Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প218 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৪. অনুপম ও হেমাঙ্গিনীর লক্ষ্য যদিও এক

    অনুপম ও হেমাঙ্গিনীর লক্ষ্য যদিও এক ও অভিন্ন ছিল, তথাপি মাতা-পুত্রের কার্যপ্রণালীতে বৈষম্য দেখা দিয়াছিল। অনুপম অত সুক্ষ্মভাবে সব দিক বাঁচাইয়া কাজ করিবার অর্থ বুঝিত না। কিশোরের উপর তাহার তীব্র বিদ্বেষ জন্মিয়াছিল, যে কোন উপায়ে তাহাকে অপদস্থ করিয়া নিজের কার্যসিদ্ধি করিতে পারিলে সে আর কিছু চাহে না।

    হেমাঙ্গিনী কিন্তু অন্য পথে চলিয়াছেন। কিশোর যে লম্পট দুশ্চরিত্র নহে তিনি তাঁহার পরিণত বয়সের অভিজ্ঞতার দ্বারা মনে মনে বুঝিয়াছিলেন, সুতরাং তাহার চরিত্রের প্রতি আক্রমণ শেষ পর্যন্ত। স্থায়ী ফলপ্রদ হইবে কি না, এ বিষয়ে তাঁহার যথেষ্ট সন্দেহ ছিল। এরূপ একটা অপবাদ মিথ্যা বলিয়া প্রতিপন্ন হইলে অপবাদকারীর প্রতি তাহার ফল যে শুভ হয় না, এ কথাও তাঁহার অজানিত ছিল না। তাই দুই-একটা লোভনীয় অর্ধ-প্রমাণ হাতের কাছে পাইয়াও তিনি তাহার সদ্ব্যবহার করিতে কুণ্ঠিত হইতেছিলেন। কিশোরের সহিত বিমলার সম্বন্ধটা বস্তুত নিদোষ হইলেও সাধারণ পাঁচজনের দৃষ্টিতে যে অত্যন্ত সন্দেহজনক, তাহাতে সংশয় নাই। বাহিরের লোকের কাছে শুদ্ধমাত্র এই একত্র থাকাটা অতিশয় নিন্দনীয় সম্পর্কের দিকে ইঙ্গিত করিতে থাকে, এবং অন্যের সম্বন্ধে মন্দ কথাটা নির্বিবাদে বিশ্বাস করিয়া লওয়ার দিকে মানুষের মনে এমন একটা সহজ প্রবণতা আছে যে বেশী সাক্ষ্যপ্রমাণ না পাইলেও, কেবল মাত্র একটা তুচ্ছ নৈতিক সাবধানতার বিধি লঙ্ঘন করার অপরাধে কাহারও বিরুদ্ধে। অতিবড় ব্যভিচারের অভিযোগও অভ্রান্ত সত্য বলিয়া স্বীকার করিয়া লইতে তিলমাত্র দ্বিধা হয় না।

    হেমাঙ্গিনী কিন্তু এই সুতীক্ষ অস্ত্রটি কিশোরের বিরুদ্ধে আপাতত প্রয়োগ করিতে প্রস্তুত ছিলেন না। নিজের বুদ্ধি ও কার্য-নৈপুণ্যের প্রতি তাঁহার অসীম আস্থা ছিল। তাই এক ঢিলে ঢিলে দুই পাখি মারিয়া যাহাতে তিনি সুহাসিনীর দিক হইতে কিশোরের চিত্তকে অন্যদিকে আকৃষ্ট করিয়া লইতে পারেন, সেই চেষ্টাতেই নিজের সুন্দরী ভ্রাতুস্পুত্রীকে আনিয়া রঙ্গস্থলে ছাড়িয়া দিয়াছিলেন ও মনে মনে কামনা করিতেছিলেন—যাহাতে সাপও মরে অথচ লাঠিও না ভাঙে। করবীর স্বামী হিসাবে কিশোরকে কল্পনা করিতে তাঁর আপত্তি ছিল না, বরং ইহাই এ জটিল সমস্যার একমাত্র সু-সমাধান বলিয়া তাঁহার মনে হইয়াছিল।

    অনুপম কিন্তু গোঁ-ভরে নিজের পথে চলিয়াছিল। হেমাঙ্গিনীর কুটনীতি তাহার মনঃপূত হইতেছিল না। কিন্তু প্রকাশ্যে মাতার বিরুদ্ধতা করিবার সাহসও তাহার ছিল না, তাই সে গোপনে গোপনে নিজের প্রবৃত্তিমত কাজ করিতে লাগিল। এক জাতীয় লোক আছে, নিজের স্বার্থের ব্যাঘাতকারীকে তাহারা নির্বিচারে দুষ্ট লোক বলিয়া বিশ্বাস করিয়া লয়, নিজের স্বার্থের ন্যায়-অন্যায় বিচার করে না। অনুপম সেই শ্রেণীর লোক। সে নানা প্রকারে নানা দিক দিয়া কিশোরের অনিষ্ট করিবার চেষ্টা করিতে লাগিল এবং এই বলিয়া নিজের মনকে প্রবোধ দিল যে, দুষ্টের দমন করিতে গেলে কোন অস্ত্রই পরিত্যাজ্য নয়। যুদ্ধে এবং প্রণয়ে অনুচিত কিছু নাই।

    এ দিকে কিশোরের তপোভঙ্গ করিবার ভার যাহার উপর পড়িয়াছিল সেই নির্দোষ বিঘ্নকারিণীটি পরম আনন্দেই দিন কাটাইতেছিল। পিসীমার অভিসন্ধি টের পাইলে করবীর মত সরলমনা মেয়েও বোধ করি লজ্জায় ও ধিক্কারে এই অশোভন কলাকৌশল ও ষড়যন্ত্র হইতে দূরে সরিয়া দাঁড়াইত। এমন কি, সুহাসিনীর প্রতিদ্বন্দ্বিরূপে তাহাকে আসরে দাঁড় করানো হইয়াছে, ইহা ঘুণাক্ষরে সন্দেহ করিলে সে রাগারাগি চেঁচামেচি করিয়া একটা কাণ্ড বাধাইয়া তুলিত এবং হয়তো কিশোরের সম্মুখে সকল ষড়যন্ত্র ফাঁস করিয়া দিতেও দ্বিধা করিত না। কিন্তু সে বেচারী এ-সব কিছুই জানিত না। নিতান্তই অন্ধকারে থাকিয়া সে কিশোরের প্রেমে হাবুড়ুবু খাইতেছিল।

    করবীর জীবনে অবশ্য প্রেমে পড়া এই প্রথম নহে, ইতিমধ্যে আরও দুতিনবার হইয়া গিয়াছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, কোনটাই দীর্ঘকাল স্থায়ী হয় নাই।

    সেদিন বৈকালে করবী সাজগোজ করিয়া পিসীমার বাড়ি যাইবার উপক্রম করিতেছিল, এমন সময় কিশোর একগুচ্ছ করবীফুল হাতে লইয়া উপস্থিত হইল।

    বিবাহের কথাবার্তা স্থির হইয়া যাইবার পর কিশোর একবারমাত্র বিনয়বাবুর বাড়ি গিয়াছিল। কিন্তু তাহাকে দেখিয়া সুহাসিনী যেরূপ লজ্জিতভাবে ঘর হইতে উঠিয়া গেল এবং সে থাকা পর্যন্ত আর ফিরিয়া আসিল না, তাহাতে কিশোর নিজেও বড় কুণ্ঠিত হইয়া পড়িল। বাড়ি আসিয়া সে ভাবিয়া দেখিল যে, তাহাদের সম্বন্ধ এখন এমন হইয়া দাঁড়াইয়াছে যে, বিবাহের পূর্বে সুহাসিনীর সহিত মেলামেশা করা তাহার উচিত হইবে না। বিলাতী কোর্টশিপ ব্যাপারের বিরুদ্ধে তাহার মনে একটা মজ্জাগত বিরূপতা ছিল; এবং সুহাসও যে, যাহার সহিত বিবাহ স্থির হইয়া গিয়াছে, প্রকাশ্যভাবে নিত্য তাহার সাহচর্যকে কুণ্ঠার চোখে দেখে, তাহা বুঝিয়া সে বেশ তৃপ্তি পাইল। সে স্থির করিল আপাতত আর অকারণে বিনয়বাবুর বাড়ি যাইবে না।

    কিন্তু প্রত্যহ কারণে অকারণে বিনয়বাবুর বাড়ি গিয়া এমন একটা অভ্যাস হইয়া গিয়াছিল যে, সময় উপস্থিত হইলে মন ছটফট করিতে থাকিত। তাই দুচার দিন বাড়িতে চুপ করিয়া বসিয়া থাকিবার পর সে বৈকালে বেড়ানোর পূর্বতন অভ্যাসটা পুনরুজ্জীবিত করিবার চেষ্টা করিল।

    ইতিমধ্যে আরও কয়েকটা ব্যাপার ঘটিয়া তাহাকে উদ্ভ্রান্ত করিয়া তুলিয়াছিল। ইদানীং কলেজের সুমহলে তাহাকে লইয়া বিশেষ একটা আন্দোলন আলোচনা, এমন কি হাসি-মস্করা চলিতেছে, তাহার আভাস সে মাঝে মাঝে পাইতেছিল। একদিন ক্লাশে ঢুকিয়া হঠাৎ তাহার চোখে পড়িল, বোর্ডের উপর খড়ি দিয়া বড় বড় অক্ষরে লেখা আছে—বিমলা। সেদিন সে ইহার ইঙ্গিতটা ধরিতে পারিল না, কিন্তু দ্বিতীয় দিন যখন ঐ নামটার সঙ্গে হাটে হাঁড়ি এই দুটা শব্দ বোর্ডের উপর আরও বড় বড় অক্ষরে লেখা দেখিল এবং ক্লাশের দিকে চক্ষু ফিরাইতেই দেখিল, দেড় শত ছেলের চোখের অনুসন্ধিৎসা তাহার মুখে অপরাধের চিহ্ন অন্বেষণ করিতেছে, তখন কিছুই তাহার বুঝিতে বাকি রহিল না। নিমেষমধ্যে তাহার মুখখানা ক্রোধে কালো হইয়া উঠিল। কিন্তু সে আত্মসংবরণ করিয়া যথানিয়মে লেকচার দিয়া গেল, কাহাকেও কোন কথা জিজ্ঞাসা করিল না। ঘন্টা শেষ হইলে বিশ্রামঘরে গিয়া সে মাথায় হাত দিয়া ভাবিতে লাগিল, এ কাহার কাজ? তাহার পারিবারিক জীবন লইয়া এমন প্রকাশ্যভাবে কলেজের ছাত্রদের মধ্যে ঘাঁটাঘাঁটি করিতেছে কে?

    কিন্তু যে-ই হউক, কেবল ছাত্রমহলে একথা প্রচার করিয়াই যে সে ব্যক্তি নিশ্চিন্ত নাই, তাহার প্রমাণ কিশোর অবিলম্বে পাইল। পরদিন কলেজের প্রিন্সিপ্যাল তাহাকে নিজের ঘরে ডাকিয়া পাঠাইলেন; সে উপস্থিত হইলে নিঃশব্দে দেরাজ হইতে একখানা চিঠি বাহির করিয়া তাহাকে পড়িতে দিলেন; বেনামী চিঠি পড়িতে পড়িতে কিশোরের রগের শিরগুলি ফুলিয়া উঁচু হইয়া উঠিল। সে যে একজন স্রষ্টা স্ত্রীলোকের সহিত প্রকাশ্যে সহবাস করিতেছে, অজ্ঞাত পত্রলেখক এই সংবাদটি প্রিন্সিপ্যাল মহোদয়ের গোচর করিয়াছেন, এবং একজন অধ্যাপকের এইরূপ ব্যভিচারপূর্ণ জীবনযাত্রা ছাত্রদের নৈতিক চরিত্রের পক্ষে কিরূপ হানিকর তদ্বিষয়ে দীর্ঘ জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করিয়া পত্ৰ শেষ করিয়াছেন।

    চিঠি প্রত্যর্পণ করিয়া কিশোর জিজ্ঞাসা করিল, আপনি এখন কী করতে চান?

    প্রিন্সিপ্যাল গম্ভীর-মুখে বলিলেন, বোসো। এ চিঠি কে লিখেছে, তোমার সন্দেহ হয়?

    না?

    তোমার কেউ শত্রু আছে?

    থাকতে পারে—জানি না।

    কিন্তু এরকম একটা দুর্নাম কে দিলে, কেনই বা দিলে, তাহার একটা নিরাকরণ হওয়া দরকার।

    কিশোর নীরবে বসিয়া রহিল, কিন্তু তাহার চোখ দুটা অসহায় ক্রোধে জ্বলিতে লাগিল।

    প্রিন্সিপ্যাল চিঠিখানা তুলিয়া ধরিয়া বলিলেন, এর অভিযোগ সমস্তই মিথ্যা–কী বলো?

    কিশোর কঠিন স্বরে বলিল, আপনি কি আমার কৈফিয়ত তলব করছেন?

    ধীরভাবে প্রিন্সিপ্যাল বলিলেন, কলেজের কর্তৃপক্ষের দিক থেকে কৈফিয়ত তলব করলেও সেটা অনুচিত হয় না। কিন্তু আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করছি মাত্র।

    কিশোর আরও কঠিন হইয়া বলিল, আমায় মাপ করবেন, আমি কৈফিয়ত দিতে অক্ষম। দরকার হয়, আমি কর্মে ইস্তফা দিতে প্রস্তুত আছি।

    প্রিন্সিপ্যাল প্রবীণ লোক, কলেজের অধ্যক্ষতা করিয়া জীবন কাটাইয়াছেন, যুবক চরিত্রের অন্ধ্ররন্ধ্র তাঁহার সুপরিচিত। বিশেষ, কিশোর তাঁহার কলেজেরই ছাত্র ছিল, তাহাকে তিনি ভাল করিয়া চিনিতেন। শুধু অপরাধীই যে কৈফিয়ত দিতে ভয় পায় তাহা নহে, আত্মমর্যাদাশীল তেজস্বী ব্যক্তিও যে মিথ্যা দোষে অভিযুক্ত হইয়া নিজের সাফাই গাহিতে ঘৃণা বোধ করে, ইহাও তাঁহার অপরিজ্ঞাত ছিল না। তিনি কিশোরের গায়ে হাত রাখিয়া বলিলেন, কিশোর, এ যে মিথ্যা অপবাদ, তা আমি জানি। কিন্তু কলেজের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আমার অনুসন্ধান করা উচিত নয় কি—তুমিই বলো? তা ছাড়া আমি তোমাকেই জিজ্ঞাসা করছি, আর কাউকে তো জিজ্ঞাসা করিনি করবও না। আমি বন্ধুভাবে কেবল জানতে চেয়েছিলাম, কে তোমার এমন অনিষ্ট করতে চায় এবং কতটুকু সত্যকে ফেনিয়ে তুলে সে এই মিথ্যার সৃষ্টি করেছে। কিন্তু আজ থাক, আজ তোমার মন ভাল নেই। আর একদিন তোমার মাথা ঠাণ্ডা হলে এ বিষয়ে আলোচনা করা যাবে। এই বলিয়া তাহাকে বিদায় করিলেন। কিশোর এই ভক্তিভাজন গুরুতুল্য লোকের প্রতি অকারণ রূঢ়তা প্রকাশ করার জন্য লজ্জিত ও অনুতপ্ত হইয়া ফিরিয়া আসিল।

    সেদিন কিশোর সকাল সকাল বাড়ি ফিরিয়া আসিল, কিন্তু তাহার মনের অশান্তি দূর হইল না। এ এমনই কথা যে বৌদিদির কাছে বলিয়াও হৃদয়ভার লাঘব করা যায় না। ঘরে চুপ করিয়া বসিয়া থাকলে ঐ কথাটাই অপ্রতিদ্বন্দ্বী হইয়া মনকে উৎপীড়িত করিতে থাকিবে। এইরূপ অবস্থার কী করিয়া এ অন্তদাহের হাত হইতে নিস্তার পাইবে স্থির করিতে না পারিয়া হাঠৎ তাহার স্মরণ হইল করবীর কথা। করবী দুইবার তাহাকে নিজের বাড়িতে নিমন্ত্রণ করিয়াছে, এতদিন কেবল অবহেলা। করিয়াই নিমন্ত্রণ রক্ষা করা হয় নাই। কিশোর আর দ্বিধা না করিয়া উঠিয়া পড়িল এবং কালোচিত শেভূষা পরিয়া করবীর পিতৃভবনের উদ্দেশ্য যাত্রা করিল।

    চৌরঙ্গীর দিকে সাহেব-পল্লীতে করবীদের বাড়ি। ধর্মতলার ট্রাম হইতে নামিয়া পথে হগ সাহেবের বাজারের ভিতর দিয়া যাইতে যাইতে একটা ফুলের দোকানে অনেক লাল ও সাদা করবীফুল দেখিয়া কিশোর একগুচ্ছ তাহাই কিনিয়া লইল।

    কিশোরকে দেখিয়া করবী ভারি খুশি হইল, ছুটিয়া আনন্দিত কলকণ্ঠে তাহার অভ্যর্থনা করিল। ভতরে গিয়া বসাইবার পর কিশোর তাহার সাজ-সজ্জার দিকে দৃষ্টিপাত করিয়া বলিল, আপনি কোথাও যাচ্ছিলেন, আমি এসে বিঘ্ন করলুম।

    করবী বলিল, তা হোক, কোথাও যাওয়ার চেয়ে আপনি এসেছেন, এতেই আমি বেশী খুশি হয়েছি।

    কিশোর হাতের ফুলগুলা করবীকে দিয়া বলিল, এই ফুলগুলো আপনার নামে আত্ম-প্রচার করে নজেদের দর বাড়াবার চেষ্টা করছিল, তাই দেখে অপরাধীদের আপনার কাছে ধরে এনেছি।

    করবী একবার কিশোরের স্মিতমুখ ও একবার তাজা ফুলগুলি নিরীক্ষণ করিয়া হাসিয়া উঠিল, ওঃ! কিন্তু তা তো নয়। বরং আমিই ওদের নাম জাল করে নিজেকে ওদের নামে চালিয়ে দেবার চেষ্টা করছি।

    কিশোর মাথা নাড়িয়া বলিল, কখনই না। আমি ঠিক জানি ফুলগুলো ঝুটো, আপনি সাচ্চা।

    করবী করতালি দিয়া হাসিয়া উঠিল, বলিল, আচ্ছা কিশোরবাবু, আপনি এমন সুন্দর সুন্দর কথা তৈরি করে বলেন কী করে? আমি তো একেবারেই পারি না, যা মুখে আসি বলে ফেলি!

    কিশোর বলিল, ভগবান আপনাকে অনেক গুণ দিয়েছেন, মনের কথা মুখে প্রকাশ করতে একটুও কষ্ট হয় না। আমি হতভাগ্য—প্রাণের কথাটি বলতে হলে অনেক ভেবেচিন্তে ভাষাকে আয়ত্ত করে তলব বলতে হয়। সেই জন্যই বোধ হয় অমন ছাপার অক্ষরের মত শোনায়।

    করবী সপ্রশংস দৃষ্টিতে চাহিয়া বলিল, আপনি অদ্ভুত লোক। এই ছুতো করে আবার একটা মপ্লিমেন্ট দিয়ে দিলেন। আপনার মত এমন কমপ্লিমেন্ট দেবার ক্ষমতা আমি কারুর দেখিনি– সাহেবদেরও না।

    কিশোর বলিল, যার কোন গুণ নেই, বিনীতভাবে কথা বলবার ক্ষমতাও যদি তার না থাকে, তাহলে সে যে নিতান্তই অপাঙক্তেয় হয়ে পড়বে।

    করবী ঘরের চারিকোণে রূপার ফুলদানিতে ফুলগুলি সাজাইয়া রাখিয়া, একটি সবৃন্ত লাল মঞ্জরী হাতে লইয়া কিশোরের সম্মুখে আসিয়া বলিল, উঠুন। এইটে আমার চুলে পরিয়ে দিন তো! বলিয়া কবরীবদ্ধ মাথাটি কিশোরের দিকে ফিরাইয়া দাঁড়াইল।

    কিশোর মনে মনে ভারি কৌতুক অনুভব করিল। করবীর ছেলেমানুষের মত অসঙ্কোচ অনেক ময় শালীনতাকে ভ্রুক্ষেপ করে না। যাহার সঙ্গে মাত্র দুদিনের পরিচয়, এরূপ যুবকের দ্বারা নিজের বরী পুষ্পশোভিত করিয়া লইতে তাহার বাধে না, তাহার প্রাণের এই নির্মল নির্মুক্ততা অত্যন্ত মঠাভাবেই কিশোরের হৃদয় স্পর্শ করিল। আজ তাহার প্রাণে অনেকখানি গ্লানি লুকাইয়া ছিল, প্রবীর এই বিশ্বাসপূর্ণ বন্ধুত্ব যেন তাহার মুছিয়া পরিষ্কার করিয়া দিয়া গেল। সে তাহার খোঁপার মধ্যে অপটু হস্তে ফুল খুঁজিয়া দিতে দিতে মেহামনে ভাবিতে লাগিল, আজ যদি তাহার করবীর মত কেটি সহোদরা ভগিনী থাকিত, সেও বোধ করি এমনই অলজ্জিত অকুণ্ঠ অধিকারে দাদার সাহায্যে নজের কুন্তল-শোভা বর্ধিত করিয়া লইত।

    দফুল পরানো হইলে করবী চকিতের ন্যায় অদূরের একটা আয়নার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করিয়া লইয়া সহাস্যমুখে কিশোরের দিকে ফিরিল; তারপর অঙ্গুলি দিয়া শাড়ির দুপাশের দুই অংশ ধরিয়া পায়ের পিছনে পা দিয়া হাঁটু মুড়িয়া মৃদুকণ্ঠে বলিল, থ্যাঙ্ক ইউ।

    কিশোর অবাক হইয়া বলিল, ও কী হল?

    করবী চঞ্চল চোখে চাহিয়া বলিল, ওকে ক্যার্টসি বলে—তাও জানেন না?—এখন চলুন, মার সঙ্গে দেখা করবেন। মা রোগা মানুষ, বেশী চলতে ফিরতে পারেন না, ওপরেই থাকেন। বাবা এখনও অফিস থেকে ফেরেননি, কিন্তু তিনিও এসে পড়লেন বলে। বাবা এলে সবাই মিলে চা খাওয়া যাবে। ওঃ—আপনি বুঝি আবার চা খান না। আচ্ছা, আপনার জন্য অন্য বন্দোবস্ত হবে অখন। ঘোলের সরবতে আপত্তি নেই তো?

    তারপর ঘণ্টা দুই কিশোরের ভারি আনন্দে কাটিয়া গেল। করবীর মা রুগ্না স্ত্রীলোক, বেশী নড়াচড়া করা ডাক্তারের নিষেধ। বাড়ি হইতে বাহির হইতে পান না, তাই বাহিরের কেহ দেখা করিতে আসিলে ভারি আহ্লাদিত হন। করবীর বাবা প্রমদাবাবু পুলিস হইলেও বেশ সজ্জন ব্যক্তি, পুলিস জীবনের নানা কৌতুকপ্রদ গল্প বলিয়া আসর জমাইয়া তুলিলেন। পুলিসের লোক যে এত মিশুক ও মজলিশী হইতে পারে, কিশোরের তাহা ধারণাই ছিল না।

    রাত্রি প্রায় আটটার সময় ইহাদের অপর্যাপ্ত প্রীতি ও আতিথেয়তা উপভোগ করিয়া পুনরায় আসিবার অঙ্গীকার করিয়া কিশোর যখন বিদায় লইল, তখন সে তাহার চিরাভ্যস্ত প্রফুল্লতা ফিরিয়া পাইয়াছে। সম্পূর্ণ অনাত্মীয় পরিবারের কাছে আত্মীয়ের ন্যায় সমাদর পাইয়া এই কথাই ভাবিতে ভাবিতে সে বাড়ি ফিরিল যে, শত্রু তাহার যত শত্রুতাই করুক, যাঁহারা নিরপেক্ষ তাঁহাদের স্নেহ ও সম্মান আকর্ষণ করিবার মত গুণ তাহার আছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    মনচোরা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }