Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিষাদবৃক্ষ – মিহির সেনগুপ্ত

    মিহির সেনগুপ্ত এক পাতা গল্প596 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বিষাদবৃক্ষ – ৩০

    তিরিশ

    আটান্ন-ঊনষাট সাল। পিছারার খালের আশপাশের ভদ্রহিন্দু গেরস্তরা প্রায় শতকরা নিরানব্বই ভাগ তখন গ্রাম ত্যাগ করেছে। শুধু নিরুপায় কিছু ভদ্রহিন্দু এবং নিম্নবর্ণীয়রা, যুগি, নাপিত, ধোপা, কামার, কুমোরেরা গ্রামে রয়ে গেছে। নিম্নবর্ণীয়দের তখনও ভরসা আছে যে, মুসলমান শাসকশ্রেণি তাদের ওপর আঘাত হানবে না। পাকিস্তান শিডিউলড কাস্ট ফেডারেশন তখনও বেশ পোক্ত এক সংগঠন। তাদের বেশ কয়েকজন নেতা আছেন, নিজেদের জাত-গোষ্ঠীর কথা এঁরা বেশ জোরের সঙ্গেই রাষ্ট্রের কাছে বলে থাকেন। কিন্তু মার্শাল প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ব্যাপারটা অন্য দিকে মোড় নিতে থাকে। তখন মুসলিম লিগের প্রাক্তন প্রতিজ্ঞাগুলো যেন প্রায় পরিকল্পিতভাবে হারিয়ে যাবার পথে। তখন আর নিম্নবর্ণীয় বা বর্গীয় হিন্দু-মুসলমানদের অভিন্ন স্বার্থের কথা ক্ষমতাসীন কায়েমি স্বার্থান্বেষী সংখ্যাগুরু সাম্প্রদায়িকদের মনে থাকে না। অথচ পাকিস্তান কায়েম করার সময় এই নিম্নবিত্ত নিম্নবর্গ তথা নিম্নবর্ণের মানুষদের সমর্থনের জন্য মুসলিম লিগ এক অভিন্ন স্বার্থের কথা বলেছিল। লাঙল যার জমি তার এরকম ‘নারা’ লাগিয়েছিল। সামন্ততন্ত্রের অন্ত্যেষ্টির কথা, তেভাগার কথা, কত কিছুই না বলেছিল তারা তখন। কিন্তু যখন ভদ্রলোক হিন্দুরা মাটি থেকে উচ্ছেদ হলো, যখন দেখা গেল অতি অনায়াসে ছেড়ে-যাওয়া মানুষদের জমিজমা, ভিটেমাটি করায়ত্ত করা যাচ্ছে, তখন লোভ তার জিহ্বার সংখ্যা বাড়িয়ে ফেলল। তখন বিচারটা হলো এই যে, যেনতেন প্রকারের হিন্দুর বাড়িঘর জমিনজায়দাদ দখল করি।

    উচ্চবর্গীয়দের সম্পত্তি দখল হলে, তখন তাদের নজর পড়ে অপবর্গীয়/ বর্ণীয়দের গেরস্থালিতে। অতএব দখলকারীরা কায়দা পালটাতে শুরু করে। স্বাধীনতাকালীন দাঙ্গার কায়দা, যেমন ধর্মান্তরকরণ, কোতলকরণ, দেশান্তরী হতে ছল-বল-কৌশলের নানাবিধ প্রয়োগ—এসব আর থাকে না। তারা দেখেছে একজন হিন্দু ধর্মান্তরিত হলে তার সম্পত্তি দখল করা যায় না। কোতল করলে কোনো কোনো স্থান থেকে তার প্রতিবাদ, প্রতি-আক্রমণ ঘটে। তাই ও কায়দায় আর চলবে না। তারা হিন্দুদের এবার জাতভিত্তিকভাবে উৎসৃজনের কায়দাটি গ্রহণ করে। প্রথমে তাঁতি বা যুগিদের ভিটেমাটি দখল শুরু হয়। জোলা এবং তাঁতিরা কাছাকাছি বসবাসকারী, ঐতিহাসিকক্রমে একই রক্তের মানুষ। কিন্তু তাঁতি বা যুগিরা সংখ্যায় যেমন ব্যাপক নয়, তেমনই তাদের পেছনে শিডিউলড কাস্ট ফেডারেশনের মদতও আমার ওই এলাকায় তেমন পোক্ত দেখিনি। তাই প্ৰথমে তারা, তৎপরে কিছু কিছু নেতাই দেশ থেকে পালাতে লাগলেন। তবে নমঃশূদ্রজাতীয় মানুষেরা আমাদের ওখানে সহজে সব ছাড়তে রাজি হয়নি। তারাও ছিল ওখানকারই ভূমিপুত্র। বন কেটে বসত তারাও গড়েছে ওখানে। বস্তুত সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্বের তৃণমূল স্তরের সংঘাত এই মানুষগুলোর মধ্যে জারিত হলো রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে নেতাদের অপশাসন, স্বার্থান্বেষী মোল্লাতন্ত্র তথা প্রতিষ্ঠিত এবং উঠতি জোতদারদের দৌলতে। তখন আমাদের প্রথম সংহতি-সংগীতের সেইসব পঙক্তিগুলো হারিয়ে যেতে থাকল—

    হিন্দু ও মুসলিম এক পরানের
    আমরা করি না বিবাদ।

    অপবর্ণীয় নমঃশূদ্র সম্প্রদায় আর অপবর্ণীয় মুসলমানদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সংঘাত যতটা ক্ষতিকারক হয়েছিল, উচ্চবর্ণীয় ভদ্রলোক হিন্দুর সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্বের কারণে উচ্ছেদ ততটা ক্ষতিকারক ছিল না। আমাদের ওই গ্রামগুলোর নমঃশূদ্রজাতীয় মানুষরা, গ্রামীণ আচার, বিশ্বাস, লোকায়ত ধর্মাচার এবং তৎসম্পর্কীয় মেলা-মোচ্ছব নিয়ে তাদেরই রক্তসম্পর্কীয় কিন্তু বিধর্মী নিম্নবর্ণীয় মুসলমান প্রতিবেশীদের সঙ্গে অনেক কাল ধরেই বেশ ছিল। ভদ্র হিন্দু গৃহস্থদের দেশত্যাগ তাদের ততটা ধ্বস্ত করেনি। তখন শুধু উচ্চবর্ণীয়রাই রাষ্ট্র-প্লবতার কারণে দেশত্যাগী, প্রায় নিশ্চিহ্ন। কিন্তু এহ বাহ্য।

    বিগত দুর্ভিক্ষের প্রভাব তখনও বেশ টের পাওয়া যাচ্ছে। এই সময়টায় আমি প্রসন্নকুমার বিদ্যালয়ে এসে ক্লাস নাইনে ভর্তি হয়েছিলাম। এই গ্রাম কীর্তিপাশা। আগে দাদিআম্মার প্রসঙ্গে যে কীর্তিনারায়ণ রায়ের নাম করেছিলাম, যিনি ইসলাম কবুল করে আমাদের গ্রামের পুবপ্রান্তে তাঁর বসতি গড়েছিলেন তাঁর নামানুসারেই নাকি এই গ্রামের নাম কীর্তিপাশা হয়। আমার মনে হয় কীর্তিপাশা নামটির বিষয়ে কিংবদন্তিটি মিথ্যে নয়। কীর্তিপাশার জমিদারেরা কীর্তিনারায়ণের পরবর্তীকালীন সময়ে ওখানে বিখ্যাত হন। তাঁদের বংশীয় কারও নামে স্থানটির নামকরণের কোনো কিংবদন্তি শুনিনি। তবে যখন কীর্তিপাশার এই প্রসন্নকুমার বিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম, দেখলাম, এই স্থানটি আমাদের পিছারার খালের জগতের মতো নিঝুম, নিঃশূন্য নয়। এখানে একটি বাজার, স্কুল এবং এর চৌহদ্দির গ্রামগুলোতে ব্যাপক নমঃশূদ্র, কৈবর্ত, কর্মকার ইত্যাদির নিম্নবর্ণীয় হিন্দুদের বসতি থাকায় এখানে একটা অন্য পরিবশে বিরাজিত ছিল। গ্রামীণ সাংস্কৃতিক জীবনে যেসব অবলম্বন আমাদের বরাবর ‘ওম’ দিয়ে এসেছে, তার অনেকটাই এখানে লভ্য ছিল। যাত্রা-থিয়েটার, মেলা, প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল, হাডুডু ইত্যাদি খেলার অনুষ্ঠান তখনও এখানে দিব্য জমিয়ে হতো। প্রসন্নকুমার বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বেশির ভাগই হিন্দু। বাজারটি বেশ জনসমাগমে সরগরম।

    পিছারার খালের ওই নিঃশূন্য অঞ্চল থেকে বেরিয়ে এসে যখন এই জনসমাগমে পড়লাম, তখন থেকে গোটা স্কুলজীবনটা, অর্থাৎ প্রায় আড়াই-তিন বছর বেশ আনন্দে কাটিয়েছে। স্কুলের সময় ছাড়াও, অধিকাংশ সময় ওই বাজারেই আমাদের কাটত। এই সময় থেকে পিছারার খালের কথা ভুলতে শুরু করি। সেখানে তখন যুগিপাড়া, নাপিতপাড়া ছাড়া আর বিশেষ জনবসতি নেই। গোটা জেলায় ‘বরিশাল রায়ট’ নামক পঞ্চাশ-একান্নর দাঙ্গায় ভূমিত্যাগী হয়েছিল প্রায় ছয় লাখ হিন্দু। এই দাঙ্গার পর আমাদের জেলার বিভিন্ন হাই স্কুলের অন্তত পঞ্চাশজন হেডমাস্টারকে জেলে নিক্ষেপ করা হয় বলে শুনেছি। নিরাপত্তার অভাবে শত শত শিক্ষক তখন দেশত্যাগ করেন। ১৯৫০-৫১ সালের দাঙ্গা সংঘটিত না হলে আমাদের এই চন্দ্রদ্বীপ এলাকার শিক্ষার হার অনেক বেশি হতো এবং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই জেলার জনগণ বাংলাদেশে অবশ্যই আরও অগ্রগামী ভূমিকা পালন করতে পারত। এই দাঙ্গার পর থেকেই মুসলমান সমাজে গুণ্ডারা সামাজিক এবং রাজনৈতিকভাবে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন শুরু করেছিল। হিন্দুরা এ সময় থেকেই প্রকৃতপক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত হতে থাকে। শিল্প, বাণিজ্য, চাকরি ইত্যাদির ক্ষেত্র থেকে তাদের উৎসৃজন ক্রমশ ব্যাপক হারে শুরু হয়। তথাপি এই পরিবস্থার মধ্যে প্রসন্নকুমার বিদ্যালয়টি যে টিকে গিয়েছিল তার কারণ, এই গ্রামটির চারদিকে নমঃশূদ্রদের ব্যাপক অবস্থিতি এবং তারা তখনও দেশ ছাড়ার কথা কেউ বিশেষ ভাবছে না। উপরন্তু চিত্ত সুতার, মনোরঞ্জন শিকদার—এঁরা তখন রাজনৈতিক জগতের হোমড়া-চোমড়া এবং তফসিলিজাতীয়দের নেতা।

    কিন্তু মার্শাল আইয়ুব খান সাহেব একটু কায়েমি হয়ে বসেই এমন কলকাঠি নাড়া শুরু করলেন যে, নমঃশূদ্র সম্প্রদায়েরও ভিত আলগা হতে লাগল। যে কথা দিয়ে প্রসঙ্গের শুরু—এই সময়টায় সংখ্যালঘু বিতাড়ন শুরু হয় এক ভিন্ন কায়দায়। প্রত্যক্ষ দাঙ্গার দিন তখন থেকে শেষ হয়ে গেছে। নারায়ে তকবির আল্লাহু আকবর ধ্বনি তুলে একদা যেমন তথাকথিত ‘ভদ্রলোক’ হিন্দুদের পিলে চমকে দেয়া গিয়েছিল, নমঃশূদ্র বা অনুরূপ জাতির মানুষদের সেভাবে চমকানো বা কায়দা করা যায়নি। গ্রামীণ পরিমণ্ডলে দেশজ অস্ত্রের ব্যবহার এরাও ভালোই জানত। তা ছাড়া এখানকার সাধারণ শ্রেণির মুসলমানেরা এবং নমঃশূদ্ররা রক্তের বিচারে, সাংস্কৃতিক বিচারে এবং রাজনৈতিক মেলবন্ধনে ছিল পরস্পরের খুব কাছাকাছি। তাই তাদের ওপর এই অকস্মাৎ আক্রমণকে তারা বিশ্বাসঘাতকতা বলেই গ্রহণ করল এবং যথাসাধ্য প্রতিরোধের জন্য সচেষ্ট হলো। এই বিশ্বাসঘাতকতা মুসলিম লিগের তরফ থেকেই যে করা হয়েছিল, তাতে দ্বিমত থাকার কোনো কারণ নেই। কেননা মুসলিম লিগের তরফ থেকে স্বাধীনতার প্রাক্কালে এই মানুষদের অর্থাৎ আধিয়ার, তেভাগা আন্দোলকারী, বেঠবেগারি-বিরোধী, সামন্ত নিপীড়িত তাবৎ অপবর্গী সাধারণ বর্ণ হিন্দু এবং মুসলমান চাষি সমাজকে এক প্রগাঢ় ‘ওয়াদা’ প্রদান করা হয়েছিল। এইসব মানুষ সামগ্রিকভাবেই হিন্দু সামন্তদের দ্বারা ব্যাপকভাবে শোষিত এবং নির্যাতিত ছিল।

    পিছারার খালের চৌহদ্দিতে যেমন, গোটা পূর্ববাংলায়ও তেমনি, সামন্ত শ্রেণি বলতে হিন্দু সামন্তদেরই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। কিন্তু তা ছিল মধ্যস্বত্বভোগী শ্রেণির সামগ্রিক হিসেবে। তার অর্থ এই নয় যে, মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যের জমিদার বা অন্য মধ্যস্বত্বভোগীরা সাধারণ এইসব মানুষদের শোষণ বা নির্যাতন করত না। আমার পরিমণ্ডলে আমি অনেক তথাকথিত তালুকদার দেখেছি যারা সাম্প্রদায়িকভাবে মুসলমান এবং শ্রেণিশোষণ বা নির্যাতনে অথবা আর্থিক প্রবন্ধে, ওখানকার হিন্দু জমিদার বা তালুকদারদের তুলনায় কিছুমাত্র ভিন্ন নয়। সে ক্ষেত্রে লিগপন্থিরা সাধারণদের বুঝিয়েছিল যে, পাকিস্তান কায়েম হলে সামন্ততন্ত্র উচ্ছেদ হবে এবং অবস্থাপন্নদের সংযত রাখার জন্য ইসলামি বিধিমতে ‘জাকাত’, ‘খয়রাত’ ইত্যাদি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ‘তেভাগা’র অনুসরণ যে পাকিস্তান কায়েম হলে স্বাভাবিকভাবেই হবে, এ বিষয়ে সাধারণ চাষিদের ব্যাপকভাবে বলা হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তান কায়েম হবার পর, এমনকি মধ্যস্বত্ব প্রথা উচ্ছেদ হবার পরও, এই প্রতিজ্ঞা পালনের কোনোই প্রচেষ্টা হয়নি। না হওয়ার কারণটিও অবশ্য শরিয়তি ব্যবস্থার অন্তর্গত, অন্যের ‘হক্কের সম্পত্তি দখল করা নাজায়েজ। এসব বিতর্কে তখন অন্তত কেউ যাননি। ফলত, হিন্দু উচ্ছেদকরণের কায়দাটি পাকিস্তান কায়েম হবার পর ক্রমান্বয়ে প্রথমে হিন্দু মধ্যস্বত্বভোগী, তৎপর অসংগঠিত হিন্দু অপবর্ণী এবং সর্বশেষ সংগঠিত হিন্দু অপবর্ণীয়দের (পাঠক, বর্গ ও বর্ণের ভিন্নতা এ ক্ষেত্রে বিচার করবেন) উচ্ছেদে তার বৃত্ত সম্পূর্ণ করে।

    এখন কথা হচ্ছে, এ সংবাদ আমি কীভাবে জানি বা এইসব হিসেবের সূত্র কী? প্রসন্নকুমার বিদ্যালয়ে আগত এবং পাঠরত আমার সতীর্থ অপবর্ণীয় বান্ধবরাই এ তথ্য বলে, বা, তাদের হঠাৎ হঠাৎ অন্তর্ধানে আমি অন্যদের কাছে জিজ্ঞেস করে তা জানতে পারি। এইসব থেকেই আমি লক্ষ করে দেখেছি, নিম্নবর্ণীয়, শিডিউলড কাস্ট ফেডারেশনের অন্তর্গত মানুষরা, যারা ওই দেশে পূর্ণ মর্যাদায় থাকতে পারবে বলে বিশ্বাস ছিল, তারাও দেশত্যাগ করতে শুরু করে। কিন্তু তারা কি কোনো ব্যাপক সাম্প্রদায়িক আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল পঞ্চাশ-একান্ন সালের দাঙ্গার সময়ের মতো? না। কারণ মার্শাল প্রেসিডেন্ট সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নাকি পছন্দ করতেন না, এরকম আমরা তখন জেনেছি, দেখেছিও। তবে যেটা জানিনি এবং যে কারণে অপবর্গীয়/বর্ণীয় মানুষেরা দেশ ছেড়ে তখনও নিরুদ্দেশ যাত্রা করছিল, তার কারণ নিশ্চয়ই মার্শাল প্রেসিডেন্টের ইচ্ছার মধ্যেই নিহিত ছিল যে, এরাও চলে যাক। দেশের ওপর অধিক জনসংখ্যার চাপ কমুক এবং ভূমির দখলদারি বিশেষ সম্প্রদায়ের হাতে আসুক। এটা মোল্লাতন্ত্রের সদুপদেশ। জেনারেলও স্বার্থসন্ধ হয়ে তাই বুঝলেন।

    এই সময়টায় দেশে কৃষিবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা আসছিলেন—আমেরিকা এবং জাপান থেকে। জাপানিরা অবশ্য তখনকার আন্তর্জাতিক কারণে বকলমায় মার্কিনই। তখন এক লপ্তায় অনেক জমি চাই, জাপানি প্রথায় ধানের চাষ চাই, কৃষিকর্মে ট্রাক্টরের ব্যবহার চাই, হল্যান্ডের পদ্ধতিতে আলুর চাষের উদ্ভাবন চাই—এইসব বিষয়ে ইস্ট পাকিস্তান ইনফরমেশন, পাকিস্তান অবজার্ভার ইত্যাদি পত্রিকায় ব্যাপক লেখাপত্তর প্রকাশ হতো। কিন্তু দেশের লোক যেহেতু বেহেড ‘ক’ অক্ষর হারাম, তাই লাল, সাদা, পীতবর্ণের সাহেবগণ গামবুট পরে জল-কাদা-জোঁক, সাপ তুচ্ছ করে আমাদের ওখানে মানুষের হিতসাধনে দলে দলে আসতে লাগলেন। এরকম সময়ের একটি সরস ঘটনা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় আছে বলে বলার লোভ সামলাতে পারছি না। মার্কিনি সাহেবেরা আমাদের বড় খালপারের একখণ্ড জমিতে জাপানি প্রথায় ধানের চাষ শেখাতে এসেছেন। আমাদের ওপারের তারুলি গ্রামের কদম আলি চাচা আশপাশে ঘুরঘুর করছেন। মাঝে মাঝে গ্রামীণ অন্যান্য উপস্থিত লোকেদের কাছে উলটোপালটা মন্তব্য করছেন। চাচা পুরুষানুক্রমে জাতচাষি। সাহেবরা প্রায় স্কেল-পেন্সিল নিয়ে কায়দাটা বোঝাবার চেষ্টা পাচ্ছেন যে, ধানের চারার লাইন এমতো সোজা হবে। এখান থেকে জলের প্রবাহ আনতে হবে, এই সার, ওই ওষুধ এরকমভাবে দিলে তবেই অধিক ফসল হবে—এইসব। দোভাষী পাকিস্তানি সাহেবরা ব্যাপারটা স্থানীয় চাষিদের বুঝিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু তাঁরা একটি ব্যাপারে কিছুই বলছেন না। তা হলো, খেতের জলটা আসবে কোত্থেকে। ধানচাষে যতই কায়দা করা হোক আর সার দেয়া হোক, জল না থাকলে কিছুই কিছু না। তো কদম চাচা শেষতক আর নিজেকে সামলাতে না পেরে স্বনিরুক্তিতে বলেই ফেললেন, এইসব করলে যদি ডবল ধান অয়! তয় তো মোর বাজা গাইডারে ‘ম্যাল’ দিলে বাছুরও হওন লাগে।—’ম্যাল’ অর্থে

    ‘ম্যাল’ অর্থে ‘পাল’ খাওয়ানো। চাচা আরও বলেছেন—বাপদাদা পরদাদায় কইয়া গেছেন যে, আওলাদ পয়দা করণের ল‍ইগ্যা পেরোজন ‘মাতৃরজ’ আর ‘পিতৃবীর্য’। এ্যারা দেহি খালি ‘পিতৃবীর্য’ দিয়াই আওলাদ পয়দা করতে চায়। তয় মোর মোন লয় এই বড় খালডারে না কাডাইলে এহানে একগাছ বালও অইবে না। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে তখনকার দিনে আমাদের অঞ্চলে শ্যালোর প্রচলন ছিল না। চাচার কথায় পাকিস্তানি সাহেবরা চটেন এবং কদম চাচাকে খেদিয়ে দেন। কিন্তু, মনে আছে, তিনি নিরাপদ দূরত্বে থেকে বলে যাচ্ছিলেন—মদনরস না থাকলে পাল খাওয়াইয়া কী অইবে অ্যাঁ?—তোরা যা ইংরাজি করইয়া কও হেয়া বুজি না আমি। তয়, খালডা যদি না কাডা অয় তয় এহানে বাল পাবা বাল।

    তার এই কথা একসময়ে অক্ষরে অক্ষরে সত্য হতে দেখেছি। কদম আলি চাচার কথার লব্জ এরকমই ছিল। তো, তাঁর এইসব কথা যখন কেউই আমল দিচ্ছে না, তিনি একটু উত্তেজিত স্বরে কথা বলতে শুরু করলেন। এ কারণে জনৈক মার্কিন সাহেব বিরক্ত হয়ে তাঁকে সরাসরি জিজ্ঞেস করলেন, হু আর ইউ?—এখন কদম চাচা ‘ইউ’ মানে ‘তুমি’ তা জানেন, কিন্তু ‘হু আর’ তাঁর কাছে ‘শুয়ার’। কারণ, এখানে ‘শ’ উচ্চারণ ‘হ’-য়ে হয়। এ কারণে তাঁর ক্রোধ। কী? না সাহেব ‘হেনারে হুয়ার অর্থাৎ ‘শুয়ার’ হইছেন।’ একে চাষি, তায় মুসলমান। এ কারণে শুয়োরের ওপর তাঁর বিদ্বেষ এবং ঘৃণা প্রকট। তাই চটজলদি তাঁর উত্তর, ‘সায়েব, হুয়ার তোমার বাফে।’—অর্থাৎ সাহেব তখন জাত্যংশে, চাচার বিধিমতে, শূকরপুত্র।

    তা এসব ‘কিত্তি’ তো আমাদের নিজেদের দেখা। একসময় বুঝেছি, চাচা তাঁর বেসিক প্রেমিসে একশ ভাগ সঠিক। কিন্তু দেশি বা পরদেশি সাহেবরা তাঁর ভাষা এবং অভিজ্ঞতাকে আমল দিচ্ছে না। বড়খালটা যে শুকিয়ে গিয়ে তার আশপাশের জমিকে ‘মদনরস’ বঞ্চিত করে বাঁজা করে দিচ্ছে, কদম চাচার ভাষায়—এই চুতমারানির পোয়েরা হে কতা বোজলে তো!’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএঞ্জেলস এন্ড ডেমনস – ড্যান ব্রাউন
    Next Article কহলীল জিবরান রচনা সমগ্র (ভাষান্তর : মোস্তফা মীর)

    Related Articles

    মিহির সেনগুপ্ত

    বিদুর – মিহির সেনগুপ্ত

    January 20, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }