Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বাঙালীর ইতিহাস (আদিপর্ব) – নীহাররঞ্জন রায়

    নীহাররঞ্জন রায় এক পাতা গল্প1452 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০২. গুপ্ত ও গুপ্তোত্তর পর্ব

    গুপ্ত ও গুপ্তোত্তর পর্ব

    মহাস্থান-লিপির কাল হইতে আরম্ভ করিয়া বাঙলায় গুপ্তাধিকার বিস্তৃতির কাল পর্যন্ত আর্য ভাষার রূপ ও প্রকৃতি কিরূপ ছিল এবং সে-ভাষার জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসার কিরূপ হইয়াছিল তাহা জানিবার কোনো উপায় নাই। অনুমান করা চলে, আৰ্য-ভাষার প্রাচ্য মাগধী-প্ৰাকৃত রূপই ক্রমশ বিস্তার লাভ করিতেছিল, কিন্তু এ-কথাও বোধ হয়। সত্য যে, পোশাকী ভাষা হিসাবে অর্থাৎ পণ্ডিত-সমাজে এবং রাজকীয় ক্রিয়াকর্মে সেই ভাষা স্বীকৃতি ও সমাদর লাভ করিতে পারে নাই। কারণ, পঞ্চম-ষষ্ঠ শতকে যে ক’টি গুপ্তবংশীয় রাজকীয় পট্টোলী আমাদের হস্তগত হইয়াছে তাহার একটিরও ভাষা প্রাচ্য প্রাকৃত নয়, মধ্য ভারতীয় বিশুদ্ধ সংস্কৃত। বাঁকুড়া জেলার শুশুনিয়া পাহাড়ের নিকট পোখরুণা বা পুষ্করণ গ্রামে প্রাপ্ত চতুর্থ শতকের চন্দ্ৰবৰ্মার লিপির ভাষাও সংস্কৃত। লক্ষণীয় এই যে, এই প্রত্যেকটিই লিপিই রচিত গদ্যে এবং সাহিত্যরসের কোনো আভাসও এই রচনাগুলিতে নাই। বস্তুত, সপ্তম শতকীয় লোকনাথের ত্রিপুরা পট্টোলী বা কামরূপরাজ ভাস্করবর্মার নিধনপুর পট্টোলীর আগে সমসাময়িক মধ্য-ভারতীয় অলংকারবহুল কাব্যরীতির কোনও পরিচয়ই বাঙলাদেশে পাইতেছি না। মনে হয়, ষষ্ঠ-সপ্তম শতকের আগে বাঙালী পণ্ডিত-সমাজ সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যের প্রাপধারার সঙ্গে ভালো করিয়া আত্মীয়তা স্থাপন করিতেই পারেন নাই। চেষ্টাটা বোধ হয় আরম্ভ হইয়াছিল আরও কয়েক শতাব্দী আগে হইতেই এবং বৌদ্ধ সংঘারাম এবং ব্রাহ্মণ্য ধর্মকেন্দ্রগুলি ক্ষুদ্র বৃহৎ শিক্ষায়তন হইয়া গড়িয়াও উঠিতেছিল। নহিলে পঞ্চম শতকে তাম্রলিপ্তিতে বসিয়া অধ্যয়ন ও পুঁথি নকল করিয়া চীনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন সুদীর্ঘ দুই বৎসর কাটাইতেন না। সপ্তম শতকে যখন য়ুয়ান-চোয়াঙ কযঙ্গল, পুণ্ড্রবর্ধন, কামরূপ, সমতট, তাম্রলিপ্তি এবং কর্ণসুবর্ণ ভ্ৰমণে আসিয়াছিলেন তখন বৌদ্ধ, নিগ্ৰস্থ ও ব্রাহ্মণ্য শিক্ষা-দীক্ষার প্রসার আরও বাড়িয়া গিয়াছে। এই সব জনপদের লোকদের জ্ঞানস্পাহা ও জ্ঞানচর্চার তিনি ভূয়সী প্রশংসা করিয়াছেন। কযঙ্গলে তখন ছ’সাতটি বৌদ্ধ বিহারে তিন শতের উপর বৌদ্ধ শ্রমণ; পুণ্ড্রবর্ধনের বিশটি বিহারে তিন হাজারের উপর শ্রমণ সংখ্যা, সমতটের ত্রিশটি বিহারে শ্রমণ সংখ্যা দুই হাজারের উপর, কর্ণসুবর্ণের দশটি বিহারে দুই হাজারের উপর এবং তাম্রলিপ্তির দশটি বিহারেও প্রায় একই সংখ্যক শ্রমণের বাস। পুণ্ড্রবর্ধনের পো-সি —পো-(মহাস্থানের সন্নিকটে ভাসু বিহার?)। বিহার এবং কর্ণসুবর্ণের রক্তমৃত্তিকা -(লো-টো-মো-চি) বিহার যে খুবই প্রসিদ্ধি লাভ করিয়াছিল, যুয়ান-চোয়াঙের সাক্ষ্যই তাহার প্ৰমাণ। নালন্দার-মহাবিহারের সঙ্গে ষষ্ঠ-সপ্তম শতকীয় বাঙলার জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিক্ষাদীক্ষার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল এবং বাঙলার শিক্ষার্থী, আচার্য ও রাজবংশ নালন্দা-মহাবিহারের সংবর্ধনের জন্য যে প্রয়াস করিয়াছেন তাহা তুচ্ছ করিবার মতো নয়। এই মহাবিহারের মহাচার্য বিশ্রুতকীর্তি শীলভদ্র ছিলেন সমতটের ব্রাহ্মণ্য রাজবংশের অন্যতম সন্তান এবং তিনিই ছিলেন। য়ুয়ান-চোয়াঙের গুরু। শীলভদ্র ভারতের নানাস্থানে জ্ঞানান্বেষণে ঘুরিয়া ঘুরিয়া অবশেষে নালন্দায় আসিয়া স্থিতিলাভ করেন এবং আচার্য ধর্মপালকে গুরুত্বে বরণ করিয়া লন। দেখিতে দেখিতে বৌদ্ধধর্মের সূক্ষ্ম ও জটিল চিন্তাধারায় তাহার গভীর জ্ঞানলাভ ঘটে এবং তাহার জ্ঞান ও জীবনচর্যার খ্যাতি দেশে বিদেশে ছাড়াইয়া পড়ে। শীলভদ্রের যখন মাত্র ত্রিশ বৎসর বয়স তখন দক্ষিণ-ভারত হইতে এক ব্রাহ্মণ আচার্য নালন্দায় আসেন আচার্য ধর্মপালের সঙ্গে বিতর্কের জন্য। ধর্মপাল শীলভদ্রকে আদেশ করিলেন বিচারে প্রবৃত্ত হইতে। শীলভদ্র অচিরেই সেই ব্ৰাহ্মণ আচার্যকে বিতর্কে পরাভূত করিয়া আপন সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করিলেন। মগধের রাজা সন্তুষ্ট হইয়া শীলভদ্রকে একটি গ্রামের রাজস্ব পুরস্কার স্বরূপ দিতে চাহিলেন; শীলভদ্র প্রথমে রাজী হন নাই; পরে তাঁহাকে স্বীকৃত হইতে হয়। সেই অর্থ দ্বারা তিনি একটি বিহার নির্মাণ করেন এবং বাৎসরিক রাজস্ব দান করিয়া দেন। সেই বিহারের ব্যয় নির্বাহের জন্য। কালক্ৰমে শীলভদ্র নালন্দা মহাবিহারের মহাচার্যের পদে প্রতিষ্ঠিত হন; মহাবিহারের তখন প্রায় ১০,০০০ শ্রমণের বাস। তাঁহাদের মধ্যে একমাত্র শীলভদ্রই সমস্ত শাস্ত্র ও সূত্রে সুপণ্ডিত ছিলেন। বিনীত শ্রদ্ধায় মহাবিহারের সকল শ্রমণেরা তাঁহাকে ‘সদ্ধার্মের ভাণ্ডার বলিয়া সম্ভাষণ করিত। শীলভদ্রের নিকট য়ুয়ান-চোয়াঙ যোগশাস্ত্ৰ অধ্যয়ন করিতেন; য়ুয়ান-চোয়াঙের সঙ্গে সঙ্গে একটি ব্রাহ্মণও সেই অধ্যয়নে যোগদান করিয়াছিলেন। শীলভদ্রের অনুরোধে রাজা শিলাদিত্য হর্ষবর্ধন সেই ব্ৰাহ্মণকে তিনটি গ্রামের ভূমি-রাজস্ব দান করিয়াছিলেন। শীলভদ্র রচিত অন্তত একটি গ্রন্থের কথা আমরা জানি; সে-গ্রন্থটি হইতেছে আৰ্য-বুদ্ধ-ভূমি-ব্যাখ্যান; এই গ্রন্থটি তিব্বতী ভাষায় অনূদিত হইয়াছিল।

    সমসাময়িক তাম্রলিপ্তির শিক্ষাদীক্ষার সংবাদ আরও একাধিক চীনা শ্রমণের সাক্ষ্য হইতে জানা যায়। তা চে’ঙ-টেঙা নামে এক চীনা শ্রমণ বারো বৎসর তাম্রলিপ্তিতে বসিয়া সংস্কৃত বৌদ্ধগ্রন্থাদি অধ্যয়ন করিয়া বৌদ্ধধর্মে অসাধারণ বুৎপত্তি লাভ করিয়াছিলেন এবং তাহার পর চীনদেশে ফিরিয়া গিয়া সেখানে উল্লঙ্গের নিদানশাস্ত্ৰ ব্যাখ্যা করিয়াছিলেন। তাও-লিন নামে আর একজন চীনা শ্রমণ তিন বৎসর তাম্রলিপ্তিতে বসিয়া সংস্কৃত শিখিয়া ছিলেন এবং সর্বাস্তিবাদ-নিকায় দীক্ষা গ্রহণ করিয়াছিলেন। ইৎসিঙ তাম্রলিপ্তি আসিয়াছিলেন ৬৭৩ খ্ৰীষ্ট শতকে; সুবিখ্যাত পো-লো-হো (বরাহ?)-বিহারে তা চে’ঙ-টেঙা’র সঙ্গে তাহার দেখা য়াছিল; তিনি এই বিহারে কিছুকাল কাটাইয়াছিলেন, সংস্কৃত ভাষা এবং শব্দবিদ্যার চর্চা করিয়াছিলেন এবং নাগাৰ্জ্জুন-বোধিসত্ত্ব-সুহৃল্লেখ নামে অন্তত একখানি সংস্কৃত গ্রন্থ চীনা ভাষায় অনুবাদ করিয়াছিলেন। অন্য এক চীনা পরিব্রাজক সং-চি বলিতেছেন, সমতটের তদানীন্তন রাজা প্রতিদিন মহাপ্রজ্ঞাপারমিতা-সূত্রের লক্ষ শ্লোক আবৃত্তি করিতেন।

    বৌদ্ধ বিহার-সংঘারামগুলির প্রত্যেকটিই ছিল বৌদ্ধ জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিক্ষা-দীক্ষার কেন্দ্র এবং য়ুয়ান-চোয়াঙ এবং অন্যান্য চীনা-সাক্ষ্যেই সপ্রমাণ যে, এই কেন্দ্রগুলিতে শুধু বৌদ্ধধর্মের চর্চা এবং বৌদ্ধ শাস্ত্ৰই শুধু পঠিত হইত। তাহা নয়, ব্যাকরণ, শব্দবিদ্যা, হেতুবিদ্যা, চিকিৎসাবিদ্যা, চতুর্বেদ, সাংখ্য, সংগীত ও চিত্ৰকলা, মহাযান শাস্ত্ৰ, অষ্টাদশ নিকায়বাদ, যোগশাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা প্রভৃতি জ্ঞানের বিভিন্ন দিকও বৌদ্ধ শ্রমণদের অধিতব্য বিষয়ের অন্তর্গত ছিল। য়ুয়ান-চোয়াঙ যে অসংখ্য দেবমন্দিরের কথা বলিয়াছেন, তাহদের কেন্দ্ৰ করিয়া ব্ৰাহ্মণ-আচার্য –উপাধ্যায় ইত্যাদিও কম ছিলেন না এবং যে অগণিত দেবপূজকের কথা য়ুয়ান-চোয়াঙ বলিয়াছেন, তাহারা যে শুধু ব্ৰাহ্মণ্য ধর্মশাস্ত্রেরই চর্চা করিতেন, এমন মনে করিবার কারণ নাই। নানা পার্থিব, দৈনন্দিন সমস্যাগত জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা-দীক্ষার চর্চাও নিশ্চয়ই তাহদের মধ্যে প্রচলিত ছিল। যাহাই হউক, এ-তথ্য সুস্পষ্ট যে, ষষ্ঠ-সপ্তম শতকের মধ্যে বাঙলাদেশে সংস্কৃত ভাষা এবং বৌদ্ধ-জৈন-ব্ৰাহ্মণ্য ধর্মকে আশ্রয় করিয়া আর্য জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিক্ষা-দীক্ষা বাঙলাদেশে প্রোথিত মূল হয় এবং শতাব্দী কালের মধ্যেই ফসল ফলাইতে আরম্ভ করে। সপ্তম শতকের লিপিগুলির অলংকারময় কাব্যরীতিই তাহার প্রমাণ। এই কাব্যরীতি একান্তই মধ্য-ভারতীয় রচনাস্ত্রীতি ও আদর্শের প্রেরণা ও অনুকরণে সৃষ্ট, সন্দেহ নাই। কিন্তু এই লিপিগুলি ছাড়া কাব্যসাহিত্য-চৰ্চার আর কোনো প্রমাণ আমাদের সম্মুখে অনুপস্থিত।

    ব্যাকরণচন্দ্ৰগোমী ও চান্দ্র-ব্যাকরণ

    জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানাদিক সম্বন্ধে অনুশীলনের কিছু কিছু পরিচয় বিদ্যমান। ব্যাকরণের চর্চায় প্রাচ্য-ভারত, তথা বাঙলাদেশ অতি প্রাচীন কালেই প্রসিদ্ধি লাভ করিয়াছিল; পাণিনির সাক্ষ্যই তাহার প্রমাণ। সপ্তম শতকে ইৎ-সিঙ যে-সব বিদ্যা অনুশীলন করিবার জন্য তাম্রলিপ্তি আসিয়াছিলেন তাহার মধ্যে শব্দবিদ্যা অন্যতম। প্রাচীন বাঙলার এই ব্যাকরণ প্রসিদ্ধি যাঁহাদের জ্ঞান ও খ্যাতির উপর প্রতিষ্ঠিত তাহাদের মধ্যে চান্দ্র-ব্যাকরণ পদ্ধতির স্রষ্টা চন্দ্ৰগোমী অন্যতম। চান্দ্র-ব্যাকরণ ও তাহার বৃত্তি বা টীকা চন্দ্ৰগোমীর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি। এই ব্যাকরণ মুখ্যত পাণিনি-অনুসারী, এবং এক সময়ে কাশ্মীর নেপাল-তিব্বত-সিংহলে ইহার প্রচলনও ছিল প্রচুর, কিন্তু মৌলিকতা এবং নূতন কোনও তত্ত্ব বা রীতির অভাবে এই প্রসার বা প্রসিদ্ধি পরবতী কালে স্থায়িত্ব লাভ করিতে পারে নাই। পাগ-সাম-জোন-জাং-গ্রন্থে বলা হইয়াছে যে, চন্দ্ৰগোমী ছিলেন পতঞ্জলির মহাভাষ্য-রীতিপদ্ধতির বিরোধী। ভর্তৃহরি তাহার বাক্যপদীয়-গ্রন্থে জনৈক বৈয়াকরণিক চন্দ্রাচার্যের নাম করিয়াছেন এবং তিনি যে মহাভাষ্য-মতবিরোধী ছিলেন এরূপ ইঙ্গিতও করিয়াছেন; কলহণও তাহার রাজতরঙ্গিনী-গ্রন্থে চন্দ্রাচার্য ও তাহার ব্যাকরণের উল্লেখ করিয়াছেন, কিন্তু বলিতেছেন, চন্দ্রাচার্য মহাভাষ্য-চৰ্চার পুনঃপ্রচলন করিয়াছিলেন। যাহাই হউক, বিশেষজ্ঞরা অনেকেই মনে করেন, চন্দ্ৰগোমী ও চন্দ্রাচার্য একই ব্যক্তি। চন্দ্ৰগোমিন ও তাহার ব্যাকরণের সন-তারিখ লইয়া পণ্ডিতদের ভিতরে মত-বিরোধের অন্ত নাই। তবে মোটামুটি বলা চলে, জয়াদিত্য ও বামনের কাশিকা-গ্রন্থের (পাণিনি-টীকা) আগেই চান্দ্র-ব্যাকরণ রচিত ও সুপ্রচলিত হইয়াছিল; কারণ এই টীকায় চন্দ্ৰগোমীর মূল ৩৫টি সূত্র বিনা স্বীকৃতিতে উদ্ধৃত হইয়াছে। এই ৩৫টি সূত্র পাণিনি-ব্যাকরণে কোথাও নাই। যাহাই হউক, চন্দ্ৰগোমী সপ্তম শতক বা.. সপ্তম শতকের আগেই কোনও সময়ে বিদ্যমান ছিলেন, এ-সম্বন্ধে কোনও সংশয় নাই। চন্দ্ৰগোমী ছিলেন বৌদ্ধ; তাহার অস্ত্যনাম গোমিন (বাঙলা বর্তমান গুই?) এবং তদ্রচিত ব্যাকরণের বৃত্তি বা টীকার প্রারম্ভে মঙ্গলশ্লোকের সর্বজ্ঞ-স্তুতিই তাহার প্রমাণ। তাহার জন্মভূমি ছিল বরেন্দ্রীতে; কিন্তু পাগ-সাম-জোন-জাং গ্রন্থের সাক্ষ্য প্রামাণিক হইলে স্বীকার করিতে হয়, তিনি পরবর্তী জীবনে কোনও কারণে বরেন্দ্রী হইতে নির্বাসিত হইয়া চন্দ্ৰদ্বীপে গিয়া বাস করেন। তিব্বতী ত্যাঙ্গুরে তালিকাবদ্ধ চন্দ্ৰগোমীর একটি গ্রন্থে তিনি পরিষ্কার দ্বৈপা বলিয়া উল্লিখিত হইয়াছেন। তিব্বতী ঐতিহ্যমতে চন্দ্ৰগোমী যে শুধু বৈয়াকরণিক ছিলেন, তাহাই নয়। তর্কবিদ্যায়ও তিনি পারদর্শী ছিলেন এবং ন্যায়সিদ্ধালোক নামে তৰ্কশাস্ত্রের একটি গ্রন্থ রচনা করিয়াছিলেন। শুধু তাঁহাই নয়, তিনি বৌদ্ধ তান্ত্রিক বজ্ৰযান সাধনাগত ৩৬টি গ্রন্থের লেখক ছিলেন; তারা এবং মঞ্জুশ্ৰীর উপর কয়েকটি সংস্কৃত স্তোত্র রচনা করিয়ছিলেন, লোকানন্দ নামে একটি নাটক এবং শিষ্যের নিকট গুরুর পত্র হিসাবে রচিত শিষ্যলেখধর্ম নামে একটি ক্ষুদ্র কাব্যও রচনা করিয়াছিলেন। লোকানন্দ নাটকটির তিব্বতী অনুবাদ ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায় নাই; শিষ্যলেখধর্ম কাব্যটিতে বিভিন্ন ছন্দে ১১৮টি সংস্কৃত শ্লোক; রচনারীতি দুর্বল ও বহুঅর্ভ্যস্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ সংস্কৃত কাব্যানুসারী। এই তিব্বতী ঐতিহ্যমতেই চন্দ্ৰগোমী এক সময় নালন্দা মহাবিহারে গিয়া আচার্য স্থিরমতির শিষ্যত্ব গ্রহণ করিয়াছিলেন এবং সেখানে মাধ্যমিক শাস্ত্ৰে সুপণ্ডিত চন্দ্ৰকীর্তির সঙ্গে তাহার দেখা হইয়াছিল। তারনাথ বলেন, চন্দ্ৰগোমীর ব্যাকরণ চন্দ্ৰকীর্তির শ্লোক্যবদ্ধ ব্যাকরণগ্রন্থে সমন্তভদ্রকে প্রায় বিলুপ্ত করিয়া দিয়াছিল। চন্দ্ৰগোমী নালন্দা-মহাবিহারে আচার্য স্থিরমতির নিকট সূত্র ও অভিধর্মপিটক অধ্যয়ন করিয়াছিলেন এবং ব্যাকরণ, সাহিত্য, জ্যোতিষ, তৰ্কশাস্ত্ৰ, চিকিৎসাবিদ্যা এবং নানা কলায় বুৎপত্তি লাভ করিয়াছিলেন। আচার্য অশোক তাহাকে বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষাদান করেন এবং তিনি তারা ও অবলোকিতেশ্বরের পরমভক্ত হন। চন্দ্ৰগোমী সিংহল ও দক্ষিণ ভারতে গিয়াছিলেন এবং দক্ষিণ-ভারতে বসিয়াই নাকি চান্দ্র-ব্যাকরণ রচনা করিয়াছিলেন। নালন্দা-মহাবিহারের আচার্যরা গোড়ায় তাহার প্রতি খুব শ্রদ্ধিত ছিলেন না; কিন্তু পরে চন্দ্ৰকীর্তি তাহার প্রতিভার পরিচয় পান এবং তাহারই প্রেরণায় ও চেষ্টায় চন্দ্ৰগোমী ক্রমে সকলের শ্রদ্ধা আকর্ষণ করেন। চন্দ্ৰগোমী যোগাচায়ী ছিলেন এবং যোগাচার দর্শন লইয়া বিচারালোচনা করিতেন।

    প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, বৈয়াকরণিক চন্দ্ৰগোমী, তিব্বতী ঐতিহ্যের নৈয়ায়িক চন্দ্ৰগোমী এবং একই ঐতিহ্যের বজ্রযানী বৌদ্ধ তান্ত্রিক চন্দ্ৰগোমী কি একই ব্যক্তি? এ-প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়া কঠিন; তবে বৈয়াকরণিক এবং নৈয়ায়িক চন্দ্ৰগোমী এক ব্যক্তি হইলেও বজ্রযানী চন্দ্ৰগোমী একই ব্যক্তি হওয়া প্রায় অসম্ভব বলিলেই চলে; খুব সম্ভব, পরবর্তী তিব্বতী ঐতিহ্য প্রাচীনতর চন্দ্ৰগোমী এবং অর্বাচীন চন্দ্ৰগোমীকে এক ব্যক্তিতে পরিণত করিয়া দুই জনের জীবন-কাহিনী একত্র মিশাইয়া দিয়াছিল।

    গৌড়পাদ ও গৌড়পাদ-কারিকা

    এই পর্বে ব্যাকরণ ও তর্কশাস্ত্র ছাড়া দর্শনের আলোচনায় বাঙলাদেশের কিছু প্ৰসিদ্ধি লাভ ঘটিয়াছিল। গৌড়পাদকীরিক নামে সুপরিচিত একটি আগম-শাস্ত্রগ্রন্থ এই যুগে বাঙলাদেশে রচিত হইয়াছিল, এ তথ্য নিঃসংশয়; তবে ইহার রচয়িতা কে ছিলেন তাহা লইয়া পণ্ডিত মহলে নানা মতামত বিদ্যমান। গ্রন্থকারের নাম বা উপাধি ছিল গৌড়পাদ, এইরূপ অনুমিত হইয়াছে; তিনি গৌড়াচার্য বলিয়াও কারিকায় উল্লিখিত হইয়াছেন। তাহার বাড়ি ছিল গৌড়দেশে, এই অনুমানেও সংশয় কিছু নাই। গৌড়পাদ ছিলেন শুকের শিষ্য এবং আচার্য শংকরের পরমগুরু বা গুরুর গুরু। শংকরাচার্যের শিষ্য সুরেশ্বর তাহার নৈষ্কর্মসিদ্ধি নামক গ্রন্থে গৌড়পাদকীরিকা হইতে দুইটি শ্লোক উদ্ধার করিয়াছেন। শংকরের ব্রহ্মসূত্ৰভাষ্যে গৌড়পাদের কোনো উল্লেখ নাই, কিন্তু কারিকার উদ্ধৃতি আছে; গ্রন্থকারের ইঙ্গিত আছে। ‘সম্প্রদায়বিদ’ ও ‘বেদার্থ সম্প্রদায়বিদ-আচাৰ্য’ এই পদে। গৌড়পাদ কারিকার দার্শনিক মতবাদ প্রাক-শংকর বৈদান্তিক মত ও বৌদ্ধ মাধ্যমিক শূন্যবাদের সূক্ষ্ম সংমিশ্রণ ও স্বাঙ্গীকরণ। সমগ্র গ্রন্থ ২১৫টি শ্লোকে গ্রথিত (প্রথম ভাগে আগম ২৯টি শ্লোক; দ্বিতীয় ভাগে বৈতথ্য ৩৮টি শ্লোক; তৃতীয় ভাগে অদ্বৈত ৪৮টি শ্লোক; চতুর্থ ভাগে অলাতশান্তি ১০০টি শ্লোক)। শাস্তুরক্ষিত, কমলশীল প্রভৃতি পরবর্তী কালের মাধ্যমিক মতবাদী একাধিক বৌদ্ধ আচার্য গৌড়পাদের গ্রন্থ হইতে শ্লোক উদ্ধার করিয়া তাহাদের মতামত ব্যক্ত করিয়াছেন। গৌড়পাদ আরও দুইটি কারিকা রচনা করিয়াছিলেন, একটির নাম সাংখ্য-কারিকা, আর একটির উত্তরগীতা। অল-বেরুনী জনৈক গৌড়-সন্ন্যাসী রচিত এক সাংখ্য-কারিকার কথা জানিতেন; গৌড়পাদের গ্রন্থ এবং আল-বেরুনী-উদ্দিষ্ট গ্রন্থ বোধ হয় একই গ্রন্থ।

    রোমপাদ।৷ পালকাপ্য কাহিনী ॥ হস্ত্যায়ুৰ্বেদ

    আর একটি বিদ্যায়ও প্রাচ্য ভারতের এবং বাঙলাদেশের কিছু প্ৰসিদ্ধি লাভ ঘটিয়াছিল বলিয়া মনে হয়; সে-বিদ্যার নাম হস্তী-আয়ুৰ্বেদবিদ্যা। কৌটিল্য ও গ্ৰীক-ঐতিহাসিকবৰ্গ হইতে আরম্ভ করিয়া য়ুয়ান-চোয়াঙ পর্যন্ত সকলেই প্রাচ্য দেশকে হস্তীর লীলাভূমি বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন; কৌটিল্য তো হস্ত্রী-চিকিৎসকদের কথাও বলিয়াছেন। কাজেই এ-দেশে হস্তী-চিকিৎসা সম্বন্ধে এক বিশেষ শাস্ত্র গড়িয়া উঠিবে, ইহা কিছু আশ্চর্য নয়। চম্পার রাজা রোমপাদের সঙ্গে এক ঋষি পাল্যকাপ্য বা পালক্যাপ্লের সুদীর্ঘ বাক্যালাপ হইয়াছিল হস্তী-চিকিৎসা সম্বন্ধে। গ্রন্থাকারে গ্রথিত এই সুদীর্ঘ। কথোপকথনই হস্তায়ুৰ্বেদ (বা গজ-চিকিৎসা, বা গজবিদ্যা, বা গজবৈদ্য বা গজায়ুৰ্বেদ)-গ্ৰন্থ নামে খ্যাতি লাভ করিয়াছে। লৌহিত্য যেখানে হিমালয় হইতে নিৰ্গত হইয়াছে সেইখানে ছিল ঋষি পালক্যাপ্যের আশ্রম। পালক্যাপ্যের নাকি জন্ম হইয়াছিল কাপ্যগোত্রে, এক ঋষির ঔরসে, হস্তিনীর গর্ভে। আর, রোমপাদ নাকি ছিলেন রামায়ণ-কীর্তিত দশরথের সমসাময়িক! সমস্ত বর্ণনাটিই পৌরাণিক স্বপ্ন-কল্পনার সৃষ্টি, সন্দেহ নাই। পালকাপ্য নামে যথার্থ কোনও পুরুষ ছিলেন, কিনা তাহাও সন্দেহজনক; দ্রাবিড় ভাষায় পাল অর্থই হন্তী এবং কপিও এক অর্থে হন্তী। তবে, গ্রন্থটি বিদ্যমান এবং দশম-একাদশ শতকের আগেই যে ইহা রচিত হইয়াছিল তাহারও প্রমাণ একাধিক। অগ্নিপুরাণের গজ-চিকিৎসা অধ্যায় পালকাপ্যরোমপাদের কথোপকথনের উপর ভিত্তি করিয়া রচিত হইয়াছিল, এ-কথা অগ্নিপুরাণেই বলা হইয়াছে; এবং অগ্নিপুরাণের শাস্ত্রীয় অংশ দশম শতকের আগেই রচিত হইয়াছিল, সন্দেহ নাই। একাদশ শতকে ক্ষীরস্বামী-রূচিত আমরকোয-টীকায় একাধিক বার পালক্যাপ্যের উদ্ধৃতি আছে। রঘুবংশ কাব্যে ইন্দুমতীর স্বয়ম্বর বর্ণনা-প্রসঙ্গে এক অঙ্গরাজার হন্তীশালায় সূত্রকারগণ কর্তৃক হস্তীকে-শিক্ষাদানের উল্লেখ আছে। পালকাপ্য এই সূত্রকারদের অন্যতম হওয়া অসম্ভব নয়। যাহাই হউক, এ-তথ্য প্রায় নিঃসংশয় যে, বহু প্রাচীনকাল হইতেই হন্তী-চিকিৎসার একটি ঐতিহ্য প্রাচ্য দেশে বর্তমান ছিল, কিছু গ্ৰন্থও রচিত হইয়াছিল সন্দেহ নাই; কিন্তু পালকাপের হন্তী-আয়ুৰ্বেদ গ্রন্থ যে-ভাবে ও রূপে আমরা পাইয়াছি তাহা এত সুপ্রাচীন কালের নয়, যদিও রোমপাদ-পালক্যাপ্যের কাহিনীর মূল সুপ্রাচীন হইলেও হইতে পারে। বর্তমান গ্রন্থটি খুব সম্ভব খ্ৰীষ্টোত্তর ষষ্ঠ-সপ্তম শতকে, ব্ৰহ্মপুত্র তীরে, কোথাও সংকলিত হইয়াছিল, প্রাচীনতর গ্রন্থাদির উপর নির্ভর করিয়া।

    এ-পর্যন্ত যে ক’টি গ্রন্থের উল্লেখ করা হইল তাহার প্রত্যেকটিই জ্ঞান-বিজ্ঞানগত। এইগুলি ছাড়া আরও অনেক গ্ৰন্থ এই পর্বে রচিত হইয়াছিল, সন্দেহ নাই, কিন্তু সে সব গ্রন্থ কালের প্রভাব এড়াইয়া মানুষের স্মৃতিতেও বাচিয়া থাকে নাই। নানা শাস্ত্র, নানা জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা যে বাঙলাদেশে হইত। তাহা তো আগেই দেখিয়াছি এবং যে দেশে এই পর্বে চান্দ্র-ব্যাকরণ ও গৌড়পাদকীরিকার মতো গ্ৰন্থ রচিত হইয়াছিল, সে-দেশে সেই পর্বে অন্য বহু গ্ৰন্থ রচিত হইয়া ভূমি ও পশ্চাদপট রচনা করে নাই, এমন হইতে পারে না। চন্দ্ৰগোমী তো কাব্য ও নাটকও রচনা করিয়াছিলেন। সাহিত্যরচনার একটা ধারাও প্রবহমান ছিল সন্দেহ নাই, কিন্তু তাহার উল্লেখ অথবা অবশেষ কোথাও দেখিতেছি না।

    সাহিত্য-রচনার একটি বেগবান প্রবাহ যে বাঙলাদেশের পলিভূমির উপর দিয়া বহিয়া যাইত তাহার নিঃসংশয় প্রমাণ পাওয়া যায়। এই পর্বে গৌড়ী রীতির উদ্ভব, বিকাশ ও প্রসিদ্ধির মধ্যে। সপ্তম শতকের প্রথমার্ধে হর্ষচরিত-গ্রন্থের মুখবন্ধে বাণভট্ট সমসাময়িক ভারতবর্ষে প্রচলিত সাহিত্য-রচনারীতি সম্বন্ধে বলিতেছেন,

    ‘শ্লেষপ্রায়মুদীচ্যেযু প্রতীচ্যেধর্থমাত্ৰকম।
    উৎপ্রেক্ষা দাক্ষিণাত্যেষু গৌড়েম্বাক্ষরডম্বরম।।
    নবোহর্থো জাতিরগ্রাম্য শ্লেষো ক্লিষ্ট স্ফুটো রসঃ।
    বিকটাক্ষরবন্ধশ্চ কৃৎসমেকত্র দুষ্করম।।

    উত্তর-ভারতের রচনারীতিতে শ্লেষই (অর্থাৎ শব্দ-ব্যবহারের চাতুর্য) সমধিক, পশ্চিমে কেবল অর্থগৌরব; দক্ষিণে উৎপ্রেক্ষালঙ্কারের প্রাবল্য (অর্থাৎ, কবিকল্পনার অবাধ সঞ্চারণ) এবং গৌড়জনদের মধ্যে অক্ষর-ডম্বর (অর্থাৎ, মাত্রার আড়ম্বর)। বস্তুত, নূতন অর্থ, অগ্রাম্য জাতি বা রচনাশৈলী, অক্লিষ্ট শ্লেষ, স্ফুটিরস এবং বিকটাক্ষরবন্ধ, এই সকল গুণের একত্র সমাবেশ দুষ্কর। বাণভট্ট দুঃখ করিয়াছেন, ভারতবর্ষের কোথাও একই জনপদে সু-কাব্যের এই সমস্ত লক্ষণগুলি একত্ৰ দেখিতে পাওয়া যায় না; কোথাও শুধু শ্লেষের প্রাধান্য, কোথাও অর্থগৌরবের, কোথাও অক্ষরাড়ম্বরের প্রাবল্য, কোথাও বা শুধু কল্পনার অবাধসঞ্চরণ। তাঁহার মতে ভালো কাব্যের যাহা লক্ষণ তাহা যে এই তালিকাতেই শেষ হইয়া গেল এমন নয়; এই লক্ষণগুলি শুধু কয়েকটি দৃষ্টান্ত মাত্র। কাজেই গৌড়ীয় কবিদের নিন্দাচ্ছলে বাণভট্ট অক্ষরাড়ম্বরের কথা বলিয়াছেন, এমন মনে করিবার কারণ নাই। অক্ষরাড়ম্বরের অর্থ হইতেছে শব্দপ্রয়োগগত ধ্বনি-সমারোহ; এই সাহিত্যিক গুণটিকেই বলা হইয়াছে বিকটাক্ষরবন্ধ (বিকট-উদারতা লক্ষণযুক্ত)।

    গৌড়ীরীতি

    সপ্তম-অষ্টম শতকে গৌড়-বঙ্গে যে একটি বিশেষ কাব্যরচনা-রীতির প্রবর্তনা হইয়াছিল এবং সমস্ত ভারতবর্ষে সেই রীতি সুপরিচিত স্বীকৃতি লাভ করিয়াছিল তাহার প্রমাণ আলংকারিক ভামহ ও দণ্ডীর (সপ্তম-অষ্টম-শতক) সাক্ষ্য। এই দুই জনই গৌড়ীরীতি বা গৌড়মার্গের কথা বলিতেছেন বৈদৰ্ভরীতির সঙ্গে সঙ্গে, অর্থাৎ বৈদভী ও গৌড়ী, এই দুই রীতিই যে তখন প্রধান প্রচলিত কাব্যরীতি, তাহার সুস্পষ্ট সাক্ষ্য দিতেছেন। দণ্ডীর পক্ষপাত ছিল বৈদভী রীতির প্রতি এবং এই রীতিই কাব্যরচনার মানদণ্ড বলিয়া তিনি মনে করিতেন। তাহার মতে এই মানদণ্ডের বিচারে গৌড়ী রীতি বিপর্যয় লক্ষণাক্ৰান্ত, তাহার রূপ পৃথক, রীতি পৃথক, কিন্তু এই পৃথক রূপ ও রীতি সহজেই প্রস্ফুট। বৈদভী, বিশুদ্ধ মাৰ্গপদ্ধতির অনুসারী, গৌড়ী একটু অলংকার ও আড়ম্বরবহুল, পল্লবিত। দণ্ডী পরিষ্কারই বলিতেছেন, গৌড়জনেরা অতি ও উচ্চকথন এবং অলংকার ও আড়ম্বর প্রিয়; গৌড়ী রীতির প্রধান লক্ষণই হইতেছে ‘আর্থ-ডম্বর’ এবং “অলংকার-ড়ম্বর, অনুপ্রাসপ্রিয়তা এবং বন্ধগৌরব বা রচনার গাঢ়তা। ভামহ। কিন্তু বৈদভী রীতির শ্রেষ্ঠত্ব সম্বন্ধে সন্দিহান ছিলেন; বরং সুপ্রযোজিত গৌড়ী রীতির প্রতিই তাহার কিছুটা পক্ষপাত সুস্পষ্ট। বৈদভী রীতির প্রধান গুণ ছিল শ্লেষ, প্রসাদ, মাধুর্য, সৌকুমাৰ্য ইত্যাদি।

    বাণভট্ট, ভামহু এবং দণ্ডীর সাক্ষ্যে এ-তথ্য পরিষ্কার যে, গৌড়জনেরা সপ্তম শতকের আগেই সুস্পষ্ট লক্ষণাক্ৰান্ত একটি বিশিষ্ট কাব্যরীতি গড়িয়া তুলিয়াছিলেন এবং এই রীতি সর্বভারতগ্রাহ্য বৈদন্তী রীতিমানের পাশেই আপন আসন এতটা সুপ্রতিষ্ঠিত করিয়াছিল যে, বাণভট্ট, ভামহ বা দণ্ডী কেহই তাহাকে অস্বীকার করিতে পারেন নাই; দশম-একাদশ শতকে গৌড়ী রীতির যখন পূর্ণ বিকশিত অবস্থা, যখন আড়ম্বরা অলংকার এবং পল্লবিত বিস্তৃতির প্রসার আরও বেশি, তখন রাজশেখর (দশম শতক) তাঁহার কাব্য মীমাংসা-গ্রন্থে গৌড়ী রীতির উল্লেখ করিয়াছেন, কিন্তু কোনও উৎসাহ প্রকাশ করেন নাই। বোধ হয়, সেই জনাই কপূরমঞ্জরী-গ্রন্থে বিভিন্ন রীতির তালিকা দিতে গিয়া তিনি গৌউী রীতির উল্লেখ করেন নাই, তাহার স্থানে মাগধী রীতির কথা বলিয়াছেন। মাগধী রীতিকে যথার্থত কোনও বিশিষ্ট সম্পূর্ণ ও স্বতন্ত্র রীতি রাজশেখর ছাড়া আর কেহ বলেন নাই। একাদশ শতকে ভোজদেব গৌড়ী ও মাগধী, এই দুই রীতির কথা বলিয়াছেন, সন্দেহ নাই, কিন্তু মাগধীকে বলিয়াছেন খণ্ডরীতি, অর্থাৎ অসম্পূর্ণ, অ-স্বতন্ত্র, অপ্রস্ফুটিত রীতি। নাটকেও বোধ হয় অন্যান্য প্রাচ্য দেশের সঙ্গে বাঙলাদেশে একটি বিশিষ্ট রূপ ও রীতির প্রচলন হইয়াছিল। ভারতের নাট্যশাস্ত্ৰে চারিটি বিশিষ্ট নাটকীয় রীতির বা প্রবৃত্তির উল্লেখ আছে : অবন্তী, পঞ্চাল-মধ্যমা, দক্ষিণাত্যা এবং ওড্র মাগধী। ওড্র, বঙ্গ, পৌণ্ড এবং নেপালে ওড্র-মাগধী প্রবৃত্তি প্রচলিত ছিল।

    এই গৌড়ী রীতির (মাগধী রীতি এবং ভরতনাট্যশাস্ত্ৰ কথিত ওড্র-মাগধী প্রবৃত্তিরও বটে) উদ্ভব ও বিকাশের ইতিহাস প্রাচীন বাঙলার সংস্কৃতির ইতিহাসের দিক হইতে গভীর অর্থবহ। আর্যমঞ্জুশ্ৰীমূলকল্প-কথিত ‘গৌড় তন্ত্র কথাটি এই প্রসঙ্গে স্মর্তব্য। ষষ্ঠ শতকের মাঝামাঝি হইতেই গৌড়জনেরা নিজেদের স্বাতন্ত্র্য সম্বন্ধে সচেতন হইতে আরম্ভ করেন; ঈশানবৰ্মার হড়াহা-লিপি তাহার প্রথম প্রমাণ। তাহার পর হইতেই গৌড় ধীরে ধীরে নিজস্ব জন্য দিকে আশ্রয় করিয়া স্বাধীন স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গড়িয়া তুলিতে যত্নবান হয়, শশাঙ্কে আসিয়া তাহা একটা সুস্পষ্ট রূপ গ্রহণ করে। মালব-স্থানীশ্বর-কনৌজ -উজ্জয়িনী-প্ৰয়াগ-বান্নারসীকেন্দ্ৰিক মধ্য-ভারতীয় রাষ্ট্ৰীয় প্রভাব হইতে মুক্ত, স্বতন্ত্র রাষ্ট্রই হইয়া উঠিল গৌড়তন্ত্রের রাষ্ট্রদর্শ। সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে এই গৌড়তন্ত্র রূপ লাভ করিল গৌড়ী রীতিতে—সর্বভারতীয়, বৈদভী রীতিকে অস্বীকার করিয়া, তাহার প্রভাব হইতে মুক্ত হইয়া স্বাধীন স্বতন্ত্র রীতির উদ্ভবে ও বিকাশে। সন্দেহ নাই, এই উদ্ভব ও বিকাশ ঘটিয়াছিল। গৌড়জনের নিজস্ব প্রতিভা, প্রকৃতি, রুচি ও সংস্কার অনুযায়ী এবং ইহাদেরই প্রেরণায়, শুধু বিশিষ্ট জনপদসুলভ অহংকৃত স্বতন্ত্রপ্রিয়তা ও স্বাধিকার প্রমত্ততায় নয়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118 119 120 121 122 123 124 125 126 127 128 129 130 131 132 133 134 135 136 137 138
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাঙালী হিন্দুর বর্ণভেদ – নীহাররঞ্জন রায়
    Next Article পুরাণী – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    Related Articles

    নীহাররঞ্জন রায়

    বাঙালী হিন্দুর বর্ণভেদ – নীহাররঞ্জন রায়

    September 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }