Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বাঙলা ও বাঙালীর বিবর্তন – অতুল সুর

    লেখক এক পাতা গল্প428 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    লোকায়ত ধর্ম ও যুক্তসাধনা

    বাঙলার গৌরবময় প্রাচীন সংস্কৃতির অবসান ঘটেছিল মুসলমানগণ কর্তৃক বাঙলা বিজিত (১২০৪) হবার পর। মনে হয়, ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে তুর্কি আক্রমণের ফলে বাংলাদেশে সমাজ, ধর্ম, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সাহিত্যক্ষেত্রে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল। এই বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যে অভ্যুত্থান ঘটেছিল অনেক লোকায়ত দেবদেবীর। পূর্বে এই সকল দেবদেবী সমাজের নিম্নকোটির লোকগণ কর্তৃক পূজিত হতেন। মুসলমান রাজগণের আমলে ব্রাহ্মণশাসিত সমাজের মধ্যে শৈথিল্য ঘটায় নিম্নশ্রেণি কর্তৃক পূজিত বহু দেবদেবী প্রাধান্য লাভ করতে থাকেন। তাদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন শীতলা, বাশুলী, মনসা, চণ্ডী ইত্যাদি। হিন্দু দেবতামণ্ডলে স্থান দেবার জন্য তাঁদের অধিকাংশকে শিবজায়া উমার সহিত অভিন্ন করা হয়। এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই যে, এ যুগের হিন্দুসমাজে গৃহিত এই সকল দেবদেবী বাঙলাদেশে সুপ্রাচীন কাল থেকেই পূজিত হয়ে এসেছিলেন। কিন্তু সমাজের নিম্নশ্রেণি কর্তৃক পূজিত এই সকল দেবদেবী ব্রাহ্মণ্যধর্মের মধ্যে স্বীকৃতি লাভ করতে পারেনি। তার প্রধান কারণ ছিল এই যে, আর্যসমাজের প্রধান দেবতাসমূহ ছিল পুরুষদেবতা, আর আর্যের সমাজের প্রধান দেবতাসমূহ ছিলেন নারীদেবতা। আর্যদেবতাসমূহ যতই প্রাধান্য লাভ করতে লাগলেন, আর্যেতর এই সকল নারীদেবতাসমূহ ততই পর্বতকন্দরে, ঝোপজঙ্গলে বা গাছতলায় আশ্রয় লাভ করলেন। কিন্তু মধ্যযুগে যখন ব্রাহ্মণ্যধর্মের ভিত্তি টলমল করে উঠল, তখন এই সকল নারীদেবতা তাঁদের পর্বতকন্দর, ঝোপজঙ্গল ও গাছতলার আশ্রয় পরিহার করে ক্রমশ হিন্দুর আনুষ্ঠানিক ধর্মসংস্কারের মধ্যে প্রবেশ লাভ করতে লাগলেন। এই অনুপ্রবেশকে সহজ করবার জন্য তাঁদের পৌরাণিক মাতৃদেবীর সঙ্গে অভিন্ন প্রতিপন্ন করা হল।

    আর্যেতর এই সমস্ত দেবদেবীকে নিয়ে এক নতুন সাহিত্য গড়ে উঠেছিল। মধ্যযুগের এই সাহিত্যকে ‘মঙ্গল সাহিত্য’ বলা হয়। ‘মঙ্গল সাহিত্য’ সাধারণত চার শ্রেণিতে বিভক্ত— মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ধর্মমঙ্গল ও শিবায়ন। মনসামঙ্গলের আখ্যান বিষয় ছিল মনসা বা সর্পদেবীর পূজামাহাত্ম্য প্রচার করা। ইনি যোষিগণ কর্তৃক নানা নামে পূর্জিতা হতেন। মধ্যযুগে তাঁর দুই নাম প্রাধান্য লাভ করেছিল, যথা— মনসা ও পদ্মা। যোষিগণ কর্তৃক পূজিতা এই দেবীকে পুরুষসমাজের বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। মনসামঙ্গলসমূহের কাহিনীতে সেটাই প্রকাশিত হয়েছে। মনসার কোপে পড়ে চাঁদ সদাগর তার সাতপুত্র ও সাতডিঙ্গিভরা পণ্যসম্ভার হারালেন, কিন্তু, তথাপি তিনি মনসার পূজা থেকে বিরত রইলেন। যখন পুত্রবধূ বেহুলা মনসার কৃপালাভ করে নিজ স্বামী ও ছয় ভাশুরের পুনর্জীবন দান করাল ও নিমজ্জিত সাতখানি ডিঙ্গি পণ্যসম্ভার সমেত ফেরত আনল, তখনও বেহুলা তার শ্বশুরকে মাত্র একবারের জন্যও মনসাদেবীর পূজায় সম্মত করাতে পারল না। ঘৃণার সঙ্গে চাঁদ সদাগর পুত্রবধূকে উত্তর দিলেন, ‘আমার সাতপুত্র ও সাতডিঙি ধনদৌলত রসাতলে যাক্, তবুও আমি মনসার পূজা করব না।’ যেহেতু চাঁদ শিবোপাসক ছিলেন, সেই হেতু শিবপত্নী চন্ডীকে তখন হস্তক্ষেপ করতে হল। স্বপ্নে আবিভূতা হয়ে তিনি চাঁদকে বললেন, চাঁদ, তুমি পদ্মাবতীকে পূজার্ঘ্য দাও, কেননা পদ্মাবতী আমি ছাড়া আর কেউ নয়। এই স্বপ্নাদেশের পরেই চাঁদ সম্মত হয়েছিলেন পদ্মাবতীকে পূজার্ঘ্য দিতে। এইরূপে মনসার পূজা নিষ্ঠাবান হিন্দুসমাজে প্রতিষ্ঠিত হল। হিন্দুসমাজ তখন মনসাকে পুরাণেও স্থান দিলেন। ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণের কাহিনী অনুযায়ী মনসা সর্পগণের দেবী। ব্রহ্মার আদেশে কশ্যপমুনি সর্পমন্ত্রের সৃষ্টি করেন ও তপোবলে মন দ্বারা তাকে সৃষ্টি করে তাঁকে মন্ত্রের অধিষ্ঠাত্রী দেবী করেন। এজন্যই তাঁর নাম মনসা। কুমারী অবস্থায় মহাদেবের কাছে যান ও তাঁর কাছে থেকে স্তব, পূজা ও মন্ত্র ইত্যাদি শিক্ষা করে সিদ্ধা হন ও সর্পদংশন মন্ত্রের অধিষ্ঠাত্রী দেবীরূপে পরিগণিত হন। সেই থেকেই দেবতা, মনু, মুনি, নাগ, মানুষ সকলেই মনসাদেবীর পূজা করতে থাকেন।

    ‘মঙ্গল’ সাহিত্যসমূহের প্রধানা দেবী ছিলেন মঙ্গলা বা চণ্ডী। তিনি সর্ববিষয়েই সকলে ইষ্টসাধন করেন। মনসার ন্যায় চণ্ডীও পূর্বে নারীগণ কর্তৃক পূজিতা হতেন। দেবীভাগবতে পরিস্কার বলা হয়েছে যে, মঙ্গলা নারীগণ কর্তৃক পূজিতা দেবতা—’যোষিতানাম্ ইষ্টদেবতাম্’। বোধ হয় এই কারণেই ‘মঙ্গলা’-কে অষ্টযোগিনীর অন্যতমা বলা হয়েছে। (‘মঙ্গল পিঙ্গলা ধন্যা ভ্রামরী ভর্তৃকা তথা উল্কা সিদ্ধি সঙ্কটা চ যোগিনী অষ্ট প্রকীর্তিতা’)। এখনও পর্যন্ত মেয়েরা মঙ্গলবার মঙ্গলচণ্ডীর ব্রত পালন করে থাকে। অনুরূপভাবে অষ্টযোগিনীর অন্যতমা সঙ্কটার ব্রতও মেয়েরা পালন করে। সর্ব বিষয়ে যিনি সকলের ইষ্টসাধন করেন তিনিই ‘সর্বমঙ্গল’। ওড়িশার শাক্ত কবি সারলাদাস তাঁর ‘চণ্ডীপুরাণ’ ও ‘বিলঙ্করামায়ণ’-এ সর্বমঙ্গলাকে কালীর সঙ্গে অভিন্নরূপে গণ্য করেছেন। সেখানে বিবৃত হয়েছে যে দুর্গা যখন মহিষাসুর নিধনে অসমর্থা হন, তখন তাঁর সহচরী মনোরমা তাঁকে কালীর বিবস্ত্রা রূপ ধারণ করতে বলেন। সহচরীর এই উপদেশ অনুযায়ী দুর্গা যখন কালীরূপে ধারণ করেন, তখনই তিনি মহিষাসুরকে বিনাশ করতে সক্ষম হন। মনুষ্যসমাজের মঙ্গলসাধক মনোরমার এই উপদেশ কার্যকরী হওয়ায় দুর্গা মনোরমাকে বলেন, তোমার মঙ্গল হউক। আজ থেকে তুমি ‘সর্বমঙ্গলা’ নামে অভিহিতা হবে।

    চণ্ডিকা পূজার প্রচার সম্বন্ধে বাংলা চণ্ডীমঙ্গল কাব্যসমূহে দুটি আখ্যান বিবৃত হয়েছে। প্রথমটি ব্যাধ কালকেতু সম্বন্ধে ও দ্বিতীয়টি বণিক ধনপতি সম্পর্কে। এ বিষয়ে কোন সন্দেহই নেই যে সাহিত্যে অন্তর্ভুক্ত হবার অনেক আগে থেকেই যোষিগণ কর্তৃক পূজিতা এই সকল নারীদেবতা-সম্পর্কিত কাহিনী বাঙলার অলিখিত জাতীয় সাহিত্যমানসে সজীব ছিল। সেদিক থেকে মনে হয় যে ব্যাধ কালকেতু সম্পর্কিত কাহিনীটি বণিক ধনপতির কাহিনী অপেক্ষা প্রাচীনতর। এ সকল কাহিনী যে অতি প্রাচীনকালের অলিখিত সাহিত্যের কাহিনী, তা এই উভয় কাহিনীর সারল্যপূর্ণ বর্ণনা থেকেই বুঝতে পারা যায়। বণিক ধনপতির দুই বনিতা ছিল-লহনা ও খুল্লনা (নাম দুটি অষ্ট্রিক সমাজের বলে মনে হয়)। সপত্নী লহনা খুল্লনাকে ছাগল চরাতে পাঠিয়েছিলেন। একটি ছাগল দলচ্যুত হয়ে হারিয়ে যায়। খুল্লনা দুঃখে ও ভয়ে অভিভূত হন। দলচ্যুত ছাগলটিকে খুঁজতে খুঁজতে তিনি এক জায়গায় এসে দেখেন যে পাঁচটি মেয়ে উলুধ্বনি-সহ এক দেবীর পূজায় রত রয়েছে। তারা খুল্লনাকে বলে যে, সে যদি ওই দেবীর পূজা করে, তা হলে সে তার ছাগল খুঁজে পাবে। তাদের কথামত খুল্লনা ওই দেবীর পূজায় প্রবৃত্ত হন এবং অচিরে তাঁরা ছাগল খুঁজে পান। গৃহে প্রত্যাগমন করে খুল্লনা ওই দেবীর পূজা করতে আরম্ভ করেন। কিন্তু শিবোপাসক ধনপতি দেবীপূজা পছন্দ করেন না। ধনপতি খুল্লনার পূজার ঘট ভেঙে দেন। এর কিছুকাল পরে ধনপতি বাণিজ্য উপলক্ষে সিংহল দ্বীপে যান। সিংহল দ্বীপের রাজা তাঁকে কারাগারে নিক্ষেপ করেন। এরপর ধনপতির পুত্র শ্রীমন্ত যখন চণ্ডিকার পূজা করেন তখনই ধনপতি কারামুক্ত হন ও দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। তারপর থেকে ধনপতিও চণ্ডিকার পূজা করতে শুরু করেন। এর ফলে বাঙলার বণিকসমাজে চণ্ডিকা পূজার প্রবর্তন হয়।

    বণিক ধনপতির কাহিনী অপেক্ষা ব্যাধ কালকেতুর কাহিনী প্রাচীনতর সমাজের ইঙ্গিত বহন করে। কালকেতু সমাজের নিম্নকোটির লোক ছিল। তীর, ধনুক ও জাল (পাশ) নিয়ে বন-জঙ্গলে ঘুরে পশু শিকার করে সে তার আহার্য ও জীবিকা সংগ্রত করত। শিকার করে আনা পশুর মাংস ও চর্ম তার স্ত্রী হাটে নিয়ে গিয়ে বেচে আসত। একদিন কালকেতুর জালে এক স্বর্ণগোধিকা ধরা পড়ে। কালকেতু সেটিকে ঘরে নিয়ে আসে। সেই গোধিকা দেবীমূর্তি ধারণ করে। কালকেতু তাঁকে পূজা করতে শুরু করে। এর ফলে অল্পদিনের মধ্যেই কালকেতু বিত্তশালী হয়ে ওঠে। তখন সে জঙ্গল পরিস্কার করে এক নগর স্থাপন করে। উচ্চকোটির লোকেরা প্রথমে সেই নগরে গিয়ে বাস করতে অসম্মত হয়। কিন্তু পরে তার ধন-ঐশ্বর্য ও প্রতাপ নিষ্ঠাবান সমাজকে আকৃষ্ট করে। তারা সেখানে গিয়ে কালকেতু কর্তৃক পূজিতা দেবীর পূজা করতে শুরু করে। কালকেতু কর্তৃক পূজিতা দেবী, চণ্ডিকা ব্যতীত আর কেউই নন। এই আখ্যানে গোধিকার উল্লেখ দেখে মনে হয় যে, কালকেতু কর্তৃক পূজিতা দেবী প্রথমে আর্যেতর জাতি কর্তৃক পূজিতা কোন দেবী ছিলেন, যিনি পরে নিষ্ঠাবান সমাজে চণ্ডিকারূপে গৌরবান্বিত স্থান অধিকার করেছিলেন। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, খ্রিস্টীয় দ্বাদশ শতাব্দীতে গঠিত কয়েকটি দেবীমূর্তি বাঙলার বিভিন্ন স্থানে পাওয়া গিয়েছে; তাদের পাদমূলে গোধিকামূর্তি দৃষ্ট হয়। সংস্কৃত ভাষায় রচিত মূর্তি নির্মাণ সম্পর্কিত কতকগুলি গ্রন্থে আমরা গোধিকা- বাহিনী দেবীমূর্তির উল্লেখ পাই—’গোধাসনে ভবেদ্ গৌরী লীলয়া হংসবদনা’ ও ‘অক্ষসূত্রং তথা পদ্মম্ অভয়ং চ বরং তথা। গোধাসনাশ্রিতা মূর্তি গৃহে পূজ্যা স্ত্ৰীয়া সদা ॥’ লক্ষণীয় যে এখানেও তাঁকে যোষিগণ কর্তৃক পূজিতা দেবী বলা হয়েছে। এখানে আরও উল্লেখযোগ্য যে মঙ্গলকাব্যের কতকগুলি কাহিনীতে দেবীকে ‘কমলে কামিনী’ বা ‘পদ্মাসনা দেবী’ বলা হয়েছে। এর দ্বারা লক্ষ্মীর সঙ্গে চণ্ডিকার সম্পর্ক সূচিত হয়।

    দুই

    আর্যের সমাজে যে কেবল নারীদেবতাই ছিলেন, তা নয়। পুরুষদেবতাও ছিলেন। তবে নারীদেবতার তুলনায় তাঁরা সংখায় অল্প। শিব ও ধর্মঠাকুর তাদের অন্যতম। তাঁদের আশ্রয় করেও মঙ্গলকাব্য রচিত হয়েছিল। এগুলিকে ধর্মমঙ্গল ও শিবায়ন আখ্যা দেওয়া হয়। ধর্মমঙ্গলের বিষয়বস্তু হচ্ছে ধর্মরাজার পূজা। তিনি আসলে কে? শিব, না বুদ্ধ? না অনার্যসমাজের অপর কোন দেবতা? সে সম্বন্ধে কোন মতৈক্য নেই। তবে তিনি যে আর্যের সমাজের দেবতা, সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। কেননা, ধর্মঠাকুরের পূজার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই যে কেবল ডোমজাতীয় লোকরাই এঁর পুরোহিতের কাজ করে। হিন্দু সমাজে ধর্মঠাকুরের পূজা-প্রবর্তন প্রসঙ্গে রাজা কর্ণসেনের পত্নী রঞ্জাবতী ও তাঁর পুত্র ময়নাগড়ের লাউসেনের নাম জড়িত। পালসম্রাট মহীপাল (৯৭৭-১০২৭ খ্রিস্টাব্দ) তখন গৌড়ের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তা থেকে প্রমাণ হয় যে, খ্রিস্টীয় দশম শতাব্দীতে ধর্মঠাকুরের পূজা হিন্দুসমাজে গৃহীত হয়েছিল। হিন্দুসমাজে গৃহীত হবার পর ক্রমশ ব্রাহ্মণ পুরোহিতরাও ধর্মঠাকুরের পূজায় অংশ গ্রহণ করতে থাকেন। তা ধর্মের গাজন-উৎসবের অনুষ্ঠান ও আচার-পদ্ধতি থেকেও বুঝতে পারা যায়। ধর্মঠাকুর হচ্ছেন নিরাকার, তবে বীরভূমের কয়েক স্থানে তাঁকে শ্যামরায় প্রভৃতি নামেও অভিহিত করা হয়। বলা বাহুল্য এ সকল নাম পরবর্তী কালের নিষ্ঠাবান সমাজ কর্তৃক আরোপিত হয়েছিল।

    শিবের সঙ্গে ধর্মঠাকুরের নৈকট্য সূচিত হয় শিবের গাজন-উৎসবের মাধ্যমে। ধর্মঠাকুরের গাজন, শিবের গাজন, আদ্যের গম্ভীরা প্রভৃতি উৎসবের আচার-অনুষ্ঠান প্রায়ই এক। বস্তুত মধ্যযুগের হিন্দুসমাজে শিবই ছিলেন প্রধান উপাস্য দেবতা। বাঙলায় শিবমন্দিরসমূহের প্রাচুর্য থেকেও তাই প্রমাণ হয়। শিবকে অবলম্বন করে যে কাব্য রচিত হয়েছিল তার নাম দেওয়া হয়েছিল শিবায়ন। এই সকল কাব্যে শিবঠাকুরকে আমরা সাধারণ বাঙালী গৃহস্থরূপে দেখি। গ্রামের অন্যান্য কৃষকদের মতো তিনিও মাঠে চাষ করেন এবং গৌরীর সঙ্গে গৃহস্থজীবন যাপন করেন। বস্তুত মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে গৌরীর বিবাহের যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তা সাধারণত বাঙালী মেয়েরই বিবাহ। পতি হিসাবে শিবের মতো পতিই বাঙালী মেয়ের কাঙ্ক্ষিত আদর্শ হয়ে উঠেছিল। এর প্রকাশ পাই কুমারীগণ কর্তৃক বৈশাখ মাসে পালিত শিবপূজায়

    তিন

    মধ্যযুগে ইসলাম ধর্মের সংস্পর্শে এসে এবং তাঁর দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে হিন্দু সমাজে আরও অনেক দেবদেবী আবির্ভূত হন। তাঁদের অন্যতম হচ্ছেন সত্যপীর, গাজী সাহেব, বনবিবি প্রভৃতি। এর মধ্যে সত্যপীরের পূজা বিশেষ ব্যাপকতা লাভ করে। সত্যপীরের পূজা কথায় বলা হয়েছে যে, সত্যপীর ও নারায়ণ অভিন্ন। সেজন্য সত্যপীর বর্তমানে সত্যনারায়ণ নামে পূজিত হন।

    বলা বাহুল্য, মধ্যযুগে এই সকল যুক্তসাধনামূলক গণতান্ত্রিক দেবদেবীর পূজার উদ্ভবের ফলে, হিন্দুসমাজে মুসলমান কর্তৃক ধর্মান্তর করণের ফলে যে ভাঙনের সম্মুখীন হয়েছিল, তা থেকেই রেহাই পায়।

    ধর্মীয় সাধনার ক্ষেত্রে মধ্যযুগের আর এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটেছিল। এ সম্পদ্রায় হচ্ছে বাউল (সংস্কৃত ‘বাতুল’, তুলনীয় হিন্দী ‘বাউরা’) সম্প্রদায়। এরা সন্ত ও ফকিররূপে বিচরণ করত। মনে হয়, বৈষ্ণব সহজিয়াদের সঙ্গে সুফীদের যোগাযোগের ফলে এদের উদ্ভব ঘটেছিল। বাউলদের সাধনার লক্ষ্য হচ্ছে ‘মনের মানুষ’ লাভ করা। ‘মনের মানুষ’ অনন্ত পরম সত্য, আবার ব্যক্তিগত প্রেমের আধার। বাউলদের ‘মনের মানুষ’ আছে দেহসীমার মধ্যে। এক কথায় তার সীমার মধ্যে অসীমকে অনুভব করতে চায়। তারা ‘মনের মানুষ’-এর সঙ্গে সমন্বিত হতে চায় প্রেমের দ্বারা। সেজন্যই ‘প্রেম-ব্যাকুলতায় বাউলেরা উন্মত্ত’। বাউল সাধনার একটা ঘনিষ্ঠ অঙ্গ আছে বাউল গান। বাউলেরা এই গানের মাধ্যমেই নিজেদের সাধন-ভজনের গূঢ়তত্ত্ব নানারূপ রূপকের মাধ্যমে প্রকাশ করে। রবীন্দ্রনাথ বাউল গানের অনুরাগী ছিলেন। অনেকে বলেন বাউলদের আধ্যাত্মিক অনুভূতি রবীন্দ্র-জীবন-দর্শনের ওপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করেছিল। জয়দেবের জন্মতিথি উপলক্ষে কেন্দুলিতে যে মেলা হয়, সেখানে সকল স্থানের বাউলরা একত্রিত হয়।

    মধ্যযুগের ধর্মীয় যুক্তসাধনার ক্ষেত্রে সুফীবাদের অবদানও বিশেষ উল্লেখযোগ্য। সূফীবাদ মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া থেকে এদেশে এসেছিল। সূফীগণ ঈশ্বর সম্বন্ধে পূর্ণজ্ঞান দিতেন ও ঈশ্বরের সঙ্গে সংযোগলাভের পথনির্দেশ করতেন। তাঁরা পবিত্র জীবনযাপন করতেন ও অনেক অলৌকিক শক্তির পরিচয় দিতেন। তা ছাড়া, তাঁরা বহু লোকহিতকর কার্যে নিজেদের নিযুক্ত রাখতেন। নানা জনহিতকর কাজের জন্য তাঁরা সাধারণ লোকের প্রণম্য হয়েছিলেন, এবং তাঁদের মৃত্যুর পর তাঁদের দরগাগুলি হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের লোকদের কাছেই পবিত্র স্থান বলে বিবেচিত হত, যদিও অধিকাংশ দরগাগুলি হিন্দুদের পবিত্র স্থানগুলির ওপর নির্মিত হত। যেমন বগুড়া জেলার মহাস্থানে সৈয়দ সুলতান শাহী সওয়ারের দরগা এক শিব মন্দিরের ওপর প্রতিষ্ঠিত। রাজশাহী জেলার পাহাড়পুরে সত্যপীরের স্থান এক বৌদ্ধ মঠের ওপর নির্মিত।

    হিন্দু-মুসলমানের যুক্তসাধনায় পীরপূজা এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করত। পীর বলতে শাহ, শেখ, মুরশিদ, ওস্তাদ, সুফী, প্রমুখ সাধুসন্তদের বুঝাত। মুসলমান সেনাপতিগণও যুদ্ধে নিহত হলে গাজী-পীর রূপে পূজিত হতেন। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে বহু পীরের বন্দনা আছে। পীরের দরগাসমূহের প্রতি হিন্দু-মুসলমান উভয়েই সমানভাবে তাদের শ্রদ্ধা ও অর্ঘ্য নিবেদন করত। পীর পূজাকে অবলম্বন করে হিন্দুসমাজে অনেক দেবদেবীর উদ্ভব হয়েছিল। তাঁদের অন্যতম হচ্ছে সত্যপীর, গাজীসাহেব, বনবিবি ইত্যাদি। এর মধ্যে সত্যপীরের পূজা বিশেষ ব্যাপকতা লাভ করে। সত্যপীরের পূজা কথায় বলা হয়েছে যে সত্যপীর ও নারায়ণ অভিন্ন। সত্যপীরকে অবলম্বন করে হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের কবিরাই অনেক পাঁচালী রচনা করেন। ফৈজুল্লার পাঁচালীতে আছে—’তুমি ব্ৰহ্মা, তুমি বিষ্ণু, তুমি নারায়ণ। শুন গাজী আপনি আসরে দেহ মন।’ সত্যপীর বর্তমান সত্যনারায়ণ নামে পূজিত হন।

    উনবিংশ শতাব্দীর এক ফরাসী লেখকের রচনা থেকে আমরা জানতে পারি যে হিন্দুরা যেমন মুসলমান পীর ও সাধুসন্তদের প্রতি ভক্তি দেখাতেন, মুসলমান পীর ও সন্তদের মধ্যে অনেকেই ব্রাহ্মণ্যধর্মের অনুগামী ছিলেন। এক কথায় মধ্যযুগে হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে যুক্তসাধনার একটা ধারা প্রবাহিত হয়েছিল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাঙালির নৃতাত্ত্বিক পরিচয় – অতুল সুর
    Next Article প্রমীলা প্রসঙ্গ – অতুল সুর

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }