Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প218 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২০. পরদিন খাওয়া-দাওয়ার পর

    পরদিন খাওয়া-দাওয়ার পর বাহির হইতে বেলা বারোটা বাজিয়া গেল।

    বিমলা, করবী ও কিশোর এই তিনজনেরই যাওয়া স্থির ছিল, কিন্তু যাত্রা করিবার সময় সুরেন আসিয়া গাড়িতে চাপিয়া বসিল। তাহার বয়স তেরো-চৌদ্দ বছর, এই একদিনেই সে বিমলার বিশেষ অনুগত হইয়া পড়িয়াছে।

    করবী তাহাকে ধমক দিয়া বলিল, তুই আবার কোথায় যাবি? তুই তো অনেকবার দেখেছিস।

    সুরেন বয়সে এবং অন্তরে ছেলেমানুষ হইলেও কথাবার্তায় বেশ পরিপক, সে তৎক্ষণাৎ উত্তর দিল, দেখলেই বা! আবার বুঝি দেখতে নেই?

    করবী অধীর হইয়া বলিল, না না, তুই ব্যাডমিন্টন খেলগে যা না বাপু!

    সুরেনও গরম হইয়া বলিল, ব্যাডমিন্টন তুই খেলগে যা, ও তো মেয়েমানুষের খেলা। আমি আজকাল টেনিস খেলি—জানিস?

    করবী চোখ পাকাইয়া বলিল, অ্যাঁ—আমাকে তুই বলা! আমি না তোর দিদি! দাঁড়া তো বলিয়া কানের দিকে হাত বাড়াইল।

    সুরেন দুই হাতে নিজের কান চাপিয়া ধরিয়া তর্জন করিয়া কহিল, খবরদার করি-দি, কানে হাত দিলে ভাল হবে না বলে দিচ্ছি—দেখুন তো, বৌদি

    বিমলা তাহাকে নিজের কাছে টানিয়া লইয়া বলিল, আহা চলুক না ও, আমাদের দেখাতে-শোনাতে পারবে।

    সুরেন উৎসাহিত হইয়া বলিল, া আলবত। করি-দি সারনাথের জানে কী? কলা। মিউজিয়মে যে অ্যাস্তবড় হাঁড়ি আছে, দেখেছিস? কত দিনের পুরানো বল দেখি?

    তোর আত্তবড় হাঁড়ি আমি দেখতে চাই না।

    দুই ভাইবোনে সারাটা পথ ঝগড়া করিতে করিতে চলিল।

    সারনাথের ধ্বংসস্তুপে পৌঁছিয়া সকলে মোটর হইতে নামিল। আর একখানা শুন্য ট্যাক্সি মোড়ের উপর দাঁড়াইয়া ছিল; এ সময়ে প্রত্যহই দুই-চারিজন দর্শক মৃগদাবের লুপ্ত গৌরবের চিহ্নগুলি পরিদর্শন করিতে আসিতেন। নিকটেই মিউজিয়ম—তাহাতে খননোদ্ধৃত মূর্তি প্রভৃতি রক্ষিত ছিল। অদূরে একটি বৌদ্ধ মঠ, তাহাতে কতকগুলি মুণ্ডিতশির শ্রমণ বাস করিতেছিলেন। তাঁহারা অধিকাংশই সিংহলী বা ব্রহ্মদেশীয়; বাঙালী বৌদ্ধ সন্ন্যাসীও দুই-একজন ছিলেন।

    সম্মুখেই মহাচৈত্যের বিরাট দেহ আকাশে মাথা তুলিয়া আছে। উৎসাহী সুরেনের পশ্চাদ্বর্তী হইয়া সকলে প্রথমে সেই দিকে চলিল। কোথায় চৈনিক পরিব্রাজক পাথরের উপর সোনা বসাইয়া গিয়াছে, হাজার বছরেও তাহাও মুছিয়া যায় নাই; কোনখানটা মেরামত করিতে গিয়া ইংরাজ গভর্নমেন্ট চৈত্যের শিল্প-শোভা কুশ্রী করিয়া তুলিয়াছে; কোন লৌহশৃঙ্খল অবলম্বনে চৈত্যের উপরে উঠিয়া দীপালী সাজাইবার নিয়ম ছিল, এই সমস্ত দেখিতে দেখিতে সকলে ঘুরিয়া বেড়াইতে লাগিল। দর্শন শেষ হইলে সঙ্ঘারামের খনিত ভূমির উপরে সকলে উপস্থিত হইল। স্থানটা বহু বিস্তৃত, কোথাও প্রকাণ্ড দরদালানের স্তম্ভের পাঠিকাগুলি রহিয়াছে, আর সবই নষ্ট হইয়া গিয়াছে; কোথাও সারি সারি ক্ষুদ্র কুঠুরির ছাদহীন নগ্ন দেওয়ালগুলি সেকালের ছাত্রদের কঠোর কৃসাধনের পরিচয় দিতেছে; কোথাও বা সঙ্কীর্ণ গুপ্ত সুড়ঙ্গ এখনও অটুট অবস্থায় বর্তমান রহিয়াছে। সমস্ত মিলিয়া এমন একটি আবহাওয়ার সৃষ্টি করিয়াছে যে, দেখিতে দেখিতে অতীতের অসংলগ্ন স্বপ্নে মন তন্দ্রাচ্ছন্ন হইয়া যায়।

    বিমলা সুরেনের মুখে এই সব স্মৃতি-চিহ্নের সত্য-অসত্য ইতিহাস শুনিতে শুনিতে একেবারে তন্ময় হইয়া গিয়াছিল। কিশোর বুকের মধ্যে কেমন একটা বেদনা অনুভব করিতেছিল; যেন তাহার নিজেরই অতীত জীবনের ইতিহাস এইখানে ছিন্ন হইয়া কালের চরণতলে দলিত পিষ্ট হইয়া পড়িয়া আছে, ইহার মর্মকাহিনী চিরদিন এমনই অনাদৃত অপঠিত রহিয়া যাইবে। করবীও ইহাদের দুজনের দেখাদেখি গম্ভীর হইয়া থাকিবার চেষ্টা করিতেছিল বটে, কিন্তু তাহার মনটা এই সব মৃত অতীতের স্মৃতির সঙ্গে ঠিক সুর মিলাইতে পারিতেছিল না। তাহার সতেরো বছর বয়স, আজ না জানি কি কারণে তাহার বুকের ভিতরটা দুলিয়া দুলিয়া উঠিতেছিল, চোখে যেন কিসের ঘোর লাগিয়াছিল। তাহার সমস্ত দেহটা সুরবাঁধা সেতারের মত বিনা কারণেই রণিয়া রণিয়া কাঁপিয়া উঠিতেছিল। শুষ্ক নীরস অতীতের কথায় তাহার প্রয়োজন ছিল না। তাহার কি আসে যায় কবে গুপ্ত-সাম্রাজ্যের কোন রানী সঙেঘর জন্য কোন অলিন্দ নির্মাণ করাইয়া দিয়াছিলেন, তাহা জানিয়া?

    এইভাবে ঘুরিতে ঘুরিতে করবী ও কিশোর অজ্ঞাতসারে আলাদা হইয়া বিমলা ও সুরেনের নিকট হইতে দূরে পড়িয়া গিয়াছিল, হঠাৎ কিশোর একবার চারিদিকে তাকাইয়া বলিল, বৌদি কোন দিকে গেলেন?

    করবী বলিল, সুরেন বোধ হয় কোথাও বসে তাঁকে বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলতে শুরু করে দিয়েছে। চলুন, ঐ স্তম্ভটা দেখে আসি। স্তম্ভের দিকে যাইতে যাইতে করবী আঙুল দেখাইয়া বলিল, দেখুন, আমাদের মত আরও কারা বেড়াতে এসেছে।

    কিশোর চাহিয়া দেখিল, একজন পুরুষ ও একটি স্ত্রীলোক দূরে দাঁড়াইয়া একজন ভিক্ষুর সহিত কথা কহিতেছেন। ভিক্ষু অঙ্গুলি নির্দেশ করিয়া তাঁহাদের এটা-ওটা দেখাইয়া কী কথা বলিতেছেন, শুনা গেল না। কিশোর নিরুৎসুকভাবে বলিল, বাঙালী মনে হচ্ছে।

    করবী কৌতূহলভরে সেই দিকে তাকাইতে তাকাইতে চলিল।

    আধঘণ্টা পরে স্তম্ভ দেখিয়া ফিরিবার সময় হঠাৎ কোন্ দিক দিয়া যেন কী হইয়া গেল। মেয়েমানুষের মনের কথা, যাহা সহজে প্রকাশ হইবার নয়,অচিন্তিতপূর্ব অবস্থার মধ্যে পড়িয়া তাহা দমকা হাওয়ায় বদ্ধ জানালার মত খুলিয়া একেবারে উদঘাটিত হইয়া গেল। কোথাও এতটুকু আড়াল বা আবরণ রহিল না।

    প্রাচীন ইষ্টকের দেওয়াল দিয়া ঘেরা চৌবাচ্চার মত একটা স্থানে এক খণ্ড প্রস্তরলিপি দেখিয়া কিশোর সেটা পাঠ করিবার উদ্দেশ্যে নামিয়া পড়িয়াছিল। চারিধারের দেওয়াল হইতে স্থানটা। পাঁচ-ছয় ফুট নীচু, নামিবারও কোন পথ ছিল না, কিশোর উপর হইতে লাফাইয়া পড়িয়াছিল। করবী সেখানে নামিবার কোন সহজ উপায় না দেখিয়া উপরেই দাঁড়াইয়া ছিল।

    নিবিষ্টমনে শিলালিপির পাঠোদ্ধারের চেষ্টা করিতে করিতে কিশোর এক সময় চোখ তুলিয়া দেখিল,করবী হঠাৎ কি মনে করিয়া পাঁচিলের মত দেওয়ালের উপর দিয়া পার হইয়া যাইবার চেষ্টা করিতেছে, কিন্তু কয়েক পদ গিয়া আর যাইতে পারিতেছে না, মাঝখানে দাঁড়াইয়া পড়িয়াছে। তাহার পা দুটা থরথর করিয়া কাঁপিতেছে। দেওয়ালটা মাত্র হাতখানেক চওড়া, তাহার দুই দিকেই একমানুষ প্রমাণ গর্ত, কিশোর ভীতভাবে চিৎকার করিয়া উঠিল, সাবধান!

    কিন্তু সাবধান হইবার মত অবস্থা করবীর ছিল না, সাকাসে তারের উপর খেলা দেখাইতে দেখাইতে মেয়েরা যেমন দুলিতে থাকে, সেও তেমনই একবার এদিক একবার ওদিক দুলিতেছিল। তাহার মুখ কাগজের মত সাদা হইয়া গিয়াছিল। কিশোরের দিকে না চাহিয়াই সে ক্ষীণস্বরে বলিয়া উঠিল, আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না।

    করবী যেখানে দাঁড়াইয়াছিল, ছুটিয়া তাহার নীচে গিয়া দাঁড়াইয়া কিশোর বলিল, বসে পড়ো। ঐখানে বসে পড়ো। আমি তোমাকে তুলে আনছি!

    কিশোরের কথামত বসিতে গিয়া করবী আর তাল সামলাইতে পারিল না, অস্ফুট চিৎকার করিয়া যেদিকে কিশোর ছিল, সেই দিকে ঢলিয়া পড়িল।

    তাহার পতনোম্মুখ দেহ কিশোর অর্ধপথে ধরিয়া ফেলিল বটে, কিন্তু করবীর হাই হীল জুতাসুদ্ধ পা দুটা সজোরে মাটিতে ঠকিয়া গেল। পতনের সঙ্গে সঙ্গে সে প্রাণপণে কিশোরের গলা জড়াইয়া ধরিয়াছিল, মাথাটাও কিশোরের বুকের উপর পড়িয়াছিল। সেই ভাবেই দুইজন ক্ষণকাল দাঁড়াইয়া রহিল। করবীর হৃৎপিণ্ডের দ্রুত স্পন্দন হাতুড়ির মত কিশোরের বুকে আঘাত করিতে লাগিল।

    পাঁচ সেকেণ্ড এইভাবে থাকিবার পর কিশোর চমকিয়া করবীকে ছাড়িয়া দিল। কি সর্বনাশ! এই অবস্থায় যদি কেহ তাহাদের দেখিয়া ফেলে।

    করবী কিন্তু তাহাকে ছাড়িল না, বাহুবন্ধন হইতে মুক্ত হইবার চেষ্টা করিতেই সে ভীত শিশুর মত। আরও জোরে তাহার গলা আঁকড়াইয়া ধরিল। চক্ষু মুদিতই ছিল, কেবল তাহার বুক হইতে একটি কম্পিত নিশ্বাস বাহির হইল মাত্র।

    কিশোর ত্রস্ত ও বিব্রত হইয়া বলিল, কোথাও লাগেনি তো?

    করবী সাড়া দিল না। দুশ্চিন্তায় কিশোরের গলা শুকাইয়া গেল—তবে কি করবী মূর্ছা গেল নাকি?

    সে ভীতকণ্ঠে ডাকিল, করবী!

    করবী একবার চোখ খুলিয়া তাহার মুখের পানে চাহিয়া আবার তৎক্ষণাৎ চোখ বন্ধ করিয়া ফেলিল।

    যাক, তবু ভাল, মূর্ছা নহে, কিশোর অস্বস্তিপূর্ণ দেহে কিছুক্ষণ দাঁড়াইয়া থাকিয়া শেষে আর কিছু ভাবিয়া না পাইয়া পুনরায় বলিল, তোমার কোথাও লাগেনি তো?

    করবী মাথা নাড়িয়া জানাইল, না।

    কিশোর সঙ্কুচিত স্বরে বলিল, তাহলে—তাহলে এখান থেকে বেরুবার চেষ্টা করলে হত না?

    করবীর মুখে আবার রক্তসঞ্চার হইয়াছিল, সে ঠোঁট টিপিয়া চুপি চুপি বলিল, কেন, আমি তো বেশ আছি। তোমার কি আমাকে বড্ড ভারি বোধ হচ্ছে।

    দারুণ শীতেও কিশোরের কপাল ঘামিয়া উঠিল। করবী আঘাত পায় নাই, মূছাও যায় নাই—অথচ তাহার বুকের উপর মাথা রাখিয়া পড়িয়া আছে। অনেক সময় ভয় পাইলে স্ত্রীলোকের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ শিথিল হইয়া যায়, দাঁড়াইতে পারে না—ইহা সম্ভবপর বটে, কিন্তু তাহার মুখে এ কি রকম কথা! কিশোরের মনে ভীষণ একটা সন্দেহ মাথা তুলিতে লাগিল। তবে কি–

    না, না, এ সম্ভব নহে, তাহারই বুঝিবার ভুল। সে তাড়াতাড়ি বলিয়া উঠিল, কিন্তু কেউ যদি আমাদের এভাবে দেখতে পায়—মনে করবে–

    মনে করুক গে—

    কিশোর পাথরের মত শক্ত হইয়া দাঁড়াইয়া রহিল। আর সন্দেহ করিবার তিলমাত্র স্থান নাই। করবীর কণ্ঠস্বর, তাহার সিন্দুরবর্ণ মুখ, মুদিত চক্ষু কেবল একটি কথার সাক্ষ্য দিতেছে। কিশোরের মাথায় আকাশ ভাঙিয়া পড়িল। এ কী হইল। ইহা সে কখনও ভাবিতে পারে নাই। কিন্তু করবীর এ ভাব তো আকস্মিক নহে, ইহার পশ্চাতে বহুদিনের রুদ্ধ নিগৃহীত আবেগ সঞ্চিত হইয়া আছে। আজ নাড়া পাইয়া ঝরিয়া পড়িয়াছে মাত্র। কিন্তু কেন এমন হইল।

    হাওড়া স্টেশনে করবীর সহিত প্রথম চোখাচোখির সময় ইহারই পূর্বাভাস বুঝি সে পাইয়াছিল। কেন, তখন সে সাবধান হয় নাই? কেন করবীর সহিত অসদ্ব্যবহার করিয়া অন্য গাড়িতে গিয়া উঠে নাই? এখন এই অপরিসীম লজ্জার বোঝা লইয়া সে কী করিবে? করবীর এ অনাহুত ভালবাসা কেমন করিয়া প্রত্যাখ্যান করিবে?

    কিন্তু–

    করবী যদি সত্যই তাহাকে ভালবাসে, তবে কেন সে তাহাকে প্রত্যাখ্যান করিবে? করবীকে ভালবাসিবে না কেন? সে তো মুক্ত, তাহার কোন বন্ধন নাই। সারাজীবন কেন সে উদাসীর মত। কাটাইয়া দিবে? কবীকে বিবাহ করিয়া সে কি সুখী হইতে পারে না? করবীর মত মেয়ে এ সংসারে কয়টা পাওয়া যায়? করবীকে বিবাহ করিয়া তাহার বুকের শূন্য গহ্বর কি ভরিয়া উঠিবে না?

    কিশোরের বক্ষ ভেদ করিয়া একটা দীর্ঘনিশ্বাস পড়িল। অন্তর্যামীর কাছে তো ছলনা চলে না। নহিলে, এই যে একটি পূর্ণযৌবনা নারী তাহার বুকের উপর পড়িয়া যথাসাধ্য সরল ভাষায় তাহাকে প্রেম নিবেদন করিতেছে, ইহা তাহার অন্তরে অনুরূপ ভাবের সৃষ্টি করিতে পারিল না কেন? করবী যে পাষাণমূর্তি নয়, বেপমানা স্পন্দমানা নারীমূর্তি,–একথা, তাহার মন তো দূরের কথা, শরীরের তপ্ত রক্তস্রোতেও স্বীকার করিতে পারিল না কেন? না,–করবীকে দিবার মত তাহার কিছু নাই। আর একজন তাহার হৃদয় বলিয়া যাহা কিছু ছিল, তাহা লুটিয়া-পুটিয়া নিঃশেষ করিয়া লইয়া দূরে সরিয়া গিয়াছে। শূন্য হৃদয় লইয়া করবীর প্রেম সে গ্রহণ করিতে পারিবে না। দুদিন পরে এই নিঃস্ব অন্তঃসারশূন্যতা যখন প্রকাশ হইয়া পড়িবে, তখনকার ভয়াবহ জীবনযাত্রার কথা কল্পনা করিয়া সে শিহরিয়া উঠিল। না, করবীকে সে ঠকাইতে পারিবে না।

    কিন্তু তবু করবীর প্রতি স্নেহে করুণায় তাহার বুক ভরিয়া উঠিল। তাহার উপরে, কি দুর্বিষহ লজ্জা যে এখনই করবীকে মাটির সহিত মিশাইয়া দিবে তাহা ভাবিয়া সে নিজেও লজ্জায় মরিয়া গেল। কী করিবে, কেমন করিয়া এই দুর্নিবার লজ্জার হাত হইতে করবীকে রক্ষা করিবে কিছুই ভাবিয়া পাইল না।

    কিছুক্ষণ পরে নিজেকে যথাসম্ভব সংযত করিয়া সে করবীর চুলের উপর মৃদু অঙ্গুলিস্পর্শে হাত বুলাইতে বুলাইতে বলিল, করবী, তুমি তো জান–

    এই পর্যন্ত বলিয়া কিশোর হঠাৎ থামিয়া গেল। সুর্য পশ্চিমদিকে ঢলিয়া পড়িয়াছিল, ঠিক এই সময় কাহার সুদীর্ঘ ছায়া তাহার পায়ের কাছে আসিয়া পড়িতেই কিশোর চমকিয়া ফিরিয়া চাহিল। করবী চোখ বুজিয়া ছিল বলিয়া কিছু দেখিতে পাইল না। কিন্তু বৈকালী সূর্যের পশ্চাৎপটের সম্মুখে এক অতিপরিচিত নারীমূর্তি দেখিয়া কিশোরের মনে হইল, সে একটা অসম্ভব অবান্তর স্বপ্ন দেখিতেছে। ক্ষণকাল অভিভূতের মত থাকিয়া সে সবলে রূঢ়ভাবে নিজেকে করবীর বাহুমুক্ত করিয়া লইল।

    কিন্তু উপর হইতে সেই ক্ষণিক-মূর্তি তখন অন্তর্হিত হইয়া গিয়াছে।

    এই সময় দুর হইতে সুরেনের বালককণ্ঠের ডাক আসিল, করি-দিদি! কিশোরবাবু।

    কিশোর নীরস নিস্তেজ স্বরে কহিল, চলুন। ওরা আমাদের খুঁজে বেড়াচ্ছে।

    আর কোন কথা হইল না, কেহ কাহারও মুখের দিকে চাহিল না, নিঃশব্দে দুইজনে ফিরিয়া গিয়া বিমলা ও সুরেনের সহিত যোগ দিল।

    বিমলা একবার দুইজনের মুখের দিকে চাহিয়াই বুঝিল,—কিছু একটা ঘটিয়াছে। কিন্তু কী ঘটিয়াছে তাহা এই দুটি শুষ্ক পাংশু পীড়িত মুখ দেখিয়া বুঝিতে পারিল না এবং অনুমান করিতে সাহসী হইল না।

    অন্তরের দুঃসহ বেদনা চাপিয়া যাহাদের মুখে হাসিতে হয় তাহাদের মত হতভাগ্য অল্পই আছে। কিশোর ও করবী আরও দুই ঘণ্টা, যেন কিছুই ঘটে নাই এমনি অভিনয় করিয়া, সমস্ত দ্রষ্টব্য বস্তু পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে দেখিয়া যখন বাড়ি ফিরিবার জন্য মোটরে উঠিল, তখন হৃদয়-ভারাক্রান্ত অবসাদে কিশোরের সর্বশরীর ভাঙিয়া পড়িতেছে এবং করবীর মনে হইতেছে আরও খানিকক্ষণ এইরূপ করিতে হইলে সে আর পারিবে না, তাহার স্নায়ুমণ্ডলী ছিন্ন-ভিন্ন হইয়া যাইবে। তাই বাড়ি যাইবার পথে এই বৃথাভিনয়ের চেষ্টা আর কাহারও দ্বারা সম্ভব হইল না। সন্ধ্যার অন্ধকারে চলন্ত গাড়ির মধ্যে সকলে স্তব্ধ হইয়া বসিয়া রহিল।

    সুরেনের অতিশয় ক্ষুধার উদ্রেক হইয়াছিল, সেও বাক্যব্যয় করিয়া শক্তিক্ষয় করিতে রাজী হইল না।

    বাড়ি আসিয়া নামিবার উপক্রম করিতেই প্রমদাবাবুর ভৃত্য আসিয়া খবর দিল যে, বিনয়বাবু ও সুহাসিনী দেখা করিতে আসিয়াছেন।

    করবী তাড়াতাড়ি নামিয়া গেল।

    মোটর-ড্রাইভারকে গাড়ি গ্যারেজে তুলিতে নিষেধ করিয়া কিশোর দ্রুতপদে গিয়া প্রমদাবাবুর নিকট উপস্থিত হইল। ভাগ্যক্রমে প্রমদাবাবু একাকী ছিলেন, কিশোর কোন প্রকার ভণিতা না করিয়া বলিল, এখনই আমি বৌদিকে নিয়ে স্টেশনে রওনা হব। শুনেছি, আটটার সময় একটা পশ্চিমের ট্রেন আছে।–কিছু মনে করবেন না আপনারা তো সব জানেন।

    তাহার ক্লান্তক্লিষ্ট মুখের দিকে চাহিয়া প্রমদাবাবু কী যেন বলিতে গেলেন, কিন্তু বলিবার পূর্বেই কিশোর নত হইয়া তাঁহার পদধূলি লইয়া বলিল, থাকতে অনুরোধ করে আমার লজ্জা আর বাড়াবেন না। আপনাদের সংসর্গে এলেই আমি অপরাধ করে ফেলি, এই আমার ভাগ্য। দয়া করে একটা  চাকরকে বলে দিন, আমাদের জিনিসপত্রগুলো গাড়িতে তুলে দিক। বৌদি গাড়িতেই বসে আছেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    মনচোরা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }