Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বাঙালির নৃতাত্ত্বিক পরিচয় – অতুল সুর

    লেখক এক পাতা গল্প72 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২. বাঙলার নৃতাত্ত্বিক বনিয়াদ

    এক.

    যদিও উচ্চশ্রেণির বাঙালিরা ‘অ্যালপাইন’ বা ‘আলপীয়’ পর্যায়ভুক্ত, তথাপি তাদের নিয়েই বাঙলার নৃতাত্ত্বিক সত্তা গঠিত হয়নি। আলপীয়রা ছিল বাঙলায় আগন্তুক জাতি। সুতরাং তাদের আসবার আগেও, বাঙলায় লোক বাস করত। তারা কোন জাতিভুক্ত? তারই আলোচনা আমরা এখাণে করব।

    বাঙলার আদিম অধিবাসীরা ছিল প্রাক্-দ্রাবিড় গোষ্ঠীর লোক। নৃতত্ত্বের ভাষায় তাদের বলা হয় আদি-অস্ত্রাল। আদি অস্ত্রাল বলবার উদ্দেশ্য হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ার আদিম অধিবাসীদের সঙ্গে তাদের দৈহিক গঠনের মিল আছে। দৈহিক গঠনের মিল ছাড়া, অস্ট্রেলিয়ার আদিম অধিবাসীদের সঙ্গে তাদের রক্তের মিলও আছে। মানুষের রক্ত সাধারণত চার শ্রেণিতে ভাগ করা হয়— ‘ও’, ‘এ’, ‘বি’ এবং ‘এ-বি’। ভারতের প্রাক্-দ্রাবিড় ও অস্ট্রেলিয়ার আদিম অধিবাসী এই উভয়ের রক্তেই ‘এ’ এগ্ল টিনোজেনের (‘A’ Agglutinogen) শতকরা হার খুব বেশি। তা থেকেই উভয়ের রক্তের সাদৃশ্য বোঝা যায়।

    এক সময় আদি-অস্ত্রালদের ব্যাপ্তি উত্তর-ভারত থেকে প্ৰশান্ত মহাসাগরের ইস্টার দ্বীপ পর্যন্ত ছিল। নৃতত্ত্ববিদ্‌গণ মনে করেন যে, আনুমানিক ৩০,০০০ বৎসর পূর্বে তারা ভারত থেকে অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে গিয়ে প্রথম পৌছায়।

    আদি-অস্ত্রাল জাতির লোকেরা খর্বাকার ও তাদের মাথার খুলি লম্বা থেকে মাঝারি, নাক চওড়া ও চ্যাপ্টা, গায়ের রঙ কালো ও মাথার চুল ঢেউখেলান। তিনেভেলী জেলায় প্রাগৈতিহাসিক যুগের যে সকল মাথার খুলি পাওয়া গেছে, তার মধ্যে এই শ্রেণির খুলিও আছে। প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্যে আমরা ‘নিষাদ’-জাতির উল্লেখ পাই। সেখানে বলা হয়েছে যে তারা অনাস, তাদের গায়ের রঙ কালো ও তাদের আচার-ব্যবহার ও ভাষা অদ্ভুত। সুতরাং প্রাচীন সাহিত্যের নিষাদরাই যে আদি-অস্ত্রাল গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত কোনো উপজাতি, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। মনে হয়, এই মূল-জাতির এক শাখা দক্ষিণ-ভারত ত্যাগ করে, সিংহল, ইন্দোনেশিয়া, ও মেলেনেশিয়ায় যায় ও সেখান থেকে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে পৌছায়।

    বাঙলার আদিম অধিবাসীরা এই গোষ্ঠীরই লোক। এদের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল আগন্তুক দ্রাবিড় ভাষাভাষী কোনো কোনো উপজাতি। দ্রাবিড়- ভাষা ভাষীদের অনুপ্রবেশ ঘটেছিল আলপীয়দের আসার আগে। এই দ্রাবিড় ভাষাভাষী লোকদের সঙ্গে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের জাতিসমূহের মিল আছে। সেজন্য নৃতত্ত্বের ভাষায় এদের ‘ভূমধ্য’ বা ‘মেডিটেরেনিয়া ‘ নরগোষ্ঠীর লোক বলা হয়। এদের আকৃতি মধ্যাকার এবং মাথা লম্বা, গড়ন পাতলা, নাক ছোট, ও ময়লা। আদি-মিশরীয়দের সঙ্গে এ জাতির বেশি মিল আছে। অন্ধ্রপ্রদেশের আদিতান্নালুর অঞ্চলে প্রাপ্ত সমাধিপাত্রে ও দক্ষিণ-ভারতের সমাধিস্তূপগুলোতে যেসকল নরকঙ্কাল পাওয়া গেছে, তাদের অধিকাংশই ভূমধ্য-নরগোষ্ঠীর লোক। খুব সম্ভবত বৈদিক সাহিত্যে উক্ত ‘পনি’রা এই গোষ্ঠীরই লোক ছিল।

    এই আদি অস্ত্রাল ও ভূমধ্য-নরগোষ্ঠীর লোকদের সংমিশ্রণেই বাঙলার নৃতাত্ত্বিক বনিয়াদ গঠিত হয়েছিল। এরা উভয়েই ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় কথা বলত। আদি-অস্ত্রালরা যে ভাষায় কথা বলত সে ভাষাকে বলা হয় ‘অস্ট্রিক’। এই ‘অস্ট্রিক’ ভাষাই বাঙলা ভাষার ভিত্তি স্থাপন করে। কেননা, বাঙলা ভাষার অন্তর্ভুক্ত এই ভাষার শব্দসমূহের প্রাচুর্য তার সাক্ষ্য বহন করছে। ভারতে এই ভাষার বর্তমান প্রতিভূ হচ্ছে ‘মুণ্ডারী’ ভাষা—যে ভাষা সাঁওতাল, মুণ্ডা কোরওয়া, জুয়াঙ, কোরবু প্রভৃতি জাতিসমূহ ব্যবহার করে। যদিও অস্ট্রিক ভাষার শব্দসমূহ ভারতের সব ভাষার মধ্যেই দেখতে পাওয়া যায়, তবুও বাঙলা ভাষায় এর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। অস্ট্রিক ভাষাভাষী জাতিসমূহের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে ‘কুড়ি’ সংখ্যাকে ভিত্তি করে উচ্চতর সংখ্যা প্রকাশ করা।

    অনুরুপভাবে আমরা বাঙলা ভাষায় দ্রাবিড় ভাষারও অনেক শব্দ পাই। দ্রাবিড় ভাষা-ভাষী লোকেরা যে-কোনো এক সময় পূর্ব ও মধ্য- ভারতে ছিল, তা ওড়িশার কুইবা কন্ট পারজি ও ওল্লার, বিহারের কুরুখ ও ওঁরাও, রাজমহল পাহাড়ের মালতো মধ্যপ্রদেশের কোলামি জাতিসমূহের ভাষা থেকে বুঝতে পারা যায়। এগুলো সবই দ্রাবিড়জাতীয় ভাষা হতে উদ্ভূত।

    বাঙলার আদিম অধিবাসীদের বংশধর হচ্ছে বাঙলার উপজাতিসমূহ। এ ছাড়া, হিন্দু সমাজের তথাকথিত ‘অন্ত্যজ’ জাতিসমূহও এই গোষ্ঠীর লোক। বাঙলার এইসকল জাতিসমূহকে আগে ‘অনুন্নত’ সম্প্রদায় বলে অভিহিত করা হতো। কিন্তু ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দের ভারত শাসন-বিধানে হিন্দুসমাজভুক্ত উনুন্নত সম্প্রদায়গুলোকে ‘তফসীলভুক্ত জাতি’ বলে বর্ণনা করা হয়। অনুরূপভাবে উপজাতিসমূহকে ‘অনুন্নত উপজাতি’ বলা হতো। স্বাধীনতা লাভের পর যখন ভারতীয় সংবিধান কার্যকর হয়, তখন এদের নামকরণ করা হয় ‘তফসীলভুক্ত উপজাতি’। তফসীলভুক্ত উপজাতিসমূহের কয়েকটি সাধারণ লক্ষণ আছে যথা— ১. উপজাতি হতে তাদের জন্ম ২. আদিম জীবনযাত্রা-প্রণালি ৩. দুরধিগম্য স্থানে বাস ও ৪. অনুন্নত অবস্থা।

    ১৯৬১ সালে পশ্চিমবঙ্গে ‘তফসীলভুক্ত’ জাতিসমূহের লোকসংখ্যা ছিল ৬৮,৯০,৩১৪, আর ‘তপসীলভুক্ত উপজাতি’ লোকের সংখ্যা ছিল ২০,৫৮,০৮১। সুতরাং উভয়ে মিলে দেশজ জাতিসমূহের লোকসংখ্যা ছিল ৮৯,৪৪,৩৯৫ বা পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মোট জনসংখ্যার ২৫.৫ শতাংশ। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মোট হিন্দু জনসংখ্যার তারা ছিল ৩২.৪৯ শতাংশ। তার মানে, পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুজনগণের প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন হচ্ছে এই পর্যায়ভুক্ত।

    দুই.

    পশ্চিমবঙ্গের উপজাতিসমূহের মধ্যে সবচেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ হচ্ছে সাঁওতালরা। তাদের সংখ্যা ১২,০০,০১৯। তার পরেই হচ্ছে ওঁরাওরা। তাদের সংখ্যা হচ্ছে ২,৯৭,৩৯৪। আর তার পরে হচ্ছে মুণ্ডা। তাদের সংখ্যা হচ্ছে ১,৬০,২৪৫। পশ্চিমবঙ্গে মোট ৪১টি উপজাতি আছে। সাঁওতাল, মুণ্ডা ও ওঁরাওদের বাদ দিলে বাকি ৩৮টি উপজাতিসমূহের প্রত্যেকটির লোকসংখ্যা এক লক্ষের কম। এদের মধ্যে আবার অনেকের সংখ্যা একেবারে নগণ্য। যেমন বৈগাদের সংখ্যা হচ্ছে মাত্র ৪, আর কিষাণদের হচ্ছে ৩। তবে মুণ্ডাদের পরে যাদের সংখ্যাগরিমা আছে, তারা হচ্ছে যথাক্রমে ভূমিজ, কোরা ও লোধা। ভূমিজদের সংখ্যা হচ্ছে ৯১,২৮৯, কোরাদের ৬২,০২৯ ও লোধাদের ৪০,৮৯৮। এরা সকলেই বাঙলার আদিম অধিবাসী। আর অন্যান্য যেসকল সংখ্যালঘু উপজাতি আছে, তারা মনে হয়, অন্য অঞ্চল থেকে বাঙলায় প্রবেশ করে এখানে বাস করছে।

    সাঁওতালরাই হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যা-গরিষ্ঠ উপজাতি। সুতরাং প্রথমেই সাঁওতালদের কথা বলা যাক। সাঁওতালরা প্রধানত পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, হুগলী ও মালদহ জেলায় বাস করে। কিন্তু সাঁওতালদের বাসস্থানের পরিধি পশ্চিমবঙ্গের মধ্যেই নিবদ্ধ নয়। পশ্চিমবঙ্গে সাঁওতালদের যে সংখ্যা, তার চেয়ে বেশি সংখ্যক সাঁওতাল বাস করে ওড়িশার ময়ূরভঞ্জে, বিহারের ঝাড়খণ্ডে (সাঁওতাল- পরগণা, হাজারিবাগ, মানভূম ও সিংভূম জেলায়)। অবশ্য এসব অঞ্চলগুলো পূর্বে বাঙলাদেশেরই অন্তভুক্ত ছিল। ১৮৫৪-৫৬ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন বঙ্গদেশের অন্তর্ভূক্ত ভাগলপুর জেলার অন্তর্গত দামিন-ই-কো অঞ্চল থেকে বীরভূম পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে ইংরেজ শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে সাঁওতালদের যে অভ্যুত্থান ঘটেছিল, তাকে খেরওয়ারী-হুল’ বা সাঁওতাল-বিদ্রোহ নামে অভিহিত করা হয়েছিল। খেরওয়ারী-হুল বলবার উদ্দেশ্য হচ্ছে, সাঁওতালরা অস্ট্রিক গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত খেরওয়ারী ভাষায় কথা বলে। মনে হয় প্রাচীন অঙ্গদেশেই সাঁওতালদের আদি বাসস্থান ছিল। পরে তারা বাঙলাদেশের মেদিনীপুর পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম ও মালদহ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছিল। কেননা, সাঁওতালদের মধ্যে যে কিংবদন্তী প্রচলিত আছে, সেই কিংবদন্তী অনুযায়ী পূর্বে তাদের নাম ছিল খারবার। ‘খর’ শব্দ ‘হর’ শব্দ থেকে উদ্ভূত। ‘হর’ শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘মানুষ’। পরে তারা যখন মেদিনীপুর জেলার সাঁওতাল পরগনায় এসে বসবাস শুরু করে, তখন তাদের নাম হয় সাঁওতাল। বর্তমানেও পশ্চিমবঙ্গের জেলাসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাঁওতাল বাস করে মেদিনীপুর জেলায়। এ থেকেই ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে পশ্চিমবঙ্গে মেদিনীপুরের সাঁওতাল পরগনাতেই তাদের প্রথম বাস।

    সাঁওতালরা আদি অস্ত্রাল প্রাক্-দ্রাবিড় গোষ্ঠীর লোক। তাদের উৎপত্তি সম্বন্ধে তাদের মধ্যে যে কিংবদন্তী প্রচলিত আছে তা হচ্ছে এই যে, সূদূর অতীতে কোনো এক সময় এক হাঁসডাক (বন্যহাঁস) দুটি ডিম প্রসব করেছিল। এই ডিম দুটি হতে পিলচু হরস ও পিলচু বুড়ি নামে যথাক্রমে এক পুত্র ও এক জন্যা জন্ম গ্রহণ করে। তারাই সাঁওতাল জাতির আদি পুরুষ ও তাদের থেকেই সাঁওতালদের সাতটি উপশাখার উৎপত্তি হয়। বর্তমানে সাঁওতালদের মধ্যে ১১টি বহির্বিবাহের গোষ্ঠী আছে, এক সময় নাকি আরও একটি ছিল, কিন্তু সেটি লুপ্ত হয়ে গেছে। সাঁওতালদের মধ্যে কিস্কু বা মুরমু গোষ্ঠীর মর্যাদা অন্য গোষ্ঠীর তুলনায় অনেক উচ্চ।

    আরও, সাঁওতালদের নিজেদের মধ্যে যে কিংবদন্তা প্রচলিত আছে, সে অনুযায়া সাঁওতালদের আদি বাসস্থান ছিল হিহিরি বা অহিরিপেরি-তে। ক্রেস্‌রাডের (Skresrud) মতে এটা ‘ছিল’ শব্দ থেকে উদ্ভূত, কিন্তু অন্যান্য পণ্ডিতগণের মতে, এটা হাজারিবাগ জেলার অন্তর্ভূক্ত অহুরি- পরগনাকে ইঙ্গিত করে। যা হোক, এই আদি বাসস্থান থেকে তারা পশ্চিম দিকে খোজকামান নামে এক স্থানে গিয়েছিল, কিন্তু সেখানে অগ্নিবৃষ্টির ফলে তারা সকলেই বিনষ্ট হয়েছিল। মাত্র একটি দম্পতি হর নামক পর্বতের ফাঁকে আটকে গিয়ে রক্ষা পেয়েছিল। হর পর্বত থেকে তারা সাওঙবেরা নামে নদীর উপত্যকায় এসে আশ্রয় লাভ করে, এবং পরে জরপি নামক স্থানে গিয়ে পৌছায়। সেখানে তারা মরাঙবুড় নামে এক পাহাড়ের সম্মুখীন হয়। সেটা তারা সহজে ভেদ করতে অক্ষম হয়। পাহাড়ের দেবতাকে তারা বলিদান দ্বারা প্রশমিত করে, এবং একটা গিরিপথ দেখতে পায়। এই গিরিপথের ভিতর দিয়েই তারা আহির দেশে এসে উপস্থিত হয়, এবং সেখানে কিছুকাল বাস করে। পরে তারা সেখান থেকে যথাক্রমে কেনদী, চৈ ও চম্পায় এসে উপস্থিত হয়। চম্পায় তারা অনেক পুরুষ বাস করে, এবং পরে যখন হিন্দুরা তাদের তাড়িয়ে দেয়, তখন তারা সাঁওতাল পরগনায় এসে উপস্থিত হয়। এ থেকে একটা কথা প্রমাণিত হয়, তা হচ্ছে যে তখন সাঁওতাল পরগনায় হিন্দুপ্রাধান্য বিশেষ ছিল না।

    মুণ্ডারা ওঁরাওদের চেয়ে সংখ্যায় কম হলেও, সাঁওতালদের সঙ্গে তাদের ভাষা একই গোত্রভুক্ত। সাঁওতাল এবং মুণ্ডা—এই উভয় জাতিই অস্ট্রিক ভাষার উপশাখায় কথা বলে। কিন্তু ওঁরাওরা দ্রাবিড় ভাষার অন্তর্ভুক্ত কুরুখ ভাষায় কথা বলে। মুণ্ডারা বিশেষভাবে কেন্দ্রীভূত হয়ে আছে বর্ধমান, চব্বিশপরগনা, পশ্চিম-দিনাজপুর, দাজিলিং, জলপাইগুড়ি, মেদিনীপুর ও পুরুলিয়া জেলায়। তবে সংখ্যায় তারা সবচেয়ে বেশি বাস করে জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলায়।

    সাঁওতালদের আদি-বাসস্থান যেখানেই হোক না কেন, পশ্চিমবঙ্গে তাদের বর্তমান অবস্থান দেখলে পরিষ্কার বুঝতে পারা যায় যে তারা মূলত রাঢ়দেশের বা ভাগীরথার পশ্চিমভাগস্থ অঞ্চলের লোক। কেননা পশ্চিমবঙ্গে সাঁওতালদের মোট সংখ্যার (১২,০০,০১৯) ৭৩.৭৩ শতাংশ বাস করে মেদিনীপুর (২,৩৩,৭৯৮), পুরুলিয়া (১,৭৬, ৭৯৯), বর্ধমান (১,৫৪,৬৫৭), বাঁকুড়া (১,৫২,২৫৪), বীরভূম (৯৩,৩২৬) ও হুগলী (৭৩,৭৮১) জেলায়। অন্যত্র সবচেয়ে বেশি বাস করে পশ্চিমদিনাজপুর (১,২২,২৯২), মালদহ (৮৪,২০৭), ও জলপাইগুড়ি (৩৮,৫৬০) জেলায়। অন্তর্বর্তী জেলাসমূহে তাঁদের বসবাস খুবই কম। বস্তুত তাদের বর্তমান অবস্থান দেখলে মনে হয় যে, তারা প্রথমে মেদিনপুর, বর্ধমান, বাঁকুড়া, হুগলী ও পুরুলিয়া অঞ্চলেই কেন্দ্রীভূত হয়েছিল, এবং সেখান থেকে তারা নিজেদের চতুর্দিকে বিস্তৃত করেছিল। চব্বিশপরগনায় তাদের জনসংখ্যা হচ্ছে ৩১,৬৫৪। মনে হয় কোনো এক সময় তাদের এক অংশ ভাগীরথী অতিক্রম করে চব্বিশপরগনায় এসে বসবাস শুরু করেছিল, আর অপর এক অংশ নিজেদের উত্তর-বাঙলায় বিস্তৃত করেছিল। তবে কবে এবং কি কারণে, এবং কিসের চাপে তারা নিজেদের রাঢ়দেশের আদি বাসভূমি পরিহার করে অন্য অঞ্চলসমূহে গিয়ে বসবাস শুরু করেছিল, তা আমাদের জানা নেই। তবে সাঁওতালদের সম্বন্ধে একটা প্রশ্ন স্বভাবত মনে জাগে। সাঁওতালরা নিজেদের উৎপত্তি হাঁস থেকে নিরূপিত করে। তার মানে, হাঁসই তাদের টোটেম ছিল। হাঁস পক্ষী-বিশেষ। বৈদিক আর্যরা বাঙলাদেশের লোকেদের পক্ষা-বিশেষ বলে বর্ণনা করেছে। তারা কি সাঁওতাল বা অনুরূপ কোনো জাতি?

    তবে এরূপ অনুমান করবার সপক্ষে যথেষ্ট কারণ আছে যে, কোনো এক সময় দক্ষিণ-বিহারের ছোটনাগপুর অঞ্চল (এক সময় এ অঞ্চল বাঙলাদেশেরই অন্তর্ভুক্ত ছিল) থেকে কোনো কারণবশত ওঁরাও ও মুণ্ডারা নিজেদের বিস্তারিত করেছিল ভাগীরথীর পূর্বতীরস্থ অঞ্চলসমূহে, এবং তাদেরই অনুগমনে সাঁওতালরা কেন্দ্রাতিগ হয়ে পড়েছিল। সে কারণটা রাজনৈতিক চঞ্চলতা, না দুর্ভিক্ষ, না হিন্দুদের অত্যাচার, না নীলচাষের জন্য শ্রম নিয়োগ, তা বলা কঠিন। বর্তমান যুগে চা-বাগানে উপজাতীয় শ্রম নিয়োগও এর কারণ হতে পারে।

    আগেই বলা হয়েছে যে, সাঁওতালদের সঙ্গে মুণ্ডাদেরই ভাষাগত ঐক্য আছে, ওরাঁওদের সঙ্গে নেই। মুণ্ডারা অধিক সংখ্যায় বাস করে জলপাইগুড়ি (৫৩,৮৮১) ও চব্বিশপরগনা (৪২,২৫৬) জেলায়। এক কথায়, পশ্চিমবঙ্গের মোট মুণ্ডা জনসংখ্যার (১,৬০, ২৪৫) ৬০,১৮ শতাংশ এই জেলায় অবস্থিত। তারা যে এই দুই জেলায় আগন্তুক, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এদের মধ্যে কত সংখ্যক চিরস্থায়ী বাসিন্দা এবং কত সংখ্যক ভাসমান শ্রমিক জনকুণ্ডলী, তা বলা কঠিন। পশ্চিমবঙ্গের বাকি জেলাসমূহে মুণ্ডাদের সংখ্যা হচ্ছে ৬০,১০৮ বা মোট মুণ্ডা জনসংখ্যার মাত্র ৩৯.৮২ শতাংশ। ওরাঁওদের বেশি পরিমাণে দেখতে পাওয়া যায় জলপাইগুড়ি (১,৮১,৭৪৯), দার্জিলিং (২৮,৩৩৮), পশ্চিমদিনাজপুর (২২,২৮৭) ও চব্বিশপরগনায় (২৪,৭০৭)। এই চার জেলায় ওরাঁওদের সংখ্যা ২,৬৪,৮৩১, তার মানে পশ্চিমবঙ্গের মোট ওঁরাও জনসংখ্যার (২,৯৭,৩৯৪) ৮৯.০৪ শতাংশ।

    সাঁওতালরাই যে পশ্চিমবঙ্গের আদিম অধিবাসী ও আদি-অস্ত্রাল জাতিভুক্ত, আর বাকি অন্যান্য উপজাতিরা এখানে আগন্তুক মাত্র, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সংখ্যা-গরিমার দিক থেকে প্রথম ছয়টি উপজাতির জনসংখ্যার নিচে যে তালিকা দেওয়া হলো, তা থেকে এটা স্বতই প্রমাণিত হয়-

    উপজাতি পশ্চিমবঙ্গে জনসংখ্যা মোট মোট জনসংখ্যার শতাংশ
    ১. সাঁওতাল ১২,০০,০১৯ ৫৮.৪২
    ২. ওঁরাও ২,৯৭,৩৯৪ ১৪.৪৮
    ৩. মুণ্ডা ১,৬০,২৪৫ ৭.৮০
    ৪. ভূমিজ ৯১,২৮৯ ৪.৪৪
    ৫. কোরা ৬২,০২৯ ৩.০২
    ৬. খেরিয়া বা লোধা ৪০,৮৯৮ ১.৯৯
    ৭. বাকি ৩৫টি উপজাতি ২,০২,২০৭ ৯.৮৫
    মোট উপজাতি ২০,৫৪,০৮১ ১০০

    দেখা যাচ্ছে যে, বাঙলার উপজাতিসমূহের মোট জনসংখ্যা হচ্ছে ২০,৫৪,০৮১। আর তার মধ্যে সাঁওতাল, ওঁরাও, মুণ্ডা, ভুমিজ, কোরা ও লোধাদের সমষ্টিগত সংখ্যা হচ্ছে ১৮,৫১,৮৭৪। সুতরাং এই ছয়টি উপজাতির জনসংখ্যা হচ্ছে, বাঙলার উপজাতিসমূহের মোট জনসংখ্যার ৯০.১৫ শতাংশ। বাকি ৩৫টি উপজাতির সংখ্যা হচ্ছে ২,০২,২০৭ বা মোট উপজাতি জনসংখ্যার ৯.৮৫ শতাংশ। সংখ্যা-প্রধান প্রথম ছয়টি উপজাতির মধ্যে সাঁওতাল ও মুণ্ডাদের কথা আগেই বলা হয়েছে। ওঁরাওদের অবস্থান হচ্ছে জলপাইগুড়ি (৬১.১ শতাংশ), দার্জিলিং (৯.৫ শতাংশ) ও চব্বিশপরগণা (৮.৩ শতাংশ) জেলায়। অন্যান্য জেলাসমূহে ওঁরাও উপজাতি সমষ্টিগতভাবে মাত্র ২১.১ শতাংশ বাস করে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, মুণ্ডাদের মতো ওঁরান্ডরা ভাগীরথীর পূর্ব-অঞ্চলেই কেন্দ্রীভূত।

    ভুমিজরা কিন্তু রাঢ় দেশের বা বাগীরথীর পশ্চিম-অঞ্চলের লোক। এদের বাসস্থান প্রধানত, বাঁকুড়া, মেদিনীপুর চব্বিশপরগণা ও পুরুলিয়া জেলায়।

    যদিও জলপাইগুড়ি জেলায় কিছু সংখ্যক কোরার সাক্ষাৎ মেলে, তা হলেও কোরাদের অবস্থিতি মোটামুটি ভাগীরথীর পশ্চিম-অঞ্চলে, বর্ধমান, মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম ও হুগলী জেলায়। লোধাদের বাসস্থান হচ্ছে ভাগীরথীর পশ্চিম অঞ্চলে-মেদিনীপুর, পুরলিয়া ও বাঁকুড়া জেলায়। কিন্তু তাদের কেন্দ্রীভূত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায় সংলগ্ন ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলায়।

    আগেই বলা হয়েছে যে, বাকি ৩৫টি উপজাতির জনসংখ্যা হচ্ছে নগণ্য। তাদের মোটামুটি দুইভাগে ভাগ করা যেতে পারে—১. আদি- অস্ত্রাল ও ২. মঙ্গোলীয়। প্রথম গোষ্ঠীর অন্তভুক্ত হচ্ছে বেদিয়া, বিরহর, চেরো, গোল্ড, গোরাইত, হো, করমালী, খারওয়ার, কোরওয়া, লোহারা, মহালী, মালপাহাড়িয়া, নাগেসিয়া, পারহাইয়া, সওরিয়া, পাহাড়িয়া ও শবর। আর দ্বিতীয় গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে ভুটিয়া, চাকমা গারো, হাজাঙ, লেপ্‌চা, মগ, মেচ, মুরু ও লভা। এই দ্বিতীয় গোষ্ঠীর বাসস্থান হচ্ছে প্রধানত পশ্চিমবঙ্গের উত্তরে ও পূর্ব সামান্ত অঞ্চলে।

    এখানে বলা প্রয়োজন যে, মঙ্গোল জাতিসমূহের মাথা সাধারণত গোল কিন্তু আসাম ও ভারত-ব্রহ্মসীমান্তের উপজাতিসমূহের মাথা গোল নয়। তাদের মধ্যে লম্বা ও মাঝারি উভয় রকম মাথারই প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যায়। তাছাড়া অন্যান্য দীর্ঘ-শির বা দীর্ঘ-কপাল জাতিসমূহের ন্যায় তাদের ঘাড়ের উপর মাথার খুলির অংশ (Occiput) পিছন দিকে বেশি বের করা। ঘন ও ঈষৎ পিঙ্গল এবং এই দুই রঙের মাঝামাঝি সবরকম গায়ের রংই এদের মধ্যে দেখতে পাওয়া যায়। এদের ভ্রূ অনুচ্চ, মুখের পরিধি ছোট ও চিবুকের হাড় বেশ উঁচু। এদের নাকের গড়ন মাঝারি, এবং তা খাঁটি ‘মঙ্গোল’ নাকের মতো চ্যাপ্টা। এদের মুখে ও গায়ে অল্প লোম, ও চোখের খোল বাঁকা। দৈর্ঘ্যে এরা মাঝারি।

    যদিও আদি-অস্ত্রাল ও মঙ্গোলীয় উপজাতিসমূহ দুই ভিন্ন নরগোষ্ঠীর লোক, তথাপি তাদের মধ্যে ভাষার ঐক্য আছে। উভয়েই অস্ট্রিক ভাষায় কথা বলে। অস্ট্রিক ভাষাভাষীদের দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়—১. মুণ্ডারী ও ২. মোন্-ধূমের। ভারতের উপজাতিসমূহ, যথা—সাঁওতাল, মুণ্ডা প্রভৃতি মুণ্ডারী ভাষায় কথা বলে। আর আসাম ও উত্তর-পূর্ব সীমান্তের উপজাতিরা মোন্-খমের গোষ্ঠীর ভাষায় কথা বলে।

    আদি-অস্ত্রাল ও মঙ্গোলীয় জাতিদ্বয়ের মধ্যে ভাষার ঐক্য থাকলেও, তাদের দেহিক বৈশিষ্ট্য, আচার-অনুষ্ঠান, সমাজের গঠন, ও অন্যান্য রীতিনীতি সম্পূর্ণ পৃথক। যেমন, আসামের খাসিয়া সমাজে গৃহকর্ত্রীর মেয়েরাই সম্পত্তির উত্তরাধিকাররিণী হয় ও গৃহকর্ত্রীর নাম ও গোত্র পায়। বাঙলার সাঁওতালসমাজে কিন্তু পুরুষেরাই সম্পত্তির মালিক হয় ও পুত্র-পৌত্রাদি পিতামহের গোত্র বা কুল-নাম পায়। এ ছাড়া, আগেই বলা হয়েছে যে দৈহিক আকার ও লক্ষণের দিক থেকে সাঁওতালদের সঙ্গে মঙ্গোলীয় জাতিসমূহের কোনো মিল নেই।

    ভৌগোলিক পরিবেশের দিক থেকে উপজাতিসমূহের লোক সবচেয়ে বেশি বাস করে জলপাইগুড়ি জেলায় (৩,৫৪,৭৪১)। তারপর জনসংখ্যার ক্রম-হ্রাসমানতা অনুযায়ী, তারা বাস করে মেদিনীপুর (৩,২৯৭৩৬), পুরুলিয়া (২,৬২,৮৫৮), বর্ধমান (১,৮০,১৪৩), বাঁকুড়া (১,৭৩,৩৮৯), পশ্চিমদিনাজপুর (১,৭০,১৪৯), চব্বিশপরগনা (১,১৯,৩১৮), বীরভূম (১,০৬,৮৬০), মালদহ (৯৯,৫২২), দাজিলিং (৯৬,৪৪৪ ) হুগলী ৯০,১০৬), মুরশিদাবাদ (৩১,৪৫), নদীয়া (২১,৯২৩), কুচবিহার (৮,৮০৯), হাওড়া (৬,১১১) জেলাসমূহে। কলিকাতা অঞ্চলেও কিছুসংখ্যক উপজাতি গোষ্ঠীর লোক আছে। তাদের সংখ্যা হচ্ছে ২,৫২০।

    তিন.

    পশ্চিমবঙ্গে মোট ৬৩টি তপসীলভুক্ত জাতি আছে তাদের মোট জনসংখ্যা হচ্ছে ৬৮,৯০,৩১৪। ক্রম-হ্রাসমান সংখ্যা-গরিমার দিক থেকে তাদের মধ্যে যারা প্রধান, তারা হচ্ছে রাজবংশী (১২,০৬,৭১৭), বাগদী (১০,৯৩,৮৮৫), পোদ (৮,৭৫,৫২৫), নমঃশূদ্র (৭,২৯,০৫৭), বাউরী (৫,০১,২৬৯), চামার বা মুচি (৩,৯৬,৫৯১), ধোবা (১,৫৪,৭৯১), ডোম (১,৫১,৮১৮), হাড়ী (১,২৫,৮৫০), কেওড়া (১,১৭,৯২৯) জেলে কৈবত (১,১৭৩৮৪), মাল (১,১৭,৭০৪), শুঁড়ি (১,০৬,৮৭০), লোহার ৮৩,৫৪৫), পলিয়া (৭৩,৯৯৭), ঝালোমালো (৬৮,৭৫৭), খয়রা (৬৭,৯১৩), ও ভূঁইয়া (৫৩,৩২৯)। তপসীলভুক্ত জাতিসমূহের মোট জনসংখ্যা (৬৮,৯০,৩১৪), এর হচ্ছে সমষ্টিগতভাবে ৮৭.৬৭ শতাংশ। বাকি ৪৫টি তপসীলভূক্ত জাতির প্রত্যেকটির জনসংখ্যা হচ্ছে ৫০,০০০- এর কম। আবার অনেক তপসীলভুক্ত জাতির জনসংখ্যা হচ্ছে এক হাজারেরও কম। যা হোক, সমষ্টিগতভাবে এদের জনসংখ্যার অনুপাত হচ্ছে মোট তপসীলভুক্ত জাতিসমূহের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১২.৩২ শতাংশ।

    সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের তপসীলভুক্ত জাতির জনসংখ্যার তুলনায় সবচেয়ে বেশি তপসীলভুক্ত জনসংখ্যা দেখতে পাওয়া যায় চব্বিশপরগনায় (১৫,২৪,৯২২)। এর পর ক্রম-হ্রাসমান অবস্থায় স্থান পায়, বর্ধমান (৭,৫৩,৮৮৩), মেদিনীপুর (৫,৬৩,৪০৬), ও বাঁকুড়া (৪,৯২,৭০০)। কুচবিহার, চব্বিশপরগণা, বর্ধমান, মেদিনীপুর ও বাঁকুড়া— এই পাঁচটি জেলায় তপসীলভুক্ত জাতিসমূহের মোট জনসংখ্যার ৫৫ শতাংশ বাস করে। আর পুরুলিয়া, মালদহ, কলিকাতা ও দার্জিলিঙ এই চারটি জেলায় বাস করে মাত্র ৮ শতাংশ তপসীলভুক্ত জাতির লোক। পশ্চিমবঙ্গের মোট জনসংখ্যার তুলানায় সবচেয়ে বেশি তপসীলভুক্ত লোকসংখ্যা দেখতে পাওয়া যায় কুচবিহারে (৪৬.৯০ শতাংশ)। এরপর স্থান পায় জলপাইগুড়ি (৩০.৮০ শতাংশ), বাঁকুড়া (২৯.৬০ শতাংশ), বীরভূম (২৯.১৪ শতাংশ), বর্ধমান (২৪.৫ শতাংশ) ও চব্বিশপরগনা (২৪.২৮ শতাংশ)।

    এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে তপসীলভুক্ত জাতিসমূহের উৎপত্তি হয়েছে উপজাতিসমূহ হতে। মাত্র হিন্দুধর্মে ধর্মান্তরিত হবার পর থেকেই, তারা বর্ণ ও জাতি সম্বন্ধে বিশেষভাবে সচেতন হয়েছে। রাজবংশীদের উৎপত্তি সম্বন্ধে বলা হয় যে, তাদের উৎপত্তি হয়েছে কোচ-উপজাতি থেকে। রীজলি বলেছিলেন যে, রাজবংশী কোচ ও পলিয়াদের উৎপত্তি একই উৎস থেকে হয়েছে। রাজবংশীদের প্রধানত দেখতে পাওয়া যায় কুচবিহার, পশ্চিমদিনাজপুর, জলপাইগুড়ি, মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও চব্বিশ পরগনায়। পোদেরা এখন নিজেদের পৌণ্ড ক্ষত্রিয় বলে দাবি করে। মনে হয় প্রাচীন সাহিত্যে উক্ত পুণ্ডজাতি হতে তারা অভিন্ন। পোদেদের আবাসস্থল প্রধানত মেদিনীপুর, হাওড়া ও চব্বিশপরগনা। বাগ্দীরাও এখন নিজেদের ব্যগ্রক্ষত্রিয় বলে দাবি করে। ওল্ডহামের মত অনুযায়ী তারা মাল-জাতিরই এক উপশাখা মাত্র। তবে বাগ্দীরা যে ভাবে নিজেদের গোষ্ঠীবিভাগ করে (যেমন তেঁতুলিয়া, দুলিয়া, মাটিয়া) তা থেকে মনে হয়, যে, এগুলো এক সময় উপজাতি-সংক্রান্ত ‘টোটেম’ ছিল। উত্তরবঙ্গ ছাড়া বাগ্দীদের পশ্চিমবঙ্গের সর্বত্রই দেখতে পাওয়া যায়। সেন বংশীয় রাজা বল্লালসেনের রাজ্যের এক অংশের (দক্ষিণবঙ্গের) নাম ছিল বাগড়ি। মনে হয়, এটা বাগদী-অধ্যুষিত অঞ্চল ছিল। নমঃশূদ্রের বাস হচ্ছে বর্ধমান, মেদিনীপুর, হাওড়া, মুর্শিদাবাদ, চব্বিশপরগণা ও কুচবিহার জেলায়। রীজলির মত অনুযায়ী পোদ, কয়াল, কোটাল, নুলিয়া, ও ও বেরুয়া—এরা সকলেই হচ্ছে নমঃশূদ্র-গোষ্ঠীর উপশাখা। অনেকে নমঃশূদ্র ও চণ্ডাল সমার্থবোধক শব্দ বলে দাবি করেন; কিন্তু নমঃশূদ্ররা নিজেদের চণ্ডাল থেকে উচ্চ সম্প্রদায়ের লোক বলে মনে করে। বাউরীরা প্রধানত রাঢ়দেশের লোক। তাদের বর্তমান আবাসস্থল হচ্ছে বর্ধমান, বীরভূম, বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, হুগলী ও পুরুলিয়া জেলায়। তাদের জনসংখ্যা হচ্ছে ৫,০১,২৬৯ বা সমগ্র তপসীলভুক্ত জাতিসমূহের জনসংখ্যার ৭.২৭ শতাংশ। তাদের উৎপত্তি সম্বন্ধে তারা দাবি করে যে, দেবগণের খাদ্য অপহরণ করার অপরাধে তাদের বাউরী জাতি হিসাবে জন্মাতে হয়েছে। বস্তুত দেশজ উপজাতিসমূহ যখন হিন্দুধর্মে দীক্ষিত হয়ে হিন্দুসমাজে অনুপ্রবেশ করে, তখন তারা সকলেই এক একটা উপকথা সৃষ্টি করে নিজেদের গৌরবান্বিত করার চেষ্টা করে। যেমন, চামাররা নিজেদের রামানন্দের শিষ্য রবিদাস বা রুইদাস-এর বংশধর বলে দাবি করে। মুচিরা নিজেদের ঋষি বলে আখ্যাত করে। অনুরূপভাবে ধোবারা নিজেদের নেতামুনি বা নেতা-ধোপানির বংশধর বলে দাবি করে। কিন্তু স্কন্দপুরাণ ও অন্যান্য কয়েকটি পুরাণ অনুযায়ী ধোবারা ধীবর পিতার ঔরসে তিবর মাতার গর্ভে উৎপন্ন হয়। অবশ্য অনুরূপ উৎপত্তি-কাহিনি ধর্মশাস্ত্র ও পুরাণসমূহে মাত্র ধোবাদের সম্বন্ধেও লেখা নেই, অন্যান্য জাতি সম্বন্ধেও লেখা আছে। আমরা তা পরের অধ্যায়ে আলোচনা করব। অনুরূপভাবে হাড়িরা দাবি করে যে, তারা ব্রহ্মার হাতের ময়লা হতে উৎপন্ন হয়েছে। তবে বর্তমান জাতিবিন্যাস ব্যবস্থিত হবার পূর্বে, এইসকল ‘অন্ত্যজ’ জাতির সমাজে যে অন্যরূপ স্থান ছিল, তা মধ্যযুগের চর্যাগানসমূহে ডোম জাতির ভূমিকা থেকে বুঝতে পারা যায়।

    রাজবংশী, বাগ্দী, পোদ, নমঃশূদ্র, বাউরী, চামার, ধোবা, ডোম ও হাড়ি ছাড়া আর যে প্রধান প্রধান তফশীলভুক্ত জাতি আছে, তারা হচ্ছে কেওড়া (১,১৭,৯২৯), কেওট (২৩,১৭৪), জেলে-কৈবত (১,১৭,৩৮৪), মাল (৬৮,৭৫৯), গুঁড়ি (১,০৬,৮৭০), লোহার (৮৩,৫৪৫), পলিয়া (৭৩,৯৯৭), ঝালোমালো (৬৮,৭৫৭), খয়রা (৬৭,৯১৩), ভূঁইয়া (৫৩,৩২৯), কোনাই (৪৩,১০১) ও ভুঁইমালী (৩৯,১৮১)। [বন্ধনীর মধ্যে এদের জনসংখ্যা উল্লিখিত হয়েছে]।

    আগেই বলা হয়েছে যে, ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দের ভারত শাসন-আইন অনুযায়ী এদের সকলকেই তফশীলভুক্ত জাতি বলে অভিহিত করা হয়। তার পূর্বে হিন্দু সমাজের জাতিবিন্যাসে এদের এক নির্দিষ্ট স্থান ছিল। বৃহদ্ধর্মপুরাণে আমরা তার একটা আভাস পাই। বৃহদ্ধর্মপুরাণ অনুযায়ী রজক (ধোবা), ধীবর (জেলে-কৈর্বত), শৌণ্ডিক (শুঁড়ি) প্রভৃতি জাতি হচ্ছে ধ্যম সংকর জাতি, আর চণ্ডাল, চর্মকার (চামার বা মুচি), ডোরাবাহী (বাগ্‌দী), মল্ল (মাল), প্রভৃতি জাতি হচ্ছে ‘অন্ত্যজ’ জাতি।

    চেহারার সাদৃশ্য থেকে এটা পরিষ্কার বুঝতে পারা যায় যে, তফশীলভুক্ত জাতিসমূহ উপজাতিসমূহ থেকেই উদ্ভূত হয়েছে। কোচ রাজবংশীদের কিছু অংশ মঙ্গোলীয় উপজাতি থেকে উদ্ভূত হয়েছে। কিন্তু বাকি উপজাতিসমূহ আদি-অস্ত্রাল নরগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। এই আদি-অস্ত্রাল উপজাতিসমূহ যে বাঙলার নৃতাত্ত্বিক বনিয়াদ গঠনেই সাহায্য করেছে তা নয়, তারা উচ্চশ্রেণির বাঙালির আচার-ব্যবহার রীতি-নীতি, ও সংস্কার রচনাতেও যথেষ্ট উপাদান জুগিয়েছে। এদের ভাষার শব্দসমূহ যে বাঙলাভাষাকে সমৃদ্ধ করেছে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তা ছাড়া, কুলকেতুর (টটেম) পূজাসংক্রান্ত আচার-ব্যবহার, শুভ-কাজে তেল- হলুদের ব্যবহার, ঝাড়-ফুঁক, খাদ্য সম্বন্ধে নানা প্রকার বিধি-নিষেধ, যাদুতে বিশ্বাস, পংক্তি ভোজন, সগোত্র-বিবাহ সম্বন্ধে বিধি-নিষেধ, বর্ণভেদ প্রথার মূলকথা, ধান্যের চাষ, হস্তিবিদ্যা প্রভৃতি আদি-অস্ত্রাল উপজাতিসমূহের নিকট হতে বাঙালি সমাজে গৃহীত হয়েছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমহাভারত ও সিন্ধুসভ্যতা – অতুল সুর
    Next Article বাঙলা ও বাঙালীর বিবর্তন – অতুল সুর

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }