Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প218 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৩. মনের সঙ্গে যখন পা দুটার সংযোগ

    মনের সঙ্গে যখন পা দুটার সংযোগ থাকে না, তখন তাহারা স্বেচ্ছামত নিজের পরিচিত পথে চলে। বিনয়বাবুর বাড়ি হইতে বাহির হইয়াই কী এক নেশায় বুঁদ হইয়া কিশোর পথ চলিয়াছিল; কোথায় যাইতেছে কোন খেয়ালই ছিল না। হঠাৎ সজাগ হইয়া দেখিল, তাহার কলেজের সম্মুখে। দাঁড়াইয়া আছে।

    রাত্রি দশটার সময় কলেজের অন্ধকার প্রকাণ্ড বাড়িখানার দিকে কিছুক্ষণ তাকাইয়া থাকিয়া তাহার ভারি হাসি পাইল। নিজ মনে হাসিতে হাসিতে সে আবার বাড়ির দিকে ফিরিল।

    যে আনন্দের সংবাদটা সমস্ত জগৎ ভুলাইয়া তাহাকে অকারণে অভ্যাসবশেই এতদূর টানিয়া আনিয়াছিল, বৌদিদির কাছে সেই কথাটি ব্যক্ত করিবার জন্য তাহার প্রাণ ছটফট করিতে লাগিল। আজ একাদশী, তাই সে সন্ধ্যার পূর্বেই রাত্রির মত আহারাদি শেষ করিয়া লইয়াছিল। বৌদিদি হয়তো এতক্ষণ উদ্বাসক্লিষ্ট দেহে শয্যায় শুইয়া ঘুমাইয়া পড়িয়াছেন, এই ভাবিয়া সে জোরে জোরে পা। চালাইয়া ছিল।

    বৌদিদি কিছুই জানেন না, সন্দেহও করেন নাই। হঠাৎ অপূর্ব সংবাদ শুনিয়া তিনি কিরূপ চমকিত ও আনন্দিত হইয়া উঠিবেন, উৎসুকভাবে কী কী প্রশ্ন করিবেন, সে তাহার কী কী উত্তর দিবে, এই সব ভাবিতে উল্লাসে উত্তেজনায় তাহার মন ভরিয়া উঠিল। সে ভাবিতে লাগিল, তাহার মত ভাগ্যবান পৃথিবীতে আর নাই; একদিকে বৌদিদির মত স্নেহপরায়ণা ভগিনী, আর একদিকে সুহাস। এমন ভাগ্য আর কাহারও হয়? সৌভাগ্যগর্বে তাহার হৃদয় স্ফীত হইয়া উঠিল।

    কিন্তু–হঠাৎ কিশোর রাস্তার মাঝখানেই দাঁড়াইয়া পড়িল। বৌদিদি যদি সুহাসের সহিত বিবাহের সংবাদে সুখী না হন? তিনি কিশোরের সংসারে সর্বময়ী কত্রী, সুহাসকে তিনি জানেন না,যদি কোনরূপ অমূলক আশঙ্কা করিয়া তিনি মনে কষ্ট পান? কিন্তু না, এ হইতেই পারে না। বৌদিদির, সম্বন্ধে এরূপ স্বার্থপরতার কথা চিন্তা করাও অপরাধ। নিজের হৃদয়ের অপরিসীম স্নেহ যিনি নিঃস্ব হইয়া তাহার মাথায় ঢালিয়া দিয়াছেন, তাহার এত বড় সুখে তিনি অসুখী হইবেন, ইহা কল্পনা করাও মহাপাপ।

    এই সঙ্গে আর একটা চিন্তা আসিয়া জুটিল। কিশোরের হৃদয়ের অভ্যন্তরে দুইটি মাত্র নারী প্রবেশাধিকার লাভ করিয়াছিল,—একটি বিমলা, অপরটি তাহার সদ্যোলব্ধ সুহাসিনী। ইহাদের একজনকে বাদ দিলেও তাহার জীবন পঙ্গু হইয়া যাইবে, ইহা নিশ্চিত, বিমলার স্নেহ বা সুহাসের ভালবাসা কোনটাই সে স্বেচ্ছায় ছাড়িতে পারিবে না। কিন্তু এই দুইটি রমণী যদি ভবিষ্যতে পরস্পরকে প্রীতির সহিত গ্রহণ করিতে না পারে? যদি সাংসারিক ক্ষুদ্র প্রবেশ করিয়া তাহার অকলঙ্ক জীবনযাত্রাকে লাঞ্ছিত করিয়া তোলে? তাহার প্রাণ দুরদুর করিয়া একবার কাঁপিয়া উঠিল। সে প্রবলবেগে মাথা নাড়িয়া মনে মনে বলিল—না, বৌদিদি ও সুহাস কি সাধারণ সামান্য স্ত্রীলোক? সে যখন তাহাদের দুইজনকেই ভালবাসিয়াছে, তখন তাহারাও পরস্পরকে ভালবাসিবেই। ইহার মধ্যে কণামাত্র সংশয় থাকিতে পারে না।

    বাড়ি পৌঁছিয়া সোজা বিমলার ঘরের দ্বারের কাছে গিয়া সে ডাকিল, বৌদি, আসব?

    এসো। এত দেরি যে, কোথায় ছিলে?

    কিশোর ঘরে ঢুকিয়া দেখিল, প্রদীপের সম্মুখে মেঝেয় বসিয়া বিমলা একখানা পুঁথি পড়িতেছিল, বই মুড়িয়া উঠিয়া দাঁড়াইল।

    রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলুম বৌদি, তাই দেরি হল। বলিয়া কিশোর হাসিতে লাগিল।

    ভুরু তুলিয়া বিমলা বলিল, এগারোটা বাজে, এত রাত্তিরে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলে কোন সুখে বলো তো?

    জোর করিয়া মুখ গম্ভীর করিয়া কিশোর বলিল, বলছি। কিন্তু তার আগে একবার তোমার পায়ের ধুলো নিই। বলিয়া হেঁট হইয়া বিমলার পদধুলি গ্রহণ করিল।

    বিমলা কিশোরের মাথায় হাত রাখিয়া প্রসন্ন কণ্ঠে বলিল, বেঁচে থাকো। কথাবার্তা সব ঠিক হয়ে গেল?

    কী? কী ঠিক হবে? কিসের কথাবার্তা?

    সেকথার জবাব না দিয়া মৃদু হাস্যে বিমলা জিজ্ঞাসা করিল, আর সুহাস কী বললে?

    বিস্মিত পুলকিত হইয়া কিশোর বিমলার মুখের পানে চাহিয়া রহিল! তারপর দুই হাত বাড়াইয়া বিমলার দুটা বাহু চাপিয়া ধরিয়া বলিল, অ্যাঁ—বৌদি, তুমি জানো?

    না গো মশাই—তা কি আর জানি। তোমরা দুজনেই কত সাবধানী। বিমলা হাসিয়া ফেলিল, তবু তোমার মনের কথা আঁচে আন্দাজে বুঝতে হয়, সে হুঁড়ির মুখের দিকে একবার তাকালে আর কছু বুঝতে বাকি থাকে না। আচ্ছা ঠাকুরপো, এত লুকোচুরি কিসের? প্রেমিক-প্রেমিকাদের বুঝি খোলাখুলি কিছু করতে নেই। সবই মনে মনে গোপনে গোপনে? কিন্তু লুকিয়ে যখন রাখতেও পার না, তখন চেষ্টা করাই বা কেন? সেদিন সুহাসের কাণ্ড দেখে আমি তো অবাক।

    সুহাসিনীর সহিত বিমলার পরিচয় হইয়াছে, এ খবর কিশোর জানিত না। সে আশ্চর্য হইয়া বলিল, তার সঙ্গে তোমার ভাব হয়ে গেছে? আমাকে বলনি কেন?

    কেন বলব? তুমি আমার কাছে লুকোতে পার, আর আমি পারি না? আমার বুঝি রাগ হয় না? লো নেই কওয়া নেই, হৃদয়খানি যে আর একজনকে দিয়ে এলে, বলি, বৌদিদির অনুমতি নিয়েছিলে কি?

    অদূরে তক্তপোশের উপর সাদা ধবধবে বিছানা পাতা ছিল, কিশোর তাহার উপর গিয়া বসিল। পাশের স্থানটা হাত দিয়া চাপড়াইয়া বলিল, বোসো এসে এখানে। এইবার বলো, কবে তোমাদের ভাব হল, কী কথা হল, এই সব।

    সম্মুখে গলির দিকের জানালাটা খুলিয়া দিয়া বিমলা বিছানায় আসিয়া বসিল। গালে হাত দিয়া কিছুক্ষণ বসিয়া থাকিয়া গম্ভীরভাবে বলিল, ঠাকুরপো, মাত্র দুদিন সুহাসের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে কিন্তু এই দুদিনের দেখাতেই বুঝতে পেরেছি যে, এমন জিনিসটি লাভ করা যে কোন পুরুষমানুষের পক্ষে ভাগ্যের কথা। মনে আছে সেদিন ঠাট্টাচ্ছলে বলেছিলুম, যে বিন্ধিবে লভিবে সে কৃষ্ণা গুণবতী? তার একটা কথাও মিথ্যে নয়! অমন মেয়েকে স্বয়ম্বরসভায় লক্ষ্যভেদ করে নিজের গুণপনা দেখিয়ে তবে লাভ করবার অধিকার জন্মায়। ক্ষণকাল নীরব থাকিয়া বলিতে লাগিল, দেখ, আমি পাড়াগেঁয়ে মেয়ে, আঠারো-উনিশ বছরের আইবুড়ো মেয়ে দেখা আমার অভ্যাস নেই, এতদিন ও জিনিসটাকে মনের মধ্যে ঠিকভাবে নিতে পারতুম না। কিন্তু সুহাসের সঙ্গে ভাব হবার পর থেকে সে ভুল আমার ভেঙে গেছে। শুচিতা কৌমার্য যে মনের সম্পদ, বয়সের নয়, তা বুঝতে পেরেছি। সুহাসের মধ্যে কী আছে জানি না, কিন্তু ওর মুখের দিকে চেয়ে ওকে না ভালবেসে থাকা যায় না। বিদ্যাবুদ্ধির কথা বলছি না, সে তো আজকাল অনেক মেয়েরই আছে। কিন্তু সুহাসের মধ্যে সত্যিকারের ভাল আছে ঠাকুরপো,—সেই ভাল যা ভগবান নিজের হাতে দেন, যা চেষ্টা করে হওয়া যায় না। এত মিষ্টি নরম ওর স্বভাব, এমন লাজুক মন,.যেন রাত-দিন বুক দিয়ে ঘিরে রাখতে ইচ্ছা করে।

    কিশোর মুষ্টির উপর চিবুক রাখিয়া শুনিতেছিল। তাহার তগত মুখের দিকে স্নেহ-নিষিক্ত দৃষ্টিপাত করিয়া বিমলা বলিল, কিন্তু তাও বলি, তোমার মত বর না হলে ও মেয়ের মর্যাদা আর কেউ বুঝত না। আমার মনে বড় ভয় ছিল ভাই, কী জানি তুমি একদিন কী রকম একটি বৌ ঘরে নিয়ে আসবে, হয়তো সে তোমাকে চিনতে পারবে না, আমাকেও ভুল বুঝবে—আর তোমার প্রাণের ঐ তপোবনের মত শান্তি ঘুচে যাবে! কিন্তু সে ভয় আর আমার নেই; যিনি আসছেন তাকে বিধাতা তোমারই মনের মত করে নির্জনে বসে গড়েছিলেন।

    কিশোর নড়িয়া-চড়িয়া বসিল, একবার কী বলিতে ইচ্ছা করিল, তারপর আবার চুপ করিয়া বসিয়াই বৌদিদির অমৃতমধুর বাণী শুনিতে লাগিল।

    বিমলা একটি নিশ্বাস ফেলিয়া বলিল, কিন্তু আর না, বেশী প্রশংসা করলে তোমার আবার জাঁক হবে। তার চেয়ে সুহাসের কথাই বলি,-কেমন? সেদিন দুপুরবেলা আমি ওদের বাড়ি গিয়েছিলুম, তারপর ও আর একদিন এ বাড়িতে এসেছিল।

    আনন্দে কণ্টকিত হইয়া কিশোর বলিল, সুহাস এসেছিল?

    হ্যাঁ গো, এসেছিল। যদি তার রকম দেখতে, এখনও মনে হলে আমার হাসি পায়। এক পা করে এগোয় আর যেন চমকে চমকে ওঠে, মুখ এই লাল, এই ফ্যাকাসে—ঠিক যেন চুরি করতে ঢুকেছে, ধরা পড়বার ভয়েই জড়সড়। আমি হাত ধরে নিয়ে গিয়ে তাকে তোমার বিছানার উপর বসিয়ে দিলুম।

    কিশোর রুদ্ধ নিশ্বাসে স্থির হইয়া বসিয়া রহিল, পাছে নড়িলে-চড়িলে বা নিশ্বাস ফেলিলে এই কাহিনীর সূক্ষ্ম সূত্রটি ছিন্ন হইয়া যায়। বিমলাও সেদিনকার কৌতুকপূর্ণ স্মৃতিটা মনে মনে আলোচনা করিতে করিতে স্মিতমুখে জানালার দিকে চাহিয়া রহিল।

    তারপর?

    হাসিয়া উঠিয়া বিমলা বলিল, তারপর আর কী? সব কথাই তোমাকে শুনতে হবে না কি?–কিন্তু ভারি মজার জিনিস একটি লক্ষ্য করলুম, তখনও সে নিজের মন বুঝতে পারেনি। তা যদি পারত, তাহলে আমার কাছে কথায় কথায় ধরা পড়ে যেত না। একটি ক্ষুদ্র নিশ্বাস ফেলিয়া কতকটা নিজমনে বলিল, কী সুন্দর এই সময়টি।

    মিনতি করিয়া কিশোর বলিল, আমাকে আর পাগল করে দিও না, বৌদি। সুহাস আর কী করলে বলো।

    কী আবার করবে? তোমার ল্যাবরেটরি দেখলে, বইগুলো ঘাঁটলে, টেবিলের এটা-ওটা নাড়লে, কলম দিয়ে লিখলে, তারপর বিছানায় বসে তোমার মাথার বালিশটা কোলে নিয়ে আমার মুখের পানে চেয়ে তোমার কথা শুনতে লাগল। তোমার কথা শোনবার এত কী খিদে বাপু, কিছুতেই যেন মিটতে চায় না!—এ দিকে তোমারও তো সেই দশা দেখছি। কিন্তু আর না, এবার ওঠো। আজ রাত্রে কী ঘুমোবার দরকার নেই? বিমলা উঠিয়া দাঁড়াইল।

    হাত ধরিয়া তাহাকে পুনরায় বসাইবার চেষ্টা করিয়া কিশোর বলিল, বোসো না বৌদি, তারপর–

    কৃত্রিম রোষে তর্জনী তুলিয়া বিমলা কহিল, আবার তারপর? সারারাত শুধু সুহাসকথামৃত শুনবে—আমাকেও ঘুমোতে দেবে না। আজ একাদশী তাও ভুলে গেলে?

    অনুতপ্ত কিশোর তৎক্ষণাৎ উঠিয়া পড়িল, লজ্জিত হইয়া বলিল, না না বৌদি, এবার তুমি শুয়ে পড়ো, আমি যাচ্ছি।

    বাইরে ঝিমঝিম করিয়া বৃষ্টি আরম্ভ হইয়াছিল, ঠাণ্ডা ভিজা বাতাস গায়ে লাগিতেছিল, বিমলা সম্মুখের জানালাটা আবার বন্ধ করিয়া দিতে লাগিল।

    কিশোর বলিল, আচ্ছা বৌদি, সেদিন—

    আবার! আমি আর পারি না ঠাকুরপো, তোমার সুহাসের গল্প বলতে। ঐ শোনো, বারোটা বাজল। নাও ওঠো, আর আমি তোমার সঙ্গে রাত জাগতে পারব না। আসল জিনিসটা তো পেয়ে গেছ, এখন আর গল্প শুনে কী হবে? যাও, শুয়ে পড়োগে।

    কিশোর দ্বারের কাছে তবু একটু ইতস্তত করিয়া নিজের ঘরে সেই পরম পবিত্র শয্যার দিকে—যে শয্যার মাথার বালিশটি সুহাসের অঙ্গ-স্পর্শে ধন্য হইয়াছে—সেই বিছানার ক্রোড়ে রাত্রির মত বিশ্রাম লইতে গেল।

    .

    নিজের ভালবাসা লইয়াই সুহাস তন্ময় হইয়া ছিল, এই নবাগত দেবতাটিকে লইয়া কী করিবে, কোথায় রাখিবে, ভাবিয়া পাইতেছিল না। অন্য পক্ষের মনের ভাব কিরূপ তাহা চিন্তা করিয়া দেখিবার তাহার অবসর হয় নাই, সেকথা মনে উদয়ও হয় নাই।

    তাই, কিশোর যখন নিজের হৃদয়ের পরিচয় দিয়া তাহার হাত দুইটা একবার চাপিয়া দিয়া দ্রুতপদে চলিয়া গেল, তখন বিক্ষুব্ধ সমুদ্রের উপর চন্দ্রোদয়ের মত তাহার অন্তর অপরিমিত আনন্দ-আবেগে মথিত হইয়া উঠিল। তাহার মনে হইল এইটুকু হৃদয়ের মধ্যে বুঝি এতখানি সৌভাগ্যকে ধরিয়া রাখিবার স্থান নাই, এখনই উহা ভাঙ্গিয়া শতখণ্ডে চুরমার হইয়া যাইবে।

    পাশের ঘর হইতে দীনবন্ধু ও বিনয়বাবুর কণ্ঠস্বর শুনা যাইতেছিল, সুহাস পা টিপিয়া টিপিয়া উপরে উঠিয়া গেল।

    স্বপ্নাবিষ্টের ন্যায় রাত্রির আহারাদি সম্পন্ন করিয়া যখন সে নিজের ঘরে আসিয়া ঢুকিল, তখন ঘরের স্বচ্ছ তরল অন্ধকার যেন বাহু বাড়াইয়া তাহাকে কোলে টানিয়া লইল। আলো না জ্বালিয়াই সিঙার মেঝের সম্মুখে দাঁড়াইয়া সে কাপড়-চোপড় ছাড়িতে লাগিল।

    এমনই ভাবে সুখের স্বপ্নে কতক্ষণ কাটিয়া গিয়াছিল সে জানিতেও পারে নাই; বাইরের বৃষ্টিপতনের শব্দে চেতনা হইল যে, ঘরের জানালাগুলা বন্ধ থাকায় একটু গরম বোধ হইতেছে। সে গিয়া গলির দিকের জানালাটা উন্মুক্ত করিয়া দিল।

    বাহির দিকে চোখ পড়িতেই সে দেখিল, গলির অপর পারে খোলা জানালার সম্মুখে অস্পষ্ট আলোতে দুটি লোক বিছানার উপর বসিয়া আছে। ক্ষীণ আলো সত্ত্বেও চিনিতে কষ্ট হইল না যে, একজন কিশোর ও অন্যজন বিমলা। সুহাস তাড়াতাড়ি জানালা ছাড়িয়া চলিয়া আসিতেছিল, কিন্তু পারিল না; কে যেন জোর করিয়া তাহাকে ধরিয়া রাখিল। কিশোর ও বিমলার কথার গুঞ্জনটুকুই সে শুনিতে পাইতেছিল, একবার বিমলার অনুচ্চ একটুখানি হাসি তাহার কানে পৌঁছিল। অন্ধকারে দাঁড়াইয়া সুহাস বিহুলের মত সেই দিকে তাকাইয়া রহিল।

    বিমলা জানালা বন্ধ করিতে উঠিলে তাহার দুএকটা অসংলগ্ন কথা তাহার কানে গেল—…বারোটা বাজল—তোমার সঙ্গে রাত জাগতে…শুয়ে পড়ো—জানালা বন্ধ হইয়া গেল!

    সুহাস ধীরে ধীরে ফিরিয়া আসিয়া নিজের বিছানায় বসিল। এতদিন যাহা সে অবহেলা করিয়াই লক্ষ্য করে নাই, সেই অজ্ঞাত বিষয়টি আজ সবেগে আসিয়া তাহাকে আঘাত করিল। ইহারা দুইজন স্ত্রী-পুরুষ এক বাড়িতে থাকে, রাত্রিতে তৃতীয় ব্যক্তিটি পর্যন্ত নাই। ইহাদের মধ্যে সম্বন্ধ কী? বন্ধুর স্ত্রী, স্বামীর বন্ধু। দুইজনেরই যৌবনের মধ্যাহ্ন। স্ত্রীলোকটি বিধবা, অপূর্ব রূপসী! রাত্রি বারোটার সময় ইহারা এক বিছানায় ঘেঁষাঘেঁষি বসিয়া নিম্নকণ্ঠে সিগল্প করে, তারপর সাবধানে বাহিরের জানালা বন্ধ করিয়া দেয়। কোন লৌকিক বাধাবিঘ্নের বালাই নাই।

    আর একদিনের আর এক দৃশ্যের স্মৃতি এই সঙ্গে আজ দ্বিতীয়বার তাহার চোখের সম্মুখে ফুটিয়া উঠিল। সে-ও এমনই বাধা-বন্ধনহীন! এবং অনুপমের যে তীক্ষ কথাগুলার অস্পষ্ট ইঙ্গিত অসভ্য বর্বরতা বলিয়াই আজ সন্ধ্যাবেলা সুহাসিনীকে কিশোরের দিকে ঠেলিয়া দিয়াছিল, সেগুলা এখন একে একে মনে পড়িয়া বিষাক্ত কাঁটার মত তাহাকে বিধিতে লাগিল।

    সুহাসিনীর সমস্ত দেহ শিথিল হইয়া এলাইয়া পড়িল, বুকের ভিতরটা যেন একেবারে খালি হইয়া গেল। সে অস্ফুট একটা শব্দ করিয়া বিছানায় মুখ খুঁজিয়া শুইয়া পড়িল।

    কিছুক্ষণ এইভাবে পড়িয়া থাকিবার পর সে মাথা তুলিয়া আবার ভাবিতে লাগিল, দোষ কী? সে নিজের মনের ক্ষুদ্রতা দিয়াই ইহাকে বিকৃত করিয়া দেখিতেছে, নহিলে দুইজন স্ত্রী-পুরুষের রাত্রিকালে নিভৃত আলাপ দৃষণীয় কেন? সে নিজেও তো কত দিন অনুপমের সঙ্গে একাকিনী বসিয়া গল্প করিয়াছে! ইহাতে নিন্দনীয় কী আছে? তাহার মন মন্দ, তাই সে অন্যকে মন্দ দেখিতেছে, নিজের অন্তরের কলুষ অন্যের দেহে নিক্ষেপ করিতেছে। বিমলাকে সে জানে, বিমলার প্রতি তাহার আন্তরিক শ্রদ্ধা জন্মিয়াছে—তিনি সর্বাংশে ভালবাসা ও শ্রদ্ধার যোগ্য। আর কিশোর? তাহার মত নির্মল চরিত্র আর সে কোথায় দেখিয়াছে? তাহার চাহনি পর্যন্ত যে পবিত্র! তবে ইহাদের চরিত্রের তুলনায় কি আজিকার এই অবস্থা-সংযোগকেই বড় করিয়া দেখিতে হইবে? নিজের মনকে পঙ্কিল অশুচি বলিয়া সুহাসিনী বারংবার ধিক্কার দিতে লাগিল।

    এইভাবে নানা তর্কযুক্তির দ্বারা নিজের অবুঝ মনকে বুঝাইতে বুঝাইতে শেষরাত্রির দিকে সে ঘুমাইয়া পড়িল। কিন্তু ঘুমের মধ্যেও একটা অব্যক্ত বেদনা তাহার অচেতন দেহকে নিপীড়িত করিয়া অশ্রুধারায় উপাধান সিক্ত করিয়া দিল।

    পরদিন সকালে দেরি করিয়া উঠিয়া ক্লান্ত-দেহে যখন সে নীচে নামিয়া গেল তখন নিজের মানসিক অবস্থা নিজেই সে ঠিক বুঝিতে পারিল না। শুধু, গত রাত্রে তাহার অন্তলোকে দক্ষিণা বাতাস লাগিয়া যে আনন্দের ফুলটি ফুটিয়াছিল, তাহা যে অকালে শুকাইয়া মলিন হইয়া গিয়াছে, তাহাতে আর সন্দেহ রহিল না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    মনচোরা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }