(দ্বিতীয় অধ্যায়) সাগর-দানবের মৃতদেহ
স্ফটিকপাত্রে রাখা সোনা রঙের আপেলের রসে চুমুক দিতে দিতে রাজা সতর্কভাবে দেখছিলেন ইরার দিকে। তাঁর স্থির চোখের দৃষ্টির সামনে ইরার একটু অস্বস্তি হচ্ছিল।
রাজপ্রাসাদের ভোজনকক্ষের বিরাট জানালাগুলির ওপর ভারি লাল পর্দা ঝুলছে। জানালার পাশেই সারি সারি ফুলদানিতে গোছা গোছা লাল গোলাপ রেখে গেছে ভৃত্যেরা। তাদের সুগন্ধে ভরে আছে কক্ষের বাতাস। অনেক উঁচুতে দেওয়ালে সবুজ আর নীল কাচ বসানো আছে; সেখান থেকে রঙিন সূর্যালোক এসে পড়ছে ঘরের ভেতর, কিন্তু সে আলোয় তেমন তীব্রতা নেই। শ্বেত প্রস্তরনির্মিত মেঝের ওপর স্থির হয়ে আছে বিচিত্রবর্ণ চতুষ্কোণ আলোক। এই প্রায়ান্ধকার কক্ষে রাজা পানপাত্র হাতে ধীরে ধীরে পদচারণা করছিলেন।
তাঁর মাথার দীর্ঘ, সাদা চুল নেমে এসেছে কাঁধের ওপর। চোখের কোলে অন্ধকার জমেছে। তাঁর মুখ দেখে ইরার মনে হচ্ছিল, ভীষণ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত তিনি।
হাতের পাত্রটা খালি হয়ে গিয়েছিল। সেদিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে কী যেন বললেন তিনি। অমনি পাত্র আবার ভরে উঠল উজ্জ্বল হলুদ আপেলের রসে। ইরা একবার ভ্রূ তুলে দেখল দৃশ্যটা। কিন্তু সে কিছু না বলে চুপ করে রইল। সে জানে, এ দেশে রাজার মতো শক্তিশালী মায়াবিদ্যার অধিকারী মানুষ খুব কম আছে।
সে নিজে মায়া প্রয়োগ করতে বিন্দুমাত্রও পারে না, আর যারা এইসব কুহক চর্চা করে, তাদেরকে সে একটুও বিশ্বাস করে না। রাজা অবশ্য তার কাছে এই নিয়মের এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম।
সে খুব ভালো করেই জানে, যে মায়াবিদ্যার চর্চা রাজা করেন, তাতে মানুষের অমঙ্গল হয় না। তাঁর মায়া সেই ডাইনিটার মতো অশুভ নয়।
পানীয় শেষ করে রাজা আবার ফিরে তাকালেন তার দিকে, “তোমার অস্ত্রশিক্ষকদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, ইরা।”
ইরা চুপ করে রইল। অস্ত্রশিক্ষকরা তার বিদ্যার অগ্রগতি নিয়ে রাজাকে কী কী বলতে পারেন, সে আগে থেকেই জানে।
রাজা প্রশংসার সুরে বললেন, “তাঁরা আমাকে বলেছেন, তুমি অসিবিদ্যা অতি নিপুণভাবে আয়ত্ত করেছ। তাঁদের মতে, এই মুহূর্তে দেশে তোমার চেয়ে দক্ষ অসিযোদ্ধা পাওয়া কঠিন বললেই চলে।”
ইরা একটু হাসল। প্রশংসাবাণীগুলো রাজা একটু কমিয়েই বললেন, সে বুঝতে পারল। অস্ত্রশিক্ষকদের সঙ্গে তারও কথা হয় প্রতিদিন। তাঁরা যে তার অগ্রগতিতে মুগ্ধ, সে নিজেও খুব ভালো করে জানে।
সে এ-ও জানে, হাতে তরবারি থাকলে তাকে পরাস্ত করবে, এমন মানুষ এই মুহূর্তে কেউ নেই।
তবু সে নম্রভাবে বলল, “মহারাজ, আমি জয়লাভের আপ্রাণ চেষ্টা করি। আমি জানি, জিততে না পারলে যুদ্ধক্ষেত্রে আমার প্রাণ চলে যেতে পারে।”
রাজা খুশি হলেন, “রজনীশের কাছে শুনলাম, তুমি তোমার হৃদয় দিয়ে যুদ্ধ শিখেছ।”
“কার কাছে, মহারাজ?”
“রজনীশ আমার সবচেয়ে বিশ্বস্ত মন্ত্রী। আমার আদেশে তোমার ওপর কড়া নজর রেখে চলেছে সে বিগত বেশ কিছুদিন ধরে। সে নিজেও অত্যন্ত দক্ষ অসিযোদ্ধা। তার মতে, যে যোদ্ধা তরবারি চালনার কৌশলগুলো মন থেকে উপলব্ধি করে, সে-ই যুদ্ধক্ষেত্রে অপরাজেয় হয়। রজনীশের কাছে আমি সংবাদ পেয়েছি, তোমার মতো অসিধারণ ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা সে আজ পর্যন্ত দেখেনি। তোমার যুদ্ধ দেখে সে তোমার নাম দিয়েছে ‘লৌহহৃদয়’। অর্থাৎ, এমন একজন যোদ্ধা, যে তার হাতের তীক্ষ্ণধার লৌহফলকটির চালনাকৌশল হৃদয় দিয়ে জানে।”
ইরা অবাক হয়ে ভাবল, “ওঁর বিশ্বস্ত মন্ত্রী আমার যুদ্ধাভ্যাসের ওপর নজরদারি করছিলেন কেন?”
রাজার কন্ঠস্বর এবার গম্ভীর হয়ে উঠল, “দ্যাখো মেয়ে, কিছু জরুরি কথা আছে বলেই আজ ডেকেছি তোমাকে। তোমাকে নিয়ে অনেক বড়ো একটা পরিকল্পনা আমার অনেক দিন ধরেই আছে।”
“আজ্ঞা করুন, মহারাজ।”
“তোমার জন্মের সময় আকাশে এক অদ্ভুত নক্ষত্র সমাবেশ হয়েছিল। রাজজ্যোতিষী ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তুমি একদিন এই দেশের ভাগ্যনিয়ন্ত্রণে বিরাট ভূমিকা পালন করবে। তোমার অস্ত্রবিদ্যা অর্জনের যা সংবাদ পেয়েছি, তাতে আমি অনুমান করছি, তুমি এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আর ভাগ্যও ইঙ্গিত করছে, একদম ঠিক মুহূর্তেই অভিযানের যোগ্য হয়ে উঠেছ তুমি। দেশের তোমাকে এই মুহূর্তে বড়ো দরকার, ইরা। সব গোপন কথা রজনীশ ছাড়া আর কেউ জানে না, কিন্তু ভয়াবহ বিপদ এসে দাঁড়িয়েছে আমাদের সামনে।”
দু-হাতে তালি বাজালেন রাজা। দুই ভৃত্য এসে দাঁড়াল কক্ষের মধ্যে। ইরা চমকে উঠল।
না, ভৃত্য দু-জনকে দেখে নয়— তারা যা বহন করে এনেছে, সেই বস্তু দেখে।
জিনিসটা একটা মৃতদেহ, কিন্তু এরকম মৃতদেহ ইরা জীবনে কখনও দেখেনি। ধূসর দেহটার সারা গায়ে সূক্ষ্ম আঁশ জড়িয়ে আছে। সেই আঁশের ওপর বাতায়ন থেকে আসা রঙিন আলো চকচক করে উঠল। প্রাণিটার হাত-পাগুলো মানুষের মতো; কিন্তু যে পল্কহীন, মরা চোখে সে তাকিয়ে আছে কক্ষের সুসজ্জিত ছাদের দিকে, তা কোনো মানুষের হতে পারে না। চোখগুলোর মধ্যে কেমন যেন একটা মরা মাছের মতো ভাব। শুধু তাই নয়, রাজভৃত্যেরা যখন দেহটাকে উলটে রাখছে, তখন দেহটার কানের নীচে হুবহু মাছের মতো ফুলকা দেখতে পেল সে।
প্রাণিটার ‘নাক’ বস্তুটা নেই; তার জায়গায় ঠোঁটের ওপর কেবল দুটো ফুটোর উপস্থিতি তার মুখটাকে যেন আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। তার সারা গায়ে শুকিয়ে যাওয়া লবণের সাদাটে দাগ জড়িয়ে আছে দড়ির মতো। দেহটা থেকে হালকা একটা মেছো গন্ধ নাকে এল ইরার।
রাজা বললেন, “আশা করি, এ জিনিস আগে দ্যাখোনি কখনও। অতি অশুভ কুহকমায়াধারী এই জীব বাস করে গভীর সমুদ্রে। নীলাশা দ্বীপের সর্বনাশী ডাইনি পাঠিয়েছিল একে আমার কাছে। উদ্দেশ্য যে এর ভালো ছিল না, আশা করি বুঝতেই পারছ।”
ইরা হাঁ করে তাকিয়ে রইল। রাজা আবার বললেন, “এই মায়াবী প্রাণীটা আমার কক্ষের শয্যার নীচে লুকিয়ে ছিল। আমি ঘুমিয়ে পড়লে আমাকে হত্যা করার সুযোগের অপেক্ষায় ছিল এটা। সৌভাগ্যের বিষয়, ও আমাকে আক্রমণ করার আগেই আমি ওকে দেখতে পেয়ে গিয়েছিলাম।”
ইরা প্রশ্ন করল, “আপনিই মেরেছেন এটাকে?”
রাজা একটু তৃপ্তির সঙ্গে হাসলেন, “হ্যাঁ, এই প্রৌঢ় বয়সেও নিজের শরীরে এমন কিছু ভূমিমায়া আমি ধারণ করি, যার সামনে কোনো সামুদ্রিক মায়াধারী জীব টিকতে পারবে না। নিজের মায়াদণ্ড ধারণ করে আত্মরক্ষা করতে আমি এখনও সক্ষম।”
একপাশে রাখা সোনার রাজদণ্ডটির দিকে একবার তাকিয়ে নিল ইরা। জিনিসটা দেখতে নিতান্তই সাধারণ; দেখলে বোঝা যায় না, এর মধ্যে এতখানি কুহক লুকিয়ে থাকতে পারে। কিন্তু সে জানে, ওর মধ্যে চূড়ান্ত শক্তিশালী ভূমিমায়া আছে। আর রাজার মতো ক্ষমতাশালী মায়াধারী এই পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই।
না, একজন আছে। নীলাশা দ্বীপের সেই ডাইনিটা! যদিও তার মায়া সমুদ্রমায়া, ভূমির সঙ্গে তার চিরদিনের শত্রুতা।
রাজা বললেন, “লৌহহৃদয় ইরা, তোমার জন্য একটা উপহার আছে। গ্রহণ করলে খুশি হব।”
শূন্যের দিকে রাজদণ্ড তুলে ধরলেন তিনি। ইরা অবাক হয়ে দেখল, তাদের মাথার ওপর জমাট বাঁধছে একটা উজ্জ্বল সাদা আলো। প্রায়ান্ধকার কক্ষ আলোকিত হয়ে উঠল তার প্রভায়। ইরার যেন চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছিল এই ঔজ্জ্বল্যে।
ধীরে ধীরে সেই আলো বিরাট এক ঋজু তরবারির রূপ নিতে লাগল। ইরার চোখের সামনেই বজ্রের মতো উজ্জ্বল আলোকপুঞ্জ আকার নিল এক শূন্যে ভাসমান তরবারির। রাজা হাত বাড়ালেন। সঙ্গে সঙ্গে বায়ুলগ্ন সেই তরবারি এগিয়ে গেল তাঁর দিকে। দু-হাত বাড়িয়ে সেটিকে ধারণ করলেন রাজা, যেন কোনো শিশুকে কোলে নিচ্ছেন তিনি।
তাঁর মুখ আলোকিত হয়ে উঠল মায়াময় তরবারির প্রভায়। ইরা দেখতে পেল, অস্ত্রটি হাতে নিয়ে একটুখানি হাসি ফুটে উঠল তাঁর ঠোঁটে। তার দিকে তরবারিটি বাড়িয়ে দিয়ে তিনি বললেন, “ইরা, ভূমি বা সমুদ্রে আজ পর্যন্ত যত অস্ত্র তৈরি হয়েছে, এটি তাদের সবার চেয়ে আলাদা। এই অস্ত্র ভূমি আর সামুদ্রিক, দু-ধরনের মায়ারই উত্তম আধার।”
ইরার মুখ শক্ত হয়ে উঠল, “মহারাজ, আমাকে ক্ষমা করবেন। মায়াগর্ভ কোনো বস্তুর সঙ্গে আমি কোনোরকম সম্পর্ক রাখতে চাই না। এ ধরনের জিনিসের সংস্পর্শে এলেই আমার বড়ো কষ্ট হয়। মনে পড়ে যায়, আমার মা-ও একদিন এরকমই এক অশুভ মায়াধরের হাতে মারা গিয়েছিল।”
রাজা আস্তে আস্তে বললেন, “হ্যাঁ, এক কল্মষেশ উপাসকের হাতে।”
এই নাম ইরা প্রথম শুনল। সে বলল, “মার্জনা করবেন মহারাজ। কার কথা বললেন, আর একবার দয়া করে বলবেন?”
“কল্মষেশ। যত ডাইনি, যত অশুভ মায়াধর আছে, সবার উপাস্য দেবতা ইনি। লোকে বলে, ইনি নাকি তাঁর উপাসকদের মারাত্মক অমঙ্গল করার ক্ষমতা তো দেনই, তার সঙ্গে অমরত্বও দিয়ে দিতে পারেন। এই অপদেবতার পূজা যারা করে, তারা বলে এঁর সারা শরীর ঘন নীল রঙের। এর মুখে বড়ো বড়ো দাঁত, পাগলের মতো এলমেলো চুল, আর জ্বলন্ত লাল চোখ। নীলাশা দ্বীপের ঐ ভয়ংকর ডাইনিটা এই অপদেবতারই পুজো করে।”
এই পর্যন্ত বলে রাজা কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইলেন, যেন কী একটা কথা বলবেন কিনা স্থির করে উঠতে পারছেন না। তারপর তিনি আবার বললেন, “একটা কথা তোমার কাছে লুকিয়ে লাভ নেই, লৌহহৃদয় যোদ্ধা। কস্মবেশ কিন্তু কাল্পনিক কোনো দেবতা নন। উনি সত্যিই আছেন।”
রাজার কন্ঠস্বরে এমন কিছু একটা ছিল যে ইরা নিজের অজান্তেই একবার কেঁপে উঠল। সে মৃদুস্বরে প্রশ্ন করল, “আপনি তাকে দেখেছেন?”
চোখ নামিয়ে নিলেন রাজা। তারপর মৃদুস্বরে বললেন, “দেখেছি। সে স্মৃতি মনে পড়লে এখনও হৃৎকম্প হয়।”
ইরা বুঝতে পারছিল, রাজা কোনো কারণে একটু অস্বস্তি বোধ করছেন। বেশ কিছুক্ষণের নীরবতার পর রাজা বললেন, “এই যে তরবারি তোমাকে দিলাম, একমাত্র এইটি দিয়েই ঐ ডাইনির মায়াসুরক্ষায় ঢাকা অভেদ্য ত্বক অতিক্রম করে ওর শরীরকে আঘাত করা যায়।”
“মহারাজ, একটি প্রশ্ন করার অনুমতি চাইছি।”
“অনুমতি দিলাম। বলো।”
“আমার মা মারা গিয়েছিল কীভাবে? আপনি কথা দিয়েছিলেন, একদিন সব খুলে বলবেন আমাকে।”
রাজা একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “নীলাশা দ্বীপে ঐ ডাইনিটার সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতেই মারা গিয়েছিল তোমার মা। সে যখন মারা যায়, তখন আমি সামনেই ছিলাম।”
দাঁতে দাঁত চেপে ইরা প্রশ্ন করল, “কীভাবে মারা গিয়েছিল মা?”
“সমুদ্র থেকে কৰ্ম্মষেশকে জাগ্রত করে অমরত্ব লাভ করতে চেয়েছিল ঐ ডাইনি। মায়াযুদ্ধে দক্ষ কয়েকজন সৈনিককে নিয়ে আমি অভিযানে গিয়েছিলাম নীলাশা দ্বীপে, তোমার মা-ও ছিল আমার সেই সৈন্যদলে। আমরা গিয়ে দেখি, ঐ ভয়ংকর দেবতাকে সমুদ্রগর্ভের নরক থেকে জাগিয়ে তুলে আনার আয়োজন প্রায় সম্পূর্ণ। আমরা এসে পৌঁছতেই নীলাশা দ্বীপের ডাইনির ভয়ানক সামুদ্রিক দানবসেনা আমাদের আক্রমণ করল। তোমার মা সেই দানবের দলের সঙ্গে দুর্দান্ত লড়াই করেছিল। তার মৃত্যু হয়েছিল স্বয়ং নীলাশা ডাইনির হাতে। সামনে থেকে লড়াইতে না পেরে পেছন থেকে তার পিঠে তরবারি বসিয়ে দিয়েছিল ডাইনিটা।”
শুনতে শুনতে ইরার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠছিল। দৃঢ়ভাবে দুই হাত মুঠো করল সে।
রাজা স্নেহময় দৃষ্টিতে তাকালেন তার দিকে। গাঢ়স্বরে বললেন, “মৃত্যুর আগে তোমার মা আমাকে দিয়ে প্রতিজ্ঞা করিয়ে নিয়েছিল যে আমি তোমার যাবতীয় দায়ভার নেব, এবং তোমাকে যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শী করে গড়ে তুলব।”
তাঁর হাতের তরবারি থেকে বেরিয়ে আসছে মৃদু, শ্বেতাভ আলো। ইরা সেইদিকে তাকিয়ে রইল বেশ কিছুক্ষণ। তারপর বলল, “মহারাজ, আমাকে ক্ষমা করবেন। যেসব বস্তুর মধ্যে সামান্য হলেও মায়াশক্তি আছে, সেগুলির থেকে আমি নিজেকে দূরে রাখতে চাই।”
রাজা একটু হাসলেন, “এই তরবারি তোমার মায়ের ছিল, ইরা। একমাত্র এই অস্ত্রটি দিয়েই তোমার মাতৃহন্তা নীলাশা দ্বীপের ঐ ভয়ংকর ডাইনিকে পরাস্ত করা যায়। তবু নেবে না?” হাত বাড়িয়ে উজ্জ্বল তরবারিটাকে স্পর্শ করল সে। অমনি তার মনে হল, ওটা যেন তার হাতের মধ্যে এসে ঢুকে গেল। তার ডান হাতের আঙুলগুলো জড়িয়ে ধরল তরবারির মুষ্টি। অমনি মনে হল, অস্ত্রটা যেন তার হাতেরই একটা অংশ হয়ে উঠেছে।
রাজা বললেন, “একে সামান্য ভেব না, ইরা। এ হল বজ্রধাতব অসি, বিদ্যুতের মতো এর প্রভা, আর তার মতোই এর ধ্বংসক্ষমতা। এই বিপুল মায়াগর্ভ অস্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, এমন যোদ্ধা সারা পৃথিবীতে খুব কম আছে। যেরকম নিপুণভাবে তুমি অস্ত্রটিকে ধারণ করেছ, তাতে আমি বুঝতে পারছি, এই অস্ত্রের মান রাখবে তুমি। যাও লৌহহৃদয় যোদ্ধা, তোমার মায়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিয়ে এসো। তাতে তোমার দেশেরও মঙ্গলসাধন হবে।”
আভূমিনত হয়ে রাজাকে শ্রদ্ধা জানাল ইরা, “এই মঙ্গলকার্য আমি সানন্দে সমাধা করব, মহারাজ।”
