Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিদ্রোহী ডিরোজিও – বিনয় ঘোষ

    বিনয় ঘোষ এক পাতা গল্প166 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সংঘর্ষ

    শিক্ষকতা ছেড়ে ডিরোজিও সাহিত্য ও সাংবাদিকতার সাধনায় আত্মনিয়োগ করলেন। আধুনিক মুদ্রণযন্ত্রের যুগে সামাজিক আন্দোলনের ও জনমত গঠনের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হল সংবাদপত্র। ডিরোজিও তা জানতেন, তাই পত্রিকার ভিতর দিয়ে তাঁর মতামত ও আদর্শ প্রচারের জন্য প্রস্তুত হলেন। মানিকতলার শ্রীকৃষ্ণ সিংহর বাগানবাড়িতে তারপরেও অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশনের বা অনুরূপ কোনো আলোচনাসভার বৈঠক বসত কি না জানা যায় না। অন্তত তার কোনো সঠিক সংবাদ পাওয়া যায়নি। পরিবেশ যেরকম উত্তপ্ত হয়েছিল তখন, তাতে মানিকতলায় ডিরোজিয়ানদের বিতর্কসভা বসলে ক্ষিপ্ত জনতা হয়তো—বা চড়াও হত সেখানে। জনতাকে লেলিয়ে দেবার মতো প্রভাবশালী গোঁড়া হিন্দু সমাজনেতারও অভাব ছিল না।

    পত্রিকা কেবল ডিরোজিও নিজে প্রকাশ করেননি, তাঁর প্রিয় ছাত্রদেরও সেই কাজে উৎসাহিত করেছিলেন। ছাত্রদের মধ্যে অগ্রগণ্য কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়স তখন (১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে) আঠারো বছর, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের বয়স সতেরো বছর, রামগোপাল ঘোষের বয়স ষোলো বছর এবং ডিরোজিওর নিজের বয়স বাইশ বছর। অ্যাকাডেমিক সভায় তিনি ছাত্রদের বিদ্যাবুদ্ধি নয় শুধু, বাগ্মিতাবিকাশেও সাহায্য করেছেন। সভায় কৃষ্ণমোহন ছিলেন ‘the readiest and most effective speaker, unaffected in manner, calm and unimpassioned though sometimes bursting forth into vehemence’, এবং যে রামগোপাল ঘোষ তাঁর বাগ্মিতার জন্য ‘ডেমস্থেনিস’ আখ্যা পেয়েছিলেন, ‘this debating club was to him what the Oxford club had been to many and English orator.’ গুরুগম্ভীর জটিল বিষয়ের বিতর্কে ষোলো—সতেরো—আঠারো বছরের তরুণদের এই প্রতিভার বিকাশ সত্যিই বিস্ময়কর। ডিবেটিং ক্লাবের বাগ্মিতার বদলে এবারে স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তেজোদীপ্ত তারুণ্যের কঠিন পরীক্ষার সময়।

    সিংহাসনচ্যুত গুরুর কাছে শিষ্যবৃন্দ সমবেত হলেন সংকটকালে উপদেশ ও উৎসাহের জন্য। বিদ্বৎসভার সংকীর্ণ আবেষ্টনীর মধ্যে বাকযুদ্ধ করলে আর চলবে না। তরবারির চেয়েও শতগুণ শক্তিশালী লেখনী ধারণ করে প্রকাশ্য জনসমাজে অন্ধ গোঁড়ামি ও অজ্ঞানতার বিরুদ্ধে নির্ভয়ে নিরন্তর সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে হবে।

    আঠারো বছরের যুবক কৃষ্ণমোহনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হল ইংরেজি The Enquier পত্রিকা ১৮৩১ খ্রিস্টাদের মে মাসে, অর্থাৎ ডিরোজিও কলেজ ছাড়ার মাসখানেকের মধ্যে। জুন মাসের গোড়াতে সতেরো বছরের তরুণ দক্ষিণারঞ্জনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হল বাংলার সাপ্তাহিকপত্র ‘জ্ঞানান্বেষণ’। ডিরোজিও নিজে তাঁর সমস্ত সম্বল উজাড় করে The East Indian নামে একখানি ইংরেজি পত্রিকা প্রকাশ করলেন, ৯ নম্বর কসাইতলা থেকে (১১ বেন্টিঙ্ক স্ট্রিট)। পত্রিকার নামকরণ থেকে বোঝা যায়, কেবল এ দেশের হিন্দুসমাজের সংস্কারের জন্য নয়, নিজের নির্যাতিত ও অবহেলিত ফিরিঙ্গি—সমাজের আত্মপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামের জন্যও তিনি সচেষ্ট হয়েছিলেন।

     

    আরও দেখুন
    গ্রন্থাগার
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা অডিওবুক
    PDF বই
    স্বাস্থ্য টিপস
    নতুন বই
    Books
    বই
    অনলাইনে বই
    উপন্যাস সংগ্রহ

     

    ‘দি এনকোয়ারার’ পত্রিকার উদ্দেশ্য ঘোষণা করে প্রথম সংখ্যায় কৃষ্ণমোহন লেখেন : “Having thus launched our bark under the denomination of Enquirer, we set sail in quest of truth and happiness.” দক্ষিণারঞ্জনের বাংলা ‘জ্ঞানান্বেষণ’ পত্রিকার আদর্শ প্রচারিত হল এই সংস্কৃত শ্লোকটিতে :

    এহি জ্ঞান মনুষ্যানামজ্ঞান তিমিরংহর।

    দয়া সত্যঞ্চ সংস্থাপ্য শঠতামপি সংহর।।

    মানুষের অজ্ঞানতার তিমির হরণ করে, দয়া ও সত্যকে সংস্থাপন করে, শঠতাকে সংহার করে জ্ঞানের বিকাশের পথ প্রশস্ত করাই পত্রিকার আদর্শ। বছর দুই পরে ‘জ্ঞানান্বেষণ’ ইংরেজি—বাংলা দ্বিভাষী পত্রিকায় পরিণত হয়। কৃষ্ণমোহন ও দক্ষিণারঞ্জন প্রধানত হিন্দুসমাজ নিয়ে এবং ডিরোজিও নিজে ফিরিঙ্গি—সমাজ নিয়ে সত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অবতীর্ণ হন। ডিরোজিওর ফিরিঙ্গি চরিতকার এডওয়ার্ডস বলেছেন যে ‘ইস্ট ইন্ডিয়ান’ পত্রিকা হল ‘the first newspaper that was the recognised organ of Eurasians and which advocated their claims… with an eloquence and a power of argument of which East Indians may well be proud.’

     

    আরও দেখুন
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    বাইশে শ্রাবণ
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    পিডিএফ
    বই পড়ুন
    বই ডাউনলোড
    লাইব্রেরি
    বুক শেল্ফ

     

    ডিরোজিও মধ্যে—মধ্যে কৃষ্ণমোহন ও দক্ষিণাকে উপদেশ পরামর্শ দিতেন, ‘এনকোয়ারার’ পত্রিকায় তাঁর পক্ষে লেখাও সম্ভব, কিন্তু নিজে ফিরিঙ্গি বলে মনে হয়, তিনি দূরে সরে থাকাই পছন্দ করতেন। হয়তো তিনি ভাবতেন, ফিরিঙ্গি হয়ে হিন্দুসমাজের সংস্কারক হবার চেষ্টা করলে খ্রিস্টান পাদরিদের মতো তাঁকেও উপহাসের পাত্র হতে হবে। তাই বোধহয় দু’জন হিন্দু ব্রাহ্মণ যুবককে হিন্দুসমাজের সংস্কার—সংগ্রামে সামনে এগিয়ে দিয়ে ডিরোজিও নিজে ফিরিঙ্গি—সমাজের স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

    সারা জুলাই মাস ধরে (১৮৩১) কলেজের তরুণদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ঝড় বয়ে চলল। বিক্ষোভ ক্রমেই যেন বাড়ছিল মনে হয়। ১৬ জুলাই ‘সংবাদ প্রভাকর’ লেখেন, ”অপর শ্রীযুত মেম্বর মহাশয়দিগের প্রতি আমারদিগের নিবেদন এইমত আজ্ঞা তাবৎ ক্লাস মেস্টর এবং পণ্ডিতমহাশয়দের প্রতি দেন যে হিন্দু কলেজের ছাত্ররা ফিরিঙ্গির মতো পরিচ্ছদ না করিতে পায় যথা—ফিরিঙ্গির জুতা পায় সবচুল মাথায় খালি আঙ্গরাখা গায় মালা নাই গলায় মেচরের গুণে সৃষ্টি স্থিতি প্রলয় হয় এবং দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করে” ইত্যাদি। অভিযোগের ভাষা দেখে বোঝা যায়, বিরক্তি ও ব্যঙ্গবিদ্রূপের মাত্রা কোথায় পৌঁছেছিল। ১৪ মে তারিখের ‘সমাচার দর্পণ’ পত্রিকায় উদ্ধৃত ‘সংবাদ প্রভাকর’ একটি চিঠিতে এই বিচিত্র ঘটনাটির উল্লেখ দেখা যায়।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা বই
    লেখকের বই
    বাংলা অডিওবুক
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা কৌতুক বই
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    বই পড়ুন

     

    কলকাতার একজন গৃহস্থ ভদ্রলোক নিজের পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে ‘৺জগদম্বার দর্শনে’ কালীঘাটে এসে এক দোকানে বাসা করেন। অতঃপর গঙ্গাস্নান করে পূজার নৈবেদ্যাদি নিয়ে ‘জগদীশ্বরীর সন্নিধানে’ উপস্থিত হয়ে ‘তাবতের সহিত অষ্টাঙ্গে প্রণাম’ করেন, কিন্তু ‘উক্ত গৃহস্থের সুসন্তানটি’ প্রণাম করেন না। তার পরিবর্তে ‘ব্রহ্মাদি দেবতার দুরারাধ্যা যিনি তাঁহাকে ওই ব্যলীক বালক কেবল বাক্যের দ্বারা সম্মান রাখিল’ অর্থাৎ দেবী কালীকে সম্বোধন করে বলল, গুড মর্নিং ম্যাডাম। ‘ইহা শ্রবণে অনেকেই শ্রবণে হস্ত দিয়া’ পলায়ন করলেন। তারপর তার পিতা তাকে প্রহার করার জন্য উদ্যত হলে জনৈক ভদ্রলোক বাধা দিয়ে বললেন, ক্ষান্ত হন, এখানে রাগ প্রকাশ করা উচিত নয়। তাতে সেই বেল্লিক বালকের পিতা আক্ষেপ করে ছেলেকে বললেন, ‘ওরে, আমি কী ঝকমারি করে যে তোকে হিন্দু কলেজে দিয়েছিলাম, যে তোর জন্যে আমার জাত—মান সব গেল।’ ভদ্রলোকের দিকে ফিরে তিনি বললেন, ‘জানেন মশায়, এই কুলাঙ্গারের জন্যে আমি সমাজে মুখ দেখাতে পারি না, ধর্মসভায় যেতে পারি না।’ তাঁর এই খেদোক্তি শুনে ভদ্রলোক জিজ্ঞাসা করলেন, শুনেছি কলকাতার অনেক বাঙালি বড়োমানুষ হিন্দু কলেজের ম্যানেজার, তাহলে কেন ছেলেদের এরকম কুশিক্ষা হয়? এই কথার উত্তরে ছেলের পিতা বললেন, আর মশায়, বাঙালি বড়োমানুষের গুণের কথা বলবেন না। ঘরের টাকা দিয়ে তাঁরা দেশের ছেলেদের পরকাল টনটনে করছেন।

     

    আরও দেখুন
    বই
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    Library
    রেসিপি বই
    বই পড়ুন
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    পিডিএফ
    ডিকশনারি
    স্বাস্থ্য টিপস

     

    ধর্মসভার মুখপত্র ‘সমাচার চন্দ্রিকা’ ২ মে, ১৮৩১ ইংরেজি—বিদ্যার সঙ্গে নাস্তিকতার সম্পর্ক বিষয়ে যে প্রবন্ধ লেখেন তা—ও এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য। হিন্দু কলেজের ও ডিরোজিওর ছাত্ররা ইংরেজি শিক্ষার ফলে কেন যে নাস্তিক হয়ে উঠছেন, চন্দ্রিকার কাছে তা বোধগম্য নয়। ইংরেজি শিখলেই যে নাস্তিক হতে হবে, চন্দ্রিকা তা মনে করেন না। তাঁরা বলেন, আগে যেসব দেওয়ান—মুচ্ছুদ্দি ছিলেন, তাঁরা ইংরেজি শিখে, ‘সাহেব লোকের অভিপ্রায় মত কর্ম সুসম্পন্নপূর্বক বহু ধনোপার্জন’ করেছিলেন এবং ইংরেজরা তুষ্ট হয়ে তাঁদের নানা প্রকারের মর্যাদা প্রদান করতে কুণ্ঠিত হননি। অবশ্য এ কথা ঠিক যে, মুচ্ছুদিরা ভালো ইংরেজি জানতেন না। কথিত আছে, ঢেঁকির বিবরণ দিতে গিয়ে কোনো মুচ্ছুদ্দি সাহেবের কাছে বলেছিলেন, ‘টুমেন ধাপুড় ধুপুড়, ওয়ান মেন সেঁকে দেয়।’ কিন্তু তাতে কী? এই ইংরেজি শিখেই তাঁরা যথেষ্ট ক্ষমতাশালী লোক হয়েছিলেন এবং কাজকর্মও বেশ উত্তমরূপে নির্বাহ করতে পারতেন। এঁদের পরবর্তীকালে যাঁরা দেওয়ান—মুচ্ছুদ্দি হলেন—যেমন হরিমোহন ঠাকুর, নীলমণি দত্ত, তারিণীচরণ মিত্র, গঙ্গাধর আচার্য, নীলমণি দে প্রভৃতি তাঁরা অনেকেই ইংরেজি—বিদ্যায় ‘বিলক্ষণ পারগ’ হয়েছিলেন, কিন্তু তার জন্য তাঁরা নিজেদের ধর্মকর্ম বিসর্জন দেননি। তারপর যাঁরা মুচ্ছুদ্দি ও জমিদার হন, তাঁদের মধ্যে উমানন্দন ঠাকুর, রাধাকান্ত দেব, রামকমল সেন, হরচন্দ্র লাহিড়ী, রসময় দত্ত, শিবচন্দ্র দাস, রামপ্রসাদ দাস প্রভৃতি ইংরেজি—বিদ্যায় যেরকম পারদর্শী হয়েছিলেন তা ‘বাঙ্গালি ও ইংরাজ’ সকলেই জানেন। অথচ এঁরা কেউ ‘আপন ধর্ম কর্ম অমান্য করেন নাই এবং নিষ্কর্মান্বিত কখন নহেন।’ এঁরা কেউ দেওয়ান, কেউ গ্রন্থকর্তা, কেউ সেরেস্তাদার, কেউ—বা খাজাঞ্চির বিশ্বস্ত কর্মে নিযুক্ত থেকে বহু অর্থ উপার্জন করেছেন।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বই ডাউনলোড
    PDF
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    ডিকশনারি
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    Library
    অনলাইন বুকস্টোর
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    Books

     

    সামাজিক ইতিহাসের এইটুকু প্রস্তাবনাকারে বিশ্লেষণ করে চন্দ্রিকা লিখেছেন : ”এক্ষণে যাঁহারা ভালো ইংরাজি শিক্ষা করিয়াছে তাহারদিগের বিদ্যার কি এই ফল হইল কেবল নাস্তিকতা করিবেক, ভালো যদি ওই নাস্তিকের মধ্যে উক্ত ব্যক্তিদিগের মত কেহ তা পদপ্রাপ্ত হইতে পারিত তথাচ বুঝিতাম যে নাস্তিকতা করাতে সাহেব লোক তুষ্ট আছেন এই নিমিত্ত করে, তাহা কোন মতেই নহে কেননা কর্মকর্তা সাহেব লোক বেলিক নাস্তিককে কখন উচ্চ পদে বা বিশ্বস্ত কর্মে নিযুক্ত করেন না ইহা নিশ্চয় আছে।’ চন্দ্রিকার ন্যায়—অন্যায় বিচারের মানদণ্ড অত্যন্ত নিরেট। ইংরেজি শিখে নাস্তিক হলে ইংরেজরা খুশি হয়ে যদি ভালো চাকরি দিতেন এবং বহু টাকা উপার্জন করা যেত, তাহলেও বরং নাস্তিকতা অনেকটা সার্থক হত। কিন্তু তা যখন সম্ভব নয় তখন নাস্তিক হয়ে লাভ কী? আগেকার লোক অল্প ইংরেজি—বিদ্যার জোরে ধর্মকর্ম করে, দেওয়ানি, সেরেস্তাদারি প্রভৃতি বড়ো বড়ো চাকরি করেছেন, আর আজকালকার যুবকরা তাঁদের চেয়ে অনেক ভালো ইংরেজি শিখে কেউ পাঠশালার টিচার, কেউ—বা ষোলোটাকা মাইনের কেরানি হচ্ছেন, আর কেউ—কেউ অভিমান করে ঘরে বসে বিদ্যালয়ে প্রাইজ—পাওয়া পুস্তকগুলি নাড়াচাড়া করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছেন। অতঃপর চন্দ্রিকা দুঃখ করে বলেছেন যে, যতদিন পিত্রালয়ে আহারের সংস্থান আছে, ততদিন চিন্তা নেই, কিন্তু পরে যে এঁরা কী করবেন তা ঈশ্বরই জানেন! যিশুখ্রিস্ট ভজনে মজে গিয়ে প্রথমে এ দেশের হতভাগ্য অনুন্নত জাতির যে অবস্থা হয়েছিল, এই ইংরেজি কেতাদুরস্ত নাস্তিকদেরও পরে সে অবস্থা হবে। এ দেশের অশিক্ষিত লোকরা মনে করেছিল, পাদরিদের প্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে, যে খ্রিস্টান হলে একটি সুন্দরী বিবি, একখানি বাড়ি আর এক লক্ষ টাকা পাওয়া যাবে। কিন্তু খ্রিস্টান হবার পরে তাঁদের ভাগ্যে জুটেছে বাগানের মালি, দারোয়ান ও খিদমতগারের চাকরি। আমাদের হিন্দু কলেজের বাহাদুর, হিন্দু নাস্তিকদের অদৃষ্টেও তার চেয়ে লোভনীয় কিছু জুটবে বলে মনে হয় না। এই হল চন্দ্রিকার সমালোচনার সুর।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বাংলা ই-বুক রিডার
    লাইব্রেরি
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বই ডাউনলোড
    ডিজিটাল বই
    পিডিএফ
    PDF
    বাংলা কৌতুক বই

     

    পত্রপত্রিকার এইসব সমালোচনা থেকে বোঝা যায়, হিন্দু কলেজের ছাত্রদের বিরুদ্ধে ধর্মসভার বিষোদ্গার ডিরোজিওর পদচ্যুতির পরেও পূর্ণমাত্রায় চলছিল। দুর্মর সমালোচনার ঘন—ঘন কামান—গর্জনে বিচলিত হয়ে উঠেছিলেন তরুণের দল। জুলাই মাসের শেষে (১৮৩১) কৃষ্ণমোহন তাঁর ‘এনকোয়ারার’—এ লিখলেন—

    কৃষ্ণমোহনের জবাবের তাৎপর্য এই : আমাদের উপর উৎপীড়ন এখনও পূর্ণমাত্রায় চলেছে। গোঁড়ার দল এখনও ক্ষিপ্ত হয়ে কটূক্তির কামান দাগছেন। গুড়ুমসভার গরম ক্রমেই অসহ্য ও মারমুখী হয়ে উঠেছে। সভার পোষকরা জানেন না তাঁদের এই প্রতিক্রিয়ার ফলাফল কী। ধর্মোন্মাদরা দাবি করছেন যে, আমাদের জাতিচ্যুত ও সমাজচ্যুত করবেন। আমরা উদারপন্থীরা এর জবাব দেব আমাদের ধৈর্য ও সহ্যগুণ দেখিয়ে—গুড়ুমসভার দাপট বাড়ে তো বাড়ুক, তাঁরা ক্রোধে টগবগ করতে—করতে ঔদ্ধত্যের চূড়ায় উঠুন। তাঁদের বিক্ষোভ—বিতৃষ্ণা দাবানলের মতো প্রজ্বলিত হয়ে উঠুক। আমরা উদার। আমরা তাতে ভয় পাব না, নির্ভীক রোমানের মতো আমাদের কাজ করে যাব এবং তার জন্য যত নির্যাতনই সহ্য করতে হোক, তা—ও করব। সমাজচ্যুতির বিষাণ ধর্মধ্বজীরা যদি বাজাতে চান তো বাজান, ঘরে—ঘরে তা বেজে উঠুক। কয়েকশত বিদ্রোহী তরুণ ঘর ও পরিবারের নিরাপদ আশ্রয় থেকে উন্মুক্ত পথের উপর অসহায়ের মতো নিক্ষিপ্ত হোক। তারা সকলে একতাবদ্ধ হয়ে একটা প্রচণ্ড দল গড়ে তুলবে, আমাদের উদ্দেশ্যও তখন সফল হবে।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    বাংলা ই-বুক রিডার
    ডিজিটাল বই
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    বই
    বাংলা সাহিত্য
    বইয়ের
    গ্রন্থাগার
    বইয়ের

     

    ‘এনকোয়ারার’ পত্রিকায় কৃষ্ণমোহন তখন এইরকম আবেগপূর্ণ ভাষায় তরুণদের উৎসাহিত করছিলেন। পত্রিকার পৃষ্ঠায় তাঁর কলম দিয়ে অনর্গল বিদ্রোহের অগ্নিবর্ষণ হচ্ছিল। রেভারেন্ড লালবিহারী দে লিখেছেন—

    Week after week he put in the columns of the Enquirer the orthodox Hindus into the pillory. He thus became, amongst the band of reformers, the most uncompromising denouncer of the national superstition. His house became the resort of those young men who had perceived the absurdity of the national religion, and were breaking through the fetters of caste.

    বিদ্রোহী তরুণদের নেতা হয়ে উঠেছিলেন কৃষ্ণমোহন। ডিরোজিওর পদচ্যুতি গোঁড়া হিন্দুসমাজের প্রতি তরুণদের আরও বেশি বীতশ্রদ্ধ করে তুলেছিল। ধর্মসভার বিরূপ সমালোচনা তাতে ইন্ধনও জোগাচ্ছিল অনবরত। কৃষ্ণমোহনের গৃহে তরুণদের সভা বসত, নানা বিষয়ে আলাপ—আলোচনা হত এবং সংগ্রামের কৌশল ও পথ ঠিক করা হত অবস্থা বুঝে। শিক্ষকের অপমানের আঘাত শিক্ষক নিজে ভুলে যাবার চেষ্টা করলেও, তাঁর ছাত্ররা তা কিছুতেই ভুলতে পারছিলেন না। কারণ তাঁদেরই অভিভাবক, পিতা—পিতামহ ও আত্মীয়স্বজনরা হিন্দুসমাজের কর্ণধার হয়ে সকলের প্রিয় শিক্ষক ডিরোজিওকে অপমানিত করে পদচ্যুত করেছেন, এবং শুধু তা—ই নয়, তাঁর নির্মল চরিত্রে মিথ্যা অভিযোগের কলঙ্ক লেপন করেছেন। কৃষ্ণমোহনের গৃহে মিলিত হয়ে তরুণরা এই অন্যায়ের প্রতিকার সম্বন্ধে চিন্তা করতেন, এবং ‘জ্ঞানান্বেষণ’ ও ‘এনকোয়ারার’ পত্রিকায় সেই চিন্তার ও আলোচনার ফলাফল প্রতি সপ্তাহে প্রকাশ করতেন।

     

    আরও দেখুন
    বাইশে শ্রাবণ
    গ্রন্থাগার
    বইয়ের তালিকা
    লাইব্রেরি
    স্বাস্থ্য টিপস
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    ই-বই পড়ুন
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    বাংলা ই-বুক রিডার

     

    এমন সময় হঠাৎ একদিন একটি নাটকীয় ঘটনা ঘটে গেল। ঘটনার স্থান হল কৃষ্ণমোহনের বাড়ি এবং পাত্রদল হলেন তাঁর তরুণ বন্ধুবান্ধব। কৃষ্ণমোহনের পৈতৃক বাড়ি ছিল মধ্য কলকাতার গুরুপ্রসাদ চৌধুরী লেনে। তাঁর বাড়ির উত্তরে ভৈরবচন্দ্র ও শম্ভুচন্দ্র চক্রবর্তী নামে দু’জন নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ বাস করতেন। ২৩ আগস্ট, ১৮৩১। কৃষ্ণমোহন কোনো কাজে সেদিন বাইরে বেরিয়েছিলেন। তাঁর অনুপস্থিতিকালে বন্ধুবান্ধবরা দল বেঁধে তাঁর বাড়িতে এসে বৈঠকখানায় বসে হিন্দুদের গোঁড়ামি ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে গরম—গরম কথাবার্তা বলতে বলতে খুব উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। সেই উত্তেজনার বশে মেছুয়াবাজারের এক মুসলমানের দোকান থেকে রুটি ও গোমাংস নিয়ে এসে বাড়িতেই ভক্ষণ করতে আরম্ভ করেন। ব্যাপারটা তাতেই শেষ হয় না। ভক্ষণান্তে গোমাংসের হাড়গুলি উল্লাসধ্বনি দিতে—দিতে পাশের চক্রবর্তীদের বাড়ির ভিতরে নিক্ষেপ করা হয়। গোহাড়—গোহাড় ধ্বনি শুনে চক্রবর্তীরা হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে আসেন এবং ছেলেদের কীর্তি দেখে স্বভবত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। বালখিল্যদের এই ঔদ্ধত্য তাঁদের অসহ্য মনে হয়। ব্রাহ্মণপ্রধান পাড়ায় দারুণ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ক্রোধোন্মত্ত প্রতিবেশীরা কৃষ্ণমোহনের বন্ধুদের প্রহার করতে উদ্যত হন। অশ্রাব্য কটুবাক্য অভিসম্পাত তরুণদের উপর বর্ষিত হতে থাকে। প্রহারের ভয়ে তাঁরা বাড়ি ছেড়ে দৌড় দেন। কৃষ্ণমোহনের অগ্রজ ভুবনমোহন বাড়িতে ফেরামাত্র প্রতিবেশীরা সমস্বরে দাবি করেন যে, তাঁর ছোটোভাইটিকে কিছুতেই আর বাড়িতে স্থান দেওয়া চলবে না। আসামাত্রই বিদায় করতে হবে।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    ডিজিটাল বই
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    নতুন বই
    কৌতুক সংগ্রহ
    PDF
    ই-বই পড়ুন

     

    তা—ই করা হল। কৃষ্ণমোহন বাড়ি ফিরে আদ্যোপান্ত বিবরণ শুনে বিস্মিত ও দুঃখিত হলেন। সকলকে বুঝিয়েসুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করলেন, কিন্তু তাতে কোনো ফল হল না। পিতৃস্থানীয় প্রতিবেশীরা উত্তেজিত হয়ে তাকে অবিলম্বে বাড়ি ও পাড়া ছেড়ে চলে যেতে আদেশ করলেন। আদেশ তাঁকে শিরোধার্য করতে হল। কৃষ্ণমোহন পৈতৃক গৃহ ছেড়ে চলে গেলেন।

    গৃহত্যাগ করেও তিনি নিশ্চিত হতে পারলেন না। শোনা যায়, এই সময় তাঁকে রাস্তাঘাটে প্রহার করা, এমনকী গোপনে হত্যা করারও চক্রান্ত করা হয়েছিল। রাজনীতির যুগের আগেও দেখা যায়, ধর্মনীতির যুগে সমাজের বড়ো বড়ো দলপতিরা ভাড়াটে গুন্ডা পোষণ করতেন। বিধবাবিবাহ আন্দোলনের সময়, আরও প্রায় পঁচিশ বছর পরে বিদ্যাসাগরকে এইভাবে লাঞ্ছিত করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। রামমোহনকেও এরকম অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়নি তা মনে হয় না। কৃষ্ণমোহন ও তাঁর বন্ধুবান্ধবদের উপর আক্রোশের উপশম হল না সহজে। বাড়ি ছেড়ে চলে যাবার পর কলকাতা শহরে হিন্দু পল্লিতে আশ্রয় পাওয়া তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে উঠল। বন্ধু দক্ষিণারঞ্জন সাহস করে নিজের বাড়িতে তাঁকে আশ্রয় দিলেন। কিন্তু মাসখানেকের বেশি সেখানে থাকাও সম্ভব হল না। দক্ষিণার আত্মীয়স্বজন এবং সেই পাড়ার লোকজন সকলে ক্রমে তাঁদের আপত্তি জানাতে লাগলেন। অবশেষে ২৮ সেপ্টেম্বর, ১৮৩১ কৃষ্ণমোহন বন্ধুর বাড়ি ছেড়ে চৌরঙ্গি অঞ্চলে এক সাহেবের গৃহে অতিথিরূপে আশ্রয় নিতে বাধ্য হলেন। শহরের কোনো হিন্দু পল্লিতে কেউ তাঁকে আশ্রয় দিতে সাহস করলেন না।

     

    আরও দেখুন
    বুক শেল্ফ
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বাংলা অডিওবুক
    ডিজিটাল বই
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বাংলা বই
    পিডিএফ
    গল্প, কবিতা
    বইয়ের

     

    তরুণদের এই আচরণ অবশ্যই সমর্থনযোগ্য নয়। নিছক কিশোরসুলভ চাপল্যের বশেই তাঁরা এই অন্যায় কাজ করেছিলেন। পাখির নতুন ঠোঁট উঠলে বা ডানা গজালে যেমন সে ঘন—ঘন যত্রতত্র ঠোকরাতে এবং যেখানে খুশি উড়তে চেষ্টা করে, ডিরোজিওর তরুণ ছাত্ররাও কতকটা তা—ই করেছিলেন। নতুন প্রগতিবাদ, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সংস্কারমুক্তির আস্বাদ পেয়ে, প্রথম যৌবনের উদ্দামতায় তাঁরা নিঃসন্দেহে বেশ কিছুটা বেহিসেবি স্বেচ্ছাচারিতায় গা ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। তার জন্য কটুবাক্য ও কঠোরসমালোচনা দুয়েরই স্বাভাবিক গতি সর্বনাশের দিকে। কোনো সমালোচনাই উপযোগিতা ও উপকারিতার শোভন সীমানার মধ্যে গণ্ডিবদ্ধ থাকে না। সমালোচনার ইতিহাসে এটা চিরকালের একটা বড়ো কলঙ্ক।

    ডিরোজিয়ানদের সমালোচনার ক্ষেত্রেও রক্ষণশীল হিন্দুসমাজ এই কলঙ্ক থেকে মুক্ত হতে পারেননি। তা হতে হলে বিরোধীদের প্রতি যে মমত্ববোধ থাকা উচিত তা তাঁদের ছিল না। প্রবীণ ও নবীন দুই দলই পরস্পরের প্রতি অন্ধ বিদ্বেষভাব পোষণ করতেন। সেইজন্য কোনো পক্ষের সমালোচনাই সংগত ও শালীন হত না।

    গোহাড় নিক্ষেপের ঘটনার পর স্বভাবতই ডিরোজিওকেন্দ্রিক বিক্ষোভের তরঙ্গ আরও বেশি উত্তাল হয়ে ওঠে। এর কোনো ঘটনাই ডিরোজিওর উসকানিপ্রসূত নয়, কিন্তু তবু তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব ঘটনাচক্রে তাঁকেই তখন বহন করতে হচ্ছিল। ডিরোজিও তাঁর ছাত্রদের কখনো এ কথা বলেননি যে, অবাধ ব্যক্তিস্বাধীনতার নামে স্বেচ্ছাচারিতাকে প্রশ্রয় দিতে হবে, অথবা সামাজিক প্রগতিচেতনা এত উগ্র হবে যে, সাধারণ বিধিনিষেধ ও বাছবিচার করা চলবে না। তাই মনে হয়, হিন্দু কলেজ ছাড়ার পর তাঁর ছাত্ররা অত্যধিক উত্তেজনার বশে ঘটনাস্রোত যেদিকে প্রবাহিত করছিলেন তা তাঁর মনঃপূত ছিল না। তরুণদের অসংযত উচ্ছলতায় ডিরোজিও হয়তো কিছুটা বেদনা ও অস্বস্তিও বোধ করছিলেন। কিন্তু সামাজিক ঘটনার এগিয়ে চলার একটা নিজস্ব গতি ও ছন্দ থাকে এবং সবসময় তা নায়কের খেয়ালখুশি অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হয় না। ১৮৩১—এর এপ্রিলের পর থেকে ঘটনাস্রোত নিজস্ব গতিতেই ডিরোজিওর আয়ত্তের বাইরে চলে গিয়েছিল। তার প্রধান নায়ক হলেও পরে তিনি তার হাল ধরতে পারেননি। কিন্তু তা না পারলেও তরুণরা তাঁর সান্নিধ্য ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিতও হয়নি। চারদিকের আবর্তের মধ্যে তিনিই ছিলেন তাদের প্রেরণার উৎস। হাল ধরার মতো তার বয়স হয়নি, হাতও শক্ত হয়নি।

     

    আরও দেখুন
    বুক শেল্ফ
    বাংলা অডিওবুক
    বই পড়ুন
    বই
    বাংলা বই
    ডিজিটাল বই
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    Library
    Books
    রেসিপি বই

     

    নিরাশ্রয় হয়েও কৃষ্ণমোহন নিরুৎসাহ হননি। গৃহত্যাগ করার সময় তাঁর মানসিক অবস্থা কী হয়েছিল তা তিনি নিজেই লিখে গেছেন এই ভাষায় : ‘We left the home where we passed our infant days; we left our mother who nourished us in our childhood; we left our brother with whom we associated in our earliest days : we left our sisters with whom we sympathised since they were born.’ বিচ্ছেদের এই বেদনার সঙ্গে সামাজিক নির্যাতনও তাঁকে অনেক সহ্য করতে হয়েছে। তাঁর তরুণ বন্ধুবান্ধবরা তার খানিকটা অংশ গ্রহণ করলেও শিক্ষক ডিরোজিওকে অপমান ও বেদনার কথা মনে করে সমস্ত নির্যাতনই তরুণদের কাছে উপেক্ষণীয় মনে হয়েছে। নির্যাতন যখন সীমা ছাড়িয়ে গেছে, তখন তাঁদের মুখপত্র ‘এনকোয়ারার’—এর পৃষ্ঠায় তাঁরা জবাব দিয়েছেন এই ভাষায় :

    Persecution in high for we have deserted the shrine of Hinduism. The bigots are violent because we obey not the calls of superstition. Our conscience is satisfied, we are right; we must persevere in our career. If opposition is violent and insurmountable, let us rather aspire to martyrdom than desert a single inch of the ground we have possessed. Conspiracies are daily formed to hurt us in every possible way. Circulars stuffed with falsehoods have been issued to dafame our character : and all cruelties which the rage of malice and the heat of fanaticism can invent, have been planned to be exercised upon us. But we will stand persecution. A people can never be reformed without noise and confusion.

    ‘আমরা হিন্দুধর্মের পবিত্র দেবালয় পরিত্যাগ করেছি বলে আমাদের উপর নিষ্ঠুর নির্যাতন করা হচ্ছে। কুসংস্কার আমরা বর্জন করেছি বলে অতিধার্মিকরা আমাদের উপর খড়্গহস্ত হয়েছেন। আমরা যা করছি তা ন্যায়সংগত বলেই আমাদের বিবেকবুদ্ধিসম্মত। ধৈর্য ধরে আমরা তা করব প্রতিজ্ঞা করেছি। বিরোধীরা যদি ক্রোধে আত্মহারা ও মারমুখী হয়ে ওঠেন, আমরা মৃত্যুও বরণ করতে রাজি আছি। কিন্তু আমাদের সংগ্রামলব্ধ স্বাধীনতা একতিলও আমরা ছাড়তে ইচ্ছুক নই। আমরা জানি, প্রতিদিন আমাদের আঘাত করার জন্য বিরোধীরা নানা রকমের চক্রান্ত করছেন। আমাদের স্বভাবচরিত্র সম্বন্ধেও মিথ্যা কলঙ্ক রটাচ্ছেন তাঁরা প্রচারপত্র বিলি করে। বিদ্বেষ ও ধর্মান্ধতাপ্রসূত যত রকমের নির্দয় অপকৌশল আছে, সব তাঁরা একে—একে আমাদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সর্বপ্রকারের অত্যাচার আমরা সহ্য করতে প্রস্তুত। আমরা জানি, একটা জাতিকে সংস্কারমুক্ত ও উন্নতচিত্ত করতে হলে বাইরে খানিকটা কোলাহল ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হবেই।’

    ডিরোজিও একদিন তাঁর তরুণ প্রতিভাবান ছাত্রদের ভবিষ্যৎ জীবনের কথা মনে করে কাব্য রচনা করেছিলেন। কবি—কল্পনায় তরুণদের আহ্বান করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি দেখছি, সদ্যফোটা ফুলের মতো পাপড়ি মেলে তোমাদের প্রতিভার মুকুল ফুটে উঠেছে, মনের কপাট খুলে যাচ্ছে একে—একে এবং যে মোহের বন্ধনে তোমাদের প্রচণ্ড ধীশক্তি আজ শৃঙ্খলিত তা—ও ক্রমে ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। পাখির ছানার মতো তোমাদের ডানা—ঝাপটানি শুনছি আমি, আর কান পেতে আছি কবে নীড়ের বন্ধন ছেড়ে, মুক্ত ডানায় ভর দিয়ে উধাও হবে তোমরা অনন্ত আকাশের সীমানা—সন্ধানে।’

    বাংলার তরুণদের এই শক্তিপরীক্ষা শুরু হল ১৮৩১—এর আগস্ট—সেপ্টেম্বর থেকে। ডিরোজিও মনে মনে বুঝলেন, সামাজিক প্রগতি ও কল্যাণকামনায় উদ্বুদ্ধ এই তরুণের দল ভুল করবে অনেক, পদে—পদে অন্যায়ও করবে এবং সংযম ও শৃঙ্খলার বাঁধও ভাঙবে বারবার। তাদের দীক্ষাগুরু হলেও, এই দুর্বার অভিযান প্রতিরোধ বা সংযত করার সাধ্য তাঁর নেই। সংগ্রামের জয়—পরাজয় ও ফলাফল সবই অনিশ্চিত, কিন্তু সংগ্রামের সৈনিক যারা, প্রেরণা তাদের অফুরন্ত। মানুষের কল্যাণ, সমাজের উন্নতি, দেশের অগ্রগতি, ব্যক্তির মুক্তি, অজ্ঞানের জ্ঞান, অন্ধের দৃষ্টি, পঙ্গুর চলচ্ছক্তি, বোবার বাকশক্তি—এইরকম শতমুখ থেকে উৎসারিত তাদের প্রেরণা। এ যেন ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’। তাই এ সংগ্রামের হয়তো—বা শুরু আছে, গতি আছে, কিন্তু শেষ নেই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমেট্রোপলিটন মন মধ্যবিত্ত বিদ্রোহ – বিনয় ঘোষ
    Next Article বাংলার নবজাগৃতি – বিনয় ঘোষ

    Related Articles

    বিনয় ঘোষ

    কলকাতা শহরের ইতিবৃত্ত ২ – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    জনসভার সাহিত্য – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    বাংলার বিদ্বৎসমাজ – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    বাংলার সামাজিক ইতিহাসের ধারা – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    কলকাতা শহরের ইতিবৃত্ত ১ – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    বিনয় ঘোষ

    বাদশাহী আমল – বিনয় ঘোষ

    November 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }