Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিষাদবৃক্ষ – মিহির সেনগুপ্ত

    মিহির সেনগুপ্ত এক পাতা গল্প596 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বিষাদবৃক্ষ – ১১

    এগারো

    পিসিমাবুড়ি, নগেনমশাইয়ের স্ত্রী, যাঁরা গ্রামসুদ্ধ বর্গবর্ণ নির্বিশেষের পিসিমা এবং জেঠিমা, তাঁরা যতদিন এখানে ছিলেন, পিছারার খালের বহতা ছিল বড় চমৎকার। আমার স্মৃতিতে এই সময়টি এখনও বড় আশ্লেষে আমাকে জড়ায়। যাঁরা যা-ই বলুন, এই সময়টিকে আমি ঠিক মধ্যযুগীয় অবস্থার তলানি বলে ভাবতে পারি না। আসলে, মানুষের সামাজিক ক্রমান্বয়কে আদি, মধ্য, অধুনা এ রকম বিভাগে ভাগ করে তার ভালোমন্দের বা অগ্রগতির তুল্যমূল্য করা আমার পছন্দ নয়। আমার শৈশবের এই সময়টিকে শুধু নস্টালজিক কারণে আমি ভালোবাসি, এ কথা যদি কেউ বলেন আমি বলব, তা ভুল। বস্তুত এ সময়ে আমি কোনো সামাজিক নৈরাজ্য অনুভব করতাম না। ওই পিসিমাবুড়ি বা জেঠিমারা সমাজটিকে তখনও নৈরাজ্যের হাতে ছেড়ে দেননি। তাঁদের নানা ব্রতকথা, নানা পার্বণ, লোকাচারি নানা ক্রিয়াকলাপ নিয়ে সমাজকে সদা উৎসবমুখর রাখতেন। নানান ব্রত, পার্বণ, পুজো ইত্যাদির শেষে পিসিমাবুড়ি আর জেঠিমারা সর্বশেষ এক আশার বাণী বলতেন—’এ বত্ত যে শোনে যে করে, অপুত্রার পুত্র হয়, নির্ধনের ধন হয়, অকুমারীর বিয়া হয়, যে যা কামনা করে সে কামনা সিদ্ধ অয়।’ এই আকাঙ্ক্ষার বাণীর মধ্যে নৈরাজ্য স্থান পেত না। আমরাও সরল বিশ্বাসে এসব গ্রহণ করে ভাবতাম, সবার সব ভালো হবে, সবার মঙ্গল হবে, কল্যাণ হবে। এর মধ্যে ছিল এক অদ্ভুত জীবনবোধ, যা নৈরাজ্যের হাহাকারে পীড়িত নয়। আমি একটু ব্যাপকতায় এই জীবনচর্যাকে বলব।

    তখন আমার মতো বয়সিদের কৈশোর, শৈশবের নিষ্পাপতা অপসৃত হয়ে এক নতুন উদ্‌গম সবে শুরু হচ্ছে। পিসিমাবুড়ি এবং জেঠিমায়েরা হয়তো শেষবারের মতো ‘কাঁকড়ার বত্তের’ উপকরণ, ‘উদ্‌উয়া’ চাউলকলা, তালের বড়া ইত্যাদি নিয়ে পিছারার খালের পাশের কোনো এক শস্যক্ষেত্রে ব্রত উদ্‌্যাপনে যাচ্ছেন। তখন ভাদ্রমাস, আউশ পেকেছে, ‘আমন রোওয়া’। রোওয়া অর্থে বিছান থেকে গোছ করে যা চারা হিসেবে পোঁতা হয়েছে মাঠে। বিছান থেকে গোছ তোলার পর যেগুলো বিছানের মাঠে থাকে তারা মাইজলা ভাঙা, সেও ধানেরই খেত। এরকমই রোওয়া বা মাইজলা ভাঙার কোনো ক্ষেত্রের শস্যশাবকদের মাঝে খানিকটা জায়গা পরিষ্কার করে নিয়ে কাঁকড়ার ব্রতের স্থান হয়। পুরুত ঠাকুর কিছু মন্ত্রোচ্চারণে ক্ষেত্রপাল দেবের পুজো করলে পিসিমারা ব্রতকথাটি বলেন। তাদের ব্রতকথায় একটি সাধারণ আরম্ভনা ছিল, বরাবর দেখেছি। বাওন আর বাওনজি, মাগেন যাচেন খায়েন ইত্যাদি। এ ব্রতেও বাওন আর বাওনজির গল্প। কেমন করে তাঁরা তাঁদের সমুদয় দুঃখ, অভাব ইত্যাদি অতিক্রম করে বিপুল সম্পদ লাভ করলেন। কী করে তাঁদের ওলান শুকিয়ে যাওয়া গাই-মোষেদের থানে দুগ্ধসঞ্চার হলো, ফালডা দেয়া পুহইরে জলে মাছে কেলি করতে লাগল, অথবা গেরস্ত তার হেরে যাওয়া মামলায় জিতে গিয়ে জমিন জায়দাদ সব ফিরে পেয়ে শত্তুরের মাথায় পাও উড়াইয়া দিল—এইসব কথা তাঁরা ব্রতের শেষে ব্রতচারীদের উদ্দেশে বলে যেতেন। তারপর সেই আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণী উচ্চারণ। এরপর আমরা ব্রতচারী পোলাপানেরা ভদউয়া ইত্যাদি সুভোজ্য প্রসাদপ্রাপ্ত হয়ে বুড়ির সঙ্গে গলা মিলিয়ে বলতাম, বলভাই কাখড়ার পিরতে হরি হরিবল। পিরতে অর্থে প্রীতে। একসময়, আবাদের শুরুয়াতে বোধহয়, এ স্থানে কাঁকড়া, কুমির এরা ধানের খুব ক্ষতি করত। তাই এই পূজা বা ব্রতের প্ৰচলন।

    পিসিমাবুড়ি অথবা জেঠিমা, যতদূর মনে আছে, তাঁদের প্রতাপ যতদিন কার্যকরী ছিল, এইসব ব্রতপার্বণ তাঁরা ধরে রেখেছিলেন। গ্রামের সব মেয়ে-বউদের দিয়ে এইসব ব্রতপার্বণ, লোকাচারি অনুষ্ঠান তাঁরা করাতেন। সব অনুষ্ঠানগুলোতে ব্রাহ্মণদের যে অবশ্য করণীয় কৃত্য কিছু ছিল তা নয়। এইসব অনুষ্ঠানের হয়তো কোনো শাস্ত্রীয় মন্ত্রও ব্রাহ্মণদের নিত্যকর্ম পদ্ধতির গ্রন্থে ছিল না। কিন্তু বুড়িরা জানতেন ব্রাহ্মণ ছাড়া পূজা বিহিত নয়। বুড়িপিসিমা এবং জেঠি এ কারণে নগেনজ্যাঠার দরবারে হাজির হতেন। পিসিমাবুড়ি বলতেন, ও ভাইপো, ও ভাইপো, ঠাহুরে কয় কী?

    : কী কয়?

    : কয় বোলে কুমইর পূজা, কাখড়া পূজা এইসব পূজাআচ্ছার নাকি মোন্তর নাই। এয়া কি ঠিক? জ্যাঠা বলতেন, তোমরা যহন এ পূজাগুলো করইয়া আইতে আছ তহন তো এডা কোনো কতা অইতে পারে না। আসলে অরা মন্তর জানে না। অরা এট্টা আসল মোন্তরই শেহে নায়।

    : হে মন্তরডা কী? এ কথা জানতে চান পুরোহিত হরিঠাকুর।

    : ক্যান? সব্বোযজ্ঞেশ্বরো হরি। অর্থাৎ কিনা তুমি যে কামই করো হেয়া যজ্ঞ আর হেয়ার যজ্ঞেশ্বর স্বয়ং হরিই। এইডাই মোন্তর, বোজলা কি না?—এরপর হরিঠাকুর যদি না বোঝে, তবে সমূহ বিভ্রাট। কেননা, নগেনজ্যাঠা সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত। জ্যাঠা বলতেন, এই মোন্তরের লগে কইতে অইবে, তস্মিন তুষ্টে জগৎ তুষ্ট ইত্যাদি। বোঝলা? না বোঝলানা? হরিঠাকুর বলতেন, একছের বুঝছি। আহা কী কতা? সব্ব যজ্ঞেশ্বরো হরি। এ্যা কী কতা। আহা, তস্মিন তুষ্টে জগৎ তুষ্ট। এ্যা, আহা কী কতা!

    অতএব পুরুত ঠাকুর মন্ত্র পড়তেন, ওঁ নমঃ কাখড়ায় নমঃ ওঁ নমঃ কুম্বীরায় নমঃ ওঁ নমঃ দক্ষিণরায়ায় নমঃ ইত্যাদি যে পূজার যা হয়, খানিকক্ষণ বিড়বিড় করে পরে খুব উদ্দাত্ত উচ্চারণে বলতেন,

    ওঁ ব্রহ্মণ্যদেবায় গোব্রাক্ষণ হিতায় চ।
    জগদ্ধিতায় কৃষ্ণায় গোবিন্দায় নমঃ নমঃ ॥
    ওঁ পাপোহং পাপকর্মাহং পাপাত্মা পাপসম্ভব।
    ত্রাহিমাং পুণ্ডরীকাক্ষ্যং
    সর্ব যজ্ঞেশ্বরো হরি–

    এ মন্ত্রের অনুস্বর-বিসর্গাদি যথাযথ প্রযুক্ত কি না জানি না। হরিঠাকুর যেমন উচ্চারণে বলতেন, তেমনটিই বলে দিলাম। শাস্ত্রজ্ঞ পাঠককুল অপরাধ নেবেন না। এ মন্ত্র পাঠের সঙ্গে সঙ্গে পিসিমাবুড়ি এবং জেঠিমারা বলতেন, বেয়াকে হোগাভুত অইয়া স্যাবা দেও। হাতের দুব্বা সামনে ফ্যালাও। আমাদের তথাকরণ অচিরাৎ, কেননা ভদউয়া ইত্যাদির সুঘ্রাণে আমাদের নোলা তখন প্রায় নির্লজ্জতার সীমান্তে এসে উপস্থিত হয়েছে।

    পুরুতঠাকুর তথা এইসব অং বং ছাড়াও বুড়িদের আরও অনেক আচার-অনুষ্ঠান ছিল। একান্ত নিজস্ব ঢঙে বাড়িতে মেয়ে-বউদের নিয়ে বুড়িপিসিমাদের বিচিত্র ব্রতপার্বণের রকমারি জগৎ ছিল। সেখানে আপদনাশিনী, বিপদনাশিনী, আকুলাই, নিরাকুলাই, মঙ্গলচণ্ডী, গোকর্ণ এবং নাম ভুলে গেছি এরকম কত যে অনুষ্ঠান ছিল তার আর শেষ নেই। সারা বছর ধরেই আজ এটা, কাল ওটা, চলছে তো চলছেই। বুড়িপিসিমার সিংহ-পালঙ্কে এদের কেউ আশ্রয়ী হতে পারতেন না। কারণ, সেখানে আলাদা সব জাগ্রতরা স্থায়ী দখলদারি নিয়ে বর্তমান। এঁরাই মাঝে মাঝে তাঁকে ‘সপ্পনে’ দর্শন দিয়ে নানান সমস্যার সমাধান জানাতেন, আবার কখনো ভালোমন্দ খাওয়ার আবদার ধরতেন। ছোট ছোট লেপ-তোশকে আসীন থেকে জাগেশ নামধারী নুড়ি পাথরগুলো হরহামেশা বুড়িকে ‘সপ্পনে’ উত্যক্ত করত। কখনো তাদের ক্ষীর খেতে সাধ হতো। কখনো খিচুড়ি ভোগ, আবার কখনো ফলফলাদি। এঁদের কারওই সামান্য আয়োজনে মন ভরত না। এঁরা ছিলেন সব ভদ্রলোক ঠাকুর। পালঙ্ক থেকে নামার নামটি করতেন না কখনো। অন্যরা বাইরের। সবাই ‘কাঁচাখাউগ্যা’। তবে জাগেশদের সঙ্গে বুড়ির নাতিনাতনিদের একটা বিশেষ একাত্মতা ছিল মনে হয়। সেটা ভালোমন্দ খাবার সংক্রান্ত। জাগেশরা এ ক্ষেত্রে বোধহয় নিমিত্তমাত্র।

    আপদনাশিনীর ব্রতটি বড় আকর্ষক ছিল আমাদের। এ ব্রতে চাল, কলা, মুগ, কলাই, নারকেল, গুড় ইত্যাদি প্রসাদের উপকরণ। তবে ভদউয়া নয়। কারণ এ ব্রতে ভাজাপোড়া কিছু চলবে না। দেবী নিতান্ত কাঁচাখাউগ্যা। আমিষ্য বা ভাজাপোড়া কিছু তাঁকে দেয়া যাবে না। এটাই আইশ্যা। ভদউয়া যদিও প্রসাদ হিসেবে আমাদের কাছে খুবই সুখাদ্য ছিল, কিন্তু যেহেতু তার প্রস্তুতপ্রণালি চালভাজা বা মৌলখা অর্থাৎ খইয়ের ভগ্নাংশ ভিজিয়ে গুড় কলা নারকোল সহযোগে, তাই তা ভাজাপোড়া।

    একটি ঘট পেতে, সিন্দুরের পুত্তলিকা এঁকে তার ওপর আম বা কাঁঠাল শরাৎ (ত্রি বা পঞ্চ পত্র) দিয়ে বসানো হতো। পাশে ধূপদীপ পুষ্প ইত্যাদির সরঞ্জাম। সামনে ব্যাপক জায়গা জুড়ে পাথরের থালা তামার পরাত বা কাঠের বারকোষে প্রসাদ বা পেসাদ নামক ভোজ্যাবলি। আমরা লিঙ্গ নির্বিশেষে বুড়িপিসিমার আদেশমতো দূর্বা হাতে বত্তের কথা শুনতে বসে যেতাম। ব্রতকথাটি ছিল এক মজার রূপকথা। কথাটি বলতেন পিসিমাবুড়ি। তার বয়ানেই বলছি—

    এক বাওন আর বাওনজি। বাওনজির নাম কিলিকিলি বাওনজি। হ্যারা মাগেন যাচেন খায়েন। ঘরে-বাইরে দুইজোন। পোলা নাই মাইয়া নাই। ল্যাঙ্গে ঠ্যাঙ্গে কেউ নাই। নিত্য তিরিশ দিন বেয়ান বেয়ান বাওন যায় মাগতে। যিদিন কিছু পায়, হিদিন খায়, যিদিন পায় না, হিদিন ফালডা দিয়া থাকে। দুই ঘড়ি জল খাইয়া মধ্য খাড়ালে চিত অইয়া থাহে, পোড়া চোক্ষে ঘুমও আয় না। ঘরের চালে ছোন নাই, বেড়ায় হোগল নাই। ঘর, বাইর সোমান। প্যাডের জ্বালা প্যাডে থাহে। চালের ফুডা দিয়া তারা নক্ষত্তর চান্দ উহি মারে। বাউনি কয়—বাওন মোগো বড় দুঃখ। বাওনা কয় বাউনি চান্দের গতি বাওদিগে। মনে অয় সুদিন আইতে বিলম্ব নাই। এইসব কথা-পইদ্য অইতে অইতে দুইজোনের চোক্ষে ঘুমের কাজল লাগল।

    রাইত তহন কত কেডা জানে? ভুদভুদুম ভুদভুদুম করইয়া ডাহে। এই সোমায় ঝাপের উপার শব্দ অয়। বাউনি জিগায় কেডা? ঝাপ লাড়ো কেডা? উত্তর আয়—

    —কিলিকিলি বাউনজি, ঝাপ খোলো।

    –কেডা।

    –ঝাপ খোলো, ডর নাই, মুই।

    কিলিকিলি ঝাপ খোলে। দ্যাহে এউক্যা রাঙ্গা টুকটুকইয়া বউ। লাল পাইড়ের সাদা খোল শাড়ি পরা। মুহের ওপর চান্দের আলো পিছলাইয়া পড়ে য্যান। আর হেই জোছছোনায় দ্যাহা যায় দ্যাবচোক্ষু, জোড়া ভুরু, কপালের মধ্যহানে এটা বড় সিন্দুরের ফোডা ডগমগ করে। কিলিকিলি জিগায়, তুমি কেডা? হেনায় কয়েন, মুই বড় আপদে পড়ছি। মোরে আইজগার রাইতটুকু এট্টু থাকতে দেবা?

    –হেয়া দিমুনা ক্যান? থাকপা, হেথে আফইত্য কী? কিন্তু তুমি কেডা?

    –কাইল কমু হ্যানে। হুমু কোথায়?

    –হোও যাইয়া হাইতনায়। মানা করছে কেডা?

    তো হে মাগি যাইয়া হাইতনার পাশে একখান ছেড়া হোগলা পাতইয়া ফলি কাইত দিলে। কিলিকিলি আবার হ্যার জাগামতন চিত।

    খানিক বাদে বাউনি শোনে বউডা কইতে আছে—কিলিকিলি বাওনজি মোর বড় বাইজ্য পাইছে, মুই হাগুম।

    -–হাগ যাইয়া ছাইচে। তো হে মাতারি ছাইচে যাইয়া বাজ্য করইয়া আইলে। আবার এট্টু পরেই ওড়ে, কয়-

    –কিলিকিলি বাওনজি আমি বাইজ্য করুম।

    –কর যাইয়া খাড়ালে। তো হে মাগি ঘরের খাড়ালে যাইয়া বাইজ্য করলে। এইরকম এট্টু শোয় আর ওড়ে। ওডে আর কয় বাইজ্য করুম। বাওনজির রাগ ঢিল নাই। হে কইয়া যায়, হাগো যাইয়া ওশ্যায়, হাগো যাইয়া ঢেঁকিঘরে—এইরহম। তো হারা রাইত ধরইয়া মাগি সাইদ্যের হাগা হাগলে।

    রাইত পোয়াইয়া পুব আকাশ ফস্সা অয়। বাওনা জাগে, কয়—ডাকে পাখি না ছাড়ে বাসা। হেয়ার নাম ছিরি উষা। বাউনি রাইত শ্যাষ ওডো। বাউনি য্যান কহন এট্টু মাছপোড়া ঘুম দেছেলে, ধড়মড় করইয়া উডইয়া বইলে। বাওনা কয়, কাইল হারা রাত্তির ক্যার লগে বগর বগর করলা। ঘুমের মইদ্যে শোনলাম য্যান, কেডা খালি বাইজ্য করার কতা কইলে। বাউনি কয়, চুপ চুপ, বউডা হোনলে লজ্জা পাইবে। হে আছে হাইতনায় হুইয়া।

    –হে কেডা?

    —জানি না। তয় আইজ কইবে।

    কিন্তু হাইতনায় আইয়া হেরা কেউরেই দেখে না। বাউনি জিগায়, ও বউ তুমি গেলা কই? কোনো উত্তর নাই। তহন বাউনি ভাবে হারা রাত্তির ধরইয়া এত হাগন হাগলে যে মাগি হে গেলে কই?—বাওনা বলে, এয়া বুঝি হপ্পন। তহন কেরমে কেরমে সুজা ঠাহুর ওডেন। বেয়াক পরিষ্কার অয়। কিন্তু হে মাগি কই? হ্যারে কেউ দেহে না। বাওনা কয় ওয়া হপ্পন। বাউনি যায় খাড়ালে, দ্যাহে হেহানে থুপথুপ সোনা, ছাইচে যাইয়া দ্যাহে থুপথুপ সোনা। ঢেঁকিঘরে, এহানে ওহানে বেয়াক জাগায়ই খালি থুপথুপ সোনা দ্যাহে হেরা। বাউনি দ্যাহে, হ্যার বাড়ির যেহানেই যায় ল্যাঙ্গে সোনা ঠ্যাঙ্গে সোনা বেয়াক জাগায় সোনার ছড়াছড়ি। সব বাইজ্য সোনা অইয়া রইছে। বাওনা ব্যাপারডা বোজলে। বাউনিরে কয়,—

    –বাউনিলো বাউনি, বোজ্জোনি কেডা আইছেলেন?

    –হেয়া আর বুজুম না। বিপদনাশিনী মায় আইয়া মোর বেয়াক দুঃক দূর করইয়া গেলেন।

    হেইদিন থিহা বাওনা আর বাওনির দুঃক শ্যাষ। বাজা গাইডা রাইত দুফইরে ম্যাৎ ম্যাৎ করাইয়া ডাক ছাড়লে, আর পাল খাওয়ানোর লগেলগে পোয়াতি। ঘরের সামনার হুগনা পুহইরডায় জলে মাছে কেলি করে, গোলায় ধান ভাইঙ্গা পড়তে আছে, আর হেই ধানের ‘ক্যারা পোকার’ যন্তনায় বাড়িতে টেহা দায়। ক্রেমে ক্রেমে, এর পরথিকা বাজা বাউনি ফি বচ্ছর পোয়াতি অইয়াই যাইতে লাগলে। তহন হ্যারগো ল্যাঙ্গে পোলা ঠ্যাঙ্গে পোলা। এইক্কা হাপুর দিতে না দিতে অন্যউগ্‌গা বাউনির ছাচে। এইরকমভাবে বিপদনাশিনী দেবী বাওন-বাউনির দুঃক নাশ করলেন। হ্যারগো ধনেপুত্রে লক্ষ্মীলাভ অইল।

    ব্রতকথা শেষ হলে ওই একইভাবে বুড়িপিসিমা তার মন্ত্র বলতেন, এই কথা যে শোনে যে পড়ে ইত্যাদি এবং হাতের দূর্বা সামনের ঘটের ওপর ছুড়ে দিয়ে বেয়াকের হোগাভুত অইয়া স্যাবা দেওন। ততক্ষণে মা-জেঠিমাদের কেউ কেউ গুড়, কলা, বাতাসা, নারকেল সহযোগে ভেজা মুগ, ভেজা কলাই বা ভেজা চাল মাখতে শুরু করতেন। দরদালানে ততক্ষণে চপলা দাসী, আমোদিনী দিদিমা বা সোনালক্ষ্মী দিদিরা কলার পাত পাততে শুরু করে দিয়েছেন। বুড়িপিসিমা বলতেন, ‘উপোসইয়াগো আগে দেও।’ উপোসইয়া বলতে অবশ্যই আমরা। ব্রতধারী-ব্রতধারিণীরা উপোসি থাকবে এমনই বিধি। কথাটি হয়তো তিনি ব্যঙ্গার্থেই বলতেন, তবে আমরা তখন প্রকৃতই উপোসি। এ প্রসাদ আমাদের কাছে বড় অমৃতবত বোধ হতো তখন।

    পিছারার খালের জগৎ ছেড়ে ভিন্ন পৃথিবীতে যখন, তখনও ওই বুড়িপিসিমা, নগেনজ্যাঠা, জেঠিমা বা ডাক্তারবাড়ির সোমত্ত মেয়েগুলো এবং পিছারার খালধারের তাবৎ অনুষঙ্গগুলো আমাকে রেহাই দেয় না। যেখানেই যাই, পিছারার খালের স্রোতের শব্দ একটা একটানা সুরের মতো বুকের মধ্যে বাজতেই থাকে। বান্ধবজনেরা তাদের নাগরিক বোধে আমার স্পর্শকাতরতা, ভাবপ্রবণতা নিয়ে নানা নিন্দামন্দ করে। সত্যই আমি বড় আবেগতাড়িত। আমি ভাবি, আমার তো এই সম্বল। আমি যদি আমার বুড়িপিসিমার চালকলা মাখা হাতখানার সুঘ্রাণ কোথাও পাই আর তা যদি আমাকে দুকুড়ি-তিনকুড়ি বছরের ওপারে এক সবুজ সতেজ উদ্যানে পৌঁছে দেয় তো দিক না, তাতে কার কী ক্ষতি?

    গভীর রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে এখনও মনে হয়, ওই পিছারার খালের সোঁতা বেয়ে বড় খালের দিকে এগোচ্ছি। সারা শরীর কাদাজলে নিমগ্ন। কোমরের কাছের বস্ত্রখণ্ড বা গামছার কোঁচড়ে ‘ঘুসা’ চিংড়ি নিয়ে এগিয়েই যাচ্ছি বড় খালের দিকে, হাতে ‘হোচা’ বা ‘খুঞ্চই’। পিছারার খাল। বাস্তবে সে খাল কবে শুকিয়ে মাঠ হয়ে গেছে, কিন্তু আমার শিকড়ে যেন আজও তার ধারা বহমান। তার প্রতিটি খাঁজে আমার হাত হাতড়ে বেড়ায় স্বপ্নের চিংড়ির খোঁজে।

    বাস্তবে আর কোনোদিন পিছারার খালধারের সেইসব উৎসবে ফিরতে পারব না জানি। তবু ওই স্থান, তার প্রতিটি উৎসব অনুক্রম, বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা, কিলিকিলি বাওনজি, শীতলা, মনসা বা কালীখোলায় মায়ের গলায় গাওয়া রামপ্রসাদী গান, কীর্তন রয়ানি মালসীর অনন্ত আয়োজন—সেসব যে কী আকুলতা আজও আমার। মানুষের জীবনের ধ্রুপদী অনুষঙ্গগুলো যখন ধরা-ছোঁয়ার বাইরের বস্তু হয়ে যায়, তখন মানুষের কীই-বা উপায় থাকে?

    আবার এর সবটাই ধ্রুবপদ কি না তাও তো জানি না। উৎসবের স্মৃতি, ভালোবাসার, প্রাচুর্যের এবং সামাজিক সুস্থিতিজনিত আনন্দের স্মৃতিগুলো যদি জীবনের ধ্রুবপদ হয়, তবে তখনকার বীভৎসতা, ধ্বংস, অবিশ্বাস এবং রক্তের স্মৃতিও কি ধ্রুবপদ নয়? কী এক গূঢ় কার্যকারণে যেন তখনকার অতিবীভৎস ঘটনাও নস্টালজিয়ার মাহাত্ম্যে ধ্রুবপদ হতে চায়। এমনকি সে সময়কার নানাবিধ অসম্মানকর সামাজিক আচরণ, যা তখন প্রতিমুহূর্তে দংশন করে বলত, এ দেশটা তোমাদের আর এখন নয়। তোমরা এবার চলে যাও এখান থেকে—সেসবও আজ ধ্রুবপদ বলেই যেন মনে হয়। যেন সেসবও স্বাভাবিক নির্বন্ধেই এসেছিল। সেসব আসার কার্যকারণ ছিল বলেই।

    বাপ-পিতামো এই ভূমির আবাদকালে যে সহজতায় আবাদকারী মানুষদের মধ্যে একাত্ম ছিলেন, একসময় সেই অবস্থান থেকে সরে গিয়ে, তারা আবাদি ভূমির মালিক হলেন। ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছোনোর পর তারা যে সামাজিক অন্যায় পুরুষানুক্রমে আবাদকারীদের বংশধরদের ওপর করেছেন, আমরা ওই পিছারার খালের সোঁতা বিলুপ্ত হবার সময় থেকে তার ফল ভোগ করেছি। এরকম দায়ভাগ আমাদের হয়তো আরও বহু যুগ যুগ ধরে বহন করতে হবে।

    পূর্বপুরুষদের কথা ছেড়েই দিই, আমি নিজেই কি স্বয়ং আমাদের কর্তাদের অনেক অন্যায় আচরণ, অন্যায় কর্মের অনুষ্ঠান হতে দেখিনি? সেইসব অন্যায়ের পরম্পরা তো আমাদেরকেও অবশ্যই বহন করতে হবে। তার অংশী যে আমি নিজেও, তা জ্ঞানে হোক অথবা অজ্ঞানে। অজ্ঞানকৃত অন্যায়, অন্যায় নয় এ কথা তো কোনো শাস্ত্রকার বা পণ্ডিত বলেননি। এ ক্ষেত্রে পরম্পরালব্ধ আচরণের দায় আমরা বহন করছি, যা সাম্প্রদায়িকতা নামক এক পিশাচযজ্ঞের ফল হিসেবে সম্প্রদায়গতভাবে আমাদের ওই পিছারার খালের চৌহদ্দি থেকে উচ্ছেদ করে এক অনির্দেশ্য ভবিষ্যে নিক্ষেপ করল। এ বিচার মুসলমানসমাজ, যারা আমাদের ওখানকার নিম্নবর্গী, বিশেষত, তারা তুলতেই পারে। যে বুড়িপিসিমার ব্রতকথা নিয়ে আমার এই সাতকাহন বাক্‌বিন্যাস, তিনি কি প্রতিনিয়ত এদেরকে জাত তুলে শাপশাপান্ত-বাপবাপান্ত করেননি? তিনি কি এদের সামান্য ত্রুটিকে উপলক্ষ্য করে বলতেন না—এ তোগো জাতের দোষ। এ কারণে এ অনাচারের দায়ভাগ আমাদের বহন যে করতে হবে, তা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু তাতেই-বা পিসিমার ব্যক্তিক দায় কী?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএঞ্জেলস এন্ড ডেমনস – ড্যান ব্রাউন
    Next Article কহলীল জিবরান রচনা সমগ্র (ভাষান্তর : মোস্তফা মীর)

    Related Articles

    মিহির সেনগুপ্ত

    বিদুর – মিহির সেনগুপ্ত

    January 20, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }