Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প218 Mins Read0
    ⤷

    ০১. তীর্থনাথ ও কিশোরের মধ্যে সম্বন্ধটা

    তীর্থনাথ ও কিশোরের মধ্যে সম্বন্ধটা ঠিক যে বন্ধুত্ব ছিল, তাহা বলা চলে না। তবে কলেজ-হস্টেলের একই ঘরে থাকিয়া এবং একসঙ্গে সর্বদা ওঠাবসা করিয়া দুইজন সম্পূর্ণ বিভিন্ন প্রকৃতির লোকের মধ্যে যতদূর ঘনিষ্ঠতা হওয়া সম্ভব, তাহা হইয়াছিল।

    তীর্থনাথ কিশোর অপেক্ষা বয়সে বছর চারেকের বড় ছিল। তাহার স্বভাবটা ছিল অত্যন্ত মৃদু নির্বিরোধ। কলেজে কয়েক ঘণ্টা ছাড়া সে কোথাও বাহির হইত না, নিজের ঘরটিতে শান্তভাবে বসিয়া বই পড়িত এবং চুরুট টানিত। কিশোরের চরিত্র ছিল ঠিক তাহার বিপরীত। সারা বছর পড়াশুনা করিত না, কিন্তু পরীক্ষা ঘাড়ের উপর আসিয়া পড়িলে ঘরে খিল দিয়া কয়েক দিন এমন পড়াই পড়িত যে বেশ ভাল করিয়া পাস করিয়া যাইত। অপর দিকে ফুটবল-হকি-ক্রিকেটের হুজুগে সে সর্বদাই মাতিয়া থাকিত, সভা-সমিতির হৈ-চৈ ব্যাপারেও সে ছিল একজন বড় পাণ্ডা। থিয়েটার জিনিসটা সে সহ্য করিতে পারিত না,সমস্ত রাত জাগিয়া বসিয়া থাকা তাহার পোষাইত না, কিন্তু বায়োস্কাপ দেখিয়া সে খেদ মিটাইয়া লইত।

    দুজনের চেহারাও ভগবান বিপরীত করিয়া গড়িয়াছিলেন। তীর্থনাথ বেঁটে ও কৃশ, মস্ত বড় মাথাটি বহন করিয়া ঘাড়টি যেন অত্যন্ত শীর্ণ হইয়া পড়িয়াছে, চোখে মোটা কাচের চশমা। আর কিশোর ছ ফুট লম্বা, দোহারা, অসাধারণ বলবান, গৌরবর্ণ এবং সুশ্রী, কাচের চশমা পরিয়া তাহার চোখের সহজ তীক্ষ্ণ-দৃষ্টিকে কোনদিনই তীক্ষ্ণতর করিবার প্রয়োজন হয় নাই। আবার অর্থের দিক দিয়াও তীর্থনাথের ছিল অদ্য ভক্ষ্য ধনুগুণ, বাপ-মা ভাই-বোন কেহই ছিল না, জলপানির টাকায়। কোনও মতে পড়ার খরচ চালাইত। কিশোরের ধনী বাপ জীবিত ছিলেন; কিশোরের মাতার মৃত্যুর পর প্রৌঢ়বয়সে দ্বিতীয়বার বিবাহ করিয়া নতুন সংসার পাতিয়াছিলেন বটে এবং প্রথম পক্ষের একমাত্র সন্তানের প্রতি স্নেহের বন্ধন কিছু আলগা হইয়া পড়িয়াছিল তাহাতেও সন্দেহ নাই; কিন্তু কিশোরের প্রয়োজনমত টাকা পাঠাইতে তিনি কোনও দিন কৃপণতা করেন নাই। কলেজের ছুটি হইলে কিশোর বাক্স-বিছানা বাঁধিয়া বাড়ি যাইত, কিন্তু সেখানে ছোট বৈমাত্র ভাই-বোন ও প্রায়। সমবয়স্কা বিমাতার সংসর্গে তাহার মন টিকিত না। ছুটি ফুরাইবার পূর্বেই একটা ছুতা করিয়া সে কলিকাতায় ফিরিয়া আসিত। তীর্থনাথের দেশ একটা ছিল বটে, কিন্তু বাড়ি বলিতে কিছুই ছিল না, কাজেই সে ছুটির সময়েও হস্টেলে পড়িয়া থাকিত।

    সন্ধ্যার পর কিশোর যখন অন্যান্য বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ফুটবল ম্যাচ কিংবা শরবাবুর আধুনিকতম উপন্যাস সম্বন্ধে সতেজ তর্ক করিত, তীর্থনাথ তখন নিজের কোণটিতে বসিয়া নিবিষ্ট মনে বই পড়িত। এবং খেলো সিগারেটের ধোঁয়ায় ঘরের বাতাস ভারী করিয়া তুলিত। গল্প শেষ হইলে কিশোর তাহাকে বলিত, তীর্থদা, ধন্য বটে তুমি! আমাদের এত গল্প হয়ে গেল, একটা কথাও কি তোমার কানে গেল না? কখনও যদি তোমার নিমতলা প্রাপ্তি হয় তো সে ঐ পচা সিগারেট আর রাতদিন বই পড়ার গুণে! তীর্থনাথ মুখ তুলিয়া অন্যমনস্কভাবে একটু হাসিয়া আবার পাঠ্যপুস্তকে ড়ুবিয়া যাইত।

    তারপর একদিন তীর্থনাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা শেষ করিয়া একটা স্কুলের মাস্টারি পাইয়া দেশে চলিয়া গেল। যাইবার সময় কিশোরকে নিজের ঠিকানা দিয়া বলিয়া গেল, মাঝে মাঝে চিঠিপত্র দিও। বিদায় দিবার সময় কিশোরের মনটা একটু খারাপ হইল বটে কিন্তু তাহা নিতান্তই। স্বাভাবিক। যাহার সহিত তিন বৎসর একই ঘরে কাটাইয়া দিয়াছে, তাহার বিদায়ের সময় মনটা যদি একটু বিষণ্ণও না হয়, তবে তাহাকে ঘোর পাষণ্ড বলিতে হইবে।

    মাস ছয়েক পরে গোলাপী খামে একখানা চিঠি আসিল-তীর্থনাথের বিবাহ। ছাপাননা। নিমন্ত্রণপত্রের উল্টা পিঠে তীর্থনাথ নিজের হাতে লিখিয়া দিয়াছে, নিশ্চয় আসিতে হইবে, না। আসিলে চলিবে না। চিঠিখানা একটা বইয়ের মধ্যে রাখিয়া কিশোর ভাবিল, এই তো কাছেই যশোর, তীর্থদা যখন এত করিয়া লিখিয়াছে, তখন একদিনের জন্য যাইতে হইবে। কিন্তু বিবাহের দিনটা তাহার তন্দ্রাভিভূত স্মরণশক্তির উপর দিয়া এমনই লঘু পদে চলিয়া গেল যে, সপ্তাহকাল অতীত হইবার পূর্বে সে কথা আর মনে পড়িল না। যখন পড়িল, তখন সে অনুতপ্তভাবে মার্জনা চাহিয়া একখানা চিঠি লিখিয়া দিল।

    ইহার পর আরও বছর তিনেক গত হইয়াছে। কিশোর সম্মানের সহিত এম. এসি পাস করিবার পর আমহার্স্ট স্ট্রীটে একখানা ছোট বাসা ভাড়া লইয়া বেকারভাবে বসিয়া ছিল। পয়সা রোজগারের কোন তাড়া ছিল না, অথচ কিছু না করিয়া বসিয়া থাকিতেও তাহার মন উঠিতেছিল না। অনেক দিন বাড়ি যাওয়া হয় নাই, সেখানেও একবার যাওয়া দরকার, কিন্তু ভিতর হইতে সেদিক পানে কোন তাগিদ ছিল না। একটা কিছু করিতে হইবে, এমনই মনোভাব লইয়া সে গড়িমসি করিতেছিল, এমন সময় হঠাৎ তীর্থনাথের নিকট হইতে তার আসিল—শীঘ্র এসো, আমি মুমূর্য। কিশোর বিলম্ব করিল না, সেই দিন একটা ব্যাগে গোটাকয়েক জামা কাপড় পুরিয়া লইয়া যশোর যাত্রা করিল।

    যশোর পৌঁছিয়া হাই স্কুলের মাস্টার তীর্থনাথের বাড়ি খুঁজিয়া লইতে বিলম্ব হইল না। ভাড়াটে বাড়ি, অতিশয় জীর্ণ, উপরে খোলার ছাদ, কিশোর কড়া নাড়িতেই একটি কুড়ি-একুশ বছর বয়সের মেয়ে আসিয়া দ্বার খুলিয়া দিল। কিশোর তাহাকে দেখিয়া বুঝিল, তীর্থনাথের স্ত্রী। কিন্তু কী অপরূপ রূপসী এই রমণী! রুক্ষ চুল, ময়লা কাপড়, গহনা না থাকারই মধ্যে, রাত জাগিয়া চোখের কোণে কালি পড়িয়াছে, কিন্তু তাহার মধ্য দিয়াও রূপের জ্যোতি যেন বিচ্ছুরিত হইতেছে। কিশোর একবার চোখ তুলিয়াই সসম্রমে মাথা নীচু করিয়া ফেলিল।

    তীর্থনাথের তখন যক্ষ্মার শেষ অবস্থা, কিশোরকে দেখিয়া তাহার অত্যন্ত নিষ্প্রভ চক্ষু দুটা যেন একটু সজীব হইল। তাহার হাতখানা নিজের কঙ্কালসার অঙ্গুলির মধ্যে টানিয়া লইয়া ক্ষীণস্বরে বলিল, এসেছ?

    তীর্থনাথের অবস্থা দেখিয়া কিশোরের চোখে জল আসিয়া পড়িয়াছিল, সে তাহার মুখের উপর ঝুঁকিয়া পড়িয়া রুদ্ধস্বরে বলিল, শুধু পড়ে পড়ে আর সিগারেট খেয়ে জীবনটা নষ্ট করে ফেললে, তীর্থদা? ঘরের মেঝেয় তখনও এককোণে স্তুপে ভূপে বই ও সিগারেটের টিন পড়িয়া ছিল।

    তীর্থনাথের চর্মসার মুখে যেন একটু ব্যথার ভাব প্রকাশ পাইল; সে বলিল, বড় ভুল করেছি, ভাই। আগে বুঝতে পারিনি, কিন্তু এখন আর ফেরবার পথ নেই। হঠাৎ একদিন মুখ দিয়ে রক্ত উঠল-সাবধান হবার সময় তো দিলে না। কষ্ট আর কিছু নয়— চক্ষু দুটা মাথার শিয়রের দিকে তুলিয়া বলিল, ওর জন্যেই একটু ভাবনা হত। কিন্তু তুমি যখন এই শেষ সময় এসে পড়েছ, তখন আর ভাবনা নেই।

    কিশোর বলিল, আর দুদিন আগে আমায় খবর দিলে না কেন, তীর্থদা?

    তীর্থনাথ বলিল, তোমার পড়াশুনার সময়, পরীক্ষা সামনে, তাই আর কিছু জানাইনি। আর, জানালেও তো বাঁচাতে পারতে না, ভাই! বরং এই ভাল হল, যাবার সময় তোমায় দেখতে পেলুম।

    কিশোরের মনের মধ্যে একটা অব্যক্ত যন্ত্রণা হইতে লাগিল, সে চুপ করিয়া বসিয়া রহিল। তীর্থনাথ বোধ করি তাহার মনের অবস্থা বুঝিয়া বলিল, ট্রেনে এসেছিস, মুখ হাত-পা ধুয়ে একটু কিছু মুখে দে, কিশোর। তারপর আমার কাছে এসে বসিস, দু-একটা কথা বলব। ওঠ, আর দেরি করিস নে।

    দ্বিরুক্তি না করিয়া কিশোর তীর্থনাথের স্ত্রীর পশ্চাতে ঘর হইতে বাহির হইয়া গেল।

    আসন করিয়া জলখাবারের থালা কিশোরের সম্মুখে ধরিয়া দিয়া তীর্থনাথের স্ত্রী বিমলা অদূরে মেরে উপর বসিলে কিশোর জিজ্ঞাসা করিল, বাড়িতে আর কি কেউ নেই, বৌদি? আপনি একলাই—

    সে মাথা নাড়িয়া বলিল, আত্মীয়-স্বজন তো কেউ নেই, তবে পাড়ার ছেলেরা বড় ভাল, সব সময়ে দেখাশুনা করে। আর, শহরের ডাক্তারবাবুরাও যথেষ্ট করেছেন, তাঁদের ঋণ শোধ দেবার নয়। কিন্তু হাজার হলেও তাঁরা সবাই পর তো, তাঁদের কাছে আর কত প্রত্যাশা করা যায়? ইনিও গছেন প্রায় পাঁচ মাস। তাই এখন বেশীর ভাগ আমাকে একলাই চালাতে হয়।

    কিশোর নতমুখে ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করিল, ডাক্তাররা কী বলেন?

    বিমলা সহজভাবে বলিল, ডাক্তাররা জবাব দিয়ে গেছেন। আজকালের মধ্যেই বোধ হয় সব শেষ হয়ে যাবে।

    কিশোর অবাক হইয়া এই অসম্ভব সংযমশালিনী নারীর মুখের দিকে চাহিয়া রহিল। এ কি সত্যই সংযম, না শুধু ঔদাস্য?

    কিশোরের মনের ভাব বুঝিয়া বিমলা নীরবে একটু হাসিল; কিন্তু তাহার সংশয় দূর করিবার কোন চেষ্টা করিল না।

    কিশোর আসিয়া আবার তীর্থনাথের শয্যার পাশে বসিল। সন্ধ্যা উত্তীর্ণ হইয়া গিয়াছিল, বিমলা ঘরে আলো জ্বালিয়া দিল।

    তীর্থনাথ আস্তে আস্তে জিজ্ঞাসা করিল, পাস করলি, এবার কী করবি, ঠিক করেছিস? কিশোর চুপ করিয়া রহিল দেখিয়া তীর্থনাথ একটু হাসিবার চেষ্টা করিয়া বলিল, গেজেট থেকে যতটুকু পাওয়া যায়, ততটুকু খবর তোর বরাবরই নিয়েছি, কিশোর। আমি বলি, তুই প্রফেসারি কর; বাবার পয়সা আছে বলে চুপ করে বসে থাকিস নে। আমার বিশ্বাস, ও পথে তুই উন্নতি করতে পারবি।

    কিশোর চুপ করিয়াই রহিল; নিজের প্রসঙ্গ লইয়া এ সময়ে আলোচনা করিতে তাহার ভাল লাগিতেছিল না। কিন্তু অন্য কী প্রসঙ্গ তুলিয়া সে কথা পাল্টাইবে, তাহাও ভাবিয়া পাইল না। অবশ্যম্ভাবী মৃত্যুকে এত কাছে এমন করিয়া সে আর কখনও দেখে নাই।

    তীর্থনাথ বলিল, আচ্ছা থাক, তোর কথা আর বলব না, এবার আমার কথা বলি। কথা বেশী নয়, কিশোর, একটুখানি, কিন্তু তার পেছনে ভার প্রকাণ্ড। তোর কাঁধ যে কতখানি শক্ত, তা ভাল। করে জানি বলেই আজ তোর ওপর হঠাৎ এতবড় বোঝা চাপিয়ে দিতে পারছি। জানি, মাঝে মাঝে ভারী মনে হলেও এ বোঝা তুই ইচ্ছে করে কোন দিন ফেলতে পারবি না।

    অজ্ঞাত আশঙ্কায় কিশোরের প্রাণ ভরিয়া উঠিল। কিসের ভার, কোন্ বোঝার কথা তীর্থদা বলিতেছে?

    একটু থামিয়া তীর্থনাথ বলিতে লাগিল, ওকে সব কথা বলেছি, ও সব জানে। হস্টেলে থাকতে অত ছেলের মধ্যে তোকেই কেবল মনে মনে স্নেহ করতুম, কিশোর। তুই জানতিস না, একটা বইয়ের পোকা যে মানুষকে ভালবাসতে পারে, এ বোধ হয় তুই কল্পনাও করতে পারিসনি। তারপর আমি যখন চলে এলুম, তখন দুদিনেই তুই আমায় ভুলে গেলি, এমন কি আমার বিয়ের সময় পর্যন্ত এলি না। আমি কিন্তু তোকে চিনতুম, চিনতুম বলেই কোন দিন একটা গ্লানির ছায়া পর্যন্ত আমার মনে পড়েনি। আর আজ শেষ সময়, নির্ভর করতে পারব বলে কেবল তোকেই ডেকেছি।

    একবার দম লইয়া তীর্থনাথ আবার আরম্ভ করিল, পৃথিবীতে আর একটি লোককে এমনই ভালবেসেছিলুম, সে ঐ মাথার শিয়রে দাঁড়িয়ে আছে। আমারই মত অভাগা ও, তিন কুলে আপনার বলতে কেউ নেই। আমরা দুজনে পরস্পরকে পেয়ে কী পরম আশ্রয়ই না পেয়েছিলুম। দারিদ্র্য হয়তো ছিল, কিন্তু অভাব ছিল না। কিন্তু আমি নির্বোধ, নিজের পায়ে কুড়ল মারলুম, ওরও সর্বনাশ করলুম।—সে যাক, ও ভেবে আর এখন কোন লাভ নেই। শরীরের যত্ন তো কোন দিনই করতে। শিখিনি, চিরদিন তাকে অবহেলার বস্তুই মনে করে এসেছি। কিন্তু আজ ওকে ছেড়ে যেতে যে কী কষ্ট হচ্ছে তা তোকে বোঝাতে পারব না, ভাই। শুধু এইটুকু সান্ত্বনা যে, ওকে তোর হাতে দিয়ে যাচ্ছি।

    কিশোরের বাঙ্‌নিষ্পত্তি হইল না। সে একবার চোখ তুলিয়া দেখিল, তীর্থনাথের স্ত্রী খাটের বাজু ধরিয়া পাথরের প্রতিমার মত দাঁড়াইয়া আছে; মুখে ক্রন্দনের চিহ্নমাত্র নাই, চক্ষু দুটি স্থির, ওষ্ঠাধর এমন দৃঢ়ভাবে সম্বদ্ধ, যেন আর কিছুতেই খুলিবে না।

    তীর্থনাথ পুনশ্চ বলিল, আমার কথা বুঝতে পেরেছিস, কিশোর? ওর ভার সম্পূর্ণভাবে তোর উপর দিয়ে গেলুম। তুই দেখিস-শুনিস, নিজের কাছে রাখিস। টাকা আমি কিছু রেখে যাব, যাতে একলা বিধবার কষ্টে-সৃষ্টে চলে যায়। কিন্তু টাকাই তো বড় জিনিস নয়, ভাই; ও এখনও ছেলেমানুষ, একজন পুরুষ অভিভাবক চাই, তা নইলে সংসার চারিদিকে রাক্ষসের মত হাঁ করে আছে যে।

    তীর্থনাথ চুপ করিল। স্তব্ধ হইয়া কিশোর ভাবিতে লাগিল, এতখানি বিশ্বাস তাহাকে তীর্থদা করিতে পারিল কি করিয়া? মাত্র তিন বৎসর তাহারা একসঙ্গে কাটাইয়াছে, কিন্তু এই তিন বৎসরের মধ্যে এক দিনের জন্যও সে জানিতে পারে নাই যে, তীর্থনাথ তাহাকে এতখানি শ্রদ্ধা-বিশ্বাস করে। কেমন করিয়াই জানিবে? তীর্থনাথ থাকিত বই লইয়া, আর সে থাকিত জীবনের সমস্ত উত্তেজনা-উদ্দীপনার মাঝখানে। ইহার মধ্যে কখন আপনার কোণে থাকিয়া তীর্থনাথ তাহাকে নিজের বুকের অন্তরতম স্থানে টানিয়া লইয়াছিল, তাহা সে অনুভবেও জানিতে পারে নাই।

    কিশোরের নিশ্চল মূর্তির দিকে চাহিয়া তীর্থনাথের মুখে উদ্বেগের ছায়া পড়িল, কি রে, পারবি না মনে হচ্ছে? বড্ড ভারী লাগছে?

    ব্যাকুল হইয়া কিশোর বলিল, না দাদা, ভারী লাগছে না। কিন্তু ও-সব কথা এখন থাক, তুমি সেরে ওঠো।

    একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলিয়া তীর্থনাথ বলিল, অঃ, বড় আরাম দিলি, কিশোর। তোর সম্বন্ধে ভয় আমার কোন কালেই ছিল না। কিন্তু তবু কত দিন দেখাশুনা নেই—অবস্থার ফেরে মানুষের মনও তো বদলে যায়। তুই কিন্তু ঠিক তাই-ই আছিস কিশোর, তেমনি সোজা আর মজবুত। তোকে দেখলে তৃপ্তি হয়। বলিয়া সস্নেহে কিশোরের গায়ে কম্পিত শীর্ণ হাতখানা বুলাইয়া দিল।

    অনেকক্ষণ নীরব থাকিয়া তীর্থনাথ আবার বলিল, আমাকে মিছে আশ্বাস দেবার চেষ্টা করিস নে, কিশোর। আমি জানি, আমার হয়ে এসেছে, আজকালের মধ্যেই যাব। একটা উইল করে রেখেছি, আরও যা-কিছু কাগজপত্র—ওর কাছেই পাবি। আমার যা-কিছু সব ওর কাছে। ভাল কথা, বিয়ে করেছিস?

    কিশোর ঘাড় নাড়িয়া জানাইল, না, করে নাই।

    কিছুকাল শুন্যের দিকে তাকাইয়া থাকিয়া তীর্থনাথ বলিল, করিস। এমন নিশ্চিত শান্তি আর কিছুতে নেই! নির্ভর করবার, ভালবাসবার, সান্ত্বনা দেবার একটি লোক সর্বদা কাছে থাকা যে কত সুখ, তা তোকে কি করে বোঝাব? গায়ে কখনও একটা আঁচ লাগতে দেয় না রে, সব তারা নিজেরা গা পেতে নেয়। আর শাসনের ঘটা যদি দেখিস, যেন আমরা পুরুষমানুষগুলো সবতেই অক্ষম—কিছুই করতে পারি না—ওরাই যেন আমাদের সারথি বলিয়া খুব আহ্লাদে হাসিবার চেষ্টা করিতেই প্রবল কাশির ধাক্কায় তাহার সব আহ্লাদ লুপ্ত হইয়া গেল।

    কাশি থামিলে তীর্থনাথ আর কথা কহিতে পারিল না। তাহার অব্যক্ত যন্ত্রণার দৃশ্য সহ্য করিতে পারিয়া কিশোর সেখান হইতে উঠিয়া গেল।

    রাত্রিকালে পাশের ঘরে শুইবার ব্যবস্থা করিয়া দিয়া এবং দরকার হইলেই ডাকিবে বলিয়া বিমলা স্বামীর কাছে গিয়া বসিল। শুইবার আগে কিশোর দেখিয়া গেল, তীর্থনাথের আচ্ছন্ন অবস্থা, কখন জ্ঞান আছে, কখন নাই, কিশোর পূর্বে কখন যক্ষ্মারোগী দেখে নাই-মৃত্যু যে একেবারে আসন্ন, তাহা সে বুঝিতে পারিল না।

    রাত্রিতে একবার উঠিয়া আসিয়া কিশোর রোগীর ঘরের দরজার নিকট হইতে মৃদুস্বরে জিজ্ঞাসা করিল, কেমন আছেন এখন?

    ভিতর হইতে উত্তর আসিল—ভাল আছেন।

    কিশোর আশ্বস্ত হইয়া শুইতে গেল। স্থির করিল, শেষ রাত্রিতে গিয়া ক্লান্ত শুশ্ৰষাকারিণীকে বিশ্রাম করিবার অবকাশ দিবে।

    ভোর হইতে না হইতে কিশোর তাড়াতাড়ি উঠিয়া আসিয়া দেখিল, মেঝের উপর স্বামীর দেহ কোলে লইয়া তীর্থনাথের স্ত্রী স্থির হইয়া বসিয়া আছে। কিশোরের মাথার ভিতর একটা প্রবল হাতুড়ির আঘাতের সঙ্গে সঙ্গে যেন চারিদিক অন্ধকার হইয়া গেল। তারপর দৃষ্টি পরিষ্কার হইলে টলিতে টলিতে মৃতের পাশে গিয়া দাঁড়াইল। মৃতের মুখে সংশয় বা ক্লেশের চিহ্নমাত্র নাই, আছে। কেবল অপরিসীম যন্ত্রণার অবসানে নিশ্চিন্ত বিশ্রাম।

    আমায় একবার ডাকলে না, বৌদি! কখন শেষ হল? স্থির, দৃঢ় কণ্ঠে তীর্থনাথের বিধবা উত্তর করিল, রাত্রি তিনটের সময়। তোমাকে জাগিয়ে তো কোন লাভ হত না, ঠাকুরপো। শেষ সময়টা আমি একলাই তাঁর কাছে থাকতে চেয়েছিলাম। আর কেন, এবার লোকজন ডাকো; মৃতদেহ বেশীক্ষণ ফেলে রাখা তো ঠিক নয়।

    তাহার অটল ধৈর্য দেখিয়া কিশোর ক্ষিপ্তের মত বাহির হইয়া গেল। কেবল তাহার মাথার মধ্যে। ঘূর্ণি হাওয়ার মত ঘুরিতে লাগিল, এমন হইল কেন? তীর্থদা অমন স্ত্রী ফেলিয়া যাইতে পারিল কিরূপে?

    পাড়ার লোক আসিয়া যখন তীর্থনাথের কঙ্কালখানা তাহার স্ত্রীর হাত ছাড়াইয়া বাঁধিয়া-ছাঁদিয়া হরিধ্বনি করিয়া লইয়া চলিয়া গেল, তখন একবার মা গো বলিয়া সদ্যোবিধবা মাটিতে মূৰ্ছিত হইয়া পড়িল। সমস্ত দিন আর তাহার সংজ্ঞা হইল না।

    দশদিন পরে তীর্থনাথের প্রেতকৃত্য সমাধা করিয়া এগারো দিনের দিন বিধবা তাহার স্বামীর খানকয়েক পুঁথিপত্র ও একটা টিনের ট্রাঙ্ক লইয়া কিশোরের সহিত কলিকাতায় চলিয়া আসিল। ব্যাঙ্কে তীর্থনাথের হাজার তিনেক টাকা ছিল। তাহা সে মৃত্যুর পূর্বে কিশোরের নামে নিঃশর্তে উইল করিয়া গিয়াছিল।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    মনচোরা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }