Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিষাদবৃক্ষ – মিহির সেনগুপ্ত

    মিহির সেনগুপ্ত এক পাতা গল্প596 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বিষাদবৃক্ষ – ৮

    আট

    পিছারার খাল এবং সর্বংসহিষ্ণু ওই কুলপতি বৃক্ষদম্পতির এলাকার সেই সময়টিতে দাঙ্গায় সমূলে বিনাশ হওয়ার চাইতেও ভয়াবহ ছিল যুবতী মেয়েদের লুণ্ঠিত বা ধর্ষিতা হওয়ার আশঙ্কা। তখন গোটা দেশেই ধর্ষণ, লুণ্ঠন ইত্যাকার অনৈতিক কাজগুলো যেন খুব সাধারণ স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। আবার অন্যদিকে যে কোনো প্রকার যৌন আচরণই তখন বলাৎকার হিসেবে গৃহীত হচ্ছিল, যদি তার পাত্রী হিন্দু এবং পাত্র মুসলমানসমাজের হতো। এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত অভিজ্ঞতার কাহিনি বলব। তখনও আমি বয়ঃসন্ধির কাছাকাছিও পৌঁছাইনি। একটি নিছক সাধারণ যৌনতার ঘটনাকে, হয়তো তাকে প্রেমই বলা যায়, আমি দেখেছি ধর্ষণ হিসেবে আখ্যায়িত হতে। ঘটনাটি আদৌ ধর্ষণ ছিল না। ছিল আপসের। তখন আমার যা বয়স, তাতে স্বাভাবিক যৌনতা, ধর্ষণ, প্রেম ইত্যাদি বিষয়ে আলাদা আলাদা পরিষ্কার ধারণা ছিল না। একটা স্থুল ধারণাই শুধু এ বিষয়ে আমার ছিল, যা বাড়ির পুরনো চাকরবাকর বা গ্রামের কোনো উঠতি মুখফোঁড় দাদার কাছ থেকে রপ্ত।

    ভদ্র গৃহস্থেরা গ্রাম ছাড়লেও পিছারার খালের চৌহদ্দির অপবর্গী, অপবর্ণীয়রা তখনও দেশ ছাড়ার কথা ভাবছিল না। তখনও যুগিপাড়া, নাপিতপাড়া, ধোপা, কামার, কুমোর এবং নমশূদ্রেরা গ্রাম ছাড়তে শুরু করেনি। আমাদের তথাকথিত ‘ভদ্দরলোকদের’ ভিটেতে সাঁজ-সবেরে শেয়াল ডাকলেও ওদের এলাকাগুলো বেশ সরগরম ছিল। তারা তাদের জাতকর্ম বেশ চালিয়ে যাচ্ছিল। তখনও পানবরজগুলো পাটকাঠির ঘেরাটোপে পানপাতার সবুজ বহতা বজায় রাখছিল। যুগিরা হলুদ, নীল, লাল এবং ফলসা শাড়ি বুনোনে ব্যস্ত থাকত। কামারশালায় দিনরাত হাপরের শব্দ এবং ‘নেহাইএর’ তপ্ত লোহার পাতের উপর হাতুড়ির দমাদ্দম আঘাতের শব্দ আমরা বাড়ি থেকেই শুনতে পেতাম। আমাদের ‘ভদ্দরলোকদের’ বাড়িগুলো শূন্য হলেও ওদের অঞ্চলে তার কোনোই প্রভাব তখনও দেখা যায়নি। তারা তখনও বেশ দিব্য গ্রামীণ সুখেই গেরস্থালির রস উপভোগ করছিল। সারাদিনমান পরিশ্রম করে সন্ধেবেলায় খোল, কর্তাল, বাঁশি নিয়ে তাদের কীর্তনের দল গেয়ে চলছিল তাদের আবহমানের পদাবলি —

    গৌর একবার এসো হে
    তুমি আসিলে আনন্দ হবে
    নিরানন্দ দূরে যাবে—
    গৌর একবার এসো হে

    তারা গৌরাঙ্গভক্ত ছিল সবাই। সহজ সরল সাধারণ মানুষ তারা। গৌর, নিতাই, শচীমাতা এবং বিষ্ণুপ্রিয়াকে ইষ্ট হিসেবে নিয়ে বহুকাল ধরে তাদের এই ধারা তারা বজায় রেখে চলেছে। এর সাথে সমান্তরালে চলেছে সব লোকায়ত দেবদেবীর পূজা। এরা সবাই মূলত সংকীর্তনের ভক্ত, তাই গৌর, নিতাই, অদ্বৈত, শ্রীবাসাদির অনুগামী। সারাদিন কাজকাম, সন্ধেবেলা হরিনাম। আমি নিজেও বনমালী যুগির কাঁপানো কণ্ঠের সেই কীর্তন ভুলতে পারি না—

    সংকীর্তনের শিরোমণি
    দ্বিজমণি দ্বিজ রাজ্যে হে

    এ ছাড়া তারা আরও এক কীর্তনের আসর করত এ সময়। সেই আসরের নাম ‘তেন্নাথের মেলা’। এই আসরের নাম মেলা, শুধু কীর্তন নয়। গরিবগুর্বোদের অসহায়তার কথা ভেবেই যেন কোন সুজন এই সরল মেলা-কীর্তনটির সৃজন করেছিলেন। আমাদের বাল্যকালের ওই সময় এর বেশ ব্যাপক প্রচলন হয়েছিল। এই উৎসবে খরচ মাত্র তিন পয়সা। প্রায় ব্রতকথার মতোই এই অনুষ্ঠান। ‘তেন্নাথ বা ত্রিনাথ’। ‘বেম্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বরের’ সম্মিলিত রূপ। তাঁর কৃপায় ‘হারাইয়া যাওয়া গাই’ ফেরত পাওয়া যায়। ‘বাঁজা গরু ডাকে’ এবং গর্ভিণী হয় এবং আরও সব অসম্ভব-অসম্ভব কাণ্ড ঘটে, যা কৃষি এবং পশুপালনকারী মনুষ্যদের সমস্যাবিষয়ক। এই তেন্নাথ গোঁসাইয়ের মহিমা একটা সময় থেকে এদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করলে দাঙ্গার পরবর্তীকালে এখানকার অবশিষ্ট মধ্যবিত্তরাও তাঁর আশ্রয় গ্রহণ করে। বাড়িতে ‘মানত’ করা হতো ‘তেন্নাথের’ মেলার। বনমালী, লালু, যদুনাথ ইত্যাদিরা তাদের সংকীর্তনের দল নিয়ে এসে তখন তিন পয়সার পালা’ গেয়ে যেত। এক পয়সার পানসুপারি, এক পয়সার বাতাসা আর এক পয়সার গাঁজা—এই হলো পূজার উপকরণ। বনমালী দেবনাথ গাইত—

    আমার ঠাহুর তেন্নাথ গোঁসাই
    কিছুই না সে চায়
    এক পয়সার গাজা পাইলে
    ডুগডুগি বাজায়।

    এইরকম সহজ কীর্তনপ্রাণ মানুষ ছিল এরা। এই কীর্তনীয়াদেরই একজনের মেয়ে পুতুল, অল্পবয়সি বিধবা যুবতী। তার মেয়ে কুসুমের বয়সও তখন তেরো-চৌদ্দ। মা-মেয়ে দুজনকেই তখন মনে হতো দুই বোন। পুতুল অকালে বিধবা হয়ে মেয়ে নিয়ে বাপের বাড়ি, যেমন সাধারণত হয়ে থাকে। আমাদের বড় খালের যেখানটি থেকে পিছারার খালটির শুরু বা শেষ, তার বেশ কিছু উজানি বহতা পেরিয়ে এগোলে ডানদিকে হিন্দুদের, তো বাঁদিকে মুসলমানদের গাঁ। জানি না, এই উজানি খালটি কোনো এক সময়–হিন্দু-মুসলমানদের আলাদা স্থায়িত্বে স্থাপনের জন্য কাটা হয়েছিল কি না। অথবা প্রাকৃতিকভাবে তৈরি এই খালটিকে এই উভয় সমাজ সীমান্তচিহ্ন হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেছিল।

    পুতুলের গ্রাম যুগিপাড়াটি কিন্তু মূল খালের ডানদিকের হিন্দুদের এলাকায় নয়। সেটি খালের একটি বাঁকে এসে বাঁদিকেই পড়েছে। যুগিদের একফালি মহল্লা পিছারার খালের সাম্প্রদায়িক চিহ্নটিকে যেন বিদ্রুপ করেই তাদের পাড়াটিকে বাঁদিকের ওই স্থানটিতে আটকে রেখেছে। অনধিক শদেড়েক গেরস্থালি নিয়ে এই যুগিপাড়া। তাদের কাজকাম কাপড় বোনা, প্রতিদিন সকাল-সন্ধেয় তাদের ঠকাসঠক ঠকাসঠক শব্দ আমাদের বাড়ির ছাতের ওপর থেকেও শুনতে পাওয়া যেত। কখনো পাড়াবেরুনি পারুলি দাসী, কখনো-বা ধরনী বুড়ি, ছোট ধোপানির সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে তাদের টানাপোড়েন’ ‘রঙ্গোলা’ অথবা ‘ষাট চল্লিশের কাজ দেখতাম। তাদের কেউ-বা নাথ, কেউ-বা দেবনাথ—এইসব পদবির। এই যুগি বা যোগীদের সঙ্গে, নাথ যোগীদের কোনো সম্পর্ক আছে কি না তখন তা বিচার করিনি। বোধকরি ছিল। কেননা, তাদের সমাজ, সামাজিকতা ভিন্ন ধরনের ছিল, আর নামের সঙ্গে উপাধিগুলো ছিল নাথ বা দেবনাথ। দেবনাথ হলো তারাই, যারা পৈতে নিত এবং আমরা তাদের যুগির বাওন’ বলতাম। তাদের পারেরই একদল লোক ছিল জোলা। তারাও কাপড় বুনত। রঙ্গোলা করত। তাদের বাড়ির তাঁতের ঠকাসঠক শব্দও আমরা শুনতে পেতাম। সে শব্দ যুগিবাড়ির শব্দের সঙ্গে মিশেই এসে পৌঁছত আমাদের ছাতে। এরা মাত্র কয়েক পুরুষ আগেকার তাঁতি ইত্যাকার জাতির ধর্মান্তরিত মুসলমান। তখনও গোপনে তাদের ‘বুতপরস্তি’ চলে। নামের পদবিগুলোও পালটায়নি। কেউ মল্লিক, কেউ বিশ্বাস, কেউ মণ্ডল বা শিকদার। সবই পেশাদারি নবাবদত্ত পদবি। জাত বোঝার উপায় নেই পদবি দেখে। তবে সবারই মূলাধার অপবর্ণীয় হিন্দু সম্প্রদায়। পুতুল এদেরই মেয়ে। হিন্দুসমাজের। কাসেমও এদেরই ছেলে। মুসলমান সম্প্রদায়ের। এই কাসেম এবং পুতুলের মধ্যেই প্ৰেম।

    পিছারার কাসেমদের বাড়ি আর পুতুলদের বাড়ির মাঝে একটি ছোট নালাখাল, খালটির সঙ্গে এসে মিশেছে সেটি। কাসেমদের পদবি মল্লিক। এই কাসেম একদা পুতুলকে নিয়ে ভেগে যায়। পুতুল তখন বত্রিশ-তেত্রিশ বছরের যুবতী বিধবা। এই নিয়ে গোলযোগ। কাসেম পুতুলরে বাইর হরইয়া নেছে। কিন্তু এ ব্যাপারে পুতুলের যে ইচ্ছার আদৌ অভাব ছিল না, সে কথা কেউই বিচার করল না। তারা কিছুদিন শহর-গঞ্জে কাটিয়ে দরিদ্রতা নিবন্ধন বহুকালের পরিত্যক্ত দত্তবাড়ির ভূতুড়ে গৃহে এসে হাজির হয়। না পুতুল তার সমাজে যেতে পারে, না কাসেম। পুতুলের সমাজের বিচার সে ‘কাঁচাবাড়ি’ হয়েও মুসলমানের ছেলের সঙ্গে ‘বাইর অইয়া গেছে’ অথবা হ্যারে ফুসলাইয়া নেছে, আর কাসেমের সমাজের বিচার, ‘হে কলমা না পড়াইয়া এট্টা নাপাক হিন্দু বেওয়ার লগে জেনা করছে।’ এ ক্ষেত্রে কাসেম যদি পুতুলকে কলেমা পড়িয়ে শুদ্ধ করে নিয়ে ভোগ করত, তাতে তাদের কোনোই গুনা হতো না, বরং এক মহাপুণ্যের কাজ হতো এবং এরকম ‘হাদিস’ অবশ্য আছে যে পুরোপুরি ‘সাদি’ না করেও আওরতদের গ্রহণ করা যায় কিছু বিশেষ প্রকরণে পশুকে যেমন ‘হালাল’ করে ভক্ষণ করা ‘জায়েজ’, তেমনি আওরতদেরও হালাল করে নেয়া প্রতিটি মোমেন মুসলমানের ‘পাক-কর্তব্য’। কাসেমের সমাজের বিচারে পুতুল হালাল নয়। হারাম। তাকে হালাল করতে হলে কলেমা পড়িয়ে অর্থাৎ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মদ উর রসুলুল্লা’ ইত্যাদি মন্ত্র পাঠ করিয়ে নিতে হবে, নচেৎ তার সহিত সহবাস করা নাপাক। কিন্তু যৌন-বুভুক্ষা ‘কলেমা’ বা ‘যদিদং হৃদয়ং তব’ ইত্যাদি মন্ত্রের জন্য থোড়িই অপেক্ষা করতে পারে। বিশেষত যখন সেখানেও নানা ‘ফ্যাকড়া’র মোকাবিলা করতে হয়। এ কারণে উভয় সম্প্রদায়েই এক ব্যাপক গোলযোগের সূত্রপাত হয়। দত্তদের পুরনো পোড়োবাড়িতে বসবাসকালে তাদের অবস্থা দাঁড়ায় অতি করুণ। তাদের তখন অন্ন জোটে না। উভয় সমাজই তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। দিনমজুর কাসেম খেতে-খামারে কাজ পায় না। কোনো গৃহস্থই কাজ দেয় না বলে সে প্রায় ‘একঘরে’ হয়ে আছে। কাসেম খেটে-খাওয়া মানুষ, সা-জোয়ান চেহারার মস্ত মরদ। পুতুল ছিপছিপে চেহারার বছর বত্রিশের আচুক্কা সুন্দরী যুবতী। ‘আচুক্কা’ সুন্দরী বলতে আমাদের ওখানে যাদের বোঝানো হতো তারা শাস্ত্রসম্মত এমনকি দেশাচারসম্মত সুন্দরীও নয়। শাস্ত্রসম্মত সুন্দরীদের কথা বাদ দিই। এখানে তার প্রয়োজন নেই। কিন্তু দেশাচারসম্মত সুন্দরীদের কথাটি না বললে আচুক্কা সুন্দরীর ব্যাপারটি বোঝা যাবে না। দেশাচারসম্মত সুন্দরীরা হবে ‘ফসা ধলা, গড়ন পেডন গোলগাল লগতইয়া। মাথায় থাকপে আষারইয়া ম্যাগের ল্যাহান ক্যাশ, যা পাছা বাইয়া ঠ্যাঙ্গের লোছ অর্থাৎ গোছ ছাড়াইয়া লামে। হ্যারা লাল পাড়ইয়া শাড়ি পরা, সব্বদা লক্ষ্মী লক্ষ্মী ভাব।’ ‘আচুক্কারা’ তা নয়। ‘হ্যারগো চৌউক্কের ভাবই আলাক, চ্যাহারায় ছ্যামড়া চ্যাতানইয়া ম্যাকমেকি। হ্যারগো দ্যাখলেই বেয়াকের মুহের থিহা নজর আগে পড়ে বুহে। সামনা দিয়া হাডইয়া যাওনের সোমায়, হ্যারগো পাছালাড়া দ্যাখলে পুরুষ তো পুরুষ, তোলানইয়া খাসি বলদাড়াও ফাত ফাত করইয়া দিগ্গ শোয়াষ ছাড়ে।’ ইংরেজিতে এই বর্ণনা বা ব্যাখ্যা হয়তো একটি বাক্যে বা শব্দেই হতো। শব্দটি ‘সেক্সি’। এরা ছিল প্রকৃতই ‘সেক্সি’ চেহারার।

    পুতুলের প্রসঙ্গে এতসব সাতকাহন এলো। এদের দেহের গড়ন এবং গতরের ‘লগইত’ দেখেই আমাদের দেশের মহিলারা ধারণা করতেন যে, এরা সাধারণত অধিক ‘ম্যাকমেকি যুক্তা’ হবে। পুতুল যে তার ম্যাকমেকির জন্যই অথবা দারিদ্র্যের কারণে কাসেমের মতো এক হামউয়া জুয়ান শ্যাহের লগে বাইর অইয়া গেলে এ-কথার প্রচারও চাপা পড়ে গেল। শুধু সবাই জানল, ‘মুসলমান যুবক কর্তৃক’, অসহায়া হিন্দু যুবতী বিধবার শ্লীলতাহানি। পুতুলের দারিদ্র্য বা অসহায় যৌবনের পরিত্রাণ বিষয়টি কোনো সমাজেরই স্বীকৃতি পেল না।

    এ বিষয়ে সর্বাধিক ক্ষিপ্ত ছিল কাসেমের বাপ। তার ক্ষিপ্ততার কারণ ভিন্ন। তার ছেলে কোন হিন্দু মাগির সঙ্গে ‘জেনা’ করেছে, তা তার প্রতিপাদ্য বিষয় নয়। বাপ-বেটা উভয়েই একই জীবিকার মানুষ। হিন্দু গেরস্তবাড়িতে কাঠকাটা, বাগান দেখভাল করা, নারকেল, সুপারি পাড়া, চাষের কাজ ইত্যাদি ব্যাপারে জীবিকা অর্জন করত তারা। এই ঘটনায় হিন্দুবাড়ির কাজকাম তারা আর পাচ্ছিল না। তার বাপের রাগ সে কারণে। এদিকে পুতুল আর কাসেমের অন্ন জোটা ভার। কাসেম তখন তার প্রেমের দায় শোধ করছে। তারা তখন থোড়-কচু এডা-ওড়া খেয়ে দিন গুজরান করছে। এর মধ্যে একদিন বাপ সেই দত্তদের হানাবাড়িতে চড়াও হয়ে ধুন্ধুমার কাণ্ড বাধিয়ে বসে। পুতুল ছিল একা। কাসেম গেছে খাদ্যের সন্ধানে এদিক-ওদিক কোথাও। পুতুল সামনের বয়ে যাওয়া খাল থেকে জল তুলতে গেছে। এ বাড়ির সামনের খাল হলেও এটিই আমার সেই পিছারার খাল। এমতো সময় এপারে পুতুল আর ওপারে কাসেমের বাপ। মল্লিক রোগা ঢ্যাঙাঢ্যাঙা চেহারা হলেও হাঁক ছাড়ে আলি আলি বলে। গলায় বেদম জোর। সে হাঁক পাড়ে, মাগি তোর এত খাউজ কীয়ের অ্যাঁ? তার হাতে একখানা কুড়ুল, যা তার নিত্যদিনের রোজগারের হাতিয়ার। মল্লিক হঠাৎ খালপারে পুতুলকে দেখে ভীষণ খেপে যায়। কারণ বেশ কিছুদিন ধরে তার কামধান্দা কিছুই জোটেনি। সবাই বলে, না মল্লিক, তোমাগে আর কাম দিতে পারলাম না। সবাই তাকেও অবিশ্বাস করতে শুরু করেছে। যেন সেও তার ছেলের মতো একটা কাণ্ড ইচ্ছে করলেই করতে পারে। মল্লিক বলে, মাগি এই কুড়ুইল দিয়া তোর ম্যাকমেকির ফলনাতা হরমু, বোজজো? তোর ম্যাকমেকির গোড়ায় মুই ঢেহির মুষল দিয়া ধান ভানমু। তোর এ্যাত্তো খাউজ যে মোর পোলারে বিভুলা করো?

    এসব ভাষা আমাদের অঞ্চলে আকছার ব্যবহার হতো তখন। কেউ কিছু মনে করত না। তো এইসব চেঁচামেচি-হুড়াঙ্গামায় আশপাশ গ্রামের সব মানুষজন এসে হাজির। মনে আছে, ওই ভিড়ের মধ্যে পুতুলের মেয়ে কুসুমও ছিল। সে বড় করুণ চোখে তার মাকে দেখছিল। এ কথাও এখনও ভুলিনি। তার চোখে ভয় এবং ঘৃণা। বয়স আমার তখন যা-ই হোক, আমি অনেক কিছুই তখন বুঝতে আরম্ভ করেছি। খালের উভয় পারের মুরুব্বিরা, হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ওই দত্তদের বাড়ির সামনেই এক সালিশির ব্যবস্থা করলেন। এরা অবশ্য কেউই উচ্চবর্ণীয় সমাজের নন। যাঁরা যুগিসমাজের তাঁরা বলছেন, মোগো মাইয়াডারে বাইর করইয়া নেছে তোমাগো পোলায়। মুসলমানরা বলছেন, হুইজ যদি হোগা লাড়া দে হেলে হুতা হান্দে ক্যামেন?’ এমন এক বিন্যাসে সভার আলোচনা শুরু হয়। মল্লিকের পক্ষে যারা, তারা পুতুলের দোষ বর্ণায় আর পুতুলের স্বজাতিরা বলে, ‘মোগো রাঁড়ি মাইয়াডারে কাসেমইয়া বাইর করইয়া নেছে।’ এইসব গণ্ডগোলে সালিশি যখন প্ৰায় চৌপাট তখন কোনো এক অন্ধকার প্রান্ত থেকে যেন পুতুল বেরিয়ে আসে। তার পরনে কালো নরুণ পাড় আধাচ্ছিন্ন ধুতি, যা গরিব বিধবারাই শুধু আমাদের ওখানে পরত। হাতে দুগাছা পেতলের চুড়ি। অনাহার অনিদ্রা এবং দুশ্চিন্তায় জীর্ণশীর্ণ শরীর। এখন তাকে আচুক্কা কেন, কোনো সুন্দরীই বলা চলে না। সে খুবই সসংকোচে সামনে আসে এবং বলে, ‘আফনেরা এহানে য্যারা য্যারা আছেন, বেয়াকের ধারে কই, মোরে আর মোর ওই মাইয়াডারে দুগ্গা ভাত দেওয়ার কেউ আছেন এহানে? মোগো ভাত জোড়ে না। মোর বাপ-জ্যাডারাও এহানে হাজির। হ্যারাও মোগো দুমুইড খাওন দেতে পারে না। হ্যারগো নিজেগোই জোড়ে না তো দেবে ক্যামনে?’ নিতান্ত অসহায়ার মতোই সে সভার সামনে দাঁড়িয়ে সেদিন তার আর্জি পেশ করেছিল। আমার স্মরণ আছে, দত্তবাড়ির বেলগাছটার তলায় দাঁড়িয়ে আমি এই করুণ দৃশ্য দেখছিলাম। আমার সঙ্গে আরও অনেক ছেলেপুলে রগড় দেখতে গিয়েছিল সেখানে। কিন্তু আমার কাছে শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটা আর রগড় থাকেনি। পুতুল বলে যাচ্ছিল, ‘দেবেন কেউ মোগো, দোবেলা দুগ্গা ভাত?’ দুই সমাজের কোনো মুরুব্বিই এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি সেদিন। শুধু ছিলা-ছেঁড়া ধনুকের মতো সোজা মরদ সেই কাসেম বলেছিল, ‘মুই দিমু। লও, তুমি আর তোমার মাইয়ারে লইয়া মুই গঞ্জে যাইয়া থাহুম, তোমার মাইয়া মোরও মাইয়া ইনসাল্লা। গঞ্জে মোগো ভাতকাপুরের অবাব অইবে না।’ কিন্তু মেয়ে কুসুম বলে, মুই যামু না। শ্যাহের ভাত মুই খামু না। এ্যারা মোর কেউ না, কেউ না। মুই মরুম মরুম, মোর কেউ নাই কিচ্ছু নাই’–এইসব বলতে বলতে সে কোথায় উধাও হয়ে যায়। পুতুলের উদ্যতপ্রশ্ন মুখ তার বুকের কাছে নুয়ে পড়ে

    ওই বয়সেও একটা বিষয় আমার মতো বয়সিদের কাছেও পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে, পুতুল শুধু পিরিতের জন্যই কাসেমের সঙ্গে বেরিয়ে যায়নি। তার এবং তার মেয়ের ক্ষুধা একটা বড় সমস্যা ছিল তার কাছে। মেয়েটা কিন্তু মায়ের এই ব্যাপারটাকে মেনে নিতে পারল না। কেননা সামাজিক যে শিক্ষায় সে তখন গড়ে উঠছে, সেখানে ‘শ্যাহেদের’ সবকিছুই খারাপ। উপরন্তু এই তাঁতি যুগিদের বা অন্যান্য অপবর্ণীয় মনুষ্যদের সমাজ একই দৃষ্টিতে দেখে। কিছুই ভেদাচার করে না। সে কারণেই বোধকরি যুগিরা জোলাদের একেবারেই সহ্য করতে পারে না, কেননা তারা জাতিত্যাগী হয়ে মুসলমান হয়েছে। সেটা মূল সমাজের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। এখানে একটা অভিমানের ব্যাপার আছে। সমাজতাত্ত্বিকেরা ভালো বুঝবেন। কিন্তু আমি ব্যাপারটা এরকমই দেখেছি। এটা নিকিরি এবং জিওলি বা জেলেদের মধ্যেও আছে। তারা যেন পরস্পরকে কিছুতেই সহ্য করতে পারে না। আবার যদি কখনো কার্যকারণ জেনে পরস্পরের সঙ্গে মিলমিশ হয়ে যায়, তখন তারা অন্য মানুষ হয়ে যায়। তখন তারা একজোট হয়ে কাজিয়া করে। শোষকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে।

    এরপরে ওই সালিশির সূত্র ধরেই একদিন পুতুল আর তার মেয়ে আমাদের এলাকা ছেড়ে উধাও হয়ে যায়। শুনেছি তার কে এক খুড়শ্বশুর তাকে নবদ্বীপের কোনো এক বাবাজির চরণাশ্রিতা করে দিয়ে এসেছিল। এভাবেই কুসুমের সমস্যার বোধহয় সমাধান হয়েছিল। অথবা এসব ক্ষেত্রে অনুরূপ মেয়েদের যা পরিণতি হয়, তাই-ই হয়েছিল।

    পুতুলের বা তার মেরে পরে কী হয়েছিল কোনোদিন আর জানতে পারিনি। তবে কাসেম যে তাকে বের করে নিয়ে ভোগ করেছিল, এ জ্বালা তাঁতিপাড়ার মানুষদের এক মানসিক সমস্যা এবং অবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলেছিল এবং এ প্রদাহ বহুকাল বহতায় ছিল। যদিও সবাই বুঝেছিল যে, পুতুল স্বেচ্ছায়ই কাসেমের সঙ্গে গেছে, কিন্তু উচ্চনীচ বর্ণ নির্বিশেষে সাধারণ সিদ্ধান্ত দাঁড়িয়েছিল এই যে, ও জাতের বিশ্বাস নেই। তাদের শাস্ত্র, সমাজ সবকিছুই হিন্দুদের আগে তেতো খায়, শেষে মিষ্টি, আর তাদের নিয়ম আগে মিষ্টি, পরে তেতো। হিন্দুরা কলাপাতের সামনের দিকে ভাত রেখে খায়, ওরা খায় উলটোদিকে রেখে। তারা মামাতো, খুড়তুতো ইত্যাদি সম্পর্কের মধ্যে সাদি নিকা করে, সে এক অতি কু-আচার। এইরকম নানা ধরনের কথা তখন খুব শুনতে পেতাম। আগেও যে এসব মন্তব্য শুনিনি তা নয়, তবে এখন তার সঙ্গে যুক্ত হলো পুতুলের ঘটনার মতো ঘটনা। অতএব জাত ধর্ম আর থাকে না।

    ধবলী এবং পুতুলের ঘটনার মধ্যে তফাত থাকলেও এরকম আরও কিছু ঘটনা ক্রমশ ঘটতে থাকলে আমার পিছারার খালপারের অপবর্ণীয় মানুষেরাও যেন তাদের দেশ, ভূমি এবং এতকালের আশ্রয়ের বিষয় আস্থাহীন হয়ে পড়ে। তারা এক অনির্দেশ যাত্রায় ক্রমশ উদ্যোগী হতে থাকে। এর আগের প্রবতায় গ্রামগুলো বনেদি পরিবারগুলোকে হারাচ্ছিল, এখন সাধারণ মানুষগুলো পর্যন্ত বাস্তুত্যাগ করতে শুরু করল। একটি ঘটনায় এই গ্রামগুলোতে একটা ভীষণ আতঙ্কের সৃষ্টি হলো। যদিও এই ঘটনাটিই ওই আতঙ্কের জন্য একমাত্র দায়ী নয়। এ ঘটনাটি ছিল নিতান্তই এক বোঝার ভুল। কিন্তু যে সময়ের কথা বলছি, তখন এই ভুল বোঝানোও একটা কায়দা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যেহেতু তাতেই লাভ। তাতেই ভূমিসম্পত্তি অর্জন করার পথ সহজ হয়। যাহোক, ঘটনাটি বলি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএঞ্জেলস এন্ড ডেমনস – ড্যান ব্রাউন
    Next Article কহলীল জিবরান রচনা সমগ্র (ভাষান্তর : মোস্তফা মীর)

    Related Articles

    মিহির সেনগুপ্ত

    বিদুর – মিহির সেনগুপ্ত

    January 20, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }