Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বাহ্ টুনটুনি বাহ্ বাহ্ ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প131 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    খিঁচখিঁচে বুড়ো

    ছোটাচ্চুর অফিসে তার সেক্রেটারিয়েট টেবিলের সামনে রাখা চেয়ারগুলোতে বসতে খুব আরাম। টুনি যখনই আসে খানিকক্ষণ সেখানে বসে থাকে। আজকেও সে বসে থেকে ছোটাচ্চুকে লক্ষ করছে। ছোটাচ্চুকে দেখেই টুনি মোটামুটি বুঝতে পারে ছোটাচ্চুর মনের অবস্থাটা কী রকম। যখন ঘ্যাসঘ্যাস করে গাল চুলকায় তখন বুঝতে হবে কোনো কিছু নিয়ে চিন্তা করছে। যখন মাথার চুলের ভিতর আঙুল ঢুকিয়ে চুলগুলি টানাটানি করে তখন বুঝতে হবে কিছু একটা নিয়ে ছোটাচ্চু দুশ্চিন্তা করছে। যখন কানের ভেতর কেনে আঙুল ঢুকিয়ে কান চুলকায় তখন বুঝতে হবে কোনো কিছু নিয়ে মেজাজটা ভালো।

    আজকে ছোটাচ্চু চেয়ারে হেলান দিয়ে তার কেনে আঙুল দিয়ে কান চুলকাচ্ছে, চোখ দুটি আধখোলা। তখন রিসেপশনের মেয়েটি ছোটাচ্চুর ঘরে মাথা ঢুকিয়ে বলল, “স্যার, একজন আপনার সাথে দেখা করতে এসেছেন।”

    এই মেয়েটি ছোটাচ্চুর অফিসে কাজ করতে এসেছে। ইউনিভার্সিটি থেকে পাস করে এসেছে কিন্তু দেখলে মনে হয় ক্লাস এইটে পড়ে।

    ছোটাচ্চু চোখ না খুলেই বলল, “নীলিমা, তোমাকে আমি কতবার বলেছি যে আমাকে স্যার ডাকবে না।”

    নীলিমা নামের রিসেপশনিস্ট মেয়েটি একটু অপ্রস্তুত হয়ে বলল, “সরি স্যার। আসলে মনে থাকে না, সবসময়ই দেখে আসছি বসদের স্যার ডাকতে হয়—সেই জন্য—”

    ছোটাচ্চু চোখ দুটো একটু খুলে বলল, “আমাদের আলটিমেট ডিটেকটিভ এজেন্সিতে কোনো বস নাই। এটা হচ্ছে একটা ফ্যামিলির মতো। বুঝেছো?”

    নীলিমা মাথা নাড়ল। বলল, “বুঝেছি।”

    ছোটাচ্চু আবার তার চেয়ারে মাথা হেলান দিয়ে কেনে আঙুল দিয়ে তার কান চুলকাতে লাগল। নীলিমা জিজ্ঞেস করল, “একজন দেখা করতে এসেছে— তাকে পাঠিয়ে দেবো?”

    ছোটাচ্চু বলল, “দাও। পাঠিয়ে দাও।”

    ছোটাচ্চু এবার সোজা হয়ে বসল, মুখটা একটু গম্ভীর করল। টুনির দিকে ভুরু কুঁচকে তাকাল, যার অর্থ, টুনি তুই এখানে বাসে আছিস কেন? বিদায় হ। দেখতে পাচ্ছিস না আমার একজন ক্লায়েন্ট আসছে?”

    টুনি অবশ্য ছোটাচ্চুর ভুর কুঁচকানো না দেখার ভান করে তার হাতের গল্প বইটার ওপর ঝুঁকে পড়ল। কান খাড়া রাখল ছোটাচ্চু আর তার ক্লায়েন্ট কী নিয়ে কথা বলে সেটা শোনার জন্য। কেউ যখন কোনো একটা কেস নিয়ে ছোটাচ্চুর কাছে আসে সেটা শুনতে টুনির খুব ভালো লাগে।

    একটু পরেই ছোটাচ্চুর দরজায় একজন মানুষ দাঁড়াল, বলল, “আসতে পারি?”

    ছোটাচ্চু মুখটা আরো গম্ভীর করে বলল, “জি আসেন। বসেন।”

    মানুষটি বসল। ছোটাচ্চু বলল, “আপনার জন্য আমি কী করতে পারি?” মানুষটি বলল, “আমার নাম নাজমুল হাসান। আমি একটা বিশেষ বিপদে পড়ে আপনার কাছে এসেছি।”

    ছোটাচ্চু বলল, “কী বিপদ, বলেন।”

    “বিষয়টা খুবই লজ্জার, বলতেও আমার লজ্জা লাগছে।”

    ছোটাচ্চু বলল, “একসময় ডাক্তার আর উকিলদের সামনে কোনোরকম লজ্জা না পেয়ে সবকিছু বলতে হতো। আজকাল ডিটেকটিভদের সাথেও কোনোরকম লজ্জা না করে সবকিছু বলে ফেলতে হয়। বলে ফেলেন।”

    “জি বলছি। কিন্তু আমি সেটা খুবই গোপনে বলতে চাই। শুধু আপনার সাথে—” বলে মানুষটি চোখের কোনা দিয়ে টুনির দিকে তাকাল। মুখে না বললেও বুঝিয়ে দিলো মানুষটি টুনির সামনে তার লজ্জার কথাগুলো বলতে চায় না। টুনি মনে মনে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল, বোঝাই যাচ্ছে তাকে এখন চলে যেতে হবে।

    ছোটাচ্চু বলল, “টুনি—এই টুনি—”

    টুনি মাথা তুলে বলল, “আমাকে কিছু বলছো?”

    “হ্যাঁ। আমাদের এখন একটু কনফিডেন্সিয়াল কথা আছে। তুই বাইরে গিয়ে বস।”

    টুনি বলল, “ঠিক আছে।” তারপর ব্যাগটা হাতে নিয়ে বের হয়ে এলো। শাহানাপুকে বলে একটা যন্ত্র তৈরি করতে হবে, সেটা দিয়ে ঘরে না বসেও ঘরের ভিতর কী কথা হচ্ছে সেটা যেন বাইরে বসে শোনা যায়। মানুষটির লজ্জার কথাটি কী টুনির খুবই শোনার ইচ্ছা করছিল।

    * * *

    রাত্রিবেলা যখন বাচ্চাকাচ্চারা তাদের পড়াশোনা (কিংবা পড়াশোনার ভান শেষ করে দাদির ঘরে হুটোপুটি করছে তখন ছোটাচ্চু এসে ঢুকল। প্রত্যেক দিনের মতো আজকেও বাচ্চারা চিৎকার করে জিজ্ঞেস করল, “ ছোটাচ্চু! আজকে আমাদের জন্য কী এনেছো?”

    ছোটাচ্চু হাসি হাসি মুখ করে বলল, “বুকভরা ভালোবাসা!”

    বাচ্চারা জোরে জোরে মাথা নাড়ল, বলল, “না, না, না। ভালোবাসার দরকার নাই। খাওয়ার জন্য কী এনেছো বলো!”

    ছোটাচ্চু বলল, “প্রত্যেক দিন খাই খাই করিস—ব্যাপারটা কী?”

    একজন বলল, “মনে নাই, চুক্তিপত্রে আছে তোমার ইনকামের তিরিশ পার্সেন্ট আমাদের দিতে হবে?”

    “তিরিশ পার্সেন্ট খাবার কিনে দিতে হবে তো বলা নাই। বড় হলে যখন চাকরি-বাকরি পাবি না তখন একটা গরু কিনে দিবো। সেটার দুধ বিক্রি করে সংসার চালাবি।”

    বিষয়টা চিন্তা করে বাচ্চারা আনন্দে চিৎকার করে উঠল। একজন বলল, “গরুটা কিন্তু থাকবে তোমার ঘরে!”

    চেঁচামেচি-হইচই একটু কমে আসার পর টুনি গিয়ে ছোটাচ্চুর পাশে বসল। গলা নামিয়ে জিজ্ঞেস করল, “ছোটাচ্চু, তোমার অফিসের লোকটা কি তোমাকে তার লজ্জার কাহিনিটা বলেছে?”

    টুনি মোটেও আশা করেনি যে ছোটাচ্চু তাকে সেই লজ্জার কাহিনিটা বলবে, কিন্তু দেখা গেল যে ছোটাচ্চু কথা বলার মুডে আছে। আনন্দে হা হা করে হেসে মাথা নেড়ে বলল, “হ্যাঁ বলেছে। ভেরি ভেরি ইন্টারেস্টিং স্টোরি।”

    ‘ইন্টারেস্টিং স্টোরি’র কথা শুনে এবারে অনেকেই ছোটাচ্চুকে ঘিরে ধরল, জিজ্ঞেস করল, “কী ইন্টারেস্টিং স্টোরি ছোটাচ্চু?”

    যে কথাটা মানুষটা গোপনে শুধু ছোটাচ্চুকে বলেছে, টুনির সামনে পর্যন্ত বলতে রাজি হয় নাই, ছোটাচ্চু বেশ সহজেই সেই গল্পটা অন্যদের বলতে শুরু করে দিলো। গল্পট এ রকম :

    মানুষটা বড় সরকারি অফিসার, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি কিংবা ডেপুটি সেক্রেটারি এ রকম কেউ হবে। ছোটাচ্চুকে বলল, “আমার বলতে খুবই লজ্জা লাগছে—আমার বাসায় ড্রাগস নিয়ে সমস্যা।”

    ছোটাচ্চু জিজ্ঞেস করল, “কী করম সমস্যা?”

    “বাসায় একজন ড্রাগ এডিক্ট, কিছুতেই থামাতে পারি না। সমাজ নিয়ে থাকতে হয়, জানাজানি হয়ে গেলে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে।”

    “কী ড্রাগস?”

    মানুষটি মুখ কাঁচুমাচু করে বলল, “মারিজুয়ানা। সোজা বাংলায় যেটাকে গাঁজা বলে সেইটা।”

    ছোটাচ্চু জিজ্ঞেস করল, “কে গাঁজা খায়? আপনার ছেলে?”

    ভদ্রলোক মাথা নাড়ল, বলল, “না। আমার বাবা।”

    গল্পের এই জায়গায় ছোটাচ্চু আনন্দে হা হা করে হাসতে লাগল। তারপর হাসি থামিয়ে বলল, “চিন্তা করতে পারিস? ছেলে কাঁচুমাচু হয়ে বলছে বাবা গাঁজা খায়! সে লজ্জায় মারা যাচ্ছে!”

    টুনি জিজ্ঞেস করল, “মানুষটার বাবা কী করে? কত বয়স?”

    ছোটাচ্চু বলল, “অনেক বয়স—আশি-পঁচাশি হবে। এখন কিছু করে না। ইঞ্জিনিয়ার ছিল, এখন রিটায়ার করেছে।’

    “তোমাকে কী করতে হবে?”

    ছোটাচ্চু মুখ গম্ভীর করে বলল, “এইটা ইন্টারেস্টিং!”

    ইন্টারেস্টিং শুনে সবাই আরো কাছে এগিয়ে এলো। ছোটাচ্চু বলল, “বুড়ো মানুষটা ঘর থেকে বের হয় না, একেবারে নিজেদের লোক ছাড়া তার ঘরে কেউ ঢুকেও না কিন্তু তার পরেও কীভাবে কীভাবে জানি তার কাছে গাঁজার সাপ্লাই চলে আসছে। ঘরে গেলেই দেখা যাবে সিগারেটের ভেতর গাঁজা ঢুকিয়ে টেনে যাচ্ছে!”

    টুনি জিজ্ঞেস করল, “কয়তলা বাসা?”

    “ছয়তলা। বুড়োর জন্য ছয়তলায় আলাদা ছোট ঘর।”

    শান্ত হঠাৎ চিৎকার করে বলল, “ড্রোন! ড্রোন!”

    ছোটাচ্চু বলল, “বুড়োর ঘরের বাইরে সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে। কে যাচ্ছে কে আসছে সবসময় দেখা হয়। কোনোরকম সন্দেহজনক কিছু দেখা যায় নাই।”

    টুনি জিজ্ঞেস করল, “বুড়ো ইঞ্জিনিয়ার সময় কাটায় কী করে?”

    ছোটাচ্চু বলল, “বুড়ো মহা ক্রিয়েটিভ। খুব ভালো ইঞ্জিনিয়ার ছিল, অনেক টাকা কামাই করেছে। এই ছয়তলা বাসাটাও বুড়ো তৈরি করেছে। বউ মারা যাওয়ার পর একা। ঘরে বসে বসে লেখালেখি করে।”

    “লেখালেখি করে?”

    “হ্যাঁ।”

    “কী লেখালেখি করে?”

    “ডিটেকটিভ উপন্যাস।”

    “বই ছাপা হয়েছে?”

    ছোটাচ্চু মাথা নাড়ল, বলল, “নাহ! কে ছাপবে? উপন্যাসের নাকি কোনো মাথামুণ্ডু নাই। গাঁজা খেয়ে উপন্যাস লিখলে তার মাথামুণ্ডু থাকবে কেমন করে?”

    শান্ত গম্ভীর হয়ে বলল, “এইটা হচ্ছে লেখকদের সমস্যা। গাঁজা না খেলেও লেখা পড়ে মনে হয় গাঁজা খাওয়া উপন্যাস।”

    টুম্পা লেখকদের পক্ষে কথা বলার চেষ্টা করল, “সব লেখা গাঁজাখুরি না। ভালো ভালো লেখা আছে।”

    শান্ত আরো গম্ভীর হয়ে বলল, “লেখা ভালো হলে হতেও পারে কিন্তু লেখকদের অনেক সমস্যা। সবসময় বানিয়ে বানিয়ে, প্যাচিয়ে প্যাচিয়ে লেখে, তাই তাদের ব্রেনে গোলমাল হয়ে যায়।”

    ছোটাচ্চু নিজেই যেহেতু অনেক দিন থেকে একটা ডিটেকটিভ উপন্যাস লেখার চেষ্টা করছে তাই এবারে শান্তকে একটা ধমক দিলো, “তুই চুপ কর দেখি। কয়টা লেখককে জীবনে দেখেছিস যে এ রকম উল্টাপাল্টা কথা বলছিস?”

    আলাপের যেহেতু কোনো মাথামুণ্ডু নাই তাই টুনি সেটা অন্যদিকে নেওয়ার চেষ্টা করল, জিজ্ঞেস করল, “ছোটাচ্চু, তুমি কেসটা কেমন করে সলভ করবে?”

    ছোটাচ্চু মুখ বাঁকা করে বলল, “এইটা সলভ করা আবার কঠিন নাকি? একেবারে পানির মতো সোজা।”

    একজন জিজ্ঞেস করল, “কেন? কেন এইটা পানির মতো সোজা?”

    “বুঝতে পারছিস না? ছয়তলা একটা ঘরে এই বুড়ো ইঞ্জিনিয়ার থাকে, তাই যা কিছু হওয়ার সব এই ঘরের মাঝে হতে হবে। পাঁতি পাঁতি করে খুঁজলেই বের হয়ে যাবে।”

    “কিন্তু বাসার সবাই তো খুঁজেছে, কিছু তো পায় নাই।”

    ছোটাচ্চু হা হা করে হাসল। বলল, “বাসার সবাই খুঁজেছে সাধারণভাবে। আমি খুঁজব অসাধারণভাবে। তারা তো আর ডিটেকটিভ না, তাই ডিটেকটিভের চোখ দিয়ে খুঁজতে জানে না। আমরা খুঁজব প্রফেশনালদের মতো, খাঁটি ডিটেকটিভের মতন।”

    মুনিয়া বলল, “খাঁটি ডিকেটটিভরা কেমন করে খোঁজে? ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে?”

    ছোটাচ্চু মাথা নাড়ল, বলল, “যখন দরকার তখন ম্যাগনিফাইং গ্লাস, না-হয় মাইক্রোস্কোপ, না-হয় কেমিক্যাল অ্যানালাইসিস ফিল্ডে গেলে বোঝা যাবে কোন পদ্ধতি খুঁজতে হবে।”

    টুনি জিজ্ঞেস করল, “তুমি খুঁজতে যাবে?”

    “না, না! আমার যেতে হবে না। দুইজন ডিটেকটিভকে চাকরি দিয়েছি না? এটা হবে তাদের প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট।”

    টুনি ইতস্তত করে বলল, “কিন্তু তোমার বুড়ো ইঞ্জিনিয়ার কি তাদেরকে ঘরে খুঁজতে দিবে?”

    ছোটাচ্চু গম্ভীরভাবে মাথা নেড়ে বলল, “আমাকে কি এত বোকা পেয়েছিস? তার ছেলেকে বলেছি বুড়ো ইঞ্জিনিয়ারকে এক-দুই ঘণ্টার জন্য বাসা থেকে বাইরে নিতে, তখন আমার ডিটেকটিভ যাবে। বুড়োর ছেলে রাজি হয়েছে। বলেছে কালকে সকালে তার বাবাকে মেডিক্যাল চেকআপের জন্য নিয়ে যাবে। তখন আমার নূতন ডিটেকটিভ যাবে ঘর চেক করতে। আমি ভালো করে বুঝিয়ে দেবো কী করতে হবে।” ছোটাচ্চু মুখে লাখ টাকার একটা হাসি ফুটিয়ে একটা নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল, “আগামীকাল, একই জায়গায় একই সময় সবাইকে জানানো হবে কীভাবে একজন বুড়ো ইঞ্জিনিয়ার সবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে ড্রাগ সাপ্লাই চালিয়ে যাচ্ছে!”

    মুনিয়া বলল, “আর যদি বের করতে না পারো?”

    ছোটাচ্চু মুনিয়ার কথার উত্তর না দিয়ে মুখ বাঁকা করে হাসল।

    ***

    পরের দিন একই সময় একই জায়গায় বাসার সব বাচ্চা থাকলেও ছোটাচ্চুর কোনো দেখা নেই। যখন সবাই ছোটাচ্চুর সব আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছে তখন ছোটাচ্চুকে দেখা গেল। ছোটাচ্চুর তেজ যথেষ্ট কম, কেমন যেন মনমরা এবং অন্যমনস্কভাবে মাথার চুলে আঙুল ঢুকিয়ে সেগুলো টানছে। বোঝা গেল বেশ দুশ্চিন্তার মাঝে আছে।

    শান্ত জিজ্ঞেস করল, “ছোটাচ্চু! কীভাবে গাঁজা সাপ্লাই দেওয়া হয় বের করেছো?”

    ছোটাচ্চু প্রথমে না শোনার ভান করল, যখন শান্ত ঘ্যানঘ্যান করতে লাগল তখন ছোটাচ্চু বলল, “না-মানে-ইয়ে আসলে হয়েছে কী— যখন–তার মানে—” তারপর কথা বন্ধ করে চুল টানতে লাগল।

    মুনিয়া বলল, “তার মানে তোমার ডিটেকটিভ বের করতে পারে নাই। এখন কি তার চাকরি চলে যাবে?”

    “না। কারো চাকরি যাবে না। কেসটা যত সহজ ভেবেছিলাম তত সহজ না। বুড়োটা একটা সমস্যা।”

    “কেন সমস্যা?”

    “বুড়োটা হচ্ছে খিঁচখিঁচে বুড়ো। তার মেডিক্যাল চেকআপ শেষ করে ঘরে ঢুকেই বুঝে গেছে যে তার রুম সার্চ করা হয়েছে। তারপর যা একটা কাণ্ড করেছে সেটা বলার মতো না। খিঁচখিঁচে বুড়োর মাথায় বুদ্ধি ঠিকই আছে। কীভাবে কীভাবে জানি বুঝে গেছে আমি আমার ডিটেকটিভ পাঠিয়েছি।”

    “সত্যি বুঝে গেছে?”

    “হ্যাঁ।” ছোটাচ্চু কেমন জানি মনমরা হয়ে বলল, “কীভাবে কীভাবে জানি আমার নম্বর জোগাড় করেছে, তারপর আমাকে ফোন করে সে কী গালি!” ছোটাচ্চু কেমন জানি শিউরে উঠল!

    শান্ত চোখ বড় বড় করে বলল, “কী বলে গালি দিয়েছে?”

    ছোটাচ্চু দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “বলার মতো না। খিঁচখিঁচে বুড়োর মুখ বন্ধ করার কোনো উপায় নাই। যা-তা বলতে থাকে।”

    “সত্যি?”

    ছোটাচ্চু হতাশভাবে মাথা নেড়ে বলল, “সবচেয়ে ডেঞ্জারাস কি জানিস?”

    “কী?”

    “সেই খিঁচখিঁচে আমাকে বলে, সাহস থাকলে সামনাসামনি আস! আমি যখন নাই তখন চোরের মতো লুকিয়ে লুকিয়ে আমার ঘরে ঢুকতে লজ্জা করে না?”

    টুনি বলল, “তার মানে তোমাকে একটা চ্যালেঞ্জ দিয়েছে?”

    ছোটাচ্চু মাথা নাড়ল।

    টুনি জিজ্ঞেস করল, “আজকে তোমার ডিটেকটিভ খিঁচখিঁচে বুড়োর অফিসে কী করেছে?”

    বিছানা, “পুরো ঘর তন্নতন্ন করে দেখেছে। পুরো ঘর, বারান্দা, বাথরুম, টেবিল, বিছানার নিচে, টেবিলের নিচে—সবকিছুর ছবি তুলে এনেছে।”

    “ছবিগুলো দেখেছো?”

    “হ্যাঁ। সবাই মিলে ছবিগুলো দেখেছি, সন্দেহের কিছু পাওয়া যায় নাই।” টুনি খানিকক্ষণ ইতস্তত করে বলল, “তোমার কাছে ছবিগুলি আছে?” ছোটাচ্চু বলল, “কয়েকটা আছে।“

    তারপর তার স্মার্ট ফোনটা বের করে টুনির দিকে এগিয়ে দিলো। টুনি ছবিগুলো বের করে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে থাকে। হঠাৎ একটা ছবি দেখে সে থেমে যায়, ছবিটা ভালো করে লক্ষ করে জিজ্ঞেস করল, “এইটা কিসের ছবি?”

    ছোটাচ্চু ছবিটা এক নজর দেখল, তারপর বলল, “এই খিঁচখিঁচে বুড়ো তার ছয়তলার বারান্দায় টবে গাছ লাগিয়েছে। যখন লেখালেখি করে না, টেলিফোনে লোকজনকে গালাগালি করে না, তখন ছাদের টবে বাগান করে।“

    টুনি জিজ্ঞেস করল, “কিসের বাগান?”

    ছোটাচ্চু নিশ্বাস ফেলে বলল, “না, গাঁজা গাছের বাগান না। প্রথমেই সেইটা পরীক্ষা করা হয়েছে। নানা রকম ফুলের বাগান, লেবুর বাগান—“

    টুনি তার পরেও অনেকক্ষণ ছবিটা দেখল। তারপর অন্য ছবিগুলি দেখতে থাকে। খিঁচখিঁচে বুড়োর ডেস্কের একটা ছবি দেখে সে থেমে গেল। ডেস্কের ওপর তার লেখালেখির কাগজ, টেবিলে কলম, পেন্সিল, স্ট্যাপলার, স্কচ টেপ, ছোট একটা কাঁচি—এ রকম স্টেশনারি। কোনো একটা কারণে টুনি এই ছবিটাও খুব মনোযোগ দিয়ে দেখে ছোটাচ্চুকে তার স্মার্ট ফোনটা ফেরত দিলো। তার এখন ছোটাচ্চুর সাথে কথা বলা দরকার। কিন্তু অন্য বাচ্চাদের সামনে সে কথা বলতে চাইছে না।

    ছোটাচ্চু যখন শেষ পর্যন্ত দাদির ঘর থেকে উঠে নিজের ঘরে রওনা দিলো তখন টুনি তার পিছু পিছু গেল। ছোটাচ্চু ঘরে ঢুকে টুনির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, “কী হলো? কিছু বলবি?”

    টুনি মাথা নাড়ল। ছোটাচ্চু জিজ্ঞেস করল, “কী বলবি?”

    “তোমার খিঁচখিঁচে ইঞ্জিনিয়ার বুড়ো তোমাকে একটা চ্যালেঞ্জ দিয়েছে, তুমি সেই চ্যালেঞ্জটা নিবে না?”

    “কোন চ্যালেঞ্জটার কথা বলছিস?”

    “ওই যে সামানসামনি তার সাথে কথা বলা।”

    ছোটাচ্চু কেমন জানি শিউরে উঠল। বলল, “টেলিফোনেই আমার সাথে যে রকম ব্যবহার করেছে—সামনাসামনি গেলে মনে হয় কাঁচা খেয়ে ফেলবে।“

    টুনি গম্ভীর হয়ে বলল, “কিন্তু তোমাকে ওই খিঁচখিঁচে বুড়োর চ্যালেঞ্জটা নিতে হবে ছোটাচ্চু। যদি না নাও তাহলে তোমার আলটিমেট ডিটেকটিভ এজেন্সির মানসম্মান থাকবে না।”

    ছোটাচ্চু মাথা চুলকাল, বলল, “তুই তাই মনে করিস?”

    “হ্যাঁ। খিঁচখিঁচে বুড়োর সাথে তোমার সামনাসামনি কথা বলতে হবে।”

    “কিন্তু—” ছোটাচ্চু কথা শেষ না করে কেমন যেন ভয়ে ভয়ে টুনির দিকে তাকাল!

    টুনি বলল, “তোমার কোনো ভয় নাই ছোটাচ্চু। আমি থাকব তোমার সাথে।”

    ছোটাচ্চু চোখ কপালে তুলে বলল, “তুই কেন থাকবি? বড় মানুষের ব্যাপারে তুই বাচ্চা মানুষ কেন যাবি?”

    “আমি যদি থাকি তাহলে ওই খিঁচখিঁচে বুড়ো বেশি কিছু করার সাহস পাবে না।”

    “কেন?”

    “আমি ছোট। ছোটরা থাকলে বড়রা কন্ট্রোলে থাকে। তা ছাড়া—” টুনি হঠাৎ থেমে গেল।

    ছোটাচ্চু জিজ্ঞেস করল, “তা ছাড়া কী?”

    “তা ছাড়া আমি যেটা সন্দেহ করছি সেটা সত্যি কি না দেখে আসতে পারি।”

    ছোটাচ্চু চমকে উঠল, “তুই কী সন্দেহ করছিস? কেমন করে সন্দেহ করছিস?”

    “ছবি দেখে।”

    “ছবিতে কী দেখেছিস?”

    টুনি ইতস্তত করে মাথা নাড়ল, বলল, “আমি এখনও সিওর না ছোটাচ্চু। নিজের চোখে দেখলে বুঝতে পারব।“

    ছোটাচ্চু কিছুক্ষণ চোখ কটমট করে টুনির দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ফোঁস করে একটা নিশ্বাস ফেলল, তারপর ঘ্যাসঘ্যাস করে একটু গাল চুলকাল, তারপর বলল, “ঠিক আছে। কালকে বিকালে তোকে নিয়ে যাব। কিন্তু—”

    “কিন্তু কী?”

    “বেইজ্জতি যেন হতে না হয়।”

    “ছোটাচ্চু, আমি তোমার অ্যাসিস্ট্যান্ট মনে আছে? আমার জন্য তোমাকে কোনোদিন বেইজ্জতি হতে হবে না।”

    * * *

    দরজায় কলিংবেল টিপতেই ভিতরে একটা শব্দ হলো। কয়েক সেকেন্ড পর বড় সরকারি অফিসার মানুষটা নিজেই দরজা খুলে দিলো। মুখে জোর করে একটা হাসি ফুটিয়ে বলল, “আসুন, আসুন।” তারপর টুনির দিকে তাকিয়ে বলল, “আপনার ভাতিজি? সেদিন আপনার অফিসে একেই দেখেছিলাম না?”

    ছোটাচ্চু মাথা নাড়ল, বলল, “জি। মাঝে মাঝেই আমার বেবি সিটিং করতে হয়। সময় বাঁচানোর জন্য একে নিয়েই চলে এসেছি।“

    মানুষটি ইতস্তত করে দুর্বলভাবে বলল, “ও, আচ্ছা! আমার বাবার সামনে না পড়লেই হলো। বাবা ছোট বাচ্চাদের দুই চোখে দেখতে পারে না।”

    ছোটাচ্চু বলল, “সেটা নিয়ে আপনি চিন্তা করবেন না। টুনিকে আমি সামনে পড়তে দিবো না।”

    মানুষটি মাথা চুলকাল, “সেটা কতটুকু সম্ভব হবে আমি জানি না। আমার বাবার চোখ খুবই সাপ। কিছু চোখ এড়ায় না। সেদিন আপনার অ্যাসিস্ট্যান্ট চলে যাবার পর বাবা কিন্তু ঘরে ঢুকেই বুঝে গিয়েছে।

    ছোটাচ্চু একটা লম্বা নিশ্বাস ফেলে বলল, “জানি। আমাকেও ফোন করেছিলেন।”

    মানুষটি মুখ কাঁচুমাচু করে বলল, “আমি খুবই সরি। বাবার এত বয়স হয়েছে, তারপরেও মানুষের সম্মান রেখে কথা বলতে পারেন না। ফোনে আপনাকে নিশ্চয়ই অনেক খারাপ খারাপ কথা বলেছে।”

    ছোটাচ্চু বলল, “সেটা নিয়ে আপনাকে মাথা ঘামাতে হবে না। চলেন, আপনার বাবার সাথে কথা বলে আসি।”

    মানুষটি উঠে দাঁড়াল, বলল, “চলেন।”

    ছয়তলার ছাদটা বড় এবং খোলামেলা। রেলিংয়ের পাশে বড় বড় টব, সেখানে নানা রকম গাছ। বেশির ভাগই ফুল গাছ, সেখানে নানা রকম ফুল ফুটে আছে। টুনিকে স্বীকার করতেই হলো খিঁচুখিঁচে বুড়োর যত সমস্যাই হোক, বাগানের হাত ভালো। ছাদে চমৎকার একটা বাগান তৈরি করেছে। যে মানুষ এত সুন্দর করে বাগান তৈরি করতে পারে সে ছোট বাচ্চা পছন্দ করে না, সেটা কেমন করে সম্ভব?

    সরকারি অফিসার মানুষটি ছোটাচ্চুকে নিয়ে এক পাশে খিঁচখিঁচে বুড়োর ঘরের দিকে এগিয়ে যায়। টুনি তাদের সাথে গেল না, বাগানের গাছগুলো আরেকটু ভালো করে দেখার জন্য এগিয়ে গেল। টুনি দেখল মানুষটি ছোটাচ্চুকে নিয়ে তার বাবার ঘরে ঢুকেছে। টুনির ধারণা সত্যি হলে একটু পরই খিঁচখিঁচে বুড়োর চেঁচামেচি শুরু হবে।

    টুনি যখন বাগানটি ঘুরে ঘুরে দেখছে তখন হঠাৎ করে বুড়ো ইঞ্জিনিয়ারের ঘর থেকে ক্রুদ্ধ গলার স্বর শুনতে পেল। তার খুবই কৌতূহল হচ্ছিল মানুষটিকে এক নজর দেখার, কিন্তু এভাবে হঠাৎ করে যাওয়া ঠিক হবে কি না বুঝতে পারল না। ঠিক তখন একটা টবের কাছে সে একটা জিনিস পড়ে থাকতে দেখল, মনে মনে সে এটাই খুঁজছিল। টুনি মুচকি হেসে জিনিসটা তুলে নেয়, এবারে খিঁচখিঁচে বুড়োর ঘরে যেতে কোনো আপত্তি নেই। টুনি জিনিসটা মুঠিতে চেপে বুড়োর ঘরের দিকে এগুতে থাকে।

    দরজার কাছে গিয়ে টুনি থামল, শুনল ছোটাচ্চু কথা বলছে, গলার স্বর বেশ শান্ত। ছোটাচ্চু বলছে, “আপনি আমার ওপর রাগ করছেন সেটা আপনার সমস্যা আমার সমস্যা না। আপনার ছেলে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে আপনার ড্রাগের সাপ্লাই লাইন খুঁজে বের করতে—সে জন্য আমি এসেছি। আমি মোটেও তামাশা করতে আসি নাই, সিরিয়াস কাজে এসেছি, মাদক এই দেশে খুবই সিরিয়াস ব্যাপার—”

    টুনি এইবার খিঁচখিঁচে বুড়োর গলার স্বর শুনতে পেল, চিৎকার করে বলল, “আমি ড্রাগস খাই না রসগোল্লা খাই, তাতের তোমার বাপের কী? তোমার সাধ্য থাকলে বের করো।”

    সরকারি অফিসার মানুষটি বলল, “বাবা, তুমি এটা কী রকম ভাষায় কথা বলছো?”

    খিঁচখিঁচে বুড়ো বলল, “আমার মুখ দিয়ে আমি যে ভাষায় ইচ্ছা কথা বলব! নিজের বাপের বিরুদ্ধে টিকটিকি লাগাতে তোর লজ্জা করে না? দূর হ আমার সামনে থেকে। টিকটিকি নিয়ে দূর হ।”

    ছোটাচ্চু বলল, “শব্দটা টিকটিকি না। শব্দটা হচ্ছে ডিটেকটিভ।”

    বুড়ো চিৎকার করতে লাগল, “টিকটিকি টিকটিকি টিকটিকি….”

    টুনি ঠিক তখন দরজা খুলে মাথা ঢুকিয়ে বলল, “আসতে পারি?”

    বুড়ো চিৎকার থামিয়ে অবাক হয়ে টুনির দিকে তাকিয়ে রইল। টুনিও বুড়োর দিকে তাকিয়ে রইল। শুকনো কাঠির মতো একজন মানুষ। মাথায় এলোমেলো সাদা চুল। মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। চোখে চশমা, চশমার ভেতর দিয়ে দেখা যাচ্ছে লাল ক্রুদ্ধ চোখ। গাল ভাঙা এবং মুখ খুলতেই দেখা গেল মুখভরতি ধারালো হলুদ দাঁত। দাঁতের ফাঁকে একটা তোবড়ানো সিগারেট, যেটা নিশ্চয়ই গাঁজা দিয়ে তৈরি। খিঁচখিঁচে বুড়ো বললে যে রকম একজন মানুষের চেহারা ভেসে ওঠে মানুষটা হুবহু সে রকম।

    বুড়ো মানুষটি কয়েকবার চেষ্টা করে বলল, “তুমি কে?”

    টুনি ভিতরে ঢুকে গেল, বলল, “আমার নাম টুনি।”

    “তুমি কোন সাহসে আমার ঘরে ঢুকছো? বের হও।”

    টুনি ছোটাচ্চুকে দেখিয়ে বলল, “আমি ডিটেকটিভ শাহরিয়ারের সাথে এসেছি।” তারপর যে কাজটি আগে জীবনেও করেনি, সেটা করল, বলল, “আমি ডিটেকটিভ শাহরিয়ারের অ্যাসিস্ট্যান্ট।”

    বুড়ো মানুষটি এমনিতেই রেগে ছিল এবারে মনে হয় ছ্যাৎ করে জ্বলে উঠল, বলল, “মাইয়া, তুমি আমার সাথে রং-তামাশা করো? আমি তোমার রং-তামাশার মানুষ? ছেমড়ি তোমার নাকে টিপি দিলে দুধ বের হবে আর তুমি ডিটেকটিভের অ্যাসিস্ট্যান্ট। ডিটেকটিভ বানান করতে পারো?”

    টুনি ধৈর্য ধরে থাকল, বলল, “পারি।”

    বুড়ো মানুষটা এবারে আরো রেগে উঠল। তার ছেলের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলল, “তোর এত বড় সাহস, আমার ঘরে খালি টিকটিকি আনিস নাই, আউলাঝাউলা পোলাপান আনছস? আমি যদি তোদের গুষ্টি শেষ না করি—”

    খিঁচখিঁচে বুড়োর ছেলে কী করবে বুঝতে না পেরে দাঁড়িয়ে গেল, তখন টুনি বলল, “আমি চলে যাচ্ছি—আসলে আমি আপনাকে একটা জিনিস দিতে এসেছি।”

    বুড়া মানুষটা থতমত খেয়ে বলল, “কী জিনিস?”

    টুনি হাত খুলে ছোট একটা কাঁচি বের করল। খুবই ছোট কিন্তু খুব ধারালো কাঁচি। কাঁচিটা বুড়োর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, “এই যে আপনার কাঁচি। পরে খুঁজে না পেলে আপনার সমস্যা হয়ে যাবে।

    খিঁচখিঁচে বুড়ো থমথমে গলায় বলল, “কী সমস্যা?”

    “আপনার গাঁজার গাছগুলোতে নূতন পাতা বের হচ্ছে। সেগুলোর পাতাগুলো কেটে অন্য রকম করতে হবে না?”

    মনে হলো ঘরের মাঝে একটা বাজ পড়ল। টুনি হাসি হাসি মুখে বলল, “গাঁজার গাছে পাঁচটা করে চিকন পাতা বের হয়। আমি দেখলাম আপনি সব জায়গায় গোড়ার দুইটা করে পাতা কেটে রেখেছেন, এখন তিনটা করে পাতা, তাই চেনা যায় না।”

    খিঁচখিঁচে বুড়োর চোয়াল ঝুলে পড়ল, তার হলুদ দাঁতের ফাঁকে কালচে জিভ নড়তে থাকে। কিছু একটা বলার চেষ্টা করছে কিন্তু শব্দ বের হচ্ছে না।

    টুনি না দেখার ভান করে বলল, “আপনি অবশ্য কোনো রিস্ক নেন নাই। পাতার পাশে খাঁজকাটা অংশ কেটে সমান করেছেন, প্রত্যেকটা পাতার সাইজ ছোট করেছেন, পাতার ডিজাইনটা বদলে দিয়েছেন। আপনার নিশ্চয়ই অনেক সময়, এতগুলো পাতাকে ডিজাইন করতে সময় লাগে—”

    হঠাৎ করে খিঁচখিঁচে বুড়ো কেমন যেন বানরের মতো লাফ দিয়ে টুনির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার চেষ্টা করল। এক পাশ থেকে ছোটাচ্চু অন্য পাশ থেকে তার ছেলে বুড়োকে সময়মতো ধরে ফেলল বলে বুড়ো টুনিকে ধরতে পারল না। বুড়ো হিংস্র গলায় চিৎকার করতে লাগল, “খুন করে ফেলব, এই ছেমড়িকে খুন করে ফেলব, কল্লা ছিঁড়ে আলাদা করে ফেলব, জিভ টেনে ছিঁড়ে ফেলব—“

    টুনি একটু পিছিয়ে গিয়ে বলল, “আপনার বয়স হয়েছে, এখন এত উত্তেজিত হওয়া ঠিক হবে না। হার্টে প্রেশার পড়তে পারে—”

    ছোটাচ্চু বলল, “অনেক হয়েছে টুনি। এবারে তুই চুপ কর।”

    টুনি মুখে এগাল-ওগাল জোড়া হাসি দিয়ে চুপ করল।

    * * *

    রাত্রিবেলা সবাই বসে আছে তখন ছোটাচ্চু এসে ঢুকলল। তার হাতে বিশাল একটা কেক। বাচ্চাদের চিৎকারে পুরো বাসা কেঁপে ওঠে। তবে এই প্রথমবার চিৎকারটি কেকের জন্য নয়—চিৎকারটি খিঁচখিঁচে বুড়োর কী হয়েছে সেটা জানার জন্য। ছোটাচ্চু বসার পর সবাই তাকে ঘিরে ধরল, তাদের নানা রকম প্রশ্ন। টুনির কাছ থেকে আগেই তারা খবর পেয়ে গেছে, তারপর কী হয়েছে সেটা নিয়ে কৌতূহল। তাদের প্রশ্নগুলো এ রকম :

    “ছোটাচ্চু খিঁচখিঁচে বুড়োকে কি পুলিশে দিয়েছো?”

    “কয় বছর জেল হবে? নাকি ফাঁসি?“

    গাঁজার গাছগুলোর এখন কী হবে?”

    “একটা গাছ নিয়ে আসলে না কেন, তাহলে দেখতাম।”

    “ইয়াবার কি গাছ হয় ছোটাচ্চু?”

    “খিঁচখিঁচে বুড়োর ছবি আছে তোমার কাছে?”

    “টেলিভিশনের খবরে কি খিঁচখিঁচে বুড়োকে দেখাবে?”

    “টুনিকে ধরতে পারলে খিঁচখিঁচে বুড়ো কী করত?”

    ছোটাচ্চু যতটুকু সম্ভব প্রশ্নগুলোর উত্তর দিলো। তারপর পকেট থেকে একটা গাছের পাতা বের করে বলল, “এই যে তোদের দেখানোর জন্য একটা গাঁজার পাতা এনেছি।”

    “দেখি দেখি—” বলে সবাই দেখার জন্য ঝুঁকে পড়ল। দেখা শেষ হবার পর শান্ত বলল, “পাতাটা আমাকে দেবে ছোটাচ্চু?”

    সবাই তখন একসাথে চিৎকার করে উঠল, “না না না–কক্ষনো না— শান্তকে কক্ষনো না—”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleওগো টুনটুনি কীগো ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    Next Article আমি পরামানব – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }