Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিদুর – মিহির সেনগুপ্ত

    মিহির সেনগুপ্ত এক পাতা গল্প296 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বিদুর – ৪

    ৪

    আমার এই প্রত্যাবর্তন বড়ো নিবিড়, বড়ো বিষণ্ণ, বড়ো শান্তি এবং বেদনার। এমন প্রত্যাবর্তন বড়ো ঘটে না। যাদের অনাদরের, অপ্রীতির এবং লাঞ্ছনার বিষবাষ্পে একদা শ্বাসরুদ্ধ আমি, শিকড় ছিন্ন করে প্রব্রজ্যার উঞ্ছ জীবনে ভেসে পড়েছিলাম, আজ আবার তাদেরই স্নেহস্মৃতি, প্রীতির অভিজ্ঞান আর হৃদয়বৃত্তির টানে ফিরে চলেছি সেই শিকড়ে। দীর্ঘ অনিকেত প্রব্রজ্যা একদার নিকেতনের সুখস্মৃতিটুকুই যেন শুধু জীইয়ে রেখেছে। এখন আবার এক নতুন বোধ যেন সক্রিয় হয়েছে মনের মধ্যে। সেই বোধের যুক্তিক্রম আগের যুক্তিক্রমের সঙ্গে মেলে না। এখন বোধ হচ্ছে, এইসব দম্ভী মানুষেরা, এই ক্ষমতাকামুক মানুষেরা, এই ক্রোধী, আত্মস্বার্থী, অপরিণামদর্শী মানুষেরাই আমার স্বজন। তারা যেখানে বাস করে, সেই আমার গৃহ, আর সেই স্থানই আমার স্বদেশ, যেখানে এরা নিয়ত দ্বন্দ্ব, কলহ, কুটিলতা, পরশ্রীকাতরতা, অভিমান, দম্ভ, ক্রোধ এবং অনুরূপ সহস্র দোষের সঙ্গে মানুষের অবশ্য প্রাপণীয় সব দুঃখ নিয়ে বসবাস করে। এরাই আমার স্বজন। প্রজ্ঞাভিমানী আমি যদি, এদের অবহেলা করে, অবজ্ঞা করে প্রব্রজ্যাকে সঙ্গত জ্ঞান করি, তবে আমিই শুধু শিকড়চ্যুত হব। শিকড়ে প্রত্যাবর্তনেচ্ছু আমার মনে এরকমই একটা ভাব ক্রীড়া করছে।

    হরিদ্বার থেকে হস্তিনাপুরের পথ, পদব্রজে একপক্ষকালের। কিন্তু সে পথে আমি হস্তিনাপুরে যাব না। আমি এক গর্হিত কাজ করেছি। আমাকে তার প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, যে মহামন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও যুদ্ধকে পরিত্যাগ করে, ব্যক্তিক অভিমান পরবশ হয়ে আমি প্রব্রজ্যা নিয়েছিলাম, তার সন্তাপ যেন আমি সমূহ ভোগ করি। শুধু যুদ্ধ বন্ধ করতে বিফল মনোরথ হয়েছিলাম বলেই তার দায়, অন্তত মহামন্ত্রী হিসেবে আমি এড়াতে পারি না। এই যুদ্ধ একদিনের কোনো ঘটনার ফল নয়। কোনো ব্যক্তিক মান-অভিমানের ফল নয়-এর দায় বর্তমান আর্যাবর্তীয় সমাজের সকলেরই এবং আমিও তার অংশীদার। তাই এই যুদ্ধের সন্তাপ আমার অবশ্য প্রাপ্য, এমত বিবেচনায় আমার যাত্রাপথকে কুরুক্ষেত্র পর্যন্ত প্রলম্বিত করব, যেখানে আমার স্বজনেরা সমূলে বিনাশপ্রাপ্ত হয়েছে। সেখানেই সেই শূন্যতা আর হাহাকারকে হৃদয়ে ধারণ করে, তবেই হস্তিনাপুরে যাব। আর সেখানে সেই অন্ধ গলিত বৃদ্ধ পিতা, অভিমানিনী স্বেচ্ছান্ধা হতভাগ্য জননী গান্ধারী আর স্বয়ংসিদ্ধা কুন্তী আছেন। এই সময়ে মনে পড়ল, আমার অন্ধ অগ্রজের একদিনকার একটি অদ্ভুত স্নেহপূর্ণ আচরণ। দুর্যোধন, দুঃশাসন প্রভৃতির নিন্দাবাদ এবং পাণ্ডবদের প্রশংসাসূচক আলোচনা করায় অন্ধ কুরুরাজ আমাকে বলেছিলেন, তোমার সমুদায় বাক্য পাণ্ডবদের হিতকর এবং আমাদের অহিতকর। পাণ্ডবদের জন্য, কীভাবে আমি আমার পুত্রদের ত্যাগ করতে পারি? পাণ্ডবরাও আমার পুত্র বটে, কিন্তু দুর্যোধন আমার দেহ থেকে উৎপন্ন। বিদুর, আমি তোমার বহু সম্মান করে থাকি, কিন্তু তুমি যা বলছ, সবই কুটিলতাময়। তুমি চলে যাও বা থাক, যা ইচ্ছা কর। অসতী স্ত্রীর সঙ্গে মিষ্ট ব্যবহার করলেও সে স্বামী ত্যাগ করে।

    আমি বরাবরই রাজাকে উপদেশ দিয়েছি, তিনি যেন দুর্যোধনকে পরিত্যাগ করেন। সে দুর্বিনীত, সে পাণ্ডবগণের অহিতকারী। কিন্তু আমি তখন চিন্তা করিনি যে দুর্যোধন ওই অন্ধরাজার জ্যেষ্ঠ পুত্র। ওই অন্ধরাজা তাঁর অন্ধত্বের জন্য সিংহাসন পাননি। তাঁর পুত্র সর্বগুণসম্পন্ন হয়েও কেন যুধিষ্ঠিরের অনুগত থাকবে, এ চিন্তা যে তাঁর স্বাভাবিক, তা আমি বুঝিনি। আমি বুঝিনি, দুর্বিনীত বলেই স্বীয় অংশজাত সন্তানকে ত্যাগ করা যায় না। দুর্যোধন যুধিষ্ঠিরের চাইতে বয়ঃকনিষ্ঠ, শুধুমাত্র এই কারণেই যুধিষ্ঠির রাজত্ব পাবেন, এই যুক্তি যে অন্ধরাজার স্বাভাবিকভাবে মনঃপূত নাও হতে পারে, সেকথা আমি ভাবিনি। পাণ্ডু তো তাঁর কনিষ্ঠ হয়েও রাজত্ব পেয়েছিলেন, এক্ষেত্রে না হয় তাঁর পুত্র রাজ্য লাভ করুক-এমন একটি চিন্তা তাঁর থাকা তো স্বাভাবিক। আমি এসব তখন ভাবিনি এবং রাজার তিরস্কারে বিরক্ত হয়ে সভাত্যাগ করে যুধিষ্ঠিরের কাছে চলে গিয়েছিলাম। তারা তখন বনবাসী।

    রাজা পরে তাঁর ব্যবহারের জন্য অনুতপ্ত হয়েছিলেন। তিনি প্রকৃতই আমাকে ভালোবাসতেন। তাঁর বিরক্তি এবং ক্রোধ প্রশমিত হলে আমার উপস্থিতির অভাবে তিনি সাতিশয় ক্লেশ অনুভব করতে লাগলেন এবং অচিরাৎ সঞ্জয়কে আমার সন্ধানে প্রেরণ করলেন। আমিও চলে আসতে বাধ্য হয়েছিলাম। রাজা তখন আমাকে তাঁর কোলে বসিয়ে মস্তক আঘ্রাণ করে বলেছিলেন, ধর্মজ্ঞ, আমার ভাগ্যক্রমে তুমি ফিরে এসেছ, তোমার জন্য দিবারাত্র অনিদ্রায় আছি, অসুস্থ বোধ করছি। যা বলেছি তার জন্য ক্ষমা করো। আমি এখন সেই স্মৃতি রোমন্থন করে বুঝতে পারছি, সেই অন্ধরাজার প্রীতি কতই-না গভীর ছিল। আমি তাঁকে যেসব উপদেশ দিয়েছি, আজ বুঝতে পারছি, তা তাঁর পক্ষে পালন করা নিতান্তই অসাধ্য ছিল। সন্তানকে কোনো কারণেই ত্যাগ করা যায় না। সন্তান যদি নিতান্ত দুর্বিনীত পাষণ্ডও হয় তথাপি পিতামাতা তার প্রতি স্নেহমুক্ত হতে পারেন না। একারণে আমার মনে হল, আমাকে এক্ষুনি তাঁদের বড়ো প্রয়োজন। আমাকে পেলে তাঁদের সন্তাপিত চিত্তে প্রাথমিক আলোড়ন হয়তো খুবই তীব্র হবে, তবে, আমার সাহচর্য সেই সন্তাপে চন্দন প্রলেপনও তো বটে। তাঁদের বর্তমান শোকমগ্নতার কালে তাও কি এক অসামান্য সঞ্জীবনী নয়?

    আমার দেহমন এখনও কর্মক্ষম। দীর্ঘকাল প্রব্রজ্যায় কাটিয়ে প্রভূত কষ্টসহিষ্ণুতাও আয়ত্ত হয়েছে। নানান দেশ, জনপদ ও তীর্থ দর্শনে অন্তরের বিস্তৃতিও হয়েছে প্রচুর। বহু ঋষি এবং বহুদর্শী শাস্ত্রজ্ঞ পুরুষের সাহচর্যে মানসিক তামসও অপসৃষ্ট। এখন প্রত্যাবর্তনের উত্তেজনায় আমি যেন যুবাপুরুষের উদ্দীপনা ও শক্তি বোধ করছি। শুধু ক্ষণে ক্ষণে দুঃস্বপ্নের মতো কুরু ও যদুকুল ধ্বংসের উদ্ধবকৃত বর্ণনা মনে পড়ায় হৃদয়ের হাহাকারকে প্রশমিত করতে পারছি না। মন তখন, বড়োই নৈরাশ্যে মগ্ন হচ্ছে।

    বড়ো অদ্ভুত বোধ হচ্ছে আমার। যেসব রমণীরা অচ্যুতের মতো মহান পুরুষের প্রীতিধন্যা ছিলেন, তাঁরা নাকি, কেউ কেউ আভীর দস্যুদের সঙ্গে স্বেচ্ছায় চলে গেছেন। দ্বারাবতীতে যাদবেরা পরস্পরের প্রতি বিদ্বিষ্ট হলে, অচ্যুত এবং বলদেব তাঁদের মধ্যে সম্প্রীতি পুনঃস্থাপন মানসে প্রভাসতীর্থে এসে কিছুকাল আমোদ-আহ্লাদ উপভোগ করছিলেন। সেখানে অতিরিক্ত মদ্যপানে মত্ত যাদবপ্রধানরা পরস্পরের ধ্বংসসাধন করলে, অর্জুন স্ত্রী, বৃদ্ধ এবং বালক-বালিকাদের আনয়ন করার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন। প্রত্যাবর্তনের সময় পথিমধ্যে পঞ্চনদের কোনো স্থানে সামান্য আভীর দস্যু তস্করেরা কুরুক্ষেত্র-বিজয়ী অর্জুন এবং তাঁর সহযোগী যোদ্ধাদের হেলায় হারিয়ে, তাঁদের সর্বস্ব এবং কৃষ্ণ প্রভৃতি যাদবশ্রেষ্ঠদের পত্নীগণকে লুন্ঠনে প্রবৃত্ত হয়। উদ্ধব বলেছেন, তখন স্বয়ং অচ্যুতেরই কোনো কোনো পত্নী সাতিশয় আগ্রহ সহকারে সেইসব আভীর দস্যুদের কন্ঠলগ্না হয়ে স্বেচ্ছায় চলে যান। অর্জুন বহু আয়াসে বাকিদের হস্তিনাপুরে নিয়ে আসেন। এই ঘটনা আমার বড়ো মর্মান্তিক এবং আশ্চর্যকর বোধ হল। কালের কী বিচিত্র গতি-

    সর্বে ক্ষয়ান্তা নিচয়াঃ পতনান্তাঃ সমুচ্ছ্রায়াঃ।

    সংযোগা বিপ্রয়োগান্তাঃ মরণান্তং চ জীবিতম্।।

    বৃষ্ণি এবং যদু বংশীয় পুরুষপ্রধানেরা যে ঋদ্ধিশালী দ্বারকায় বাস করতেন, সেই দ্বারকা আজ সমুদ্রগ্রাসে। দ্বারকার বিপুল সৌন্দর্যের কথা আজও স্মৃতিতে বড়ো উজ্জ্বল প্রভায় প্রভাবান। আহা! যে সুমার্জিত রাজবর্ত্মসমূহে বিদ্যুৎবরণী নবীনা সুন্দরীরা কন্দুকক্রীড়ায় নিয়ত চঞ্চলা থাকত, তা এখন মকর, কুম্ভীরের আশ্রয়স্থল মহার্ণব। কত উদ্যান, কত উপবন, কতই না কুঞ্জে অলংকৃত ছিল অচ্যুতের প্রিয় এই দ্বারবতী! কত কলগুঞ্জন, কলহাস, প্রণয়লীলায় সতত আমোদিত এই পুরী মানুষের নয়নরঞ্জন ছিল। আজ সেখানে ভয়াল তরঙ্গমালার বীচিক্ষেপ যেন উন্মাদের মতো বিগতদিনের স্মৃতিকে খুঁজে বেড়াচ্ছে।

    সেই মহতী নগরীর মহত্তম পুরুষের পত্নীগণ কীভাবে স্বেচ্ছায়, সানন্দে আভীর তস্করদের সঙ্গে রহঃকেলিতে লিপ্ত হন, আমার এই সুদীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতায় তার মর্ম অনুধাবনে ব্যর্থ হই। মানুষ বড়ো বিচিত্র, আরও বিচিত্র বুঝি মানুষী। অথবা অচ্যুত, যিনি একজন আদর্শ মানব হিসেবে, তাঁর জীবৎকালেই বহুজন গ্রাহ্য হয়েছিলেন, তাঁরও জীবনচর্যার কিছু ত্রুটি ছিল, যা তাঁর কোনো কোনো পত্নীর এইরূপ আচরণের জন্য দায়ী। আমি জনশ্রুতিতে জেনেছি এবং উদ্ধবও আমায় বলেছেন যে অচ্যুতের রূপবান পুত্র শাম্বকে তাঁর অনেক বিমাতাই কামনা করতেন এবং এ কারণে অচ্যুত স্বয়ং তাঁর প্রতি বিরক্ত ছিলেন।

    অচ্যুত সম্পর্কে যে লোকশ্রুতি প্রচলিত, যে তিনি অসংখ্য দার পরিগ্রহ করেছিলেন এবং স্ত্রী-জাতি বিষয়ে তাঁর অতিরিক্ত আসক্তি ছিল, তার মধ্যে সত্যতা আছে। বর্তমান সমাজে একাধিক দারপরিগ্রহ করা সামাজিক রীতিতে অধর্ম নয়। তবে আমার মনে হয়, অধিক কলত্র অধিক দুঃখের কারণ অবশ্যই হয়ে থাকে। অচ্যুত বহু লোকাতীত গুণের অধিকারী হয়েও নারীর প্রণয় বিষয়ে বড়ো উদার ছিলেন। একথা সত্য, তাঁর মহিষীরা, তাঁর অসামান্য গুণকীর্তির জন্যই, তাঁকে দয়িত পদে বৃত করেছিলেন। কিন্তু মানুষ হিসেবে তিনি যতই অসামান্য হোন, তাঁর জৈবিক ক্ষমতার নিশ্চয়ই এক সীমা থাকবে। একজন পুরুষ কখনোই অসংখ্য যুবতী স্ত্রীলোকের শারীরিক এবং মানসিক তৃপ্তি সাধন করতে পারেন না। প্রকৃতির বিধিকে লঙ্ঘন করলে, প্রকৃতি প্রতিশোধ অবশ্য নেয়। অচ্যুতের যে স্ত্রীগণ আভীর দস্যুদের সঙ্গে আহ্লাদের সঙ্গে চলে গেছেন, তাঁরা নিশ্চয় অতৃপ্ত জীবনযাপনে ক্লিষ্টা ছিলেন। অচ্যুত যেভাবে সত্যভামা, জাম্ববতী, চারুদেষ্ণা বা রুক্মিণী প্রভৃতি মহিষীদের প্রীতি সম্পাদন করতেন, সেভাবে নিশ্চিতই অন্যান্য স্ত্রীগণ আপ্যায়িত হতেন না। অধিকন্তু তিনি যথেষ্ট প্রাচীনতা প্রাপ্ত হলেও অসংখ্য যুবতী কন্যার পাণিগ্রহণে নিবৃত্ত হননি। জীবধর্মানুযায়ী তাদের আচরণ অবশ্য অসম্ভব নয়। অচ্যুতের নির্বিচার স্ত্রী গ্রহণের ফলে, বেশ কিছু পত্নী বস্তুত শাম্ব, প্রদ্যুম্ন প্রভৃতির অপেক্ষা বয়সে ছোটোই ছিলেন, এবং এসব ক্ষেত্রে তো কত কী-ই না ঘটতে পারে। রমণীর মন, প্রীতি সম্ভোগ ছাড়া কদাপি কি অনুগত থাকে? যে সব পত্নীরা তাঁর একবারই মাত্র সম্ভোগ লাভ করে বাকি জীবন অবরোধে, অনাদরের, অপ্রেমের যন্ত্রণায় ছিলেন, তাঁদের কাছে পুরুষ মাত্রেরই কাঙ্খিত হবার কথা, তা, তারা দস্যু তস্কর বা যাই হোক না কেন। পাণ্ডবদের নিরামিষ অন্তঃপুরের থেকে তস্করের সকাম আলিঙ্গন তাদের অবশ্যই শ্রেয় বোধ হওয়া স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে লোকাচার অথবা আভিজাত্য কোনো প্রতিবন্ধকতাই নয়।

    পথ বড়ো দীর্ঘ। রাজবর্ত্ম সর্বত্র তত প্রতুল নয়। লোকায়ত পথসমূহ ঘন অটবীর অভ্যন্তর দিয়ে কোনো কোনো রাজবর্ত্মে গিয়ে মিলেছে। কিন্তু এই অটবী অধ্যুষিত পথ আদৌ নিরাপদ নয়। খাণ্ডব অরণ্য দহনের সময় তৎস্থানীয় যেসব ভূমিপুত্ররা কৃষ্ণার্জুনের দৃষ্টি এড়িয়ে পলায়নে সক্ষম হয়েছিল, তারা এইসব আটবিক প্রদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। আমি যখন মহামন্ত্রী ছিলাম, তখন এইসব অরণ্য সীমান্তবর্তী গ্রাম এবং জনপদের প্রকৃতিপুঞ্জ তাদের দ্বারা নিয়ত নির্যাতিত হত। এখনও সেইসব স্ব-ভূমিচ্যুত মানুষেরা, বিশেষত, নাগজাতীয় অনার্যরা, আর্য ক্ষত্রিয় বা তাদের সন্নিহিত মানুষদের প্রতি অসম্ভব ক্রোধপরতন্ত্র। নিরপেক্ষ বিচারে বুঝি, এই ক্রোধ অযৌক্তিক নয়। তবু একের অন্যায়ের প্রতিকার তো অন্যের উপর প্রতিশোধ নিয়ে হয় না, সে স্বজনদের কেউ হলেও না। কিন্তু উচিত অনুচিতের বিচার, মানুষের এই প্রতিশোধ-স্পৃহার ক্ষেত্রে একান্তই নিষ্ফল। জগতের সব মানুষ কোনোদিনই একই সঙ্গে সুবুদ্ধিপরায়ণ হতে পারবে না। হত্যা থাকলে প্রতিশোধ থাকবে, প্রতিশোধ যদি আবার হত্যা সংঘটিত করে তবে তার প্রতিশোধেও পুনর্বার হত্যাই ঘটবে, এবং এর পৌনঃপুনিকতার শেষ হয় না। অথচ লোকশিক্ষার জন্য কত মনীষীরা কত না কথা বলে গেছেন। তাঁরা বলেছেন, মা হিংসীঃ। বলেছেন, জীবাতবে ন মৃত্যবে। হত্যা সর্বতোভাবে পরিত্যাজ্য-একথা তো সবাই বলেন। কিন্তু মানুষ যেন মৃত্যুকেই স্বীয় কর্মদ্বারা অবধার্য করে তুলতে চায়। কৃষ্ণার্জুনের মতো মহান ক্ষত্রিয় চর্যাশ্রয়ী রাষ্ট্রপুরুষেরা কেন যে খাণ্ডবদাহের মতো এক অমানবিক কর্ম করলেন, তা আমি অনুধাবন করতে পারিনি। সবাই বলে, বাসুদেবকৃষ্ণের সব কার্যের তাৎপর্য বোঝা সাধারণ মানুষের পক্ষে অসম্ভব। পিতা দ্বৈপায়নও একথা বলেন। আমি অচ্যুতকৃষ্ণের নিতান্ত গুণগ্রাহী। অর্জুনও আমার অপরিসীম স্নেহ এবং শ্রদ্ধার পাত্র। তাঁদের উভয়ের গুণ, কীর্তি এবং যশ আমার শ্লাঘার বস্তু। খাণ্ডব বন আবাদ করানো ইন্দ্রপ্রস্থ নগরীর বিস্তারের জন্য প্রয়োজনীয় অবশ্য ছিল। কিন্তু খাণ্ডব অরণ্যাশ্রয়ী মনুষ্য তথা সর্বপ্রাণীকে সংহারের হেতু যে কী, তা আমি কোনোদিনই বুঝতে পারলাম না। আমি পাণ্ডব পক্ষপাতী এই বদনামের সত্যতা স্বীকার করেই বলছি, এর ফলে দুর্যোধনেরই লাভ হয়েছে। অথবা খাণ্ডবদাহ এবং তার অভ্যন্তরস্থ সব প্রাণীর নির্বিচার নিধনও কি কুরুক্ষেত্রের এই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের অন্যতম পূর্বশর্ত নয়? কে জানে এই ধ্বংসের প্রতিশোধ যজ্ঞ আরও কত ক্রমান্বয়ী হবে? নাগরাজ তক্ষকের পুত্র, শুনেছি এখন নাগজাতির নেতৃপদে আসীন। খাণ্ডবদাহের সময় অর্জুন আর কৃষ্ণ বহু নাগ জাতীয় অনার্য মানুষদের হত্যা করেছেন। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে তাই বহু নাগ জাতীয় বীর কৌরবপক্ষ অবলম্বন করেছিল। নাগেরা বহুকাল ক্রোধ পুষে রাখতে পারে, এটা তাদের স্বাভাবিক প্রবণতা। তারা বড়োই প্রতিশোধপরায়ণ এবং গোপন যুদ্ধই তাদের ধর্ম। তারা ক্ষত্রিয়দের মতো সম্মুখ যুদ্ধ সাধারণত করে না। কে জানে ভবিতব্য কী?

    ক্ষত্রিয়দের কতকগুলো নিয়মবিধি আছে। যেসব ক্ষত্রিয়বীর সেই নিয়মবিধির বাইরে গিয়ে কাজ করেন, সমাজে তাঁদের বড়ো অখ্যাতি হয়। কোনো ক্ষত্রিয় বীরের নিরস্ত্রের প্রতি, রণপরাঙমুখ যোদ্ধার প্রতি, স্ত্রী-জাতীয়, রুগ্ন, অসমর্থ, বিশ্রামরত, সংগমরত বা শরণাগত কারওর প্রতি অস্ত্রপ্রয়োগ অকর্তব্য, অধর্ম। সে বিচারে তাঁদের খাণ্ডবদাহ সম্পর্কীয় কার্যাবলিতে বিলক্ষণ অধর্মের ব্যাপার আছে। খাণ্ডবদাহ কোনো যজ্ঞ নয়। যজ্ঞ করা বা করানো ক্ষাত্রধর্ম। রতিক্রিয়া থেকে শুরু করে, অশ্বমেধ, গোমেধ, নরমেধ ইত্যাদি সব কর্মই ক্ষত্রিয়েরা যজ্ঞের নামে করে থাকেন এবং তা বিভিন্ন যুগধর্মে আদৃতও। কিন্তু নির্বিচার হত্যা, তা মানবই হোক কিংবা পশুই হোক তা কোনোযুগেই ক্ষত্রিয়ের কর্তব্যকর্ম বা ধর্ম বলে আদৃত হয়নি। খাণ্ডবদাহ প্রকল্পে কৃষ্ণার্জুন এই ধর্মের ব্যত্যয় ঘটিয়েছিলেন। তাঁরা যজ্ঞকর্ম ব্যতিরেকেই প্রাণী হত্যায় লিপ্ত হয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, সে প্রাণী হত্যা নিতান্তই নির্বিচার প্রাণী হত্যা, এমনকী নির্বিচার অরণ্যসংহারও কোনো যজ্ঞকর্ম বলে অভিহিত হতে পারে না। সেটাও পরোক্ষভাবে ব্যাপক প্রাণী ধ্বংসেরই তুল্য।

    শরণাগতকে রক্ষা করা ক্ষাত্রধর্ম। খাণ্ডবদাহ কর্মেও কৃষ্ণার্জুন কিছু শরণাগতকে রক্ষা করেছিলেন। কিন্তু যে কজন শরণাগত হতে পেরেছিল, তার বহু গুণ বেশিই তো হবার সুযোগই পায়নি। তার আগেই তো তারা কৃষ্ণার্জুনের অব্যর্থ শরসন্ধানের শিকার হয়েছিল। নাগ এবং পক্ষিকুলীয় অনার্যরা, যারা এই আটবিক ভূমির স্বাভাবিক জাতক, তারা কৃষ্ণার্জুনের দ্বারা শান্ত মস্তিষ্কে, বিনাপরাধে নিহত হয়েছিল। এক্ষেত্রে তাঁরা আদৌ ক্ষাত্রধর্ম রক্ষা করেননি। স্বার্থের কারণে প্রকৃতি এবং প্রকৃতিজদের সংহারে তাঁরা অগ্নির বড়ো অপ-ব্যবহার করেছিলেন।

    হরিদ্বার থেকে কুরুক্ষেত্র যাওয়া সে কারণে খুবই বিপদসঙ্কুল। মৈত্রেয়র উপদেশ মতো, একটি সার্থবাহদলের সঙ্গ নিয়েছি। এই সার্থবাহেরা কুরুক্ষেত্র হয়ে পঞ্চনদ পর্যন্ত যাবে তাদের পণ্য নিয়ে। তাদের কাছে নিজ পরিচয় গোপন রেখেছি। আমি একজন তীর্থযাত্রী পর্যটক-এরকমই তারা ধরে নিয়েছে। তারা সারাদিনমান রাস্তায় চলে, রাতে কোনো গ্রামপ্রান্তে আশ্রয় নিয়ে এক বৃহৎ অগ্নিকুণ্ড প্রজ্বলিত করে অবস্থান করে। তাদের সঙ্গে শস্ত্রধারী রক্ষকেরা আছে। তারা সারারাত প্রহরায় থাকে। যাতে দুষ্ট গ্রামীণ বা দস্যুরা সার্থবাহদের পণ্য অপহরণ করতে সাহসী না হয়। এইসব শস্ত্রধারী রক্ষীরা বিভিন্ন রাজ্যের রাজাদের বেতনভুক। এর মধ্যে কিছু রক্ষী আছে, যারা মহারাজ যুধিষ্ঠিরের অনুগত। তাদের অধিকাংশই ময়রাষ্ট্র বা মৈরাটের মানুষ। খাণ্ডবদাহের পর, ইন্দ্রপ্রস্থের প্রসার বৃদ্ধি হয়, তখন ইন্দ্রপ্রস্থের সীমান্তরেখার শিল্পীশ্রেষ্ঠ ময়ের প্রতি প্রীতিবশত মহারাজ যুধিষ্ঠির কৃষ্ণার্জুনের পরামর্শে এই সীমান্তবর্তী নগরটির নাম রাখেন ময়রাষ্ট্র।

    সার্থবাহদের নিজেদের মধ্যে নানা বাক্যালাপে হস্তিনাপুর এবং ইন্দ্রপ্রস্থ সম্পর্কে নানা খবর পাই। ইন্দ্রপ্রস্থের ময়সভায় এখন আর পাণ্ডবেরা থাকেন না। যুদ্ধ জয়ের পরেই তাঁরা হস্তিনাপুরের প্রাচীন প্রাসাদে চলে গেছেন। ইন্দ্রপ্রস্থে এখন শুধু কিছু উচ্চপদস্থ অমাত্য, তাঁদের পরিবার নিয়ে বাস করছেন। অনিরুদ্ধের নাবালক পুত্র বজ্রকে সেস্থানের উত্তরাধিকারী মনোনীত করার কথা নাকি ভাবা হচ্ছে। উদ্ধব অবশ্য আমাকে অনেক সংবাদই বলেছিলেন। তবে যেহেতু তিনি যদুকুল ধ্বংস হবার পরপরই বেরিয়ে পড়েছিলেন, তাই পরবর্তী অনেক খবরই তাঁর জানা ছিল না।

    ভীষ্মের তথা নিহত কৌরব ও পাণ্ডবপক্ষীয় যোদ্ধাদের অন্ত্যেষ্টির পরপরই যুধিষ্ঠির নাকি অত্যন্ত অবসাদ এবং বিষণ্ণতায় মুহ্যমান হয়ে পড়েছিলেন। দীর্ঘকালব্যাপী এক ভীষণ যুদ্ধ প্রস্তুতি এবং বিপুল আত্মীয়-বান্ধব ক্ষয়কারী এই যুদ্ধের পর এরকম অবসাদ বিষণ্ণতা খুবই স্বাভাবিক। আবার এই বিপুল কর্মোদ্যোগের পর, অকস্মাৎ কর্মহীনতাও এই বিষণ্ণতাকে বাড়িয়ে তোলে। সেকারণে, ব্রাহ্মণ ও ঋষিগণ অশ্বমেধ যজ্ঞ করতে উপদেশ দেন। ফলত যুদ্ধের এক বছরের মধ্যেই এই যজ্ঞকাণ্ড পাণ্ডব-ভ্রাতাদের পুনরায় কর্মোদ্যোগী করে তোলে।

    মৈরাটের অরণ্যভূমি নিতান্তই সংকটসংকুল। যদিও এইস্থান যুধিষ্ঠিরের সাম্রাজ্যেরই অন্তর্গত। তথাপি এই অরণ্যেই খাণ্ডববিতাড়িত অনার্যকুল-সম্ভবেরা বসবাস করে থাকে। তাদের প্রধান বৃত্তি সার্থবাহ এবং পথচারীদের লুন্ঠন। তাদের শাসিত রাখা সাধারণ কর্ম নয়। এইসব দস্যুবৃত্তিধারীদের মধ্যে নাগকুল, পক্ষিকুল, কচ্ছপকুল প্রভৃতিদেরই প্রবলতা অধিক। আমাদের মণ্ডলে শস্ত্রধারী রক্ষী এবং সার্থবাহদের সংখ্যাধিক্য হওয়ার জন্যই আমরা এখনও পর্যন্ত আক্রান্ত হইনি।

    নতুন নতুন সব সার্থবাহগোষ্ঠীরা পথে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছিল। তাদের কাছ থেকে নতুন সব ঘটনার সংবাদ পাচ্ছিলাম। দীর্ঘদিন প্রাসাদ, রাজ্য রাজধানীর আবেষ্টনীর বাইরে থেকে শুধুমাত্র জ্ঞান আর দর্শনের জগৎ নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। ব্যাবহারিক জগতের বর্তমান পরিব্যবস্থা বিষয়ে কোনো সম্যক ধারণা ছিল না। আমার অন্তরস্থ নাগরিক সত্তা এবং একদার মহামন্ত্রিত্ব সুলভ সংবাদ সংজ্ঞাত হবার বৃত্তি, একটু একটু করে পূর্বাবস্থায় ফিরে আসছিল। সার্থবাহদের কাছ থেকে নানা খবরের মধ্যে হস্তিনাপুর সংক্রান্ত সংবাদের বিষয়েই আমার অধিক আগ্রহ ছিল। সেইসব সংবাদ জ্ঞাত হয়ে বুঝলাম, পাণ্ডবেরা রাজ্যলাভ করলেও, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, শাসনসংক্রান্ত দিক দিয়ে ভালো নয়। প্রধান সমস্যা যেটি বুঝলাম, তা হল, তাদের কোনো সুযোগ্য মন্ত্রী নেই। রাজা রাজ্য জয় করেন, শাসনক্রম প্রতিষ্ঠা করেন, মূল শাসনরীতি বিষয়ে মোটা দাগের একটা নির্দেশ সাধারণ্যে ঘোষণা করেন। এর পর তাঁর আর বিশেষ কোনো দায়িত্ব থাকে না। যদি অকস্মাৎ কোনো আক্রমণাদি ঘটে, তবে ব্যূহরক্ষিত হয়ে তিনি কিছু অস্ত্রাদি আস্ফালন করে থাকেন। রাজ্যের প্রশাসনিক ক্রম এবং শান্তিশৃঙ্খলা, রাজস্ব, শুল্ক এসব বিষয়ে যাবতীয় কর্তব্য-কর্ম করে থাকেন মন্ত্রী এবং অমাত্যরা। মহাযুদ্ধের পর কুরু-পাণ্ডবকুলে মন্ত্রী বা অমাত্য বলতে কেউ নেই। এ অবস্থায় সেই কুলেরই একজন হয়ে আর কী করেই বা নিজেকে বিযুক্ত রাখা যায়?

    গত সন্ধ্যায় যখন আমরা কুরুক্ষেত্রের সন্নিকটস্থ একটি গ্রামে রাত্রিযাপন করছিলাম, তখন জনৈক বণিকের নিকট জানলাম যে যুদ্ধ শেষে হস্তিনাপুর রাজভবনে প্রবেশের সময় জনৈক চার্বাকপ্রধানকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। তার অপরাধ সে নাকি দুর্যোধনের সখা ছিল এবং যুদ্ধে ব্যাপক লোকক্ষয়জনিত অবসাদে ক্ষিপ্ত হয়ে যুধিষ্ঠিরকে কিছু কটুকাটব্য করেছিল। সে কারণে, যুধিষ্ঠিরের কল্যাণাকাঙ্খী ব্রাহ্মণেরা তাকে পুড়িয়ে মেরেছে। ঘটনাটি আমার নিকট নিতান্ত বর্বরোচিত বলে বোধ হল। প্রথম কথা সে দুর্যোধনের সখা ছিল কিনা তা সঠিকভাবে প্রতিপন্ন না করেই তাকে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। যুদ্ধে লোকক্ষয় বিষয়টি, রাষ্ট্রীয় বিচারে যে দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হয়, ব্যক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে সেভাবে বিচার করা সম্ভব নাও হতে পারে। নগর ধর্মাধিকরণ, রাষ্ট্রিক এবং ব্যক্তিক দৃষ্টিকোণের সামঞ্জস্য তুল্যমূল্য করে তবেই অপরাধ সাব্যস্ত তথা দণ্ডবিধান করবেন। এক্ষেত্রে যুধিষ্ঠিরের সিংহাসনারোহণের শুরুতেই এমন একটি বিচারহীন বর্বর হত্যাকাণ্ড নিঃসন্দেহে ব্যাপক স্বৈরাচারী মনোভাবকে প্রকাশ করে। উপযুক্ত মন্ত্রী থাকলে ঘটনাটি কিছুতেই এমন ঘটত না বলে আমার বিশ্বাস।

    চার্বাকরা এখন নিতান্ত নগণ্য। তাদের পুড়িয়ে মারার ঘটনা কিছু নতুন নয়। অধিকাংশ চার্বাকদেরই ব্রহ্মবিদ্যাভিমানী ব্রাহ্মণেরা আগুনে পুড়িয়েই মেরেছেন। তাদের শাস্ত্রও ধ্বংস করেছেন। তবু যেহেতু তাদের একটি লোকায়ত ভিত্তিভূমি আছে, তাই তাদের সম্পূর্ণ ধ্বংসসাধন সম্ভব হয়নি। তারা প্রচলিত বৈদিক বা ব্রাহ্মণ্য তত্ত্ব, অনুশাসন ইত্যাদিতে বিশ্বাসী নয়। ব্রহ্মবিদ্যা বিষয়ে তাদের তাচ্ছিল্য রীতিমত উগ্র। কিন্তু তারা স্বভাবত শান্তিপ্রিয়ই ছিল। ব্রাহ্মণেরা, তাদের বিবেচনায় ভণ্ড, ধূর্ত এবং প্রবঞ্চক। পারলৌকিক কৃত্যাদি বিষয়ে তারা ঘোর বিতার্কিক এবং সংশয়ী। তারা মনে করে ব্রাহ্মণেরা সাধারণ প্রকৃতিপুঞ্জকে প্রবঞ্চনা করে শুধু নিজস্ব ধন বৃদ্ধি করে থাকে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানকে চার্বাকেরা আদৌ শ্রদ্ধা বা বিশ্বাসের দৃষ্টিতে দেখে না।

    এই চার্বাক সম্প্রদায়ের বিষয়ে আমার সন্ধিৎসা বহুকালের। এদেরকে ব্রাহ্মণেরা যতটা নিন্দা করে, এরা বাস্তবিকই ততটা নিন্দার পাত্র কিনা সে বিষয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। তারা আত্মা, পরমাত্মা, পরলোক, পুনর্জন্ম ইত্যাদি বিষয়ে শুধু অবিশ্বাসীই নয়, এ নিয়ে তারা ব্রাহ্মণদের রীতিমতো ব্যঙ্গবিদ্রূপও করে থাকে। কিন্তু তবুও বলব, তাদের চিন্তনের একটা দার্শনিক ক্রমান্বয় আছে। তারা অত্যন্ত সুতার্কিক। ব্রাহ্মণেরা বলে থাকেন-তারা স্থূল ভোগবাদী, আচার-অনুষ্ঠান বর্জিত, দেব-ব্রাহ্মণে শ্রদ্ধাহীন এবং অজাচারী। পিতা বাদরায়ণির কাছ থেকে এদের বিষয়ে আমি অনেক কথাই শুনেছি। তিনি জনৈক জাবালির কথা আমাকে বলেছিলেন। এই জাবালি একদা চার্বাকদের দলপতি ছিলেন। তিনিই এদের ব্যাপকভাবে সংহত করেন এবং এক বেদবিরোধী ইহলোকসর্বস্ব দর্শন রচনা করেন। রাজন্যবর্গ ক্রমশ ব্রাহ্মণ্য পক্ষাশ্রয়ী হওয়ায়, ব্রাহ্মণেরা নিরন্তর তাদের উপর অত্যাচার চালিয়ে আসছেন। তাদেরকে অগ্নিদগ্ধ করে হত্যা, তাদের শাস্ত্রগ্রন্থ ভস্মসাৎ করা ইত্যাদি ব্রাহ্মণদের প্রায় যজ্ঞকর্মের মতোই হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এ নিয়ে প্রকৃতিপুঞ্জের মধ্যে ব্যাপক বিক্ষোভের উদ্ভব হলে রাজন্য ও ব্রাহ্মণেরা খানিকটা সংযত হয়েছেন। এক্ষেত্রে আমার নীতি হল, বলপ্রয়োগ না করে, মুক্তভাবে তাদের সঙ্গে যুক্তিসিদ্ধ বিতর্কের অবতারণা করা। বলপ্রয়োগ যুক্তিহীন মানুষের অস্ত্র। কিন্তু সেক্ষেত্রে ব্রাহ্মণপন্থীদের বিপদ এই যে তাঁরা কখনোই চার্বাকদের যুক্তির সম্মুখে দাঁড়াতে পারেন না।

    দুর্যোধন এই চার্বাকদের নীতির গোপন পোষক ছিল। একারণেই ব্রাহ্মণেরা তাকে পরিত্যাগ করে যুধিষ্ঠিরের প্রতি অধিক মনোযোগী হয়। এখন সার্থবাহের কথায় আমার মনে হচ্ছে, বিজয় উৎসবের প্রাক্কালে উৎসাহী ব্রাহ্মণদের প্ররোচনায় হস্তিনাপুরে আবার একটি ব্যাপক চার্বাক নিধন ঘটেছে। যুধিষ্ঠিরের জ্ঞাতসারে যদি এই ঘটনা ঘটে থাকে-তাহলে আমি তাকে অবশ্যই নীতি-কৌশলের বিষয়ে অল্পবুদ্ধি বলব। তার বোঝা উচিত ছিল, সমাজে দুর্যোধনের অনুসারী এবং হিতৈষী বহু মানুষ তথা সম্প্রদায় এখনও বিদ্যমান আছে। দুর্যোধন রাজা হিসেবে আদৌ কম জনপ্রিয় ছিল না। তারা সবাই দুর্যোধনের কল্যাণাকাঙ্খীই ছিল। তাদের বলপ্রয়োগ নয়, প্রীতির সাহায্যেই জয় করতে হবে।

    দুর্যোধনের পতনের এও একটা অন্যতম কারণ, যে, সে ব্রাহ্মণদের সমর্থন হারিয়েছিল। একথা যে আমি বলছি তার অর্থ এই নয় যে দুর্যোধন এবং তার সহযোগী সবাই চার্বাক মতাবলম্বী ছিল এবং দেব-দ্বিজে তাদের কোনো শ্রদ্ধা ছিল না। না, দুর্যোধন কোনো ব্রাহ্মণের বৃত্তি লোপ করেনি, অকারণে তাঁদের সঙ্গে বিসংবাদ করেনি বা চার্বাকদের কাউকে কোনো উচ্চরাজপদে বসিয়ে ব্রাহ্মণদের অধিকার খর্ব করেনি। তথাপি সে ব্রাহ্মণদের প্রিয় হতে পারেনি। কারণ চার্বাকদের বিষয়ে তার পোষকতা ব্রাহ্মণেরা পছন্দ করেননি। যুধিষ্ঠির আমার ঔরসজাত, আমি আন্তরিকভাবেই তাদের জয় কামনা করতাম, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহই নেই, তথাপি বলব, দুর্যোধন অনেক সমদর্শী রাজা। এ বিষয়ে যুধিষ্ঠিরের চাইতে সে অনেক বেশি বাস্তববাদী। তাই এবম্বিধ হত্যাকাণ্ড, তার রাজত্বের সময় কখনো অনুষ্ঠিত হয়নি। বিরুদ্ধবাদীদের কাউকে হত্যা করে তাদের কন্ঠরোধ করা অধর্ম। রাজধর্মের কোনো সংহিতায় এর সমর্থন পাওয়া যায় না। ‘রাজা’ বা ‘রাজন্’ শব্দ দ্বারা তাঁকেই বোঝানো হয়ে থাকে যিনি প্রজা বা প্রকৃতিপুঞ্জকে রঞ্জন করেন। প্রজাঃ রঞ্জয়তি যঃ সঃ রাজা। কিন্তু সব প্রজাই যে রাজার অনুবর্তী হবে এমন কোনো পূর্বশর্ত নেই। দুর্যোধন এই তত্ত্ব সম্যক বুঝত।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমহাদেবী – অভীক সরকার
    Next Article দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    Related Articles

    মিহির সেনগুপ্ত

    বিষাদবৃক্ষ – মিহির সেনগুপ্ত

    November 12, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }