Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিষাদবৃক্ষ – মিহির সেনগুপ্ত

    মিহির সেনগুপ্ত এক পাতা গল্প596 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বিষাদবৃক্ষ – ৬

    ছয়

    আমাদের গ্রামের বক্সীবাবু ছিলেন আমাদের বড় স্কুলের হেডমাস্টারমশাই। তখনকার দিনের বিএ পাস। দশ গ্রামের মানুষের সম্মান পেতেন তিনি। তাঁর বাড়িঘর বাগানবিলাস, ঘাটলাওলা পুকুর—এত চমৎকার সাজানো যে একবার দেখলে আর ভোলা যায় না। তাঁর ছেলেমেয়েরা লেখাপড়ায় সব আদর্শস্থানীয়। বক্সীবাবুই ওই স্কুলের সর্বেসর্বা। তিনি স্কুলটিকেও রেখেছিলেন তাঁর বাড়ির বাগানটির মতো পরিচ্ছন্ন। পাশের মুসলমান গাঁয়ের তালুকদার সাহেব তাঁর দোস্ত। বাড়ির বাঁধানো পুকুরঘাটে বিকেলে তাদের নিয়মিত আড্ডা। তালুকদার বলতেন : বক্সীবাবু, মুই যদ্দিন আছি, আপনের কোনো চিন্তা নাই। আপনেরা এহানেই থাকবেন। স্কুলের কাম য্যামন চলতাছে, চলবে। বক্সীবাবু বলতেন, না চিন্তা আর কী? খালি মাইয়ারা বড় অইছে। চাইরদিগে যা শুনি মনে ভয় তো এট্টু লাগেই। তালুকদার বলতেন, না ভয়ের কারণ নাই। আপনের মাইয়া আমার মাইয়া জুদা না। ইনসাল্লা, যদি কোনো হারামির পোয় মোর মায়গো দিকে তাহায়, হ্যার ক্যালাডা দুফাঁক করইয়া দিমু।—বক্সীবাবু এ কথায় কতটা আশ্বস্ত হতেন সঠিক জানি না, অনুমান করতে পারি যে খুব একটা হতেন না। কারণ ইতোমধ্যে আশপাশের বেশ কয়েকটা বনেদি পরিবার, যেমন উকিলবাড়ি, চাটুজ্জেবাড়ি, গাঙ্গুলিবাড়ি সবাই কখন যেন বাড়ি তালাবদ্ধ করে বা কেউ কেউ কোনো তালেবর মিঞাসাহেবদের দেখাশোনা করার দায়িত্ব দিয়ে ওপারে কিছু ব্যবস্থা করতে গেছেন। অবশ্য তারা সবাই সপরিবারেই গেছেন। তাদের ছেলেপুলেরা বহু আগে থেকেই ‘কইলকাতায়’ চাকরিজীবী। সেখানে তাদের একটা অগতির গতি ঠাঁই ছিল। এমনকি নগেনমশাইও যখন বাড়িঘর বিক্রি করে গঞ্জে এবং সেখান থেকেও কোনো আঘাটায় উধাও হলেন তখন আমার কাছে সবকিছু যেন অন্ধকার বোধ হতে লাগল। কোথাও টিনের চালা, কাঠের ফ্রেমের সুন্দর বাড়িগুলোর ভিতগুলো পড়ে আছে। সামান্য পয়সায় কিনে অথবা জবরদখল করে সেইসব টিন, কাঠ, বাড়ির আশপাশের গাছপালা সব তুলে নিয়ে, কেটে নিয়ে ঘরের ভিতটাকে যেন একটা চিতার আকৃতি দিয়েছে। সেদিকে তাকালেই বুকের মধ্যে দুমড়ে ওঠে। আবার কোনো কোনো বাড়িতে ঘর আছে, কিন্তু সেখানে মানুষেরা নেই। মাটির ভিতগুলোর কোথাও ইঁদুর গর্ত করে মাটি টাল দিয়ে রেখেছে, কোনো স্থান দিয়ে হয়তো কোনো চোর সিঁদ কেটে ঢুকে ঘরের এটা-ওটা নিয়ে গেছে। সেই বাড়িগুলো হয়েছে আরও ভীতপ্রদ এবং করুণও। সেগুলোর পাশ দিয়ে যখন যাতায়াত করতাম বঙ্কিমচন্দ্রের আনন্দমঠের ‘পদচিহ্ন’ গ্রামের ছবিটা ভেসে উঠত। রাতে সেসব ঘরে আর আলো জ্বলে না। তুলসীমঞ্চে সন্ধেবেলায় কেউ প্রদীপ জ্বেলে শঙ্খ বাজায় না, অথবা সকালে গাছের গোড়ায় জল দেবার কেউ নেই। একসময় এইসব কৃৎকর্ম দেখতে দেখতে ওই শৈশবেই তো একটা অভ্যেস হয়ে গিয়েছিল। ওইসব বাড়ির ছেলেপুলেরা খেলার মাঠে আর খেলতে আসে না নগেনমশাইয়ের বাড়ির চত্বরে। যেখানে আমাদের ‘দাড়িয়াবান্দা’, ‘হাডুডু’ ইত্যাদি খেলার ‘কোট’ ‘খাড়া’ থাকত, সেখানে রতনদা, কাঞ্চুদা, তৈয়ব, নাজির এরা হাঁক দিলে যেমন আর সব বাড়ি থেকে পিলপিল করে ছেলেরা এসে হাজির হতো, এখন দেখছি, তাদের সংখ্যা ক্রমশ কমে যাচ্ছে। তারা হঠাৎ হঠাৎ কোথাও উধাও হয়ে যাচ্ছে।

    আগে নগেনমশাইয়ের বাড়ির ওই চত্বরে কাঞ্চুদা, রতনদায়েরা হাঁক দিত —

    লোনতা দুই
    লোনতা তিন—
    লোনতা এক

    এরকম ‘লোনতা দশ’ পর্যন্ত, এটা ছিল খেলতে আসার জন্য আওয়াজ। নগেনমশাইয়ের বাড়ির ভিতটা যখন ‘চিতা’ হলো, তার কিছুদিন পর থেকেই আমাদের ওই ক্রীড়াস্থানে ‘লোনতা’য় আর কেউ সাড়া দেয়নি।

    তালুকদার তখন উঠতি। পৈতৃক জমিজমা যা ছিল, তা নিয়ে মধ্যবিত্ত-প্রায় একরকম সচ্ছল জীবনযাপন করছিলেন। চারটি ছেলে। বেশ পড়াশোনা করে দাঁড়িয়ে যাচ্ছিল। বড়টি তখন চাকরি করে। ভালো পরিবার। এ সময় তালুকদার বক্সীবাবুর সঙ্গে কী না কী কথাবার্তা করলেন জানি না। একদিন দেখা গেল, বক্সীবাড়ির ঘর-দরজা, বাগান পুকুর সব পড়ে আছে। তারা নেই। তদবধি তালুকদার সেই বাড়ির স্বত্বাধিকারে বহাল। বক্সীবাবুর বাড়ির সৌষ্ঠব তখন তার মঞ্জিলে। তার লাইব্রেরির বইপত্তর বড় স্কুলের বইপত্তরসহ আলমারি সব তার গরিবখানায় আস্তে আস্তে গস্ত। অজুহাত খুবই জোরদার। নচেৎ চোরে দাউরে নিয়া বেয়াক যদি নষ্ট করে?’ তবে সেসব বইপুস্তক ওই পরিবারের কলেজগামীদেরও কারও যে অধ্যয়নে আসেনি, তার সাক্ষী আমি অন্তত ছিলাম। তালুকদার এবং তার সন্তানেরা পড়ে পাওয়া আঠারো আনার দখলদারি লাভ করেছিল বটে, কিন্তু সংস্কৃতি বা রুচি শুধু অকস্মাৎ-লব্ধ সম্পদের সাহায্যে অর্জিত হয় না। তার জন্য নির্দিষ্ট ঐতিহ্য চাই অথবা এক কষ্টকর সাধনা। এই তালুকদারদের ক্ষেত্রে তার কোনোটাই ছিল না। তারা ভেবেছিলেন যে, বক্সীবাবুর আয়োজনসমূহ তুলে নিয়ে যদি তাদের মঞ্জিলে জমায়েত করেন, তাহলেই বক্সীবাবুদের ঐতিহ্যগত বা সাধনালব্ধ সংস্কৃতিতে ‘তালিবান এলেমবান’ হবেন। কিন্তু বক্সীদের ওই ব্যাপারটি ‘ন মেধয়া ন বহুনা শ্রুতেন লভ্য’। এর জন্য যে সাধনার নির্দিষ্ট অনেকগুলো সিঁড়ি পার হওয়া দরকার, সে কথা তাদের জানা ছিল না।

    তালুকদারের তখন আর্থিক আয়ের উৎসও তরতর করে বাড়ছে। বক্সীদের নানান সম্পদ, জমিজিরাত, বাগানের নারকেল-সুপারির আয় তালুকদারের রোজগারে আনায় টাকা জুগিয়ে যাচ্ছে। এ সময়ে তারা একটি দোনলা বন্দুকও নিয়ে নেন। মেজ ছেলে বন্দুক নিয়ে যখন-তখন, যত্রতত্র পাখি শিকারে যায়। আমরা মাঝে মাঝেই বন্দুকের ‘গুড়ুম’ আওয়াজ শুনি। বড় খালধারের রাস্তা ধরে হাতে দু-চারটে হরিয়াল, ঘুঘু বা হট্টিটি পাখি ঝুলিয়ে তালুকদারের মেজ ছেলে আমাদের সবাইকে তাক লাগিয়ে চলে যায়।

    এই সময় তার কলেজের পরীক্ষা শেষ। অখণ্ড অবসর। দু-একজন সহপাঠীর সাহচর্যে তাই স্কুলটি চালাবার দায়িত্ব নিয়েছে সে। কিছু একটা করা দরকার। তার বন্ধু হরমুজ আলিও এ ব্যাপারে খুব উদ্যোগী। তারা স্কুলটা নষ্ট হতে দিতে চায় না। কিন্তু ছাত্র নেই। হিন্দুরা দেশ ছাড়ছে নাগাড়ে। সাধারণ মুসলমান এবং নিম্নবর্গীয় হিন্দুদের সন্তানেরা কদাচিৎ স্কুলে আসে মাঠের কাজ শেষ হলে। মাসখানেক, মাসদুয়েক বড়জোর তাদের সময় বা উৎসাহ, তারপর স্কুলটা খাঁখাঁ করতে থাকে শ্মশানের মতো। তালুকদারের ছেলেরা এবং কিছু হিন্দু-মুসলমান মুরুব্বি শ্রেণির মানুষেরা অসম্ভব নস্টালজিয়াগ্রস্ত হয়েও এই শূন্যতা ভরাট করতে পারেন না। আগের অবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা কোনোমতেই সম্ভব হয় না। একসময় তাই ভগ্নোদ্যম হয়ে চাকরির চেষ্টায় তারা শহরে পাড়ি দেয়। আমার মতো হতভাগ্য ছেলেরাই শুধু পিছারার খালপারের চৌহদ্দিতে এক নিঃসীম শূন্যতার মধ্যে গুমরোতে থাকি আর পরিপার্শ্ব নিঃশব্দে নষ্ট হতে থাকে।

    মনে আছে কিছুদিন আগেও এরা সবাই তফসির মিঞা নামে একজন পল্লি উন্নয়ন অফিসারের সহায়তায় চাঁদতারা ক্লাবের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমরা হিন্দু-মুসলমান কিশোরেরা সেই ক্লাবের মেম্বার হয়ে বেশ কিছুদিন গ্রামগুলোর ডোবা, পুকুর, দিঘিগুলোকে কচুরিপানামুক্ত রাখার প্রচেষ্টা নিয়েছিলাম। কিন্তু যেসব বাড়ি তালাবদ্ধ, একজনও প্রাণী নেই, সেসব বাড়ির পুকুর, দিঘি, বাগান ইত্যাদি যে খুব বেশিদিন পরিষ্কার রাখা যায় না, এ কাণ্ডজ্ঞান অনেক পরে আমাদের হয়েছিল। অবশ্য এতে যাঁরা ওইসব সম্পত্তির সদ্য মালিক হয়েছিলেন, তাদের লাভ হয়েছিল মেলা। একসময় ক্লাব বন্ধ হয়ে যায়, তফসির মিঞা অপেক্ষাকৃত জনবহুল এলাকায় তার অফিস উঠিয়ে নেয়। এ ভদ্রলোক সত্যিকারের একজন উদারপ্রাণ মহৎ মানুষ ছিলেন। অন্য যাদের কথা বললাম, তাঁরাও কেউ খারাপ মানুষ ছিলেন না। তবে পরিস্থিতিটাই ছিল তখন অন্য ধরনের। সে জন্য তালুকদারের ছেলেদের বা তাদের অনুগামীদের সবাইকে দোষ দিতে পারি না। সদ্য আহৃত স্বাধীনতা হিন্দুসমাজের উচ্চবর্ণীয়দের প্রাক্তন ভেদাচারের যন্ত্রণা, যৌবনিক প্রদাহ প্রশমনের সহজ উপায় এবং সর্বোপরি প্রতিশোধস্পৃহাজনিত রিরংসা—যা প্রতিনিয়ত পত্রপত্রিকায় প্রচারিত সংবাদালেখ্য থেকে আহৃত, তার প্রকোপ এড়ানো এদের পক্ষে খুব সহজ ছিল না।

    পিছারার খালের আশপাশের হিন্দুসমাজটি তখন একেবারেই ভেঙে গিয়েছিল। ফলে অবশিষ্ট হিন্দু অধিবাসীদের মধ্যে একটা নৈতিক অধঃপতন আস্তে আস্তে পরিলক্ষিত হতে থাকে। পারিবারিক শাসন আলগা, অভিভাবকেরা উদাসীন, ছেলেমেয়েদের শিক্ষাদীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই, বিবাহের বয়স অতিক্রান্তা মেয়েদের বিয়ে-থা দেয়া হচ্ছে না। সে এক মাৎস্যন্যায়ী অবস্থা। এরকম সময়ে বন্দুকধারী কোনো সুঠাম সুবেশ যুবক যদি কোনো পরিত্যক্ত বাড়ির পুকুরঘাটের পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে ভরদুপুরে পাখি শিকারের উদ্দেশ্যে বিচরণ করে, তবে গ্রামীণ যুবতীদের পক্ষে সহজ অবগাহন যেমন সম্ভব হয় না, তেমনি সম্ভব হয় না স্বকীয় অসহায় যৌবনের প্রদাহকে চোখের সামনের সুবেশ যুবকের আকাঙ্ক্ষার চাউনি থেকে, আশ্লেষ থেকে এবং সম্ভোগ থেকে রক্ষা করবার। আবার এ দাহ কদাচ জাতি বিচার করে। তাই যা ঘটবার তা ঘটেই, আর সেই সংঘটন জন্ম দেয় অন্য এক প্রদাহের, যাকে আমরা, বিশেষ করে এইসব ক্ষেত্রে, সাম্প্রদায়িক ব্যভিচার বলে এতকাল গণ্য করে এসেছি। তালুকদারের মেজ ছেলে অথবা তারই বয়সি অন্য কোনো মুসলমান যুবক যদি আমার গ্রামের কোনো যুবতীর সঙ্গে তার সম্মতিতে একদিন সহবাস করেই থাকে, তা হলেও ঘটনাটির বিন্যাস এরকমই হয়।

    এরকম দু-একটি ঘটনা তখন আমি দেখেছি। কিন্তু যে যুবতীটি শহর থেকে আসা তথাকথিত মামাদের সঙ্গে সম্পর্ক করতে পারে, সে যদি কোনো মুসলমান যুবকের সঙ্গে একদিন সম্পর্ক করেই বসে, তাতে কী? কাজটি যে সামাজিক বিচারে অবৈধ, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু তা তো উভয়ত। কিন্তু তাতে যে অনেক কিছু, সে জ্ঞানও আমার ততদিনে হয়েছে। যুগ একটা ব্যাপার এবং তখন সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি ব্যাপারটাকে করে তুলেছিল আরও জটিল।

    বক্সীবাবু ব্যাপারটি বুঝেছিলেন বলেই একদিন তালুকদারকে বাড়িঘর আগান-বাগান দেখার দায়িত্ব দিয়ে এক ভোররাতের আলো-আঁধারিতে সবার অলক্ষে গ্রামত্যাগ করেন। ভয় পেয়েছিলেন তিনি। কেলেঙ্কারির ভয়। তার মেয়ের বয়স তখন পনেরো। চারদিকের নানান ঘটনাবলির খবরে দুশ্চিন্তা মনে ছিলই। কিন্তু তখনও দেশছাড়ার কথা তিনি ভাবেননি। কারণ, অন্যান্য স্থানের মতো আমাদের পিছারার খালের চৌহদ্দিতে দাঙ্গা, খুনখারাপি বা অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি ঘটেনি। যা হোক, একদিন এখানে একটি ঘটনা ঘটে। বক্সীবাবুর মেয়ের বয়সি একটি মেয়ে একটি মুসলমান ছেলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় ধরা পড়ে। স্থানটি নির্ধারিত হয়েছিল একটি ‘পাইত্রাবনে’। মেয়েটি যুগি সম্প্রদায়ের। ছেলেটির নাম আবুল। অতঃপর স্কুলের বিভিন্ন শ্রেণিতে রব ওঠে, আবুল যুগি পাইত্রাবনে। এখন এই ঘটনাটির সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে গিয়ে সমাধানের কাণ্ডজ্ঞান কারও না হওয়ায়, বিষয়টি মাত্রা পেল—’মোছলমানের পোলা আবুল অমুক যুগির বয়স্থা মাইয়াডারে পাইত্রাবনে টানইয়া নিয়া বেইজ্জত করছে। এ হালার দ্যাশে আর জাত ধম্ম মান ইজ্জত কিছুই রইল না।’ এই সময়টিতে পূর্ব পাকিস্তানের হিন্দুদের জাতধর্ম বড় ‘নাজুক’ ছিল। সামান্য কারণেই তা ভেঙে পড়ত। কারণ তারা সংখ্যালঘু।

    অন্যপক্ষে মিঞাপুত্ররা, যারা উঠতি, তারা হিন্দুদের এই সামাজিক অবক্ষয়জনিত অবস্থাটির যথাসাধ্য সদ্ব্যবহার করতে কিছুমাত্র ত্রুটি করছিল না। এ কথায় কেউ আপত্তি জানালে উপায় নেই, কিন্তু মুসলমান সম্প্রদায় নিজস্ব সমাজে মেয়েদের সঙ্গে সহজ মেলামেশায় অভ্যস্ত ছিল না বলে হিন্দু মেয়েদের প্রতি বড়ই আকাঙ্ক্ষী ছিল। কারণ এরা আদৌ পর্দানশিন ছিল না এবং তাদের কাপড়চোপড় পরার ধরনটিও ছিল আলাদা। আর একবার এ কথাটি পাঠক-পাঠিকাদের উদ্দেশ্যে জানাই যে, এই পর্যবেক্ষণের পটভূমি আমার পিছারার খালের চৌহদ্দির জগৎটিই, যেখানে আমার দৃষ্টিকোণ মধ্যবিত্ত হিন্দুসমাজের মধ্যে বেড়ে ওঠা একটি কিশোরের এবং প্রতিবেশী মুসলমানসমাজের অধিকাংশ অত্যন্ত সাধারণ শ্রেণির। তাদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার তখনও নিতান্ত সামান্য।

    সে যা হোক, মানুষের যৌনতার আতিশয্যের নানাবিধ কারণের মধ্যে পোশাক-আশাকের ‘ঢঙ’ বোধহয় একটা প্রধান কারণ। অন্তত এ ক্ষেত্রে মুসলমান যুবকদের সেরকমই ভাব দেখেছি। পরে, একটু বড় বয়সে দু-একজন মুসলমান বন্ধুও আমাকে এ বিষয়ে বলেছে। হিন্দু বাঙালি মেয়েদের ‘ডেরেস দিয়া’ শাড়ি পরার জন্য তাদের যে অতিরিক্ত যৌন তাড়না ঘটে, তা তারা পরিষ্কারভাবেই আমাকে বলেছে। ব্যাপারটি বিপরীতক্রমেও এরকমই মনে হয়েছে আমার। কেননা আমিও তখন ওখানেই বয়ঃপ্রাপ্ততায় ‘দামড়া’ হচ্ছিলাম। আমার যৌনতাবোধের ইতিহাসও অনুরূপই। সেখানে মুসলমান মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ জাতীয় পোশাক, যা হিন্দুদের সমাজে তখন ব্যবহারে ছিল না, আমার মতো হিন্দু ছেলেদের অসুবিধে ঘটাত। আমাদের গ্রামের প্রান্তিক অবস্থানে যে পোড়োবাড়িটি দাশের বাড়ি নামে খ্যাত ছিল, সেখানে উপনিবেশকারী মুসলমান পরিবারটির সাবেহা, রেহানারা তাদের পোশাকে আমার মতো হিন্দু কিশোর বা যুবকদের যৌনতায় সেসব দিনে যে অসম্ভব তাড়নার সৃষ্টি করত, সে কথা অস্বীকার করা সত্যের অপলাপ

    বক্সীবাবু, ‘আবুলযুগি পাইত্রাবনে’ এমতো ধ্বনি শুনে, প্রথমেই ধাক্কা খেলেন এই ভেবে যে, তাঁর মেয়েও ওই বয়সি। অতএব, আর এখানে থাকা বোধহয় সংগত হয় না। তিনি বিচক্ষণ শিক্ষিত লোক। হয়তো বিচারবিবেচনায় অনেক কিছুই গ্রহণ করতে সক্ষম, কিন্তু পারিপার্শ্বিক অবস্থা তাঁর চিন্তাবিশ্বের সড়ে তো সহযোগিতা করবে না। বিশেষত নিমজ্জমান সমাজে মানুষ বড় অবুঝ হয়। তারা তখন কোনো সমস্যার কার্যকারণ বিচার করে না। তিনি বুঝেছিলেন নিশ্চয়ই যে, এই গ্রামীণ সুখ, সম্পদ এবং বর্ণাঢ্য জীবনযাপনের এখানেই ইতি। অতএব, ‘অন্য কোথা, অন্য কোনোখানে’ জীবনের তরি ভেড়াতে হবে। আবুল এবং ওই যুগি মেয়েটি তার স্কুলেরই ছাত্রছাত্রী ছিল। তার এতাবৎকালের শিক্ষকতার জীবনে এ ঘটনা একেবারেই নতুন, যা তাঁর চিন্তায় কখনোই আসেনি।

    কিন্তু ঈদৃশ ঘটনা যুগের পর যুগ ধরে ঘটে আসছে। ইতিহাসে হিন্দু এবং মুসলমানের প্রেম বা যৌন সম্পর্কের ঘটনা বিগত প্রায় হাজার বছরের পারস্পরিক সহাবস্থানে কখনো ঘটেনি এরকম তথ্য আমার জানা নেই। আবার তার সবটাই যে জবরদস্তি, এরকম কথাও কোথাও পাইনি। এ ক্ষেত্রে প্রেম এবং যৌন সম্পর্ককেও প্রায় সমার্থক অর্থে ব্যবহার করার জন্য হয়তো অনেক আধুনিকপন্থিরা মূর্ছা যেতে পারেন, কিন্তু আমার কৈশোরক অভিজ্ঞতায় পিছারার খালের ব্রহ্মাণ্ডে বিষয়টির ভিন্নতা, সামাজিক ব্যবহারে অথবা চিন্তনে আমি কখনোই উপলব্ধি করিনি। দুটি বিষয়কেই একক ধারার রকমফের বলেই জ্ঞাত হয়েছি।

    বক্সীবাবুর অবস্থাটা অন্য। যদি বলি, তিনি বিন্দুতে সিন্ধু দর্শন করে তাঁর ওই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন, তাও বলা যায়। আবার ওই সিদ্ধান্ত না নিলেও সেই সময় যে ব্যাপক আন্দোলন করে এমন কু-আচার রোধ করবেন, এমন ক্ষমতাই-বা তাঁর কোথায়? অতএব, সহজপন্থা, ‘য পলায়তি, স জীবতি’। বক্সীবাবু শুধু একজন শিক্ষক নন। তিনি বিপদে-আপদে মধ্যবিত্ত হিন্দুদের এমনকি মুসলমানসমাজের মানুষদেরও আশ্রয় ছিলেন। অতএব তাঁর দেশত্যাগ ব্যাপারটি একটি অতি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবেই সবাই গ্রহণ করল। তার দেশত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে আমার পিছারার খালের জগৎ তার আধুনিকতার প্রবেশের পথটিই হারিয়ে ফেলল। আমাদের এই অঞ্চলটি দেশের অত্যন্ত গভীরে অবস্থিত হলেও তার একটি চমৎকার আধুনিক বিকাশক্রম ছিল। এই বিকাশধারাটি দেশভাগ তথা বিশেষ বিশেষ মানুষদের দেশত্যাগজনিত কারণে প্রতিহত না হলে যে একটি চমৎকার সাংস্কৃতিক স্থান হিসেবে পরিণত হতে পারত, সে বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। বক্সীবাবুকে নিয়েই এত কথা বললাম বটে, কিন্তু তিনি যে একাই এই বিষয়ে দায়ী তা নয়। মধ্যবিত্ত অন্যান্য পরিবারগুলোও এই একই দোষে দোষী। এখানকার সাধারণ সমাজ কী হিন্দু, কী মুসলমান, এঁদের ওপর বড়ই নির্ভরশীল ছিল। এরা দেশ ছাড়লে তাদের স্থায়িত্বও অনির্দিষ্ট হয়ে পড়ে।

    তালুকদারদের মতো মানুষেরা উকিলবাড়ি, বক্সীবাড়ি বা অনুরূপ অনেক বাড়ির সাজানো সম্পদ লাভ করে সাময়িক কিছুকাল ভোগ করেছিল বটে, কিন্তু সে ভোগ স্থায়ী হলো না। তাদের মধ্যে বক্সীবাবুদের মতো পারিবারিক রুচির পরম্পরা ছিল না। তা ছাড়া এইসব গৃহস্থেরা পুরুষানুক্রমে এই সম্পদ অর্জন এবং ভোগ করেছেন গৃহস্থসুলভ সংরক্ষণে। নতুন দখলকারীরা যেহেতু এই সম্পদ অর্জন করেনি, তাই তাদের ভোগে গৃহস্থের সংরক্ষণ ছিল না। তারা ফল ফুরোলে গাছগুলো কেটে বিক্রি করে। পুকুর সেচে সব মাছ ধরে নিয়ে সেসব স্থানে ধানের খেত করতে লাগল এবং এভাবে গোটা অঞ্চলটাই লক্ষ্মীছাড়া রূপ ধারণ করল। বড় খালপারের বৃক্ষদম্পতি এইসব দেখেশুনে কেমন যেন মৌন হতে থাকল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএঞ্জেলস এন্ড ডেমনস – ড্যান ব্রাউন
    Next Article কহলীল জিবরান রচনা সমগ্র (ভাষান্তর : মোস্তফা মীর)

    Related Articles

    মিহির সেনগুপ্ত

    বিদুর – মিহির সেনগুপ্ত

    January 20, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }