Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিষাদবৃক্ষ – মিহির সেনগুপ্ত

    মিহির সেনগুপ্ত এক পাতা গল্প596 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বিষাদবৃক্ষ – ১৮

    আঠারো

    একটা সময় ছিল যখন পিছারার খাল এবং বড় খালের দুই পারের ভদ্রলোক-হিন্দু যাঁরা, তাঁদের কেউ কেউ কলকাতায় থাকেন, চাকরি করেন, দোল-দুগ্‌গোচ্ছব-পূজাপার্বণে বাড়ি আসেন। পরিবারস্থ অন্যান্যরা দেশের বাড়িতেই থাকেন। জমিজমা, চাষবাস ইত্যাদি দেখাশোনা, সাতপুরুষের নানান আইশ্য নিয়ম পালন এইসব তাঁদের কাজ। কলকাতার বাবুদের দেশের বাড়িতে বড় কদর। তাঁরা দেশ-বিদেশের নানান খোঁজখবর রাখেন, রাজনীতি সমাজনীতি নিয়ে নানান তর্ক-বিতর্ক করেন। চকচকে শরীর, চা-বিস্কুট খান, শৌখিন ধাত তাঁদের। আর যাঁরা প্রান্তিক সাধারণ মানুষ, যারা বছরভর চাষবাস ফাইফরমাশ খেটে দিন গুজরান করে, তারা অবাক বিস্ময়ে এঁদের দেখে। তাঁদের সামান্যতম কাছাকাছি আসতে পারলেও শ্রদ্ধাভক্তিতে আনত হয়ে কৃত কৃতার্থ বোধ করে। মাঝেমধ্যে টাকাটা সিকেটা, জামাটা ধুতিটা পেয়ে ভাবে—বড় মাইনষেরগো পোলা, দিলডা বড় তো অইবেই। এইসব ভদ্রলোকবাড়ির কামকাজে আশপাশের ব্যাপক সাধারণ হিন্দু-মুসলমানজনের রুজি-রোজগার। এঁদের পার্বণই তাঁদের পার্বণ। এঁদের সুদিনেই তাঁদের সুদিন। শতচ্ছিন্ন হাঁটু ধুতি পরনে নিশিকান্ত নাটুয়া অথবা ‘আষ্ট গোন্ডা তালিমারা’ লুঙ্গিধারী এরফানউল্লাহ, এ কারণে, যখন একটা কোডা ধুতি বা ‘চ্যাক চ্যাক’ লুঙ্গি উপহার পায়, তারা আহ্লাদে বেশক ‘ফাউকায়’। আট-দশ গ্রাম ঘুরে, তারা এই সম্মানের বৈভব দেখায় মানুষদের,—অমুক বাড়ির কইলকাতইয়া বাবু দেছে। পোশাকের চাইতেও পোশাক প্রাপ্তির সম্মান তখন তাদের কাছে বড় হয়ে ওঠে। আবার এইসব কলকাত্তাই বাবুরা যখন এই পিছারার খালের চৌহদ্দিতে আসেন তখন বেশ কিছু আধুনিকতা তাঁদের গায়ে জড়িয়ে নিয়ে আসেন। তাঁদের আলাপ-আলোচনা, আচার-আচরণ, গান-বাজনা, থিয়েটার এবং নানান শখ-শৌখিনতায় তা প্রকাশ পায়। আমার পিছারার খাল, বড় খালের অজ গ্রামীণজগতে এভাবেই এক ধরনের আধুনিকতার প্রকাশ ঘটে। সেই আধুনিকতায় এইসব মানুষ কোনো-না-কোনোভাবে ঋদ্ধ হয়। সেই ঋদ্ধতায় তারা শুধু এটুকুই ভাবতে পারে যে—বাবুগো পোলাপানেগো নিয়ইত ক্যাতো চোমৎকার!—তাদের ‘পোলাপানেরা’ তখন ‘সাজ-সবেরে’ গোখাটা খাটে ফসলের খেতে। এইসব অনিবার্য এবং প্রায় চিরন্তনী ঘটনাগুলো ঘটে পিছারার খাল এবং বড় খালের দুই ধারে, বিশেষত শারদীয় উৎসবের সময়টিতে। কেননা এই সময়েই কলকাতাপ্রবাসী বাবুরা বাড়িতে আসেন, দেশের বাড়ি। বছরের বেশির ভাগটিই কাটে তাঁদের কলকাত্তার বাসাবাড়ি অথবা মেসবাড়িতে। এঁদের মধ্যে কেউবা চাকরিজীবী, কেউ-বা কলেজে পড়াশোনা করতে গেছেন। তদানীন্তনকালের রীতি অনুযায়ী এঁরা বেশিরভাগই, বয়স যাই হোক, বিবাহিত। স্ত্রী এবং যাঁদের সন্তানাদি জন্মেছে, তাদের দেশের বাড়িতেই রাখা বিধি। সে অর্থে আমার পিছারার খালের চৌহদ্দির ভদ্রসমাজের যুবকেরা সম্প্রদায় নির্বিশেষে প্রোষিতপত্নীক এবং তাঁদের পত্নীরা প্রোষিতভর্তৃকা। অতএব দোল মোচ্ছব, দুগ্‌গোচ্ছব, শ্রদ্ধাদি যে কারণেই তাঁদের এই স্থানে আগমন ঘটুক, তা বড়ই বর্ণাঢ্য এবং আনন্দের হয়। সাধারণ মানুষেরা এই আনন্দের অংশী বলে, যার যা সাধ্য সেই অনুসারে নিজেদের এবং সন্তানদেরও বঞ্চিত করে তাদের শ্রেষ্ঠ সামগ্রীগুলো এঁদের ভোগের জন্য মিনিমাঙনা দিয়ে যায়। তখনও ভাঙন স্পষ্ট হয়নি বলে এঁরাও তা সহজ অধিকারে গ্রহণ করেন। অবশ্যই তাঁরা এই মানুষদের আকাঙ্ক্ষার বিষয়েও উদাসীন থাকেন না।

     

     

    ব্যবধান অবশ্যই তখন ছিল। ছিল শোষণ এবং সুবিধে গ্রহণের পরম্পরাও, তথাপি কোথাও যেন একটা নিশ্চিত আত্মীয়তা ছিল। প্রান্তিকজনেরা জানত, এঁরা মা-বাপ, স্ত্রী-পুত্র-কন্যা-আত্মীয়-বান্ধবদের ছেড়ে কোথায় কোন বিদেশবিভুঁইয়ে থাকেন, আহা! তারা কী খায়েন, কী-বা করেন, অতএব এঁরাও যখন দেশের বাড়িতে আসতেন এইসব প্রান্তিক মানুষদের কথা কিছুই যে ভাবতেন না এমন নয়। এই মানুষদের সম্পর্ক একান্তই যে খাদ্য-খাদকের ছিল তা বলব না। আত্মীয়তার বন্ধন একটা যে ছিল, তা দেখেছি এবং জেনেছিও।

    তারপর শারদীয় উৎসব শেষ হয়ে গেলে পৃথিবীর এই প্রান্তে হেমন্ত নামত ফসল কাটার মরসুম হয়ে। তীব্র কর্মপ্রবাহে তখন প্রান্তিকজনেরা প্রবাসী এইসব মানুষদের বয়ে আনা নতুনতা, আধুনিকতা এবং চাকচিক্যের উষ্ণতা ক্রমশ বিস্মৃত হয়ে আটপৌরে হতে থাকত, কিন্তু তা নিঃশেষে বিলীন হতো না। থিতু হয়ে তা একসময়ে তাদের মধ্যে কিংবদন্তি তথা পরণকথা হয়ে এক ধ্রুবপদ হতো। এই ধ্রুবপদটি তাদের অভ্যেসে গভীর এক প্রভাব ফেলেছিল, আর তার বহতা ছিল বহু, বহুকাল ধরে। গ্রামগুলো যখন শূন্য হয়ে গেল, যখন আর কোনো কিরায়া নৌকো প্রবাসী এইসব বাবুদের নিয়ে বড় খালপারের রেনট্রির শিকড়ে কাছি বেঁধে নোঙর করত না, তখনও প্রান্তিক এই মানুষদের মধ্যে এই আকাঙ্ক্ষার অপেক্ষা দেখেছি। বড় খালপারের উঁচু পথ ধরে চলার সময় তারা বলাবলি করত ‘অমুকবাড়ির অমুকবাবুর পোলায় তয় কি এবার পূজায় আইবে না’, তাঁরা একসময় থেকে আর আসেন না। কিয়ারা নৌকোগুলোর সংখ্যা আস্তে আস্তে কমতে থাকে। যেসব বাড়ির ছেলে তাঁরা, সেইসব ঘরগুলো তালাবন্ধ থেকে থেকে ভূতুড়ে হয় অথবা শুধু ভিতটা একটা কুৎসিত বেঢপ চিতার মতো পড়ে থেকে খাঁখাঁ করতে থাকে।

     

     

    প্রান্তিকজনেরা গোপাট থেকে গাভি বা বলদগুলোর লেজ মুচড়োতে মুচড়োতে ফিরিয়ে নিয়ে আসার সময় ভাবে, ‘হ্যারা আর আয় না ক্যান?’ আমি দেখেছি এই সময় এইসব মানুষের বুকে যেন এক বিষাদের জন্ম হতো। সেই বিষাদ শারদীয় উৎসব শেষ হবার পরও হেমন্তের ধানের ছড়ায়, ঘাসের শিশিরে যেন এক করুণ ছবি হয়ে দুলতেই থাকত, দুলতেই থাকত। আমাদের বাড়ির পুরনো মুনিষ-মাহিন্দরেরা এই কলকাতার বাবুদের ঘরে ফেরা নিয়ে নানান স্মৃতিকথা বলত, আর হুতাশ করত, আহা! কী দিনই না গেছে! কী আছিল আর কী অইল! তাদের জবানে আমাদেরই একদার কথা গল্প শুনতে শুনতে আমার এই সময়ে খুবই মন খারাপ হত, মন খারাপ বোধকরি আমার চাইতে তাদেরই হতো বেশি।

    এরকম এক সময়ই তখনও তালুকদারি লুপ্ত হয়নি, আমাদের বাড়িতে একজন সর্বক্ষণের রাখাল বহাল হয়েছিল। তার নাম নাগর আলি, যার কথা আগেই বলেছি। নাগর আলি ভাই ছিল সেই সময় আমরা যে কটি বালক গ্রামে ছিলাম, তাদের সর্দার, যদিও তার তখন চুলদাড়ি সাদা। সে আমাদের বড় বৈঠকখানার দরবারে বাবুদের অনুপস্থিতিকালে আমাদের নিয়ে আসর জমাত। গল্প বা কিস্সা বলা এবং কথায় কথায় গান গাওয়া ছিল তার স্বভাব। লোকটি অকৃতদার। প্রায় জন্মসূত্রেই রাখাল। ভরাভর্তি গ্রামের সুখের দিনের গল্প তার কাছেই বেশি শুনতাম। কলকাতার বাবুদের ঘরে ফেরার এবং তাদের নানা ব্যাপার-স্যাপার নিয়ে আমাদের বেশ রসিয়ে গল্প করত সে। গ্রাম শূন্য করে চলে যাওয়া মানুষদের ওপর তার ছিল ভীষণ অভিমান। ভাগাভাগি, হানাহানির ব্যাপারে তার যে কী পর্যন্ত বিতৃষ্ণা ছিল আজও তা মনে পড়লে চোখে জল আসে। একবার ইউনিয়ন বোর্ডের নির্বাচনের সময় সে একখানা গান বেঁধেছিল। সেই গান মাঝে মাঝেই সে আমাদের শোনাত। সে গাইত–

     

     

    যতসব দীনদরদি
    তারা সব পাইছেন
    গদি খালি মোরা দেহি
    হাতে কাম নাই
    ও মেয়া ভাই রে
    কওছেন দেহি
    ক্যামনে প্যাট চালাই?
    হিন্দুরা যায় হিন্দুস্থানে
    আর দরদীরা ট্যাহা গোনে
    আর নজর হ্যারগো ডাহার পানে
    মোগো হিসাব নাই—
    ও মেয়া ভাই রে
    কওছেন দেহি ক্যামনে প্যাট চালাই।

     

     

    তাদের পেট চালাবার ব্যবস্থা ইতিপূর্বে যা ছিল, তা যে খুব উচ্চ আদর্শের তা অবশ্যই নয়। তবে সেটা একটা ব্যবস্থা তো বটেই। এখন ব্যাপক গেরস্ত হিন্দু মধ্যবিত্ত গ্রাম শূন্য করে যেতে থাকলে তাদের গতি কী হয়?

    তখন যে কথা বলেছি, হিন্দু-মুসলমান উভয় সমাজেরই বনেদি, শিক্ষিতদের অনেকেই দেশের বাড়িতে পরিজনদের রেখে শহর কলকাতায় অথবা ঢাকা-চট্টগ্রাম ইত্যাদি শহরে চাকরিজীবীর জীবনযাপন করতেন। এইসব স্থানে কারও কারও একটা আস্তানা বহুকাল থেকেই ছিল, দেশভাগের পর তার দ্রুত বিস্তৃতি ঘটতে থাকে। যেন দেশভাগজনিত সমস্যায় ওই আশ্রয়কে অবলম্বন করা যায়। এই ব্যবস্থা অবশ্যই শুধু উচ্চ এবং মধ্যবিত্তদের ছিল। এর ফলেই আধুনিকতার কেন্দ্র মহানগরী কলকাতার সঙ্গে এই অজ গ্রামীণজগতের একটা নিয়ত যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল একদা।

    আমাদের বড়দা ছিলেন বাড়ির জ্যেষ্ঠ পুত্র। তিনি কলকাতায় পড়াশোনা করতেন, পরে চাকরিসূত্রেও সেখানেই তাঁর অবস্থান। ছুটিতে যখন বাড়ি আসতেন, সে এক কাণ্ড। ‘বড় বাড়ির বড়পোলায় বাড়ি আইছে।’ খালের ঘাটে বাহারি নৌকো লেগেছে। খানাবাড়ির ধোপা, নাপিত বা কুমোরদের কেউ তা দেখতে পেয়ে অন্দরে খবর দিতে ছুটছে। কী? না, ‘উনি আইয়া পড়ছেন’। আমরা দেখতাম, একজন সুবেশ যুবা, পরনে এন্ডির পাঞ্জাবি এবং চুড়িদার পাজামা, তীক্ষ্ণ গ্রিসীয় নাসা আর গভীর চোখ এবং উজ্জ্বল স্বাস্থ্যের প্রায় পরণকথার রাজপুত্তুরের মতন পুরুষ নৌকো থেকে অবতরণ করছেন। জনাকয়েক খানাবাড়ির মনুষ্যপ্রজা তাঁর যাবতীয় বোঝা কাড়াকাড়ি করে বয়ে আনছে বাড়ির দিকে। বাড়িতে মহা হইচই, ধুমধাম। বিপিনকে বাজারে পাঠানো হচ্ছে। কেউ পুকুরে জাল ফেলছে। সে এক অসুমার কাণ্ড। বড়দাদা তখন কলকাতায় থাকেন, রেলের বাবু, উপরন্তু ঘোরতর তালুকদারি জমিদারিতন্ত্রের বিরোধী। মহানগরীর কমিউনিস্ট তন্ত্রাচারী। সামন্ততন্ত্রের ভয়ানক সমালোচক। কিন্তু অন্যদিকে বেজায় মেজাজি আর রোমান্টিক। সে এক প্রগাঢ় বিত্তান্ত। বড়দাদার চরিত্রে নানান গুণের সমাহার, যার থই পাওয়া ভার। এ ক্ষেত্রে বাবার একটি কুবচন মনে আছে। তিনি বলেছিলেন, কমিউনিস্ট, তয় হেয়া বুজি হাউসের। অর্থাৎ শখের। বড়দাদার আচরণে সামন্তপনার কিছু ঘাটতি তখন দেখিনি। চাকরবাকর বা খানাবাড়ির প্রজাদের প্রতি আচরণে যে নমুনার প্রকাশ আমার স্মৃতিতে আছে তা বাবার মন্তব্যের বিপরীত নয়। কিন্তু তাঁর নানাবিধ গুণে যে আমরা অর্থাৎ তাঁর কনিষ্ঠরা ঋদ্ধ হয়েছি এ কথাও মিথ্যে নয়।

     

     

    আমরা ছোটরা তখন আগানে-বাগানে ঘুরি, পুকুরে বড়শি ফেলে মাছ ধরি, পাতিশিয়ালের গর্ত খুঁড়ে তাদের ছানা বের করে এনে পাঁঠাবলি খেলি। দাদা আমাদের ইদৃশ ইলুতেপনায় যৎপরোনাস্তি বিরক্ত হয়ে শক্ত শক্ত অঙ্ক আর ট্রান্সলেশন দিয়ে দরদালানের বারান্দায় বসিয়ে দিতেন। না পারলে বেদম প্রহার। এ কারণে তাঁর আগমনের আনন্দ অচিরেই মাটি হতো। তবে এ যন্ত্রণা আমাদের খুব বেশিক্ষণ সইতে হতো না। অন্যান্য বাড়ির যাঁরা ততক্ষণে এসে পৌঁছতেন, তাঁরা অচিরে হাজির হয়ে তাস, পাশা, দাবা, নৌকো ভ্রমণ, চড়িভাতি এবং কমিউনিস্ট নিয়ে ব্যস্ত হয়ে আমাদের অব্যাহতি দিতেন। আমরাও তখন বড়শি হাতে আবার বেড়, পুকুর বা খালধারে গিয়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচতাম।

    দুপুরের খাওয়াদাওয়ার পর দাদা তাঁর বন্ধুবর্গকে নিয়ে ছোট বৈঠকখানার তক্তপোশগুলোতে জাঁকিয়ে বসে কমিউনিস্টির তক্ক করতেন। কখনো-বা বায়োস্কোপ, থিয়েটার, শচীন কত্তা বা অন্য কোনো গায়কের গান এবং আবৃত্তি এইসব করতেন। তখনকার প্রান্তিক হিন্দু-মুসলমান সাধারণজনেরাও এই আসরে এসে শ্রোতা হতো। এভাবেই মাহনগরীর আধুনিকতার কথা কিছু কিঞ্চিৎ পিছারার খালের মানুষদের তৃপ্ত করত। প্রান্তিকজনেরা এভাবেই কলকাতার বাবুদের হালচাল, কথাবার্তা শুনে সেই আশ্চর্য নগরীর বিষয়ে কিছু ধারণা তৈরি করে নিত।

     

     

    কিন্তু একসময় এই দেশের বাড়িতে আসার এবং গ্রামকে উৎসবের চূড়ান্তে পৌঁছনোর পালা শেষ হয়ে গেল। পিছারার খাল আর বড় খালের পারে সৃষ্টি হলো এক বিশাল শূন্যতা। সেই শূন্যতা আমি স্বয়ং উপলব্ধি করেছি, উপলব্ধি করতে দেখেছি ওখানে থেকে যাওয়া হিন্দুদের এবং মুসলমানজনেদেরও। এমনকি যারা হিন্দুদের দেশত্যাগজনিত কারণে সমূহ লাভবান, তাদের বাড়ির যুবজনেরা বা মেয়েরা এই শূন্যতার কারণে যে নিদারুণ কষ্ট ভোগ করত, তাও তো দেখেছি। এই শূন্যতা ভরাট করার উপায় এখানের মুসলমান সমাজের মানুষদের তখন ছিল না। পিছারার খালের আবেষ্টনীর মুসলমান এবং তফসিলী সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষদের মধ্যে কোনো মধ্যবিত্ত শ্রেণির অস্তিত্ব ছিল না। যা দু-একজন এই শ্রেণিচরিত্রের ছিলেন, তাঁরা শ্রেণি গঠন করেননি, শুধুই মধ্যবিত্ত শ্রেণি বলতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভদ্রবাবুরাই ওখানে সমাজের স্তম্ভ এবং এ কারণেই তাঁদের দেশত্যাগ এই বিরাট শূন্যতার বাতাবরণ তৈরি করেছিল। পিছারার খালের অবেষ্টনীতে আজও যদি কেউ হঠাৎ গিয়ে পড়ে, সেই শূন্যতা আজ পঞ্চাশ বছর পরেও কবরের নিস্তব্ধতার মতোই হাহাকারপূর্ণ তা কি হিন্দু গ্রামে কি মুসলমান গ্রামে। সেখানে আর নতুন কোনো সমাজ সৃজন হলো না। মুসলমানসমাজের যুবকেরা, যারা শিক্ষিত মার্জিত হলো, তারা শহরে-নগরে নিজ নিজ পরিবারস্থদের স্থানান্তরিত করল। জমিজমা ইত্যাদির শাসন শহর থেকেই তারা করতে থাকল। তাদের কিছু দুর্বল আত্মীয়স্বজন, যারা চাকরিজীবী নয়, তাদের ওপর দায়িত্ব থাকল এই জমির উপজসমূহের মূল্য তাদের শহরের ঠিকানায় পৌছে দেয়ার এবং চাষবাসের ব্যবস্থাপনাদির ওপর নজর রাখার। এ কারণে এই পিছারার খালের, বড় খালের আশপাশের গ্রামগুলোতে অবশিষ্ট থাকল একান্ত কৃষি এবং কৃষিশ্রমনির্ভর যারা তারাই, যদিও জমির মালিকানা শহরের চাকরিজীবী বা পেশাগতভাবে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল অথবা ব্যবসাজীবীদের হাতেই। অনুপস্থিত ভোক্তারা কৃষির উন্নয়ন বিষয়ে কিছুমাত্র যত্নবান হলো না। তাই এই স্থানের আর কোনোই উন্নতি দেখা গেল না। খাল, নদী, পুকুরের সংস্কার হলো না, কৃষির বিষয়ে যুগানুযায়ী অধিক ফলনের প্রচেষ্টা হলো না, ব্যাপারটা পরম্পরাগত নিয়মেই চলতে থাকল। এভাবেই মানুষ দুঃখের পঙ্কে নিমজ্জিত হতে লাগল আরও বেশি করে। এখানে তখনও যারা ভিটে আঁকড়ে পড়ে, তারা আমার বাল্যের দেখা সেই প্রায় আদিম ব্যবস্থায়ই ছিল। মধ্যস্বত্ব লোপ হয়েও তাদের কোনো উন্নতিই হয়নি। তারা কোনো অর্থনৈতিক পুনর্বাসন পায়নি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএঞ্জেলস এন্ড ডেমনস – ড্যান ব্রাউন
    Next Article কহলীল জিবরান রচনা সমগ্র (ভাষান্তর : মোস্তফা মীর)

    Related Articles

    মিহির সেনগুপ্ত

    বিদুর – মিহির সেনগুপ্ত

    January 20, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }