কালো হীরের জাল – ৪
অফিসে ফিরে সুনীল তার বস পুলিশ কমিশনার দীপক ছেত্রীকে রামশরণবাবু ঘটনাটা জানাতে তিনি বললেন, “দ্যাখো সুনীল এই ঘটনাটা একেবারেই পাঁচকান করা ঠিক হবে না। মন্ত্রীর বিপদের আশঙ্কা আছে। একজন নিরীহ লোকও বিপদে পড়তে পারে। তাই তুমি নিজে এটা ইনভেস্টিগেট করো। কোনো দরকার লাগলে বলবে। আর দু-জন সাদা পোশাকের পুলিশকে এখনই মিঃ পাহাড়ির বাড়ির সামনে পোস্টিং করে দাও।”
ফোন নম্বরটা কার সেটা বার করতে বিশেষ সময় লাগল না সুনীলের। ফোন কোম্পানির তরফে একটু পরেই জানিয়ে দিল, ফোনের মালিক রাহুল তরফদার নামে এক ব্যক্তি। তার ঠিকানা অন্ডালের হসপিটাল রোড। অন্ডাল থানায় নাম-ঠিকানা দিয়ে এই রাহুল তরফদার কী করেন খোঁজ নিতে বলল সুনীল। তবে বলে দিল খোঁজটা যে পুলিশ করছে সেটা যেন কোনোভাবেই জানাজানি হয়ে না যায়।
এদিকের কাজ সেরে এবার খানিকটা রুটিন ইনভেস্টিগেশনের জন্যই সুনীল রাহুল তরফদারের নম্বরটা ট্র্যাক করতে নির্দেশ দিল। অদ্ভুত ব্যাপার। ট্র্যাক করার পর দেখা গেল এই রাহুল তরফদার রয়েছেন সাহেবগঞ্জের কাছে মহারাজপুর নামের একটা জায়গায়। লোকেশন ট্র্যাক করে বোঝা গেল এই মহারাজপুর জায়গাটা আসলে ঝাড়খণ্ডে। তবে ঝাড়খণ্ড আর এই রাজ্যের সীমানার খুব কাছে। সবথেকে কাছের শহর হল রামপুরহাট। রামপুরহাট থানার ওসি সুনীলের বন্ধু। তাকে ফোন করে সুনীল বলল, “একটা লোকেশন পাঠাচ্ছি। একটু খোঁজ নিয়ে বলোতো, জায়গাটা ঠিক কোথায়…”
খবর এসে গেল একটু পরেই। রাহুল তরফদার মহারাজপুরের যে জায়গায় রয়েছে সেটার নাম পার্বতী ভিলা। বাড়ির মালিক সূরযদেও সিং।
রামপুরহাটের ওসিকে ওই পার্বতী ভিলাতে গত দু-একদিনের মধ্যে আর কেউ এসেছে কী না খোঁজ নিতে বলে সুনীল নিজেই পরের দিন সকালে রওনা হয়ে গেল মহারাজপুর। প্রায় পাঁচঘণ্টার পথ। দুপুর বারোটা বাজল রামপুরহাট পৌঁছতে। থানার ওসি রমেশ মিত্তল সুনীলের জন্যই অপেক্ষা করছিলেন।
“কিছু খবর পেলে নাকি?”
“বলছি, বোসো…”
একজন কনস্টেবল এসে দু-জনের জন্য চা দিয়ে যায়। রমেশ একটা কাপ তুলে নিয়ে বলে, “খোঁজ নিয়েছিলাম। সূরষদেও সিং নিজে পরশু সকালে এসেছিল, কাল বিকেলে ফিরে গেছে। তার আগের দিন বিকেলে ওর একটা টেনিয়া এসেছিল। সেও চলে গেছে ওর সঙ্গে। আশপাশের গ্রামের লোকের সঙ্গে কথ পাওয়া গেছে। ওই পার্বতী ভিলাতে ক্যা দারোয়ান এসব আছে। কিন্তু তাদের কাছে গোঁজ ে চেষ্টা করিনি। তাহলেই সুরযদেও-এর কাছে যাবে। ওরাই মালিককে বলে দেবে। কিন্তু আর ইন্টারেস্টিং খবর আমি পেয়েছি হাইওয়ে প কাছে। পাঁচটা গাড়ি পরশুরাতে এদিকে এসেছিল। শো বেশ রাতে, প্রায় সাড়ে দশটা নাগাদ পুলিশ দাঁড় করিয়েি গাড়িটাকে। দু-জন ভদ্রলোক ছিলেন। কথা শুনে অবাঙালি মনে হয়েছে। দুর্গাপুর থেকে আসছেন, সাহবাগ আত্মীয়ের বাড়ি যাবে বলেছিল। আগের চারটে গা সিসিটিভিতে দেখা যাচ্ছে, সাহেবগঞ্জের দিকেই গেছে আমার ধারণা এই পাঁচটা গাড়িই সুরবদেও-এর পার্বত ভিলাতেই গেছিল।”
“তোমার কী ব্যাপারটা স্ট্রাইকিং লাগছে?”
“নিশ্চয়। কারণ পাঁচটা গাড়িই আবার ভোররাতে কিছু গেছে। সূরযদেও রহিস লোক। তার বাড়িতে বন্ধু-বান্ধব আসতেই পারে। পান-ভোজন-ফূর্তি হলেও কারও কিছু বলার নেই। ওর ছেলে লগনদেও মাঝেমধ্যেই আসে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে চুপিচুপি কয়েকজন অতিথির আসা এক ভোর না হতে চলে যাওয়া, এটা খুবই সন্দেহজনক। তার মানে অতিথিরা চাইছে তাদের পরিচয় গোপন রাখতে সূরযদেও নিজেও চাইছে তার বাড়িতে কারা এসেছে সেটা যেন কেউ জানতে না পারে। এই লুকোছাপাটাই গোলমেলে।”
“সুরযদেও-এর বাড়িতে কারা এসেছিল কোনোভাবে জানা যেতে পারে?”
“এমনিতে জানা খুব কঠিন। কারণ বাড়িতে যারা ছিল তাদের তো জিজ্ঞাসা করা যাবে না। তাও আমি আমার দুটো খোচরকে বলেছি। ওই পার্বতী ভিলার আশপাশের গ্রামে কথা বলতে। দেখা যাক্ ওরা যদি কিছু খবর দিতে পারে। তুমি ততক্ষণ স্নান সেরে একটু বিশ্রাম নাও।”
কিন্তু স্নানে যাওয়ার আগেই ফোন এল সুনীলের। জান গেল অন্ডালের হসপিটাল রোডের লোকজনের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানেই রাহুল তরফদারে বাড়ি। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার। বাবা কয়েকবছর হল রিটায়ার করেছেন। রাহুল বছর চারেক হল এসএস কনস্ট্রাকশনে ম্যানেজারের কাজ করে। দুর্গাপুরে অফিস। বাড়ি থেকেই যাতায়াত করে। তবে মাঝমধ্যে অফিসের কাজে দুর্গাপুর কিংবা ধানবাদে গিয়েও থাকতে হয়। এমনিতে ভদ্র ছেলে। পাড়ায় কোনো বদনাম নেই।
তার মানে রামশরণ পাহাড়ির যে বিপদের আশঙ্কা আছে সেটা কোনোভাবে রাহুল বুঝতে পেরেছে এবং সেইজন্যই মাস্টারমশাইকে সাবধান করার চেষ্টা করেছে। সেই আশঙ্কার সঙ্গে সেদিন রাতে সুরদেও সিং-এর পার্বতী ভিলায় যারা এসেছিল তাদেরও নিশ্চিত যোগ আছে। সেই যোগটা কী বোঝা দরকার। কিন্তু এটা বুঝতে হবে রাহুলের সঙ্গে কথা না বলেই। কীভাবে এ-বিষয়ে খোঁজ নেওয়া যায় ভাবছিলেন সুনীল, সেই সময় মিত্তল এসে বললেন, “একটা ভালো খবর আছে। পার্বতী ভিলায় একটা লোক মালির কাজ করে, তার নাম ফকিরচাঁদ। এই ফকিরচাঁদের বাড়ি রামপুরহাটের কাছে তেওটিয়া গ্রামে। আমাদের খোচর হরিরাম খবর দিল যে এই তেওটিয়া গ্রাম থেকে নাকি দুটো ছেলে পরশুদিন পার্বতী ভিলায় গেছিল। ওই ফকিরচাঁদই ডেকে নিয়ে গেছিল কাজ আছে বলে। ছেলেদুটোর একটা হল ফকিরের দূরসম্পর্কের ভাগনা সুদেব অন্যটা তার বন্ধু মদন। এবার ছেলেদুটো কাল সকালে বাড়ি ফিরেছে অনেক খাবার-দাবার নিয়ে। সেই খাবার দিয়ে পাড়ার ক্লাবে ফিস্টি হয়েছে। হঠাৎ ফিস্টি কেন তা নিয়ে খোঁজ নিতে গিয়েই খবরটা হরিরাম পেয়েছে।”
“ছেলেদুটোর সঙ্গে তো এক্ষুনি কথা বলতে হবে রমেশ…”
“আমি হরিরামকে বলে দিয়েছি। পুলিশ ডাকছে শুনলে ভয় পেয়ে যাবে। তাই ওদের কথাবার্তায় ভুলিয়ে গ্রামের বাইরে নিয়ে আসবে হরিরাম। তারপর আমাদের লোক তুলে নিয়ে আসবে। সেরকমই ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সন্ধের আগেই ছেড়ে দিতে হবে। কারণ বেশি দেরি হলে বাড়ির লোক খোঁজাখুঁজি শুরু করলে কথাটা ছড়িয়ে যাবে।”
হরিরাম খুবই কাজের লোক। সুদেব আর মদনকে থানায় তুলে আনতে বিশেষ কোনো সমস্যা হল না। তাদের আলাদা একটা ঘরে সুনীলের মুখোমুখি বসানো হল। রমেশও থাকলেন সেখানে। ছেলেদুটোর বয়স সতেরো আঠারোর বেশি নয়। তারা যে খুবই ভয় পেয়েছে, মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে। তাই সুনীল প্রথমেই তাদের আশ্বস্ত করে বললেন, “শোনো, ভয় পেয়ো না। তোমরা কোনো দোষ করেছ বলে তোমাদের পুলিশ ধরে এনেছে তা নয়। তোমাদের কাছে আমি কয়েকটা জিনিস জানতে চাইব। সবকিছু সত্যি বললে, ঠিকঠাক বললে, ভয়ের কিছু নেই। আর আমার সঙ্গে যা কথাবার্তা হবে সেটা বাইরে কাউকে বলা চলবে না। যদি বলো তাহলে কিন্তু আবার তুলে এনে একেবারে ভেতরে ঢুকিয়ে দেব। বুঝেছি তো…”
ভয়ে ভয়ে ঘাড় নাড়ল সুদের আর মদন। করলেন, “পরশুদিন তোমরা মাহারাজপুরের পার্বতী ভিলায় গেছিলে?”
“হ্যাঁ, স্যার গেছিলাম।”
“কেন গেছিলে?”
উত্তরটা দিল সুদেব।
“স্যার, আমার মামা ফকিরচাঁদ ওখানে কাজ করে। মামা খবর পাঠিয়েছিল যে বাড়িতে অতিথি আসবে। কাজের জন্য দু-একজন বাড়তি লোক দরকার। একবেলা কাজ করলে পাঁচশ টাকা দেবে। তাই আমি মদনকে বললাম, ‘চল ঘুরে আসি। পাঁচশ টাকা বেফালতু রোজগার হয়ে যাবে।’ তাই গেছিলাম।”
“কখন গেলে?”
“দুপুরে ভাত খাওয়ার একটু পরে চলে গেছিলাম।”
“তখন ওই বাড়িতে কে কে ছিল?”
দু-জনে একটু ভেবে বলল, “মালিক ছিলেন। তবে মালিক দোতলাতেই ছিলেন। আমাদের সঙ্গে দেখা হয়নি। নীচে রাহুলস্যার ছিলেন। উনি আমাদের বুঝিয়ে দিলেন কী করতে হবে…”
“কী বুঝিয়ে দিলেন?”
“আসলে ওই বাড়িতে রান্নার কাজ করে গণপতদা। তার বয়স হয়েছে। তাই বেশি সিঁড়ি ওঠানামা করতে পারে না। অনেক উঁচু ঘোরানো সিঁড়ি আছে। তাই রাহুলস্যার আমাদের বলে দিলেন, সন্ধেবেলা গেস্টরা এসে গেলে আমাদের খাবারের ট্রে, মদের বোতল, গেলাস সব ওপরে নিয়ে যেতে হবে। মালিক ডাকলে কী বলছেন শুনে আসতে হবে। নীচে গণপতদার সঙ্গে হাতে হাতে কাজ করতে হবে। খাবার ঘরে যখন খাওয়া হবে তখন কাছে কাছে থাকতে হবে… এইরকম। খুব ভারি কাজ কিছু নয়।”
“গেস্টরা কখন এল?”
“ওই তো, আটটার সময় প্রকাশবাবু বলে একজন এলেন। রাহুল স্যার নামটা বললেন তাই শুনলাম, নাহলে জানতাম না…
“কতজন গেস্ট এসেছিলেন?”
“ছয়জন স্যার। সবাই গাড়ি নিয়ে এসেছিল আর এসেই ওপরে চলে যাচ্ছিল। আমি আর মদন ওদের সঙ্গে করে পৌঁছে দিয়ে আসছিলাম। রাহুলস্যার নীচে ছিলেন।”
সুনীল তার মোবাইল থেকে বেশ কিছু ছবি দেখিয়ে জানতে চাইলেন যে এদের মধ্যে কেউ সেদিন এসেছিল কী না। ছবি থেকে ছ-টা লোককেই চিনিয়ে দিল ছেলে দুটো। সুনীল এবার প্রশ্ন করলেন, “ওপরের যে ঘরে ওঁরা বসেছিলেন সেখানে তোমরা গেছিলে?”
“একবার তো প্রথমে খাবার দিয়ে এলাম। হুইস্কির বোতল, জলের গেলাস সব আগে থেকেই দিয়ে আসতে হয়েছিল। তারপর আমি একবার বরফ দিতে গেছিলাম। মদন গেল টেংরি কাবাব নিয়ে… ও তো পিকদানিও নিয়ে গেছিল। অন্যসময় আমরা নীচেই ছিলাম…”
“আচ্ছা… এবার আমি যেটা বলছি ভালো করে শোনো… তোমরা যখন বরফ কিংবা কাবাব দিতে ভেতরে গেলে তখন ওরা কী কথা বলছিল কিছু শুনেছ? কারও নাম বলছিল ওরা?”
দুটি ছেলেই কপাল কুঁচকে কিছুক্ষণ ভাবল। তারপর সুদেব বলল, “মালিক একটা কারও সঙ্গে কথা বলবে বলছিল… সেই লোকটার নামটাও বলল… লোকটার নাম হল… নামটা হল… কুন্দন মাহার… হ্যাঁ কুন্দন মাহারই বলেছিল। কে একজন শরণকে হঠানোর কথা বলছিল….”
কথাটা শুনেই সতর্ক হয়ে যায় সুনীল, “শরণ নামে কাউকে হঠানোর কথা বলছিল?”
“হ্যাঁ। সেজন্য কুন্দন মাহারকে লাগবে… সেটা বেশ কঠিন কাজ… এরকমই শুনে মনে হয়েছিল। আর কিছু শুনতে পাইনি।”
“তুমি কিছু শুনেছো মদন?”
“না স্যার। আসলে আমি যখন পিকদানিটা নিয়ে গেলাম তখন ওরা সুপুরি খাওয়ার কথা বলছিল…”
“কীসের কথা বলছিল?”
ভয়ানক চমকে উঠে জিজ্ঞাসা করলেন সুনীল, “সুপুরি খাওয়ার কথা বলছিল… কাকে যেন সুপুরি দেবে… এরকম কিছু।”
“কাকে সুপুরি দেবে কিছু বলছিল?”
মদন একটু মাথা চুলকে বলল, “না স্যার সেরকম কিছু তো শুনিনি।”
“সুরযদেও সিং-এর গেস্টরা কী রাতে ছিলেন?”
“না তিনটে নাগাদ ওঁরা বেরিয়ে গেলেন। আমরা তার আগেই শুয়ে পড়েছিলাম। বাইরে গাড়ির আওয়াজ হল তখন বুঝতে পারলাম। তারপর কাল সকালে বাড়ি চলে এসেছি। রাহুলস্যার টাকা দিয়েছিলেন। আর অনেক খাবার বেঁচে ছিল তো। রাতে কেউ আর কিছু খায়নি। তাই আমাদের খাবার দিয়ে দিয়েছিল…”
আরও দু-একটা ছোটোখাটো কথা জেনে নিয়ে সুনীল বললেন, “ঠিক আছে তোমরা এখন যেতে পারো। কিন্তু তোমাদের যে এখানে আনা হয়েছিল আর পার্বতী ভিলা সম্বন্ধে জানতে চাওয়া হয়েছে, এসব কথা যদি কাউকে বলো তাহলে কিন্তু আবার তুলে নিয়ে আসব। এবার আর ছাড়া পাবে না। ভেতরে ঢুকিয়ে দেব।”
কথা শেষ হতে ছেলেদুটো প্রায় দৌড়েই পালিয়ে গেল। সুনীল মিত্তলকে বললেন, “কেস সিরিয়াস। যে ছয়জন এসেছিল তারা সবাই আসানসোল-দুর্গাপুর অঞ্চলের কুখ্যাত লোক। ব্যবসা করে, ব্যবসার আড়ালে আরও অনেক কিছু করে। সবারই পোষা গুণ্ডা আছে। আমার মনে হচ্ছে শরণ স্যারকে মারার জন্য এই লোকগুলে কাউকে সুপারি দিয়েছে। কিন্তু সেই লোকটা কে? একটা নাম ওই সুদেব বলেছে কুন্দন মাহার। যারা এসেছিল তাদের কারও নাম কুন্দন নয়। তাহলে এই লোকটা কে? এই লোকগুলোর সঙ্গে যেসব গুণ্ডা কিংবা অ্যান্টি সোশ্যালরা কাজ করে তাদের সবার নাম পুলিশের বাতার আছে। সেখানেও কেউ কুন্দন মাহার নেই। তাহলে কী এই লোকটাই সুপারি কিলার?”
রমেশ মিত্তল একটু চিন্তা করে বললেন, আমারও নামটা একদম অচেনা লাগছে। এই ঝাড়খণ্ড বর্ডার কিংবা তার আশপাশের এলাকাতেও এই নামে কেউ আছে বলে তো মনে করতে পারছি না।
ঠিক আছে। আমি আজ তাহলে দুর্গাপুর ফিরে যাই। এরপর বেরোলে অনেক রাত হয়ে যাবে পৌঁছতে। তুমি একটু এপাশ-ওপাশ পাত্তা লাগাও। কোনো খোঁজ পেলে আমাকে বলবে। আমি ওখানে গিয়ে খোঁজ করছি।
গাড়ি নিয়ে দুর্গাপুরের দিকে যেতে যেতে সুনীল অফিসে একটা ফোন করে তার জুনিয়রকে বলল, তাদের ওখানে ক্রিমিনালদের যে ফাইল আছে সেটা যেন তাকে পাঠিয়ে রাখে। আর গত একবছরের মধ্যে তাদের এলাকায় যেসব খুন হয়েছে, তার খুনি যদি ধরা না পড়ে থাকে, তাহলে সেই নামটাও যেন পাঠায়।
***
