Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিমল-কুমার সমগ্র ১ – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমার রায় এক পাতা গল্প789 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    যকের ধন – ১৫

    পনেরো – দুটো জ্বলন্ত চোখ

    বিমলের গল্প শুনে আমার আঁতটা কেমন ছাঁৎ—ছাঁৎ করতে লাগল, গুহার বাইরে আর চাইতেই ভরসা হল না—কে জানে, সেখানে ঝোপঝাপের মধ্যে হয়তো কোন বিদকুটে চেহারা ওত পেতে বসে আছে!

    আমার মুখের ভাব দেখে বিমল হেসে বলল, ”ওহে কুমার, তোমার ভয় করচে নাকি?”

    —”তা একটু করচে বৈকি!”

    —”এই না বললে, তুমি ভূত মান না?”

    —”হুঁ, আগে মানতুম না, কিন্তু এখন আর মানি না বলে মনে হচ্ছে না!”

    —”ভয় কি কুমার, আমার বিশ্বাস এ গল্পটার একবর্ণ সত্যি নয়, আগাগোড়া গাঁজাখুরি! ভূতের গল্পমাত্রই রূপকথা, পাছে লোক বিশ্বাস না করে, তাই তাকে সত্যি বলা হয়।”

    কিন্তু তবু আমার মন মানল না, বিমলকে কিছুতেই আমার কাছছাড়া হতে দিলুম না। ভয়ের চোটে রামহরির রান্না রামপাখীর মিষ্টি মাংস পর্য্যন্ত তেমন তারিয়ে খেতে পারলুম না!

    গুহার বাইরের দিকে বিমল অনেকগুলো সরল কাঠ ছড়িয়ে আগুন জ্বেলে বললে, ”কোন জীবজন্তু আর আগুন পেরিয়ে এদিকে আসতে পারবে না। তোমরা দুজনে এখন ঘুমোও—আমি জেগে পাহারা দি। আমার পর কুমারের পালা, তারপর রামহরির।”

    ছাতকের ডাকবাংলোর সেই ব্যাপারের পর থেকে রোজ রাত্রেই আমরা এমনি করে পাহারা দি।

    আমি আর রামহরি গায়ের কাপড় মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়লুম।

    মাঝ রাত্রে বিমল আমাকে ঠেলে তুলে বললে, ”কুমার, এইবার তোমার পালা।”

    শীতের রাত্রে লেপ ছাড়তে কি সাধ যায়—বিশেষ এই বনে—জঙ্গলে, পাহাড়ে—পর্ব্বতে! কিন্তু তবু উঠতে হল, কি করি, উপায় তো আর নেই!

    গুহার সামনের আগুন নিবে আসছিল, আরো খানকতক কাঠ তাতে ফেলে দিয়ে, বন্দুকটা কোলের উপর রেখে দেয়াল ঘেঁষে বসলুম।

    চাঁদ সেদিন মাঝ—রাত্রের আগেই অস্ত গিয়েছিল, বাইরে ঘুট—ঘুট করছে অন্ধকার! পাহাড়, বন, ঝোপঝাপ সমস্ত মুছে দিয়ে জেগে আছে খালি অন্ধকারের এক সীমাহীন দৃশ্য, আর তারই ভিতর থেকে শোনা যাচ্ছে ঝরনার অশান্ত ঝর্ঝর, শত শত গাছের একটানা শর—শর, লক্ষ লক্ষ ঝিঝির একঘেয়ে ঝিঁ ঝিঁ ঝিঁ ঝিঁ—!

    হঠাৎ আর—এক রকম শব্দ শুনলুম! ঠিক যেন অনেকগুলো আঁতুড়ের শিশু কাঁদছে, টেঁয়্যা—টেঁয়্যা—টেঁয়্যা!

    আমার বুকটা ধড়ফড় করে উঠল, এতগুলো মানুষের শিশু এল কোত্থেকে? একে আজ বিশ্রী একটা ভূতের গল্প শুনেছি, তার উপরে গহন বনের এক থমথমে অন্ধকার রাত্রি, তার উপরে এই বেয়াড়া চীৎকার! মনের ভিতরে যত সব অসম্ভব কথা জেগে উঠল।

    আবার সেই অদ্ভুত কাঁদুনি!

    আমার মনে হল, এ অঞ্চলের যত ভূত—পেত্নী বাসা ছেড়ে চরতে বেরিয়ে গেছে, আর বাপ—মায়ের দেখা না পেয়ে ভুতুড়ে খোকারা একসঙ্গে কান্নার কনসার্ট জুড়ে দিয়েছে!

    ভয়ে শিঁঠিয়ে ভাবছি—আর একটু কোণ ঘেঁষে বসা যাক, এমন সময়ে—ও কি ও!

    গুহার বাইরে—অন্ধকার ভিতরে দু—দুটো জ্বলন্ত কয়লার মতন চোখ, একদৃষ্টিতে আমার পানে তাকিয়ে আছে!

    বুক আমার উড়ে গেল—এ চোখদুটো যে ঠিক সেই শ্মশানের পিশাচের মত!…এখানেও পিশাচ নাকি?

    ধীরে ধীরে চোখদুটো আরো কাছে এগিয়ে এসে আবার স্থির হয়ে রইল! আমার মনে হল, আঁধার—সমুদ্রে যেন আগুন—ভাঁটা ভাসছে।

    আমি আর চুপ করে বসে থাকতে পারলুম না—ঠকঠক করে কাঁপতে কাঁপতে বন্দুকটা কোনরকমে তুলে ধরে দিলুম তার ঘোড়া টিপে—গুড়ুম করে ভীষণ এক আওয়াজ হল,—সঙ্গে সঙ্গে জ্বলন্ত চোখদুটো গেল নিবে!

    বন্দুকের শব্দে বিমল, রামহরি আর বাঘা একসঙ্গে জেগে উঠল, বিমল ব্যস্ত হয়ে বললে—”কুমার, কুমার, ব্যাপার কি?”

    আমি বললুম, ”পিশাচ, পিশাচ!”

    —”পিশাচ কি হে?”

    —”হ্যাঁ, ভয়ানক একটা পিশাচ এসে দুটো জ্বলন্ত চোখ মেলে আমার পানে তাকিয়ে ছিল, আমি তাই বন্দুক ছুঁড়েচি!”

    বিমল তখনি আমার হাত থেকে বন্দুকটা টেনে নিল। তারপর এক হাতে লণ্ঠন, আর এক হাতে বন্দুক নিয়ে আগুন টপকে গুহার বাইরে গিয়ে চারিদিকে তন্ন তন্ন করে দেখে এসে বললে, ”কোথাও কিছু নেই। ভূতের গল্প শুনে তোমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে কুমার, তুমি ভুল দেখেচ!”

    এমন সময় আবার সেই ভুতুড়ে খোকারা কোত্থেকে কেঁদে উঠল!

    আমি মুখ শুকিয়ে বললুম, ”ঐ শোনো!”

    —”কি?”

    —”ভূতেদের খোকারা কাঁদচে; রামহরি, তুমিও শুনেচ তো?”

    বিমল আর রামহরি দুজনেই একসঙ্গে হো হো করে হাসি সুরু করে দিলে! আমি রেগে বললুম, ”তোমরা হাসচ বড় যে? এ কি হাসির কথা?”

    বিমল হাসতে হাসতে বললে, ”সহরের বাইরে কুমার তো কখনো পা দেও নি, সহর ছাড়া দুনিয়ার কিছুই জানো না—এখনো একটি আস্ত বুড়ো খোকা হয়ে আছো। যা শুনছ, তা ভূতদের খোকার কান্না নয়, বকের ছানার ডাক!”

    —”বকের ছানার ডাক?”

    —”হ্যাঁ গো হ্যাঁ! কাছেই কোন গাছে বকের বাসা আছে। বকের ছানার ডাক অনেকটা কচি ছেলের কান্নার মত।”

    বেজায় অপ্রস্তুত হয়ে গেলুম। কিন্তু সেই জ্বলন্ত চোখদুটো তো মিথ্যে নয়! বিমল যতই উড়িয়ে দিক, আমি স্বচক্ষে দেখেছি—আর ভুল যে দেখিনি, তা আমি দিব্যি গেলে বলতে পারি! কিন্তু আজ যে—রকম বোকা বনে গেছি, তাতে এদের কাছে সে ব্যাপার নিয়ে আপাততঃ কোন উচ্চবাচ্য না করাই ভালো!

    ষোল – ‘পিশাচ’—রহস্য

    পরের দিন সকালে উঠে দেখি আর এক মুস্কিল! রামহরির কম্প দিয়ে জ্বর এসেছে! কাজেই সেদিন আমাদের সেখানেই থেকে যেতে হল—জ্বর—গায়ে রামহরি তো আর পথ চলতে পারে না! ক্রমাগত পথ চলে চলে আমাদের শরীর বেশ কাহিল হয়ে পড়ছিল, কাজেই এই হঠাৎ—পাওয়া ছুটিটা নেহাত মন্দ লাগল না!

    সেদিনও বিমল দুটো পাখী মেরে আনল, নিজের হাতেই আমরা রান্নার কাজটা সেরে নিলুম!

    সন্ধ্যা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কালকের রাতের সেই ভূতুড়ে ব্যাপারটার কথা আবার মনে পড়ে গেল! বিমলের কাছে সে কথা তুলতে না তুলতেই সে হেসেই সব উড়িয়ে দিলে। আমি কিন্তু এত সহজেই মনটাকে হালকা করে ফেলতে পারলুম না—আমি যে স্বচক্ষে দেখেছি! ভাবলে এখনও গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে, বাপরে!

    সেদিনও সরল কাঠের আগুন জ্বেলে গুহার মুখটা আমরা বন্ধ করে দিলুম। আজ রামহরির অসুখ, কাজেই আমাদের দু’জনকেই পালা করে পাহারা দিতে হবে। আজও প্রথম রাতে পাহারার ভার নিলে বিমল নিজে!

    যখন আমার পালা এল তখন গভীর রাত্রি। আজও চাঁদ ডুবে গেছে আর অন্ধকারের বুকের ভিতর থেকে নানা অস্ফুট ধ্বনির সঙ্গে সেই গাছের পাতার মর্ম্মরানি, ঝরনার ঝর্ঝরানি আর বকের ছানাদের কাতরানি শোনা যাচ্ছে।

    গুহার মুখের আগুনটা কমে আসছে দেখে আমি কতকগুলো চ্যালা কাঠ তার ভিতরে ফেলে দিলুম। তারপরেই শুনলুম কেমন একটা শব্দ—গুহার বাইরে কে যেন খড়মড় করে শুকনো পাতা মাড়িয়ে চলে যাচ্ছে।

    কিন্তু প্রাণপণে তাকিয়েও সেই ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে বিন্দু—বিসর্গ কিছুই দেখতে পেলুম না। শব্দটাও একটু পরে থেমে গেল।

    কিন্তু আমার বুক ঢিপঢিপ করতে লাগল!

    বাঘা মনের সুখে কুণ্ডলী পাকিয়ে, পেটের ভিতরে মুখ গুঁজে ঘুমোচ্ছিল, আমি তাকে জাগিয়ে দিলুম। বাঘা উঠে একটা হাই তুলে আর মাটির উপর একটা ডন দিয়ে নিয়ে, আমার পাশে এসে দুই থাবা পেতে বসল। এক হাতে তার গলাটা জড়িয়ে ধরে আমি অনেকটা আশ্বস্ত হলুম।

    আবার সেই শব্দ। বাঘার দিকে চেয়ে দেখলুম, সেও দুই কান খাড়া করে ঘাড় বাঁকিয়ে শব্দটা শুনছে। তারপরেই সে এক লাফে গুহার মুখে গিয়ে পড়ল, কিন্তু আগুনের জন্য বাইরে যেতে না পেরে, সেইখানেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গরগর গরগর করতে লাগল।

    তার গজরানিতে বিমলের ঘুম ভেঙ্গে গেল, উঠে বসে সে বললে, ”আজ আবার কি ব্যাপার! বাঘা অমন করচে কেন?”

    আমি বললুম, ”বাইরে কিসের একটা শব্দ হচ্ছে, কে যেন চলে বেড়াচ্ছে।”

    ”সে কি কথা!”—বলেই বিমল এগিয়ে এসে আমার হাত থেকে বন্দুকটা নিয়ে বাগিয়ে ধরলে।

    শব্দটা তখন থেমে গেছে—কিন্তু ও কি ও! আবার যে সেই দুটো জ্বলন্ত চোখ অন্ধকারের ভিতর থেকে কটমট করে আমাদের পানে তাকিয়ে আছে!

    বাঘা ঘেউ ঘেউ করে চেঁচিয়ে উঠল, আমিও বলে উঠলুম—”দেখ, বিমল দেখ!”

    কিন্তু আমি বলবার আগেই বিমল দেখেছিল, সে মুখে কিছু বললে না, চোখদুটোর দিকে বন্দুকটা ফিরিয়ে একমনে টিপ করতে লাগল।

    চোখদুটো আস্তে আস্তে এগিয়ে আসছিল—হঠাৎ বিমল বন্দুকের ঘোড়া টিপে দিলে, সঙ্গে সঙ্গে ধুম করে শব্দ, আর একটা ভীষণ গর্জ্জন। তারপরেই সব চুপ, চোখদুটোও আর নাই।

    বিমল আমার দিকে ফিরে বললে, ”ওই চোখদুটোই কাল তুমি দেখেছিলে?”

    —”হ্যাঁ। এইবার তোমার বিশ্বাস হল তো?”

    —”তা হয়েছে বটে, কিন্তু এ পিশাচের নয়, বাঘের চোখ!”

    —”বাঘ?”

    —”হ্যাঁ। বোধ হয় এতক্ষণে লীলাখেলা সাঙ্গ করেচে, তবু বলা যায় না, আজ রাত্রে আর বাইরে গিয়ে দেখে কাজ নেই—কি জানি একেবারে যদি না মরে থাকে—আহত বাঘ ভয়ানক জীব!”

    পরদিন সকালে উঠে দেখলুম—বিমল যা বলেচে তাই! গুহার মুখ থেকে খানিক তফাতে, পাহাড়ের উপরে একটা মরা বাঘ পড়ে রয়েচে—আমরা মেপে দেখলুম—পাকা ছয় হাত লম্বা! বিমলের টিপ আশ্চর্য্য, বন্দুকের গুলি বাঘটার ঠিক কপালে গিয়ে লেগেছে!

    সতেরো – মরণের মুখে

    দিন—তিনেক পরে রামহরির অসুখ সেরে গেল, আমাদেরও যাত্রা আবার সুরু হল। আবার আমরা পাহাড়ের পথ ধরে অজানা রহস্যের দিকে এগিয়ে চললুম।

    বিমল বললে, ”আমি একটু এগিয়ে যাই, আজকের খোরাক যোগাড় করতে হবে তো,—পাখী—টাকি কিছু মেলে কিনা দেখা যাক”—এই বলে সে বন্দুকটা কাঁধে নিয়ে হনহন করে এগিয়ে চলল, খানিক পরেই আঁকা—বাঁকা পথের উপরে আর তাকে দেখা গেল না—কেবল শুনতে পেলাম গলা ছেড়ে সে গান ধরেছে,—

    ”আগে চল, আগে চল ভাই।

    পড়ে থাকা পিছে মরে থাকা মিছে

    বেঁচে মরে কিবা ফল ভাই।”

    ক্রমে সে গানের আওয়াজও আস্তে আস্তে মিলিয়ে গেল।

    রামহরির শরীর তখনো বেশ কাহিল হয়ে ছিল, সে তাড়াতাড়ি চলতে পারছিল না, কাজেই আমাকে বাধ্য হয়ে তার সঙ্গে থাকতে হল।

    সেদিন সকালের রোদটি আমার ভারি ভালো লাগছিল, মনে হচ্ছিল যেন সারা পাহাড়ের বুকের উপরে কে কাঁচা সোনার মত মিঠে হাসি ছড়িয়ে দিয়েছে। হরেক রকম পাখীর গানে চারিদিক মাত হয়ে আছে, গাছপালার উপরে সবুজের ঢেউ তুলে বাতাস বয়ে যাচ্ছে, আর এখানে—ওখানে আশেপাশে গোছা গোছা রঙিন বনফুল ফুটে, সোহাগে দুলে দুলে মাথা নেড়ে যেন বলছে—”আমাদের নিয়ে মালা গাঁথো, আমাদের আদর কর, আমাদের মনে রেখ—ভুলো না।”

    কচি কচি ফুলগুলিকে দেখে মনে হল, এরা যেন বনদেবীর খোকা—খুকি। আমি বেছে বেছে অনেক ফুল তুললুম, কিন্তু কত আর তুলব—এত ফুল দুনিয়ার কোন ধনীর বাগানেও যে ধরবে না।

    এমনি নানা জাতের ফুল এদেশের সব জায়গাতেই আছে। কিন্তু আমাদের স্বদেশ যে কত—বড় ফুলের দেশ, আমরা নিজেরাই সে খবর রাখি না। আমরা বোকার মত হাত গুটিয়ে বসে থাকি আর সেই সব ফুলের ভাণ্ডার দু—হাতে লুট করে নিয়ে যায় বিদেশী সাহেবরা। তারপর বড় সহরের বাজারে সেই সব ফুল চড়া দামে বিকিয়ে যায়—কেনে অবশ্য সাহেবরাই বেশী। এ থেকেই বেশ বুঝতে পারি, আমাদের ব্যবসা—বুদ্ধি তো নেই—ই—তারপরে সবচেয়ে যা লজ্জার কথা, স্বদেশের জিনিষকেও আমরা আদর করতে শিখিনি।

    এই ভাবতে ভাবতে পথ চলছি, হঠাৎ রামহরি বলে উঠল, ”ছোটবাবু, দেখুন—দেখুন।”

    আমি ফিরে বললুম, ”কি?”

    রামহরি আঙুল দিয়ে মাটির দিকে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে।

    পথের উপরে একটা বন্দুক পড়ে রয়েছে। দেখেই চিনতে পারলুম, সে বিমলের বন্দুক।

    দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অবাক হয়ে ভাবতে লাগলুম, পথের মাঝখানে বন্দুক ফেলে বিমল গেল কোথায়? সে তো বন্দুক ফেলে যাবার পাত্র নয়।

    ব্যাপারটা সুবিধের নয়, একটা কিছু হয়েছেই। তারপর মুখ তুলেই দেখি, বাঘা একমনে একটা জায়গা শুঁকছে আর কেমন একটা কাতর কুঁই—কুঁই করছে।

    এগিয়ে গিয়ে ভালো করে দেখি, সেখানে খানিকটা রক্ত চাপ বেঁধে রয়েছে।

    রামহরি প্রায় কেঁদে ফেলে বললে, ”খোকাবাবু নিশ্চয় কোন বিপদে পড়েচেন।”

    আমি বললুম, ”হ্যাঁ, রামহরি, আমারও তাই মনে হচ্ছে। কিন্তু কি বিপদ?”

    রামহরি বললে, ”কি করে বলব ছোটবাবু, এখানে যে বাঘ—ভাল্লুক সবই আছে!”

    আমি বললুম, ”বাঘে মানুষ খায় বটে কিন্তু ব্যাগ নিয়ে তো যায় না। বিমল বাঘের মুখে পড়েনি, তাহলে বন্দুকের সঙ্গে তার ব্যাগটাও এখানে পড়ে থাকত।”

    —”তবে খোকাবাবু কোথায় গেলেন?” এই বলেই রামহরি চেঁচিয়ে বিমলকে ডাকবার উপক্রম করলে।

    আমি তাড়াতাড়ি তাকে বাধা দিয়ে বললুম, ”চুপ, চুপ—চেঁচিও না, আমার বিশ্বাস বিমল শত্রুর হাতে পড়েছে, আর শত্রুরা কাছেই আছে। চ্যাঁচালে আমরাও এখনি বিপদে পড়ব।”

    —”তাহলে উপায়?”

    —”তুমি এইখানে একটা ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে বসে থাকো। বাঘাকেও ধ’রে রাখো, নইলে বাঘাও হয়তো চেঁচিয়ে আমাদের বিপদে ফেলবে। আমি আগে এদিক—ওদিক একবার দেখে আসি।”

    বাঘার গলায় শিকলি বেঁধে রামহরি পথের পাশেই একটা ঝোপের আড়ালে গা—ঢাকা দিয়ে বসল।

    প্রথমে কোন দিক দিয়ে যাব আমি তা বুঝতে পারলুম না। কিন্তু একটু পরেই দেখলুম খানিক তফাতে আরো রক্তের দাগ রয়েছে—আরো খানিক এগিয়ে দেখলুম রক্তের দাগ। তৃতীয় দাগের পরেই একটা ঝোপের পাশে খুব সরু পথ, সেই পথের উপরে একটা লম্বা দাগ—যেন কারা একটা মস্ত বড় মোট ধুলোর উপর টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গিয়েছে।

    আমি সেই সরু পথ ধরলুম—সে পথেও মাঝে মাঝে রক্তের দাগ দেখে বুঝতে দেরি লাগল না যে, এই দিকে গেলেই বিমলের দেখা পাওয়া যাবে।

    কিন্তু বিমল বেঁচে আছে কি? এ রক্ত কার? তাকে ধরে নিয়ে গেলই বা কারা? সে কি ডাকাতের হাতে পড়েচে?—কিন্তু এ সব কথার কোন উত্তর মিলল না।

    আচম্বিতে আমার পা থেমে গেল—খুব কাছেই যেন কাদের গলা শোনা যাচ্ছে।

    আমার হাতের বন্দুকটা একবার পরখ করে দেখলুম, তার দুটো ঘরেই টোটা ভরা আছে। তারপর ঝোপের পাশে পাশে শুঁড়ি মেরে খুব সন্তর্পণে সামনের দিকে অগ্রসর হলুম।

    আর বেশী এগুতে হল না—সরু পথটা যেখানে শেষ হয়েছে, সেখানে অল্প খানিকটা খালি জমি, তার পরেই পাহাড়ে খাদ।…

    যে দৃশ্য দেখলুম জীবনে তা ভুলব না। সেই খোলা জমির উপরে জনছয়েক লোক দাঁড়িয়ে আছে—তাদের একজনকে দেখেই চিনলুম, সে করালী।

    আর একদিকে পাহাড়ের খাদের ধারেই একটা বড় গাছ হেলে পড়েছে এবং তারই তলায় পড়ে রয়েছে বিমলের দেহ। তার মাথা ও মুখ রক্তমাখা আর হাত ও কোমরে দড়ি বাঁধা। বিমলের উপরে হুমড়ি খেয়ে বসে আছে করালীর দলের আর একটা লোক।

    শুনলুম করালী চেঁচিয়ে বলছে, ”বিমল, এখনো কথার জবাব দাও। তোমার ব্যাগের ভেতরে পকেট—বই নেই, সেখানা কোথায় আছে বল।”

    কিন্তু বিমল কোন উত্তর দিল না।

    বিমল চুপ।

    করালী বললে, ”শম্ভু।”

    যে লোকটা দড়ি ধরে ছিল, সে মুখ ফিরিয়ে বললে, ”আজ্ঞে।”

    লোকটাকে চিনলুম, ছাতকের ডাক—বাংলোয় দেখেছিলুম।

    করালী বললে, ”দেখ শম্ভু, আর এক মিনিটের মধ্যে বিমল যদি আমার কথার উত্তর না দেয়, তবে তুমি ওকে তুলে খাদের ভেতরে ছুঁড়ে ফেলে দিও।”

    কয়েক সেকেণ্ড কেটে গেল, আমার বুকটা ধুকপুক করতে লাগল, কি যে করব কিছুই স্থির করতে পারলুম না।

    করালী বললে, ”বিমল, এই শেষবার তোমাকে বলচি। যদি সাড়া না দাও, তবে তোমার কি হবে বুঝতে পারচ তো? একেবারে হাজার ফুট নীচে পড়ে তোমার দেহ গুঁড়িয়ে ধুলো হয়ে যাবে, একটু চিহ্ন পর্য্যন্তও থাকবে না।”

    বিমল তেমনি বোবার মতন রইল।

    আর এ দৃশ্য সহ্য করা অসম্ভব। ঠিক করলুম করালী যা জানতে চায় আমিই তার সন্ধান দেব। কাজ নেই আর যকের ধনে, টাকার চেয়ে প্রাণ ঢের বড় জিনিষ। মন স্থির করে আমি উঠে দাঁড়ালুম।

    করালী বললে, ”বিমল, এখনো তুমি চুপ করে আছ?”

    এতক্ষণ পরে বিমল বললে, ”পকেট—বই পেলেই তো তুমি আমাকে ছেড়ে দেবে?”

    করালী বললে, ”নিশ্চয়।”

    বিমল, ”ব্যাগের মধ্যে আমার একটা জামার ভেতর দিককার পকেট খুঁজলেই তুমি পকেট—বই পাবে।”

    ব্যাগটা করালীর সামনেই পড়ে ছিল, সে তখনই তার ভিতরে হাত পুরে দিল। একটু চেষ্টার পরেই পকেট—বই বেরিয়ে পড়ল।

    সঙ্গে সঙ্গে করালীর মুখে একটা পৈশাচিক হাসি ফুটে উঠল।

    কিন্তু এ হাসি দেখে এত বিপদেও আমার হাসি পেল। কারণ আমি জানি, পকেট—বই থেকে পথের ঠিকানার কথা বিমল আগেই মুছে দিয়েছে। এত বিপদেও বিমল ভয় পেয়ে বুদ্ধি হারিয়ে ফেলেনি,—ধন্যি ছেলে যা—হোক!

    বিমল বললে, ”তোমাদের মনের আশা তো পূর্ণ হল, এইবার আমাকে ছেড়ে দাও।”

    করালী কর্কশ স্বরে বললে, ”হ্যাঁ, ছেড়ে দেব বৈ কি—শত্রুর শেষ রাখব না। শম্ভু, আর কেন, ছোঁড়াকে নিশ্চিন্তপুরে পাঠিয়ে দাও।”

    বিমল চেঁচিয়ে বলে উঠল, ”করালী! সয়তান! তুমি—”

    কিন্তু তার কথা শেষ হতে না হতেই শম্ভু বিমলকে ধরে হিড়হিড় করে টেনে খাদের ধারে নিয়ে গিয়ে একবারে ঠেলে ফেলে দিলে এবং চোখের পলক না যেতেই বিমলের দেহ ঝুপ করে নীচের দিকে পড়ে অদৃশ্য হয়ে গেল।

    সঙ্গে সঙ্গে আমার চোখের উপরে একটা অন্ধকারের পর্দ্দা নেমে এল এবং মাথা ঘুরে মাটিতে পড়ে যেতে যেতে আবার শুনলুম—করালীর সেই ভীষণ অট্টহাসি! তারপরেই আমি একেবারে অজ্ঞান হয়ে গেলুম।

    আঠারো – অবাক কাণ্ড

    কতক্ষণ অজ্ঞান হয়ে ছিলুম জানি না। যখন জ্ঞান হল, চোখ চেয়ে দেখলুম, রামহরি আমার মুখের উপরে হুমড়ি খেয়ে আছে। আমাকে চাইতে দেখে সে হাঁপ ছেড়ে বললে, ”কি ছোটবাবু, অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলে কেন?”

    কেন যে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলুম, প্রথমটা আমার তা মনে পড়ল না—আমি আস্তে আস্তে উঠে বসলুম—বোকা বনে বোবার মত।

    রামহরি বললে, ”তোমার ফিরতে দেরি হচ্ছে দেখে আমার ভারী ভয় হল। বাঘাকে সেইখানেই বেঁধে রেখে তোমাকে খুঁজতে আমিই এই দিকে এলুম—”

    এতক্ষণে আমার সব কথা মনে পড়ল—রামহরিকে বাধা দিয়ে পাগলের মত লাফিয়ে উঠে আমি বললুম—”রামহরি, রামহরি—আমিও ওদের খুন করব।”

    রামহরি আশ্চর্য্য হয়ে বললে, ”কাদের খুন করবে ছোটবাবু, তুমি কী বলচ?”

    আমার বন্দুকটা মাটি থেকে তুলে নিয়ে আমি বললুম, ”যারা বিমলকে খাদে ফেলে দিয়েচে।”

    —”খোকাবাবুকে খাদে ফেলে দিয়েচে! অ্যাঁ—অ্যাঁ,” রামহরি চেঁচিয়ে কেঁদে উঠল!

    আমি বললুম, ”এখন তোমার কান্না রাখো রামহরি! এখন আগে চাই প্রতিশোধ। নাও, ওঠ—বিমলের বন্দুকটা নিয়ে এই দিকে এস।”

    আমি ঝোপ থেকে বেরিয়ে দাঁড়ালুম—ঠিক করলুম সামনে যাকে দেখব তাকেই গুলি করে মেরে ফেলব!

    কিন্তু কেউ তো কোথাও নেই! খাদের পাশে খোলা জমি ধু ধু করছে—সেখানে জনপ্রাণী দেখতে পেলুম না।

    রামহরি পিছন থেকে বললে, ”তুমি কাকে মারতে চাও ছোটবাবু?”

    দাঁতে দাঁত ঘষে আমি বললুম, ”করালীকে! কিন্তু এর মধ্যেই দলবল নিয়ে সে কোথায় গেল?”

    —”করালী”—স্তম্ভিত রামহরির মুখ দিয়ে আর কথা বেরুল না।

    —”হ্যাঁ রামহরি, করালী। তারই হুকুমে বিমলকে ফেলে দিয়েচে।”

    রামহরি কাঁদতে কাঁদতে বললে, ”কোনখানে খোকাবাবুকে ফেলে দিয়েচে?”

    আমারও গলা কান্নায় বন্ধ হয়ে এল। কোন রকমে সামলে নিয়ে হতাশ ভাবে আমি বললুম, ”রামহরি, বিমলের খোঁজ নেওয়া আর মিছে। ঐখান থেকে হাত—পা বেঁধে তাকে খাদের ভেতরে ফেলে দিয়েচে! অত উঁচু থেকে ফেলে দিলে লোহাই গুঁড়ো হয়ে যায়, মানুষের দেহ তো সামান্য ব্যাপার। বিমলকে আর আমরা দেখতে পাব না!”

    রামহরি মাথায় করাঘাত করে বললে, ”খোকাবাবু সঙ্গে না থাকলে কোন মুখে আবার মাঠাকরুণের কাছে গিয়ে দাঁড়াব? না, এ প্রাণ আমিও রাখব না। আমিও পাহাড়ের উপর থেকে লাফিয়ে পড়ে মরব।” এই বলে সে খাদের ধারে ছুটে গেল।

    অনেক কষ্টে আমি তাকে থামিয়ে রাখলুম। তখন সে মাটির উপর উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ে ফুলে ফুলে কাঁদতে লাগল।

    যেখান থেকে বিমলকে নীচে ফেলে দিয়েচে, আমি সেখানে গিয়ে দাঁড়ালুম। তারপর ধারের দিকে ঝুঁকে পড়ে দেখতে লাগলুম, বিমলের দেহটা নজরে পড়ে কিনা!

    নীচের দিকে তাকাতেই আমার মাথা ঘুরে গেল। উঃ, এমন গভীর খাদ জীবনে আমি কখনো দেখিনি—পাহাড়ের পিঠ খাড়া ভাবে নীচের দিকে কোথায় যে তলিয়ে গেছে তা নজরেই ঠেকে না। তলার দিকটা একেবারে ধোঁয়া ধোঁয়া অস্পষ্ট।

    হঠাৎ একটা অদ্ভুত জিনিস আমার চোখে পড়ল। আমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, সেখান থেকে হাত পনেরো নীচেই পাহাড়ের খাড়া গায়ে একটা বুনো গাছের পুরু ঝোপ দেখা যাচ্ছে,—আর—আর সেই ঝোপের উপরে কি ও—টা?—ও যে মানুষের দেহের মত দেখতে!

    প্রাণপণে চেঁচিয়ে বললুম, ”রামহরি, দেখবে এস।”

    রামহরি তাড়াতাড়ি ছুটে এল, সঙ্গে সঙ্গে ঝোপের উপরে দেহটাও নড়ে উঠল।

    আমি ডাকলুম, ”বিমল, বিমল!”

    নীচ থেকে সাড়া এল, ”কুমার, এখনো আমি বেঁচে আছি ভাই।”

    আবার আমি অজ্ঞানের মত হয়ে গেলুম—আনন্দের প্রচণ্ড আবেগে। রামহরি তো আমোদে আটখানা হয়ে নাচতে সুরু করলে।

    অনেক কষ্ট আত্মসংবরণ করে আমি বললুম, ”রামহরি, অমন করে নাচলে তো চলবে না, আগে বিমলকে ওখান থেকে তুলে আনতে হবে যে!”

    রামহরি তখনি নাচ বন্ধ করে, চোখ কপালে তুলে মাথা চুলকোতে চুলকোতে বললে, ”তাই তো ছোটবাবু, ওখানে আমরা কি করে যাব, নামবার যে কোন উপায় নেই!”

    উঁকি মেরে দেখলুম বিমলের কাছে যাওয়া অসম্ভব—পাহাড়ের গা বেয়ে মানুষ তো আর টিকটিকির মত নীচে নামতে পারে না! ওদিকে বিমল যেরকম বেকায়দায় হাজার হাজার ফুট নীচু খাদের তুচ্ছ একটা ঝোপের উপরে আটকে আছে—

    এমন সময় নীচে থেকে বিমলের চীৎকার আমার ভাবনায় বাধা দিলে। শুনলুম বিমল চেঁচিয়ে বলছে, ”কুমার, শীগগির আমাকে তুলে নাও—আমি ক্রমেই নীচের দিকে সরে যাচ্ছি!”

    তাড়াতাড়ি মুখ বাড়িয়ে আমি বললুম, ”কিন্তু কি করে তোমার কাছে যাব, বিমল?”

    বিমল বললে, ”আমার ব্যাগের ভিতরে দড়ি আছে, সেই দড়ি আমার কাছে নামিয়ে দাও।”

    —”কিন্তু তোমার হাত—পা বাঁধা, দড়ি ধরবে কেমন করে?”

    —”কুমার, কেন মিছে সময় নষ্ট করচ, শীগগির দড়ি ঝুলিয়ে দাও।”

    বিমলের ব্যাগটা সেইখানেই পড়েছিল—ভাগ্যে করালীরা সেটাও নিয়ে যায়নি। রামহরি তখনই তার ভিতর থেকে খানিকটা মোটা দড়ি বার করে আনলে।

    জোর বাতাস বইছে, আর প্রতি দমকাতেই ঝোপটা দুলে দুলে উঠছে এবং সঙ্গে সঙ্গে বিমলের দেহ নীচের দিকে নেমে যাচ্ছে! কি ভয়ানক অবস্থা তার! আমার বুকটা ভয়ে ঢিপ ঢিপ করতে লাগল!

    বিমল বললে, ”দড়িটা ঠিক আমার মুখের কাছে ঝুলিয়ে দাও। আমি দাঁত দিয়ে দড়িটা ভালো করে কামড়ে ধরার পর তোমরা দুজনে আমাকে ওপরে টেনে তুলো!”

    আমি একবার সার্কাসে একজন সাহেবকে দাঁত দিয়ে আড়াই মণ ভারি মাল টেনে তুলতে দেখেছিলুম! জানি বিমলের গায়ে খুব জোর আছে, কিন্তু তার দাঁত কি এমন শক্ত হবে?

    হঠাৎ বিষম একটা ঝোড়ো বাতাস এসে ঝোপের উপরে ধাক্কা মেরে বিমলের দেহকে আরো খানিকটা নীচের দিকে নামিয়ে দিলে—কোন রকমে দেহটাকে বাঁকিয়ে—চুরিয়ে বিমল একরকম আলগোছেই শূন্যে ঝুলতে লাগল। তার প্রাণের ভিতরটা তখন যে কি রকম করছিল, সেটা তার মড়ার মত সাদা মুখ দেখেই বেশ বুঝতে পারলুম। হাওয়ার আর একটা দমকা এলেই বিমলকে কেউ আর বাঁচাতে পারবে না।

    তাড়াতাড়ি দড়ি ঝুলিয়ে দিলুম—একেবারে বিমলের মুখের উপরে। বিমল প্রাণপণে দড়িটা কামড়ে ধরলে।

    আমি আর রামহরি দুজনে মিলে দড়ি ধরে টানতে লাগলুম—দেখতে দেখতে বিমলের দেহ পাহাড়ের ধারের কাছে উঠে এল; বিমলের মুখ তখন রক্তের মতন রাঙা হয়ে উঠেছে—সামান্য দাঁতের জোরের উপরেই আজ তার বাঁচন—মরণ নির্ভর করছে।

    রামহরি বললে, ”ছোটবাবু, তুমি একবার একলা দড়িটা ধরে থাকতে পারবে? আমি তাহলে খোকাবাবুকে হাতে করে ওপরে তুলে নি।”

    আমি বললুম, ”পারব।”

    রামহরি দৌড়ে গিয়ে বিমলকে একেবারে পাহাড়ের উপরে নিরাপদ স্থানে তুলে ফেললে। তারপর তাকে নিজের বুকের ভিতর টেনে নিয়ে আনন্দের আবেগে কাঁদতে লাগল। আমি গিয়ে তার বাঁধন খুলে দিলুম।

    আমি বললুম, ”বিমল, কি করে তুমি ওদের হাতে গিয়ে পড়লে।”

    বিমল বললে, ”নিজের মনে গান গাইতে গাইতে আমি এগিয়ে যাচ্ছিলুম, ওরা বোধহয় পথের পাশে লুকিয়ে ছিল, হঠাৎ পিছন থেকে আমার মাথায় লাঠি মারে, আর আমি অজ্ঞান হয়ে যাই।”

    আমি বললুম, ”তারপর যা হয়েছে, আমি সব দেখেচি। তোমাকে যে আবার ফিরে পাব, আমরা তা একবারও ভাবতে পারিনি।”

    বিমল হেসে বললে, ”হ্যাঁ, এতক্ষণে নিশ্চয় আমি পরলোকে ভ্রমণ করতুম—কিন্তু ভাগ্যে ঠিক আমার পায়ের তলাতেই ঝোপটা ছিল! রাখে কৃষ্ণ মারে কে?”

    আমি মিনতি স্বরে বললুম, ”বিমল, আর আমাদের যকের ধনে কাজ নেই—প্রাণ নিয়ে ভালোয় ভালোয় দেশে ফিরে যাই চল।”

    বিমল বললে, ”তেমন কাপুরুষ আমি নই। তোমার ভয় হয়, তুমি যাও। আমি কিন্তু শেষ পর্য্যন্ত না দেখে এখান থেকে কিছুতেই নড়ব না।”

    উনিশ – গাছের ফাঁকে ফাঁড়া

    আবার আমাদের চলা সুরু হয়েছে। এবারে আমরা প্রাণপণে এগিয়ে চলেছি। পিছনে যখন শত্রু লেগেছে তখন যত তাড়াতাড়ি গন্তব্য স্থানে গিয়ে পৌঁছান যায়, ততই মঙ্গল।

    কত বন—জঙ্গল, কত ঝরনা, খাদ, কত পাহাড়ের চড়াই—উৎরাই পার হয়েই যে আমরা চলেছি, আর চলেছি, আর তার কোন ঠিকানা নাই। মাঝে মাঝে আমার মনে হতে লাগল, আমরা যেন চলবার জন্যেই জন্মেছি, আমরা যেন মৃত্যুর দিন পর্য্যন্ত খালি চলবই আর চলবই। দুপুর বেলায় পাহাড় যখন উনুনে পোড়ানো চাটুর মত বিষম তেতে ওঠে, কেবল সেই সময়টাতেই আমরা চলা থেকে রেহাই পেয়ে রেঁধে খেয়ে কিছুক্ষণ গড়িয়ে নি! রাত্রে জ্যোৎস্না না থাকলেও দায়ে পড়ে আমাদের বিশ্রাম করতে হয়। নইলে চলতে চলতে রোজ আমরা দেখি, আকাশে ঊষার রঙিন আভাস মস্ত এক ফাগের থালার মতন প্রথম সূর্য্যের উদয়, বনের পাখীর ডাকে সারা পৃথিবীর জাগরণ, সন্ধ্যার আভাসে মেঘে মেঘে রামধনুকের সাত—রঙা মেঘের তীরে সূর্য্যের বিদায়, তারপর পরীলোক থেকে উড়িয়ে—দেওয়া ফানুসের মত চাঁদের প্রকাশ। আবার, সেই চাঁদই কতদিন আমাদের চোখের সামনেই ক্রমে ম্লান হয়ে প্রভাতের সাড়া পেয়ে মিলিয়ে যায়,—ঠিক যেন স্বপ্নের মায়ার মতন।

    কিন্তু করালীর আর দেখা নেই কেন? এতদিনে আবার তার সঙ্গে আমাদের দেখা হওয়া উচিত ছিল—কারণ এখন সে নিশ্চয় বুঝতে পেরেছে যে, পকেট—বইয়ে পথের কোন ঠিকানাই আর নেই! সে কি হতাশ হয়ে আমাদের পিছন ছেড়ে সরে পড়েছে, না আবার কোন দিন হঠাৎ আমাদের সামনে এসে দাঁড়াবে?

    এমনি ভাবে দিন চলতে চলতে শেষ একদিন আমরা রূপনাথের গুহার সুমুখে এসে দাঁড়ালুম। এই রূপনাথের গুহা! শুনেছি, এই গুহার ভিতর দিয়ে অগ্রসর হলে সুদূর চীনদেশে গিয়ে হাজির হওয়া যায়। একবার এক চীন—সম্রাট নাকি এই পথ দিয়ে ভারতবর্ষ আক্রমণ করতে এসেছিলেন। অবশ্য, এটা ইতিহাসের কথা নয়, প্রবাদেই এ কথা বলে। রূপনাথের গুহা বড় হোক আর ছোট হোক তাতে এসে যায় না, আর তা নিয়ে আমাদের মাথা ঘামাবার দরকারও নেই। কিন্তু এখানে এসে আমরা আশ্বস্তির হাঁপ ছেড়ে বাঁচলুম—কেননা এতদিন আমরা এই গুহার উদ্দেশ্যেই আসছিলুম এবং এখানে পৌঁছে অন্ততঃ এইটুকু বুঝতে পারলুম যে, এইবারে আমরা পথের শেষ দেখতে পাব। কারণ যে জায়গায় যকের ধন আছে, এখান থেকে সে জায়গাটা খুবই কাছে—মাত্র দিন—তিনেকের পথ।

    বিমল হাসিমুখে একটা গাছতলায় বসে গুনগুন করে গান গাইতে লাগল।

    আমি তার পাশে গিয়ে বললুম, ”বিমল, এখনি অতটা স্ফূর্ত্তি ভালো নয়।”

    বিমল ভুরু কুঁচকে বললে, ”কেন?”

    —”মনে কর, বৌদ্ধ মঠে গিয়ে যদি আমরা দেখি যে, যকের ধন সেখানে নেই, —তাহলে।”

    —”কেনই বা থাকবে না?”

    —”যে সন্ন্যাসী আমার ঠাকুরদাদাকে মড়ার মাথা দিয়েছিল, সে যে বাজে কথা বলেনি তার প্রমাণ?”

    —”না, আমার দৃঢ় বিশ্বাসি সন্ন্যাসী সত্য কথাই বলেচে। অকারণে মিছে কথা বলে তার কোন লাভ ছিল না তো!”

    আমি আর কিছু বললুম না।

    বিমল বললে, ”ও—সব বাজে ভাবনা ভেবে মাথা খারাপ কোরো না। আপাততঃ আজকের মত এখানে বসেই বিশ্রাম কর। তারপর কাল আবার আমরা বৌদ্ধ মঠের দিকে চলতে সুরু করব।”

    সূর্য্য অস্ত গিয়েছে, তখনো সন্ধ্যা হতে দেরি আছে। পশ্চিমের আকাশে রঙের খেলা তখনো মিলিয়ে যায়নি,—দেখলে মনে হয়, কারা যেন মেঘের গায়ে নানা রঙের জলছবি মেরে দিয়ে গেছে!

    সেদিন বাতাসটি আমার ভারি মিষ্টি লাগছিল! বিমল নিজের মনে গান গাইছে আর আমি চুপ করে বসে শুনছি—তার গান বাস্তবিকই শোনবার মত! এইভাবে খানিকক্ষণ কেটে গেল।

    হঠাৎ সামনের জঙ্গলের দিকে আমার চোখ পড়লো! সঙ্গে সঙ্গে আমার সর্ব্বাঙ্গে কাঁটা দিয়ে উঠল!

    আমি বেশ দেখলুম, একটা গাছের আড়াল থেকে করালীর কুৎসিত মুখখানা উঁকি মারছে। কুতকুতে চোখ দুটো তার গোখরো সাপের মত তীব্র হিংসায় ভরা। আমাদের সঙ্গে চোখাচোখি হবামাত্র মুখখানা বিদ্যুতের মত সাঁৎ করে সরে গেল।

    আমি তাড়াতাড়ি বিমলের গা টিপলুম, বিমল চমকে গান থামিয়ে ফেললে!

    চুপি চুপি আমি বললুম, ”করালী।”

    বিমল এক লাফে দাঁড়িয়ে উঠে বললে, ”কৈ?”

    আমি সামনের জঙ্গলের গাছটার দিকে দেখিয়ে বললুম, ”ঐখানে।”

    বিমল তখনি সেই দিকে যাবার উপক্রম করলে। কিন্তু আমি বাধা দিয়ে বললুম, ”না যেও না। হয়তো করালীর লোকেরাও ওখানে লুকিয়ে আছে। আচমকা বিপদে পড়তে পারো।”

    বিমল বললে, ”ঠিক বলেচ! কিন্তু আমি যে আর থাকতে পারচি না, কুমার। আমার ইচ্ছে হচ্ছে, এখুনি ছুটে গিয়ে সয়তানের টুঁটি টিপে ধরি।”

    আমি বললুম, ”না না, চল, আমরা এখান থেকে সরে পড়ি। করালী ভাবুক, আমরা ওদের দেখতে পাইনি। তারপরে ভেবে দেখা যাবে আমাদের কি করা উচিত।”

    চারিদিকে সতর্ক দৃষ্টি রেখে আমরা সেখান থেকে চলে এলুম। বেশ বুঝলুম, করালী যখন আমাদের এত কাছে কাছে, তখন কোন—না—কোন দিক দিয়ে একটা নূতন বিপদ আসতে আর বড় দেরি নেই! যকের ধনের কাছে এসেছি বলে আমাদের মনে যে আনন্দের উদয় হয়েছিল, করালীর আবির্ভাবে সেটা আবার কর্পূরের মতন উবে গেল। কী মুস্কিল, এই রাহুর গ্রাস থেকে কি কিছুতেই আমরা ছাড়ান পাব না?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকলকাতার রাত্রি রহস্য – হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Next Article কিশোর রহস্য উপন্যাস – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    Related Articles

    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    মানুষের গড়া দৈত্য – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমারের গল্প – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রহস্য-রোমাঞ্চ সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রবিন হুড – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    জয়তু জয়ন্ত – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    ঐতিহাসিক সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }