Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প218 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২২. শুক্তির অন্তরস্থিত মুক্তার লোভে

    শুক্তির অন্তরস্থিত মুক্তার লোভে সমুদ্রে ড়ুব দিয়া যাহারা শুন্য ঝিনুকটা হাতে করিয়া কুলে ফিরিয়া আসে, অনুপমচন্দ্রের অবস্থাটা প্রায় তাহাদের মত হইয়াছিল। কিশোরকে যুদ্ধে পরাস্ত করিয়া বিজিত ভূমি দখল করিতে গিয়া সে দেখিল, দখল করিবার মত কিছুই নাই,—যাহা ছিল, যুদ্ধের অগ্নিকাণ্ডে পুড়িয়া জ্বলিয়া নিঃশেষ হইয়া গিয়াছে।

    অনুপম ভাবিয়াছিল, ধাক্কা খাইয়া সুহাসিনীর মন তাহার দিকেই ফিরিয়া আসিবে। কিন্তু তাহা যখন হইল না, বরঞ্চ বিপরীত ফলই দেখা গেল, তাহার প্রতি সুহাসিনীর চিত্তের বিরূপতা আরও গভীর ও অন্তর্মুখী হইয়া অস্থিমজ্জায় আশ্রয় লইল, তখন ব্যর্থ ও ক্রোধান্ধ অনুপমও তাহাকে যেন কোন প্রকারে পাইবার জন্য মনে মনে জিদ ধরিয়া বসিল! যতই মনে হইতে লাগিল, সুহাসিনীর মন সে কোন দিন পাইবে না, পাইবার আকাঙক্ষা ততই তাহার উগ্র ও দুর্নিবার হইয়া উঠিতে লাগিল।

    এ দিকে অনুপমের জননী হেমাঙ্গিনী কিন্তু উল্টা সুর ধরিলেন। এতদিন তিনি অনুপমের সঙ্গে সুহাসিনীর বিবাহ ঘটাইবার জন্য উদগ্রীব ছিলেন, সে জন্য চেষ্টার ত্রুটি করেন নাই, কিন্তু যে মেয়ে। আর একজনকে ভালবাসে বলিয়া জানাজানি হইয়া গিয়াছে এবং যাহাকে লইয়া এত বড় একটা প্রকাশ্য সামাজিক কেলেঙ্কারি ঘটিয়া গেল, তাহাকে পুত্রবধুরূপে কোন বর্ষীয়সী রমণীই কামনা করেন না—তা সে অন্য দিক দিয়া যতই লোভনীয় হউক। অন্য পুরুষের হৃদয়হীন বিশ্বাঘাতকতার কথা চিন্তা করিয়া যে কুমারী দিন দিন শীর্ণ হইয়া যাইতেছে, জানিয়া শুনিয়া তাহাকে বধুরূপে ঘরে আনিবার মত উদারতা হেমাঙ্গিনীর ছিল না। তিনি একদিন এই কথাটাই ইঙ্গিতে অনুপমকে বুঝাইবার। চেষ্টা করিলেন। কিন্তু অনুপমচন্দ্র মাতার ইঙ্গিত সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করিয়া নিজের পথে চলিতে লাগিল। তখন হেমাঙ্গিনী তাহাকে স্পষ্ট করিয়া, ধমক দিয়া বুঝাইয়া দিলেন যে পরের পরিত্যক্তা কন্যার পশ্চাতে ধাবমান হওয়ার মত নির্লজ্জ নির্বুদ্ধিতা অতি অল্পই আছে; ভাবিয়া দেখিতে গেলে সুহাসিনীকে পুনর্ভু বলিলেও অন্যায় বলা হয় না এবং এত সত্ত্বেও সে যদি তাহাকে বিবাহ করিতে চায়, তাহা হইলে অন্তত তিনি কখনই এরূপ বধুকে ঘরে স্থান দিতে পারিবেন না, অনুপম যেন অন্য ব্যবস্থা করে।

    অনুপম তাহার পুরুষ-স্বভাব মাতাকে অত্যন্ত ভয় করিত, তাই ভিতরে গর্জন করিতে থাকিলেও মুখে কোন কথা না বলিয়া মাতার অনুশাসন একপ্রকার স্বীকার করিয়া লইল।

    তারপর বিনয়বাবু কন্যাকে লইয়া কলিকাতা ছাড়িয়া গেলেন, কিছুকাল আর তাঁহাদের কোন উদ্দেশই পাওয়া গেল না।

    চারিমাস পরে হঠাৎ একদিন অনুপম সংবাদ পাইল, বিনয়বাবু সকন্যা দেশে ফিরিয়াছেন। সে তৎক্ষণাৎ তাঁহাদের সঙ্গে দেখা করিতে ছুটিল।

    মাত্র আগের দিন বিনয়বাবু আসিয়া পৌঁছিয়াছেন; বাসার আসবাবপত্র তখনও ভাল করিয়া গোছানো হয় নাই। অনুপম ড্রয়িংরুমে প্রবেশ করিয়া দেখিল, দীনবন্ধুবাবুও রহিয়াছেন।

    বিনয়বাবু শীর্ণ অসুস্থ মুখে হাসিবার চেষ্টা করিয়া বলিলেন, এসো, অনুপম।

    অদূরে আর একটা চেয়ারে সুহাসিনী বসিয়া ছিল, সে নড়িয়া চড়িয়া বসিল। দীনবন্ধু কটমট করিয়া একবার অনুপমের দিকে চাহিয়া কুঞ্চিত করিয়া অন্য দিকে মুখ ফিরাইয়া লইলেন।

    ঘরের আবহাওয়া অনুকূল নহে বুঝিয়া অনুপম যতদূর সম্ভব সপ্রতিভভাবে আসন গ্রহণ করিয়া কুশল-প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিতে লাগিল। একবার সুহাসিনীকেও বোধ করি স্বাস্থ্য সম্বন্ধে প্রশ্ন করিবার চেষ্টা করিল, কিন্তু সুহাসের দিকে চাহিয়া প্রশ্নটা তাহার মুখ দিয়া বাহির হইল না। মামুলিভাবে কিছুক্ষণ কথাবার্তা চলিল। ও পক্ষ হইতে বিনয়বাবুই কেবল কথা কহিলেন, ঘরের আর দুইজন মুখ টিপিয়া বসিয়া রহিলেন।

    এলোমেলোভাবে প্রায় মিনিট পনেরো আলাপ চলিবার পর বিনয়বাবু ক্লান্ত হইয়া থামিয়া গেলেন। তখন অনুপম একলাই বাক্যালাপের চেষ্টাকে প্রাণপণে ঠেলিয়া লইয়া চলিল, কিন্তু পাঁচজনের সম্মিলিত উদ্যমে যাহা স্বচ্ছন্দে চলে, একাকী তাহাকে টানিয়া লইয়া যাওয়া সহজ নহে। অনিচ্ছুক তিনজন শ্রোতাকে অনুপম তাহার জীবনে গত চারমাসে যাহা ঘটিয়াছে তাহার অধিকাংশই একটানাভাবে বলিয়া গেল। কিন্তু কোন দিক হইতে লেশমাত্র উৎসাহ বা অনুমোদন না পাইয়া শেষ পর্যন্ত দম ফুরাইয়া-যাওয়া কলের ইঞ্জিনের মত তাহাকে চুপ করিতে হইল।

    দীনবন্ধু ও সুহাসিনীর যত্নকৃত কঠিন নীরবতা অনুপমকে ভিতরে ভিতরে অস্থির করিয়া তুলিয়াছিল, কিন্তু এমন একটা আলোচনার বিষয়ও সে খুঁজিয়া পাইতেছিল না যাহার মধ্যে এই দুইজনকে আকর্ষণ করিয়া আনা যাইতে পারে। মিনিট দুই-তিন চুপ করিয়া জানালার বাহিরে তাকাইয়া থাকিবার পর হঠাৎ একটা নূতন প্রসঙ্গের সূত্র পাইয়া সে বলিয়া উঠিল, পাশের বাড়ির দরজায় তালা লাগানো দেখছি। মহাপ্রভু গেলেন কোথায়? বাসা ছেড়ে দিয়েছেন না কি?

    বলিয়া ফেলিয়াই অনুপমকে অনুতাপ করিতে হইল। এ প্রসঙ্গ এরূপ সময় উত্থাপন করা যে ঘোরতর নির্বুদ্ধিতার কাজ হইয়াছে, কিশোর বা তৎসম্পর্কীয় কোন কথা না বলাই যে সবদিক দিয়া শোভন ও নিরাপদ হইত, তাহা সে অন্তরে অন্তরে অনুভব করিল। কিন্তু অনুভব করিলেও কথাটা। ফিরাইয়া লইবার তখন আর উপায় ছিল না। সুহাসের মুখ ধীরে ধীরে লাল হইয়া উঠিতেছিল। দীনবন্ধুবাবু গভীরতর হুকুটি করিয়া নিজের মোটা লাঠিটার মুঠের দিকে চাহিয়া ছিলেন, বিনয়বাবুর শীর্ণ মুখখানা যেন আরও পীড়িত হইয়া উঠিয়াছিল। তবু অনুপম চুপ করিয়া যাইতে পারিল না, সে মরিয়াভাবে ভূলের পথেই অগ্রসর হইয়া চলিল। পিছু হটিবার স্থান যেখানে সঙ্কীর্ণ, সেখানে একজাতীয় লোক বিপদ জানিয়াও গোঁ-ভরে সম্মুখদিকে চলে, স্থির হইয়া থাকিতে পারে না। অনুপমও কাহারও নিকট হইতে কোন উত্তর না পাইয়া মুখখানাকে হাসি-হাসি করিবার চেষ্টা করিয়া বলিল, পালিয়েছে নাকি? যাক, তবু ভাল, ভদ্রলোকের পাড়ায় যে ওসব চলে না সেটা বুঝতে পেরেছে। কিন্তু গেল কোথায়?

    তাহার কথা শেষ হইতে না হইতে সুহাস হঠাৎ চেয়ার ছাড়িয়া উঠিয়া দাঁড়াইল এবং কোন কথা না বলিয়া ঘর হইতে বাহির হইয়া গেল।

    অনুপমের মুখখানা নিজের অজ্ঞাতসারে কালো হইয়া উঠিয়াছিল, সুহাস চলিয়া যাইবার পর কিছুক্ষণ হিংসাপূর্ণ দৃষ্টিতে সেই দিকে তাকাইয়া থাকিয়া সে দীনবন্ধুবাবুর দিকে ফিরিল, মনের সমস্ত বিষ তাঁহার মাথায় উদগিরণ করিয়া দিয়া বলিল, আপনার সঙ্গে তো ভারি প্রণয় ছিল, রাত নেই দিন নেই যাতায়াত করতেন। আপনি জানেন, ভাজটিকে নিয়ে গেল কোথায়? বস্তি-টস্তিতে গিয়ে উঠেছে না কি?

    এবার দীনবন্ধুবাবু একেবারে অগ্নিকাণ্ডের মত জ্বলিয়া উঠলেন, চোপরাও বেয়াদব নচ্ছার কোথাকার! জুতিয়ে মুখ ছিড়ে দেব।–বেরোও—বেরোও তুমি এখনি এ বাড়ি থেকে, নইলে দারোয়ান ডেকে ঘাড় ধরে বার করে দেব। বলিয়া তিনি হাতের স্কুল যষ্টিটা সজোরে মাটিতে ঠুকিতে লাগিলেন।

    অনুপম চেয়ার হইতে ছিটকাইয়া উঠিয়া চিৎকার করিয়া বলিল, কি! আমাকে আপনি বেরিয়ে যেতে বলেন। আপনি কে আর ইউ? এই বাড়ি আপনার নয়, বিনয়বাবুর, সে কথা মনে রাখবেন।

    দীনবন্ধু লাঠি ঠুকিতে ঠুকিতে বলিলেন, এ বাড়ি আমার, এখানে আমি যা বলব তাই হবে। তুমি এই দণ্ডে এখান থেকে বেরোও, ছোকরা। ফের যদি কখনও মাথা গলাবার চেষ্টা করেছ, তাহলে তোমাকে চাবকে লাল করে দেব। যাও।

    বিনয়বাবু অসহায়ভাবে চেয়ারে হেলান দিয়া পড়িয়াছিলেন, ক্ষীণকণ্ঠে কেবল বলিলেন, দীনবন্ধু! দীনবন্ধু!

    দীনবন্ধু ধমক দিয়া বলিলেন, আপনি চুপ করুন। এই শয়তানটাই যত নষ্টের গোড়া। শুরু থেকে ষড়যন্ত্র পাকিয়ে পাকিয়ে আজ আপনাদের এমন অবস্থা করেছে–damned villain। আপনার যদি এতটুকু মনের জোর থাকত অনেক আগেই এটাকে দূর করে দিতেন। কিন্তু তা যখন আপনি পারবেন না, তখন আমাকেই এ কাজ করতে হবে।যাও, বিদেয় হও এখন। বলিয়া অনুপমকে লাঠি দিয়া দরজা নির্দেশ করিয়া দিলেন।

    অনুপম তথাপি কী একটা বলিবার উদ্যোগ করিতেছে দেখিয়া তিনি একেবারে হুঙ্কার ছাড়িলেন, যাবে না? ভাল কথার কেউ নয় বটে। দারোয়ান! ইধার আও।

    দাঁতে দাঁত ঘষিয়া অনুপম বলিল, আচ্ছা—এ অপমান আমি ভুলব না—আমিও দেখে নেব– বলিতে বলিতে ঝড়ের মত বাহির হইয়া গেল।

    দীনবন্ধু বলিলেন, আজ আমার প্রাণটা ঠাণ্ডা হল। সেই দিন থেকে আমি আক্রোশ পুষে রেখেছিলুম—যেদিন ও কতকগুলো মিথ্যে কথা বলে সুহাস-মায়ীর মন ভেঙে দিয়েছিল।

    বিনয়বাবু মাথা তুলিয়া বলিলেন, মিথ্যে কথা, দীনবন্ধু? তুমি বলতে চাও মিথ্যে কথা?

    হ্যাঁ, মিথ্যে কথা, ওর এক বর্ণ সত্যি নয়। আর মিথ্যে কথা বলে এতখানি অনিষ্ট বোধ হয় আজ পর্যন্ত কেউ করেনি।

    কিন্তু তার বাপের চিঠি–

    বাপের ছেড়ে তিপন্ন পুরুষের চিঠি যদি থাকত, তবুও কথা মিথ্যে হত। কিন্তু সে ভেবে আর কী হবে বলুন, এখন তো আর কোন উপায় নেই।

    বিনয়বাবু একটা গভীর দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিলেন। ঘরের ভিতরটা অন্ধকার হইয়া আসিতেছিল, কিছুক্ষণ দুজনে মৌন হইয়া রহিলেন।

    শেষে আর একটা শ্রান্তিভারাক্রান্ত নিশ্বাস ত্যাগ করিয়া বিনয়বাবু বলিলেন, দেখ দীনবন্ধু, আমি বোধ হয় আর বেশী দিন বাঁচব না। আমার দিন ফুরিয়ে এসেছে, ভিতরে ভিতরে বুঝতে পারছি। কিন্তু সে জন্য তো ভাবি না, শুধু এই ভয় হয়, মেয়েটার কোন বিধিব্যবস্থা না করেই যদি মরে যাই। তুমি দেখো, দীনবন্ধু। জান তো, তুমি ছাড়া আমার আপনার বলবার কেউ নেই।

    মৃদু তিরস্কারের সুরে দীনবন্ধু বলিলেন, এ সব আপনি কী যা তা বলছেন! শরীরটা একটু খারাপ যাচ্ছে, তারপর মানসিক ক্লেশেরও অভাব নেই, তাই যত সব বাজে কথা মনে আসছে। ও চিন্তা মন থেকে ঝেড়ে ফেলুন—এখনও দীর্ঘ জীবন আমাদের সামনে পড়ে রয়েছে—আমি তো ও-সব ভাবনা এখনও মনে আনতে পারি না, আর আপনি আমার চেয়ে কতই বা বড় হবেন? বড় জোর দু-তিন বছরের! এরি মধ্যে ও-সব দুশ্চিন্তা কেন? শুধু রেলে ঘুরে ঘুরে শরীরটা কাহিল হয়ে পড়েছে বৈ তো নয়, দুদিন পরে আবার দেখবেন সব ঠিক হয়ে গেছে।

    বিনয়বাবু আস্তে আস্তে বলিলেন, তাই হবে বোধ হয়। ঘুরে বেড়ানোও তত কম হয়নি। তার ওপর সুহাসের জন্য মনটা সর্বদাই–

    মৃত্যুর কথা ভাবলেই মৃত্যুকে কাছে ডেকে আনা হয়। ও সব কথা যাক। আজ সন্ধ্যা হয়ে গেছে, আজ আর কাজ নেই, কাল থেকে আবার আমাদের পুরনো ঈভনিং ওয়াক আরম্ভ করা যাবে। এখন বরঞ্চ আপনি কিছুক্ষণ বিছানায় শুয়ে বিশ্রাম করে নিন গে। বলিয়া দীনবন্ধু সুহাসকে ডাকিয়া পাঠাইলেন। সুহাস আসিলে বিনয়বাবু তাহার সঙ্গে দোতলায় নিজের শয়নকক্ষে উঠিয়া গেলেন।

    দীনবন্ধু আরও কিছুক্ষণ চিন্তিতভাবে অন্ধকার ঘরের মধ্যে বসিয়া রহিলেন, তারপর লাঠিটা তুলিয়া লইয়া উঠিবার উপক্রম করিতেই মৃদু কণ্ঠের কাকাবাবু শুনিয়া চকিতে ফিরিয়া দেখিলেন, সুহাসিনী কখন নিঃশব্দে তাঁহার পশ্চাতে আসিয়া দাঁড়াইয়াছে।

    সুহাস-মায়ী! কী মা!

    সুহাসিনী তাঁহার চেয়ারের পিঠ ধরিয়া দাঁড়াইয়া ছিল, অন্ধকারে তাহার মুখ ভাল দেখা গেল না। কিছুক্ষণ নীরব থাকিয়া সে অতি ক্ষীণকণ্ঠে যেন কথাগুলা গুনিয়া গুনিয়া বলিল, কাকাবাবু, আপনার কি মনে হয় আমি ভুল করেছি?

    প্রথমে দীনবন্ধু প্রশ্নটা ঠিক ধরিতে পারিলেন না, তারপর বুঝিতে পারিয়া ঘাড় নাড়িয়া বলিলেন, হ্যাঁ মা, ভুল করেছ। বড় ভুল করেছ।

    সুহাসের নিকট হইতে অস্ফুট শব্দ আসিল, কিন্তু—

    দীনবন্ধু বলিলেন, ওর মধ্যে কিন্তু নেই, সুহাস। ভালবাসা আর বিশ্বাস—এ দুটো জিনিস আলাদা করা যায় না। তুমি আলাদা করবার চেষ্টা করেছিলে, তাই আজ এত কষ্ট পাচ্ছ। ভেবে দেখ, আমরা তো আদালত নই যে সাক্ষীসাবুদ নিয়ে তবে যাকে ভালবাসি তাকে বিশ্বাস করব। আর, ওর বিরুদ্ধে তুমি যে প্রমাণ পেয়েছিলে, আমিও তো তাই পেয়েছিলুম। কিন্তু আমি সে কথা বিশ্বাস করতে পারলুম না কেন?

    সুহাসিনী রুদ্ধনিশ্বাসে নীরব হইয়া রহিল।

    দীনবন্ধু বলিতে লাগিলেন, আমি জানি, কিশোর কখনও ও কাজ করতে পারে না, তাই হাজার প্রমাণেও আমাকে টলাতে পারেনি। মা, তুমি ছেলেমানুষ, কিন্তু আমার পঞ্চাশ বছর বয়স হয়েছে, জীবনের অভিজ্ঞতাও কম সঞ্চয় করিনি। আমি জানি মানুষের চেয়েও তার বিরুদ্ধে প্রমাণকে যারা বিশ্বাস করে, শেষ পর্যন্ত তাদের ঠকতে হয়। কিশোরকে আমি চিনি, তাই যদি তাকে স্বচক্ষে ব্যভিচার করতে দেখি, তবু আমি আমার চোখকেই অবিশ্বাস করব, তাকে অবিশ্বাস করতে পারব না।

    কিন্তু কাকা—

    দীনবন্ধু উঠিয়া দাঁড়াইলেন, থাক সুহাস, আর নয়। বিশ্বাস কাউকে জোর করে করানো যায় না, আমিও সে চেষ্টা করব না; আমি শুধু নিজের বিশ্বাসের কথা তোমায় বললুম। কিশোরকে আমি ভালবাসি, তাই আমি তাকে বিশ্বাস করি। আর ঐ মেয়েটি—বিমলা, ওকেও আমি ভালবাসতে। শিখেছি। আমি জানি ওদের ভিতরের সম্বন্ধ ভাইবোনের মত পবিত্র। না, তার চেয়েও বেশী, কারণ। ওদের মধ্যে সত্যিকারের কোন সম্বন্ধ নেই। যে যাই বলুক, ওদের বিষয়ে কোন কুৎসাই আমি কোন দিন বিশ্বাস করতে পারব না।

    একটু চুপ করিয়া বলিলেন, ওদের ওপর আমার কতখানি আস্থা তা তোমাকে বোঝানো শক্ত। আমার যদি নিজের মেয়ে থাকত, আমি তাকে কিশোরের হাতে দিয়ে নিজেকে ভাগ্যবান মনে। করতুম। এই বলিয়া তিনি আস্তে আস্তে নিষ্ক্রান্ত হইয়া গেলেন।

    দীনবন্ধুবাবুর শেষ কথাগুলির মধ্যে যে কতখানি অভিমান নিহিত ছিল তাহা সুহাসিনী বুঝিল। তাহার বুক ছিড়িয়া একটি দীর্ঘনিশ্বাস বাহির হইল। দুহাতে মুখখানা চাপিয়া ধরিয়া সে দীনবন্ধুবাবুর পরিত্যক্ত চেয়ারে বসিয়া পড়িল।

    কাশীতে করবীর সহিত দেখা হইবার পর তাহার নিম্নাভিমুখী মন ধাক্কা খাইয়া ভিন্ন খাতে বহিতে আরম্ভ করিয়াছিল। কিন্তু সন্দেহের বিষ এমনই মারাত্মক বস্তু যে, একবার কোনক্রমে মনকে আশ্রয়। করিলে সেখান হইতে তাহাকে তাড়ানো অতিবড় চিত্তবলশালী লোকের পক্ষেও দুঃসাধ্য হইয়া উঠে। তাই দীনবন্ধুবাবুর কুণ্ঠাহীন বিচারহীন বিশ্বাসের কথা শুনিয়াও তাহার মন শান্তি পাইল না, বরঞ্চ অনিশ্চয়তার যন্ত্রণায় বিক্ষুব্ধ হইয়া উঠিল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    মনচোরা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }