(তৃতীয় অধ্যায়) ষড়যন্ত্র-বিষ
একটা গল্প বলেছিল তাকে ঐ মায়াময় তরবারি। গল্পটা ফুটে উঠত অস্ত্রের দেহজুড়ে। প্রতি রাতে একবার করে গল্পটা পড়ত সে, তবু যেন পুরোনো হত না। এতদিনে কথাগুলো মুখস্থ হয়ে গেছে তার, তবু প্রতিবারই পড়ার সময় নতুন করে ভালো লাগে।
তার মনে হয়, “এই লেখার মধ্য দিয়ে মা কথা বলে আমার সঙ্গে!”
অভিযানে বেরোনোর আগের রাতে লেখাগুলোকে সে আবিষ্কার করেছিল বজ্রধাতুর তরবারি গাত্রে। সম্ভবত রাজা নিজেও এটার কথা জানতেন না। জানলে এই অদ্ভুত ব্যাপারটার কথা তিনি ওকে বলতেন নিশ্চয়।
হয়তো মা এমন মায়া দ্বারা কথাগুলো লিখে গিয়েছিল, যাতে এগুলো শুধু তার সামনেই প্রকাশিত হয়। মেয়েকে লেখা মায়ের একমাত্র চিঠি!
মা রক্ত দিয়ে লিখেছিল অক্ষরগুলো। বজ্রধাতুর ওপর কোনো লিপি সংরক্ষিত রাখার এই একটিমাত্রই উপায়, এইটুকু মায়াবিদ্যার জ্ঞান ইরার আছে।
আবার পড়তে শুরু করল সে।
‘আমার ছোট্ট ইরা,
এই কথাগুলো তোকে মুখোমুখি বলতে চেয়েছিলাম রে আমি। চিরকাল জেনে রাখিস, মা তোকে খুব ভালোবাসে রে সোনা।
আমার মনে হয়, বড়ো হয়ে তুই তোর বাবার মতো হবি, দুর্দান্ত যোদ্ধা আর দুর্দান্ত মায়াধর। তোকে বলে রাখি, তোকে নিয়ে একসময় দৈববাণী হয়েছিল যে, শক্তিশালী মায়াধরদের যুদ্ধক্ষেত্রে তুই একসময় অসামান্য বীরত্বের কাজ করবি।’
পড়তে পড়তে আপনমনে ইরা বলে উঠল, “না মা, আর যা-ই হোক, মায়াবিদ্যা চর্চা করা আমার হয়ে উঠবে না। কোনো মায়াযোদ্ধার সঙ্গে যুদ্ধে নামার কোনো ইচ্ছাও আমার নেই। শুধু ঐ একটি ডাইনি বাদে।”
তার কক্ষের বাইরে সমুদ্রের ওপর অন্ধকার নেমে এসেছে। এই নিঃস্তব্ধতার মধ্যে জাহাজের তলায় লেগে ছিটকে সরে যাওয়া ঢেউয়ের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ কানে আসছে তার। কক্ষদীপের আলোয় সে নীরবে পড়তে লাগল।
‘সময় এলে ‘কল্মষেশ’-এর নাম শুনবি তুই। ঐ অপদেবতার সঙ্গে শেষ যুদ্ধে তুই চূড়ান্ত ভূমিকা পালন করবি, এই ভবিষ্যদ্বাণী হয়েছিল অনেক দিন আগেই। তোর ওপর আমাদের অনেক ভরসা রে মা।
“ভেতরে আসব, লৌহহৃদয়?” দরজার পাল্লা সামান্য খুলে রজনীশ উকি মারলেন ভেতরে।
তরবারির গায়ে ফুটে ওঠা লেখাগুলো আরও পড়তে খুব ইচ্ছা করছিল ইরার, কিন্তু নিজেকে সে সংবরণ করে নিয়ে বলল, “হ্যাঁ, আসুন।”
রাজমন্ত্রী রজনীশদের ভেতরে ঢুকলেন বটে, কিন্তু পরমুহূর্তেই ইরা দেখতে পেল, তিনি একা নন। তাঁর পেছনে একটা বেঁটেমতো লোককে অস্ত্রধারী রাজপ্রহরীরা ধাক্কা মারতে মারতে নিয়ে এল কক্ষের মধ্যে।
ইরা অবাক হয়ে বলল, “এসব হচ্ছে কী?”
রজনীশ বললেন, “এই লোকটা আমাদের জাহাজের রাঁধুনী দলে কাজ করে।”
“তাতে কী হয়েছে?”
“রাতের রান্নার দায়িত্ব ছিল এই মহাশয়ের ওপর। তোমাকে যে খাবারটা একটু পরেই পাঠানোর জন্য তৈরি করা হচ্ছিল, তাতে বিষ মেশাতে গিয়ে হতভাগা ধরা পড়ে গেছে…” বলে রজনীশদেব ভ্রূকুটি করলেন।
ভ্রূকুটি করে ইরা দেখল, লোকটা বাঁশপাতার মতো কাঁপছে। সে বুঝতে পেরে গেছে, আর তার রক্ষা নেই।
ইরা বলল, “কিন্তু তাতে ওর কী লাভ?”
রজনীশ চিন্তান্বিতভাবে বললেন, “তরবারি দিয়ে তোমাকে হত্যা করা যাবে না জেনে বোধহয় ওর মাথায় এই কুবুদ্ধির উদয় হয়েছিল। ও আজ সকালেই দেখেছে, অস্ত্র তোমার শরীরে কাজ করেনি। তুমি যে অশুভ ডাইনিবিদ্যা চর্চা করছ, এ-নিয়ে জাহাজে একটা ফিসফাস তো চলছেই। ওর মনে হয়েছে, বিষ খাওয়ানোটাই তোমাকে মেরে ফেলার সবচেয়ে ভালো উপায় হতে পারে। কিন্তু এই গাধার দল জানে না, আমার চোখ-কান সর্বত্র সজাগ থাকে।”
লোকটার সামনে দাঁড়িয়ে ইরা বলল, “তুমি আমাকে বিষ খাইয়ে মারতে চেয়েছিলে?”
কিছু না বলে লোকটা একবার আস্তে আস্তে ‘হ্যাঁ’-সূচক মাথা নাড়ল। মাথা তোলার আর সাহস নেই তার। দৃষ্টি নীচের দিকে; হাত পা এখনও কেঁপেই চলেছে ক্রমাগত।
“কেন?”
কম্পিত কণ্ঠে সে বলল, “আপনি কেন ছাগলটাকে মারলেন?”
এইবার ইরা সত্যিই অবাক হয়ে গেল, “ছাগল? কীসের ছাগল?”
যে প্রহরীরা লোকটাকে নিয়ে এসেছিল, তাদের একজন বলল, “আমাদের জাহাজে মাংস রান্না করার জন্য যে ছাগলগুলোকে আমরা নিয়ে এসেছি, সেগুলোর একটাকে কাল রাতে মরা অবস্থায় পাওয়া গেছে। গলায় গভীর ক্ষতচিহ্ন, শরীরে এক ফোঁটাও রক্ত নেই।”
ইরা সপ্রশ্ন দৃষ্টিতে তাকাল রজনীশদেবের দিকে। গম্ভীরমুখে তিনি চুপ করে রইলেন।
সে বলল, “আপনি তো আমাকে এই ঘটনার কথা জানাননি?”
রজনীশদের এক হাত তুলে বললেন, “হ্যাঁ, কারণ আমি নিজেই বুঝতে পারছিলাম না, কাজটা কার হতে পারে। তবে আজ সকালেই তোমাকে একটা আভাস দিয়েছিলাম। বলেছিলাম, নাবিকেরা জাহাজের মধ্যে নানারকমের অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখছে। রক্তশূন্য একটা জন্তুর মৃতদেহ হঠাৎ আবিষ্কার করা, এটা ভালো লক্ষণ নয়, লৌহহৃদয়। সবাই জানে এর মানে কী।”
এইবার ধরা পড়া লোকটা ইরার দিকে তাকিয়ে বলল, “অতি অমঙ্গলকর মায়াবিদ্যা প্রয়োগ করার জন্য এই রক্ত লাগে। আপনার তরবারিতেও মানুষের রক্তে কীসব লেখা আছে, বলছিলেন না? সেটাও তো মায়াবিদ্যা।”
দীর্ঘশ্বাস ফেলে ইরা বলল, “আর তাই তুমি ধরে নিলে যে আমিও ডাইনি। শোনো মূর্খ, ছাগলের রক্ত, মানুষের রক্ত, বা অন্য কারও রক্ত নিয়েই আমার কোনো কাজ নেই। আমার নিজের মধ্যে কোনো মায়াশক্তি নেই। হ্যাঁ, আমার তরবারির মধ্যে কিছু অলৌকিক ক্ষমতা আছে বটে, কিন্তু মায়াজগতের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ঐটুকুই। যারা মায়াবিদ্যার চর্চা করে, তাদের আমি মোটেই পছন্দ করি না, তাদের কারও প্রতি আমার কোনো ভালোবাসাও নেই।। আরও একটা কথা শুনে রাখো। অশুভ মায়ায় অন্যের ক্ষতি করে, এমন এক ডাইনিকে হত্যা করার জন্যই রাজা আমাকে পাঠিয়েছেন এই জাহাজে। তাই আপাতত তোমাকে আমি ক্ষমা করে দিচ্ছি। যাও, গিয়ে পাকশালা থেকে আমার জন্য নতুন খাবার নিয়ে এস। কিন্তু মনে রেখ, এবার আমার সামনে দাঁড়িয়ে তোমাকে আগে সেই খাবার খেতে হবে।”
লোকটা যেন নিজের ভাগ্যকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। সে মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল যে এবার তাকে হাঙরের খাদ্য হতে হবে। মাথা নত করে নমস্কার জানাল সে ইরার উদ্দেশে।
তাকে নিয়ে প্রহরীরা চলে যাওয়ার পর একটু অপ্রসন্নভাবে রজনীশদেব বললেন, “কাজটা ঠিক হল না বোধহয়। এই লোকটাকে ছেড়ে দেওয়া উচিত হয়নি তোমার।”
ইরা হাসল, “ভুল সবাই করে। মানুষকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দেওয়া উচিত বলেই আমি মনে করি।”
রজনীশ বললেন, “আমি করি না। সব মানুষ দ্বিতীয়বার সুযোগ পাওয়ার যোগ্য হয় না। রাজা তোমার সুরক্ষার দায়িত্ব আমার ওপর দিয়ে পাঠিয়েছেন। তোমার ভালো-মন্দ কিছু হয়ে গেলে রাজার কাছে আমাকে সদুত্তর দিতে হবে। কিন্তু আজকের এই ব্যাপারটা নিয়ে আমি আপাতত আর কিছু বলব না। তুমি যা ভালো বুঝেছ, করেছ। তার ওপর আমার আর মন্তব্য করা উচিত নয়।”
তিনি চলে গেলেন। রাতের আহারের পর শয্যায় শুয়ে ইরা আবার তার তরবারি তুলে নিল।
মায়ের লেখা আরও কয়েকটা বাক্য পড়তে বাকি রয়ে গেছে এখনও।
‘মনে রাখিস, ইরা, এই পৃথিবীতে সবচেয়ে শক্তিশালী মায়াময় অস্ত্র হল রক্ত। আর পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী রক্তের উত্তরাধিকারকে তুই বহন করছিস নিজের শরীরে। তোর জন্মের সময় হওয়া ভবিষ্যদ্বাণীর কথা তো আগেই বলেছি তোকে। সেই ভবিষ্যদ্বাণীতে বলা হয়েছিল, তোর রক্ত দিয়ে তুই এক অমরের ভাগ্য নির্ধারণ করবি।
ইরা বসে বসে ভাবতে লাগল, কথাটার মানে কী হতে পারে। তার মনে হল, মা বোধহয় ভাবতেও পারেনি যে তার মেয়ের মধ্যে কোনোরকম মায়াশক্তিই থাকবে না।
সে আবার পড়তে লাগল।
‘এই তরবারি তোকে দিয়ে যাচ্ছি আমি। কিন্তু মনে রাখিস, অশুভ মায়াকে কোনো অস্ত্র দিয়ে আটকানো যায় না, তাই অস্ত্রের চেয়েও শক্তিশালী কিছুর কথা ভেবে বার করতে হবে তোকে।’
ইরা ভাবল, ‘যাঃ! তাহলে এই তরবারি দিয়ে করব কী? আশেপাশে কোনো দানব-টানব এসে পড়লে যদি তাকে মারতেই না পারি, তাহলে এই অস্ত্র বহন করে আমার কী লাভ?’
সে বুঝতে পারল, এতক্ষণে একটু ক্লান্ত লাগছে তার। অনেক রাত হয়ে গেছে। জাহাজের মৃদু দুলুনি অনুভব করতে করতে ঘুমে চোখ জুড়িয়ে আসতে চাইছে। বাইরে অন্ধকার সমুদ্রের ঢেউ এসে লাগছে জাহাজের গায়ে; তার ছলছল শব্দ ক্রমাগত কানে আসছে।
হাই তুলে আজ রাতের মতো শুয়ে পড়তে যাচ্ছিল ইরা, এমন সময় সে দেখল, আরও কিছু লেখা ফুটে উঠছে বজ্রধাতু নির্মিত তরবারির মসৃণ গাত্রে। এতদিন পর্যন্ত ক্ষুদ্র আকারের রক্তবর্ণ লেখাগুলো জেগে উঠত তরবারির অগ্রভাগ থেকে মুষ্টি পর্যন্ত। কিন্তু আজ সে দেখতে পেল, আগের লেখাগুলো মুছে যাচ্ছে, আর নতুন লেখাগুলো ফুটে উঠছে সন্ধ্যার আকাশে দেদীপ্যমান লোহিতাভ নক্ষত্রের মতো।
এ কী নতুন, বিচিত্র মায়া? রুদ্ধশ্বাসে পড়তে শুরু করল সে।
‘তোর মতো অত্যন্ত শক্তিশালী মায়ারক্ত যার শিরায় শিরায় বইছে, সে ছাড়া বজ্রধাতুর তৈরি এই তরবারি কেউ ধারণ করতে পারবে না। তুই সুখে থাক, মা; তুই সর্বজয়ী হ। তুই যে তারই মেয়ে, এই কথা তোকে আগেই না জানানোর জন্য তোর পিতার ওপর ক্রুদ্ধ হোস না। তাঁর সঙ্গে বিবাহ হওয়ার পূর্বেই তুই আমার কোলে এসেছিলি। তোর পিতার মর্যাদার জায়গা থেকে দেখলে তাকেও আমি দোষ দিতে পারি না। তিনিই শুধু আমাকে চেয়েছিলেন, আমি তাকে চাইনি, এমনটা তো নয়। তবু আমার মতো এক জাদুকরী মায়াযোদ্ধাকে বিবাহ করে রানির মর্যাদা দেওয়া তাঁর পক্ষেও কঠিন ছিল, আমি জানি, এবং সে-জন্য তাঁর প্রতি আমার বিন্দুমাত্র অভিমান নেই। কিন্তু তিনি আমাকে কথা দিয়েছেন, তিনি তোকে যথাযোগ্য শিক্ষাদান করবেন, আর যখন তুই উপযুক্ত হয়ে উঠবি, তখন আমার তরবারি তোর হাতে তুলে দেবেন। যদি বেঁচে থাকি, তাহলে তখন আবার তোর সঙ্গে দেখা হবে আমার।
ভালো থাকিস, ইরা। বিজয়মাল্য সর্বদা তোর কণ্ঠলগ্ন থাকুক।
-মা।’
পাথরের মূর্তির মতো বসে রইল ইরা।
“রাজা! আমার পিতা!”
অনেকক্ষণ কিছু বলতে পারল না সে। কিন্তু রাজার প্রতি রাগ হচ্ছিল তার। কেন তিনি তাকে এতদিন সব খুলে বলেননি? কেন তিনি তাকে এতদিন তার মায়ের কথা শোনাননি? কেন তিনি কখনও একবার মুখ ফুটে বলেননি যে তিনি তাকে ভালোবাসেন?
মুক্তাবিন্দুর মতো এক ফোঁটা জল গড়িয়ে গেল তার গাল বেয়ে। তরবারির দেহে ফুটে ওঠা উজ্জ্বলতা ম্লান হয়ে এল। ভোরের আলো তার কক্ষের মধ্যে এসে পড়ল জাহাজের গোলাকার জানালা দিয়ে।
তারপর সে শুনতে পেল শব্দটা। অনেকগুলো পায়ের ধুপধাপ শব্দ পাওয়া যাচ্ছে বাইরে। কারা যেন খুব জোরে ছোটাছুটি করছে।
হঠাৎ কী শুরু হল বাইরে?
ঠক্ ঠক্ ঠক্। চমকে উঠল ইরা।
পাগলের মতো বাইরে থেকে কেউ ধাক্কা দিচ্ছে তার দরজায়। দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে সে উঠে পড়ল ছুটে গিয়ে দরজা খুলে দিল। যে রাজপ্রহরী দাঁড়িয়ে ছিল সামনে, তার চোখেমুখে তীব্র আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট।
“কী হয়েছে? কী হয়েছে?”
“শীঘ্র আসুন আমার সঙ্গে। দেরি করবেন না।”
তার পিছুপিছু ইরা এগিয়ে গেল জাহাজের বারান্দা পর্যন্ত। নাবিকেরা প্রায় সবাই এর মধ্যেই জড়ো হয়েছে সেখানে; কাঠের মেঝের ওপর পড়ে থাকা কিছু একটা জিনিসের দিকে একদৃষ্টে দেখছে তারা।
তাকে আসতে দেখে লোকগুলো পথ ছেড়ে দিল। এইবার তার চোখে পড়ল নীচে পড়ে থাকা অনড় বস্তুটার দিকে।
কাল রাতের সেই বিষদাতা রাঁধুনি।
তার গলায় একটা গভীর ক্ষতচিহ্ন। শরীরে একফোঁটাও রক্ত নেই তার। ভোরের আলোতে দেহটা কী ভীষণ ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে।
কিন্তু চারপাশে কোথাও এক ফোঁটাও রক্ত পড়ে নেই। কেউ যেন অন্য কোথাও সেই রক্ত ফেলে দিয়ে বিবর্ণ, রক্তশূন্য দেহটাকে সবার সামনে ফেলে দিয়ে গেছে দর্শনীয় বস্তু হিসাবে।
ইরা চোখ তুলে লোকগুলোর মুখের দিকে তাকিয়ে দেখল। নাবিকদের সকলের মুখ ভয়ে শুকনো হয়ে গেছে।
ঠিক তখনই তার পেছন থেকে রাজমন্ত্রী রজনীশদেবের চিৎকার ভেসে এল, “সৈন্যরা। অস্ত্র তৈরি রাখো। আক্রমণ আসছে!”
বলতে বলতেই বিকটদর্শন যে জীবগুলো জাহাজে উঠে এল, আর যা-ই হোক, তাদের ‘মানুষ’ বলা যায় না।
