Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    থ্রিলার পত্রিকা এক পাতা গল্প678 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    জায়নাবের ডায়েরি – ১০

    (১০)

    জয়নাবের ডায়েরি

    ২৩শে ফেব্রুয়ারি, সন্ধে সাড়ে ছ-টা

    সম্পর্কে ছোটোখাটো সারপ্রাইজ থাকলে সে সম্পর্ক সব থেকে সুন্দর হয়ে ওঠে। সুহেল আজ ডিউটি যায়নি, কাল যাবে শুনে ফতিমা শিশুর মতো লাফাতে লাফাতে আমাকে সে খবর দিতে চলে এসেছিল।

    আমি বললাম, “মাশাল্লাহ, এ তো খুব ভালো খবর, তুমি আমার কাছে না এসে তোমার বরের কাছে যাও। আচ্ছা পাগলি তো তুমি।”

    ফতিমা লজ্জা পেল, জিভ কাটল এবং আবার নিজের কোয়ার্টারের দিকে রওনা দিল। আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। আমাদের জীবন থেকে এরকম রোম্যান্স করেই বিদায় নিয়েছে।

    ওমর বাড়ি ফিরলে এই খবরটা শুনে একটা নীরস ‘ও আচ্ছা?’ বলা ছাড়া যে আর কিছু করবে না, সেটা আমার থেকে ভালো আর কে জানে?

    আমার সময়টাই নেই, আমার কোনো কথাও শুনবে না। আজ ওমরের আম্মিও ফোন করেছিলেন। তিনি জানালেন এখনই আসতে পারবেন না। আমি অরফ্যানেজের কথাটা বলায় শুধু বললেন, আমরা যা ভালো বুঝে সিদ্ধান্ত নেব, উনি তাতেই খুশি। আমার মাঝে মাঝে ভীষণ কান্না পায়। সবাই কেমন আমার থেকে দূরে চলে যাচ্ছে।

    আমি লাঞ্চের পর আবার মলে গিয়ে ঘুরলাম। এটা সেটা আজেবাজে জিনিস কিনলাম। একই বই, আমি জানি সেটা আমার কাছে আছে, আর একবার কিনে ফেললাম। প্রায় দু-ঘণ্টা একা একা ঘোরার পর কোয়ার্টারে ফিরতে গিয়ে আমাদের আর্মি কোয়ার্টারের রাস্তায় আসিফকে পেলাম। চিন্তিত মুখে একটা গাছের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে কী যেন দেখছিল। ওকে গাড়িতে তুলে নিয়ে বললাম, “সত্যি করে বল তো আসিফ, তুমি কী আমাকে ফলো করছ? কোন খুফিয়া মিশন আছে তোমার?”

    আসিফ বলল, “না, আজকে আমি ইসলামাবাদের গাছগুলো মন দিয়ে দেখছিলাম। তুমি খেয়াল করেছ জায়নাব, পাকিস্তানের অন্যান্য শহরে ইসলামাবাদের মতো এত গাছ নেই। কেন বলতো? প্ল্যান করে শহরটা হয়েছে বলে?”

    আমি বললাম, “লাহোরেও অনেক গাছ আছে। তুমি লাহোর ভুলে গেলে কী করে তাই ভাবছি।”

    আসিফ বলল, “লাহোর ভুলব তা কী করে হয়? তোমাকেও তো ভুলতে পারিনি। গাড়িটা দাঁড় করাও জায়নাব, তোমায় একটা কথা বলার আছে।”

    আমি গাড়িটা দাঁড় করালাম। আমার অবচেতন বলছিল আসিফ আমাকে কিছু কথা বলতে চায়। ঠিক এই কারণেই আমি যেখানে গেছি, ওকে দেখতে পেয়েছি। ও ইচ্ছে করে আমার পথে চলে এসেছে বার বার।

    বললাম, “বল কী বলবে।”

    আসিফ চারদিকে দেখে নিয়ে বলল, “জায়নাব, আমরা দেশ হিসেবে খুব বড়ো একটা পাপ করছি।”

    আমি অবাক হলাম, “মানে? মাঝরাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে হেঁয়ালি করছ কেন বল তো? কী ব্যাপার?”

    আসিফ পকেট থেকে ওর ফোন বের করে একটা ফটো এগিয়ে দিল আমার দিকে। একটা ট্রাকে গবাদি পশুর মতো ছোটো ছোটো বাচ্চাকে গাদাগাদি করে বসিয়ে কোথাও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বাচ্চাগুলো কালো জামা পরে আছে।

    আমি বললাম, “ঈশ, কী করুণ এই ছবিটা। এটা তুমি কোথায় পেলে?”

    আসিফ বলল, “আমরা এই বাচ্চাদের ইন্ডিয়ান বর্ডারে পাঠাই, নিরস্ত্র। দু-পক্ষের গুলি চালাচালির মাঝে এই বাচ্চাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পাকিস্তান।”

    আমি শিউরে উঠলাম, “সে কী?”

    আসিফ বলল, “হ্যাঁ, এবং এই বাচ্চাগুলো কেউ বেঁচে থাকে না জায়নাব। গুলি খেয়ে বর্ডারে মরে পড়ে থাকে। একবার কল্পনা কর শুধু।”

    আমার মাথা ঘোরাচ্ছিল। বললাম, “তুমি এগুলো কী করে জানলে?”

    আসিফ বলল, “আমি ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়ায় কাজ করি। শুধু এই খবরটা কভার করতে আমাকে পাঠানো হয়েছে। তোমার হাজব্যান্ডও যদি জানে আমি এই কাজে যুক্ত, তাহলেও আমার জীবন বিপন্ন হতে পারে।”

    আমি বললাম, “না না, ওমর ওরকম লোকই না।”

    আসিফ হাসল, বলল, “ওমরও যুক্ত আছে এই কাজে। হিউম্যান ট্র্যাফিকিং, হিউম্যান শিল্ড, বাচ্চাদের সুইসাইড বম্বার বানানোর কাজে… সব কিছুতেই জড়িত আছে।”

    আমি স্তম্ভিত হয়ে বসে রইলাম। সত্যি বলতে কী, কথাগুলো ভাবলে এখনও আমার সমস্ত বোধবুদ্ধি শূন্য হয়ে যাচ্ছে।

    বললাম, “আমার থেকে কী চাইছ তুমি?”

    আসিফ বলল, “তোমার হাজব্যান্ডের গোপন ফাইলগুলো তোমাদের কোয়ার্টারেই থাকে।”

    কথাটা বলে আসিফ চুপ করে গেল।

    আমি রেগে গেলাম এবার। বললাম, “গাড়ি থেকে নেমে যাও আসিফ। তোমার উদ্দেশ্য একবারেই ভালো না।”

    আসিফ কাতর মুখে বলল, “প্লিজ জায়নাব। ওমরের থেকে আমি পাকিস্তানকে কোনো অংশে কম ভালোবাসি না। তুমি নিজে একবার ভেবে দ্যাখো, ওই ছোটো বাচ্চাগুলোর কী দোষ? ওদের কী সেই বিচার বুদ্ধি হয়েছে যে ওরা সুইসাইড বম্বার হতে চলে যাচ্ছে? আমরা সব জেনে চুপ করে থাকলে তো ওদের খুনের দায়ে আমাদের হাতও রক্তাক্ত হয়ে যাচ্ছে, তাই না? উসমান অরফ্যানেজে গোটা দেশের বাচ্চাদের একত্রিত করা হয়। তারপর একটা করে লট ওরা কাশ্মীরে পাঠায়। কোনো অপারেশন এক মাস পর পর হয়। কোনোটা এক বছর। ওই বারো তেরো বছরের বাচ্চাগুলোর মধ্যে সাতজন বর্ডারে ইলেকট্রিক শক খেয়ে মারা গেছিল। ভাবো একবার।”

    আমি সকালেই উসমান অরফ্যানেজে গেছিলাম। আসিফের কথা শুনে একটু চমকে উঠলাম। বললাম, “তুমি সত্যি বলছ, ওমর আছে এর মধ্যে?”

    আসিফ বলল, “হ্যাঁ, শুধু ওমর না। এবার থেকে তোমার প্রতিবেশি সুহেলও প্রত্যক্ষভাবে এই কাজটা করবে। দেশ হিসেবে আমরা অনেকদিন আগেই সব যুদ্ধে হেরে গেছি। এই যুদ্ধটা আমরা যদি দেশের ভেতর থেকে ঠিক না করতে পারি, সেই হারের লজ্জা পুরো পাকিস্তানবাসীর হবে।”

    আমি বললাম, “ঠিক আছে, আমি ওমরের সঙ্গে এই ব্যাপারে আজকেই কথা বলব।”

    আসিফ বলল, “একবারে না। ওমরকে এই কথা কোনোভাবেই বলে লাভ নেই। ওমররা এই সিস্টেমের অংশ। তুমি চেষ্টা করে দ্যাখো যদি কোনোভাবে উসমান অরফ্যানেজের কোনো ফাইল ওমরের থেকে পেতে পারো। যদি পাও, তাহলে বাচ্চাগুলোকে বাঁচাতে পারব। নইলে…”

    আসিফ চুপ করে গেল।

    আমার হাত-পা কাঁপছিল। একটু ‘আম্মি’ ডাক শুনব বলে আমি শেষ হয়ে যাচ্ছি আর ওমর এত কিছু করে ফেলছে? ওর কী একবারও আমার কথা মনে হল না?

    আসিফ বলল, “আমার নাম্বারটা সেভ করে নাও। যা পাবে আমাকে পাঠাবে। আর অবশ্যই সাবধানে পাঠিও। মনে রেখ, ওমর তোমাকে যতই ভালোবাসুক, ও যদি তোমার সম্পর্কে বিন্দুমাত্র সন্দেহ করে, তোমাকে মেরে ফেলতে ওর এক মুহূর্তও লাগবে না।”

    আমি শিউরে উঠলাম। আজ থেকে আমি এই ডায়েরিটা আমার লকারে রাখব। একটা দুপুর আমার জীবনটাকে এভাবে তছনছ করে দিতে পারে, আমি ভাবতেও পারিনি।

    (১১)

    “সুলতান সাহেবের জোকটা কেমন লাগল?”

    রাত ন-টা। কলিং বেলের শব্দ শুনে দরজা খুলে সুহেল দেখল বাইরে ওমর দাঁড়িয়ে আছে। হাতে একটা স্কচের বোতল।

    সুহেল হেসে বলল, “এস, এরকম সারপ্রাইজ পাব, আমি ভাবতেই পারিনি।”

    ওমরকে নিয়ে স্টাডিরুমে ঢুকল সুহেল।

    টেবিলে বোতলটা রেখে ওমর বলল, “আমাকে সুলতান সাহেব ফোন করেছিলেন। তোমাকে আর একবার ব্রিফ করে দিতে বললেন।”

    সুহেল বলল, “আমি যতটা বুঝেছি, বলি?”

    “গো অ্যাহেড।”

    “উসমান সাহেবের অ্যাসাইনমেন্ট পাঠাবেন, আমরা তাদের বর্ডারে পাঠাব লোকেশন অনুযায়ী, পরদিন মৌলানার সঙ্গে দেখা করতে হবে। ঠিক বলছি?”

    ওমরের মুখে হাসি ফুটে উঠল, “টু হান্ড্রেড পারসেন্ট। এবং এই ওপেন সিক্রেটটা কোথাও আলোচনা করা যাবে না। আমরা খুব বড়ো একটা কিছু প্ল্যান করছি সুহেল।”

    সুহেল বলল, “সেটা কী আমি এখন জানতে পারব? না সময়ে জানানো হবে?”

    ওমর বলল, “আমরা যত কম জানতে পারব, আমাদের জন্য সেটা তত ভালো হবে। বুঝতেই পারছ, কাশ্মীর ইস্যুটা আমাদের কাছে কতটা সেনসিটিভ।”

    সুহেল বলল, “তা আর বলতে। এই বিষয়টা কী আমাদের ওপর মহল…”

    ওমর বলল, “সবাই জানে। এটা একটা সিক্রেট অপ। কাশ্মীরে পাকিস্তান এই মুহূর্তে অনেকটাই ব্যাকফুটে আছে। ইন্ডিয়া নতুন নতুন কনস্ট্রাকশন করছে, আম কাশ্মীরিদের অনেক রকম প্রলোভন দেখাচ্ছে। এই মুহূর্তে আমরা যদি হস্তক্ষেপ না করি, তাহলে ভবিষ্যতে কাশ্মীর থেকে আমাদের হাত ধুয়ে ফেলতে হবে।”

    সুহেল গ্লাসে স্কচ ঢালল। বরফ আনতে গিয়ে দেখল ফতিমা থমথমে মুখে বসে আছে। সে গলা নামিয়ে বলল, “খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা হচ্ছে। রাগ কর না প্লিজ।”

    ফতিমা বলল, “হ্যাঁ, দেখতে পাচ্ছি কত গুরুত্বপূর্ণ কথা বলছ। মদ খাবে বলে বরফ নিতে এসেছ।”

    সুহেল কথা না বাড়িয়ে স্টাডিতে ঢুকে গেল।

    ওমর গ্লাসে চুমুক দিয়ে বলল, “ওপাশে আমাদের জিনিসপত্র স্টোর করার কাজ শুরু হয়েছে। অস্ত্র, আর ডি এক্স… সব। এ-প্রান্ত থেকে রিসোর্স না পাঠালে ও-পারে আমাদের লোক কাজ করবে কী করে? অ্যালারমিং একটা বিষয় হল আগে কাশ্মীরের ওদিক থেকে অনেক যুবক এ-পারে ট্রেনিং নিতে আসত। এখন সংখ্যাটা কমছে। দিল্লি ওদের অনেক রকম লোভ দেখাচ্ছে। আগেরদিন প্রেসিডেন্ট সাহেব বলছিলেন দিল্লির এই লোভ দেখানোটাই বন্ধ করতে হবে। বাই দ্য ওয়ে, প্রেসিডেন্ট সাহেব কিন্তু তোমার নাম জানেন। আমি ওকে তোমার কথা বলেছি। সুলতানের উত্তরসুরি নিয়ে উনি চিন্তিত ছিলেন। আমি বুঝিয়েছি তোমাকে আমি অনেকদিন ধরে চিনি। তুমি সুলতানের থেকেও অনেক ভালোভাবে কাজটা করতে পারবে।”

    সুহেল কৃতজ্ঞ বোধ করল, বলল, “অনেক শুক্রিয়া তোমাকে।”

    ওমর বলল, “আমাদের কাজের সব থেকে বড়ো কথা হল গোপনীয়তা। মনে রাখবে, তুমি যখন মৌলানার সঙ্গে দেখা করতে যাবে, তখন তুমি একা যাবে। তোমার সঙ্গে যেন কেউ না যায়। ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে লক্ষ রাখবে তোমাকে কেউ ফলো করছে নাকি। যদি ফলো করে, তবে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেবে।”

    সুহেল বলল, “ঠিক আছে, এভাবেই আমি কাজ করব। আমি জানি, আমি পারব।”

    ওমর হঠাৎ উঠে দাঁড়াল, “আমি এবার উঠি। মনে রেখ, এই কাজটা সফলভাবে করতে পারলে ভবিষ্যতে তোমার অনেক লাভ হবে।”

    সুহেল বলল, “ইন্ডিয়া যখন এই ছেলেগুলোকে ধরবে, ওদের মধ্যে যদি কেউ বলে দেয় আমরা এভাবে ওদের পাঠাচ্ছি?”

    ওমর বলল, “বলবে না। এই ছেলেদের সেভাবেই তৈরি করা হয়। হয় ওরা মরবে, নয় মারবে। ছোটো থেকে ওদের ওভাবেই তৈরি করা হয়।”

    সুহেল বলল, “যাক, তাহলে আর চিন্তার কিছু নেই। ইন্ডিয়া এবার বুঝবে, পাকিস্তান কী করতে পারে।”

    ওমর বলল, “আর কাউকে….”

    সুহেল ওমরের কথা শেষ হবার আগেই বলল, “বলব না। কোনো প্রশ্নই ওঠে না কাউকে কিছু বলার।”

    ওমর শুভরাত্রি বলে বেরিয়ে গেল। ঘরের বাইরে গিয়ে সুহেল দেখল ফতিমা বিরক্ত মুখে বসে আছে। তাকে দেখে বলল, “প্রতিদিন মদ খাওয়াটা আমি পছন্দ করছি না।”

    সুহেল কান ধরল, “আর হবে না। নিশ্চিন্ত থাকো তুমি।”

    (১২)

    জায়নাবের ডায়েরি
    ২৪শে ফেব্রুয়ারি, সকাল দশটা

    সারারাত আমি ঘুমোতে পারিনি। আসিফকে আমি আজ থেকে দেখছি না। আমাদের বাড়িতে যখন বাবার কাছে ছেলেটা আসত, তখন থেকেই জারনালিজমের প্রতি ওর ভালোবাসার কথা বলত। তবু একবার আমার আপাকে ফোন করেছিলাম কাল রাতে। আপাকে তো সরাসরি আসিফের কথা বলা যায় না, এ-কথা সে-কথা বলে তারপর হঠাৎ করে বলেছি, “শোন না আপা, তোর আসিফকে মনে আছে? আমাদের বাড়ি আসত?”

    আপা বলল, “হ্যাঁ, কেন মনে থাকবে না? কী হয়েছে?”

    আমি বললাম, “ওর সঙ্গে দেখা হয়েছিল এখানে। ও কিছুদিনের জন্য দেশে এসেছে। এখন বাইরে থাকে।”

    আপা বলল, “বাঃ। লাহোর আসবে না? আবার দেখা হলে আমাদের সঙ্গে দেখা করে যেতে বলবি। আম্মি খুব খুশি হবে।”

    আমি বললাম, “আচ্ছা আপা, তোর ওকে কেমন ছেলে বলে মনে হয়?”

    আপা অবাক হয়ে বলল, “এ কেমন প্রশ্ন? কেমন ছেলে বলে মনে হবে মানে?”

    আমি বললাম, “মানে বল না, কেমন বলে মনে হয়? ভালো? বিশ্বস্ত?”

    আপা বলল, “কী হয়েছে বল না?”

    আমি লজ্জা পাবার ভান করে বললাম, “আমার মনে হত ও আমাকে ভালোবাসে।”

    আপা বলল, “ধুস, না না। ও বিশ্বস্ত ছেলে, ওসব ছিল না। ভাবিস না। কেন তোর আবার এখন এসব মাথায় আসছে নাকি?”

    আমি বললাম, “না না। ধুস। কী যে বলিস। এমনি জিজ্ঞেস করলাম। সিস্টার টু সিস্টার টক। এমনি জানতে চাইলাম। টিনেজের কৌতূহল ছিল তো, তাই আর কী। তখন লজ্জা পেতাম।”

    আপা বলল, “না না ওসব কিছু ভাবিস না। ও ভালো ছেলে। লাহোরেই থাকত, আব্বু ওকে খুব বিশ্বাস করত। ওরকম কিছু না।”

    আমি আশ্বস্ত হলাম। আমারও আসিফকে কোনোদিন খারাপ ছেলে বলে মনে হয়নি। আসিফের কথা অবিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছিল না।

    আবার ওমরকেও বা কী করে অবিশ্বাস করি? প্রথম যেদিন ওমরকে দেখেছিলাম, সেদিনই ওর প্রেমে পড়েছিলাম। অসম্ভব হ্যান্ডসাম, পেটানো চেহারা, বলিউডের যে কোনো হিরো ওর কাছে প্রতিযোগিতায় যে-কোনো দিন হেরে যাবে। ওর চোখ দুটোর মধ্যে এক আশ্চর্য মাদকতা ছিল। আমার মনে হত বাকি জীবনটা আমি ওর চোখের দিকে তাকিয়েই কাটিয়ে দিতে পারি।

    ও আর্মিতে না গিয়ে শায়েরও হতে পারত। চোখ দুটো যে কাউকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবার ক্ষমতা রাখে। এমন ছেলেটা এরকম কাজ করছে ভাবতে আমার কষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু আমি জানি, ওমর এই কাজ করতে পারে। ওই কবির মতো চোখ দুটোয় আমি নিষ্ঠুরতা দেখেছি।

    যে সেনাবাহিনীকে আমরা এত শ্রদ্ধা করি, যে কাজকে এর অ্যাডভেঞ্চারাস ভাবতাম, এত রোম্যান্টিসিজম ছিল আমার যার ওপরে, তারা কী করতে পারে আমি কাশ্মীরে দেখেছি। এক সতেরো আঠেরো বছরের ছেলেকে আমার চোখের সামনে ওমরের নির্দেশে গুলি করে মারা হয়েছিল সেদিন।

    ওমর ধীর স্থির শান্ত প্রকৃতির ছেলে। ওর চোখে প্রেমের পরিবর্তে সেদিন ভয়ংকর এক খুনিকে দেখতে পেয়েছিলাম আমি।

    খুন যাকেই করা হোক, সে যতই দেশদ্রোহী হোক, যে খুনি, তার চোখ অন্যদের মতো হবে না। আলাদাই হবে।

    ওমরকে আমি সেদিন থেকেই ভয় পেতে শুরু করেছিলাম। কিন্তু আসিফের কথা শুনে আমার মনের কোণে একটু একটু করে ঘৃণাও জন্মাচ্ছে। শুধু ওমরের ওপরে না, আমার দেশের ওপরে না, এই সমস্ত কিছুর ওপরে, যেখানে একজন একরত্তি ছেলেকে ওরা মরতে পাঠিয়ে দিচ্ছে তাদের অজান্তেই।

    রাতে সুহেলের কোয়ার্টার থেকে ও যখন এসেছিল, আমি শোয়ার ভান করে বিছানায় পড়েছিলাম। ওমর আমাকে ডাকলও না। নিজের আলমারি খুলে কাগজপত্র বের করে অনেকক্ষণ কাজ করে সোফাতেই ঘুমিয়ে পড়েছিল।

    ওমর কোথায় ওর আলমারির চাবি রাখে, আমি জানি। ওমর ওর লকারের পাস কোড কাউকে বলে না, তবে আমি সেটাও জানি। কৌতূহলবশতঃ ও যখন ছিল না, একবার লকার খুলে দেখেওছিলাম। একটা নোটপ্যাডে সাঙ্কেতিক কিছু লেখা ছিল। আর্মি কোড বা ওই ধরনের কিছু হবে বুঝে আমি বেশি না ঘেঁটেই রেখে দিয়েছিলাম। ঠিক করলাম ওগুলোরই ছবি তুলে আসিফকে পাঠাব। ওতে যদি কিছু বাচ্চার প্রাণ বাঁচে, তো বাঁচুক। এতে যদি আমি দেশদ্রোহী হই, তো হলাম। আমার কিছু যায় আসে না।

    ওহ, আর একটা কথা লিখতে ভুলে গেছিলাম, আমি ব্রেকফাস্টের সময় ওমরকে বলে দিয়েছি বাচ্চাটা যেন তাড়াতাড়ি দত্তক নেওয়া হয়। নিজের মনেই বার বার একটা কথা ঘুরে বেড়াচ্ছে কাল থেকে। দত্তক না নিলে যদি ওরা ওই বাচ্চাটাকেই মরতে পাঠিয়ে দেয়?

    (১৩)

    ২৪শে ফেব্রুয়ারি, মুজফফরাবাদ, পাক অধিকৃত কাশ্মীর

    দুপুর বারোটা।

    লাঞ্চ শুরু হয়েছে। সুহেল সুলতানের সঙ্গে খেতে বসেছে।

    সুলতান বললেন, “বউয়ের কাছে ফিরে কেমন লাগল?”

    সুহেল বলল, “ভালো লেগেছে জনাব।”

    সুলতান বললেন, “আর এখন মন খারাপ?”

    সুহেল হাসল, “না না জনাব। মন খারাপ কেন হবে? মন খারাপ করার উপায়ই নেই। এখানে তো সবাই আছে। মন খারাপ কেন হবে?”

    সুলতান বললেন, “ঠিক। কাজের জায়গায় কোনো মন খারাপ নেই। সবটাই আমাদের কর্তব্য। ওমরের সঙ্গে কথা হয়েছে?”

    সুহেল বলল, “জি জনাব। আমাকে সব নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সবাই আপনার অবসর নিয়েই চিন্তিত। আপনি এত কাবিল একজন অফিসার ছিলেন।”

    শেষের কথাগুলো সুহেল সুলতানকে খুশি করতেই বলল। সুলতান খুবই খুশি হলেন, “সে যা-ই হোক, আমি আমার ব্যাটন একজন আমার মতোই কাবিল অফিসারকে দিয়ে যাচ্ছি, এতেই আমি সন্তুষ্ট। উসমানের সঙ্গে টিউনিংটা ঠিক রেখ। উসমান খুব কঠিন একটা কাজ করছে।”

    সুহেল বলল, “অবশ্যই জনাব।”

    সুলতানের ফোন বেজে উঠল, সুলতান ফোনে কথা বলতে বলতেই উত্তেজিত হয়ে উঠে দাঁড়ালেন। মিনিট খানেক পর ফোন রেখে এসে সুহেলকে বললেন, “তুমি কী এই ব্যাপারে কাউকে কিছু বলেছ?”

    সুহেল মাথা নাড়ল, “না জনাব। আমার স্ত্রী-ও এই ব্যাপারে কিচ্ছু জানে না।”

    সুলতান সুহেলের কলার চেপে ধরল, “সত্যি করে বল। মনে রেখ, তুমি মিথ্যে বললে আমার থেকে খারাপ আর কেউ হবে না।”

    সুহেল অসহায় কণ্ঠে বলল, “বিশ্বাস করুন জনাব, আমি কাউকে কিছু বলিনি। আপনি আমাকে খুব ভালো করে চেনেন, এতগুলো অপে আমি আপনার সঙ্গে কাজ করেছি। কখনও মনে হয়েছে আমি মন্ত্রগুপ্তি ভাঙতে পারি?”

    সুলতান সুহেলের কলার ছেড়ে দিলেন। হাত ধুয়ে এসে বললেন, “আজ আর খাওয়া হবে না।”

    সুহেল বলল, “কিন্তু কী হয়েছে জনাব?”

    সুলতান বললেন, “ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়ায় ইন্ডিয়া থেকে দাবী করা হয়েছে আমরা এখানে চাইল্ড ট্র্যাফিকিং করছি। তুমি সবে আমার থেকে কাজটার হ্যান্ডওভার পেলে আর এখনই এটা নিউজ হতে হল?”

    সুহেলের মুখ সাদা হয়ে গেল, “বিশ্বাস করুন জনাব, এটা বড়ো কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ। আপনি আমার ফোন চেক

    করুন, সব কিছু মিলিয়ে দেখুন, আমি আমার দেশের সঙ্গে এত বড়ো গদ্দারি কিছুতেই করতে পারব না।”

    সুলতান থমথমে মুখে কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে বেরিয়ে নিজের চেম্বারে গেলেন। আই.এস. আই. চিফের ফোন আসছে। ফোন ধরে বললেন, “জনাব।”

    “আপনি সুহেলকে সরিয়ে দিন। ও যে কেপেবল না, ও প্রমাণ করে দিয়েছে। শুট হিম।”

    সুলতান বললেন, “জনাব, আমাকে একটু সময় দিন। আমি বিশ্বাস করি না সুহেল এই কাজ করতে পারে। আমার মনে হয় অন্য কেউ আছে। ও যথেষ্ট দায়িত্ববান অফিসার। আমি ওর গ্যারান্টি নিচ্ছি।”

    ‘এক দিন। এর মধ্যে আপনি খুঁজে বের করুন কোত্থেকে খবর লিক হয়েছে। ওরা ছবি পেল কী করে? আপনি আপনাদের ক্যাম্পের ভেতরেই তো আনলোডিং করেছিলেন?”

    “জি জনাব।”

    “তাহলে আপনাদের ক্যাম্প থেকেই খবর লিক হয়েছে। রিপোর্ট মি এসাপ!”

    “রাইট জনাব।”

    ফোন কেটে গেল। সুলতানের চোখ লাল হয়ে গেছে। এতদিন ধরে নির্বিঘ্নে এত বড়ো কাজ করে এসেছেন, এর মধ্যে খবর লিক হয়ে গেল? একদিনের মধ্যে কী-ই বা করবেন তিনি?

    ফোন তুলে ক্যাম্পের সিকিউরিটি অফিসারকে ডেকে পাঠালেন। ভদ্রলোক তার চেম্বারে প্রবেশ করামাত্র তিনি বললেন, “এই ক্যাম্পের প্রত্যেকের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করা শুরু করেন। যাকে সন্দেহ হবে, লোকাল ইনফরমারদের সঙ্গে কন্ট্যাক্ট করে জানার চেষ্টা করুন এরা সত্যিই ওই এলাকার ছেলে নাকি।”

    সিকিউরিটি অফিসার চোখ উলটে বললেন, “জনাব, এই ক্যাম্পে অন্তত তিন হাজার জওয়ান আছে। এতজনের মধ্যে কাউকে খোঁজা সম্ভব?”

    সুলতান বললেন, “সেটা আপনার মাথাব্যথা। আপনি খুঁজে বের করুন কীভাবে কী করবেন। এই ক্যাম্প থেকে ছবি লিক হয়েছে। ক্যাম্পের ছবি বাইরে পাঠানো হয়েছে। কী করে হয়েছে, বের করুন।”

    কাঁচুমাচু মুখে সিকিউরিটি ইন চার্জ কাতর কণ্ঠে বললেন, “আপনি যেমন বলবেন জনাব!”

    (১৪)

    জায়নাবের ডায়েরি
    চব্বিশে ফেব্রুয়ারি, রাত আটটা

    আজ অনেক কিছু হল। অনেক কিছু…

    বারোটা নাগাদ ঘামতে ঘামতে ওমর এসে হাজির হয়েছে।

    দরজা খুলে ওকে দেখে বিধ্বস্ত মনে হল।

    আমি বললাম, “কী হয়েছে?”

    ওমর চোয়াল শক্ত করে মাথা নেড়ে বলল, “কিছু হয়নি। স্নান করতে হবে।”

    বলে সরাসরি বাথরুমে ঢুকে গেল। টেবিলের ওপর ওর ফোন রাখা ছিল। ফোনের রিংটোন বাজতে শুরু করে দিয়েছে। ওমর বাথরুমে থাকলে আমি ফোন ধরি না। তবে টেবিলের কাছে গিয়ে দেখলাম প্রেসিডেন্ট হাউজ থেকে ফোন আসা শুরু হয়েছে। বাথরুম থেকে বেরিয়ে ও ফোন ধরে ওর ঘরে চলে গেল। মিনিট খানেক পরে বেরিয়ে এসে ড্রইংরুমে টিভি চালাল। ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়ায় বাচ্চাদের ছবিটা দেখানো হচ্ছে।

    আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কী হয়েছে?”

    ওমর চোখ মুখ কুঁচকে বলল, “কিছু হয়নি। ফালতু কতগুলো মিডিয়া, কোনো খবর নেই। ফালতু জিনিস দেখাতে শুরু করেছে।”

    পরক্ষণেই শ্লেষাত্মক কণ্ঠে বলল, “ওই সুহেল আজ ভোরেই বেরিয়ে গেছে না?”

    আমি বললাম, “জি, গাড়ি আসতে দেখেছিলাম তো! তারপর অবশ্য ফতিমার সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। কেন বল তো?”

    ওমর বলল, “ফালতু ছেলে। একটা কাজ দেওয়া হয়েছিল। সেটাও ভালো করে করতে পারল না। এই জন্য বলে এই সব করাচির ছেলেদের ওপর বিশেষ ভরসা করতে নেই। লোকাল ট্রেনে পকেটমারি আর ছিনতাইয়ের কাজই এরা ভালো জানে। আর্মি-ফার্মি এদের জন্য না।”

    আমি বললাম, “এভাবে বলছ কেন? ওরা তো খুবই ডিসেন্ট ফ্যামিলি।”

    ওমর আমাকে চমকে দিয়ে চিৎকার করে উঠল, “ডিসেন্ট? কীসের ডিসেন্ট? একবারে ফালতু, ডিসেন্টের ধারে কাছ দিয়ে কেউ যায় না। আমাদের সিক্রেট খবর মিডিয়ায় লিক করে দিয়েছে বুঝেছ? এবার ওর কোর্টমার্শাল হবে। দ্যাখো, দুপুরের মধ্যেই ওকে গুলি করে লটকে দেওয়া হবে।”

    আমি শিউরে উঠলাম, “সেকী! কোর্টমার্শাল হবে এর জন্য?”

    ওমরের সেই চোখটা দেখতে পেলাম আমি, “ইয়েস, কোর্টমার্শাল হবে। পাকিস্তান আর্মি ইজ নট এ জোক। যারা এখানে কথা পেটে রাখতে পারে না, তাদের এভাবেই ট্রিট করা হয়। ফতিমাকে এখনই কিছু বলার দরকার নেই। খবর ওখান থেকেই আসুক। তুমি বরং মলে ঘুরে টুরে এসো। এখন ঘরে থাকার দরকার নেই। তাহলে তোমাকে আবার ওর কাছে সান্ত্বনা দিতে যেতে হবে। আমি চাই না তুমি ওখানে যাও। হলে ওরা আমাকেও সন্দেহ করতে পারে।”

    শেষের দিকে ওমরের গলায় ভয়ের চিহ্ন দেখতে পেলাম আমি।

    আমার বুকটা কেঁপে উঠল। আমি আসিফকে শুধু ওই ডায়েরির ছবি পাঠিয়েছি, তারপর এত কিছু হয়ে গেল? এটা তো স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে আসিফের কাজ। আমার জন্য ফতিমার এত বড়ো ক্ষতি হয়ে যাবে? ওদের বাচ্চাটা! ওদের ফ্যামিলি। ওহ আল্লাহ, আমি এটা কী করে ফেললাম?

    আমি ভেতরে ভেতরে নড়ে যাচ্ছিলাম।

    ওমর অস্থিরভাবে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “রেডি হও। আমরা বেরোব।”

    আমি ভয় পাচ্ছিলাম, ভীষণ ভয় পাচ্ছিলাম। আতঙ্ক আমাকে পুরোপুরি গ্রাস করে ফেলছিল।

    কাঁপতে কাঁপতে বেডরুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে আসিফকে ফোন করলাম। আসিফের ফোন সুইচড অফ বলছে। আমি ফোন রেখে তৈরি হয়ে নিলাম।

    কয়েক সেকেন্ড পরেই দরজা ধাক্কাতে শুরু করল ওমর, “আরে তাড়াতাড়ি কর, বেরোতে হবে।”

    আমি তৈরি হয়ে বেরোলাম। গাড়িতে উঠে ওমর গাড়ি স্টার্ট দিয়ে বলল, “তোমাকে মলে নামিয়ে আমি অফিস যাচ্ছি। তুমি সন্ধের আগে কোয়ার্টারে ফিরবে না। সিনেমা দেখতে ঢুকে যাও। আমি তোমাকে ফোন করব। কনফার্ম করলে ফিরবে। ঠিক আছে?”

    আমি ঘাড় নাড়লাম, “জি।”

    মলের সামনে নামিয়ে দিয়ে ওমরের গাড়ি বেরিয়ে গেল। আমি গেট থেকে মলের ভেতর ঢুকতে যাচ্ছি, এমন সময় আমার ফোন বেজে উঠল, ধরলাম, ও-প্রান্ত থেকে আসিফের গলা ভেসে এল, “তুমি আমাকে ফোন করেছিলে?”

    আমি বললাম, “হ্যাঁ, আমি এসব কী শুনছি? আমার জন্য সুহেলের কোর্টমার্শাল….?”

    আসিফ বলল, “তুমি এখন কোথায় আছ?”

    আমি মলের নাম বললাম।

    আসিফ বলল, “পারকিং-এ এসে দাঁড়াও। আমি তোমাকে তুলছি।”

    আমি বললাম, “ঠিক আছে।”

    কিছুক্ষণের মধ্যেই আসিফ গাড়ি নিয়ে হাজির হল।

    আমাকে গাড়িতে উঠতে বলল।

    আমি গাড়ির পেছনের সিটে বসলাম।

    আসিফ মলের অনেকটা পেছনে একটা ফাঁকা জায়গায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে বলল, “শোনো জায়নাব, একটা সিস্টেম দিনের পর দিন নিরীহ বাচ্চাদের বলি চড়িয়ে গেছে, তাদের মেরেছে। ভবিষ্যতেও মারবে। সব কিছু জেনে শুনে আমরা চুপ থাকব?”

    আমি বললাম, “কিন্তু সুহেল …?”

    আসিফ বলল, “সুহেলও করবে এই কাজ। আগে অন্য কারও নির্দেশে করেছে, এখন নিজে করবে। এটাকে কোল্যাটেরাল ড্যামেজ হিসেবে দ্যাখো। মানুষ হিসেবে আমাদের কিছু কর্তব্য আছে। সুহেলকে যদি কোর্টমার্শাল করাও হয়, ওর পরিবার অনেক কিছু পাবে। ওদের কোনো ক্ষতি হবে না। ওর বউয়েরও দু-দিন পরে ভালো জায়গায় বিয়ে হবে। তুমি অন্য দিকে বাচ্চাগুলোর কথা ভাবো…. ঠিক?”

    আসিফ ঠিক বলেছে। আমার চোয়াল শক্ত হল, বললাম, “তুমি ঠিক আসিফ। আমার এই মেন্টাল সাপোর্টটার দরকার ছিল। আর কিছু বোঝাতে হবে না। আমাকে নামিয়ে দাও।”

    আসিফ বলল, “তুমি কী ওই নোটবুকটা ছাড়া আর কিছুই পাওনি?”

    আমি বললাম, “না। আর তোমার কাজ তো হয়ে গেছে। আর কিছু চেও না।”

    আসিফ থমকে গিয়ে বলল, “ওহ, ঠিক। থ্যাঙ্ক ইউ জায়নাব। তুমি যা করলে, তার জন্য ভবিষ্যতের আলোকময় পাকিস্তান তোমাকে অনেক শুক্রিয়া জানাবে।”

    আমি গাড়ি থেকে নেমে গেলাম।

    সিনেমা দেখতে দেখতে দেখলাম ফতিমা ফোন করছে। ধরিনি।

    আমার মনে হচ্ছে প্যানিক অ্যাটাক হবে। আমার আম্মুর প্যানিক অ্যাটাক হত। আমারও সেরকম হবে মনে হচ্ছে।

    যতবার ভাবছি, ততবার অস্বস্তি হচ্ছে।

    আরিয়ানের কথাও মনে পড়ছে। ছেলেটা এত কম বয়সে তার আব্বুকে হারাবে? একটা পরিবার থেকে আব্বুর ছায়া সরে গেলে কী হতে পারে, ভাবলেই আমার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। এ সব কিছুর জন্য আমি নিজেকে দায়ী করছি বার বার। হল থেকে বেরিয়ে কোয়ার্টারে ফিরে দরজা বন্ধ করে ডায়েরি লিখে যাচ্ছি। ফেরার সময় দেখেছি ওদের কোয়ার্টারের সামনে কেউ নেই। দরজাও বন্ধ দেখে এসেছি মনে হচ্ছে।

    কোথায় যেতে পারে। একবার ওমরকে ফোন করলাম। ওমর ফোন না ধরে মেসেজ করেছে “ইমপরট্যান্ট মিটিঙে আছি। ফোন কোর না।”

    আমি আর ফোন করিনি। জানি না কী হবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে
    Next Article হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }