Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিষাদবৃক্ষ – মিহির সেনগুপ্ত

    মিহির সেনগুপ্ত এক পাতা গল্প596 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বিষাদবৃক্ষ – ২৯

    ঊনত্রিশ

    বাবার সঙ্গে মাস্টারমশাইয়ের কথাবার্তা হওয়ার দিন রাতের বেলা পড়াশোনা শেষ হলে স্যার আমাকে নিয়ে পাটাতন বা ‘টোঙ্গের’ ঘরে উঠলেন। আমরা ওখানেই রাতে ঘুমোতাম। একটা বাঁশের মই ছিল সেখানে ওঠার। আলোর ব্যবস্থা, যেসব ছাত্র ওখানে রাতে থেকে পড়াশোনা করত, তাদের নিজস্ব, আমি ছাড়া। আমার সব ব্যবস্থাই ছিল মাস্টারমশাইয়ের। বিজয় বলত—তুই পুইষ্যপুত্তুর কিনা হে কারণে এরকম ব্যবস্থা। তা সেই ব্যবস্থায় আমার বরাদ্দ একটি ‘টেমি’ এবং মাস্টারমশাইয়ের নিজস্ব প্রয়োজনে তাঁরও একটি ‘টেমি’। আমাদের পড়ানো এবং তাঁর নৈশ আহার শেষ হলে, তিনি নিজস্ব টেমিটি নিয়ে ‘টোঙ্গে’ উঠতেন। আমি পড়া শেষ হয়ে গেলে আলো নিবিয়ে উঠে যেতাম। সে সময় অবশ্য তিনি ঘুমোতেন না। ওই ক্ষীণ আলোয় বসে বসে হয় ব্যাকরণ কৌমুদী, নতুবা ইংরেজি কোনো গ্রামারের বই অথবা সংস্কৃত কোনো নাটক, কাব্য ইত্যাদি পড়তেন।

    মাস্টারমশাইয়ের বাড়িতে কোনো ঘড়ি ছিল না। ছাত্ররাও সে যুগে ঘড়ি হাতে পরার মতো স্বাধীন বা বিলাসী হবার কথা ভাবতে পারত না, তা তাদের পারিবারিক অবস্থা যেমনই হোক। আমরা তখনও দণ্ডঘোষক পশু বা পাখির ডাকের মাধ্যমেই ‘রাত কত হলো’ খবর বুঝতাম, দিনের বেলা রোদের ছায়া বা সূর্যের অবস্থান দেখে। মাস্টারমশাইয়ের হুকুম ছিল যে, ‘কুকখায় তিন পাক দিলে শুইতে যাবা’। কুক্‌ক্খা বা কুক পাখি নাকি প্রতি প্রহরে একবার করে ‘পাক’ দেয়। প্রহর-ঘোষণার আর একটা মাধ্যম ছিল শেয়ালের ডাক। আমি অবশ্য কোনো দিনই কুকখা দুবার পাক দেয়া পর্যন্ত জেগে থাকতে পারতাম না। ঘুমে চোখ জড়িয়ে আসত। এ জন্য বিরক্ত মাস্টারমশাই আমাকে জাগিয়ে রাখার একটি অভিনব দাওয়াই-এর ব্যবস্থা করেছিলেন। তখন লম্বা চুল রাখা স্টাইল ছিল। মাস্টারমশাই চুলের গোছার সঙ্গে একটি বেশ শক্ত সুতো বেঁধে আড়ার সঙ্গে অন্য প্রান্তটি বেঁধে রাখতেন। উদ্দেশ্য, বসা অবস্থায় ঝিমোলে চুলে টান পড়বে, ঘুম চটে যাবে এবং আমি আবার পড়তে শুরু করব। কিন্তু এ দাওয়াই একদিন ভুল প্রতিপন্ন হলো। এক ঊষাকালে মাস্টারমশাই যখন তাঁর নিয়মিত প্রাতঃ কাব্যোচ্চারণে বাঁশের মই বেয়ে ‘পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল। কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল’ ইত্যাদি আবৃত্তি করতে করতে নামলেন, দেখলেন ‘শিশু শিরে সূত্র বন্ধন যুক্ত অবস্থায় অক্লেশে ঘুমাইতেছে। তাহার কিছুমাত্র বিকার নাই।’ ‘তাহার আপন পাঠেতে’ মনোনিবেশেরও কিছুমাত্র উদ্যোগ নাই। রাত কাবার। আমি ওই অবস্থায়ই রাতটি পার করেছি। ঘুমের কিছুমাত্র বিঘ্ন হয়নি। মহাশয় সম্ভবত আসন্ন পরীক্ষাজনিত ত্রাসে আমার ‘কুকখার পাক পর্যন্ত’ পড়াশোনা করারও অতিরিক্ত প্রহর অতিক্রমে যৎপরোনাস্তি আনন্দ হৃদয়ে পোষণ করে একসময় ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু প্রত্যুষের দৃশ্য তাঁকে যে আনন্দিত করেনি সে কথা বলা বাহুল্য। ফলে আদেশ পরিবর্তিত হলো। কুকখার দুই পাকের পর তিনি যখন ‘টোঙ্গে’ উঠতেন, আমাকে সঙ্গে নিয়ে ওঠাই বিবেচকের কাজ বলে ধরে নিয়েছিলেন। আমাদের দেশের প্রাজ্ঞপুরুষেরা কিছু দেশজ ভাষায় আপ্তবাক্যের সৃজন করে গেছেন। তার মধ্যে একটি অনুপম বাক্য হচ্ছে-‘পোলাপানের হাতে লোয়া (লোহা), শয়তানে মারে গোয়া’। কথাটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা না করাই শ্রেয়, ছুঁৎবাইগ্রস্তেরা হামলা করতে পারেন। তবে আভাসে বলি, বাচ্চাদের হাতে তীক্ষ্ণ লৌহাদি থাকলে ইবলিস (আলায়েসাল্লাম) তাদের ওপর সওয়ার হয়ে তাদের দিয়ে নাকি নানা ‘আকাম’ করায়। কথাটি যে যথার্থ, এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করে সাধারণত গাধারা অথবা চিরকুমারেরা। কারণ গাধাদের বুদ্ধি নেই আর চিরকুমারদের জাগতিক কাণ্ডজ্ঞান পূর্ণ নয়। ইবলিস (আ.) কাণ্ডজ্ঞানহীন চিরকুমারদের যে কীভাবে কাজে লাগায়, তার ভূরিভূরি দৃষ্টান্ত আমার সঞ্চয়ে আছে। তবে চিরকুমার হলেও মাস্টারমশাই রসহীন ছিলেন না। তাঁর সঙ্গে একসঙ্গেই যদিও আমাকে ওপরে উঠতে হতো, তিনি কিন্তু তখন আমাকে পাঠ্যপুস্তক পড়ার জন্য নিপীড়ন করতেন না। তখন পাঠ্যবহির্ভূত বইপুস্তক নিয়ে তিনি গল্প জুড়তেন। এটা তাঁর পড়াবার একটা কৌশলও ছিল। তাঁর কাছে পাঠ্যপুস্তকের পড়াটাই একমাত্র পড়া বলে বিবেচিত হতো না। এভাবেই তাঁর কাছে আমার কিছু-কিঞ্চিৎ সংস্কৃত কাব্যনাটকের পাঠ রপ্ত হয়েছিল। আশ্চর্য ব্যাপার ছিল এই যে, কুপির ওই ম্লান আলোয় তিনি যখন এসব পাঠ ব্যাখ্যাতেন, তখন আমার ঘুম উধাও হয়ে যেত। আজ এই প্রায় বৃদ্ধকালে সেইসব মধুর স্মৃতি যেন বেদনার মতো বাজছে। বর্ষার রাতগুলোতে যখন তাঁর টিনের চালার ওপর বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটাগুলো চড়বড় করে পড়তে আরম্ভ করত, তখন তাঁরই শেখানো ‘মেঘদূতম’-এর শ্লোক ওই বারিপাতের ছন্দের সঙ্গে মিলিয়ে আমার কিশোরকণ্ঠের সুরে আবৃত্তি করতাম—

    মার্গং তাবচ্ছৃণু কথয়তত্ত্বৎপ্রয়াণানুরূপং
    সন্দেশং মে তদনু জলদ! শ্রোষ্যসি শ্রোত্রপেয়ম্‌।
    খিন্নঃ খিন্নঃ শিখরিষু পদং ন্যস্য গন্তাসি যত্র
    ক্ষীণঃ ক্ষীণঃ পরিলঘু পয়ঃ স্রোতসাঞ্চোপযুজ্য ॥

    জলভারযুক্ত মেঘের গমন-পথটি কেমন হবে, শিপ্রাতটের কবি তা-ই তাকে বলে দিচ্ছেন। নববর্ষার নবীন জলদ মেঘ, সে তো পাতলা, হালকা মেঘের মতো চলতে পারবে না, তাকে অনেক হিসেব করে চলতে হবে কবি তাকে পথনির্দেশ করে দিচ্ছেন। তার এখন নবীন যৌবন। সে এখন যদৃচ্ছ ঊর্ধ্বগগনচারী হতে পারবে না। সোজাসুজি কোনো রাস্তাও তার নেই। তার রাস্তা সহজ নয়, তাকে এঁকেবেঁকে কত কসরত করেই না যেতে হবে। কখনো সে তার দেহভার কোনো উপত্যকায় খানিক বর্ষণে হালকা করে নেবে, কখনো-বা কোনো পর্বতদুহিতা নির্ঝরিণীর সুপেয় স্বাদু জলে কথঞ্চিৎ বল সংগ্রহ করে নেবে। এইসব শ্লোক আবৃত্তি করার সময় নানান চিন্তা আমার মনে জাগরূক হতো। এই যে মেঘ যেমন দক্ষিণ-সমুদ্র থেকে তার ভারী শরীর নিয়ে এতদূর এসে আমাদের টিনের চালায় চড়বড় করে তার দেহভার লঘু করল, তেমনি আরও অগ্রসর হয়ে সে যেন সত্যিই কোনো নির্ঝরিণীর জল পান করে বলশালী হয়ে স্বকার্যসাধনে গমন করতে পারে। আমার শঙ্কা হতো যে, এত শীঘ্রই সে বলক্ষয় করলে কীভাবে অতদূর পথের প্রান্তে অলকাপুরিতে গমন করবে?—মাস্টারমশাই আমার আবৃত্তি এবং আশঙ্কার কথা শুনে খুব খুশি হয়ে আরও অনেক শ্লোক আমাকে শেখাতেন। সেসব আর আজ স্মরণে নেই। তবে সেসব দিনে অতিরিক্ত খুশি হলে যে তিনি পকেট থেকে বার করে এক-আধ চাকা পাটালি উপহার দিতেন, তা দিব্যি মনে আছে। কাব্যরসের মিষ্টত্বের চাইতে পাটালির মিষ্টত্ব যে অধিক ধ্রুপদী এবং কালজয়ী, এর দ্বারা সে তত্ত্ব নিশ্চয় প্রমাণ হয়। মাস্টারমশাই নিজে গুড় খুব পছন্দ করতেন, আমাকেও প্রায়ই এই উপহারটি দিতেন। আমিও সেসব দিনে এর প্রকৃত গুণগ্রাহী ছিলাম। তবে যা-ই বলি না কেন, কাব্যরসের মিষ্টতার সঙ্গে গুড়ের মিষ্টতার কোনো নিকট-সম্বন্ধ আছে বলে ডাঙর বয়সে কোনো প্রমাণ পাইনি।

    কথায় কথায় অনেক কথাই ব্যাপকভাবে আসছে। স্মৃতিচারণার এ এক ব্যামো। মূল কথা থাকল এক পাশে পড়ে, ‘বিষয়ান্তর এসে’ তাকে প্রায় অচ্ছুৎ করে তুলল। তখন সে যেন ‘বড়মিঞা’, তার তরিবৎ তখন প্রধান হয়ে ওঠে।

    সেদিন টোঙ্গের ঘরে গিয়ে মাস্টারমশাই বলেছিলেন, তোর বাবার লগে তো আইজ কথা হইল। মনে হয়, মাঝে মাঝে তোর বাড়ি যাওন দরকার। ছোডো ছোডো ভাই-বুইনেরা, তোর মায়, এ্যারা তোর লইগ্যা রোজই ফোঁপায়। আমি কই তুই সপ্তাহে পাঁচ দিন এহানে থাক, বিষ্যুইদবার ইস্কুলের পর বাড়ি যাইয়া শনিবার আবার আবি। শুক্কুরবার ছুটির দিনডা ওগো লগে থাকলি। ভাই-বুইনগুলার ল্যাহাপড়াডাও এট্টু দ্যাখা লাগে।

    মাস্টারমশায়ের কথায় আমার মাথা থেকে একটা বিরাট বোঝা নেমে গেল। তাঁর আশঙ্কা হয়েছিল বাড়ি গিয়ে সংসারের হালে আবার নিজেকে পুরোপুরি জড়িয়ে না ফেলি, তাহলে তো পড়াশোনার ইতি হয়ে যাবে। বাবার সঙ্গে কথা বলে তাঁর সে আশঙ্কা দূর হয়েছিল।

    যা হোক, তাঁর অনুমতি নিয়ে সেবার দুদিন নয়, এক সপ্তাহের জন্যই বাড়ি গেলাম, বাবা যে ছাত্র পড়ানোর পরিকল্পনা করেছিলেন তা আমার মাথায় ছিল। আশপাশ-গ্রামের মুসলমান ছাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাত-আটজন ছাত্র পাওয়া গেল। তারা নিয়মিত পড়লে পঞ্চাশ-ষাট টাকা অনায়াসে পাওয়া যাবে। বাড়িতে ঘরের অভাব ছিল না। অনেক ঘরই খালি পড়ে ছিল। তার একটি ঘরে তারা রাতে এসে পড়াশোনা করবে। বাবা এবং যখন আমি বাড়িতে থাকব, আমি, তাদের দু-তিন ঘণ্টা পড়া দেখিয়ে দেব। এতে বাড়িরও একটা সুরক্ষার বন্দোবস্ত হলো। এইসব ছেলে ছোট, মাঝারি চাষিদের সন্তান। তারা আমাদের খুব ভালোবাসত এবং মানত। আগে যেসব লোকের কথা বলেছি, এরা তাদের থেকে একেবারেই আলাদা। স্বভাবে নম্র এবং ভদ্র। পড়াশোনা করার মতো যথেষ্ট আর্থিক সংগতি না থাকলেও এরা খুব আগ্রহী ছিল। এদের বাপ-চাচারাও মানুষ হিসেবে খুবই সরল সোজা ছিল এবং আন্তরিকভাবেই চাইত যে, তাদের সন্তানেরা কিছু পড়াশোনা শিখুক। এরা বেশির ভাগই নিম্নবর্গীয় সমাজের। উচ্চবর্গীয়দের সঙ্গে তাদের একটাই সমানাধিকার ছিল, তা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের। মিলাদুন্নবির জমায়েত, জুমার নামাজ আদায়, ঈদের দিনের কোলাকুলি, এইসব ব্যাপারেই যা সমতা। নচেৎ শত ঢক্কানিনাদেও কি সারা মুসলিম জাহানে ‘আলবেরাদরির কোনো নজির দেখা যায়? আমার পিছারার খালের আশপাশের মুসলিম পরিবারগুলোর পূর্বজরা অমুসলিম অবস্থা থেকে যে কারণে ইসলামে শরিক হয়েছিল, অদ্যাবধি তার কোনো সুরাহা হয়নি। তারা বর্গে এবং বর্ণে যে স্থানে অবস্থিত ছিল এখনও সংখ্যাগুরুদের ক্ষেত্রে তার কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। দেশভাগজনিত প্লবতার কারণে দু-একটি পরিবার হয়তো বর্গাগতভাবে ঊর্ধ্বগামী হয়ে অনেক অর্থব্যয়ে বর্ণগত কৌলীন্য লাভ করেছে, কিন্তু তা নিতান্তই ‘উল্লা তুল্লা’ থেকে ‘উদ্দিন’ পর্যন্ত, এর বেশি নয়। হিন্দু সমাজে অপবর্ণীয়দের অবস্থা নিঃসন্দেহে আরও বেশি জঘন্য। কিন্তু সেই জিগির তুলে, ইসলামের ঘোষিত সৌভ্রাতৃত্ব-নীতির ফাঁকা-বুলি কপচে, তার বর্তমান সামাজিক ভেদাচারের দিকে চোখ বন্ধ করে থাকাটা কম ভণ্ডামির পরিচায়ক নয়। এই পরিবস্থা ঐতিহাসিকক্রমে ‘হাদিস’সমূহের ব্যাখ্যার সময় থেকেই প্রকট। এ বিষয়ে অধমের কাণ্ডজ্ঞান নিতান্তই অনুবাদে সীমাবদ্ধ। তবুও বলছি, নারী-পুরুষের অধিকারের ক্ষেত্রে কিংবা বর্ণ-বর্গ বিভেদের নিরিখে কোথাওই এই বহুঘোষিত হাদিসি সাম্য বা সামাজিক ন্যায়ের ব্যাপারগুলো প্রশ্নের ঊর্ধ্ব নয়। এ কথা হাদিস রচনার যুগ থেকেই গ্রাহ্য ঐতিহাসিক সত্য। কিন্তু সেসব কথা আলোচনার ক্ষেত্র এটা নয়, নিরাপদ তো নয়ই। বরং সে সময়ের সংখ্যালঘুদের সমাজ বিষয়ে বক্তব্য শেষ করি।

    একটা সমাজ ভাঙার পর যে তলানিটুকু থাকে, তার কোনো জীবনমুখী বহতা থাকে না। সমাজের একদার সাংস্কৃতিক, নৈতিক বা ব্যবহারিক স্বাভাবিক শুদ্ধতাবোধও এ সময় ক্রমশ নষ্ট হতে থাকে। সেই সমাজের মানুষদের আত্মসম্মান, সাহস, আত্মরক্ষার তাগিদে সংগ্রামী মনোভাব, স্বাভাবিক সম্ভ্রমবোধ সবই একে একে বিদায় নিতে থাকে। এভাবেই একে একে হ্রী শ্রী লক্ষ্মী. ঋদ্ধি এবং সিদ্ধি সমাজদেহ ছেড়ে চলে যায়। তলানিতে যে কটি প্রেতার্ত প্রাণী বসবাস করতে বাধ্য হয়, তারা হয়ে ওঠে লক্ষ্মীছাড়া উঞ্ছ স্বভাবের। তারা শুধু জৈবিক নিয়মে বেঁচে থাকে, আর তাদের হতাশার বীজে আরও প্রেতার্ত সমাজধর্মহীন কিছু অনাবশ্যক জীবের জন্ম হয়। তারা শুধু পূর্বজদের পাপের ঐতিহ্যেরই উত্তরাধিকারী হয়।

    এই সময়টায় পিছারার খালের আশপাশের যে কজন হিন্দু অধিবাসী ছিল, তাদের ছেলেমেয়েরা সম্পূর্ণ উদ্ধৃবৃত্তিধারী হয়ে গিয়েছিল। বিশেষত একসময়কার মোটামুটি সচ্ছল এবং উচ্চবর্গীয় যারা, তারাই বেশি বেশি করে যেন লক্ষ্মীছাড়া জীবনের আবর্তে পড়ে পাক খাচ্ছিল। এদের এবং আমার নিজের পরিবারেও নানা ধরনের কুৎসিত আচরণ, ক্ষুধানিবৃত্তির নিকৃষ্টতম উপায় অবলম্বন, অনৈতিকতা এবং সম্ভ্রমহীন আচার-আচরণ তখন অত্যন্ত সহজেই ঘটে চলেছিল। এই সময়টাতে আমাদের কোনো সামাজিক শিক্ষাদীক্ষা ছিল না। অভিভাবকেরা ছিলেন অসম্ভব উদাসীন। শুধু আহার্যসংগ্রহ এবং সন্তানোৎপাদন আর কূটকচালতা নিয়েই ছিল তাদের জীবনযাপন। এমনকি বাড়িঘর, বাগান পুকুর ইত্যাদির দিকেও তাদের নজর ছিল না। বাগানের ফলন্ত গাছপালা কেটে বিক্রি করা, সুন্দর উদ্যানগুলোকে চষে চটিয়ে খেত করা, পুকুরগুলোকে সংস্কার না করা ইত্যাদি তাঁদের স্বভাব হিসেবে দাঁড়িয়ে গেল। তাদের জীবনযাপনে আর মধ্যবিত্ত মূল্যবোধ কিছুমাত্র অবশিষ্ট থাকল না। আগে হিন্দু এবং মুসলমান সমাজ পাশাপাশি আলাদাভাবে থেকেও একে অন্যকে নানাভাবে প্রভাবিত করত। এখন আর তা থাকল না। গ্রামের সাজানো-গোছানো রূপটি একেবারেই নষ্ট হয়ে গেল। মুসলমান গ্রামগুলোতে কিছুকাল তা যদিও খানিকটা ছিল, তাদের বিকাশোন্মুখ সামান্য মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো একসময় শহরের অধিবাসী হয়ে গেলে সেগুলোও লক্ষ্মীছাড়া হতে হতে শেষতক পিছারার খালটার মতোই শুকিয়ে গেল।

    একটা সুন্দর জনপদ হতে মানুষের বহু বহু বছরের তপস্যা, তিতিক্ষা, আত্মদানের প্রয়োজন হয়। কিন্তু তা যখন ধ্বংস হতে শুরু করে, তখন কত দ্রুতই না তা সংঘটিত হয়। এই পিছারার খালটির ক্ষুদ্র জগৎটিরও নির্মাণ হয়েছিল বহুশত বৎসরের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং সাধনায়। কত বিচিত্র জাতি, গোষ্ঠীর মানুষ, কত চণ্ডভণ্ড, মলঙ্গী, উচ্চ ও নিম্নবর্গের মানুষ যুগ যুগ ধরে এই জনপদটিকে নানান সম্ভারে সাজিয়ে তুলেছিল। এখন মাত্র কয়েকটি বছরের অবিমৃষ্যকারিতায় তা শ্মশান হয়ে গেল। কত তাঁতি, জোলা কামার, কুমোরের অহর্নিশ কর্মতৎপরতার শব্দ তাদের তাঁতের মাকুর ধ্বনিতে, হাপরের নেহাইয়ের বলিষ্ঠ শব্দতরঙ্গে পিছারার খালের আশপাশের হিন্দু-মুসলমান গ্রামগুলোকে জমজমাট করে রাখত, আজ সেখানে কোনো বন্যজন্তুও বসবাস করে না। কারণ তাদের বাস করার জন্যও কোনো আব্রু আর অবশিষ্ট নেই। নেই কোনো ঝোপঝাড় জঙ্গল, লতাগুল্ম, কোনো বাগিচা, পুকুর, খাল বা বিল। সব যেন আরব্য রজনির গল্পের ভোজবাজির মতো উধাও হয়ে গেছে।

    যে সামাজিক অসাম্যের পাপে হিন্দু উচ্চবর্ণীয় সমাজ উৎখাত হয়েছে, তার কার্যকারণ বিশ্লেষণ কষ্টসাধ্য নয়। কিন্তু যারা এই ভূমিকে পবিত্র বোধে গ্রহণ করেছিল, তাদের সমাজ কী করল? সেখানে স্বপ্ন দেখার মানুষেরা কোথায় গেল? আমি মাত্র দশ বছরের একটা সামান্য সময়সীমার মধ্যে তাদেরও ভিটে ছাড়তে দেখলাম। হিন্দু সমাজের পাপের উত্তরাধিকার কি তাদের ক্ষেত্রেও অশেছিল। নচেৎ এই শূন্যতা কীভাবে সম্ভব?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএঞ্জেলস এন্ড ডেমনস – ড্যান ব্রাউন
    Next Article কহলীল জিবরান রচনা সমগ্র (ভাষান্তর : মোস্তফা মীর)

    Related Articles

    মিহির সেনগুপ্ত

    বিদুর – মিহির সেনগুপ্ত

    January 20, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }