Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিষাদবৃক্ষ – মিহির সেনগুপ্ত

    মিহির সেনগুপ্ত এক পাতা গল্প596 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বিষাদবৃক্ষ – ৩৪

    চৌত্রিশ

    তৎকালীন আমার এই হতভাগ্য মাটির আর একটি ঘটনার উল্লেখ করব এবং পাঠক-সাধারণের জ্ঞাতার্থে দলিল রাখব, কীভাবে আমার সেই চমৎকার ভূখণ্ডে মানুষেরা মানুষের দ্বারাই চূড়ান্ত অবনমিত এবং অপমানিত হয়ে প্রায় শূন্যে বিলীন হয়ে গেল। অবক্ষয়েরও বোধকরি কিছু নিয়ম থাকে। তারও আর্থসমাজ তথা প্রাকৃতিক কিছু নির্বন্ধ থাকে, সে সূত্র ধরে সন্ধিৎসুজনেরা সেই অবক্ষয়ের কার্যকারণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত করতে পারেন। কিন্তু এই স্থানের অবক্ষয় এবং তজ্জনিত সন্তাপের কার্যকারণ সূত্র এত জটিল যে খুব সাধারণ রেখায় তাকে অবয়বে আনা যায় না। এই অবক্ষয়ের কোনো বিধ্বংসী মাতৃবর্ণও নেই, নেই কোনো ধ্রুপদী সুর। কিংবা কোনো স্বাভাবিক গ্রামীণ লোকপরম্পরায় ছন্দে বা পটের চিত্রেও তা এতাবৎ কোনো পটুয়া, ভাটিয়াল অথবা ভাওয়াইয়া রমণী বা পুরুষ এর কোনো রোদসী চিত্র বা সুর সৃষ্টি করেছেন, এরকম অভিজ্ঞতাও আমার নেই। এ এক অভিশাপমুখর সময় সম্ভবত, যখন লোকশিল্পীরা পর্যন্ত এর চিত্র, সুর, কথকতা বা কোনো কিছুই ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেন না, অথবা তার ফুরসতও পান না। বোধহয় তখন একদিকে লোভের লুণ্ঠন, আরেকদিকে আতঙ্কের পলায়নই শুধু ছবি। কিন্তু হায়! এরকম ছবিতে কি কোনো শিল্পী মাতৃবর্ণ দেখে? অথবা কোনো লোকশিল্পী কি কোনো সুরের বুনোট করতে পারে? এ যে স্বদেহ কয়ন করে পায়ের আঙুল থেকে শুরু করে স্বদেহ ভক্ষণের চিত্র। এ নিয়ে কিছু সৃজন করা তো—অবক্ষয় নিয়ে নির্মাণ। অবক্ষয়ের রূপকল্প কি জীবনধর্মী শিল্পীরা করতে পারেন?

    যেমন এখন এই সময়কার যে ঘটনাটির বিবরণ দেব, শিল্পরসিক সজ্জনেরা বলুন এর সুর বা চিত্র সৃজন করা কি একজন শিল্পীর পক্ষে সম্ভব? না, তা আদৌ করা সংগত। সে শিল্প তো রসগ্রাহীকে ক্রমশ এর ঊষর প্রান্তরের তীব্র যন্ত্রণায় দগ্ধাবে। — তথাপি এ বোধহয় আমাদের ভবিতব্য এবং তাকে আমাদের গ্রহণও করতে হবে। শিল্পীর যেমন এ ক্ষেত্রে অব্যাহতি নেই, তেমনি আমরাও, যারা শ্রোতা বা দর্শক, তারাও এই যন্ত্রণাকে এড়াতে পারি না।

    ডাক্তারবাড়ির কথা শুরুয়াতে অনেকই বলেছি। কিন্তু সে বাড়ির মেয়েদের বিষয় যা-ই কিছু আলোচনা করে থাকি না কেন, তারা যে একেবারে স্বৈরিণী জীবনে চলে গিয়েছিল, এ কথা নিশ্চয়ই বলিনি। তাদের ওই শহর থেকে আসা তথাকথিত মামাদের বিষয়ে ব্যাপারটি ছিল পারিবারিক প্রয়োজন এবং তাদের যৌবনিক প্রদাহজনিত সমস্যা। পারিবারিক প্রয়োজনের ক্ষেত্রটি তৈরির দায় তাদের ছিল না অবশ্যই। সে ক্ষেত্রে সে দায় তাদের অভিভাবক-অভিভাবিকাদের, যৌবনিক প্রদাহের দায়ে, এসব ক্ষেত্রে ঠিক কাকে যে দায়ী করা সমীচীন তা জানি না। কিন্তু এখন যে কাহিনির বিন্যাস করতে যাচ্ছি তার সঙ্গে যে রাষ্ট্রিক ব্যবস্থাপনার যোগাযোগ ঘনিষ্ঠ, এ কথা সকলেই মানবেন। কারণ এইসব লোচ্চা, লম্পট এবং লুম্পেনদের সে সময় রাষ্ট্রই ছেড়ে দিয়েছিল সংখ্যালঘুদের অবশিষ্টতম মানুষদের উচ্ছেদকল্পে। এটা ছিল একটা জঘন্যতম সময়।

    আমাদের খানাবাড়ির চৌহদ্দিতে যে ধোপার বাড়িটি ছিল, সেখানে আশপাশ জনেদের বেশ একটা আড্ডার ব্যবস্থা ছিল। ওই বাড়ির ধোপানিবুড়ি ছিল এলাকার ধাইমা। তার চিড়ে, মুড়ি, ছোলা, বাদামভাজার ব্যবসাও ছিল। আর ছিল দুধের ব্যবসা। ফলে ওখানে সবসময়ই বেশ জনসমাগম ঘটত। দুপুরের দিকে সাধারণ মেয়ে বউয়েরা, কামকাজ শেষ হলে ধোপানির সামনের দলুজে গল্পগাছা, লুডো, বাঘবন্দি খেলায় সময় কাটাত।

    ওই সময় পুরুষরা সেখানে যেত না সাধারণত। ব্যাপারটা প্রায় একটা অলিখিত নিয়মের মতোই ছিল বহুকাল ধরে। ওপারের তারুলি এবং আমাদের এপারের পাশের গ্রাম নৈকাঠির মুসলমান ছেলেমেয়েরাও সেখানে প্রায়ই আসত। ধোপানি ছিল খুব খরজিহ রমণী এবং তার এখানে কোনোরকম চঞ্চলতা প্রকাশ করতে কেউ সাহস পেত না।

    ডাক্তারবাবুর এক মেয়ে যাকে আমরা কুট্টিদি বলে ডাকতাম, যে একদিন এরকম এক দুপুরবেলায় ধোপানির বড় বউয়ের সঙ্গে দলুজে পাতা চাটাইয়ের ওপর বসে লুডো খেলছিল। ধোপানি আমাদের বড় দিঘিটির শানবাঁধানো ঘাটলায় বোধহয় ধান শুকোতে গিয়ে থাকবে। আমি মুড়ি না কী আনতে গিয়েছি, কুট্টিদিদের লুডো খেলতে দেখে আমিও বসে গেলাম। আমরা যখন খেলায় বুঁদ, তখন সেখানে পাশের গ্রামের মালেক আসে হঠাৎ। সে মোটামুটি অবস্থাপন্ন বাড়ির ছেলে। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়েছে। পরিচয়ে তালুকদার, তবে এই তালুকদারি যতটা পদবি ততটা শব্দার্থগত নয়। এরকম তালুকদার তখন আমাদের ওখানে আনায়-গণ্ডায় তৈরি হচ্ছিল। প্রকৃত তালুকদারির সঙ্গে এই পদবির বিশেষ কোনো সম্পর্ক ছিল না। কেউ কোনো উপায়ে খানিকটা সম্পন্ন হলেই গাঁয়ের লোকেরা তাকে তালুকদার বলত। সে যা হোক, মালেক ওই সময়কার নিয়ম অনুযায়ী বেশ তালেবর। তার সম্পর্কে নানান কানাঘুষো শোনা ছিল আমাদের। তার হাবভাবে আমাদের উভয় সমাজের মেয়েরাই বেশ সন্ত্রস্ত থাকত। মালেক আসতে তাই কুট্টিদি এবং ধোপাবউ দুজনেই একটু আড়ষ্ট হয়ে পড়ে। দলুজের সামনের অংশে একটা ঢেঁকি পাতা ছিল। সে সেটার ওপর এসে বসে খুবই অন্তরঙ্গের মতো জিজ্ঞেস করে ধোপাদিদি নাই? গেছে কৈ?—–ধোপাবউ কোনো রকমে জানায় যে, সে ঘাটলায় ধান শুকোতে গেছে। এ কথার পর ধোপানির সঙ্গে প্রয়োজন থাকলে তার সেই ঘাটলায় যাওয়াই সংগত। কিন্তু সে হঠাৎ ঢেঁকি থেকে নেমে চাটাইয়ে বসে এবং—’ও তোমরা বুজি লুডু খ্যালতে আছ? মোরও লুডু খেলা খুব ভালো লাগে। হেই ছোডবেলা এ্যারগো বাড়িতে কত খেলছি।’—বলে কুট্টিদিকে ইঙ্গিত করে। ধোপাবউ — মুই এট্টু ঘাড়ের থিহা আই, বলে আড়ালে চলে যায়। তখন আরও বিব্রত অবস্থা। কুট্টিদি আর আমি না পারছি খেলতে, না পারছি উঠে যেতে। অথচ মালেক তখন কুট্টিদির সঙ্গে খেজুর আলাপ করেই যাচ্ছে। যেন সে কুট্টিদির কত আপনজন।——ডাক্তারবাবু আছেন ক্যামন? হেনারে অনেক দিন দেহি না।’—’বড় বুইনের বিয়াড়া তোমরা কৈলম ভালো দেও নায়। বিপনা দাস হ্যার থিহা কোমছে কোম পোনারো বছরের বড়। এরহম বুড়া জামাই লইয়া হে করবে কী?’—এইসব কথাবার্তা এবং ইঙ্গিতপূর্ণ চোখটিপুনি। আবার এই কথার সূত্র ধরেই—’তোমারও তো বিয়াডা এহন দেয়া লাগে। ডাক্তারবাবু যে কী করেন বুজি না। দিনকালের যা অবস্তা, এ্যারপর তুমি যুদি বেজাতের লগে বাইর আইয়া যাও, তহন কি তোমারে দোষ দেয়া যাইবে? তোমারও তো এট্টা ঐ যারে কয় শরীল অর্থাৎ কিনা শরীলের উশুল মাশুল আছে।’—কুট্টিদি প্রথম দু-একটা প্রশ্নের হুঁ-হাঁ গোছের উত্তর দিয়ে উঠে পড়ার চেষ্টা দেখে। কেননা মালেক ক্রমশ অদম্য হয়ে উঠতে থাকে। কিন্তু তাতেও পরিত্রাণ নেই।—’কী? বাড়ি যাবা? লই মুইও ওই দিগেই যামু ঠিক করছি। এক লগেই যাই। আরে শরমাও ক্যান? মোরা বেজাত বলইয়া কি একলগে দুই পাও হাঁটতেও পারুম না? কী যে চুতমারানইয়া সোমাজ তোমাগো!’—বলে সে উঠে দাঁড়ায়। আমি বাল্যাবধি এই ধরনের মানুষের হারামজাদাপনার কাণ্ড দেখতে অভ্যস্ত। ওই ঘটনার সময় খুব ছোটও নই, অন্তত মানসিক দিক দিয়ে। মালেক উঠে তার সঙ্গে চলতে শুরু করে। ধোপার বাড়ি থেকে কুট্টিদিদের বাড়ি যাবার পথ খুব কম নয়। তা ছাড়া সে পথ নির্জন এবং জংলা। মাঝে মাঝে আম, জাম, তেঁতুল বা বট-অশ্বত্থের ব্যাপক বাগান এবং ছাড়া-ভিটা। সেখানে কুট্টিদির মতো একজন সুগঠিত যুবতীকে একা অরক্ষণীয়া পেলে ভোগ করার আকাঙ্ক্ষা শুধু মালেক গুণ্ডা কেন অনেক সচ্চরিত্র যুবকেরও হতে পারে। অবস্থার গতিকে আমি হতভম্ব। কুট্টিদি তখন দৃষ্টিপথের মধ্যে এবং প্রায় ছুটছে। মালেক তার পিছে। যেন বাঘ তাড়া করছে হরিণীকে। ‘অপণা মাংসে হরিণা বৈরী।’ হরিণীর মাংসই তার শত্রু। ধোপাবউয়ের হঠাৎ আবির্ভাবে আমার হতভম্বতা কাটে। সে বলে, ভাই, তুমি লগে লগে যাও। আইজ না জানি কী কাণ্ড ঘটে। মালেকইয়া কৈলম একছের মালউয়া। অর কোনো বিশ্বাস নাই কিন্তু।—আমি একটু পা চালিয়েই চলছিলাম। কিন্তু আমার কাছে এটা পরিষ্কার ছিল না যে, কোনও অঘটন ঘটলে আমি মালেকের সাথে কীভাবে লড়ব। আমাকে দেখে মালেক বলে, বড়গো ব্যাপারের মইদ্যে ছোডরা ক্যান? তুমি বাড়ি যাও। অর লাগে মোর ম্যালা কথা আছে।—আমি শুধু এটুকু বলতে পেরেছিলাম — কুট্টিদির লগে তোমার কোনো কতা নাই। দ্যাহ না, হে ক্যামন ডড় পাইয়া দৌড়াইতে আছে। তুমি হ্যার লগে কতা কবা না, কইয়া দিলাম হ। সে অদম্য, বলে—কমু না ক্যা? হ্যার লগে মোর ভাব। তুই লগে লগে আও ক্যা? তোর ঠেহাডা কী? এই বলে সে ছুটে এসে আমাকে বেধড়ক কিলঘুসি মারতে শুরু করে। আমি হঠাৎ আক্রান্ত হয়ে হতচকিত বনে যাই। কুট্টিদি ছুটতে থাকে। মালেক চেঁচিয়ে বলে—আইজ পার পাইলেও আমি তোমারে উডামু, এডা জানইয়া রাহ। আইজ এই মালাউনের পোয়রে এট্টু দেইখ্যা লই।—এইসব কথার সঙ্গে সঙ্গে আমার ওপর তার আক্রমণ তীব্র হলে আমি পরিত্রাণ খুঁজি। আশপাশে কেউ নেই। এই হুড়াহুড়ির সময় একখণ্ড বাঁশের টুকরো আমার সামনে পড়ে। একতরফা মার খেয়ে এবং কুট্টিদির ওই অসহায়তা দেখে তখন আমার মাথায় খুন চেপে গিয়েছিল। ওই বাঁশের টুকরোটা হাতে পেয়ে আমি মালেককে অন্ধের মতো আক্রমণ করেছিলাম। একটা আঘাত তার পা লক্ষ করে চালালে সে বসে পড়ে। বোঝা যায় তার খুবই লেগেছে। এই সুযোগে আরও গোটা দুই ঘা মেরে ছুটে পালিয়ে যাই। কুট্টিদি ততক্ষণে তাদের বাড়ি পৌঁছে গেছে।

    ব্যাপারটা মারামারি পর্যায়ে চলে না গেলে হয়তো কাউকে বলতাম না। কুট্টিদিও খুবই স্বাভাবিক কারণে আমাকে চুপ থাকতে বলেছিল। কিন্তু আমি যেহেতু মার খেয়ে পালটা মেরে বসেছিলাম, এ কারণে বড়দের ঘটনাটা জানানো প্রয়োজন ছিল। আমি ঘটনাটা প্রথমে আমাদের প্রতিবেশী এবং জ্ঞাতি কোবরেজ কাকা এবং তারপর ধোপাঝিকে বললাম। ধোপানিকে আমরা ধোপাঝি বলেই ডাকতাম।

    কোবরেজ কাকা একজন বেশ অকুতোভয় মানুষ ছিলেন। তাঁর এই অকুতোভয়তার প্রথম কারণ তাঁর পেশা এবং দ্বিতীয় মস্তিষ্কে সূক্ষ্ম বোধের অভাব। পেশায় যেহেতু কবিরাজ এবং আমাদের ওখানে পাস করা ডাক্তার যেহেতু আদৌ ছিল না, সে কারণে আমাদের উভয় সম্প্রদায়ের কেউই ডাক্তার-কোবরেজদের ঘাঁটানো সুবুদ্ধির বলে বিবেচনা করত না। তা ছাড়া কোবরেজ কাকা প্রায়শই সামাজিক দুর্নীতি আর ধোকাবাজির বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করতেন। যাত্রা-থিয়েটার করার দিকে কাকার খুব ঝোঁক ছিল এবং নিজেকে একজন অসামান্য অভিনেতা মনে করতেন। রোগা লম্বা চেহারার এই কোবরেজ কাকা, আমাদের ছোটবেলায় খুবই আকর্ষণীয় ছিলেন সবার কাছে। সবচেয়ে মজার ছিল নাটকীয় ঢঙে তাঁর স্বগতোক্তিগুলো। মাঝে মাঝেই শুনতাম তিনি বলে যেতেন, আমার লগে চালাকি চলবে না। আমি জাতবৈদ্য, কবিরাজ, রোগী দেহাইতে আবানা, অষুদের বদলে বিষ দিয়া দিমু হ্যানে, দোয়াদশ দণ্ডকাল তড়পাইতে তড়পাইতে মরবে। মোর একগাছ লোমও ছেড়তে পারবে না কেউ, হ।—কাকা বলতেন, কেনই-বা বলতেন ঠিক বোঝা যেত না। তবে তাঁর যে অদম্য সাহস ছিল তার তুলনা নেই। দাঙ্গা-ফ্যাসাদ, চুরি-ডাকাতি বিষয়ে তাঁর কোনো চিন্তা বা দুর্ভাবনা ছিল না। দাঙ্গার ভীতি যখন তুঙ্গে তখনও তাঁর বক্তব্য—আউক না কাটতে, একছের পার পাইয়া যাইবে, হেয়া পারবে না। মরতেই যদি অয় এক-আদটারে মারইয়াই মরুম।—দেশ ছাড়ার কথা কেউ বললে খুব ক্ষেপে যেতেন। বলতেন, ক্যান? দ্যাশটা ক্যাওর বাপের একলার? যেসব মানুষ সোজা সরল বুদ্ধির, আমার মনে হয় তাঁরা একটু বেশি স্পর্শকাতর হন। তাঁদেরই নানান কারণে নানান মর্মবেদনা বেশি ভোগ করতে হয়। কোবরেজ কাকা একটু ছিটেলও ছিলেন।

    কবিরাজি ব্যবসায়ে তাঁর পসার ছিল না, কিন্তু হাতযশ ছিল। অবস্থাপন্নরা তাঁকে খুব একটা ডাকতেন না, কিন্তু গরিব-গুর্বোরা হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে তাঁর ওপর খুবই নির্ভর করত। তিনিও এইসব মানুষদের রোগব্যাধি, বিপদ-আপদে ছুটে যেতেন। এ কারণে তাঁর একটা প্রতিপত্তি ছিল তাদের মধ্যে। আমার জ্যাঠামশাইকে তিনি শত্রু মনে করতেন, কিন্তু বাবাকে খুব ভক্তি করতেন। তবে আড়ালে যা-ই বলুন, জ্যাঠামশাইকে সামনাসামনি কখনোই কিছু বলতেন না।

    আমি তাঁর কাছে গিয়ে কুট্টিদির ঘটনাটি বলতে কাকা ভয়ানক উত্তেজিত হয়ে পড়েন। ইতোমধ্যে সম্ভবত ছেলের বউয়ের কাছ থেকে কিছু শুনে ধোপাঝি সেখানেই এসে পড়েছে। কাকার সঙ্গে তার এসব গূঢ় বিষয়ে প্রয়োজনে আলোচনা হতো। এখন ধোপাঝিকে দেখে কাকা আগুন। বললেন, আমি মালেকইয়ার রক্ত দশশন করুম এ কথা তোরে কইয়া দিলাম ‘ছুডি’। ও হালার পো হালায় ভাবছে কী, অ্যাঁ? অমরা মরইয়া গেছি?—ধোপাঝি অর্থাৎ ‘ছুড়ি’ বা ছোটি আমাকে দেখিয়ে বলল যে, আমার ওপর মালেকের আক্রোশ পড়তে পারে কারণ সে দেখেছে মালেক খোঁড়াতে খোঁড়াতে গেছে। আমার কপালের সামনেটা বেশ ফুটে উঠেছিল। কাকা বললেন, ও তো আত্মরক্ষা করছে। ওরে মালেকইয়া মারলে ক্যান?— ধোপাঝি বলল—কতা হয়ত্য, তয় এ ব্যাপারে ছোড়বাবুর লগে বন্দেজ না করইয়া কিছু কওন ঠিক ন। লয়েন মোরা হ্যার লগে এট্টু বন্দেজ করইয়া দেহি।

    কোবরেজ কাকা বাবার নিতান্ত ন্যাওটা, এ কথা আগেই বলেছি। তিনি তৎক্ষণাৎ রাজি হলেন যে, হ্যাঁ এটা একটা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার এবং বাবার সঙ্গে এ বিষয়ে পরামর্শ করা কর্তব্য। বাবা অবশ্য তাঁর চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে ততক্ষণে ধারণা করে নিয়েছেন যে, কিছু একটা বিপত্তি ঘটেছে। ‘নইলে পাগল চেচায় ক্যান?’ কাকা ধোপানিকে নিয়ে আমাদের বাড়ির দিকে রওনা দিলে আমি স্বাভাবিক ভীতিবশত আড়ালে চলে গেলাম। কাকা বলতে বলতে চললেন, বোজলানি ছুডি, ওই শাস্তরে যে কইছে, হে কতা একশ ভাগ হয়ত্য—কী? না—

    শ্যাহের লগে করবা দোস্তি
    মুগইর রাখফা মদ্যস্তি
    যদি শ্যাখ রোহে
    মুগইর মরবা কোহে।—

    পশ্চিমবঙ্গানুবাদে অবশ্যই সব ‘হ’গুলো ‘খ’ হবে। কাকা বলতে বলতে যাচ্ছিলেন, মেয়াগো দ্যাশে থাকতে অইলে এ মন্তর ছাড়া উপায় নাই। হালারা আসলেই হুদা শ্যাখ। আমি বাবার সামনাসামনি গেলাম না। কাকা আর ধোপাঝি বাবার সামনে হাজির। বাবা দরদালানে একটা চৌকির ওপর যেমন বসে থাকতেন, বসে ছিলেন। দুজনকে দেখে বললেন, কিছু এটা ঘটছে বোজতে পারছি। কিন্তু তুই চেচাইতে আছিলি ক্যান? কাকা বললেন, চেচামু না, আপনে কয়েন কী? মালেকইয়া হালার পো হালায় কুট্টিমনুরে টালায়। আর হ্যার পিরতিবাদ করতে যাইয়া আমাগো পোলায় মাইর খায়? এ্যাতো বড় সাহস! কাকা সাতিশয় ক্রুদ্ধ। বাবা তাঁকে আর কিছু জিজ্ঞেস না করে ধোপাঝিকে বিস্তারিত বলতে বলেন। ধোপাঝি বাবাকে গোটা ব্যাপার খুলে বললে বাবা কোবরেজ কাকাকে জিজ্ঞেস করেন, তুই করতেডা চাও কী?

    –মালেকইয়ারে পিডামু।

    –হেথে লাভ? তুই আইজ হ্যারে পিডাবি, হে কাইল তোরে পিডাইবে। কুট্টিমনুর কথাডা চিন্তা করছ? এই মাইরপিটে হ্যার সোমস্যাডা কী অইবে? তুই এট্টা আস্থা পাড়া।

    –তয় করণ কী?

    —করণ, মাইর খাওয়ানো। মালেকইয়ারে হ্যার জাতের মাইনষের হাতে ছ্যাঁচা দেওন লাগবে। বোজজো। চেচাবি না, কায়দায় চলার সোমায় এহন। চেচাইলে এই বুড়া বয়সে আমার হাতেই মাইর খাবি। কাকা এবার একটু দমিত। কারণ বাবার কথার ওপর তিনি কথা বলেন না। ধোপাঝি ছোটবাবুর রীতকানুন জানে। সে বলে, ছোডোবাবুর বুদ্ধিই ঠিক, আর হে বেবস্তা মুই-ই করমু হ্যানে। এন্তাজ আর নুরুলেরে কমু হ্যানে ওপারের কয়েকজনেরে লইয়া য্যান মালেকইয়ারে খাসি বানাইয়া দে। এ কথা অতি ভয়ংকর। এরকম প্রতিশোধ শুধু আমার এই চন্দ্রদ্বীপ অঞ্চলের সেলিমাবাদ পরগনায়ই স্বাভাবিক। বাবা জানেন ধোপাঝি এ কাজ করাতে অবশ্য সক্ষম, কেননা এন্তাজদ্দি এবং নুরুল, এই দুই বাপ-ব্যাটাকে সে যা করতে বলবে তারা তা করবে। তার সবিশেষ কার্যকারণও আছে। এন্তাজ তার ‘হাতউয়া’ আর নুরুল এন্তাজের পোলা। দুজনেই ‘কাজইয়ায়’ বেশ দড়। তাই বাবা সাত তাড়াতাড়ি—না না না অতডা না। তুই আগে আমার পরামর্শডা শোন, তারপর কী করতে অইবে ঠিক করবি। তারপর তিনজনে কীসব পরামর্শ হয় গোপনে, যা আড়ালে থেকে আমি ঠিক শুনতে পাই না। তবে বুঝতে পারি মালেকের অদৃষ্টে আমার প্রহারই শেষ প্রহার নয়। তার কপালে একটু অধিক ‘মাইর’ অপেক্ষা করে আছে এবং সেটা অকস্মাৎ আসবে তার জাতভাইদের তরফ থেকেই। এর বেশ কয়েক দিন পর শোনা গেল, গঞ্জ থেকে ফেরার পথে মালেককে কে বা কারা যেন তার বাড়িতে অচেতন অবস্থায় পৌঁছে দিয়ে গেছে। তারা বাড়ির লোকদের বলেছে যে ‘খালপারে পড়ইয়া আছেলে, বাড়ি দিয়া গেলাম।’ মালেকের ডান পাখানা সারা জীবনের মতো অকেজো করে দিয়েছিল তার আক্রমণকারীরা। পরে বুঝেছি, তালুকদারি বুদ্ধির এই প্যাচটা বাবার মাথায়ও খেলত। তবে জ্যাঠামশাইয়ের মতো এটা তাঁর পছন্দের বস্তু ছিল না। নুরুল বলেছিল, বোজলা কিনা আঘারউয়া ষাড় আর মালউয়া মদ্দেগো ওষুদ এটাই, বাশের চাচ দিয়া আড়ইয়া বিচি দুইডা তোলাইয়া দেয়া। তয় ছোড়বাবুর নিষেদ, হে কারণ খালি ঠ্যাংডাই ল্যাড়া করইয়া দিলাম।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএঞ্জেলস এন্ড ডেমনস – ড্যান ব্রাউন
    Next Article কহলীল জিবরান রচনা সমগ্র (ভাষান্তর : মোস্তফা মীর)

    Related Articles

    মিহির সেনগুপ্ত

    বিদুর – মিহির সেনগুপ্ত

    January 20, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }