জায়নাবের ডায়েরি – ২০
(২০)
ভোর পাঁচটা। এখনও সূর্যোদয় হয়নি।
খাইবার পাখতুনখোয়া।
পাহাড়ের গায়ে লেপটে থাকা একটা ছোটো গ্রামে কিছুক্ষ আগে একটা গাড়ি ঢুকেছে।
ভাঙা বাড়িটায় আসিফ জায়নাবকে নিয়ে প্রবেশ করে বলল, “এখানেই থাকতে হবে জায়নাব। আমাকে কয়েকটা জায়গায় ফোন করতে হবে। তুমি রেস্ট কর।”
ঠান্ডায় কাঁপছিল জায়নাব। কাঠের মেঝেতে বসে পড়ল সে। কলিং বেলের আওয়াজ শুনে ভেবেছিল ওমর এসেছে। ডায়েরিটা লকারে রেখে দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দেখল আসিফ দাঁড়িয়ে আছে।
ব্যস্ত কণ্ঠে বলল, “চল। এখনই বেরোতে হবে। ওরা তোমাকে পেলেই মেরে ফেলবে।”
এমনিতেই প্রবল আতঙ্ক গ্রাস করেছিল তাকে। আসিফের তাড়ায় জায়নাব আর ঘরের ভেতরেও ঢোকেনি। ওই অবস্থাতেই বেরিয়ে আসিফের গাড়িতে গিয়ে বসেছিল।
ইসলামাবাদ পেরনোর পর প্রথম কথা বলেছিল আসিফ, “সরি জায়নাব। আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাইছি। জানি আমি যা করেছি, তার কোনো ক্ষমা নেই, কিন্তু আমি এটা না-করে থাকতে পারিনি।”
জায়নাব এতক্ষণ চুপ করে বসে কাঁদছিল, শুধু বলল, “আমার সব শেষ হয়ে গেল।”
আসিফ বলল, “কিচ্ছু শেষ হয়নি। ওমরের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওকে বুঝিয়ে বলবে। আমি জানি ও ঠিক বুঝবে।”
জায়নাব বলল, “তারপর? তারপর কী হবে?”
আসিফ উত্তর দিল না।
জায়নাব বলল, “আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ আসিফ?”
আসিফ বলল, “আপাতত একটা নিরাপদ আশ্রয়ে। দুটো দিন লুকিয়ে থেকে পরিস্থিতিটা বুঝে নিতে হবে। তারপর ওমরকে ফোন করবে।”
সারা রাস্তা কেউ আর কোনো কথা বলেনি।
বাড়ির মেঝেতে চুপ করে কিছুক্ষণ বসে রইল জায়নাব। আসিফ ফোন ছেড়ে ঘরে ঢুকতেই জায়নাব বলল, “তুমি কে আসিফ?”
আসিফ হাসল, “আমি আসিফ। তোমার বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী সেই লাহোরের আসিফ। যে তোমাদের বাড়ি যেত। আমি অন্য কেউ না। এত বড়ো একটা বিষয়ের পর্দা উন্মোচন হয়েছে আজ শুধু তোমারই জন্য। তুমি না থাকলে এটা হত না, অন্তত কিছুদিনের জন্য হলেও এটা বন্ধ থাকবে। তদন্ত হবে, ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া এই বিষয় নিয়ে ইসলামাবাদের মাথা খারাপ করে দেবে। তুমি নিজে দ্যাখো, কতগুলো বাচ্চার জীবন তুমি বাঁচিয়েছ জায়নাব।”
জায়নাব বলল, “ওমর নিরাপদ তো?”
আসিফ বলল, “ওমরকে নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ নেই। সবাই তোমাকে আর আমাকেই খুঁজবে এখন। ওরা যদি আজ তোমাকে পেত, প্রশ্ন করে জেরবার করে দিত। কে জানে বাঁচিয়ে রাখত কিনা। রাষ্ট্রদ্রোহিতার চার্জ আনত, আনবেও।” জায়নাব বলল, “এটা তোমার আগেই বোঝা উচিত ছিল। তুমি আমাকে ব্যবহার করলে। আমার ঘরটা ভেঙে দিলে। আমার সব শেষ হয়ে গেল।”
জায়নাব আবার কাঁদতে শুরু করে দিল।
আসিফ শ্বাস ছাড়ল, “আমি জানি তুমি ঠিক বলছ। কিন্তু তোমার সাহায্য ছাড়া এত বড়ো কাজটা করা সম্ভব ছিল না। আমি দুবাইতে থাকাকালীন এই টিপটা পেয়েছিলাম। ট্রমাটাইজড হয়েছিলাম দু-দিন। আমার দেশের শিশুরা এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকবে?”
জায়নাব বলল, “এই জায়গাটা যে নিরাপদ, সেটা তুমি কী করে জানলে?”
আসিফ বলল, “আমার কিছু বন্ধু আছে এখানে। ওরা আমাকে এখানে আশ্রয় নেবার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। এখানে আই.এস.আই. আসতে পারবে না। নিশ্চিন্তে থাকো।”
জায়নাব বলল, “আমি আর কোনো কিছুতেই নিশ্চিন্তে থাকতে পারছি না। আমি ওমরের সঙ্গে কথা বলতে পারলে ভালো হত।”
আসিফ বলল, “এখন ওমর পুরোপুরি আই.এস. আই. এর কব্জায় আছে। তুমি ফোন করলেই ওরা তোমাকে ট্র্যাক করে ফেলতে পারবে। আমার কিছু আফগান বন্ধু আছে। সব থেকে নিরাপদ হত যদি আমি তোমাকে কাবুলে পাঠিয়ে দিতে পারতাম।”
জায়নাব বলল, “ওই নোটপ্যাড থেকে তুমি অন্য অনেক তথ্য পেয়েছ। সেগুলোর মধ্যে একটা আর্মস ডিল ছিল, তাই “না?”
আসিফ বলল, “খবরে দেখে তুমি কিছু একটা আন্দাজ করছ, আমি বুঝতে পারছি।”
জায়নাব একটু চুপ করে থেকে বলল, “লাহোর থেকে অমৃতসর খুব বেশি দুর না আসিফ। আমার মনে আছে, আম্মি বলত, তোমার পাঞ্জাবীতে একটা ইন্ডিয়ান টান আছে। তুমি তার উত্তরে বলতে তুমি খুব ইন্ডিয়ান মুভি দ্যাখো। শাহরুখ খান তোমার প্রিয় অভিনেতা। তুমি পাকিস্তানি না আসিফ, আমি জানি, তুমি কিছুতেই পাকিস্তানি হতে পারো না।”
আসিফ কথা বলল না। চুপ করে রইল।
জায়নাব বলল, “একটা মেয়ের এত বড়ো সর্বনাশ করার আগে একবার ভাবলে না তুমি?”
আসিফ বলল, “এই জায়গাটা খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মধ্যে পড়ে। তুমি পাকিস্তানি হয়ে জানো না এখানে মেয়েদের কী হাল? পাকিস্তানের মেয়েদের কী হাল? একজন মায়ের সদ্যোজাত শিশুকে তার থেকে বিচ্ছিন্ন করে ওরা উসমানের অরফ্যানেজে ভরতি করে দেবার জন্য নিয়ে যায়। তাদের ভারতীয় সেনার বন্দুকের সামনে ফেলে দেয়। তুমি বল আমাকে জায়নাব, তুমি কি এই দেশের নাগরিক হয়ে গর্বিত?”
জায়নাব উঠে ঘর থেকে বেরোতে গেল।
আসিফ জায়নাবের হাত শক্ত করে ধরে বলল, “যেও না। বাইরে তোমার দেশের যে পুরুষরা ঘুরে বেড়াচ্ছে, রাতে তারা তোমাকে একা পেলে কেউ ছেড়ে দেবে না। তোমার দেশের আই.এস.আই. প্রধান তোমাকে পেলে ছাড়বে না। এখানে বসো জায়নাব। আমি কারও কোনো ক্ষতি করিনি।”
জায়নাব বলল, “তুমি আমাকে দিয়ে এত বড়ো পাপ করালে আসিফ? আমি কী ক্ষতি করেছিলাম তোমার?”
আসিফ বলল, “কোন পাপটা তুমি করেছ জায়নাব? এটাকে তোমার পাপ বলে মনে হয়?”
জায়নাব চুপ করে গেল।
আসিফ বলল, “বস। রেগে থেকো না। আমি তোমার পরোয়া না করলে তোমাকে ওই অবস্থায় ফেলে অনেক আগে পালিয়ে যেতে পারতাম। আমি সেটা করিনি। আমি চাই তুমি সুরক্ষিত থাকো। দেশ দেশ, যুদ্ধ যুদ্ধ করেই শুধু মাথা খারাপ করিনি আমি। আমি চাই মানুষ আগে মানুষের মতো থাকুক। এই দেশে আমি অনেক বছর ধরে আছি। আমি দেখেছি, আমাদের দুটো দেশের অমিল যেমন আছে, তেমন প্রচুর মিল আছে। আমি জীবিত অবস্থায় তোমার কোনো ক্ষতি হতে দেব না। আমাকে একটু সময় দাও, আমি ওমরের সঙ্গে তোমার যোগাযোগ করিয়ে দেব।”
জায়নাব শান্ত হল। মেঝেয় বসে পড়ে বলল, “কীভাবে ঢুকতে এই দেশে?”
আসিফ বলল, “অনেক দীর্ঘ পদ্ধতি ছিল। সেসব শুনে তুমি কী করবে? যত জানবে, তত তোমার জন্য ক্ষতিকারক। মনে রেখ, যদি কোনোদিন ধরা পড়, বলবে আমি তোমাকে কীভাবে ট্র্যাপ করেছিলাম। বেঁচে যাবার সুযোগ তখনই থাকবে তোমার।” জায়নাব বলল, “আব্বু তোমাকে এত বিশ্বাস করতেন। আম্মিও। সবাই কত ভালো ব্যবহার করেছেন তোমার সঙ্গে। তুমি আমাদের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে গেছ।”
আসিফ বলল, “আমাদের কাজই তাই জায়নাব। এ-দেশেরও কতজন আমার দেশে আছে। তারা কেউ সুইসাইড বোম্বিং করছে, কেউ কত মানুষ মেরে ফেলছে। আমরা শুধু আত্মরক্ষা করেছি। শিশুদের মরতে যাওয়া থেকে আটকে তোমার দেশের ভবিষ্যতকেই রক্ষা করেছি। আমি কারও কোনো ক্ষতি করিনি কিন্তু।”
জায়নাব বলল, “আর তুমি সেই আমাকেই পেলে, আর কেউ ছিল না?”
আসিফ বলল, “ওমর এই পাপে জড়িয়ে পড়ছিল, পরবর্তীকালে আরও বড়ো প্ল্যান করে চলেছে ওরা, আমাদের দেশে খুব বড়ো কোনো অ্যাটাক। আমি শুধু এটুকু আভাস পেয়েছি। জানি না কী করে সব বের হবে। তার আগেই বড়ো কিছু হয়ে যাবে নাকি তাও জানি না। নিরীহ মানুষ মেরে কেউ কোনো যুদ্ধ জেতে না, আজ না হোক কাল এর বিচার ঠিক হবে, তুমি দেখে নিও।”
পূব আকাশ আলোয় ভরে উঠছে।
জায়নাব চুপ করে বসে রইল। আসিফ ফোন বের করল।
ওমরের নোটপ্যাডের বাকি খবরগুলো মিডিয়ায় আসার সময় হয়ে এসেছে এবার…
আসিফ টাইপ করে যাচ্ছে। জায়নাব সেটা দেখতে দেখতে বলল, “তুমি এত স্মার্ট ছিলে না আগে, আমি অন্তত দেখিনি।”
আসিফ হাসল।
জায়নাব চোখ বন্ধ করে বসে রইল। ওমরের জন্য মন খারাপ লাগছে হঠাৎ করে। ওমর খুব রেগে আছে নিশ্চয়ই তার উপরে? সামনে দেখতে পেলে কী করবে? মারবে? কিন্তু ও কোনোদিন তার উপর হাত তোলেনি। এবার হয়তো মারবে! ওর সার্ভিস রিভলভার দিয়ে দু-চোখের মাঝখানেই গুলিটা করবে! আর না মারলে ঘেন্না করবে, তীব্র ঘেন্না করবে।
প্রায় এক ঘণ্টা একটানা কাজ করার পর আসিফ বলল, “আমি খাবার নিয়ে আসছি। তুমি কিন্তু একদম বাইরের দিকে বেরিও না।”
জায়নাব ক্লান্ত গলায় বলল, “ঠিক আছে।”
আসিফ বেরিয়ে গেল। তার একটা ছোটো ব্যাগ মেঝের উপরে পড়ে আছে। দরজা বন্ধ হতেই জায়নাব ব্যাগটা খুলল, একগাদা ছেঁড়া ছেঁড়া কাগজ আর একটা কি প্যাডওয়ালা ফোন আছে।
সে বিন্দুমাত্র কিছু চিন্তা না করে ওমরের নাম্বারে কোন করল।
*****
ইসলামাবাদ।
নিজের কোয়ার্টারের মেঝেয় চুপ করে বসেছিল ওমর। মাথা চিন্তাশূন্য হয়ে গেছে তার। কী করবে, কিছুই বুঝতে পারছে না সে।
ফোনটা একবার রিং হতেই সঙ্গে সঙ্গে ফোন তুলল, “হ্যালো!”
জায়নাব চুপ করে রইল। ওমর দিশেহারা কণ্ঠে বলল, “জায়নাব? আমি বুঝতে পারছি তুমি জায়নাব বলছ! কোথায় তুমি?”
জায়নাব কাঁদতে কাঁদতে বলল, “আমায় তুমি ক্ষমা করে দাও।”
ড্রইং রুমটা জায়নাব যত্ন করে সাজিয়েছিল। এখানে আসার পর টিভি কেনা… সোফার কভার যত্ন করে সেলাই করা ওর। সব যেন ওমরের দিকে তাকিয়ে বিদ্রুপ করছে।
সে বলল, “আমার বোঝা উচিত ছিল। অনেক আগেই বোঝা উচিত ছিল, নইলে আজ আমার এত বড়ো সর্বনাশ হত না। এতদিনের এত পরিশ্রম সব বিফলে চলে গেল আমার, ওরা তোমাকে আমার থেকে ছিনিয়ে নিয়ে চলে গেল জায়নাব।”
জায়নাব বলল, “সব আমার জন্য হল, সব আমার জন্য।”
ওমর শ্বাস ছাড়ল, “নাহ, কোনো কিছু তোমার জন্য হয়নি। এই সব কিছুর জন্য আমিই দায়ী। আমারই উচিত ছিল সময় নিয়ে তোমাকে সব কিছু বোঝানো। কতদূরে আছো তুমি? কোত্থেকে কথা বলছ?”
জায়নাব বলল, “আসিফ নিয়ে এসেছে। আমি বুঝতে পারছি না কোনদিকে। অনেকক্ষণ ধরে গাড়ি চলেছে। এখানে খুব ঠান্ডা। খুব।”
আবার কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থাকা। ওমরের মনে হল সে হয়তো কোনো দুঃস্বপ্ন দেখছে। একটু পরেই জায়নাব চা নিয়ে এসে তাকে বলবে, “আজকের দিনটা ছুটি নাও না, আমরা একসঙ্গে কোনো মুভি দেখে আসি? নাও না প্লিজ!”
একটা সময় জায়নাব খুব করে বলত এই কথাগুলো। ‘হবে না, কাজ আছে’ শুনতে শুনতে একদিন এই কথাটা বলাও শেষমেশ বন্ধ করে দিয়েছিল।
একটু পরে নীরবতা ভঙ্গ করে ওমরই বলল, “আমাকে একটা কথা বল জায়নাব… ওই ছেলেটা… আসিফ… ওকে কি তুমি আমার থেকেও বেশি ভালোবাসো?”
জায়নাব বলল, “এই পৃথিবীতে আমি তোমার থেকে কাউকে বেশি ভালোবাসি না ওমর। আমি বোকা… আমি খুব বোকা।”
বার বার গলা ধরে আসছিল জায়নাবের।
ওমর বলল, “ভেবো না তুমি। আসিফ যা-ই করে থাকুক, ওকে আমি ছাড়ব না, যেখানে পাবো, সেখানে ওকে আমি শেষ করবো, পালিয়ে বাঁচবে না আসিফ।”
জায়নাব বলল, “কিন্তু ওই ছোটোছোটো বাচ্চাগুলো কী দোষ করেছিল ওমর? তারা তো কারো কোনো ক্ষতি করেনি!”
ওমর কড়া গলায় বলল, “এই সব বলেই আসিফ তোমার ব্রেইন-ওয়াশ করেছে আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি। আমরা একটা লড়াই লড়ছি জায়নাব, এই লড়াইতে ঠিক ভুল বলে কিছু হয় না। জেতার জন্য, দেশের জন্য যা যা দরকার, তা সব করতে হবে। এভ্রিথিং ইজ ফেয়ার ইন লাভ এন্ড ওয়্যার।”
জায়নাব অস্ফুটে বলে উঠল, “তোমার কি মনে হয় না, আমাদের যে সন্তান হল না, তা আসলে কোনো অভিশাপেরই ফল?”
ওমর বলল, “অভিশাপ? যখন ইন্ডিয়া কাশ্মীরিদের অত্যাচার করে, তখন কোনো অভিশাপ হয় না? সব অভিশাপ শুধু আমাদের উপরেই হয়? এই পৃথিবীতে একটাই প্রাণী থাকবে জায়নাব, যে জিতবে, সে। বাকিদের থাকার কোনো অধিকার নেই। জিততে হবে, জিততে হবে যে কোনো মূল্যে… একমাত্র জয়ীরাই থাকবে, মানব সভ্যতার ইতিহাস তুমি পড়নি? তুমি তো এ-দেশের আর পাঁচটা অশিক্ষিত মেয়ের মতো নও! তোমার জানা উচিত ছিল আমরা মানুষরাও টিকে আছি অন্য পরাজিত প্রাণীদের মৃতদেহের উপরেই।”
জায়নাব বলল, “তবু বাচ্চাগুলো?”
ওমর বলল, “বাচ্চাগুলো ওদের বর্ডারে গেলে ওরাও কি তাদের ছেড়ে দেয়? ছেড়ে দেয় না তো, তাই না? ওরাও তো ওদের গুলি করেই মারে! এই লড়াইতে প্রত্যেকে প্রত্যেকের প্রতিপক্ষ। ছেড়ে দেবার কোনো জায়গা কোনোদিন ছিল না, থাকবেও না। নিয়ে তো গেল ওরা তোমাকে এখান থেকে… শেষ তো করে দিল সব কিছু। কোনো দয়া করেছে তোমার উপর?” ওমরের গলা ধরে এসেছিল।
জায়নাব বলল, “আমি এত কিছু বুঝি না ওমর… আমাকে শুধু একটা কথার উত্তর দাও। অনেকবার জিজ্ঞেস করতাম এক সময়ে, তখন এক রকম উত্তর দিতে। এখনও কি একই কথা বলবে?”
ওমর বলল, “কী?”
জায়নাব বলল, “আমি যদি মরে যাই, তুমি কি আবার বিয়ে….”
জায়নাবের কথা শেষ হবার আগেই ফোনের ওপ্রান্ত থেকে গুলির শব্দ পেল ওমর। জায়নাব আতঙ্কিত কণ্ঠে বলল, “ওমর… ওমর… গুলি চলছে।”
ওমরের মেঝেয় সজোরে ঘুষি মারল, চিফ … তার বোঝা উচিত ছিল চিফ তার ফোন ট্যাপ করবেন। সে বলল, “লুকোও জায়নাব… শিগগিরি লুকোও। যেখানে আছো, সেখান থেকে বেরিয়ে যাও… শিগগিরি।”
জায়নাবের চিৎকার শুধু শুনতে পারল ওমর, পরক্ষণেই একটা গুলির শব্দ যেন ফোন ভেদ করে তার কানে এসে পৌঁছল….
তার হাত থেকে ফোনটা পড়ে গেল। এই শব্দটা তার বড়ো পরিচিত….
শূন্য ঘরটা যেন তাকে লক্ষ্য করে অট্টহাসি হাসতে শুরু করে দিয়েছে!
জায়নাবের সংসারটা শেষমেশ নষ্টনীড় হয়েই থেকে গেল….
***
