Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প218 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১১. অনুপম প্রস্তাব করিবার পর

    অনুপম প্রস্তাব করিবার পর হইতেই সুহাসিনীর বিবাহের কথাটা থাকিয়া থাকিয়া বিনয়বাবুর মনে তীক্ষভাবে খোঁচা দিয়া যাইতেছিল। আর যে বিলম্ব করা উচিত নহে, সুহাসের জন্য একটি সৎপাত্র দেখা দরকার, এই চিন্তা একটা শারীরিক অস্বস্তির মত তাঁহার চেতনার পিছনে লাগিয়া ছিল। অথচ কী করিতে হইবে, কোথায় ভাল পাত্র পাওয়া যায়, এ সকল বিষয়ে তাঁহার জ্ঞান এতই সঙ্কীর্ণ যে কার্যত কিছুই করিয়া উঠিতে পারিতেছিলেন না।

    দীনবন্ধুবাবু তাঁহার বহুদিনের পুরাতন বন্ধু, কর্মস্থলে থাকাকালেই তাঁহার সহিত সম্প্রীতি জন্মিয়াছিল। কার্যোপলক্ষে দীনবন্ধুবাবুকে তখন মাঝে মাঝে ও অঞ্চলে যাইতে হইত; তিনি। বিনয়বাবুর গৃহেই আতিথ্য স্বীকার করিতেন। সুহাসিনী সেই সময় ফ্রক পরিয়া বাড়ির উঠানময় ছুটাছুটি করিয়া খেলা করিয়া বেড়াইত। তাহার সুহাস-মায়ী নামটা সেই কালের।

    চা-পার্টির রাত্রে দীনবন্ধুকে আড়ালে পাইয়া বিনয়বাবু নিজের সমস্ত দুশ্চিন্তা ও দুভাবনার কথা বন্ধুর কর্ণে ঢালিয়া দিলেন। দীনবন্ধুবাবুর কাছে তিনি কখনও কোন কথা গোপন করিতেন না। অনুপমের প্রস্তাব ও সুহাসিনীর প্রত্যাখ্যানের কথাও প্রকাশ করিয়া বলিলেন।

    সমস্ত শুনিয়া দীনবন্ধু বলিলেন, আপনি ঠিকই করেছেন। পাত্র নির্বাচন অবশ্য আমরাই করব। কিন্তু সুহাস-মায়ী এখন বড় হয়েছেন, তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধেও কিছু হতে পারে না। কাজেই তিনি যাকে অপছন্দ করেছেন, অতিবড় সৎপাত্র হলেও তাকে ত্যাগ করতে হবে। সুহাস-মায়ী যে বিবাহের অবস্থা। প্রাপ্ত হয়েছেন, তা আমিও লক্ষ্য করেছি; কিন্তু আমি আশা করেছিলুম খোঁজাখুঁজির দরকার হবে না, ও সমস্যাটার আপনিই সমাধান হয়ে যাবে। কিছুক্ষণ নীরব থাকিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, আচ্ছা, আপনার কি মনে হয় না যে, বিশেষ কাউকে মনে মনে পছন্দ করেন বলেই সুহাস-মায়ী সেদিন। অনুপমকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন?

    বিনয়বাবু মাথা নাড়িয়া নাড়িয়া বলিলেন, না, আমার তো তা মনে হয় না। সে রকম ছেলে কে-ই বা আছে যাকে সুহাস; তবে আমি অন্যমনস্ক লোক, ভাল করে লক্ষ্য করিনি, তাও হতে পারে।

    দীনবন্ধুবাবু অন্যমনস্ক লোক নহেন, তিনি ভাল করিয়াই চারিদিক লক্ষ্য করিয়াছিলেন। কিন্তু আপাতত কিছু না বলিয়া সব দিক ভাল করিয়া ভাবিয়া দেখিবেন বলিয়া বিনয়বাবুকে আশ্বাস দিলেন। সে রাত্রে কথা এইখানেই স্থগিত রহিল।

    পরদিন প্রাতে বিনয়বাবু চিঠি লিখিয়া দীনবন্ধুকে ডাকিয়া আনাইলেন। দীনবন্ধু আসিয়া শুনিলেন, একজন বিখ্যাত মহিলা-ডাক্তার ডাকা হইয়াছে, তিনি উপরের ঘরে সুহাসিনীর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় নিযুক্ত আছেন।

    অল্পক্ষণ পরে ডাক্তার মিসেস সরকার নামিয়া আসিলেন। স্ত্রীলোকটির বয়স হইয়াছে—এম. ডি. ডাক্তার; নির্ভীক স্পষ্টবাদিতা সত্ত্বেও সুচিকিৎসার গুণে শহরের সম্রান্ত ও অত্যাধুনিক সমাজে অনেক পুরুষ-ডাক্তার অপেক্ষাও অধিক প্রতিষ্ঠা লাভ করিয়াছেন। বিনয়বাবুর উৎকণ্ঠিত মুখের দিকে চাহিয়া তিনি হাসিয়া বলিলেন, Nothing wrong, আপনি চিন্তিত হবেন না। আপনার মেয়ের স্বাস্থ্য খুব ভাল। এমন clean-limbed healthy girl আমি খুব অল্পই দেখেছি, বিশেষত, আজকালকার এই সব tea-swelling cinema-mad modern মেয়েদের মধ্যে। She is a perfect innocent too! ডাক্তার সরকার সকৌতুকে হাসিলেন, না, ওষুধ-বিষুধ দরকার নেই। কতকগুলো patent medicine গিলিয়ে ওর অমন সুন্দর system নষ্ট করে দিতে চাই না।

    বিনয়বাবু বলিলেন, কিন্তু কাল রাত্রে–

    ডাঃ সরকার বলিলেন, ও কিছু নয়-momentary excitement, এ বয়সে এমন হয়ে থাকে। Girls will be girls, you know. কোন কারণে মানসিক উত্তেজনা হয়েছিল তাই she felt faint. You need nt wory about that, আচ্ছা, উঠলুম তবে। যন্ত্রপাতির ব্যাগটা লইয়া তিনি উঠিয়া দাঁড়াইলেন, আর দেখুন, একটা কথা বলতে চাই, কিছু মনে করবেন না। আপনারা হয়তো মেয়েকে পঁচিশ বছরের করে বিয়ে দেবার পক্ষপাতী। কিন্তু সব দিক দেখেশুনে, দেশের জলহাওয়া বিবেচনা করে আমার মনে হয়—সেটা মেয়েদের স্বাস্থ্যের পক্ষে হানিকর। অনাগত-যৌবনার বিবাহ দেওয়া যেমন ক্ষতিকর, বিগত-যৌবনারও তাই। সব জিনিসেরই দুটো extreme আছে মানেন তো?–আচ্ছা, Good bye! Gratuitous advice দেওয়া আমার একটা অভ্যাস-I hope you dont mind-নমস্কার। বলিয়াই ভিজিট লইয়া সহস্যমুখে তিনি প্রস্থান করিলেন।

    বিনয়বাবু হাঁফ ছাড়িয়া বলিলেন, যাক, একটা দুভাবনা দুর হল। দীনবন্ধু বলিলেন, দুর্ভাবনা আপনারই হয়েছিল, আমার কস্মিন কালেও হয়নি। সে যাক, ডাক্তার সরকার বিবাহ সম্বন্ধে যে ইঙ্গিত দিয়ে গেলেন, সে-ও তো আমাদেরই মনের কথা, কালই এ বিষয়ে আলোচনা হয়ে গেছে। তাহলে ও বিষয়ে আর তর্ক নেই। এখন কথা হচ্ছে, সুহাস-মায়ীর জন্যে একটি ভাল বর দেখা দরকার।

    বিনয়বাবু চিন্তিতমুখে বলিলেন, সে তো বুঝেছি, কিন্তু তেমন পাত্র পাওয়া যাচ্ছে কোথায়? তোমার জানাশুনোর মধ্যে এমন কোন–

    দীনবন্ধু বলিলেন, সে কথা পরে হবে। তার আগে কী রকম জামাইটি আপনার ঠিক চাই, সেই কথা আমাকে খোলসা করে বলুন তো।

    বিনয়বাবু ভাবিতে ভাবিতে বলিলেন, কী রকম? বিদ্বান, সচ্চরিত্র, স্বাস্থ্যবান হবে, এই আর কি! ভদ্রঘরের ছেলে হবে, একেবারে দীন-দরিদ্র না হয়, আর কলকাতার মধ্যে হয়, তা হলেই ভাল,–মাঝে মাঝে মেয়েটাকে দেখতে পাব। বলিয়া তিনি দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলিলেন।

    দীনবন্ধু হাসিয়া বলিলেন, শেষটাই আপনার আসল কথা, কী বলেন? কিন্তু এসব ছাড়াও আর একটা কথা আছে, সুহাস-মায়ীর পছন্দ হওয়া চাই। ক্ষণকাল নীরব থাকিয়া হঠাৎ প্রশ্ন করিলেন, আচ্ছা, কিশোরকে আপনার কেমন মনে হয়?

    বিনয়বাবু যেন হতবুদ্ধি হইয়া গেলেন, কিশোর? কিশোর?

    সহাস্যে দীনবন্ধু কহিলেন, হাঁ কিশোর। চোখের বড় কাছে থাকে বলে নাকটাকে সহজে কেউ দেখতে পায় না। আমার গিন্নী আঁচলে চাবি বেঁধে প্রায়ই বাড়িময় চাবি খুঁজে বেড়ান এবং আমাকে। সন্দেহ করেন। আপনারও তাই হয়েছে, পাশের বাড়ি বলে কিশোরকে লক্ষ্য করেননি।

    বস্তুত বিনয়বাবু এ দিক দিয়া কিশোরকে কখনও ভাবিয়া দেখেন নাই। ছেলেটিকে তাঁহার বড় ভাল লাগিয়া গিয়াছিল, যখন তখন তাহাকে ডাকাডাকি করিয়া গল্পগুজবে অথবা জ্ঞানবিষয়ক আলোচনায় সময় কাটাইতেন। সুহাসিনীর সঙ্গে অকুণ্ঠিতভাবে মেলামেশা করিবার সুযোগও কিশোর অন্যান্য পরিচিত বন্ধুদের মত সহজেই পাইয়াছিল। কিন্তু সুহাসিনীর স্বামী হিসাবে তাহার  যোগ্যতা-অযোগ্যতার কথা বিনয়বাবু কোন দিন বিচার করিয়া দেখেন নাই। তিনি অত্যন্ত উত্তেজিতভাবে সোজা হইয়া বসিয়া বলিয়া উঠিলেন, সত্যিই তো! ঠিক তো! হ্যাঁ—এটা অ্যাদ্দিন চোখে পড়েনি! আর ঘরও যে আমাদের পালটি হে! সেদিন কথায় কথায় জিজ্ঞাসা করেছিলুম, বললে শাণ্ডিল্য পোত্র। চমৎকার ছেলে, দীনবন্ধু, খাসা ছেলে! যেমন স্বাস্থ্য, তেমনই লেখাপড়ায়, আর যার বড় নেই কলকাতার বাসিন্দা। বলিয়া তিনি উত্তেজনার ঝোঁকে হাঁপাইতে লাগিলেন। হঠাৎ এমন মনোমত পাত্র হাতের এত কাছে পাইয়া আনন্দে তিনি কন্যার বিবাহ দিবার মর্মগত অনিচ্ছাও ভুলিয়া গেলেন। সোৎসাহে আবার বলিলেন, হাতের কাছে এমন ছেলে রয়েছে, আর আমরা চারদিকে হাতড়ে বেড়াচ্ছিলুম! ব্যস্, আর দেরি নয়, দীনবন্ধু, তাহলে লাগিয়ে দাও। ছোকরাকে দেখে অবধি আমার যে কী ভাল লেগেছিল, তা আর তোমায় কি বলব। প্রথম থেকেই। বুঝেছিলুম, অমন ছেলে আর হয় না। তাহলে, কি বল দীনবন্ধু, বিবাহের প্রস্তাবটা ওর কাছে—হঠাৎ তাঁহার উৎসাহ বাধাপ্রাপ্ত হইল, থমকিয়া বলিলেন, কিন্তু সুহাস যদি কোন গোলমাল করে। তার যদি মত না হয়।

    দীনবন্ধুবাবু সকৌতুকে বিনয়বাবুর এই উত্তেজনা উপভোগ করিতেছিলেন, মৃদুহাস্যে বলিলেন, আমার বিশ্বাস সুহাস-মায়ীর অমত হবে না। আপনি বরং তাকে একবার জিজ্ঞেস করে দেখুন।

    বিনয়বাবু বলিলেন, সেই কথাই ভাল। সুহাসকে এইখানেই ডাকা যাক, কী বল? তার যা লেবার আছে আমাদের দুজনের সামনেই বলুক।

    দীনবন্ধু হাসিলেন, দুজনের সামনে বলতে হয়তো সে লজ্জা পাবে, তার চেয়ে আপনি বরং ও-ঘরে–

    বিনয়বাবু বলিলেন, আচ্ছা বেশ, আমিই না হয় ওপরে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করে আসছি। আমার কাছে কিছু লুকোবে না, সেদিন অনুপম সম্বন্ধে তো বেশ পরিষ্কারভাবেই–

    দীনবন্ধু বলিলেন, এ সব বিষয়ে না বলা যত সহজ, হ্যাঁ বলা তত সহজ নয়। কিন্তু আমি বলছিলুম আপনি বরং তাকে ডেকে দিয়ে পাশের ঘরে গিয়ে বসুন, জিজ্ঞাসাবাদ যা করবার, আমিই করছি। আপনি যে রকম অস্থির হয়ে পড়েছেন, কি বলতে কি বলে বসে থাকবেন, তার ঠিকানা নেই।

    না, না, তা বলব কেন? তা বলব কেন? এই সময় তোমার বৌদিদি যদি বেঁচে থাকতেন!—তা আচ্ছা, তুমিই ওকে প্রশ্ন করো, একই কথা—ও ঝি। সুহাসকে একবার এই ঘরে ডেকে দাও তো, বলো দীনবন্ধুবাবু ডাকছেন!—আমি তাহলে পাশের ঘরে রইলুম।

    কিছুক্ষণ পরে সুহাসিনী ঘরে প্রবেশ করিয়া জিজ্ঞাসা করিল, কাকাবাবু, আমাকে ডাকছেন?

    দীনবন্ধু নতমুখে চিন্তা করিতেছিলেন, বলিলেন, হ্যাঁ, এসো সুহাস-মায়ী, আমার পাশে এসে বোসো, তোমার সঙ্গে দুটো কথা আছে। সুহাসিনী বিস্মিতভাবে তাঁহার পাশে গিয়া বসিল, বাবা কোথায়?

    দীনবন্ধু বলিলেন, তিনি ও-ঘরে আছেন–। সুহাস-মায়ী, তুমি যখন খুব ছোট্টটি ছিলে, পাজামা আর ফ্রক পরে একটা সেলুলয়েডের পুতুল বগলে করে বাড়িময় ছুটাছুটি করে বেড়াতে, তখন আমি মাঝে মাঝে তোমাদের বাড়িতে যেতুম। মনে আছে?

    সুহাস ঘাড় নাড়িয়া বলিল, আছে। আপনিই তো আমাকে ঘুড়ি ওড়াতে আর মার্বেল খেলতে শিখিয়েছিলেন। তখন আমি ভারি দুরন্ত ছিলুম–না?

    দীনবন্ধু অতীতের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করিয়া ধীরে ধীরে বলিলেন, তা আমার মনে নেই। কিন্তু সন্ধ্যার পর আমার কোলের কাছটিতে বসে তুমি যে-সব গোপনীয় মনের কথা আমাকে বলতে, তা বেশ মনে আছে।

    সুহাসিনী কৌতূহলী হইয়া বলিল, আমার কিন্তু মনে নেই। কি সব মনের কথা বলতুম কাকাবাবু, বলুন না।

    দীনবন্ধু বলিলেন, তোমার কি রকম ছেলে চাই, কটা মেয়ে চাই, কত বড় বাড়ি, কখানা মোটর না হলে একেবারেই চলবে না, এই সব গোপনীয় কথা আমাকে বলতে। বড় হয়ে আমার মত একটা ছেলে যে তোমার নিতান্ত দরকার, একথাও তখন বলেছিলে। সেই জন্যই তো তোমাকে সুহাস-মায়ী ছাড়া আর কিছু বলতে পারলুম না।

    ছেলে সম্বন্ধে সে-মত আমার এখনও বদলায় নি, কাকাবাবু বলিয়া সলজ্জহাস্যে সুহাসিনী চোখ নীচু করিল।

    দীনবন্ধু বলিলেন, সে আমি জানি। কিন্তু একটা কথা তুমি তখন বলনি, বোধ হয় খেয়াল হয়নি। সেইটে আজ তোমাকে জিজ্ঞাসা করতে চাই।

    কী কথা, কাকাবাবু?

    দীনবন্ধু গম্ভীরভাবে বলিলেন, আমার মত ছেলে চাও বলেছিলে বটে, কিন্তু ছেলের বাপটি যে কি রকম চাই, তার আভাস দিতে তখন ভুলে গিয়েছিলে। আমারও জেনে নেওয়া হয়নি। কিন্তু এখন যে সেটা জানা দরকার হয়ে পড়েছে, সুহাস-মায়ী।

    সুহাসিনীর মাথায় যেন লজ্জার পাহাড় ভাঙিয়া পড়িল। সে আরক্ত নতমুখে বসিয়া ঘামিতে লাগিল।

    দীনবন্ধু পূর্ববৎ গম্ভীরভাবে বলিতে লাগিলেন, ক্রটি আমারই, তখনই এই বিষয় আমার সবিশেষ অনুসন্ধান করা উচিত ছিল। কিন্তু ভুল যখন হয়ে গেছে তখন তো আর উপায় নেই। মনে করো, আমরা আবার সেই আগেকার দিনে ফিরে গেছি; আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করছি, আমার বাবাটি কি রকম হলে তোমার পছন্দ হয়? তুমিও সেদিনকার মত মন খুলে সরলভাবে উত্তর দাও দেখি।

    সুহাসের চক্ষু বুজিয়া আসিতেছিল, গলাও প্রায় বুজিয়া গিয়াছিল। সে ক্ষীণকণ্ঠে বলিল, আমি ও-সব কিছু জানি না।

    দীনবন্ধু বলিলেন, জানো নিশ্চয়, কিন্তু লজ্জায় বলতে পারছ না। লজ্জা কি মা? তোমার মন না জেনে তত আমরা কিছু করতে পারি না। কিন্তু আর যে জামাই না হলে আমাদেরও চলছে না। নাও, মুখ তুলে আমার পানে চাও দেখি। বলিয়া সস্নেহে তাহার চিবুক ধরিয়া মুখ তুলিতে গেলেন। প্রত্যুত্তরে সুহাস হেঁট হইয়া তাঁহার জানুর মধ্যে মুখ লুকাইয়া অস্ফুটস্বরে কহিল, না, আমি কিছু বলতে পারব না, কাকাবাবু।

    পাগল মেয়ে। এত লজ্জা! দীনবন্ধুবাবু মনে মনে খুশিই হইলেন। আস্তে আস্তে তাহার মাথায় হাত বুলাইয়া বলিলেন, আচ্ছা, কী রকম বর চাই, তা তোমাকে বলতে হবে না—আমিই না হয় বলছি–।–একটি ছেলেকে আমার আর তোমার বাবার দুজনেরই খুব পছন্দ হয়েছে। তুমিও তাকে চেনো—

    সভয়ে সপ্রশ্ননেত্রে সুহাসিনী মুখ তুলিল।

    কিন্তু তার সম্বন্ধে তোমার মনের কথা কী, তা না জানা পর্যন্ত আমরা কিছু করতে পারছি না। ছেলেটির নাম কিশোর।

    বিদ্যুদ্বেগে আবার সুহাস তাঁহার জানুর মধ্যে মুখ লুকাইল।

    দীনবন্ধুবাবু ভিতরে ভিতরে সবই বুঝিয়াছিলেন, কিন্তু এই কন্যাপ্রতিম মেয়েটির প্রথম অনুরাগের সলজ্জ মধুটুকু উপভোগ করিবার লোভ সংবরণ করিতে পারিতেছিলেন না। তাই এতক্ষণ নানা ছল চাতুর্যের অবতারণা করিয়া এই নবোন্মোষিত হৃদয়ের সরসোজ্জ্বল মাধুর্যটি নিজের পরিণত বয়সের রসোপলব্ধি দ্বারা সানন্দে আস্বাদন করিতেছিলেন। তিনি জোর করিয়া সুহাসের মুখ তুলিয়া ধরিয়া কহিলেন, এবার তো সুহাস-মায়ী, হ্যাঁ না যা-হোক একটা উত্তর দিতে হবে, আর তো চুপ করে থাকা চলবে না। কিশোরের সম্বন্ধে তোমার মনের কথাটি কী, আমাকে চুপি চুপি বলে ফেলো তো দেখি।

    সুহাস উত্তর দিল না, চক্ষু মুদিয়া রহিল।

    বলবে না? আচ্ছা, চোখ খুলে চাও। তাও না? তবে তো ভারি মুশকিল। কিশোর বেচারার ভাগ্য পরীক্ষা তাহলে হয় কি করে? ভু কুঞ্চিত করিয়া দীনবন্ধুবাবু যেন কী চিন্তা করিলেন, আচ্ছা, এক কাজ করা যাক। ছেলেবেলার সে-খেলা আমি এখনও ভুলিনি, তোমারও নিশ্চয় মনে আছে। এই আমি চোখ বুজে রইলুম, তোমার উত্তর যদি হাঁ হয় তাহলে একটা চুমু খাবে, আর যদি না হয়  তাহলে হাতে একটা চিমটি কাটবে—কি–বলো? ব্যস, এইবার আমি চোখ বুজলুম।

    দীনবন্ধুবাবু সুহাসিনীকে ছাড়িয়া দিয়া চক্ষু মুদিত করিলেন। কিয়ৎকাল কিছুই হইল না, তারপর সহসা নিজের কপালে ওষ্ঠাধরের মৃদু স্পর্শে তাড়াতাড়ি চোখ খুলিয়া দেখিলেন, সুহাস বিদ্যুতের মত ঘর ছাড়িয়া পলাইয়াছে।

    সুহাস—সুহসা-মায়ী—ডাকাডাকিতে কোনই ফল হইল না। সুহাস তখন নিজের ঘরে সশব্দে দরজা বন্ধ করিয়া দিয়াছে।

    বিনয়বাবু লাইব্রেরি-ঘর হইতে শঙ্কিতভাবে গলা বাড়াইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, কী হল?

    দীনবন্ধুবাবু পুনশ্চ গাম্ভীর্য অবলম্বন করিয়া বলিলেন, ভয় নেই, আপনি আসুন। আমার যতদূর মনে হল কিশোরকে বিয়ে করতে সুহাস-মায়ীর আপত্তি হবে না।

    বিনয়বাবু প্রফুল্ল হইয়া বলিলেন, যাক, এ দিকে তাহলে আর কোন গণ্ডগোল নেই। এখন কিশোরের কাছে কথাটা তুলতে পারলে–

    পকেট হইতে ঘড়ি বাহির করিয়া দীনবন্ধুবাবু বলিলেন, সেটা আজ বিকেলবেলা করলেই হবে। আমার কলেজের বেলা হয়ে গেছে, আমি আর বসতে পারব না। উঠলুম। কলেজে অবশ্য তার সঙ্গে দেখা হবে কিন্তু আমি তাকে এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। আপনি মেয়ের বাপ, বলা কওয়া আপনারই দরকার। যাহোক, বিকেলবেলা আমি আবার আসছি, তখন যথা কর্তব্য স্থির করা যাবে। বলিয়া তিনি গাত্রোত্থান করিলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    মনচোরা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }