Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বাঘবন্দি মিসির আলি – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প108 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৩. দাওয়াতের কার্ড

    ৩

    বদরুল সাহেবের হাতে দাওয়াতের একটা কার্ড। দাওয়াতের কার্ডটা মিসির আলির। বদরুল সাহেবের ঠিকানায় এসেছে, তিনি নিজেই কার্ড দিতে এসেছেন। বিয়ের নিমন্ত্রণপত্র। মিসির আলি বললেন, আপনার আসার প্রয়োজন ছিল না। কার্ডটা কাউকে দিয়ে পাঠিয়ে দিলেই হত।

    বদরুল সাহেব বললেন, আপনার সঙ্গে তো কথা হয় না, ভাবলাম এই সুযোগে দুটা কথা বলে আসি। ঢাকা শহরে ভাড়াটে আর বাড়িওয়ালার মধ্যে সুসম্পর্ক হয় না। আমি চাই সুসম্পর্ক।

    মিসির আলি বললেন, আপনি বসুন।

    বদরুল সাহেব বললেন, বসব না। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ কথা বলে চলে যাব। নানান ব্যস্ততায় থাকি। বসে গল্পগুজব করার মতো সময় কোথায়? আমার বাড়িতে আপনার কোনো অসুবিধা হচ্ছে না তো?

    ‘জি না।’

    ‘অসুবিধা হলে সরাসরি আমাকে বলবেন। আগে ফতেকে বললেই হত। এখন আবার ফতে দোকান দিয়েছে। আলাদা বাসা নিবে।

    ‘আমার কোনো সমস্যা হলে আমি আপনাকেই বলব।

    ‘আপনার কাজের ছেলেটাকে এক কাপ চা দিতে বলুন। চা খেয়েই যাই। নিজের বাড়ির চায়ের চেয়ে অন্যের বাড়ির চা খেতে সব সময়ই ভালো লাগে।’

    মিসির আলি খানিকটা শঙ্কিত বোধ করলেন। খুব যারা কাজের মানুষ তারা মাঝে মাঝে গা এলিয়ে দেয়। এই ভদ্রলোক মনে হচ্ছে গা এলিয়ে দিতেই এসেছেন। মিসির আলির হাতে কোনো কাজকর্ম নেই—তারপরেও আজ তিনি সামান্য ব্যস্ত। ঢাকা মেডিকেল এসোসিয়েশনের একটা সেমিনারে যাবেন বলে ঠিক করেছেন। সবকিছু থেকে তিনি নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন। এই কাজটা ঠিক হচ্ছে না।

    বদরুল সাহেব চেয়ারে বসতে বসতে বললেন, আপনি কী করেন এটাই এখনো জানলাম না। আপনি করেন কী?

    মিসির আলি বললেন, কিছু করি না।

    ‘রিটায়ার করেছেন তাই তো?’

    ‘রিটায়ারও করি নি। মাস্টারি করতাম। চাকরি চলে গিয়েছিল।’

    ‘বলেন কি আপনার চলে কীভাবে?’

    ‘কয়েকটা বই লিখেছিলাম—সেখান থেকে রয়েলটি পাই। এতে কষ্টটষ্ট করে চলে যায়।’

    ‘বই বিক্রি বন্ধ হয়ে গেলে কী করবেন?’

    ‘তখন খুব সমস্যায় পড়ব।’

    ‘ফতের কাছে শুনলাম, বিয়েও করেন নি।’

    ঠিকই শুনেছেন। এতে একদিক দিয়ে সুবিধা হয়েছে-টাকাপয়সার সাপ্লাই বন্ধ হয়ে গেলে রাস্তায় নেমে পড়ব। একা মানুষের জন্যে বিরাট শহরে বাসস্থান ছাড়া বাস করা তেমন কঠিন না।

    বদরুল সাহেব বিস্মিত গলায় বললেন, রাতে ঘুমাবেন কোথায়? বাথরুম করবেন কোথায়?

    মিসির আলি হাসিমুখে বললেন, একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে।

    বদরুল সাহেব উঠে দাঁড়ালেন, ইতস্তত করে বললেন—বাড়ি ছাড়ার আগে আমাকে এক মাসের নোটিশ দিতে হবে।

    মিসির আলি বললেন, নোটিশ অবশ্যই দেব। আপনি চা না খেয়ে উঠে যাচ্ছেন। ‘চা খাব না।’

    মিসির আলির মনে হল এই ভদ্রলোক তার ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। তিনি এখন মিসির আলিকে ভাড়াটে হিসেবে দেখছেন না—একজন ছিন্নমূল মানুষ হিসেবে দেখছেন। ছিন্নমূল মানুষের সঙ্গে কোনো বাড়িওয়ালা কখনো গল্পগুজব করে সময় নষ্ট করবে না। মিসির আলির মনে হল—খুব শিগগিরই তিনি বাড়ি ছাড়ার নোটিশও পাবেন। যে ভাড়াটের টাকাপয়সার সাপ্লাইয়ের ঠিক নেই তাকে কোনো বাড়িওয়ালা রাখবে না।

    বদরুল সাহেব চলে যাওয়ায় মিসির আলির জন্যে খানিকটা সুবিধা হল। সেমিনারে যাওয়া যাবে। শুধু সেমিনার না, তিনি ঠিক করলেন—বিয়ের যে নিমন্ত্রণটা পেয়েছেন, সেখানেও যাবেন। প্লেট ভর্তি করে পোলাও নেবেন। হাতাহাতি করে রেজালা নেবেন। একগ্লাস বোরহানি থাকা সত্ত্বেও আরো একগ্লাস নিতে গিয়ে তাড়াহুড়া করে গ্লাস ফেলে পাশের জনের জামাকাপড় ভিজিয়ে দেবেন। নগরে বাস করতে হলে নাগরিক মানুষ হতে হয়। মিসির আলি ঠিক করলেন, তিনি পুরোপুরি নাগরিক মানুষ হবার একটা চেষ্টা চালাবেন।

    সেমিনারের বিষয়বস্তু বয়ঃসন্ধিকালীন মানসিক জটিলতা। গেস্ট স্পিকার অধ্যাপক স্টাইনার এসেছেন আমেরিকা থেকে। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিদ্যার অধ্যাপক। তিনি সস্ত্রীক দশ দিনের জন্যে এসেছেন। বাংলাদেশে একদিন থেকে চলে যাবেন নেপালের পোখরায়। দুদিন ছুটি কটিয়ে যাবেন নয়াদিল্লি। নয়াদিল্লির আরেকটি সেমিনার শেষ করে ইজিপ্ট হয়ে দেশে ফিরবেন। প্রফেসর স্টাইনারের মূল স্পনসর দিল্লির মেডিকেল এসোসিয়েশন। বাংলাদেশ ফাঁকতালে ঢুকে পড়েছে। যেহেতু নেপাল যাবার পথে বাংলাদেশের ঢাকায় একদিনের জন্যে ট্রানজিট নিতেই হবে কাজেই তাঁকে ধরা হল একটা দিন বাংলাদেশকে দিতে হবে। সেমিনারের গেস্ট স্পিকার হবার বিনীত অনুরোধ। তাঁকে সামান্য সম্মানী দেওয়া হবে। ঢাকায় একরাত তাঁকে রাখা হবে ফাইভ স্টার হোটেলে।

    বিদেশী বিশেষজ্ঞরা এই জাতীয় প্রস্তাবে সহজেই রাজি হয়ে যান। প্রফেসর স্টাইনারও সানন্দে রাজি হলেন। আরেকটা দেশ দেখা হলে মন্দ কি? প্রফেসর রাজি হওয়া মাত্রই ঢাকা মেডিকেল এসোসিয়েশনের কর্তাব্যক্তিরা ছোটাছুটি শুরু করলেন। বিদেশী বিশেষজ্ঞ এলেই হবে না, প্রধানমন্ত্রীকে আনতে হবে। প্রধানমন্ত্রী মানেই পাবলিসিটি। টিভিতে বিরাট কভারেজ। প্রধানমন্ত্রীর আগমনের কারণে মেডিকেল এসোসিয়েশনের কর্তাব্যক্তিদের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ঘোরাঘুরি বাড়তি সুযোগ। মোটামুটি নিরুত্তাপ ডাক্তারদের জীবনে কিছু উত্তাপ। সেমিনার উপলক্ষে খাওয়াদাওয়া। যেহেতু বিদেশী বিশেষজ্ঞ গেস্ট আসছেন তাঁর সম্মানে রাতে একটা এক্সক্লুসিভ ককটেল পার্টি। প্রধান বিষয় প্রধানমন্ত্রীর আগমন। মানের ক্রম অনুসারে ককটেল পার্টি, সেমিনারের খাওয়াদাওয়া, বিদেশী বিশেষজ্ঞকে নিয়ে শহর পর্যটন। সেমিনারটা ফাও।

    প্রায় এক সপ্তাহ কর্মকর্তারা ছোটাছুটি করলেন। তাঁরা পুরোপুরি হতাশ হয়ে গেলেন যখন জানা গেল এই সময় প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না। তিনি বিদেশে যাচ্ছেন। এই তারিখে প্রেসিডেন্টকেও পাওয়া যায় কি না সেই চেষ্টা চলতে থাকল। চারটা কমিটি করা হল। একটা হল এন্টারটেইনমেন্ট কমিটি। এই কমিটি সন্ধ্যাবেলায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। আরেকটি কমিটি হল ফুড কমিটি। এই কমিটির দায়িত্ব সেমিনারের খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করা। তৃতীয় কমিটি দেখছে ককটেল পার্টি। খুবই সেনসেটিভ বিষয়। কাকে দাওয়াত দিতে হবে কাকে দাওয়াত দিতে হবে না এটা চিন্তাভাবনা করে ঠিক করতে হবে। নানান ধরনের ড্রিংকের ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে বোতলের সংখ্যা এবং বৈচিত্র্য দেখে অধ্যাপক এবং অধ্যাপকপত্নীর চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। মূল সেমিনার বিষয়ে কোনো কমিটি হল না। এটা এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না। প্রফেসর স্টাইনারকে পাওয়া গেছে এটাই গুরুত্বপূর্ণ। সেমিনারে বাংলাদেশ থেকে দুটা পেপার পড়া হবে। পেপার দুটা তৈরি আছে—ব্যস আর কি।

    সেমিনার শেষ হয়েছে। দু ঘণ্টার সেমিনার শেষে অতিথিদের জন্যে লাইট রিফ্রেসমেন্ট। সাংবাদিক এবং অতিথিরা খাবারের টেবিলে প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়েছেন তাদের দেখে মনে হচ্ছে দীর্ঘদিন তাঁরা অনশনে ছিলেন। আজ অনশন ভঙ্গ করেছেন। কে কার আগে প্লেট নেবেন তা নিয়ে ধাক্কাধাক্কি চলছে। খাবার ভালো। ফাইভ স্টার হোটেলের খাবার, পাঁচশ টাকা প্লেটের রিফ্রেসমেন্ট খারাপ হবার কারণ নেই।

    এ ধরনের সেমিনারে মিসির আলি প্রথমে এক কাপ কফি নিয়ে নেন। শুরুতে চা এবং কফির টেবিল খালি থাকে। কোনোরকম ধাক্কাধাক্কি ছাড়াই চা-কফি নিয়ে নেওয়া যায়। নাশতার টেবিলের ভিড় যখন কমে তখন সেখানে নাশতা থাকে না।

    আজ ঘটনা অন্য রকম হল। মিসির আলি কফি নিয়ে এক কোনায় বসে কফিতে চুমুক দিচ্ছেন। তাঁর সিগারেট খেতে ইচ্ছা করছে কিন্তু জায়গাটা স্মোক ফ্রি কি না বুঝতে পারছেন না। অ্যাশট্রে চোখে পড়ছে না। এই সময় মিসির আলির পেছনে প্রফেসর স্টাইনার এসে উপস্থিত হলেন। বিশুদ্ধ বিস্ময় নিয়ে সাউথের উচ্চারণে ইংরেজিতে বললেন—প্রফেসর মিসির আলি না? আমার কথা মনে আছে?

    মিসির আলি বললেন, হ্যাঁ মনে আছে।

    ‘আপনি বাংলাদেশের তা ধারণা ছিল না। আমি জানতাম আপনি শ্রীলংকান।’

    মিসির আলি বললেন, আপনি তেমনভাবে আমার খোঁজ নেবার চেষ্টা করেন নি। ভাসা ভাসা খোঁজ নিয়েছেন কাজেই ভাসা ভাসা তথ্য পেয়েছেন।

    প্রফেসর স্টাইনার খুব ব্যস্ত হয়ে পড়েন তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে মিসির আলির পরিচয় করিয়ে দেবার জন্যে। তিনি মিসির আলির হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলেন তাঁর স্ত্রীর কাছে। মুগ্ধ গলায় বললেন—কেরোলিন ইনি হচ্ছেন—প্যারাসাইকোলজির গুরু। উনার কিছু প্রবন্ধ নিয়ে কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি একটি বই প্রকাশ করেছে। বইটির নাম দি থার্ড কামিং। আমি বইটি তোমাকেও পড়তে দিয়েছিলাম। আমি নিশ্চিত তুমি পড় নি। না পড়লেও পৃথিবী নামক এই গ্রহের কয়েকটি শুদ্ধতম ব্রেইনের অধিকারীদের একজনের সঙ্গে হ্যান্ডশেক কর। এই ঘটনার পর মিসির আলির আর নাশতার জন্যে চিন্তা করতে হল না। বিশিষ্ট মেহমানদের সঙ্গে খাবার জন্যে তাঁকে আলাদা করে নেওয়া হল। কর্মকর্তাদের একজন এক ফাঁকে গলা নিচু করে বলল, মিসির আলি সাহেব সন্ধ্যার পর ফ্রি থাকবেন। এক্সক্লুসিভ ককটেল পার্টি। হুইস্কির মধ্যে ব্লু লেভেল যোগাড় হয়েছে।

    মিসির আলি বললেন, আমি তো হুইস্কি খাই না।

    ‘লাইটার ড্রিংকসও আছে—খুব ভালো ওয়াইন আছে।’

    ‘আমি মদ্যপান করি না।’

    ‘কোক-পেপসিও আছে। কোক-পেপসি খাবেন।’

    মিসির আলি সহজ গলায় বললেন, মদের আসরে পেপসি কোকওয়ালাদের না থাকাই ভালো।

    ‘আপনার যে বই আছে তা জানতাম না। বইয়ের কপি কি আছে—একটা কপি আমাকে দেবেন তো।’

    ‘আমার কাছে কোনো কপি নাই। নিজের কপিও নাই।’

    আচ্ছা ঠিক আছে—আমি বই যোগাড় করে নেব। আমার জন্যে আমেরিকা থেকে বই আনা কোনো ব্যাপার না। আমার মেয়ে জামাই থাকে আমেরিকায়। ইন্টারনেটে জানিয়ে দিলে নেক্সট উইকে বই এসে যাবে। আপনার জন্যে কি একটা কপি আনাব?

    ‘না আমার জন্যে কোনো কপি লাগবে না।’

    মিসির আলি ভরপেট খাবার খেলেন। আরো এক কাপ কফি খেলেন। প্রফেসর সাহেবের স্ত্রী কিশোরীদের মতো কিছু আহ্লাদী তাঁর সঙ্গে করল—‘আমি কিন্তু এই বিখ্যাত মানুষটার সঙ্গে ছবি তুলব, এবং তাঁর অটোগ্রাফ নেব। ছবি সেশান এবং অটোগ্রাফ সেশানও শেষ হল। ফটোগ্রাফারদের ফ্ল্যাশ একের পর এক জ্বলতেই থাকল। মিসির আলি তাঁর মুখ হাসি হাসি করে রাখলেন। যে পূজার যে মন্ত্র। ফটো সেশান পূজার মন্ত্র হল—মুখভর্তি হাসি। মুখ হাসি হাসি করে রাখা যে এমন এক ক্লান্তিকর ব্যাপার তিনি জানতেন না। সেমিনার হলে মিসির আলি যতটা বিরক্ত হয়েছিলেন তারচেয়ে অনেক বিরক্ত হলেন সেমিনার-পরবর্তী কর্মকাণ্ডে।

    হোটেল থেকে বের হয়ে তাঁর বিরক্তি কেটে গেল। আকাশে মেঘ করেছে। কার্তিক মাসের ঘোলাটে পাতলা মেঘ না, আষাঢ়ের ঘন কালো মেঘ। মেঘ দেখেই মনে হচ্ছে বৃষ্টি নামবে। বর্ষাকালের বৃষ্টির এক ধরনের মজা, শীতের অপ্রত্যাশিত বৃষ্টির অন্য ধরনের মজা।

    ‘বৃষ্টি দেখলে মানুষ উতলা হয় কেন?’ এরকম চিন্তা করতে করতে মিসির আলি হাঁটতে শুরু করলেন। বৃষ্টি দেখে মন উতলা হবার তেমন কোনো বাস্তব কারণ নেই। ব্যবস্থাটা প্রকৃতি করে রেখেছে। সমস্ত প্রাণিকুলের জিনে কিছু তথ্য দিয়েছে। এই তথ্য বলছে—আকাশ যখন মেঘে ঢেকে যায় তখন তোমরা উতলা হবে। শুধু প্রাণিকুল না বৃক্ষকুলের জন্যেও একই তথ্য। এর কারণ কী? প্রকৃতি কি আমাদের বিশেষ কিছু বলতে চাচ্ছে যা আমরা ধরতে পারছি না। প্রকৃতি কি চায় বর্ষা বাদলায় আমরা বিশেষ কিছু ভাবি? অন্য ধরনের চিন্তা করি। বর্ষা বাদলার সঙ্গে সৃষ্টি সম্পর্কিত কিছু কি জড়িয়ে আছে? প্রকৃতি মানুষকে সরাসরি কিছু বলে না। সে কথা বলে ইঙ্গিতে। সেই ইঙ্গিত বোঝাও কঠিন।

    বাসায় ফিরে মিসির আলি স্বস্তি পেলেন। ইয়াসিন চলে এসেছে। বাসায় তালা খুলে ঢুকে পড়েছে। তালা খোলার ব্যাপারে এই ছেলেটির দক্ষতা ভালো। মিসির আলি সদর দরজার জন্যে তিন শ টাকা খরচ করে একটা আমেরিকান তালা লাগিয়েছিলেন। তালার প্যাকেটে লেখা ছিল—‘বার্গলার প্রুফ লক।’ সেই কঠিন তালা এগোরো-বারো বছরের একটা ছেলে মাথার ক্লিপ দিয়ে খুঁচিয়ে কীভাবে খুলে ফেলে সেটা এক রহস্য। একই সঙ্গে চিন্তারও বিষয়।

    ইয়াসিন যখন কাজ করে-মন লাগিয়ে কাজ করে, এবং অত্যন্ত দ্রুত কাজ করে। ঘর ঝাঁট দেওয়া হয়েছে। পানি দিয়ে মোছা হয়েছে। বিছানার চাদর বদলে নতুন চাদর টানটান করে বিছানো হয়েছে। দেয়াল ঘড়িতে ব্যাটারি লাগানো হয়েছে এবং ঘড়ি চলছে। ঠিক টাইম দিচ্ছে। ইয়াসিন যেহেতু ঘড়ির টাইম দেখতে পারে না কাজেই ধরে নেওয়া যায়—ঘড়ি নিয়ে দোকানে গিয়ে ব্যাটারি লাগিয়ে এনেছে। মিসির আলি সাহেবের পড়ার টেবিলও গোছানো। টেবিলের ওপর চকচকে পাঁচ শ টাকার একটা নোট— কলম দিয়ে চাপা দেওয়া।

    গত সপ্তাহে এই টেবিল থেকেই পাঁচ শ টাকার একটা নোট হারিয়েছে। সেই নোটও কলম দিয়ে চাপা দেওয়া ছিল। তিনি যখন ইয়াসিনকে জিজ্ঞেস করলেন, একটা পাঁচ শ টাকার নোট রেখেছিলাম নোটটা কোথায় রে?

    ইয়াসিন বলল, জানি না।

    ‘তুই নিয়েছিস নাকি?’

    ‘না।’

    ‘ভালো করে মনে করে দেখ নোটটা নিয়ে মনের ভুলে পকেটে রেখেছিস কি না।’

    ইয়াসিন আবারো বলল, না। তারপর থমথমে মুখে রান্নাঘরে ঢুকে গেল। মিসির আলির সামান্য মন খারাপ হল—ছেলেটা কি চুরি করা শিখছে? এবং এই চুরি শেখার জন্যে নানান জায়গায় টাকাপয়সা ছড়িয়ে রেখে তাকে সাহায্য করছে? তিনি এই বিষয়ে ইয়াসিনকে আর কিছু বলেন নি। ভেবে রেখেছিলেন, সময় সুযোগমতো নানান ব্যাখ্যা দিয়ে চুরি যে গুরুতর অপরাধের একটি তা বুঝিয়ে দেবেন। সেই প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে আর যাওয়া হয় নি। তারপর ঘটনাটা ভুলেই গেছেন। আজ টেবিলে পাঁচ শ টাকার নোট পড়ে থাকতে দেখে মনে পড়ল। তিনি ইয়াসিনকে ডাকলেন। শান্ত গলায় বললেন, টেবিলের ওপর পাঁচ শ টাকার নোট কে রেখেছে, তুই?

    ইয়াসিন হ্যাঁ-না, কিছুই বলল না।

    মিসির আলি বললেন, যে নোটটা হারিয়েছিল, এটা কিন্তু সেই নোট না। হারানো নোটটা ছিল ময়লা। আর এই নোটটা চকচক করছে।

    ইয়াসিন তার পরেও মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল।

    ‘তুই এখন করছিস কী?’

    ‘রান্ধি।’

    ‘কী রাধিস?’

    ‘হুকনা মরিচের ভর্তা, ডাইল আর ডিমের সালুন।’

    রান্না শেষ করার পর আমার কাছে আসবি—পাঁচ শ টাকার নোটের বিষয়ে কথা বলব। আমাকে ভয় পাবার কিছু নেই। আমি কখনো কাউকে শাস্তি দেই না। তুই কি আমাকে ভয় পাস?

    ‘না।’

    ইয়াসিন রান্নাঘরের দিকে চলে যাচ্ছে। আসন্ন বিচারসভা নিয়ে তাকে তেমন চিন্তিত মনে হচ্ছে না। তার পেট থেকে কোনো কথা বের করা যাবে এটাও মিসির আলির মনে হচ্ছে না। মানুষ দু শ্রেণীর—এক শ্রেণীর মানুষ কিছুতেই ভাঙবে না তবে মচকাবে। আরেক শ্রেণীর মানুষের চরিত্রে মচকানোর ব্যাপারটি নেই। সে ভেঙে দু টুকরা হবে, কিন্তু কিছুতেই মচকাবে না। ইয়াসিন দ্বিতীয় শ্রেণীর। পাঁচ শ টাকার নতুন নোট প্রসঙ্গে তার মুখ থেকে একটি বাক্যও বের করা যাবে না। সে পাথরের মতো মুখ করে মেজের দিকে তাকিয়ে থাকবে। বিড়াল যেমন গড়গড় শব্দ করে, মাঝে মাঝে এই ধরনের শব্দ করবে।

    বিজ্ঞান দ্রুত এগুচ্ছে—এমন যন্ত্র হয়তো খুব শিগগিরই বের হয়ে যাবে যার সামনে কাউকে বসালে তার মাথায় কী আছে সব পরদায় পরিষ্কার দেখা যাবে। মস্তিষ্কে জমা স্মৃতি ভিডিওর মতো পরদায় চলে আসবে। কোনো অপরাধী বলতে পারবে না—এই অপরাধ সে করে নি। মস্তিষ্ক থেকে স্মৃতি বের করে পরদায় নিয়ে আসা খুব কঠিন কোনো প্রযুক্তি বলে মিসির আলির মনে হয় না। আগামী বিশ-পঁচিশ বছরেই গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যাপারটা ঘটে যাবে।

    কিছুদিন আগে মিসির আলি কাগজে পড়েছেন—দুই ভাড়াটে খুনির ফাঁসি হয়ে গেছে। যারা তাকে ভাড়া করেছে তাদের কিছু হয় নি। তারা বেকসুর খালাস পেয়েছে। কারণ প্রমাণ নেই। নতুন পৃথিবীতে প্রমাণের জন্যে মাথা ঘামাতে হবে না। আদালতের নির্দেশে মাথা থেকে স্মৃতির টেপ সরাসরি নিয়ে নেওয়া হবে। নতুন পৃথিবীতে নির্দোষ মানুষ কখনো শাস্তি পাবে না।

    মিসির আলি বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকালেন। মেঘ আরো ঘন হয়েছে। শীতের ধূলি ধূসরিত শুকনো শহর তৃষিতের মতো তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে। এখন যদি কোনো কারণে বৃষ্টি না হয় তা হলে কষ্টের ব্যাপার হবে।

    ‘স্যার গো।’

    মিসির আলি চমকে তাকালেন। দরজা ধরে ইয়াসিন দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখে দুশ্চিন্তার লেশমাত্র নেই। বরং মুখ হাসি হাসি।

    ‘কী ব্যাপার ইয়াসিন?’

    ‘একটা মেয়েছেলে আসছে। আপনেরে চায়।’

    মিসির আলি বসার ঘরে চলে এলেন। খুবই আধুনিক সাজ পোশাকের একজন তরুণী। গায়ে বোরকা জাতীয় কালো পোশাক যা ঠিক বোরকাও না। মাথায় স্কার্ফ বাঁধা। স্কার্ফের উজ্জ্বল রঙ। সাধারণত মরুভূমির মেয়েরা এমন উজ্জ্বল রঙ ব্যবহার করে। মেয়েটি রূপবতী। তাকে দেখেই মিসির আলির মনে যে উপমা এল তা হল জ্বলন্ত মোমবাতি। মিসির আলি মেয়েটিকে চিনতে পারলেন না। মেয়েটি মিসির আলিকে দেখেই চট করে উঠে দাঁড়াল। এবং তিনি কিছু বুঝতে পারার আগেই তাকে এসে সালাম করে ফেলল।

    ‘স্যার আমাকে চিনতে পারছেন?’

    ‘না।’

    ভালো করে আমার দিকে তাকান। ভালো করে না তাকালে আপনি আমাকে চিনবেন কী করে। আপনি তো কখনো কোনো মেয়ের দিকে ভালো করে তাকান না!

    মিসির আলি ভালো করে তাকালেন। লাভ হল না। তিনি তখনো চিনতে পারছেন না।

    মেয়েটি বলল, আমার নাম প্রতিমা। হিন্দু নাম। কিন্তু আমি মুসলমান মেয়ে এখন চিনতে পেরেছেন?

    ‘না।’

    ‘মাথায় স্কার্ফ আছে বলে আপনি হয়তো চিনতে পারছেন না। আপনার সঙ্গে যতবার দেখা হয়েছে কখনোই মাথায় স্কার্ফ ছিল না। মাথাভর্তি চুল ছিল। এখন স্কার্ফ থাকায় হয়তো অচেনা লাগছে।’

    মেয়েটি মাথার স্কার্ফ খুলে মাথায় ঝাঁকুনি দিল। সঙ্গে সঙ্গে মাথার চুল চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। মিসির আলি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলেন। এমন রূপবতী একজনকে দেখতে পাওয়াও ভাগ্যের ব্যাপার।

    ‘স্যার আমাকে এখন কি চিনতে পেরেছেন?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘কেন আমার নাম প্রতিমা, এটা মনে পড়েছে?’

    ‘হ্যাঁ মনে পড়েছে। তোমার মা এক দুপর বেলায় গান শুনছিলেন। প্রতিমা নামের একজন গায়িকার গান—’একটা গান লিখ আমার জন্য।’ এই গান শুনতে শুনতে তোমার মা আবেগে দ্রবীভূত হলেন। তাঁর চোখে পানি এসে গেল। তার কিছুক্ষণ পর তোমার মা’র ব্যথা শুরু হল। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল। আট ঘণ্টা পর তোমার জন্ম হল। এই আট ঘণ্টা তীব্র ব্যথার মধ্যে তোমার মায়ের মাথায় ‘একটা গান লিখ আমার জন্য’ ঘুরতে লাগল। যখন তিনি শুনলেন, তাঁর মেয়ে হয়েছে—গায়িকার নামে মেয়ের নাম রাখলেন, প্রতিমা।’

    এই তো আপনার সবকিছু মনে পড়েছে। আপনার জন্যে আমি নেপাল থেকে একটা চাদর এনেছিলাম। চাদরটা আপনি ব্যবহার করছেন দেখে ভালো লাগছে। স্যার এখন বলুন আমি কবে থেকে কাজ শুরু করব?

    মিসির আলি থমকে গেলেন। তিনি যে যন্ত্রণার কথা ভুলে গিয়েছিলেন, সেই যন্ত্রণা আবার শুরু হয়েছে।

    প্রতিমা বলল, আপনি পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন—ভেবেছিলেন আপনার ঠিকানাটা আমি খুঁজে বের করতে পারব না। দেখলেন, কীভাবে খুঁজে বের করেছি?

    ‘দেখলাম।’

    প্রতিমা বসতে বসতে বলল, স্যার আপনি আমাকে ভয় পান কেন? আমাকে ভয় পাবার কিছু নেই। আমি আপনাকে নিয়ে একটা বই লিখব। আপনার জীবনের বিচিত্র সব ঘটনার নোট নেব। ব্যস ফুরিয়ে গেল।

    মিসির আলি কিছু বললেন না। চুপ করে রইলেন—প্রতিমা নামের এই মেয়েটি ভয়াবহ একটা সমস্যা নিয়ে তাঁর কাছে এসেছিল। তিনি সেই সমস্যার দ্রুত সমাধান করেছিলেন। তারপরই মেয়েটির মাথায় ঢুকে গেছে মিসির আলি তাঁর জীবনে যত সমস্যার সমাধান করেছেন সেগুলি সে লিখে ফেলবে।

    প্রতিমা হাসতে হাসতে বলল, স্যার আপনি এমন হতাশ চোখে তাকাচ্ছেন কেন? আমি বাঘ-ভালুক কিছু না। আমি খুবই সাধারণ একটা মেয়ে। সাধারণ হলেও ভালো মেয়ে। আমি নানানভাবে আপনাকে সাহায্য করব। মনে করুন সকালবেলা আপনার কাছে এলাম। আপনি কিছুক্ষণ কথা বললেন, আমি নোট নিলাম। তারপর আপনার ঘরের কাজকর্ম গুছিয়ে দিলাম। আমি রান্না করা শিখেছি। আপনার জন্যে রান্না করলাম।

    ‘তোমার এখনো বিয়ে হয় নি?’

    ‘না। আমি তো আগেই বলেছি—আমি কখনো বিয়ে করব না।’

    প্রতিমা খিলখিল করে হাসছে। মিসির আলি বললেন, ‘হাসছ কেন?’

    প্রতিমা বলল, ‘আপনি হতাশ চোখে তাকাচ্ছেন। আপনাকে দেখে খুবই মায়া লাগছে। এই জন্যে হাসছি।’

    ‘চা খাবে?’

    ‘না চা খাব না। আমি চলে যাব। আপনি প্রথম ধাক্কাটা সামলে নিন। তারপর আমি আসব। স্যার, ভালো কথা আপনার সঙ্গে আমার সাক্ষাতের বিবরণ আমি গুছিয়ে লিখে ফেলেছি। কপি আপনার জন্যে নিয়ে এসেছি। কপি আপনি পড়বেন—এবং বলবেন কিছু বাদ পড়েছে কি না। স্যার ঠিক আছে?’

    ‘হ্যাঁ ঠিক আছে।’

    ‘আজই পড়বেন। স্যার, আপনি ঘুম থেকে কখন ওঠেন?’

    রাত করে ঘুমাতে যাই তো, ঘুম ভাঙতে ন’টা-দশটা বেজে যায়।

    আমি যখন চার্জ নেব, আপনাকে ঠিক রাত দশটায় ঘুমাতে যেতে হবে। ভোর ছ’টায় ঘুম থেকে তুলে দেব। এক ঘণ্টা আপনাকে হাঁটতে হবে। এক ঘণ্টা পর মর্নিং ওয়াক সেরে এসে দেখবেন-ব্রেকফাস্ট রেডি।

    মিসির আলি চিন্তিত গলায় বললেন, তুমি এখানে থাকবে নাকি?

    প্রতিমা বলল, হ্যাঁ। তবে এ বাড়িতে না। বারিধারায় আমার পাশাপাশি দুটা ফ্ল্যাট আছে—একটায় আপনি থাকবেন, অন্যটায় আমি থাকব। আমি একজন ইনটেরিয়ার ডিজাইনারকে খবর দিয়েছি—সে আপনার ফ্ল্যাটটা আপনার প্রয়োজনমতো সাজিয়ে দেবে। লাইব্রেরি থাকবে, লেখার টেবিল থাকবে।

    ‘আমাকে গিয়ে তোমার ফ্ল্যাটে উঠতে হবে?’

    ‘হ্যাঁ। স্যার এ রকম শুকনা মুখ করে তাকালে হবে না। আমি আগামীকাল সকাল ন’টার সময় আসব। ঝড়-বৃষ্টি-সাইক্লোন-হরতাল যাই হোক না কেন সকাল ন’টায় আমি উপস্থিত হব।’

    ‘ঠিক আছে।’

    ‘এর মধ্যে আমার লেখাটা পড়ে ফেলবেন। লেখার কিছু কিছু অংশ ভালোমতো দেখে দেবেন আমি দাগ দিয়ে রেখেছি।

    ‘তুমি কি এখন চলে যাচ্ছ?’

    প্রতিমা হাসতে হাসতে বলল, হ্যাঁ—তবে কাল দেখা হবে। ঠিক সকাল ন’টায়। স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে লাভ নেই—আপনি নিশ্চয়ই একদিনের মধ্যে বাড়ি বদলাতে পারবেন না?

    মিসির আলির মনে হল মেয়েটা পুরোপুরি সুস্থ না। কিছু সমস্যা তার এখনো রয়ে গেছে।

    .

    মিসির আলি দুপুরের খাওয়া শেষ করে ঘড়ির দিকে তাকালেন, দুটা পঁচিশ বাজে। বিছানায় এসে কিছুক্ষণ গড়াগড়ি করা যায়। দুপুরের খাবার শেষ করে বই হাতে বিছানায় কাত হবার মধ্যে আনন্দ আছে। শরীর ভরা আলস্য, চোখভর্তি ঘুম—হাতে চমৎকার একটা বই। আজ অবিশ্যি হাতে বই নেই—প্রতিমা নামের জ্বলন্ত মোমবাতির লেখা বাহান্ন পৃষ্ঠার খাতা। হাতের লেখা না, কম্পিউটারে কম্পোজ করা হয়েছে, স্পাইরেল বাইন্ডিং করা হয়েছে। হাতের লেখা হলে ভালো হত। মানুষ তার চরিত্রের অনেকখানি হাতের লেখায় প্রকাশ করে। কারো লেখা হয় জড়ানো। একটা অক্ষরের গায়ে আরেকটা অক্ষর মিশে থাকে। কেউ কেউ লেখে গোটা গোটা হরফে। কেউ প্রতিটি অক্ষর ভেবেচিন্তে লেখে। কেউ অতি দ্রুত লেখে। লেখা দেখেই মনে হয় তার চিন্তা করার ক্ষমতা দ্রুত। সে মাথার চিন্তাকে অনুসরণ করছে বলে লেখাও দ্রুত লিখতে হচ্ছে। তবে কেউ কেউ লেখে ঢিমেতালে।

    কম্পিউটার মানুষকে অনেক কিছু দিচ্ছে, আবার অনেক কিছু কেড়েও নিচ্ছে। কম্পিউটারের লেখায় কোনো কাটাকুটি নেই। হাতের লেখায় কাটাকুটি থাকবেই। সেই কাটাকুটিই হবে মানুষের চরিত্রের রহস্যের প্রতিফলন। হাতের লেখার যুগ পার হয়েছে। এখন শুরু হয়েছে কম্পিউটারে লেখার যুগ। এই যুগ শেষ হয়ে নতুন যুগ আসবে। কী রকম হবে সেটা? মানুষ চিন্তা করছে আর সেই চিন্তা লেখা হয়ে বের হয়ে আসবে? সে রকম কিছু হলে মন্দ হয় না। তা হলে সেই যুগ হবে হাতের লেখার যুগের কাছাকাছি। কারণ চিন্তার মধ্যেও কাটাকুটি থাকবে।

    প্রতিমার লেখার ওপর মিসির আলি চোখ বুলাতে শুরু করলেন। তাঁর কাছে মনে হচ্ছে তিনি কোনো গল্পের বই পড়ছেন। মেয়েটা সে রকম ভঙ্গিতেই লেখার চেষ্টা করছে। লেখার ভঙ্গিটা জার্নালিস্টিক হলে ভালো হত। প্রতিমা লিখছে—

    আমার নাম প্রতিমা। এটা কিন্তু কাগজপত্রের নাম না। কাগজপত্রে আমার নাম আফরোজা। যেহেতু আমার মা খুব শখ করে প্রতিমা নাম রেখেছিলেন, এবং আমার বয়স এক বছর পার হবার আগেই মারা গেছেন সে কারণে মা’র প্রতি মমতাবশত সবাই আমাকে ডাকা শুরু করল প্রতিমা। মুখে মুখে ডাকনাম এক ব্যাপার, কাগজপত্রে নাম থাকা অন্য ব্যাপার।

    আকিকা করে আমার মুসলমানি নাম রাখা হল তবে সেই নামে কেউ ডাকত না। শুধু বাবা মাঝে মধ্যে ডাকতেন। তখন আমি জবাব দিতাম না।

    আমার বাবা আমাকে অতি আদরে মানুষ করতে লাগলেন। তিনি আদর্শ পত্নীপ্রেমিকদের মতো দ্বিতীয় বিয়ে করেন নি। বাড়িতে মাতৃস্থানীয় কেউ না থাকলে তাঁর কন্যার অযত্ন হবে ভেবে তিনি সার্বক্ষণিক একজন নার্স রাখলেন। ছোটবেলায় এই নার্সকেই আমি মা ডাকতাম। আমার বয়স যখন পাঁচ বছর তখন কী একটা কারণে যেন এই নার্স মহিলাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। শৈশবের এই স্মৃতিটি আমার মনে আছে। এই মহিলা হাউমাউ করে কাঁদছেন এবং বাবার পা জড়িয়ে ধরতে যাচ্ছেন। বাবা বলছেন—ডোন্ট টাচ মি। ডোন্ট টাচ মি। তোমাকে যে আমি কানে ধরে উঠবস করাচ্ছি না এই কারণেই তোমার সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।

    যে মহিলাকে আমি মা বলে জানতাম সেই মহিলার এমন হেনস্তা দেখে আমি খুবই অবাক হলে গেলাম। ভয়ে আমার হাত-পা কাঁপতে লাগল। আমাকে অন্য ঘরে নিয়ে যাওয়া হল। নার্স মাকে আমি এর পরে আর কোনোদিন দেখি নি। বাড়িতে এই মহিলার কোনো ছবি ছিল না বলে কিছুদিনের মধ্যেই আমি তার চেহারাও ভুলে গেলাম। শুধু মনে থাকল—শ্যামলা একটি মেয়ে—যার মুখ গোলাকার এবং তিনি ঠোট গোল করে শিস দিতে খুব পছন্দ করতেন।

    শৈশবের ভয়াবহ স্মৃতি এই একটাই। এই স্মৃতির ব্যাপারটা আমাকে সাইকিয়াট্রিস্টদের কাছে বারবার বলতে হয়েছে। বাবা আমাকে নিয়ে অনেক বড় বড় সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে নিয়ে গিয়েছেন। তাদের প্রথম প্রশ্নই হল—শৈশবে কোনো দুঃখময় স্মৃতি আছে Painful memory?

    মিসির আলি সাহেবও এই প্রশ্ন করলেন। তবে অন্য সাইকিয়াট্রিস্টরা যেমন এই ঘটনা শুনে ঝাঁকের পর ঝাঁক প্রশ্ন করেছিলেন মিসির আলি তা করলেন না। তিনি শুধু বললেন—ঐ মহিলার গলার স্বর কেমন ছিল?

    আমি অবাক হয়ে বলেছিলাম গলার স্বর দিয়ে কী হবে? উনার গলার স্বর কেমন জানতে চাচ্ছেন কেন?

    মিসির আলি বললেন, এমনি জানতে চাচ্ছি।

    আমি বললাম, গলার স্বর মিষ্টি ছিল। খুব মিষ্টি। উনার বিষয়ে আমার আর কিছু মনে নেই শুধু মনে আছে উনি ঠোঁট গোল করে শিস দিতেন।

    মিসির আলি বললেন, আরেকটি জিনিস নিশ্চয়ই তোমার মনে আছে। উনি যে তোমাকে বিশেষ নামে ডাকতেন সেটা তো মনে থাকার কথা।

    ‘উনি আমাকে বিশেষ নামে ডাকতেন এটা আপনাকে কে বলেছেন?’

    ‘কেউ বলে নি। আমি অনুমান করছি।’

    ‘এ রকম অনুমান কেন করছেন? কেন?’

    ‘তোমার কথা থেকে মনে হচ্ছে এই মহিলা তোমায় খুবই আদর করত। মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা হচ্ছে অতি আদরের কাউকে বিশেষ নামে ডাকা। যে নামে অন্য কেউ ডাকবে না। এই থেকেই অনুমান করছি তোমাকে বিশেষ কোনো নামে ডাকতেন। সেই বিশেষ নামটা কী?’

    উনি আমাকে ডাকতেন মাফু। মা বলার পর ফু বলে লম্বা টান দিতেন—এ রকম করে মাফুউউউ।

    মিসির আলি হাসলেন এবং প্রায় সেই মহিলার মতো করে ডাকলেন মাফুউউউ। আমি সঙ্গে সঙ্গে বললাম, জি। তিনি বললেন, মাফু তুমি কেমন আছ?

    আমি বললাম ভালো নেই। আপনি আমাকে সারিয়ে দিন।

    তিনি আবারো হাসলেন। এবং আমার সঙ্গে সঙ্গে মনে হল—ইনি আমাকে সারিয়ে দেবেন। উনার সেই ক্ষমতা আছে।

    এখন আমি আমার অসুখের ঘটনাটা বলি—আমি যখন ইউনিভার্সিটিতে থার্ড ইয়ারে পড়ি তখন বাবার শরীর হঠাৎ খারাপ হয়ে গেল। হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস, অ্যাজমা অ্যাটাক সব একসঙ্গে। তিনি প্রায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়লেন। আমাকে একদিন ডেকে নিয়ে বললেন—মা, তোর কি পছন্দের কোনো ছেলে আছে?

    আমি বললাম কেন?

    বাবা বললেন, তোর কোনো পছন্দের ছেলে থাকলে বল। আমি তোর বিয়ে দিতে চাই। আমার শরীর ভালো না। যে কোনো সময় যে কোনো কিছু ঘটতে পারে। তার আগেই আমি দেখে যেতে চাই তোর সংসার হয়েছে। যার ওপর ভরসা করতে পারিস এমন একজন কেউ তোর আশপাশে আছে।

    আমি বললাম, আমার পছন্দের কেউ নেই।

    বাবা বললেন, আমি দেখেশুনে তোর জন্যে একজন ছেলে নিয়ে আসি?

    বাবার হতাশ মুখ দেখে আমার খুবই মায়া লাগল। তখন তাঁর অ্যাজমার টান উঠেছে। বুকের ভেতর থেকে শাঁ শাঁ শব্দ আসছে। মনে হচ্ছে তাঁর ফুসফুসে ছোট কোনো বাঁশি কেউ রেখে দিয়েছে—যেই তিনি লম্বা করে নিশ্বাস নিচ্ছেন ওমনি সেই বাঁশিতে শব্দ উঠছে। তখন আমার বিয়ে করার কোনো রকম ইচ্ছা ছিল না। বাবার অবস্থা দেখে বললাম, তুমি যা ভালো মনে কর—করতে পার।

    বাবা অতি দ্রুত একটা ছেলে যোগাড় করে ফেললেন। ছেলের বাবা মফস্বলের কোনো এক কলেজের অধ্যাপক। বাবা-মা’র একমাত্র ছেলে। মেডিকেল কলেজে ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র। সুন্দর চেহারা। ছেলের সঙ্গে বাবা আমার পরিচয় করিয়ে দিলেন। আমি দেখলাম ছেলে খুব লাজুক। কথা বলার সময় সে সরাসরি আমার দিকে তাকায় না। অন্যদিকে তাকিয়ে থাকে। আমি তাকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে খেতে গেলাম। সেখানে কথা যা বলার আমিই বললাম সে শুধু হ্যাঁ হুঁ করল। বিয়ে উপলক্ষে ছেলের বাবা-মা ঢাকায় চলে এলেন। ঢাকায় তারা দু মাসের জন্যে একটা বাড়ি ভাড়া করলেন। সব যখন ঠিকঠাক তখন বাবা বললেন—এখন বিয়ে হবে না। ছেলেটার কিছু সমস্যা আছে। কী সমস্যা বাবা তা ব্যাখ্যা করলেন না।

    বিয়ে বাতিল হয়েছে শুনে ছেলের বাবা-মা দুজনই খুব আপসেট হয়ে পড়লেন। বাবার সঙ্গে নানান কথাবার্তা বলতে লাগলেন। আমার সঙ্গেও কথা বলার চেষ্টা করলেন। আমি কথা বললাম না। শুধু যে ছেলের বাবা-মা আমার সঙ্গে কথা বলতে চাইলেন তা না, ছেলেও আমার সঙ্গে কথা বলতে চাইল। বারবার টেলিফোন—সে শুধু পাঁচ মিনিটের জন্যে কথা বলতে চায়।

    সেই পাঁচ মিনিট তাকে দেওয়া হল না। তারপরই একটা দুর্ঘটনা ঘটল। ছেলেটা রিকশা করে যাচ্ছিল। পেছন থেকে একটা মাইক্রোবাস এসে ধাক্কা দিয়ে তাকে ফেলে দিল। লোকজন ধরাধরি করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেল। হাসপাতালে নেবার পথেই সে মারা গেল।

    ছেলেটির সঙ্গে আমার কোনো মানসিক বন্ধন তৈরি হয় নি, কাজেই তার মৃত্যু আমার জন্যে ভয়ঙ্কর রকম আপসেট হবার মতো কোনো ঘটনা না। তারপরেও কয়েকদিন আমার মন খারাপ গেল। বেচারা পাঁচ মিনিট আমার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিল। কী হত পাঁচ মিনিট কথা বললে?

    আমার সমস্যাটা শুরু হল ছেলেটার মৃত্যুর ঠিক ছ’দিন পর। আমি আমার ঘরে ঘুমাচ্ছি। টেলিফোনের শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। আমার হাতের কাছে টেলিফোন। টেলিফোন ধরার আগে ঘড়ি দেখলাম। রাত তিনটা বাজে। রাত তিনটায় কে টেলিফোন করবে? কোনো ক্র্যাংক কল নিশ্চয় এসেছে। টেলিফোন ধরলেই জড়ানো গলায় কেউ নোংরা কোনো কথা বলবে। ধরব না ধরব না করেও টেলিফোন ধরলাম। হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে লাইন কেটে দিল। আমি বিরক্ত হয়ে টেলিফোন রেখে বাথরুমে গেলাম। রাতে ঘুম ভেঙে গেলে আমার খুব সমস্যা হয়। ঘুম আসতে চায় না। হাত-মুখ ধুয়ে ঘরে ঢুকে অবাক হয়ে দেখি— আমার বিছানায় পা তুলে ছেলেটা বসে আছে। যে বইটা পড়তে পড়তে রাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম সেই বইটা তার হাতে। খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে সে বইয়ের পাতা ওল্টাচ্ছে। আমি ঘরে ঢুকতেই সে বই রেখে বলল, পাঁচটা মিনিট তোমার সঙ্গে কথা বলব। এর বেশি না।

    আমি চিৎকার করে মাথা ঘুরে পড়ে গেলাম। শুরু হল আমার দুঃস্বপ্নের দিনরাত্রি। এইটুকু পড়েই মিসির আলি খাতা নামিয়ে রাখলেন। মেয়েটির চিকিৎসা কীভাবে করা হয়েছে তাঁর মনে পড়েছে। লেখা পড়ে নুতন কিছু জানা যাবে না। মিসির আলির ঘুম পাচ্ছে। বরং কিছুক্ষণ ঘুমানো যেতে পারে। ঘুমের মধ্যে বৃষ্টি নামলে চমৎকার হয়। বৃষ্টির শব্দটা কোনো-না-কোনো ভাবে ঘুমন্ত মানুষের মাথায় ঢুকে যায়। ঝমঝম শব্দে আনন্দময় বাজনা মাথার ভেতর বাজতে থাকে। মানুষের অবচেতন মন বৃষ্টির গান খুবই পছন্দ করে। কেন করে তার নিশ্চয়ই কারণ আছে। কারণটা একদিন ভেবে দেখতে হবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকহেন কবি কালিদাস – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article আমিই মিসির আলি – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }