কালো হীরের জাল – ২
“অবস্থাটা কিন্তু এবার হাত সে বাহার হয়ে যাচ্ছে সিং সাহাব…”
হুইস্কির গেলাসে একটা বড়ো চুমুক দিলেন মণীশ আগরওয়াল। সামনের প্লেট থেকে দুটো ডালবড়া নিয়ে মুখে পুরে একটু চিবিয়ে নিয়ে বললেন কথাগুলো।
“এমনভাবে চললে তো এখান থেকে বেওসাপাতি গুটিয়ে নিতে হবে।”
“আমার গত ছয় মাসে দশ লাখ টাকার ওপর লোকসান হয়েছে। বছরশেষে সেটা কত দাঁড়াবে কে জানে… আজকাল তো কোনো কাজে হাত দিতেই ভয় লাগে। কীভাবে কোথায় ফেঁসে যাব কে জানে!”
সুরেশ ভট্ট মোটা মানুষ। কুতকুতে চোখ। কিন্তু গলাটা একটু মেয়েলি ধরনের। কয়লা পাচারের সঙ্গে যুক্ত বলে আড়ালে লোকজন তাঁকে কয়লাবাবু বলে ডাকে।
“আরে কী বলব আগরওয়াল সাহাব, রাস্তা তৈরির জন্য টেন্ডার জমা দিলাম। আগে থেকে পয়সা খাইয়ে ভেতরের খবর বার করে রেখেছিলাম যাতে লোয়েস্ট বিড করা যায়। ক্লোজ হওয়ার একঘণ্টা আগে নাকি ওই নাকরাসাঁতা গ্রামের বিপ্লব মাইতি টেন্ডার জমা দিয়েছে। তারই লোয়েস্ট রেট। কাজটা ওই পাবে। তার মানে বুঝতে পারছেন তো, লোকটা ভেতরে ভেতরে সব খবর রাখছিল। ঠিক সময় নিজের লোককে নামিয়ে দিয়েছে। এবার পুরো কাজটাই ওর মতে হবে। ওই বিপ্লব মাইতি তো নাকি আবার ওর ছাত্র। এরকম চললে তো আমাদের পথে বসতে হবে…”
শেষের কথাগুলো প্রায় হাহাকারের সুরে বলে টুথপিকে একটা চিকেনের টুকরো গেঁথে মুখে পোরে প্রদীপ ঠাকুর। বাড়িতে আমিষ ঢোকে না এখনও। তাই বাইরে কোথাও এলে চিকেনের প্রতি আগ্রহটা তাঁর একটু বেশিই থাকে।
নিজের গ্লাসে একটা বড়ো পেগ হুইস্কি ঢেলে তার সঙ্গে বরফ, সোডা এসব মেশাতে মেশাতে একমনে সবার কথা শুনছিলেন প্রতাপ মিশ্র। ড্রাই ফ্রুটসের থালা থেকে কয়েকটা কাজু একসঙ্গে মুখে পুরে বললেন, “লোকটা চায় কী সেটাই তো বোঝা যাচ্ছে না। হরিশপুরের গোডাউনে রেইডটা যাতে না করা হয় সেজন্য আমি নিজে দশ লাখ অফার করেছিলাম। পাত্তাই দিল না।”
“ক্ষমতা দেখাচ্ছে বুঝলেন না। ক্ষমতা দেখাচ্ছে। ভিখারির ঘরের ছেলে হাতে ক্ষমতা পেয়ে নিজেকে রাজা মনে করছে…. এইজন্য বলে কুকুরকে মাথায় তুলতে নেই।”
বানোয়ারিলালের কথাগুলো শুনে মাথা নাড়েন মহেশ মহান্তি, “তা কিন্তু নয়। হা ঘরে বাড়ির ছেলে নয়। জমি-জায়গা আছে, বাড়ির সবাই পড়াশোনা জানে, ভালো চাকরি করে একজন দাদা তো বোধহয় বিদেশেও আছে…”
“আরে নিজে তো ছিল ইস্কুল মাস্টার… হা ঘরে আপনি আর কাকে বলবেন…. বিয়ে করেনি, ছেলেপুলে নেই চালিয়ে আসছে কোনোরকমে….”
ঘরের একপাশে একটা উঁচু গদি দেওয়া ভিভান। সেখানে তাকিয়ায় হেলান দিয়ে বসেছেন সুরযদেও সিং। বেশ লম্বা সেই অনুপাতে চওড়া চেহারা। বাঘের মতো হাতের পাঞ্জা মাথায় চুল নেই কিন্তু গোঁফের বাহার আছে। নিষ্ঠুর-কঠিন দৃষ্টি। গ্লাসের পানীয়তে চুমুক দিতে দিতে এতক্ষণ সবার কথা শুনছিলেন। এবার গলা সাফ করে বললেন, “বুঝলাম, কিন্তু সমাধান কী হবে? লোকটাকে কায়দা করা যায় কীভাবে?”
“দেখুন সিং সাহাব রামশরণ পাহাড়ি ওই অঞ্চলের অনেকদিনের নেতা। কারখানার গেটে দাঁড়িয়ে ওকে মিটিং করতে আমি অনেকবছর ধরে দেখছি। কিন্তু তখন তো ওর এত বোল-বালাও ছিল না। মন্ত্রী হওয়ার পর হয়েছে…”
প্রতাপ মিশ্রর কথায় মাথা নাড়েন সুরেশ, “সেটাই তো হয়েছে। তাই হয়। ক্ষমতা পেলে মানুষ সাপের পাঁচ পা দেখে…”
তাহলে ওকে মন্ত্রী থেকে সরিয়ে দিতে পারলেই ঝালে মিটে যায়।
প্রতাপের কথায় বিরক্ত হয় বানোয়ারিলাল, “এমন ক বলছেন যেন আমরা রামশরণকে মন্ত্রী করেছি। এর নলে লোকেরা ওকে ইলেকশনে দাঁড় করিয়েছে। ওই এলাকা এতবছর ধরে অখিল মাহাতো জিতে আসছিল, তাকে হারিয়ে দিয়েছে। তারপর দল ওকে মন্ত্রী করেছে। তাকে আমরা সরা কেমন করে?”
“আরে আমরা সরাব কেন, দলই সরাবে। আমরা শুধু পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ব।”
“কেমন কলকাঠি একটু শুনি মিশ্র সাহেব?” জানতে চায় প্রদীপ ঠাকুর।
“সোজা হিসাব, আমরা পার্টিকে বলব ওকে মন্ত্রী থেকে না সরালে আমরা ইলেকশনের সময় টাকা দেব না। তাহলেই জব্দ হয়ে যাবে। টাকা না থাকলে তো আর ইলেকশন লড়া যায় না।”
মতলবটা খুব একটা খারাপ নয়। ইলেকশন ফান্ডে ব্যাবসায়ীর সবাই মোটা টাকা চাঁদা দেয়। বিশেষ করে যে দল ক্ষমতায় আছে তাদের। এর ফলে পার্টির সঙ্গে একটা ভালো সম্পর্ক থাকে। ওরা নিজেরা যেসব অন্যায় বা দুর্নীতি করে সেগুলে সম্বন্ধে প্রশাসন যাতে মোটামুটি চোখ বন্ধ করে থাকে সেটা নিশ্চিত করা যায়। যার টাকার জোর যত বেশি সে তত নিশ্চিন্ত, এরকম একটা সমানুপাতে চলে হিসেব। তাছাড়া কালো টাকার একটা হিল্লেও করা যায়। রাজনৈতিক দলগুলোরও সুবিধা হয়। একটা নির্বাচন মানে বহু টাকা খরচ। সব টাকা তো আর দলের কর্মীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে ম্যানেজ করা যায় না। তাই তারাও এই টাকার ওপর বেশ খানিকটা নির্ভর করে। এইভাবে আমে-দুধে মিশে হয় ব্যাপারটা। এবার ব্যাবসায়ীরা টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিলে পার্টি অসুবিধায় পড়বে নিশ্চিত। তখন চাপ দিয়ে তার কাছ থেকে কিছু আদায় করা অনেক সহজ হবে। তাই প্রতাপ মিশ্রের বুদ্ধিটা খুব খারাপ নয়। শুনতে শুনতে মাথা নাড়ছিলেন সুরেশ ভট্ট। কিন্তু সেই আলোচনায় একেবারে জল ঢেলে দিয়ে মণীশ মাথা নেড়ে বললেন,
“কুছ নেহি হোগা। আমরা এখানে ছ-জন আছি। আমাদের বাদ দিয়ে আসানসোল-দুর্গাপুর এলাকায় ব্যবসা করে খায় এরকম অনেক লোক আছে। হ্যাঁ, সিং সাহাব বা মিশ্রজির মতো পয়সাওলা লোক হয়তো কম, কিন্তু আছে তো অনেকে। ওরা টাকা দেবে। টাকা দিয়ে ধান্দা চালাবে…”
“কিন্তু ওদেরও তো আমরা বলতে পারি আমাদের সঙ্গে আসার জন্য।”
“আপনার কোথা ওরা কেন শুনবে দাদা? আর একটা কোথা ভালো করে ভেবে দেখেন, পার্টির এখন ক্ষমতা বেড়েছে। এখনও পর্যন্ত আমি লোকজনের কাছে যা শুনছি, আমার দোস্তের ছেলে আছে টিভি চ্যানেলে, তাকেও পুছলাম, সবাই বলছে ওরাই জিতবে। জিতে ফের যদি ক্ষমতায় আসে তো আমাদের ছেড়ে দিবে? একটা বিল পাস হবে না আপনার। রাস্তায় বসতে হবে। রামশরণ এখন যা করছে তার থেকে একশগুণ বেশি করবে আর পার্টি ওকে সাপোর্ট করবে। আমরা তখন আঙুল চুষবো। তাই যা করতে চান ভেবে-চিন্তে করুন…”
মণীশের কথার মাঝখানেই একবার গলা খাঁকারি দিলেন সূরযদেও সিং। ইঙ্গিতটা বুঝতে অসুবিধা হল না।
“আপনি কুছু বলবেন দাদা?”
সূরযদেও মাথা নাড়েন। তারপর হাতের কাছে রাখা পিকদানিতে পিক ফেলে হাঁক দেন, “গণপত…”
একটা ছোকরা ছেলে দরজার পর্দা সরিয়ে উকি দেয়, “জী সাহাব…”
“গণপতকো বোলো বরফ ভেজনে কো লিয়ে। আইস কিউব খতম হো গয়া। ঔর এক প্লেট টেংরি কাবাব।”
“জি সাহাব…”
ছেলেটা দৌড়ে চলে যায়। সুরযদেও তাকিয়াটা কোলের ওপর নিয়ে গুছিয়ে বসেন। গায়ের দামি শালটা ভালো করে টেনে নেন। তারপর অভ্যাসমতো গোঁফটা একটু পাকিয়ে নিয়ে বলেন, “ও শরণকো হটা দেনা চাহিয়ে…”
“কাঁহাসে হটায়গা দাদা?”
সুরেশের মেয়েলি গলায় সুরযদেওয়ের বুল ডগের মতো মুখে একটা হালকা হাসি ফোটে, “আরে দুনিয়া সে হটা দেনা, চাহিয়ে। এইসা আদমি কো জিন্দা রহনে কা কোই অধিকার নেহি হ্যায়।”
প্রস্তাবটা শুনে কয়েক সেকেন্ড সবাই একটু চুপ করে যায়। যে-কোনো মানুষকে খুন করা এদের কাছে জলভাত। কিন্তু রামশরণ পাহাড়ি কোনো সাধারণ লোক নয়। সে একজন রাজ্যের মন্ত্রী। তার সিকিউরিটি আছে। আশপাশে অনেক লোক থাকে। তাকে খুন করে পার পাওয়াও অত সহজ হবে না। পুলিশ তেড়ে তদন্ত করবে। কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসতে পারে। কিন্তু সূরষদেও সিং নিজেও তো এসব জানেন। তারপরেও যখন কথাটা বলছেন, তখন নিশ্চয় তার পেছনে কোনো চিন্তা-ভাবনা আছে। তাঁর প্ল্যানটা কী জানা দরকার। সবার মনের কথাই বেরিয়ে আসে প্রদীপ ঠাকুরের প্রশ্নে, “আপনে কেয়া সোচা বাতাইয়ে সিং সাহাব।”
টেংরি কাবাব এসে গেছে। আইসবাকেটটা নিয়ে একটা ছেলে ঢোকে। সূরযদেও তাকে সবার গ্লাসে বরফ দিতে ইশারা করে বলেন, “শরণ কো লিয়ে কোই মামুলি তারিকা নেহি চলেগা। আদমি বহুত হুঁশিয়ার হ্যায়। মেরা সোচ সে ইয়ে কাম কে লিয়ে কুন্দন হি পারফেক্ট আদমি হ্যায়….”
“কৌন কুন্দন?”
বরফ দেওয়া হয়ে গেছিল। সুরযদেও হাত নেড়ে ছোকরাটাকে চলে যেতে বলে। ছেলেটা খাবারের ফাঁকা ট্রেগুলো নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলে প্রদীপ ঠাকুরের দিকে তাকিয়ে বলেন, “কুন্দন মাহার…”
প্রদীপের মুখ দেখে বোঝা যায়, বিশেষ কিছুই বোঝেনি। অন্যদেরও মুখে-চোখে একটা অনিশ্চয়তার ভাব। সূরযদেও একবার সবার মুখের ওপর দৃষ্টি বুলিয়ে নেয়। তারপর আবার পিকদানিতে খানিকটা পিক ফেলে কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করে। অতিথিদের চোখে তীব্র কৌতূহল।
“দিওয়ালির আগে ভোপালে একটা পলিটিক্যাল লিডার মার্ডার হল মনে আছে?”
“হাঁ হাঁ… জরুর। নিজের দোকান থেকে বেরিয়ে পার্টি অফিসে যাচ্ছিল, তখন শ্যুট করেছিল। নামটা যেন কী ছিল…. নীরজ বর্মা…”
“একদম সহি বাত। মার্চ মাসে মতিহারীতে একটা খুন হয়েছিল, একজন ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট। নিজের বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়েছিল। সেই সময় গুলি করে। রাস্তায় এত ভিড় ছিল যে কে গুলি করেছে বুঝতেই পারা যায়নি। দুটো খুনেই কেউ ধরা পড়েনি। পুলিশ এখনও ইনভেস্টিগেশন করে যাচ্ছে। আমি খবর নিয়ে জেনেছি, দুটো খুনই করেছে কুন্দন মাহার। কিন্তু পুলিশ ওকে ধরতে পারছে না। লোকটা যে কে, কেমন দেখতে সেসব কিছুই এখনও জানে না পুলিশ। কুদ্দন মাহার শাপ ভাটার। নিজে বোমা বানাতে পারে। এমনি হাতবোমা নয়। রিমোট কন্ট্রোলের বোমা। একেবারে হান্ড্রেড পার্সেন্ট প্রফেশনাল লোক। টাকা নেয় কাজ করে। কোনো কিছু জানতে চায় না। কারও কাছ থেকে কোনো সাহায্যও নেয় না। নিজেই পুরোটা অর্গানাইজ করে কাজটা করে।”
“মানে লোকটা আসলে সুপারি কিলার?”
পিকদানিটা ভরে গেছিল। তাই আবার গণপতের ডাক পড়ল। এল অবশ্য সেই ছোকরা ছেলেটা। তার হাত থেকে নতুন পিকদানিটা নিয়ে সূরযদেও বললেন, “তাই বলতে পারেন। টাকা নিয়ে কাজ করে যখন। তবে অন্যদের তো সুপারি দিলেও সবরকম ইনফরমেশন দিতে লাগে, একে নাকি কিছুই বলতে হয় না। সব নিজে খোঁজ নেয়, নিজে প্ল্যান করে। সেজন্য সময় লাগে একটু কিন্তু কাজ একদম পাক্কা…”
লোকসভা ইলেকশনের আগে করতে পারলে ভালো, তাহলে পার্টির ওপর চাপ থাকবে…”
ভট্টর কথায় মাথা নাড়লেন সূরযদেও।
“আমারও তাই ইচ্ছা। এখনও চার-পাঁচ মাস আছে। ফিফটি পার্সেন্ট টাকা আগে দিতে হবে। ফিফটি পার্সেন্ট কাজের পর…”
“কত টাকা লাগবে জানেন কুছু?”
“না, সেটা জানি না। সব কথাই ওর সঙ্গে বলতে হবে। তবে আমার মনে লাগে বিশ লাখের কমে হবে না। রিস্কের কাজ আছে।”
“যা লাগে রাজি হয়ে যান দাদা। সবাই মিলে বেওস্তা হয়ে বলেন। বিকেলে নানারকম মিটিং থাকে। পার্টি অফিসেও যাবে…”
প্রদীপের কথায় সায় দিয়ে বানোয়ারিলাল বলে, “হ্যাঁ দাদা। বাত সহি আছে। আর সুপারি দিলে নিজেরা সেফ। পুলিশ ইনভেস্টিগেট করে কুন্দন মাহারকে ধরবে, সুপারির তো কোনো প্রুফ নেই… টাকা তো নাম লিখে দেওয়া হবে না হে হে হে…”
সুরযদেও অবশ্য হাসেন না। একটু গম্ভীরভাবেই বলেন, “নাম লিখা না-থাকলেও টাকা মার যাবে না। সুরযদেও সিং-এর টাকা মেরে পালাবে এমন লোক এ ইন্ডিয়াতে নেই…”
দাদার কথায় সায় দিয়ে হেসে ওঠে সবাই। আর এক প্রস্থ হুইস্কির গ্লাস হাতে হাতে ঘুরে যায়। তারপর সুরযদেও বলেন।
“আপনারা সবাই যখন প্রোপোজালে এগ্রি করছেন, তাহলে আমি এবার কুন্দন মাহারের সঙ্গে যোগাযোগ করব। এই কাজটা আমাকে একাই করতে হবে, কারণ লোকটা একজনের সঙ্গেই কথা বলে। যার কাছ থেকে আমি ওর নামটা জানতে পেরেছি, তার সঙ্গে কথা বলে যোগাযোগ করব। এ-ব্যাপারে আপনাদের আমার ওপরই নির্ভর করতে হবে মানে আমি বলতে চাইছি বিশ্বাস রাখতে হবে। তবে আমি টাইম-টু-টাইম কী কথা হল আপনাদের জানিয়ে দেব। টাকার কথাটা ফাইনাল হলে সেটাও জানাব। আপনারা রাজি আছেন তো?”
সবাই গ্লাস তুলে চিয়ার্স করে সূরযদেও-এর প্রস্তাবার সমর্থন জানালেন। ঘড়ির কাঁটা তখন দুটোর ঘর পেরিয়ে গেছে। আরও কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলার পর রাত তিনটে নাগাদ অতিথিরা একে একে উঠতে শুরু করলেন। দারোয়ানকে বলাই ছিল। গেট দিয়ে পরপর পাঁচটা গাড়ি নিঃশব্দে বেরিয়ে শুনশান অন্ধকার জাতীয় সড়ক ধরে এগিয়ে গেল দুর্গাপুরের দিকে।
***
