Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বাঙালনামা – তপন রায়চৌধুরী

    তপন রায়চৌধুরী এক পাতা গল্প787 Mins Read0
    ⤶

    ২৪. শেষ কথা

    শেষ কথা

    দিন হয়ে এল গত।
    ভাবিতেছি বসি নীরব আঁধারে
    আঘাত করিছে হৃদয় দুয়ারে
    দুর প্রভাতের ঘরে ফিরে আসা
    পথিক দুরাশা যত।

    আমার এই অকিঞ্চিৎকর জীবনকথা শেষ হল। অনেক আশা, অনেক কিছু শিখবার ইচ্ছে নিয়ে জীবন শুরু করেছিলাম। তার শতকরা দশ ভাগ পূর্ণ হয়েছে। আশাতীত সৌভাগ্যও হয়েছে। আত্মীয়স্বজন, শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে অফুরন্ত স্নেহ-ভালবাসা যা পেয়েছি তার কোনও পরিমাপ হয় না। সর্বোপরি লীলালক্ষ্মী আবির্ভূত হয়েছেন। আমার ভাগ্যে এত আনন্দও লেখা ছিল কখনও কল্পনা করিনি।

    অন্য ব্যর্থতাবোধ ছাড়িয়ে নিজের সম্বন্ধে শুধু একটা ক্ষোভই রয়ে গেল। যৌবনে নিজস্ব জীবনদর্শনের কেন্দ্রে একটি তত্ত্ব ছিল, যা আমাকে নানা সংঘাতের ভিতর সুবুদ্ধি বজায় রাখতে সাহায্য করেছে। এখনও আমার দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্তি-মানুষের ব্যবহারে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ তার চেহারার মতো মানুষের স্বভাবও প্রকৃতিদত্ত। এর উপর কারও হাত নেই। এই কথা ভেবে নানা সময়ে নানা লোকের শত্রুতার শান্ত মনে মোকাবিলা করতে পেরেছি। বার্ধক্যে এই সুবুদ্ধি আমার লোপ পেয়েছে। কিছু তথাকথিত বন্ধুর (যাদের কেউ কেউ আমার দ্বারা বিশেষভাবে উপকৃত) নিরবচ্ছিন্ন গোপন শত্রুতার ফলে তাদের প্রতি তীব্র বিদ্বেষ বোধ করি। এতে ক্ষতি আমার, তাদের না। আশা করি এই অযৌক্তিক প্রতিক্রিয়া থেকে মুক্তি পেয়ে শান্তিতে মরতে পারব। তবে যে সব মানুষ নামের অযোগ্য নিকৃষ্ট জীব বিদ্বেষের আগুন জ্বালিয়ে সমাজ, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রের সর্বনাশ ঘটাতে উদ্যোগী তাদের প্রতি অন্তহীন ঘৃণা যেন পরম পূণ্য জ্ঞানে আমরণ চিত্তে ধারণ করি। এ ব্যাপারে আমার কোনও অপরাধবোধ নেই।

    গত ৮ মে ২৫ বৈশাখ (তারিখটি লক্ষণীয়) আমার আশি বছর পূর্ণ হয়েছে। শরীরে একটা জন্মগত সমস্যা আছে—aortal stenosis। যে-বৃহৎ ধমনীটি বয়ে রক্ত হৃৎপিণ্ডে যায় সেটি বুজে আসছে। ডাক্তার এবং যমদেব নোটিশ দিয়েছেনবছর দেড়েকের মধ্যে কিছু করা দরকার, নতুবা… কিছু করা মানে হৃৎপিণ্ডের একটি ভালভ কেটে কোনও শুয়ারহৃদয় থেকে তার বিকল্প নিয়ে জুড়ে দেওয়া। ওয়েবসাইটে এই তথ্য পেলাম যে, এ অস্ত্রোপচারে চারটি কমপ্লিকেশন হতে পারে—রক্তপাত, সন্ন্যাস, কিডনি অকেজো হয়ে যাওয়া, আর চতুর্থ, মৃত্যু। শেষোক্তটি কি কমপ্লিকেশন? ও তো সব সমস্যার সমাধান। এই আসুরিক চিকিৎসায় শতকরা দশ জন ঘায়েল হয়। সুতরাং ওটা করাব না ঠিক করেছিলাম। তা ছাড়া অন্যায় বিনিময় বলে একটা কথা আছে। কোনও শুয়ারকে ডেকে ‘তোমার হৃদয় আমার হোক’ বলতে ইচ্ছে হচ্ছে না। কারণ পরিবর্তে শ্রীযুক্ত বা শ্ৰীমতী শুয়ার তো কিছু পাবেন না, নেহাতই বেধড়ক মারা যাবেন। ব্যাপারটা ন্যায়সঙ্গত হবে না। তাই নিজের ঐতিহ্যের আশ্রয় নিয়েছি। প্রাণায়ামাদি করছি। দেখা যাক, কদ্দিন চলে। তবে শেষ অবধি ডাক্তার এবং বরাহের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া পথ নেই। আপাতত বন্ধুগণ, বিদায়।

    শেষ কথার পরের কথা

    প্রথম সংস্করণের শেষ পরিচ্ছেদের নাম ‘শেষ কথা’। লজ্জার মাথা খেয়ে আবারও লিখতে বসেছি, কারণ যমদেব ছুঁয়েও ছুঁলেন না, আমি এমনি পাপিষ্ঠ, যাকে বলে যমেরও অরুচি। যাক গে, পাপিষ্ঠ হলে সত্যিই যদি যম হোয়াচ বাঁচিয়ে চলেন, তবে আমি জন্ম জন্ম পাপিষ্ঠ হতে রাজি। কারণ বেঁচে থাকার কোনও বিকল্প নেই। আর সকলেই জানেন, পাপিষ্ঠ হওয়া মহা সুখের ব্যাপার। আমাদের এই পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রে পাপিষ্ঠরাই তো সবচেয়ে সুখে আছে। তারাই আমাদের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা, তারাই আমাদের পয়সায় কেনা ট্রামবাস পুড়িয়ে রাজা উজির হওয়ার স্বপ্ন দেখে, তারাই গণহত্যা করে বা করিয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য দাবা খেলায় নামে। তারাই সহস্র কোটি টাকার কালোবাজারি করে সকলের শ্রদ্ধার পাত্র বলে পরিগণিত হয়। অতএব আমার প্রস্তাব আমাদের জনগণের নতুন স্লোগান হোক–পাপিষ্ঠগুষ্ঠি জিন্দাবাদ, অপাপিষ্ঠরা নিপাত যাক। আর আমাদের নতুন জাতীয় সংগীত তোক

    আমরা সবাই ছ্যাঁচোর
    আমাদের এই চোরের রাজত্বে
    নইলে মোরা চোরের সনে
    মিলব কী স্বত্বে?

    এতে রবীন্দ্রনাথের প্রতি যে এত শ্রদ্ধা তাও অটুট রইল, আর আমাদের গৌরবময় রাজনীতির প্রকৃত অবস্থাটাও ভবিষ্যৎ প্রজন্মদের জন্য অবিস্মরণীয় ভাষায় বিধৃত হল।

    কিন্তু এসব হল বাজে কথা। বর্তমান বইটির সঙ্গে এদের কোনও সম্পর্ক নেই। তবে বৃহত্তর পটভূমিটা বুঝতে সুবিধে হবে বলে লিখলাম। আমার বয়সের মানুষ কথা বলতে গেলে কিছু বাজে কথা বলবেই। সুতরাং ব্যাপারটা ক্ষমার্হ।

    ২০০৭ সনের ৬ এপ্রিল দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রীয় সম্মান পেলাম আমাদের তখনকার রাষ্ট্রপতির হাত থেকে। তিনি পেশায় বৈজ্ঞানিক, জাতিতে মুসলমান। যাঁরা সম্মান পাবেন তাদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় বসে সামনে উপবিষ্ট অভ্যাগতদের দেখলাম। প্রথম সারিতে পুরানো সহকর্মী আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ, মাথায় পাগড়ি, জাতিতে শিখ। তার পাশে সাদা ধুতি পাঞ্জাবিতে শশাভিত আমাদের লোকসভার স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়, শতকরা ১৫০% বাঙালি। যাঁরা সম্মানিত হবেন তারা। ভারতবর্ষের সব অঞ্চল থেকে এসেছেন, গায়ে বিচিত্র আঞ্চলিক পোশাক। অভ্যাগতদের মধ্যে তাদের আত্মীয়স্বজন, অনেকেরই অঙ্গে আঞ্চলিক বেশবাস। তাঁদের মধ্যে আমার স্ত্রীকন্যা এবং সালোয়ার-কামিজে সজ্জিতা শ্রীমতী লীলালক্ষ্মী। মনে হল আমার সামনে আমার চারপাশে আমাদের বাল্য আর প্রথম যৌবনের কল্পনার ভারতবর্ষ–যথা নদীনাং বহবায়ু বেগাঃ। সেই স্বপ্নের ভারতবর্ষ আজ পোকায় খাওয়া, দুর্নীতিগ্রস্ত, নানা বিভেদে হতশ্বাস, দরিদ্র ভারতবাসীর অনাহার দূর করতে অক্ষম। তবুও কি আমরা সফলস্বপ্ন? না, কিন্তু যা পেয়েছি তাকে উপেক্ষা করার মতো মনোবল আমার নেই। মাথা পেতে রাষ্ট্রপতির হাত থেকে রাষ্ট্রীয় সম্মান গ্রহণ করলাম। আমার জীবন সার্থক হল।

    দেশ থেকে শ্বেতদ্বীপ ফিরে গেলাম, রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়ার ঠিক বারো দিন পরে অস্ত্রিচিকিৎসা হল, বক্ষ বিদারণ করে, হৃৎপিণ্ডের একটি ভালভ কেটে বাদ দিয়ে তার জায়গায় শূয়ার, না গোরুর হৃৎপিণ্ড থেকে একটি ভালভ (এই শব্দের বাংলা কোনও প্রতিশব্দ থাকলে তা আমার জানা নেই) নিয়ে বসিয়ে দেওয়া হল। ফলে সঙ্ঘ পরিবারের চোখে আমি পবিত্র জীব হলাম, না গো-হত্যার জন্য অপ্রত্যক্ষ ভাবে হলেও দায়ী হলাম, জানি না। ভয়ে ভয়ে আছি। কারণ তেনাদের মতিগতি সহজবোধ্য নয়। সম্প্রতি এক ফতোয়া দিয়েছেন যার অর্থ–কৃত্তিবাসী রামায়ণ পড়া চলবে না। যারা ফতোয়াটা দিয়েছেন তাঁরা সম্ভবত টেলিভীষণী রামায়ণ ছাড়া আর কিছু পড়েননি।

    অস্ত্রোপচারের জন্য যখন আমাকে নিয়ে গেল তখন আমি বিশেষ দাওয়াইয়ের কৃপায় সুখসাগরে ভাসমান। চেতনা যেটুকু ছিল তার মারফত বার্তা পেলাম, মরি তো সুখেই মরব। মরব এই বিশ্বাস নিয়েই অস্ত্রোপচারে রাজি হয়েছিলাম, কারণ উপায়ান্তর ছিল না। বিশ্বাসটা শতকরা ১০০% যুক্তিযুক্ত ছিল না, তবে এই চিকিৎসায় দশ জনে একজন ঘায়েল হয়, আমার বয়সে শতাংশটা আর একটু বেশিও হতে পারে।

    প্রায় চব্বিশ ঘণ্টা পরে জ্ঞান ফিরে এল। বেঁচে আছি, এই কথাটা বুঝতে কিছুটা সময় লাগল। বুঝলাম নিতান্তই আটপৌরে এক শারীরিক অভিজ্ঞতা থেকে। হাসপাতালের বিছানার ফেনশুভ্র চাদরের উপর আমার একটা হাত পড়ে ছিল। সুখশীতল সেই চাদরের স্পর্শ থেকে হঠাৎ আশ্বাস পেলাম যে আমি বেঁচে আছি। এই সংবাদে সারা শরীর এক গভীর স্নায়বিক সুখে প্লাবিত হল। দেহ মনের এমন গভীর তৃপ্তির অভিজ্ঞতা এর আগে কখনও হয়নি। জানলাম, মরণশীল জীবের চরম সৌভাগ্য শুধু বেঁচে থাকা, নীরোগ যন্ত্রণামুক্ত শরীরে। এর তুলনায় আর সব কিছুই তুচ্ছ। নানা আশা-নিরাশা ছোট বড় ব্যর্থতাবোধ হঠাৎ অবান্তর মনে হল। চেনা অচেনা সব মানুষ নিতান্ত প্রিয়জন বলে জানলাম। জানালা দিয়ে দেখলাম দূর পাহাড়ের গায়ে রাইসরষের ক্ষেত ফুলে ফুলে হলুদ হয়ে আছে। মনে হল স্বর্গের দৃশ্য দেখছি। চেতনা, শুধু বেঁচে থাকার চেতনা, কোটি মণিমুক্তার চেয়ে মূল্যবান এই বোধ দেহমনে একটা সুখের আস্তরণ বিছিয়ে দিল। আমাদের দর্শনে উল্লিখিত কৈবল্য আর এই বোধ কি এক না হলেও সমগোত্রীয়?

    তারপর প্রায় দু’বছর কেটে গেছে। এই সময়কালের প্রধান ব্যক্তিগত খবর, ‘বাঙালনামা’র প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হল, প্রচুর বিক্রি হওয়ায় ঘরে কিছু অর্থ সমাগম হল, লেখা থেকে যার তুলনীয় অর্থ আগে কখনও পাইনি। এর মধ্যে দুনিয়ার বাজারে মহামন্দা শুরু হয়ে গিয়েছে। তার ধাক্কা আমার মতো মিশকিন মোবারক লোকেরও গায়ে এসে লেগেছে। মিশকিন মোবারক শব্দ জুটির সঙ্গে যারা পরিচিত নন তাদের জ্ঞাতার্থে বলি, ওর মানে পবিত্র ভিখারি। বাবা কথাটা প্রায়ই ব্যবহার করতেন, নিতান্ত বেচারা মানুষের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে। সেই থেকে কথাটা আমাদের পরিবারে চালু, প্রয়োগটা অভিধান-সম্মত কি না জানা নেই। মোট কথা বই বিক্রি হওয়ায় আমি উপকৃত। ক্রেতাদের ধন্যবাদ।

    কিন্তু জনপ্রিয়তার জন্য এ দেশে একটি বিশেষ মূল্য দিতে হয়, সে ব্যাপারটা খুব স্বাস্থ্যকর কি না আমার সন্দেহ আছে। উপযুক্ত বিশেষ্যর অভাবে আমি সেই প্রবণতাটিকে আমড়াগাছি সংস্কৃতি বলে বর্ণনা করছি। এই সংস্কৃতির প্রধান লক্ষণ–সাধারণত অযোগ্য কোনও ব্যক্তিকে মহাপুরুষ বলে বন্দিত করা। লক্ষণীয় এই যে ব্যাপারটায় স্তুতিকারদের কোনও স্বার্থ নেই। ওঁরা যা করেন তা নিতান্তই অকারণ পুলকে। পুলকের যিনি লক্ষ্যস্থল, সম্ভবত তিনিও এতে অন্তত কিছুদিন পুলকিত হন, যদিও জীবধর্মের অধীন হলে যে কোনও মানুষেরই কয়েক দিনেই এতে দমবন্ধ হয়ে আসার কথা। আমার ক্ষেত্রে আমড়াগাছি সাময়িক সুখেরও কারণ হয়নি। কারণ দুনিয়ার হাটে আমার বাজার দর আমার ভালই জানা আছে।

    সেটা যে খুব উঁচু নয়, তার অন্যতর প্রমাণ ইংরাজিতে একটি আত্মজীবনী লিখেছি (সেটা কোনও অর্থেই ‘বাঙালনামার অনুবাদ নয়), তার জন্য প্রকাশক খুঁজে পাচ্ছি না। বিলেতে পাইনি তার কারণ মন্দার ভয়ে সবাই বস্ত, বিশেষ করে যে বইয়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদকে চুটিয়ে গালিগালাজ করা হয়েছে তা ছাপালে বিক্রি হবে কি না সন্দেহ। এক প্রকাশক নিতে রাজি হয়েছিলেন, আমার এক ‘বন্ধু’ হামলে পড়ে প্রস্তাবটা বানচাল করেন। বোধহয় সাম্রাজ্যের আলোচনাটা তার ঠিক হজম হয়নি। হ্যাঁ, ওদেশেও আমি সম্পূর্ণ বন্ধুহীন না, যদিও স্বদেশের তুলনায় তারা সংখ্যায় নগণ্য। আর দেশে এক সময় যাঁরা প্রাণ অতিষ্ঠ করে তুলেছিলেন তাঁদের আবিষ্কৃত মহাপুরুষরা এখন নানা ক্ষেত্রে কর্তাব্যক্তি। রাজধানীতে তো তারা রীতিমতো রাজত্ব করছেন। আমার মতো অকিঞ্চন লোকের বই ছাপানো বন্ধ করা তাদের তো বাঁ হাতের খেল। অতএব আমাকে যারা আমড়াগাছি করেন তারা অবহিত হোন–আমি নিতান্তই সাধারণ মানুষ, আমার খ্যাতির যৌক্তিকতা নিয়ে যথাযথ কারণেই প্রশ্ন উঠতে পারে। অতএব ক্ষ্যামা দিন, আমাকে আর বেশি বাড়াবেন না, বাড়ালে আখেরে আপনাদেরই অনিষ্টের সম্ভাবনা।

    এই দুই বছরে আমাদের রাজনৈতিক জীবনে কতগুলি বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটল যা আমার ব্যক্তিগত ভালমন্দ বোধকে স্পর্শ না করে পারেনি। প্রথমেই নন্দীগ্রাম। আমাদের উদারপন্থী রাজ্যে এমন ঘটনা দেখতে হবে এ কথা কখনও কল্পনাও করিনি। বিরোধী দলের প্রধান নেত্রীর কার্যকলাপ এতই জনস্বার্থবিরোধী, এতই সুবুদ্ধিবিরহিত যে তিনি কখনও সিংহাসন অধিকার করবেন ভাবলেই গায়ে কাঁটা দেয়। অপর পক্ষে ঘনিষ্ঠ বন্ধু তসলিমা রাজ্য থেকে বিতাড়িত হলেন। এ নিয়ে দুয়ারে দুয়ারে ধরনা দিলাম। কিছু ফল হল না। ওঁকে কলকাতায় থাকতে দিলে সত্যিই কি মুসলমানরা বিরুদ্ধে ভোট দিতেন? তাদের অধিকাংশ লোক ধর্মান্ধ এমন মনে করার কী হেতু আছে? মুসলমান-প্রধান রাজ্য বাংলাদেশেও মৌলবাদীরা শতকরা দশের বেশি ভোট পায় না।

    সম্ভবত রাজনৈতিক নেতাদের হিসাব নিকাশ আর সাধারণ মানুষের চিন্তা এক পথে চলে। ওঁরা আমাদের চেয়ে বেশি সাবধানী, কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ। আমরা রোজ রাস্তায় বের হই মিনিবাসে চাপা পড়ার ঝুঁকি নিয়ে, কাটা তেলের ধোঁয়ায় ফুসফুসে ক্যানসার হবার সম্ভাবনাটা প্রতিদিন আরেকটু বাড়িয়ে। অবশ্য ওই বিষ যাঁরা ছড়ান, তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য সরকার এবং বিরোধী পক্ষ উভয়ই সমান ব্যাকুল। কাটা তেল বিক্রি বন্ধ হলে ষাট হাজার লোক খাবে কী? তাতে যদি এক কোটি লোক ক্যানসারে মরে তো কী করা যাবে? সংগ্রামশাস্ত্রে এ ধরনের মৃত্যুকে কোল্যাটারাল ড্যামেজ বলে। ওসব মেনে নিতে হয়। বৃথা ঝামেলা করবেন না, আপনার প্রাণটা কি ভোটে জেতার চেয়ে বেশি দামি? যত্ত সব!

    মৃত্যুর কথা ওঠায় মনে পড়ল, গত দেড় বছরে আমার চারপাশে মৃত্যুর উৎসব শুরু হয়ে গ্যাছে। কুমার মুখার্জির উৎসাহে ‘বাঙালনামা’ লেখা শুরু করি। ওর খুব ইচ্ছে ছিল বইটা প্রকাশিত দেখে যাওয়ার। দু’সংখ্যা ছাপা হওয়ার পর ও চলে গেল। ওর ইংরিজিতে লেখা হিন্দুস্থানি মার্গ সংগীতের ইতিহাস মৃত্যুর ক’দিন আগে প্রকাশিত হল। বই পড়ার ক্ষমতা তখন আর নেই। সদ্য প্রকাশিত বইটি পরম স্নেহে হাত বুলিয়ে দেখছিল কুমার। চাওয়া-পাওয়ার ব্যবধান ক’জনের জীবনেই বা লোপ পায়?

    কুমারের পরেই গেল অমর সান্যাল। সেদিন দুপুরেই এক সঙ্গে রেস্তোরাঁয় খেয়েছি। সন্ধেবেলা বাড়ি ফিরে শুনলাম ও চলে গেছে। নানা গুণে গুণী মানুষটিকে কেউ চিনল না। অবশ্যি তা নিয়ে ওর যে খুব মাথাব্যথা ছিল এমন নয়। অদম্য প্রাণশক্তির এমন প্রকাশ আর কোনও মানুষের মধ্যে আমি দেখিনি।

    তারপর গেলেন কল্যাণ সেন, রেভিন বোর্ডের অবসর প্রাপ্ত সভ্য, ঔদ্ধত্যবর্জিত ডাকসাইটে অফিসার, ‘৪৩ সন থেকে আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। শেষ ক’দিন বড় কষ্ট পেলেন। আমি তখন বিদেশে।

    আর অরুণ দাশগুপ্ত। যৌবনের সহকর্মী, আমার বিদ্যাচর্চার প্রথম পৃষ্ঠপোষক, গান্ধীবাদ যাঁর জীবনের কেন্দ্র জুড়ে ছিল। সম্পূর্ণ শুদ্ধ চরিত্র মানুষ। আমাদের দুর্নীতিতে আচ্ছন্ন সমাজে উনি কী করে বেঁচে ছিলেন সে প্রশ্নর সদুত্তর কখনও পাইনি।

    সম্প্রতি গেলেন রবীন্দ্রকুমার দাশগুপ্ত– অসহ্য কষ্ট পেয়ে। ঈশ্বরবিশ্বাসী মানুষটির এই অন্যায় পরিণতি দেখে আমার অবিশ্বাস আরও দৃঢ় হল। রবিবাবু উনিশ শতকে বাঙালির নব জাগরণের শেষ প্রতিনিধি। মানবিক বিদ্যার এমন কোনও দিক ছিল না যা নিয়ে উনি গভীর পড়াশুনা করেননি। এই মানুষটি চলে গেলেন, বাঙালি ওঁকে নীরবে যেতে দিল। কোনও উল্লেখযোগ্য সর্বভারতীয় প্রতিষ্ঠান ওঁর স্মরণে একটা সভা করা প্রয়োজন মনে করল না। শুনলাম তার অন্যতর কারণ, উনি ওদের লোক। উনি কারও লোক ছিলেন না। ওঁর চোখে যা কিছু অন্যায় মনে হত সহাস্য বিদ্রুপের ভাষায় উনি তার সমালোচনা করতেন। আদর্শবাদী মানুষটির বিচার সবসময় হয়তো ঠিক হত না। কিন্তু দেয়ালের সামনে দাঁড় করিয়ে গুলি করে মারার মতো কোনও অপরাধ এই অজাতশত্রু মানুষটি করেননি।

    মৃত্যু, মৃত্যু, মৃত্যু। আমার চারপাশে যে দিকে তাকাই শুধু মৃত্যুই চোখে পড়ে। বুঝতে পারি, নিজের মৃত্যুও আর খুব দূরে নয়। মৃত্যুচিন্তার আলোয় পৃথিবীটাকে অপরিচিত মনে হয়। সব আশা আকাঙক্ষা, ব্যর্থতা বোধ অবান্তর হয়ে যায়। মনে হয় আর অল্পদিন পরে এইসব আশা নিরাশা ভালমন্দ বিচার কিছুরই কোনও অর্থ থাকবে না। হঠাৎ সব কিছু বড় প্রিয় বড় মূল্যবান হয়ে ওঠে। চেতনা লুপ্ত হয়ে যাবে, এই রূপ রস শব্দ গন্ধের বর্ণময় জগৎ আমার নাগালের বাইরে চলে যাবে–এই চিন্তা মনে একটা বিষণ্ণতার আবরণ টেনে দেয়। আমার চেনার জগতে লীলালক্ষ্মী থাকবে না, কারণ সেই জগৎটাই বিনষ্ট হয়ে যাবে। মৃত্যুর আর সব পরিণাম মেনে নিতে পারি, শুধু ওই অবর্ণনীয় ভালবাসার পাত্রী ছোট্ট মানুষটি আমার বিনষ্ট চেতনার বাইরে চলে যাবে এই সত্য মেনে নেওয়ার শক্তি কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না।

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর জীবনী – তপন বাগচী
    Next Article নির্বাচিত কলাম – তসলিমা নাসরিন
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }