Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিষাদ সিন্ধু – মীর মশাররফ হোসেন

    মীর মশাররফ হোসেন এক পাতা গল্প567 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    এজিদ-বধ পর্ব ০৪ প্রবাহ

    আশা মিটিবার নহে। মানুষের মনের আশা পূর্ণ হইবার নহে। ঘটনার সূত্রপাত হইতে শেষ পর্যন্ত অনেকের মনে অনেক প্রকারের আশার সঞ্চার হয়। আশার কুহকে মাতিয়া, অনেকে পথে অপথে ছুটিয়া বেড়ায়। ঘটনাচক্রে যতদূর গড়াইয়া লইয়া যায়, তাহাতেই বোধ হয় যেন পূর্ব আশা পূর্ণ হইল। এই পূর্ণ বোধ হইতে হইতে দুই তিন চারি, এমন কি, পঞ্চ প্রকারে আশা পঞ্চাশ ভাগে পঞ্চাশৎ বিভাগে ঘটনা-লিপ্ত মানুষের হৃদয়াকাশে সচঞ্চল চপলার ন্যায় ছুটিতে থাকে,-খেলিতে থাকে। জীবনের সহিত আশার সম্বন্ধ। আকাঙ্খার নিবৃত্তি আশার শান্তি, জীবনের ইতি, এই তিনেই এক, আবার একেই তিন। সুতরাং জীবন্ত দেহে মনের আশা মিটিবার নহে। আশা মিটিল না, মোহাম্মদ হানিফার মনের আশা পূর্ণ হইল না।

    যুগল অশ্ব বেগে ছুটিয়াছে। এজিদের অশ্ব অগ্রেই রহিয়াছে। হানিফার মনের আশা, এজিদকে না মারিয়া জীবন্ত ধরিবেন, পূর্ব প্রতিজ্ঞানুসারে তাঁহাকে কয়েকটি কথা জিজ্ঞাসা করিবেন,-কিন্তু তাহা পারিতেছেন না। এজিদ্ অশ্ব চালনায় পরিপক্ব, প্রাণের দায়ে পথ, অপথ, বন, জঙ্গল মধ্য দিয়া অশ্ব চালাইতেছে। পলাইতে পারিলেই রক্ষা-কিন্তু পারিতেছে না। হানিফাকে দূরে ফেলিয়া আত্মগোপন করিতে সক্ষম হইতেছে না, সেই সমান ভাব। যাহা কিছু প্রভেদ-অগ্র আর পশ্চাৎ। এজিদ্ প্রাণপণে অশ্ব চালাইতেছে, কিন্তু হানিফাকে দূরে ফেলিয়া তাঁহার চক্ষুর অগোচর হওয়া দূরে থাকুক, হস্তস্থিত তরবারির অগ্রভাগ হইতে সূচ পরিমাণ স্থানও অগ্রে যাইতে পারিতেছে না। সূর্যতেজ কমিতেছে, মোহাম্মদ হানিফার রোষও বাড়িতেছে। যতই ক্লান্ত ততই রোষের বৃদ্ধি।

    মোহাম্মদ হানিফা অশ্ব বল্গা দন্তে ধারণ করিয়া এজিদকে ধরিবার নিমিত্ত দুই হস্ত বিস্তার করিয়াছেন। দুল্দুল্ প্রাণপণে দৌড়িতেছে, কিন্তু ধরিতে পারিতেছেন না। এই ধরিলেন, এই বারেই ধরিবেন আর একটু অগ্রসর হইলেই ধরিতে পারিবেন, অশ্ব হইতে চ্যুত করিবেন। কিন্তু কিছুতেই পারিতেছেন না।

    এজিদ্ প্রাণভয়ে পলাইতেছে। অন্য কোন কথা সে সময়ে মনে উদয় হইবার কথা নহে। প্রাণ বাঁচাইবার পন্থাই নানা প্রকারে মনে মনে আঁটিতেছে। আর একটা কথাও বেশ বুঝিতেছিল যে, মোহাম্মদ হানিফা তাহার প্রাণবধের ইচ্ছা করিলে, বহুপূর্বে শেষ করিতে পারিতেন, অথচ তাহা করিতেছেন না। মন ডাকিয়া বলিতেছে, “এজিদ্কে হানিফা ধরিবেন, মারিবেন না। প্রাণে মারিবেন না। হইতে পারে, এজিদের উপর অস্ত্র নিক্ষেপ নিষেধ। এ দুয়ের এক না হইয়া এরূপভাবে বীরের সম্মুখে-বীরের অস্ত্রের সম্মুখ হইতে এতক্ষণ পর্যন্ত বাঁচিয়া থাকা সৌভাগ্যের কথা। এখন কোন উপায়ে ইহার চক্ষুর অগোচর হইতে পারিলেই রক্ষা। হানিফা চিরদিন দামেস্কে বাস করিবেন না। এই সন্ধ্যা পর্যন্ত যমের হস্ত হইতে বাঁচিতে পারিলেই প্রাণ বাঁচে। সূর্যাস্ত পর্যন্ত এই প্রকার ঘোরা ফেরা করিয়া কাটাইতে পারিলেই আর ভয়ের কারণ নাই। আমার পরিচিত ও হানিফার অপরিচিত দেশ এবং পথ। আমি অনায়াসেই অন্ধকারে চলিতে পারিব। আজিকার অস্তই আমার শুভ অস্ত, জীবন রক্ষার একমাত্র উপায়।”

    এই সকল চিন্তা শ্রেণীবদ্ধরূপে যে এজিদের মনে উদয় হইয়াছিল তাহা নহে। প্রাণান্ত সময়ের পূর্ব লক্ষণ, ক্ষণকাল বিকার, ক্ষণকাল অজ্ঞান, ক্ষণকাল ঘোর অচৈতন্য, ক্ষণকাল সজ্ঞান। সেই সজ্ঞান সময়টুকুর মধ্যে ঐরূপ চিন্তার ঢেউ সময়ে সময়ে এজিদের মনে উঠিতেছিল। এজিদ্ হস্ত হইতে অশ্ববল্গা ছাড়িয়া দিয়া-সজোরে কশাঘাত করিতে লাগিল। এখন আর দিগ্বিদিক্ জ্ঞান নাই। অশ্বের স্বেচ্ছাধীন গতিই তাহার গতি। অশ্বের মনোমত পথই তাহার বাঁচিবার পথ-আর দক্ষিণ বামে ফিরাইয়া পলাইবার চেষ্টা করিতেছে না। ঘোড়া আপন ইচ্ছামত ছুটিয়াছে।

    হানিফা কিঞ্চিৎ দূরে পড়িলেন। উচ্চৈঃস্বরে ডাকিয়া বলিতে লাগিলেন-“এজিদ্! হানিফার হস্ত হইতে আজ তোমার নিস্তার নাই। কিন্তু এজিদ্! এ অবস্থায় তোমায় প্রাণে মারিব না, জীবন্ত ধরিব। তোমার খণ্ডিত শিরের ধরালুণ্ঠিত ভাব, শিরশূন্য দেহের স্বাভাবিক ক্রিয়ার দৃশ্য,-হানিফা একা দেখিতে ইচ্ছা করে না। বিশেষ বীরের আঘাত চারি চক্ষু একত্র করিয়া। আমি কাপুরুষ নহি যে, তোমার পশ্চাদ্দিক হইতে অস্ত্র নিক্ষেপ করিব। হানিফার অস্ত্র আজ পর্যন্ত কাহারো পৃষ্ঠদেশে নিক্ষিপ্ত হয় নাই, অগ্রে চক্ষে ধাঁধা না লাগাইয়া অদৃশ্যভাবে কাহারো শরীরে প্রবেশ করে নাই। তুমি মনে করিয়ো না যে তোমার পিছনে থাকিয়া পৃষ্ঠে আঘাত করিব। তুমি জঙ্গলে যাও, পাহাড়ে যাও, হানিফা তোমার সঙ্গ ছাড়া নহে।”

    এজিদ্ হানিফার রক্তমাখা শরীর প্রতি একবার মাত্র দৃষ্টি করিয়াছে, একবার মাত্র চারি চক্ষু একত্র হইয়াছে। এজিদ্ হানিফার দিকে দ্বিতীয়বার চাহিতে সাহসী হয় নাই। কিন্তু সে রক্তজবা সদৃশ আঁখি, রক্তমাখা তরবারি তাহার চক্ষের উপর অনবরত ঘুরিতেছে, হৃদয়ে জাগিতেছে। মুহূর্তে মুহূর্তে প্রাণ কাঁপিতেছে। আতঙ্কে দক্ষিণে বামে দেহ দুলিতেছে, কোন কোন সময়ে সম্মুখে ঝুকিতেছে। অশ্ব চালনে বিশেষ পরিপক্বতা হেতুতেই আসন টলিতেছে না।

    মোহাম্মদ হানিফা পুনরায় উচ্চৈঃস্বরে বীরবিক্রমে বলিতে লাগিলেন, “এজিদ্! বহু পরিশ্রমের পর তোর দেখা পাইয়াছি। কখনোই চক্ষের অন্তরাল হইতে পারিবি না। তুই জানিস্, হানিফার বল বিক্রম প্রকাশের আজই শেষ দিন। আজই হানিফার ক্রোধাঙ্কের শেষ অভিনয়। আজই বিষাদের শেষ,-বিষাদ-সিন্ধুর শেষ,-তোর জীবনের শেষ। ঐ দেখ, সূর্য অস্ত যায়। এই অস্তের সহিত কত অস্তের যে যোগ আছে তাহা কে বলিতে পারে? আমি দেখিতেছি, তিন অস্ত একত্রে মিশিবে, এক সঙ্গে একযোগে ঘটিবে-তোর পরমায়ু, দামেস্কের স্বাধীনতা এবং উপস্থিত সূর্য। চাহিয়া দেখ্, যদি জ্ঞানের বিপর্যয় না ঘটিয়া থাকে, তবে চাহিয়া দেখ্ গমনোন্মুখ সূর্য কেমন চাক্চিক্য দেখাইয়া স্বাভাবিক নিয়ম রক্ষা করিতেছে, নির্বাণোন্মুখ দীপও ঐরূপ তেজে জ্বলিয়া উঠে। প্রাণবিয়োগ সময়ে শয্যাশায়ী রোগীর নাড়ীর বলও ঐরূপ সতেজ হয়। তোর কিঞ্চিৎ অগ্রসরতাও তাহাই। আর বিলম্ব নাই। যে একটুকু অগ্রসর হইয়াছিস্ সে বাঁচিবার জন্য নহে, মরিবার জন্য। মরুভূমিতে ঘুরিয়াছ, বনে প্রবেশ করিয়াছ, পর্বতে উঠিয়াছ, চক্ষু হইতে সরিয়া যাইতে কত চক্রই খেলিয়াছ, সরিতে পার নাই,-হানিফার চক্ষে ধূলি দিয়া চক্ষের অন্তরাল হইতে সাধ্য নাই। এখন নিকটে বন জঙ্গল নাই যে অন্ধকারে গা ঢাকা দিয়া বাঁচিয়া যাইবি। তুই নিশ্চয় জানিস, এই রঞ্জিত অসি, তোর পরিশুষ্ক হৃদয়ের বিকৃত রক্তধারে আবার রঞ্জিত করিব। সূর্যরাগে মিশাইয়া উভয় অস্ত একত্র দেখিব। তুই যাবি কোথা? তোর মত মহাপাপীর স্থান কোথা?”

    অশ্বারোহী যদি বাগডোরে জোর না রাখে, ঘোড়ার ইচ্ছানুযায়ী গতিতে যদি বাধা না দেয় তবে অশ্বমাত্রই আপন বাসস্থানে ছুটিয়া আসিতে চেষ্টা করে। এজিদ্ নিরাশ হইয়া হস্তস্থিত অশ্ববল্গা ছাড়িয়া দিয়াছে। কোথায় যাইবে কি করিবে, কোন্ পথে কোথায় গেলে পশ্চাদ্ধাবিত যমের হস্ত হইতে রক্ষা পাইবে, স্থির করিতে না পারিয়াই তুরঙ্গ-গতিস্রোতে অঙ্গ ভাসাইয়া দিয়াছে। রাজ অশ্ব রাজধানী অভিমুখেই ছুটিয়াছে। দামেস্ক এজিদের রাজ্য। পথ ঘাট সকলই পরিচিত, রাজধানী অভিমুখে অশ্বের গতি দেখিয়া, তাহার নিরাশ হৃদয়ে নূতন একটি আশার সঞ্চার হইল-রাজপুরীমধ্যে যাইতে পারিলেই রক্ষা। মনের ব্যগ্রতায় এবং প্রাণের মায়ায় আকুল হইয়া দুই হস্তে অশ্বে কশাঘাত করিতে লাগিল। রাজপুরী-মধ্যে প্রবেশ করিতে পারিলেই যেন প্রাণ বাঁচাইতে পারে। যুগল অশ্ব বেগে দৌড়িতে থাকুক, এই অবসরে এজিদের নূতন কথাটা ভাঙ্গিয়া বলি।

    হজরত মাবিয়ার লোকান্তর গমনের পর, এজিদ্ মারওয়ানের মন্ত্রণায় দামেস্কপুরী সংলগ্ন উদ্যান মধ্যে, ভূগর্ভে এক সুন্দর পুরী নির্মাণ করিয়াছিল। এ গুপ্তপুরীর প্রবেশদ্বারও এমন সুন্দর কৌশলে নির্মিত হইয়াছিল যে, উদ্যানালঙ্কার নিকু ভিন্ন, দ্বার বলিয়া কেহই নির্ধারণ করিতে পারিত না। যে সময়ের অপেক্ষায় ঐ পুরী আজ সেই সময় উপস্থিত। এজিদের প্রিয় পরিজন, আত্মীয়-স্বজন প্রাণভয়ে সকলেই ঐ গুপ্তপুরীর মধ্যে আশ্রয় লইয়াছে। তাহার প্রমাণও পূর্বে পাওয়া গিয়াছে। যেখানকার যে জিনিস সেইখানেই পড়িয়া আছে, জনপ্রাণী মাত্র নাই। কোথায় যাইবে, শত্রু-সেনাপরিবেষ্টিত পুরীমধ্য হইতে কোথায় পলাইবে? ঐ গুপ্তপুরীই প্রাণরক্ষার উপযুক্ত স্থান। এজিদের মনে সেই আশা। সে নীরস হৃদয়ক্ষেত্রে এ একমাত্র আশা-বীজের নব অঙ্কুর। পুরীর কথা মনে পড়িতেই পরিবার-পরিজনের কথা মনে হইয়াছে। কিঞ্চিৎ আশ্বস্তও হইয়াছে। রাজপুরী পরহস্তগত হইলেও পরিবার-পরিজন কখনোই পরহস্তগত হইবে না। দামেস্কপুরী তন্নতন্ন করিলেও তাহাদের বিষাদিত কায়া চক্ষে পড়া দূরে থাকুক, ছায়া পর্যন্ত নজরে আসিবে না। এখন উদ্যান পর্যন্ত যাইতে পারিলেই আর পায় কে? লতা-পুষ্প-ছড়িত কু পর্যন্ত যাইতে পারিলেই হানিফা দেখিবেন যে, এজিদ্ লতাপাতায় মিশিয়া গেল, পরমাণু আকারে পুষ্প-রেণু সহিত মিশিয়া পুষ্প-দলে ঢাকিয়া ফেলিল। যাহাই হউক, উদ্যান পর্যন্ত যাইতে পারিলেই এজিদের জয়। নগরও নিকটবর্তী, এজিদ্ জন্মের মত দামেস্ক নগরের পতন দৃশ্য দেখিয়া চলিল। দেখিতে দেখিতে নগরের সুরঞ্জিত সিংহদ্বারে আসিয়া উপস্থিত হইল। দ্বার অবারিত, প্রহরী বর্জিত! মৃতদেহে রাজপথ পরিপূর্ণ। শবাহারী পশুপক্ষিগণ মহা আনন্দিত। চক্ষের পলকে দ্বার পার হইয়া নগরে প্রবেশ করিল। রাজপুরী চক্ষে পড়িতেই দেখিল, উচ্চ উচ্চ মঞ্চে নানা আকারে নূতন পতাকাসকল নগরস্থ লোহিত আভায় মিশিয়া অর্ধচন্দ্র এবং পূর্ণতারা প্রত্যক্ষভাবে দেখাইয়া দামেস্কের পতন-দৃশ্য দর্শকগণকে দেখাইতেছে, বিজয়-বাজনা তুমুল বেগে কর্ণে আসিতেছে। ক্রমেই নিকটবর্তী, রাজপুরী অতি নিকটে। বন্দিগৃহ দূর হইলেও দৃষ্টির অদূর নহে। চক্ষে পড়িল। এজিদের চক্ষে দামেস্কের বন্দিগৃহ পড়িতেই মন যেন কেমন করিয়া চমকিয়া উঠিল। এমন সঙ্কট সময়েও এজিদের মন যেন কেমন করিয়া উঠিল। যে রূপ হৃদয়ের নিভৃত স্থানে লুকাইয়া ছিল, সরিয়া আসিল। কিন্তু বেশিক্ষণ রহিল না। চিত্তক্ষেত্র হইতে সে রূপরাশি একেবারে সরিয়া গেল। নামটি মনে উঠিল, মুখে ফুটিল না, দীর্ঘ-নিশ্বাসও বহিল না। প্রমাণ হইল-প্রমদা অপেক্ষা প্রাণের দায়ই সমধিক প্রবল। এই সামান্য অন্যমনস্কতায় অশ্বগতি কিঞ্চিৎ শিথিল হইল।

    মোহাম্মদ হানিফা এই অবসরে ঐ পরিমাণ অগ্রসর হইয়া গভীর-গর্জনে বলিতে লাগিলেন, “এজিদ্ মনে করিয়াছ যে, পুরীমধ্যে প্রবেশ করিলেই আজিকার মত বাঁচিয়া যাইবে। তাহা কখনোই মনে করিও না। এই সন্ধ্যা-প্রদীপ জ্বলিতে জ্বলিতে তোমার জীবন-প্রদীপ নির্বাণ হইবে। তোমার পক্ষে দামেস্ক-রাজপুরী এইক্ষণ সাক্ষাৎ যমপুরী। কি কি আশায় সে দিকে দৌড়িয়াছ? দেখিতেছ না? উচ্চ মঞ্চে কাহার নিশান উড়িতেছে, দেখিতেছ না? রে নরাধম! তুই সেই এজিদ্ যে আরবে সর্বপ্রধান বীর হাসানকে কৌশল করিয়া মারিয়াছিস্! ওরে! তুই কি সেই পামর, যে সীমার দ্বারা হোসেনের মস্তক কাটাইয়া লক্ষ টাকা পুরস্কার দিয়াছিলি?”

    মোহাম্মদ হানিফা ক্রোধে অধীর হইয়া অশ্বে কশাঘাত করিলেন। দ্রুতগতি অশ্বপদ শব্দে পুরজনগণ চমকিয়া উঠিলেন। বিজয় বাজনা, আনন্দ রোল, জয়রবের কোলাহল ভেদ করিয়া, অশ্ব-শব্দ মহাশব্দে সকলের কর্ণে প্রবেশ করিল। যিনি যে অবস্থায় ছিলেন, শশব্যস্ত হইয়া ঊর্ধ্বশ্বাসে সিংহদ্বার দিকে ছুটিলেন। এজিদ্ অশ্ব হইতে প্রথমে উদ্যান, শেষে পুষ্পলতাসজ্জিত নিকু দেখিয়া একটু আশ্বস্ত হইল।

    মস্‌হাব কাক্কা প্রভৃতি মহারথিগণ, কেহ অশ্বে কেহ পদব্রজে দ্রুতপদে অসি-হস্তে আসিতেই হানিফা উচ্চৈঃস্বরে বলিতে লাগিলেন, “ভ্রাতৃগণ! ক্ষান্ত হও! দোহাই তোমাদের ঈশ্বরের-ক্ষান্ত হও। এজিদ্ তোমাদের বধ্য নহে। বাধা দিয়ো না। এজিদের গমনে বাধা দিয়ো না। এজিদের প্রতি অস্ত্র-নিক্ষেপ করিয়ো না।”

    মোহাম্মদ হানিফার কথা শেষ হইতে-না-হইতেই, এজিদ্ একলম্ফে অশ্ব হইতে নামিয়া উদ্যান অভিমুখে চলিল। হানিফাও ত্রস্তভাবে দুল্‌দুলের পৃষ্ঠ হইতে অবতরণ করিয়া অসিহস্তে এজিদের পশ্চাৎ পশ্চাৎ দৌড়িলেন! এজিদ্ যথাসাধ্য দৌড়িয়া উদ্যানস্থ নির্দিষ্ট নিকুঞ্জ মধ্যে যাইয়া ফিরিয়া তাকাইতেই দেখিলেন, মোহাম্মদ হানিফাও অতি নিকটে। বিকৃত এবং ভগ্নস্বরে বলিল, “হানিফা ক্ষান্ত হও। আর কেন? তোমার আশা তোমার প্রতিজ্ঞা, তোমার মুখেই রহিল, এজিদ্ চলিল।” এই কথা বলিয়াই এজিদ্ গুপ্তপুরী প্রবেশদ্বার-কূপ-মধ্যে প্রবেশ করিল।

    মোহাম্মদ হানিফা রোষে অধীর হইয়া, “যাবি কোথা, নরাধম।” এই কথা বলিয়া বীর-বিক্রমে হুঙ্কার ছাড়িয়া অসি হস্তে কূপমধ্যে লম্ফ দিবার উপক্রমেই বজ্রনাদে শব্দ হইল, “হানিফা! এজিদ্ তোমার বধ্য নহে।”

    মোহাম্মদ হানিফা থতমত খাইয়া ঊর্ধ্বদিকে চাহিতেই প্রভু হোসেনের তেজোময় ছায়া দেখিয়া চমকিয়া পিছে হটিলেন এবং ভয়ে চক্ষু বন্ধ করিলেন।

    পুনরায় গভীর নিনাদে শব্দ হইল, “হানিফা ক্ষান্ত হও, এজিদ্ তোমার বধ্য নহে।”

    মোহাম্মদ হানিফা পুনরায় চক্ষু মেলিয়া তাকাতেই দেখিলেন, মহা অগ্নিময় মহাতেজ অসংখ্য শিখা বিস্তারে সহস্র অশনিপাত সদৃশ বিকট শব্দ করিয়া নিকু মধ্যস্থ কূপমধ্যে মহাবেগে প্রবেশ করিল। এজিদের আর্তনাদে উদ্যানস্থ পক্ষিকুল বিকট কণ্ঠে ভয়ে ডাকিয়া উঠিল, বাসা ছাড়িয়া, শাখা ছাড়িয়া, দিগ্বিদিকে উড়িয়া বেড়াইতে আরম্ভ করিল। ভূকম্পনে তরুলতা সকল ভয়ে কাঁপিতে লাগিল। গাজী রহমান, মসহাব কাক্কা, ওমর আলী, আক্কেল আলী প্রভৃতি উপস্থিত ঘটনা দেখিয়া নির্বাকে হানিফার পশ্চাতে দণ্ডায়মান রহিল। মোহাম্মদ হানিফার ভাব ভিন্ন। মুখাকৃতি বিকৃত অথচ হিংসায় পরিপূর্ণ। হৃদয় হিংসানলে দগ্ধীভূত। স্থিরনেত্রে ঊর্ধ্বমুখ হইয়া দণ্ডায়মান। তরবারি-মুষ্টি দক্ষিণ হস্তে, অগ্রভাগ বামস্কন্ধে স্থাপিত।

    আবার দৈববাণী, “হানিফা! দুঃখ করিয়ো না। এজিদ্ কাহারো বধ্য নহে। রোজ কেয়ামত (শেষ দিন) পর্যন্ত এজিদ্ এই কূপে-এই জ্বলন্ত হুতাশনে জ্বলিতে থাকিবে, পুড়িতে থাকিবে, অথচ প্রাণ বিয়োগ হইবে না।”

    মোহাম্মদ হানিফা চমকিয়া উঠিলেন। তরবারির অগ্রভাগ স্কন্ধ হইতে মৃত্তিকা স্পর্শ করিল। অশ্ব বল্গা বামহস্তে ধরিয়া বলিতে লাগিলেন, “এজিদ্ আমার বধ্য নহে। আর কি করিব? ইচ্ছা করিলে এক তীব্র তীরে নরাধমের কলিজা পার করিতে পারিতাম; হৃদয়ের রক্তধারে তরবারির দ্বারাই নারকীয় দেহ দুই খণ্ডে বিভক্ত হইত। তাহা করি নাই। চক্ষে চক্ষে সম্মুখে সম্মুখে না যুঝিয়া, অস্ত্রের চাক্চিক্য না দেখাইয়া কাহারো প্রাণসংহার করি নাই। ইহজীবনে কাহারো পৃষ্ঠে আঘাত করি নাই। এজিদ্ পৃষ্ঠ দেখাইল। আর অস্ত্রের আঘাত কি? জীবন্ত ধরিব, সকলের সম্মুখে ধরিয়া আনিব, একত্র একসঙ্গে মনের আগুন নির্বাণ করিব, তাহা হইল না। মনের আশা মিটিল না। এত পরিশ্রম করিয়াও কৃতকার্য হইতে পারিলাম না। এখন কি করিব? প্রিয় গাজী রহমান! ভাই মস্হাব! হানিফার মনের আগুন নিবিল না। আশা পূর্ণ হইল না! কী করি?”

    এই বলিয়া মোহাম্মদ হানিফা পুনরায় অশ্বে আরোহণ করিলেন,-চক্ষের পলকে উদ্যান হইতে বাহির হইলেন। গাজী রহমান মহাসঙ্কটকাল ভাবিয়া মসহাব কাক্কা, ওমর আলী প্রভৃতিকে বলিলেন-“ভাবিয়াছিলাম, আজই বিষাদের শেষ। ভাবিয়াছিলাম, আজই বিষাদ-সিন্ধু পার হইয়া সুখ-সিন্ধুর সুখতটে সকলে একত্র উঠিব, বোধ হয় তাহা ঘটিল না। শীঘ্র আসুন! বিলম্ব করিবেন না, আমি ভবিষ্যৎ বড়ই অমঙ্গল দেখিতেছি, আম্বাজাধিপতির মতি গতি ভাল বোধ হইতেছে না। শীঘ্র অশ্বে আরোহণ করুন। বড়ই কঠিন সময় উপস্থিত, দয়াময়ের লীলা বুঝিয়া উঠা মানুষের সাধ্য নহে।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাকিদ হায়দারের কবিতা
    Next Article ভগবানের সাথে কিছুক্ষণ – কৃষণ চন্দর
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }