Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিষাদ সিন্ধু – মীর মশাররফ হোসেন

    মীর মশাররফ হোসেন এক পাতা গল্প567 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    এজিদ-বধ পর্ব ০১ প্রবাহ

    বন্দিগৃহ! বন্দিগৃহ সুবর্ণে নির্মিত, মহামূল্য প্রস্তরে খচিত, সুখসেব্য আরামের উপকরণে সুসজ্জিত হইলেও মহাকষ্টপ্রদ-যন্ত্রণাস্থান। সুখ-সম্ভোগের সুখময় সামগ্রী দ্বারা পরিপূরিত হইলেও বন্দিগৃহ, দেহদগ্ধকারী মহাকষ্টপ্রদ জ্বলন্ত অগ্নিময় নরকনিবাস। সুবর্ণ পাত্রে সুস্বাদু সুমিষ্ট সরস খাদ্য-পরিপূরিত রসনা পরিতৃপ্ত করিতে, সুন্দর বন্দোবস্তের সহিত সুব্যবস্থা থাকিলেও বন্দিগৃহ মহাকাল যমালয়। কোন বিষয়ের অভাব-অনটন না হইলেও সর্বতোভাবে মশান হইতে শ্মশান আদরের। অমূল্য রত্ন স্বাধীনতাধন যে স্থানে বর্জিত, সে স্থান অমরপুরীসদৃশ মনোনয়নমুগ্ধকর সুখ-সম্ভোগের স্থান হইলেও মানবচক্ষে অতি কদাকার ও জঘন্য। বুদ্ধিশক্তিসম্পন্ন সজীব প্রাণীর নয়নে কণ্টকসমাকীর্ণ বিসদৃশ বিজন বন। বিজন বনেও পশুদিগের স্বাধীনতা আছে, ইচ্ছানুসারে পরিভ্রমণ, স্বজাতি-স্বজন পরিদর্শন ক্ষমতা আছে, বন্দিখানায় বন্দির ভাগ্যে তাহাও নাই। সুতরাং বাধ্যবাধকতা, অধীন-অধীনতা সংস্রবে স্বর্গসুখও মহা যন্ত্রণাদায়ক। যন্ত্রণাদায়ক কেন? সুখস্বাচ্ছন্দ্যের আমূল পরিচ্ছেদক।

    বন্দির মনে নানা ভাব! নানা চিন্তা, নানা কথা। কাহারো অন্তরে আত্মগ্লানির মহাবেগ শতধারে ও সহস্র প্রকারে ছুটিয়া হৃদয়ের অন্তঃস্থল পর্যন্ত অগ্নিদাহের ন্যায় দগ্ধ করিয়া উত্তমাঙ্গস্থিত সপ্তদ্বারে তাপের শেষ পর্যন্ত ক্রমে ক্রমে বহির্গত হইতেছে। কাহারো অনুতাপানল আক্ষেপ-ইন্ধনে পরিবর্ধিত হইয়া সতেজে রসনা আশ্রয়ে ছুটিয়া ছুটিয়া বাহির হইতেছে। কেহ মনের কথা মনভারে মনে মনে চাপিয়া হৃদয়ের রক্ত সমধিক হা-হুতাশে জলে পরিণত করিতেছে; কাহারো প্রতি লোমকূপ হইতে সে হা-হুতাশকৃত জলের কথঞ্চিৎ অংশ গর্মচ্ছলে বহির্গত হইয়া অবসাদে নির্জীব প্রায় করিতেছে। কেহ গত কথা স্মরণ করিয়া বন্দিখানাস্থিত মনুষ্যঘাতী জল্লাদের কুঠারহস্তে দণ্ডায়মান উচ্চমঞ্চের উপরিভাগপ্রতি স্থিরনেত্রে দৃষ্টি করিয়া মস্তিষ্কের মজ্জা পরিশুষ্ক করিতেছে! বন্দিমাত্রই যে ন্যায় ও যথার্থ বিচারে দণ্ডিত-তাহা নহে। ভ্রান্তি-ভ্রম মানবেই সম্ভবে! ইহাও নিশ্চয়, নির্ভুল অন্তর জগতে নাই। ভ্রমশূন্য মজ্জাও মানুষের নাই। ইহার পর নিরপেক্ষ সদ্বিচারক সংখ্যা অতি অল্প। কত বন্দি-ভ্রমে, পক্ষপাতিত্বে, অনুরোধে, বিভ্রাটে আজীবন ফাটকে আটক রহিয়াছে।

    পাঠক! এই তো আপনার সম্মুখে দামেস্ক কারাগারের অবিকল চিত্র। সুবিচার, অবিচার, হিংসা, দ্বেষে কত বন্দি, কত স্থানে কত প্রকার শাস্তিভোগ করিতেছে, বন্দিখানায় তুল্য কোন খানাই জগতে নাই। প্রহরীদল মানবাকার হইলেও স্বভাব ও ব্যবহারে পশু হইতেও নীচ। তাহাদের শরীর যে রক্ত-মাংস-হৃদয়-সংযোগে গঠিত, ইহা কিছুতেই বিশ্বাস হয় না। চতুষ্পার্শ্বে প্রাচীরবেষ্টিত স্থানটুকুই তাহাদের রাজ্য। সে রাজ্যের অধীশ্বরই তাহারা। প্রবল প্রতাপে আধিপত্য করার কল্যাণে, রাক্ষস ভাব, পশু ভাব, অমানুষিক ভাব আসিয়া তাহাদের মস্তকে নির্ভর করিয়াছে। দয়া, মায়া, অনুগ্রহ, স্নেহ, ভালবাসা অন্তর হইতে একেবারে সরিয়া পড়িয়াছে। মুখখানিও রসনাসহকারে এমনই বিকট ভাব ধারণ করে যে, কর্কশ, নীরস, অন্তর্ঘাতী, মর্মপীড়িত, নিদারুণ বাক্য-রোগে সর্বদা বন্দিদিগকে জর্জরিত করিতে থাকে। তদুপরি যথা-অযথা যন্ত্রণা-পদাঘাত-দণ্ডাঘাত বন্দিভাগ্যে কথায় কথায় হইতে থাকে। দামেস্ক নগরের এজিদের বন্দিগৃহ নরক হইতেও ভয়ানক। শাস্তির মাত্রাও সেই প্রকার। ক্রমে দেখিতে পাইবেন বিধির বিধানে, এজিদ্ আজ্ঞায়, মারওয়ানের মন্ত্রণায়, প্রভু হোসেন পরিবার, জয়নাল আবেদীন, সকলেই ঐ বন্দিখানায় বন্দি। কিন্তু ইহাদের প্রতি কোনরূপ শাস্তির বিধান নাই। পৃথক্ খণ্ডে,-ভিন্ন কক্ষে ইহাদের স্থান নির্ধারিত হইয়াছে। দৈনিক আহারের ব্যবস্থা বন্দিগৃহের প্রধান অধ্যক্ষ হস্তে। তিনি যে সময় বিবেচনা করেন, সে সময় শুষ্ক রুটি এবং একপাত্র জল, যাহা বরাদ্দ আছে, তাহাই দিতে অনুমতি করেন। অন্য অন্য বন্দির ভাগ্যে তাহাও নাই।
    পাঠক! ঐ দেখুন! দামেস্ক বন্দিগৃহে শাস্তির চিত্র দেখুন! অধিকক্ষণ দেখাইব না। কোন্ চক্ষু এই অমানুষিক ব্যাপার দেখিতে ইচ্ছা করে?-তবে মহারাজ এজিদের বিচার-চিত্র অনেক দেখিতেছেন, বন্দিখানার চিত্রও দেখুন।

    ঐ দেখুন, জীবন্ত নরদেহ লৌহপিঞ্জরে আবদ্ধ হইয়া কী ভয়াবহ রূপ ধারণ করিয়াছে। অত্যাচারে, অনাহারে, অনিয়মে শরীর জীর্ণ, বর্ণ বিবর্ণ, চক্ষু কোটরে। জিহ্বা তালু শুষ্ক-কণ্ঠ নীরস। মুখাকৃতি বিকৃত, শরীর অন্তঃসারশূন্য অস্থিপুঞ্জের সমাবেশ। কাহারো হস্তপদে জিঞ্জির, কাহারো হস্তপদ মৃত্তিকার সহিত জিঞ্জিরে আবদ্ধ। কোন বন্দি মৃত্তিকাশয্যায় শায়িত অথচ হস্তপদ লৌহশৃঙ্খলে লৌহ-পেরেকে ভূতলে আবদ্ধ। কাহারো বক্ষঃস্থল পর্যন্ত ভূগর্ভে নিহিত, কাহারো গলদেশ পর্যন্ত মৃত্তিকায় প্রোথিত। ঐ দিকে দেখুন। নরাকার রাক্ষসগণ হাসিতে হাসিতে জীবন্ত জীবের অঙ্গ হইতে সুতীক্ষ্ণ ছুরিকা দ্বারা কেমন করিয়া চর্ম ছাড়াইতেছে, লবণ মাখাইতেছে, সাঁড়াশি দিয়া চক্ষু টানিয়া বাহির করিতেছে। দেখুন, দেখুন, লৌহশলাকা-উত্তপ্ত লৌহশলাকা-মানুষের হাতে-পায়ে হাতুড়ির আঘাতে বসাইয়া মৃত্তিকার সহিত কি ভাবে আঁটিয়া দিতেছে। এ সময়ে তাহার প্রাণে কী বলিতেছে, তাহা কী ভাবা যায়, না সহজ জ্ঞানে বোঝা যায়। হস্ত পদ মৃত্তিকার সহিত লৌহ পেরেকে আবদ্ধ, বক্ষে পাষাণ চাপা, চক্ষু ঊর্ধ্বে, কোন দিকে দৃষ্টির ক্ষমতা নাই, দৃষ্টি কেবল অনন্ত আকাশে! আর দেখুন, পা দুখানি কঠিনরূপে ঊর্ধ্বে বাঁধা, মস্তক নিন্মে হস্তদ্বয় ঝুলিয়া ছড়াইয়া পড়িয়াছে, জিহ্বা-মুখ হইতে বাহির হইয়া নাসিকা ঢাকিয়া চক্ষুর উপরে হেলিয়া পড়িয়াছে! চক্ষু উল্টাইয়া ফাটিয়া রক্ত পড়িবার উপক্রম হইতেছে, ইহাতেও নিস্তার নাই, সময়ে সময়ে র্দোরার আঘাতে শরীরের চর্ম ফাটিতেছে! রক্ত পড়িতেছে! কী মর্মঘাতী অন্তরভেদী ভীষণ ব্যাপার! আর দেখা যায় না! চলুন, অন্যদিকে যাই।

    ঐ যে বৃদ্ধ বন্দি-লৌহশৃঙ্খলে আবদ্ধ, নিবিষ্টচিত্তে ধ্যানে মগ্ন, হাবভাব দেখিয়া যেন চেনা চেনা বোধ হইতেছে। কোথায় যেন দেখিয়াছি মনে পড়ে। অনুমান মিথ্যা নহে। এই মহাত্মা মন্ত্রীপ্রবর হামান হজরত মাবিয়ার প্রধানমন্ত্রী, এজিদের পুণ্যাত্মা পিতার প্রিয় সচিব মহাজ্ঞানী বৃদ্ধ হামান, এজিদ্ আজ্ঞায় বন্দি-লৌহ শৃঙ্খলে আবদ্ধ! বৃদ্ধবয়সে এই যন্ত্রণা! মন্ত্রী প্রধান হামান কী যথার্থ বিচারে বন্দি? মহারাজ এজিদ্ কী অপরাধে ইহাকে কারাগারে নিক্ষেপ করিয়াছেন, তাহা কি মনে হয়? হানিফার সহিত যুদ্ধে অমত, দামেস্কাধিপতির স্বয়ং যুদ্ধক্ষেত্রে গমনে অমত প্রকাশ, এজিদের মতের সহিত অনৈক্য-সুতরাং এজিদ্ আজ্ঞায় বন্দি। দামেস্কনগরের ভূতপূর্ব দণ্ডধর হজরত মাবিয়ার দক্ষিণ হস্তই ছিলেন-এই হামান। এজিদের হস্তে পড়িয়া মহা ঋষির এই দুর্দশা! হায় রে জগৎ! হায় রে স্বার্থ!

    দামেস্ক-সিংহাসনের চির-গৌরব সূর্য এজিদ-কল্যাণে অস্তমিত!

    পিতার মাননীয়-পিতার ভালবাসার পাত্রকে কোন্ পুত্র অবজ্ঞা করিয়া থাকে? হামানের চিন্তা ভ্রমসঙ্কুল ছিল না। আশা ও দুরাশার পথে অযথা দণ্ডায়মান হইয়া কুহকে মাতাইয়া ছিল না-কারণ এ-আশা মানুষেরই হয়। মানুষের দৃষ্টান্তেই মানুষ শিক্ষা পায়। আশা ছিল,-মন্ত্রীপ্রবরের মনে আশা ছিল, এজিদ্ মাবিয়ার সন্তান, পিতৃ অনুগৃহীত বলিয়া অবশ্যই দয়া করিবে; বৃদ্ধ বয়সে নবীন রাজপ্রসাদে সুখী হইয়া নিশ্চিন্তভাবে ঈশ্বর আরাধনায় জীবনের অবশিষ্ট অংশ কাটিয়া যাইবে। নিয়তির বিধানে তাহা ঘটিল না। অথচ এজিদের স্বেচ্ছাচার বিচারে বৃদ্ধ বয়সে লৌহ-নিগড়ে আবদ্ধ হইতে হইল। শুনুন, মন্ত্রীপ্রবর মৃদুমৃদু স্বরে কি বলিতেছেন।

    “রাজার অভাব হইলে রাজা পাওয়া যায়, রাজ-বিপ্লব ঘটিলে তাহারও শান্তি হয়, রাজ্যমধ্যে ঘোর বিদ্রোহানল প্রজ্বলিত হইলেও যথাসময়ে অবশ্যই নির্বাণ হয়, উপযুক্ত দাবী বুঝাইয়া দিলে সে দুর্দমনীয় তেজও একেবারে বিলীন হইয়া উড়িয়া যায়। মহামারী, জলপ্লাবন ইত্যাদি দৈবদুর্বিপাকে রাজ্যধ্বংসের উপক্রম বোধ হইলেও নিরাশ-সাগরে ভাসিতে হয় না-আশা থাকে। রাজার মজ্জা-দোষে কি মন্ত্রণা অভাবে রাজ্যশাসনে অকৃতকার্য হইলেও আশা থাকে। মূর্খ রাজার প্রিয়পাত্র হইবার আশায়, মন্ত্রণাদাতাগণ অবিচার অত্যাচার নিবারণে উপদেশ না দিয়া অহরহ তোষামোদের ডালি মাথায় করিয়া প্রতি আজ্ঞা অনুমোদন করাতেই যদি রাজা প্রজায় মনান্তর ঘটে, তাহাতেও আশা থাকে-সে ক্ষেত্রেও আশা থাকে। কিন্তু স্বাধীনতা-ধনে একবার বঞ্চিত হইলে সহজে সে মহামণির মুখ আর দেখা যায় না। বহু আয়াসেও আর সে মহামূল্য রত্ন হস্তগত হয় না। স্বাধীনতা-সূর্য একবার অস্তমিত হইলে পুনরুদয় হওয়া বড়ই ভাগ্যের কথা।”

    “রাজা আর রাজ্য, এই দুইটি পৃথক্ কথা-পৃথক ভাব-পৃথক্ সম্বন্ধ। রাজা নিজ বুদ্ধি-দোষে অপদস্থ হউন, সমযুক্তি সুমন্ত্রণায় অবহেলা করিয়া পর-পদতলে দলিত হউন, স্বেচ্ছাচারিত্ব দোষে অধঃপাতে যাউন, তাহাতে রাজ্যের কি? কার্য অনুরূপ ফল, পাপানুযায়ী শাস্তি। স্বেচ্ছাচারী, সুমন্ত্রণা-বিদ্বেষী, নীতি বর্জিত, উচিতে বিরক্ত, এমন রাজার রাজ্যপাট যত সত্বর ধ্বংস হয়, ততই মঙ্গল, ততই রাজ্যের শনিক্ষয় ও ভবিষ্যৎ মঙ্গলের আশা। দামেস্ক-রাজ্যের আর মঙ্গল নাই। বিনা কারণে, প্রেমের কুহকে, পীরিতের দায়ে, প্রণয় বাসনায়, পরিণয়-ইচ্ছায়, যদি এই রাজ্য যথার্থই পরকরতলস্থ হয়, পরপদভরে দলিত হয়, আমাদের স্বাধীনতা লোপ হয়, তবে সে দুঃখের আর সীমা থাকিবে না, সে মনোকষ্টের আর ইতি হইবে না। রাজা প্রজারক্ষক, বিচারক, প্রজাপালক এবং করগ্রাহক। কিন্তু রাজ্যের যথার্থ অধিকারী প্রজা। দায়িত্ব প্রজারই অধিক। রাজ্য প্রজার, রক্ষার দায়িত্ব বাসিন্দামাত্রেরই। যদি রাজ্যমধ্যে মানুষ থাকে, হৃদয়ে বল থাকে, স্বদেশ বলিয়া জ্ঞান থাকে, পরাধীন শব্দের যথার্থ অর্থ বোধ থাকে, জন্মভূমির মূল্যের পরিমাণ জ্ঞান থাকে, একতা-বন্ধনে আস্থা থাকে, ধর্মবিদ্বেষে মনে মনে পরস্পর বৈরীভাব না থাকে, জাতিভেদ, হিংসা, ঈর্ষা এবং ঘৃণার ছায়া না থাকে, অমূল্য সময়ের প্রতি সর্বদা লক্ষ্য থাকে, আলস্যে অবহেলা এবং শৈথিল্যে বিরোধী যদি কেহ থাকে, চেষ্টা থাকে, বিদ্যার চর্চা থাকে, আর সর্বোপরি ঈশ্বরে ভক্তি থাকে, তবে যুগ-যুগান্তরে হউক, শতাব্দী পরে হউক, সহস্রাধিক বর্ষ গত হউক, কোনকালে হউক, অন্ধকারাচ্ছন্ন পরাধীনতা-গগনে স্বাধীনতা-সূর্যের পুনরুদয় আশা একবার করিলেও করা যাইতে পারে। কিন্তু দামেস্করাজ্যে সে আশা-আশা-মরীচিকা। দামেস্ক বীরশূন্য। দামেস্ক চিন্তাশীল দেশহিতৈষী মহোদয়গণের অনুগ্রহ হইতে বঞ্চিত। সে উপকরণে গঠিত কোন মস্তক আছে কি না, তাহাতেই বিশেষ সন্দেহও হইবে কি না তাহাতেও নানা সন্দেহ।”

    “যেদিন রমণী-মুখচন্দ্রিমার সামান্য আভায় ধরণীপতির মস্তক ঘুরিয়াছে, মহীপাল এজিদের মহাশক্তিসম্পন্ন মজ্জা, পরকর-শোভিত মর্দিত কমলদলের মুমূর্ষু অবস্থার ঈষৎ আভায় গলিয়া বিপরীত ভাব ধারণ করিয়াছে, সেইদিন নিরাশার সঞ্চার হইয়া স্বাধীনতা ধনে বঞ্চিত হওয়ার সূত্রপাত ঘটিয়াছে। রাজার আচার, রাজার ব্যবহার, প্রজার আদর্শ এবং শিক্ষার স্থল। যে রাজচক্ষু কোমলপ্রাণা কামিনীর কমল-অক্ষির কোমল তেজ সহ্য করিতে অক্ষম, সে চক্ষু মোহাম্মদ হানিফার সুতীক্ষè তরবারির জ্বলন্ত তেজ সহ্য করিতে কখনো সক্ষম হইবে না। সে অসীম বলশালী মহাবীরের অস্ত্রাঘাত কি রূপজ মোহে ঘূর্ণিত মস্তক সহ্য করিতে পারে? কখনোই নহে। আর আশা কি?-কামিনী কটাক্ষশরে জর্জরিত হৃদয়ের আশ্বাস জন্য রাজনীতি উপেক্ষা করিয়া অকারণ রণবাদ্য বাজাইতে যে মন্ত্রী মন্ত্রণা দেয়, সে মন্ত্রী গাজী রহমানের মন্ত্রণা ভেদ করিয়া কৃতকার্য হইতে কোনকালেও ক্ষমবান হইবে না, কখনোই গাজী রহমানের সমকক্ষ হইতে পারে না। যদি যুদ্ধই ঘটিয়া থাকে, তবে নিশ্চয়ই পরাভব-নিশ্চয়ই দামেস্কের অধঃপতন-নিশ্চয়ই দামেস্ক-সিংহাসনে জয়নাল আবেদীন-নিশ্চয়ই এজিদের মৃত্যু, মারওয়ানের মনোগত আশা বিফল। পীরিত, প্রণয়, প্রেম,-এই তিন কারণেই আজ দামেস্কের-এই দুর্দশা! কী ঘৃণা!! কী লজ্জা!!!”

    “বৃদ্ধ বয়সে অবিচারে পিঞ্জরাবদ্ধ হইয়া আকুলিত হই নাই। যত দূর বুঝিয়াছি-বলিয়াছি। আমার ভ্রম দর্শাইয়া ইহা অপেক্ষা শতগুণ শাস্তি দিলেও ক্ষোভের কারণ ছিল না। উচিত কথায় আহাম্মক রুষ্ট, এ কথা নূতন নহে। প্রকাশ্য দরবারে মত জিজ্ঞাসা করায়, বুদ্ধি-বিবেচনায় যাহা আসিয়াছে, বলিয়াছি! ইহাই তো অপরাধ, ইহাতেই বন্দি, ইহাতেই পি রে আবদ্ধ। কিছুমাত্র দুঃখ নাই, কারণ মূর্খ, স্বার্থপর, মিথ্যাবাদী, পরশ্রীকাতর, পরস্ত্রী-আকাঙ্খী, স্বেচ্ছাচারী এবং রোষপরবশ রাজার নিকট ইহা অপেক্ষা আর কি আশা করা যাইতে পারে? প্রাণদণ্ডের আদেশ হয় নাই, ইহাই শত লাভ, সহস্র প্রকারে ঈশ্বরে ধন্যবাদ।”

    “ভাল কথা, ওমর আলী বন্দি হওয়ার কথাই শুনিলাম, প্রাণবধের কথা তো শুনিলাম না। শূলে জয়নাল আবেদীনের প্রাণদণ্ড হইবে, ঘোষণার কথাই কানে প্রবেশ করিল, শেষ কথাটা আর কেহ বলিল না। সংবাদ কি? এ অন্যায় যুদ্ধের পরিণাম কি? কী হইতেছে, কী ঘটিতেছে, কোন্ বীর কেমন তরবারি চালাইতেছে, বর্শা উড়াইতেছে, তীর চালাইতেছে, কই-কেহই তো কিছুই বলে না। আমাদের পক্ষের অতি সামান্য সামান্য শুভ সংবাদ লোকের মুখে ক্রমে অসামান্য হইয়া উঠে। কই-এ কয়েক দিন ভাল-মন্দ কোন সংবাদই তো শুনিতে পাই না। মন্দ কথা কানে আসিবার কথা নহে-ভাল কথার যখন একটা বর্ণও প্রকাশ হইতেছে না, তখন আর কী বলি।”

    “যুদ্ধকাণ্ড বড়ই কঠিন! সামান্য বিবেচনার ত্রুটিতে সর্বস্ব বিনাশ। লক্ষ প্রাণীর প্রাণ মুহূর্তে ধ্বংস? বড়ই কঠিন ব্যাপার! দামেস্করাজ্যের যে সময় উপস্থিত, এ সময় যুদ্ধ করাই অন্যায়। যুদ্ধের কারণ দেখিতে হইবে, লাভালাভের প্রতিও লক্ষ্য রাখিতে হইবে, আপন আপন ক্ষমতার পরিমাণও বুঝিতে হইবে, ধনাগারের অবস্থাও ভাবিতে হইবে। আত্মীয়, স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পুরবাসী, প্রতিবেশী, সমকক্ষ, সমশ্রেণী জ্ঞাতিকুটুম্ব এবং রাজ্যের গণ্য, মান্য, ধনী ও সাধারণ প্রজার মনের ভাব, বিশেষ করিয়া অতি গোপনে কৌশলে পরীক্ষা করিতে হইবে। কেবল ধনভাণ্ডার খুলিয়া দিয়াই চক্ষু শীতল করিলে চলিবে না। আহার্য সামগ্রী কেবল মানুষের নয়, গরু-ঘোড়া ইত্যাদি পালিত জীবজন্তু সহ নগরস্থ প্রাণী মাত্রের কত দিনের আহার মজুত, প্রাণীর পরিমাণ, আহার্য সামগ্রীর পরিমাণ, আনুমানিক যুদ্ধকালের পরিমাণ করিয়া সমুদয় সাব্যস্ত, বন্দোবস্ত, আমদানি, রপ্তানি, পানীয় জলের সুবিধা পর্যন্ত করিয়া-তবে অন্য কথা।”

    “এ যুদ্ধে এ কথাটা অগ্রেই ভাবা উচিত ছিল। মহাবীর মোহাম্মদ হানিফা বহুদূর হইতে আক্রমণ আশায় আসিয়াছেন। ভিন্ন দেশ, তাঁহার পক্ষে সহসা প্রবেশই দুঃসাধ্য। ইহার পর নগর আক্রমণে আশা। রাজবন্দিগৃহ হইতে পরিজনগণকে উদ্ধারের আশা-এজিদ্ বধ করিয়া দামেস্ক-সিংহাসন অধিকার করিবার আশা-এক-একটি আশা কম পরিমাণের আশা নহে। কথাচ্ছলে আমি ইহাকে এক প্রকার দুরাশাও বলিতে পারি, কারণ রাজ্যের সীমাই যুদ্ধের সীমা। সে সীমা অতিক্রম করিয়া নগরের প্রান্তভাগের প্রান্তরে এজিদের মহাকাল স্বয়ং আসিয়া উপস্থিত। এক গাজী রহমানের বুদ্ধিকৌশলে সকল বিষয় সুন্দর বন্দোবস্ত। যাহা তাহাদের পক্ষে কঠিন ছিল, তাহাও তাহারা অনায়াসেই সুসিদ্ধ করিয়াছে। রাজ্য-সীমায় প্রবেশ দূরে থাকুক, নগরের প্রান্তসীমায় রঙ্গভূমি,-আর আশা কি!”

    “অন্যায় সমরে রাজা স্বয়ং যুদ্ধক্ষেত্রে! কী পরিতাপ! যে রাজা রাজনীতির বাধ্য নহে, সমরনীতির অধীন নহে, স্বেচ্ছাচারিতাই যাহার মস্তিষ্কের বল, তাহার কী আর মঙ্গল আছে? প্রণয়, প্রেমে যে রাজা আসক্ত তাহার কি আর শ্রীবৃদ্ধি আছে? যুদ্ধবিগ্রহে পীরিত প্রণয়ের প্রসঙ্গ আসিতেই পারে না; মূল কারণ হওয়া দূরে থাকুক, সে নামেই সর্বনাশ। রাজনীতি সমরনীতি, এই দুইটি নীতির অভ্যন্তরে প্রবেশ করিয়া যত জ্ঞানলাভ হইবে যত অভিজ্ঞতা জন্মিবে, ততই বুঝিতে পারা যাইবে যে, ইহার মধ্যে কি না আছে। জগতের সমুদয় ভাব স্বভাব, ব্যবহার, কার্যপ্রণালী, সমুদয় ঐ দুই নীতির মধ্যগত, কিন্তু ব্যবহারের ক্ষমতা, পরিচালনার বল, কার্যে পরিণত করিবার অধিকার সম্পূর্ণরূপে জগতে কোন প্রাণীর মস্তকে আছে কি না সন্দেহ।”

    “এ ধর্মনীতির কথা নহে যে ঘাড় নোয়াইয়া বিশ্বাস করিতেই হইবে। পাপের প্রায়শ্চিত্ত নহে যে কালে হইবেই হইবে। এ প্রসূতির প্রসব বিষয়ে চিন্তা নহে যে, দশ মাস দশ দিন পরে যাহা হয়, একটা হইবেই হইবে। এ অদৃষ্টলিপির প্রতি নির্ভরের কার্য নহে যে, যাহা কপালে লেখা আছে, তাহাই ঘটিবে। এ রাজ-চক্র, ইহার মর্ম ভেদ করা বড়ই কঠিন। বিশেষ সমর কাণ্ড যেমন কুটিল, তেমনি জটিল। যখনই প্রশ্ন তখনই উত্তর, যে মুহূর্তে চিন্তা সেই মুহূর্তেই কার্য, তখনই কার্যফল দ্রুতগতি সময়ের সহিত সমরকাণ্ডের কার্য-সম্বন্ধ। বুদ্ধির কৌশল, বিবেচনার ফল। জয়-পরাজয়ের সময় অতি সংক্ষেপ। দক্ষিণ চক্ষু দেখিল, বীরবরের হস্তস্থিত তরবারি বিদ্যুৎ-লতায় চমকিতেছে-বাম চক্ষু দেখিল, ঐ মহাবীরের রঞ্জিত দেহ ভূতলে গড়াইতেছে, রঞ্জিত হস্তে রঞ্জিত তরবারি বদ্ধমুষ্টিতে ধরাই রহিয়াছে। বর্তমান যুদ্ধে যে কি ঘটিবে তাহা ভগবানই জানেন। আমার সময় মন্দ। কাহারো নিকট কিছু জিজ্ঞাসা করিতে সাহস হয় না, কাহারো মুখে কিছু শুনিতে পাই না। মহারাজ আজ্ঞা করিয়াছেন-বন্দি হইয়াছি। লৌহশৃঙ্খল গলায় পরিতে হুকুম দিয়াছেন, হুকুম তামিল করিয়াছি। দুঃখ মাত্র নাই, অন্তরেও বেদনা বোধ করি নাই। তবে বেদনা লাগিয়াছে যে, এই সঙ্কট সময়ে অকারণ যুদ্ধে অগ্রসর-স্বয়ং রাজা অগ্রসর, স্বয়ং অস্ত্র ধারণ! বড়ই দুঃখের কথা! এ যুদ্ধের পরিণাম ফল কি হইল? কে হারিল, কে জিতিল? সন্ধি-অসম্ভব। যুদ্ধ অনিবার্যরূপে চলিতেছে, সমর-গগনে লোহিত নিশান বায়ুর সহিত এখনো খেলা করিতেছে। সন্দেহমাত্র নাই। আমার তো বিশ্বাস যে, দামেস্ক সৈন্য-শোণিতে দামেস্ক প্রান্তরই রঞ্জিত হইতেছে। দামেস্কভূমি দামেস্ক-বীর শিরেই পরিপূর্ণ হইতেছে। এ অবৈধ সমরে সন্ধির নামই আসিতে পারে না। এজিদ্ হানিফার রণক্ষেত্রে শুভ্র-নিশান উড়াইতে পারে না। বড়ই শক্ত কথা!”

    মন্ত্রীপ্রবর হামান মনের কথা এইরূপে অকপটে মুখে প্রকাশ করিতেছেন, এমন সময় দ্বাররক্ষক দ্রুতপদে মন্ত্রীপ্রবরের নিকট আসিয়া চুপে চুপে কি কথা বলিতে লাগিল। বন্দিসচিব-তাহার মুখে কোন কথাই প্রকাশ হইল না। দেখিবার মধ্যে দেখা গেল চক্ষের জল, আর শুনিবার মধ্যে শুনা গেল দীর্ঘ নিশ্বাস। পাঠক! চুপি চুপি কথা আর কিছু নহে, আমাদের জানা কথা-গত কথা, যুদ্ধের বিবরণ এবং এজিদের পলায়ন, এই সংবাদ।

    চলুন, অন্যদিকে যাওয়া যাক্। শুনিতেছেন? শুনিতে পাইতেছেন? স্ত্রী-কণ্ঠ। বুঝিতে পারিতেছেন? কি কথা, একটু অগ্রসর হইয়া শুনুন।

    “বাবা জয়নাল! তুই যে বন্দিখানা হইতে পলাইয়াছিস-বুদ্ধির কাজ করিয়াছিস বাপ্! আর দেখা দিস না। কখনোই কাহারো নিকট দেখা দিস না! তুই যে আমার প্রাণের প্রাণ! তোকে বুকে করিলে বুক শীতল হয়! চক্ষু জুড়ায়! তুই আমাকেও দেখা দিস না! বনে, জঙ্গলে, পশুদিগের সহিত বাস করিস্! বাপ্ রে! এজিদ বাঁচিয়া থাকিতে কখনোই লোকালয়ে আসিস্ না। কাহাকেও দেখা দিস্ না। (উচ্চৈঃস্বরে) জয়নাল! তুই আমার-তুই আমার কোলে আয়। এ বন্দিখানায় কী অপরাধে অপরাধী হইয়া বন্দি হইয়াছি-দয়াময় ঈশ্বর জানেন। কতকাল এভাবে থাকিতে হইবে, তাহাও তিনিই জানেন। জয়নাল! তোর মুখখানির প্রতি চাহিয়াই এত দিন বাঁচিয়া আছি! তুই ইমাম বংশের একমাত্র সম্বল, মদিনার রাজরত্ন! তোর ভরসাতেই আজ পর্যন্ত দামেস্ক বন্দিগৃহে তোর চিরদুঃখিনী মা প্রাণ ধরিয়া বাঁচিয়া আছে! পবিত্র ভূমি মদিনা পরিত্যাগ করিয়া যে দিন কুফায় গমন করিতে পথে বাহির হইয়াছি, সেই দিন হইতে সর্বনাশের সূচনা হইয়াছে। কত পথিক দূর দেশে যাইতেছে, কত রাজা সৈন্যসামন্তসহ বন, জঙ্গল, মরুভূমি অতিক্রম করিয়া, গিরিগুহা অনায়াসে পার হইয়া নির্দিষ্ট স্থানে নির্বিঘ্নে যাইতেছে। ভ্রম নাই-পথ-ভ্রান্তি নাই-স্বচ্ছন্দে যাইতেছে, আসিতেছে-কোনরূপ পথ-বিঘ্ন নাই, বিপদ নাই, কোন কথা নাই! হায় আমাদের কি দুর্ভাগ্য! দিনে দুই প্রহরে ভ্রম! মহাভ্রম! কোথায় কুফা! কোথায় কারবালা! সেখানে যাহা ঘটিবার ঘটিল। আত্মঘাতী হইলাম না, প্রাণও বাহির হইল না,-কেন হইল না? বাপ্! তোর মুখের প্রতি চাহিয়া-বন্দিখানাতেও তোরই মুখখানি দেখিয়া কিছুই করি নাই। তুই দুঃখিনীর ধন! দুঃখীর হৃদয়ের ধন! অঞ্চলের নিধি! বাপ্! তোর দশা কী ঘটিল? হায়! হায়! কেন তুই ওমর আলীর প্রাণবধের ঘোষণা শুনিয়া বন্দিগৃহ হইতে বাহির হইলি? আমার মন অস্থির-বিকারপ্রাপ্ত। কি বলিতে কি বলি তাহার স্থিরতা নাই। বন্দিখানায় থাকিলে দুর্দান্ত পিশাচ মারওয়ানের হস্ত হইতে তোকে কখনোই রক্ষা করিতে পারিতাম না, আমার ক্রোড় হইতে কাড়িয়া লইয়া যাইত। হায়! হায়!! সে সময় তোর মুখের দিকে চাহিয়া আমার কী দশা ঘটিত বাপ্! তুমি বুদ্ধির কাজ করিয়াছ। এজিদ্ জীবিত থাকিতে লোকালয়ে আসিয়ো না। বনে, জঙ্গলে, গিরিগুহায় লুকাইয়া থাকিয়ো। বনের ফল, মূল, পাতা খাইয়া জীবনধারণ করিয়ো। কখনো লোকালয়ে আসিয়ো না। আর না হয়, যে দেশে এজিদের নাম নাই, তোমার নাম নাই-সে দেশে যাইয়া ভিক্ষা করিয়া জীবন কাটাইয়ো। তাহাতে সাহারবানুর প্রাণ শীতল থাকিবে!”

    এ কী! প্রহরিগণ ছুটাছুটি করে কেন? প্রহরিগণ ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটিয়াছে! যে যেখানে ছিল, সে সেই স্থান হইতে ছুটিয়াছে! পরস্পর দেখা হইতেছে, কথা হইতেছে,-কিন্তু বড় সাবধানে, চুপে চুপে। কথা কহিতেছে-পরামর্শ করিতেছে-সাবধান হইতেছে,-আত্মরক্ষার উপায় দেখিতেছে। কেন? কী সংবাদ? দেখুন-আশ্চর্য দেখুন! একজন প্রহরী ছুটিয়া আসিয়া বৃদ্ধ মন্ত্রী হামানের কানে কানে চুপি চুপি কি কহিয়া, ঐ দেখুন কি করিল! দ্রুতহস্তে লৌহশৃঙ্খল কাটিয়া ফেলিল এবং হোসেন-পরিবার ব্যতীত অন্য অন্য বন্দিগণকে কারাগার হইতে মুক্ত করিয়া সত্বর বাহির করিয়া দিল। বন্দিগণ অবাক্! কেহ কোন কথা কহিতেছে না। সকলেই যেন ব্যস্ত। পলাইতে পারিলেই রক্ষা!-জীবনরক্ষা!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাকিদ হায়দারের কবিতা
    Next Article ভগবানের সাথে কিছুক্ষণ – কৃষণ চন্দর
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }