Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিমল-কুমার সমগ্র ১ – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমার রায় এক পাতা গল্প789 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    জেরিনার কণ্ঠহার – অবশিষ্ট – এক রাত্রের বিভীষিকা

    অবশিষ্ট – এক রাত্রের বিভীষিকা

    এক

    জায়গাটির নাম নাই—বা শুনলে! আমার সঙ্গীটির আসল নামও বলব না, কারণ তাঁর আপত্তি আছে। কারণ বোধ হয়, এই নৈশ নাটকে আমাদের কেউই বীরের ভূমিকায় অভিনয় করেনি। তবে এইটুকু শুনে রাখো, আমার সঙ্গীটি হচ্ছেন কলকাতার একজন বিখ্যাত ডাক্তার। আমি তাঁকে সুবোধ বলে ডাকব।

    এত লুকোচুরি কেন জানো? গল্পটি অমূলক নয়।

    অনেকদিন আগেকার কথা। সুবোধ তখন সবে ডাক্তারি পাশ করেছে, কিন্তু কোমর বেঁধে রোগী—বধকার্যে নিযুক্ত হয়নি।

    ছেলেবেলা থেকেই ভাঙা—চোরা সেকেলে মন্দির প্রভৃতি দেখবার শখ ছিল আমার অত্যন্ত। ভারতবাসীর অধিকাংশ নিজস্বতা খুঁজতে গেলে এই সব ধ্বংসাবশেষের মধ্যে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই।

    সেদিনও আমরা দুজনে একটি পুরানো মন্দির দেখতে গিয়েছিলুম। তার গর্ভ থেকে দেবতার চিহ্ন পর্যন্ত বিলুপ্ত হয়েছে বটে, কিন্তু তার গা থেকে কারুকার্যের সৌন্দর্য এখনও কেউ মুছে দিতে পারেনি। সেই সব কারিকুরি দেখে মুগ্ধ হয়ে গেল আমার নয়ন—মন।

    কিন্তু সুবোধ হল নিরাশ। বিরক্তস্বরে বললে, ‘বনজঙ্গল মাঠের ভেতর দিয়ে পথে—বিপথে সাত মাইল পেরিয়ে এই দেখাতে আমাকে এখানে নিয়ে এলে? এ যে পর্বতের মূষিক—প্রসব!’

    আমি বললুম, ‘মেডিকেল কলেজে মড়ার সঙ্গে বাস করে করে তোমার মনও মরে আড়ষ্ট হয়ে গেছে সুবোধ! নইলে এমন শিল্পচাতুরী দেখবার পরেও মুখ—ভার করতে পারতে না!’

    সুবোধ বললে, ‘আরে রেখে দাও তোমার শিল্পচাতুরী! রোদ পড়ে আসছে, সামনে আছে সাত মাইল দুর্গম পথ। এ—সময়ে শিল্পচাতুরী নিয়ে তর্ক না করে বাসার দিকে পা চালাবার চেষ্টা করো। পথে আসতে আসতে শুনেছ তো, এখানকার বনে—জঙ্গলে বাঘ—ভাল্লুকের অভাব নেই? তারা শিল্পরসিকের মর্যাদা রাখে না।’

    আকাশের দিকে চেয়ে দেখলুম। সূর্যের ছুটি নেবার সময় হয়ে এসেছে। আর ঘণ্টাখানেক পরেই অন্ধকারের কালো রাজত্ব শুরু হবে। শুনেছি এ—অঞ্চলে মাঝে মাঝে ডাকাতের ভয়ও হয়।

    সুবোধ আগেই অগ্রসর হল। আমিও তাকে অনুসরণ করলুম।

    দুই

    কিন্তু বরাত ভালো ছিল না।

    একটা জঙ্গলের ভিতর দিয়ে খোলা মাঠের উপরে পড়েই দেখলুম, আকাশের একপ্রান্ত আচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছে কালির মতন কালো মেঘে মেঘে।

    সেইদিকে আঙুল তুলে সুবোধ বললে, ‘দেখেছ?’

    —’হুঁ, দেখেছি। মিশকালো মেঘ, ঝড় ওঠবার সম্ভাবনা।’

    সুবোধ বললে, ‘মাঠের ওপর দিয়ে আমাদের প্রায় দু—মাইল হাঁটতে হবে। আসবার সময় দেখেছি, মাঠের ও—পাশে তিন—চারখানা কুঁড়েঘর আছে। কিন্তু সেখানে যাবার অনেক আগেই ঝড় আমাদের নাগাল ধরে ফেলবে। এখন উপায়?’

    —’উপায় খুব তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে দেওয়া!’ বলেই আমি প্রায় ছুটতে শুরু করলুম।

    কিন্তু মাইল—খানেক এগুতে—না—এগুতেই মেঘের দল এগিয়ে এল একেবারে আমাদের মাথার উপরে এবং সঙ্গে সঙ্গে সে কী ঝড়ের তোড়! সুবোধের মাথায় ছিল টুপি, ঝড়ের ছোঁয়া পেয়েই সে পক্ষীধর্ম অবলম্বন করে ফুড়ুক করে আকাশে উড়ে গেল। চারিধারে হু—হু গাঁ—গাঁ গর্জন, পিছন থেকে ঝোড়ো হাওয়ার ধাক্কা এবং রাশি রাশি কাঁকর ছুটে এসে আমাদের গায়ে বিঁধতে লাগল, ছররা গুলির মতো। সন্ধ্যার অন্ধকারের সঙ্গে মেঘের কালিমা মিলে আমাদের দৃষ্টি করে দিলে প্রায় অন্ধের মতো। ভাগ্যে ঘনঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল, নইলে নিশ্চয়ই আমরা পথ হারিয়ে ফেলতুম।

    কোনওরকমে মাঠ পার হলুম বটে, কিন্তু গায়ে পড়ল বড়ো বড়ো কয় ফাঁটা জল।

    সুবোধ বললে, ‘ওহে, এইবার বৃষ্টির পালা আরম্ভ হবে। সামনে একটা ঘরের মতন কী দেখা যাচ্ছে, ওইদিকে চলো—ওইদিকে চলো!’

    হ্যাঁ, পাশাপাশি দু—তিনখানা কুঁড়েঘরই বটে। একটা দাওয়ার উপরে উঠে দাঁড়াতে—না—দাঁড়াতেই ঝমঝম করে নামল মুষলধারে বৃষ্টি।

    খানিকক্ষণ ধরে হাঁপ ছাড়বার পর সুবোধ তেঁতো হাসি হেসে বললে, ‘বন্ধুবর, শিল্পচাতুরী এখন কেমন লাগছে?’

    —’মন্দ কী?

    ঝর—ঝর বরষা,

    নাহি কোনও ভরসা।

    এও একটা নূতনত্ব ভেবে অনায়াসেই উপভোগ করা যেতে পারে।’

    —’ভবিষ্যতে তোমার ভাবুকতার ফাঁদে আর কখনও পড়ব না। এখান থেকে আমাদের বাসা এখনও চার মাইলের কম হবে না। এই বৃষ্টি আর অন্ধকারে সেখানে যাওয়াও অসম্ভব, এখানে থাকাও অসম্ভব।’

    —’থাকা অসম্ভব কেন?’

    —’সারা রাত উপোস করব? হিন্দু বিধবার মতো উপোস করবার শক্তি আমার নেই। আমার এত খিদে পেয়েছে যে, আমি যদি বাঘ হতুম, তোমাকে ধরেই গপ করে খেয়ে ফেলতুম, বন্ধু বলে মানতুম না।’

    ফিরে দেখলুম, আমাদের পিছনে একটা দরজার ফাঁক দিয়ে আলোর লাইন দেখা যাচ্ছে। আমি সেই দরজায় ধাক্কা মারলুম। দরজাটা খুলে গেল। হ্যারিকেন লণ্ঠন হাতে করে একজন স্ত্রীলোক আমাদের দেখেই বিস্মিতভাবে দু—পা পিছিয়ে গেল।

    কিন্তু তার চেয়েও বেশি বিস্মিত হলুম আমরা।

    বাবা, এত বৃহৎ স্ত্রীলোক আমি কখনও দেখিনি! যেমন লম্বায়, তেমনি চওড়ায়! দেখলেই তাকে পালোয়ানের মতন জোয়ান বলে মনে হয়। এবং কী কালো আর কী কুৎসিত! বলতে কী, সে স্ত্রীলোক হলেও তাকে দেখে আমার বুকের কাছটা ছোঁৎ—ছোঁৎ করতে লাগল।

    স্ত্রীলোকটা ভাঙা—ভাঙা বাংলায় বললে, ‘তোমরা কে গো বাবুজি?’

    —’আমরা এদিকে বেড়াতে এসেছিলুম গো। ফেরবার পথে এই ঝড়—বৃষ্টি! আমাদের বাসা এখান থেকে অনেক দূরে। আজ রাতটা এখানে থাকবার ঠাঁই হবে?’

    সে বললে, ‘বাবুজি, আমরা ভারী গরিব। এই নোংরা ঘরে তোমরা থাকতে পারবে কি?’

    —’খুব পারব গো, খুব পারব। অবিশ্যি কাল সকালে তোমাকে ভালো করে বকশিশ না দিয়ে যাব না।’

    স্ত্রীলোকটা খানিকক্ষণ কী ভাবলে। তারপর বললে, ‘আচ্ছা, এসো!’ আমরা ঘরের ভিতরে গিয়ে দাঁড়ালুম।

    সে লণ্ঠনটা তুলে নিয়ে বললে, ‘আমার সঙ্গে চলো।’

    চললুম। সে—ঘর থেকে বেরিয়ে পাশের ঘরে গিয়ে স্ত্রীলোকটা বললে, ‘বাবুজি, এই ঘরে তোমাদের থাকতে হবে।’

    চারিদিকে একবার চোখ বুলিয়ে নিলুম। মাঝারি আকারের ঘর। মেঝেময় ছাগলের বিষ্ঠা, মেটে দেওয়াল, উপরে খড়ের ছাউনি। একদিকে দেওয়াল ঘেঁষে একটা সস্তা দামের আলমারি দাঁড় করানো রয়েছে, কিন্তু তার পাল্লায় কাচ নেই এবং ভিতরেও তাক নেই। আর একদিকে একখানা দড়ির খাটিয়া। সারাঘরে এমন বাঁটকা দুর্গন্ধ যে নাকে কাপড় চাপা দেবার ইচ্ছা হল।

    স্ত্রীলোকটা বললে, ‘বাবুজি, রাতে তোমরা খাবে কী?’

    সুবোধ বললে, ‘আমিও তোমাকে ঠিক ওই কথাই জিজ্ঞাসা করতে যাচ্ছিলুম! রাতে খাব কী? তোমাদের বাড়িতে খাবারটাবার কিছু নেই?’

    —’দুটি চাল আছে, আর কিছু নেই। বাবুজি, আমরা বড়ো গরিব।’

    সুবোধ ম্রিয়মাণ ক্ষীণস্বরে বললে, ‘বেশ, আজ ওই চালেই আমাদের চলবে।’

    স্ত্রীলোকটা বললে, ‘বাবুজি, তোমরা মোরগ খাও?’

    —’মোরগ? অর্থাৎ ফাউল? নিশ্চয়ই খাই।’

    —’আমার মোরগ আছে, বাবুজি!’

    সুবোধ অত্যন্ত উৎসাহিত হয়ে বললে, ‘অ্যাঃ, তোমার মোরগ আছে? তবে কে বলে তুমি গরিব? মোরগ তো রাজভোগ! আচ্ছা, এখন এই একটা টাকা নাও, কাল সকালে তোমাকে আরও তিন টাকা বকশিশ দিয়ে যাব।’ বলেই সে ফস করে পকেট থেকে মনিব্যাগটা বার করলে।

    স্ত্রীলোকটার দুই চোখ হঠাৎ জ্বলজ্বল করে জ্বলে উঠল। তার সেই লোলুপ দৃষ্টির অনুসরণ করে দেখলুম, সুবোধ তার ব্যাগ খুলেছে এবং ব্যাগের ভিতর থেকে বেরিয়ে পড়েছে কয়েকখানা নোট।

    ঠিক সেই সময়ে দরজার কাছ থেকে কর্কশ হেঁড়ে গলায় কে বললে, ‘মণিয়া, এরা কারা?’

    চমকে ফিরে দেখি, দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি মারছে আর একখানা বীভৎস মুখ! কালো পাথরের থালার মতন গোল মুখে দুটো ভোঁটার মতো চোখ, থ্যাবড়া নাক, ঝাঁটার মতো খোঁচা খোঁচা গাঁফ এবং হিংস্র জন্তুর মতো বড়ো বড়ো দাঁত! যেন মা—দুর্গার অসুর!

    মণিয়া—অর্থাৎ সেই স্ত্রীলোকটা তাড়াতাড়ি বললে, ‘বাবুজিরা আজ এখানে থাকবে। চল, তোকে সব বলছি।’

    তিন

    সেই দুই অদ্ভুত ও ভয়াবহ মূর্তি অদৃশ্য হবার পর আমি বিরক্ত স্বরে বললুম, ‘সুবোধ, এই স্ত্রীলোকটার সামনে কে তোমাকে ব্যাগ খুলতে বললে?’

    —’কেন ভাই, কিছু অন্যায় হয়েছে নাকি?’

    —’অন্যায় হয়েছে কি না আজ রাতেই হয়তো বুঝতে পারব! একে তো এই অজানা জঙ্গুলে জায়গা, ঝড়—বাদলের রাত, আর আমাদের এই অসহায় অবস্থা, তার উপরে কৃতজ্ঞতার খাতির রেখেও বলতে হচ্ছে, আমাদের আশ্রয় দিয়েছে যারা তাদের চেহারা হচ্ছে দানব—দানবীর মতো! রক্ষক শেষটা ভক্ষক হয়ে না দাঁড়ায়!’

    সুবোধ ভীতভাবে ফ্যালফ্যাল করে আমার মুখের পানে তাকিয়ে রইল।

    খানিক পরেই দেখি পাশের ঘর থেকে বেরিয়ে এল সেই দুশমনের মতন পুরুষটা। দরজার কাছেই ছিল হ্যারিকেন লণ্ঠনটা। তার ম্লান আলোতেও স্পষ্ট দেখলুম, লোকটার হাতে চকচক করছে একখানা প্রায় একহাত লম্বা ছুরি—না, ছুরি না বলে তাকে ছোটো তরবারি বললেই ঠিক হয়! লোকটা একবার আমার দিকে তাকিয়ে বিশ্রী হাসি হাসলে, তারপর দাওয়া থেকে উঠানে নেমে অন্ধকারের ভিতরে মিলিয়ে গেল।

    সুবোধও দেখেছিল। চোখ কপালে তুলে সে বললে, ‘সর্বনাশ! এই রাতে অতবড়ো ছুরি নিয়ে ও কী করবে? ও আমাদের পানে তাকিয়ে অমন করে হাসলে কেন?’

    পাশের ঘর থেকে স্ত্রী—পুরুষের গলার আওয়াজ এল।

    আমি বললুম, ‘আমরা এখানে এসে প্রথমে দেখেছিলুম মণিয়াকে। তারপর দেখলুম আর একটা লোককে। এখন দেখছি এ বাড়িতে আরও পুরুষও আছে! তাদের চেহারাও বোধহয় কার্তিকের মতন নয়!’

    সুবোধ ধপাস করে খাটিয়ার উপরে শুয়ে পড়ে বললে, ‘এক মণিয়া—রাক্ষসী আক্রমণ করলেই আমরা দুজনেই হয়তো কাবু হয়ে পড়ব, তার উপরে আবার পুরুষ—সঙ্গীর দল! নাঃ, আমাদের আর কোনওই আশা নেই!’

    ঘণ্টা দুয়েক পরে মোটা লাল চালের ভাতের সঙ্গে এল গরম ফাউলের ঝোল। কিন্তু ফাউল খাবার জন্যে সুবোধ আর কোনও আগ্রহই দেখালে না। তার মুখের ভাব দেখলে মনে পড়ে বলির পাঁঠার কথা। আমার নিজের মুখের ভাব কী রকম হয়েছিল, জানি না।

    চার

    রাতে শোবার আগে ঘরের দরজা ভিতর থেকে খুব সাবধানে বন্ধ করে দিলুম। হ্যারিকেনের লণ্ঠনটা সেই কাচ ও তাক—হীন আলমারির মাথায় এমনভাবে রেখে দিলুম, যাতে ঘরের সবটা দেখতে পাওয়া যায়।

    সুবোধ বললে, ‘এরা কী জাত, বোঝা গেল না! এরা মুরগি পোষে, মুরগি রাঁধে, কিন্তু এদের মুসলমান বলে মনে হচ্ছে না।’

    খাটিয়ার উপরে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ে বললুম, ‘আমার বিশ্বাস, এরা সাঁওতাল কি ওই রকম কোনও বুনো জাত!’

    সুবোধ ত্রস্তস্বরে বললে, ‘কী হে, ঘুমোবে নাকি? আমি কিন্তু সারারাতই জেগে বসে থাকব। এখানে ঘুম মানে মৃত্যু বা আত্মহত্যা।’

    —’তুমি যদি পাহারা দিতে রাজি হও, তা হলে আমি আর জেগে মরি কেন?’ বলেই চোখ মুদে ফেললুম।

    বাইরে তখনও ঝমঝম করে বৃষ্টি হচ্ছে। থেকে থেকে গাছে গাছে ঝোড়ো হাওয়ার কান্নাও শোনা যাচ্ছে। সেইসঙ্গে শুনলুম একটা ছাগলও চিৎকার করছে প্রাণপণে।

    কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি, কতক্ষণ যে ঘুমিয়েছি জানি না, কিন্তু হঠাৎ সুবোধের প্রচণ্ড ঠেলাঠেলির চোটে ভেঙে গেল আমার ঘুম।

    ধড়মড় করে উঠে বসলুম, ‘কী, কী, ব্যাপার কী?’

    সুবোধ প্রায় কান্নার স্বরে বললে, ‘বাইরে থেকে দরজায় ধাক্কা মারছে! তারা আসছে—তারা আসছে!’

    —’কী বলছ? কারা আসছে?’

    —’যারা আমাদের গলা কাটতে চায়! আর রক্ষে নেই।’

    সভয়ে দরজার দিকে তাকালুম।

    সুবোধ থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে বললে, ‘ও—দরজায় নয়, অন্য কোনও দরজায়! ওই শোনো।’

    সত্য, ঘটাঘট করে একটা দরজার শব্দ হল। শব্দটা জাগছে এই ঘরের ভিতরেই, অথচ এখানে একটা ছাড়া দরজা নেই!

    সুবোধ কান পেতে শুনে বললে, ‘শব্দটা আসছে যেন ওই ভাঙা আলমারির পেছন থেকেই।’

    তাড়াতাড়ি উঠে গিয়ে আলমারিটা একটু টেনে সরিয়ে তার ফাঁকে উঁকি মেরে দেখলুম, সত্য—সত্যই আলমারির পিছনে রয়েছে আর একটা দরজা!

    সুবোধ বললে, ‘ভাই, আমরা পাকা ডাকাতের পাল্লায় পড়েছি। ওই দরজাটা লুকোবার জন্যেই ওখানে ওরা আলমারি রেখেছে!’

    হাত বাড়িয়ে দেখলুম, সে—দরজাটা ভিতর থেকে বন্ধ করবার কোনও উপায় নেই।

    বুঝলুম, একটু জোরে ধাক্কা মারলেই এই ভাঙা আলমারিটা এখনই উলটে হুড়মুড় করে পড়ে যাবে মেঝের উপরে। কিন্তু শত্রুরা জোরে ধাক্কা মারছে না কেন? আমাদের ঘুম ভেঙে যাবার ভয়ে? খুব সম্ভব তাই।

    আলমারিটাকে আবার যথাস্থানে সরিয়ে রেখে তার গায়ে খাটিয়াখানা ঠেলে দিলুম। তারপর খাটিয়ায় বসে পড়ে ঘড়ি বার করে দেখলুম, রাত সাড়ে তিনটে।

    পাঁচ

    কিন্তু আমাদের প্রাণ এবং সুবোধের নোটগুলো এ—যাত্রা বেঁচে গেল, কারণ রাত্রে সন্দেহজনক আর কিছু ঘটল না।

    সকালে ঘরের দরজা খুলেই দেখি, মণিয়া দাওয়ায় দাঁড়িয়ে আছে।

    সে হেসে জিজ্ঞাসা করলে, ‘বাবুজি, রাতে ঘুম হয়েছিল তো?’

    আমি ক্রুদ্ধস্বরে বললুম, ‘সারারাত তোমরা যদি দরজা ঠেলাঠেলি করো, তাহলে ঘুম হয় কেমন করে?’

    মণিয়া আবার হেসে বললে, ‘ও, বুনি বুঝি ওদিকের ভাঙা দরজাটা ঠেলেছিল? হ্যাঁ বাবুজি, বুনির ওই স্বভাব। ও দরজার খিল নেই, বুনি তা জানে। তার জ্বালাতেই তো দরজার সামনে আলমারিটা দাঁড় করিয়ে রেখেছি।’

    —’বুনি কে শুনি?’

    —’আমাদের বকরি, বাবুজি!’

    ছাগলি! একটা ছাগলির ভয়ে কাল রাতে আমরা—

    হঠাৎ সুবোধ একদিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করলে।

    উঠানের মাঝখানে রয়েছে একরাশ মুরগির পালক প্রভৃতি এবং তার পাশেই দেখা যাচ্ছে মস্ত একখানা একহাত লম্বা ছুরি।

    তাহলে কাল রাতে সেই লোকটা এই ছুরিখানা নিয়ে বেরিয়েছিল মুরগি কাটবার জন্যেই?

    বিদেশ—বিভুঁই, ঝড়—বাদল, নিশুতি রাত, অচেনা মানুষের বিকট চেহারা, বৃহৎ ছুরি, লুকানো দরজা, ছাগলি বুনির গৃহপ্রবেশ—চেষ্টা প্রভৃতি একসঙ্গে মিলে আমাদের মনের ভিতরে যে ঘোরতর বিভীষিকার জগৎ সৃষ্টি করেছিল, সকালের সূর্যালোকে তা উড়ে গেল কুয়াশার মতো।

    নিজেদের মনে—মনে লজ্জাও যে হচ্ছিল না এমন কথা বলতে পারি না।

    এবং অনুতাপও হচ্ছিল যথেষ্ট। হতে পারে মণিয়া আর তার সঙ্গীদের চেহারা অপ্সর—অপ্সরীদের মতন নয়। কিন্তু এই দুর্যোগের রাতে গহন বনে আমাদের মতন অনাহুত অতিথিদের আশ্রয় ও আহার্য দিয়ে তারা যে যত্নাদরটা করেছে, তার মর্যাদা না দিয়ে আমরা যে তাদের উপরেই অকৃতজ্ঞের মতন হীন সন্দেহ করেছি, এই অপ্রিয় সত্যটাই আমাদের মনকে আঘাত দিতে লাগল বারংবার।

    বলা বাহুল্য, সুবোধের অঙ্গীকৃত তিন টাকা বকশিশ পরিণত হল পঞ্চ মুদ্রায়। এই অভাবিত সৌভাগ্যে মণিয়ার কালো মুখের উপর দিয়ে বয়ে গেল মিষ্ট হাসির তরঙ্গ।

    প্রকাশিত—১৯৪০

    ___

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকলকাতার রাত্রি রহস্য – হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Next Article কিশোর রহস্য উপন্যাস – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    Related Articles

    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    মানুষের গড়া দৈত্য – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমারের গল্প – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রহস্য-রোমাঞ্চ সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রবিন হুড – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    জয়তু জয়ন্ত – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    ঐতিহাসিক সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }