Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিষাদবৃক্ষ – মিহির সেনগুপ্ত

    মিহির সেনগুপ্ত এক পাতা গল্প596 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বিষাদবৃক্ষ – ১২

    বারো

    আমাদের নায়েবমশাইয়ের দাদা, আমরা যাঁকে বড় নাগমশায়ই বলে ডাকতাম, তিনি এসে আমার বাবাকে খবর দিয়েছিলেন, ভাইডি, হারামজাদায় মরছে। হ্যারে মাইরইয়া ফ্যালাইছে, বোজজো? বাবা খুবই কাতর হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কার কথা কইলেন? কারে মারছে?

    : ক্যান গান্দিডা? হালার পো হালার লইগ্যা আইজ মোগো একি দশা এ্যাঁ? হ্যারে নাথুরাম দেছে শ্যাষ করইয়া।

    এ ঘটনার কথা বাবা পরবর্তীকালে যতবার গল্প করেছেন, বলেছেন, বড় নাগের আফসোস আমি বুজি, তয় মহাত্মা, আহা! এরহম করইয়া কইতে অয়? তেনার নিধন! মহাত্মার এমন পরিণতি!

    কিন্তু সেসব স্মৃতির ঘটনা, অপঘটনা, এখন থাক। মূলকথায় যাই। মূলকথা বলতে, যা বলছিলাম, এক ভস্ম আর ছাড়। দোষগুণ কব কার? সেই কথা। দোষে গুণে আমরা উভয় সম্প্রদায়ই তুল্যমূল্য। কিন্তু মজার ব্যাপার এই যে, বরাবর আমরা একে অন্যকে দুষে আসছি। কেউই কখনো নিজেদের দোষের পসরা নিয়ে বলিনি, দেখো ভাই, এই আমাদের দোষ, এগুলোকে তুচ্ছ করে এসো আমরা ভালোয়-মন্দে বাঁচি এবং এই দোষগুলোর সংশোধন করি। না, আমরা কদাপি এরকম সুবুদ্ধিতে পরিচালিত হইনি। না হিন্দুরা, না মুসলমানেরা।

    আমার উজানিখালের দুপাশের যত বসতি ছিল, বক্সীবাবু দেশত্যাগ করলে সবার মধ্যেই একটা হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল গ্রাম ছাড়ার। এদের মধ্যে বেশির ভাগই পাড়ি দিচ্ছিলেন হিন্দুস্থানে। হ্যাঁ, আমরা তখন পাকিস্তানের বিপরীতের দেশটিকে ‘হিন্দুস্থানই” বলতাম। আমাদের শিক্ষা সেরকমই ছিল। তখন সেকুলার-ননসেকুলার তত্ত্ব জানতাম না। পাকিস্তান মুসলমানেদের দেশ এবং হিন্দুস্থান হিন্দুদের। এরকম একটা শিক্ষা আমরা ওই সময়ে পারিবারিক, গ্রাম্য সামাজিক এবং রাষ্ট্রগতভাবেই পেয়েছি। সে যা হোক, যাঁরা সেই সময় হিন্দুস্থানে পাড়ি দিতে পারেননি, তাঁরা কেউ কেউ, গাঁয়ের বাড়িঘর বিক্রি করে, ঝালকাঠি, বরিশাল, ঢাকা বা অন্য কোনো শহরগঞ্জে বাসাবাড়ি ভাড়া করে উঠে যেতে লাগলেন। তাঁরা কেউ বাড়িঘর বাগান পুকুর বিক্রি করলেন একেবারেই জলের দামে, কারণ তাঁরা জেনে গিয়েছিলেন অন্যথায় কিছুই পাবেন না। এমনিতেই সব বেহাত হয়ে যাবে। কেউ-বা আশায় বুক বেঁধে বাড়ির দেখভাল করার দায়দায়িত্ব প্রতিবেশী গ্রামের কোনো মুসলমান ভদ্রলোকের কাছে গস্ত করে চলে গিয়েছিলেন। মনে আশা যদি কোনোদিন আবার ফিরে আসতে পারেন। যদি কোনোদিন এমন কোনো অলৌকিক ঘটনা ঘটে, যা তাঁদের মানসিক আকাঙ্ক্ষার অভীপ্সিত অবস্থা ফিরিয়ে আনে। অর্থাৎ এঁদের মনেও বুড়িপিসিমার আকাঙ্ক্ষা।

     

     

    এই মানসিকতাটি আজও আমার স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করছে। বুড়িপিসিমা এবং নগেনজেঠিমার কথনে প্রায়ই এই মনোভাব দেখতে পেতাম। দুজনে প্রায় সমবয়সি এবং জ্ঞাতি সম্পর্কে বুড়িজেঠিমার পিশাশুড়ি। আমাদের দরদালানের পুবদিকে এককোণে বসে দুই মহিলার নানান জল্পনা-কল্পনা। বুড়িপিসিমা প্রায় বলতেন, বোজজোনি বউ, কাইল রাত্তিরে সপ্পন দ্যাখলাম। দেখলাম কি, হিন্দুস্থান পাকিস্তান বেয়াক ভাগাভাগি মিডইয়া গেছে। বেয়াক কিছুই আবার আগের ল্যাহান। গোলায় ধান, পুহইরে মাছ, গাছে ফলফলাদি, কদম আলি আবার আগের ল্যাহান খাড়ি দুদ দেয়া আরম্ব করছে। কোনোদিগেই কোনো উদ্বাগ নাই। এ স্বপ্ন তিনি এর আগেও দেখেছেন এবং বাবা-জ্যাঠামশাইকে বলেছেন। কিন্তু জেঠিমা খুব আহ্লাদের সঙ্গে জিজ্ঞেস করতেন —

    : কও কী? তুমি হেরম দ্যাখলা?

    : হ, কই কী শোনো না। দেহি—, এভাবেই দুজনে আকাঙ্ক্ষার স্বপ্ন নিয়ে বিভোর হতেন। এঁদের কথা ইতিপূর্বে বলেছি। আরও একটু বাকি। তাঁদের দুজনের সম্পর্ক যা-ই থাক, ভাবটি বড় গাঢ় সখীত্বের। যতদিন কাছাকাছি ছিলেন, এ ভাব তাঁদের বজায় ছিল। শীতলখোলা, বটকালীতলা, জাতকরনীখোলা এইসব স্থানে পুজো বা ব্রতকথা শেষ হলে, জেঠিমা বলতেন, ও ঊষা বর চাও।

     

     

    : ওয়া তোমার কাম, তুমিই চাও, জানো তো বেয়াকই।—পূজা বা ব্রতের শেষে বর চাওয়ার এক রীতি ছিল আমাদের ওখানে। ব্রতকথা বলার অধিকারিণী যদি বুড়িপিসিমা, জেঠিমার পদাধিকার ছিল বর চাওয়ার। সেই বর চাওয়ার রীতকরণটিও আজও বেশ মনে আছে। জেঠিমা বর চাইতেন–

    আ আরে বড় বাড়ইয়ারা কী কী বরো চায়
    এই ধোনো বরো দিলাম লো
    মানো বরো দিলাম লো
    পরমাই বর লইয়া যাও ঘরে।

    এভাবে গাঁয়ের প্রত্যেকটি বাড়ির জন্য বর চাওয়া শেষ হলে খোলা বা তলায় উপস্থিত মহিলামহলের গান শুরু হতো। যাঁরা গাইতে জানতেন, তাঁরা সাধারণত রামপ্রসাদী গাইতেন। আমার মা এ ব্যাপারে বেশ দড় ছিলেন বলে তাঁকে সবাই অনুরোধ জানাত। জেঠিমা তাঁকে ডেকে বলতেন, ও লাবণ্য তুই একখান ধর। মা ওই শীতলা বা বটকালীতলার চত্বরে সম্মিলিত গ্রামীণ মহিলাদের মধ্যে গান গাইতেন উচ্চৈঃস্বরে এবং অসংকোচে। মা গাইতেন—

     

     

    শ্মশান ভালোবাসিস বলে
    শ্মশান করেছি হৃদি।
    শ্মশানবাসিনী শ্যামা।
    নাচবি বলে নিরবধি ॥

    জানি না, মা যখন এই গান করতেন তাঁর মনের মধ্যে গ্রামগুলোর শ্মশান হয়ে যাওয়ার বেদনাও কাজ করত কি না।

    হিন্দু গ্রামগুলো ব্যাপকভাবে জনশূন্য হতে থাকলেও এই দুই মহিলা যতদিন এখানে ছিলেন, ততদিন এই পরম্পরা বজায় ছিল। শীতলা এবং বটকালীতলার সামনেই বিশাল ঘাটবাঁধানো এক প্রাচীন দিঘি। সেই ঘাটলার সিঁড়ির ওপর মায়েদের গান শোনার জন্য তখন আমাদের পাবলিক ফিল্ডের খেলোয়াড়েরা, যারা মুসলমান সম্প্রদায়েরই বেশির ভাগ, খেলা শেষে বাড়ি ফেরার পথে বসে থাকত। আর তাদের বাড়ির মেয়েরা একটু তফাতে হলেও খোলার সামনে আমাদের মায়েদের সঙ্গে বসেই এইসব গ্রামীণ দেবীদের পূজার্চনা দেখত, গান শুনত, কেউ কেউ-বা গেয়েও ফেলত দু-চার কলি। গোপনে পূজার উপকরণও দিত জেঠিমার কাছে এবং আশীর্বাদ নিত, নির্মাল্য আর প্রসাদ নিত, বলত, ক্যাওরে বুজি কয়েন, পোলাডা ভোগতে আছে আইজ দ্যাড় মাস। পিরছায়েবের পানিপরা খাওয়াইয়া তো কিছু অইলে না। হে কারণে ভাবলাম—এইসব ধারা শত গোলযোগ সত্ত্বেও এই সময় দেখেছি। তারপর ক্রমশ তা স্তিমিত হয়ে আসতে থাকে। এইসব কথা এখন স্মৃতির পর্দায় কখনো মেঘ কখনো রোদ্দুরের মতো জেগে ওঠে। কিন্তু যতই প্রাচীনতা একে গ্রাস করে, ততই যেন সব ধূসর ছবি হয়ে মিলিয়ে যায়। সম্পর্কের বহতা এক ঊষর প্রান্তরে গিয়ে লীন হয় আর তারপর থাকে এক হাহাকারের ইতিহাস।

     

     

    পিছারার খালের জগতে আমাদের বাড়িটি ছিল বড়বাড়ি। সবাই বলত, বড়বাড়ি। এ-কারণেই আমরা ‘বড় বাড়ইয়া’। কিন্তু নিয়মমতো বড়বাড়ি হওয়া উচিত ছিল আমাদের গাঁয়ের রায়চৌধুরী বাড়ির। তাদের বিশাল প্রাসাদ। নবাবি উপাধি এবং তাম্রপত্রে লিখে দেয়া জমিদারির চৌহদ্দির ব্যাপারটা আমাদের ওখানে একটা কিংবদন্তির সৃষ্টি করেছিল। ওই বাড়িতে নবাবি-ভূস্বামীদের আদলে একটি ভূগর্ভস্থ কয়েদখানাও ছিল। আমরা বলতাম অন্ধকূপ। সে যা হোক, তারা নানা কারণে গত শতাব্দীর চতুর্থ দশকের মধ্যেই অন্তিমতা প্রাপ্ত হলে তাদের জ্ঞাতি আমরাই হলাম বড়বাড়ি। ইংরেজি ‘এল’ অক্ষরের আকৃতিতে গড়া আমাদের এই অট্টালিকাটির বহির্বিন্যাস আভিজাত্যমণ্ডিত হলেও অন্দরের জীবনযাপনপ্রণালি ছিল খুবই সরল। এককালে দীয়তাং ভুজ্যতাং-এর বাহুল্য থাকলেও, যখনকার কথা বলছি, তখন তেমন কিছুই ছিল না। শুধু দোল-দুগ্‌গোচ্ছব-মোচ্ছবে কিছু রইসি ব্যাপার-স্যাপার দেখা যেত। বাড়িটিতে ঘরের সংখ্যা ছিল ষোলোটি। মোটা গথিক ঘরানায় তৈরি থামগুলোসহ একদিকে দোতলা আর অন্যদিকে একতলার বিন্যাসে বাড়িটি তার সংযুক্তি রক্ষা করেছে যে কৌণিক যুগ্মস্তম্ভে, তার আড়ালেই দোতলায় ওঠার সিঁড়ি। অট্টালিকাটির বয়ঃক্রম আনুমানিক দেড়শ বছর।

     

     

    এর আগে ছিল নাকি গোলপাতার ঘর। সাধারণ গেরস্তের ঘরই নাকি ছিল। আমাদের তালুকদারির বীজপুরুষ জগৎচন্দ্র এবং চন্দ্রমোহন বুদ্ধি এবং লাঠির জোরে একদা এই তালুকদারির তথা এই বাড়ির নির্মাণ করেন। একদিন যে বংশ চিকিৎসাবিদ্যাকে কুলকর্ম হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন, তাঁরা একসময়ে তালুকদার হলেন। বংশকথায় এ তথ্য পাই।

    চন্দ্রমোহন এবং জগৎচন্দ্র ছিলেন দুই ভাই। জ্যেষ্ঠ চন্দ্রমোহন, বাল্যেই পিতৃবিয়োগবশত পার্শ্ববর্তী বাসণ্ডা গ্রামের জমিদার সেন রায়চৌধুরীদের সেরেস্তায় গোমস্তার কাজ নেন। সেখানে কিছুকাল কর্ম করার প্রাক্কালে কনিষ্ঠ জগত্ত ওই জমিদারিতে একটি কর্ম পান। সেকালে তাঁদের মাস-মাইনে ছিল, জ্যেষ্ঠর বারো, কনিষ্ঠের পাঁচ। তখন তাঁদের গোলপাতার বাড়ি, হোগলের বেড়া। মা-বাপ অতি শৈশবে গত হলে, বিধবা পিসিমা, তাঁর একমাত্র পুত্র গুরুদাসকে নিয়ে ভাইপোদের সংসারের হাল ধরলেন। তারা এই মামাতো, পিসতুতো তিন ভাই ওই বিধবা রমণীর তত্ত্বাবধানে ক্রমশ প্রায় সহোদর ভ্রাতার ন্যায় একটি পরিবার গড়ে তোলেন। জগৎচন্দ্র, যিনি আমার পিতামহের পিতা অর্থাৎ প্রপিতামহ, তিনি আমাদের পিছারার খালের জগতের প্রত্যন্ত দক্ষিণ অঞ্চলের মহালে, বাসণ্ডার জমিদারদের খাজনা আদায়কারী গোমস্তা ছিলেন তখন। সন-তারিখের হিসেব জানি না, তবে লোকায়ত প্রবাদে তিনপুরুষে একশ বছর ধরলে জগত্মশাইয়ের সময়কাল প্রায় পৌনে দুশ বছর ধরা হয়তো যায়। তখন অবশ্যই ব্রিটিশ-সূর্য মধ্যগগনের পথে দ্রুত ধাবমান। জগত্মশাই তখন বাইশ-পঁচিশ বছরের যুবক।

     

     

    মহানুভব ব্রিটিশরাজ তখন এ দেশীয় ভূমির জরিপাদি কার্যে ব্যস্ত। আমাদের ওই রকম নবীন ভূখণ্ডের সমুদ্রকূলবর্তী প্রায় কিশোরী ভূমির বিষয়ে তাঁরা যে অবশ্যই যত্নবান হবেন, সে কথা বলাই বাহুল্য। জঙ্গল আবাদ করো, ভূমি হাসিল করো এই জাতীয় এক ফতোয়ায় বোধহয় এই সময় আমাদের এই দক্ষিণের অটবী–অঞ্চলকে নিমূর্লকরণের প্রক্রিয়াটি চালু হয়। সুন্দরীবনের অন্ত্যেষ্টি এভাবেই হয়েছিল।

    এই স্থানের হাজার হাজার বিঘা জমির কোনো এক আবাদের জনৈক মুসলমান জমিদার ছিলেন। এই পরগণে সেলিমাবাদ আবাদের শুরুতেই তাঁরা এখানে ভূস্বামী হয়ে বসেছিলেন নবাবি বরকতে। সে ইতিহাস লেখা নেই। কিন্তু আমার পিতামহ যখন তাঁর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে খাজনা আদায়কারী ব্যক্তি, তখন এই মুসলমান জমিদারের অধীনস্থ সম্পন্ন প্রজারা জগৎচন্দ্রের কাজকর্ম পর্যবেক্ষণ করে, তাঁর কাছে এক সমবেত আবেদনে হাজির হন। এই মুসলমান জমিদারটি অসম্ভব ইন্দ্রিয়পরায়ণ এবং অত্যাচারী হয়ে উঠেছিলেন। এ কারণে তাঁদের দাবি যে, জগত্মশাই যদি তাদের অছি হন, তবে তাঁরা ওই জমিদারের আওতায় আর থাকবেন না। এ কারণে হয়তো কিছু কাজইয়া ফ্যাসাদ হবে, তবে জগত্মশাই যদি আফইত্য না করেন এবং মদত দেন তবে সে ফ্যাসাদ মোকাবেলা করা যাবে।

     

     

    জগত্মশাইয়ের একটি সুসংগঠিত লাঠিয়ালবাহিনী ওই অঞ্চলে ছিল। সংক্ষেপে বলি ওই লাঠিয়ালবাহিনী এবং তাঁর বুদ্ধি সব মিলিয়ে মিঞাসাহেবের জমিদারটি অচিরে তাঁর হলো। মিঞা ভিখিরি হয়ে শেষজীবন যাপন করেছেন। এ কথা আমিও ওখান থেকে আসা প্রজাদের জোরগলায় বলতে শুনেছি। হয়তো জগত্মশাইয়ের কর্মকাণ্ডও ততদিনে সেখানে এক কিংবদন্তি হয়ে থাকবে। এভাবেই আমাদের তালুকদারির সূত্রপাত। তখন বোধকরি ঊনবিংশ শতকের মধ্যকাল। পরবর্তী দুই পুরুষে এর সৌষ্ঠব বাড়তে থাকে এবং বাগান, বৈঠকখানা, দিঘি, পুকুর, গোলাঘর, নাটমন্দির, অভিনয়-মঞ্চ ইত্যাদি, ইত্যাদি ক্রমশ বিস্তৃতি পায়। যার গঠনকল্প নবাবি এবং সাহেবি উভয় ঘরানার।

    যে চৌধুরী পরিবারের কথা বলেছিলাম, তাঁরা এবং তাদের জ্ঞাতিসূত্রে আমাদের পরিবারই এই পিছারার ঘাটের চৌহদ্দির তাবৎ উচ্চ এবং অপবর্গীয় মনুষ্যদের বীজপুরুষদের এ স্থানে বসতি করান। তবে এদের অনেক আগেই ধীবর-কৈবর্তরা এ স্থানে বসতি গড়েছিল। তারা শুধু মৎস্যজীবীই ছিল। চাষি-গৃহস্থ ছিল না। আবাদকারীদের অর্থাৎ চাষি-মনুষ্যদের নিয়ে এখানে যে বসতি স্থাপন আমাদের বীজপুরুষেরাই করান, এ তথ্য স্থানীয় ইতিহাসে পাওয়া যায়।

    আমার অনুমানে এই পিছারার খালের বিশ্বটি গড়ে উঠেছিল প্রায় তিনশ বছরের আবাদি প্রচেষ্টায়। এই বসতের সৃজন-কথা আশৈশব শুনেছি, এই স্থানের পরম রহস্যময় এবং আশ্চর্য পরণকথা শুনেছি এবং এই স্থানকে এক পরম দিব্য বিভায়ও একসময় দেখেছি; তারপর এর ধ্বংস যখন প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে তখনকার অপার দুঃখ তো জীবৎকাল ধরে বহনও করে যাচ্ছি। এই সমুদয় সমৃদ্ধি দেখে, এই আশ্চর্য জগতের এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিলীয়মানতা প্রত্যক্ষ করতে করতে আমার জীবন চিরকালের জন্য এক বিষণ্ণ জীবনই হয়ে রইল। আমার মতো হয়তো আরও হাজারো জীবনই এরকম দুঃখময়তার বিষণ্নতায় তাদের জীবন অতিবাহিত করে তাঁদের পিছারার ঘাটের শূন্যতাকে হৃদয়ে নিয়ে নিঃশেষ হলেন, তার খবর, ইতিহাসে কোথায় থাকে? লোকেরা শুধু গোদা কথায় দেশভাগ আর তার কার্যকারণ ব্যাখ্যা করে। সেই ব্যাখ্যাই ইতিহাস হয়, কিন্তু আমাদের অনুভবের দুঃখের স্থান সে ইতিহাসে কোথায়?

     

     

    গাজির ব্যাপারটি এবং আরও অনেক ঘটনা পিসিমার কর্তৃত্বে নাড়া দিয়েছিল। তাঁর ক্ষমতার জগতে সেই সময় এক ব্যাপক ভাঙন দেখা দিলে উনিশশ বাহান্ন কি তিপ্পান্ন সালের ফাল্গুনের এক সকালে বড়খালের ঘাটে একখানা বেশ বড়সড় নৌকো লাগল। পিসিমাবুড়ি তার বয়স্থ, বয়স্থা নাতি-নাতনিদের নিয়ে জীবনের দ্বিতীয়বারের মতো তাঁর বাপের বাড়ি ছাড়লেন। প্রথম ছেড়েছিলেন সাত বছর বয়সে, ‘রোহিনী বউ’ হিসেবে, কেননা, তখন ‘পঞ্চমবর্ষে ভবেৎ গৌরী, সপ্তমে চ রোহিনী’ একাদশ বর্ষে বৈধব্য নিয়ে ফিরে এসেছিলেন বাপের বাড়িতে ‘স্বামীখাগি’ অভিধা শিরোধার্য করে। তারপর এই তাঁর দ্বিতীয় বহির্গমন এবং শেষ। তাঁর চোখে আমরা কোনো কারণে কোনোদিন জল দেখিনি। কিন্তু নৌকোয় ওঠার আগে, বাড়ির সব ঠাকুর-দেবতা, তাঁর জাগেশ, উঠোনের গাছপালা, তাঁর তাবৎ প্রিয় বৃক্ষাবলি এবং মন্দিরগুলোকে প্রণাম করার সময়, তাঁর আকুল কান্না আমি দেখেছি। সে চিত্র ভোলার নয়। তাঁর আজীবনের অবলম্বন ওই সিংহ-পালঙ্ক ভর্তি অজিনাসনে উপবিষ্ট অসংখ্য ঠাকুর-দেবতার ছবি, পালঙ্কের আনাচে-কানাচে সব দেবতা, দেবকল্পিত নুড়ি, পাথর এবং ইত্যাকার তাবৎ আড়ম্বর আর তাঁর জীবনের সব অবলম্বন পরিত্যাগ করে বুড়িপিসিমা পিছারার খালের জগৎ ছাড়লেন। এইসঙ্গে আমাদের ব্রতকথা, পাঁচালি, বিভিন্ন খোলার মোচ্ছব এবং সমুদয় কিংবদন্তির যুগের অবসান হলো। আমরা বাকি যারা রইলাম, তারা নেহাতই একটা শ্মশানের পোড়া কয়লা আর ভাঙা কলসি হিসেবেই রইলাম। এরপর আর কেউই এমন থাকল না, যে প্রতিটি ক্রান্তিকালে বা সামাজিক তথা রাষ্ট্রীয় প্লবতার সময় সুন্দর সুন্দর সব স্বপ্নের কথা-কাহিনি শুনিয়ে আতঙ্কিতজনেদের খানিক আশ্বস্ত করতে পারেন। নৌকোয় ওঠার সময়, আমাদের সেই বৃক্ষদম্পতির শিকড় তাঁর মাথা কোটার আর্তি আজও এক অনুপম ছবি হয়ে আছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএঞ্জেলস এন্ড ডেমনস – ড্যান ব্রাউন
    Next Article কহলীল জিবরান রচনা সমগ্র (ভাষান্তর : মোস্তফা মীর)

    Related Articles

    মিহির সেনগুপ্ত

    বিদুর – মিহির সেনগুপ্ত

    January 20, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }