে তাদের মাঝে এক দাসত্বে বন্দি ইসরায়েল ছিল।

    ১৬১৯ সালে মেফ্লাওয়ার প্লাইমাউথে পৌঁছানোর আগে এক ওলন্দাজ ফ্রিগেট বিশ জন ‘নিগার’সহ ভার্জিনিয়ার উপকূলে নোঙর ফেলেছিল। এই নিগারদের পশ্চিম আফ্রিকায় আটক করার পর জোর করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল আমেরিকায়। ১৬৬০ সাল নাগাদ এ ধরনের আফ্রিকানদের মর্যাদা স্থির করা হয়েছিল। এরা ছিল দাস, যাদের কেনাবেচা যেত, আঘাত করা যেত, শেকল পরিয়ে গোত্র, স্ত্রী ও সন্তানদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা যেত।৫১ দাস হিসাবে তাদের ক্রিশ্চান ধর্মে দীক্ষা দেওয়া হয়েছিল, এক্সোডাস তাদেরও কাহিনীতে পরিণত হয়েছে। প্রথম দিকে সম্ভবত নিজেদের প্রথাগত ধর্ম আঁকড়ে ছিল তারা: দাসপ্রভুরা তাদের ধর্মান্তরের ব্যাপারে সতর্ক ছিল, তারা যাতে বাইবেল ব্যবহার করে মুক্তি ও মৌলিক মানবাধিকারের দাবি না তুলে বসে। কিন্তু ক্রিশ্চান ধর্ম দাসদের চোখে ব্যাপকভাবে কপটতাপূর্ণ মনে হয়ে থাকবে, কেননা যাজকগণ দাসত্বকে জায়েজ করতে ঐশীগ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দিতেন। তারা পৌত্র কানানের প্রতি নোয়াহর অভিশাপ, আফ্রিকান জাতির পূর্বপুরুষ হামের ছেলের গল্প বলতেন: ‘সে আপন ভ্রাতাদের দাসানুদাস হইবে। তারপরেও ১৭৮০-র দশকের দিকে আফ্রিকান আমেরিকান দাসরা নিজস্ব ভাষায় বাইবেলকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছিল। তাদের ক্রিশ্চান ধর্মের কেন্দ্রে ছিল ‘আধ্যাত্মিক’, বাইবেলিয় থিমের উপর ভিত্তি করে রচিত একটি গান, আফ্রিকান উপাসনার বৈশিষ্ট্য মাটিতে পা ঠোকা, ফুঁপিয়ে কাঁদা, হাততালি দেওয়া ও আর্তচিৎকার ছিল এর সাথে। দাসদের মাত্র ৫% পড়তে জানত, তো ‘আধ্যাত্মিক’ বাইবেলের আক্ষরিক অর্থের চেয়ে বরং বিভিন্ন বাইবেলিয় কাহিনীর মূল সুরের উপর কেন্দ্রিভূত ছিল। লুথারের মতো তারা তাদের নিজস্ব অবস্থার প্রতি সাড়া দিয়েছে এমন সব কাহিনীর উপর ভিত্তি করে নিজস্ব ‘অনুশাসনের ভেতরে অনুশাসন’ সৃষ্টি করেছিল: দেবদূতের সাথে জ্যাকবের মল্লযুদ্ধ, প্রতিশ্রুত ভূমিতে জোশুয়ার প্রবেশ, সিংহের আস্তানায় দানিয়েল ও জেসাসের পুনরুত্থানের ভোগান্তি। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবরণ ছিল এক্সোডাস: দাসদের মিশর ছিল আমেরিকা, একজন মাত্র ঈশ্বর তাদের উদ্ধার করবেন:

    ইসরায়েল যখন মিশরের দখলে ছিল,
    হে, আমার জাতিকে যেতে দাও!
    এতই নির্যাতনের শিকার হয়েছে যে দাঁড়াবার শক্তিও নেই,
    হে, আমার জাতিকে যেতে দাও!
    কোরাস: হে, ভাটিতে যাও, মোজেস
    মিশরের কবল থেকে দূরে
    রাজা ফারাওকে বলো
    আমার জাতিকে ছেড়ে দিতে!

    দাসরা তাদের চেতনাকে জোরাল করতে, যাপিত জগতের অমানবীয় অবস্থাকে সহ্য করার ব্যাপারে নিজেদের সাহায়্য করতে, ন্যায়বিচার দাবি করতে এক্সোডাসের কাহিনী ব্যবহার করেছে। আব্রাহাম লিংকন কর্তৃক দাস প্রথা উচ্ছেদের অনেক পরেও আধ্যাত্মিক টিকে ছিল: এক্সোডাস কাহিনী ১৯৬০-র দশকের মানবাধিকার আন্দোলনের সময় মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রকে অনুপ্রাণিত করেছিল এবং কিং ও ম্যালকম এক্স-এর হত্যাকাণ্ডের পর কৃষ্ণ লিবারেশন ধর্মবিদ জেমস হাল কোন যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে, ক্রিশ্চান ধর্মতত্ত্ব নিপীড়িতের আদর্শের সাথে সম্পূর্ণ একাত্ম ও তাদের মুক্তির সংগ্রামের ঐশী চরিত্রের প্রতি নিশ্চয়তা কৃষ্ণ ধর্মতত্ত্বে পরিণত হয়েছে।

    একটি মাত্র টেক্সটকে সম্পূর্ণ উল্টো অর্থে প্রয়োগের জান্যে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। যত বেশি সংখ্যক লোক বাইবেলকে আধ্যাত্মিকতার মূলে বসাতে চাইছিল ততই একক কোনও মৌল বার্তা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছিল। আফ্রিকান আমেরিকানরা যখন তাদের মুক্তির ধর্মতত্ত্ব গড়ে তুলতে বাইবেলের শরণাপন্ন হয়েছিল ঠিক সেই একই সময়ে কু ক্লাক্স ক্লান একে কাজে লাগিয়েছে কৃষ্ণদের লিঞ্চিং করার বিষয়টি জায়েজ করার জন্যে। কিন্তু এক্সোডাস কাহিনী সবার জন্যে মুক্তির কথা বোঝায়নি। বুনো প্রান্তরে মোজেসের বিরুদ্ধে যেসব ইসরায়েলি বিদ্রোহ করেছিল তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছিল; জোশুয়ার বাহিনী স্থানীয় কানানবাসীদের পাইকারী হত্যা করে। কৃষ্ণ নারীবাদী ধর্মতাত্ত্বিকরা উল্লেখ করেছেন যে, ইসারয়েলিদের অধিকারে দাস ছিল, ঈশ্বর তাদের মেয়েদের দাস হিসাবে বিক্রি করার অনুমতি দিয়েছিলেন ও ঈশ্বর প্রকৃত পক্ষে আব্রাহামকে মিশরিয় দাসনারী হ্যাঁগারকে বুনো প্রান্তরে পরিত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।৫ সোলা স্ক্রিপচুরা লোকজনকে বাইবেলের দিকে চালিত করতে পারত, কিন্তু কখনওই তা পরম কোনও ম্যান্ডেট যোগাতে পারেনিঃ লোকে সব সময়ই বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির সমর্থনে বিকল্প টেক্সট খুঁজে পেয়েছে। সপ্তদশ শতাব্দী নাগাদ ধার্মিক লোকেরা তীক্ষ্ণভাবে সজাগ হয়ে উঠছিল যে, বাইবেল বড়ই গোলমেলে গ্রন্থ, এটা এমন একটা সময় ছিল যখন স্পষ্টতা ও যৌক্তিকতার আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান হয়ে উঠেছিল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদ্য এইট – ক্যাথারিন নেভিল
    Next Article দ্য গ্রেট ট্রান্সফর্মেশন : আমাদের ধর্মীয় ঐতিহ্যের সূচনা – ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    Related Articles

    ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    আ হিস্ট্রি অফ গড – ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    August 4, 2025
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    ইসলাম : সংক্ষিপ্ত ইতিহাস – ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    August 4, 2025
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    পুরাণ : সংক্ষিপ্ত ইতিহাস – ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    August 4, 2025
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    বুদ্ধ – ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    August 4, 2025
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    স্রষ্টার জন্য লড়াই : মৌলবাদের ইতিহাস – ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    August 4, 2025
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    জেরুসালেম : ওয়ান সিটি থ্রি ফেইস – ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    August 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }