Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিদ্রোহী ডিরোজিও – বিনয় ঘোষ

    বিনয় ঘোষ এক পাতা গল্প166 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ছাত্র ডিরোজিও

    পরিবারের চেয়ে ডিরোজিওর জীবনে বহিরাবেষ্টনের প্রত্যক্ষ প্রভাব অনেক বেশি গভীর ছিল। তাঁর জীবনের আসল বনিয়াদ গড়ে উঠেছিল বিদ্যালয়ে, পিত্রালয়ে নয়। ছ’বছর থেকে চোদ্দোবছর বয়স পর্যন্ত ডিরোজিও বিদ্যালয়ে শিক্ষালাভ করেছিলেন। বিদ্যালয়ের নাম ‘ধর্মতলা অ্যাকাডেমি’, শিক্ষকের নাম ডেভিড ড্রামন্ড।

    ধর্মতলার চাঁদনির কাছে ছিল ড্রামন্ড সাহেবের স্কুল। তার উত্তরে ছিল গুমঘর, পশ্চিমে হসপিটাল স্ট্রিট, দক্ষিণে ধর্মতলা এবং পুবে হার্ট সাহেবের ঘোড়ার আস্তাবল। উত্তর—দক্ষিণ—পুব—পশ্চিম চারদিক থেকেই স্কুলে প্রবেশ করা যেত। মৌলালি থেকে চাঁদনির স্কুলে হেঁটে যেতে বালক ডিরোজিওর দশ—পনেরো মিনিটের বেশি সময় লাগবার কথা নয়।

    সাহেব ও ফিরিঙ্গিদের স্কুলের মধ্যে ড্রামন্ড, শেরবোর্ন ও হাটম্যান, এই তিনজনের স্কুলের তখন সুনাম ছিল কলকাতায়। ধর্মতলায় ছিল ড্রামন্ডের স্কুল, উত্তর চিৎপুর অঞ্চলে আদি ব্রাহ্মসমাজের কাছে ছিল শেরবোর্নের স্কুল, আর হাটম্যানের স্কুল ছিল বৈঠকখানায়। কলকাতার প্রাচীন সম্ভ্রান্ত বাঙালি পরিবারের সন্তানেরা অনেকে এই কয়েকজন ফিরিঙ্গি গুরুর কাছে যৎকিঞ্চিৎ কালোপযোগী ইংরেজি বিদ্যা আয়ত্ত করে তদানীন্তন সমাজে অপ্রত্যাশিত বৈষয়িক প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিলেন। ওয়ার্ড বুক ও স্পেলিং বুকের কতকগুলি নিত্যব্যবহার্য ইংরেজি শব্দ কোনোক্রমে কণ্ঠস্থ করে আমাদের পূর্বপুরুষেরা যে অর্থ ও খ্যাতি অর্জন করেছিলেন, আজ শত—শত ইংরেজি কেতাব পাঠ করে, বড়ো বড়ো ডিগ্রি নিয়েও আমরা কল্পনায় তার নাগাল পাই না। বাস্তবিক লেখাপড়া করে গাড়িঘোড়া চড়া সম্ভব ছিল সেকালে, একালে নয়।

    আঠারো শতকের শেষ পর্বে কলকাতা শহরে সুপ্রিমকোর্ট স্থাপিত হবার পর থেকে, অর্থ রোজগারের প্রয়োজনে, ইংরেজি—শিক্ষার আগ্রহ এ দেশের লোকের মনে জাগতে থাকে। প্রধানত আদালতের বাঙালি মুহুরিরা এই আদিপর্বের ইংরেজি শিক্ষকরূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তখনও বিদেশি মিশনারিরা এ কাজে আদৌ অগ্রসর হননি। সুতরাং ইংরেজি—শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রথম উদযোগীর কৃতিত্ব বাঙালিদেরই প্রাপ্য, পাদরিদের নয়, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির তো নয়ই। অবশ্য সেকালের ইংরেজি—শিক্ষা বলতে শব্দশিক্ষাই বোঝাত, প্রকৃত বিদ্যা আয়ত্ত করার প্রশ্নই ছিল না। কোর্টের মুহুরিদের সেরকম বিদ্যা দান করার ক্ষমতাও ছিল না। নিছক ব্যাবহারিক জীবনে সাহেবদের সঙ্গে মিলেমিশে কিছু অর্থ রোজগারের সুবিধার জন্য যেসব ইংরেজি শব্দ ভাববিনিময়ের তাগিদে জেনে রাখার প্রয়োজন হত, সেইগুলি তালিকাবদ্ধ করে কোনোরকমে কণ্ঠস্থ করতে পারলেই সেকালে ইংরেজির দিগগজ পণ্ডিত হওয়া সম্ভব হত। যিনি যত বেশি ইংরেজি শব্দ মুখস্থ করতে পারতেন, তাঁর পাণ্ডিত্যের খ্যাতি তত বেশি শহরময় ছড়িয়ে পড়ত এবং ওই বিদ্যেটুকুর জন্য দোর্দণ্ডপ্রতাপে তাঁরা সমাজে চলাফেরা করতেন। এঁরাই ইংরেজ আমলের আদিপর্বের এ দেশীয় ‘ইনটেলেকচুয়াল’।

     

    আরও দেখুন
    কলকাতায়
    কলকাতার
    বিজ্ঞান
    স্কুল সাপ্লাই
    বই
    বুক শেল্ফ
    Book
    কলকাতা
    লেখা
    শিক্ষার

     

    এই সময় থেকে বিদেশি ইংরেজরা ও ফিরিঙ্গিরা ব্যক্তিগত ব্যবসায় হিসেবে নিজেদের চেষ্টায় ইংরেজি—শিক্ষার ছোট ছোট স্কুল খুলতে থাকেন কলকাতায়। শেরবোর্ন, ড্রামন্ড ও হাটম্যানের মতো মার্টিন বাউলের স্কুল ছিল আমড়াতলায়, প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী মতিলাল শীল এই স্কুলের ছাত্র ছিলেন। শেরবোর্নের ছাত্রদের মধ্যে দ্বারকানাথ ঠাকুর অন্যতম। আরাতুন পিক্রসের স্কুলও মধ্য কলকাতায় সুপরিচিত ছিল, এবং তাঁর ছাত্রদের মধ্যে কলুটোলার কানা নিতাই সেন ও খোঁড়া অদ্বৈত সেন ব্যাকরণহীন ভাঙা—ভাঙা ইংরেজি—শিক্ষার জন্য সেকালে যথেষ্ট খ্যাতি ও প্রতিপত্তি অর্জন করেছিলেন। ইংরেজি—শিক্ষার এই পর্বের রেশ থাকতেই ডিরোজিওর বিদ্যাশিক্ষা আরম্ভ হয়েছিল।

    ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে ডিরোজিও যখন জন্মগ্রহণ করেন, তখন পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এ দেশের রাজস্ব থেকে শিক্ষাখাতে এক কপর্দকও ব্যয় করা আবশ্যক বোধ করত না। ১৮১১ খ্রিস্টাব্দে মিন্টো একটি পত্রে এ দেশীয় প্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থার ক্রমাবনতির দিকে ডিরেক্টরদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং শিক্ষার পুনরুজ্জীবনের জন্য কিছু অর্থব্যয়ের কথাও উল্লেখ করেন। ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দে কোম্পানির নতুন অ্যাক্টে ডিরেক্টররা ভারতবাসীদের শিক্ষার জন্য রাজস্বের উদবৃত্ত থেকে অন্যূন বাৎসরিক এক লক্ষ টাকা ব্যয় অনুমোদন করেন। ব্যয়ের অঙ্ক দেখেই বোঝা যায়, কোম্পানি কতকটা ঢেঁকি গেলার মতো করে ভারতীয়দের শিক্ষার জন্য কিছুটা দায়িত্ব স্কন্ধে নিয়েছিলেন। ডিরোজিও যখন ১৮১৪—১৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষা আরম্ভ করেন, কোম্পানির অধীনে আমাদের শিক্ষার তখন এই শোচনীয় হাল ছিল।

     

    আরও দেখুন
    লেখা
    ক্যালকাটা
    শিক্ষার
    শিক্ষা
    কলকাতার
    স্কুল সাপ্লাই
    বিজ্ঞান
    বই
    কলকাতা
    বুক শেল্ফ

     

    শিক্ষার জন্য কিছু অর্থব্যয় আরম্ভ হলেও, শিক্ষার উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও নীতি কী হওয়া উচিত তা তখনও স্থির হয়নি। আধুনিককালের পাশ্চাত্য বিদ্যা বিজ্ঞান—সাহিত্য—দর্শন প্রভৃতির প্রতি কোম্পানির কর্তারা তখন বিমুখই ছিলেন। তাই শিক্ষা বলতে প্রথমদিকে তাঁরা এ দেশের প্রাচীন সংস্কৃত—আরবি বিদ্যার পুনরুজ্জীবনের প্রয়াসী হয়েছিলেন। ১৮২৩—২৪ থেকে ১৮৩৫ সালে মেকলের বিখ্যাত ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে শিক্ষার প্রস্তাব গৃহীত হওয়া পর্যন্ত প্রায় দশ—বারো বছর ধরে প্রাচ্যবিদ ও পাশ্চাত্যবিদ এই দুই দলের মধ্যে মতামতের প্রবল সংঘর্ষ চলতে থাকে। ১৮২৩ সালে রামমোহন রায় এ দেশে পাশ্চাত্য বিজ্ঞান—দর্শন—সাহিত্য শিক্ষা প্রবর্তনের পক্ষে আমহার্স্টকে একটি দীর্ঘ যুক্তিপূর্ণ পত্র দেবার পর থেকে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যবিদদের মতের সংগ্রাম আরও প্রবল রূপ ধারণ করে। সংগ্রামের সূচনাকালেই ডিরোজিওর ছাত্রজীবন শেষ হয়ে যায়। বিতর্কের ঝড় শেষ হবার পর ১৮৩৫ সাল থেকে ইংরেজি—শিক্ষার নীতি যখন স্থিরভাবে গৃহীত হল, তার কয়েক বছর আগে ১৮৩১ সালের শেষে ডিরোজিওর ইহজীবন শেষ হয়ে যায়। ঝড়ের খানিকটা ঝাপটা অবশ্য হিন্দু কলেজে শিক্ষকতাকালে তাঁকে সহ্য করতে হয়েছিল। তবে ডিরোজিওর নিজের শিক্ষাদর্শ তার অনেক আগেই স্থির হয়ে গিয়েছিল, এবং হিন্দু কলেজের মতো পাশ্চাত্য ইংরেজি—শিক্ষার অন্যতম প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষকরূপে যুক্ত হয়ে সেই আদর্শকে বাস্তবে যথাসম্ভব রূপায়িত করারও সুযোগ তিনি পেয়েছিলেন।

     

    আরও দেখুন
    বিজ্ঞান
    শিক্ষা
    Book
    বই
    শিক্ষার
    ক্যালকাটা
    স্কুল সাপ্লাই
    বুক শেল্ফ
    কলকাতার
    কলকাতা

     

    বিচ্ছিন্ন ও ব্যক্তিগতভাবে ইংরেজরা, পাদরি সাহেব ও ফিরিঙ্গিরা ইংরেজি শিক্ষার যেসব বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন, সেগুলিকে ঠিক শিক্ষায়তন বলা যায় না। ব্যাবসাবাণিজ্য ও চাকরিবাকরির নিতান্ত প্রয়োজনে যেটুকু ইংরেজি শিখতে হত, তার বেশি এইসব বিদ্যালয়ে শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল না। অধিকাংশ শিক্ষকের তার বেশি শিক্ষা দেওয়ার যোগ্যতাও ছিল না। শেরবোর্ন, পিক্রস, হাটম্যান, ড্রামন্ড প্রভৃতি যে কয়েকজন সাহেব—ফিরিঙ্গির ইংরেজি স্কুলের কথা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁরা প্রত্যেকেই যে সুপণ্ডিত বা উচ্চশিক্ষা দেবার মতো যোগ্য ব্যক্তি ছিলেন তা—ও নয়। পাণ্ডিত্যের দিক দিয়ে ডিরোজিওর শিক্ষক ড্রামন্ডের মতো ব্যক্তি কলকাতা শহরে তখন সহজলভ্য ছিল না। কলকাতায় যেমন তখন পণ্ডিত ও মৌলবাদীদের অনেক টোল—মাদ্রাসা ছিল, তেমনি সাহেব—ফিরিঙ্গিদেরও ইংরেজি—শিক্ষা দেবার পাঠশালা ছিল। কোনোদিক থেকেই হিন্দু কলেজের সঙ্গে তাদের তুলনা করা যায় না। কয়েকটি স্কুলের বিবরণ দিলে আরও পরিষ্কার বোঝা যাবে।

    ফিরিঙ্গি শেরবোর্নের স্কুল ছিল উত্তর কলকাতার চিৎপুর অঞ্চলে। শোনা যায় তাঁর মা ছিলেন এ দেশের ব্রাহ্মণকন্যা। তাই বোধহয় জাতফিরিঙ্গি হলেও ব্রাহ্মণ্য প্রথানুযায়ী ছাত্রদের কাছ থেকে উৎসব—পার্বণের সময় শেরবোর্ন কড়ায়গন্ডায় গুরুদক্ষিণা আদায় করতে আদৌ কুণ্ঠিত হতেন না। দ্বারকানাথ ঠাকুরের মতো অনেক ধনীর সন্তান তাঁর বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। দোল—দুর্গোৎসবের সময় তিনি তাই বেশ মোটা রকমের ভেট পেতেন ছাত্রদের কাছ থেকে। শেরবোর্নের বৈষয়িক বুদ্ধিও যথেষ্ট প্রখর ছিল, তিনি নিজের নামে একটি বাজারও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন উত্তর কলকাতায়, বাৎসরিক ৫০০ টাকা খাজনায় কোম্পানির কাছ থেকে ৯৯ বছরের লিজ নিয়ে বাজার থেকে তিনি বেশ ভালো টাকা রোজগার করতেন।

     

    আরও দেখুন
    লেখা
    কলকাতা
    স্কুল সাপ্লাই
    শিক্ষা
    কলকাতার
    Book
    বিজ্ঞান
    বই
    শিক্ষার
    ক্যালকাটা

     

    হাটম্যান ছিলেন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি, ‘ওল্ড মিশন চার্চের’ একজন গোঁড়া সমর্থক। বিদ্যার চেয়ে ধর্মের প্রতি তাঁর আসক্তি ছিল বেশি, তাই এ দেশীয় ছাত্রদের অভিভাবকরা তাঁর বৈঠকখানার স্কুলে ছেলেদের পাঠাতে শঙ্কিত হতেন। ক্ল্যাসিকাল বিদ্যায় পারদর্শী বলে হাটম্যানের খ্যাতি থাকলেও ধর্মবাতিকের জন্য তিনি বিদ্যাচর্চায় বা শিক্ষাদানে মনোনিবেশ করতে পারতেন না। তাঁর সম্বন্ধে একটি মজার কাহিনি একবার ‘বেঙ্গল হরকরা’ পত্রে (১৬ এপ্রিল, ১৮৭৫) প্রকাশিত হয়েছিল। কাহিনিটি এই : সেদিন সন্ধ্যাবেলা মিস্টার ও মিসেস হাটম্যান তাঁদের তিনটি ছেলেমেয়ে নিয়ে গোড়ার গাড়ি করে বাড়ি ফিরছিলেন, এমন সময় রাস্তার উপর হঠাৎ একটি হাতি দেখে ঘোড়া খেপে যায়। ঘটনাটি ঘটে এসপ্ল্যানেডে। ঘোড়া ভয় পেয়ে যাত্রীসহ গাড়ি নিয়ে ড্রেনের মধ্যে লাফ দিয়ে পড়ে। হাটম্যান সপরিবারে ক্ষতবিক্ষত দেহে বাড়ি ফেরেন। ঘটনাটি এখানে উল্লেখ করা হল—হাটম্যানের জন্য নয়, হাতির জন্য। ডিরোজিওর বাল্যকালে কলকাতা শহরে এসপ্ল্যানেডের মতো জায়গায় দু’চারটে হাতিও চলেফিরে বেড়াত। তার প্রতীকী তাৎপর্য এই যে মধ্যযুগের রক্তমাংসের গজমূর্তি নবযুগের কলকাতা শহরে তখনও অচল বা অদৃশ্য হয়নি।

    সিমলাতে আমহার্স্ট স্ট্রিটের পুবদিকে মেকলে নামে এক সাহেব একটি স্কুল খুলেছিলেন। সেখানে ইংরেজি বাংলা ফারসি সংস্কৃত ল্যাটিন প্রভৃতি ভাষায় শিক্ষা দেবার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ফারসি সংস্কৃত ও লাটিনের জন্য সাহেব মাসিক চার টাকা বেতন এবং ইংরেজি ও বাংলার জন্য তিন টাকা বেতন ধার্য করেছিলেন। বয়সের কোনো বাধা ছিল না বলে তাঁর স্কুলে ছাত্রসংখ্যাও কম ছিল না।

     

    আরও দেখুন
    কলকাতার
    ক্যালকাটা
    শিক্ষা
    Book
    স্কুল সাপ্লাই
    শিক্ষার
    বই
    বুক শেল্ফ
    লেখা
    কলকাতায়

     

    এই ধরনের ছোটো বিদ্যালয় হলেও, ড্রামন্ডের ধর্মতলা অ্যাকাডেমির খানিকটা বৈশিষ্ট্য ছিল। শেরবোর্ন বা হাটম্যানের সঙ্গে ড্রামন্ডের দৈহিক বা মানসিক চেহারার যেমন কোনো সাদৃশ্য ছিল না, তেমনি তাঁর স্কুলটিও ছিল একেবারে অন্য রকমের। ড্রামন্ড ছিলেন খাঁটি বিলেতি সাহেব, জাতে স্কচম্যান। যেমন দুর্ধর্ষ ও একগুঁয়ে প্রকৃতির লোক, তেমনি বিচক্ষণ ও পণ্ডিত। দর্শন সাহিত্য বিজ্ঞান প্রায় সকল বিষয়েই তাঁর অনুরাগ ছিল। ডিরোজিওর জন্মের বছর চার পরে ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দে ড্রামন্ড সাহেব স্কটল্যান্ড থেকে বাংলায় আসেন। উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীনভাবে ব্যাবসাবাণিজ্য করে কিছু অর্থ উপার্জন করা। কিন্তু অন্য কোনো বাণিজ্যে জড়িত না হয়ে তিনি অল্পদিনের মধ্যে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য তৎপর হয়ে ওঠেন। কয়েকজন বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে অর্থসাহায্য নিয়ে তিনি ‘ধর্মতলা অ্যাকাডেমি’ প্রতিষ্ঠা করেন, এবং পরে নিজে তার অন্যতম স্বত্বাধিকারী হন। তাঁর পিঠের উপর প্রকাণ্ড একটি কুঁজ ছিল বলে শহরের লোকের কাছে তিনি ‘কুঁজো স্কচম্যান’ বলে পরিচিত ছিলেন। বাইরের এই দৈহিক বিকৃতির ক্ষতিপূরণস্বরূপ মনে হয় সৃষ্টিকর্তা তাঁকে আশ্চর্যরকম উন্নত বলিষ্ঠ মনের মালিক করেছিলেন। সেইজন্য তাঁর ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য যিনি একবার লাভ করতেন, তিনি সহজে তাঁকে ভুলতে পারতেন না।

     

    আরও দেখুন
    লেখা
    বুক শেল্ফ
    শিক্ষা
    স্কুল সাপ্লাই
    বিজ্ঞান
    কলকাতায়
    Book
    শিক্ষার
    ক্যালকাটা
    বই

     

    ড্রামন্ড ছিলেন একেবারে ভিন্ন প্রকৃতির লোক, স্বাধীনচেতা ও প্রগতিপন্থী। ‘গুরুমশায়’ বা ‘শিক্ষক’ বলতে আমাদের মনে একটি যে নিরীহ প্রাণীর মূর্তি ভেসে ওঠে, ড্রামন্ডের সঙ্গে তার কোথাও কোনো মিল ছিল না। অত্যন্ত সুস্থ ও সমুন্নত মন নিয়ে তিনি সমাজে বাস করতেন। শহরের মধ্যে সুন্দর একটি বড়ো বাড়ি তিনি ভাড়া করে থাকতেন। বোঝা যেত, বৈরাগীর আত্মনিগ্রহ তাঁর কাম্য ছিল না, ভোগবিলাস ও জীবনের রসাস্বাদনের প্রতি তাঁর আসক্তি ছিল যথেষ্ট। বাড়িতে বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে পানভোজন ও নাচ—গান করতে তিনি একটুও সামাজিক সংকোচ বোধ করতেন না। এই সৎসাহস (তাৎকালিক প্রথানুযায়ী) তাঁর বলিষ্ঠ জীবনদর্শনের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল বলে তা প্রকাশের পথে তাঁর শিক্ষকতার পেশা কোনো বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি। তাঁর ধারণা ছিল কতকটা এইরকম—মনের দিক থেকে মানুষমাত্রেই সম্রাট। সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে, মানবিক রুচি বিকৃত না করে, আত্মতৃপ্তি ও আত্মবিকাশের জন্য যা ইচ্ছা করার স্বাধিকার প্রত্যেক ব্যক্তির আছে। ঈশ্বর যদি কেউ থাকেন তো থাকুন, যাঁদের অফুরন্ত অবসর আছে তাঁরা স্বর্গলোক কোথায় তার হদিশ করুন, কিন্তু ইহজীবনে মানুষই ঈশ্বর, মানুষই তার সর্বময় প্রভু, এবং মানবচিন্তাই ঈশ্বরচিন্তার নামান্তর। মানুষের চেয়ে বড়ো সত্য আর কিছু নেই পৃথিবীতে। ঘোর সংশয়বাদী ও যুক্তিপন্থী ড্রামন্ড এ কথা কেবল যে বন্ধুদের বা সমদর্শীদের বলতেন তা নয়, মধ্যে—মধ্যে ছাত্রদেরও শোনাতেন, এবং ছাত্রদের কর্ণেই যে কেবল তা প্রতিধ্বনিত হত তা নয়, কিঞ্চিৎ রেশ তাঁর মর্মেও পৌঁছোত।

     

    আরও দেখুন
    শিক্ষার
    স্কুল সাপ্লাই
    Book
    বুক শেল্ফ
    কলকাতায়
    বই
    লেখা
    বিজ্ঞান
    কলকাতার
    কলকাতা

     

    ধর্মতলা অ্যাকাডেমির কুঁজো স্কচম্যান শিক্ষকটির এই মানসপ্রকৃতির পরিচয় অভিভাবকদের জানা থাকলেও, তাঁর শিক্ষারীতির বৈশিষ্ট্যের জন্য বিদ্যালয়ে ছাত্র পাঠাতে কেউ দ্বিধা করতেন না। এ দেশি ছাত্রদের অভিভাবকরা অনেকে অবশ্য ড্রামন্ডের কাছে ছেলে পাঠাতে ভয় করতেন। ড্রামন্ডের কাছে শিক্ষালাভ করে ছেলেরা পাছে নাস্তিক ও অতিশয় তার্কিক হয়ে উঠে সমাজে ও সংসারে বিপর্যয় ঘটায়, এই ছিল তাঁদের ভয়। তা সত্ত্বেও ড্রামন্ড ও তাঁর বিদ্যালয়ের সুনামের জন্য ছাত্রের অভাব হত না। এ দেশের সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তানেরাও অনেকে বাল্যকালে তাঁর স্কুলে লেখাপড়া শিখেছেন।

    ড্রামন্ডের গৃহের নাচ—গানের মজলিশের কথা বলেছি। সেইটাই যে তাঁর গৃহের বড়ো আকর্ষণ ছিল তা নয়। তার চেয়েও বড়ো আকর্ষণ ছিল সাহিত্য—বিজ্ঞান—দর্শন আলোচনার মজলিশ। শোনা যায়, ড্রামন্ড নিজে ছিলেন দার্শনিক ডেভিড হিউমের গোঁড়া ভক্ত। দার্শনিক তত্ত্বের আলোচনাতেও তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল। তার জন্য বাড়িতে নিয়মিত বৈঠক বসত। ড্রামন্ডের এই দর্শনপ্রীতির কথা উল্লেখ করে স্যান্ডফোর্ড আর্নট তাঁর লেখা ফারসি ব্যাকরণ বন্ধুকে উপহার দিয়েছিলেন : “To David Drummond Esq, who amidst the luxuries of the East never lost his rilish for the metaphysics and the muse…”

     

    আরও দেখুন
    শিক্ষা
    স্কুল সাপ্লাই
    লেখা
    Book
    বিজ্ঞান
    কলকাতার
    শিক্ষার
    কলকাতা
    ক্যালকাটা
    বুক শেল্ফ

     

    প্রাচ্যের বিলাসিতার মধ্যে ড্রামন্ডের দর্শন ও সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ একটুও শিথিল হয়নি। ‘D.D.’ নাম দিয়ে নিয়মিত সমসাময়িক ইংরেজি পত্রিকায় কবিতা ও সাহিত্য বিষয়ে তিনি প্রবন্ধ লিখতেন। তাঁর লেখা কবিতার একটি সংকলনও প্রকাশিত হয়েছিল, কিন্তু তখনকার দিনে তার খোঁজখবর বিশেষ কেউ রাখতেন না। সাহিত্যের সমঝদার গোষ্ঠী কলকাতার সমাজে তখনও গড়ে ওঠেনি। বিদ্যোৎসাহী ইংরেজদের মধ্যে অনেকে তাঁর সাহিত্যপ্রতিভার সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। শোনা যায়, ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা’ বিষয়ে তাঁর একটি কবিতা পাঠ করে মেটকাফ সাহেব অতিশয় প্রীত হয়ে তাঁর কাব্যগ্রন্থের জন্য পঞ্চাশ টাকা চাঁদা পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।

    সাহিত্যচর্চা ছাড়াও সাংবাদিকতাক্ষেত্রে ড্রামন্ড একজন কৃতী সম্পাদকরূপে তৎকালে বেশ প্রতিষ্ঠা অর্জন করেছিলেন। তিনি নিজে একখানি সাপ্তাহিকপত্র প্রকাশ করেছিলেন, তার নাম Weekly Examiner––A Journal of Politics, News and Literature। প্রায় বছর দুই চলার পর (১৮৩৯—৪০) পত্রিকাখানি বন্ধ হয়ে যায়। ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে এপ্রিল মাসে ৫৬ বছর বয়সে ড্রামন্ডের মৃত্যু হয়। তাঁর ছাত্র ডিরোজিওর মৃত্যুর পর প্রায় বারো বছর তিনি বেঁচে ছিলেন।

     

    আরও দেখুন
    বুক শেল্ফ
    শিক্ষার
    বিজ্ঞান
    ক্যালকাটা
    Book
    কলকাতা
    কলকাতার
    শিক্ষা
    স্কুল সাপ্লাই
    লেখা

     

    ড্রামন্ডের কোনো স্মৃতিচিহ্ন কলকাতার মতো শহরে থাকার কথা নয়। কিন্তু সার্কুলার রোডের গোরস্থানে ড্রামন্ডের সমাধি আজও দেখা যায়। ড্রামন্ডের সমাধির স্মৃতিফলকে লেখা আছে :

    Beneath lie the mortal remains of

    David Drummond, a Native of Scotland

    and for many years a successful teacher of youth*

    in this city : he departed this life on the

    28th April 1843, aged 56 years.

    This Monument was errected to the Memory

     

    আরও দেখুন
    কলকাতার
    বই
    কলকাতা
    কলকাতায়
    লেখা
    Book
    বিজ্ঞান
    ক্যালকাটা
    শিক্ষা
    শিক্ষার

     

    of the deceased by a few of his friends and

    pupils who respected his character admired

    his talents and esteemed his worth.

    ‘ধর্মতলা অ্যাকাডেমি’ অথবা ‘উইকলি এগজামিনার’ পত্রিকা কোনোটারই অস্তিত্ব নেই আজ। তাঁর কীর্তিচিহ্ন সবই ধুলোয় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কিন্তু তাঁর সমাধির উপর খোদাই—করা এমন কয়েকটি কথা আছে, যা তাঁর স্মৃতির শ্রেষ্ঠ নিদর্শন বলা যেতে পারে। এই কথা ক’টি হল : ‘a successful teacher of youth’, তরুণদের সার্থক শিক্ষক।

    ড্রামন্ডের নিজের জীবনে না হলেও তাঁর অন্যতম ছাত্র ডিরোজিওর জীবনে এ কথার তাৎপর্য যে কত গভীর তা সহজেই অনুমান করা যায়। এ দেশে পোর্তুগিজ ফিরিঙ্গি পরিবারে জন্মে ডিরোজিও কোথা থেকে এমন শিক্ষা পেয়েছিলেন, যার শক্তিতে বাংলার একদল তরুণকে নবযুগের জীবনদর্শনে উদ্ভ্রান্তের মতো উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছিলেন, এ প্রশ্ন সকলের মনে জাগবে। প্রশ্নের উত্তর হল, শিক্ষা পেয়েছিলেন তিনি তাঁর শিক্ষক ড্রামন্ডের কাছ থেকে। কবি ও দার্শনিক ড্রামন্ড তাঁর ছাত্রের মানসভূমিতে যে সাহিত্য ও দর্শনের বীজ ছড়িয়েছিলেন সযত্নে, অল্পকালের মধ্যে ডিরোজিওর জীবনে সেই বীজই সোনার ফসল ফলিয়েছিল। যুক্তিবাদী দার্শনিক ডেভিড হিউমের গোঁড়া শিষ্য ড্রামন্ড তাঁর ছাত্র ডিরোজিওকে নবযুগের ন্যায়দর্শনে দীক্ষা দিয়েছিলেন। ড্রামন্ড নিজে কখনো কোনো মতামত বা সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য মনে করতেন না, নির্মম যুক্তি ও বিচারবুদ্ধির অগ্নিপরীক্ষায় তা যাচাই না করে গুরুর জীবনাদর্শের উত্তরাধিকার বহন করে ডিরোজিও তাই এ দেশের তরুণদের শ্রেষ্ঠ কৃতী শিক্ষক হয়েছিলেন।

     

    আরও দেখুন
    ক্যালকাটা
    বুক শেল্ফ
    শিক্ষার
    স্কুল সাপ্লাই
    কলকাতায়
    কলকাতার
    কলকাতা
    লেখা
    Book
    শিক্ষা

     

    ড্রামন্ডের ধর্মতলা অ্যাকাডেমির সংবাদ ‘ক্যালকাটা গেজেট’, ‘গভর্নমেন্ট গেজেট’, ‘সমাচার দর্পণ’ প্রভৃতি পত্রিকায় মধ্যে—মধ্যে প্রকাশিত হত। ডিরোজিওর ছাত্রজীবনের কৃতিত্বের কথা এইসব সংবাদ থেকে কিছু—কিছু জানা যায়। একবার আট বছর বয়সে তিনি আবৃত্তিপাঠ, ভূগোল ও অন্যান্য বিষয়ে অসাধারণ মেধা প্রদর্শনের জন্য একটি স্বর্ণপদক পুরস্কার পেয়েছিলেন। এই ধরনের কৃতিত্বের জন্য আরও একবার পুরস্কার পেয়েছিলেন ন’বছর বয়সে। স্কুলের বাৎসরিক পরীক্ষাগ্রহণ ও পরিদর্শনের জন্য তখন কলকাতার স্বনামধন্য সাহেবরা এই শ্রেণির স্কুলে আমন্ত্রিত হতেন। ২০ ডিসেম্বর ১৮২২, একটি বাৎসরিক পরীক্ষায় তখনকার প্রসিদ্ধ ‘ইন্ডিয়া গেজেট’ পত্রিকার সম্পাদক জন গ্র্যান্ট উপস্থিত ছিলেন। পরীক্ষার পরে তিনি তাঁর পত্রিকায় লেখেন : ‘বিভিন্ন লেখকের রচনা থেকে ইংরেজি আবৃত্তি করে ছাত্ররা যে অদ্ভুত কলাকৌশল ও দক্ষতা প্রদর্শন করেছিল, তা বাস্তবিকই বিস্ময়কর। এর জন্য কৃতিত্ব কেবল ছাত্রদের প্রাপ্য নয়, শিক্ষকেরও প্রাপ্য। ডিরোজিও নামে একজন ছাত্র শেক্সপিয়রের শাইলক চরিত্রের এমন অপূর্ব চিত্র তার আবৃত্তির বাচনভঙ্গিতে ফুটিয়ে তুলেছিল, যা ওই বয়সের স্কুলের ছাত্রের পক্ষে অভাবনীয় বলা চলে। কলম্যানের একটি হাস্যকৌতুকের কবিতাও সে আবৃত্তি করেছিল চমৎকার হাস্যোদ্দীপক ভঙ্গিতে।’ ইন্ডিয়া গেজেট—এর সম্পাদক গ্র্যান্ট সাহেবের সঙ্গে ডিরোজিওর তখনও প্রত্যক্ষ সান্নিধ্যলাভের সুযোগ ঘটেনি। ছাত্রজীবন শেষ হবার পরেই সেই সুযোগ ঘটে, এবং ডিরোজিওর সাহিত্যসাধনা ও সাংবাদিকতার প্রধান গুরু হয়ে ওঠেন গ্র্যান্ট সাহেব।

    ধর্মতলা অ্যাকাডেমির আরও একটি বৈশিষ্ট্যের কথা ছাত্রদের কৃতিত্ব প্রসঙ্গে গ্র্যান্ট উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন যে, ড্রামন্ডের স্কুলে এ দেশি ও বিদেশি ইয়োরোপীয় ছাত্ররা পাশাপাশি বসে শিক্ষালাভ করছে দেখে খুবই আনন্দ হল। এইভাবে শিক্ষা পেলে উভয় দেশের লোকের মধ্যে বিদ্বেষভাব ও উচ্চনীচভাব অচিরেই দূর হয়ে যাবে। এ কেবল ড্রামন্ডের স্কুলের বৈশিষ্ট্য ছিল না, অন্যান্য সাহেব—ফিরিঙ্গিদের স্কুলেরও ওই একই বৈশিষ্ট্য ছিল। কিন্তু তাতে গ্র্যান্টের আশা পূর্ণ হয়নি, অর্থাৎ উভয় দেশের মানুষের মধ্যে সামাজিক ভেদবৈষম্যবোধ দূর হয়নি।

    শেরবোর্নের স্কুলের মতো ড্রামন্ডের স্কুলেও এ দেশের সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছেলেরা লেখাপড়া করত। গোপীকৃষ্ণ দেবের জামাতা হরিদাস বসু পাঁচ বছর ড্রামন্ডের স্কুলে লেখাপড়া করে যখন বিদায় নেন, তখন সেটা ‘সংবাদ’ হয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। হরিদাস বসু বলেন, ”আমি এই স্কুলে পাঁচ বৎসর থাকিয়া বিদ্যাভ্যাস করিলাম ইহাতে স্কুলের অধ্যক্ষ সাহেবদের আমার প্রতি যেমত অনুগ্রহ তাহা আমি কহিয়া কি জানাইব এবং এই সংসারে যত দান আছে বিদ্যাদানের তুল্য কোনো দান নহে এই বিদ্যা আমাকে দান করিয়াছেন অতএব আপনাদের অনুগ্রহেতে আমি কৃতবিদ্য হইয়া কর্মান্তরে প্রস্থান করি।” হরিদাসের মতো আরও অনেক ধনীর সন্তান, বেনিয়ান—মুচ্ছুদ্দিদের পুত্র ড্রামন্ডের স্কুলে বিদ্যাশিক্ষা করে কর্মান্তরে প্রস্থান করেছেন। বাংলা দেশের বালকদের সঙ্গে ডিরোজিওর বন্ধুত্ব ছাত্রজীবনেই হয়েছিল। তাঁর সহপাঠীদের মধ্যে দু’চারজন অন্তত বাঙালি ছিল বলে মনে হয়। বাল্যসঙ্গীরা বা সহপাঠীরা কেউ তাঁর জীবনে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করেছেন বলে জানা যায় না। তাঁর শিক্ষক ড্রামন্ডই তাঁর মানসক্ষেত্র কর্ষণ করে নবযুগের দার্শনিক চিন্তার বীজ বপন করেছিলেন। বাল্যে ও কৈশোরে ড্রামন্ডের মতো একজন প্রকৃত শিক্ষক ও চরিত্রশিল্পীর সান্নিধ্যে আসার সৌভাগ্য হয়েছিল বলে ডিরোজিও তাঁর স্বল্পস্থায়ী কর্মজীবনে মাত্র কয়েক বছরের চেষ্টায় এ দেশের ইতিহাসের পৃষ্ঠায় নিজের প্রতিভা ও ব্যক্তিত্বের স্বাক্ষর রেখে যেতে পেরেছেন।

    বিদ্যালয়ের যিনি আদর্শ শিক্ষক, তিনি বিদ্যা দান করেন বটে, কিন্তু তার চেয়েও বেশি দান করেন বিদ্যা ও জ্ঞানের প্রেরণা। প্রায় আট বছর ধর্মতলা অ্যাকাডেমিতে বিদ্যাভ্যাস করলেও এবং ড্রামন্ডের মতো বিদ্যাগতপ্রাণ শিক্ষকের সস্নেহ সংস্পর্শ পেলেও, ডিরোজিও যে সর্ববিদ্যায় যথেষ্ট পারদর্শী হয়েছিলেন তা বলা যায় না। চোদ্দো বছরের কিশোরের পক্ষে কত দূরই বা বিদ্বান হওয়া সম্ভবপর! আট বছর ছাত্রজীবনের পর মাত্র আর আট বছর কর্মজীবন। তারপরেই ডিরোজিওর জীবনের অবসান। কাজকর্মের ফাঁকে এই আট বছর তিনি যথাসাধ্য জ্ঞানবিদ্যার সাধনা করেছিলেন। শিক্ষক—জীবনেও তাঁর নিজের শিক্ষার পালা শেষ হয়নি।

    ……

    * বাঁকা হরফ লেখকের।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমেট্রোপলিটন মন মধ্যবিত্ত বিদ্রোহ – বিনয় ঘোষ
    Next Article বাংলার নবজাগৃতি – বিনয় ঘোষ

    Related Articles

    বিনয় ঘোষ

    কলকাতা শহরের ইতিবৃত্ত ২ – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    জনসভার সাহিত্য – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    বাংলার বিদ্বৎসমাজ – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    বাংলার সামাজিক ইতিহাসের ধারা – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    কলকাতা শহরের ইতিবৃত্ত ১ – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    বাদশাহী আমল – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }