Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিকল্প বিপ্লব : যে ভাবে দারিদ্র কমানো সম্ভব – অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়

    লেখক এক পাতা গল্প148 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩. স্বাস্থ্য

    বড় হাসপাতাল, নাকি বড় রাস্তা

    গোটা লন্ডন শহরের বাসিন্দাদের শরীর-স্বাস্থ্যের ভার তিন দশক ধরে যাঁর কাঁধে, তাঁর কাঁধ দুটি পাতলা, কোমরটি সরু, আর সটান পা দু’টি হাই-হিল জুতোয় চটপটে। হঠাৎ মনে হয়, সদ্য কলেজ-পেরনো তরুণী বুঝি। যে বিশাল ও জটিল ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের খরচে গোটা দেশের মানুষের চিকিৎসা হয়, তার অনেকটা ভার বয়েছেন এই তন্বী, তা বিশ্বাসই হতে চায় না। কেবল মুখের দিকে নজর করলে বোঝা যায়, ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস যতবার ঢেলে সাজা হয়েছে, ততবার এক একটি রেখা বুঝি আঁকা হয়েছে ওই মুখে। নয় বারের বার বিরক্ত হয়ে ৫৬ বছর বয়সে ইস্তফা দিয়েছেন ‘ডেম’ রুথ কারনেল। এখন নানা দেশে স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে পরামর্শ দেন। ‘সবার জন্য চিকিৎসা’ নিয়ে বলতে এসেছিলেন কলকাতায়। সবার জন্য ভাল চিকিৎসা কি সম্ভব? সরকারি পয়সায়? হোটেলের লবিতে বসে চিনি-ছাড়া কফিতে চুমুক দিয়ে রুথ বললেন, ‘বেজায় বড়লোক ছাড়া ব্রিটেনে সকলেই কিন্তু সরকারি ব্যবস্থাতেই চিকিৎসা করায়। আমার পরিবারকে উচ্চবিত্ত বলতে পারেন। আমাদেরও বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা নেই, এনএইচএস ভরসা।’ একটু থেমে বললেন, ‘আসলে চিকিৎসায় কতটা উপকার হবে, সেটা ধনী কি গরিব, তার উপর অতটা নির্ভর করে না। করে হাসপাতাল কেমন, তার উপর। ধরুন কারও স্ট্রোক হল। যেখানে স্ট্রোকের স্পেশালাইজড কেয়ার রয়েছে, সেখানে গেলে তার দ্রুত, যথাযথ চিকিৎসা হবে। পাড়ার ছোট হাসপাতালে তা সম্ভব নয়।’

    মনে হয়, এ আর কে না জানে। কিন্তু এই কথাটাকেই স্বাস্থ্যনীতির মূল কথা করতে ঢের লড়াই করতে হয়েছে রুথকে। লড়াই রাজনীতির নেতাদের সঙ্গে, ডাক্তারদের সঙ্গে, আমজনতার সঙ্গেও। ‘সবাই চান, বাড়ির কাছের হাসপাতালে সব চিকিৎসা যেন পাওয়া যায়। আসলে তার মানে দাঁড়ায়, সেরা চিকিৎসা না পাওয়া।’ স্ট্রোকের চিকিৎসারই উদাহরণ দিলেন রুথ। পাড়ার হাসপাতালগুলোতে স্ট্রোক চিকিৎসার বিশেষ ইউনিটগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে লন্ডনের লোকে বিরক্ত। তাঁদের বোঝানো যাচ্ছে না, স্ট্রোকের চিকিৎসা কেন্দ্রিকরণ করলে ফল হয় অনেক ভাল।

    কেমন সেই ব্যবস্থা?

    শহরের আটটি হাসপাতালে ‘হাইপার অ্যাকিউট স্ট্রোক ইউনিট’ তৈরি করে, ৯৯৯ ডায়াল করলেই সেখানে রোগী নিয়ে যাওয়ার নিয়ম তৈরি করেছেন রুথ। যেতে লাগে বড়জোর ৪০ মিনিট। তিন দিন পর স্থানীয় হাসপাতালে ফিরিয়ে দেওয়া হয় রোগীকে। ‘এই ব্যবস্থায় স্ট্রোকে মৃত্যুহার কমেছে ২৫ শতাংশ, টাকাও বেঁচেছে। ব্রিটেনের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় লন্ডনে ২০ মিলিয়ন পাউন্ড কম খরচ হয়।’

    শুনতে শুনতে মনে পড়ছিল স্বাস্থ্য ভবনের এক কর্তার কথা। হাসপাতালে প্রসব বাড়ছে অথচ মায়ের মৃত্যু কমছে না কেন, প্রশ্ন করাতে তিনি বলেছিলেন, ‘তাকিয়ে দেখুন কলকাতা থেকে বারাসত যাওয়ার রাস্তাটার দিকে। প্রতি দু-আড়াই কিলোমিটার অন্তর একটা হাসপাতাল, প্রতিটিতে দু’-তিনজন গাইনোকলজিস্ট, এক-দু’জন অ্যানেস্থেটিস্ট। জেনারাল ডিউটি মেডিক্যাল অফিসার না থাকায় এই ডাক্তারদের সব রকম রোগী দেখতে হয়। ফলে কোনও হাসপাতালেই ২৪ ঘণ্টা সিজারিয়ান হয় না।’ এলাকার কোনও একটি হাসপাতালে যথেষ্ট বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রাখা হলে কলকাতায় রেফার করার হাঙ্গামা, বিলম্বের জন্য মৃত্যু এড়ানো যেত না কি?

    সে-প্রশ্নটা তোলাই হয় না, কারণ প্রতিটি সাংসদ, বিধায়ক, পুরপিতা তাঁর নিজের এলাকার হাসপাতালে ‘সিজার’ চালু করবেনই করবেন। ওদের আছে, আমাদের নেই কেন, এই হল যুক্তি। স্বাস্থ্য বাজেট পেশ করার দিনে বিধানসভায় সেই একই দৃশ্য দেখা যায়। কেন মহকুমা হাসপাতালে এমআরআই হবে না, কেন কার্ডিয়াক সার্জারি হবে না স্টেট জেনারেল হাসপাতালে, তাই নিয়ে শোরগোল চলে। সব হাসপাতালে সব পরিষেবা চালু করা সম্ভব কি না, করা উচিত কি না, তা নিয়ে চিন্তা করে কে?

    গণস্বাস্থ্যের নীতিতে জনমতকে কতটা পাত্তা দেওয়া উচিত, তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদরাও। অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সহযোগীরা দেখিয়েছেন, নানা দেশে গরিব মানুষ সাধ্যাতিরিক্ত খরচে চিকিৎসা করান, কিন্তু টিকাকরণ, পরিশোধিত জল খাওয়া কিংবা মশারি টাঙানোর জন্য সামান্য খরচ করেন না। রোগ প্রতিরোধের বরাদ্দ কাজে না লাগিয়ে জনমত যদি ক্রমাগত আরও সস্তায় আরও ভাল চিকিৎসা চায়, সেই দাবিকে কতটা প্রশ্রয় দেওয়া চলে? জিষ্ণু দাশ দেখিয়েছেন, গ্রামের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এমবিবিএস ডাক্তারের চিকিৎসার মান হাতুড়েদের চিকিৎসার চাইতে উঁচু দরের নয়। আরও, আরও বেশি পাশ-করা ডাক্তারকে গ্রামে পাঠালে গণস্বাস্থ্যের উন্নতি হবে, এই কথা মানলে কেবল অপচয় বাড়বে, অসুখ কমবে না।

    এ কথাগুলো নেতারাও বোঝেন, বললেন রুথ। ‘আমার সবচেয়ে বিরক্ত লাগে যখন নেতাদের দেখি একান্তে বলছেন, “আমার পরিবারের জন্য এমন চিকিৎসাই চাই, কিন্তু বাইরে তো আর বলতে পারি না।” কেন পারেন না? কী করলে কম খরচে বেশি রোগী নিরাময় হন, সে-বিষয়ে হাতেকলমে যা জানা গিয়েছে তা সবাইকে বোঝানোর কাজটা তো নেতাদেরই।’ আরও অনেক বড় হাসপাতাল তৈরি করার চাইতে ৯৯৯ ডায়াল করে যে-পরিষেবা পাওয়া যায় তাকে উন্নত করলে, ছোট হাসপাতালগুলোর ইমার্জেন্সি বিভাগকে উন্নত করলে উপকার হবে অনেক বেশি, তা কে বোঝাবে ব্রিটেনের আম-ভোটারকে?

    কে-ই বা বোঝাবে বাংলার নাগরিককে? কল্পচক্ষে দেখার চেষ্টা করুন, বিধানসভায় নেতারা তর্ক করছেন, কী করে নবজাতকের মৃত্যু কমানো যায়। মহকুমা কি ব্লক স্তরে নবজাতক ইউনিট তৈরি করে তার যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষিত ডাক্তার-নার্স জোগান দেওয়ার জন্য বিপুল খরচ (গত এপ্রিল মাসে সরকার ১৬১ জন শিশুবিশেষজ্ঞ চেয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছিল কেবল সিক নিওনেটাল কেয়ার ইউনিটগুলোর জন্য) করাই কি উচিত? নাকি নিচুতলার স্বাস্থ্য কর্মীদের দিয়ে মায়ের অপুষ্টি কমালে শিশুমৃত্যু দ্রুত কমত? না, বহু চিন্তা করেও ২৯৫টা মুখের মধ্যে থেকে একটা মুখ ভাবা গেল না যিনি বলবেন, আমার এলাকার হাসপাতালে এসএনসিইউ খোলার দরকার নেই, ভাল হাসপাতালে পৌঁছনোর রাস্তা আরও ভাল করুন।

    নেতারা সব দেশেই সমান। ‘টপ-ডাউন প্ল্যানিং হঠিয়ে রোগীকে বেশি “চয়েস” দেওয়া, চিকিৎসাব্যবস্থার বিকেন্দ্রিকরণ, এই বদলগুলো আনা হচ্ছে এনএইচএস-এ। শুনতে ভাল লাগে, কিন্তু ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর কাছে “চয়েস” বড় কথা নয়। বড় কথা দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং দ্রুত রেফারাল,’ বললেন রুথ। নতুন ব্যবস্থা মানতে না-পেরে চাকরি ছেড়েছেন তিনি।

    এ রাজ্যে স্বাস্থ্যকর্তা, ডাক্তার, ফিল্ডকর্মীরা চাকরি ছেড়ে দেন না, তবে গা ছেড়ে দেন। যতই কাজ করো, কাজের কাজ হবে না, তা মনে মনে জেনে নিষ্প্রাণ, নিরর্থক কাজ করে যান। প্রকল্পের উদ্দেশ্য কী ছিল, আর ফল কী হল, তার কোনও মূল্যায়নও হয় না, কারও জবাবদিহিও চাওয়া হয় না। কেউ প্রশ্ন করতে গেলে উলটে ধমক খান— যা বলা হয়েছে করুন, অত জানার কী দরকার? শেষে শিশুমৃত্যু, প্রসূতিমৃত্যু, ম্যালেরিয়া বা ডেঙ্গিতে মৃত্যু নিয়ে ফের প্রবল হইচই হলে নতুন একখানা প্রকল্প ঘোষণা হয়। উপরের চেয়ারে বসানো হয় নতুন লোক। ওতেই ভোট পাওয়া যায়।

    কিন্তু নবজাতক, প্রসূতি বা স্ট্রোক-আক্রান্তের প্রাণ বাঁচানো যায় না। সীমিত টাকায় কী করে সেরা ফল দেওয়া যায় সর্বাধিক রোগীকে, সেটা জনমত ঠিক করতে পারে না। নেতা-নেত্রী কিংবা তাঁদের চামচে ডাক্তাররাও নয়। তার জন্য চাই সমীক্ষা-নিষ্কাশিত, পরীক্ষাসিদ্ধ বৈজ্ঞানিক স্বাস্থ্যনীতি। আর চাই বুকের পাটা। জনমতের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েও জনস্বার্থে কাজ করে যাওয়ার সাহস।

    স্বাতী ভট্টাচার্য, আনন্দবাজার পত্রিকা, ৬ জুন ২০১৩

    ফ্রি পেতে গেলে কত দিতে হয়?

    কোথাও একটা ভুল হচ্ছে। নইলে অনাদীশ বাগদিকে সাত দিনে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা কেন খরচ করতে হল সরকারি হাসপাতালে? বছর পঁয়ষট্টির এই চাষি বিপিএল কার্ড দেখিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন সিউড়ি জেলা হাসপাতালে, মস্তিষ্কে স্ট্রোক নিয়ে। ১০ জানুয়ারি। অ্যাম্বুল্যান্স না পাওয়ায় ৫০০ টাকায় গাড়ি ভাড়া থেকে শুরু। তার পর স্যালাইন, ওষুধ, ইঞ্জেকশন, খরচ বেড়েই চলেছে। তবু বহু অনুরোধে বর্ধমানে রেফার করা আটকেছেন তাঁর ছেলে। আরও খরচ টানতে পারতেন না তাঁরা। লিভারের অসুখে আক্রান্ত অবনী সিংহের দশা আরও খারাপ। পনেরো দিনে প্রায় ১৪ হাজার টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে তাঁর, ওই সিউড়ি হাসপাতালেই।

    অসুখ জটিল বলেই কি খরচ করতে হচ্ছে? তা-ও মনে হয় না। দশ মাসের প্রিয়ম সাহা কোচবিহার জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয় ৫ জানুয়ারি, নেহাতই ডায়ারিয়া নিয়ে। দু’দিন ভর্তি থাকে ওই শিশু। স্যালাইন, ওষুধ মিলিয়ে চারশো টাকা খরচ করতে হয়েছে পরিবারকে।

    এরা সকলেই দরিদ্র, সকলেই ভর্তি হয়েছিল সরকারি হাসপাতালের ফ্রি বেডে। তবু যে এমন খরচ, সে কি বিচ্ছিন্ন ঘটনা? গবেষণা তা বলছে না। অর্থনীতির শিক্ষক অরিজিতা দত্ত ও দিল্লির এক গবেষণা সংস্থার গবেষক মন্টু বসু তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ কেমন, তা খতিয়ে দেখেছেন। জাতীয় নমুনা সমীক্ষার তথ্য থেকে তাঁরা বলছেন, এ রাজ্যে গ্রামের সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলে রোগীরা ওষুধের জন্য গড়ে খরচ করেন সাড়ে তিনশো টাকা। আর মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য প্রায় ৬০০ টাকা। সেখানে তামিলনাড়ুর গ্রামে ওষুধের গড় খরচ— প্রায় অবিশ্বাস্য— চার টাকারও কম। আর মেডিক্যাল পরীক্ষার খরচ ২২ টাকা ৩৫ পয়সা। এ হিসেবও হল সব রকম সংগতির রোগীর জন্য। কেবল গরিব রোগীর কথা ধরলে (মাসিক ব্যয়ের নিরিখে চারটি ভাগ করলে, ‘গরিব’ হল সবচেয়ে নীচের এক-চতুর্থাংশ) তামিলনাড়ুতে গ্রাম কিংবা শহরে বাস্তবিক ওষুধের জন্য একটি টাকাও খরচ হয় না।

    সেখানে পশ্চিমবঙ্গের গ্রামে গরিবের ওষুধের খরচ ৩০২ টাকা, আর শহরে ১৯১ টাকা।

    তা হলে কি ‘ফ্রি’ কথাটার মানে বুঝতেই পশ্চিমবঙ্গে ভুল হচ্ছে? তামিলনাড়ুতে ফ্রি চিকিৎসা মানে ওষুধ, টেস্ট, রক্ত, স্যালাইন সব ফ্রি, আর এ রাজ্যে ফ্রি চিকিৎসা মানে কেবল বেডটাই ফ্রি, সঙ্গে বড়জোর স্যালাইন আর দু’-চারটে ওষুধ-ইঞ্জেকশন?

    এই গবেষণার পরিসংখ্যান অবশ্য কিছু পুরনো, ২০০৪ সালের জাতীয় নমুনা সমীক্ষা থেকে নেওয়া। তার পরে সরকার চিকিৎসার খরচ কমানোর একটি উদ্যোগ নিয়েছে। তা হল ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকান। অনাদীশ বাগদি তাঁর কিছু ওষুধ সিউড়ি হাসপাতালের ন্যায্যমূল্যের দোকান থেকে কিনেছিলেন। না হলে তাঁর খরচ আরও খানিকটা বেশি হত, সন্দেহ নেই। কিন্তু বিনা পয়সায় হত না, সেটা নিশ্চিত। নানা সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলে আন্দাজ করা গেল, এখন ফ্রি বেডের রোগীদের জন্য জরায়ু বাদ (হিস্টরেকটমি) দেওয়ার খরচ চার-পাঁচ হাজার টাকা, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত (হেমাচুরিয়া) চিকিৎসার খরচ সাত থেকে দশ হাজার, রেডিয়োথেরাপির কোর্স সম্পূর্ণ করতে লাগে ২৫-৩০ হাজার। এর মধ্যে ওষুধ-ইঞ্জেকশন, ব্যান্ডেজ, স্যালাইন, রক্ত, মেডিক্যাল টেস্টের খরচ আছে, বাড়তি থাকতে পারে আয়ার খরচ, কারণ দু’জন নার্স প্রায়ই দেড়শো রোগীর ওয়ার্ড সামলান। সরকারি কর্তাদের যুক্তি, এ সব চিকিৎসা বাইরে করাতে গেলে পাঁচ-দশগুণ বেশি খরচ হত। সরকারি হাসপাতাল বলেই এত কমে মিলছে। কিন্তু ডিসকাউন্ট মধ্যবিত্তের কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে, গরিবের কাছে হবে কেন? তার তো শূন্য খরচে পাওয়ার কথা ছিল। যেমন তামিলনাড়ুর গরিবরা পান। যে উদ্দেশ্যে গরিবের জন্য ভর্তুকি দেওয়া, সে যাতে খরচের ভয়ে চিকিৎসা এড়িয়ে না যায়, চিকিৎসা করাতে গিয়ে ঋণে ডুবে না যায়, ৫০ শতাংশ ডিসকাউন্ট দিলেও সে-উদ্দেশ্য ১০০ শতাংশ ব্যর্থ হচ্ছে। মধ্যবিত্তের জন্য যা মন্দের ভাল, গরিবের জন্য তা পুরোই মন্দ।

    এই ভুলটা স্পষ্ট হচ্ছে না, কারণ সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের খরচের তুলনা করা হচ্ছে। এটা স্পষ্ট হবে যখন এক রাজ্যের সঙ্গে অন্য রাজ্যের সরকারি চিকিৎসার তুলনা করা হবে। কেন এ রাজ্যের হাসপাতালে ভর্তি গরিব রোগীদের ৫৮ শতাংশ ওষুধ পায়, তামিলনাড়ুতে ৯৮ শতাংশ? আমাদের ৫৪ শতাংশ রোগী হাসপাতাল থেকে মেডিক্যাল টেস্ট করান, আর ওদের ৮৮ শতাংশ? অথচ সেই ২০০৪ সালেও তামিলনাড়ুর ৯৭ শতাংশ সরকারি বেড ফ্রি ছিল। এ রাজ্যে তখন ফ্রি বেড মাত্র ৫৮ শতাংশ।

    এখন অবশ্য জেলায় সব বেড ফ্রি। গত অক্টোবর মাসে তেমনই ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাতে হাসব, না কাঁদব? অরিজিতা এবং মন্টুর গবেষণা দেখাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে গরিব রোগীদের ৮০ শতাংশই ভর্তি হন সরকারি হাসপাতালে, কিন্তু হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ সুযোগসুবিধের ২২-২৫ শতাংশ জোটে তাঁদের। উচ্চ মধ্যবিত্ত ও ধনী, দুই শ্রেণি মিলে পাচ্ছে ভর্তুকির ৪৪-৪৫ শতাংশ সুযোগ। এই অনুপাত যদি না বদলায়, তা হলে ফ্রি বেড বাড়লে গরিবের চাইতে বিত্তবানের জন্য ঢের বেশি খরচ হবে সরকারের। গরিবের উপকার করতে চাইলে হয়তো ফ্রি বেডের সংখ্যা কমিয়ে, সেই সব বেডের রোগীদের জন্য ওষুধ, টেস্ট-এর ব্যবস্থা বাস্তবিক ফ্রি করা বেশি দরকার ছিল।

    এমন গরিব-উপযোগী ব্যবস্থা যে নেওয়া হচ্ছে না, তা কি কেবলই গরিবের শেষ সম্বলটাও কেড়ে নেওয়ার কোনও গভীর ষড়যন্ত্রের জন্য? তা হয়তো নয়। দেখেশুনে মনে হচ্ছে, গরিবকে সুবিধে না-দেওয়াতে নানা লোকের নানা ছোট ছোট সুবিধে তৈরি হয়ে আছে। যে-দালাল দুশো টাকায় জোগাড় করেন বিপিএল সার্টিফিকেট, যে-কাউন্সিলর, বিধায়ক কলমের আঁচড়ে (বা ফোনের ধমকে) পেয়িং বেডকে ফ্রি করে প্রভাব দেখান, তাঁরা গরিবের মন্দ চান না। ডাক্তারও গরিব-বিদ্বেষী নন। কিন্তু সব বেড ফ্রি হলে তাঁর সুবিধে, এক বিভাগে রোগী উপচে পড়লে সহজেই অন্য বিভাগের বেড নিতে পারবেন। অ-গরিব রোগীর আত্মীয়দের সুবিধে, বেড ফ্রি হলে খরচ কমে, হ্যাপাও কমে। পেয়িং বেড হলে রোগীর তরফে কাউকে সারাক্ষণ হাজির থাকতে হবে, স্লিপ দিলেই ওষুধ, ইঞ্জেকশন, গজ-ব্যান্ডেজ জোগাতে হবে। হাসপাতাল থেকে এগুলো দিয়ে পরে দাম নেওয়ার নিয়ম নেই। তা ছাড়া, ‘সরকারি হাসপাতালে এসেছি, ফ্রি পাব না কেন,’ এই মনোভাবটাও কাজ করে। এত লোকের এত সুবিধের চাপে এমনিতেই পেয়িং বেডের সংখ্যা কমছিল। স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা জানিয়েছেন, গত বছর জেলা স্তর পর্যন্ত হাসপাতালে পেয়িং বেড ছিল বড়জোর ১০-২৫ শতাংশ। এবার সেটুকুও ফ্রি হয়ে গেল। তাতে ঝামেলা কমল ঠিকই, কিন্তু বেড ফ্রি করার সুবিধে কে পাচ্ছে, কে দেখতে যাচ্ছে?

    এ কেবল স্বাস্থ্যের ছবি নয়। স্কুলশিক্ষাতেও ছবিটা কাছাকাছি। সম্প্রতি এ নিয়ে প্রকাশিত ‘অসর ২০১৪’ সমীক্ষায় প্রকাশ, এ রাজ্যে সরকারি স্কুলের প্রাথমিকে অর্ধেকেরও বেশি পড়ুয়া, উচ্চ প্রাথমিকে ৭৬ শতাংশ পড়ুয়া প্রাইভেট টিউশন নিচ্ছে। সেখানে তামিলনাড়ুতে দেখা যাচ্ছে, সরকারি স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যে টিউশন নেওয়ার অনুপাত ৬-৭ শতাংশ। এবং, এ রাজ্যে টিউশন ফি সে-রাজ্যের চাইতে বেশি। খরচ বেশি করে বাড়তি লাভ কী হচ্ছে? মাতৃভাষায় রিডিং পড়তে পারার ক্ষেত্রে গ্রামের পড়ুয়ারা এ রাজ্যে একটু এগিয়ে, কিন্তু অঙ্কে ওরা গোড়ায় পিছিয়ে থাকলেও পরে এগিয়ে যাচ্ছে। ইংরেজিতে আবার আগাগোড়াই ওরা এগিয়ে। সবচেয়ে চিন্তার বিষয়, ইস্কুলে আমাদের পড়ুয়ারা যাচ্ছেই কম। সমীক্ষার দিন মাত্র ৫৬ শতাংশ পড়ুয়াকে ক্লাসে দেখা গিয়েছে। তামিলনাড়ুতে ক্লাসে ছিল ৮৭-৮৯ শতাংশ পড়ুয়া। এ থেকে ইঙ্গিত মেলে, যে-কোনও কারণেই হোক, এ রাজ্যে শিক্ষকদের কাছে ক্লাসে না-পড়ানোর সুবিধেটা বড় হয়ে উঠছে। ছাত্রের কাছেও টিউশনে গিয়ে পড়া বোঝা বেশি সুবিধেজনক মনে হচ্ছে।

    এর ফলে অসুবিধেয় পড়ছে গরিব। যে-সম্পদ গরিবের জন্য বরাদ্দ, সে ওষুধপত্রই হোক আর মানবসম্পদ (শিক্ষক, ডাক্তার) হোক, গরিব তা পাচ্ছে না, কিংবা সামান্যই পাচ্ছে। কিন্তু গরিবের না-পাওয়া, আর তার ফলে সরকারের অপচয়ের হিসেবটা কষার চাড় নেই কারও। নেতারা আরও ফ্রি পণ্য, ফ্রি পরিষেবা ঘোষণা করতে চান। বিরোধীরা চেঁচান, অত দেবে বলেছিলে, দিলে মোটে এত! মিডিয়া খোঁজে, অত দিতে গিয়ে কত কার পকেটে গেল। শিক্ষিত মধ্যবিত্ত গরিবকে ফ্রি পরিষেবা দেওয়ার চাকরির বিজ্ঞাপন খোঁজে। অনাদীশ বাগদিদের কী হল, কতটুকু পেল তারা, খোঁজ করতে ভুল হয়ে যায়।

    স্বাতী ভট্টাচার্য, আনন্দবাজার পত্রিকা, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

    এখানে সস্তায় জরায়ু বাদ দেওয়া হয়

    গরিবের জন্য খরচ হচ্ছে অঢেল। কিন্তু সে-টাকা গরিবের কাজে লাগছে কি? প্রশ্নটা ফের উসকে দিচ্ছে গরিবের স্বাস্থ্যবিমা। গরিব যাতে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত না হয়, তার জন্য বছর বছর স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম (পাঁচ জনের পরিবার-পিছু ৭৫০ টাকা) মেটাচ্ছে সরকার। বছর সাতেক আগে ‘রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’ শুরু হওয়ায় এখন সরকারি বা বেসরকারি, যে-কোনও হাসপাতালে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা বিনা খরচে করাতে পারে গরিবরা। কিন্তু বিমার সুবিধে নিয়ে হাসপাতালে যেসব চিকিৎসা হচ্ছে, তার নকশাটা সন্দেহজনক। অ্যাপেনডিক্স, গল-ব্লাডার, ছানি কাটার যত কেস দেখা যাচ্ছে, তার তুলনায় ম্যালেরিয়া বা ডায়েরিয়া অনেক কম। রোগীর চাহিদার চেনা নকশার সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমায় চিকিৎসা জোগানের নকশার কোনও মিল পাওয়া যাচ্ছে না।

    এমনই ছবি উঠে এসেছে বীরভূম থেকে, পরপর দু’বছরের তথ্য তুলনা করে। ২০১২ সালে চারটি ব্লকে বারো হাজারেরও বেশি বাড়িতে সমীক্ষা করে দেখা হয়েছিল, কতজন কী কী কারণে গত এক বছরে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তার পরের বছর (২০১৩) ওই বাড়িগুলির মধ্যেই ১৫০টিতে গিয়ে ফের দেখা হয়েছিল, রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যবিমা যোজনা যাঁদের রয়েছে, তাঁরা কী কী কারণে ভর্তি ছিলেন হাসপাতালে। এই দুইয়ের নকশায় বিস্তর ফারাক উঠে আসে। সেই নকশা সম্প্রতি তুলে ধরলেন দুই গবেষক, দিল্লির ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট-এর সুমিত মজুমদার এবং পশ্চিমবঙ্গের সোসাইটি ফর হেলথ অ্যান্ড ডেমোগ্র্যাফিক সার্ভেইলন্স-এর অনমিত্র বারিক। ‘জনস্বাস্থ্য এবং সরকারি নীতি’ নিয়ে ‘ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ কলকাতা’-য় (আইডিএসকে) দু’দিনের আলোচনায় তাঁরা পেশ করেন এই গবেষণা।

    কী দেখছেন গবেষকরা? স্বাস্থ্যবিমার কার্ডে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, এমন চারশোরও বেশি রোগীর বিশ্লেষণ করে তাঁরা দেখছেন, নব্বই শতাংশ রোগীই ভর্তি হয়েছেন অস্ত্রোপচারের জন্য। অস্ত্রোপচারগুলির মধ্যে প্রধান হল ছানি কাটা, আর তারপরেই মেয়েদের জরায়ু কেটে বাদ দেওয়া (হিস্টরেকটমি)। আরও চিন্তার বিষয়, যে সাতান্ন জন মহিলার জরায়ু কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের আঠারো জনেরই (৩১ শতাংশ) বয়স চল্লিশের নীচে। ডাক্তাররা পঞ্চাশ বছর বয়স পর্যন্ত সহজে জরায়ু কেটে বাদ দিতে চান না। ছানি কাটার ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে, দশ জনে এক জনের বয়স পঞ্চাশের নীচে। অন্য যে প্রধান অস্ত্রোপচার, সেগুলো যথাক্রমে গল-ব্লাডার বাদ দেওয়া, হার্নিয়া-হাইড্রোসিল, অর্শ এবং অ্যাপেনডিক্স। প্রসঙ্গত, জরায়ু, অ্যাপেনডিক্স, আর গল-ব্লাডার, এই প্রত্যঙ্গগুলিকে ‘বাদযোগ্য’ বলা হয় চিকিৎসাশাস্ত্রে। অর্থাৎ এগুলোকে বাদ দিলে স্বাস্থ্যের খুব বড় ক্ষতি কিছু হয় না। গরিবের স্বাস্থ্যবিমা আসায় এই তিনটিকেই বাদ দেওয়া জরুরি হয়ে উঠছে।

    অথচ খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না আগের রোগগুলোর। ২০১২ সালে যে সব অসুস্থতার কারণে লোকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, তার মধ্যে প্রধান ছিল জ্বর, টাইফয়েড, পেটের অসুখ, ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়া। কেবল বীরভূমের সমীক্ষাতেই নয়, গোটা দেশেই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রধান কারণ নানা ধরনের সংক্রমণ, শ্বাসকষ্ট, রক্তসঞ্চালনে সমস্যা, দুর্ঘটনা বা হিংসাজনিত আঘাত। নানা বছরের জাতীয় নমুনা সমীক্ষার ফল থেকে এই তথ্য উঠে এসেছে। কিন্তু বিমার স্মার্টকার্ডে এগুলোর প্রায় দেখাই মিলছে না। ‘তার মানে, এগুলোর জন্য ভরসা সেই সরকারি হাসপাতালের, নইলে হাতুড়ের,’ বলছেন সুমিতবাবু।

    রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরও রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যবিমা যোজনার পরিসংখ্যানের প্রাথমিক বিশ্লেষণ করেছে। দেখা যাচ্ছে, অস্ত্রোপচারই নব্বই শতাংশ, জরায়ু বাদ দেওয়ার সংখ্যা অত্যধিক, যে সব ভাঙা হাড় প্লাস্টার করলে সেরে যেত তারও অস্ত্রোপচার হচ্ছে। ‘ইঙ্গিত উদ্বেগজনক,’ বলেন দফতরের এক কর্তা।

    এত অস্ত্রোপচার কেন? মেদিনীপুর শহরের ২০ শয্যার একটি নার্সিংহোমের মালিকের উত্তর, ‘আমাদের বেড অল্প, ইমার্জেন্সি নেই। জ্বরজারি কেস ভর্তি করা যায় না।’ উলুবেড়িয়ার একটি হাসপাতালের মালিক অবশ্য আরও সোজাসাপটা, ‘ম্যালেরিয়া, ডায়েরিয়ার জন্য বিমা কোম্পানি যা টাকা দেয়, তাতে ওষুধের দাম উঠবে না। তার ওপর টিপিএ বারবার প্রশ্ন করবে, কেন ভর্তি করলেন? আউটডোরেই চিকিৎসা করলেন না কেন?’ পেট খারাপ, জ্বরের জন্য হাসপাতালের পাওনা স্রেফ বেড চার্জ। পড়তায় পোষায় না।

    ওই দুই হাসপাতালেই জরায়ু বাদ দেওয়া স্বাস্থ্যবিমার কার্ডে একটি প্রধান অস্ত্রোপচার। মেদিনীপুরের ডাক্তারবাবুর বক্তব্য, বিমা কোম্পানি তো ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্ট দেখেই অনুমতি দিচ্ছে, তা হলে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের অভিযোগ ওঠে কী করে? হাওড়ার ডাক্তারবাবু অবশ্য স্পষ্টই বলে দিলেন, অতিরিক্ত ঋতুস্রাব বা শ্বেতস্রাবের চিকিৎসা অন্য ভাবেও করা যায়। তবে অনেক সময়ে রোগীর তরফ থেকেও ‘ঝামেলা শেষ’ করার চাপ থাকে। সে ক্ষেত্রে ঝুঁকিগুলির বিষয়ে না বোঝালে জরায়ু অপ্রয়োজনেও বাদ যেতে পারে।

    তার পরিমাণ কত? শিউরে ওঠার মতো কথা বললেন কলকাতার স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। ‘কান্দির এক ডাক্তার সেদিন বড়াই করে বললেন, এক মাসে ৪৫টা জরায়ু বাদ দিয়েছেন। এটা কী করে সম্ভব? এক জন ডাক্তার সাধারণত তাঁর গোটা ডাক্তারি জীবনে ৪৫টা হিস্টরেকটমি করে উঠতে পারেন না,’ বললেন এই অবসরপ্রাপ্ত সরকারি ডাক্তার।

    একে ‘বাড়াবাড়ি’ বলে উড়িয়ে দেওয়া গেলে ভাল হত। কিন্তু অন্য রাজ্যে এমন ইতিমধ্যেই ঘটেছে। ২০১১ থেকে ২০১৩ সালে বিহারের সমস্তিপুরে স্বাস্থ্যবিমার অধীনে মোট ১৪,৮৫১ কেসের মধ্যে ৫৫০৩ ছিল জরায়ু বাদ দেওয়া।

    রাজস্থানের দাউসা জেলা থেকেও অত্যধিক হিস্টরেকটমির নালিশ আসে। পেট ব্যথা, ঋতুচক্রে গোলমাল, যে-কোনও সমস্যা নিয়ে গেলেই জরায়ু বাদ দেওয়া হচ্ছে এটা প্রকাশ পেলে ২০১৩ সালের জুনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন দুই জেলাশাসকের রিপোর্ট তলব করে। এ রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী দু’জনেই মহিলা। বিষয়টি নজর করছেন কি?

    তার মানে এই নয় যে, স্বাস্থ্যবিমা গরিবের কোনও কাজে লাগে না। বীরভূমের সমীক্ষা বলছে, বিমার স্মার্টকার্ড ব্যবহার করলে গরিবকে সত্যিই পকেট থেকে খরচ করতে হচ্ছে কম, গড়ে ৩৬৩৪ টাকা কম। এটা সামান্য কথা নয়। একটি হিসেব বলছে, অতি-দরিদ্র মানুষদের এক মাসে রোজগার যত টাকা, সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলে গড় খরচ তার দশ গুণ, বেসরকারিতে পঁচিশ গুণ। ঋণে ডুবে যাওয়া এড়াতে গরিবরা এত দিন হাসপাতাল এড়িয়ে চলে যে, তার পর আর ডাক্তারের বিশেষ কিছু করার থাকে না। প্রাণে মরা, নইলে ভাতে মরা, এই দুই থেকে গরিবকে নিষ্কৃতি দিতে রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যবিমা যোজনা শুরু হয়েছিল। এ রাজ্যের বিপিএল জনসংখ্যার প্রায় ষাট শতাংশ ইতিমধ্যেই এই বিমার আওতায় এসেছে। এখনও অবধি সাড়ে আট লক্ষেরও বেশি ‘কেস’ হয়েছে বিমার স্মার্টকার্ডে। নিঃসন্দেহে এমন অনেক অস্ত্রোপচার এর মধ্যে রয়েছে, যা বিমা না থাকলে করাতেন না গরিব মানুষ। ব্যথার ওষুধ বা নানা টোটকা-মাদুলির ভরসায়, কর্মক্ষমতা হারিয়ে, কোনও মতে বেঁচে থাকতেন।

    অথচ যে ভাবে বিমার রূপায়ণ হচ্ছে তাতে বেশ কিছু ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। এক, স্বাস্থ্য দফতর থেকে স্বাস্থ্যবিমার প্রচুর তথ্য নিয়মিত ওয়েবসাইটে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সে সবই হল ক’জন কার্ড পেল ক’জন ভর্তি হল, কত টাকা ক্লেম করে কত পেল, তার হিসেব। রোগীরা কী কী কারণে ভর্তি হচ্ছেন, কী চিকিৎসা পাচ্ছেন, তা জানার উপায় নেই। তাই অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার আড়ালে থেকে যাচ্ছে।

    দুই, গরিব জেলাগুলোতে নার্সিংহোম কম। যেমন, বর্ধমানে গরিবের স্বাস্থ্যবিমার নেটওয়ার্কে রয়েছে ৬৬টি হাসপাতাল, বাঁকুড়ায় ৩১ আর পুরুলিয়ায় ৯। এ থেকেই বোঝা যায় যে স্বাস্থ্যবিমা দিয়ে গরিবকে চিকিৎসার সুযোগ করে দেওয়ার বিপদ কোথায়। যে জেলা যত গরিব, বিমা কাজে লাগানোর সম্ভাবনা তার তত কম।

    তিন, বিপুল অপচয় হচ্ছে। গরিবকে চিকিৎসা পাইয়ে দেওয়ার প্রকল্প কার্যত হয়ে দাঁড়িয়েছে নার্সিংহোমকে টাকা পাইয়ে দেওয়ার প্রকল্প। ঝাড়গ্রাম জেলা হাসপাতাল, আর তা থেকে কিলোমিটার খানেক দূরে ঝাড়গ্রাম নার্সিংহোম, দুটোই স্বাস্থ্যবিমার আওতায়। সরকারি সূত্রে খবর, চলতি অর্থবর্ষে হাসপাতাল ১৬টি কেস করে বিমা কোম্পানি থেকে পেয়েছে ৪০,৯১২ টাকা (গড়ে ২৫৫৭ টাকা); ঝাড়গ্রাম নার্সিংহোম করেছে ৪৯৫টি কেস, পেয়েছে প্রায় ২৫,১৪,০০০ টাকা (গড়ে ৫০৭৮ টাকা)। স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তার আক্ষেপ, জেলায় জেলায় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি-হওয়া রোগীকে পাশের নার্সিংহোমে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রোপচার করছেন সরকারি ডাক্তার। স্বাস্থ্যবিমা আছে, রোগীর চিন্তা কী? প্রাণে যদি বা বাঁচে, ঠকে মরবেই গরিব।

    স্বাতী ভট্টাচার্য, আনন্দবাজার পত্রিকা, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরাধারমণ – অভিজিৎ চৌধুরী
    Next Article বিশ্বাসের ভাইরাস – অভিজিৎ রায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }