Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিমল-কুমার সমগ্র ১ – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমার রায় এক পাতা গল্প789 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    যকের ধন – ৫

    পাঁচ – পরামর্শ

    আমি বললুম, ”মড়ার মাথা কি করে চুরি গেল, বিমল!”

    বিমল বললে, ”জানি না। সকালে উঠে দেখলুম, আমার পড়বার ঘরের দরজাটা খোলা, রাত্রে তালা—চাবি ভেঙ্গে কেউ ঘরের ভেতরে ঢুকেচে! বুকটা অমনি ধড়াস করে উঠল! মড়ার মাথাটা আমি টেবিলের টানার ভেতরে চাবি বন্ধ করে রেখেছিলুম। ছুটে গিয়ে দেখি, টানাটাও খোলা রয়েচে, আর তার ভেতর মড়ার মাথা নেই!”

    আমি বলে উঠলুম, ”এ নিশ্চয়ই করালী মুখুয্যের কীর্ত্তি। সেই—ই লোক পাঠিয়ে মড়ার মাথা চুরি করেছে। কিন্তু এই ভেবে আমি আশ্চর্য্য হচ্ছি, করালী কি করে জানলে যে, মড়ার মাথাটা তোমার বাড়ীতে আছে?”

    বিমল বললে, করালী নিশ্চয়ই চারিদিকে চর রেখেচে! আমরা কি করচি না করচি, সব সে জানে!”

    আমি বললুম, ”কিন্তু খালি মড়ার মাথাটা নিয়ে সে কি করবে? সঙ্কেতের মানে তো সে জানে না!”

    বিমল বললে, ”কুমার, শত্রুকে কখনো বোকা মনে কোরো না। আমরা যখন সঙ্কেত বুঝতে পেরেচি, তখন চেষ্টা করলে করালীই বা তা বুঝতে পারবে না কেন?”

    আমি বললুম, ”কিন্তু সঙ্কেতের সবটাও যে আর মড়ার মাথার ওপরে নেই! মনে নেই, আমার হাত থেকে পড়ে কাল মড়ার মাথাটা চটে গিয়েচে!”

    বিমল কি যেন ভাবতে ভাবতে বললে, ”তবু বিশ্বাস নেই!”

    হঠাৎ আমার আর একটা কথা মনে পড়ল। আমি তাড়াতাড়ি জিজ্ঞাসা করলুম, ”আচ্ছা ঠাকুরদার পকেট—বইখানাও কি চুরি গেছে?”

    বিমল বললে, ”না, এইটুকু যা আশার কথা। পকেট—বইখানা কাল রাত্রে আমি আর একবার ভালো করে পড়বার জন্যে উপরে নিয়ে গিয়েছিলুম। ঘুমোবার আগে সেখানে আমার মাথার তলার বালিসের নীচে রেখে শুয়েছিলাম—চোর তা নিতে পারনি।”

    আমি কতকটা নিশ্চিন্ত হয়ে বললুম, ”যাক—তবু রক্ষে ভাই। যকের ধনের ঠিকানা আছে সেই পকেট—বইয়ের মধ্যে। ঠিকানা না জানলে করালী সঙ্কেত জেনেও কিছু করতে পারবে না! কিন্তু খুব সাবধান বিমল! পকেট—বইখানা যেন আবার চুরি না যায়।”

    বিমল বললে, ”সে বন্দোবস্ত আজকেই করব। পকেট—বইয়ের যেখানে পথের কথা আর ঠিকানা আছে, সে—সব জায়গা আমি কালি দিয়ে এমন করে কেটে দেব যে কেউ তা পড়তে পারবে না!”

    আমি বললুম, ”তাহলে আমরাও মুস্কিলে পড়ব যে!”

    বিমল হেসে বললে, ”কোন ভয় নেই। ঠিকানা আর পথের কথা আর—একখানা আলাদা কাগজে নতুন একরকম সাঙ্কেতিক কথাতে আমি টুকে রাখব,—সে সঙ্কেত আমি ছাড়া আর কেউ জানে না।”

    খানিকক্ষণ চুপ করে থাকবার পর আমি বললুম, ”এখন আমরা কি করব?”

    বিমল বললে, ”আগে মড়ার মাথাটা উদ্ধার করতে হবে!”

    আমি আশ্চর্য্য হয়ে বললুম, ”কি করে?”

    বিমল বললে, ”যেমন করে তারা মড়ার মাথা আমাদের কাছ থেকে নিয়ে গেছে!”

    আমি বললুম, ”চোরের উপর বাটপাড়ি?”

    বিমল বললে, ”তাছাড়া আর উপায় কি? আজ রাত্রেই আমি করালীর বাড়ীতে যেমন করে পারি ঢুকব। আমার সঙ্গে থাকবে তুমি।”

    আমি একটু ঘাবড়ে গিয়ে বললুম, ”কিন্তু করালী যদি জানতে পারে, আমাদের চোর বলে ধরিয়ে দেবে যে! সেই যে মড়ার মাথাটা চুরি করেচে, তারও তো কোন প্রমাণ নেই!”

    বিমল মরিয়ার মত বললে, ”কপালে যা আছে তা হবে। তবে এটা ঠিক আমি বেঁচে থাকতে করালী আমাদের কারুকে ধরতে পারবে না।”

    মনকে তবু বোঝ মানাতে না পেরে আমি বললুম, ”না ভাই, দরকার নেই। শেষটা কি পাড়ায় একটা কেলেঙ্কারী হবে?”

    বিমল বেজায় চটে গিয়ে বললে, ”দূর ভীতু কোথাকার, এই সাহস নিয়ে তুমি যাবে রূপনাথের গুহায় যকের ধন আনতে? তার চেয়ে মায়ের কোলের আদুরে খোকাটি হয়ে বাড়ীতে বসে থাকো—তোমার পকেট—বই এখনি আমি ফিরিয়ে দিয়ে যাচ্ছি”—এই বলেই বিমল হন হন করে দরজার দিকে এগিয়ে গেল!

    আমি তাড়াতাড়ি বিমলকে আবার ফিরিয়ে এনে বললুম, ”বিমল, তুমি ভুল বুঝচ—আমি একটুও ভয় পাইনি। আমি বলছিলুম কি—”

    বিমল আমাকে বাধা দিয়ে বললে, ”তুমি কি বলচ, আমি তা শুনতে চাই না। স্পষ্ট করে বল, আজ রাত্রে আমার সঙ্গে তুমি করালীর বাড়ীতে যেতে রাজি আছ কি না?”

    আমি জবাব দিলুম—”আছি।”

    বিমল খুসি হয়ে আমার হাতদুটো আচ্ছা করে নেড়ে দিয়ে বললে, ”হু এই তো শুড বয়ের মত কথা। যদি মানুষ হতে চাও, ডানপিটে হও!”

    আমি হেসে বললুম, ”ডানপিটের মরণ যে গাছের আগায়!”

    বিমল বললে, ”বিছানায় শুয়ে থাকলেও মানুষ তো যমকে কলা দেখাতে পারে না! মরতেই যখন হবে, তখন বিছানায় শুয়ে মরার চেয়ে বীরের মত মরাই ভালো! তোমরা যাদের ভালো ছেলে বল—সেই গোবর—গণেশ মিনমিনে ননির পুতুলগুলোকে আমি দু—চোখে দেখতে পারি না! সায়েবের জুতো খেয়ে তাদেরই পিলে ফাটে, বিপদে পড়লে তারাই আর বাঁচে না, মরে বটে—তাও কাপুরুষের মত। এরাই বাঙালীর কলঙ্ক। জগতে যে—সব জাতি আজ মাথা তুলে বড় হয়ে আছে—বিপদের ভেতর দিয়ে, মরণের কুছপরোয়া না রেখে তারা সবাই শ্রেষ্ঠ হতে পেরেচে। বুঝলে কুমার? বিপদ দেখলে আমার আনন্দ হয়!”

    ছয় – চোরের উপর বাটপাড়ি

    সেদিন অমাবস্যা! চারিদিকে অন্ধকার যেন জমাট বেঁধে আছে। কেবল জোনাকিগুলো মাঝে মাঝে পিট পিট করে জ্বলছে—ঠিক যেন আঁধাররাক্ষসের রাশি রাশি আগুন—চোখের মতন।

    আমাদের বাড়ী কলকাতার প্রায় বাইরে, সেখানটা এখনো সহরের মতন ঘিঞ্জি হয়ে পড়েনি। বাড়ী—ঘর খুব তফাতে তফাতে,—গাছপালাই বেশী, বাসিন্দা খুব কম। অর্থাৎ আমরা নামেই কলকাতায় থাকি, এখানটাকে আসল কলকাতা বলা যায় না।

    আমাদের বাড়ীর পরে একটা মাঠ, সেই মাঠের একপাশের একটা কচুঝোপের ভিতর বিমল আর আমি সুযোগের অপেক্ষায় লুকিয়ে বসে আছি। মাঠের ওপার করালীর বাড়ী।

    মশারা আমাদের সাড়া পেয়ে আজ ভারি খুশি হয়ে ক্রমাগত ব্যাণ্ড বাজাচ্ছে—বিনি পয়সার ভোজের লোভে! সে তল্লাটে যত মশা ছিল, ব্যাণ্ডের আওয়াজ শুনে সবাই সেখানে এসে হাজির হোলো এবং আমাদের সর্ব্বাঙ্গে আদর ক’রে শুঁড় বুলিয়ে দিতে লাগল। সেই সাংঘাতিক আদর আর হজম করতে না পেরে আমি চুপি চুপি বিমলকে বললুম, ”ওহে, আর যে সহ্য হচ্ছে না!”

    বিমল খালি বললে, ”চুপ!”

    —”আর চুপ করে থাকা যে কত শক্ত, তা কি বুঝচ না?”

    —”বুঝচি সব! আমি চুপ করে আছি কি করে?”

    এ কথার উপরে আর কথা চলে না। অগত্যা চুপ করেই রইলুম!

    ক্রমে মুখ—হাত—পা যখন ফুলে প্রায় ঢোল হয়ে উঠল তখন নিশুত রাতের বুক কাঁপিয়ে গির্জ্জের ঘড়ীতে ‘টং’ করে একটা বাজল!

    বিমল উঠে দাঁড়িয়ে বললে, ”এইবার সময় হয়েছে!”

    আমি তৈরি হয়েই ছিলুম—এক লাফে ঝোপের বাইরে এসে দাঁড়ালুম!

    বিমল বললে, ”আগে এই মুখোসটা পরে নাও!”

    বিমল আজ দুপুর বেলায় রাধাবাজার থেকে দুটো দামী বিলাতী মুখোস কিনে এনেছে। দুটোই কাফ্রীর মুখ,—দেখতে এমন ভয়ানক যে রাত্রে আচমকা দেখলে বুড়ো—মিন্সেদেরও পেটের পিলে চমকে যাবে! পরার উদ্দেশ্য, কেউ আমাদের দেখলেও চিনতে পারবে না।

    মুখোস পরে দুজনে আস্তে আস্তে করালীর বাড়ীর দিকে এগুতে লাগলুম। তার বাড়ীর পিছন দিকে গিয়ে বিমল চুপি চুপি বললে, ”মালকোঁচা মেরে কাপড় পরে নাও!”

    আমি বললুম, ”কিন্তু এদিকে তো বাড়ীর ভেতরে ঢোকবার দরজা নেই!”

    বিমল বললে, ”দরজা দিয়ে ঢুকবে কে? আমরা কি নেমন্তন্ন খেতে যাচ্ছি? এদিকে একটা বড় বটগাছ আছে, সেই গাছের ডাল করালীর বাড়ীর দোতালার ছাদের ওপরে গিয়ে পড়েচে। আমরা ডাল দিয়ে বাড়ীর ভেতরে যাব!” বিমল তার হাতের চোরা—লণ্ঠনটা উঁচু করে ধরলে,—একটা আলোর রেখা ঠিক আমাদের সামনের বটগাছের উপরে গিয়ে পড়ল!

    বাড়ীতে ঢুকবার এই উপায়ের কথা শুনে আমার মনটা অবশ্য খুসি হোলো না—কিন্তু মুখে আর কিছু না বলে, বিমলের সঙ্গে গাছের উপর উঠতে লাগলুম।

    অনেকটা উঁচুতে উঠে বিমল বললে, ”এইবার খুব সাবধানে এস! এই দেখ ডাল! এই ডাল বেয়ে গিয়ে ছাতের উপর লাফিয়ে পড়তে হবে।”

    আবছায়ার মতন ডালটা দেখতে পেলুম। বিমল আগে ডালটা ধরে এগিয়ে গেল—একটা অস্পষ্ট শব্দে বুঝলুম, সে ছাদের উপর লাফিয়ে পড়ল।

    আমি দু—পা রেখে আর দু—হাতে প্রাণপণে ডালটা ধরে ধীরে ধীরে এগুতে লাগলুম—প্রতি মুহূর্তেই মনে হয়, এই বুঝি পড়ে যাই! সেখান থেকে পড়ে গেলে স্বয়ং ধন্বন্তরিও আমাকে বাঁচাতে পারবেন না।

    হঠাৎ বিমলের অস্পষ্ট গলা পেলুম—”ব্যাস! ডাল ধরে ঝুলে পড়।”

    আমি ভয়ে ভয়ে ডাল ধরে ঝুলে পড়লুম!

    —”এইবার ডাল ছেড়ে দাও।”

    ডাল ছেড়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি ধুপ করে ছাদের উপরে গিয়ে পড়লুম। বিমল আমার পিঠ চাপড়ে বললে, ”সাবাস!”

    আমি কিন্তু মনের মধ্যে কিছুমাত্র ভরসা পেলুম না! এসেছি চোরের মত পরের বাড়ীতে, ধরা পড়লেই হাতে পরতে হবে হাতকড়া! তারপর আর এক ভাবনা—পালাব কোন পথ দিয়ে? লাফিয়ে তো ছাদে নামলুম, কিন্তু লাফিয়ে তো আর ঐ উঁচু ডালটা ফের ধরা যাবে না! বিমলকেও আমার ভাবনার কথা বললুম।

    বিমল বললে, ”সদর দরজা ভিতর থেকে বন্ধ বলেই আমাদের গাছে চড়তে হোলো। পালাবার সময় দরজা খুলেই পালাব।”

    —”কিন্তু বাড়ীতে দারোয়ান আছে যে!”

    —”তার ব্যবস্থা পরে করা যাবে। এখন চল, দেখি নীচে নামবার সিঁড়ি কোন দিকে! পা টিপে টিপে এস।”

    ছাদের পশ্চিম কোণে সিঁড়ি পাওয়া গেল। বিমল আগে আগে নামতে লাগল, আমি রইলুম পিছনে। সিঁড়ি দিয়ে নেমেই একটা ঘর। বিমল দরজার উপরে কান পেতে চুপি চুপি আমাকে বললে, ”এ ঘরে কে ঘুমোচ্ছে, তার নাক ডাকচে।”

    চোরা—লণ্ঠনের আলোয় পথ দেখে আমরা দালানের ভিতরে গিয়ে ঢুকলাম। একপাশে তিনটে ঘর—সব ঘরই ভিতর থেকে বন্ধ। বিমল চুপ করে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবতে লাগল। আমি তো একেবারে হতাশ হয়ে পড়লুম। এত বড় বাড়ী, ভিতরকার খবর আমরা কিছুই জানি না, এতটুকু একটা মড়ার মাথা কোথায় লুকানো আছে, কি করে আমরা সে খোঁজ পাব? বিমলও যেমন পাগল! আমাদের খালি কাদা ঘেঁটে মরাই সার হোলো!

    হঠাৎ বিমল বললে, ”ওধারকার দালানের একটা ঘরের দরজা দিয়ে আলো দেখা যাচ্ছে! চল ঐদিকে!”

    বিমল আস্তে আস্তে সেই দিকে গিয়ে ঘরের সামনে দাঁড়াল। দরজাটা ঠেলাতেই একটু খুলে গেল! ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে বিমল খানিকক্ষণ কি দেখলে, তারপর ফিরে আমার কানে কানে বললে, ”দেখ!”

    দরজার ফাঁক দিয়ে যা দেখলুম, তাতে আনন্দে আমার বুকটা নেচে উঠল! টেবিলের উপর মাথা রেখে করালী নাক ডাকিয়ে ঘুমোচ্ছে, আর তার মাথার কাছেই পড়ে রয়েচে—আমরা যা চাচ্ছি তাই—সেই মড়ার মাথাটা! করালী নিশ্চয় সঙ্কেতগুলোর অর্থ বুঝবার চেষ্টা করছিল—তারপর কখন হতাশ ও শ্রান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে! করালী তাহলে সত্যিই চোর।

    বিমল খুব সাবধানে দরজাটা আর একটু খুলে, পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে ঘরের ভিতর গেল। তারপর ঘুমন্ত করালীর পিছনে গিয়ে দাঁড়িয়ে হাত বাড়িয়ে মড়ার মাথাটা টেবিলের উপর থেকে তুলে নিল। তারপর হাসতে হাসতে ঘরের ভিতর থেকে বেরিয়ে এল। এত সহজে যে কেল্লা ফতে হবে, এ আমি স্বপ্নেও ভাবিনি।

    এইবার পালাতে হবে। একবার বাইরে যেতে পারলেই আমরা নিশ্চিন্ত—তবে আমাদের পায় কে!

    দুজনেই একতলায় গিয়ে নামলুম। উঠান পার হয়েই সদর দরজা। কিন্তু কি মুস্কিল বিমলের চোরা—লণ্ঠনের আলোতে দেখা গেল, একটা খুব লম্বা—চওড়া জোয়ান দরোয়ান দরজা জুড়ে চিৎপাত হয়ে শুয়ে, দিব্য আরামে নিদ্রা দিচ্ছে!

    বিমল কিন্তু একটুও ইতস্ততঃ করলো না, সে খুব আস্তে আস্তে দরোয়ানকে টপকে দরজার খিল খুলতে গেল। ভয়ে আমার বুক ঢিপ ঢিপ করতে লাগল—একটু শব্দ হলেই সর্ব্বনাশ!

    কিন্তু বিমল কি বাহাদুর! সে এমন সাবধানে দরজা খুললে যে, একটুও আওয়াজ হোলো না।

    হঠাৎ আমার নাকের ভিতর কি একটা পোকা ঢুকে গেল—সঙ্গে সঙ্গে হ্যাঁচ্চেচা করে খুব জোরে আমি হেঁচে ফেললুম।

    দরোয়ানের ঘুম গেল ভেঙে! বাজখাঁই গলায় সে চেঁচিয়ে উঠল—”কোন হ্যায় রে!”

    লণ্ঠনটা তখন ছিল আমার হাতে। তার আলোতে দেখলুম, বিমল বিদ্যুতের মতন ফিরে দাঁড়াল, তারপর বাঘের মতন দরোয়ানের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তার গলা টিপে ধরল। খানিকক্ষণ গোঁ গোঁ করেই চোখ কপালে তুলে দরোয়ানজী একেবারে অজ্ঞান।

    তারপর আর কি—দে ছুট তো দে ছুট! ঘোড়াদৌড়ের ঘোড়াও তখন ছুটে আমাদের ধরতে পারত না—একদমে বাড়ীতে এসে তবে হাঁপ ছেড়ে বাঁচলুম।

    সাত – জানলায় কালো মুখ

    এক এক গেলাস জল খেয়ে ঠাণ্ডা হয়ে, বাইরের ঘরে গিয়ে বসলুম। রাত তখন আড়াইটে।

    বিমল বললে, ”আজ রাতে আর ঘুম নয়। কাল বৈকালের গাড়ীতে আমরা আসাম যাব।”

    আমি আশ্চর্য্য হয়ে বললুম, ”সে কি! এত তাড়াতাড়ি!”

    বিমল বললে, ”হুঁ তাড়াতাড়ি না করলে চলবে না। করালী রাস্কেল আমাদের ওপরে চটে রইল—মড়ার মাথা যে আমরাই আবার তার হাত থেকে ছিনিয়ে এনেচি, এতক্ষণে নিশ্চয়ই সে তা টের পেয়েচে! কখন কি ফ্যাসাদ বাধিয়ে বসবে কে তা জানে? কালই দুর্গা বলে বেরিয়ে পড়তে হবে!”

    আমি আপত্তি জানিয়ে বললুম, ”মা গেছেন শান্তিপুরে, মামার বাড়ীতে। তাঁকে না জানিয়ে আমি কি করে যাব?”

    বিমল বললে, ”তাঁকে চিঠি লিখে দাও—আমার সঙ্গে তুমি আসামে বেড়াতে যাচ্চ, বড় তাড়াতাড়ি বলে যাবার আগে দেখা করতে পারলে না!”

    আমি চিন্তিত মুখে বললুম, ”চিঠি যেন লিখে দিলুম, কিন্তু এত বড় একটা কাজে যাচ্ছি, অনেক বন্দোবস্ত করতে হবে যে! কালকের মধ্যে সব গুছিয়ে উঠতে পারব কেন?”

    বিমল বিরক্ত স্বরে বললে, ”তোমাকে বিশেষ কিছুই করতে হবে না, বন্দোবস্ত যা করবার তা আমিই করব অখন। তুমি খালি কাপড়—চোপড় আর গোটাকতক কোট—প্যাণ্ট নিও—বুঝলে অকর্ম্মার ধাড়ী?”

    —”কেন? কোট—প্যান্ট আবার কি হবে?”

    —”যেতে হবে পাহাড়ে আর জঙ্গলে। সেখানে ফুলবাবুর মত কাছাকোঁচা সামলাতে গেলে চলবে না—তাহলে পদে পদে বিপদে পড়তে হবে।”

    আমি চুপ করে ভাবতে লাগলুম।

    বিমল বললে, ”ভেবেছিলুম দুজনেই যাব। কিন্তু তুমি যেরকম নাবালক গোবেচারা দেখচি, সঙ্গে আর একজনকে নিলে ভালো হয়।”

    —”কাকে নেবে?”

    —”আমার চাকর রামহরিকে। সে আমাদের পুরানো লোক; বিশ্বাসী, বুদ্ধিমান আর তার গায়েও খুব জোর। আমার জন্যে সে, হাসতে হাসতে প্রাণ দিতে পারে।”

    —”আচ্ছা, সে কথা মন্দ নয়। আমিও বাঘাকে সঙ্গে নিয়ে যাব। তাতে তোমার আপত্তি—”

    —”চুপ!” বলেই বিমল একলাফে দাঁড়িয়ে উঠল। তারপর ছুটে গিয়ে হঠাৎ ঘরের একটা জানলা দু—হাট করে খুলে দিলে। স্পষ্ট দেখলুম জানলার বাহির থেকে একখানা বিশ্রী কালো—কুচকুচে মুখ বিদ্যুতের মতন একপাশে সরে গেল। জানলায় কান পেতে নিশ্চয় কেউ আমাদের কথাবার্ত্তা শুনছিল। বিমলও দাঁড়াল না—ঘরের কোণ থেকে একগাছা মাথা—সমান উঁচু মোটা বাঁশের লাঠি নিয়ে একছুটে বেরিয়ে গেল। আমি ঘরের দরজায় খিল লাগিয়ে আড়ষ্ট হয়ে বসে রইলুম!

    খানিক পরে বিমল ফিরে এসে আমাকে ডাকলে। আমি আবার দরজা খুলে দিয়ে তাড়াতাড়ি জিজ্ঞাসা করলুম, ”ব্যাপার কি? লোকটাকে ধরতে পারলে?”

    লাঠিগাছা ঘরের কোণে রেখে দিয়ে বিমল হাঁপাতে হাঁপাতে বললে, ”না” পিছনে তাড়া করে অনেকদূর গিয়েছিলুম, কিন্তু ধরতে পারলুম না!”

    —”লোকটা কে বল দেখি?”

    —”কে আবার—করালীর লোক, খুব সম্ভব ভাড়াটে গুণ্ডা। কুমার, ব্যাপার কি রকম গুরুতর, তা বুঝচ কি? লোকটা আমাদের কথা হয়ত সব শুনেচে!”

    —”বিমল, তুমি ঠিক বলেচ, আমাদের আর দেরি করা উচিত নয়। আমরা কালকেই বেরিয়ে পড়ব।”

    —”তা তো পড়ব, কিন্তু বিপদ হয়তো আমাদের সঙ্গে সঙ্গেই যাবে।”

    —”তার মানে?”

    —”করালী বোধ হয় তার দলবল নিয়ে আমাদের সঙ্গে যাবে।”

    আমি একেবারে দমে গেলুম। বিমল বসে বসে ভাবতে লাগল। অনেকক্ষণ পরে সে বললে, ”যা—থাকে কপালে। তা বলে করালীর ভয়ে আমরা যে কেঁচোর মতন হাত গুটিয়ে ঘরের কোণে বসে থাকব, এ কিছুতেই হতে পারে না। কালকেই আমাদের যাওয়া ঠিক।”

    আমি কাতর ভাবে বললুম, ”বিমল গোঁয়ার্ত্তুমি কোরো না।”

    বিমল চৌকির উপরে একটা ঘুসি মেরে বললে, ”আমি যাবই যাব। তোমার ভয় হয় বাড়ীতে বসে থাকো। আমি নিজে যকের ধন এনে তোমার বাড়ীতে পৌঁছে দিয়ে যাব—দেখি করালী হারে কি আমি হারি।”

    আমি তার হাত ধরে বললুম, ”বিমল, আমি ভয় পাইনি। তুমি যাও তো আমিও নিশ্চয়ই তোমার সঙ্গে যাব। কিন্তু ভেবে দেখ, শেষটা বন—জঙ্গলের ভেতরে একটা খুনোখুনি হতে পারে। করালীরা দলে ভারি, আমরা আর কিছু করতে পারব না।”

    বিমল অবহেলার হাসি হেসে বললে, ”করালী নিকুচি করেছে। কুমার, আমার গায়েই খালি জোর নেই—বুদ্ধির জোরও আমার কিছু কিছু আছে। তুমি কিছু ভেব না, আমার সঙ্গে চল, করালীকে কি রকম নাকানি—চোবানি খাওয়াই একবার দেখে নিও।”

    আমি বিমলকে ভালো—রকম চিনি। সে মিছে জাঁক কাকে বলে জানে না। সে যখন আমাকে অভয় দিচ্ছে, তখন মনে মনে নিশ্চয় কোন একটা নূতন উপায় ঠিক করেছে। কাজেই আমিও নিশ্চিন্ত ভাবে বললুম, ”আচ্ছা ভাই, তুমি যা বল আমি তাতেই রাজি।”

    আট – শাপে বর

    সারারাত জিনিস—পত্তর গুছিয়ে, ভোরের মুখে ঘণ্টাখানেক গড়িয়ে, যথাসময়ে আমরা বাড়ী থেকে বেরিয়ে পড়লুম। আমাদের দলে রইল বিমলের পুরানো চাকর রামহরি ও আমার কুকুর বাঘা। দুটো বড় বড় ব্যাগ, একটা ‘সুটকেস’ ও একটা ‘ইকমিক কুকার’ ছাড়া বিমল আর কিছু সঙ্গে নিতে দিলে না।

    ব্যাগ—দুটোর ভিতরে কিন্তু, ছিল না এমন জিনিস নেই। ছুরি, ছোরা, কাঁচি, নানারকম ওষুধ—ভরা ছোট একটি বাক্স, ফোটো তুলবার ক্যামেরা, ইলেকট্রিকের ‘টচ্চর্চ’ বা মশাল, ‘ফ্লাস্ক’ (যার সাহায্যে দুধ, জল বা চা ভরে রাখলে চব্বিশ ঘণ্টা সমান ঠাণ্ডা বা গরম থাকে), গোটাকতক বিস্কুট, ফল ও মাছ—মাংসের টিন। (অনেক দিনে যা নষ্ট হবে না।) আসাম সম্বন্ধে খানকয়েক ইংরাজী বই, খাতা, ছোট ছোট দুটো বালিশ আর সতরঞ্চি ও কাফ্রির সেই দুটো মুখোস (বিমলের মতে পরে ও দুটোও কাজে লাগতে পারে) প্রভৃতি কতরকমের জিনিসই যে এই ব্যাগ দুটোর ভিতরে ভরা হয়েছে, তা আর নাম করা যায় না। ‘সুটকেসের’ ভিতরে আমাদের জামা—কাপড় রইল। আমরা প্রত্যেকেই এক এক গাছা মোটা দেখে লাঠি নিলুম—দরকার হলে এ লাঠি দিয়ে মানুষের মাথা খুব সহজেই ভাঙ্গা যেতে পারবে। অবশ্য, বিমল বন্দুক—দুটোও সঙ্গে নিতে ভুললে না।

    বাড়ী ছেড়ে বেরুবার সময় মনটা যেন কেমন করতে লাগল। দেশ ছেড়ে কোথায় কোন বিদেশে, পাহাড়ে—জঙ্গলে বাঘ—ভাল্লুক আর শত্রুর মুখে পড়তে চললুম, যাবার সময়ে মায়ের পায়ে প্রণাম পর্য্যন্ত করে যেতে পারলুম না—কে জানে এ জীবনে আর কখনো ফিরে এসে মাকে দেখতে পাব কিনা! একবার মনে হল বিমলকে বলি যে, ”আমি যাব না!” কিন্তু পাছে সে আমাকে ভীরু ভেবে বসে, সেই ভয়ে মনকে শক্ত করে রইলুম।

    বিমলও আমার মুখের পানে তাকিয়ে মনের কথা বোধ হয় বুঝতে পারলে। কারণ হঠাৎ সে আমাকে জিজ্ঞাসা করলে, ”কুমার, তোমার মন কেমন করচে?”

    আমি সত্য কথাই বললুম,—”একটু একটু করচে বৈ কি!”

    —”মায়ের জন্য?”

    —”হুঁ।”

    —”ভেবো না। খুব সম্ভব আজকেই হয়তো তোমার মাকে তুমি দেখতে পাবে!”

    আমি আশ্চর্য্য হয়ে বললুম, ”কি করে? আমরা তো যাচ্চি আসামে!”

    —”তা যাচ্চি বটে!”—বলেই বিমল একবার সন্দেহের সঙ্গে পিছন দিকে চেয়ে দেখলে—তার চোখ—মুখের ভাব উদ্বিগ্ন। সে নিশ্চয় দেখেছিল শত্রুরা আমাদের পিছু নিয়েছে কি না! কিন্তু কারুকেই দেখতে পাওয়া গেল না।

    বিমলের বাড়ীর—গাড়ী আমাদের ষ্টেশনে নিয়ে যাবার জন্যে অপেক্ষা করছিল।

    আমরা গাড়ীতে গিয়ে চড়ে বসলুম। গাড়ী ছেড়ে দিল। বিমল সারা—পথ অন্যমনস্ক হয়ে রইল। মাঝে মাঝে তেমনি উদ্বেগের সঙ্গে জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে পিছন—পানে চেয়ে দেখতে লাগল।

    শিয়ালদহ ষ্টেশনে পৌঁছে আমরা গাড়ী থেকে নামলুম। একবার চারিদিকে সতর্ক চোখে চেয়ে দেখে আমি বললুম, ”বিমল, আপাতত আমাদের কোন ভয় নেই। করালীরা আমাদের পিছু নিতে পারেনি।”

    বিমল সে কথার জবাব না দিয়ে বললে, ”তোমরা এইখানে দাঁড়িয়ে থাক, আমি টিকিট কিনে আনি।”

    টিকিট কিনে ফিরে এসে, বিমল আমাদের নিয়ে ষ্টেশনের ভিতর গিয়ে ঢুকল; বাঘাকে জন্তুদের কামরায় তুলে দিয়ে এল। বাঘা বেচারী এত লোকজন দেখে ভড়কে গিয়েছিল। সে কিছুতেই আমার সঙ্গ ছাড়তে রাজী হল না। শেষটা বিমল শিকলি ধরে তাকে জোর করে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গেল।

    গাড়ী ছাড়তে এখনো দেরি আছে। কামরার মধ্যে বেজায় গরম দেখে আমি গাড়ী থেকে নেমে পড়ে প্লাটফর্মের উপর পায়চারি করতে লাগলুম। ঘুরতে ঘুরতে গাড়ীর একেবারে শেষ দিকে গেলুম। হঠাৎ একটা কামরার ভিতর আমার নজর পড়ল—সঙ্গে সঙ্গে আমার সারা দেহে কাঁটা দিয়ে উঠল। আমি সভয়ে দেখলুম, কামরার ভিতরে করালী বসে আছে। দুজন মিশ—কালো গুণ্ডার মত লোকের সঙ্গে হাত—মুখ নেড়ে করালী কি কথাবার্ত্তা কইছিল—আমাকে দেখতে পেলে না। আমি তাড়াতাড়ি ছুটে নিজের গাড়ীতে এসে উঠে পড়লুম!

    বিমল বললে, ”কিহে কুমার, ব্যাপার কি? চোখ কপালে তুলে ছুটতে ছুটতে আসছ কেন?”

    আমি বললুম, ”বিমল! সর্ব্বনাশ হয়েচে।”

    বিমল হেসে বললে, ”কিছুই সর্ব্বনাশ হয়নি! তুমি করালীকে দেখেচ তো? তা আর হয়েচে কি? সে যে আমাদের সঙ্গ ছাড়বে না আমি তা অনেকক্ষণই জানি! যাক, তুমি ভয় পেও না, চুপ করে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে থাকো!”

    বিমল যত সহজে ব্যাপারটা উড়িয়ে দিলে, আমি তা পারলুম না। আস্তে আস্তে এক কোণে গিয়ে বসে পড়লুম বটে, মন কিন্তু বিমর্ষ হয়ে রইল। বিমল আমার ভাব দেখে মুখ টিপে টিপে হাসতে লাগল। এদিকে গাড়ী ছেড়ে দিলে।

    জানি না, কপালে কি আছে! জঙ্গলের ভিতরে অপঘাতেই মরতে হবে দেখছি! করালীর সঙ্গে কত লোক আছে তা কে জানে? সে যখন আমাদের পিছু নিয়েচে, তখন সহজে কি আর ছেড়ে দেবে? আমি খালি এই সব কথা ভেবে ও নানা রকমের বিপদের কল্পনা করে শিউরে উঠতে লাগলুম।

    বিমল কিন্তু দিব্যি আরামে সামনের বেঞ্চে পা তুলে দিয়ে বসে নিজের মনে কি একখানা বই পড়তে লাগল।

    গাড়ী একটা ষ্টেশনে এসে থামল। বিমল মুখ বাড়িয়ে ষ্টেশনের নাম দেখে আমাকে বললে, ”কুমার, প্রস্তুত হও! পরে ষ্টেশন রাণাঘাট। এইখানেই আমরা নামব!”

    এ আবার কি কথা! আমি আশ্চর্য্য হয়ে বললুম, ”রাণাঘাটে নামব! কেন?”

    —”সেখান থেকে শান্তিপুরে, তোমার মামার বাড়ীতে মায়ের কাছে যাব।”

    —”হঠাৎ তোমার মত বদলালো কেন?”

    —”মত কিছুই বদলায়নি,—আজ কি করব, কাল থেকেই আমি তা জানি। কিন্তু তোমাকে কিছু বলিনি। এই দেখ, আমি শান্তিপুরের টিকিট কিনেচি। এর কারণ কিছু বুঝলে কি?”

    —”না।”

    —”আমি বেশ জানতুম, করালী আমাদের পিছু নেবে! কালকেই তার চর শুনে গেছে, আমরা আসামে যাব! আজও সে জানে, আমরা আসাম ছাড়া আর কোথাও যাব না। সে তাই ভেবে নিশ্চিন্ত হয়ে গাড়ীর ভিতরে বসে থাকুক, আর সেই ফাঁকে আমরা রাণাঘাটে নেমে পড়ি! দিন—কয়েক তোমার মামার বাড়ীতে বসে বসে আমরা তো মজা করে পোলাও কালিয়া খেয়েনি! আর ওদিকে করালী যখন জানতে পারবে আমরা আর গাড়ীর ভিতরে নেই, তখন মাথায় হাত দিয়ে একেবারে বসে পড়বে! নিশ্চয় ভাববে যে আমরা তাকে ভুলিয়ে অন্য কোন ঠিকানায় যকের খোঁজে গেছি! সে হতাশ হয়ে কলকাতার দিকে ফিরবে, আর আমরা তোমার মায়ের আশীর্ব্বাদ নিয়ে আসামের দিকে যাত্রা করব। আর কেউ আমাদের পিছু নিতে পারবে না।”

    আমার পক্ষে এটা হল শাপে বর! ওদিকে করালীও জব্দ আর এদিকে আমারও মায়ের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল—একেই বলে লাঠি না ভেঙ্গে সাপ মারা! বিমলের দুখানা হাত চেপে ধরে আমি বলে উঠলুম, ”ভাই তুমি এত বুদ্ধিমান? আমি যে অবাক হয়ে যাচ্ছি!”

    গাড়ী রাণাঘাটে এসে থামতেই আমরা টপাটপ নেমে পড়লুম—কেউ আমাদের দেখতে পেলে না।

    নয় – নতুন বিপদের ভয়

    তিন দিন মামার বাড়ীতে খুব আদরে কাটিয়ে মায়ের কাছ থেকে আমি বিদায় নিলুম। মা কি সহজে আমাকে ছেড়ে দিতে চান? তবু তাঁকে আমরা যকের ধন আর বিপদ—আপদের কথা কিছু বলিনি, তিনি শুধু জানতেন আমরা আসামে বেড়াতে যাচ্ছি।

    যাবার সময় বিমলকে ডেকে মা বললেন, ”দেখো বাবা, আমার শিব রাত্রির সলতেটুকুকে তোমার হাতে সঁপে দিলুম, ওকে সাবধানে রেখ।”

    বিমল বললে, ”ভয় কি মা, কুমার তো আর কচি খোকাটি নেই, ওর জন্যে তোমাকে কিছু ভাবতে হবে না।”

    মা বললেন, ”না বাছা, কুমারকে তুমি কোথাও একলা ছেড়ে দিও না—ও ভারি গোঁয়ার গোবিন্দ, কি করতে কি করে বসবে কিছুই ঠিক নেই। ও যদি তোমার মত শান্ত—শিষ্টটি হত তাহলে আমাকে আর এত ভেবে মরতে হত না।”

    বিমল একটু মুচকে হেসে বললে, ”আচ্ছা মা, আমি তো সঙ্গে রইলুম, কুমার যাতে গোঁয়ার্ত্তুমি করতে না পায়, সেদিকে আমি চোখ রাখব।”

    আমি মনে মনে হাসতে লাগলুম। মা ভাবছেন আমি গোঁয়ার—গোবিন্দ আর বিমল শান্ত—শিষ্ট। কিন্তু বিমল যে আমার চেয়ে কত বড় গোঁয়ার আর ডানপিটে, মা যদি তা ঘুণাক্ষরেও জানতেন।

    মায়ের পায়ের ধুলো মাথায় নিয়ে আমি, বিমল আর রামহরি দুর্গা বলে বেরিয়ে পড়লুম—বাঘা আমাদের পিছনে পিছনে আসতে লাগল। কিন্তু শান্তিপুরের ষ্টেশনের ভিতর এসে, রেলগাড়ীকে দেখেই বাঘা পেটের তলায় ল্যাজ গুঁজে একেবারে যেন মুষড়ে পড়ল। সে বুঝল, আবার তাকে জন্তুদের গাড়ীর ভিতরে নিয়ে গিয়ে একলাটি বেঁধে আসা হবে।

    রাণাঘাটে নেমে আবার আমরা আসল গাড়ী ধরলুম। বিমল খুসি মুখে বলল, ”যাক, এবারে আর করালীর ভয় নেই। সে হয়তো আসামে বসে নিজের হাত কামড়াচ্ছে, আর আমাদের মুণ্ডুপাত করচে।”

    আমি বললুম, ”আসাম থেকে করালী এখন কলকাতায় ফিরে থাকতেও পারে।”

    বিমল বললে, ”কলকাতায় কেন, সে এখন যমালয়ে গেলেও আমার আপত্তি নেই। চল, গাড়ীতে উঠে বসা যাক।”

    অনেক রাতে গাড়ী সারাঘাটে গিয়ে দাঁড়াল। আমি যে সময়ের কথা বলছি, পদ্মার উপর তখনো সারার বিখ্যাত পুলটি তৈরি হয়নি। সারাঘাটে সকলকে তখন গাড়ী থেকে নেমে ষ্টিমারে করে পদ্মার ওপারে গিয়ে আবার রেলগাড়ী চড়তে হত। কাজেই সারায় এসে আমাদেরও মাল—পত্তর নিয়ে গাড়ী থেকে নামতে হল।

    আগেই বলেছি, আমি কখনো কলকাতার বাইরে পা বাড়াইনি। ষ্টিমারে চড়ে চারিদিকের দৃশ্য দেখে আমার যেন তাক লেগে গেল। কলকাতার গঙ্গার চেয়েও চওড়া নদী যে আবার আছে এই পদ্মাকে দেখে প্রথম সেটা বুঝতে পারলুম। আকাশে চাঁদ উঠেছে আর গায়ে জ্যোৎস্না মেখে পদ্মা নেচে, দুলে বেগে ছুটে চলচে—রূপোর জল দিয়ে তার ঢেউগুলি তৈরি। মাঝে মাঝে সাদা ধবধবে বালির চর চোখের সামনে কখনো জেগে উঠেছে, কখনও মিলিয়ে যাচ্ছে—স্বপ্নের ছবির মতন। আমার মনে হল ঐ নিরিবিলি বালির চরগুলির মধ্যে হয়তো এতক্ষণ পরীরা এসে হাসি—খুসি, খেলাধূলা করছিল। ষ্টিমারের গর্জ্জন শুনে দৈত্য বা দানব আসছে ভেবে এখন তারা ভয় পেয়ে হাওয়ার সঙ্গে হাওয়া হয়ে মিশিয়ে গেছে।

    বালির চর এড়িয়ে ষ্টিমার ক্রমেই অন্য তীরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, খালাসীরা জল মাপছে আর চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে কি বলছে। ষ্টিমারের একদিকে নানা জাতের মেয়ে—পুরুষ একসঙ্গে জড়াজড়ি করে বসে, শুয়ে, দাঁড়িয়ে গোলমাল করছে, আর একদিকে ডেকের উপর উজ্জ্বল আলোতে চেয়ার—টেবিল পেতে বাহার দিয়ে ব’সে সাহেব—মেমরা খানা খাচ্ছে! খানিকক্ষণ পরে অন্যদিকে মুখ ফেরাতেই দেখি, একটা লোক আড়চোখে আমার পানে তাকিয়ে আছে। তার সঙ্গে আমার চোখাচোখি হতেই সে হন হন করে এগিয়ে ভিড়ের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেল।

    ষ্টিমার ঘাটে এসে লাগলো। আমরা সবাই একে একে নীচে নেমে ষ্টেশনের দিকে চললুম। আসাম মেল তখন আমাদের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ভোঁস ভোঁস করে ধোঁয়া ছাড়ছিল,—আমরাও তার পেটের ভিতর ঢুকে নিশ্চিত হয়ে বসলুম।

    কামরার জানলার কাছে আমি বসে ছিলুম। প্লাটফর্মের ওপাশে আর একখানা রেলগাড়ী—সেখানাতে দার্জ্জিলিঙের যাত্রীদের ভিড়। ফার্ষ্ট ও সেকেণ্ড ক্লাসের সাহেব—মেমেরা কামরার ভিতরে বিছানা পাতছিলো—এক ঘুমে রাত কাটিয়ে দেবার জন্যে। তাদের ঘুমের আয়োজন দেখতে দেখতে আমারও চোখ ঢুলে এল। আমিও শুয়ে পড়বার চেষ্টা করছি—হঠাৎ আবার দেখলুম, ষ্টিমারের সেই অচেনা লোকটা প্লাটফর্মের উপরে দাঁড়িয়ে তেমনি আড়চোখে আমাদের দিকে বারে বারে চেয়ে দেখছে।

    এবারে আমার ভারি সন্দেহ হল। বিমলের দিকে ফিরে বললুম, ”ওহে, দেখ দেখ।”

    বিমল বেঞ্চির উপর কম্বল পাততে পাততে বললে, ”আর দেখাশুনো কিছু নয়—এখন চোখ বুজে নাক ডাকিয়ে ঘুমোবার সময়।”

    —”ওহে, না দেখলে চলবে না। ষ্টিমার থেকে একটা লোক বরাবর আমাদের ওপর নজর রেখেছে—এখনো সে দাঁড়িয়ে আছে, যেন পাহারা দিচ্ছে।”

    শুনেই বিমল এক লাফে জানালার কাছে এসে বলল, ”কৈ কোথায়?”

    —”ঐ যে।”

    কিন্তু লোকটাও তখন বুঝতে পেরেছিল যে আমরা তার উপর সন্দেহ করেছি। সে তাড়াতাড়ি মুখ ফিরিয়ে সেখানে থেকে সরে পড়ল।

    বিমল চিন্তিতের মত বললে, ”তাই তো এ আবার কে?”

    —”করালীর চর নয় তো?”

    —”করালী? কিন্তু সে কি করে জানবে আজ আমরা এখানে আছি?”

    —”হয় তো করালী আমাদের চালাকি ধরে ফেলেচে! সে জানত আমরা দু—চার দিন পরেই আবার আসামে যাব। আসামে যেতে গেলে এ পথে আসতেই হবে। তাই সে হয়তো এইখানেই এতদিন ঘাঁটি আগলে ব’সেছিল।”

    —”অসম্ভব নয়। আচ্ছা, একবার নেমে দেখা যাক, করালী এই গাড়ীর কোন কামরায় লুকিয়ে আছে কিনা?”—এই বলেই বিমল প্লাটফর্মের উপর নেমে এগিয়ে গেল।

    গাড়ী যখন ছাড়ে—ছাড়ে, বিমল তখন ফিরে এল।

    আমি বললুম, ”কি দেখলে?”

    —”কিন্তু না। প্রত্যেক কামরায় তন্ন তন্ন করে খুঁজেচি—করালী কোথাও নেই। বোধ হয় আমরা মিছে সন্দহ করেচি।”

    বিমলের কথায় অনেকটা নিশ্চিন্ত হলুম—যদিও মনের মধ্যে কেমন একটা খটকা লেগে রইল।

    গাড়ী ছেড়ে দিলে। বিমল বললে, ”ওহে কুমার, এই বেলা যতটা পারো ঘুমিয়ে নাও—আসামে একবার গিয়ে পড়লে হয়তো আমাদের আহার—নিদ্রা একরকম ত্যাগ করতেই হবে।”

    বিমল বেঞ্চির উপরে ”আঃ” বলে সটান লম্বা হল, আমিও শুয়ে পড়লুম। সুখের বিষয়, এ কামরায় আর কেউ ছিল না, সুতরাং ঘুমে আর ব্যাঘাত পড়বার ভয় নেই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকলকাতার রাত্রি রহস্য – হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Next Article কিশোর রহস্য উপন্যাস – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    Related Articles

    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    মানুষের গড়া দৈত্য – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমারের গল্প – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রহস্য-রোমাঞ্চ সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রবিন হুড – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    জয়তু জয়ন্ত – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    ঐতিহাসিক সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }