Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিষাদ সিন্ধু – মীর মশাররফ হোসেন

    মীর মশাররফ হোসেন এক পাতা গল্প567 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উদ্ধার পর্ব ১৫ প্রবাহ

    এই তো সেই মদিনার নিকটবর্তী প্রান্তর। উভয় শিবিরে উচ্চ মঞ্চে রঞ্জিত মহানিশান উড়িতেছে, সমরাঙ্গণে সামরিক নিশান গগন ভেদ করিয়া বায়ুর সহিত ক্রীড়া করিতেছে-অস্ত্র অবিশ্রান্ত চলিতেছে-র্মা র্মা শব্দ হইতেছে। আজ ব্যূহ নাই-সৈন্যশ্রেণীর শ্রেণীভেদ নাই-অস্ত্র চালনায় পারিপাট্য নাই, আত্মপর ভাবিয়া আঘাত নাই,-মরিতেছে, মারিতেছে, আহত হইয়া ভূতলে পড়িতেছে, হু-হুঙ্কার বজ্রনাদে সমরাঙ্গণ কাঁপাইতেছে। আজ উভয় দলের সৈন্য-শোণিত রণভূমি রঞ্জিত হইতেছে। জয়-পরাজয় কাহারো ভাগ্যে ঘটিতেছে না; কিন্তু অলীদ সৈন্য অধিক পরিমাণে মারা পড়িতেছে। আজ মহাসংগ্রাম। উভয় দলে আজ বিষম সমর, দুর্ধর্ষ রণ। সৈন্যগণের চক্ষু ঊর্ধ্বে উঠিয়াছে, মুখাকৃতি অতি কদর্য বিকৃত ভাব ধারণ করিয়াছে;-রোষে, ক্রোধে যেন উন্মত্ত হইয়া চক্ষুতারা ফুটিয়া বাহির হইবার উপক্রম হইয়াছে;-মুখব্যাদানে জিহ্বা, তালু, কণ্ঠ, কণ্ঠনালী পর্যন্ত দৃষ্ট হইতেছে। অস্ত্রাঘাতে যুদ্ধপ্রবৃত্তি নিবৃত্তি হইবে না-মনের তৃপ্তি জন্মিবে না বলিয়াই যেন নখাঘাত, দন্তাঘাতে যুদ্ধপ্রবৃত্তি নিবৃত্তি হইবে না-মনের তৃপ্তি জন্মিবে না বলিয়াই যেন নখাঘাত, দন্তাঘাত জন্য ব্যাকুল রহিয়াছে! প্রান্তরময় সৈন্য, প্রান্তরময় যুদ্ধ। হানিফা আজ স্বয়ং সৈন্যগণের পৃষ্ঠপোষক ও রক্ষক, গাজী রহমান পরিচালক। মহাবীর অলীদও আজ মহাবিক্রম প্রকাশ করিতেছে। এক প্রভাত হইতে অন্য প্রভাত গত হইয়াছে, এখন সূর্যদেব মধ্যগগনে,-কোন পক্ষই পরাজয় স্বীকার করিতেছে না-যুদ্ধেরও ইতি হইতেছে না। অলীদের প্রতিজ্ঞা,-আজ হানিফার শিরচ্ছেদ করিয়া জগতে মহাকীর্তি স্থাপন করিব; হানিফারও চেষ্টা যে, আজ মদিনার পথ পরিষ্কার না-করিয়া ছাড়িব না। হয় অলীদহস্তে জীবন বিসর্জন, না হয় সসৈন্যে মদিনায় প্রবেশ।
    গাজী রহমান বলিলেন, “সৈন্যগণ মহাক্লান্ত হইয়াছে। কী করিবে? এত মারিয়াও যখন শেষ করিতে পারিতেছে না, তখন আর উপায় কী?

    মোহাম্মদ হানিফা অশ্ব-বল্গা ফিরাইয়া বলিলেন, “আজ উভয় দলের সৈন্য যে প্রকার ক্ষয় হইতেছে, ইহাতে মহাবিপদের আশঙ্কা দেখিতেছি। এখন না নিবারণের উপায় আছে, না উপদেশের সময় আছে, না কথা বলিবার অবসর আছে! অলীদের সমস্ত সৈন্য শেষ হইলেও অলীদ কখনোই পরাভব স্বীকার করিবে না, আমরাও পরাস্ত না করিয়া ছাড়িব না!”

    এই প্রকার কথা হইতেছে, এমন সময়ে অলীদ-দলে আনন্দের বাজনা বাজিয়া উঠিল। ওত্‌বে অলীদ তাহার নূতন সৈনিকদলের ব্যবহার জন্য যে সাজ প্রস্তুত করিয়াছিল, ঠিক সেইরূপ সাজে সজ্জিত সেনাগণ মস্‌হাব কাক্কার সঙ্গে আসিতেছিল। দূর হইতে তাহাদিগকে দেখিয়া আপন সেনা মনে করিয়া অলীদ মনের আনন্দে বাজনা বাজাইতে আদেশ করিয়াছিল। গাজী রহমানের কর্ণে হঠাৎ ঐ বাজনার রোল মহাবিপজ্জনক ও বিষম বোধ হইতে লাগিল। কারণ উভয় দলই প্রমত্ত কুঞ্জর সম যুদ্ধে মত্ত, কেহই পরাজয় স্বীকার করে নাই; এ সময়ে সন্তোষের বাজনা কেন? গাজী রহমানের বিশাল চক্ষু মদিনা-প্রান্তরের চতুর্দিকে ঘুরিতে লাগিল, চিন্তাস্রোত খরতর বেগে বহিতে লাগিল,-পূর্ব দিকে দৃষ্টি পড়িতেই শরীর রোমাঞ্চিত হইল। যুদ্ধ জয়ের আশা, মদিনা-প্রবেশের আশা,-জয়নাল উদ্ধারের আশা অন্তর হইতে একেবারে সরিয়া গেল।

    মোহাম্মদ হানিফাকে বলিলেন, “বাদশাহ নামদার! ঈশ্বরের অভিপ্রেত কার্যে বিপর্যয় ঘটাইতে মানুষের ক্ষমতা নাই। সৈন্যশ্রেণী যে প্রকারে চালনা করিয়াছিলাম, সৈন্যগণও যে বীর বিক্রমে আক্রমণ করিয়াছিল, অতি অল্প সময়মধ্যেই অলীদ বাধ্য হইয়া পরাভব স্বীকারে মদিনার পথ ছাড়িয়া দিত; আর যদি পথ না ছাড়িত, গাজী রহমানের হস্তে নিশ্চয় আজ বন্দি হইত। কিন্তু কী করি? ঐ দেখুন, উহারা যখন আমাদের পশ্চাদ্দিক হইতে আসিতেছে, তখন রক্ষার আর উপায় নাই। সম্মুখে, পশ্চাতে, উভয় দিকে শত্রুসেনা, আর নিষ্কৃতি কোথা? নিশ্চয় বন্দি! আজ সৈন্যসহ আমরা বন্দি!!”

    মোহাম্মদ হানিফা বলিলেন, “বহু অশ্বারোহী সৈন্য বটে, পদাতিক সৈন্যও আছে। উহারা যেরূপ বীরদাপে আসিতেছে, শত্রুসেনা হইলে মহাবিপদ, তাহাতে আর সন্দেহ নাই। কিন্তু সন্দেহ অনেক। বাজনাই কী তাহার নিশ্চয়তার প্রমাণ? অথবা ওত্‌বে অলীদ কি এমনই অবোধ যে না জানিয়া, আপন-পর না ভাবিয়া, আনন্দ-বাজনা বাজাইয়াছে? নিশ্চয় ইহারা দামেস্কের সৈন্য!”

    আগন্তুক সৈন্যদল ক্রমেই নিকটে আসিতে লাগিল। অলীদের মনে ধ্রুব বিশ্বাস যে দামেস্ক হইতে মারওয়ান তাহার সাহায্যে আসিতেছে।
    অলীদ সদর্পে বলিতে লাগিল, “বন্দি! বন্দি! মোহাম্মদ হানিফা আজ সৈন্যসহ নিশ্চয় বন্দি। আর কী সন্দেহ আছে? আমারই নির্বাচিত চিহ্ন সংযুক্ত নূতন সাজ। দামেস্কের সৈন্য না হইয়া যায় না। বাজাও ডঙ্কা। বাজাও ভেরী! কিসের ভয়? সহস্র হানিফা হইলেও আজ অলীদ হস্তে পরাস্ত! সম্মুখে অস্ত্র, পশ্চাতে অস্ত্র, এতে কি রক্ষা আছে? কার সাধ্য? জগতে এমন কোন বীর নাই যে, সম্মুখ-পশ্চাৎ উভয় দিক্ রক্ষা করিয়া সমানভাবে শত্রু-সম্মুখীন হইতে পারে।”

    মনের উল্লাসে উচ্চৈঃস্বরে বলিতে লাগিল, “মোহাম্মদ হানিফা! তুমি কোথায়? তোমার চক্ষু কোন্ দিকে? তুমি কায়মনে যে ঈশ্বরের বল করিয়া যুদ্ধে অগ্রসর হইয়াছ, সেই ঈশ্বরের দোহাই,-একবার পশ্চাৎ দিকে চাহিয়া দেখ। এখনো অলীদ-সম্মুখে অস্ত্র রাখিলে না? এখনো যুদ্ধে বিরত হইলে না? একবার পশ্চাতে চাহিয়া দেখ। তোমার জীবন প্রদীপ এখনই নির্বাণ হইবে। তোমার বুদ্ধিমান মন্ত্রী গাজী রহমানের জীবন এখনই শেষ হইবে। সম্মুখে অলীদ, পশ্চাতে মারওয়ান। এখনো যুদ্ধ? রাখ তরবারি-কর পরাজয় স্বীকার-মঙ্গল হইবে। ক্ষান্ত হও,-ক্ষান্ত হও; আত্মসমর্পণের এ-ই উপযুক্ত সময়। বীরের মান বীরেই রক্ষা করিয়া থাকে। আমি দিব্যচক্ষে দেখিতেছি, তোমাদের সকলের পরমায়ু শেষ হইয়াছে, আর অধিক বিলম্ব নাই। আবার বলি, পশ্চাতে চাহিয়া দেখ,-মহারাজ এজিদের কারুকার্যখচিত উড্ডীয়মান নিশান প্রতি চাহিয়া দেখ।”

    গাজী রহমান এ পর্যন্ত নিশান প্রতি লক্ষ্য করেন নাই। অলীদের কথায় নিশান প্রতি চাহিয়াই ঈশ্বরকে শতশত ধন্যবাদ দিলেন। এদিকে অলীদও ভয়ে বিহ্বলপ্রায় হইয়া, বেগে অশ্ব ছুটাইয়া শিবিরাভিমুখে চলিয়া গেল।

    মোহাম্মদ হানিফা গাজী রহমানকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “ইহার কারণ কী? নিশান দেখিয়া অলীদের মুখ ভারি হইল কেন? ওরূপ দ্রুতবেগে হঠাৎ শিবিরেই-বা চলিয়া গেল কেন?”

    “বাদশাহ নামদার! অলীদের বাজনার ধুমে আমি আমার চিন্তাকে ভ্রমপূর্ণ বিপথে চালনা করিয়াছিলাম। অনিশ্চিত, সন্দিহান অনুমানের প্রতি নির্ভর করিয়া যে কার্য করে, তাহাকে বাতুল ভিন্ন আর কী বলিব? আরো অধিক আশ্চর্য যে, একজন সেনাপতি এইরূপ করিয়াছেন! অলীদ যে কি প্রকৃতির সেনাপতি, তাহা আমি এখনো বুঝিতে পারি নাই। কী গুণে এতাধিক সৈন্যের অধিনায়ক হইয়া প্রকাশ্য যুদ্ধে অগ্রসর হইয়াছে তাহাও এক্ষণে বুঝিতে পারিতেছি না। অলীদের প্রতি আমার কিছুমাত্র ভক্তি নাই। আমি আরো আশ্চর্য হইতেছি যে, ইহারা কী প্রকারে মহাবীর হাসান-হোসেনের সহিত যুদ্ধ করিয়াছে, একটু অপেক্ষা করুন, সকলই দেখিতে পাইবেন।”

    “আমারও সন্দেহ হইতেছে। ঐ সকল চিহ্নিত পতাকা কখনোই এজিদের নহে।”

    “বাদশাহ নামদার! অলীদ আমাকে ভ্রম-কূপে ডুবাইয়াছে; এখন আর কিছুই বলিব না,-সকলই ঈশ্বরের মহিমা।”

    এদিকে রণপ্রাঙ্গণে অলীদপক্ষীয় সৈন্য আর তিষ্ঠিতে পারিতেছে না। বাতাহত কদলীবৃক্ষের ন্যায় ভূমিসাৎ হইতেছে। এক দল হত হইলেই যে অন্য দল আসিয়া শূন্য স্থান পূর্ণ করিতেছিল, তাহা আর হইতেছে না। যাহারা সমরে লিপ্ত ছিল, তাহারাই ক্রমে ক্ষয় পাইতে লাগিল।

    সন্দেহ দূর হইল। মোহাম্মদ হানিফার সৈন্যগণ জাতীয় পতাকা স্পষ্টভাবে দেখিয়া, সজোরে ঈশ্বরের নাম উচ্চারণ করিয়া, প্রান্তর সহিত রণস্থল কাঁপাইয়া তুলিল। দেখিতে দেখিতে মস্হাব কাক্কা সৈন্যসহ আসিয়া হানিফার সহিত যোগ দিলেন। মস্‌হাব কাক্কা হানিফার পদচুম্বন করিয়া বলিলেন-

    “বিলম্বের কারণ পরে বলিব, এখন কী আজ্ঞা?”

    মোহাম্মদ হানিফা বলিলেন, “ভাই! পরে শুনিব,-কথা পরে শুনিব। এখন ধর তরবারি-মার কাফের-তাড়াও অলীদ! মনের কথা কহিতে, দুঃখের কান্না কান্দিতে অনেক সময় পাইব। সে সকল কথা মনেই গাঁথা আছে। এখন প্রথম কার্য,-মদিনায় প্রবেশ। তোমার তরবারি এদিকে চলিতে থাকুক, আমি অন্যদিকে চলিলাম।”

    হানিফা অসি উঠাইলেন। মস্‌হাব কাক্কাও ঈশ্বরের নাম করিয়া শত্রুনিপাতে অসি নিষ্কোষিত করিলেন। উভয়ের সম্মিলনে এক অপূর্ব নবভাবের আবির্ভাব হইল। উভয় দলের বাজনা একত্র বাজিতে লাগিল, উভয় দলের সৈন্য মিলিয়া এক হইয়া চলিল,-অলীদের মনেও নানারূপ চিন্তার লহরী খেলিতে লাগিল; ‘মোহাম্মদ হানিফার সঙ্গেই জয়ের আশা ছিল না, তাহার উপর তত্তুল্য আর একটি বীর হঠাৎ উপস্থিত হইল-অস্ত্রও ধারণ করিল-আর রক্ষা নাই। কিছুতেই আজ রক্ষা নাই।’

    অলীদ মহাসঙ্কটে পড়িল। কী করিবে, কিছুই স্থির করিতে পারিতেছে না। অনেকক্ষণ চিন্তার পর মনে মনে সাব্যস্ত করিল, ভাগ্যে যাহা থাকে হইবে, সহসা মস্হাব কাক্কার সম্মুখে যুদ্ধে যাইব না। দেখি মস্হাব কাক্কা কী করেন!

    অলীদ গুপ্ত স্থানে বসিয়া দেখিতে লাগিল যে, হানিফা দক্ষিণ পার্শ্বে যাইয়া মদিনাগমন-পথ পরিষ্কার করিতেছেন, মস্‌হাব কাক্কা বাম পার্শ্বে (তাঁহারই দিকে) অস্ত্রচালনা করিয়া অগ্রসর হইতেছেন, আর বারবার অলীদ-নাম উচ্চারণ করিয়া তাঁহাকে যুদ্ধে আহ্বান করিতেছেন-এবং বলিতেছেন, “অলীদ! শীঘ্র বাহির হও,-শিবির হইতে শীঘ্র বাহির হও! তোমার বীরপণা দেখিতেই আজ ক্লান্ত, পথশ্রান্তভাবেই অস্ত্র ধরিয়াছি। আইস, আর বিলম্ব কি? অলীদ! অলীদ! আইস, আজ তোমাকে দেখিব! ঈশ্বরের দোহাই, তোমাকে আজ ভাল করিয়া দেখিব। তোমার বল, বিক্রম, সাহস সকলই দেখিব। যদি সময় পাই, তবে তোমার তরবারির তেজ, বর্শার ধার, তীরের লক্ষ্য, খঞ্জরের হাত, গদার আঘাত, সকলই দেখিব, ভয় কী? শত্রু যুদ্ধার্থী, তুমি শিবিরে? ছি ছি, বড় ঘৃণার কথা! ছি ছি অলীদ! তুমি না সেনাপতি? এজিদের বিশ্বাসী সেনাপতি!”

    মস্‌হাব কাক্কা অলীদকে ধিক্কার দিয়া, ঘৃণা জন্মাইয়া, যুদ্ধে আহ্বান করিতেছেন, কিন্তু অলীদ গুপ্তভাবে থাকিয়া কী দেখিতেছে, কী চিন্তা করিতেছে, তাহা সেই জানে! তাহার সৈন্যগণের হাবভাবে তাহাকে আরো ব্যতিব্যস্ত হইতে হইল, চতুর্দিকে ভীষণ বিভীষিকাময় মূর্তি দেখিতে লাগিল। যুদ্ধে পরাস্ত হইতে হইবে, মদিনার পথ ছাড়িয়া দিতে হইবে, এখনই ছাড়িয়া দিতে হইবে,-না হয় বন্দিভাবে হানিফার পদানত হইতে হইবে, ইহাতে দুঃখ নাই,-অপমানের কথা নাই। কিন্তু আপন সৈন্য দ্বারা অপমানিত হওয়া বড়ই ঘৃণার কথা ও লজ্জার কারণ মনে করিয়া অলীদ বাধ্য হইয়া সশস্ত্রে মস্‌হাব কাক্কার সমুখীন হইল।

    মস্‌হাব কাক্কা বলিলেন, “অলীদ! শত্রুসম্মুখে আসিতে, যুদ্ধার্থে রণক্ষেত্রে পদনিক্ষেপ করিতে, তোমার আর কী এত বিলম্ব শোভা পায়? যাহা হউক, আইস, অগ্রে তোমার বাহুবল পরীক্ষা করি। আমি তোমাকে অস্ত্রাঘাতে মারিব না-নিশ্চয় বলিতেছি, তোমার প্রতি মস্‌হাব কাক্কা কখনোই অস্ত্র নিক্ষেপ করিবে না।”

    অলীদ দুটি চক্ষু পাকল করিয়া বলিল, “মহাবীরের দর্প দেখ! অস্ত্রাঘাতে মারিবেন না, কথার আঘাতে মারিবেন।”

    “আরে পামর! কথা রাখ্, অস্ত্র র্ধ!”

    “মস্‌হাব! তুমি এইমাত্র আসিয়াছ-এখনই যুদ্ধ? কে না বলিবে-যে দেখিবে সেই বলিবে, যে শুনিবে সেই বলিবে যে, দুর্গম পথশ্রান্তিতে কাতর ছিল, ক্ষণকালও বিশ্রাম করে নাই, যেমনই দেখা অমনই যুদ্ধ, কাজেই পরাস্ত। সেই আমার বিলম্বের কারণ। কিন্তু তুমি তাহা বুঝিলে না-তোমার ভালর জন্যই আমি এতক্ষণ আসি নাই।”

    মস্‌হাব কাক্কা রোষে অধীর হইয়া, সিংহনাদে অলীদের দুই হস্ত দুই হস্তে ধরিয়া সজোরে অলীদ-অশ্বকে পদাঘাত করিলেন, অশ্ব বহু দূরে ছুঁড়িয়া পড়িল। অলীদ কাক্কার হস্তে রহিয়া গেল। মস্‌হাব অলীদকে লইয়া এক লম্ফে অশ্ব হইতে অবতরণ করিয়া মৃত্তিকায় দণ্ডায়মান হইলেন। বীরবর অলীদ যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াও কাক্কার হস্ত হইতে হস্ত ছাড়াইতে পারিল না।

    মস্‌হাব বলিলেন, “এই তো প্রথম পরীক্ষা, দ্বিতীয় পরীক্ষাও দেখ।”

    এই কথা বলিয়াই অলীদকে শূন্যে উঠাইয়া বলিতে লাগিলেন, “দেখ্ কাফের দেখ্ কাহার কথা সত্য,-আমি কথার আঘাতে মারিতে পারি, কি আছাড় মারিয়া মারিতে পারি!” চতুর্দিক হইতে তখন মহা গোলযোগ হইয়া উঠিল। সৈন্যাধ্যক্ষের প্রাণ যায়, দামেস্করাজ এজিদের সেনাপতি শূন্যে চক্রাকারে ঘুরিয়া ঘুরিয়া প্রাণ হারায়,-বড়ই লজ্জার কথা! অলীদসৈন্য মসহাবের দিকে র্মা র্মা শব্দে মহারোষে অসি নিষ্কোষিত করিয়া আসিতে লাগিল। এদিকে মোহাম্মদ হানিফা ঐ গোলযোগের কারণ জানিতে আসিয়া দেখিলেন, অলীদ কাক্কার হস্তে উত্তোলিত হইয়া চক্রাকারে ঘুরিতেছে, আর রক্ষা নাই।

    মোহাম্মদ হানিফা উচ্চৈঃস্বরে বলিতে লাগিলেন, “ভাই মস্‌হাব, আমার কথা রাখ। ভাই! আমার দিকে একবার চাহিয়া দেখ, কথা রাখ। ভাই, ক্ষান্ত হও। অলীদকে প্রাণে মারিয়ো না, মারিয়ো না। আমি বারণ করিতেছি, উহাকে প্রাণে মারিয়ো না।”

    মস্‌হাব বলিলেন, “আপনার আজ্ঞা শিরোধার্য, কিন্তু আমি ইহাকে একটি আছাড় না মারিয়া ছাড়িব না-তাহাতেই যদি উহার প্রাণ দেহপিঞ্জরে আর না থাকে, কি করিব? উহার প্রতি আমি অস্ত্রের আঘাত করিব না, একথা পূর্বেই বলিয়াছি। এজিদের সেনাপতির বীরত্ব দেখুন, অলীদের বাহুবল দেখুন।”

    এই কথা বলিয়াই মস্‌হাব কাক্কা অলীদকে সজোরে বহুদূর শূন্য হইতে মাটিতে ফেলিয়া দিলেন। অলীদ চতুর্দিক অন্ধকার দেখিতে দেখিতে বিংশতি হস্ত ব্যবধানে ছুটিয়া ছিট্কিয়া পড়িল। ক্ষণকাল অচৈতন্য রহিয়া জগৎ অন্ধকার দেখিল। একটু চমক ভাঙ্গিলেই দক্ষিণ বামে পশ্চাতে চাহিয়া দেখিয়াই, উঠিতে উঠিতে, পড়িতে পড়িতে রণপ্রাঙ্গণ হইতে সভয়ে ফিরিয়া ফিরিয়া চাহিতে চাহিতে শিবিরাভিমুখে মহাবেগে প্রস্থান করিল। অলীদের সৈন্য এখন কাক্কার হস্ত হইতে প্রাণ বাঁচাইবার উপায় খুঁজিতে লাগিল। আর কি করিবে? শেষ পন্থা-পলায়ন।

    মস্‌হাব কাক্কা বীরদর্পে বলিতে লাগিলেন, “আয় রে কাফেরগণ! আয়, মদিনার পথে বাধা দিতে আয়! এই মস্‌হাব চলিল।”

    মস্‌হাব সমুদয় সৈন্য লইয়া অলীদের শিবির পশ্চাৎ করিয়া যাইতে লাগিলেন। কার সাধ্য মস্‌হাবকে বাধা দেয়? সে বীরকেশরী সম্মুখে আসিয়া দাঁড়ায়?

    গাজী রহমান বলিলেন, “আজ মদিনায় প্রবেশ করিব না, এই যুদ্ধক্ষেত্রের প্রান্ত সীমাতেই থাকিব। সৈন্যগণ মহাক্লান্ত হইয়াছে! আরো কথা আছে; মদিনা প্রবেশের পূর্বে আমাদের কতক সৈন্য নগরের বহির্ভাগে, নগর-প্রবেশ-দ্বারে সর্বদা সজ্জিতভাবে অবস্থিতি করিব। দামেস্কের মন্ত্রী, সৈন্যাধ্যক্ষ, কাহাকেও বিশ্বাস করিতে নাই। ছল, চাতুরী, অধর্ম, প্রবঞ্চনা, প্রতারণা তাহাদের আয়ত্তাধীন-জাতিগত স্বভাব।”

    মস্‌হাব কাক্কা সম্মত হইলেন, মোহাম্মদ হানিফাও গাজী রহমানের কথা গ্রাহ্য করিলেন। সৈন্যগণ অলীদের শিবির লুটপাট করিয়া, খাদ্যসামগ্রী অস্ত্রশস্ত্র যাহা পাইল লইয়া জয় জয় রবে প্রান্তর কাঁপাইয়া, বীরমদে পদনিক্ষেপ করিতে করিতে চলিল!

    মস্‌হাব কাক্কা মোহাম্মদ হানিফাকে বলিলেন, “হজরত! আর একটি কথা। তুরস্ক ও তোগান রাজ্যের ভূপতিদ্বয় আমার সঙ্গে আছেন, তাঁহারা পথে সীমারহস্তে যেরূপ বিধ্বস্ত ও বিপদগ্রস্ত হইয়াছিলেন, তাহার বিস্তারিত বিবরণ পরে বলিব। এক্ষণে একটি শুভ সংবাদ অগ্রে না দিয়া আমি স্থির থাকিতে পারিতেছি না। সেই পাপাত্মা সীমারকে আমি বন্দি করিয়া আনিয়াছি।”

    হানিফার মনের আগুন জ্বলিয়া উঠিল-নির্বাণ আগুন দ্বিগুণ বেগে জ্বলিয়া উঠিল-কারবালার কথা মনে পড়িল। হু-হু শব্দে কাঁদিয়া উঠিলেন, মস্হাব অপ্রতিভ হইলেন। কিছুক্ষণ পরে হানিফা মস্হাবের হস্ত ধরিয়া বলিলেন, “ভ্রাতঃ! তুমি আমার মাথার মণি, হৃদয়ের বন্ধু, প্রাণের ভাই! আইস, তোমাকে একবার আলিঙ্গন করি। তুমি সীমারকে বন্দি করিয়াছ-তোমার এ গৌরব, কীর্তি অক্ষয়রূপে জগতে চিরকাল সমভাবে থাকিবে-তুমি বিনামূল্যে আজ হানিফাকে ক্রয় করিলে। ভ্রাতঃ, আমার আর গমনের সাধ্য নাই। সীমারের নাম শুনিয়া আমি অধীর হইয়াছি। আরবের সর্বশ্রেষ্ঠ মহাবীর ভ্রাতৃদ্বয়ের শিরচ্ছেদ বিবরণ শুনা অবধি সীমারকে একবার দেখিব মনে করিয়া আছি। দেখিব, তাহার দক্ষিণ হস্তে কত বল, সে খ র ধরিতে কেমন পটু; তাহাকে কয়েকটি কথামাত্র জিজ্ঞাসা করিব। এ ছাড়া সীমারে আর আমার কোন সাধ নাই। সীমার সম্বন্ধে তুমি যাহা করিবে আমি তাহার সঙ্গী আছি। আর বেশি দূর যাইব না, আজ এখানেই বিশ্রাম।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাকিদ হায়দারের কবিতা
    Next Article ভগবানের সাথে কিছুক্ষণ – কৃষণ চন্দর
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }