Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026

    বিশ্বমনা : রবীন্দ্রনাথ – সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026

    গল্পে বারভূঁইয়া – সতীশ চন্দ্র গুহ

    January 17, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিশ্বমনা : রবীন্দ্রনাথ – সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা এক পাতা গল্প373 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রবীন্দ্রনাথ

    রবীন্দ্রনাথ আজ বেঁচে থাকলে ৮৮ বৎসর অতিক্রম করতেন। জর্জ বার্নার্ড শ ওদিকে ৯৩ বছর বয়সে পরিহাসচটুল সতেজ চিন্তাধারার পরিচয় দিচ্ছেন। মানুষ শতায়ু হয়ে জীবনধারণ করবে—এইটিই সাধারণভাবে আকাঙ্ক্ষিত, আর রবীন্দ্রনাথের মতো লোকোত্তর মানুষের পক্ষে সুস্থ সবল মন নিয়ে সকলের কাম্য দীর্ঘায়ু হয়ে বেঁচে থাকা জাতির পক্ষে সৌভাগ্যের কথা হত। আমরা যাঁরা জীবনে রবীন্দ্রনাথের সান্নিধ্য আর তাঁর স্নেহ পেয়ে ধন্য হয়েছি—তাঁদের কাছে এটা একটা বিশেষ ক্ষোভের কথা যে, রবীন্দ্রনাথ দেশের স্বাধীনতা দেখে যেতে পারলেন না। হয়তো দেশের উপস্থিত অবস্থায় বেঁচে থাকা তাঁর পক্ষে কষ্টকর হত, কিন্তু তাঁর উদার দৃষ্টি আর উপদেশ থেকে আমরা জাতীয় জীবনে কিছু-না-কিছু পথ্য আর পাথেয় সংগ্রহ করতে পারতুম। রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে শ্রীযুক্ত সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ যে উক্তি করেছিলেন তাঁর জীবৎকালে অনুষ্ঠিত শেষ জন্মদিনে, সেই উক্তির অন্তর্নিহিত সত্য আমরা মর্মে মর্মে অনুভব করছি—‘That is he is still with us shows that God has not yet forsaken us.’

    রবীন্দ্রনাথের মতো বিরাট পুরুষের সম্বন্ধে কিছু বলতে গেলেই তিনটি বিষয়ের অবতারণা করতে হয়—(১) তিনি ব্যাপকভাবে আমাদের সমগ্র জাতির জন্য কী করেছেন বা কী দিয়ে গিয়েছেন, (২) তিনি সংকীর্ণভাবে তাঁর সমভাষাভাষীদের জন্য কী করেছেন—আর (৩) ব্যক্তিগতভাবে আমরা তাঁর কাছে কী জন্য ঋণী। শেষোক্ত বিষয়টি সম্বন্ধে বিচার বা আলোচনা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সূত্রে হতে পারে। কিন্তু আর দুটি বৃহত্তর অপেক্ষাকৃত ব্যাপক দিক থেকে আমাদের যে বিচার হবে সেটা অনেকটা বস্তুতান্ত্রিক বিচারই হবে—একেবারে নিছক আত্মকেন্দ্রিক নয়। প্রথমে আমরা সমগ্রভাবে ভারতীয় জাতির জন্য রবীন্দ্রনাথ কী দিয়ে গিয়েছেন সেটার একটু বিচার করে দেখি—আর তা থেকেই নিখিল ভারতের জনগণ রবীন্দ্রনাথের কাছে কতটা কৃতজ্ঞ থাকবে তার একটা দিগদর্শন আমরা করতে পারবো।

    আর একটা কথা আছে। আমাদের ব্যক্তিগত, প্রদেশগত বা সমগ্র দেশ বা জাতিগত সত্তার বা জীবনের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সংযোগের কথা অতিক্রম করে বিশ্বমানবের সঙ্গে তাঁর যোগের কথাও বিচার্য। অবশ্য সে-সম্বন্ধে স্পষ্ট অভিমত দেবেন—ভারতের বাইরের লোকেরা—আমাদের মুখে তাঁরা ঝাল খাবেন না। তবে তাঁরা কীভাবে রবীন্দ্রনাথকে দেখেছেন ও দেখছেন—তার ধারণা আমরা বিদেশে গিয়ে বা বিদেশীদের সঙ্গে মিশে বা বিদেশীদের লেখা পড়ে করতে পারি।

    আমেরিকার সুপরিচিত লেখক Will Durant রবীন্দ্রনাথকে তাঁর লেখা একখানি বই পাঠিয়ে দেন—এই বইতে তিনি এইভাবে রবীন্দ্রনাথের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন—‘You are the reason why India should be free.’ একজন নিরপেক্ষ বিদেশীর কাছে এইরকম কথা শুনে বুঝতে পারা যায় যে, বাইরের লোকদের কাছে ভারতবর্ষের মর্য্যাদা—এই একটিমাত্র মানুষ কত বাড়িয়ে দিয়েছেন। বাস্তবিক আমাদের সংস্কৃততে যে কথা আছে যে, সৎ পুত্রের দ্বারা ‘কুলং পবিত্রং জননী চ কৃতার্থা’ হয়ে থাকে, তা এই রকম ঘটনা বা অবস্থা থেকে বোঝা যায়। এখন থেকে ২৬/২৭ বছর পূর্বেকার কথা, রবীন্দ্রনাথ তার ১০/১১ বৎসর পূর্বে নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন, কিন্তু ইউরোপের সব দেশেই তাঁর লোকপ্রিয়তা ক্রমবর্ধমান দেখে প্যারিসে ছাত্ররূপে আমাদের অবস্থানের সময়ে মহারাষ্ট্র দেশ থেকে আগত একজন সতীর্থ আমায় বলেছিলেন—‘Rabindranath is the greatest ambassador who can be sent out by any country to the world.’—কথাটা অতি সত্য। রবীন্দ্রনাথের আবির্ভাবে সাধারণ ভারতবাসীই বিদেশের সহৃদয় শিক্ষিত জনগণের কাছে যে মর্য্যাদা পেয়েছেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যেসব জাতির লোক পৃথিবীতে অগ্রণী—তাদের প্রাপ্য মর্যাদার চাইতে তা কোনো অংশে কম নয়। এটা ভারতের বাইরে নানা দেশে আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার কথা। খালি মর্যাদা নয়—তার সঙ্গে সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিত্বের গৌরবের জন্য, তাঁর বিশ্বমানবিকতার জন্য আরও একটা জিনিস বিদেশীদের কাছ থেকে পেয়েছি—সেটা হচ্ছে হৃদ্যতা বা মিত্রতা, যেটা ইংলণ্ড আর আমেরিকার মতো দোর্দন্ডপ্রতাপ জাতির মানুষও সর্বত্র সেভাবে পায় না। এইসব অভিজ্ঞতার কথা এর আগে বলেছি, এখন আর পুনরুক্তি করবো না। কাজেই আধুনিক ভারতবাসীর পক্ষে, বিশেষ করে ইংরেজের অধীন ভারতবাসীর পক্ষে, রবীন্দ্রনাথের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবার এই একটা মস্ত বড়ো কারণ। রবীন্দ্রনাথ বাইরের লোককে কোনো কিছুর চটকে কোনো কিছু sensational বা রোমাঞ্চকর ব্যাপার দেখিয়ে মুগ্ধ করেন নি—আর এইখানেই তাঁর গৌরব—আর ভারতেরও গৌরব। তিনি সহজভাবে নিতান্ত আপনার জনের মতো নানা জাতির বিদেশী লোকের মনে একটা ভালোবাসার আসন পেয়েছিলেন। একটি ছোটো ঘটনার কথা আমার মনে পড়ছে—এটি বন্ধুবর শ্রীযুক্ত কালিদাস নাগের অভিজ্ঞতা। একবার প্যারিসে রবীন্দ্রনাথ কিছুকাল অবস্থান করেন। কালিদাসবাবু তখন তাঁর সঙ্গে ছিলেন। প্যারিসের এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তে একটা বক্তৃতা দিতে রবীন্দ্রনাথকে যেতে হবে। লম্বা পাড়ি। ট্যাক্সি আনা হল। রবীন্দ্রনাথের হোটেলের দরজায় ট্যাক্সি হাজির—উনি সিঁড়ি দিয়ে নামছেন। গাড়ি পর্যন্ত প্রত্যুদগমনের জন্য কতকগুলি লোক সঙ্গে। রবীন্দ্রনাথের দীর্ঘ সৌম্য আকৃতি আর সর্বোপরি তাঁর প্রশান্ত স্নিগ্ধ দৃষ্টি আর ঋষিজনোচিত মুখমন্ডল, যা দেখে সকলেরই শ্রদ্ধা বা সম্ভ্রম জাগতো, ট্যাক্সিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করলো—কালিদাসবাবু নেমে রবীন্দ্রনাথের জন্য ট্যাক্সির দরজা খুলতে আসছেন, ট্যাক্সিচালক নিজে গাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো, এসেই চুপি চুপি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলো—‘মশাই, ইনি কে?’ কালিদাসবাবু বললেন, ‘ইনি হিন্দু বা ভারতীয় কবি রবীন্দ্রনাথ তাগোর’। শুনেই লোকটি সসম্ভ্রমে তাঁর দিকে তাকালো আর সঙ্গে সঙ্গে মাথার টুপি খুলে হাতে নিলে—আর নিজে এগিয়ে এসে রবীন্দ্রনাথের জন্য গাড়ির দরজা খুলে দাঁড়িয়ে রইল। রবীন্দ্রনাথ গাড়িতে চড়লেন—যথাস্থানে ট্যাক্সি এসে পৌঁছলো, সেখানে তাঁর জন্যে অপেক্ষমান লোকেরা—তাঁকে স্বাগত করে ভিতরে নিয়ে যাচ্ছে, কালিদাসবাবু এলেন ট্যাক্সির মিটার দেখতে, ভাড়া কত দিতে হবে। বেশ একটা মোটা অঙ্ক উঠেছিল, কিন্তু ট্যাক্সিওয়ালা কল ঘুরিয়ে দিলে আর বললে, ‘আমি ভাড়া নেব না—আমি ওঁর বই পড়েছি।’ কালিদাসবাবুর কৌতূহল হল—তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কী কী বই পড়েছ—আর কোন বইটা তোমার সব চাইতে ভালো লেগেছে?’ ‘ফরাসীতে ৩/৪ খানা বই যা বেরিয়েছে, সব পড়েছি, তবে সবচেয়ে ভালো লেগেছে ‘সাধনা’।’ বলেই বেশি বাক্যব্যয় না করে খালি ট্যাক্সি নিয়ে সে চলে গেল। এ থেকে এ কথা বলবো না যে, প্যারিসের প্রত্যেক বা বেশির ভাগ ট্যাক্সিওয়ালা রবীন্দ্রনাথের বই পড়ে থাকে। তবে একটা জিনিস বুঝতে পারা যায়, কীরকমভাবে সাধারণ লোকের কাছে তাঁর বাণী পৌঁছেছে—আর তাঁর কাছ থেকে তার কিছু অন্তত পেয়েছে মনে করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা—এমনকী ভালোবাসার ভাব পোষণ করেছে। আর রবীন্দ্রনাথ কবি হিসাবে এই ভালোবাসাটুকুই কামনা করে গিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথের প্রতি এবং সঙ্গে সঙ্গে ভারতবাসীর প্রতি এই আকর্ষণ আর শ্রদ্ধার মূলে কোনো রাজনৈতিক কারণ নেই, আছে এক সাধারণ মানবধর্ম যেটা সংকীর্ণ জাতীয়তা অথবা দলগত ভাবুকতা বা স্বার্থের বহু ঊর্ধ্বে অবস্থিত।

    এইখানেই রবীন্দ্রনাথের বিশ্বমানবের চিত্তজয়ের মূল কারণ নিহিত। তিনি মানুষকে ভালোবেসেছিলেন আর বিশ্বমানবের প্রতি প্রেম তাঁর জীবনে এ যুগে যে মহনীয়ভাবে প্রকাশ পেয়েছিল, সেরকমটি আর কোথাও দেখা যায় নি। রবীন্দ্রনাথের সম্বন্ধে কে যেন বলেছেন, তিনি ছিলেন ‘most stupendous mind of modern times’—এটা যেমন সত্য কথা, তেমনি সঙ্গে সঙ্গে এটাও সমানভাবে সত্যি কথা যে, তাঁকে ‘The greatest lover of man’-এর দলে প্রথম শ্রেণিতে স্থান দিতে হয়। রবীন্দ্রনাথের প্রতিভা এত নানামুখী যে, তার বর্ণনা করে অসংখ্য বিরুদ্ধ বা বর্ণনামূলক উপাধি তাঁর সম্বন্ধে তৈরি করে প্রয়োগ করতে পারা যায়, আর তাতেও তাঁর গুণের পার আমরা পাবো না। উড়িষ্যার কবি সদানন্দ চৈতন্যদেবকে নাকি ‘হরিনাম মূর্তি’ এই আখ্যা দিয়েছিলেন—চৈতন্যদেবের নামধর্ম প্রচারের কথা মনে করলে এই বিষয়টিকে তাঁর সম্বন্ধে সার্থক বলা যায়। তেমনি রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে অন্যতম বিরুদ বা আখ্যা হতে পারে—‘মানব-প্রেম-মূর্তি’ বা ‘মানবিকতা-বিগ্রহ’।

    বিশ্বমানবের কাছে এই সম্মান আর বিশ্বমানবের মনে ভারতবর্ষ সম্বন্ধে উচ্চ ধারণা—এই দুটি জিনিস বহু স্থলে অঙ্গাঙ্গীভাবে গ্রথিত দেখেছি। রবীন্দ্রনাথ যেমন ওদিকে বিশ্বজগতে আমাদের মর্যাদা বাড়িয়েছেন, তেমনি তিনি আমাদের ঘরের মানুষই রয়ে গিয়েছেন। এই দুটি জিনিসের একত্র অবস্থান—বড়োই অপূর্ব, এক অদ্ভুত রহস্য। ওয়ার্ডসওয়ার্থ যে বলেছেন, স্কাইলার্ক পাখি একদিকে গগনবিহারী, আকাশ আপনার সংগীতে সে ভরিয়ে দেয়—আর একদিকে সে মাটির উপরে তার বাসা ভোলে না। ওদিকে ফিনল্যাণ্ডের অনুরাগী ভক্ত রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে সংস্কৃতে কবিতা লিখছেন—

    ন কর্হিচিৎ কিল প্রাচী প্রতীচ্যা সংগমিষ্যতি।

    পুরস্তাদ বৈ রবিস্তূদয়ন প্রতীচীমপ্যরোচয়ৎ।।

    দক্ষিণামপ্যুদীচীং চ ব্যভাসয়দ উরুক্রমঃ।

    তৎ পূজ্যসে, রবীন্দ্র! ত্বম উত্তরস্যাং বিশেষতঃ।।

    বাঙলায় যার অর্থ হচ্ছে—

    পূর্বদেশ পশ্চিমের সঙ্গে কখনো মিলিত হবে না, কিন্তু পূর্বদেশে উদিত হয়ে রবি পশ্চিমকেও আলোকিত করেন—উরুক্রম অর্থাৎ বিষ্ণুর মতো দূরগামী হয়ে দক্ষিণ আর উত্তরদিককেও রবি উদ্ভাসিত করেছেন; সেইজন্য হে রবীন্দ্র! তুমি বিশেষ করে আমাদের উত্তরদেশেও পূজিত হও।

    আবার যবদ্বীপের ভাবুক রবীন্দ্রনাথের কবিতার তিনহাত ঘুরে-আসা অনুবাদ ‘বাঙলা থেকে ইংরিজি, ইংরিজি থেকে ডাচ, ডাচ থেকে যবদ্বীপীয় ভাষা’ পড়ে ভাবাবেগে প্রকাশ্য সভায় কেঁদে ফেলেছিলেন—আর লেবাননের আরব কবি শান্তিনিকেতন এসে রবীন্দ্রনাথকে দর্শন করে নিজেকে কৃতার্থ মনে করে যাচ্ছেন, তেমনি এদিকে বাঙলা দেশের মেয়েরা সভা করে রবীন্দ্রনাথকে আহ্বান করে এনে তাঁকে জানাচ্ছেন—আপনি আমাদের ঘরের কবি, আমাদের গৃহকর্মের ভিতরে, আমাদের রান্নাঘরের ভিতরেও আপনাকে পেয়েছি। কথাটা যে বলা হয়েছে—অতি সার্থক কথা— ‘He alone is truly international who is most intensely national.’ শেকসপিয়র সম্বন্ধেও বলা হয়েছে যে, একদিকে যেমন ইংলণ্ডের জাতীয় কবি, তেমনি তিনি সমগ্র জগতের কবি।

    আধুনিককালের ভারতীয় চিন্তানেতাদের কারো কারো বাণী বা শিক্ষা বা চরিতকথা ভারতের বাইরে মানুষদের মধ্যে পৌঁছেছে। কিন্তু এঁদের সকলের সব কথা কিংবা চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য যে বাইরের লোক ঠিকমতো ধরতে পেরেছে, তা মনে হয় না, আর ধরতে পারাও সম্ভব নয়। স্বামী বিবেকানন্দের মহিমা কিছু কিছু তাঁর বাইরের শিষ্যেরা তাঁর সঙ্গে এসে বা তাঁর লেখা পড়ে বুঝতে পেরেছিলেন, ভগিনী নিবেদিতার মতো দু-চারজন, তিনি যেভাবে বেদান্তকে আধুনিক জীবনে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন, তারও ধারণা করতে পেরেছেন, কিন্তু সাধারণ শিক্ষিত অ-ভারতীয়ের কাছে ভারতীয় সভ্যতারই মতো দুর্বোধ্য প্রহেলিকা হয়ে থাকতেন, যদি না রোমা রোঁলার মতো অনুভবী ও দরদী চিন্তানেতা তাঁর স্বরূপ পাশ্চাক্ত্যের সামনে সার্থকভাবে প্রকাশ করে দিতে সমর্থ হতেন। গান্ধীজীর অহিংসা আর সত্যাগ্রহ, তাঁর আদর্শ আর কার্যক্রম ইউরোপে আমেরিকায় সাধারণ লোক তো বুঝতেই পারে না, অ-সাধারণ লোকের মাথাতেও ঢোকে না, কিন্তু তিনি যে ইংরেজকে বিব্রত করেছিলেন, এটা তারা বুঝেছিল। আর ইংরেজদের প্রতি প্রীতির আধিক্য আর তার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের যোগী ফকির সন্ন্যাসীদের বিভূতি সম্বন্ধে একটা আবছা আবছা ভীতিমিশ্র বিস্ময়ের ভাব—এই দুইয়ে জনসাধারণের মনে একটা অস্পষ্ট ধারণা এনেছিল—যদিও একথা স্বীকার করতে হবে যে, সত্যকার উচ্চ মনোভাবের মনীষীদের অনেকে মহাত্মাজীর অহিংসার বাণীর আবশ্যকতা বেশ প্রণিধান করেই মেনে নিয়েছিলেন—কিন্তু রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে আলাদা কথা। তাঁকে লোকে পেয়েছিল কবি-রূপে। যাঁর লেখায় তারা তাদের মনের মধ্যে নিহিত আশা-আকাঙ্ক্ষা, সুখ-দুঃখ, নীতি-আদর্শ প্রভৃতির প্রতিধ্বনি পেয়েছিল— ‘One touch of nature maketh the whole world keen.’ এই touch of Nature রবীন্দ্রনাথকে সকল দেশের মানুষের আত্মীয় করে তুলেছে।

    রবীন্দ্রনাথ সমগ্রভাবে ভারতবর্ষের আর ভারতবাসীদের মর্যাদা বাড়িয়েছেন—কিন্তু তাঁর সমভাষাভাষী আমরা বাঙালি—আমাদের জন্য বিশেষভাবে, তিনি যা দিয়ে গিয়েছেন—তার মূল্য আমরা ঠিকমতো হয়তো বুঝি না, আর মূল্য দিতেও হয়তো আমরা পারবো না। রোদ, হাওয়া, জলের মতো, এমন অনেক জিনিস আছে, আমাদের ভাব-জগতে আর সামাজিক জীবনে যা না হলে আমাদের একদন্ড চলে না—আর যার কথা আমরা সাধারণতঃ মনে রাখি না। আমাদের এই যে বাঙলাভাষা, যেটা উপস্থিতকালে বাঙালির প্রতিষ্ঠার একটি প্রধান অবলম্বন বলে আমরা মেনে নিয়েছি, রবীন্দ্রনাথকে বাদ দিলে সেই বাঙলা ভাষায় গর্ব করার আর যা থাকে, তা কতটা বিশ্বসাহিত্যের কোঠায় পৌঁছে (আমাদের বাঙলার আর ভারতের জীবনে তার সার্থকতা যা-ই থাক না কেন), সেটা বিবেচনা করবার বিষয়। ইংরেজ সাহিত্যিক গোল্ডস্মিথ সম্বন্ধে অতি উচ্চ প্রশংসা করে ডা. জনসন যে-কথা বলেছিলেন, সে-কথা রবীন্দ্রনাথের মতো মনীষার সম্বন্ধেই প্রযোজ্য— ‘He touched nothing which he did not adorn.’ রবীন্দ্রনাথের মতো এমন সার্বভৌম সাহিত্যসম্রাট জগতের বা’য় ইতিহাসে আর কোথায় দেখা গিয়েছে? এ সম্বন্ধে মাতৃভাষার সাহিত্যের সঙ্গে স্বল্প পরিচয়ও যার আছে—এমন বাঙালিকে কিছু বলবার আবশ্যকতা নেই। সোফোক্লেস সম্বন্ধে বলা হয়েছে যে, তিনি ‘Saw life steadily and saw it whole’, রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে সে-কথা তো বলতে পারা যায়-ই, উপরন্তু তিনি কেবল জীবন-নাট্যের spectator বা দর্শক মাত্র ছিলেন না। তাঁর মধ্যে zest of life, জীবন-রস সম্বন্ধে সচেতনতা আর আগ্রহ এত ছিল যে, তিনি নিজে তাতে পুরোপুরি অংশ নিতে দ্বিধা করেন নি। এইজন্যে সাহিত্যের বাইরে অথচ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সাহিত্যের সঙ্গে সংযুক্ত সংগীত, অভিনয়সজ্জা, রূপকলা প্রভৃতি তাবৎ সুকুমার শিল্প তাঁর এলাকার অধীনেই ছিল। আবার ওদিকে রাষ্ট্রজীবনের সঙ্গেও তাঁর সংযোগ যে কত ঘনিষ্ঠ ছিল, সেকথা আধুনিক ইতিহাসের অনেক পৃষ্ঠা জুড়ে আছে। বাঙালিকে পরিপূর্ণ ভারতীয় আর পরিপূর্ণ মানুষ হতে রবীন্দ্রনাথের দান যে কতখানি, তা অল্প কথায় বুঝিয়ে বলবার নয়। ভগবানের আশীর্বাদস্বরূপ এ-যুগে রবীন্দ্রনাথের আবির্ভাব না হলে মানবিক সংস্কৃতিতে, আত্মসম্মানে, জাতীয়তার প্রতিষ্ঠায় বাঙালি কতটুকু দাঁড়িয়ে থাকতে পারতো সে-বিষয়ে আমরা প্রশ্ন করতে পারি। তিন রকম ঋণ নিয়ে মানুষ পৃথিবীতে জন্মায়, দেব-ঋণ, পিতৃ-ঋণ আর ঋষি-ঋণ। মানুষের জীবন আর জীবনের সাধনা এই তিন ঋণের পরিশোধ চেষ্টাতেই হয়ে থাকে। রবীন্দ্রনাথের লেখার সঙ্গে পরিচয় সংস্থাপন এবং দেশবাসীর মধ্যে তাঁর বাণীর প্রচার আমাদের জীবনের অন্যতম ঋষি-ঋণ পরিশোধ বলে আমরা ধরতে পারি। এইজন্যেই প্রত্যেক সহৃদয় মানসিক-সংস্কৃতিকামী বাঙালির এদিকে একটা কর্তব্য আর দায়িত্ব আছে। রবীন্দ্রনাথের বাণী ইংরিজি মারফত প্রধানত ভারতের অন্য প্রদেশে পৌঁছেছে, সম্প্রতি নাগরী অক্ষরে রবীন্দ্রনাথের মূল বাঙলা রচনা প্রকাশনের যে প্রস্তাব বিশ্বভারতী কার্যে পরিণত করবার চেষ্টা করছেন, সেটি একটি বিশেষ সময়োপযোগী কাজ হবে—এর দ্বারা রবীন্দ্রনাথের আর সঙ্গে সঙ্গে বাঙলা সাহিত্যের আদর নিখিল ভারতে আরও বাড়বে, এ সম্বন্ধে কোনো সন্দেহ নেই। এই কাজে রবীন্দ্র-ভারতীরও অংশগ্রহণ করা কর্তব্য বলে মনে করি।

    এখন বিশ্বমানব, ভারতবর্ষ আর বাঙালি সমাজের কথা ছেড়ে নিজের ব্যক্তিগত কথায় বলতে পারা যায়, আমার নিজের ব্যক্তিত্বের স্ফুরণে রবীন্দ্রনাথ যতটা স্থান নিয়ে আছেন, তার-ই পটভূমিকার সামনে ব্যাপকতর পরিধির মধ্যে তাঁর প্রভাবের কথা আমি বিচার করতে পারি। এ বিষয়ে ব্যক্তিগত কথা সব বলবার নয়, বলতে পারাও যায় না, তবে আমার জীবনে যে-সমস্ত বস্তু আমাকে আমার মানসিক আর আধ্যাত্মিক সার্থকতার পথে পরিচালিত করেছে, তার মধ্যে রবীন্দ্রনাথের সান্নিধ্য আর তাঁর ভাবধারার সঙ্গে স্বল্পাদপি স্বল্প পরিচয় একটি প্রধান। স্কুলে পড়বার সময় ১৪ বৎসর বয়সে রবীন্দ্র-রচনার সঙ্গে প্রথম পরিচয় ঘটে—চিত্রা-র আর কথা ও কাহিনী-র কতকগুলি কবিতার মাধ্যমে তাঁর লোকোত্তর প্রতিভার একটি ঝলক চোখের সামনে আসে—অনির্বচনীয় এক সৌন্দর্যময় স্বপ্নরাজ্যের দ্বার যেন আমার জন্যে উন্মুক্ত হয়ে যায়। যার পাত্র যতটুকু, সে ততটুকুই নিতে পারে—আমার মতো সাহিত্যিক-রসবোধ-বর্জিত নীরস ভাষাতত্ত্বের আলোচকের মত যতটা আপ্লুত হবার তা হয়েছে, জীবনে এক নতুন অমৃতরসের আস্বাদ রবীন্দ্র-রচনা আমার কাছে এনে দিয়েছে। ভাষাতত্ত্বের আলোচক হিসাবে আমার পক্ষে একটা বিশেষ আত্মপ্রসাদের কথা এই যে, রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিত্বের একটা দিক আমাদেরই পর্যায়ে পড়ে—ব্যাকরণিয়া রবীন্দ্রনাথকে আমাদের আলোচ্য বিদ্যার একজন পথিকৃৎ বলে আমরা মেনে নিতে পারি। রবীন্দ্রনাথের সাহচর্য, সেটা জীবনে এক অপূর্ব সৌভাগ্যরূপে আমি পেয়েছি। তাঁর সঙ্গে কথা কওয়াটাই ছিল এক শ্রেষ্ঠ মানসিক রসায়ন। তাঁর স্নেহ পেয়েও ধন্য হয়েছি। তাঁর স্নেহ আমার মতো অনেকেই পেয়েছেন, কিন্তু মহাপুরুষদের সঙ্গে যাঁদের সংযোগ বা সাহচর্য ঘটে, তাঁদের প্রত্যেকেরই বৈশিষ্ট্যের আধারের মধ্যে এই সংযোগের সূত্র মিলবে। তানসেন তাঁর এক ধ্রুপদের বাণীতে তাঁর আরাধ্য দেবতার সম্বন্ধে বলেছেন যে, তুমি বহুবল্লভ কিন্তু তানসেনের কাছে তুমি একবল্লভ। রবীন্দ্রনাথের বহুমুখী ব্যক্তিত্বের মধ্যে আমি এমন একটা দিক পেয়েছি, যেখানে কেবল তিনি আছেন আর আমি আছি—আর কারো স্থান সেখানে নেই। একথা আমার মতো আরও অনেকে নিশ্চয়ই বলতে পারবেন। মহাপুরুষের সর্বন্ধরত্বের এই একটা প্রমাণ। ব্যক্তিগত কথা এসে পড়লে মূক হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। আর এই কথা বলেই আমি আমার বক্তব্যের উপসংহার করছি— ‘The highest tribute is tribute of Silence.’

    সাপ্তাহিক দেশ, বঙ্গাব্দ ১৩৫৬

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleগল্পে বারভূঁইয়া – সতীশ চন্দ্র গুহ
    Next Article আমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    আমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    গল্পে বারভূঁইয়া – সতীশ চন্দ্র গুহ

    January 17, 2026
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    সাদা আমি কালো আমি (১ম খণ্ড) – রুণু গুহ নিয়োগী

    January 17, 2026
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    বিদ্যাসাগর-জীবনচরিত – শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন

    January 17, 2026
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    পাকদণ্ডী – লীলা মজুমদার

    January 17, 2026
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    কৃষ্ণসাধিকা মীরাবাঈ – পৃথ্বীরাজ সেন

    January 17, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026
    Our Picks

    আমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026

    বিশ্বমনা : রবীন্দ্রনাথ – সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026

    গল্পে বারভূঁইয়া – সতীশ চন্দ্র গুহ

    January 17, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }