Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ১০০ মনীষীর জীবনী – মাইকেল এইচ. হার্ট

    মাইকেল এইচ. হার্ট এক পাতা গল্প981 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৮৫. রম্যাঁ রোলাঁ (১৮৬৬-১৯৪৪)

    ফ্রান্সের বার্গাভী প্রদেশের একটি ছোট শহর ক্লামেসি। ১৮৬৬ সালের ২৯শে জানুয়ারি এই শহরেই জন্ম হয়েছিল সমান ফরাসী সাহিত্যিক মানবতার পূজারী রম্যাঁ রোলাঁর। জনা থেকেই ছিলেন রুগ্ন অসুস্থ। জীবনের কোন আশা ছিল না। কিন্তু মায়ের স্নেহ ভালবাসা যত্নে মৃত্যুকে জয় করলেন রোলাঁ। কিন্তু মা রক্ষা করতে পারলেন না তার কোলের মেয়েটিকে। দু বছর বয়েসে মারা গেল একমাত্র কন্যা। রোলাঁর বয়স তখন পাঁচ। প্রথম মৃত্যুর স্বাদ অনুভব করলেন।

    নিজের জীবনস্মৃতিতে লিখেছেন, “আমার শৈশব যেন মৃত্যুর ছায়াঘেরা এক বন্দীশালা।” এই বন্দীশালার জগৎ থেকে যিনি রোলাঁকে মুক্তির জগতে নিয়ে এলেন তিনি রোলাঁর মা। রোলাঁর জীবনে মা বাবা দুজনেরই ছিল গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব। তবে মায়ের প্রভাব ছিল অনেক বেশি। মা ছিলেন ধর্মপরায়ণ, সৎ পরিশ্রমী আর ছিল সঙ্গীতের প্রতি গভীর অনুরাগ। বাবা ছিলেন স্বাধীনচেতা আদর্শবাদী, ধর্ম সম্বন্ধে কোন মোহ ছিল না তার। পিতা-মাতার এই পরস্পর বিরোধী মনোভাবের কারণেই সুদীর্ঘকাল রোলাঁকে গভীর অন্তর্দ্বন্দ্বের মধ্যে অতিবাহিত করতে হয়েছে।

    রোলাঁ ছিলেন রুগ্নদেহ। ঘরের বাইরে বড় একটা যেতেন না। চার-দেওয়ালের নিঃসঙ্গতারকে ভোলবার জন্য মা তাঁকে সঙ্গীতের জগত নিয়ে গেলেন। রোলাঁর মা পিয়ানোতে ছিলেন দক্ষ শিল্পী। মায়ের পিয়ানো শুনতে শুনতে সঙ্গীতের মধ্যে তার এক সহজাত দক্ষতা ছিল। অল্পদিনের মধ্যেই মোৎসার্ট বিঠোফেনের সঙ্গীতের মধ্যে তিনি আত্মস্থ হলেন। এই প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, “তাদের তাছে আমি ঈ। যখনই আমার মন সংশয় আর ব্যর্থতার ভারে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে, বিঠোফোনের সঙ্গীত আমার অন্তরে নবজীবনের দীপশিখা জ্বালিয়ে দিয়েছে।…শুষ্ক জমিতে বৃষ্টিধারার মত জার্মান সঙ্গীত আমার হৃদয়ের শুষ্কতার বুকে বারিধারা এনে দিয়েছে…মোৎসার্ট বিঠোফেন আমার জীবনের সাথে একাত্ম হয়ে আছে। যখন শিশু ছিলাম, প্রতিমুহূর্তে মনে হত মৃত্যু এসে আমাকে ঘিরে ফেলেছে। মোৎসার্টের একটি সুর আমাকে যেন পাহারা দিত।”

    রোলাঁ শৈশবে পা দিলেন। ক্লামেসি শহরে ভাল কোন স্কুল ছিল না। প্রথমে বাবা ঠিক করলেন রোলাঁকে প্যারিসে পাঠাবেন, কিন্তু একমাত্র সন্তানকে ছেড়ে থাকতে চাইল না।

    রোলাঁর বাবা ছিলেন শহরের নামকরা নোটারী। আর্থিক উর্পাজন ভালই হত। কিন্তু ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নোটারীর কাজে ইস্তফা দিয়ে প্যারিসে একটা ব্যাঙ্কে সাধারণ চাকরি নিয়ে বাস করলেন।

    রোলাঁ ভর্তি হলেন প্যারিসের সবচেয়ে নামকরা স্কুল লিসেতে। কিন্তু স্কুলের নিয়মবাধা জীবন ভাল লাগত না তাঁর। মাঝে মাঝে প্রাণ হাঁপিয়ে উঠত। এই স্কুলেই। পরিচয় হল পল ক্লডেলের সাথে। উত্তরকালে দুজনেই হয়ে উঠেছিলেন ইউরোপের চিন্তাজগতে খ্যাতিমান পুরুষ।

    আরও দেখুন
    PDF
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    বাংলা বই
    অনলাইন বুক
    বাংলা গল্প
    বাংলা ই-বুক রিডার

    রোলাঁ ছাত্র অবস্থাতেই আকৃষ্ট হলেন সঙ্গীতশিল্পী ভাগনারের প্রতি। তাঁর মনে হয়েছিল তিনিও ভাগনারের মত শিল্পী হবেন। কিন্তু মা-বাবা চাইলেন ছেলে যেন নিজের পায়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে। তার জন্যে এমন কিছু শিক্ষার প্রয়োজন যা অর্থ উপার্জনে সাহায্য করবে।

    লিসের স্কুলের পাঠ করে রোলাঁ ভর্তি হলেন নর্মাল স্কুলে। এই স্কুল ছিল ফ্রান্সের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্কুল। এখানে নিয়ম-শৃঙ্খলা পড়াশুনার মনোযোগের প্রতি জোর দেওয়া হত। এখানে সাহিত্য দর্শন ইতিহাসের মধ্যে প্রথম রোলাঁ খুঁজে পেলেন কয়েকজন অন্তরঙ্গ বন্ধু এবং আদর্শ শিক্ষক। এই শিক্ষকদের কাছ থেকে রোলাঁ পেয়েছিলেন এক উদার সংস্কারমুক্ত মানসিকতা। তার বন্ধুদের মধ্যে কয়েকজন পরবর্তীকালে হয়েছিলেন ফ্রান্সের মুক্তিদের মুক্তিপথের দিশারী।

    নর্মাল স্কুলে পড়বার সময় রোল ছিলেন গভীর মনোযোগী ছাত্র। ক্লাসের পাঠ্য পুস্তকের বাইরে পড়তেন তলস্তয়, শেকস্পীয়র, হোমার, শুনতে জাগনারের সঙ্গীত। সঙ্গীত আর সাহিত্য ধীরে ধীরে তার মধ্যে সৃষ্টি করছিল এক নতুন জগৎ। সঙ্গীতের সাথে সাহিত্যের প্রতিও ছিল তার আজন্ম আকর্ষণ। যখনই সময় পেতেন কবিতা লিখতেন। সাহিত্য, সঙ্গীতের উপর প্রবন্ধ লিখতেন।

    আরও দেখুন
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা ই-বই
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    অনলাইন বুক
    বাংলা ভাষা
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    বাংলা অডিওবুক
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বুক শেল্ফ

    এই সময় রোলাঁর মানস জগতে ঘটল এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। রোলাঁর আদর্শ ছিলেন মহান রুশ লেখক তলস্তয়। তাঁর রচনা সমস্ত তরুণদের উদ্দীপিত করত। প্রতিটি লেখা রোলাঁ মুগ্ধ বিস্ময়ে পড়তেন। হঠাৎ প্রকাশিত হল তলস্তয়ের একটি প্রবন্ধ ‘কি করতে হবে? (What is to be done)। এতে তলস্তয় সমস্ত শিল্প সাহিত্যকে তীব্রভাষায় আক্রমণ করলেন, বললেন, বিঠোফেনের সঙ্গীত ইন্দ্রিয়ের কামনা সৃষ্টি করে। শেকস্পীয়র একজন নিকৃষ্ট কবি, অকেজো ব্যক্তি। সঙ্গীত এক চূড়ান্ত বিলাসিতা যা মানুষকে তার কর্তব্যকর্ম থেকে বিচ্যুত করে।

    তলস্তয়ের এ মন্তব্যে বিচলিত হয়ে পড়লেন রোলাঁ। তার চিন্তামানসলোকে এতখানি ঝড় তুলল শেষ পর্যন্ত তিনি তলস্তয়কে একটি চিঠি লিখলেন। উত্তর পাবেন এমন আশা ছিল না। কিন্তু কয়েক মাস পর অপ্রত্যাশিতভাবে চিঠি এল। ১৪ অক্টোবর ১৮৮৭…প্রিয় ভ্রাতা, তোমার চিঠি পেলাম…প্রকৃত শিল্পীর প্রেরণা শিল্পের প্রতি ভালবাসা থেকে জন্মায় না, জন্মায় মানবজাতির প্রতি ভালবাসা থেকে। একজন প্রকৃত মানবপ্রেমিকই পারে মহৎ সৃষ্টি করতে।

    এই চিঠি রোলাঁর ভবিষ্যৎ জীবনে এক নতুন আলো দিয়েছিলেন–তিনি সমস্ত জীবন এই আদর্শকেই শিল্পীর ধর্ম বলে মনে করেছেন। তাই পৃথিবীর যে দেশে মানবতা নিষ্পেষিত হয়েছে…মানুষ বিপন্ন হয়েছে, তিনি নির্ভীক চিত্তে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।

    আরও দেখুন
    বাংলা ই-বই
    বাংলা উপন্যাস
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
    ই-বই ডাউনলোড
    নতুন উপন্যাস
    Books
    বাংলা ভাষা
    অনলাইন বুক
    গ্রন্থাগার সেবা
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার

    নর্মাল স্কুলের জীবন শেষ হল। প্রতি বছর এই স্কুলের কয়েকজন ছাত্রকে গবেষণার জন্য বৃত্তি দেওয়া হত। রোলাঁ সেই বৃত্তি পেলেন। তাঁকে প্রাচীন ইতিহাসের গবেষণার জন্য যেতে হল রোমে। পুঁথি-পত্র ঘেঁষে গবেষণায় বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিল না রোলাঁর। তিনি ইতালির বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে উপভোগ করতেন সেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। দেখলেন ইতালির বিখ্যাত শিল্পকলা। ধীরে ধীরে তার মানসলোক এক পরিপূর্ণতার পথে এগিয়ে চলে। রোমে শেকস্পীয়রের নাটকের অভিনয় দেখে তার মনের মধ্যে নাটক লেখবার অনুপ্রেরণা জেগে ওঠে। বেশ কয়েকটি নাটক লেখেন। এগুলোর সাহিত্যিক মূল্য ছিল নিতান্তই কম। তাই পরবর্তীকালে নিজেই এই নাটকগুলোকে বর্জন করেন রোলাঁ।

    ইতালিতে থাকার সময় রোলাঁর সাথে পরিচয় হয় মালভিদাভন মাইসেনবুর্গের সাথে। বিপ্লবে অংশগ্রহণ করার জন্য এই মহিলাকে জার্মানী থেকে বহিষ্কার করা হয়। তাকে সে যুগের সব বিখ্যাত মানুষেরাই শ্রদ্ধা করতেন। এই বৃদ্ধার সাথে পরিচয় রোলাঁর দৃষ্টিভঙ্গিকে আরো ব্যাপ্ত করে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। বৃদ্ধা মালভিদা প্রথম উপলব্ধি করেছিলেন রোলাঁর মধ্যেকার প্রতিভা। তিনি লিখেছেন,”আমি এই তরুণের মধ্যে এমন এক উচ্চ আদৰ্শ ও মেধা দেখেছি, যার প্রকাশ দেখেছি শুধুমাত্র শ্রেষ্ঠ চিন্তানায়কদের মধ্যে।”

    আরও দেখুন
    বই
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    সাহিত্য পর্যালোচনা
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    অনলাইন বই
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বিনামূল্যে বই
    বই পড়ুন
    ই-বই ডাউনলোড

    দু বছর ইতালিতে কাটিয়ে তিনি ফিরে এলেন প্যারিসে। নর্মাল স্কুলে সঙ্গীত শিক্ষকের চাকরি পেলেন। এখানে কিছুদিন শিক্ষকতা করবার পর ১৯০৩ সালে তিনি সরবন বিশ্ববিদ্যালয়ে সঙ্গীত ও ইতিহাসের অধ্যাপকের পদ পেলেন।

    শিক্ষকতার সাথে সাথে সঙ্গীতের উপর বেশ কয়েকটি বই লিখলেন–Oid musi cians, Haended, History of opera, Musicians of today. এই বইগুলো মূলত ছাত্রদের জন্য লিখলেও তিনি এরই মধ্যে দিয়ে প্রকাশ করলেন সঙ্গীদের মর্মবাণী। তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন, সঙ্গীতের মধ্যে দিয়ে মানুষ দেশকাল সমস্ত সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠতে পারে। নিজেকে উত্তরণ ঘটাতে পারে এক মহামানবের স্তরে।

    অধ্যাপনার সাথে সাথে রোল অনুভব করতে চেষ্টা করতেন ফরাসী সমাজ সংস্কৃতি সাহিত্য শিল্পের মূল স্রোতধারা। কিন্তু যেদিকেই তাকাতেন, দেখতেন, সমস্ত সমাজ জুড়ে শুধু নিরাশা, হতাশা আর অবক্ষয়। ফরাসী সাহিত্যের সব দিকপাল স্রষ্টারাই চলে গিয়েছেন। যারা আছে তারা চটুল সাহিত্যের নেশায় ডুবে গিয়েছে। সমাজের সর্বত্র দুর্নীতি আর অনাচার। ফরাসী বিপ্লবের মহান আদর্শ বিলীন হয়ে গিয়েছে। সমাজের বুকে যে সব শিল্পী সাহিত্যিক দার্শনিক রয়েছেন, তাঁরা নিজেদের ভাসিয়ে দিয়েছেন হতাশার অন্ধকারে।

    আরও দেখুন
    Books
    বাংলা লাইব্রেরী
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    উপন্যাস সংগ্রহ
    Library
    বাংলা ই-বুক রিডার
    সেবা প্রকাশনীর বই
    বাংলা বই
    সাহিত্য পর্যালোচনা
    অনলাইন বুক

    এরই মধ্যে আবির্ভাব হল কয়েকজন তরুণের যারা এই অন্ধকারের বুকে জ্বালাতে চান নতুন আলো।

    তাদের প্রধান হলেন রোলাঁ, তাঁর সঙ্গী হলেন পেগী স্যুয়ারে। এরা সকলেই মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান, কারোরই আর্থিক অবস্থা ভাল ছিল না। তবুও সকলের মিলিত চেষ্টায় প্রকাশিত হল একটি পত্রিকা Cabiers de la guinzaine-রোলাঁ তার সম্পাদক। এই পত্রিকায় কোন বিজ্ঞাপন দেওয়া হত না, বাজারে ফেরি করা হত না। আগ্রহশীল কিছু পাঠকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বিতরণ। এই পত্রিকাতেই প্রকাশিত হয়েছিল রোলাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কয়েকটি রচনা–জা ক্রিস্তফ, বিঠোফেন, মিকেলেঞ্জলো–এই পত্রিকায় লেখার জন্য কখনো একটি পয়সাও নেননি। দীর্ঘ পনেরো বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই পত্রিকাটিকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন।

    রোলাঁ ছেলেবেলায় সঙ্গীতের সাথে ভালবেসেছিলেন শেকস্পীয়রকে। পরিণত বয়েসে এসে অনুভব করতে পারছিলেন নাটকের গুরুত্ব। সমাজকে নাটক কিভাবে প্রভাবিত করতে পারে তারই ভাবনায় ১৮৯৫ থেকে ১৯০০ এই পাঁচ বছরে তিনি লিখলেন তিনটি নাটক– Saint Louis, Aert, Triomphe de la Raison। এই নাটকগুলোর বিষয়বস্তু ছিল সমাজ, জাতি ও মানুষদের উপর বিশ্বাস। এর উৎস ছিল ফরাসী বিপ্লব। এর পরে আরো কয়েকটি নাটক লিখলেন। এই নাকটগুলোর নাম ট্রাজেডিস অব ফেথ (Tragedies of Faith)।

    আরও দেখুন
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা কবিতা
    বাংলা গল্প
    অনলাইন বই
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    বাংলা অডিওবুক
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    অনলাইন বুক
    বাংলা ই-বই

    কিন্তু ক্রমশই তিনি অনুভব করতে পারছিলেন তাঁর নাটকে যেন জনগণের প্রাণের স্পর্শ নেই। এ নাটক যেন শুধুমাত্র সমাজের মুষ্টিমেয় মানুষের জন্যে লেখা হয়েছে। তিনি স্থির করলেন এবার নাটক লিখবেন সাধারণ মানুষের জন্য, জনগণের জন্য। এক নতুন আদর্শের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে শুরু করলেন তাঁর নাটক লেখা। তিনি এই পর্যায়ের নাটকের নাম দিলেন গণনাট্য (People’s Theatre)। লিখলেন, Les Loups (১৮৯৮), Lc0uatarze Jullet.এই পর্যায়ে তার শ্রেষ্ঠ নাটক ১৪ই জুলাই। এই নাটকে নায়ক ডাক দিয়েছে বাস্তিল দুর্গ ভেঙে ফেলবার। এ যেন ফরাসী বিপ্লবের ডাক নয়, এ যেন তৎকালীন সমাজের সমস্ত অবক্ষয়কে ভেঙে ফেলবার ডাক।

    কিন্তু ফরাসী সমাজ তখন আফিমের নেশার মত এক আত্মতৃপ্তিতে ডুবে আছে। রোলাঁর উদাত্ত আহ্বান কারো কানে পৌঁছাল না। কোন নাটকই মঞ্চে সফল হল না। অল্প কয়েকদিন চলবার পরেই তা বন্ধ হয়ে গেল। এরই সাথে সমালোচকদের তীব্র সমালোচনা…রোলাঁর সমস্ত পরিশ্রম যেন ব্যর্থ হয় গেল। আসলে রোলাঁর নাটক এক একটি ভাব আদর্শের প্রতীক। সমাজের সাধারণ মানুষের ছোট ছোট সুখ-দুঃখ তাতে স্থান পায়নি। তার দৃষ্টি ছিল আকাশের দিকে। মাটি সেখান থেকে অনেক দূর। তাই তার নাটক মাটির মানুষেরা গ্রহণ করতে পারেনি।

    আরও দেখুন
    বাংলা লাইব্রেরী
    বুক শেল্ফ
    বাংলা ই-বুক রিডার
    সাহিত্য পর্যালোচনা
    বাংলা ই-বই
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বইয়ের
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    বাংলা অডিওবুক

    এই পরাজয়ে সাময়িক ভেঙে পড়লেও হতাশার অন্ধকারে হারিয়ে যাবার মানুষ ছিলেন না রোলাঁ। অল্পদিনের মধ্যেই নতুন উদ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। আসলে নিজের আদর্শের প্রতি রোলাঁর ছিল গভীর বিশ্বাস। কোন কারণেই সেই আদর্শ থেকে কখনো বঞ্চিত হননি।

    এই সময় তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে নেমে এল অশান্তির কালো মেঘ। বিবাহ করেছিলেন কিন্তু বিবাহ সুখের হয়নি। ১৯০৩ সালে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে গেল। ক্রমশই সমাজ থেকে যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছিলেন রোলাঁ। আসলে মনের মধ্যে তখন ধীরে ধীরে জেগে উঠছিল নতুন সৃষ্টির প্রেরণা। কিন্তু সমস্যা হল কি লিখবেন! হঠাৎ মনে হল তিনি লিখবেন সেই সব মানুষদের কথা যারা সমস্ত প্রতিকূলতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েও বিশ্বাস হারাননি। যার ছিলেন অটল ধৈর্য আর সংগ্রামের মূর্ত প্রতীক। শুরু করলেন বিঠোফেন। এর ভূমিকায় লিখেছেন চারদিকের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। কর্ম আর নোংরা আবহাওয়ার মাঝে দম বন্ধ হয়ে আসছে। সব জানলা খুলে দাও! স্বর্গীয় বাতাস এসে ভরে যাক ঘর-দুয়ার। মহান মানুষদের স্বর্গীয় বাতাসের স্পর্শে আমাদের বুক ভরে উঠুক।

    রোলাঁ তাঁর এই জীবনী রচনায় এক নতুন আঙ্গিকের জন্ম দিলেন। শুধু সাল তারিখ আর তথ্যের ভারে ভারাক্রান্ত নয়। লেখকের ভাব ভাবনা অনুভূতিই এখানে মূর্ত হয়ে উঠেছে। তার কাছে বিঠোফেন শুধু একজন মহান সঙ্গীতকার নন, তার চেয়েও অনেক বড়। যিনি সমস্ত জীবন দুঃখের মধ্যে, যন্ত্রণার মধ্যে অতিবাহিত করেও সব দুঃখ-যন্ত্রণার ঊর্ধ্বে উঠে গিয়েছিলেন। বিঠোফেন প্রকাশিত হয় ১৯০৩ সালে।

    আরও দেখুন
    বাংলা কবিতা
    বুক শেল্ফ
    বাংলা ভাষা
    বই পড়ুন
    বাংলা উপন্যাস
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
    বই
    বাংলা ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ
    বিনামূল্যে বই
    বাংলা ইসলামিক বই

    এরপর রচনা করলেন মিকেলেঞ্জলো (১৯০৬)। সেই সময়ের যুগকে ছবির মত করেই ফুটিয়ে তুলেছেন রোলাঁ। মিকেলেঞ্জলোর সৃষ্টি তার কাছে এক অতিমানবীয় শক্তির প্রকাশ। কিন্তু তার মধ্যে কোন সংগ্রামী চরিত্র খুঁজে পাননি রোলাঁ। তিনি শুধুই একজন মহৎ শিল্পী। তাই তাঁর বিঠোফেনের তুলনায় মিকেলেঞ্জলোর উত্তৰ্ষতা অনেক কম।

    এর কয়েক বছর পর রোলাঁ আর একটি জীবনী গ্রন্থ রচনা করেন–তলস্তয় (১৯১১)। এই সময়ে রোলাঁর মধ্যে অনেক পরিণতি এসে গিয়েছে। তাই তাঁর তলস্তয় অনেক পরিণত। যদিও তলস্তয়কে তিনি আদর্শ বলে গ্রহণ করেননি।

    এই সব জীবনী গ্রন্থ রচনার আগে থেকেই তাঁর মন অন্বেষণ করছিল এক আদর্শ মানুষের, যে চিরসগ্রামী দুঃখের ভারে ভেঙে পড়ে কিন্তু নত হয় না। তাঁর মনের ভাবনা আদর্শের প্রকাশ ঘটল তার জগৎবিখ্যাত উপন্যাস জা ক্রিসফ-এ।

    এই বইখানি লিখতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল রোলাঁর দশ বছর ধরে তিনি রচনা করেছেন তাঁর মহাকাব্যিক উপন্যাস। প্রথম খণ্ড পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯০২ সালে এবং শেষ খও বার হয় ১৯১২ সালে। এই সুদীর্ঘকাল ধরে প্রকাশিত হলেও তার প্রতি জনগণের দৃষ্টি পড়েনি। এই বইয়ের মধ্যে ইউরোপের সমস্ত শ্রেষ্ঠ সঙ্গীতশিল্পীদের আত্মা যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে।

    আরও দেখুন
    বুক শেল্ফ
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    বইয়ের
    বিনামূল্যে বই
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা ভাষা

    জা ক্রিসফ সঙ্গীতশিল্পী পরিবারের সন্তান। তাদের কুটিরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা নদীর কলতান…পিয়ানোর সুর তাকে মুগ্ধ করে। সঙ্গীত যেন মেশায় রক্তের মধ্যে, সঙ্গীতচর্চার মধ্যেই ধীরে ধীরে। বড় হয়ে জাঁ ক্রিসফ কুড়ি বছর বয়সে বিপ্লবে অংশগ্রহণ করল। কিন্তু বিপ্লব ব্যর্থ হল। ক্রিসফ এল ফ্রান্সে। এখানে বন্ধুত্ব গড়ে উঠল লেখক অলিভিয়ের সাথে। ক্রিসফ চায় শিল্পের মধ্যে বেঁচে থাকতে। অলিভিয়ের মনে হয় শিল্প জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়া মানুষের আশ্রয়স্থল। এক অন্তর্দ্বন্দ্ব জেগে ওঠে ক্রিসতফের মনে। এই অন্তর্দ্বন্দ্ব রোলাঁর মনোজগতেরই প্রতিচ্ছবি।

    ক্রিসতফ সরল উদাসীন, সঙ্গীতই তার কাছে একমাত্র অস্তিত্ব। সব কিছুর মধ্যেই সে যেন সঙ্গীতকে খুঁজে বেড়ায়। আশাহত হয় কিন্তু বিশ্বাস হারার না।

    বৃদ্ধ হয়ে পড়ে ক্রিসফ। অসুস্থ দেহ। সব শক্তি হারিয়ে ফেলে। তবু তার মনে হয় একদিন সে আবার ফিরে আসবে নতুন সংগ্রামের জন্য। জা ক্রিসতফের মধ্যে রোলাঁর আত্মাই যেন মূর্ত হয়ে উঠেছে।

    ১৯১২ সাল অবধি রোল ছিলেন প্রায় অজ্ঞাত। নাটক জীবনী প্রবন্ধ কোন কিছুই তাকে খ্যাতি পারেনি। কিন্তু জা ক্রিসফ প্রকাশিত হতে না হতেই তাঁর খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। মানুষ মুগ্ধ বিস্ময়ে ক্রিসতফের মধ্যে আবিষ্কার করল তাদেরই জীবনের সুখ-দুঃখ আশা-আকাঙ্ক্ষা।

    আরও দেখুন
    উপন্যাস সংগ্রহ
    অনলাইন গ্রন্থাগার
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    নতুন উপন্যাস
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    বই
    বিনামূল্যে বই
    বাংলা ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ

    ইউরোপের বুকে তখন নেমে এসেছে যুদ্ধের ঘনঘটা। ১৯১৪…শুরু হল বিশ্বযুদ্ধ। প্রকৃতপক্ষে এই সময় ব্যক্তি রোলাঁর পরিচয় মুছে গেল। তিনি হয়ে উঠলেন সমগ্র ইউরোপ তথা মানবজাতির বিবেকের প্রতিরূপ।

    সমস্ত ইউরোপ জুড়ে যখন শুরু হয়েছে হানাহানি, হত্যা আর রক্তস্রোতে ভেসে যাচ্ছে সমস্ত আদর্শ, রোলাঁ তখন সুইজারল্যান্ডে। তখন তিনি আর কোন দেশের নন, সব দেশের সব মানুষের। রোলাঁ যোগ দিলেন আন্তজার্তিক রেডক্রসে। সৈনিকদের বাড়ি থেকে অসংখ্য চিঠি আসত সৈনিকদের সংবাদের জন্য। তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে সংগ্রহ করতেন সৈনিকদের সংবাদ। প্রতিদিন সাত-আট ঘণ্টা ধরে চিঠি লিখতেন।

    রোলাঁর মনে হল এই মুহূর্তে শুধু সেবা নয়, সকলের আগে প্রয়োজন যুদ্ধের বিরুদ্ধে সরব হাওয়া। ১৯১৪ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি প্রকাশ করলেন “যুদ্ধের ঊর্ধ্বে। এই বই মুহূর্তে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল। এমনকি সৈনিকরাও এই বই পড়তে আরম্ভ করল। সাথে সাথে প্রথমে ফরাসী সরকার তারপর জার্মান সরকার এই বই নিষিদ্ধ করলেন। কিন্তু রোলাঁর কলম বন্ধ হল না। অবিশ্রান্তভাবে তিনি লিখে চললেন যুদ্ধের বিরুদ্ধে।

    আরও দেখুন
    বইয়ের
    নতুন উপন্যাস
    PDF
    সেবা প্রকাশনীর বই
    বইয়ের
    বাংলা কবিতা
    বুক শেল্ফ
    বাংলা ই-বুক রিডার
    পিডিএফ
    বাংলা সাহিত্য

    ফ্রান্সের যুদ্ধবাজ মানুষেরা রোলাঁর এই মনোভাবের বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠল। নিষিদ্ধ করা হল তার সমস্ত রচনা, তাকে বলা হল বিশ্বাসঘাতক, দেশের শত্রু জার্মানীর গুপ্তচর। তাঁর সহকর্মীরা তাঁর সঙ্গ পরিত্যাগ করল। রোলাঁ জানতেন সত্যের সপক্ষে লড়াই করতে গেলে তাকে আরো নির্যাতন সইতে হবে। তিনি এবার দেশে-বিদেশের মনীষীদের কাছে আবেদন জানালেন যুদ্ধের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার জন্যে। কিন্তু একমাত্র আইনস্টাইন ছাড়া কেউ তার ডাকে সাড়া দিল না। এই সময়কার দিনলিপিতে রোলাঁ লিখেছেন, “আমার নিঃশ্বাস ফুরিয়ে আসছে। আমি যদি মরে যেতাম তাহলে ভাল হত। মানুষ যখন উন্মত্ত হয়ে উঠেছে। তখন বাঁচার প্রয়োজন কি?”

    আবার তারই নিজের আদর্শবাদে চিরবিশ্বাসী রোল লিখেছেন–”এক বছর ধরে আমি অনেক শত্রু সৃষ্টি করেছি। তারা আমাকে ঘৃণা করতে পারে কিন্তু কেউ আমার মনের মধ্যে অন্যের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করতে পারবে না। আমার কাজ যা কিছু শুভ মানবিক, তারই প্রচার করা। তা অন্যের ভাল লাগুক বা না লাগুক তাতে আমার কোন প্রয়োজন নেই।”

    এমনকি রোলাঁ জার্মান লেখক বুদ্ধিজীবীদেরও চিঠি লিখেছিলেন কিন্তু কেউ তাঁর সপক্ষে দাঁড়ায়নি। শুধু সৃষ্টি হল অসংখ্য শত্রু।

    এরই মধ্যে ১৯১৫ সালে রোলাঁকে দেওয়া হল নোবেল পুরস্কার। রেডক্রসের কাজ করবার সময় অনুভব করেছিলেন তাদের অর্থের প্রয়োজন। নিজের প্রয়োজনের জন্য একটি কপর্দকও নেননি রোলাঁ। সমস্ত অর্থই তুলে দিলেন রেডক্রসের হাতে।

    অবশেষে যুদ্ধ শেষ হল। বিজয়ীরা উল্লাসে ফেটে পড়ল। তাদের মত্ততা অহঙ্কার গর্বকে ভাল চোখে দেখেনি রোলাঁ। তাঁর মনে হয়েছিল এ ভবিষ্যৎ আরেক যুদ্ধের ইঙ্গিত।

    যুদ্ধের শেষে রোলাঁ রচনা করলেন Declaration of Indipendence of the Mind (মানবাত্মার স্বাধীনতার ঘোষণা)। এতে ইউরোপের বহু মনীষী স্বাক্ষর করেছিলেন। ভারতবর্ষের রবীন্দ্রনাথকে চিঠি লিখলেন রোলাঁ যদিও তখনো তাঁদের মধ্যে পরিচয় হয়নি।

    ভারতবর্ষ থেকে স্বাক্ষর করলেন রবীন্দ্রনাথ ও আনন্দকুমার স্বামী।

    যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে মনে মনে আতঙ্কিত হয়ে উঠেছিলেন রোলাঁ। তার মনে হয় এর থেকে মুক্তির পথ কোথায়? গভীরভাবে আকৃষ্ট হলেন প্রাচ্যের মহান আদর্শে।

    যুদ্ধের শেষ দিকে তিনি যখন চারদিক থেকে ঘৃণিত নিন্দিত তখনই প্রথম ভারতীয় দর্শনের প্রতি আকৃষ্ট হন। অজস্র বই পড়েন ভারতীয় দর্শন ধর্ম সংস্কৃতি সম্বন্ধে। যুদ্ধের পরবর্তীকালে রোলাঁর সাথে সাক্ষাৎ হল রবীন্দ্রনাথের। রবীন্দ্রনাথের মধ্যেই তিনি আবিষ্কার করলেন ভারত-আত্মার মূর্ত বাণীকে। দুজনের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে উঠল। যা আমৃত্যু বজায় ছিল।

    তবে যিনি ভারতবর্ষের এক পূর্ণাঙ্গ ছবি রোলাঁর কাছে তুলে ধরেছিলেন তিনি দিলীপকুমার রায়। দিলীপ রায়ের কাছেই রোলাঁ প্রথম গান্ধীর কথা শোনেন। তারপর লিখলেন গান্ধীর জীবনী। তিনি লিখলেন, “আমি অনুভব করছিলাম ইউরোপের বুকে ঝড়ের পূর্বাভাস। নিজের জন্য আমি চিন্তিত নই। জীবনের প্রান্তসীমায় এসে আশ্রয় খুঁজেছি আমার প্রিয়জনদের জন্যে, ইউরোপের মানুষের জন্যে। এই সময় দেখতে পেলাম ভারতের বুকে জীর্ণ শীর্ণ দেহ একটি মানুষ আত্মিক বলের ঝড় তুলেছেন…যে আদর্শ সেই সময় আমার মনে বিপুল প্রভাব বিস্তার করেছিল তা গান্ধীর।” ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হল গান্ধীচরিত।

    রোলাঁ গান্ধীর প্রতি এতখানি আকৃষ্ট হয়েছিলেন তার কারণ গান্ধী যা চেয়েছিলেন তাই তিনি করতে পেরেছিলেন। তাই রোলাঁ বলেছেন তলস্তয় যেখানে ব্যর্থ গান্ধী সেখানে সফল।

    এর পরবর্তীকালে তিনি আকৃষ্ট হলেন শ্রীরামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের প্রতি। ১৯২৮ সালে প্রকাশিত হল তাঁর শ্রীরামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দের জীবনী। রামকৃষ্ণের মধ্যে তিনি দেখেছিলেন অধ্যাত্ম সাধনা আর মানব প্রেমের এক সম্মিলিত রূপ। বিবেকানন্দের মধ্যে পেয়েছিলেন তার কর্মের বাণী।

    একদিন যখন রোলাঁ প্রাচ্যের ধ্যানে মগ্ন, অন্যদিকে তখন তিনি সৃষ্টি করে চলেছেন যুদ্ধরোত্তর ইউরোপের এক জীবন্ত চিত্র ‘বিমুগ্ধ আত্মা’ উপন্যাসে। এর প্রথম দুই খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালে, তৃতীয় খণ্ড ১৯২৬, চতুর্থ ১৯৩৩।

    ‘বিমুগ্ধ আত্মা’ রোলাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা জা ক্রিসতফে রোলাঁ পূর্ণতা পাননি কিন্তু বিমুগ্ধ আত্মাতে এসে পেলেন পূর্ণতা। এই উপন্যাস জঁ ক্রিসতফের চেয়ে অনেক পরিণত।

    এই কাহিনীর নায়িকা আনেৎ। সে এক শিল্পীর কন্যা। সুন্দরী, ধনী পরিবারে তার বিয়ে স্থির হল। কিন্তু বিয়ের ঠিক পূর্বে তার প্রেমিক বিয়ের মানসিকতার সাথে একমত হতে পারল না। আসলে সে চেয়েছিল স্বাধীনতা। পূর্ণ নারীতু। স্ত্রী হিসাবে দাসত্ব নয়। তখন সে সন্তানসম্ভবা। সন্তানের কথা ভেবেও সে বিয়ে করল না। নিজের সন্তান মার্ককে নিয়ে শুরু হল তার জীবন সংগ্রাম। আনেৎ যেন চিরন্তন নারী সংগ্রামের প্রতীক। দেশে শুরু হয়েছে যুদ্ধ। তারই মধ্যে আনেৎ দেখেছে মানুষের কদর্য রূপ। অবশেষে যুদ্ধ শেষ হল। আনেৎ নতুন যুগের স্বপ্ন দেখে। তার বিশ্বাস একদিন এই অন্ধকার পৃথিবী থেকে মানুষের সংগ্রামের মধ্যে দিয়েই উত্তরণ ঘটবে। এই উপন্যাস শেষ হয়েছে সেই সংগ্রামের ডাক দিয়ে। “ন্যায়পরায়ণ হওয়া তো ভাল কিন্তু প্রকৃত ন্যায়বিচার কি শুধু দাঁড়িপাল্লার কাছে বসে থাকে, আর দেখেই সন্তুষ্ট হয়? তাকে বিচার করতে দাও, সে হানুক আঘাত। স্বপ্ন তো যথেষ্ট দেখেছি আমরা, এবার আসুক জাগার পালা।”

    ১৯১৯ থেকে ১৯২৯ রোলাঁর জীবনের এক যুগসন্ধিক্ষণ। একদিকে প্রাচ্যের আধ্যাত্মিকতা অন্যদিকে বাস্তব পৃথিবীর হাজার সমস্যা। ইউরোপের বুকে নতুন চিন্তা ভাবনার উন্মেষ। তিনি উপলব্ধি করলেন গান্ধীবাদের আদর্শ যাকে একদিন তার মনে হয়েছিল সমস্ত পৃথিবীকে পথ দেখাবে, ক্রমশই তার রং যেন ফিকে হয়ে আসছে।

    ইউরোপের বুকে তখন ঘটে গিয়েছে রুশ বিপ্লব। এই নতুন আদর্শকে শ্রদ্ধার চোখে দেখলেও তাকে মেনে নিতে পারেনি তিনি। তার অন্তরে তখন গান্ধী আর তলস্তয়।

    রুশ সাহিত্যিক গোর্কির সাথে বন্ধুত্ব গড়ে উঠল রোলাঁর। গোর্কিই তাঁকে প্রথম সমাজতান্ত্রিক মতবাদের সাথে পরিচিত করালেন। প্রথমে সোভিয়েত সরকারকে মেনে নিতে না পারলেও ক্রমশই তিনি তার প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকেন। ১৯২৯ সালে যখন ফ্রান্সে কমিউনিস্টদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল, তাদের বন্দী করা হল, শ্রমিক শ্ৰেণীর উপর শুরু হল নির্যাতন, সেই সময় ফ্রান্সের বিখ্যাত কয়েকজন কবি দার্শনিক লেখক কমিউনিস্ট আন্দোলনের সাথে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত হয়ে পড়লেন।

    রোলাঁ দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়লেন। কোন পথে তিনি যাবেন! প্রথমে তাঁর মনে হয়েছিল তিনি লেখক সাহিত্যিক, রাজনীতি তার ধর্ম নয়। কিন্তু শেষে অনুভব করলেন যখন মানব জাতি বিপন্ন তখন সকল সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে ওঠাই মানুষের লক্ষ্য হওয়া উচিত। তিনি সমস্ত দ্বিধা-সংকোচ কাটিয়ে নেমে এলেন রাজনীতির আঙিনায়, অনুভব করলেন মার্কসবাদের মধ্যেই মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিহিত। রচনা করলেন তাঁর “শিল্পীর নবজন্ম”। রোলাঁ লিখেছেন, “সমস্ত জীবন ধরে আমি যে পথের সন্ধান করেছি, সমাজতন্ত্রের মধ্যেই তার ঠিকানা খুঁজে পেয়েছি।”

    রোলাঁ যখন এই মতবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে ওঠেন তখন তিনি ৭০ বছরের বৃদ্ধা। শুরু হল চারদিকে প্রচার-রোলাঁ কমিউনিস্ট…দেশদ্রোহী।

    কিন্তু নতুন শক্তিতে উজ্জীবিত রোলাঁ শুধু ইউরোপ নয়, সমস্ত মানবের মুক্তির কামনায় মুখর হয়ে উঠলেন। “ভারতবর্ষ, চীন ইন্দোচীন প্রভৃতি শোষিত নিপীড়িত জাতির পাশে দাঁড়িয়ে আমি যুদ্ধ করব।”

    ১৯৩৬ সালে রোলাঁর ৭০তম জন্মদিন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আড়ম্বর করে পালন করা হল। তাকে বলা হল ফ্রান্সের এক শ্রেষ্ঠ সন্তান, মানব কল্যাণের এক অক্লান্ত যোদ্ধা।

    জার্মাণির বুকে তখন শুরু হয়েছে হিটলারের তাণ্ডব। রোলাঁ অনুভব করতে পারছিলেন আগামী দিন ইউরোপের বুকে এক প্রলয়ঙ্করী ঝড় নেমে আসছে।

    ১৯৩৯ সালের ১লা সেপ্টেম্বর হিটলার পোলান্ড আক্রমণ করল। শুরু হল বিশ্বযুদ্ধ। ১৯৪০ সালে জার্মানরা ফ্রান্স দখল করল। রোলাঁ রবীন্দ্রনাথকে একটি চিঠি লিখেছিলেন, সেটাই তাঁর শেষ চিঠি।

    “আমি সংবাদপত্রে লিখতে পারছি না…তাই যৌবনের প্রথম সংগ্রামের দিনগুলোকে আমি পুনরায় জীবন্ত করে তুলছি, স্মৃতিকথা লিখছি।

    অন্ধ হিংসা ও মিথ্যায় উন্মত্ত এই পৃথিবীতে আমাদের সত্য ও শান্তিকে রক্ষা করতেই হবে।”

    রোলাঁ জীবনের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও নিজের গৃহ ছেড়ে কোথাও যাননি। তার উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা হত। তাঁর প্রতিটি চিঠি পরীক্ষা করা হত, এমনকি তাঁকে খুনের হুমকি অবধি দেওয়া হত।

    নিজের জন্যে কখনো চিন্তিত ছিলেন না রোলাঁ। মানুষের এই হত্যা নির্যাতন তাঁকে সবচেয়ে ব্যথিত করত। তাঁর মনে হত গ্যেটে বিঠোফেনের মহান দেশের এ অধঃপতন। একি সভ্যতার আসন্ন মৃত্যু!

    এক বেদনার্ত হৃদয়ে নিঃসঙ্গভাবে সারাদিন নিজের ঘরে বসে থাকতেন। নিজেকে প্রকাশ করা কোনভাবেই সম্ভব ছিল না। চারদিকে অনাহার অভাব। জার্মান দূতাবাস তাঁকে সব কিছু দিতে চেয়েছিল, খাদ্য, কয়লা, পোশাক। কিন্তু হত্যাকারীর হাত থেকে কিছু গ্রহণ করতে তাঁর বিবেক বাধা দিয়েছিল। তাই জার্মানদের সমস্ত দানকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

    অবশেষে ১৯৪৪ সালের ৩০শে ডিসেম্বর ৭৮ বছর বয়সে যুদ্ধক্লান্ত পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিলেন। কিন্তু জীবনের শেষ মুহূর্তেও বিশ্বাস হারাননি। নতুন যুগের মানুষকে ডাক দিয়ে বলেছেন–

    “নতুন দিনের মানুষ, হে তরুণের দল, আমাদের পদদলিত করে তোমরা এগিয়ে চল। আমাদের চেয়েও বড় ও সুখী হও।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহ্যালো আইনস্টাইন : চেনা নাম অচেনা গল্প – মণি ভৌমিক
    Next Article ফিজিক্স অব দ্য ফিউচার – মিশিও কাকু
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }