Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প218 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৩. কলেজে চাকরি লইবার পর

    কলেজে চাকরি লইবার পর কিশোর নিজের বাসায় দ্বিতলের একটা ঘরে আপনার প্রয়োজনের উপযোগী একটি ছোটখাটো ল্যাবরেটরি করিয়াছিল। সত্যকার কোন কাজ করিতে পারিবে এমন আশা তাহার ছিল না, কিন্তু বিজ্ঞানের ঐ দিকটাতে নাকি তাহার অসাধারণ ঝোঁক ছিল, তাই প্রত্যহ রাত্রিকালে এবং ছুটিছাটার দিনে প্রায় অহোরাত্র সেই ঘরের দ্বার বন্ধ করিয়া বুনসেন বানার জ্বালিয়া টেস্ট টিউব গরম করিয়া নানা প্রকার বিকট দুর্গন্ধ বাহির করিয়া বাড়ির হাওয়া দূষিত করিয়া তুলিত। মাঝে মাঝে বিমলা কৌতূহলী হইয়া তাহার ম্যাজিক দেখিতে আসিয়া ক্রমে আকৃষ্ট হইয়া পড়িয়াছিল। কিশোর হাসিয়া বলিত, বৌদি, তুমি হলে আমার ছাত্রী, তোমাকে কর্ক বোরিং থেকে আরম্ভ করে যা কিছু জানি, সব শেখাব। দেখবে তখন কী বিচিত্র এক শক্তিময় জগৎ এই সব কলকজার ভিতর দিয়ে ধরা পড়বে। বিমলাও হাসিয়া উত্তর দিত, কলেজে এত ছাত্র পেয়েও তোমার তৃপ্তি নেই, আবার বাড়িতেও ছাত্রী চাই? কিন্তু আমি কি সব বুঝতে পারব? কিশোর দুঃখ করিয়া বলিত, বৌদি, তোমার সিকি বুদ্ধি আর অধ্যবসায় যদি কলেজের ছেলেগুলোর থাকত, তাহলে কি আর ভাবনা ছিল!

    যে দিনের কথা গত অধ্যায়ে বিবৃত হইয়াছে, সেইদিন রাত্রিকালে এই ল্যাবরেটরি ঘরে বসিয়া কিশোর কিছু একটা করিবার চেষ্টা করিতেছিল। দিনের বেলাটা কাজকর্মে কোন রকমে কাটিয়াছিল, কিন্তু রাত্রিতে আহারের পর সময়টা আর কিছুতেই কাটিতে চাহিতেছিল না। সকাল-সকাল আহারাদি শেষ করিয়া অনেক রাত্রি পর্যন্ত ল্যাবরেটরিতে কাজ করা তাহার অভ্যাস হইয়া গিয়াছিল, বারোটার পূর্বে কোনমতেই ঘুমাইতে পারিত না। কিন্তু আজ সন্ধ্যা হইতেই সময়টা যেন ভারী হইয়া তাহার স্কন্ধের উপর চাপিয়া ছিল। কাজেও মন বসিতেছিল না, কেবল সেই অত্যন্ত অরুচিকর ব্যাপারটা নাছোড়বান্দা ভিক্ষুকের মত তাহার মনের পশ্চাতে লাগিয়াছিল। পাশের একটি বাড়ি হইতে উচ্চ কলহাস্য ও বাদ্যযন্ত্র সহযোগে গানের সুর ভাসিয়া আসিয়া তাহার অস্থির চিত্ত আরও বিভ্রান্ত করিয়া দিতেছিল। দূরের একটা গিজার ঘড়িতে সশব্দে এগারোটা বাজিয়া গেল। তখন কিশোর বিরক্ত হইয়া উঠিয়া পড়িল। ঘরের আলো নিভাইয়া চোখেমুখে জল দিয়া ভিতরকার বারান্দায় আসিয়া দাঁড়াইতেই তাহার চোখে পড়িল, বারান্দার অপর প্রান্তে বিমলার শয়নঘরের ভেজানো দরজার ফাঁক দিয়া আলো আসিতেছে। প্রায় দুঘণ্টা আগে বিমলা শুইতে গিয়াছে, তাই কিছু আশ্চর্য হইয়া কিশোর দ্বারের কাছে গিয়া মৃদুস্বরে ডাকিল, বৌদি, জেগে আছ?

    ভিতর হইতে শ্রান্তস্বরে উত্তর আসিল, হ্যাঁ, এসো। ধীরে ধীরে দরজা ঠেলিয়া কিশোর ঘরে ঢুকিল। ঘরের কোণে পিলসুজের উপর প্রদীপ জ্বলিতেছিল, শয়নঘরে বিমলা বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার করিত না। প্রবেশ করিয়াই কিশোর সচকিতভাবে জিজ্ঞাসা করিল, এ কি বৌদি, মাটিতে শুয়ে যে।

    বড্ড মাথা ধরেছে, ঠাকুরপো; আর ভারি বুক ধড়ফড় করছে। বলিয়া শীতল মেঝের স্পর্শ আরও ভাল করিয়া পাইবার জন্য উপুড় হইয়া শুইল।

    বুক ধড়ফড় করা বিমলার পূর্ব হইতেই ছিল, মাথা ধরার উপসর্গও নুতন নহে। তাহার উপর সে পূজা-অর্চনায় আহারের অনিয়ম করিতে ছাড়িত না, অনশন উপবাস লাগিয়াই ছিল। এই লইয়া কিশোরের কাছে অনেকবার বকুনি খাইয়াছে। কিন্তু আজ তাহার এই অসুস্থতার মুলে যে অনেকখানি মানসিক ক্লেশ নিহিত আছে, তাহা বুঝিয়া কিশোর তিরস্কারের কথা মুখে আনিতেও পারিল না। তবু সে জানিত না যে, আজ সমস্ত দিন বিমলার নিরুম্ব উপবাস গিয়াছে।

    কিশোরের একটা হোমিওপ্যাথি বাক্স ছিল, তাহারই সাহায্যে সে জগতের যাবতীয় রোগ আরাম করিত। সে তাহারই ভিতর হইতে একটা ঔষধ খুঁজিয়া আনিতে গেল। পাশের বাড়িতে গানের সুর ও অগানের বাজনা তখন উচ্চ হইতে আরও উচ্চে উঠিতেছে।

    ঔষধ লইয়া ফিরিয়া আসিতেই বিমলা ব্যাকুল কণ্ঠে বলিয়া উঠিল, আমায় এমন কোন জায়গায় পাঠিয়ে দিতে পার ঠাকুরপো, যেখানে গোলমাল চেঁচামেচি নেই? যেখানে শান্তিতে দুদণ্ড ভাবতে পারা যায়? বলিয়া দুই বাহু দিয়া মাথাটা চাপিয়া ধরিয়া যেন বাহিরের শব্দ নিরোধ করিবার চেষ্টা করিতে লাগিল।

    কিশোর প্রথমে কথাটা বুঝিতে পারিল না, তারপর বুঝিয়া জিজ্ঞাসা করিল, ঝি কোথায়?

    বাহুর ভিতর হইতে বিমলা বলিল, তার মার অসুখ, আমি তাকে ছুটি দিয়েছি। দাসীটা প্রায় প্রত্যহই কার্যের অছিলা করিয়া রাত্রিকালে বাড়ি চলিয়া যাইত।

    আচ্ছা আমিই দেখছি। বলিয়া ঔষধ খাওয়াইয়া খালি গায়ের উপর একটা চাদর ফেলিয়া কিশোর নামিয়া গেল।

    কিশোরের বাসার পাশ দিয়া একটা গলি গিয়াছিল। যে বাড়ি হইতে গানবাজনার আওয়াজ আসিতেছিল সেটা গলির অপর পাশে, কিন্তু সদর রাস্তার উপরই। দুইটা বাড়ির মধ্যে কেবল সংকীর্ণ গলির ব্যবধান। দ্বিতল বাড়িখানা এতদিন খালি পড়িয়া ছিল, মাত্র তিন-চারদিন পূর্বে একটি নূতন পরিবার এটি ভাড়া লইয়াছিলেন।

    এই পরিবারে আজ একটি ক্ষুদ্র উৎসব ছিল। ইহারা হিন্দু বটে কিন্তু স্ত্রী-স্বাধীনতা সম্বন্ধে সাধারণ হিন্দুদের অপেক্ষা অগ্রগামী ছিলেন; পদা-প্রথা, বাল্যবিবাহ সম্বন্ধেও প্রচলিত কুসংস্কার ছাড়াইয়া উঠিয়াছিলেন। আজ এই বাড়ির একমাত্র কন্যা সুহাসিনীর অষ্টাদশ জন্মতিথি উপলক্ষে কয়েকজন বন্ধু নিমন্ত্রিত হইয়াছিলেন। নিমন্ত্রিতদের মধ্যে অধিকাংশই স্ত্রীলোক। আহারাদির পর সকলে মিলিয়া ড্রয়িংরুমে গল্পগুজব করিতেছিল। সুহাসিনী অগানে বসিয়া গান গাহিতেছিল এবং একটি ইংরাজী বেশধারী গোঁফ কামানো যুবক চিবুকের নীচে বেহালা চাপিয়া ছড় টানিতেছিল।

    কিশোর বাড়ির বাহির হইতে দুই-একবার ডাকাডাকি করিয়া কোন সাড়া না পাইয়া ড্রয়িংরুমের পর্দা ঠেলিয়া ভিতরে প্রবেশ করিল।

    চাদর গায়ে নগ্নপদ দীঘাকৃতি একজনকে সহসা প্রবেশ করিতে দেখিয়া অর্ধপথে গান থামিয়া গেল এবং সঙ্গে সঙ্গে সকলের দৃষ্টি এই অপরিচিত আগন্তুকের উপর গিয়া পড়িল। রাত্রি অনেক হইয়াছিল, তাই আকস্মিক আবিভাবে সকলের মুখেই একটা উদ্বেগের ছায়া পড়িল। এ পাড়ায় সবে নূতন আসা হইয়াছে, পাড়া-পড়শীর সহিত এখনও আলাপ হয় নাই,—এ কে, হঠাৎ খবর না দিয়াই অসঙ্কোচে ঘরের মধ্যে ঢুকিয়া পড়িল?

    কিশোর ঘরের মাঝখান পর্যন্ত গিয়া সম্মুখে যে বৃদ্ধগোছের লোকটি বসিয়াছিলেন, তাঁহাকে সম্বোধন করিয়া বলিল, আমাকে মাপ করবেন। পাশের বাড়িতে আমি থাকি। আমার বৌদিদির শরীর বড় অসুস্থ, আপনাদের গানবাজনায় তাঁর বিশ্রামের ব্যাঘাত হচ্ছে।

    সকলে স্তব্ধ হইয়া বক্তার মুখের পানে তাকাইয়া রহিল, কেহ যেন কিছু বুঝিতেই পারিল না। বাড়ির কর্তা বিনয়কৃষ্ণবাবু কী একটা বলিবার চেষ্টা করিলেন, কিন্তু দুইবার হাঁ করা ছাড়া কোন কথাই বাহির করিতে পারিলেন না। যে যুবকটি বেহালা বাজাইতে ছিল, সেই কেবল উপস্থিত বুদ্ধি হারায় নাই, একটু বিরক্তভাবে বলিল, না বলে কয়ে তো ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়লেন, আপনি কে, জানতে পারি কি?

    কিশোর বলিল, বললুম তো, পাশের বাড়িতে আমি থাকি।

    যুবকটি বলিল, তা আমরাও শুনেছি, কিন্তু সে তো আর পরিচয় হল না। যাকগে, আপনি এখন কী চান?

    কিশোর কী চায়, পূর্বে বলিয়াছিল, এখন আবার পুনরুক্তি করিল।

    গম্ভীরমুখে কিশোরের বক্তব্য শুনিয়া যুবক বলিল, তা আপনি যদি নিজের বাড়ির জানলাগুলো বন্ধ করে দেন, তাহলে সুবিধা হতে পারে।

    কিশোর বলিল, এত কাছে থেকে জানলা বন্ধ করে দিলে কোন সুবিধাই হবে না। বরঞ্চ যেটুকু হাওয়া যাচ্ছে, তাও বন্ধ হয়ে যাবে।

    যুবক আরও গভীর হইয়া ও বলিয়া বেহালাখানা আবার হাতে তুলিয়া লইল।

    সুহাসিনী মিউজিক টুলের উপর বসিয়া এতক্ষণ একদৃষ্টে কিশোরের দিকে তাকাইয়াছিল। তাহার একাগ্র দৃষ্টির দ্বারাই আকৃষ্ট হইয়া যেন কিশোর সেই দিকে ফিরিল, অনুনয়ের কণ্ঠে বলিল, রাতও অনেক হয়েছে, সাড়ে এগারোটা বাজে। এখন যদি আপনারা–

    যুবকটি কিশোরের কথা শেষ হইতে দিল না, ভ্রূভঙ্গি করিয়া বলিল, রাত অনেক হয়েছে, এ কথার মানে কি? আপনি কি আমাদের পুলিসের ভয় দেখাচ্ছেন?–তাহলে এও আপনি জেনে রাখুন যে, আমার মামা এই কলকাতা শহরের একজন ডেপুটি পুলিস কমিশনার।

    কিশোর মনে মনে অত্যন্ত বিরক্ত হইয়া বলিল, না, আমি পুলিসের ভয় দেখাইনি। আর, মামা ডেপুটি পুলিশ কমিশনার হলে আইন ভঙ্গ করবার অধিকার জন্মায় কিনা, তাও আমার জানা নেই। সুহাসিনীর দিকে ফিরিয়া বলিল, পাশের বাড়িতেই একটি অসুস্থ মহিলা কষ্ট পাচ্ছেন, তাই আপনাদের অনুরোধ করছি। অকারণে আপনাদের আমোদ-প্রমোদে বাধা দেওয়া আমার উদ্দেশ্য নয়—আপনারা আমাকে ক্ষমা করবেন–

    খোঁচা খাইয়া যুবক মনে মনে ভারি চটিয়াছিল, সুহাসিনীকে কোন কথা বলিবার অবকাশ না দিয়াই সেই আবার কথা কহিল। রুক্ষস্বরে বলিল, আপনিও আমাদের ক্ষমা করবেন, কিন্তু কোথায় কোন মহিলা কষ্ট পাচ্ছেন, সেজন্য আমরা আমোদ-প্রমোদ বন্ধ করব কেন, তা তো বুঝতে পারছি না। ও সব হবে-টবে না, আপনি যেতে পারেন।

    কিশোরের চোখে যুদ্ধ ঘনাইয়া উঠিল, সে অন্য সকলের দিকে ফিরিয়া কঠিন স্বরে জিজ্ঞাসা করিল, আপনাদের সকলেরই কি তাই মত? গান বাজনা বন্ধ করবেন না? বলিয়া স্খলিত চাদরের প্রান্তটা কাঁধে তুলিয়া লইল।

    যুবকের গলার শিরা আবার উচু হইয়া উঠিয়াছিল, কিন্তু বিনয়কৃষ্ণবাবু এতক্ষণে তাঁহার হারানো কণ্ঠস্বর ফিরিয়া পাইলেন, তাড়াতাড়ি উঠিয়া বলিলেন, না না, অনুপম, তুমি চুপ করো, গোলমাল করে কাজ নেই,নতুন পাড়া, উনি যখন বলছেন বাড়িতে অসুখ,কাউকে এখানে চিনি না, বুঝলে না?—আমরা গান বাজনা এখনই বন্ধ করে দিচ্ছি,অনুপম, তুমি থামো-হাঙ্গামায় দরকার নেই, অনেক রাত হয়েছে—আপনি নিশ্চিন্ত হয়ে যেতে পারেন, আর গানবাজনা হবে না। বলিয়া থপ করিয়া আবার চেয়ারে বসিয়া পড়িলেন।

    আচ্ছা, ধন্যবাদ বলিয়া একবার মাথাটা আনত করিয়া কিশোর ঘর হইতে নিষ্ক্রান্ত হইয়া গেল।

    সে চলিয়া গেলে ঘর কিছুক্ষণ নিস্তব্ধ হইয়া রহিল। তারপর অনুপম প্রথম কথা কহিল; ঠক করিয়া বেহালাখানা বাক্সে বন্ধ করিয়া বলিল, আপনি ভাল করলেন না। কোথাকার কে তার ঠিক নেই, খবর না দিয়েই বাড়ির মধ্যে ঢুকে পড়ল, তাকে এরকমভাবে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত হয়নি। বদমায়েস লোক ওতে মাথায় চড়ে বসে।

    ঘরে যে কয়টি প্রৌঢ়া রমণী উপস্থিত ছিলেন, তাঁহাদের মুখে এতক্ষণ বাক্যস্ফুর্তি হয় নাই। এইবার একজন কথা কহিলেন, ইনি অনুপমের জননী। বলিলেন, লোকটা যেন চোয়াড়। পায়ে। জুতা নেই, গায়ে আবার একটা চাদর। আর কাঠখোট্টার মত কথা কইবার বা কী ধরন, যেন মারতে। এল। কী জানি বাপু, আমার তো একটুও ভাল বোধ হল না। তিনি মুখখানা বিকৃত করিলেন।

    বিনয়কৃষ্ণবাবু আমতা-আমতা করিয়া বলিলেন, কী জানি, কিছুই তো বলা যায় না। বললে যখন বাড়িতে অসুখ, তখন কী বলে আর–

    অনুপম বলিল, একদম বাজে কথা। আমি নিশ্চয় বলতে পারি, লোকটার অন্য কোন মতলব ছিল। হয়তো ঐ ছুতো করে বাড়ির ভেতরটা দেখে গেল।

    অত্যন্ত ভীত হইয়া বিনয়কৃষ্ণবাবু বলিলেন, না না, অনুপম, তুমি ভুল করছ; চোর-ছ্যাঁচড়ের মত চেহারা তো নয়, বরং ভদ্রলোক বলেই–

    অনুপম বলিল, ভদ্রলোক ওর সাত গুষ্ঠিতে নেই। ভদ্রলোকের কখনও অমন আখাম্বা ষণ্ডা চেহারা হয়? আমার বিশ্বাস, ও একটা গুণ্ডা। আজকাল সব ভদ্রবেশী গুণ্ডা হয়েছে জানেন না? কাছেই ঐ মেছোবাজারে তাদের আচ্ছা।

    বিনয়কৃষ্ণবাবু একেবারে ফ্যাকাসে হইয়া গেলেন, বলিলেন, বল কী অনুপম! আমি একলা মেয়ে নিয়ে থাকি, শেষে কি গুণ্ডার হাতে—এ পাড়ায় ছাই কাউকে চিনিও না।

    অনুপম হাত উল্টাইয়া বলিল, আমি আর কী করব বলুন, আমি তো হাঁকিয়েই দিচ্ছিলুম, আপনি মাঝ থেকে ডেকে প্রশ্রয় দিলেন। যাক, কাল এ বিষয়ে অনুসন্ধান করা যাবে। আর মামাকেও না হয় খবরটা–

    বিনয়কৃষ্ণবাবু বলিলেন, সে তো কালকের কথা; কিন্তু আজ রাত্তিরটা—

    সুহাসিনী আসিয়া বাপের চৌকির পশ্চাতে দাঁড়াইয়াছিল, সে ভৎসনার সুরে বলিল, কেন বাবা ম মিছে ভয় পাচ্ছ? বাড়িতে দারোয়ান রয়েছে, বদ্রী রয়েছে, তা ছাড়া মগের মুল্লুক তো নয়–কলকাতা। চারিদিকে প্রতিবেশীরা রয়েছেন। মনে কর, যদি গুণ্ডাই হয়, তাতেই বা এত ভয় কসের?

    অনুপম বিজ্ঞভাবে মাথা নাড়িয়া বলিল, ভয় যদি না-ও থাকে, তবু খুব সাবধানে থাকার দরকার।

    সুহাসিনী হাসিয়া বলিল, আচ্ছা, আমরা খুব সাবধানেই থাকব।

    অনুপমের মাতা বলিলেন, অনুপম, তাহলে আমাদের আর রাত করে কাজ নেই। বারোটা প্রায় বাজে, কাল আবার তোমাকে সকালেই আফিস যেতে হবে। বলিয়া উঠিয়া দাঁড়াইলেন।

    বিনয়বাবু কন্যার কথায় কিছু আশ্বস্ত হইয়াছিলেন, অতিথিদের উঠিতে দেখিয়া আবার ভীত হইয়া পড়িলেন, তা–তা—অনুপম, তোমরা না হয় আজ রাত্রিটা এখানেই–আমার দুটো শোবার ঘর বালি আছে–

    ক্ষুব্ধ লজ্জায় সুহাসিনী বলিয়া উঠিল, কী তুমি পাগলের মত করছ, বাবা! ওঁরা থাকতে পারবেন নে? না না, মাসীমা, আপনারা বাবার কথা শুনবেন না— অনুপমের মাতার কাছে গিয়া গলা খাটো করিয়া বলিল, মা যাবার পর থেকে বাবা কি রকম হয়ে গিয়েছেন জানেন তো? একটুতেই উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। বলিতে বলিতে তাহার দুই চোখ জলে ভরিয়া গেল। অনুপমের মাতা ঘাড় নাড়িয়া বলিলেন, সে তো জানিই।

    বস্তুত বিনয়বাবুর স্ত্রী যতদিন জীবিত ছিলেন, তিনিই এই স্বামীটির সর্বকার্যের ও সর্বচিন্তার ভার গ্রহণ করিয়াছিলেন, নিজের বা অন্যের কোন ভাবনাই বিনয়বাবুকে কোনদিন ভাবিতে হয় নাই। তাই, বছর তিনেক আগে স্ত্রী যখন মারা গেলেন, তখন সকল বিষয়েই বিনয়বাবু যেন নিতান্ত অসহায় হইয়া পড়িলেন; একটু সামান্য কারণেই অতিশয় ব্যস্ত ও বিচলিত হইয়া পড়িতেন।

    অভ্যাগত অতিথিরা একে একে বিদায় লইলেন। অনুপমের ইচ্ছা ছিল, সুহাসিনীর সহিত আড়ালে দুই-একটা কথা কয়; কিন্তু আজ আর তাহার সুবিধা হইল না দেখিয়া মাতাকে লইয়া প্রস্থান করিল।

    সকলে চলিয়া গেলে, সদর দরজা নিজে দাঁড়াইয়া থাকিয়া বন্ধ করাইয়া, বিনয়বাবুকে শান্ত করিয়া বছানায় শোয়াইয়া দিয়া ঘরের আলো নিভাইয়া সুহাসিনী নিজের শয়নকক্ষে গেল। দর্পণের সম্মুখে নড়াইয়া জামা কাপড় খুলিতে খুলিতে সে অন্যমনস্কভাবে বিগত ঘটনার কথাই চিন্তা করিতে লাগিল।

    সুহাসিনী মেয়েটির গায়ের রং কালো, গৌরাঙ্গী তাহাকে কোনমতেই বলা চলে না। কিন্তু এমনই সুন্দর তাহার মুখের শ্রী ও দেহের গঠন যে, একবার তাহার দিকে দৃষ্টিপাত করিলে তাহার বর্ণের কথা আর মনে থাকে না। চোখ দুটি বেশ বড়, পাতলা দুটি ঠোঁট; গ্রীবার রেখাটি এমনই চমৎকার নিটোল যে, কোথায় গ্রীবা শেষ হইয়া চিবুক আরম্ভ হইয়াছে, ধরা যায় না। কিন্তু এ সব ছাড়াইয়া সর্বাপেক্ষা মধুর তাহার মুখের হাসি, যেমন সুমিষ্ট তেমনি অকুণ্ঠিত। এই পূর্ণ-যৌবনা মেয়েটির হৃদয়ের নির্মল সহজতাটুকু যেন অকৃত্রিম হাসির ভিতর দিয়া ধরা পড়ে।

    কাপড় ছাড়িয়া সাদা শাড়ি পরিয়া বেণী খুলিতে খুলিতে সুহাসিনী যখন শুইতে গেল, তখনও সে সেই কথাই ভাবিতেছে। ঐ নগ্নপদ দীর্ঘদেহ লোকটির সম্বন্ধে সকলে মিলিয়া অনেক সন্দেহই তাহার মনে ধরাইয়া দিয়াছে, কিন্তু তবু সে যে একটা দুর্দান্ত দস্যু, ভদ্রতার মুখোস পরিয়া আসিয়াছিল, একথা সুহাসিনী মনে মনে কিছুতেই স্বীকার করিয়া লইতে পারিল না এবং লোকটির প্রকৃত পরিচয় জানিবার কৌতূহলও বাড়িয়া উঠিতে লাগিল। বিছানায় শুইয়া লোকটি কে, শিক্ষিত কি অশিক্ষিত, কী করে, এইরূপ ভাবিতে ভাবিতে অবশেষে সে ঘুমাইয়া পড়িল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    মনচোরা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }