Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বাঙালনামা – তপন রায়চৌধুরী

    তপন রায়চৌধুরী এক পাতা গল্প787 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০২. জন্মস্থান : মাতুলালয় : কুমিল্লা শহর

    জন্মস্থান : মাতুলালয় : কুমিল্লা শহর

    আমার জন্ম মাতুলালয়ে–কুমিল্লা শহরে। ঈসাই সন ১৯২৬, যে বছর সাইমন কমিশন ভারতবর্ষে আসবেন ঘোষিত হল। ওই ঘটনাটা আমার বাল্যজীবনে প্রাসঙ্গিক, কারণ যেসব রাজনৈতিক কর্মী বাড়িতে সব সময় যাওয়া-আসা করতেন, বিশুদ্ধ শ্বেতবর্ণ ওই কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিলে নেমে তাঁদের অনেকেই প্রচণ্ড মার খেয়েছিলেন। তাদের মাথায় বা উর্ধ্বাঙ্গের নানা জায়গায় সেই প্রহারের চিহ্ন আমার শৈশব ও বাল্যস্মৃতির অঙ্গীভূত। আমরা যে ইংরেজের গোলাম এবং বেয়াদবি করলে মার খাওয়াই গোলামের ভাগ্যলিপি—এ কথাটা অতি শৈশবেই পরিচিত কংগ্রেস ভলান্টিয়ররা আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। যথাস্থানে সে বিষয়ে বলব।

    আপাতত মামাবাড়ির কথা বলি। আমার দাদামশায় ঊনচল্লিশ বছর বয়সে ছাব্বিশ বছর বয়স্কা পত্নী এবং সাতটি সন্তান রেখে পরলোকগমন করেন। সপ্তম সন্তানটি তখনও মাতৃগর্ভে। দাদামশায়ের মৃত্যুকাহিনি বৈচিত্র্যচিহ্নিত। ওঁর প্রথম যৌবনে কোনও গণৎকার ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে উনি ঊনচল্লিশ বছর বয়সে মারা যাবেন। এই কথাটি আক্ষরিক অর্থে সত্য বলে মেনে নিয়ে দাদামশায় তার সমস্ত জীবনের বিলিব্যবস্থা তদনুসারেই করেছিলেন। আটত্রিশ পেরিয়ে ঊনচল্লিশে যে দিন পা দিলেন, সে দিনই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। গণকের জয়জয়কার। আমার ধারণা ঘটনাটা ইচ্ছামৃত্যুরই শামিল। বিশ-পঁচিশ বছর ধরে ‘অমুক দিনে আমি মারা যাব’ এ রকম দৃঢ় বিশ্বাস থাকলে, ওই দিনটিতেই মারা যাওয়া কিছু অলৌকিক ঘটনা না। জন্মদুঃখী আমার দিদিমা অসাধারণ বুদ্ধি আর অদম্য প্রাণশক্তি নিয়ে আরও ষাট বছর বেঁচে ছিলেন।

    তার সাত সন্তান লালনপালনের ভার নেন দাদামশায়ের ছোট ভাই, ও অঞ্চলে বিখ্যাত আইনজীবী রায়বাহাদুর ভূধর দাস। রায়বাহাদুর তার পরবর্তী জীবনের পরিচয়। প্রথম জীবনে স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে বিখ্যাত অভয়াশ্রমের আওতায় তিনি বিপ্লববাদে দীক্ষা নিয়েছিলেন। শুনেছি একবার তিনি শাড়ি পরে আত্মগোপন করে পুলিশের পাতা জাল থেকে নিস্তার পান। সেসব পুলিশ নিতান্তই হাবা ছিল সন্দেহ নেই। কারণ ভদ্রলোক প্রায় সাত ফুট লম্বা ছিলেন এবং বঙ্গরমণীরা কখনও এতটা উচ্চতা অর্জন করেছেন, ইতিহাসে এমন নজির নেই। সম্ভবত পসার এবং সম্পদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওঁর চিত্তে রাজভক্তির উদয় হয়। ভূধরবাবু পাবলিক প্রসিকিউটার নিযুক্ত হন। উপরি পাওনা রায়বাহাদুর খেতাব। ওঁর মক্কেলরা ওঁকে অন্য এক উপাধি দিয়েছিল—ভোন্দর দাস, ওরফে ভোন্দর মোক্তার (যদ্যপি উনি পাস করা উকিলই ছিলেন)। কারণ ভূধর শব্দটা কুমিল্লা অঞ্চলের গ্রামবাসী মুসলমানদের অভিধানে সুলভ ছিল না। মক্কেল প্রদত্ত ভোন্দর অর্থাৎ ভোঁদড় উপাধি পরিবারস্থ সবাই সম্মান জ্ঞানেই গ্রহণ করেছিলেন। মামারা সগর্বে আত্মপরিচয় দিতেন, ‘আমরাই তো ভোন্দরের ছাও।’ এই ভোঁদড়শাবক পরিচয় শ্লাঘারই বিষয় ছিল।

    ভোন্দর মোক্তারের নানা কীর্তি কুমিল্লা অঞ্চলে জনপ্রবাদের অঙ্গ ছিল। শুনতাম ওঁর কাছে মামলায় হেরে যাওয়া প্রতিদ্বন্দ্বী এক উকিলকে তাঁর গ্রাম্য মক্কেল তিরস্কার করে বলেন, ভোন্দর মোক্তার যখন ষাঁড়ডার মতো গর্জনটা দিল, তহন যদি আফনে ম্যাড়াডার মথন মটকাডাও মারথেন, হেইলে হয়থ মামলাডা বাছথ। অর্থাৎ ভূধর দাসের বৃষগর্জনের প্রত্যুত্তরে উকিলবাবু যদি মেষসুলভ ম্যা ম্যা ধ্বনিও করতেন, তাহলেও হয়তো কিছু আশা ছিল।

    এই সিংহতেজা মানুষটিকে নিজের দাদামশায় বলে জানতাম। মামলার কাজে বরিশাল এলে বসবার ঘরে সোফায় শুয়ে উনি ঘুমাতেন। আর ওঁর বিশাল ভূঁড়িটি ঢাকজ্ঞানে বাজিয়ে আমি নির্মল আনন্দ পেতাম। কিন্তু এই কলাচর্চায় মা বাবার অনুমোদন ছিল না। ফলে আমার সঙ্গীত শিক্ষার ওইখানেই শুরু এবং শেষ।

    দেশবিভাগের কিছু পরে দাদামশায় এবং ভোঁদড়শাবকরা পশ্চিমবঙ্গে চলে আসেন। শুধু এক মামা পিতার বিশাল সম্পত্তি আঁকড়ে পূর্ব পাকিস্তানে রয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধের সময় খানসেনারা তাঁকে খুন করে–শরীরের সমস্ত রক্ত নিষ্কাশন করে নিয়ে।

    কুমিল্লা শহরে ভূধর দাসের প্রাসাদোপম বাংলো বাড়ি ছিল–বিশাল কম্পাউন্ডের মাঝখানে সাহেবি কায়দায় তৈরি, সামনে চওড়া গাড়িবারান্দা। মানে ত্রিশের দশকে বাংলা ছবিতে নায়িকার অভিজাত পিতারা যে ধরনের বাড়িতে থাকতেন, কতকটা সেই স্টাইলে। আমার মা এবং মামামাসিরা কাকার আশ্রয়ে ওই বাড়িতেই মানুষ হয়েছিলেন। অন্য সহায়হীন ভ্রাতৃবধূ আর ভাইপো-ভাইঝিদের হৃদয়বান মানুষ ভূধর দাস অবহেলা করেননি। কিন্তু দরিদ্র আশ্রিতজনের ভাগ্যে যে তুচ্ছতাচ্ছিল্য ছোটবড় অপমান বরাদ্দ থাকে, কর্মব্যস্ত মানুষটি তা থেকে ওদের বাঁচাতে পারেননি। উনি ভাইপোদের সযত্নে লেখাপড়া শিখিয়ে জীবিকা উপার্জনের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। ভাইঝিদের বহু ব্যয়ে বড় ঘরে বিয়ে দিয়েছিলেন। ওঁর বাড়ির পাশেই বেশ কিছুটা জমিবাগান নিয়ে আমার দিদিমা এবং মামাদের বড় একতলা বাড়ি ছিল, সম্ভবত ওঁরই অর্থসাহায্যে।

    কিন্তু ভূধরবাবু সম্পর্কে ওঁদের নালিশের অন্ত ছিল না। শুনতাম দিদিমা নাকি স্বামীর মৃত্যুর পর প্রায় সাতদিন অজ্ঞান ছিলেন। সেই সময়ের মধ্যে সদ্যবিধবা বউদির টিপসই আদায় করে ভূধরদাদু বড় ভাইয়ের রেখে যাওয়া সত্তর হাজার টাকার কোম্পানির কাগজ আত্মসাৎ করেন। গিরিশ ঘোষের নাটকোপযোগী এই কাহিনি যদি সত্যি হয়, তবু সাত ভাইপো-ভাইঝির ভরণপোষণ, শিক্ষাদীক্ষা, বিয়েসাদিতে সে টাকা উনি কতগুণে শোধ দেন, তার হিসাব মিলাননা আজ আর সম্ভব না।

    প্রায় একশো বছর আগের এই সব তুচ্ছ পারিবারিক প্রসঙ্গ নিয়ে কেন আজ শব্দব্যয় করছি ঠিক জানি না। একটা কারণ কিছুটা আন্দাজ করতে পারি। নানা দোষগুণ নিয়ে ভূধরবাবু বিরাট মাপের মানুষ ছিলেন। ওই ধরনের প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী, হয়তো কিছুটা দাম্ভিক, কর্মকুশল মানুষ আমাদের সমাজে আর দেখা যায় না। সাফল্যের চূড়ায় যে নিঃসঙ্গতা, তা তাঁকে ঘিরে ছিল। লোকে কানাঘুষা করত—উনি নাকি ওঁর বিখ্যাত এক সহকর্মীর পত্নীর প্রেমাসক্ত ছিলেন। আদালত-ফেরতা রোজই তাঁর সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতেন। যতদূর জানি, নিঃসঙ্গ মানুষটির ‘অবৈধ’ প্রেম এর বেশি এগোয়নি। বাইরে থেকে মনে হত মানুষটি কঠিন প্রকৃতির, আবেগহীন, দুরধিগম্য। কিন্তু বহু নিরাড়ম্বর দানধ্যানে ওঁর হৃদয়ের অন্যতর পরিচয় ছিল। কিন্তু আবেগ প্রকাশের ক্ষমতা অথবা ইচ্ছা ওঁর ছিল না। তাই ছেলেপেলেরা ওঁকে ভয় পেত। আমি পেতাম না, কারণ বুঝতে পেরেছিলাম যে, ভুড়িতে ঢাক বাজানো ব্যাপারটা ওঁর অপছন্দ ছিল না। বোধ হয় অর্বাচীন শিশুর নির্বোধ দুঃসাহস ওঁকে যন্ত্রণাময় নিঃসঙ্গতা থেকে ক্ষণিক মুক্তি দিত। আমার ঠাকুর্দা আমার জ্ঞান হওয়ার আগেই মারা যান, আর নিজের দাদামশায় তো মা’র শৈশবেই গতাসু। ভূধরদাদু আদর না। দিলেও প্রশ্রয় দিতেন। শাসনহীন স্নেহের সঙ্গে ওই আমার প্রথম পরিচয়। তার প্রতিদানে যে-তীব্র অহেতুকী ভালবাসা বোধ করতাম, তা শুধু শিশুহৃদয়েই লালিত হতে পারে। আর পারে কৈশোর প্রেমে। বড় হয়ে যখন গলসওয়ার্দির ‘ওল্ড ইংলিশ’ নাটকটি পড়ি, তখন তার দোষেগুণে ভরা কেন্দ্রীয় চরিত্রটিতে দাদামশায় ভূধর দাসের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই। চরিত্রটিতে আরও একটি প্রিয় মানুষের ছায়া দেখতে পেতাম। তিনি শের-ই-বাংলা ফজলুল হক।

    আমাদের মামাবাড়িতে বেশি যাওয়াআসা ছিল না। মা আমাদের নিয়ে দু-লি বছরে একবার যেতেন। বাবাকে কখনও যেতে দেখিনি। আমাদেরও ওখানে গিয়ে খুব একটা ভাল লাগত না। তার একটা কারণ আমার আবাল্য বিদ্রোহী দাদা, অরুণ ওরফে অতু, খেতে বসলেই মা ওকে নিয়ে তাঁর নানা অভিযোগ আর দুঃখের কথা বলতে শুরু করতেন। চোখের জল ফেলতে ফেলতে খাওয়া ছেড়ে দাদা উঠে যেত। মাতুল পরিবারে ওর সপক্ষে এবং বিপক্ষে নানা মন্তব্য হত। শুধু দিদিমা (আমরা বলতাম আজিমা), যাঁর স্নেহে কখনও কোনও সীমা বা বাছবিচার ছিল না, মাকে বকতে থাকতেন। ভাল ছেলের উজ্জ্বল নিদর্শন আমার সঙ্গে তুলনা করে দাদার নিকৃষ্টতা প্রমাণে মা সচেষ্ট হতেন। এই আবেগময় নাটকে নিতান্ত সঙ্কুচিত হয়ে পর্দার আড়ালে আশ্রয় নিতাম। ভোজনপ্রিয় দাদার অসমাপ্ত খাওয়া এবং অহেতুক অপমান বড় কষ্ট দিত। নিজের প্রশংসাটা এই পরিস্থিতিতে আরও যন্ত্রণাদায়ক ছিল।

    আমাদের মধ্যবিত্ত সমাজে সন্তানপালন সম্পর্কে কিছু নিতান্তই অশ্রদ্ধেয় ধারণা এখনও চালু আছে। তার একটি হচ্ছে সন্তানের পক্ষে কী মঙ্গলজনক তা মা বাপের চেয়ে কেউ ভাল বোঝ না। কিন্ডারগার্টেনে পড়াতে হলেও তার জন্য শিক্ষা নিতে হয়, অথচ সন্তানপালনের গুরুদায়িত্ব নেওয়া হয় শুধুমাত্র সাধারণ বুদ্ধি বা তার অভাবের ভরসায়। মা বাপের নিরঙ্কুশ সদিচ্ছা আর স্নেহ–শিশুপালনের জন্য যে বিশেষ জ্ঞানের প্রয়োজন হয়—তার সমস্ত ঘাটতি নাকি পূরণ করে। তাঁদের নিজেদের জীবনের অতৃপ্তি ব্যর্থতাবোধ সহনশক্তির অভাব পরিমিত সুবুদ্ধি যে সন্তানপালনে বিপর্যয় ঘটাতে পারে, ভূরি ভূরি প্রমাণ সত্ত্বেও এ কথা স্বীকার করতে আমাদের দ্বিধা হয়। আর, সব সন্তানকে মা বাপ সমান চোখে দেখে এ কথারও কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। শৈশবে আমরা মা বাবার স্নেহের অভাব কখনও বোধ করিনি। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই দেখেছি, দাদার প্রতি ওঁদের একটা পুঞ্জীভূত বিরক্তিবোধ আর আশাভঙ্গের মনোভাব ছিল, যদিও সে কোনও অর্থেই খারাপ ছাত্র বা বখে যাওয়া ছেলে ছিল না। বড় হবার পর মনে হত মানুষটার সারা জীবন কেটেছে মা বাপের অনুমোদন লাভের ব্যর্থ চেষ্টায়। ওর জীবনের বহুমুখী সম্ভাবনা বোধহয় প্রধানত এই কারণেই ফলপ্রসূ হয়নি।

    মামাবাড়িতে সমবয়স্ক মামাতো ভাইদের কাছে দাদা খুব প্রিয় ছিল না। তার এক কারণ, জমিদার বাড়ির ছেলে বলে আমাদের কিছুটা দেমাক ছিল এবং দাদা অনেক সময় তা বেশ স্থূলভাবেই প্রকাশ করত। শৈশবের স্মবারি যে কী ভয়ঙ্কর হতে পারে, প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা না থাকলে তা ধারণা করা কঠিন। আমাদের দেমাকের দ্বিতীয় উপজীব্যটা সম্ভবত মামাতো ভাইদের কাছে আরও বেদনাদায়ক ছিল। আমাদের পরিবারে সাহেবি ভাবাপন্ন ঠাকুর্দার সময় থেকে, পরবর্তী কালে বাবার স্বদেশি ধরনধারণ সত্ত্বেও, জীবনশৈলী কিছুটা পশ্চিমায়িত ছিল। আমরা পিড়িতে বসে কাঁসার থালাবাটিতে অনুগ্রহণের অভ্যেস ছেড়ে টেবিলে চিনামাটির বাসন এবং কাঁচের গ্লাস সহযোগে খানা খেতাম। খাদ্যটা প্রধানত ভাত ডাল-মাছ হলেও, জমিদার ইসমাইল চৌধুরির বিবির কাছে শেখা মোগলাই কোমা, রেজালা বিরিয়ানি এবং স্টিমার কোম্পানির বাবুর্চিদের প্রশিক্ষণে বামনাবতার বসা—এবং পরে আন্দামান-ফেরত আফছারিয়া রন্ধিত সুপ-রোস্ট-পুডিং জাতীয় বিলাতি ভোজ্য আমাদের খাদ্যতালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল। কারণে অকারণে সেইসব তথ্য মামাতো ভাইদের কাছে ঘোষণা করে দাদা তাদের হীনম্মন্যতা উস্কে দিত। ফলে মাঝেমাঝেই তাদের সঙ্গে অপ্রিয় বাক্য আদানপ্রদান হত।

    তারপর দাদা তর্জনী আস্ফালন করে এক সাবধানবাণী উচ্চারণ করত যা আমার কাছে নিতান্তই দুর্বোধ্য ঠেকত : যদি রোহিণী সেনের রক্ত গায়ে থাকে তো ওদের সঙ্গে কথা বলবে না। কখনও কখনও রোহিণী সেনের জায়গায় অশ্বিনী দত্তের নাম উল্লিখিত হত। রক্ত গায়ে থাকতে কী বোঝায় তা আমার জানা ছিল না। ত্রিশের দশকের গোড়ার দিকে জিনস বা ডি-এন-এ তত্ত্ব বোধ হয় আবিষ্কৃত হয়নি। হলেও পাঁচ বছর বয়সে বিষয়টা আমার সম্পূর্ণ আয়ত্ত ছিল না। কিন্তু রোহিণী সেন বা অশ্বিনী দত্ত কারও রক্তই বৈধ পথে আমাদের ধমনীতে প্রবহমান হওয়া সম্ভব ছিল না—এ তত্ত্ব বড় হয়ে বুঝেছি। বরিশালের প্রবাদপুরুষ অশ্বিনী দত্তর সঙ্গে আমাদের কোনও আত্মীয়তা ছিল না, যদিও ওঁরা আমাদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। নেহাতই আত্মগরিমা বাড়াবার জন্য দাদা ওঁর নামও টেনে আনত। আর বিদ্যাবত্তা এবং ইতিহাসচর্চার জন্য খ্যাতিমান আমাদের পরিবারের সবচেয়ে বিখ্যাত মানুষ রোহিণীকুমার সেন ছিলেন আমার ঠাকুর্দার বড় ভাই। সুতরাং তাঁর রক্ত আমাদের শরীরে আসা দ্বাপর বা ত্রেতা যুগে শাস্ত্রসম্মত হলেও কলির গোড়ার দিকেই তদঘটিত প্রথাটা উঠে গেছে। উনিশ বা বিশ শতকে ব্যাপারটা ঘটলে নেহাতই কেলেঙ্কারি বলে গণ্য হত। আসলে ওই দুই বিখ্যাত ব্যক্তির নাম টেনে এনে দাদা বোঝাতে চাইত—আমরা কংস রাজার বংশধর, এ কথা কখনও ভুললে মহান কীর্তিপাশা পরিবারের অবমাননা হবে। যে সময়ের কথা বলছি, সে সময় আমার স্মৃতিশাস্ত্র এবং পারিবারিক ইতিহাস, দুই বিষয়েই ধারণা কিছুটা অস্পষ্ট ছিল। তাছাড়া তখন দাদার মতামত স্মৃতিশ্রুতিরই তুল্য ছিল। ফলে বিব্রত মুখে মামাতো ভাইদের এড়িয়ে চলতাম। মাতুলালয়বাস অসহনীয় হয়ে উঠত।

    কিন্তু জীবনযাত্রার মান যদি শ্লাঘার বিষয় হয়, তাহলে মামাবাড়ির তুলনায় আমাদের চালিয়াতি করার খুব কোনও কারণ ছিল না। সে যুগের হিসাবে ওঁরা সম্পন্ন গৃহস্থ, আমরা সংকটাপন্ন জমিদার, ‘জলসাঘর’-এর বিপন্ন নায়ক বিশ্বম্ভর রায়ের হাল হতে খুব আর দেরি নেই। ছোটমামা ছিলেন কন্ট্রাক্টর–দুটো ট্রাক আর একটি বাসের মালিক, মাসিক আয় আট দশ হাজার টাকা, যা আজকালকার হিসাবে কয়েক লাখের সঙ্গে তুলনীয়। আজিমার রাজত্বে ভোজনের ব্যবস্থা স্মরণ করলে মনে হয় সেই বিপুল রোজগারের সিংহভাগ পেটপুজোয় খরচ হত, কারণ আমার কোনও সঞ্চয় বা কু-অভ্যাস দুটোর একটাও ছিল না।

    একটি ট্রাক খাটত মাছের ব্যবসায়। কাঁচা টাকা ছাড়া মেছো কোম্পানি থেকে রোজ দুটি পাঁচ থেকে দশসেরি মাছ পাওনা ছিল। যাঁরা সের কাকে বলে ভুলে গেছেন, তাঁরা শব্দটাকে কে. জি. বা কিলোগ্রামে অনুবাদ করে নিন, তার সঙ্গে মনে মনে হিসাব করুন দশ কেজি ওজনের মাছ বাড়িতে শেষ কবে দেখেছেন। ওই মহামৎস্য ছাড়াও উপরি পাওনা ছিল দিনান্তে ট্রাক পরিষ্কার করার সময় পড়ে থাকা কুচো মাছ, তাতে দুটি মাঝারি সাইজের বালতি ভরে যেত। নেট ওজন পাঁচ-ছ সেরের কম নয়। কুচো মাছ মানে হেলাছেদ্দা করার মতো কিছু নয়—মাঝারি সাইজের চিংড়ি, পাবদা, বাচা, পার্শে ইত্যাদি। এই বিপুল পরিমাণ মাছ রোজ রাঁধা এবং খাওয়া হত, মুক্ত হস্তে ঘানিতে ভাঙা সরষের তেল খরচা করে। বাড়ির স্ত্রী-পুরুষ, যাবতীয় কাজের লোক, বাস-ট্রাকের কর্মীরা—কেউই বাদ পড়ত না। এই মৎস্যপুরাণের এখানেই ইতি নয়। মাছের ট্রাক ফিরত মধ্যাহ্নভোজনের পরে। অতএব দুপুরের খাওয়ার আলাদা ব্যবস্থা করা আজিমার মতে আবশ্যিক। ত্রিশের দশকে কুমিল্লায় মাছ নিতান্তই সস্তা। তাই রোজই বাজার থেকে আয়তনে তিমিঙ্গিতুল্য রুই কাতলা চিতল মহাশোল জাতীয় কোনও না কোনও মাছ আসত, এক বা একাধিক। মা-মাসিরা এই অপচয়ে মৃদু আপত্তি জানালে আজিমা তা নস্যাৎ করে দিতেন : ‘ক’স কী? ধনেরা না খাইয়া থাকব?’ ধনেরা অর্থাৎ আমরা নাতি-নাতনিরা না খেয়ে থাকব এমন আশঙ্কার কোনও হেতু ছিল না। কারণ দিন পনেরো মাতুলালয়বাসের পর যখন বাড়ি ফিরতাম, তখন খোদার খাসি জাতীয় পুরুষ্টু প্রাণীরা আমাদের দেখে ঈর্ষিত হত সন্দেহ নেই। আর শরীরে তখন মাংসের তুলনায় মাছের অংশ অনেক বেশি।

    আমাদের আয়তনবৃদ্ধির মাছ ছাড়া অন্য কারণও ছিল। মামাবাড়িতে মধু এবং দুধের স্রোতস্বিনী না থাকলেও, দুধের সরবরাহটা একটা নাতিবৃহৎ জলাশয় ভরার জন্য পর্যাপ্ত ছিল। মনে হয়। আজিমার দুটি অত্যন্ত নাদুসনুদুস গাভী ছিল। তাদের দেখলে গোমাতার সুযোগ্যা কন্যা উমা ভারতী আনন্দাশ্রুতে আপ্লুত হতেন, আদর্শ গোরুর সন্ধানে হল্যান্ড দৌড়তে হত না। এই কামধেনুরা মাথা পিছু বোজ গড়ে ত্রিশ সের দুধ দিতেন। সেই দুধে ঘি, মাখন, মিষ্টান্নাদি তৈরি করার পরেও প্রায় সের দশ বারো উদ্বৃত্ত থাকত। মধ্যাহ্নভোজনের পর সে। বস্তু এক জগদ্দল কড়াইয়ে কাঠকয়লার উনোনে ঢিমে আঁচে চাপানো থাকত। ঘণ্টা তিনেক পর সেই দুধ যে-জিনিসে পরিণত হত তাকে অমৃতবৎ বললে কিছুমাত্র অতিভাষণ হবে না। খাদ্যের লাইনে ইন্দ্রলোকে ওর চেয়ে বেশি সুস্বাদু কিছু পাওয়া যায়, একথা বিশ্বাস করতে আমি নারাজ। যে-দুধ রূপান্তরিত হয়নি, তা আমার চক্ষের বিষ ছিল। আর ছোটবেলায় অভ্যেস ছিল, খাওয়ার সময় নিজের থালা ছাড়া অন্য কোনও দিকে দৃকপাত না করা–কতকটা অর্জুনের ধনুর্বিদ্যা শেখার আদর্শে। ফলে খাওয়ার শেষে আজিমা যখন দুধ বিতরণ করতেন, তখন প্রবল শিরঃকম্পনে নিজের অনীহা ঘোষণা করতাম। হঠাৎ একদিন চোখে পড়ল মাতামহী-বর্ণিত ‘দুধ’ আসলে সেই পাটকিলে রঙের রাবড়ি। দিনের পর দিন কী ভুল করেছি ভেবে প্রাণটা হাহাকার করে উঠেছিল।

    আজিমার শরীরমনে আলসেমির কোনও স্থান ছিল না। দুপুরের খাওয়া শেষ হলেই উনি সারা বছরের জন্য নানা মুখরোচক খাদ্য-আচার, মোরব্বা, বড়ি, আমসত্ত্ব, নাভু, জ্যাম, জেলি ইত্যাদি তৈরি করতে বসতেন। তাছাড়া দৈনিক বরাদ্দ দুগ্ধজাত তথা ময়দা, ডাল, নারকেলের মিষ্টি তো ছিলই। তারপর আক্ষরিক অর্থেই বারো মাসে তেরো পার্বণের প্রস্তুতিও একটা বড় কাজ ছিল। সংকটচণ্ডী, মঙ্গলচণ্ডী, মাঘমঙ্গল, পাঁচুঠাকুর ইত্যাদি নানা ব্ৰত মারফত সব দেবদেবী উপদেবতা অপদেবতাদের সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা বছর ধরেই চলত। প্রতিটি ব্রতেরই নিয়মকানুন স্বতন্ত্র, বিচিত্র এবং অনেক সময়ই অত্যন্ত কষ্টকর। সংকটচণ্ডীর ব্ৰতটা মনে আছে। ওই ব্রতের অনুষ্ঠান ঘণ্টা তিনেক ধরে চলত এবং সব কাজই করতে হত ডান হাতে। আর সেই দক্ষিণ হস্তটি ব্যবহার করতে হত হাঁটুর নীচ দিয়ে। এটাই ছিল ‘সংকটে বসা’, উদ্দেশ্য ঘণ্টা তিনেক ওইভাবে ‘সংকটে’ বসে পরিবারস্থ সবাইকে সারা বছর সংকটমুক্ত রাখা। মানুষ যন্ত্রণা পেলে স্বর্গস্থ দেবতারা খুশি হন, এই ধারণা অনেক ধর্মবিশ্বাসের মূল কথা। বোধ হয় ধরাতলবাসী দেবতাদের আচরণ থেকেই ধারণাটা জন্মেছে।

    ব্রতপালনের অন্যতর অঙ্গ বিচিত্র শিল্পচর্চা। এঁটেল মাটি দিয়ে নানা সাইজের পুতুল বা মূর্তি তৈরি করা হত। আর প্রতি ব্রতে আলপনাও ছিল বিশিষ্ট চেহারার। কোন ব্রতে তা মনে নেই, আজিমা নিজের হাতে মাটি দিয়ে এক বিরাট কুমির বানাতেন। কৃষ্ণনগরের কুমোররা তা দেখলে নিশ্চিত হতমান হতেন। ব্ৰতসংক্রান্ত যে-শিল্পে আমাদের সব চেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল সেটা অবশ্যই রন্ধনশিল্প। প্রতি ব্রতে যেসব বিচিত্র আহার্য প্রস্তুত হত বছরের অন্য কোনও সময় তা পাওয়া যেত না।

    আজকাল দেখি সবাই সব সময় ভীষণ ব্যস্ত, কিছু করারই কেউ সময় পান না। আজিমাকে কখনও সময়ের অভাব বলে অনুযোগ করতে শুনিনি। ওঁর হাতে সর্বদাই অন্তহীন সময়। রান্নাবাড়ি, মিঠাই বানানো, ব্রতপার্বণ এসব ছাড়া ওঁর আর একটি বড় কাজ ছিল কাঁথা সেলাই আর পশমের জামা বোনা। ওঁর তিন ছেলে আর চার মেয়ে এবং তাঁদের জনা বিশেক সন্তানসন্ততি সকলেরই গায়ে ওঁর বোনা উলের সোয়েটার শোভা পেত। প্রতি শীতেই আমাদের একটি নতুন সোয়েটার পাওনা ছিল। ওঁর আর এক শখ ছিল বাগান। সে বাগানে সারা বছরই নানারকম সুগন্ধি দেশি ফুল আর বহুবর্ণ বিদেশি মরসুমি ফুল ফুটত। যেসব ফলের গাছ পূর্ব-দক্ষিণ বঙ্গের মাটিতে গজানো সম্ভব, তার প্রায় সবই আজিমা পুঁতেছিলেন। যা গজানো সম্ভব নয়, তাদেরও সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেননি। যথা আঙুর। বাগানে সুদৃশ্য একটি আঙুরের লতা ছিল। তাতে বেশ বড় বড় কালো রঙের ফল হত, যদিও স্বাদে জামিরের মতো টক। অবশ্যি এই সামান্য ব্যাপারে আজিমা দমতেন না। অসহ্য রকমের টক আঙুর প্রচুর চিনি সহযোগে লোভনীয় জ্যামে পরিণত হত।

    আজিমার সারা জীবনই নানা দুঃখে ভরা। বেশির ভাগ সময়টা উনি ছোটছেলের কাছেই থাকতেন। জীবনের শেষ পর্যায়ে ছেলের সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় সেই ছেলের প্রথম পক্ষের তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে আজিমা বাড়ি থেকে বের হয়ে আসেন। বোধ হয় ভরসা ছিল মা-মরা ছেলেমেয়েগুলি জ্যাঠা বা পিসিদের কাছে আশ্রয় পাবে। কিন্তু ঘটনাটা ঘটে দেশবিভাগের পরে। যাঁদের ভরসায় উনি ছোটছেলের আশ্রয় ছেড়েছিলেন, কারও অবস্থাই তখন খুব সচ্ছল না। তিনটি অপোগণ্ড শিশুর ভার নিতে কেউ কোনও উৎসাহ দেখাল না। সবারই উপদেশ–ওদের বাপের কাছে ফিরিয়ে দাও, তুমি একা এসো, মাথায় করে রাখব। জেদি মানুষটি সত্মার হাত থেকে বাচ্চাগুলিকে বাঁচাবেন বলেই ঝগড়া করে বের হয়ে এসেছিলেন। ওই সদুপদেশ ওঁর কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। তখন ওঁর বয়স আশির উপরে। সোজা মুখ্যমন্ত্রী বিধান রায়ের দরবারে হাজির হয়ে উনি হাবড়ায় উদ্বাস্তুদের জন্য তৈরি বাড়িগুলির একটি দাবি করেন। সেই বাড়ির গৃহ এবং উদ্যানসজ্জার জন্য নানা জিনিস এবং গাছপালা চেয়ে এক লম্বা ফর্দ আজিমা মেয়ে-জামাইদের কাছে পাঠান। সেই ফর্দে উনি আঙুরলতার উল্লেখ করতে ভোলেননি। হাবড়ার বাড়ির একচিলতে বাগানে আঙুরলতা লকলকিয়ে বেড়ে ওঠে। শুনেছি ফলও ধরেছিল প্রচুর। তার স্বাদগ্রহণ করার সুযোগ আমার হয়নি।

    আজিমার প্রাণশক্তি বোধ হয় অন্তহীন ছিল। শত আঘাতেও তা ক্ষুণ্ণ হত না। উনি বেঁচে থাকতেই ওঁর দুই ছেলে আর দুই জামাই মারা যান। খবরগুলি ওঁর কাছ থেকে গোপন করা হত। কিন্তু কোনওভাবে উনি বুঝতে পারতেন। ওঁর মেজছেলের মৃত্যুর দিনটায় উনি আমাদের কাছে ছিলেন। সবাই দুঃসংবাদটা চাপা দিতে ব্যস্ত। হঠাৎ আজিমা জিগ্যেস করলেন, ‘কালু নাই, না?’ সবাই চুপ করে রইল। দরজায় পিঠ দিয়ে বসে উনি কিছুক্ষণ খুব কাঁদলেন। তারপর উঠে যেকাজ করছিলেন, সেই কাজে আবার হাত দিলেন।

    কুমিল্লা শহরে আমার শৈশব আর বাল্যের অনেকগুলি দিন কেটেছে। শহরে বা তার কাছেপিঠে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল কয়েকটি অতিবৃহৎ দিঘি, যাদের স্থানীয় নাম ছিল সাগর, আর শহরের অদূরে ময়নামতীর পাহাড় অর্থাৎ টিপি। সেই টিপির নীচে অনেক পুরাবস্তু লুকিয়ে ছিল। যতদূর মনে পড়ে, আর্কিয়োলজিকাল সার্ভে ত্রিশের দশকেই ওখানে খননের কাজ শুরু করে। পাকিস্তানি আমলে সে কাজ আরও এগিয়ে যায়। আমাদের বাসস্থান বরিশাল জেলা প্রায় হল্যান্ডের মতোই উচ্চাবচতাহীন সমতল। কুমিল্লা শহরে সবচেয়ে উঁচু জায়গা ছিল চাঁদমারি—অর্থাৎ পুলিশদের বন্দুক ছোঁড়া অভ্যেস করার জন্য মাটি ফেলে তৈরি ঢিপি, উচ্চতায় বিশ-পঁচিশ ফুট, আগাছার কৃপায় রীতিমতো মনোরম। ছেলেবেলায় চাঁদমারি আরোহণ করে অ্যাডভেঞ্চারের স্বাদ পেতাম। চাঁদমারির তুলনায় ময়নামতী হিমালয়সদৃশ। আর হেমেন রায়ের ময়নামতীর ‘মায়াকানন’ পড়ে জায়গাটা মঙ্গলগ্রহের অন্তর্গত বলে অনেক দিন বিশ্বাস ছিল। সুতরাং পাহাড়টি ছিল আমার স্বপ্নভূমি। বিমল, কুমার, রামহরি সেখানে আমার সাগরে, এভারেস্ট অভিযাত্রীরা অনুচর মাত্র। আর ‘চাঁদের পাহাড়’-এর ডিয়েগো আলভারেজের সঙ্গে সেখানে রোজই দেখা হত। এহেন ময়নামতী ছাড়া কুমিল্লায় আমার দ্বিতীয় আকর্ষণ ছিল ধর্মসাগর। দিঘির সঙ্গে আমরা বরিশালেও অপরিচিত ছিলাম না। কিন্তু এ বিশাল রাজকীয় ব্যাপার, সাগর অভিধা সামান্যই অতিরঞ্জন।

    সেই ধর্মসাগরের পারে বিখ্যাত সার্কাসওয়ালা রামমূর্তি তাঁবু ফেললেন। মামাতো ভাইবোনদের সঙ্গে সার্কাসের জন্তুজানোয়ার দেখতে গেলাম। দেখলাম বিরাট এক হাতি গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বাঁধা। ফিরে এলে বড়রা প্রশ্ন করলেন, ‘ক’ কী দেখলি।’ চার বছর বয়স্ক প্রতিমা জুরির ফোরম্যানের মতো সকলের হয়ে উত্তর দিল, আমমূর্তিরে দেইখা আইলাম। গাছের লগে বাঁইধা থুইছে। হে খালি দোলে আর দোলে।

    কুমিল্লা শহরে আমার এক অস্তিত্ববাদী বন্ধু জুটেছিল সার্তের আবির্ভাবের বেশ কিছুকাল আগে। তার নাম কেউ জানত না, সম্ভবত সে নিজেও না। কিন্তু তা বলে যে পরিচয়হীন ছিল এমন নয়। শতচ্ছিদ্র আলখাল্লা পরা মানুষটি ভিক্ষে করতে এসে কোমরে হাত দিয়ে উদ্দাম নৃত্য সহযোগে যে বিচিত্র সঙ্গীত পরিবেশন করত তাতে তার গভীর আত্মজ্ঞান এবং পিতৃবংশ সম্পর্কে যথোচিত গৌরববোধের পরিচয় পাওয়া যেত। গানটি নিম্নরূপ :

    আমি রহিমচাঁদা করিমচাঁদা ফটিকচাঁদার ভাই।
    আমি বাজারেতে যাই।
    কত কিলগুতা খাই।
    আমার পিঠের চামড়া নাই।

    দুঃখে অনুদ্বিগ্নমনা যোগীচিত্ত মানুষটি সত্যিকারের ভিক্ষাজীবী ছিল না। গৃহস্থের আঙিনায় নৃত্যগীত পরিবেশনের ন্যায্য মূল্য হিসাবেই যা দেওয়া হত, তা থলিস্থ করে আভূমি সেলাম জানিয়ে সে নাচতে নাচতে চলে যেত। কিলওঁতাজনিত পৃষ্ঠদেশের চর্মহীনতা তার জীবনবোধ কিছুমাত্র ক্ষুণ্ণ করেনি। ছ-সাত বছর বয়স অবধি আমি সেই দার্শনিক নৃতাশিল্পীর রুদ্রতাণ্ডবে যোগ দিতাম। এমন যোগ্য শিষ্য সে আর পায়নি। আত্মপ্রশংসা আমার স্বভাববিরুদ্ধ। তবু বলি উক্ত শিল্পে আমার রীতিমতো পারদর্শিতা জন্মেছিল। কিন্তু হঠাৎ একদিন আমার নৃত্যগুরু অন্তর্ধান হলেন। ফলে আমার শিক্ষা অসমাপ্ত রইল। না হলে উদয়শঙ্করের খ্যাতি যে নিষ্প্রভ হত এ বিষয়ে সন্দেহের কোনও কারণ নেই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর জীবনী – তপন বাগচী
    Next Article নির্বাচিত কলাম – তসলিমা নাসরিন
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }