Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিষাদবৃক্ষ – মিহির সেনগুপ্ত

    মিহির সেনগুপ্ত এক পাতা গল্প596 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বিষাদবৃক্ষ – ৯

    নয়

    আমাদের পার্শ্ববর্তী একটি গ্রাম। নাম বাউলকান্দা। সেখানকার অধিবাসীরা সবাই মুসলমান। তথাপি গ্রামের নাম কেন যে বাউলকান্দা সে এক প্রশ্ন। সেখানকার একজন প্রতাপশালী মিঞা, নাম গাজি। গাজি সাহেবের সম্পর্কে খ্যাতি ছিল তিনি দাঙ্গাবিরোধী এবং হিন্দুপ্রেমী। একান্নর দাঙ্গার সময় গাজি একটি বাহিনী গঠন করেছিলেন, একথা আমার মনে আছে। লাঠিধারী এই বাহিনীর সংখ্যা ছিল নাকি এক হাজার। গাজি সাহেব আমার পিতৃদেবকে ‘গুরুদেব’ বলে ডাকতেন এবং পিতৃদেব তাকে ‘শিষ্য’ বলে। এই গুরু-শিষ্যে বেশক্ দিলচপী আমি দেখেছি। এ বিষয়ে একটি গল্পকথা, যা ডাক্তারজ্যাঠার কাছে শুনেছিলাম, এই সুযোগে বলে নিই। বাবা এবং গাজি কেন পরস্পরের গুরু-শিষ্য, তার কার্যকারণ সেই গল্পকথায় নিহিত আছে। গাজি যৌবনে নাকি একটু বেশি বেপরোয়া ছিলেন। বাউলকান্দার পার্শ্ববর্তী অন্য একটি গ্রাম রণমতিতে নীলঠাকুর নামে একজন ব্রাহ্মণ তাঁর এক শাগরেদকে নাকি একবার বেধড়ক ঠেঙিয়েছিল। তার অপরাধ, সে এক ডাকাতদল তৈরি করে এদিক-ওদিকে কিছু উলটোপালটা কাজ করেছিল। এই ব্যাপারটা আমাদের ওখানকার রীতি অনুযায়ী অনৈতিক। নিজেদের চৌহদ্দির মধ্যে ডাকাতির হাঙ্গামা করা কোনোমতেই সমর্থনযোগ্য নয়। করতে হয় অন্যত্র করো। নীলু বিশেষ সূত্র ধরে ব্যাপারটা জেনে তাকে ঠ্যাঙায়। কেন? না, তুই নিজ এ্যালাকায় ক্যান হুইজ্জত করবি? তোর এট্টা কাগুজ্ঞেয়ান নাই। তার কাণ্ডজ্ঞানের অভাব কেন হয়েছিল, অতটা জানবার সময় এবং ধৈর্য নীলুর ছিল না। কিন্তু এ কারণে গাজি তাকে এক ‘রণলন্কার’ দিয়ে বসে। রণলন্কার বলতে রণহুংকার। নীলু বাবার কাছে এসে জানায় যে, গুরুদেব যদি ‘এ্যার এট্টা বিহিত না করেন, তয় নীলু ওই গাজাইয়ার গোয়ায় আস্থা একখান খাজুর গাছ হান্দাইয়া–তিমুনির মাতায় খাড়া করইয়া রাখফে।’

    ডাক্তারজ্যাঠা বলেছিলেন যে, এ বিষয়ে একটা সালিশি সভা নাকি বসেছিল আমাদের বড় খালপারের রেনট্রি গাছটার নিচে। বড় খালপারের সেই দুটো রেনট্রি গাছ যার একটা খালের মধ্যে ঝুঁকে তার গোছাটা ফুলিয়ে পথিকজনের বসার স্থান করে রেখেছিল। আর একটা খাল থেকে একটু পারের দিকের বেশ কিছুটা জায়গাজুড়ে শদুয়েক বছর ধরে বোধহয় ছায়াবিস্তারী এক ব্যাপক ব্যবস্থাপনায় তাবৎ পথিক মনুষ্যদের শোয়া, আরাম, বিশ্রাম এবং সভাসমিতি ইত্যাদির নিমিত্ত এক আচ্ছাদন তৈরি করে রেখেছিল যার আভাস আগেই দিয়েছি। তো ওই রেনট্রির নিচে নাকি সালিশির ব্যবস্থা। বিরোধের নিষ্পত্তিকল্পে বাবাকে মুরুব্বি করলে বাবা খুব সহজ সমাধানে বিবাদের নিষ্পত্তি করেন।

    ডাক্তারজ্যাঠা বলেছেন, হে এক কাণ্ড। তোমার বাবায় তো দুইজনেরই গুরু। অথচ হ্যারগো মইদ্যে বিরোদ। তো আমাগো এই তিন গেরামের তিনজোন বুজুর্গেরে বিচারে নেওয়া অইলে। মোরা ভাবি, এই বুজি দাঙ্গা লাগে। না হেয়া লাগলে না। তোমার বাবা এট্টা নিয়মবন্দো করলেন কায়দা করইয়া। হেহানেই আসল ফ্যাচাংডা মারইয়া রাখলেন। তয় এট্টু বেশি ঝুঁকিও নেছেলেন, একতা কমু। বাবা নাকি নিয়মবন্দ করেছিলেন যে, রণাঙ্গনে পরপর শায়িত তিনগাছা লাঠি থাকবে। দুই বিরোধী প্রথম একে অন্যের সঙ্গে লড়বে। পরে তারা আলাদা আলাদা গুরুর সঙ্গেও লড়বে এবং সর্বশেষ উভয়ে একসঙ্গে গুরুকে স্পর্ধা জানাবে। যদি তাদের কেউ ব্যক্তিগতভাবে অথবা যৌথভাবে গুরুকে পরাজিত করতে পারে তবে আখেরি বিজয়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গুরু জারি করবে। আর গুরু যদি উভয়কেই পরাস্ত করেন, তবে তিনি যা বলবেন তা উভয়কেই মানতে হবে।

    পরস্পর স্পর্ধায় নীলু হারে। বাবা গাজিকে ‘উল্লাস’ দেন। দ্বিতীয় লড়াইয়ে গাজি আলি আলি বলে গুরুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার মুহূর্তকালের মধ্যেই হাতের লাঠি খোয়ায়। লাঠি তখন প্রায় চৌদ্দ হাত দূরে পড়ে মাটি খায়। গাজি লাঠি তুলতে যাওয়ার মুহূর্তে গুরুর লাঠি দেয়াল হয়ে দাঁড়ায় তার সামনে। তখন নীলু বিপুল বিক্রমে গুরুর পশ্চাৎ থেকে আক্রমণ করতে গিয়ে বাঁ-কাঁধে বেদম আঘাত পায় প্ৰায় এক অজ্ঞাত প্রহারে। তথাপি দুই শিষ্য একযোগে এক অসম আক্রমণে গুরুকে ‘তমেচা’ করলে গুরু অবহেলায় তাদের ‘শিব’ নিয়ে নেন। ফলত গাজি আর নীলু গুরুর পা ছুঁয়ে কসম খায় যে, আর কোনোদিন তারা বেয়াদবি করবে না।

    বাবার সঙ্গে গাজির নাকি এরপর থেকেই গুরুশিষ্য সম্বন্ধটি পাকা হয়। গাজি বলেছিলেন, গুরুদেব, এছলামে আল্লাহপাক ছাড়া ‘কদমবুছি’ নাজায়েজ। ক্যান? না, ‘লাহুকমা ইল্লাহ লিল্লাহ।’ আল্লার কোনো শরীক মোরা মানি না। আল্লাহ ছাড়া কাউরেই মোরা সেজদা করি না। কিন্তু গুরুদেবরে য্যান কদমবুঝি না করাডা গুনার ঠেহে। বাবা বলেছিলেন নিজের ইমান বজায় রাকফি। আমার আঙুর নিচে হাত দিবি না। আমি এ্যামনেই তোরে আশীর্বাদ করমু। গাজি বাবাকে সম্মান জানাতেন হাঁটু ছুঁয়েই।

    এই সময় পোস্ট অফিসের একজন পোস্টমাস্টার এসে স্থায়ী হয়েছিলেন আমাদের ওখানে। আমাদের খানাবাড়ির মধ্যেই এই পোস্ট অফিসটি। তাঁর নাম ছিল কাসেম মাস্টার। পশ্চিম পাকিস্তানি সিন্ধিজাতীয় মানুষ। উর্দু এবং ফারসিতে দখল ছিল তাঁর। বাবার শখ হয়েছিল কাসেম মাস্টারের কাছে উর্দু-ফারসি শিখবেন। তো, কিছুকাল শিখলেনও। যখন পিছারার খালের চৌহদ্দির মানুষ নানা সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসে কম্পমান, তখনও কাসেম বাবাকে উর্দু তালিম দিচ্ছেন, বলছেন, এইসব তুচ্ছতার পাশ কাটিয়ে আপনি শুনুন শায়ের বুজুর্গরা কী গেয়েছেন। আপনি কি এই হিংস্রতার জন্য দুশ্চিন্তিত হচ্ছেন? তাহলে শুনুন বলি, এ কিছু নতুন নয়। মানুষের মধ্যে মহব্বত থাকলে এ সবকিছুই তুচ্ছ হয়ে যেত। মানুষের কোনো দুশ্চিন্তা, দুর্ভাবনা থাকত না। কিন্তু তামাম হিন্দুস্থান-পাকিস্তানের কোথাও মানুষের মধ্যে প্রেম-মহব্বত কিচ্ছু নেই। এরা সবাই, আপনি, আমি ধ্বংসের মুখে পড়েছি। দুশ্চিন্তা করে এর কোনোই সুরাহা হবে না। বরং আমি একটি শের বলছি শুনুন

    বাহার আয়ি গুলো গুলফার লেকর
    হাম ঝুমে উও তুমহারা নাম লেকর।
    ঘটাকালি যো ছায়ি
    হাম ইয়ে সমঝে
    উও আয়া হ্যায় তেরা গ্যায়গম লেকার।
    বড়া রুতবা মিলা হামকো জাঁহামে
    তেরা প্যার কা ইলজাম লেকর।

    কাসেম মাস্টার হরবখত এইসব শের বলতেন। এই শেরটি আবৃত্তি করে তিনি বাবাকে বলেছিলেন, আপনি হয়তো ভাবছেন এরকম এক সংকটকালে এই প্রেমের কবিতা কেন। আপনি এ ক্ষেত্রে শুধু নারী-পুরুষের মহব্বতের তাৎপর্যটি না ধরে ব্যাপক মানুষের ভালোবাসার ব্যাপ্তিতে এর অর্থ করুন। সেখানেও, আমাদের মানুষের প্রতি ভালোবাসার জন্য সবচেয়ে বড় পুরস্কার মিলেছে বদনাম। ‘প্যারকা ইলজাম’ প্রেমের বদনামি। আপনি হিন্দু আমি মুসলমান। আপনাকে যদি আমি মহব্বত করি তার জন্য আমার সমাজ আমার বদনাম করে। আপনার ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একই হয়। জনাব, এ এক ধরনের ‘জাহিলিয়াত’, অন্ধকার। এই ‘জাহিলিয়াত’ মানুষকে ধ্বংস করে। গাজি কাসেম মাস্টারকে খুব সম্মান করতেন। বলতেন, আপনে এলহা থাহেন, রান্ধইয়া খায়েন। মোর বাড়িতে আইয়া থাহেন, মোরা আপনের দেখভাল করুম। কিন্তু কাসেম রাজি হতেন না। বলতেন, আমার একটাই শখ। সারাদিন সরকারি কাজকাম খেদমত। অবসরে জনাবালির সঙ্গে একটু শের শায়েরি নিয়ে আলাপ-বৈঠক। কাসেম মাস্টার বাবাকে জনাবালি (জনাব আলি) বলে সম্বোধন করতেন। একা মানুষ, বিবাহাদি করেননি। নিজের কাজ আর পড়াশোনা নিয়ে থাকতেন। চমৎকার বাংলা বলতেন এবং তার মধ্যে আমাদের ওখানকার আঞ্চলিক টান বা শব্দবন্ধ থাকত না। মার্জিত পরিশীলিত মানুষ। জীবনে যেটুকু শিখেছেন, বড় যত্ন করে ভালোবেসেই শিখেছেন। ধর্ম নিয়ে কোনো বাতিক ছিল না তাঁর। বাবাকে বলতেন, আপনাদের সোহং তত্ত্বের মতোই ইসলামের বিকাশে একতত্ত্ব বা বিশ্বাস এসেছিল। একজন মানুষ বলেছিলেন—’আনঅলহক’। এই অপরাধে তাঁকে টুকরো টুকরো করা হয়েছিল। কিন্তু প্রবাদ এই যে, তার প্রতিটি টুকরোই চিৎকার করে বলেছিল আনঅলহক, আনঅলহক। আমিই সেই, আমিই সেই। জনাব, আমারও মনে হয় সব মানুষই সেই অর্থাৎ চূড়ান্ত সত্তা। কিন্তু এ কথা প্রকাশ্যে বলার মতো সাহস আমার নেই। আমার মনে হয় শেষ পর্যন্ত আপনারা কেউ এখানে আর থাকতে পারবেন না। হায় আফসোস।

    এই সময়েই ওই ঘটনাটি, যে কথা বলছিলাম, তা ঘটে এবং গাজিকে ‘প্যারকা ইলজাম’-এর ভাগী হতে হয়। বাবাকেও। এবার ঘটনাটি বলি, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তখন দাঙ্গা, ধর্ষণ, খুন এবং অগ্নিসংযোগের সব ভয়াবহ কাহিনি লোকমুখে প্রচারিত হচ্ছে। সংখ্যালঘুরা ত্রস্ত, ভীত, আতঙ্কিত। এমতো এক পরিবস্থায় যদি গাজি তাঁর হাজার আনসারকে নিয়ে অকস্মাৎ ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনিতে কোনো হিন্দু এলাকায় হাজারও টর্চের আলোয় উদ্ভাসিত করে ব্যাপক কোলাহলে প্রবেশ করেন এবং তাঁরা যে সংহার বা ধ্বংসের জন্য নয়, বরং রক্ষকের ভূমিকায়ই এমতো কার্যে এসেছেন, এ কথা যদি পূর্বাহ্নে কারও জানা না থাকে, তবে ওই পরিবেশে মানুষের অবস্থা কী হয়? এ দৃশ্য যদিও আমি অনেক ছোট বয়সেই দেখেছি, কিন্তু আজও ভুলিনি।

    তখনও বেশ কিছু পরিবার আমাদের ওই পিছারার খালের পৃথিবীতে ছিল। যারা দেশ ছাড়বে কি ছাড়বে না, ছাড়লেও কোথায় গিয়ে ঠাঁই পাবে, এরকম এক দোদুল্যমানতায় ছিল। সবাই মধ্যবিত্ত ভদ্র গৃহস্থ। কারও পেশা চিকিৎসা, কেউ-বা স্কুলমাস্টার, আবার কেউ-বা যজন-যাজন নিয়ে আছেন। প্রত্যেকের বাড়িতেই এক আধটা যুবতী অথবা আধা যুবতী কন্যা রয়েছে। আমাদের বড় খালের ব্রিজটার ওপর থেকে এক হাজার টর্চের তীব্র দ্যুতি এবং তৎসহ ব্যাপক ধ্বনি ‘আল্লাহু আকবর’ যদি শোনা যায়, এলাকার অন্দর-কন্দরের কারওই সন্দেহ থাকে না যে, ‘শত্রু’ আক্রমণ করেছে। কেননা তখন যারা দাঙ্গাকারী, তারাও ‘পরম করুণাময় আল্লাহতায়লার’ নামেই ‘নারায়ে তকবির আল্লাহু আকবর’ এই ধ্বনি সহযোগেই ব্যাপক সন্ত্রস্ততা সৃষ্টি করত। তাদের জন্য এ ছিল এক জিহাদ বা ধর্মযুদ্ধ। কিন্তু এ তো ধর্মযুদ্ধ বা কোনো যুদ্ধই ছিল না। যুদ্ধ হয় দুই দলে। এখানে সশস্ত্র একদল নিরস্ত্র দলকে ‘কোতল’ করছে। এটা তো যুদ্ধ নয়, গণহত্যা। গাজির দল এক নিশীথে এরকমই একটা মহড়ার ব্যবস্থা করলে সব পাড়া-প্রতিবেশী বিপন্ন আতঙ্কে ঊর্ধ্বশ্বাসে আমাদের বাড়ির দিকে ছুটে আসতে থাকে। প্রতিবেশী পুরুষেরা তাদের গৃহসম্পদ আগলে থাকেন এবং মেয়েদের সুরক্ষিত করার জন্য আমাদের বাড়ির দোতলায় তাদের জমায়েত করেন। এখন বাড়িতে পুরুষ বলতে এক বাবা, আর বাবাকে যিনি বাল্যে দেখাশোনা করার জন্য এসে গোটা জীবন এখানেই যাপন করেছিলেন, সেই মানুষটি, যাঁকে আমরা জ্যাঠা বলে ডাকতাম। নাম পতাকি দাস। সবাই বলত পতাকি সাধু। জ্যাঠা চিরকুমার হিসেবেই কুলদা ব্রহ্মচারির আদলে জীবন কাটিয়ে একসময় তাঁর সাধনোচিত ধামে প্রয়াণ করেন। তিনি কুলদা ব্রহ্মচারির শিষ্য ছিলেন। বাড়ির যারা চাকরবাকর ছিল তারা কোথায় যে গা-ঢাকা দিয়েছিল তার হদিস করতে পারিনি। তবে জ্যাঠা বলেছিলেন, আমি দোতলায় যামু না। কেউ যদি কাটতেই আয়, আগে আমারে কাটতে অইবে, হ্যার পর যা করার করবে। বাবা সবাইকে ওপরে তুলে দিয়ে, একখানা রামদা নিয়ে, নিচের দরদালানে পায়চারি করছিলেন। টর্চের দ্যুতি যতই নিকটবর্তী হচ্ছিল এবং কোলাহল তীব্রতা পাচ্ছিল, বাবা বুড়িপিসিমার চেঁচামেচিতেই হোক বা শেষ প্রতিরোধের খাতিরেই হোক, একতলা থেকে দোতলায় ওঠার সিঁড়ির পথে রামদা হাতে দাঁড়িয়েছিলেন, এ চিত্র এখনও আমার স্মৃতিতে অম্লান। বুড়িপিসিমা তখন গোঁসাই গোঁসাই নারায়ণ মধুসূদন জনাদ্দন ইত্যাদি মন্ত্রোচ্চারণরতা, তথা বাবার উদ্দেশে ‘ও নসু তুই উপরে আয়, ওরে তুই একলা কী করবি’ ইত্যাদি বচনরতা। আনসারবাহিনী তখন আমাদের উঠোন ছেয়ে ফেলেছে। টর্চের আলো সারা বাড়ি আলোকিত করেছে। দোতলায় তাবৎ মহিলাকণ্ঠের আর্তনাদ। কেউ কারও কথা পর্যন্ত বুঝতে পারছে না। বাবার বক্তব্য, ওপরে উঠে কী হবে? বড়জোর ঘটনাটা একটু আগে-পরে হবে, এই তো।

    এরই মধ্যে একটা আওয়াজ শোনা গেল, ‘গুরুদেব’। সমবেত কণ্ঠে তখন মহিলাদের আর্তনাদ—’নাআআ—তুমি যাবা না। তোমারে ওরা কাডইয়া ফ্যালাইবে।’ বাবা খুবই স্থির শান্ত কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘যদি কাটতেই আইয়া থাকে তো গেলেও কাটবে, না গেলেও কাটবে, তয় মনে অয় হেসব কিছু না, গলাডা য্যান গাজির লাগতে আছে।’ এরপর বাবা দরদালান পেরিয়ে নেমে গিয়েছিলেন আমাদের বিস্তীর্ণ উঠোনে, হাতে রামদা। অন্দরের দোতলায় তখন পরিত্রাহি চিৎকার। হঠাৎ তার মধ্যে বাবার উচ্চকণ্ঠে তিরস্কার শোনা গিয়েছিল। তিনি ওই মুহূর্তে একটি অত্যন্ত আপত্তিকর শব্দও ব্যবহার করেছিলেন, হারামজাদা বেইমান এবং তৎসহ একটি প্রচণ্ড চড়ের শব্দও শোনা গিয়েছিল। বাবা তাঁর অনুগামীদের অনেক সময়েই আহ্লাদ করেও হারামজাদা বলতেন। এ এক সামন্তরীতিও বটে। কিন্তু ওই পরিস্থিতিতে কোনো মুসলমানকে হারামজাদা বা বেইমান বলা যে কী পর্যন্ত হঠকারিতা, তা যারা ওই সমাজের রীত-কানুন জানেন, তারা সম্যক বুঝবেন। বাবাকে গাজি ভালোই জানতেন, তাই এ নিয়ে কোনো উত্তেজনা হয়নি। তিনি শুধু আফসোস করে বলেছিলেন, আগে খবর দেয়া সম্ভব অয়নায় গুরুদেব, এ কসুর মাফ করেন। তয় মুই কৈলম বেইমানি করতে আই নাই। খবর পাইছেলাম আইজ গাবখানের ওপার থিকা একদল জালিম এ বাড়িতে হামলা করবে। হেয়ার মোকাবিলা করতেই আইছেলাম। আপনেগো এই তকলিফের লইগ্যা মোরে মাফ করেন। সবাইকে আশ্বস্ত করে গাজি সদলে চলে গিয়েছিলেন। ব্যাপারটা মধুরেণ সমাপয়েৎ হলেও আমাদের বাড়ির ওগাঁয়ের সম্মিলিত ভীতাত্রস্তা নারীকুল এবং সাধারণ পুরুষেরা কিছুতেই এ কথা বিশ্বাস করল না যে, এরা প্রকৃতই আমাদের সংরক্ষণের জন্য এসেছিল। সবাই বাবাকে বলেছিল, গাজি হউক আর যে হউক, আপনে যে গেলেন—যদি এট্টা কোপ দিয়া বইথে? বাবা বিরক্ত হয়ে বলেছিলেন, অরা কিন্তু কোপটা দেয় নায়।

    কিন্তু ঘটনাটা অবিশ্বাসকে আরও তীব্রই করেছিল। এই ঘটনার পর পিছারার খালের আশপাশে আবার ব্যাপক দেশত্যাগের হিড়িক পড়ে যায়। পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি বাড়ে। দুই রাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতির প্রভাবও আমার পিছারার খালের বিশ্বকে চূড়ান্ত ‘ভেদে’র অন্ধকারে নিক্ষেপ করে। তখন সেখানে প্রকৃতই ‘আইয়ামে জাহিলিয়াত’ বা অন্ধকার যুগ কায়েম হয়। যারা এই নতুন জাহিলিয়াত কায়েম করছিল তাদেরকে বহু-বহুকাল আগে নবি মোহাম্মদ সতর্ক করে দিয়েছিলেন। একদল মানুষ পৌত্তলিক বা অংশীবাদী বলেই তাদেরকে শাসন বা হত্যা করার অধিকার যে আল্লাহ নবি বা অপর কাউকে দেননি, আল কোরানে তার সুস্পষ্ট নির্দেশ আছে। ‘আর যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন তবে তারা অংশী স্থাপন করত না এবং তোমাকে তাদের জন্য রক্ষক নিযুক্ত করিনি। আর তাদের অভিভাবক তুমি নও। এবং তারা আল্লাহকে ছাড়া যাদের ডাকে, তাদের তোমরা গালি দেবে না, কেননা তারা (তা হলে) আল্লাহকেও গালি দেবে।’ এর পরেও ধর্মের নামে, জিহাদের নামে ‘জাহিলিয়াত’ কায়েম করা হয়েছিল এবং গাজির মতো মানুষ থাকা সত্ত্বেও তারাই প্রভুত্ব কায়েম করেছিল। এ কথার ব্যত্যয় নেই।

    বাবা গাজির আন্তরিকতায় এবং সদিচ্ছায় সন্দেহ করেনি। তথাপি তাঁর অহমিকায় আঘাত লেগেছিল। এতদিন যাদের রক্ষা করেছেন, শাসন করেছেন, অনুগ্রহ করেছেন, আজ যদি তাদেরই ভরসায় প্রাণ, মান, ইজ্জত রক্ষা করার কথা ভাবতে হয় তবে তার থেকে অসম্মানের আর কী-বা থাকে। এর থেকে গাজি বোধহয় এ কাজটা না করলেই ভালো হতো, এরকম একটা বিচার বাবার ছিল। তাঁর দিক থেকে সদর্থক হলেও গাজির এই কাণ্ডটি আমার পিছারার খালের জগতে এক ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। ওই সময়টাতে আমাদের ওখানের কোনো হিন্দুই মনে করত না যে, কোনো মুসলমান দাঙ্গাবিরোধী, হিন্দু-উচ্ছেদবিরোধী হতে পারে। তাদের বিশ্বাসে ওখানকার তাবৎ মুসলমানকেই তারা শত্রুর পর্যায়ে বিবেচনা করত। হিন্দুদের মুসলমানদের প্রতি অপ্রীতি আমি শিশুকাল থেকেই দেখেছি। এইসব মুসলমান কোনো উচ্চবর্ণীয় বা বর্গীয় নয়। এরা বেশির ভাগ সাধারণ চাষি শ্রেণির। সবাই সামন্ত সংস্কৃতির মানুষ। অতএব কি মুসলমান, কি নমশূদ্র সকলকেই উচ্চবর্ণীয় হিন্দুসমাজ সমবিচারে নিয়েছিল। আমাদের ওখানের মুসলমান এবং নিম্নবর্ণীয় মানুষেরা উচ্চবর্ণীয়দের কাছে কোনোদিনই ভালো ব্যবহার পায়নি। তারা সকলেই চাষা এবং সে কারণে তুচ্ছ, এই ছিল তাদের পরিচয়। তবে নমশূদ্ররা নিজস্ব গোষ্ঠীবদ্ধতায় একসময় নিজস্ব জমি স্বশাসনে রেখে, সচ্ছল গার্হস্থ্যজীবনের সুখ ভোগ করতে সক্ষম হয়েছিল। মুসলমান সাধারণেরা আমাদের ওখানে বেশির ভাগই ভূমিহীন চাষি হিসেবেই জীবনযাপন করত। তাদের তেমন কোনো গোষ্ঠীবদ্ধতা বা সংহতি ছিল না যে তারা সাধারণ চাষি-গৃহস্থের মতো স্বাভাবিক সচ্ছলতার ভোগী হয়। ইসলাম এ দেশে কায়েম হওয়ার পরে তারা যখন সেই ধর্মে আশ্রয় নেয়, তখন শুধু ধর্মীয় সাম্যই তারা পেয়েছিল। অন্য কিছু নয়। এসবই শিকড়ের ঘুণের ব্যাপার। ব্রাহ্মণ্য ভেদাচারের প্রতি বিদ্বেষবশত তারা একদা বৌদ্ধ আশ্রয়ে গিয়েছিল। সেই আশ্রয়কে যখন ব্রাহ্মণ্যতা গ্রাস করে তখন ইসলাম তাদের ত্রাণের অঙ্গীকার দিয়েছিল। কিন্তু একসময় দেখা গেল তারাও ব্রাহ্মণ্যতার ভেদাচার রপ্ত করে তাদেরকে অন্ত্যজই করে রাখল। কিন্তু ধর্মের সাম্য নামক মাদকটি তাদেরকে সম্মোহিত করেই রেখে দিল অনির্দিষ্টকাল ধরে। আজও সেই মাদকের প্রভাব কাটেনি। পাকিস্তান কায়েম হবার পর এই মাদকতার তীব্রতা রাষ্ট্রীয় মদতে ব্যাপক প্রসার লাভ করলে তারা একটা রাস্তা অবশ্য পেয়েছিল। যদিও সেই রাস্তাই তাদের প্রকৃত মুক্তির পথ আদৌ ছিল না। আমার পিছারার খালের আশপাশের বিপর্যয়ের কারণ সেটিই। তারা ভেবেছিল এভাবেই হয়তো তাদের মুক্তি হবে, তারা জমি-জিরেত সাচ্ছল্য গার্হস্থ্য পাবে। কিন্তু পরবর্তীকালে দেখেছি তা তারা পায়নি। তারা এখনও যেই তিমিরে সেই তিমিরেই।

    হিন্দুদের জমি-জিরেত-বাগান পেয়েছিল তারাই, যাদের কিছু ছিল। যারা ভূমিহীন, তারা পায়নি, তারা তাদের শ্রম ব্যয় করেছিল, যেমন বহু আগের কাল থেকে তারা করে এসেছিল এখানের ভূমি হাসিল করার জন্য। হিন্দুদের পরিত্যক্ত ভূমি আবাদ করার কাজও তাদেরই করতে হয়েছে, তবে মালিক তারা হতে পারেনি। এরা সাময়িকভাবে কিছুটা বখরা পেয়েছিল, কায়েমিস্বত্ব কিছুই পায়নি।

    পিছারার খালের ওই অঞ্চলের বিনষ্ট হওয়ার পেছনে দাঙ্গা, লুট, অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি ব্যাপারের কোনো ভূমিকা ছিল না। ছিল এইসব সংঘটনের বিভীষিকা। গাজির কাজটি এ ব্যাপারে একদল স্বার্থান্বেষীর কাজেই লেগেছিল শুধু। আতঙ্কের কারণে দেশ ছেড়ে সবাই তখন পলায়মান। তাদের মনে ভীতি শুধু প্রাণের জন্য নয়। যদি মেয়েদের বেইজ্জত হতে হয়। তাদের যদি টেনে নিয়ে যায়। দাঙ্গা না ঘটিয়ে দাঙ্গার ভীতিকে কাজে লাগিয়ে স্বার্থপূরণের কায়দা নিয়েছিল আমার পিছারার খালের প্রতিবেশী সম্পন্ন জালিম পরিবারগুলো। আমার এরকম মনে হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে, যে দাঙ্গার জন্য যত হিন্দু পূর্ববাংলায় তাদের সম্পত্তি হারিয়েছে—তার থেকে অনেক বেশি সম্পত্তি বেহাত হয়েছে তাদেরই হাতে, যারা দাঙ্গাকারী নয় এবং বিপদে এখানকার হিন্দুদের ত্রাতার ভূমিকায় ছিল, তাদের কারুকার্যে।

    দাঙ্গার বিষয়ে এসব পাঁচকাহন এ কারণে যে, বড় ইতিহাসকারেরা অনেক ব্যাপকতায় দেশভাগ এবং দাঙ্গাজনিত অনেক কাহিনি বলেছেন, লিখেছেন, ছবিতে ধরে রেখেছেন, এবং ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেছেন। কিন্তু তার বেশির ভাগই শহর নগর এবং বন্দরের কাহিনি। পিছারার খালের মতো জগতের কথা তাঁরা খুব কমই জানতেন এবং তাদের লেখাতেও তা স্থান পায়নি তেমন। আমরা যেমন তখন বাইরের খবর পেতাম না, বাইরের লোকেরাও আমাদের খবর জানত না। ছেচল্লিশের ষোলোই আগস্টের কলকাতায় ডাইরেক্ট অ্যাকশনজনিত দাঙ্গার খবর আমার স্মৃতিতে থাকার কথা নয়। পরে বড় হয়ে জেনেছি। তার পালটা কার্যক্রমে ঢাকা, নোয়াখালি এবং বিহারের দাঙ্গা বিষয়ে শোনা কথাই পুঁজি। কিন্তু সেসব ঘটনা আমার উজানিখালের জীবনকে স্তব্ধ করেনি বলে তখনও আমরা দিব্য ছিলাম। পঞ্চাশ-একান্নর দাঙ্গাই এখানে এক বীভৎস কাঁপন ধরিয়ে দিলে, প্রায় পাঁচশ বছরের পুরনো সামাজিক ভিতে ফাটল ধরল। এতকাল ভেদ-বিভেদ নিয়ে আমরা একটা বিকাশের স্তরে ছিলাম। হয়তো সেটা একটা সময় স্বাভাবিকক্রমে সাম্যে আসতেও পারত। কিন্তু দেশভাগের দুর্মর প্রহারে তা স্তব্ধ হয়ে গেল।

    যা হোক, গাজির ঘটনা আর একটা জিনিস খুবই পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করে দিল যে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আর নিজেদের সংরক্ষণের শক্তি নেই। কোনো আকস্মিক আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষা করার ক্ষমতা তাদের নেই। যারা সামন্তবর্গী, তাঁরা হয়তো তাদের পাইক, লাঠিয়াল বরকন্দাজদের সাহায্যে কিছু করতেও পারেন, তবে সাম্প্রদায়িক বিভেদের জন্য সেইসব মানুষ সবসময় সঠিক ভূমিকা পালন করবে কি না, সে সন্দেহও থাকে। প্রসঙ্গত মনে পড়ে যে, দাঙ্গার শুরুতে আমার পিছারার খালের তীরবর্তী হিন্দু যুবকেরা একটি শান্তিবাহিনী তৈরি করেছিল। এদের মধ্যের কেউ কেউ পশ্চিমবঙ্গে চাকরিজীবী অথবা পড়ুয়া। কখনো-সখনো গ্রামে আসে ছুটিতে-পার্বণে। তারা আমাদের ছাতের ওপর প্রচুর ইট, কাচের ভাঙা বোতল, কিছু পুরনো ল্যাজা, রামদা, সুপারিগাছের বল্লম এবং কিছু লঙ্কা গুঁড়োর বস্তা জড়ো করে একটি আপৎকালীন প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল, যেন আপৎকালে বাড়িটিকে দুর্গ হিসেবে ব্যবহার করে তারা মহড়া নেবে আক্রমণকারীদের। কিছুকাল তারা রাত জেগে পাহারাদারি করল। তাতে লাভের মধ্যে হলো এই যে, গেরস্তবাড়ির ফলন্ত পেঁপের গাছসুদ্ধ কেটে, পাঁঠাখাসির খোঁয়াড় ভেঙে এবং পুকুর থেকে পালন্ত মাছ তুলে তাদের পাহারাদারির মাশুল উশুল করল। তারপর শহুরে চাকরিদারেরা ছুটির পর কর্মস্থলে প্রস্থান করলে সব চুপচাপ হয়ে গেল। এ সময় তারা গ্রাম পরিক্রমা করে চোঙা ফুঁইয়ে ধ্বনি দিত, দাঙ্গা চাই না, শান্তি চাই। হিন্দু-মুসলিম ভাই-ভাই। কিন্তু তারা এই ধ্বনির মাধ্যমে শুধু তাদের হীনম্মন্যতা এবং অসহায়তাই প্রকট করত। তারা নিজেরাই হিন্দু-মুসলমান ভাই-ভাই এই তত্ত্বে আন্তরিক ছিল না। তাদের আদর্শে এবং বোধে কোনোদিনই এই ভাই-ভাই ব্যাপারটি বাস্তব ছিল না।

    হিন্দুদের মধ্যে, যাদের পশ্চিমবঙ্গে কিছু সহায়-সম্পদ ছিল, অথবা যাদের ছেলেপুলেরা সেখানে চাকরি করত তাঁরা অচিরাৎ বসতবাটি, জমি-জিরেতের কিছু ব্যবস্থাপনা করে সেদিকে পাড়ি দিলেন। পরে, আমার মনে হয়েছে, ওই সময়কার স্লোগানগুলোই যেন প্রকারান্তরে এই কথা প্রকট করে সবাইকে জানিয়ে দিচ্ছিল, হিন্দু-মুসলমান আদৌ ভাই-ভাই নয়, আর দাঙ্গার বিভীষিকার জন্যই শান্তি চাই এই ধ্বনি।

    আমার অভিজ্ঞতায় আমি যেমন দেখেছি, পরে ইতিহাসচর্চায়ও আমার এরকম বিশ্বাস জন্মেছে যে, যখনই আমাদের এই দুই সম্প্রদায় কাছাকাছি এসেছে, তখনই এক প্রবল আঘাত তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। নিতান্তই উদাহরণের জন্য আমি আউল-বাউল, দরবেশ-ফকির বা সুফিদের কথা, তাঁদের প্রয়াস এ ক্ষেত্রে ইঙ্গিত করছি। এই আঘাতকারীরা যে হিন্দু এবং মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের, এ কথার সাক্ষী ইতিহাস। কিন্তু তথাপি বড় খালপারের মহাবৃক্ষ দুটি যেন আমাদের রক্ষা করছিলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএঞ্জেলস এন্ড ডেমনস – ড্যান ব্রাউন
    Next Article কহলীল জিবরান রচনা সমগ্র (ভাষান্তর : মোস্তফা মীর)

    Related Articles

    মিহির সেনগুপ্ত

    বিদুর – মিহির সেনগুপ্ত

    January 20, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }